এফসিপিএসএমআরসিপি এফআরসিপি
আউল (Owl) পেঁচা
মূলত রাত্রিকালীন পাখি হওয়ার কারণে পেঁচাকে কুসংস্কারে অবিশ্বাসী হিসেবে মনে করা হয়। একটি পেঁচা দেখা অথবা তার ডাক শোনা হচ্ছে অমঙ্গলজনক বিশেষ করে দিনের বেলাতে। যেভাবে একটা পেঁচার বাসার দিকে দৃষ্টি করাও অমঙ্গলের। কারণ এর ফলে সেই ব্যক্তিটি তার পরবর্তী সারা জীবন বিমূর্ষকাতর অবস্থায় কাটাবে। যদি একটি পেঁচাকে ঘরের কাছে ডাকতে শোনা যায় তার একটা প্রতিরক্ষা হলো কিছুটা লবণ আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা, যার দ্বারা দুর্ভাগ্য কেটে যাবে। এটা যদি এমন সময় ডাকে যখন ঘরে কেউ অসুস্থ আছে তখন কেউ উপদেশ দেয় যে এর প্রতি কদর হচ্ছে পেঁচাটিকে মেরে এনে রোগীর বুকের ওপর রাখার জন্য চেষ্ট করা। ফ্রান্সে যদি একটি পেঁচার ডাক একজন গর্ভবতী নারী শুনতে পায় তবে নারীর গর্ভে একটি কন্যা সন্তান জন্মাবে। ওয়েলসের লোককথায় ইত্যবসরে ঘরের মাঝখানে পেঁচার ডাকের দ্বারা এই সত্য উদ্ঘাটিত হয় যে একটি কুমারী মেয়ে তার সতীত্ব হারাতে যাচ্ছে।
অক্স (Ox) ষাঁড়
ষাঁড় নিয়ে কুসংস্কারগুলোর বেশিরভাগই গাভী এবং বলদ নিয়ে কুসংস্কারের সাথে মেলে। যাইহোক প্রথাগতভাবে একটা জিনিসই ষাড়ের বেলায় পার্থক্য দেখা যায় যে, পূর্ব ইংল্যাণ্ডের অঞ্চলসমূহে একটা ধারণা চালু আছে যে, এই পশুটির সুষুমমাকাণ্ড খেলে মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে।
অয়েস্টার (Oyster) ঝিনুক
খাদ্য নিয়ে যত কুসংস্কার আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত হচ্ছে যে ঝিনুকের প্রচণ্ড কামশক্তি বাড়ানোর ক্ষমতা আছে। এই ধারণাটা সম্ভবত নারীর যৌনাঙ্গের সাথে ঝিনুকের গঠনের একটি কল্পিত সমতা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে রোমানদের আমল থেকে। তারা নিশীথকালের তাণ্ডবের সময় ঝিনুকের দ্বারা ভোজ দিত। এভাবে এই যুক্তিটি যেমন প্রসিদ্ধ যে ঝিনুক খাওয়া উচিত ওই মাসে যে মাসের মধ্যে ইংরেজি ‘আর’ অক্ষরটি আছে ধারণাটা দ্বারা তাদের ঝিনুক খাওয়ার মাসকে কমিয়ে ইংল্যাণ্ডের ঝিনুকের মৌসুম, সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এনেছে। যদিও বর্তমানে ঝিনুক বিদেশ থেকেও আমদানি করা হচ্ছে সারা বছর ধরে। অন্যান্য প্রথার মধ্যে এই ধারণা আছে যে, ঝিনুক চন্দ্রের সাথে প্রসারণ ও সংকোচন লাভ করে এবং ইয়র্কশায়ারে এই বিশ্বাস করা হয় যে একটা ঝিনুক দুদিনের জন্য সারের মধ্যে রেখে তারপর তার লালা বের করে কয়েক ফোটা কানের মধ্যে দিলে বধিরত্ব ভালো হয়।
পি (P) পাম (Palm) তালগাছ
