সব বয়সেই মানুষের আত্মহত্যার মনোভাবজনিত মনোরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী নারী-পুরুষ বা ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারী বা পুরুষের যে কেউ এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে।
বিষণ্নতার চূড়ান্ত পর্যায়ে আত্মহত্যার প্রবণতার দিকে রোগী ধাবিত হয়। আত্মহত্যার এই মনোভাবজনিত মনোরোগ একটি জটিল মনোসমস্যা। রোগী মনে করে তার একমাত্র উপায় এখন আত্মহত্যা। বেশ কিছু বিষয় আত্মহত্যার মনোভাবজনিত মনোরোগের ওপর আরো প্রভাব ফেলে যেমন-
- কঠিন বিষণ্নতা
- সামাজিকতা
- প্রাত্যহিকতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়া
- ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন
- ভাবের বিপর্যয়
- আত্মধ্বংসমূলক ব্যবহার
- আঘাতজনিত সমস্যা তা মানসিক এবং শারীরিক বা উভয় ধরনের আঘাত হতে পারে
প্রাক মেনোপজ সমস্যা
মেনোপজ হলো নারী পুনঃউৎপাদনশীলতার সমাপ্তিপর্ব। এই সময় শুরুর আগে নারীর বেশ কিছু শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। এগুলোকে প্রাক মেনোপজ সমস্যা বলা হয়। প্রায় ৭৫ ভাগ নারীর ক্ষেত্রে প্রাক মেনোপজ সমস্যা হতে পারে।
প্রাক মেনোপজ সমস্যার কারণ সম্বন্ধে গবেষকদের মধ্যে মতদ্বৈধতা আছে। তবে সবাই এ বিষয়ে একমত যে, এর প্রধান কারণ শারীরবৃত্তীয় স্বাভাবিক গতি।
প্রাক মেনোপজ সমস্যার লক্ষণ এবং উপসর্গ
এই সময়ে সাধারণ কিছু শারীরিক এবং আবেগজনিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে যেমন-
- অস্বাভাবিক পেটব্যথা
- ওজন বেড়ে যাওয়া
- দুশ্চিন্তা বা উদ্বগ্নতা
- ভাবের বিপর্যয়
- ক্ষুধার পরিবর্তন, কান্না অনুভূতি
- অস্থিরতা, বমি বমি ভাব
- মাথাব্যথা
- মাংসপেশিতে ব্যথা, অস্থিসন্ধি ব্যথা
প্রাক মেনোপজ সমস্যার চিকিৎসা
অনেক চিকিৎসক বিভিন্ন ধরনের ওষুধের পরামর্শ দিয়ে থাকেন, যেমন-
- মুখে সেবনযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল
- ডিপোপ্রোভেরা ইনজেকশন
- কিছু অ্যান্টিডিপ্রেশান্টস
- নন স্টেরয়েডল অ্যান্টিইনফ্লামেটরি ড্রাগস ইত্যাদি
ব্যক্তিগত যত্ন
- প্রতিদিন নিয়মিত খাদ্যগ্রহণ করা
- সুষম খাদ্য গ্রহণ করা
- কার্বোহাইড্রেটস সমৃদ্ধ খাদ্যের অতিরিক্ত গ্রহণ
- ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
- প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটা
- ব্যায়াম করা
- পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো
অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- ভিটামিন ‘ই’ গ্রহণ করা
- ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ
- ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ
- প্রাকৃতিক প্রোজেস্টেরন ক্রিমের ব্যবহার
- ভেষজ চিকিৎসা
টেনশনজনিত মাথাব্যথা
গবেষকদের ধারণা, প্রতিবছর প্রায় ৫০ মিলিয়ন আমেরিকান টেনশনজিনত মাথাব্যথার জন্য ডাক্তারের কাছে যায়। অনেক ক্ষেত্রে টেনশনের প্রভাবে তীব্র মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন সমস্যা শুরু হতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে-
- মানসিক চাপ
- ডিপ্রেশন এমনকি
- যৌন কর্মকাণ্ডের ফলেও এ জাতীয় মাথাব্যথা হতে পারে
টেনশনজনিত মাথাব্যথার কারণ
কয়েক বছর আগে গবেষকরা জেনেছেন যে, এ জাতীয় মাথাব্যথার কারণ মুখ, ঘাড় এবং খুলির মানসিক চাপের সাথে লড়াই করতে না পারার ফল।
টেনশনজনিত মাথাব্যথার লক্ষণ ও উপসর্গ
- অনেক ক্ষেত্রে সারা মাসে একবার এ জাতীয় মাথাব্যথা নাও হতে পারে
- এ জাতীয় টেনশনজনিত মাথাব্যথা প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৩০ মিনিট স্থায়ী হতে পারে, তবে এ জাতীয় মাথাব্যথা ক্রনিক হলে বছরজুড়ে তা চলতে পারে।
টেনশনজনিত মাথাব্যথার চিকিৎসা
প্রায় ক্ষেত্রেই বিশ্রামের ব্যাপারে ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। নানা ধরনের ব্যথা উপশমকারী ওষুধ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
প্রতিরোধ
- দুশ্চিন্তা না করতে চেষ্টা করা
- নিয়মিত ব্যায়াম করা
- মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা
- ব্যায়াম করা
- গরম অথবা ঠাণ্ডা পানির সেক গ্রহণ
- গরম স্নান বা উষ্ণ স্নান গ্রহণ এবং
- প্রয়োজনমাফিক ঘুমানো



