মো. জামাল হোসেন
নেত্রকোনা
আমার বয়স ২০ বছর। আমার অনেক দিন যাবৎ কোনো কাজ করতে গেলে সমস্ত শরীর, হাত-পা কাঁপে। পরীক্ষার হলে গেলে এবং বিশেষ কোনো ব্যক্তির সাথে কথা বললে শরীরে কাঁপুনি শুরু হয়। কোনো কাজের শুরুতেই বেশ মনোযোগী থাকি কিন্তু কিছু দিন যাওয়ার পর একেবারে মনোযোগ থাকে না। আগে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ ছিল কিন্তু এখন পড়তে মন চায় না। আমি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে যে পরিমাণ কাজ করা প্রয়োজন তা করতে পারি না। প্রচুর টেনশন, চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে গেছে। স্বাস্থ্য তেমন ভালো নয়, কোনো নেশা করি না, এরপরও লোকে বলে আমি নাকি নেশা করি, বাজে কোনো নেশা নেই তবে সিগারেট খাই। শরীর দুর্বল এবং স্মরণশক্তি কম।
আপনার অসুখটির নাম জেনারালাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার। এ অসুখে উল্লেখিত উপসর্গগুলো ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক উপসর্গের প্রকাশ ঘটে। ফলে এটিকে শারীরিক অসুখ বলে মনে করা হয়। ডাক্তাররা নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকেন। আসলে এই অসুখে বিভিন্ন মানসিক ও শারীরিক উপসর্গ দেখা যায় যেমন-ঘুম না হওয়া, রুচি কমে যাওয়া, কাজের ইচ্ছা কমে যাওয়া অথবা বুক ধড়ফড়, গলা শুকিয়ে যাওয়া, ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া, পেটে সমস্যা, নিশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। আপনি আপাতত ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম করে সকালে একটি করে খেতে থাকুন। এক মাস পর বিস্তারিত লিখে জানাবেন।
সুইট
সিলেট
আমি দীর্ঘদিন ধরে আইবিএস অসুখে ভুগছি। কোরবানি ঈদের পরে আপনাকে দেখাতে গিয়ে শুনতে পেলাম আপনি হজে গেছেন। তাই পুরানো মনোজগত ঘেঁটে আমার মতো অন্য আইবিএস রোগীর দেয়া প্রেসক্রিপশন ফলো করছি। যেমন- ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা, ক্লোফ্রানিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা, রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ও রাতে ১টা করে খাচ্ছি। ১ থেকে দেড় মাসের মধ্যে যোগাযোগ করতে বলেছিলেন। কর্মস্থল সিলেট থেকে যাওয়া সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় তাই আবারো চিঠির মাধ্যমে সমাধান চাচ্ছি। এখন কিছুটা আরাম বোধ করছি।
আপনার আইবিএস। দুশ্চিন্তার বিভিন্ন উপসর্গ যখন পরিপাকতন্ত্রে নানা রকম কাজের মধ্যে প্রকাশ পায় যেমন বাথরুম কষা হওয়া, আবার পাতলা হওয়া, মুষড়ে মুষড়ে ব্যথা করা এবং খাওয়ার সাথে সাথে বাথরুমে যাওয়া এগুলোর সমন্বয়কে আইবিএস রোগ বলা হয়। আপনি সাধারণ জীবন-যাপন করুন, খাদ্যের মধ্যে অহেতুক বাছাবাছি করার দরকার নেই, যা হজম হয় তাই গ্রহণ করুন। নিয়মিত হাঁটবেন, মনকে প্রফুল্ল রাখবেন, সকাল-বিকাল ও সারাদিনে কোনো না কোনো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখবেন। এর সাথে ট্যাবলেট এক্সটানিল ৫০ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে একটা করে খান ও ট্যাবলেট রস্টিল একটি সকালে ও একটি রাতে খেতে থাকুন। সব সময় কাজে ব্যস্ত থাকবেন। মনকে কোনো রকম ফুরসৎ দেবেন না।
সুজন
বানারীপাড়া, বরিশাল
আমার বয়স ২৭ বছর। আমি অবিবাহিত। ৭-৮ বছর থেকে রাত ৩-৪টায় হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় এবং ভয়ে বুক কাঁপতে থাকে। সকাল পর্যন্ত আর ঘুম আসে না। সকাল হলে আধো আধো ঘুম আসে। মাঝে মাঝে বারবার ঘুম ভেঙে যায় আবার ঘুমের মধ্যে মনে হয় হঠাৎ ওপর থেকে পড়ে গেছি। ভোর রাতে যদি কোনো দিন ঘুম না ভাঙে সেদিন দিনের বেলায় ভালো লাগে। দিনে চোখ টানে, ঘুম ঘুম ভাব, চোখ ব্যথা করে। চোখে ঝাপসা দেখি, মাথার ওপর ও পেছন দিকে ব্যথা করে এবং অনেক সময় মাথাধরা থাকে।
সবকিছুতেই ভয় লাগে, কোনো কিছু করা বা কারো মুখোমুখি হওয়া বা পরিবর্তিত কোনো পরিস্থিতিতে পেটের মধ্য ভয়ে চুপসে যায় এবং বুকের মধ্যে কাঁপতে থাকে। এ সময় শরীর একেবারে নিথর হয়ে যায়। তখন কী করব কিছুই বুঝতে পারি না।
কোনো কিছু মাথায় ধরে না, কেউ কিছু বললে সহজে তা বুঝতে পারি না। সবকিছুই যেন ভুল হয়ে যায়, চেনা মানুষ দেখলেও নাম মনে করতে পারি না। কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। কোনো কিছু ভালো লাগে না। মনে কোনো আশা নেই। নেতিবাচক চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায়। নিজেকে ছোট এবং অসহায় মনে হয়। কোনো কিছু করতে গেলে বা বলতে গেলে মনে হয় কেউ কিছু আমাকে নিয়ে ভাবছে বা বলছে। সবার সাথে সহজে খাপ খাওয়াতে পারি না। গ্যাস্ট্রিকের প্রভাব আছে। পেটের মধ্যে অস্বাচ্ছন্দ্যবোধ লাগে। দুপুরের পর অপেক্ষাকৃত বেশি খারাপ লাগে।
আপনার অসুখটির নাম অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার। এ সম্বন্ধীয় একটি চিঠির উত্তর এ সংখ্যায় দেয়া। হলো দয়া করে মিলিয়ে নেবেন।
রেজা পারভেজ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
আমার বয়স ২৩ বছর। আমার আগের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আমার রোগের নাম দিয়েছিলেন অ্যাংজাইটি নিউরোসিস। আমার সমস্যাগুলো ছিল দুঃসংবাদ বা বিপদে ও মেয়েদের সাথে কথা বলার আগে কিংবা মোবাইলে কল এলে বুক ধড়ফড় করা। তখন পাকস্থলীতে এক ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। একদম খেতে মন চায় না, বমি আসতে চায়। পেটে গ্যাস সৃষ্টি হয়। ঘুমের আগে আজেবাজে চিন্তা হয়। খাওয়ায় অনীহা, অস্বস্তিভাব। এ সমস্ত রোগের জন্য আপনি ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম, ট্যাবলেট ইনডেভার ১০ মিলিগ্রাম ও ট্যাবলেট নেক্সসিটাল ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে একটি করে ও সকালে অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম ও ইনডেভার ১০ মিলিগ্রাম একটি করে খেতে বলেছিলেন। খাওয়ার প্রথম সপ্তাহ থেকেই বেশ উপকার পাচ্ছি। প্রায় এক মাস খেয়েছি, এখনো খাচ্ছি। মোটামুটি অনেকটা সুস্থ। এখন আমার করণীয় কী? জানতে চাই।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। নিয়ম করে আরো দুই মাস ওষুধ খান। এরপরে যোগাযোগ করবেন।
হুমায়ুন কবীর হাসান
চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২২ বছর। আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমার সমস্যা হলো কোনো মিটিং, সমাবেশ অথবা ক্লাসরুমে দাঁড়িয়ে কোনো কিছু বা পড়া বলতে পারি না। সব সময় আমার মনের মধ্যে একটা ভয় থাকে কখন যে আমি কী অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে ফেলি এবং আমি আমার জানা কথাগুলো গুছিয়ে বলতে পারি না।
আপনার অসুখটির নামও জেনারালাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার। এ সম্পর্কিত চিঠির উত্তর এ সংখ্যাতেই রয়েছে। দয়া করে একটু পড়ে নেবেন।
মো. আল হেলাল
মিরপুর, ঢাকা
আমার বয়স ২৬ বছর। আমার সমস্যা হলো প্রচণ্ড রাগ, সামান্য কিছু হলেই মাথা গরম ও উত্তেজিত হয়ে পড়ি। আমার কাছে যেমন কেউ কোনো করল বা আসার কথা আছে অথবা একটা কাজ করে দেবে বা ঠিক সময়ে রান্না হয়নি, খাওয়া হলো না, প্যান্ট শার্ট ধোয়ার কথা বলার পরেও এগুলোর ক্ষেত্রে বন্ধু-বান্ধবী, ভাই- বোন এমনকি স্ত্রীর সাথেও প্রচুর রাগ হয়।
অফিসে কাজ করছি আমার মনমতো কাজ না হলে মাথা গরম হয় মাঝে মাঝে। তাদের শরীরে আঘাত অর্থাৎ তাদের মারতে ইচ্ছা হয়। রাগ চেক দিতে পারি না, আমার অনেক আগে থেকেই তোতলামির ভাব আছে, গুছিয়ে কথা বলা বা কোনো বিষয় কাউকে বোঝাব তাতেও রাগ ওঠে।
সারাক্ষণ চুপচাপ থাকতেই ভালো লাগে। হাসিখুশি বা আনন্দ-উল্লাস করা বা বিনা প্রয়োজনে হাসির কথা বা বকবক করা আমার ভালো লাগে না। এমনকি যদি ২-৩ ঘণ্টা কথা না বলে থাকতে বলে তাও পারব।
আপনার অসুখটির নাম অবসেশনাল নিউরোসিস। এই অসুখে রোগী কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে চায়। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ছাড়া কর্মস্থলে কিংবা সামাজিকভাবে নিয়ম-শৃঙ্খলা দেখতে চায়। কিন্তু আশানুরূপ না হওয়ার কারণে মনে হতাশা সৃষ্টি হয়। এবং তা থেকে রাগ তৈরি হয়। আপনি আপাতত ট্যাবলেট ক্লোফ্রানিল ২৫ মিলিগ্রাম সকালে একটা ও রাতে একটা করে খেতে থাকুন মাস খানেক পরে যোগাযোগ করবেন। মনোজগতের পূর্বতন সংখ্যায় দুশ্চিন্তা দূরীকরণের জন্য পিএমআর প্রগ্রেসিভ মাসকুলার রিলাক্সেশন শেখানো হয়েছে। দয়া করে সংগ্রহ করে পড়বেন এবং তার চর্চা করবেন।
মাধবী লতা
রাঙ্গামাটি, রিজার্ভ বাজার
আমার বয়স ১৮ বছর। আমি প্রচুর টিভি দেখি, শত চেষ্টা করেও টিভি দেখা কমাতে পারছি না। আয়না দেখার বাতিক আছে, সব সময় আয়না দেখি। মাঝে মাঝে মন খুব ভালো হয়ে যায়, আবার হঠাৎ করে খারাপ হয়ে যায়। কেউ সামান্য বকা দিলে বা আমার ভালো লাগে না এমন কথা বললে কান্না চলে আসে, তখন নিজের মৃত্যু কামনা করি। আত্মহত্যার চিন্তা করি। আমি খুব অলস, কাজ করতে ভালো লাগে না, কোনো কাজ করি না, সুযোগ পেলেই টিভি দেখি, না হয় বসে বসে কল্পনা করি। কাজ করতে বললে রাগ লাগে। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি, বারবার সিদ্ধান্ত বদলাই, অনেক কিছুই করব ভাবি, কিন্তু করি না কিছুই। কোনো কাজ আগ্রহ নিয়ে ২ দিন করি, তারপর আর করি না। মানুষকে অতি সহজে বিশ্বাস করি, একটু ভালো ব্যবহার করলেই ভালো মানুষ ভেবে নিজের সব কথা বলে দিই। ভগবানে বিশ্বাস করি, কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় ভগবান নেই। সব সময় চিন্তা আসে কীভাবে টাকা ইনকাম করব। কারো কাছে টাকা চাইতে আত্মসমমানে লাগে।
আপনি খুব আবেগপ্রবণ ব্যক্তিত্বের মানুষ। অল্পতেই আপনার আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এটি শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আবেগের প্রকাশকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হয় এবং সামাজিকভাবে যতটুকু প্রকাশ অনুমোদিত ততটুকুই প্রকাশ করবেন। অতি দুঃখে, অতি আনন্দে আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। আপাতত পিএমআর করুন ও ট্যাবলেট নেক্সসিটাল ৫ মিলিগ্রাম রাতে একটা করে খেতে থাকুন। এক মাস পরে জানাবেন।
প্রশান্ত চৌধুরী
সিলেট
আমার বয়স ১৫ বছর। পড়াশোনা ভালো লাগে না, পড়তে বসলে অবাস্তব কতগুলো চিন্তা এসে মাথায় ভিড় জমায়। যা ইচ্ছা করেও দূর করতে পারি না। নিজেকে খুব বড় মাপের একজন মনে হয়। সহপাঠীদের সাথে মন মিলিয়ে চলতে পারি না। ক্লাসে দাঁড়িয়ে শিক্ষকদের সামনে গুছিয়ে পড়া বলতে পারি না। একা একা থাকতে এবং গান শুনতে খুব ভালো লাগে।
নিউরোটিক রোগে ভুগছেন আপনি। এটি একটি মৃদুমাত্রার অসুখ। এর উপসর্গগুলো আপনি যা ব্যাখ্যা করেছেন তদ্রূপ। আপনাকে আরো পরিশ্রমী হতে হবে, কল্পনার বলয় থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন শারীরিক ব্যায়াম ও মানসিক শক্তি। একা থাকবেন না, সব সময় কারো না কারো সাথে থাকবেন এবং মাথাকে কাজে ব্যস্ত রাখবেন। আপনি নিজেকে ভাবেন যে এই কল্পনাগুলো অস্বাভাবিক। এর কোনো শুরু ও শেষ নেই। আপাতত ট্যাবলেট স্টেলা ১ মিলিগ্রাম সকালে একটি ও রাতে একটি করে খেতে থাকুন।
মুহামমদ সাদ্দাম হোসেন (রনি)
পটিয়া, চট্টগ্রাম
রোগী আমার বাবা, তার বয়স ৬৩ বছর। তিনি একজন সরকারি চাকরিজীবী। সমস্যা হলো-তার স্মৃতিশক্তি দিন দিন লোপ পাচ্ছে। তিনি প্রায় কথা ভুলে যান, যেমন-আজকে কত তারিখ কী বার তিনি আমাদের জিজ্ঞাসা করলে আমরা যদি উত্তর দিই তারপরও পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন। বাজার করার সময় বিক্রেতাকে কত টাকা দিয়েছে কিংবা গাড়ির ড্রাইভারকে ভাড়া কত দিয়েছে তা ভুলে যান। তিনি প্রায় সময় ঘরের মধ্যে একা বসে থাকেন। বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে আড্ডা কম দেন। বাবার রাগ খুব বেশি। একটু এদিক-সেদিক হলে আমার মাকে দোষারোপ করেন এবং মারেন। আগেও আমার মাকে মারধর করতেন, যার কারণে পারিবারিক অশান্তি লেগে থাকত। সমস্যার কথা তার কাছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন তার নাকি দুশ্চিন্তার সমস্যায় আছেন।
৬০ বছর বয়সের পর সাধারণত এই স্মৃতিভ্রংশতা রোগটি শুরু হয়। এর আরেক নাম ডিমেনশিয়া। এতে রোগী বর্তমানের কথাগুলো ভুলে যায় কিন্তু পুরাতন কথাগুলো সে মনে রাখতে পারে। ছোটবেলার ইতিহাস তার হুবহু মনে থাকে কিন্তু আজকে সকালে কী দিয়ে নাশতা করেছে বা গতকাল দুপুরের খাবারের সাথে কী খেয়েছে এ জাতীয় জিনিসগুলো একদম মনে থাকে না। প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গত কয়েক সংখ্যা মনোজগতে প্রচুর লেখা ছাপানো হয়েছে। একটু কষ্ট করে সংগ্রহ করুন। তবে আপনার পিতাকে অল্পমাত্রার ক্যাপসুল রিভামার ১.৫ মিলিগ্রাম সেবন করতে দিন। বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা করে নিন। আমার মনে হয় আপনার পিতার জন্য একজন মানসিক রোগের ডাক্তারের সাথে কথা বলা প্রয়োজন।
