তুমি এমন কেন? তোমার কী...? 
আহা! কতই না সুন্দর এই পৃথিবী, এই সুন্দর পৃথিবীতে আসার ক্ষমতা যিনি আমাদের দিলেন প্রথমে তারই প্রশংসা করি। আর তিনিই আমাদের সৃষ্টিকর্তা, মৃত্যুদাতা, রিজিকদাতা, জীবনদাতা, আশ্রয়দাতা এবং পালনকর্তা। আমরা সেই প্রভুর সামান্য গোলাম মাত্র। এখন পৃথিবীর কাছে আমার প্রশ্ন, পৃথিবী তুমি তো সুন্দর কিন্তু তোমার ভেতরে যারা সৃষ্টির সেরা জীব তারা এমন কেন? আজকে আমরা যে দুজন মানুষের মাধ্যমে পৃথিবীতে এসেছি, যাদের ছাড়া আমাদের পৃথিবীর আলো দেখার ক্ষমতা ছিল না। তারা কারা? তারা তো আমাদের জন্মদাতা পিতা এবং গর্ভধারিণী মাতা। আর সেই পিতা-মাতার অবাধ্য হতে তোমার কি লজ্জা করে না, বিবেকে বাধে না প্রেম করতে? তোমার লজ্জা করে না অন্যের কাছে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে? লজ্জা করে না পার্কে যেতে, চাইনিজে, ডেটিংয়ে যেতে? সে কি তোমার নির্ধারিত স্বামী? এই তুমি তো একজন নারী। তুমি প্রেম করবা তাহলে কেন বোরকা পর আবার কেনই বা নামাজ পড়? প্রেম যদি করতেই হয় তাহলে তুমি নামাজ ছাড়, বোরকা ছাড় এবং প্রেম কর। কেননা এতে বিন্দু পরিমাণ লাভ নেই, সব বিফলে যাবে। বোরকা, নামাজ না হয় নাই পরলে তাই বলে তোমার প্রেম করতেই হবে? তুমি যার সাথে প্রেম কর তাকে জীবনে স্বামী বলে ডাকার ক্ষমতা আল্লাহ তোমাকে নাও দিতে পারেন। কেননা প্রেম-ভালোবাসা করা আর পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়া একই কথা। তুমি কী মনে কর এতে তোমার পিতা-মাতা কষ্ট পাবে না? এটাই তাদের সবচেয়ে বড় দুঃখ-কষ্ট। পিতা-মাতাকে কষ্ট দিয়ে তুমি কোনো দিন সফল হতে পারবে না। আর আল্লাহ তোমাকে ক্ষমাও করবে না কোনো দিন। হিসাব দিতে পারবে যৌবনে যুবতী বয়সে তুমি কী কী করেছ? তোমার যৌবনকে কার কাছে বিলিয়ে দিয়েছ? এতই তোমার যৌবন, কামনা-বাসনা? ছি...ছি...ছি...এ জন্যই টলস্টয় বলেছিলেন- মেয়েরা সাধারণত এত খারাপ যে ভালো এবং মন্দ মেয়েদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা যায় না! যদি আদর্শবান হতে চাও, পরকালে মুক্তি পেতে চাও তাহলে নিজেকে সকল খারাপ কাজ থেকে হেফাজত করো। নচেত তোমার অমঙ্গল নির্ধারিত হয়ে আছে যা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।
আর পিতা-মাতা? আপনাদের ভার্সিটি, কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া মেয়েটা কী করে বেড়াচ্ছে কখনো গভীরভাবে খোঁজ নিয়েছেন? খোঁজ নিয়ে দেখুন আপনার আদরের টুকরা সন্তানরা বিশেষ করে মেয়েরা কী করছে। আপনার মেয়েটা যা করছে তাতে একদিন আপনার আশার পথ, আলোর পথ অন্ধকার হয়ে যাবে। এমন একদিন আসবে যেদিন আপনার সন্তান-সন্ততির জন্য আপনাকে পদে পদে লাঞ্ছিত হতে হবে।
আসিফ ইকবাল (তপু)
নাগেশ্বর ডিগ্রি কলেজ
কুড়িগ্রাম
শিরোনামহীনা 
