Skip to main content

বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি

সফটওয়্যার ডিকশনারি সফটপিডিয়া
মামুন আল করিম
কম্পিউটারের একটি বড় উপাদান হলো সফটওয়্যার, যা এক নিমিষেই যেকোনো জটিল কাজের সমাধান দিতে পারে। বিভিন্ন কাজের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার। আমরা বর্তমান সময়ে বিভিন্ন উৎস থেকে সফটওয়্যার সংগ্রহ করে থাকি। আর এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য উৎস হলো ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েবসাইট। এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময়েই আমাদের ভাবতে হয় কোন সফটওয়্যার কোন ওয়েবসাইটে পাব?

সফটওয়্যারের যেকোনো সমস্যার সমাধান দিতে সক্ষম এমন একটি সাইট হলো সফটপিডিয়া। এ সাইটটি থেকে আপনি ঘরে বসেই সংগ্রহ করতে পারবেন আপনার প্রয়োজনীয় যাবতীয় সফটওয়্যার। অপারেটিং সিস্টেম থেকে শুরু করে গেমসসহ সব ধরনের কাজের সফটওয়্যারই পাবেন এ সাইটে। সাইটে প্রবেশ করলেই আপনি বুঝতে পারবেন এটি যেন এক সফটওয়্যার ডিকশনারি। কী নেই এ সাইটে? আপনার প্রয়োজনীয় সবই পাবেন এ সাইটে। শুধু আপনাকে একটু ধৈর্যের সাথে বিশাল সফটওয়্যার ভাণ্ডার থেকে খুঁজে নিতে হবে আপনার প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারটি। এ সাইটকে ডিকশনারির সাথে তুলনা করার কারণ এর রয়েছে সার্চ অপশন। যেখানে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারটির নাম লিখে দেয়া মাত্র আপনার সামনে হাজির করবে সফটওয়্যারটি। তবে যারা নবীন ব্রাউজার তারা ইচ্ছা করলে বিভিন্ন লিংক অনুযায়ী আপনার সফটওয়্যারটি খুঁজে নিতে পারবেন। নাম না জানা সফটওয়্যার খুঁজতে আপনার প্রয়োজনীয় বিভাগে ঢুকে খুঁজে নিতে পারবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত সফটওয়্যারটি।

উইন্ডোজের জন্য সফটওয়্যার প্রয়োজন হলে উইন্ডোজ বিভাগের লিংকে প্রবেশ করুন। শুধু উইন্ডোজ নয় এ সাইট থেকে গেমস, যেকোনো ধরনের ড্রাইভারসহ যেকোনো সফটওয়্যার সমাধান পাওয়া সম্ভব। শুধু সফটওয়্যার নয়, এ সাইট থেকে জানা সম্ভব প্রযুক্তি সম্পর্কিত যেকোনো নতুন প্রযুক্তি পণ্যের সংবাদ।

ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম
নাজমুল হোসেন
প্রযুক্তির এ যুগে এখন মানুষ ইন্টারনেট ছাড়া কিছু ভাবতেই পারে না। ইন্টারনেট জগতে রয়েছে ব্যাপক ও বিস্তৃত বিভিন্ন বিষয়ের আয়োজন। এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইউনিকোড। এটি ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে আদি শব্দ হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নতুন শব্দ হিসেবেই পরিচিত।

ইউনিকোড কী
ইউনিকোড সম্পর্কে জানতে হলে কম্পিউটারের অক্ষর বিন্যাসের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে হবে আগে। আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী কম্পিউটার, এটি কোনো ভাষা, অক্ষর বা বর্ণমালা কিছুই বোঝে না। বোঝে শুধু সংখ্যা। কম্পিউটারে প্রতিটি অক্ষরের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যা বরাদ্দ থাকে। কম্পিউটারে যদি লেখা দেখতে চাই তবে তার জন্য ফন্ট প্রয়োজন হয়। ফন্টের কাজ হলো সংখ্যাকে ছবির মতো করে দেখানো। ফন্ট ফাইলে প্রতিটি সংখ্যার জন্য একটি করে অক্ষরের ছবি ম্যাপিং করা থাকে। সাধারণত যেসব অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই ইংরেজি ভাষায় থাকে। সে জন্য ইংরেজি ভাষায় ফন্ট পাওয়া বা কম্পিউটারে ইংরেজির ব্যবহার খুবই সহজ। ঝামেলার শুরু তখনই হয়, যখন কম্পিউটারে অন্য কোনো ভাষা ব্যবহার করতে যাবেন। আর এ ঝামেলার সমাধানের জন্যই ইউনিকোডের আবির্ভাব। ইউনিকোডের কাজ হলো বিশ্বের সবগুলো ভাষাকেই কম্পিউটারের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা। বিশ্বব্যাপী এ কাজটি করে যাচ্ছে ‘ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম’ নামের একটি অলাভজনক সংস্থা।