সাগর
চকরিয়া, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৫ বছর। অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র। আমি দিবাস্বপ্ন দেখি। এগুলো বেশির ভাগ হাস্যকর এবং নিজে নিজে কথা বলি, একা একা কথা বলি, একা একা হাসি। একই স্বপ্ন বারবার আসে, স্বপ্নগুলো আজেবাজে, অর্থহীন ও কাল্পনিক। আমার মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে। কাল্পনিক স্বপ্নগুলো আমার অজান্তে আসে এবং চলতে থাকে সারাক্ষণ ঘুম না ভাঙা পর্যন্ত। পড়তে বসলে নিজের অজান্তে হারিয়ে যাই চিন্তার জগতে। হঠাৎ বড়লোক হওয়া, কোটিপতি হওয়া, স্বপ্নের দেশ তৈরি করা, বিদেশ ভ্রমণ বা বিদেশে বসবাস, বড় ব্যবসায়ী হওয়া, বাড়ি, গাড়ি কেনা, রাষ্ট্রের প্রধান হওয়া ইত্যাদি যা অবাস্তব। এছাড়া আছে সিদ্ধান্তহীনতা, যেকোনো কাজে উৎসাহের অভাব বা ক্লান্তিবোধ, কাজে-কর্মে ধীরগতি হয়ে যাওয়া, আত্মবিশ্বাসের অভাব। আমার মনে হয় এগুলো আমার পারিবারিক সমস্যার কারণে হয়েছে। পারিবারিক সমস্যা বলতে আমার মা-বাবার অতিরিক্ত শাসন। ভালোবাসার নামে কঠোর নিয়ন্ত্রণ করা, আমার স্বাধীনচেতা মনকে যখন-তখন হস্তক্ষেপ করা, পারিবারিক কৌশলে ষড়যন্ত্রকারী প্রতিবেশীর মিথ্যা অভিযোগে বকঝকা করা, সব সময় চোখে চোখে রাখা, মানসিক চাপের মধ্যে রাখা, আমাকে সন্দেহের চোখে দেখা, বিনা দোষে দোষী ভাবা ইত্যাদি।
আপনার অসুখটির নাম নিউরোটিক ডিসঅর্ডার। এ অসুখের মতো আরেকটি চিঠির উত্তর এখানে দেয়া আছে। দয়া করে পড়ে নেবেন। তবে সাধারণভাবে বলা যায় সব সময় কাজ করবেন ও ব্যস্ত থাকবেন। পরিমিত আহার করবেন, লোকজনের সাথে কথা বলবেন, ঘুম না এলে বিছানায় শোবেন না।
কামাল হোসেন রাতুল
আমার বয়স ২৪ বছর, আমি একজন ছাত্র। আমার মাঝেমধ্যে মনে হয় আত্মহত্যা করি। পড়ার প্রতি আগ্রহ আছে কিন্তু পড়তে পারছি না। পড়তে বসলে নানা রকম চিন্তাভাবনা মাথায় ঘুরপাক খায়, যা তাড়াতে চাইলেও তাড়াতে পারি না। পড়লে মনে হয় কেউ আমার পড়া শুনে হাসছে বা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আবার কোথাও গেলেও এই মনোভাব সৃষ্টি হয়। কারো সাথে মিশতে পারি না। লজ্জার জন্য পথ চলতে পারি না। নিজেকে নিজের কাছে অপরাধী মনে হয়। বাস্তবে কোনো খারাপ কাজ না করলেও এটা মনে হয়। কেউ কোনো আলোচনা করলে মনে হয় তারা আমাকে নিয়ে আলোচনা করছে। সবার সাথে খারাপ ব্যবহার করি। সারাক্ষণ মাথা ঝিনঝিন করে, কেউ আমাকে মারবে বা কিছু বলবে এই মনে হয়।
অবসেশন। এই অসুখে আক্রান্ত আপনি। নিজস্ব কতগুলো চিন্তাধারা মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। সারাদিনই এটা চলে এবং ব্যক্তি এতে খুব কষ্ট পায়। আপনি পিএমআর (গেল সংখ্যায় মনোজগতে দেয়া আছে)। আপাতত ট্যাবলেট ইপিক্লোন .০৫ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে একটা করে সেবন করুন। কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করুন এবং মনকে সব সময় ব্যস্ত রাখুন। কিছুতেই মনকে একা হতে দেবেন না। চিন্তা এলে কোনো না কোনো উপায়ে এটা থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
মো. বিল্লাল হোসেন
শাহাজাদপুর, গুলশান, ঢাকা
একই চিন্তা বারবার করি যেমন-অফিসের স্যার যদি বলেন যে তোমাকে দিয়ে এ কাজ হবে না তখন সারা রাত এই একই কথা মাথায় ঘুরপাক করে, আর মনে মনে ভাবি আমার চাকরি বুঝি চলে গেল। এই চিন্তায় সারা রাত ঘুম আসে না, কয়েক দিন পর্যন্ত একটানা কোনো ঘুম আসে না। ঘুমের সমস্যা খুব প্রকট। শরীর ভালো লাগে না, কোনো কাজকর্ম করতে ভালো লাগে না, মনটা কেমন জানি বেদনায় ভরে থাকে। এক অজানা ভয় আর উদ্রেক আমাকে সর্বদা গ্রাস করে রাখে। আনন্দ কী তা আর এখন বুঝি না। মাঝে মাঝে রাতে ঘুম একেবারেই হয় না। মাথাটা কেমন জানি জ্যাম মনে হয়। ফ্রেস মাইন্ড যাকে বলে আমার সেটা নেই। সব সময় নেগেটিভ চিন্তা মাথায় লেগেই থাকে। যে কোনো দুঃসংবাদ আমার মনে মারাত্মক ছায়াপাত রাখে। যে কোনো খারাপ সংবাদ আমার মনে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়ায়।
ইদানীং মাথা ঘুরানো আমার একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সর্বদা মাথা কেমন জানি ঘুরায়, মাথা চক্কর দেয়, যা কাজকর্ম করতে খুব অসুবিধা সৃষ্টি করে। মনে হয় কখন জানি রাস্তায় পড়ে যাব। আমার ব্লাড প্রেশার বেশি থাকে।
আপনার অসুখটির গতি প্রকৃতি অবসেশন অসুখের সাথে মেলে। আর এ সম্পর্কিত একটি চিঠির উত্তর এ সংখ্যাতেই দেয়া আছে। দয়া করে মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিন।
সোনিয়া আক্তার
আমার বয়স ২২ বছর। আমার সমস্যা হলো ঘুম হয় না। সারারাত ছটফট করতে থাকি এবং অস্থির লাগে। আজ হতে ৯-১০ বছর ধরে আমি এই ঘুম না হওয়ার সমস্যায় ভুগছি। ঘুমের বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট খেয়েছি তাতে এখন আর কোনো কাজ হয় না। বরং ঘুমের ট্যাবলেট খেলে মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে যাই এবং খিঁচুনি হয়।
বিভিন্ন রকমের দুশ্চিন্তা আমার মনের মধ্যে বাসা বেঁধেছে। অনেক চেষ্টা করেও মন থেকে এই দুশ্চিন্তাগুলো সরাতে পারি না। কারণ সারারাত চোখে ঘুম আসে না শুধু মাথার মধ্যে দুশ্চিন্তা খেলা করে। আত্মহত্যার জন্য বারবার ছুটে যাই। এই ঘুম না হওয়া আর দুশ্চিন্তা দুই মিলে আমার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবন নষ্ট করে দিচ্ছে। দিন দিন ওজন কমে যাচ্ছে, বিভিন্ন ভালো খাবার খেয়েও স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে পারছি না। মাথা ও সারা শরীর জ্বালা-যন্ত্রণা করে। সারা শরীর এমনভাবে জ্বলে যেন আগুন দ্বারা পোড়ানো হচ্ছে। মাথা-হাত, পা ও সারা শরীর সারাক্ষণ কাঁপতে থাকে।
