Skip to main content

মানব-মানবীর ব্যক্তিগত সমস্যার A টু Z

অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহামমদ ফিরোজ

এফসিপিএস

বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের নানা মনোশারীরিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। শরীরের পরিবর্তন ৮ বছর বয়স থেকেই আরম্ভ হয়। অনেক মেয়ে তাদের শরীর নিয়ে বেশ চিন্তিত থাকে, বিশেষত অনেকেই মনে করে অপরের শরীর নিজের চেয়ে অনেক তাড়াতাড়ি বাড়ছে। তবে এসব বিকাশের ক্ষেত্রে সময়ের পরিবর্তন হতেই পারে। কতক মেয়ের বয়ঃসন্ধিকাল একটু আগে আসে, কারো সামান্য পরে আসে।

বয়ঃসন্ধিকালে শরীরে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয় যাদের আমরা হরমোন বলি। আসলে এই হরমোনজনিত কারণেই নারীর শরীর ও মনে এসব পরিবর্তন দেখা যায়। নারীদের মূল হরমোন হলো ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন।

সাধারণত ৯-১৩ বছর বয়সের মাঝে বালিকাদের স্তন ভালোভাবে বিকাশ লাভ করা আরম্ভ হয়। অনেক মেয়েই নিজ স্তনের আকার ও ধরন নিয়ে অহেতুক চিন্তা করে ও অস্বস্তিতে ভোগে। তারা আসলে তাদের বান্ধবীদের স্তনের সাথে নিজের স্তন তুলনা করে এ সমস্যাটিতে পড়ে। সাধারণত স্তনের আকার বাড়ার ব্যাপারটা কোনো কোনো নারীর একটু দ্রুত হয়। তবে স্তনের বিকাশ শেষ পর্যায়ে যাওয়ার সময় স্তনের আকার প্রায় সবারই কাছাকাছি থাকে। যোনিকেশ ও বগলের নিচের চুলও বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করে।

সাধারণত ১১ বছর থেকে ১৫ বছরের ভেতরে মাসিক বা ঋতুস্রাব শুরু হয় যদিও মাসিক একটু তাড়াতাড়ি যেমন-৯ বছর বয়সে শুরু হতে পারে বা একটু দেরিতে যেমন-১৭ বছর বয়সেও শুরু হতে পারে।

নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক বা ঋতুস্রাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা প্রতি মাসের নিয়মিত মাসিক গর্ভধারণ নিশ্চিত করে। জরায়ুর আবরণী কলা পুরু ও দৃঢ় হতে থাকে। প্রায় ২ সপ্তাহ পর গর্ভাশয় থেকে একটা ডিম নিঃসৃত হয়। যদি শুক্রকীটের সাথে এর মিলন না ঘটে তবে নিষিক্ত হয় না তাই জরায়ুর পুরু গাত্রের তেমন কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। পরবর্তী দুই সপ্তাহে যোনি দিয়ে জরায়ুর একটি আবরণসহ স্রাবের রক্ত বেরিয়ে আসে এটিকেই বলে পিরিয়ড বা মাসিক ঋতুস্রাব।

অনেক নারীই তাদের মাসিক চলাকালীন বিশেষ দিনগুলোতে খুব অস্বস্তি ও বিরক্তিবোধ করে। শারীরিক ব্যায়াম, হাল্কা গরম প্যাড বা গরম পানির বোতল এবং ব্যথানাশক ওষুধ অস্বস্তি কমাতে বেশ সহায়ক।

মাসিক সাধারণত ৩-৫ দিন স্থায়ী হয়, তবে এটা বেশি কম হতে পারে। আবার কোনো মাসে কম ও কোনো মাসে বেশি রক্ত যাওয়া ইত্যাদিও হতে পারে। অনেক ব্যাপারই মাসিক স্রাবকে প্রভাবিত করতে পারে যেমন মনোশারীরিক চাপ বা অসুস্থতা বা ওজন কমা, বাড়া ইত্যাদি। তবে আস্তে আস্তে মেয়েদের মাসিক বা পিরিয়ড নিয়মিত হতে থাকে। কারো পিরিয়ড যদি খুব নিয়মিত থাকে তবে তা ২১-৩৫ দিন পরপর বা ৩-৫ সপ্তাহ পরপর হতে পারে।

কোনো মহিলা যদি যৌনসঙ্গম করে এবং পরবর্তীতে গর্ভবতী হয়, একটি পিরিয়ড বা স্রাবকালীন সময় মিস করে, তবে সে গর্ভধারণ করে ফেলতে পারে। এটা তখনই ঘটে যখন শুক্রকীটের সাথে ডিম্বাণুর মিলন হয়। এবার নিষিক্ত ডিমটি আস্তে আস্তে জরায়ুর পুরু গাত্রে অবস্থান নেয়। ধীরে ধীরে নিষিক্ত ডিমটি অনেক বড় হতে থাকে। এখন কিন্তু জরায়ু পুরু গাত্রের কিছু অংশ বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং নারীর মাসিক বা ঋতুস্রাব বন্ধ থাকবে। মেয়েলি হরমোনের প্রভাবে নারীদের যৌনাঙ্গ থেকে এক প্রকারের ক্ষরণ বা মিউকাস নিঃসৃত হয়। এর জন্য অবশ্য যোনির কোনো অংশ আঘাতগ্রস্ত হয় না বা চুলকানির উদ্রেক করে না বা এর বাজে গন্ধও নেই। তবে আপনার ক্ষরণকালীন সময় যদি ব্যথা পান বা চুলকায় বা খুব বাজে গন্ধ হয় তবে আপনার ইনফেকশন বা সংক্রমণ থাকতে পারে। ডাক্তারের সাথে আলাপ করুন।

নানা ধরনের ফুসকুড়ি বা মেচতা একটি সাধারণ সমস্যা। এর জন্য ভালো সাবান দিয়ে পরিষকার করুন, চর্বি জাতীয় খাবার একটু কম খাবেন। স্কিন বা ত্বকে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করবেন না। কোনো ড্রাগ স্টোর থেকে বেনজয়িল পারঅক্সাইড ক্রয় করে ব্যবহার করুন। ওষুধ সেবন করতে হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মতো ওষুধ সেবন করতে হবে।

নারীর শরীরের গন্ধ মূলত ঘামের জন্য হয়। এটা অস্বস্তিকর ও বেশি মাত্রার হলে ভালো সাবান যেমন ডিওডরেন্ট সাবান দিয়ে নিয়মিত গোসল করা যেতে পারে। নিয়মিত ডিওডরেন্ট ব্যবহার করুন।

১০ থেকে ১৩ বছরের মেয়েরা তুলনামূলকভাবে একটু তাড়াতাড়ি বাড়ে। পিরিয়ড শুরু হওয়ার পরেও অনেকে আরো এক ইঞ্চি বা তিন সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়ে। তবে এসব কিছু বিকাশের একটা গড় বয়স হলো ১৬ বছর।

নারীরা তাদের বয়ঃসন্ধিকালে খুব যৌন আবেদনময়ী বা প্রবল যৌন অনুভূতি ও কল্পনার রাজ্যে বাস করে। এসব যৌন আবেদন বা অনুভূতিসমূহ কোনো কোনো নারীর ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত আবার কেউ একটু চিন্তিত হয়ে যেতে পারে বা কেউ আবার চরম আনন্দ পেতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েরা চুম্বন বা সেক্স বা রোমান্টিক চিন্তা ভাবনা নিয়ে বেশি দিবা স্বপ্নে দিনাতিপাত করে এটা কিন্তু খুব স্বাভাবিক। নিজের শরীরকে শ্রদ্ধা করুন, অন্যের প্রশংসা করুন।

নারীদের যৌনাঙ্গ
নারীদের যৌনাঙ্গ দেখার সুযোগ যেহেতু কম তাই অনেকেই এসবের গঠন সম্পর্কে ভালো জানে না। আবার অনেক মেয়েকেই কেউ হয়ত শিখিয়েছে যে এ জিনিসগুলো বিশ্রী, কাজেই এ সম্পর্কে কাউকে কিছু বলতে নেই বা জিজ্ঞাসা করতে নেই, কিন্তু এ জিনিসগুলো আসলেই কি বিশ্রী বা লজ্জার কিছু? শরীরের অন্যান্য অঙ্গগুলোর মতোই এগুলো কীভাবে কাজ করে তা জানা অবশ্যই দরকার।

নারীদের যৌনাঙ্গ আসলে দেখতে ঠিক কী রকম? এর জন্য আপনার দরকার হবে একটি আয়না আর কিছু তথ্য। দুই উরুর মাঝখানের এ অঞ্চলটিকে বলা হয় ভালভা বা বহিঃজননদ্বার। এখানে আপনি দুই জোড়া ঠোঁটের মতো জিনিস দেখতে পাবেন যাদের নাম ল্যাবিয়া। যৌবনের সূচনায় বা বয়ঃসন্ধিকালে বাইরের ঠোঁট ঘিরে চুল গজানো শুরু হয়। আর ভেতরের ঠোঁট দুটোর আকার এবং রঙ বা বর্ণ একটু তারতম্য দেখা দিতে পারে। যেমন একদিকের ঠোঁট আরেকদিকের চেয়ে একটু বড়। এই ঠোঁট জোড়ার ভেতরে থাকে ক্লাইটোরিস বা ভগাঙ্কুর এবং দুটি ছিদ্র। ভেতরের ঠোঁটজোড়া সামনের দিকে যেখানে মিলিত হয়েছে সেখানেই ভগাঙ্কুরের প্রকৃত অবস্থান। একজন পূর্ণবয়স্ক মহিলার ক্লাইটোরিসের আকার হতে পারে মটর দানার সমান। কতক মহিলার ক্লাইটোরিস চামড়া দিয়ে ঢাকা বা আবৃত থাকে।

ক্লাইটোরিস অত্যন্ত সংবেদনশীল আর যৌন আনন্দময়। কতক মহিলা এটাকে সপর্শ করাতে পছন্দ করেন। আবার ক্লাইটোরিসের সাথে সরাসরি ঘর্ষণ কোনো কোনো নারীর জন্য বেদনাদায়ক হতে পারে। তারা বরং ক্লাইটোরিসের চারদিকের অঞ্চলেই সপর্শ সুখ পেয়ে থাকেন। ক্লাইটোরিসের একেবারে নিকটে থাকে মূত্রনালীর ছিদ্র। এ পথ দিয়ে প্রস্রাব বেরিয়ে আসে এটা অত্যন্ত ছোট ও দেখা কঠিন ব্যাপার।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ছিদ্র হচ্ছে যোনিপথের প্রবেশদ্বার। এর মাধ্যমে মাসিক স্রাবের রক্ত ও যোনি নিঃসৃত রস বের হয়ে আসে এবং যৌন সঙ্গমের সময় এ পথেই পেনিস ঢোকাতে হয়। বীর্যস্খলনের সময় যে বীর্য বের হয়ে আসে তার শুক্রকীটসমূহ যোনি দিয়ে সারভিক্সে যায়, সেখান থেকে জরায়ুতে যায়। এখানে ডিম্বাণুর সাথে এর মিলনের ফলশ্রুতিতে জাইগোট বা নিষিক্ত ডিম্বাণু তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে গর্ভাবস্থার সৃষ্টি হয়। যখন সন্তানের জন্ম হয় তখন জরায়ু থেকে যোনিপথে বাইরে বেরিয়ে আসে।

যোনির ভেতরের দিকে একটি পাতলা পর্দা বিদ্যমান যাকে হাইমেন বলে। টেম্পুন ব্যবহারে এবং প্রথমবার যৌন সঙ্গমের সময় হাইমেন ছিঁড়ে যেতে পারে। কতক নারীর জন্য এটা খুব অস্বস্তিকর, কিছুটা রক্তপাত হতে পারে। এছাড়া আরেকটা ছিদ্রপথ হচ্ছে পায়ু যা একেবারে পশ্চাতে অবস্থিত। যার মাধ্যমে হজমকৃত খাদ্যের অবশিষ্টাংশ বেরিয়ে আসে। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েরা অন্তর্বাসে যোনি রসের দাগ বা মিউকাস লক্ষ্য করে থাকে। এটা সম্পূর্ণ সুস্থ শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার। এটা হলুদ বা দুধের মতো সাদা, পানীয়ের মতো বা একটু ঘন হতে পারে। মাসিক চক্র নারীর ক্ষরণমাত্রার কম বেশি হতে পারে। অনেক সময় এটির পরিবর্তন দিয়ে গর্ভাবস্থা নিরূপণ করা যেতে পারে। ক্ষরিত রসের খুব বাজে গন্ধ, সাথে চুলকানি বা অস্বাভাবিক বর্ণ ইত্যাদি কোনো কোনো ক্ষেত্রে যৌনবাহিত রোগের আভাস দেয়।

বয়ঃসন্ধিকাল ও পুরুষ
বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরদের মনোশারীরিক নানা পরিবর্তন ঘটে। বালকের শারীরিক পরিবর্তনসমূহ আরম্ভ হয় ১১ বছরের দিকে এবং তা ২০ বছর পর্যন্ত চলতে পারে। শরীর ঠিকমতো বা অন্যদের মতো বাড়ছে না, এরকম একটা চিন্তা অনেক বালকই করে। মনে রাখা দরকার যে, সময়ের ব্যাপারটা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। কারো বয়ঃসন্ধিকাল একটু আগে কারো বা একটু পরে শুরু হয়। আপনি আপনার নিজস্ব গতিতে বয়ঃসন্ধিকাল অতিক্রম করবেন।

মানসিক বা শারীরিক যে আমূল পরিবর্তন আসে তার মূল কারণ হচ্ছে পুরুষালি হরমোন যাকে আমরা বলি টেস্টোস্টেরন। এ হরমোন টেস্টিস বা শুক্রাশয়ের ভেতরে তৈরি হয়। এই শুক্রাশয়টি আবার ঝোলামতো অন্ডথলির অভ্যন্তরেই অবস্থান করে।

টেস্টোস্টেরন হরমোনের পরিমাণ যত বাড়ে স্ক্রুটাম বা অন্ডথলির বর্ণ ততো গাঢ় হয়। পেনিস ও শুক্রাশয় বাড়তে আরম্ভ করে। পরবর্তীতে বগলের নিচে চুল ও দাড়ি গোঁফ গজাতে শুরু করে। গলার স্বর একটু গম্ভীর ও কখনো কখনো একটু ভাঙ্গা থাকতে পারে। গলায় যে স্বরথলি বা ল্যারিংস বিদ্যমান তা বড় হতে থাকে। অনেক বালকের বুকে বোঁটার নিচে সামান্য চর্বি জমতে পারে পরবর্তীতে তা আপনা আপনিই দূর হয়ে যায়।

ইতিমধ্যে টেস্টিকল বা শুক্রশয়দ্বয় সপার্ম বা শুক্রাণু উৎপন্ন করা শুরু করে। এটা পরবর্তী পুরো জীবনব্যাপী ঘটতে থাকে। শুক্রকীট বা শুক্রাণু মূলত অবস্থান করে বীর্য বা সিমেনে যা কিনা এক ধরনের সাদা তরল জাতীয় রস। অনেক সময় নিদ্রাকালীন অবস্থায় পেনিস উত্তেজিত হয়ে তা দিয়ে বীর্য বের হয়ে আসে। এটাকে বলা হয় ওয়েট ড্রিম বা ভেজা স্বপ্ন বা স্বপ্নদোষ। এটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক শারীরবত্তীয় ব্যাপার।

দেহের শারীরিক অবস্থা যেমন উচ্চতা, রঙ বা জাতি ইত্যাদি বিষয় দিয়ে বিবেচনা করে কেউ কেউ পুরুষের পেনিসের সাইজ বা আকার বলে দেয়ার চেষ্টা করেন। এটি কিন্তু একদম ভ্রান্ত ধারণা। সমাজে প্রচলিত আরেকটা ধারণা হচ্ছে, পেনিসের আকার বড় হলেই বুঝি পার্টনারকে বা যৌনসঙ্গীকে বেশি যৌনতৃপ্তি দিতে পারবে এবং নিজেও বেশি যৌনতৃপ্তি পাবে।

পেনিসের উত্থান মাঝে মাঝে হঠাৎ করে অপ্রত্যাশিত সময়ে হতে পারে। এটা অস্বস্তিকর হলেও কিন্তু একেবারেই স্বাভাবিক একটা শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার। তবে স্বাস্থ্যবান থাকার জন্য ও বীর্যস্খলন ঘটানোর জন্য যে কাম বা যৌন আচরণ করতেই হবে এমন কোনো কথা নেই।

মেচতা বা ফুসুকড়ি জাতীয় সমস্যাও বালকদের মাঝে কমন। সাবান দ্বারা পরিষকার পরিচ্ছন্ন থাকুন, অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করুন-কোনো ড্রাগ স্ট্রোর থেকে বেনজায়িল পারঅক্সাইড ক্রয় করুন অথবা কোনো ডাক্তারের পরামর্শ নিন। শরীরের দুর্গন্ধও মূলত ঘামজনিত সমস্যা থেকেই হয়। এসব ক্ষেত্রে নিয়মিত কয়েকবার গোসল এবং ডিওডরেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

অধিকাংশ বালক ১২-১৫ বছরের মাঝে খুব দ্রুত বৃদ্ধি লাভ করে। ১৮ বছরের পরে সাধারণত বৃদ্ধি বন্ধ হলেও মাংসপেশি ঠিকই বিকশিত হওয়ার সুযোগ থাকে।

বয়ঃসন্ধিকাল বালকদের জন্য যৌন আনন্দ আর যৌন অনুভূতি ও কল্পনার বয়স। এই অনুভূতিগুলো সাময়িকভাবে দ্বিধান্বিত হতে পারে। কোনো কোনো বালকের নিকট এটা চিন্তার ব্যাপার আবার কেউ হয়ত এটাকেই খুব উপভোগ করে।

পুরুষের যৌনাঙ্গ
পুরুষের যেনাঙ্গের সবচেয়ে সপষ্ট অংশ হচ্ছে পেনিস বা লিঙ্গ। একজন লম্বা বা দীর্ঘাঙ্গি ও মাংসাল পুরুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সাথে পেনিসের আকার বা সাইজ মিলতে হবে এমন কোনো কথা নেই। পেনিস যখন নরম ও শিথিল থাকে তখন আকার ক্ষুদ্র থাকে কিন্তু যখন উত্থিত হয়, তখন আকার ও দৈর্ঘ্য অনেক বেড়ে যায়।

পেনিসের আকার বা সাইজ বিশাল হলেও পুরুষটি যে বেশি বীর্যবান বা পৌরুষের অধিকারী তা কিন্তু সত্য নয়। তাদের পেনিসও ক্ষুদ্র পেনিসওয়ালাদের মতোই বীর্য বা শুক্রকীট বহন করে। তাই আকারটা একেবারেই মামুলি একটা ব্যাপার। বড় কথা হলো এই যে, পেনিস দিয়ে যৌনসঙ্গী বা সেক্স পার্টনারকে ও নিজেকে কী পরিমাণ পুলকিত করতে পারলেন। যে কোনো সাইজের পেনিস দিয়ে সেক্সকে সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করতে শিখুন।

পেনিসের মাথায় রয়েছে একটি ছিদ্র যা দিয়ে প্রস্রাব বের হয়। পুরুষের যৌন উত্তেজনার সময় এ ছিদ্র দিয়ে একটা পরিষকার তরল ক্ষরিত হয়। এতে থাকে শুক্রাণু এবং এটা বের হওয়া একটা শারীরবৃত্তীয় স্বাভাবিক ব্যাপার। আবার এই একই ছিদ্র দিয়ে বীর্যস্খলনের বীর্য বেরিয়ে আসে। আর এই বীর্যেও থাকে শুক্রাণু।

কতক পুরুষের বা বালকের খাত্‌না করানো হয়ে থাকে। এটা ধর্মীয় বা স্বাস্থ্যজনিত কারণেও করা হয়ে থাকে। এ খাত্‌না চামড়াটিকে কেটে সরানো হয়। এর ফলে পেনিসকে একটু অন্যরকম দেখায় আর পরিষকার পরিচ্ছন্ন রাখাও সহজ হয়। পেনিস দাঁড়ানোর বা উত্থানের সময় এর ভেতরে রক্ত ঢুকতে থাকে। এর ফলে পেনিসটি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। আবার অনেক সময় না চাইলেও পেনিস উত্থিত হয় বা দাঁড়িয়ে যায়। এটা হতে পারে একটি লোক বা ছেলে যৌন চিন্তা করলে কিংবা উত্তেজিত থাকলে। আবার অনেক সময় কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই হতে পারে। এটাকে অস্বস্তিকর মনে হলেও কিন্তু আসলে স্বাভাবিক।

পেনিসের নিচেই থাকে শুক্রাশয় বা অন্ডকোষ। এই শুক্রাশয় দুটি থাকে ঝোলার মতো একটা জিনিসের মধ্যে যার নাম অণ্ডথলি বা স্ক্রুটাম। এর একটা সাধারণত ছোট ও আকেরটা বড় থাকে। শুক্রাণু বেঁচে থাকার জন্য একটু নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন। এজন্যই শুক্রাশয়গুলো থাকে মূল দেহের বাইরে।

স্ক্রুটাম অনেক কারণে ফুলে যেতে পারে, যার অধিকাংশ হয় এর ভেতরে রস জমার জন্য এ অবস্থার নাম সিস্ট। এর কিছু আপনা থেকেই সেরে যেতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে অপারেশনের দরকার হয়। স্ক্রুটামের ভেতরে ক্যান্সারের কারণেও চাকার মতো দেখা দিতে পারে-এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারকে দেখানো প্রয়োজন। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে বিশেষ অঙ্গ খুব ভালোভাবে পরিষকার করে যাওয়া উচিত।

সেক্স নিয়ে কিছু ভাবনা:
নারী-পুরুষরা কী ভাবেন?
যৌনতা সম্পর্কে নানা মুনির নানা মত। এর কিছু ঠিক, কিছু ঠিক নয়। অনেকের ধারণা পুরুষরা কেবল যৌনসঙ্গম বা যৌনমিলনে উৎসাহী। কিন্তু একজন বালক বা পুরুষের যৌনতা সম্পর্কে আগ্রহ বয়স বা জীবন ধারার পরিবর্তনে পরিবর্তিত হয়। পুরুষদেরও হৃদয়ে গভীর অনুভূতি বা আবেগ এবং নিবিড় ঘনিষ্ঠতার আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান।

বালিকা বা নারীরাও এর ব্যতিক্রম নয়। তারা যৌন শিহরণ বা যৌনপুলক চান। একই সঙ্গে চান ভালোবাসা, আদর, ঘনিষ্ঠতা আর আন্তরিকতা। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই চায় নিজের অনুভূতি আর ভাবনার কথা একে অন্যকে জানাতে। এটা অবশ্য ইতিবাচক একটা দিক। কোনো সময় নারী-পুরুষ একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেন। তারা হয়ত তাদের সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে প্রভাবিত করতে চান বা নিজের নিরাপত্তা খোঁজেন। আবার কোনো সময় তারা আবেগ অনুভূতিবোধ গুলিয়ে ফেলেন।

জীবনের প্রথম যৌন সঙ্গম বা যৌনমিলন খুব শিহরণদায়ক রোমাঞ্চকর যেমন হতে পারে আবার ঠিক তেমনি তার উল্টোটাও হতে পারে। অর্থাৎ ভুল করেছেন ভেবে দুঃখবোধ কিংবা হতাশায় ভুগতে পারেন। অনেক নব দম্পতি বুঝতে পারেন না যে, তারা আসলে এখনো যৌন সঙ্গমের জন্য প্রস্তুত নন, হতে পারে যে এটা যৌনসঙ্গমের সঠিক সময় নয় বা সঠিক সঙ্গী নয়। তারা একে অন্যকে এখনো ভালোভাবে জানেনি কিংবা তারা গর্ভসঞ্চার বা যৌনবাহিত রোগ এড়াতে চায়। তারা আসলে যৌনতা নিয়ে এক রকমের দ্বিধা বা শঙ্কায় ভোগেন অর্থাৎ যৌন স্বাচ্ছন্দ্য সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা তাদের নেই।

যৌনসঙ্গম বা যৌনসঙ্গমের বিকল্পস্বরূপ বা এর সাথে গভীর চুম্বন ঠোঁট ছাড়িয়ে জিহ্বাকে সপর্শ করে শিহরণকে বাড়ায় গভীর নিবিষ্টতায় একে অপরকে জড়িয়ে ধরা বা কোলাকুলি করা, মৃদুভাবে একে অপরের যৌনাঙ্গ সপর্শ করে উদ্দীপিত করা বা পারসপরিক মাস্টারবেশন বা ঘষে চরমপুলক অনুভূতি লাভ করা যায়। এ ধরনের যৌন আচরণকে বলা হয় আউটার কোর্স বা সঙ্গম বহির্ভূত যৌনক্রিয়া। অতএব সেক্স নিয়ে সঙ্গী-সঙ্গিনীর একেবারে খোলামেলা আলাপ-আলোচনা করা উচিত।

আমরা সাধারণত সেক্স সম্পর্কে জানতে পারি টেলিভিশন, মুভি, মিউজিক বা সঙ্গীত বা বিজ্ঞাপন, বন্ধু-বান্ধব বা পরিবার থেকে। আপনার যৌনতা বিষয়ক ধারণাগুলোকে একটু সাজিয়ে গুছিয়ে নিন এবং বিশ্বাসগুলোকে পাকাপোক্ত করে নিন। আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনী আপনাকে যৌন আচরণে বা যৌন সঙ্গমের জন্য চাপাচাপি করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই নিজে যা বোঝেন তাই করবেন।

না মানে হচ্ছে ‘না’। আপনার পার্টনারের সাথে ভালো আচরণ করুন, তাকে সমমান করুন এবং নিজের প্রতিও শ্রদ্ধাবোধ রাখুন। যৌন নিপীড়ন বা আক্রমণ এটা যেমন বিবাহিতদের ক্ষেত্রে হতে পারে তেমনি প্রেমিক-প্রেমিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এটা হতে পারে। তবে যাইহোক এটা একটি মারাত্মক অপরাধ।

আমাদের নারী-পুরুষরা যে সেক্স নিয়ে খুব ভালোভাবে জানেন তা কিন্তু নয়। নিজের অনুভূতি বা চিন্তাভাবনা আস্তে আস্তে পার্টনারকে জানান এবং সঙ্গী বা সঙ্গিনী সম্পর্কে আস্তে ধীরে একটা ধারণা লাভ করার চেষ্টা করুন।

যৌনতা সম্পর্কে একই রকমের বিশ্বাস, আবেগ আর অনুভূতি পারসপরিক আন্তঃসম্পর্ককে জোরদার করে সুখী দম্পতিরাও অনেক সময়ে সেক্স করতে অনেক সময় অনীহা প্রকাশ করে বা একই সঙ্গে যৌন চরমপুলক লাভ করতে পারে না।

যৌনসঙ্গী হয়ত যৌনমিলনের জন্য কনডম ব্যবহার করতে পারেন যা কি না ব্যক্তির সুষ্ঠু চিন্তা, প্রস্তুতি আর নিরাপত্তাকে প্রকাশ করে। এভাবে আপনিও আপনার যৌনতাকে নিরাপদভাবে ব্যবহার করতে পারবেন।

যৌনসঙ্গমের ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত:
কীভাবে না বলবেন?
বেড়ে ওঠা বা বিকাশের মানেই হলো শারীরিক ও মানসিকভাবে পূর্ণ বিকাশ। মানসিক বিকাশ যৌনতায় একটু অন্যরকম ভূমিকা রাখে। যৌনতার বিভিন্ন ব্যাপারে খুব দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে আর তাতে পুরোপুরি অটল থাকতে হবে। পরবর্তীতে এর জন্য অনুতপ্ত হয়ে লাভ নেই। বিশেষত আপনি যখন কারো দ্বারা যৌনভাবে আকৃষ্ট হবেন, তখনই নিজেই নিজেকে সব ব্যাপারে যাচাই করে নিন বা শুধরিয়ে নিন। আপনার ইচ্ছাগুলো কী কী, আপনি কতটা মূল্যয়ান পাচ্ছেন বা আপনার শেষ লক্ষ্য আসলে কী তা নিয়ে আগেই ভেবে নিন। পছন্দের ব্যক্তিটির সাথে আপনি যৌনতার ব্যাপারে কোন পর্যন্ত যেতে চান এখন এবং পরবর্তীতে।

আপনার যৌন অনুভূতি, ভাবনা আর ধারণাগুলো নিয়ে আলাপ করুন। আপনি যখন যৌনভাবে সক্ষম তখন বিভিন্ন আন্তঃসম্পর্কের ব্যাপারটি বোঝার চেষ্টা করুন এবং কেন ইন্টারকোর্স বা যৌনমিলন করতে চান তা নিজে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন। এর আসল মানে হচ্ছে আপনি অবশ্যই অপরিকল্পিত গর্ভধারণের ব্যাপারে খুব সচেতন থাকবেন আর যৌনবাহিত রোগ যেন পরিবাহিত হতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। অনেক দম্পতি বর্তমানে কোনো ঝুঁকি নিতে চান না, তারা যৌন সঙ্গম করার আগে খুব সচেতনভাবেই মিলনের অনুকূল পরিবেশটি তৈরি করে নেন।

কাজেই কেউ যৌনভাবে মিলিত হতে চাইলে তাকে আহত না করে কীভাবে অস্বীকৃতি বা অনিচ্ছা প্রকাশ করবেন? কীভাবে ‘না’ বললে পছন্দের লোকটি বা নারীটি সত্যিই তা বিশ্বাস করবেন এ সম্পর্কে জানা আবশ্যক। আপনাদের সমাধান দেয়ার জন্য আমরা কিছু টেকনিক শিখিয়ে দিচ্ছি-

  • পার্টনারের সাথে অন্তরঙ্গ সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহমর্মিতা আর আবেগপূর্ণ ভাব গড়ে তুলুন। আপনারা দু’জনে যে দু’জনকে ভালোবাসেন সেটাও প্রকাশ করুন।
  • নিজেকে স্মরণ করান যে, আপনার পার্টনারের এ মুহূর্তে যৌন সঙ্গমের প্রয়োজন নেই। আপনি যেমন অপেক্ষা করতে পারবেন আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর তেমন অপেক্ষা করতে পারা উচিত।
  • আপনার ব্যাখ্যা করার দরকার নেই কিন্তু আপনি একটা যৌক্তিক কারণ দাঁড় করান, যেমন-আপনি আন্তরিকতা নিয়ে বলতে পারেন যে, আপনি অপেক্ষা করতে চান বা আপাতত বিরতি দিতে চান এবং আপনি তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে যৌনসঙ্গমে জড়াতে প্রস্তুত নন।

জন্মনিয়ন্ত্রণ ও পিতৃত্ব নির্ধারণের
গুরুত্ব নিয়ে আগেই ভেবে নিন

  • যৌনবাহিত রোগ বা ইনফেকশন খুব সহজেই একজন পার্টনার থেকে আরেকজনে পরিবাহিত হতে পারে। এই এসটিআই বা যৌনরোগ ব্যথাযুক্ত ও অস্বস্তিকর হতে পারে। এর ফলে নারী-পুরুষ উভয়েই বন্ধ্যাত্বের শিকার হতে পারে।
  • নিজেকে শ্রদ্ধা ও সমমান করুন এবং আস্থা রাখুন ও বিশ্বাস করুন যে, পছন্দের ব্যক্তিটি আপনার জন্য ঠিকই অপেক্ষা করবে।
  • শিক্ষা, চাকরি, কেরিয়ার ও জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুন।
  • নিজেকে বিশ্বাস করুন, নিজস্ব বিশ্বাসের মূল্যায়ন করুন।
  • এবার আন্তঃসম্পর্কের একটা ব্যাপারে আসুন যেখানে আমুদে তরুণ বা তরুণী অন্যের সাথে যেভাবে যৌন আচরণ বা মিলন নিয়ে কথা বলে। সাধারণ কিছু কথা-
  • আপনি যদি সত্যিই আমাকে ভালোবাসেন, তবে আপনি তা প্রমাণ করবেন।
  • সবাই এরকম যৌনমিলনে বা ইন্টারকোর্সে লিপ্ত।
  • আমি আপনার সব প্রকারের যত্ন নেব।
  • গর্ভবতী হওয়ার পূর্বেই আমি বন্ধ করে দেব বা পেনিস বের করে ফেলব।
  • আপনি যদি আমার সাথে সেক্স না করেন তবে আমি আপনাকে ত্যাগ করব বা অন্য কাউকে বেছে নেব, যে কিনা সেক্স করতে কোনো আপত্তি করবে না।
  • আবারো মনে করে দিচ্ছি যে, যৌনমিলন বা যৌনসঙ্গম জোর করে করার অধিকার কারো নেই, এটা সম্পূর্ণভাবে আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
  • কেউ কেউ ভাবেন যে, যৌনমিলন বা যৌনসঙ্গম তাদের সমস্যার সমাধান করবে। ইন্টারকোর্স বা যৌনমিলনের কয়েকটা খোঁড়া যুক্তি নিচে দেয়া হলো-
  • এটা ভঙ্গুর বা বিচ্ছেদ হয়ে যাবে এ যুক্তিতে করা।
  • আপনার সব বন্ধুরা হয়ত তাই (যৌনসঙ্গম) করে।
  • আপনি প্রমাণ করতে চান যে, আপনার পৌরুষের সীমা অসীম বা আপনি বেশি বীর্য ও শৌর্যবান।
  • হয়ত তাকে বিয়ে করার জন্য আপনি গর্ভবতী হতে চান এ মর্মে যৌনমিলন করা।

আপনি যদি যৌনমিলনের জন্য প্রস্তুত থাকেন তবে আগেই-
জন্মনিয়ন্ত্রণ ও যৌনবাহিত রোগ যাতে পরিবাহিত না হতে পারে সে সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। এসবকে কোনোভাবেই ভাগ্যের ওপরে ছেড়ে দেয়া যাবে না। কী কী যৌন আচরণ করবেন তা আগেই ভালোভাবে নির্বাচিত করে নিন। গভীর চুম্বন, জড়াজড়ি, গভীর আন্তরিকতায় কোলাকুলি করা, আদর করা, পারম্পরিক মাস্টারবেশন ইত্যাদি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর যৌন আচরণ এবং যৌনসঙ্গম থেকে অনেক নিরাপদ কিন্তু সেক্সি।

আপনি যৌনসঙ্গমের ব্যাপারে যত দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেবেন এবং সিদ্ধান্তে যত অটল থাকবেন ততোই সাহসীভাবে যৌন আচরণ করতে পারবেন এবং যৌনতা সম্পর্কে আপনার ভয়-ভীতি ততোই কম থাকবে। সচেতনভাবে চিন্তা করুন। অ্যালকোহল পরিহার করুন ও ড্রাগস ত্যাগ করুন। যেসব পরিস্থিতি আপনাকে যৌনতায় বাধ্য করে সেগুলোকে এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

কিশোর-কিশোরীদের যৌন চিন্তা
কিশোর-কিশোরীদের যৌনতা বা সেক্স নিয়ে প্রশ্ন করার বা জানার আগ্রহের কোনো কমতি নেই। সবচেয়ে কমন বা প্রচলিত একটা প্রশ্ন হচ্ছে ‘আচ্ছা আমি কি স্বাভাবিক’? বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরী মূলত তাদের দেহের শারীরিক পরিবর্তন, রোমাঞ্চের প্রাদুর্ভাব, কল্পনার আধিক্য, অন্যকে যৌনভাবে আকর্ষণ বা যৌন আচরণ সম্পর্কিত অনুভূতি নিয়ে তারা খুব শঙ্কা, লজ্জা বা দুশ্চিন্তায় ভোগে। টিনএজরা বিষমকামিতা, সমকামিতা বা হোমোসেক্সুয়ালিটি, উভয় লিঙ্গকামিতা বা বাইসেক্সুয়ালিটি, মাস্টারবেন বা হস্তমৈথুন, যৌনতৃপ্তি বা সুখ ইত্যাদি ব্যাপারে প্রবল আগ্রহী বা উৎসাহী।

কিশোর-কিশোরীরা জন্মনিয়ন্ত্রণ, গর্ভসঞ্চার, গর্ভপাত, যৌনবাহিত নানা রোগ বা ইনফেকশন এবং কীভাবে নানা সিদ্ধান্ত নিতে হয় তা নিয়েও দ্বিধায় ভোগে। তবে এটা ঠিক যে, এ বয়সে এসব নানা যৌনতা বিষয়ে উৎসাহ, উদ্দীপনা ঝোঁক থাকাটাই বরং স্বাভাবিক।

সাধারণত ৮ থেকে ১৮ বছরের মাঝে নারীদেহের নানা শারীরিক পরিবর্তনসমূহ সুসম্পন্ন হয়ে যায়। শরীরে নতুন ধরনের হরমোন নিঃসরণের কারণে স্তন, জরায়ু, ওভারি বা গর্ভাশয় এবং যোনি আস্তে আস্তে পূর্ণ বিকাশ লাভ করে। এসব নানা শারীরিক পরিবর্তন নিঃসন্দেহে কারো কারো যৌন অনুভূতি আর আবেগের ওপরে গভীর ছাপ ফেলে। এই হরমোনের মাত্রা অবশ্য মাসিক স্রাব বা পিরিয়ডের ওপরেও নির্ভর করে। মাসিক বা ঋতুস্রাব হলেই বোঝা যায় যে, কিশোরী তার দেহের বা যৌনতার পূর্ণতা পেতে শুরু করেছে।

কিশোরদের ক্ষেত্রে শারীরিক যৌন পরিবর্তনসমূহ আসলে সম্পন্ন হয় ১১ থেকে ২০ বছর বয়সের মাঝে। এগুলোর মাঝে রয়েছে শুক্রাশয় বা অণ্ডকোষের এবং ঝোলা বা স্ক্রুটামের বৃদ্ধি। হরমোনের সহায়তায় শুক্রাশয় শুক্রকীট বা শুক্রাণু তৈরি করা শুরু করে। অনেক কিশোরের রাতে নিদ্রাকালীন সময়ে স্খলন বা সাদা তরল পদার্থ বের হয়ে আসে। এই সাদা ক্ষরণকে বলা হয় বীর্য এবং এতে শুক্রাণু থাকে। রাত্রিকালীন বীর্যস্খলন পৌরুষেরই নামান্তর। বীর্যস্খলনের পূর্বেও পেনিস দিয়ে একটা পরিষকার তরল বেরিয়ে আসে যাকে বলে কামরস, এতে শুক্রাণু থাকে না।

মাস্টারবেশন বা আলতোভাবে সুখসপর্শ দিয়ে যৌনাঙ্গকে উদ্দীপিত করে চরমপুলক বা যৌনানন্দ লাভ করা কিন্তু একেবারেই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। এটা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কিশোর-যুবক, প্রাপ্তবয়স্ক বা বয়সীরাও করে থাকে। এটা যৌনসঙ্গী বা সেক্সুয়াল পার্টনার সহযোগেও করা যেতে পারে। বিশেষত কেউ যৌনমিলন বা যৌনসঙ্গমের জন্য প্রস্তুত না থাকলেও গর্ভসঞ্চার এড়াতে বা যৌনবাহিত রোগ বা ইনফেকশন থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে।

নারীদের গর্ভসঞ্চারণ কেবল তখনই হয়, যখন নারীর ডিম্বাণু ও পুরুষের শুক্রাণুর সাথে মিলনে নিষিক্ত হয়। সাধারণত গর্ভসঞ্চারের একটা মূল লক্ষণ হলো পিরিয়ড বা মাসিক মিস করা বা না হওয়া।

মাসিক বা ঋতুস্রাব গর্ভসঞ্চার ব্যতীত অন্যান্য অনেক কারণে বন্ধ থাকতে পারে যেমন অসুস্থতা, মনোশারীরিক চাপ বা স্ট্রেস, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ইত্যাদি। তবে কোনো নারী যদি যৌনসঙ্গম করে থাকেন তবে গর্ভাবস্থার পরীক্ষা বা প্রেগন্যান্সি পরীক্ষাটা করা উচিত। কোনো দম্পতি যদি অসংরক্ষিত যৌনসঙ্গম করে বা কনডম যদি ফেটে যায় এবং তদুপরি তারা যদি সন্তান না চায়, তবে নারীটির উচিত কোনো ডাক্তার বা ক্লিনিকের সাথে যোগাযোগ করে মর্নিং আফটার পিল বা প্রাতঃকালীন পিল সেবন করা। তবে তাকে অবশ্যই যৌনসঙ্গম করার তিনদিনের ভেতর এই পিল সেবন করতে হবে অথবা ৫-৭ দিনের ভেতরে সঙ্গম বা মিলন পরবর্তী আইইউডি বা ইন্ট্রাইউটেরাইন ডিভাইস ব্যবহার করতে হবে।

যদিও যুবক-যুবতীদের বেলায় হরমোন বা প্রাণরসের কারণে মন-মেজাজ কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। এই হরমোনের পরিবর্তনজনিত কারণে যৌন অনুভূতি বা শিহরণ ও কল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। কিছু যুবক-যুবতীর প্রচন্ড যৌননেশা বা যৌন ঝোঁক থাকে এবং দিনের একটা বড় সময় দিবাস্বপ্নে এরা কাটিয়ে দেয়। তবে অন্যরা এদেরকে নিয়ে একটু দ্বিধান্বিত অবস্থায় থাকে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে।

এটাও যৌনতারই অংশ যে, কেউ বিষমকামিতা বা বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে মিলিত হয়, সমকামিতা বা একই লিঙ্গীয় দু’জনের মাঝে যৌনসম্পর্ক, উভয়লিঙ্গতা বা উভয়ের সাথে যৌন সম্পর্কে বিশ্বাস করে। আপনি যৌনতা সম্পর্কে আপনার চিন্তা ভাবনার বা অনুভূতি নিয়ে অভিভাবক, কাউন্সিলর, শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্কুলের সেবিকা বা ডাক্তার বা বন্ধু-বান্ধবের সাথে খোলামেলা আলাপ করুন।

মাস্টারবেশন বা হস্তমৈথুন
মাস্টারবেশন বা হস্তমৈথুন একটা অত্যন্ত স্বাভাবিক যৌন আচরণ। হস্তমৈথুন একা একা বা পার্টনার সহযোগে করা যেতে পারে। মাস্টারবেশনের আসল মানে বা লক্ষ্য হচ্ছে যৌনাঙ্গকে মৃদু সপর্শ দিয়ে এমনভাবে উত্তেজিত করা যাতে কি-না যৌন আনন্দ বা অনুভূতি লাভ করা যায় এবং চরমপুলক বা অর্গাজম লাভ করা যায়। এটা আসলে নিজের সাথে একরকম খেলা যার মাধ্যমে পূর্ণ যৌন শিহরণ লাভ করা যায়।

কতক লোকের মনে এরূপ বদ্ধমূল বিশ্বাস বিদ্যমান যে, এটা স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত করে। বর্তমানে এটা গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত যে, এর মাধ্যমে মন বা শরীর কোনোটারই কোনো ক্ষতি হয় না। তবে বর্তমানে এটাকে অনেকেই যৌন আচরণের একটা ভালো পন্থা হিসেবে বেছে নিয়েছেন এবং যৌন চাহিদা বা যৌনক্ষুধা নিবারণের জন্য এটা একটা কার্যকরী নিরাপদ পদ্ধতি। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই মাস্টারবেশন করতে পারে। কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, প্রাপ্তবয়স্ক, বিবাহিত-অবিবাহিত সবাই   হস্তমৈথুন করতে পারে।

কতক নারী-পুরুষ মাস্টারবেশন বা হস্তমৈথুনে অভ্যস্ত নয়। কারণ তারা এতে আনন্দ পায় না কিংবা এসকল অঙ্গ সপর্শ করতে অস্বস্তিবোধ করে। আবার কোনো কোনো ধর্মে হস্তমৈথুন স্বীকৃত নয় বরং নিষিদ্ধ। আবার এমন অনেকেই আছেন যিনি কিনা জীবনে একবারও হস্তমৈথুন করেননি। হস্তমৈথুন করা বা না করা কোনোটাই ভুল নয়-হস্তমৈথুন যৌন আনন্দ দিতে পারে। যৌনতা বিষয়ক দুশ্চিন্তা বা টেনশন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এটা একটা ভালো মাধ্যম। তাছাড়া শরীরে এই অঙ্গগুলো কীভাবে কাজ করে হস্তমৈথুনের মাধ্যমে তা জানাও যায়।

ধরা যাক চরমপুলক অনুভব করতে পারছেন না, এক্ষেত্রে হস্তমৈথুন তাকে শিখিয়ে দিতে পারে কীভাবে চরমপুলক লাভ করতে হয়। অনেক দম্পতি সঙ্গী বা সঙ্গিনীর যৌনাঙ্গে আদর বা সপর্শ করে আনন্দ পান। এটা তাদের মধ্যকার ভালোবাসার সম্পর্ক আরো উষ্ণতায় ভরিয়ে দেয় ও নিবিড় করে। তারা হয়ত যৌনসঙ্গম করছেন না গর্ভসঞ্চার এড়ানোর জন্য কিংবা যৌনসঙ্গম এ মুহুর্তে তাদের জন্য নিরাপদ নয়।