ইউনিকোডের সদস্য
সম্প্রতি মাইক্রোসফট, অ্যাপল, আইবিএমসহ বিশ্বের নামী-দামি কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিকোডের সাথে তাল মেলাতে শুরু করেছে। এ ছাড়াও যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থা এ প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে ইউনিকোডের উন্নয়নে কাজ করতে পারেন। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম এবং ব্রাউজারে ইউনিকোড সমর্থন করে।

বাংলায় ইউনিকোড
বাংলা ভাষায় ইউনিকোড আসে ২০০০ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে। এটি ছিল ইউনিকোড ৩.০ সংস্করণ। এরই মধ্যে আমাদের দেশের কিছু তরুণ প্রযুক্তিবিদ বিভিন্ন ধরনের বাংলা ইউনিকোড টাইপিং এডিটর, ফন্ট ইত্যাদি ডেভেলপ করে তথ্যপ্রযুক্তিতে ইউনিকোড প্রযুক্তির বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখছেন।

বাংলাদেশে ইউনিকোড
বর্তমানে ইউনিকোড কনসোর্টিয়ামের পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক সদস্যপদ লাভ করেছে বাংলাদেশ। ইউনিকোড সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংগঠন ইউনিকোড কনসোর্টিয়ামে এর আগে বাংলাদেশ সহকারী সদস্য হিসেবে ছিল। এখন বাংলা ভাষায় কম্পিউটারের ইউনিকোড প্রমিতকরণে এবং কম্পিউটার লিপিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, সংযোজন করার ক্ষেত্রে ভোটাধিকার লাভ করল। এর আগে বাংলা ভাষার জন্য ইউনিকোডের ক্ষেত্রে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার শুধু ভোট দিতে পারত। এবার এ তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নেতৃত্বে সরকারি অফিসগুলোতে বর্তমানে ইউনিকোডে বাংলা লিখন চালু হয়েছে। তা ছাড়া নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রস্তুত করা নিকস লিপি এখন বিভিন্ন দফতরে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইউনিকোডের প্রয়োজনীয়তা
ইউনিকোড ছাড়াও কম্পিউটারে বাংলা লেখা বা পড়া সম্ভব। তবে এ পদ্ধতিটি সার্বজনীন নয়। এক সফটওয়্যারে টাইপ করা বাংলা অন্য কোনো সফটওয়্যারে সম্পাদনা করা যায় না। কিন্তু ইউনিকোডে লেখা হলে তা কম্পিউটারে যেকোনো ইউনিকোড ফন্ট ইনস্টল করা থাকলেই পড়া যায়। এ ছাড়া ইন্টারনেটে তথ্য অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে ইউনিকোডের জুড়ি নেই। বর্তমানে ইন্টারনেটে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষাতেও ইউনিকোডভিত্তিক তথ্যসমৃদ্ধ বিভিন্ন সাইট গড়ে উঠেছে। আর এসব সাইট থেকে সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় তথ্য খুঁজে বের করার কাজটি ইউনিকোড না থাকলে সম্ভব নয়। বর্তমানে কিছু পত্রিকার সাইট ছাড়া ইন্টারনেটের জনপ্রিয় সাইটগুলোর বেশির ভাগই ইউনিকোডভিত্তিক। এ ছাড়াও সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এর মাধ্যমে খুব সহজে বাংলায় ই-মেইল আদান-প্রদান সম্ভব।
 