সারাক্ষণ শুধু অস্থির লাগে, আবার হঠাৎ সারা শরীর খিঁচুনি দিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যাই। চোখে ঝাপসা দেখি আর একটি কথা বারবার মুখে আসে তা হলো ‘কিছু ভালো লাগে না’। রাত দিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমি এক সেকেন্ডও শান্তি পাই না। সারাক্ষণ একা একা শুয়ে থাকি। কারো সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না এবং কারো কথা শুনতেও ভালো লাগে না। যখন-তখন কান্না চলে আসে, মনোযোগের অভাব, একই কাজ বারবার করি। নিজের সম্পর্কে হীনমমন্যভাব এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব। অপরাধবোধ নিজেকে অপরাধী হিসেবে মনে করি। মাথা ও ঘাড় ব্যথা করে, ঘাড় নাড়াতে পারি না। ঘাড় ও মাথায় যন্ত্রণা হয়। বারবার আত্মহত্যার কথা মনে পড়ে। আত্মহত্যা করতে মন চায়। নানা রকমের দুশ্চিন্তার ফলে মাথার চুল দিন দিন হালকা হয়ে যাচ্ছে। নিজেকে খুব ছোট ও অসহায় মনে হয়। মনের মাঝে কোনো আনন্দ ফুর্তি নেই। সব সময় একটা দুঃখভাব মনের মধ্যে বিরাজ করে। ক্লান্তিভাব সব সময় থাকে।
ক্রনিক ইনসমনিয়া আপনার অসুখটির নাম। এটি হঠাৎ করে শুরু হয় আবার হঠাৎ চলে যায়। ঘুমের মাত্রা কম হওয়া বা নির্ঘুম থাকা অসুখটির প্রধান উপসর্গ। এতে শারীরিক কোনো সমস্যার চিহ্ন থাকে না তবে মানসিকভাবে দুর্বল লাগে ও পরের দিন একটু খারাপ লাগে। ক্রনিক ইনসমনিয়া পৃথিবীব্যাপী ৩-১০% লোকের মধ্যে পাওয়া যায় এর সাথে নানা রকম শারীরিক সমস্যা জড়িত থাকতে পারে। প্রথমে শারীরিক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার। সবকিছু নরমাল হলে আপনি পিএমআর বা প্রগ্রেসিভ মাসকুলার রিলাক্সেশন ব্যায়ামটি শুরু করতে পারেন। সন্ধ্যা ৬টার পরে চা, কফি, বিড়ি-সিগারেট কিছুই খাবেন না এবং দুপুরে ঘুমাবেন না। ঘুমানোর ঠিক আগে উত্তেজক কোনো কিছুতেই নিয়োজিত হবেন না। শোয়ার ঘরটাতে যেন আলো বাতাস চলাচল করতে পারে এ পরিবেশ রাখতে হবে। যখন ঘুম আসবে তখনই শুতে যাবেন, অন্যথায় বিছানায় শুলে এপাশ ওপাশ করবেন, যাতে ক্রনিক ইনসমনিয়া আরো বেড়ে যায়। আপনি আরো বিস্তারিত পরামর্শের জন্য মনোজগত সেন্টারে যোগাযোগ করুন। মনে হয় আপনার কিছু কাউন্সিলিং করা দরকার।
মো. জলিলুর রহমান
শাহবাজপুর, জামালপুর
আমার বয়স ২২ বছর। আমি প্রায় ৩ বছরের অধিক সময় ধরে মাথার সমস্যায় ভুগছি। সমস্যাগুলো হলো-মাথা ঝিমঝিম করে, প্রচণ্ড ব্যথা হয়। মাথা দিয়ে তাপ বের হয়। নিজে কথা বলা, মানুষের সাথে আলাপ-আলোচনা, চিৎকার-প্রফুল্লতা ইত্যাদি এই কাজগুলো করলে আরো বেশি হয়। দিন-রাত মাথা ঝিম ধরে থাকে। কোনো সময় এই সমস্যা দূর হয় না। কোনো সময় মন থেকে আজেবাজে চিন্তা দূর হয় না। সব সময় মনে নেগেটিভ চিন্তা বাসা বেঁধে থাকে।
আপনি দুশ্চিন্তাগ্রস্ততায় ভুগছেন। আপনার উচিত হবে পারিবারিক, পারিপার্শ্বিক, সামাজিক নিয়মাবলি মেনে চলে কেবল কাজে ব্যস্ত থাকা। মস্তিষককে অলস বসিয়ে রাখা একদমই উচিত নয়। তার জন্য জ্ঞান চর্চা করা দরকার। পড়ার বই ছাড়াও বাইরের কিছু বই যেমন সাহিত্য, প্রবন্ধ পড়ুন। মন আলোকিত হবে, মন বড় হবে এবং চিন্তা-ভাবনায় পরিপক্বতা আসবে। আপাতত ট্যাবলেট অ্যানজিও ৩ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে একটা করে সেবন করতে থাকুন। ১ মাস পর আমাদের সাথে আবার যোগাযোগ করবেন।
মো. কামরুজ্জামান
কলেজ রোড, নারায়ণগঞ্জ
আমার বয়স ১৯ বছর। আমার সমস্যা হলো অন্য কারো সামনে লিখতে পারি না। লিখতে গেলে বুক ধড়ফড় করে, লেখা খারাপ হয়ে যায়। এই সমস্যা আমার অনেক দিনের।
আপনার অসুখটির নাম টাইটারস ক্র্যাম। এটি একটি মৃদুমাত্রার মানসিক রোগ। এ রোগে ব্যক্তি অন্য লোকজনের সামনে লিখতে অসুবিধাবোধ করে। তার ধারণা হয় যে সবাই তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। ফলে সে লিখতে পারে না বা কষ্ট হয়। এতে করে তাদের কলম ধরার পদ্ধতিও পরিবর্তিত হয়। আপনার উচিত হবে যত কষ্টই হোক না কেন লোকজনের সামনে লেখার অভ্যাসটি চালিয়ে যান এবং প্রথমের দিকে কষ্ট হলেও আস্তে আস্তে সেটা সহনশীল হয়ে যাবে। আপাতত ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টি ও রাতে ১টি করে খেতে থাকুন।
মিলন
দিনাজপুর
আমার বয়স ২২-২৩ বছর। আমার সমস্যা হলো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি। উপস্থিত বুদ্ধি নেই। আমি কোনো জিনিস ভালো করে জানা সত্ত্বেও কাউকে বলতে পারি না। কোনো পরীক্ষা দিতে গেলে বুক ধড়ফড় করে। নিজেকে জ্ঞানহীন বলে মনে হয়। মুখ শুকিয়ে যায়। ঠিকমতো কথা বলতে পারি না। ওই সময় কোনো কিছু মনে থাকে না। প্রচণ্ড ভয় লাগে, নৌকায় বড় নদী, সমুদ্রের ওপর দিয়ে চলতে গেলে ভয়ে দম বন্ধ হয়ে যায়। আমার মধ্যে অনেক কুসংস্কার কাজ করে যেমন হাদিসের অনেক বাণী মিথ্যা বলে মনে হয়। মনে সব সময় নেতিবাচক চিন্তা কাজ করে। নামাজ পড়তে গেলে মনে খারাপ চিন্তা আসে। যত গভীর মনোযোগ দিতে চই তত মনে খারাপ চিন্তা আসে।
ঘনঘন প্রস্রাব হয় ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে গেছে, কোনো কিছু মাথায় ঢোকে না। নিজের ওপর কোনো বিশ্বাস নেই। মনে হয় আমাকে দিয়ে ভালো কিছু হবে না।
জেনারালাজইড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারে ভুগছেন আপনি। আপনার উচিত হবে দুশ্চিন্তা ছেড়ে বিভিন্ন ধরনের কাজের মধ্যে ব্যস্ত হয়ে যাওয়া। কর্মতেই যত সুখ। অলসভাবে বসে থাকবেন না, এতে করে টেনশনের মাত্রা আরো বেড়ে যাবে। আপনার উচিত হবে কায়িক পরিশ্রম করা এবং সব সময় কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত থাকা। আপাতত ট্যাবলেট কিওলাক্স সকালে অর্ধেক ও রাতে একটা করে খেতে থাকুন।
সিনথিয়া
রোগী আমার স্ত্রী। স্বামীকে সন্দেহ করে, বিশ্বাস নেই, ভরসা/আস্থা নেই, বাচ্চাদের মতো স্বভাব, অন্যকে বিশ্বাস করে। স্বামীর কথা মানে না বিভিন্ন অজুহাত দেখায়, বাজে মন্তব্য করে। একই কথা বারবার বলে, এক কথা বারবার বলতে হয়, ঘাড় ও মাথা ব্যথা এবং বমি হয়। হাত কাঁপে, পড়ে যায় বেশি বোঝে বলে প্রায় সময় বিপদে পড়ে। আমাকে না জানিয়ে মানুষকে কথা দিয়ে ঝামেলায় পড়ে।
স্বামীর কর্তব্য পালনে অনীহা, প্রায় সকাল ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় ঝগড়া করে, প্রচণ্ড রাগ। আমাদের বয়সে ১৫ বছরের পার্থক্য। বিয়ে হয়েছে এক বছর ৯ মাস। আপাতত আমার অক্ষমতার কারণে সন্তান নেই, তবে চেষ্টা চলছে। তার সহযোগিতা প্রয়োজন কিন্তু সে সহযোগিতা করছে না।
প্যারানয়েড সাইকোসিস রোগে ভুগছেন আপনার স্ত্রী। এর চিকিৎসা করা প্রয়োজন। নিয়ন্ত্রণহীন রোগ নানারকম সামাজিক অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। আত্মহত্যা থেকে হত্যা পর্যন্ত গড়াতে পারে। অতি দ্রুত আপনার স্ত্রীকে মানসিক রোগের ডাক্তার দেখান।