হস্তমৈথুন এমন কোনো ব্যক্তির সামনে করা উচিত নয় যার এতে সমমতি নেই। হস্তমৈথুন সম্পর্কে কিছু জিনিস মনে রাখতে হবে। যেমন অপরিষকার হাত দিয়ে যৌনাঙ্গ সপর্শ করলে জীবাণু ছড়াতে পারে, অপরিষকার বা তীক্ষ্ম কোনো বস্তু যোনি বা পায়ুপথে ঢুকালে বা প্রবিষ্ট করালে বিপজ্জনক হতে পারে। পায়ুর চারপাশের মাংসপেশি প্রসারণশীল না হওয়ায় পায়ুপথ ছিড়ে গিয়ে রক্তপাত হতে পারে। হস্তমৈথুন সম্পর্কে আপনার কোনো দ্বিধা, শঙ্কা বা সমস্যা থাকলে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন।

সঙ্গম বহির্ভূত যৌন আচরণ এবং যৌনসঙ্গম
যৌনসঙ্গম ব্যতীত অন্যান্য যতরকম যৌন আচরণ বা যৌনক্রিয়া আপনি ও আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনী করে থাকেন তাকেই আমরা আউটার কোর্স বলে থাকি।

আউটার কোর্সের কতক নমুনা হলো প্রিয়ার হাত ধরা, গভীর চুম্বনে একে অপরকে আলিঙ্গন করা, যৌন সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে উন্মুক্ত করা, পারসপরিক সুখসপর্শ বা মাস্টারবেশন করা এবং ওরাল সেক্স বা মুখমেহন করা। এসব আচরণগুলো আসলে খুব যৌন সুখকর ও নিঃসন্দেহে সেক্সি। তবে মনে রাখবেন যে, ওরাল সেক্স বা মুখমেহনের মাধ্যমে কিন্তু যৌনবাহিত রোগ পরিবাহিত হতে পারে। যোনির নিকটে বীর্যস্খলনের কারণে কিন্তু গর্ভসঞ্চার হতে পারে।

আবেগ সহকারে চুম্বন আর সৌহার্দ্যপূর্ণ আদরের মাত্রা বেশি হলে কিন্তু এটা যৌনসঙ্গম পর্যন্ত গড়াতে পারে। তাই যৌনতায় অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বেই যৌনতার সীমাকে ভালোভাবে নির্ধারণ করে নিন। শারীরিক বা যৌনভাবে আপনাদের চাহিদা বা যৌন ইচ্ছা কতটুকু সে সম্পর্কে ভালোভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন। অতএব পূর্ব পরিকল্পনা ব্যতীত কোনোভাবেই যৌনসঙ্গম বা যৌনমিলনে লিপ্ত হবেন না। নিজের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা ও পার্টনারকে সমমান করুন। তবে মনে রাখবেন যে, সিদ্ধান্ত হচ্ছে আপনার আর না মানে হচ্ছে ‘না’।

আপনি এবং সঙ্গী বা সঙ্গিনী উভয়েই যদি যৌনসঙ্গম সাময়িকভাবে না করেন তবেও তা আন্তঃসম্পর্ক বা মনের ওপরে নেতিবাচক কোনো প্রভাব বিস্তার করবে না। তার চেয়ে বরং সঙ্গম পূর্ববর্তী যৌনক্রিয়া ভালোভাবে করুন আর হাসি দিয়ে শুরু করুন। কেননা হঠাৎ করে যৌনসঙ্গম শুরু করলে যৌনতায় ইতি হয়ত সে সময়ের জন্য তাড়াতাড়ি ঘটবে।

আপনি যৌনসঙ্গম করবেন কী করবেন না, নাকি সঙ্গম বহির্ভূত যৌন আচরণ করবেন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হবে। তাই অন্য কেউ যেন অন্তত এ ব্যাপারে নাক গলাতে না পারে সেদিকে সচেষ্ট হোন। শরীরটা যেহেতু আপনার তাই সিদ্ধান্তও আপনার। তাই যৌনতার ব্যাপারে ‘না’ বলতে কোনো দ্বিধাবোধ করবেন না।

যৌনতা ও বার্ধক্য
বার্ধক্য জীবনের নানা দিকে বিভিন্ন পরিবর্তনের সূচনা করে যৌনতাকে এক্ষেত্রে অস্বীকার করা আসলে অন্যায় হবে। যদিও জীবনব্যাপী যৌনতা থাকে, তথাপি বার্ধক্যে যেন আচরণ, অনুভূতি, আবেগ আর ধারণার আমূল পরিবর্তন হয়।

বিভিন্ন মিডিয়াগুলো যুবক-যুবতীদের সেক্সি বা যৌন আবেদনময়ী বলে থাকে, কেননা যৌনতার সাথে তারুণ্য আর যৌবনের একটি সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক বিদ্যমান। তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীদের একটি অস্বস্তিকর বা বিব্রতকর অবস্থা হচ্ছে তাদের বাবা-মা বা প্রবীণদের যৌনতা সম্পর্কে ভাবনা।

আর প্রবীণেরা তখনও যদি যৌনভাবে সক্ষম থাকে তবে তো তাদের অস্বস্তিকর সীমা থাকে না। যেটা সত্য সেটা হচ্ছে প্রবীণরা সারা জীবনেই তাদের যৌনতাকে ভাগাভাগি করে যৌনানন্দ বা যৌনসুখ লাভ করে। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে যৌনতার ধারণা আর যৌন চিন্তাতে ধারাবাহিক আমূল পরিবর্তন আসে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে লিঙ্গের দাঁড়ানো বা উত্থানের ব্যাপারটি ঘটতে একটু বেশি সময় লাগে এবং চরমপুলক বা যৌন শিহরণ লাভ করতেও সময় একটু বেশি লাগে। বীর্যস্খলনের ঘটনা ব্যতীত অনেক প্রবীণ ব্যক্তি যৌন শিহরণ লাভ করে থাকেন-একে আমরা অভ্যন্তরীণ যৌনপুলক বলতে পারি।

যৌন সাড়া বা উদ্দীপনা নিয়ে দুশ্চিন্তা যৌনশিহরণ আর যৌন সুখের মাত্রাকে ধীর করে তুলতে পারে। হঠাৎ করে কোনো একবার লিঙ্গ না দাঁড়ানো বা উত্থান না হওয়া সম্পূর্ণ শারীরবৃত্তীয় সাময়িক একটা ব্যাপার। ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থানই কিন্তু যৌন আচরণ বা যৌনতার সব কিছু নয়। অনেক প্রবীণরা যৌনসঙ্গম বহির্ভূত যৌন আচরণ যেমন গভীর চুম্বন যা কিনা ঠোঁট ছাড়িয়ে জিহ্বাকে সপর্শ করে শিহরণ বাড়ায়, মৃদুভাবে একে অপরের যৌনাঙ্গে সপর্শসুখ দেয়া বা জড়াজড়ি করা ইত্যাদি করেও প্রচুর যৌনসুখ পেতে পারেন।

সন্তান জন্মের পর নারীর যোনি প্রসারিত বা একটু ঢিলেঢালা হয়ে যায়। রজঃনিবৃত্তির প্রাক্কালে এটার সম্প্রসারণশীলতা কমে যায় ও বেশ শুষক হয়ে যায়। যৌন সঙ্গমের সময় দ্রবণীয় কোনো পিচ্ছিল জাতীয় পদার্থ ব্যথা বা অস্বস্তি দূর করতে পারে। নর-নারীরা ধীরে ধীরে প্রবীণ হলেও তারা তাদের সারা জীবনেই যৌনশৃঙ্গার করে থাকেন এবং তারা তাদের ভালোবাসায় যৌনসঙ্গম করে বা না করেও যৌনসুখ লাভ করতে পারেন।

স্ট্রেস বা মনোশারীরিক চাপ, আর্থিক চাপ বা চাকরিজনিত জটিলতা বা দুঃখবোধ সবই যৌন উদ্দীপনাকে প্রভাবিত করে। কাজেই ক্রোধান্বিত হওয়া, বিষণ্নভাব, ক্লান্তি বা অবসাদগ্রস্ততা, কোনো ওষুধ সেবন ইত্যাদি অভ্যাস যৌনতাকে প্রভাবিত করে। অ্যালকোহল যৌন সাড়াকে কমিয়ে দেয় কিন্তু যৌন আগ্রহ বা যৌন ইচ্ছাকে বাড়ায়।

কতক প্রবীণ দম্পতি গর্ভসঞ্চারের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা না থাকলে সেক্সকে বেশি উপভোগ করতে পারেন। তাই সন্তানরা যখন বাসায় না থাকে তখন তারা যৌনতায় বেশি আগ্রহ, উদ্দীপনা পান। যৌনতার ঠিক অনুকূল বা নিরাপদ পরিবেশ তারা পেয়ে যান। প্রবীণরা কল্পনাকর বা শৈল্পিক যৌনছোঁয়া এবং সৃজনশীল অন্তরঙ্গতা প্রকাশে বেশ পটু। প্রবীণরা তাদের বয়স যতই হোক না কেন সপর্শসুখ আর মৃদু চাপড়ে বেশ অভ্যস্ত। আদর, ভালোবাসা, সোহাগ আর অন্তরঙ্গতা এসবগুলোই স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

যেসব প্রবীণদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা বিদ্যমান তারা ভিন্ন একটা আসন বেছে নিতে পারেন এবং যৌনতাকে আরো উপভোগ্য আর সুখকর করে তুলতে পারেন। পারসপরিক মাস্টারবেশন বা সপর্শজনিত যৌনসুখ, ওরাল সেক্স বা মুখমেহন আসলেই যৌন শিহরণে নতুন মাত্রা যোগ করে। একাকী থাকাকালীন সময় কেউ মাস্টারবেশন বা সপর্শসুখের সাহায্যে যৌনতৃপ্তি পেতে পারেন আর যৌন ভাবনায় সাময়িক ইতি টানতে পারেন।

সেক্স থেরাপি: যৌন সমস্যার চিকিৎসা
সেক্স থেরাপির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সেক্স বা যৌনতা সম্পর্কে একেবারে সাবলীল ও স্বাচ্ছন্দ্য একটা ধারণা দেয়া যাতে করে যিনি সেক্স সসস্যায় ভোগেন তিনি সেক্সকে ভালোভাবে গ্রহণ করেন ও যৌনানন্দের মাত্রায় নতুন অনুভূতি সঞ্চার করতে পারেন। সেক্স থেরাপির মূল কথাই হচ্ছে সেক্স স্বাভাবিক এবং ভালো একটা ব্যাপার, নারী-পুরুষটির আন্তঃসম্পর্ক এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এবং যৌন অন্তরঙ্গতা হচ্ছে একটা স্বাভাবিক অধ্যায়। যৌন সমস্যার যারা শিকার তারা যেসব কারণে সেক্স থেরাপিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের নিকটে যায়-

  • যৌন শিহরণজনিত সমস্যা যেমন লিঙ্গ দাঁড়ানো বা উত্থান না ঘটা বা চরমপুলক অনুভূতি লাভ না করা।
  • যৌন সঙ্গমের সময় ব্যথাদায়ক অনুভূতি।
  • সেক্স সম্পর্কে মানসিক সমস্যা।
  • যৌনতা সম্পর্কে বা যৌন আচরণ সম্পর্কে ভুল ধারণা বা ভ্রান্ত বিশ্বাস।

কতক ক্ষেত্রে যৌন সমস্যাগুলো হয় সাধারণ অসুস্থতা বা শারীরিক কোনো রোগ থেকে। সেক্স থেরাপি চলাকালে ব্যক্তি বুঝতে পারে যৌনতা একটা সাবলীল ও স্বাচ্ছন্দ্য ব্যাপার। যৌন অনুভূতি, যৌনসুখ এবং যৌনচাহিদা ও যৌনক্রীড়া সম্পর্কে খুব সপষ্ট একটা ধারণা তাকে থেরাপির সাহায্যে কয়েকটা সেশনে দেয়া হয়।

অভিজ্ঞ সেক্স থেরাপিস্ট সেক্স বা যৌনতা সম্পর্কে একেবারে সত্য, যুগোপযোগী ও ব্যবহারিক তথ্যগুলো খুব ভালোভাবে উপস্থাপন করেন। এই সেক্স থেরাপির মাধ্যমে দম্পতি বা যৌন সঙ্গী-সঙ্গীরা তাদের যৌন বিষয়ক সম্পর্ককে আরো গভীর আবেগ আর ভালোবাসা দিয়ে অনুভব করেন। যৌন ঘনিষ্ঠতা বা যৌন আন্তরিকতা বাড়াতে দম্পতিকে আলাদা সময় বের করতে বলা হয়। কতক লোকের জন্য সেক্স থেরাপিস্টরা বাসায় অভ্যাস করার জন্য বিশেষ ব্যায়াম করতে বলেন। এই ব্যায়ামগুলো যৌন ক্রীড়ায় বা যৌন আচরণের সময় করলে কোনো রকম দুশ্চিন্তা ব্যতিরেকে যৌন উদ্দীপনা লাভ করা যায়। যে কোনো সেক্সলজিস্ট, সমাজকর্মী বা কাউন্সিলর সেক্স থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করতে পারেন, তবে যৌন সমস্যা সমাধানে অভিজ্ঞতা থাকা চাই।

সমকামিতা বা হোমোসেক্সুয়ালিটি
সমকামিতা কৃষ্টি কালচার বা সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। আমাদের সমাজে এভাবেই শেখানো হয়ে থাকে যে, প্রত্যেককে অন্য সবার মতো হতে হবে। তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে, সমাজের সবাই বুঝি বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয় আসলে কিন্তু এটি পুরোপুরি ঠিক নয়। কিছু লোক সমকামী এবং তারা একই লিঙ্গের প্রতি যৌনভাবে আকৃষ্ট হয়। এ ধরনের পুরুষকে হোমো বা গেমেন বলে এবং এই ধরনের মহিলা বা নারীদের বলে লেসবিয়ন।

যখন একজন নারী বা পুরুষ তাদের যৌনতার চিন্তা-ভাবনা, যৌনকর্ম বা যৌনশিহরণ ইত্যাদি একই লিঙ্গের আরেকজনকে ঘিরে করে থাকে তখন তাকে সমকামী বলা যেতে পারে। যেসব নারী অন্য নারীতে যৌনভাবে আকর্ষণবোধ করে তাদেরকে লেসবিয়ন বলে। নারী-পুরুষ উভয় ধরনের সমকামীদের ক্ষেত্রে অনেকে ‘গে’ বা আমুদে শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন; তবে এটি সাধারণত পুরুষদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। আর যারা বিপরীত লিঙ্গের কারো দিকে যৌনভাবে আকর্ষণবোধ করেন তাদেরকে বিষমকামী বলে। কতক নারী-পুরুষ আছে যারা একই সাথে একই লিঙ্গ ও বিপরীত লিঙ্গের প্রতি যৌনভাবে আকর্ষণবোধ করে তাদেরকে বাইসেক্সুয়াল বা উভয়লিঙ্গকামী বলা হয়।

কতক নারী-পুরুষ একই লিঙ্গের কারো প্রতি খুব বেশি মাত্রায় যৌন আকর্ষণবোধ করতে পারেন। কেউ কেউ আবার আবশ্যকীয়ভাবে সমকামী না হয়েও একই রকম চিন্তা ও কল্পনা করে। বিশেষত তরুণ-তরুণীরা তাদের অনুভূতিগুলো ফুটিয়ে তোলে।

কোনো একজনের প্রতি আপনি আকর্ষণবোধ করলেই যে আপনি তার সাথে সেক্স করবেন এমনটি নয়। আপনি হয়ত তাকে প্রশংসা করতে পারেন অথবা তার সাথে আপনার ভালোবাসা, সেবামূলক সম্পর্ক বা আদান-প্রদানের সম্পর্ক থাকতে পারে যেগুলো কিনা সেক্স বহির্ভূত। সম্পূর্ণরূপে নিজেকে প্রস্তুত না করে কোনোভাবেই সেক্স শুরু করবেন না।

টেলিভিশন বা মুভিতে সমকামীরা যে মামুলি বা গৎবাঁধা কাজ করে তা অনেককে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে। বেশিরভাগ গে বা আমুদেরা এবং লেসবিয়ানরা তাদের যৌনক্রিয়ায় তেমন কোনো বৈচিত্র্যতা প্রদর্শন করতে পারে না।

আমরা এখনো সঠিকভাবে জানি না কেন কেউ বিষমকামী বা সমকামী বা উভয়লিঙ্গকামী। এ সম্পর্কিত অনেকগুলো তত্ত্ব বিদ্যমান। তবে কোনো সপষ্ট জবাব নেই। অনেক নারী-পুরুষেরই উভয়লিঙ্গের প্রতি কিছু উদ্ভট যৌন চিন্তা বা ধারণা থাকে। মাঝে মাঝে তারা নিজেরাই বুঝে উঠতে পারে না তারা আসলে কোনটার শিকার। তবে কিছু সময় পরে এবং অন্যদের সাথে আলাপ করে অনেকেই বুঝতে পারে তাদের প্রকৃত যৌনভাবনাগুলো বা যৌনতা সম্পর্কিত তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক কেমন।

আপনি যদি সমকামী অর্থাৎ গে বা লেসবিয়ান হন, তাহলে অবশ্য অন্যকে আপনি আপনার যৌনতা সম্পর্কে জানাতে বেশ বিব্রতবোধ করবেন। আপনি হয়ত বন্ধু হারানো বা পরিবারের সদস্যের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া বা চাকরি হারানোর ভয় পেতে পারেন। তবে এটা ঠিক যে, আপনি আপনার যৌনতার কথা অন্তরঙ্গ কাউকে বলে বেশ মানসিক শান্তি বা স্বস্তি পাবেন। তবে অনাবশ্যক কাউকে বলার দরকার নেই। আপনি যাকে খুব বিশ্বাস করেন তাকেই বরং আপনার যৌন দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানান। তবে আশপাশের পরিবেশ বা লোকজনের সাথে মিশতে আপনার কিছুটা সময় লাগতে পারে।

কতক নারী-পুরুষ সমকামিতায় তীব্রভাবে বিশ্বাস করে এবং মনে করে, তারা জীবনভর এরকম যৌনতাকেই প্রাধান্য দেবে এটা কখনো নিঃশেষ হবে না। আপনি যদি খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী হন তবে অন্যকে খুব সহজভাবেই হয়ত এ ধরনের যৌনতার কথা জানাতে পারবেন। কমিউনিটি বা সমাজে কোনো কোনো সহায়তাকারী গ্রুপ বা সমর্থন দল থাকতে পারে, যারা নানা ব্যাপারে আপনার পাশে থাকবে।

শিশুকে কিভাবে সেক্স সম্পর্কে বলবেন
বাবা-মা সন্তানদের সামনে যৌনালোচনা করবেন কীভাবে, এটা একটা সমস্যা কিন্তু শিশুরা এসব বিষয়ে এত বেশি উৎসাহী যে, বাবা-মা যদি তাদের ঠিক শিক্ষা না দেন তাহলে তারা ভুল শিখতে পারে। তাদের বন্ধুদের কাছে কিংবা টিভি, সিনেমা বা নানা খারাপ বইপত্রের মাধ্যমে তারা যৌনতা সম্পর্কে কৌতূহলবোধ করবেন, কেননা এ বয়সে তারা সবকিছু সম্পর্কে কৌতূহলী হয়ে থাকে।

দেখা গেছে যে, যেসব শিশু বা কিশোর-কিশোরী তাদের বাবা-মার কাছ থেকে সঠিক যৌন শিক্ষা পেয়েছে তারা যৌন সম্পর্কের ব্যাপারে ধৈর্যের পরিচয় দেয়। তারা জন্মনিয়ন্ত্রণ কিংবা যৌনরোগ সম্পর্কে সচেতন থাকে। কীভাবে তাদের সামনে এসব বিষয়ে আলোচনা করবেন এবার আমরা সে বিষয়ে আসি।

আলোচনা করা যায় এমন একটা আন্তরিক পরিবেশ তৈরি করুন এবং লক্ষ্য করুন যে, তারা কী জানতে চাচ্ছে? যৌনতা বিষয়ে আপনার স্বাচ্ছন্দ্যবোধ এ বিষয়ে খুব জরুরি। এমনভাবে বলুন যাতে তারা আপনার কথা বিশ্বাস করে, স্বাচ্ছন্দ্য ও সতর্কতার সাথে প্রশ্নের উত্তর দিন। দেখবেন ছেলে-মেয়ে সুলভ কথাবার্তা যেন না বলে। শরীরের অঙ্গগুলো সম্পর্কে সঠিক আর ভদ্র নামগুলোই ব্যবহার করুন।

কোনো সমস্যার উত্তর আপনার জানা নাও থাকতে পারে এতে লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। আপনি যা জানেন না এ বিষয়ে তাদের সাথে আলোচনাও করতে পারেন কিংবা আপনি এটা জেনে নিয়ে তার সাথে যৌনালোচনায় বসতে পারেন। তবে কোনো সমস্যা তাদের সামনে ঝুলিয়ে রাখবেন না। তাদের সব সমস্যার সমাধান আপনি নিজে করুন, অন্য আরেকজনকে দিয়ে যেন বলতে যাবেন না।

কেউ কেউ অভিযোগ করে থাকেন যে, যৌনশিক্ষা বাচ্চাদের যৌনতা সম্পর্কে বেশি বেশি আগ্রহী করে তোলে যেটা ভালো নয়। আসলে ব্যাপারটা অন্য রকম। যৌনশিক্ষা যত আগে শুরু করা যায় ততই ভালো। কারণ ছেলে-মেয়েরা যত বড় হবে ততোই আপনার সঙ্গে তাদের যৌন বিষয়ে আলোচনা করার ব্যাপারে একটা দূরত্ব তৈরি হবে। আপনার স্বামী বা স্ত্রী, আপনার বন্ধু-বান্ধবী, এদর সঙ্গে যৌন বিষয়ে আলোচনা করার অভ্যাস করুন। এই ব্যাপারটা আপনার শিশুদের সামনে কাজে লাগবে।

আপনার শিশু যদি কিছু জিজ্ঞেস না করে তবে বিষয়টিকে অন্যাভ্যাসে বিকশিত করার চেষ্টা করুন, যেমন আপনি আপনার শিশুকে একজন গর্ভবতী নারীর কথা বলতে পারেন বা অন্য কোনো শিশু গোসল করছে এ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে বলতে পারেন। শিশুকে যৌনবিষয়ে শিক্ষা দেয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের টিভি প্রোগ্রাম বা ফিল্ম সম্পর্কে শিশুর সাথে আলোচনা করতে পারেন। সব বয়সেই নারী-পুরুষের যৌনতা সম্পর্কে জানার জন্য লাইব্রেরী বা নানা স্কুলের অনেক ভালো ভালো বই রয়েছে।