একটি প্রয়োজনীয় খ্রিষ্টিয় চিহ্ন হিসেবে তালগাছ বহুদিন থেকেই কুসংস্কারবাদীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। খ্রিষ্টিয় সময়ের শুরুতে তালকে সাথে নিয়ে যাওয়া হতো শহীদের প্রতীক চিহ্ন হিসেবে। এখনো পাম গাছের পাতার অংশ হাতে নিয়ে যীশুখ্রিষ্টের জেরুজালেমে প্রবেশের দিনটিকে উদযাপন করার জন্য ‘পাম সানডে সার্ভিস’-এর সময় যাওয়া হয়। যেখানে পামগাছ জন্মায় না সেখানে লোকেরা পাম গাছের পরিবর্তে হ্যাজেল উইলো গাছের ডাল বহন করে অথবা অন্য কোনো স্থানীয় গাছের ডাল হাতে করে নিয়ে আসে। ‘পাম সানডে’ আসার পূর্বে ঘরের মধ্যে পাম গাছ বা অন্য কোনো গাছ তার পরিবর্তে আসা সবচেয়ে বেশি দুর্ভাগ্যের কিন্তু যদি একবার ঘরের মধ্যে আনা হয়েই যায়, তবে তা গৃহবাসীকে পরবর্তী সারা বছরের জন্য মন্দের হাত থেকে সুরক্ষা করবে। ‘পাম সানডে’র আবহাওয়াটা খুব সতর্কভাবে লক্ষ্য করতে হবে। যদি ভালো হয় তবে সে বছর শেষে একটা ভালো ফসল লাভ হবে।
পালমিস্ট্রি (Palmistry) হস্তরেখা বিচার
প্রাচীনকাল থেকে এটা বিশ্বাস করা হয় যে মানুষের চরিত্র এবং তার ভাগ্যের পরিণাম তাদের হাতের রেখা গণনা করে বলে দেয়া যেতে পারে। হাতের প্রতিটি দিক, তার গঠন, তার রঙ, তার তালুর রেখাগুলো ওই সবলোকেরা পরীক্ষা করে দেখেন যাদের এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা আছে।
গঠনের দিক দিয়ে লম্বা হাত দ্বারা অতিরিক্ত যত্নবান ও চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব বোঝা যায়, আর একটা ছোট হাত দ্বারা আবেগপ্রবণতা ও স্বতঃসপূূর্তভাব জ্ঞান এবং বড় হাত দ্বারা সতর্ক চরিত্রের বোঝা যায়। চিকন হাতের তালু দ্বারা স্বার্থপর আর চওড়া হাতের তালু দ্বারা সামাজিক ও ভদ্র বলে প্রতীয়মান হয়। আঙুলের গঠন ও প্রণিধানযোগ্য। চিকন লম্বা আঙুল শিল্পী মনের পরিচয় দেয় এবং বাঁকা আঙুল দ্বারা অবিশ্বাস্যতা নির্দেশ করে। মসৃণ আঙুল সতর্ক মনের পরিচয় দেয় আবার যে লোকের তির্যক আঙুল তার আছে বলিষ্ঠ ইন্দ্রিয় ক্ষুধা।
আঙুলের অগ্রভাগের গঠনও খুব জরুরি। যদি তার গঠন হয় মোচাকৃতির তবে তা ধারণকারীর মনের গঠন মেধাবী, কিন্তু তা যদি হয় শেষ প্রান্তে গিয়ে মোটা তাহলে লোকটি হবে প্রাণবন্ত এবং সব সময় ব্যস্ত ও চলাচলের ওপর থাকতে ভালোবাসবে। যাদের আঙুল চ্যাপ্টা ভাগ্যে তাদের জন্য কঠোর পরিশ্রম আছে এবং তাদের সামাজিকবোধ এবং পৃথিবী সম্বন্ধে বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি আছে।
প্যালপিটেশ (Palpitation) সপন্দন