সুজন
আস্থা কম, চাকরি করি। শারীরিক প্রতিবন্ধী। একই জিনিস বারবার দেখি, হাত বারবার ধুই। মনে রাখতে পারি না, আমি পরিবারে অবহেলিত।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ছাড়িয়েও আরো অনেক উপরে উঠতে পারবেন আপনি যদি আপনার মনোবল, আন্তরিকতা স্থির থাকে। আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে আপনি যে কোনো সময় যেকোনো কাজ করতে পারবেন বা জয় করতে পারবেন। আপনার কী রকম শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তা আপনি চিঠিতে লেখেননি কিন্তু আমার মনে হয় আপনার কোনো মানসিক প্রতিবন্ধকতা নেই। সংসারে বহু লোক রয়েছে যারা অন্যকে কটূক্তি করে তাদের সমালোচনা করে, তাদের হেয়প্রতিপন্ন করতে চায়। এসব কিছু মেনে নিয়েই আমাদের পথ চলতে হয় এবং আমাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয়। আপনি আন্তরিক চেষ্টা চালিয়ে যান।
মন্টু
মিঠাপুকুর, রংপুর
বয়স ৪০ বছর। সব সময় দুশ্চিন্তা করি। মন খারাপ ও মনমরা থাকে। সহজে ভুলে যাই, কিছুই মনে থাকে না। মাথা ভার মনে হয়। মাঝে মাঝে ভয় হয়, মাঝে মাঝে প্রচণ্ড রাগ হয়। সহজে বাস্তবতা বুঝে উঠতে পারি না। ঘুম কোনো সময় পুরা হয় না। একাকী থাকতে ভালো লাগে। কথা বলতে বিরক্ত লাগে এবং সাজিয়ে গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। কোনো কাজে আগ্রহ নেই। সৎ বা অসৎ কাজ যে কোনোটাই করতে ভয় হয়। অস্থিরতা, কোনো অধিক অস্থিরতা বিরাজ করে। একই কাজ বারবার করতে হয়। দুশ্চিন্তা করার সময় মাঝে মাঝে চিৎকার করতে ইচ্ছা করে। ঘুমের সময় মাঝে মাঝে চমকে উঠি। অনেক সময় বিধাতাকে বিশ্বাস করতে পারি না, আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করে। রাগ হলে কাউকে বকতে ইচ্ছা করে। কোনো বিষয় বুঝে উঠতে অনেক সময় লাগে। মাঝে মাঝে হাত কাঁপে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা। অনেক সময় গলা শুকিয়ে যায়। কারো কথা বেশিক্ষণ শুনতে ভালো লাগে না। মাঝে মাঝে একা একা কথা বলি।
ব্যক্তিত্বের সমস্যাজনিত রোগে আপনি ভুগছেন। ব্যক্তিত্ব একটা লোকের তার আচার-আচরণ, ব্যবহার, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি প্রকাশ করে। ব্যক্তি মাত্রার ব্যক্তিত্বের অসুবিধা নানা ধরনের কারণে হতে পারে। তার একটি হচ্ছে ছোটবেলা থেকে বড় হয়ে ওঠা। ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত আমাদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। আমরা পরিপূর্ণভাবে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হয়ে যেতে পারি। ব্যক্তিত্ব বিকাশে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এমন অনেক কারণ রয়েছে তার মধ্যে একটি ব্যক্তিত্বের প্রকাশ হচ্ছে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ব্যক্তিত্ব। আপনার চিঠিতে তাই অনুভব করা গেল। আপনি সুস্থভাবে পারিবারিক, সামাজিক ও জাতিগত মূল্যবোধকে সমমান করুন ও এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। এতে করে আপনার দুশ্চিন্তার নানা রকম কারণ কমে আসবে। এছাড়া বিভিন্ন সময় কাজে কর্মে ব্যস্ত থাকুন, মনকে অলস ফেলে রাখবেন না। আপনি পিএমআর জাতীয় ব্যায়াম করতে পারেন।
পার্থ ঘোষ
বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ
আমি একজন ছাত্র। বয়স ১৯ বছর। আমার প্রধান সমস্যা হলো উচ্চরক্তচাপ। এটি দুই বছর আগে ধরা পড়েছে। ডাক্তারের পরামর্শমতো দুই মাস ওষুধ সেবন করি। সুস্থ হলে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিই। কিন্তু এক বছর হচ্ছে আমাকে মৃত্যুভীতি তাড়া করছে। কোনো কিছু ভালো লাগে না, কোনো সময় আনন্দ পাই না। হাসিতেও আনন্দ নেই। সব সময় মন খারাপ থাকে। প্রায় দিন বিকেলে মাথা ধরে। মাঝে মাঝে মাথা ঘোরে। এমন কি মাথার চুল পর্যন্ত ঝরে যাচ্ছে, যার জন্য কলেজে যেতে লজ্জা করে। মাথার তালু খুব গরম। রাত-দিন সব সময় টেনশন হয়। রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না। ভোরের দিকে প্রচুর ঘুম আসে, মাথার মধ্যে চাপ ধরে থাকে। লেখাপড়া করতে ইচ্ছা করলেও করতে পারি না। কোনো কিছু ঠিকমতো মনে রাখতে পারি না। মাঝে মাঝে মনে হয় পাগল হয়ে যাব। আত্মহত্যা করতে মন চায়। সামান্য কোনো বিষয় নিয়ে সারাদিন ভাবনার মধ্যে ডুবে থাকি। শরীর দুর্বল, পেটে প্রচুর পরিমাণ গ্যাস হয় বুক জ্বলে, খাওয়ার রুচি নেই।
ফোবিয়া রোগে যারা ভোগে তাদের এ ধরনের কিছু উপসর্গ থাকতে পারে। এ রোগের মোদ্দা চিকিৎসা যেখানে যেটা ভয় লাগে তা বেশি করে মোকাবিলা করা। এবং প্রাথমিক দিকে মোকাবিলা করতে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলেও আস্তে আস্তে দুশ্চিন্তার মাত্রা কমতে থাকে। তখন স্বাভাবিক ব্যবহার আপনি করতে পারবেন। এছাড়া আপাতত ট্যাবলেট চিয়ার ২৫ মিলিগ্রাম সকালে একটি ও রাতে একটি করে খেতে থাকুন এবং সাথে ট্যাবলেট ইপিক্লোন .৫ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে একটি করে খেতে পারেন। এক মাস পরে যোগাযোগ করবেন।
মো. কামাল হোসেন
আরমানিটোলা, ঢাকা
আমার বয়স ২৩ বছর। আমার পড়ার প্রতি আগ্রহ আছে কিন্তু পড়তে পারছি না। পড়তে বসলে নানা রকম চিন্তাভাবনা মাথায় ঘুরপাক খায়। যা তাড়াতে চাইলেও তাড়াতে পারি না। পড়লে মনে হয় কেউ আমার পড়া শুনে হাসছে বা আমার দিকে তাকিয়ে আছে মনে হয়। আবার কোথাও গেলেও এই মনোভাব সৃষ্টি হয়। কারো সাথে ঠিকমতো কথা বলতে পারি না মিশতে পারি না। লজ্জার জন্য পথ চলতে পারি না। নিজেকে নিজের কাছে অপরাধী মনে হয়। বাস্তবে কোনো খারাপ কাজ না করলেও এটা মনে হয়। কেউ কোনো আলোচনা করলে মনে হয় তারা আমাকে নিয়ে আলোচনা করছে। সবার সাথে খারাপ ব্যবহার করি। সারাক্ষণ মাথা ঝিনঝিন করে আর কেউ আমাকে মারবে বা কিছু বলবে এটা মনে হয়। কোনো কিছু ভালো লাগে না, ক্ষুধামান্দ্য, বিড়বিড় করে কথা বলি কারো সামনে প্রয়োজনীয় কথা বলতে গেলেও লজ্জা লাগে। সহজ বিষয় নিয়ে অধিক ভাবি, স্মৃতিশক্তি কমে গেছে, আত্মবিশ্বাসহীন হয়ে পড়েছি, হতাশ, ভাঙচুর করার প্রবণতা, সারাক্ষণ মনমরা থাকি। কোনো কাজের পদক্ষেপ নিতে পারি না, অশ্লীল চিন্তা-ভাবনা, খিটখিটে মেজাজ।