শিশুকে প্রায়ই যৌনতার সম্পর্কে জানান। শিশুরা যৌনতা সম্পর্কে বারবার জানতে আগ্রহী হয় এবং বারবার জানার পরে তারা বুঝে ফেলে এর কারণ হচ্ছে তাদের বোঝার ব্যাপারটা ধীরে ধীরে পরিপক্ব হয়। তবে বুঝতে হবে যে, শিশুকে আপনি কেবল যৌন অনুভূতি বা যৌন আচরণ সম্পর্কে বলবেন।

আপনার শিশু আপনাকে যৌনতা সম্পর্কে যে প্রশ্নটি করবে তার সাবলীল উত্তর দেয়া কর্তব্য। শিশু যেগুলো সম্পর্কে জানতে চায় তা তাকে আদর দিয়ে বলার চেষ্টা করুন। শিশুকে একই সঙ্গে যৌনতার অনেক ব্যাপার সম্পর্কে জানাবেন না। বরং আগের দেয়া বিভিন্ন যৌনালোচনায় যে বিষয়গুলো জানানো হয়েছে সেগুলোর উত্তর শিশুকে আবারো পরিষকারভাবে দিন এবং তাকে পরবর্তীতে আরো জানাবেন এমন উৎসাহ প্রদান করুন।

তবে এটাও ঠিক যে, আপনি ও আপনার শিশু উভয়ের জন্য প্রাইভেসি একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আপনার শিশু যদি আপনার সঙ্গে পরিষকারভাবে বা সরাসরি কথা বলতে না চায় তবে আপাতত তাকে কথা বলা থেকে বরং বিরত রাখুন। তবে কথাটি ভুলবেন না। কখনোই শিশুর রুম, টেবিল বা আলমারির ড্রয়ার বা অন্য কোনো স্থানে কোনো প্রমাণ খুঁজবেন না। শিশু যদি টেলিফোনে বা ব্যক্তিগত কোনো ব্যাপারে কারো সঙ্গে কথা বলে তাহলে কখনোই শুনবেন না।

শিশু-কিশোররা যা বলে তা মন দিয়ে শুনুন। তারা আসলে যেটি চায় সেটা হচ্ছে তারা যেসব প্রশ্ন বা উত্তর বা শঙ্কা প্রকাশ করে সেগুলো আপনি কতটুকু গুরুত্ব দিয়ে শুনলেন। তারা যেভাবে বেড়ে উঠছে তা আপনার থেকে একটু ভিন্ন। শিশুর কোনো প্রশ্ন শুনে হাসবেন না বা অবজ্ঞা করবেন না বা তাকে কোনো প্রশ্ন করা থেকে বিরত রাখবেন না। কেননা অন্যদের কাছে প্রাপ্ত শুদ্ধ বা অশুদ্ধ যৌনতা সম্পর্কিত তাদের বিভিন্ন ধারণাগুলো যদি প্রকৃত অর্থেই সঠিক না হয় তবে আপনি শিশুর সুস্থ যৌন স্বাস্থ্য আশা করতে পারেন না।

কেননা তারা মূলত শেখে আপনার ভালোবাসা, আদর বা তাদের প্রতি আপনার দায়িত্ববোধ থেকে-একথা আপনি তাকে বলুন আর নাই বলুন। যৌনতার গুরুত্ব সম্পর্কে এবং জীবন সম্পর্কে আপনি শিশুকে বলুন। শিশুকে খুঁজে বের করতে বলুন জীবনে যৌনতার গুরুত্ব কতটুকু।

পিতা-মাতার সাথে আপনি কীভাবে সেক্স নিয়ে কথা বলবেন
আপনি যখন শৈশব আর কৈশোর দিনগুলো পার করছিলেন তখন হয়ত বাবা-মাকে জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন করে একটু হলেও ঝামেলা বা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিতেন। কিছু জিজ্ঞাসার কাছে প্রচলিতগুলো প্রশ্নগুলো অনেকটা এমন, শরীর বিশেষত লিঙ্গ নিয়ে প্রশ্ন, সন্তান কোত্থেকে কীভাবে আসে বা বাচ্চা কীভাবে মায়ের পেটে যায়। কৈশোর বয়সের ছেলেমেয়েদের এগুলোর উত্তর খুব সহজ, সাবলীল ভাষায় তাদের বোঝার উপযোগী করে দিন, এতে সে বেশি ঝোঁক বা উৎসাহ পায় এবং আরো বেশি প্রশ্ন করতে উৎসাহী হবে। কতক বাবা-মা অস্বস্তিকর বা লজ্জাস্কর অবস্থায় পড়ে যান, হাসেন বা উত্তরকে এড়িয়ে চলেন অথবা ভুল উত্তর দিয়ে থাকেন।

আপনি যখন ছোট ছিলেন তখন যৌন বা সেক্স সম্পর্কিত প্রশ্নের যেরকম উত্তরই আপনি বাবা-মা থেকে পেয়ে থাকুন এখন সেক্স নিয়ে তাদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন। একটা ব্যাপার খুব পরিষকার যে, বাবা-মারাও একদিন তরুণ-তরুণী ছিল। তারা হয়ত সেক্সের ব্যাপারে খুব ভীত বা অনিশ্চয়তায় কালাতিপাত করতো এবং আপনিও হয়ত এখন সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করতে যাচ্ছেন।

আপনি ইতিমধ্যে যৌনতা সম্পর্কে আপনার বাব-মায়ের কৃষ্টি বা কালচার বা সংস্কৃতি ও আচার-আচরণ ধরে রেখেছেন। সেক্স সম্পর্কিত মূল ধারণাগুলো বাবা-মা থেকেই আসে তবে বন্ধু-বান্ধব, অন্য প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারী, যৌনফিল্ম, বইপত্র এবং ধর্মীয় ব্যাপারগুলোও এক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখে। সেক্স সম্পর্কিত বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে যেগুলোর উত্তরে সরাসরি সত্যটি বলতে হয়। অন্য কিছু প্রশ্নও রয়েছে যেগুলোর উত্তর সত্যও হতে পারে আবার মিথ্যাও হতে পারে।

আপনার বাবা-মায়ের কাজে ব্যাঘাত ঘটবে না এরকম একটা সময় বেছে নিয়ে সেক্স নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করুন। এটা হতে পারে কারে বসে, রান্নাঘরে বা একটু রাতে। তবে বাবা-মায়ের প্রাইভেট বা ব্যক্তিগত ব্যাপারটাকে ভালোভাবে বিবেচনা করুন কেননা আপনিও নিশ্চয় চান যে, তারা আপনাকে আদর করুক।

আপনার যদি সেক্স সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নের উত্তর বাবা-মায়ের মতের সাথে অমিল থাকে তবে নিজেকেই বরং প্রশ্নগুলো একবার করে নিন। আপনি কি প্রমাণ করেছেন যে, আপনি দায়িত্বশীল বিশেষত সেক্সের ব্যাপারে? তারা কি আপনার নিরাপত্তা, গর্ভসঞ্চার বা যৌনবাহিত রোগ নিয়ে একটু চিন্তিত? আপনি যদি তাদের সাথে কোনো প্রতিজ্ঞা করে থাকেন তবে আপনার উচিত হবে অবশ্যই তা রক্ষা করে চলা। এমন আচরণ করুন যাতে করে আপনি এবং আপনার বাবা-মায়ের মাঝে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।  টিভি বা ভিডিও দেখতে দেখতে সেক্স সম্পর্কে মুক্ত আলোচনা করতে পারেন। আপনি এইমাত্র যা দেখলেন সে সম্পর্কে বাবা-মায়ের সামনে মত প্রকাশ করতে পারেন। অথবা আপনার বাবা-মা যখন বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, বা অন্য কোনো আচরণগত সমস্যা নিয়ে কথা বলেন তখন আপনার কথা বলার জন্য একটা বিশেষ ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

আপনি বরং একটা সাধারণ প্রশ্ন দিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করতে পারেন। যেমন আপনি আপনার বাবাকে চট করে জিজ্ঞেস করে ফেলতে পারেন তার প্রথম কবে নারী বন্ধু বা প্রেমিকার সাথে প্রেম হয়েছিল। আপনি কি কখনো আপনার বাবা-মাকে আপনার অভিসার সম্পর্কে বলেছেন?

কথাবার্তার সূচনাটি এরকমও হতে পারে, আমি অনুভব করি...বা আপনারা কি আমাকে... নিয়ে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলবেন। তবে বাবা-মা যদি বলে বসে যে, তুমি আসলে ঠিক নও তাহলেই যত সমস্যা। এটা বিশ্বাস করতে কঠিন হলেও সত্য যে, বেশিরভাগ দম্পতিই যারা জীবনে কোনো না কোনোভাবেই যৌন আচরণ করে থাকেন। তবে যেহেতু টিভি স্টার আর ফিল্মের যৌনতা কেবলমাত্র তরুণ-তরুণী আর যুবক-যুবতীদের ঘিরে তাই তারা মনে করতে পারে যে, তাদের বাবা-মায়ের বুঝি কোনো রোমাঞ্চ বা যৌনানুভূতি নেই। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে, এ ধারণাটা সত্য নয়।

পুরুষদের যৌনাশঙ্কা
জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে পুরুষের যৌনতা নিয়ে নানা দুশ্চিন্তা বা দুর্ভাবনা থাকে। তারা চিন্তা করে সব সময় কেন উত্থান বা লিঙ্গ দাঁড়ানোর ব্যাপারটা একইভাবে হয় না-তবে কি যৌন অক্ষমতা বা পুরুষত্বহীন হয়ে গেলাম। কামরস কেন এত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসে, কামরস যৌনসঙ্গমের সাথে সেক্স করার সময় কেন বের হয় না অথচ হস্তমৈথুন বা সুখসপর্শের সময় ঠিকই কামরস বের হয়ে আসে ইত্যাদি।

পুরুষের যৌন আচরণ আর যৌন ইচ্ছার সুনির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। একেকজন একেক আসন, ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি বা টেকনিক পছন্দ করে অন্যরা হয়ত তা করে না। একজন পুরুষ নিজের যৌনতা নিয়ে যা ভাবে তাই তার কাছে সঠিক হওয়া উচিত। অন্য পুরুষরা যেরকমের আচরণ করে তাকেও সেই একই রকম আচরণ করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। তবে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কাউকে যৌন আচরণে বাধ্য করা অন্যায়। বলাৎকার বা ধর্ষণ কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

যৌন জীবনের কোনো এক পর্যায়ে মনে হবে কেউ উত্থিত লিঙ্গকে যৌনসুখ পাওয়া না পর্যন্ত ঠিক ধরে রাখতে পারছে না। এর আসলে অনেক কারণ থাকতে পারে যেমন অসুস্থতা, ক্লান্ত বা অবসন্ন থাকা, মনোশারীরিক চাপে থাকা বা যৌনসঙ্গী কর্তৃক মনঃকষ্ট পাওয়া, অ্যালকোহল, ড্রাগ বা ওষুধ সেবনের কারণে হতে পারে। তবে যৌন অসন্তোষ বা অতৃপ্তি এসব সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। মানসিক সমস্যাজনিত কারণটি সমাধানের জন্য সেক্স থেরাপিস্টের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। সবচেয়ে প্রচলিত যৌনাশঙ্কা আর ভাবনা হলো দ্রুত বীর্যস্খলন বা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বীর্যস্খলন। এটা আসলে এক প্রকারের অর্জিত বা শিক্ষণীয় যৌন আচরণ যা মাস্টারবেশন বা হস্তমৈথুনের সাহায্যে ঠিক করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে পুরুষটিকে জানতে হবে ও শিখতে হবে কীভাবে বীর্যস্খলনের সময়কে বাড়ানো যায় এবং যৌন অনুভূতি বা শিহরণকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পেনিসকে হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে একবারে উদ্দীপিত করে আবার যৌনপুলক নিয়ন্ত্রণ করে বন্ধ করুন যাতে কি-না বীর্যস্খলিত হতে না পারে। এভাবে কয়েকদিন অভ্যাস করলে এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন। তাই মাস্টারবেশন বা হস্তমৈথুন নিজে করে বা যৌনসঙ্গীকে দিয়ে করে সুখ সপর্শ আর যৌনতৃপ্তি অনুভব করুন এবং দ্রুত বীর্যস্খলনরোধ করুন।

কতক পুরুষের পেনিস ভালোভাবে উত্থিত হলেও অর্গাজম বা যৌনসঙ্গীর সাথে চরমপুলক বা যৌন শিহরণ পেতে অসুবিধা হয় কিন্তু যখন তিনি মাস্টারবেশন করেন তখন কোনো সমস্যা থাকে না। এর একটা মানসিক কারণ থাকতে পারে। তিনি যৌন আচরণকে অপরাধের দৃষ্টিতে দেখতে পারেন বা নারী বা যৌনসঙ্গী গর্ভবতী হয়ে যাবে এরকমটি ভাবতে পারেন বা যৌনবাহিত রোগ বা ইনফেকশনকে এড়িয়ে চলতে পারেন। আপনি যদি এ ব্যাপারে সহায়তা চান তবে মনোচিকিৎসক বা সেক্স থেরাপিস্টের সাথে পরামর্শ করুন এটাকে মনোচিকিৎসার সাহায্যে সম্পূর্ণ ভালো করা সম্ভব।

নারীদের যৌনাশঙ্কা
অনেক নারী যৌনতা নিয়ে অস্বাচ্ছন্দ্যতা বা এক ধরনের চিন্তা বা শঙ্কায় ভোগেন। তারা স্বাভাবিক শরীরের অধিকারী হলেও যৌনাঙ্গ নিয়ে অনেক সময় বেশ অস্থির থাকেন। অবশ্য নারীরা চরমপুলক বা যৌন শিহরণমূলক অনুভূতি অথবা অন্যদের মতো সেক্স তারা কেন করতে পারেন না এ নিয়েও দুশ্চিন্তায় ভোগেন। হঠাৎ করে কোনো যৌনসঙ্গম একটু ব্যথাদায়ক হলে তাদের উদ্বেগের সীমা থাকে না।

যৌন আচরণ, অনুভূতি আর যৌন ইচ্ছার নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। বিভিন্ন ধরনের আসন, বিভিন্ন রকমের টেকনিকে অনেকে খুব যৌনসুখ পান আবার অনেকে পান না। একজন নারী যৌন আনন্দ বা যৌনসুখের জন্য যে আসন বা ব্যবস্থাটিই বেছে নিক না কেন তা কিন্তু সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। অন্য নারীরা যা করে তা আপনাকে একইভাবে করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। তবে কারো অনিচ্ছা আর আপত্তি সত্ত্বেও তার সাথে যৌন সঙ্গম করা অন্যায়। বলাৎকার এবং অপব্যবহার এই দুটিই আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ।

আসলে এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে একজন নারীকে অবশ্যই তার শরীর বা বডি ইমেজ সম্পর্কে স্বচ্ছ সাবলীল ধারণা থাকা চাই। এক্ষেত্রে নারী তার যৌনসঙ্গীর সাথে যোগাযোগ করে ও পরামর্শ নিয়ে উপকৃত হবেন। নারীকে অবশ্যই জানতে হবে কিসে যৌনানন্দ বোধ হয় এবং তিনি কী অপছন্দ করেন।

নারী যৌনাঙ্গের সবচেয়ে সংবেদনশীল সপর্শকাতর ফুলের মতো বা ঠোঁটের মতো অংশটাকে ক্লাইটোরিস বা ভগাঙ্কুর বলে। এতে সুখসপর্শ করলে নারীর দেহমনে এক অন্যরকম যৌনসুখ অনুভূত হয়। যৌন সঙ্গমের সময় একজন নারী ঠিক যেভাবে বা যেরকম সপর্শ তার ক্লাইটোরিসে চায় সেরকম হয় না। তাই যৌনসঙ্গমের সময় এমন একটা পথ বেছে নিন যাতে কিনা ক্লাইটোরিসের সাথে মৃদু বা মাঝারি ঘর্ষণ নিশ্চিত হয়। নারী নিজে বা তার যৌনসঙ্গী যৌনক্রিয়ার সময় ক্লাইটোরিসকে উদ্দীপিত করতে পারে বা বীর্যস্খলনের পর নারীকে চরমপুলক বা যৌন শিহরণ দেয়ার জন্য এটাকে উদ্দীপিত করতে পারে। নারী নিজেই আবিষকার করবে কার মাধ্যমে হস্তমৈথুনে তিনি বেশি যৌনসুখ পান, তার যৌনসঙ্গীর মাধ্যমে না নিজের মাধ্যমে।

নারী যদি সত্যিকারভাবেই উদ্দীপিত হয় তাহলে কিন্তু যোনি ভিজে যায়। এর ফলে যৌনসঙ্গম সহজ হয়। কতক নারী-পুরুষ আবার যোনিকে ভেজা রাখার জন্য দ্রবণীয় কোনো পিচ্ছিল তরল ব্যবহার করেন। এটা যে কোনো ড্রাগ স্টোর থেকে কেনা যেতে পারে; তবে পেট্রোলিয়াম জাতীয় পিচ্ছিলকারক পদার্থ কখনোই ব্যবহার করবেন না।

একজন নারী তার যৌনানুভূতি বা যৌন ইচ্ছার কথা দেহের ভাষাতে প্রকাশ করতে পারেন। আর আপনি যদি এতে সফল হন তবে আপনার যৌনসঙ্গী আপনার সাথে যৌনকর্মে বা যৌনসঙ্গমে মিলিত হতে চাইতে পারেন এতে করে উভয়েই যৌনানন্দ আর যৌনসুখ নিঃসন্দেহে পাবেন।

গর্ভসঞ্চারের ভীতি, যৌনবাহিত রোগ হওয়ার শঙ্কা বা দুশ্চিন্তা ইত্যাদি সবকিছুই সেক্সের অনুভূতিকে কমিয়ে দিতে পারে। ক্লান্ত বা অবসাদগ্রস্ত হওয়া, মনোশারীরিক চাপ বা স্ট্রেস, অসুস্থতা বা অ্যালকোহল সেবন যৌন আচরণ আর অনুভূতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।

সেক্স সম্বন্ধে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা যেমন অপব্যবহার, যৌন অত্যাচার বা নিপীড়ন, ধর্ষণ, বলাৎকার বা সেক্স একটা নোংরা ব্যাপার-এরূপ ধারণা সেক্সের ওপরে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। তবে কতক নারীর ফিজিক্যাল বা শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। সেক্স সম্পর্কীয় মানসিক সমস্যার জন্য অবশ্যই সেক্স থেরাপিস্টের শরণাপন্ন হওয়া দরকার।

গর্ভধারণের বা গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ
একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে একজন নারী গর্ভধারণ করলেও কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। সবচেয়ে কমন বা প্রচলিত ও তাৎপর্যপূর্ণ লক্ষণ হলো মাসিক স্রাব বা ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া। তবে কোনো কোনো গর্ভবতী মহিলার পিরিয়ড থাকতে পারে তবে তা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক হাল্কা মাত্রার ও কম সময়ের জন্য। কোনো নারীর যদি আগে থেকেই অনিয়মিত মাসিক হয়ে থাকে তবে গর্ভধারণের এ লক্ষণটি তার ক্ষেত্রে একটু সমস্যার সৃষ্টি করবে, ঠিক কবে থেকে মাসিক বন্ধ হলো তা সনাক্তকরণ একটু কঠিন হবে। আরেকটি লক্ষণ হলো অপেক্ষাকৃত বেশিবার প্রস্রাব করা। এটা মূলত হরমোনের মাত্রার তারতম্য এবং মূত্রথলির ওপর অত্যধিক চাপজনিত কারণে হয়ে থাকে।

কোনো কোনো গর্ভবতী মহিলা সাময়িকভাবে একটু অসুস্থ বা বমি বমি বোধ করে। এই বমনেচ্ছা কারো কারো ক্ষেত্রে কম হয় বা কারো ক্ষেত্রে খুব অস্বস্তিকর হতে পারে। একে ‘প্রাতঃকালীন অসুস্থতা’ বলে। তবে দিনের যে কোনো সময় এই বমনেচ্ছা প্রবল হতে পারে। এটাও হরমোনের তারতম্যজনিত কারণে হতে পারে। সোডা ব্রেকারস সেবন বা অল্প অল্প করে নাস্তা সেবন এক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে। স্তনের আকার সাধারণত বড় হয়, স্তন সপর্শকাতর হয়ে পড়ে, কিছুটা ব্যথাদায়ক হতে পারে। নিপল বা    স্তনের বোঁটার চারপাশের এলাকা বড় ও একটু গাঢ় বর্ণ ধারণ করে।

কোনো কোনো গর্ভবতী নারী প্রথমবার সন্তান নেয়ার সময় একটু ক্লান্ত বা অবসন্নবোধ করে এবং অনেকের ক্ষেত্রেই যোনিক্ষরিত রসের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। আরেকটি লক্ষণ হলো কোষ্ঠকাঠিন্য-এটাও হরমোনের মাত্রার তারতম্যের কারণেই হয় এবং বর্ধনশীল জরায়ু ক্রমাগতভাবেই পেটে চাপ দিতে থাকে। বেশি বা প্রচুর আঁশ জাতীয় খাবার যেমন-শুকনো আলুবোখরা, এগুলোর বের করা রস, শিম, ছোলা, মটরশুটি ইত্যাদি এক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখে।

তবে এটাও ঠিক যে, এই লক্ষণসমূহ থাকলেই যে একজন নারীকে গর্ভবতী বলা যাবে তা কিন্তু নয়। মনোশারীরিক চাপ, অসুস্থতা, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, প্রচুর শারীরিক ব্যায়াম ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল সেবন ইত্যাদি কারণেও একটি পিরিয়ড বা মাসিক চক্র মিস (না হওয়া) অসম্ভব নয়। তবে অবশ্যই স্মরণ রাখা উচিত যে, অরক্ষিত বা কনডম ছাড়া যৌনসঙ্গম বা কোনো একটা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি মাসে একদিন মাত্র না সেবন করলেও কোনো মহিলা গর্ভবতী হয়ে যেতে পারে।