চলেই যদি যাবে তবে কথা দিয়েছিলে কেন? কেন বলেছিলে ভালোবাসি, ভালোবাসব জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত। তবে সেদিন যা বলেছিলে সবই মিথ্যা! সবই কি তোমার সাজানো অভিনয়। অনেক সাধ করে আমার নাম রেখেছিলে অরণ্য। কারণ জানতে চাইলে বলেছিলে তোমার সবুজের অক্সিজেন নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই অনন্তকাল তোমার বুকে। ঠিক তার কিছুদিন পর ভয়ংকর এক ঝড়ে ধ্বংস হয়ে যায় অরণ্য। পরিণত হয় উত্তপ্ত মরুভূমি। এখানে আর কোনো পাখি গান গায় না, ফুলও ফোটে না। দিনমণির তীক্ষ্ণ রশ্মিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বালুর চর। গরম বালিতে আস্তে আস্তে ফসকা পড়তে থাকে আমার বুকে। চিৎকার করে কান্না করতে ইচ্ছা করে কিন্তু পারি না। শুধু প্রতীক্ষায় থাকি, কখন নেমে আসবে চারদিকে গভীর অন্ধকার। আজকাল রাতে ঘুম হয় না, দূর আকাশের চাঁদ-তারার দিকে চেয়ে থাকি। আর ভাবি একই চাঁদ হয়তো তুমিও দেখছ আমিও দেখছি অথচ তোমার আর আমার মাঝে এত ব্যবধান। তবুও মনটা আজও তোমার উপস্থিতি অনুভব করে। প্রভাতের হিজল ফুলগুলো প্রতীক্ষায় থাকে তোমার কোমল হাতের মোলায়েম সপর্শের আশায়। হৃদয়ে যে মিশে আছো তুমি দেহের অঙ্গ হয়ে, তাকে কি কভু ভোলা যায়। তুমি চলে যাবে যাও শুধু এ রাতের জোনাকিকে বলে যাও, আমার জীবন আঁধারে ও যেন মিটিমিটি আলো জ্বালিয়ে না রাখে। সকালের দূর্বা ঘাস কেন অশ্রু ঘুমিয়ে রাখে। জীবন চলার পথে কখনো যদি তোমার অরণ্যকে মনে পড়ে তবে দূর আকাশের তাঁরার মাঝে আমায় খুঁজে নিয়ো। আমি থাকব অনন্তকাল তারকার মাঝে। রাতজাগা পাখির ডানা ঝাপটানো শব্দে তন্ময়তা ভাঙে আমার। বুঝতে পারি দীর্ঘ সময় ধরে স্মৃতির রাজ্যে ভ্রমণ করছি। টেবিলে রাখা আয়না নিয়ে মুখটা দেখি। চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে নেমেছে নিচের দিকে। চৈত্রের নদীর মতো তা শুকিয়ে দাগ হয়ে আছে। মানুষের জীবনেও এমন কিছু দাগ থাকে যা কখনো মোছে না।
এসআই রানা
সিরাজগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
ফোন: ০১৭২১-৬৬৮০৯৭
মানুষ ও মনুষ্যত্ব 
সেদিন কি এক প্রসঙ্গে বাবার বয়সী একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম মানুষ কাকে বলে? তিনি আমাকে বললেন যার আছে হুঁশ তাকেই বলে মানুষ। আমি বললাম অন্যান্য প্রাণীরও তো হুঁশ আছে, আছে অনুভূতিশক্তি তাহলে মানুষ আর প্রাণীর মধ্যে পার্থক্যটা কী? তা হলে কেন মহান সৃষ্টিকর্তা তার সৃষ্টিকুলের মধ্যে মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব বানিয়েছেন? শেয়াল তো পশু-পাখির মধ্যে সবচেয়ে চালাক প্রাণী। আল্লাহ তাকে তো শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে আখ্যায়িত করেনি। তিনি আমার প্রশ্নের আর কোনো উত্তর দেননি। ভাবসম্প্রসারণে পড়েছিলাম প্রাণ থাকিলে প্রাণী হয় কিন্তু মন না থাকিলে মানুষ হয় না। আমার মতে প্রাণ থাকলেই প্রাণী হয় কিন্তু ‘মন ও মনুষ্যত্ব’ না থাকলে মানুষ হয় না। অন্যান্য প্রাণীকে আল্লাহ ভালোমন্দ বিচার করার ক্ষমতা দেননি যেটা মানুষের মধ্যে দিয়েছেন। মানুষকে আল্লাহ বিবেক-বুদ্ধি-জ্ঞান-স্নেহ, মায়া-মমতা ও মনুষ্যত্ববোধ ইত্যাদি গুণাবলি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। যার ফলে অন্য প্রাণী থেকে মানুষ আলাদা। মানুষের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ‘মনুষ্যত্ববোধ’। কোনটা ভালো কোনটা মন্দ সেটা মানুষ বুঝতে পারে শুধুমাত্র তার বিবেক বুদ্ধি ও মনুষ্যত্ববোধ দ্বারা। কিন্তু যখন মানুষের মধ্যে থেকে এই গুণগুলো হারিয়ে যায় তখন তাদের কী বলবেন? মানুষ না হিংস্র হায়েনা? অনেক হিংস্র জন্তু আছে যারা মরা পশুর রক্ত, মাংস খায় না। বর্তমানে আমরা এমনই একটা সমাজে বসবাস করছি যেখানে মানুষরূপী জানোয়ারগুলো ক্ষুধার্ত হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ছে অনাথ, দুর্বল, নিরীহ মানুষের ওপর। চুষে খাচ্ছে তাদের রক্ত-মাংস। আমাদের দৈহিক কাঠামো মানুষের আর ভেতরের আত্মাটা হিংস্র জানোয়ারের। আমার চোখের সামনে সেদিন যে ঘটনা ঘটল সেটা আমি কোনোভাবেই মন থেকে মেনে নিতে পারছি না, আবার কিছু বলতেও পারছি না কারণ আমি একজন ছাত্র। আমি বিদ্রোহী কবি নজরুল বা সুকান্ত নই যে কলমের মাধ্যমে সংগ্রাম করব। আমি কোনো সমাজপতি বা রাজনৈতিক নেতা নই। আমার নেই কোনো অর্থনৈতিক শক্তি। আছে শুধু মনুষ্যত্ববোধ যার কারণে আজ কলম ধরেছি। ঘুমন্ত মনুষ্যত্ববোধকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছি। সবাই যেন অন্ধ। দেখেও না দেখার ভান করছে।
অপরাধ না করেও ভিক্টিম ছাত্রটি জীবন বাঁচানোর জন্য পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কোথাও সে সুবিচার পাচ্ছে না। না জানি সারা দেশে এ রকম কত হাজার হাজার লোক সুবিচারের জন্য ডুকরে কেঁদে মরছে। হয়তো এই নিরপরাধ ভিক্টিমরাই বাঁচার জন্য বাধ্য হয়ে একদিন হাতে তুলে নেবে অস্ত্র। হবে বড় সন্ত্রাসী কিন্তু কেন এরা কলমের পরিবর্তে হাতে তুলে নিচ্ছে পিস্তল? কারা এদের বাধ্য করছে সন্ত্রাসী হতে? তারা কি চিরকাল মুখোশের আড়ালেই থেকে যাবে? কোনো দিন কি এই মানুষরূপী জানোয়ারগুলোর বিচার হবে না? যদি বিচার নাই হয় তাহলে কী প্রয়োজন এই সভ্য সমাজব্যবস্থার? সভ্য সমাজে বসবাস করেও আমরা আজ অসভ্য বন্য জন্তুর মতো আচরণ করছি। বন্য জন্তুগুলো বসবাস করে বনে। নেই তাদের কোনো সমাজব্যবস্থা বা বিচারব্যবস্থা। কিন্তু আমাদের তো সমাজ, বিচারব্যবস্থা আছে। তাহলে কেন সুবিচার পাব না? আমার এই প্রশ্ন দেশ-বিদেশের সকল মানুষের কাছে। একটা গানে শুনেছি জীবন জীবনের জন্য, মানুষ মানুষের জন্য। আমার বলতে ইচ্ছা করছে ‘জীবন মরণের জন্য আর ঘৃণা মানুষরূপী পশুদের জন্য।’ এখন নিজের প্রতি খুব ঘৃণা হয় আমি এই সমাজের একজন মানুষ। মাঝেমধ্যে মনে হয় নিজের হাতে অস্ত্র তুলে নিই। ধ্বংস করে দিই ওই পশুদের যারা সমাজটাকে কলুষিত করছে কিন্তু পারি না কারণ মানুষ হয়ে তো আর কুকুরকে কামড়াতে পারি না। কবে বন্ধ হবে খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ? আজ আমার গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করছে- হে বীরঙ্গনা মা-বোন, হে ৩০ লক্ষ শহীদ আজ চেয়ে দেখ তোমাদের স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশ। এর জন্যই কি তোমরা তোমাদের ইজ্জত, জীবন দান করেছিলে? আর কতকাল এভাবে মার খাবে দুর্বল? কবে মানুষের মধ্যে জেগে উঠবে মনুষ্যত্ববোধ? কবে???