পৃথিবীকে বদলাতে গুগলের কার্যক্রম
১৯৯৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সিলিকন ভ্যালির একটি ছোট গ্যারেজ থেকে যাত্রা শুরু করে গুগল। পৃথিবীর বিশাল তথ্যভান্ডারকে সর্বসাধারণের কাছে সহজে উপস্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগল। প্রথমে গুগল সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে এর কাজের বিস্তৃতি বাড়তে থাকে। শুরু থেকেই গুগল পৃথিবীর বিভিন্ন সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কাজ করে আসছে; যার ধারাবাহিকতায় গুগল ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠা করে গুগল ল্যাবস ও গুগল নিউজ সার্ভিস। ২০০৪ সালে গুগল চালু করে জনপ্রিয় ই-মেইল সার্ভিস জি-মেইল। ২০০৫ সালে গুগল ম্যাপ ও গুগল আর্থ চালু করে, যার মাধ্যমে ঘরে বসে পৃথিবীর যেকোনো স্থান দেখা সম্ভব। সর্বশেষ ২০০৮ সালে গুগলের দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঘোষণা করে ‘প্রজেক্ট টেন টু হানড্রেড’। আমাদের বর্তমান পৃথিবীকে কীভাবে নিরাপদ, বাসযোগ্য ও আকর্ষণীয় করে তোলা যায় সে বিষয়ে গুগল বিভিন্ন আইডিয়া প্রদানের জন্য এ প্রজেক্ট ঘোষণা করে।

গুগলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্বের ১৭০টি দেশের প্রায় এক লাখ ৫৪ হাজার মানুষ তাদের আইডিয়া জমা দেয়। এর মধ্য থেকে ১০০ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করে গুগল। পর্যায়ক্রমে সেখান থেকে ১৬টি পরিকল্পনা বাছাই করা হয়। সর্বশেষ পাঁচজনকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এসব পরিকল্পনাকারীকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে গুগল পৃথিবীর আইডিয়া গুরু হিসেবে। আর এসব আইডিয়া প্রদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে গুগল তাদের কার্যক্রম আরো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দিচ্ছে সর্বনিম্ন ১০ মিলিয়ন ডলার।

গুগলের পছন্দের পাঁচ আইডিয়া
গুগল পাঁচটি বিভাগ থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করেছে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে। এসব বিভাগের মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে শিক্ষা বিভাগ, বিজ্ঞান বিভাগ, সমাজসেবা বিভাগ, প্রযুক্তি বিভাগ ও মানসমমত শিক্ষা বিভাগ।

বিনামূল্যে শিক্ষা বিভাগ
সেরা পাঁচ আইডিয়ার মধ্য থেকে বিনামূল্যে শিক্ষা বিভাগের জন্য মনোনীত হয়েছে খান একাডেমি। এটি মূলত একটি বিনামূল্যে শিক্ষামূলক অনলাইন ভিডিও টিউটোরিয়াল। এ প্রকল্পকে আরো প্রসারিত করতে গুগল ২০ লাখ ডলার পুরস্কার দিয়েছে।

বিজ্ঞান বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান ও গণিত প্রতিযোগিতার দল রিয়েল ওয়ার্ল্ড ওয়াকিং এক্সপেরিয়েন্সকে আইডিয়া দেয়ার জন্য ৩০ লাখ ডলার দেয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে তারা তাদের কর্মকাণ্ড আরো প্রসারিত করতে পারবে।

স্বচ্ছতা বিভাগ
সরকারের সব ধরনের কাজ স্বচ্ছতার সাথে করার জন্য পাবলিক রিসোর্স প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেয়া হয়েছে ২০ লাখ ডলার। তাদের দেয়া আইডিয়ার মাধ্যমে গুগল মনে করছে সরকারের বিভিন্ন কাজে আরো স্বচ্ছতা আসবে। ফলে মানুষের দুঃখ অনেকাংশেই লোপ পাবে।

প্রযুক্তি বিভাগ
বিশের বিভিন্ন প্রযুক্তির মধ্যে গাড়িও একটি। আর এই গাড়ি চালানোতে আইডিয়া প্রদানের জন্য সুইব প্রকল্পকে দেয়া হয়েছে ১০ লাখ ডলার।