আপনি জেনারালাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার রোগে ভুগছেন। এ অসুখের গতিপ্রকৃতি উপসর্গ চিকিৎসা ইত্যাদি নিয়ে আমরা যথেষ্টবার আলোচনা করেছি। আশা করি পূর্বতন সংখ্যাগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে পড়বেন। আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ।
বাদল
শেখঘাট, সিলেট
আমার বয়স ১৬ বছর। আমি ছোটকাল থেকে কোনো কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করতাম। এখন সমস্যা হচ্ছে শুধু পড়তে বসলে আমার মাথায় নানা ধরনের চিন্তা, দুশ্চিন্তা, কল্পনা ঘুরপাক খায়। পড়তে বসে চিন্তা না করতে গেলেও অটোমেটিক পড়াশোনা বাদে অন্য চিন্তাগুলো আপনাআপনি চলে আসে। এ সমস্যার কারণে আমি কোনো কাজ ভালোভাবে করতে পারি না। পড়াশোনায় একদম মন বসে না, মন চলে যায় অন্য চিন্তায়। পড়তে বসলে পড়ি ঠিকই কিন্তু কী পড়ছি তা নিজেও জানি না। ছোটবেলা থেকে আমাকে বাসায় খুব শাসন করা হতো। যার কারণে কখনো নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারিনি। এই অনিচ্ছা পছন্দ, মতামত সব সময় নিজের মধ্যে রয়ে যেত। আজও এর থেকে মুক্তি পাইনি। আমি সহজে রাগি না কিন্তু রাগলে আমার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। আমি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি, কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি অবসেশন সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষাতে এর পুরো নাম অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। শৈশবে খুব কড়া শাসনের মধ্য দিয়ে প্রতিপালিত হবার কারণে আপনার মাঝে কিছুটা ব্যক্তিত্বের সমস্যা রয়েছে। অবসেশন সমস্যাতে মনের মাঝে নানা কল্পনা ঘুরতে থাকে, ব্যক্তি ইচ্ছা করলেও এগুলো মন থেকে তাড়াতে পারে না। ক্রমে ক্রমে ব্যক্তির মাঝে বিষণ্নতার নানা উপসর্গ প্রকাশ পায়। আপনি ট্যাবলেট চিয়ার ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন, ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা সেবন করবেন। ওষুধ চালিয়ে যাবেন আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। ওষুধ শুরু করার এক মাস হতে দেড় মাস যাবার পর আপনার রোগের উপসর্গগুলো ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। আসলে এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। দেড় মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
মো. মুস্তাক জামান
শেখঘাট, সিলেট
আমার বয়স ২২ বছর। বেশ কিছুদিন থেকে আমার সমস্যা শুরু হয়েছে যেমন কোনো কারণ ছাড়া একা একা কথা বলা, অকারণে হাসা, এমনকি ঘুমের মধ্যে কথা বলে থাকি। আমার ঘুমেরও সমস্যা আছে, ঘুম খুব কম হয় এবং দিনের বেলা ঘুম ঘুম ভাব করে। পড়ালেখায় বসলে নানা চিন্তা মাথায় আসে। পড়ালেখায় মন বসাতে পারি না। কোনো কিছু মনে রাখলে অনেক সময় ভুলে যাই এবং কিছুদিন পর মনে পড়ে। রাতের বেলা কম ঘুমানোর কারণে চোখের নিচে কালো দাগ আছে এবং মাথা সব সময় গরম থাকে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি যে সমস্যার বর্ণনা দিয়েছেন তা থেকে কোনো সিদ্ধান্তে আসাটা কষ্টকর। কোনো কারণ ছাড়া একা একা কথা বলা, একা একা হাসা সাধারণত সাইকোসিস জাতীয় মানসিক সমস্যার বেলাতে দেখা যায়। ঘুম কম হওয়া, বিষণ্নতা সমস্যাতে যেমন দেখা যায় সাইকোসিসেও তেমন দেখা যায়। পাশাপাশি আপনার মাঝে কিছুটা অবসেশনের সমস্যা রয়েছে। সবচেয়ে ভালো হয় আপনি আপনার সমস্যা আরও বিস্তারিতভাবে জানাবেন। তবে আপাতত ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১টা করে খেয়ে দেখতে পারেন। আমাদের সাথে ১৫ দিন পর অবশ্যই যোগাযোগ করবেন।
মো. রেজাউর রহমান
বোয়ালী, গাইবান্ধা
আমার বয়স ৩৩ বছর, শরীরের ওজন ১০০ কেজি। আমার সমস্যা হলো-খুবই টেনশন, অস্থির লাগে, মাথা সব সময় গরম থাকে। সমাজে সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে পারি না। খুবই নার্ভাস লাগে। সঠিক জিনিস মনে থাকে না শুধু আজেবাজে চিন্তায় মাথা ভরে থাকে। ঘুম ঠিকমতো হয় না, নিজেকে খুব বড়লোক এবং বড় মনে হয়, যদিও আদৌ তা নই। শেখা জিনিস ভুলে যাই, মেয়েদের প্রতি যৌন কামনাযুক্ত তীব্র আকাঙ্ক্ষা, খারাপ কল্পনা, দায়িত্ব-জ্ঞানশূন্য। লোকালয়ে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যায়, মনের চিন্তাভাবনায় মাঝে মধ্যে বৈকল্য দেখা যায় সামনের দিকে এগোনোর মানসিকতা থাকে না, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি অবসেশন সমস্যাতে ভুগছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষাতে এর নাম অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। দীর্ঘদিন এ সমস্যায় ভোগার কারণে আপনার মাঝে কিছুটা বিষণ্নতা দেখা দিয়েছে। আপনি আপনার চিঠিতে যে সমস্যাগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন সেগুলো মূলত আপনার বিষণ্নতা সমস্যার জন্য হয়েছে। আপনি আপনার সমস্যার জন্য কোনো ওষুধ সেবন করেছেন কি না জানাননি। এটি জানালে ভালো হতো। ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১টা করে খাবেন। ৪ দিন পর ২টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা সেবন করবেন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করবেন। ওষুধ চালিয়ে যাবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। আমাদের সাথে এক-দেড় মাস পর যোগাযোগ করবেন।
রহিম নেওয়াজ
সিরাজগঞ্জ
আমার বয়স ১৯ বছর। উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, সমস্যা হলো-আমি কোনো কিছু মনে রাখতে পারি না, সহজে ভুলে যাই। বেশি লোকজনের সামনে কথা বলতে ভয় লাগে, শরীর ঘামতে থাকে। আমার উপস্থিত বুদ্ধির দারুণ অভাব। আমি কারো সাথে সহজে মিশতে পারি না, অপরিচিত কারো সামনে বসতে আড়ষ্টবোধ করি, মাথা ভার ভার লাগে, বাম চোখে একদম ঝাপসা দেখি, চোখ জ্বালাপোড়া করে, চোখ দিয়ে পানি ঝরে, এই সমস্যা প্রায় দুই বছর থেকে দেখা যাচ্ছে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি মূলত সামাজিক ভীতি বা সোশ্যাল ফোবিয়া সমস্যাতে ভুগছেন। এ কারণে বেশি লোকের সামনে আপনার কথা বলতে ভয় লাগে, শরীরে ঘাম ছুটে যায়। তবে আপনার চোখ জ্বালা পোড়া করা বা চোখ দিয়ে পানি পড়া সমস্যার সাথে আপনার সোশ্যাল ফোবিয়া সমস্যার কোনো ধরনের যোগসূত্রতা নেই। আপনি এর জন্য কোনো চক্ষু বিশেষজ্ঞকে দেখাতে পারেন। স্মরণে রাখবেন চোখের এ ধরনের ছোটখাটো উপসর্গগুলোকে অবহেলা করা উচিত নয়। ওষুধ হিসেবে আপনি ট্যাবলেট জোলিয়াম ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা সেবন করবেন। ট্যাবলেট চিয়ার ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করবেন। ওষুধ চালিয়ে যাবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। ১ মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