কোনো নারীর যদি গর্ভধারণের লক্ষণসমূহের কোনো একটি থাকে অথবা কোনো কারণে যদি নারী মনে করে যে, সে অপরিকল্পিতভাবে গর্ভবতী হয়ে পড়েছে তবে একটা ল্যাব টেস্ট করে অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নেবে যে সে গর্ভবতী। এটা কোনো ড্রাগ স্টোর, ক্লিনিক বা ডাক্তারের অফিসে শুধুমাত্র প্রস্রাবের নমুনা থেকে শনাক্ত করা সম্ভব। আপনি গর্ভবতী কি-না এটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরীক্ষার সাহায্যে একেবারে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক আপনি যদি গর্ভাবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে চান তবে সন্তান জন্মের পুর্ব পর্যন্ত আপনাকে অবশ্যই ভালো প্রিন্যাটাল যত্ন নিতে হবে অথবা কোনো নারী যদি মনে করেন তিনি গর্ভাবস্থাকে নষ্ট করে দেবেন বা অপরিকল্পিত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে সন্তান নিয়ে থাকেন তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে অ্যাবোরশন বা গর্ভপাত করে নিন। গর্ভবতী নারীদের উচিত নিজের প্রতি যত্ন নেয়া, পরিমিত আহার করা, ক্যাফেইন সেবন পরিহার করা, ধূমপান না করা। অ্যালকোহল সেবন পরিহার করা এবং কোনো ড্রাগ বা ওষুধ খেতে হলে অবশ্যই ডাক্তার বা ফার্মাসিস্ট বা ফিজিশিয়ানের সাথে পরামর্শ করে নিন যে, এগুলো জরায়ুর, সন্তান বা ভ্রূণের ওপর খারাপ কোনো প্রভাব ফেলবে কি-না।

গর্ভাবস্থা বা প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে
যেভাবে নিশ্চিত হবেন
যদিও নানাবিধ কারণে মাসিক বা ঋতুস্রাব হতে দেরি হতে পারে, তথাপি গর্ভবতী হয়ে যাওয়ার জন্য কোনো নারীর দেরি হওয়া খুব স্বাভাবিক তাই এক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে নিশ্চিত হওয়া উচিত। মাসিক অন্যান্য যেসব কারণে দেরি হতে পারে সেগুলো হচ্ছে-স্ট্রেস বা মনোশারীরিক চাপ, শারীরিক অসুস্থতা, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, দৈনন্দিন কাজের রুটিনে পরিবর্তন বা ভ্রমণজনিত কারণ ইত্যাদি। ফ্যামিলি প্ল্যানিং বা পরিবার পরিকল্পনা অফিস, ডাক্তার এবং ড্রাগ স্ট্রোরে মহিলার কেবলমাত্র প্রস্রাব থেকে প্রেগন্যান্সি পরীক্ষা করে নিশ্চিত করে বলে দেয়া সম্ভব যে কেউ গর্ভবতী কি-না। তাই মহিলারা প্রস্রাবের সামান্য নমুনা ক্লিনিকে পরীক্ষার জন্য দিতে পারেন বা বাসা থেকে নমুনা ক্লিনিকে নিয়ে যেতে পারেন। কতক্ষণের মাঝেই ফল পাওয়া যায়। এছাড়া বাসায় বসে পরীক্ষাটি করার জন্য কোনো ড্রাগ স্টোর থেকে প্রেগন্যান্সি টেস্টিং কিট কিনে এনে নিজেও পরীক্ষা করতে পারেন। ভুল ফলাফল কদাচিৎ পাওয়া যায়। যদি ফলাফল আসে যে নারী গর্ভবতী নয়; কিন্তু তার যদি আগামী দুই সপ্তাহের মাঝে মাসিক স্রাব না হয়, তবে পরীক্ষাটি আরেকবার ভালো করে করা উচিত।

ফলাফল যদি নেগেটিভ হয় এবং নারী যদি গর্ভবতী হতে না চান বা সন্তান নিতে না চান তাহলে তিনি ডাক্তার বা কাউন্সিলরের সাথে জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে ঠিক কোন পদ্ধতি ভালো হবে তা নিয়ে আলাপ করতে পারেন। প্রেগন্যান্সি পরীক্ষার ফলাফল যদি পজিটিভ হয়, অর্থাৎ নারী যদি গর্ভবতী হয়ে পড়েন তবে তার দুইটি পছন্দ থাকতে পারে। এর মাঝে একটা গর্ভাবস্থাকে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা বা আগেই গর্ভাবস্থাকে নষ্ট করা। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়লে অন্তরঙ্গ কারো সাথে আলাপ করুন-তা হতে পারে আপনার পার্টনার, পরিবারের সদস্য বা বন্ধু।

কিশোরীদের গর্ভধারণ
প্রতিবছরই একেবারে উঠতি বয়সের ১০ থেকে ১৯ বছরের হাজার কিশোরী যারা কি-না মূলত কানাডিয়ান ও আমেরিকান তারা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। সামান্য কতক গর্ভাবস্থা বা গর্ভধারণ থাকে সুগঠিত ও পরিকল্পিত; তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থাকে অপরিকল্পিত বা অনিচ্ছাকৃত, তাই একটু জটিল সিদ্ধান্ত নিতেই হয়।

যুবতী নারীদের একটি বড় অংশ যারা কি-না যৌনভাবে সক্ষম, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে না তারা প্রথম মাসেই গর্ভধারণ করে বসে। আবার কিছু কিছু গর্ভবতী নারী গর্ভধারণ করতে চায় বলেই জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে না। তবে অনেকেই গর্ভধারণ করতে চায় না এর একটা কারণ হতে পারে-তারা জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জানে না বা কীভাবে কী ব্যবহার করতে হবে সে সম্পর্কে অজ্ঞ। অথবা এমনও হতে পারে তারা জানে না এগুলো কোথায় পাওয়া যায়। আবার অনেক নারী ডাক্তার বা ক্লিনিক বা ড্রাগ স্টোরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী কিনতে বেশ অস্বস্তি অনুভব করে, বিশেষত তারা মনে করে থাকে যে, এক্ষেত্রে একটি যৌন আচরণ সম্পর্কে কিছু কথা শুনতে হতে পারে।

কেউ কেউ অবশ্য নিজেকে যৌন সঙ্গমের জন্য অনুমতি দেয় না বা নিজেকে এর জন্য প্রস্তুত রাখে না অথবা তারা চিন্তা করে যে, তাদের ক্ষেত্রে এটা হতে পারে না। আবার কতক নারী তো বলেই বসে যে, সেক্স নিয়ে পরিকল্পনা সব রোমাঞ্চকে নষ্ট করে দেয়। কেউ আবার ভেবে বসেন যে, মাসের বিশেষ কতক দিনে বা প্রথমবার যৌনমিলনে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা নেই বা মনে করে পার্টনারটি তার সব ধরনের যত্ন বা খবর নেবে।

কতক নারী তো বিশ্বাসই করতে চায় না যে, জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকরী ও নিরাপদ অনেক পদ্ধতি বিদ্যমান। এর মাঝে কিছু পদ্ধতি যুবতী নারীদের জন্য খুব বেশি নিরাপদ। যুবতী অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীদের গর্ভধারণ এক অর্থে কিছুটা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ কেননা তারা রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া ও টক্সিমিয়ার শিকার হতে পারে এ কারণে যে, তারা নিজেরাই এখনো পুরোপুরি বৃদ্ধিলাভ করেনি এর জন্য বিশ বছর সময় দরকার।

বেশিরভাগ যুবতীদের সন্তান নেয়ার প্রাথমিক ফল হয়ে দাঁড়ায় তাদের পড়াশোনায় বাধাগ্রস্ত। গর্ভাবস্থা একটা বড় কারণ, যাতে কি-না অনেক নারীই স্কুল ছেড়ে দেয় বা স্কুল করা খুব কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। কিশোরী নারীদের যারা মা হয়ে যায়, তাদের সবাই যে বিয়ে করে এমনটিও নয়। আবার কারো কারো বিয়ের পাঁচ বছরের ভেতর দ্বিতীয় বা তৃতীয় সন্তান নেয়ার সময় বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

অন্য যে কোনো বয়সের মহিলাদের মতো কিশোরী বয়সীদের জন্য এটা একটু বেশি সত্য যে, তারা যদি গর্ভবতীকালীন সময় বা সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ভালো সাপোর্ট বা সমর্থন পায়, তবে তাদের সমস্যা হয় অনেক কম। বিভিন্ন জাতীয় গবেষণা প্রমাণ করে যে, কিশোরী মা ও তাদের সন্তানরা পিতামাতা ও পরিবার পরিজন থেকে ভালো সমর্থন বিশেষত আর্থিক ও আবেগজনিত ব্যাপারে যদি পায় তবে তারা খুব ভালোভাবে চলতে পারে।

তাই কিশোরীদের এসব ব্যাপার একটু জটিল এগুলোর একবারে সহজ উত্তর দেয়া কঠিন। তবে কিশোরীদের সহায়তা করবে এমন কিছু পরামর্শ নিচে দেয়া গেল-

  • যৌন আচরণ বা যৌনতা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে বাড়িতে ও স্কুলে শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম চালু করা।
  • কিশোরী ও তার পিতা-মাতার উচিত সেক্স সম্পর্কে একেবারে খোলামেলা কথাবার্তা বলা।
  • যুবতী নারীরা একেবারে সঠিক কিছু জানতে চায় যেমন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, যৌনবাহিত রোগ, মর্নিং আফটার পিল বা সকালের পিল এবং তিনটি পছন্দ যেমন-পেটের বাচ্চাকে বাঁচিয়ে রাখা, পোষ্যগ্রহণের জন্য বাচ্চাকে দিয়ে দেয়া বা গর্ভপাত করে ফেলা।

অপরিকল্পিত গর্ভধারণ
আপনি যদি গত ৭২ ঘণ্টা বা তিনদিনের ভেতর কোনো রকম প্রতিবন্ধক বা অন্য কোনো ব্যবস্থা ব্যতিরেকে যৌনসঙ্গম করেন তবে আপনার গর্ভধারণের সম্ভাবনা বিদ্যমান; কিন্তু আপনি যদি চান যে, গর্ভবতী হবেন না তবে আপনি জন্মনিয়ন্ত্রণ অধ্যায়টি প্রাতঃকালীন পিল বা মর্নিং আফটার পিল সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন।
আপনি যদি গর্ভবতী হয়ে যান এবং প্রেগন্যান্সি টেস্টও পজিটিভ হয় অথচ এই গর্ভধারণের বিষয়টি যদি অপরিকল্পিত থাকে, তবে আপনাকে নিচের কোনো না কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে-

  • গর্ভাবস্থাকে টিকিয়ে রাখুন ও বাচ্চার জন্ম নিশ্চিত করুন।
  • গর্ভাবস্থা বজায় রাখুন এবং সন্তানকে পোষ্যগ্রহণের জন্য দিতে পারেন।
  • গর্ভপাতের সাহায্যে পেটের বাচ্চাকে নষ্ট করা।

তবে প্রত্যেকটি সিদ্ধান্তেরই জীবনব্যাপী বঞ্চনা বিদ্যমান এবং কোনোটাই সহজ নয়।

কিন্তু এ সিদ্ধান্তটি অবশ্যই নির্বাচিত বা পছন্দ করবেন গর্ভবতী নারী নিজে। এটা অবশ্যই তার প্রয়োজন ও আশার ওপর ভিত্তি করে হতে হবে। আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে কী ধরনের সহায়তা ও সমর্থন আপনি পাবেন।

আপনার হয়ত অন্তরঙ্গ অনেক ব্যক্তি থাকতে পারে এবং প্রথমে আপনি তাদের সাথেই আলাপ করবেন। তবে এটা খেয়াল রাখবেন অন্যকে খুশি বা সন্তুষ্ট করার জন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার কিন্তু নিজেকে নিয়েই চলতে হবে তাই নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও পছন্দের মূল্য অনেক বেশি।

বিভিন্ন সম্ভাব্যতার কথা চিন্তা করে নিজের ধারণা, বিশ্বাস ও চেতনাকে কাজে লাগিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। আপনি আপনার পার্টনার বা সঙ্গী, বাবা-মা, আত্মীয়, পরিজন বা বন্ধু-বান্ধবের সাথে আলাপ করুন। অন্তত একজনকে নির্বাচিত করুন যিনি কি-না আপনাকে খুব বিশ্বাস করেন এবং আপনিও তাকে বিশ্বাস করুন ও তার কাছ থেকে আপনি সব ব্যাপারে সহায়তা ও সমর্থন প্রত্যাশা করতে পারেন। আপনি আত্মবিশ্বাসের সাথে কোনো পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিকের কাউন্সিলরের সাথে পরামর্শ করুন।

আপনি যদি গর্ভাবস্থাকে টিকিয়েই রাখেন তা হোক আপনি নিজে সন্তানকে লালন-পালন করবেন বা দত্তকে দেবেন ভালো ভূমিষ্ঠ পূর্ববতী যত্ন গর্ভাবস্থাকে নিশ্চিত ও সাবলীল রাখে এবং মা ও শিশুর স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দেয়। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্বে মা যেরকম যত্ন নেবেন সেগুলো হলো পরিমিত সুষ্ঠু আহার করা, টোবাকো বা তামাক জাতীয় সবকিছু পরিহার করা, ড্রাগ ও অ্যালকোহল সেবন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখুন, শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা এবং পরিমিত পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেয়া।

শিশুরা আনন্দের একটা বড় অংশ। তাদেরকেও অনেক বছর যাবৎ খুব যত্ন নিতে হয়। আগেই চিন্তা করে নিন আপনি কী ধরনের সহায়তা ও সমর্থন পাবেন একটা বাজেট তৈরি করুন। জীবনকে নতুনভাবে বিবেচনা বা যাচাই করতে শিখুন। শিশুর লেখাপড়া, কেরিয়ার এবং পরিবারের অন্যান্যদের অবস্থাও আগেই চিন্তা করে নিন। এখন সিদ্ধান্ত নিন যে, আপনার সন্তান নেয়া উচিত কি-না? আপনি যদি আপনার সন্তানকে পোষ্য হিসেবে দিতে চান তবে আগেই নির্ধারণ করুন আত্মীয় বা বন্ধু-বান্ধব বা অপরিচিত কারো কাছে দেবেন কি-না। তবে আপনাকে অবশ্যই আপনার অধিকার এবং আশা সম্পর্কে ভাবতে হবে।

তৃতীয় পছন্দ অ্যাবোরশন বা গর্ভপাত। এটি কানাডাতে আইনগতভাবে স্বীকৃত এবং মোটামুটি নিরাপদ। আপনি যদি নিশ্চিত হন যে, আপনার গর্ভের সন্তান নষ্ট করবেন তবে যত তাড়াতাড়ি এটা করা যায় সেটাই আপনার জন্য মঙ্গলজনক। গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহের মাঝে গর্ভপাত করে নিলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি অনেক কমে। কোনো গর্ভবতী মহিলার গর্ভাবস্থা যদি ২০ সপ্তাহের বেশি হয়ে যায় তবে গর্ভপাত করানো ঝুঁকিপূর্ণ বিশেষত পরবর্তীকালীন মা হতে চাইলে।

গর্ভাবস্থা ও সন্তানের জন্ম
পুরুষের শুক্রাণু ও নারীর ডিম্বাণুর মিলনে তৈরি হয় জাইগোট যাকে নিষিক্ত ডিম্বাণু বলা যেতে পারে। এই জাইগোটটির কোষ ভাগ হয়ে হয়ে সংখ্যায় বাড়তে থাকে নারীর জরায়ুতে। ধীরে ধীরে তা পরিণত ভ্রূণে বিকশিত হয়।

নিষেকের পর সাধারণত জরায়ুর একটি নির্দিষ্ট অংশে ধীরে ধীরে ভ্রূণের বিস্তার ঘটে। একটা সন্তানের জন্ম নিতে প্রয়োজন ২৬৬ দিন বা প্রায় ৩৮ সপ্তাহ, এই হিসাবটি অবশ্যই করতে হবে শেষ মাসিকের প্রথম দিন থেকে। যদিও দুই সপ্তাহ পরে ওভুলেশনের সময় স্ত্রীর ডিম্বাণু বের হওয়ার সময় এই নিয়ম কার্যকরী। তাই অনেক সময় বলা হয়, সন্তান জন্ম নিতে আসলে ৪০ সপ্তাহ বা প্রায় ৯ মাস সময়ের প্রয়োজন। এই ৯ মাসকে হিসেবের সুবিধার্তে তিনটা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।

শিশুর জিনের অর্ধেক আসে মা থেকে ও অপর অর্ধেক আসে বাবা থেকে। চালচলন, হাবভাব, কথাবার্তা, বুদ্ধিমত্তা এবং কিছু মনোরোগ ও শারীরিক রোগ জিনের সাহায্যে সন্তানে পরিবাহিত হতে পারে। প্রত্যেকটা শিশুই একেকটা পৃথক সত্তা। সন্তান যে লিঙ্গেরই হোক তা নিয়ে মা-বাবার মাঝে কোনো অসন্তোষ থাকা উচিত না, বরং মনে মনে যে কোনো লিঙ্গের সন্তানের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। সন্তানের লিঙ্গের ব্যাপারে পূর্বেই নিশ্চিত হওয়ার কোনো পদ্ধতি নেই। গর্ভাবস্থার কিছুদিন পর আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে সন্তানের সেক্স নির্ধারণ করা যায়।

বেশিরভাগ শিশুই হাসপাতালে জন্ম নেয় বিশেষ ভালো অভিজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সের তত্ত্বাবধানে। কোনো কোনো মহিলা এসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সেবা ও নিরাপত্তার জন্য ধাত্রী রেখে দেন। নিরাপত্তা ও ব্যথা কমানোর জন্য এনাসথেটিকস ও ড্রাগ বা ওষুধ সেবন করানো হয়। ইদানীংকালে বেশ কিছু মহিলার নানা জটিলতার কারণে অস্ত্রোপচারের সহায়তায় সিজারিয়ান অপারেশনের সাহায্যে মায়ের পেট থেকে সন্তান বের করা হয়। এক্ষেত্রে রক্ত পরিসঞ্চালনের প্রয়োজন হতে পারে।

কোনো কোনো গর্ভবতী নারীরা বাড়িতে ধাত্রীর সহায়তায় ডেলিভারি করাতে বেশি উৎসুক থাকে। তারা আসলে পরিবারের সবার সমর্থন বা সাপোর্ট চায় ও পারিবারিক পরিবেশ চায়। তবে বাড়িতে ডেলিভারি করা ঝুঁকিপূর্ণ কিছু নয়। কিন্তু জটিলতা থাকলে অবশ্যই গর্ভবতীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। কদাচিৎ টুইনস বা যমজ সন্তান বা তারচেয়ে বেশি সন্তান কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জন্ম নিতে পারে। টুইনস বা যমজরা সাধারণত নিষিক্ত ডিম্বাণুর বিভাজন থেকে আসে। ডাক্তার গর্ভবতীর পেটের বাচ্চার হার্টের শব্দ এবং আলট্রাসাউন্ড থেকে ধারণা দিতে পারেন যে, পেটে একাধিক  সন্তান বিদ্যমান।

গর্ভাবস্থার ওপর ড্রাগ, ধূমপান,
অ্যালকোহল ও ওষুধের প্রভাব
আপনি যদি গর্ভধারণ করতে চান, তবে পূর্বেই আপনাকে কিছুটা প্রস্তুতি নিতে হবে। ভালো ও পরিমিত আহার করা, স্বাস্থ্যবতী থাকা, পরিমিত পর্যাপ্ত নিদ্রা এবং শারীরিক ব্যায়াম এবং স্ট্রেস বা মনোশারীরিক চাপ এড়িয়ে চলা ইত্যাদি নিয়মকানুন অবশ্যই মেনে চলা উচিত। গর্ভাবস্থায় একজন নারীর জীবন-যাপন প্রণালী যেমন কোনো নির্দিষ্ট খাওয়া-দাওয়া বা মেডিকেশন (ওষুধ সেবন) ভ্রূণের সঠিক বিকাশের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। প্রিন্যাটাল কেয়ার খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ এ সময়ে শিশুর আভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহ বিকাশ লাভ করে।
অ্যালকোহল, ধূমপান, ক্যাফেইন, ড্রাগস ইত্যাদি গর্ভবতীর স্বাস্থ্যের ওপর তো বটেই গর্ভস্থ শিশুর পরবর্তী জীবনে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। জটিলতাসমূহ অনেকটা এরকম যে, জন্মগত ত্রুটি, অঙ্গবিকৃতি, মানসিক অসুস্থতা, মানসিক প্রতিবন্ধীত্ব বা জন্মের সময় জ্ঞান কমে যাওয়া। বিয়ার বা মদ বা জিন সেবনেও ওপরের সমস্যাসমূহ হতে পারে।

ডাক্তাররা গর্ভবতীদের ক্যাফেইন সেবন যেমন কফি, চা, চকোলেট, কোলাস ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করার নির্দেশ দেন। যদিও কেউ সম্পূর্ণ ছাড়তে না পারে তবে একেবারে কম মাত্রায় সেবন করা যেতে পারে। অনেকেই হয়ত এ সম্পর্কে জ্ঞাত যে, কোকেইন ফিটাস যা গর্ভস্থিত শিশুর অনেক ক্ষতি করে। তবে অনেকেই হয়ত জানেন না যে, প্রেসক্রিপশনকৃত বা ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অনেক ওষুধ বিদ্যমান যেগুলো সেবনে ভ্রূণের ওপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় যে কোনো ওষুধ সেবন করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেবেন, হোক সেটা ব্যথানাশক বা এন্টাসিড জাতীয়।

পোষ্যগ্রহণ বা দত্তক নেয়া
অনেক মহিলা আছে যারা গর্ভবতী কিন্তু আসলে সন্তান চায় না। আবার তারা সন্তান নষ্ট করতেও চায় না বা সন্তান নষ্ট করার নিরাপদ সময় হয়ত চলে গেছে সেক্ষেত্রে একজন নারী এ পন্থাকে বেছে নিতে পারে।

অনেক এলাকাতেই পোষ্যদেরকে ভরণপোষণের জন্য শিশু-কিশোরের সাহায্যার্থে ফান্ড বা তহবিল বিদ্যমান। এক্ষেত্রে মা-বাবার কোনো খরচাও লাগবে না। কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন কোম্পানি এক্ষেত্রে কেবল সেবার টাকা নিতে পারে। তবে শিশুর জন্য অন্য কোনো খরচা তারা নেয় না। তবে এই পোষ্যকরণের জন্য চিলড্রেন এইড সোসাইটি, প্রাইভেট এডপশন এজেন্সি বা প্রফেশনাল ও লাইসেন্সকৃত কোনো সংস্থার কাছে নির্দ্বিধায় দায়িত্ব দিতে পারেন।
 