মো. হুমায়ুন করিব
ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর
ফোন: ০১১৯১-৮১৩৬৩২
মানুষের প্রতি ভালোবাসা 
সুজলা-সুফলা এ মাতৃভূমি আমাদের এই বাংলাদেশ। এই দেশের প্রতিটি মানুষ একে অপরের প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিলে জাতি একটি সুন্দর দেশ পাবে এবং সবাই সুখ-শান্তি উপভোগ করতে পারবে। তেমনি করে আমাদের গ্রামের পাশে একটি গ্রাম যার নাম আশাফুরা। এই গ্রামের একজন মানুষ বহুদিন বিদেশে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু ভাগ্য খারাপ তেমন কোনো কিছু করতে পারেননি। বিদেশ থাকাকালীন তার একটি ভীষণ রোগ ধরা পড়ে। মালিক তাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়। অসুস্থ অবস্থায় তিনি দেশে ফিরে আসেন। তার নাম ছিল রহমান। বাড়িতে আসার পর রহমান ভাই তেমন কোনো টাকা নিয়ে আসতে পারেননি। রহমান ভাই চিকিৎসার জন্য নিজের এত দিনের বহু কষ্টের একটা জমি ছিল তিনি তা বিক্রয় করলেন। তার স্ত্রী খুব অসহায় দরিদ্র ঘরের মেয়ে ছিল। বাবার বাড়ি থেকে কিছু আনার মতো সামর্থ্য ছিল না। তার স্ত্রী খুবই কান্নাকাটি করত। কারণ তার তিন তিনটা মেয়ে ছিল। স্বামীর কিছু হয়ে গেলে তারা কী করবে। কে তাদের পরিবার দেখবে। এদিকে রহমান ভাই চিকিৎসার জন্য এলো রামগঞ্জ পপুলার হাসপাতালে। ডা. নাজমুল হক বলল সর্বপ্রথম রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। ওখানে আমি আমার একজন রোগীর চিকিৎসার জন্য গেলাম। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর জানা যায় তার যে সমস্যা তার জন্য অ+ রক্তের অতি প্রয়োজন। এই মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে হলে তাড়াতাড়ি রক্তের ব্যবস্থা করতে হবে। এদিকে রহমান ভাইয়ের সাথে যারা এলেছিল তারা সব হাসপাতালে ছোটাছুটি করল। কিন্তু কোথাও রক্ত পেল না।
একজন লোক খুঁজে পেল কিন্তু তিনি রক্ত দেবেন না। রক্ত দিতে অনীহা দেখাচ্ছিলেন। অবশেষে আমি জানতে পারলাম আমার রক্ত অ+ আর দ্বিধাদ্বন্দ্ব না করে মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচানোর জন্য এই প্রথমবারের জন্য রক্ত দিচ্ছি। কিন্তু আমার মনে কোনো প্রকার ভয় কাজ করছে না। ভয়হীনভাবে আমি রক্ত দিতে প্রস্তুতি নিলাম। আমার বুকের মাঝে একটা কথাই বিরাজ করছে আমার রক্ত দ্বারা একজন লোক সুস্থ হলে আমার আত্মা শান্তি লাভ করবে। আমি রক্ত দেয়ার সময় লক্ষ করলাম রহমান ভাইয়ের স্ত্রী এবং তিনটি মেয়ে স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। আর আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। রক্তদাতা পাওয়ার পর ওদের সবার মনে আনন্দের হাসি ফুটল। একটা কথাই মনে সব সময় বিরাজ করছে রহমান ভাইকে বাঁচানো যাবে কি না। প্রথম দিন রক্ত দেয়ার পর রহমান ভাই কিছুটা সুস্থ হলেও ডা. জানাল ৭ দিন