মহিদুল
দিনাজপুর
আমার বয়স ২৫ বছর। আমি একজন পুলিশ কনস্টেবল, আমার সমস্যাগুলো হচ্ছে পেটে গুড়গুড় করে ডাকে, পেটে অত্যন্ত গ্যাস, পেটের মধ্যে ঝিম ঝিম করে, খাবার খেতে ভালো লাগে না। আজ থেকে তিন বছর যাবৎ ঠিকভাবে ঘুম নেই, সাদা আমাশয় এবং চর্বিজাতীয় পায়খানা। কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাব ঘন ঘন, প্রস্রাবের রং মাঝে মাঝে সরিষার তেলের মতো, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া আছে এবং প্রস্রাব ক্লিয়ার হয় না। মাথা গরম থাকে, সব সময় সর্দি থাকে, গা-হাত-পা জ্বালাপোড়া করে, বুক কাঁপে। শরীর সব সময় দুর্বল থাকে, আজ তিন বছর যাবৎ ডেনজিট ট্যাবলেট মাঝেমধ্যে সেবন করে থাকি এবং সে সময় কিছুটা ভালো লাগে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যার নাম সোমাটাইজেশন। এতে মনের উপসর্গগুলো শরীরী উপসর্গ আকারে প্রকাশ পায়। এ সমস্যার বেলাতে ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি কিছুটা সাইকোথেরাপি করা দরকার। এতে আপনার শরীরের নানা উপসর্গ সম্পর্কে আপনাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। আপনি ট্যাবলেট ডেনজিটের পরিবর্তে ট্যাবলেট ফ্লুয়াঞ্জল ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা সেবন করুন। এতে আরও বেশি উপকার পাবেন। বলা বাহুল্য আপনার সমস্যাটি দীর্ঘমেয়াদি। ওষুধ অনেক দিন সেবন করতে হবে। তবে আপনার উচিত হবে কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থাকা। আপনি সাইকোথেরাপির জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মনোরোগ বিভাগে যোগাযোগ করতে পারেন।
এসএম সাবুল
খাদিমনগর, সিলেট
আমার বয়স ২০ বছর। আমার সমস্যা হলো আমি একটি মেয়েকে ভালোবাসতাম। দুর্ভাগ্যবশত ভালোবাসা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপর থেকে আমার ভেতর বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে-দিনের প্রতিটি মুহূর্ত প্রেমের হারানো স্মৃতি আমাকে তাড়া করে। ভীষণ টেনশন ফিল করি, সেক্ষেত্রে মাথা ঘোরায়, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, প্রায় রাতে অক্ষিময়ে বিন্দুমাত্র ঘুম আসে না। মনটা আরো তিক্ততায় ভরে ওঠে, যখন প্রিয় বন্ধু-বান্ধবগুলো সরলতার সুযোগ নিয়ে অন্তরে আঘাত করে। মাঝে মাঝে নিজেকে বড় একা ও অসহায় মনে হয়। তখন আর এই মায়াময় বসুন্ধরায় বেঁচে থাকার ইচ্ছাটুকুও থাকে না। এমতাবস্থায় আমি ভীষণ দুশ্চিন্তায় দিনাতিপাত করছি।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি যে সমস্যাতে ভুগছেন তার নাম মানসিক চাপজনিত সমস্যা বা স্ট্রেস ডিসঅর্ডার। এতে কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মনের মাঝে কিছু উপসর্গ তৈরি হয়। আপনার সমস্যাটি মূলত আবেগ নির্ভর। আপনার প্রেমে বিচ্ছেদের ঘটনা কতদিন আগেকার সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি। যে কোনো আবেগঘন ঘটনায় আপনার মতো সমস্যাগুলো তৈরি হতে পারে আর এগুলো প্রথম এক মাস দেড় মাস প্রকটমাত্রায় থাকে। যদি এ সময় পার হবার পরেও আপনার মাঝে এ সমস্যাগুলো থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে এটি আপনার মাঝে সমস্যা তৈরি করেছে, এটির চিকিৎসা করা দরকার। আপনার সমস্যার বেলাতে ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি সাইকোথেরাপির দরকার। মূলত সাইকোথেরাপি করা না হলে আপনার রোগের মূল চিকিৎসা অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে। ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট জিওনিল ৩ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা সেবন করবেন। ট্যাবলেট লুডিওমিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১টা করে সেবন করবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।
সাইদ আহমেদ
উত্তর বাড্ডা, ঢাকা
আমার বয়স ২০ বছর, উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি। আমি খুব রোগা ওজন মাত্র ৪৫ কেজি। আমি বিএসসি অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র। আমার খাওয়া-দাওয়ায় কোনো রুচি নেই, পড়ালেখায় তেমন কোনো মনোযোগ নেই। কোনো পরিকল্পনা যেমন কাল থেকে পড়াশোনায় সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করব বলে ঠিক করি কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে পারি না। এদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে বলে অনুশোচনা হয়। পড়তে বসলে অন্য চিন্তা চলে আসে। পড়তে পড়তে এক অজানা রাজ্যে চলে যাই। বিশেষ করে গল্প বা নাটকে নিজেকেই নায়ক ভেবে কল্পনা করতে থাকি। তাই পড়াগুলোও ঠিক মনে রাখতে পারি না। মাঝেমধ্যে দুশ্চিন্তায় থাকি। কোনো একটি সমস্যা হলে বুক ধড়ফড় করে, দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগি, সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। ঝগড়াঝাঁটি একদম সহ্য করতে পারি না, মন খারাপ থাকলে কথা বলতে ইচ্ছা করে না। আমি একটু অলস প্রকৃতির। কোনো কাজে বাইরে যেতে ইচ্ছা করে না, কলেজে না গেলে সব সময় বাসায়ই থাকি। বাসায় সারাদিন এঘর ওঘরে পায়চারি করি আর কল্পনা করি (যা বাস্তবে অসম্ভব) যৌন সমস্যা, যৌন ভীতি।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি বর্তমানে বিষণ্নতা সমস্যায় ভুগছেন। এর নাম ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার। এর নেপথ্যের কারণ হলো আপনার অবসেশন। এর কারণে আপনার মনের মাঝে নানা সব উদ্ভট আর অবাস্তব কল্পনা ঘুরতে থাকে। অবসেশন মনের মাঝে বেশিদিন থাকলে বিষণ্নতা চেপে বসে। আপনার মনের মাঝে বিষণ্নতা দেখা দিয়েছে। আপনি ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে খাবেন, ৪ দিন পর ২টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক খাবেন। ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ওষুধ আপনাকে অনেক দিন খেতে হবে। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। ওষুধ শুরু করলেও রোগ কমতে শুরু হওয়া বিলম্ব হতে পারে। ৩-৪ সপ্তাহ যাবার পর আপনি কিছুটা ভালোবোধ করবেন। দেড় মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি কিছুটা সাইকোথেরাপির দরকার। আপনি সাইকোথেরাপির জন্য মনোজগত চিকিৎসা কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন।