যৌনবাহিত নানা ইনফেকশন বা সংক্রমণ যেভাবে এড়াবেন
অনেকের একটি বদ্ধমূল ধারণা বিদ্যমান যে, যৌনবাহিত সংক্রমণ বা ইনফেকশন তাদের কখনোই হবে না। আপনারও একরম ধারণা থাকতে পারে যে, গনোরিয়া, হার্পিস, ক্ল্যামাইডিয়া, এইডস বা অন্যান্য সংক্রমণ বা ইনফেকশন কেবলমাত্র অন্যদেরই থাকতে পারে। এ ধরনের ধারণা নিয়ে যদি আপনি যৌন আচরণ বা যৌনমিলন করেন তবে আপনার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকবে। নিজেকে এবং আপনার সঙ্গিনীকে এ ধরনের ইনফেকশন থেকে রক্ষা করুন।

কিছু কিছু যৌনবাহিত ইনফেকশন রয়েছে যেগুলো সারে না। কতকক্ষেত্রে যৌনবাহিত সংক্রমণের কোনো উপসর্গ বা লক্ষণ থাকে না বা ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করে বা কতকক্ষেত্রে এসবের উপস্থিতি টের পাওয়া যায় না। তবে যৌনবাহিত সংক্রমণমূলক রোগের চিকিৎসা না করলে তা মারাত্মক স্বাস্থ্য সম্পর্কীয় ঝুঁকিকে আরো বাড়াতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকি মৃত্যু পর্যন্ত গড়াতে পারে। আর এ জন্যই আপনার মূলত জানা প্রয়োজন যে, কীভাবে এসব ঝুঁকিকে এড়িয়ে চলবেন বা মোকাবিলা করবেন।

যৌন আচরণের সময় যৌনবাহিত সংক্রমণ বা এসটিআই একজন থেকে আরেকজন অর্থাৎ যৌনসঙ্গী বা সঙ্গিনীতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে যৌন আচরণ বলতে কেবলমাত্র যৌন সঙ্গম বা যৌনমিলনকেই বোঝায় না বরং এর সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যাপারগুলোকেও বোঝায়। তাই এসটিআই বা যৌনবাহিত ইনফেকশন, যোনি সঙ্গম বা যোনি পথে মিলন, মুখ মেহন, পায়ুপথে মিলন বা পায়ুসঙ্গম, পারসপরিক যৌন এলাকা মেহন এবং পারসপরিক হস্তমৈথুন বা মাস্টারবেশন ইত্যাদির মাধ্যমেও বিস্তার লাভ করতে পারে। তবে টয়লেট সিট বা অপরিচ্ছন্ন ময়লা কাপড় পরিধান থেকে এসটিআই বা যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যত বেশি সেক্স পার্টনার বা যৌনসঙ্গী বা সঙ্গিনী আপনার থাকবে এবং যত বেশি যৌন আচরণ আপনি করবেন, যৌনবাহিত সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও ততো বেশি থাকবে। যৌনসঙ্গী বা সঙ্গিনী যত সীমাবদ্ধ থাকবে এসটিআই বা যৌনবাহিত সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ততো কম। তবে আপনার যদি কোনো যৌনবাহিত সংক্রমণ বা ইনফেকশন না থাকে এবং আপনার সেক্স পার্টনারটি বা যৌনসঙ্গিনীটি যদি অন্য কারো সাথে যৌন আচরণ না করে তবে আপনাদের এসটিআই বা যৌনবাহিত ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

আপনি যদি যৌনভাবে সক্ষম থাকেন তবে যৌনবাহিত রোগ এড়াতে আপনার এমন যৌনসঙ্গী বা সঙ্গিনী নির্বাচন করতে হবে যার কিনা অন্য কোনো যৌনসঙ্গী নেই। আপনি যদি একাধিক যৌনসঙ্গী বা সেক্স পার্টনারের সাথে সেক্স করেন অথবা নতুন কোনো সেক্স পার্টনারের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তবে অবশ্যই ল্যাটেক্স কনডম ব্যবহার করবেন এবং প্রতিবন্ধক ব্যবহার বা ব্যারিয়ার মেথড যেমন-ডায়াফ্রাম, ক্যাপ বা সপঞ্জ ইত্যাদি। নিয়মমাফিক ও সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা হলে ল্যাটেক্স কনডম এসটিআই বা যৌনবাহিত ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে পারে যার ফলে যৌনরোগ বিস্তার লাভ করতে পারে না। অতিরিক্ত সতর্কতাস্বরূপ জন্মনিয়ন্ত্রণ ফোম, ক্রিম, জেলি বা সপঞ্জ ব্যবহার করা যেতে পারে।

আপনার বা আপনার যৌনসঙ্গী মনে করতে পারে যে, কনডম ব্যবহার করা যৌনশিহরণে ব্যাঘাত ঘটায়, রোমাঞ্চকে বাধাগ্রস্ত করে এবং বাড়তি একটি ঝামেলা। মনে রাখা উচিত যে, যৌনবাহিত ইনফেকশন বা সংক্রমণ অনেক বেশি অস্বস্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কনডম ব্যবহারে অভ্যস্ত হোন। আপনি বরং আপনার সঙ্গিনীকে জানান যে, আপনি কোনো ধরনের যৌনরোগের ঝুঁকি আদৌ নিতে চান না কাজেই কনডম ব্যবহার করুন। অথবা বলুন যে, আপনি যৌনসঙ্গম বা যৌনমিলন ব্যতীত অন্যান্য যৌন আচরণ করবেন (যদি কনডম ব্যবহার না করেন) যেমন কোনো র‌্যাশ (ফুসকুড়ি), ঘা বা ক্ষত, অথবা যোনিরসের বা যোনির ক্ষরণের সংসপর্শে যাবেন না। আপনি আপনার যৌনসঙ্গীর সাথে এসব নানা সতর্কতার ব্যাপারে খোলাখুলি আলাপ-আলোচনা করুন, কোনো লজ্জাবোধ বা অস্বস্তিবোধ করবেন না। সেক্স করার পরে পরিষকার, পরিচ্ছন্ন থাকবেন অর্থাৎ যৌনাঙ্গ ধোবেন ও প্রস্রাব করে নেবেন। সেক্স করার পূর্বেও এসব নিয়ম মেনে চললে যৌনবাহিত সংক্রমণ বা ইনফেকশনের ঝুঁকি অনেকটা হ্রাস পায়।

কেবলমাত্র যৌনাঙ্গ দেখে এটা কোনোভাবেই নিশ্চিত করে বলা যাবে না যে, কেউ এসটিআই বা যৌনবাহিত সংক্রমণ বা ইনফেকশনের শিকার। তবে যৌনাঙ্গে ক্ষত বা ঘা অথবা অস্বাভাবিক ক্ষরণ থাকলে যে এসটিআই বা যৌনবাহিত ইনফেকশন থাকবেই এমন কথাও নিশ্চিত করে বলা যায় না। যতক্ষণ পর্যন্ত না ফিজিশিয়ান আপনাকে বা আপনার সঙ্গিনীকে সেক্স করতে না করবেন (এসটিআই বা যৌনবাহিত রোগের কারণে) ততোদিন পর্যন্ত সেক্স পার্টনারের সাথে সেক্স প্রত্যাখ্যান করুন। আপনার সেক্স পার্টনারকেও বোঝান ও ফিজিশিয়ানের কাছে নিয়ে যান। এসটিআইতে আক্রান্ত হতে পারেন এরকম ঝুঁকি কোনোক্রমেই নেবেন না।

যৌনবাহিত সংক্রমণ বা ইনফেকশনের সতর্কমূলক উপসর্গ ও লক্ষণ

  • পেনিস বা যোনি থেকে অস্বাভাবিক ক্ষরণ
  • যৌনাঙ্গ বা তলপেটে ব্যথা
  • চুলকানি, ক্ষত বা ঘা বিশেষত যৌনাঙ্গে
  • অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ বা যৌনমিলনের পরে রক্তক্ষরণ
  • অত্যন্ত বাজে গন্ধ

তবে মনে রাখবেন যে, অনেকেরই কোনো উপসর্গ বা লক্ষণ থাকে না যদিও তারা যৌনবাহিত সংক্রমণের বা ইনফেকশনের শিকার। তারা তাদের নিজের অজান্তেই ইনফেকশনকে বা যৌনবাহিত রোগকে ছড়িয়ে দিতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো হয় আপনি যদি যৌনভাবে সক্ষম হয়ে থাকেন, তবে বছরে একবার হলেও যৌনবাহিত রোগসমূহ নিশ্চিতকরণের জন্য রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে নেয়া এতে করে আপনি নিজে এসটিআই বা যৌনবাহিত ইনফেকজশন এড়াতে পারবেন এবং এর বিস্তার রোধ করতে পারবেন।

আপনার যদি যৌনবাহিত সংক্রমণ বা এসটিআই থেকেই থাকে তবে অবিলম্বে চিকিৎসা নেয়া উচিত। আপনার যৌনসঙ্গীকেও চিকিৎসা করাতে হবে। আপনি যদি চান তবে আপনার ডাক্তার আপনার কথা গোপন রেখে আপনার যৌনসঙ্গীদের চিকিৎসা করতে পারেন। এটা যৌনবাহিত রোগ বিস্তার রোধ করার অন্যতম ভালো পন্থা এবং মারাত্মক স্বাস্থ্য সম্পর্কীয় ঝুঁকি যা যৌনরোগ থেকে হতে পারে তাও দূর করতে পারে।

কনডম ব্যবহার করুন
সামান্য একটা ল্যাটেক্স কনডম একই সঙ্গে জন্মনিয়ন্ত্রণ এবং যৌনবাহিত নানা রোগ প্রতিরোধের অন্যতম ভালো উপায়। এই কনডম যে কোনো ফার্মেসি, ড্রাগ স্টোর বা ক্লিনিক থেকে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন বা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করা ব্যতিরেকেই ক্রয় করা যেতে পারে।

কনডম হচ্ছে পাতলা ল্যাটেক্স দিয়ে তৈরি এক ধরনের রাবার বা সেফস জাতীয় জিনিস যা কি-না উত্থিত ও শক্ত পেনিসে পরিয়ে দেয়া হয়। কনডম সাধারণত খুব মসৃণ, তৈলাক্ত, রঙিন বা কখনও কখনও গন্ধযুক্ত হয়ে থাকে। ল্যাটেক্স কনডম ব্যবহারে পুরুষের বীর্য আর তার যৌনসঙ্গীর যোনির ভেতরে ঢুকতে পারে না বরং কনডমেই থেকে যায়। তাই কনডম ব্যবহার করে আপনি যোনসঙ্গম বা যে কোনো প্রকারের যৌনমিলনই করেন না কেন-যৌনবাহিত রোগ বা এসটিআইকে ভালোভাবে প্রতিরোধ করা যায়।

কারো কারো ধারণা আছে যে, ল্যাটেক্স কনডম যৌন আনন্দ বা পুলককে বাধাগ্রস্ত করে। তবে মনে রাখবেন যে, এই কনডমগুলো এতই পাতলা যে, পার্টনাররা একজন আরেকজনের শরীরের উত্তাপ পর্যন্ত শেয়ার করতে পারেন। তারপরও কথা থাকে। ধরুন, কনডম ব্যবহার যৌন আনন্দকে সামান্য কমালো, তাতে কী? আপনি এর সুবিধাগুলো দেখবেন না? এর মাধ্যমে আপনি ও আপনার যৌনসঙ্গী উভয়েই যৌনবাহিত মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ রোগগুলো এড়াতে সক্ষম হবেন এবং একই সঙ্গে অনিয়মিত গর্ভধারণ রোধ করতে পারবেন ও জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

অধিক কার্যকারিতার জন্য কনডমের সাথে কন্ট্রাসেপটিভ বা জন্মনিয়ন্ত্রক বা শুক্রাণুনাশের ফোম, জেলি বা ক্রিম এবং অন্য কোনো প্রতিবন্ধক ব্যবহার যেমন-ক্যাপ, ডায়াফ্রাম বা সপঞ্জ ইত্যাদি ব্যবহার করা। তাই প্রতিবার যৌন সঙ্গমের সময় আপনি এগুলো ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। জন্মনিয়ন্ত্রণ ফোম, জেলি এবং ক্রিমে থাকে নোনক্সিনল-৯ নামে একটা পদার্থ যা কিনা শুক্রাণু ও আরো কিছু জীবাণু ধ্বংস করে যারা কিনা যৌনরোগের সূচনা ঘটায়। তবে মনে রাখবেন জন্মনিয়ন্ত্রণ ফোম বা কন্ট্রাসেপটিভ ফোম কিন্ত নারীদের যৌনস্বাস্থ্য যেমন-ডুশ বা সেপ্র থেকে একটু ভিন্ন। এইসব ডুশ বা সেপ্র জাতীয় ব্যাপারগুলো জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে পারে না বা যৌনবাহিত ইনফেকশন বা সংক্রমণ প্রতিরোধও করতে পারে না। যদি পুরুষটি প্রতিক্ষেত্রে কন্ট্রাসেপটিভ বা জন্মনিয়ন্ত্রণ ফোমের সাথে নতুন কনডম ব্যবহার করে এবং যৌন আচরণের সময় কনডম যদি না ফাটে বা স্লিপ না করে তবে শতকরা ১ ভাগেরও কম মহিলা গর্ভধারণ করে ফেলতে পারেন।

কনডম প্রতিটি আলাদা আলাদা প্যাকেটের ভেতরে যত্নে পেচানো অবস্থায় থাকে। তাই যে কোনো রকম যৌন আচরণ যেমন-পেনিসের সাথে যোনি বা পায়ু বা মুখ ইত্যাদির সংসপর্শে যাওয়ার আগে অবশ্যই লিঙ্গ উত্থান ও শক্ত হওয়ার সাথে সাথেই কনডমটি পরে ফেলতে হবে। ইজাকুলেশন বা বীর্যস্খলনের পূর্বে যে পাতলা রস নির্গত হয় তাতেও কিন্তু শুক্রাণু থাকে তা থেকেও বীর্যস্খলন ব্যতীতই কারো গর্ভধারণ করা অমূলক নয়।

কনডম পরার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, কনডমে কোনো বাতাস যেন না ঢোকে এবং একেবারে শেষাংশে সামান্য ফাঁকা জায়গা থাকে যাতে কিনা বীর্যস্খলনের পরে বীর্য বা কামরস জমা হতে পারে। কখনো কনডমকে এমনভাবে পরাবেন না যাতে কিনা পেনিসের মাথার দিকটা শক্ত করে লেগে থাকে-এতে করে কনডম ভেঙ্গে যাওয়া বা ফাটার ঝুঁকি থাকে। প্রতিবার যৌনসঙ্গম করার সময় অবশ্যই একটা করে নতুন বা অব্যবহৃত কনডম ব্যবহার করুন। প্রতিটি কনডমের প্যাকেটে খেয়াল করলে দেখতে পাবেন যে একটি নির্দিষ্ট তারিখ বিদ্যমান-তাই মেয়াদোত্তীর্ণ কনডম কখনোই ব্যবহার করবেন না। কনডমকে কখনোই গরম বা বেশি তাপমাত্রাযুক্ত স্থানে রাখবেন না। বরং আর্দ্র ও শুষক স্থানে রাখুন কেননা উষ্ণতা খুব বেশি হলে তা ল্যাটেক্সকে নষ্ট করে দিতে পারে। যেসব কনডম পুরাতন বা প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে সেগুলোকে অবশ্যই ফেলে দেবেন। আরেকটা ব্যাপার হলো কনডম ঠিক আছে কিনা সেটা চেক করার জন্য কখনোই এটিকে ফোলাবেন না, কেননা এতেও ল্যাটেক্স কিছুটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পুরুষের বীর্যস্খলন বা কাম রস বের হয়ে যাওয়ার পর এবং উত্থান ও শক্তভাব কমে যাওয়ার পর পেনিস বা পুরুষাঙ্গ যোনি থেকে বের করে ফেলা উচিত।

খেয়াল রাখবেন কনডম যেন স্লিপ না করে। কেউ কেউ আর্দ্রতা ও ফিলিংস বা যৌন আনন্দ বাড়াতে লুব্রিকেন্ট বা তৈলাক্ত পদার্থ ব্যবহার করে থাকেন। তবে পানিতে দ্রবণীয় লুব্রিকেন্ট যেমন এস্ট্রাগ্লাইড বা কে ওয়াই জেলি ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনি কোনো ড্রাগ স্টোর বা ফার্মেসি থেকে এগুলোকে ক্রয় করতে পারেন। তবে কখনোই ভ্যাসলিন বা বেবিওয়েল বা অন্য কোনো লোশন বা তৈল ব্যবহার করবেন না। কেননা এগুলো ল্যাটেক্সকে ভঙ্গুর করে তুলতে পারে।

ক্ল্যামাইডিয়া
যৌনবাহিত ইনফেকশন বা সংক্রামক রোগসমূহের মাঝে ক্ল্যামাইডিয়া অতি পরিচিত এসটিআই যা সাধারণত ২৫ বছরের কম বয়স্কদের মাঝে খুব বেশি হয়ে থাকে। এটা ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে বা সংক্রমণে হয়ে থাকে এবং সংক্রমিত বা আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে সেক্স বা সঙ্গম করার মাধ্যমে সহজেই বিস্তার লাভ করে। ক্ল্যামাইডিয়ার চিকিৎসা না করালে বিশেষত সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক না প্রয়োগ করলে স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেসব মহিলার ক্ল্যামাইডিয়া সংক্রমণ বিদ্যমান তাদের ভ্যাজাইনা বা যোনি থেকে এক বিশেষ প্রকারের রস ক্ষরিত হতে পারে, যোনিতে বা তার আশপাশের এলাকায় চুলকানি এবং জ্বালা-পোড়া থাকতে পারে। প্রস্রাব করার সময় একটা আলাদা রকম জ্বালা-পোড়ার অনুভূতি থাকতে পারে অথবা তলপেটে সামান্য ব্যথাও হতে পারে।

ক্ল্যামাইডিয়া আক্রান্ত পুরুষের পেনিস থেকে রস ক্ষরিত হতে পারে বা প্রস্রাব করার সময় জ্বালা জ্বালা ভাব থাকতে পারে। তবে অনেক নারী-পুরুষেরই তেমন কোনো উপসর্গ বা লক্ষণ নাও থাকতে পারে এবং তারা ইনফেকশন বা এসটিআই খুব সহজে বিস্তার লাভ করতে পারে। তারা যদি চিকিৎসা না নেয় তবে তাদের প্রজনন অঙ্গের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

যেসব নারীদের ক্ল্যামাইডিয়া সংক্রমণের চিকিৎসা করা হয়নি তারা গর্ভধারণজনিত একটা মারাত্মক সমস্যায় পড়তে পারেন। গর্ভধারণের একটি স্বাভাবিক স্থান নারীদের প্রজনন অঙ্গে রয়েছে যেখানে নিষিক্ত ডিম্বাণু স্থান নেয়। যাদের ক্ল্যামাইডিয়া বিদ্যমান তাদের নিষিক্ত ডিম্বাণু অন্যত্র স্থান নিয়ে বিকাশ লাভ করতে পারে। যেমন টিউবাল প্রেগন্যান্সি বা ফেলোপিয়ান টিউবে গর্ভধারণ ক্ল্যামাইডিয়ার সংক্রমণজনিত কারণে শ্রোণীর প্রদাহজনিত রোগ বা পিআইডির নানা সমস্যা হতে পারে। শ্রোণীর প্রদাহজনিত স্বাস্থ্য সমস্যাসমূহ এতটাই মারাত্মক হতে পারে যে, পরবর্তীতে গর্ভধারণকে অসম্ভব করে তুলতে পারে। পিআইডি বা শ্রোণী চক্রের প্রদাহজনিত রোগে জ্বর থাকতে পারে বা যোনি থেকে বিশেষ রস ক্ষরিত হতে পারে বা মারাত্মক পেটব্যথা হতে পারে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে ক্ল্যামাইডিয়া সংক্রমণটি টেস্টিস বা শুক্রাশয়, অন্ডথলি ইত্যাদিকে আক্রান্ত করতে পারে এবং সন্তানদানে অক্ষম বা বন্ধ্যাত্বের সৃষ্টি করতে পারে। আপনার যদি ক্ল্যামাইডিয়া রোগটি নিশ্চিত হয়ে থাকে তবে অবশ্যই আপনার চিকিৎসার সাথে সাথে যৌনসঙ্গী বা সঙ্গীগণের চিকিৎসা অবিলম্বে করতে হবে। এটাই হচ্ছে ক্ল্যামাইডিয়া থেকে নিজেকে বা অন্যকে মুক্ত রাখার অন্যতম উপায়।

ক্ল্যামাইডিয়ার চিকিৎসা করানো হয় অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে যেমন-টেট্রাসাইক্লিন দেয়া যেতে পারে। সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হোন যে, এই অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধের পুরো কোর্স আপনি খেয়েছেন এবং সব নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে মেনে চলেছেন। এরপর আপনি একটা ফলোআপ করান এবং দেখুন চিকিৎসায় আপনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন কি-না।

ক্ল্যামাইডিয়া সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার কতক উপায় রয়েছে। আপনি যদি যৌনসঙ্গম না করেন বা একজন মাত্র সেক্স পার্টনার বা যৌনসঙ্গীর সাথে সঙ্গম করেন বা যৌনভাবে মিলিত হন এবং তার যদি ক্ল্যামাইডিয়া সংক্রমণ না থাকে ও আপনি যদি তার একমাত্র যৌনসঙ্গী হয়ে থাকেন তবে আপনার ক্ল্যামাইডিয়া সংক্রমণের কোনো সম্ভাবনা নেই। তারপরেও আপনার যদি একাধিক সেক্স পার্টনার বা যৌনসঙ্গী থাকে বা আপনি যদি নতুন কোনো সম্পর্ক স্থাপন করেন তবে আপনার উচিত নিজেকে রক্ষা করা। কখনোই কোনো ঘা বা ক্ষত, র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি অথবা দেহরসকে সপর্শ করবেন না।

প্রতিরোধ করার বা নিরাপদ থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিবার সঙ্গম বা মিলনে ল্যাটেক্স কনডম ব্যবহার করা এবং সাথে কোনো প্রতিবন্ধক ব্যবস্থা বা ব্যারিয়ার মেথড যেমন ডায়াফ্রাম, সার্ভাইক্যাল ক্যাপ বা সপঞ্জ ব্যবহার করা। কন্ট্রাসেপটিভ বা জন্মনিয়ন্ত্রক ফোম, ক্রিম বা জেলি অতিরিক্ত সহায়তা বা নিরাপত্তা প্রদান করে। যারা যৌনমিলনে সক্ষম বা অনিয়মিত যৌনসঙ্গম করেন তাদের যৌনবাহিত কোনো রোগ বা সংক্রমণ আছে কি-না তা জানার জন্য বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা করে দেখতে হবে। বিশেষত যাদের একের অধিক সেক্স পার্টনার বা যৌনসঙ্গী বিদ্যমান অথবা যারা প্রায়ই তাদের যৌনসঙ্গী বদলাতে থাকে।