পর আবার রক্ত দিতে হবে। রক্ত দেয়ার পর আমি বাড়িতে এলাম। বাড়িতে কাউকে কিছু না বলে চুপচাপ রইলাম। বললে কীভাবে মেনে নেয়। ৭ দিন পর আবার রক্ত দেয়ার জন্য হাসপাতালে গেলাম। রহমান ভাইকে রক্ত দেয়ার জন্য আবারো প্রস্তুত হলাম। রক্ত দেয়ার শেষ পর্যন্ত আমি মনে মনে রহমান ভাইয়ের শুভ কামনা করলাম। ধীরে ধীরে রহমান ভাই সুস্থ হলো। শারীরিক সুস্থতা ফিরে পেয়ে রহমান ভাই সবাইকে ধরে কান্নাকাটি শুরু করল। আমি বুঝতে পারলাম এই কান্না সুখের কান্না। হাসপাতাল থেকে বাড়ির উদ্দেশে ফিরে আসব। এমন সময় রহমান ভাই আমাকে ডাক দিয়ে বলল তুমি একটু দাঁড়াও, ডা. সাহেবকে জিজ্ঞেস করে দেখি তোমার রক্তের দাম কত হলো। আমি রহমান ভাইকে বললাম, ভাই আপনি এগুলো কী বলছেন, মানুষ হয়ে মানুষের বিপদে এগিয়ে আসা এটা আমার কর্তব্য।
আর আমি আপনাকে স্বেচ্ছায় রক্তদান করলাম। তা শোনার সাথে সাথে রহমান ভাইয়ের মলিন মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠল। তিনি দেরি না করে আমার জন্য দোকান থেকে কয়েক প্রকার ফল এনে, বলল এগুলো তোমার জন্য। আমি তার প্রতি খুশি হয়ে বললাম, ভাই এগুলো আপনি বাড়িতে নিয়ে যান। আজ আমার শরীরের রক্ত আপনার শরীরে বয়ে যাচ্ছে। এটাই আমার জন্য আজ বড় আনন্দের ব্যাপার। আপনার নিষ্পাপ তিনটি মেয়ের পাশে আপনি দাঁড়াতে পারলে তাদের জীবন পুনরায় আবার সুন্দর হবে। আপনার মতো একজন মুমূর্য়ু রোগীর জীবন সুস্থতা লাভ করছে বলে আজ মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে অজস্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিদায় নিলাম রহমান ভাইয়ের নিকট থেকে। বাড়িতে এসে পুরো ঘটনা মাকে খুলে বললাম। মা খুব খুশি হয়ে বললেন, মানুষের জন্য কিছু করা মানুষের কাজ। মা আরো বললেন, আল্লাহকে পেতে হলে নাকি সর্বপ্রথম মানুষকে ভালোবাসতে হবে। মায়ের মুখে উদারতার কথা শুনে আমি আর দেরি না করে রামগঞ্জের কয়েকটি হাসপাতালে আমার ঠিকানা দিয়ে এলাম এবং বললম অ+ গ্রুপের যে কোনো মুমূর্য়ু রোগীকে আমি রক্ত দিতে প্রস্তুত। আর বললাম স্বেচ্ছায় রক্তদান। ওই দিন থেকে শপথ করলাম, বুকে হাত রাখলাম। শপথ করলাম শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও দেশের মানুষের বিপদে ভালোবাসার হাত বাড়াব। আর রহমান ভাইয়ের একটি জীবন রক্ষা করল তার একটি পরিবার। আসুন আমরা সবাই মিলে একে অপরের বিপদে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে স্বেচ্ছায় মুমূর্ষু রোগীদের রক্ত দান করি। আপনার শরীরের রক্ত এনে দিতে পারে একজন মানুষকে বাঁচার প্রেরণা। সবশেষে মনের কথাগুলো প্রকাশ করার এই হাতিয়ার মনোজগতের ‘মনের জানালা’ অধ্যায়কে আজ গভীরভাবে ধন্যবাদ জানাই।
মো. আলমগীর হোসেন
রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর
ফোন: ০১৭২০-২২২৬৯৭
আসুন একটু ভাবি... 