হৃদয়ের একটা অনৈচ্ছিক কম্প্রমান অনুভুতি এবং চোখ ও পেশির চলাচলকে অনেকে অমঙ্গলের বলে আখ্যা দিয়ে থাকেন। শরীরের ডান পার্শ্বে সপন্দিত হলে তার দ্বারা সৌভাগ্য বোঝা যায়, কিন্তু তা যদি বাম পাশে অনুভুত হয় তবে তার জন্য দুর্ভাগ্য আসছে।
প্যানসি (Pansy) এক জাতীয় ফুল
উজ্জ্বল রঙে সৌন্দর্যমণ্ডিত ফুল, যেগুলো বাগানে প্রচুর ফোটে। মালীদের সতর্ক করে দেয়া হয় যদি সুন্দর আবহাওয়ার সময় একটা প্যানসি ফুল কেউ ছেড়ে তবে তা ঝড়বৃষ্টি ডেকে আনবে।
পেপার ব্যাগ (Paper bag) কাগজের থলে
একটা অসপষ্ট অথচ ইদানীংকালে কুসংস্কারে উপদেশ দেয় যে ঘরের মধ্যে একটা কাগজের থলে ফাটানোয় দুর্ভাগ্য বয়ে আনে।
পার্সলি (Parsley) শাক বিশেষ
অন্যান্য লতাগুল্মের মতো পার্সলিকেও অনেকগুলো জাদুকরী গুণ আরোপ করা হয়। প্রাচীন কুসংস্কারেও পার্সলিকে জড়িত করা হয় শয়তানের সাথে সম্ভবত এটা রোমানদের কবরের ওপরে পার্সলির চারা লাগানোর প্রথা থেকে এটা উ?ভুত হয়েছে এবং বলা হয়ে থাকে দুষ্ট লোকেরাই ভালো পার্সলি ফলাতে পারে। তদুপরি এর বীজ ফুটে বের হওয়ার জন্য নয়বার বুনতে হয় কারণ আটবারই সেগুলোকে শয়তান দাবি করে। এটাকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত বীজাণু ধ্বংস করার প্রয়োজনের হেতু হিসেবে বলা হয় যে বীজগুলো ফোটার পূর্বে একবার দোযখে বা নরকে যায় এবং সেখান থেকে ফিওে আসে। পার্সলির বীজ কখনো একজন আগন্তুকের দ্বারা বপন করা যাবে না এবং সব সময় একজন মহিলার দ্বারা বপন করানোই ভাল। কারণ তাতে তার ফল বাড়াতে উৎসাহ যোগাবে।
পার্টিং (Parting) বিদায় গ্রহণ
কাউকে বিদায়কালে শুভাশীষ জানানো নিয়ে বহুবিধ কুসংস্কার ঘিরে আছে। তার মধ্যে রয়েছে ‘গুডবাই’ শব্দটি একবারের বেশি দুইবার বলা, তাতে আত্মীয়তায় ফাটল ধরে। কোনো দরোজা বা তার সিঁড়ির ওপর দিয়ে ‘গুডবাই’ শব্দটি বলতে নেই এবং একজন দৃষ্টির বাইরে চলে গেলেও তার দিকে দেখতে নেই। কারণ এর দ্বারা এই দুই দল এমনিভাবে আলাদা হয়ে যাবে যে তারা একে অপরকে আর জীবনেও দেখতে পাবে না।
পেভমেন্ট (Pavement) পাকা রাস্তা
যখন থেকে সঠিকভাবে পাকা রাস্তা শহরে বা গ্রামগঞ্জে তৈরি হয়েছে তখন থেকেই ছেলেমেয়েরা এমনকি বড়রাও তাদের মধ্যে চিড় খাওয়া স্থানে পা রাখা থেকে বিরত থেকেছে। তারা ভয় করত তাতে তাদের ওপর একটা ভয়ানক বিপদ আসতে পারে। বহু বছর ধরে ওই অসতর্কতার সাজা হিসেবে সম্ভাব্য ছিল কালো সন্তান প্রসব করা।
পিকক (Peacock) ময়ূর