সবসময় মনে রাখবেন যে, ক্ল্যামাইডিয়া সংক্রমণে লক্ষণ ও উপসর্গ যে থাকবেই তা কিন্তু ঠিক নয়, তাই রক্তের বা প্রস্রাবের পরীক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ও সেক্স পার্টনার বা যৌনসঙ্গীর চিকিৎসা করা জরুরি। ডাক্তার প্রয়োজনে আপনার নাম গোপন করেও চিকিৎসা দিতে পারেন।

গনোরিয়া
গনোরিয়া নামক এসটিআই বা যৌনবাহিত রোগটি ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে সংক্রমিত হয়। যৌন আচরণ করার সময় বা সেক্স করার সময় এটা সহজেই একজন থেকে আরেকজনে বিস্তার লাভ করতে পারে। তবে চুম্বন, হাত ধরা বা টয়লেট সিট থেকে গনোরিয়া      বিস্তার লাভ করে না। কিন্তু যোনি বা পায়ুপথে মিলন বা সঙ্গম বা ওরাল সেক্স বা মুখমেহন ইত্যাদির মাধ্যমে গনোরিয়া বিস্তার লাভ করতে পারে। এটা পেনিস বা পুরুষাঙ্গ, সার্ভিক্স বা জরায়ুর ছিদ্র, রেকটাম বা মলাশয় বা পায়ু, গলা ও চোখকে আক্রান্ত করতে পারে।

গনোরিয়া কখনোই আপনা আপনি সারে না বা ভালো হয়ে যায় না। গনোরিয়ার চিকিৎসা যদি না করা হয় তবে মারাত্মক স্বাস্থ্যসম্পর্কীয় ঝুঁকি বিদ্যমান। এটা নারীদের ক্ষেত্রে ইউটেরাস বা জরায়ু, ফেলোপিয়ান নালিকা বা ইউটেরাইন টিউবে ইনফেকশন বা সংক্রমণ করতে পারে। এই ইনফেকশনজনিত কারণে বন্ধ্যা হয়ে যাওয়া মোটেও অস্বাভাবিক না যাতে কিনা গর্ভধারণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। গর্ভবতী মহিলা যারা গনোরিয়ায় আক্রান্ত তাদের প্রসবজনিত সন্তানও সংক্রমিত হয়ে পড়তে পারে এই ইনফেকশনের কারণে। সন্তান অন্ধ পর্যন্ত হয়ে পড়তে পারে।

দুর্ভাগ্যক্রমে আপনারও গনোরিয়া নামক এসটিআই রোগটি হতে পারে আপনার অজান্তেই। আপনার কোনো উপসর্গ ও লক্ষণ নাও থাকতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে লক্ষণ ও উপসর্গ অসপষ্ট থাকে। উপসর্গসমূহ সাধারণত গনোরিয়াতে আক্রান্ত হওয়ার এক থেকে দুই সপ্তাহের মাঝে প্রকাশ পায়।

পুরুষের ক্ষেত্রে পেনিস থেকে হলুদাভ ক্ষরণ বা রস ক্ষরিত হতে পারে বা প্রস্রাব করার সময় ব্যথা হতে পারে। নারীরা তাদের পিরিয়ডের অন্তর্বর্তীকালীন সময় যোনি থেকে এক অস্বাভাবিক ক্ষরণ খেয়াল করতে পারেন। এই রস বা ক্ষরণসমূহ নানা রঙ বা গন্ধের হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক যে ক্ষরণ তার চেয়ে ভিন্ন প্রকৃতির হয়। গনোরিয়ায় আক্রান্ত নারীরা তলপেটে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। তবে অনেকের ক্ষেত্রে তেমন কোনো উপসর্গই থাকে না।

আপনি গনোরিয়ায় আক্রান্ত কি-না তা জানার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা। জনস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই টেস্টটি খুব সাধারণ ও একেবারেই ব্যথাহীন। ডাক্তার বা নার্স পেনিস বা যোনি দিয়ে ক্ষরিত রসের নমুনা সংগ্রহ করবেন। তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে এটা একটা অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা। গনোরিয়া সংক্রমণের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। তবে একটা কোর্সের জন্য নির্ধারিত সবগুলো ওষুধই সেবন করা উচিত এবং ডাক্তারের দেয়া সব নিয়ম-কানুন অবশ্যই মেনে চলা উচিত। ওষুধ সেবন শেষ করে আবারো পরীক্ষা করে দেখতে হবে আপনি গনোরিয়া থেকে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করেছেন কি-না।

আপনি গনোরিয়াতে আক্রান্ত হয়ে থাকলে সাম্প্রতিককালে আপনার যত সেক্স পার্টনার বা যৌনসঙ্গী আছে তাদের চিকিৎসাও অবশ্যই করাতে হবে। তাদেরকে চিকিৎসা না করালে এবং তাদের গনোরিয়া থাকলে তা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে বা আপনাকে আবার সংক্রমিত করতে পারে। একবার মাত্র যৌনমিলন বা সঙ্গম করেই আপনি গনোরিয়াতে আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন। আপনি আপনার সেক্স পার্টনার বা যৌনসঙ্গীকে নিজেই জানান বা পাবলিক হেল্‌থ কেয়ার ইউনিটকে জানান যারা কিনা আপনার নামের উল্লেখ না করেও আপনাকে সহায়তা করতে পারেন।

গনোরিয়া এড়ানো বা প্রতিরোধের কার্যকরী কয়েকটা পন্থা বিদ্যমান। আপনি যদি একজনের সঙ্গেই সেক্স করেন এবং তার যদি অন্য কোনো পার্টনার বা যৌনসঙ্গী না থাকে এবং গনোরিয়াতে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে আপনি গনোরিয়াতে আক্রান্ত হবেন না। আপনার যদি একের অধিক সেক্স পার্টনার থাকে বা সম্প্রতি নতুন কোনো পার্টনারের সাথে সেক্স করা শুরু করেন, তবে অবশ্যই কনডম ব্যবহার করবেন। কনডম নিঃসন্দেহে গনোরিয়া বিস্তার রোধ করবে। কোনো কোনো প্রফেশনালরা অবশ্য বলেন যে, কন্ট্রাসেপটিভ বা জন্মনিয়ন্ত্রক ফোম, ক্রিম বা জেলি এসব ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রদান করে। এখন থেকে সতর্ক হোন ও সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার করতে শিখুন। অন্তত নিজেকে নিরাপদে রাখুন। আপনার যদি সন্দেহ হয় আপনার বা যৌনসঙ্গীর গনোরিয়া থাকতে পারে তাহলে তৎক্ষণাৎ ল্যাব পরীক্ষা করে নিশ্চিত হোন এবং উপযুক্ত চিকিৎসা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিন।

যৌনাঙ্গে টিউমার ও এইচপিভি
যৌনাঙ্গে টিউমার সাধারণত যৌনসঙ্গমের সময় হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভির সাহায্যে সংক্রমিত হয় এবং বিস্তার লাভ করে।

ভাইরাসটির সংসপর্শে আসার ২-৩ মাসের মাঝে টিউমারটি ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করে। তবে এগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে এতটাই ক্ষুদ্র হতে পারে যে, খালি চোখে সপষ্টভাবে দেখা যায় না বা এগুলো দেহের অভ্যন্তর ভাগেও হতে পারে যা কি-না বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় থাকে না। এই ওয়ার্টসমূহ লিঙ্গ বা পেনিসে, যোনিতে, সার্ভিক্সে বা জরায়ুর ছিদ্রপথে, মুখ বা মলাশয় বা পায়ুতে হতে পারে। এগুলো দেখতেও সাধারণ ত্বকের টিউমারের মতোই। এগুলো নরম পিংক বা ছোট কদমফুলের মতো দেখাতে পারে অথবা শক্ত, হলুদাভ, ধূসর এবং মসৃণ হতে পারে। কারো একটা জেনিটাল ওয়ার্ট থাকতে পারে বা একটি নির্দিষ্ট জায়গাতে অনেকগুলো জেনিটাল ওয়ার্টস থাকতে পারে।

জেনিটাল ওয়ার্ট বা যৌনাঙ্গে টিউমারের চিকিৎসা না করলে খুব তাড়াতাড়ি এরা বংশ বৃদ্ধি করে। দেহের বহিরাংশে হলে রঞ্জক জাতীয় একটা বিশেষ ওষুধের সাহায্যে এর চিকিৎসা করা হয় অথবা দেহের অভ্যন্তর অংশে হলে কোনো ডাক্তার দিয়ে অপসারণ করতে হতে পারে।

সেক্স পার্টনার বা যৌনসঙ্গীদের জেনিটাল ওয়ার্ট আছে কি-না তাও নিশ্চিত হতে হবে। গর্ভাবস্থায় নারীর জেনিটাল ওয়ার্ট থাকলে তা সন্তানে পরিবাহিত হতে পারে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক বা সরাসরি আরোগ্য লাভের জন্য কিছুই নেই। কেউ এই ভাইরাসে সংক্রমিত হলে সারা জীবন একে বহন করতে হবে এবং এটা ভাইরাস সংক্রমণ বিস্তার লাভ করার একটা মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। যদিও বাহ্যত দেখা যায় না যে, কোনো জেনিটাল ওয়ার্ট উপস্থিত। কিছু কিছু এ ধরনের ভাইরাস আছে যেগুলো কি-না সার্ভিক্সের ক্যান্সারের সাথে জড়িত। যেসব নারীরা যৌনমিলন বা সঙ্গম করেন তাদের প্রতিবছর একবার হলেও প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষা করে দেখা উচিত। প্রতিবার যৌনসঙ্গমের সময় একটা ল্যাটেক্স কনডম ব্যবহার করে আপনি নিরাপদে থাকতে পারেন এবং একই সঙ্গে এর বিস্তার রোধ করতে পারেন। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, এটা যেসব এলাকা বা দেহের যে অংশকে আবৃত তা ব্যতীত অন্য অংশকে রক্ষা করতে পারে না। কিছু প্রফেশনাল অবশ্য বলেন যে, কন্ট্রাসেপটিভ ফোম, জেলি বা ক্রিম বাড়তি সতর্কতা বা নিরাপত্তা প্রদান করে।

হার্পস
হার্পস একটি অতি আলোচিত ও সাধারণ ভাইরাস যা কি-না সাধারণ ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে যোনি বা পায়ুপথে মিলন বা সঙ্গমের সময় অথবা ওরাল সেক্সের সময় বিস্তার লাভ করে ও সংক্রমণ শুরু করে। এই ভাইরাসে সাধারণত মুখের চারপাশে একটু ক্ষত বা ঘা-এর সৃষ্টি করতে পারে।

জেনিটাল বা যৌনাঙ্গের হার্পস খুব ব্যথা সৃষ্টি করে যেগুলো মূলত সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে মিলনের ২৫০-৩৬০ দিনের ভেতরে হয়। এগুলো সাধারণত ভাইরাস যেখানে অনুপ্রবেশ করে সেখানেই তৈরি হয়। তবে পেনিস, টেস্টিকল, শুক্রাশয়, উরু, পুচ্ছদেশ, যোনি ছিদ্রে বা যোনির ভেতরে অথবা এনাস বা পায়ুতে হতে পারে। অন্যান্য উপসর্গসমূহ হচ্ছে জ্বর, মাথাব্যথা, গ্রন্থি ফোলা, প্রস্রাব করতে সমস্যা বা কষ্ট হওয়া ইত্যাদি। নারীরা সাধারণত তলপেটে ব্যথা অনুভব করে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চুলকানি থাকে বা বেশি সুড়সুড়ি বিদ্যমান থাকে এবং ফুলে লাল হয়ে ওঠে ও পরবর্তীতে ফেটে যায়। ফলশ্রুতিতে ব্যথাযুক্ত ক্ষত বা ঘা সৃষ্টি হয় যা শুকাতে কয়েক সপ্তাহ সময়ের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়।

ক্ষত বা ঘা শুকানোর পরেও হার্পসের জীবাণু বা ভাইরাস উপস্থিত থাকতে পারে এবং পরবর্তীতে আবার নতুন করে একই রকম সংক্রমণের সম্ভাবনাও যথেষ্ট। তবে দ্বিতীয়বার সংক্রমণের ক্ষেত্রে মাত্রা বা তীব্রতা থাকে অল্প বা হাল্কা ধরনের এবং বেশিদিন সাধারণত স্থায়ী হয় না। অসুস্থতা, মনো-শারীরিক চাপ বা অন্য কিছু কারণে নতুন করে সংক্রমণের শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে একেবারে সবার ক্ষেত্রেই জেনিটাল হার্পস যে পুনঃসংক্রমিত হয় এমন ধারণাও সঠিক নয়। হার্পস সংক্রমণ খুব বেশি মাত্রায় ছোঁয়াচে বিশেষত যখন সপষ্টতর হয়ে ওঠে। এগুলোকে হাত দিয়ে একবার সপর্শ করে সেই হাত শরীরের অন্যত্র সপর্শ করবেন না, এটা নিজ বা সঙ্গিনী উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। আপনি যদি সংক্রমিত অংশকে সপর্শ করেই ফেলেন তবে সাবান-পানি দিয়ে অবিলম্বে হাত পরিষকার করুন।

এই ভাইরাসটির সংক্রমণ এতই ছোঁয়াচে যে, ল্যাটেক্স কনডম ব্যবহার করার পরেও যৌন সঙ্গমের সময় একজন পার্টনার থেকে অন্য যৌনসঙ্গীতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। হার্পস সংক্রমণের একমাত্র উপায় হচ্ছে সংক্রমিত বা ইনফেকশনকৃত জায়গায় শারীরিক সপর্শ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা। যৌনসঙ্গী বা সেক্স পার্টনারের সাথে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বা বিস্তার নিয়ে একেবারে খোলামেলা আলাপ-আলোচনা করুন। এই হার্পসের বিস্তার রোধে আপনি ও আপনার যৌনসঙ্গী এভাবে সহায়তা করতে পারেন। আপনি যদি গর্ভধারণ করে থাকেন, তবে ডাক্তারের সাথে হার্পস সংক্রমণের ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করুন। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় হার্পস যা থেকে শিশুতে বিস্তার লাভ করতে পারে। কাজেই এটিকে একটা গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল বা ক্লিনিক্যাল সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

যদিও হার্পস ভাইরাস দ্বারা সংক্রমণের তেমন সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই তথাপি ব্যথা ও অস্বস্তি দূর করার কতিপয় পন্থা আছে। কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল এবং গরম বা হাল্কা ঠান্ডা কিছু দিয়ে চাপ দিয়ে সামান্য উপশম পাবেন। ক্ষত তাড়াতাড়ি শুকানোর জন্য কতক ওষুধ বাজারে প্রচলিত। আপনি যদি মনে করেন যে, আপনার হার্পস সংক্রমণ জেনিটাল বা যৌনাঙ্গে তবে কতক নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করুন।

  • শরীরের সংক্রমিত স্থানটিকে পরিষকার ও শুষক রাখুন।
  • কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন।
  • ক্ষত বা আশপাশের স্থান টাওয়েল দিয়ে না শুকিয়ে বরং হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করুন।
  • গায়ের সাথে শুক্তভাবে আটকে থাকে বা সিনথেটিক কাপড়ের তৈরি কোনো আন্ডারওয়্যার বা অন্তর্বাস পরিধান করবেন না।
  • যদি প্রস্রাব করতে সমস্যা হয়, তবে পরিমিত পানি পান করুন।

সিফিলিস
সিফিলিস নামক এসটিআই বা যৌনবাহিত রোগটি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের সাহায্যে হয়। এই ব্যাকটেরিয়াটি যৌনসঙ্গম, পায়ুসঙ্গম বা ওরাল সেক্সের সময় একজন থেকে আরেকজনে সহজেই বিস্তৃতি লাভ করে। সিফিলিস সাধারণত ছড়ায় ব্যক্তির ক্ষত বা ঘা র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি স্যালাইভা বা লালা, বীর্য বা যোনি থেকে নিঃসৃত রক্ত বা তরল পদার্থ থেকে।

সংসপর্শে যাওয়ার ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের ভেতর সিফিলিসের লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ পরিষকারভাবে বোঝা যায়। সাধারণত জেনিটাল বা যৌনাঙ্গ শক্ত ও গোলাকার ক্ষত সৃষ্টি হয় যা কি-না ব্যাকটেরিয়া শরীরে অন্তঃপ্রবেশের রাস্তা হয়ে দাঁড়ায়। এটা পুরুষের ক্ষেত্রে সাধারণত পেনিসের উপরিভাগে হয় এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে যোনির ভেতরে বা বাইরের দিকে হয়। তাই এটা যোনির ভেতরের দিকের গাত্রে হলে অনেক নারীই তা বুঝতে পারে না। এছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশে ঘা বা ক্ষত সাধারণত ব্যথাযুক্ত হয় তবে এগুলো সবসময়ই সিফিলিসের লক্ষণ বা উপসর্গ নয়।

কয়েক সপ্তাহের মাঝে ক্ষত বা ঘা শুকিয়ে যেতে পারে। তবে সিফিলিস ব্যাকটেরিয়া ২-৫ মাসের ভেতর শরীরের অন্যান্য অংশে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেকে বেশি ক্লান্ত, অবসন্ন, জ্বরজ্বরবোধ বা ক্ষুধা ও রুচি কমে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যায় ভুগতে পারে। এতে শরীরের ত্বকে র‌্যাশ দেখা দিতে পারে বা চুল হঠাৎ কিছু পড়া শুরু করতে পারে। কয়েক সপ্তাহ পরে এসব উপসর্গ অনুপস্থিত থাকে। সিফিলিসে আক্রান্ত রোগীর কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে, তথাপি শরীরের নানা অংশকে এটা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সিফিলিস হার্ট ও মস্তিষক বা ব্রেনের স্থায়ী মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, এমনকি এ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সিফিলিস নামক এসটিআইটি গর্ভবতী মা থেকে ভ্রূণে পরিবাহিত হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চার জন্মগত ত্রুটির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আপনার ফ্যামিলি ডাক্তার বা পাবলিক হেল্‌থ ক্লিনিক রক্তের একটি সাধারণ পরীক্ষার সাহায্যে নির্ভরযোগ্যভাবে এই সিফিলিস রোগটি নিশ্চিত করতে পারেন। এটি রক্ত পরীক্ষার সাহায্যে করতে কয়েক মিনিট সময়ের প্রয়োজন। আপনি যদি মনে করেন যে, আপনি সিফিলিসের সংসপর্শে ছিলেন অথচ আপনার রক্ত পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক ছিল, তবে পরবর্তী ছয় সপ্তাহের মাঝে আপনি রক্ত পুনঃপরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। প্রত্যেক গর্ভবতী নারীর সিফিলিসের পরীক্ষাটি করা উচিত। আপনার যদি সিফিলিস রোগটি নিশ্চিত হয়েই থাকে, তবে অ্যান্টিবায়োটিক যেমন- পেনিসিলিন দিয়ে চিকিৎসা করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে যে, সিফিলিস রোগটির চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় পুরো কোর্স অবশ্যই শেষ করা উচিত। ওষুধের পুরো কোর্স সেবন করে আবারো রক্ত পরীক্ষা করে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে হবে যে, আপনি সিফিলিস থেকে মুক্ত।

আপনার যত সেক্সপার্টনার বা যৌনসঙ্গী বিদ্যমান, তাদের রক্ত পরীক্ষা করতে হবে এবং একই সাথে উপযুক্ত চিকিৎসা নিতে হবে। এটাই হচ্ছে সিফিলিস থেকে নিজে বা অন্যকে মুক্ত রাখার উপায়। এতে করে এই যৌনবাহিত রোগটি বিস্তার লাভ করতে পারবে না। পাবলিক হেল্‌থ ইউনিট সিফিলিস চিকিৎসা করে থাকে এবং নাম উল্লেখ ব্যতিরেকেই সেক্স পার্টনার বা যৌনসঙ্গীদের চিকিৎসা করে থাকে। সিফিলিস চিকিৎসা চলাকালীন সময় বা সম্পূর্ণ আরোগ্য না হয়ে কারো সঙ্গে সেক্স করবেন না। সিফিলিস প্রতিরোধের খুব ভালো উপায় বিদ্যমান। আপনার যদি একজনমাত্র সেক্স পার্টনার থাকে ও আপনি সিফিলিসমুক্ত থাকেন এবং আপনি নিশ্চিত যে পার্টনারের এসটিডি নেই বা অন্য কোনো যৌনসঙ্গী নেই, তবে তার সাথে যৌন আচরণে আপনার সিফিলিস হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই।

তবে আপনার যদি একাধিক যৌনসঙ্গী থাকে বা আপনি যদি নতুন কোনো সেক্স পার্টনার ইতিমধ্যে নির্বাচন করে থাকেন, তবে ব্যাকটেরিয়ার বিস্তৃতি রোধকল্পে অবশ্যই ল্যাটেক্স কনডম ব্যবহার করা উচিত। কতক প্রফেশনাল দাবি করেন যে, কন্ট্রাসেপটিভ ফোম বা জন্মনিয়ন্ত্রণ ফোম, জেলি বা ক্রিম বাড়তি নিরাপত্তা প্রদান করে। আপনার পার্টনারের যদি ঘা বা ক্ষত থেকে থাকে বা ইনফেকশন বা সংক্রমণের লক্ষণ বা উপসর্গ থাকে বা সিফিলিস হয়েই থাকে তবে ডাক্তার যে পর্যন্ত না বলবে যে পার্টনার সম্পূর্ণ যৌনবাহিত রোগমুক্ত, ততোদিন সেক্স করা একেবারেই অনুচিত ও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। যৌনবাহিত রোগগুলোর মাঝে সিফিলিস খুব বেশি অপরিচিত না হলেও এটি বেশ মারাত্মক ধরনের প্রতিক্রিয়াযুক্ত। কাজেই এ সম্পর্কে সচেতন থাকুন।

এইডস এবং হিভ
এইডস দিয়ে বোঝায় একোয়ার্ড ইমিউন ডিফিসিয়েন্সি সিনড্রোম এবং হিভ দিয়ে বোঝায় হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস।

এইডস আক্রান্ত রোগীর এইডসের নানা উপসর্গ বা জটিলতা থাকে বিশেষত ২১ ধরনের নানা অসুস্থতা বিদ্যমান থাকে। তারা যে ভাইরাস কর্তৃক সংক্রমিত হয়ে থাকে তাকে বলে হিভ আর যাদের হিভ রয়েছে তাদেরকে বলে হিব পজিটিভ। হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাসটি সাধারণত রক্ত, সিমেন বা বীর্য, যোনিরস বা শরীরের অন্যান্য তরল দিয়ে পরিবাহিত হতে পারে। এই ভাইরাসটি শরীরের যে কোনো ছোট কাটা অংশ বা ছিদ্র দিয়ে ঢুকে যেতে পারে। তারপর ভাইরাসটি সারা শরীরে বিস্তার লাভ করে ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত করে, এর অর্থ এই যে, আপনার শরীর সাধারণত অসুস্থতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে আরোগ্য লাভের মতো কিছু এখনো বের হয়নি।