এ পৃথিবী যেমন আছে তেমনই তো রবে সুন্দর এ পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে। সত্যিই তাই, এ সুন্দর পৃথিবীতে আমরা কেউই বেঁচে থাকার স্থায়ী ভিসা নিয়ে আসিনি। তবু কেন আমরা নিজেদের বিবেক-বুদ্ধি, চিন্তা-চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে অন্যায় লোভে আসক্ত হয়ে পড়ছি। একজন মানুষের সুস্থ হয়ে বাঁচার জন্য কতটা স্বাচ্ছন্দ্যের প্রয়োজন হতে পারে?
আমাদের বর্তমান অস্থির সমাজে প্রতিনিয়ত আমাদের সুস্থ-বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তগুলো প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই ঝরে পড়ছে। অনেকগুলো খারাপ চিন্তার যেখানে নিত্য বসবাস সেখানে সুস্থ চিন্তাও অসুস্থ হতে বাধ্য। আমরা তবু স্বপ্ন দেখি সুন্দর আগামীর যেখানে থাকবে না হানাহানি, থাকবে না কোনো প্রকার বৈরিতা, একজন অন্যজনের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়বে, অন্যের আনন্দে সে নিজেও উদ্বেলিত হবে। চোখ বুঝলে দুনিয়া অন্ধকার- এই ভাবনা মাথায় রেখে সমাজের ক্ষতি হবে এমন কোনো কাজ করা আমাদের কখনো কাম্য নয়। সৃষ্টির সেরা জীব আমরা মানুষ, কাজেই পৃথিবীর কল্যাণকর সকল কাজ ব্যতীত কোনো নিন্দনীয় কিংবা অকল্যাণকর কাজ আল্লাহ আমাদের দ্বারা কখনোই আশা করেন না। কিন্তু সেই আমরা আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ অর্জনে কতটুকু সক্ষম হচ্ছি?...আসুন আমরা সবাই লোভকে নিয়ন্ত্রণ করে স্ব-স্ব জায়গা থেকে আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করি, সমাজটা সর্বোপরি দেশটাকে বদলে দিই। আর প্রতিহিংসা নয় অসুস্থ প্রতিযোগিতা নয় নিজেদের ভাবনার পরিবর্তন ঘটিয়ে সুস্থ চিন্তার মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশটাকে সুন্দর করে তুলি। মনে রাখবেন দেশ ভালো থাকলে আমি, আপনি ভালো থাকব আর দেশ খারাপ থাকলে আপনি, আমি....বুঝে নিন।
মো. হাসান মাহমুদ
দুমকি, পটুয়াখালী
ফোন: ০১৭৪৪-৫৫৪৮৮৪
ভালোবাসার মাপকাঠি 
পৃথিবীতে ভালোবাসা যে কত প্রকার আছে তার সঠিক হিসাব কারো জানা নেই। মা-বাবার ভালোবাসা, প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসা, জীব-জন্তুর ভালোবাসা, পশু-পাখির ভালোবাসা ইত্যাদি প্রকারের ভালোবাসা। এখন স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে আসলে ভালোবাসা কী এবং কত প্রকার? এর প্রতি উত্তরে আমি বলব, এটা সম্পূর্ণ একটা আপেক্ষিক ব্যাপার। এটি হতে পারে কোনো কঠিন, তরল বা বায়বীয় পদার্থের মতো। পাত্রে রঙ ধারণ করার মতো। যখন যে পাত্রে রাখা হয় তখন সেই পাত্রের রঙ ধারণ করে। যদি এ ভালোবাসা একজন খাঁটি বাঙালি মনের হয়, তবে তা হৃদয়ঙ্গম করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। ভালোবাসা বোঝার মতো ক্ষমতা যে বাঙালির নেই সে বাঙালি আবার প্রেম করতে জানে নাকি? কিন্তু ওই ভালোবাসা যদি একজন বাঙালি নারীর মনের হয় তবে তো কোনো কথাই নেই। স্বয়ং ঈশ্বর পর্যন্ত যেখানে সম্পূর্ণ বুঝতে পারেন না, সেখানে সাধারণ কবি, সাহিত্যিক বা বাঙালির বোঝার ক্ষমতা সে তো প্রশ্নই আসে না। না বোঝার পেছনে এখানে অবশ্য একটি সমীকরণ কাজ করে। যে সমাজ পুরুষের সৃষ্ট, দণ্ডমুণ্ডের কর্তা পুরুষ, সেখানে নারীর মন না বোঝা সে তো দোষের কিছু নয়। ভালোবাসার জন্যই হোক বা অন্য কোনো কারণেই হোক নারীর প্রতি পুরুষের নত স্বীকার কোনোকালেই ছিল না, ভবিষ্যতেও...