যদিও হিন্দুরা এটাকে একটা পবিত্র পাখি হিসেবে সমমান করে ময়ূরকে পশ্চিমা প্রথায় একটা অশুভ পাখি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভারতে এটা বিশ্বাস করা হয় যে ময়ূর সাপ খায়। এই ধারণাটা অন্য সংস্কৃতিতেও মানা হয়। টিউডরের সময়কাল থেকে একটা ইংলিশ কুসংস্কারে (যখন ময়ূরকে একটা রাজকীয় পাখি হিসেবে বিবেচনা করা হতো) দাবি করা হতো যে এর চিৎকারে বিষাক্ত প্রাণীরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়।
ময়ূরের পুচ্ছের ঔজ্জ্বল্যের দ্বারা বোঝা যায় যে এটা স্বর্গের প্রতীক হিসেবে কারুকার্য খচিত ছিল, কিন্তু তার লেজের ওপরের চোখগুলোই আরো বেশি অশুভ লক্ষণের সাথে জড়িত করেছে। একটা উপকথায় দাবি করা হয় যে, চোখগুলো সাতটি মারাত্মক পাপের সাথে জড়িত থাকার কারণে শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ চোখ তুলে ফেলবেন। সাতটি মারাত্মক পাপ যা ময়ূরের আশপাশে ওঁত পেতে থাকে বলে মনে করা হয় এবং তারা তাদের চক্ষুগুলোকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে। পরিশেষে পাখিটা নিজেই হচ্ছে একটা দুর্ভাগ্যের অগ্রদূত।
পার্ল (Pearl) মুক্তা
মুক্তা এবং সমুদ্রের সাথে যোগাযোগের অর্থ হচ্ছে যে কুসংস্কারবাদীদের কাছে রত্নটির দুই রকমের সুনাম আছে। একটা শিশুকে তার বার্থস্টোন হিসেবে একটা মুক্তা রত্ন যদি জুন মাসে দেয়া হয় বলা হয়ে থাকে যে তার দ্বারা শিশুটির দীর্ঘজীবন সুনিশ্চিত হয়, কিন্তু অন্যদের জন্য মুক্তা অশ্রুজলের প্রতীক। সুতরাং অশুভ বিশেষ করে যদি কোনো বিয়ের কনে এটা পরে। যাইহোক মুক্তার রয়েছে বিশেষভাবে যৌন উত্তেজক গুণাগুন। বালিশের নিচে মুক্তা রেখে ঘুমালে শিশুহীন দম্পতিদের সন্তান লাভ হয় বলে জনশ্রুতি আছে। ওষুধের দিক দিয়ে বলা হয় যে মুক্তা পরিধান করলে নাকি পাগলামো ভালো হয় এবং জন্ডিস চিকিৎসায়ও উপকার পাওয়া যায়। সাপের কামড় বা পোকামাকড়ের হুল বসানোর চিকিৎসায়ও মুক্তা ভালো ফল দেয়। আরো একটি কুসংস্কারে ফলাও করে প্রচার করে যে মুক্তা নারীদের বিষণ্নতা রোগ ভালো করে।
ফটোগ্রাফ (Photograph) আলোকচিত্র
ফটোগ্রাফির কলাকৌশল তুলনামূলকভাবে একটা নতুন পরিবর্তন হতে পারে, তৎসত্ত্বেও কিন্তু এটা কিছুটা কুসংস্কার বিশ্বাসকে অনুপ্রাণিত করেছে যেগুলো বর্তমানে যথেষ্ঠ সুরক্ষিত। সম্ভবত সবচেয়ে বেশি পরিচিত হচ্ছে ওইসব অনুন্নত পৃথিবীতে যারা প্রযুক্তি বিদ্যায় এখনো ততোটা পারদর্শি নয়, তাদের মধ্যে অনেকেই ফটোগ্রাফ দিতে অনীহা প্রকাশ করে। তাদের বিশ্বাস এটা অত্যন্ত বেশি দুর্ভাগ্যের কারণ (একটা কুসংস্কার যা আগের দিনে হাতে আঁকা ছবির ওপরও প্রযোজ্য হতো)। এর পেছনে যক্তি হচ্ছে যে একটা লোকের ছবির পেছনে তাদের জীবনীশক্তির কিছুটা লুকিয়ে থাকে। সুতরাং যে কেউ তার একটা আকৃতি তৈরি করে সে তার আত্মার ওপরেও কিছুটা প্রভাব বিস্তার করে।