আলেয়া
জংলী, নাটোর
আমার বয়স ১৯ বছর। আমার প্রধান সমস্যা হলো-ঘন ঘন শারীরিক সমস্যা যেমন পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, ঘন ঘন জ্বর আসা, ক্লান্তি লাগা, বমি বমি ভাব হওয়া, মৃত্যুচিন্তা অর্থাৎ আত্মহত্যার চিন্তা, কোনো কাজে মন দিতে পারি না, স্মরণশক্তি দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। লেখাপড়ার বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু বললে খুব কষ্ট পাই এবং বাবা-মার অবহেলার কারণে আমার লেখাপড়া হয়নি। নিজেকে নিয়ে আমি খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। নিঃসন্দেহে আপনি বিষণ্নতা সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষাতে এর নাম ‘মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার’। পাশাপাশি আপনার এমন কিছু উপসর্গ বিদ্যমান যেগুলো কোনো মেডিসিন ডাক্তার দেখিয়ে নিশ্চিত হওয়া দরকার-আপনার মাঝে শরীরী কোনো সমস্যা নেই। আপনার রোগের বেলাতে ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি কিছুটা সাইকোথেরাপি করা দরকার। ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট লুডিওমিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১টা করে খাবেন। ৪ দিন যাবার পর ২টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা সেবন করবেন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ওষুধ চালিয়ে যাবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।
ফারহানা বাহা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আমার বয়স ২৩ বছর। আমার সমস্যা খুব অল্পতেই রেগে যাই, কেউ যদি আমার কথা না শোনে বা আমাকে অবহেলা করে বিশেষ করে আমার কাছের মানুষ কেউ তখন আমার খারাপ লাগে। অভিমান হয়, যদি সে আমাকে আর রাগ ভাঙাতে না আসে তবে আমি পারি না নিজে থেকে গিয়ে তার কাছে ক্ষমা চাইতে। এভাবে এক সময় সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। বেশির ভাগ সময় মন খারাপ থাকে। বন্ধুদের সাথে হয়তো বসে আছি সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছি, মাঝখানে আমি উদাস হয়ে যাই। কিছু ভালো লাগে না। আমি খুব সন্দেহপ্রবণ। আমার বয়ফ্রেন্ড হয়তো কোনো মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলল আমার মনে হয় ওর সাথে ঐ মেয়ের প্রেম আছে। তখন আমাকে শত বোঝালেও কোনো কাজ হয় না। আমি কিছুতেই আর বিশ্বাস করতে পারি না, পড়তে পারি না, সারাদিন ছটফট করি, একবার রুমে একবার টিভি রুমে হাঁটাহাঁটি করি। মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে। এ রকম আরো অনেক জিনিস নিয়ে আমি অনেক বেশি বাড়াবাড়ি সন্দেহ করি এবং ঝগড়াঝাটি করে অবস্থা তুঙ্গে তুলে দিই। আমি খুব সহজে সবার সাথে মিশতে পারি না, কোনো বিষয়ে মনোমালিন্য হলে অনেক কান্নাকাটি করি যতক্ষণ না মন হাল্কা হয়।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার মাঝে ব্যক্তিত্বের সমস্যা রয়েছে। মূলত লো সেলফ স্টেম সমস্যার কারণে আপনার মাঝে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগের। এ ক্ষেত্রে একটা বিষয় পরিষকার হওয়া দরকার ছিল-আপনার মাঝে খুঁতখুঁতে প্রবণতা আছে কি না, আপনার সমস্যাটির বেলাতে প্রথমে সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং দরকার। আপনি সাইকোথেরাপির জন্য মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন। পাশাপাশি আপনি টেলাজিন ট্যাবলেট ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খেয়ে দেখতে পারেন। এ ওষুধটি আমাদের পরামর্শ ছাড়া বন্ধ করবেন না। ওষুধ শুরু করলেও আপনার অবস্থার উন্নতি হওয়াটা বিলম্বিত হতে পারে। আপনি এক থেকে দেড় মাসের মাথায় কিছুটা উপকার পেতে শুরু করবেন।
আ ফ ম এহছানুল হক
এনায়েত বাজার, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ১৯ বছর। আমি দুটি সমস্যার মধ্যে আছি। প্রথমটা হলো হাত ও পা যখন আমি তাড়াতাড়ি বা ১ ঘণ্টা সময় ধরে হাঁটি, ঠিক একইভাবে কোনো ভারি কাজ ঘণ্টা খানেক করলে বা লিখলে হাতে খুব ব্যথা হয়। হাতে এবং পায়ে ব্যথার কোনো চিহ্ন দেখা যায় না। ব্যথাটা মাংসপেশিতে ব্যথা, রাতের বেলা হয়। ১/২ দিন থাকে, সারারাত ঘুম হয় না। এটা ৪ বছর ধরে, স্বাস্থ্য খুব ভালো। দ্বিতীয় সমস্যাটি হলো পড়তে বসলে নানা চিন্তা, স্বপ্ন, বাজে কথা মনে পড়ে। পড়া মুখস্থ হয় না, কষ্ট করে মুখস্থ করলে তা ২/৩ দিন পরে ভুলে যাই। এক ঘণ্টা বা আধা ঘণ্টা পড়লে মাথার তালু এবং কপালের দুই পাশে খুব গরম হয়ে যায়।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার প্রথম সমস্যার ব্যাপারে আপনি কোনো মেডিসিন বিশেষজ্ঞকে দেখাতে পারেন। দ্বিতীয় সমস্যাটি হলো অবসেশন পুরো নাম অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। এ রোগ সম্পর্কে আমরা মনোজগতের নানা সংখ্যায় কমবেশি আলোকপাত করেছি। অবসেশনের কারণে আপনার মাঝে হাল্কামাত্রার বিষণ্নতা দেখা দিয়েছে। এ কারণে আপনার স্মরণক্ষমতা কিছুটা কমে গেছে বলে মনে হয়। অবসেশনের কারণে ট্যাবলেট চিয়ার ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন, ট্যাবলেট লেক্সোটানিল ৩ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা সেবন করবেন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে খাবেন। ওষুধ চালিয়ে যাবেন, আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। ওষুধ শুরু করলেও আপনার অবস্থার উন্নতির সূচনা ঘটতে এক থেকে দেড় মাস লাগতে পারে। আপনার সমস্যার বেলাতে ওষুধ অনেক দিন খেতে হবে। তবে ধীরে ধীরে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে আনা হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখাটা জরুরি।