তারপরেও বলতে হয়, একজন নারী এবং একজন পুরুষ জগতে টিকে থাকার আকাঙ্ক্ষাতে একে অপরকে ভালোবাসে। সুখ-দুঃখে ভবিষ্যতে টিকে থাকার সংকেতরূপে কাজ করে। যদিও আমাদের চিন্তা-ভাবনার বাইরে নেপথ্যে কাজ করে। কেননা পুরুষ সরল চিত্তে হরণ করে নারীর মন, আর নারীরা সে সরল চিত্তের হরণের শিকার হন। বলতে হয় পানের গায়ে চুনের যে সংস্কার তা নারী কোন ক্ষমতার বলে বিলোপ করবে? আমিও তো নিজে একজন বাঙালি। আর বাঙালির প্রেমের কচকচানি অবলোকন করে হয়ে পড়ি হতাশ। তারপরেও আমি বলব আবেগের তাড়নার বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল বা জীবনানন্দ দাশের পর আমি ছাড়া এমন যোগ্য প্রেমিক পুরুষ তো আর কাউকেই দেখি না।
ইমন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ফোন: ০১৭২০-২৭৫৬৫২
ভালো ও মন্দ 
ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য আমি বহুদিন ধরে খুঁজছি। ভালো কী? আর মন্দটাই বা কী? এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। অনেকে অবশ্য খুব সহজেই ভালো ও মন্দের পার্থক্যটা বলে দিতে পারে। কিন্তু আমি পারি না। আমি দেখেছি কোনো একটা জিনিস একজনের কাছে ভালো হলেও তা অন্যজনের কাছে ভালো নয়। মানুষের নিজের চাহিদার ওপর ভালো-মন্দ নির্ভর করে। ভালো ও মন্দ তাই জটিল একটি বিষয় বলে মনে হয় আমার কাছে। কারণ মানুষের চাহিদার কোনো শেষ নেই। একেক মানুষের চাহিদা হয় একেক রকমের। পৃথিবীতে জাতের কোনো শেষ নেই। একেক জাতের একেক রকমের সংস্কৃতি-সত্যতা ও চাহিদা। জীবনের ধরন যেন একেক লোকের একেক রকম। এই জীবন ধরনের ওপর যেন ভালো-মন্দ নির্ভর করে। আমি বহুদিন থেকে যা ভালো বলে মনে করছি এবং সেই ভালোকে কাছে টানছি তাকে দেখছি অন্যরা মন্দ বলছে। আসলে সময়ই বলে দেয় কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ। ভালো-মন্দ বুঝতে হলে সময়কে বুঝতে হবে। বুঝতে হবে সময় নিজের কাছে কী চায়। সময় তো স্রোতের মতো। কেউ যদি স্রোতের অনুকূলে যায় তবে অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে। আর কেউ যদি এই স্রোতের প্রতিকূলে যায় তবে সামান্য যেতে পারে অথবা এই একই জায়গায় পড়ে থাকতে হবে। এভাবে মানুষকে সময়ের সাথে চলতে হবে। তবেই সে ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে পারবে।
মো. হাসান
ফোন: ০১৯১১-৮০২৩৮০