যারা হিউম্যান ইমিউনো ভাইরাসে আক্রান্ত তাদের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ থাকে না, কোনো কোনো রোগী এই ভাইরাসকে সুপ্ত অবস্থায় নিয়ে অনেক বছর কাটিয়ে দেয়। যদিও তাদের ভাইরাসটির সংক্রমণ বিদ্যমান, তথাপি তারা স্বাস্থ্যবান থাকে। কিছুদিন পর যারা হিভ পজিটিভ তাদের ক্যান্সার বা নিউমোনিয়ার মতো সংক্রামক জটিলতা থাকে। এসব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হওয়া কোনো অস্বাভাবিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ভাইরাস সংক্রমিত যেসব রোগী স্বাস্থ্যবান যৌনক্রিয়ার সময় তাদের মাধ্যমে এই ভাইরাস বিস্তার লাভ করতে পারে।

এইডসের এই ভাইরাসটি বিস্তৃতি লাভ করার কয়েকটি পথ রয়েছে এবং আপনি কীভাবে বিস্তৃতি রোধ করবেন তারও অনেকগুলো উপায় বিদ্যমান। এইডস আক্রান্ত রোগীর সাথে দৈনন্দিন সামাজিক মেলামেশায় বা কর্মকান্ডে এই ভাইরাস বিস্তার লাভ করে না। যার এইডস রয়েছে তাকে টাচ বা সপর্শ করলেই যে আপনার মাঝে এই ভাইরাস এসে পড়বে এমনটি আসলে অমূলক ধারণা। আক্রান্ত রোগীর সেবা করলেও এই ভাইরাসটি নিজের মাঝে ঢুকে পড়বে এমনটিও ভুল ধারণা। প্রতিবার রক্তদানের সময় নতুন সুচ ব্যবহার করলে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয় না। তবে এসব রোগীর চিকিৎসার সময় ডাক্তারের অবশ্যই গ্লাভস ব্যব্যবহার করা উচিত।

কিছু কিছু যৌনক্রিয়া বা আচরণ রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে এইডস সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। এর মাঝে প্রথমটি হচ্ছে কোনো ল্যাটেক্স কনডম ব্যবহার ব্যতিরেকে যৌনসঙ্গম বা পায়ুসঙ্গম করা। এর পরে হচ্ছে একই নিডল বা সুচ বা সিরিঞ্জ অনেকজন ব্যবহার করা। তবে ওরাল সেক্স-গভীর চুম্বনের সময় বিশেষত মুখে বা মাড়িতে ক্ষত থাকলেও এটি সংক্রমিত হতে পারে। যে কোনো সেক্স পার্টনার বা যৌনসঙ্গীর সাথে মিলনে ল্যাটেক্স কনডম ব্যবহার করুন। কোনো কোনো প্রফেশনাল অবশ্য বলেন, কন্ট্রাসেপটিভ বা জন্মনিয়ন্ত্রণ ফোম, জেলি বা ক্রিম ইত্যাদি বাড়তি নিরাপত্তা প্রদান করে। অন্যের ব্যবহৃত সুচ বা সিরিঞ্জ ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে পরিহার করুন। অন্য কারো রেজার বা ব্যবহৃত ব্লেড কখনোই ব্যবহার করা উচিত নয়।

যৌনাঙ্গে উকুন ও খোস-পাঁচড়া
যৌনাঙ্গের উকুন সাধারণত যোনিকেশে অবস্থান করে বা বিরলক্ষেত্রে বগলের নিচের লোমে উকুন বা চোখের ভ্রূতে উকুন অবস্থান করতে পারে। এগুলো শারীরিক সংসপর্শের সাহায্যে একজন থেকে আরেকজনে পরিবাহিত হতে পারে। কিন্তু অন্যের শোয়ার বিছানা বা কাপড় থেকেও আরেকজনের হতে পারে। উকুনজনিত উপসর্গের মাঝে প্রধানটি হচ্ছে চুলকানি যা উকুনের কামড়ানোর সাহায্যে বাড়তে থাকে এমনকি এরা রক্ত পর্যন্ত চুষতে পারে। আপনি হয়ত অন্তর্বাসে ছোট কালো দাগ বা রক্তের ফোঁটার দাগ দেখতে পেতে পারেন। যদিও উকুনসমূহ ক্ষুদ্র, তথাপি এদেরকে দেখতে অনুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন পড়ে না। চুলের গোড়ায় আপনি হয়ত উকুনের ডিম দেখতে পারেন।

এসব উকুনজনিত সমস্যা এড়াতে প্রেসক্রিপশনবিহীন লোশন বা শ্যাম্পু, ডাক্তার, ক্লিনিক বা ড্রাগ স্টোর থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে। লোশন বা শ্যাম্পু ব্যবহারের নিয়মাবলীসমূহ যথাযথভাবে মেনে চলুন। আপনি আপনার যৌনসঙ্গী বা যার সাথে রাত্রি যাপন করেন বা যার ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিস ব্যবহার করেন তারও চিকিৎসা প্রয়োজন। সম্পূর্ণভাবে সেরে না ওঠা পর্যন্ত উষ্ণ সংসপর্শসমূহ এড়িয়ে চলুন। রোগটিকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার জন্য এক সপ্তাহ পর ট্রিটমেন্ট পুণরায় করুন। ট্রিটমেন্ট শেষ হওয়ার পর সব কাপড়-চোপড়, টাওয়েল বা বিছানাপত্র গরম পানিতে ধুয়ে নিন। উকুনগুলো সাধারণত শরীর ত্যাগ করার ২৪ ঘণ্টার ভেতর মারা যায়। তবে উকুনের ডিমগুলো অনেকক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে।

স্কেবিস যাকে সহজ বাংলায় বলে খোস পাঁচড়া তা সাধারণ অনুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে পরিষকার দেখা যায়। এই খোস পাঁচড়ার জটিলতার বা অস্বস্তির একটা মূল উপসর্গ হচ্ছে প্রচন্ড চুলকানি। খোস পাঁচড়ার জীবাণু ডিম পাড়ার জন্য হাত, পা বা যৌন এলাকার চামড়ার নিচে চলে যায়। যে কোনো প্রকারের শারীরিক সংসপর্শের মাধ্যমে খোস পাঁচড়া একজন থেকে আরেকজনে পরিবাহিত হতে পারে। এমনকি পুরো পরিবারের সবাই এর শিকার হতে পারে। একটা বিশেষ লোশন পুরো শরীরে ব্যবহার করেই এ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

ট্রাইকোমোনিয়াসিস
ট্রাইকোমোনিয়াসিস নামক এসটিআইটি একটি প্রচলিত বা কমন জীবাণুঘটিত রোগ যা যৌনসঙ্গম বা যৌনমিলনের সময় একজন থেকে আরেকজনে পরিবাহিত হয় ও রোগটি বিস্তৃতি লাভ করে। এর জীবাণুটি প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভেজা কাপড় বা টাওয়েলে বেঁচে থাকতে পারে। তাই অন্যের ব্যবহৃত কাপড় বা ব্যক্তিগত দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিস ব্যবহারে এ রোগ হতে পারে।

ট্রাইকোমোনিয়াসিস সাধারণত মারাত্মক ধরনের হয় না। অনেক নারী বা পুরুষই ট্রাইকোমোনিয়াসির কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ নাও দেখতে পারেন। অনেক নারীর ক্ষেত্রে যোনি থেকে ফেনাময় ও বুদবুদযুক্ত হাল্কা হলুদ বা সবুজাভ সাদা বর্ণের তরল ক্ষরিত হতে পারে। তবে এ ধরনের ক্ষরিত রস বা তরল সঙ্গমের পরে বেশি মাত্রায় বের হতে পারে। যার কি-না বাজে দুর্গন্ধও থাকতে পারে। যোনির চারপাশে একটু চুলকানোর ভাব থাকতে পারে এবং প্রস্রাব করার সময় এক ধরনের জ্বালাপোড়ার উদ্রেক হতে পারে। ট্রাইকোমোনিয়াসিস রোগটি নিশ্চিতকরণের জন্য ডাক্তার আপনার সম্পূর্ণ পেলভিক এক্সামিনেশন বা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করবেন ও ক্ষরিত যে রস যোনি থেকে বের হয় তা ল্যাব পরীক্ষা করবেন।

পুরুষদের তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে তারা মহিলা যৌনসঙ্গীর সাথে সঙ্গম বা মিলনের সময় চুলকানি অনুভব করতে পারেন। আর যেহেতু যৌনবাহিত রোগ, তাই নারী-পুরুষ উভয়েরই চিকিৎসা দরকার। তাই নারীর রোগটি সনাক্তকরণের সময় অনেক সময় পুরুষদের রোগটিও বেরিয়ে আসে। মেট্রোনিডাজল বা ফ্ল্যাজিল জাতীয় ওষুধ সেবনে ট্রাইকোমোনিয়াসিস রোগটি সম্পূর্ণভাবে সেরে ওঠে। তবে এর কতক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিদ্যমান। যেমন রোগীর বমি বমি ভাব হয়, তবে খাবারের সাথে এটি সেবন করলে এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়ানো যায়। অ্যালকোহল বা মদ্যপান এই ওষুধটির সাথে বিক্রিয়া করে এবং রোগীকে অসুস্থ করে তোলে। তাই ডাক্তারদের পরামর্শ হচ্ছে এই ওষুধ সেবনের সময় তো বটেই-সেবন পরবর্তী ২ দিনের ভেতর অ্যালকোহল গ্রহণ একেবারেই অনুচিত। আপনি যদি গর্ভবতী হোন বা দুগ্ধদানরত থাকেন তবে ফ্ল্যাজিল সেবন করবেন না। আপনি যদি গত এক মাসের ভেতর স্যালডেন বা হিসম্যানাল সেবন করে থাকেন তবে ফ্ল্যাজিল গ্রহণ করবেন না।

ট্রাইকোমোনিয়াসিসে আরাম বোধ করার কতিপয় পন্থা

  • চুলকানি থেকে সাময়িক মুক্তির জন্য গোসল করে নিজেকে সিক্ত করে নিন।
  • ঠান্ডা কিছু দিয়ে যোনিতে বা আশপাশে আলতোভাবে চাপ দিন।
  • সুতি কাপড়ের অন্তর্বাস ব্যবহার করুন, যৌনাঙ্গকে শুষক রাখুন এতে করে তাড়াতাড়ি আরোগ্য লাভ করতে পারবেন।

ট্রাইকোমোনিয়াসিস যদিও কোনো মারাত্মক ইনফেকশন বা সংক্রমণ নয়, তথাপি এটা ব্যথাযুক্ত ও বিরক্তিকর বা অস্বস্তিকর হতে পারে। তবে এই ইনফেকশনের জন্য পরবর্তী গর্ভধারণের কোনো সমস্যা হয় না।

হেপাটাইটিস-বি
হেপাটাইটিস-বি যকৃত বা লিভারের একপ্রকার ভাইরাসজনিত মারাত্মক ইনফেকশন বা সংক্রমণ। এই ভাইরাসটি রক্ত, বীর্য, যোনি থেকে নিঃসৃত রস বা আক্রান্ত ব্যক্তির লালাতে অবস্থান করতে পারে। যৌন আচরণের সময় অথবা অন্যের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র যেমন টুথব্রাশ, রেজার বা সুচ ইত্যাদির মাধ্যমে ভাইরাসটি বিস্তৃতি লাভ করতে পারে। গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে ভ্রূণে হেপাটাইটিস ভাইরাসটি পরিবাহিত হতে পারে।

হেপাটাইটিসের মূল উপসর্গ বা লক্ষণসমূহ হচ্ছে অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ বা অবসন্নতা, বমনেচ্ছা, অরুচি বা ক্ষুধা কমে যাওয়া, পেট ব্যথা ও জন্ডিস ইত্যাদি। জন্ডিস বলতে শরীরের ত্বক, চোখের সাদা অংশ, প্রস্রাব-পায়খানা হলুদ হয়ে যাওয়াকে বোঝায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হেপাটাইটিসের তেমন কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে।

রক্ত পরীক্ষার সাহায্যে ডাক্তাররা হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ সম্পর্কে নিশ্চিত হন। এই ভাইরাসের সংক্রমণ এড়ানোর জন্য এক ধরনের টীকা রয়েছে। এই টীকাটি কয়েক মাসের ভেতর নিয়মানুযায়ী মোট তিনবার দিতে হয়। তবে কারো হেপাটাইটিস-বি কর্তৃক সংক্রমণ নিশ্চিত হলে যৌন আচরণে অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

একবার কারো হেপাটাইটিস হলে এটি সম্পূর্ণ আরোগ্য করানোর চিকিৎসা নেই। তবে এটি মোটামুটি সারতে সপ্তাহ বা মাস অবধি সময়ের প্রয়োজন। এর পরে এটি আর ছোঁয়াচে থাকে না। তবে কিছু কিছু রোগী ভাইরাসটির বাহক হয়ে দাঁড়ায় এবং ইনফেকশনটি বা সংক্রমণটি যাতে আর বিস্তৃতি লাভ করতে না পারে সেক্ষেত্রে এদের ভূমিকা রয়েছে।

গার্ডনেরেলা
এটা এক বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া যা যোনি ও পায়ুতে বিকাশ লাভ করে। সেক্স করার সময় এটা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে বা (নারীতে) পরিবাহিত হয়। নারীদের যৌনাঙ্গ বা পায়ুতে এই ব্যাকটেরিয়া বেশি হলে বেশ কিছু বিরক্তিকর বা অস্বস্তিকর উপসর্গের উদ্রেক করে। এদের মাঝে রয়েছে যোনি বা পায়ুতে চুলকানি বা জ্বালাভাব, অস্বস্তি এবং যোনির ক্ষরিত রসে মাছের আঁশটে গন্ধ পাওয়া ইত্যাদি। সেক্স করার পরে এই যোনি ক্ষরিত রস আরো বিরক্তিকর ও অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। কতক নারীর তেমন কোনো উপসর্গই থাকে না।

নারীদের যোনির সোয়াব পরীক্ষা করে ডাক্তার বা ফিজিশিয়ান গার্ডনেরেলা সংক্রমণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে এটা সাধারণত টেস্ট করা হয় না।

যদি ইনফেকশন বা সংক্রমণটি অস্বস্তিকর বা খুব বিরক্তিকর হয় তবেই চিকিৎসা প্রয়োজন। কোনো কোনো ফিজিশিয়ান খাবার বা দুধের সাথে একমাত্র ফ্ল্যাজিল ওষুধটি প্রেসক্রাইব করেন। তবে ওষুধটি সেবনের ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে বা পরে কোনোক্রমেই অ্যালকোহল সেবন করবেন না। কেননা এতে প্রচণ্ড বমনেচ্ছা ও বমি হয়ে যেতে পারে।

আপনি যদি গর্ভবতী হন বা বাচ্চাকে স্তন পান করান, তবে ফ্ল্যাজিল সেবন করবেন না। আপনি যদি গতমাসেও স্যালডেন বা হিসম্যানাল সেবন করে থাকেন তবে আপনার ফ্ল্যাজিল সেবন করা উচিত না। তবে কোনো কোনো নারী ৫-৭ রাতে লেকটোবিলাস যোনিতে দিয়ে ভালো ফল পান। এগুলো হেল্‌থ ফুড স্টোর থেকে সংগ্রহ করা যায় এবং ভালো রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করতে হয়। চিকিৎসার পুরো কোর্স শেষ হওয়ার পর আবার সেক্স করা শুরু করতে পারেন। তবে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ সম্পূর্ণভাবে এড়াতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ ল্যাটেক্স কনডম ব্যবহার করুন।

একজন নারীর অবশ্যই যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন ও সাবলীল ধারণা থাকা চাই। তাই টয়লেট ব্যবহারের পরে সামনে থেকে পশ্চাতের দিকে পরিষকারে অভ্যস্ত হন। ডুশের বা ডিওডরেন্ট প্যাড বা ট্যাম্পুন ব্যবহারে যোনির স্বাভাবিক অবস্থা পরিবর্তিত হতে পারে এবং ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।

শ্রোনীর বা পেলভিসের প্রদাহজনিত রোগ (পিআইডি)
শ্রোনীর প্রদাহজনিত রোগ বলতে আসলে জরায়ু বা ইউটেরাস, ফেলোপিয়ান টিউব বা ডিম্বানালী, ডিম্বাশয় বা ওভারি বা এদেরকে আবৃতকারী আবরণ বা পর্দার ফোলা ও ইনফেকশন বা সংক্রমণকে বোঝায়।

এসব সমস্যার চিকিৎসা না করালে কিন্তু পিআইডির দীর্ঘমেয়াদি কুফল শরীরের ওপর আস্তে আস্তে বাড়তেই থাকে। এটা সংক্রমিত স্থানে স্থায়ী ক্ষত, দাগ, চিহ্নের সৃষ্টি করতে পারে এবং তলপেটে মারাত্মক ব্যথার উদ্রেক করতে পারে। স্থায়ী ক্ষত ফেলোপিয়ান টিউব বা ডিম্বনালীকে বন্ধ করে দিতে পারে যা কি-না ডিম্বাশয় থেকে জরায়ুতে যায়। এক্ষেত্রে নারীর গর্ভধারণে খুব সমস্যা হতে পারে বা জরায়ুর পবিরর্তে ফেলোপিয়ান টিউব বা ডিম্বনালীতে ভ্রূণের বিকাশ হতে পারে। এমনকি এসব ক্ষেত্রে জরুরি অপারেশন বা শল্য চিকিৎসারও প্রয়োজন হতে পারে।

শ্রোনীর প্রদাহজনিত সমস্যায় যেসব নারীরা ভুগছেন তাদের প্রায় সবাই চিকিৎসা করে খুব ভালো ফল পান কিন্তু যারা চিকিৎসা করান না তারা অবশ্য নানা জটিলতায় ভোগেন।

পিআইডির সাথে যৌনবাহিত রোগ বা এসটিআই-এর নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। গনোরিয়া ও ক্ল্যামাইডিয়ার জীবাণু জরায়ুতে পরিবাহিত হতে পারে এবং জরায়ুর এই সংক্রমণ বা প্রদাহ পিআইডি সুচনা করে। যে কোনো ফ্যাক্টর যেগুলো কি-না জরায়ুতে জীবাণু পরিবহনে সহায়তা করে, সেগুলো শ্রোনীর প্রদাহজনিত রোগ সৃষ্টিতে অন্যতম ভূমিকা পালন করে। ডুশিংয়ের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া যোনি থেকে জরায়ুতে চলে যেতে পারে। সাধারণত সার্ভিক্সের মুখ খুলে বা জরায়ুতে কোনো মেডিকেল ইনস্ট্রুমেন্ট ঢুকালেও পিআইডি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। নতুন ধরনের আইইউডি বা ইন্ট্রাইউটেরাইন ডিভাইস পুরাতনগুলো থেকে অনেক বেশি নিরাপদ। তথাপি আইউইডির সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া জরায়ুতে চলে যেতে পারে। যেসব মহিলাদের অনেক সেক্স পার্টনার আছে তাদের পিআইডি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

পিআইডির জন্য সতর্কজনক সংকেত-

  • তলপেট বা পেছনের দিকে ব্যথা।
  • যৌনসঙ্গম বা মিলনের সময়ে ব্যথা।
  • বমি ভাব হওয়া বা প্রায়শ মাথা ঘুরানো।
  • জ্বর।
  • কোনো কারণ ব্যতিরেকেই ক্লান্ত বা অবসন্নবোধ হওয়া।
  • পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। পিরিয়ডের অন্তর্বতীকালীন সময়ে রক্তক্ষরণ বা সঙ্গমের পরে রক্তক্ষরণ।
  • যোনি থেকে রস ক্ষরণ পরিবর্তন বা যোনি থেকে অস্বাভাবিক রক্তের ক্ষরণ বা রস।
  • পেট খুব ভরা ভরা লাগা।

পিআইডি একটা মারাত্মক সমস্যা, তাই ল্যাটেক্স কনডম ব্যবহার করা ছাড়াও নিরাপদ যৌনতা বজায় রাখুন।

যোনিরস বা ক্ষরণ ও ইস্টা/মনিলিয়া ও ক্যানডিডা
যোনির সংক্রমণ বা ইনফেকশন খুব প্রচলিত একটা সমস্যা। যেসব নারীরা খুব পরিষকার বিশেষত যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কে, তারাও জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই ক্ষরণে ভোগেন। তাই নারীদেরকে বুঝতে হবে বর্তমানের যোনিক্ষরিত রসের সাথে আগের পার্থক্য কেমন-কোনটি স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক। তবেই যোনির ইনফেকশন বা সংক্রমণের সঠিক চিকিৎসা তাড়াতাড়ি সম্ভবপর।

মুখ গহ্বর স্যালাইভা যেমন ভেজানো অবস্থায় থাকে, ঠিক তেমনি যোনিও এক প্রকার তরল পদার্থ দিয়ে সামান্য ভেজা থাকে। এই তরল অত্যন্ত দরকারি। কেননা এটা জীবাণুকে দূর করতে পারে বা পুরাতন কোষকে সরিয়ে দেয়। এটি সাধারণত খুব পরিষকার বা সাদা ও খুব কম গন্ধসমন্বিত হয়। মাসিক শুরুর দুই সপ্তাহ আগে থেকে ক্ষরণের মাত্রা আরো একটু বাড়ে। এটাই স্বাভাবিক এবং এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, একজন নারী গর্ভবতী হতে পারবে।

যদি যোনি ক্ষরিত রস তরল, স্বাভাবিক না হয়, তবে এর চিকিৎসা প্রয়োজন। তাই চুলকানি বা জ্বালাপোড়া, তরলের সাথে রক্ত মিশ্রিত থাকা বা অস্বাভাবিক গন্ধ যা কি-না অস্বস্তিকর বা বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়ায় সেসব ক্ষেত্রে সংক্রমণ বা ইনফেকশন থাকতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যোনির ইনফেকশন যৌনবাহিত রোগ নয় বরং এটি ফাঙ্গাল বা ছত্রাক দ্বারা বেশি হয়। ইস্ট সাধারণত যোনিতে পাওয়া যায়। তবে কোনো কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সবচেয়ে প্রচলিত যোনি ইনফেকশন হলো ইস্ট বা মনিলিয়া বা ক্যানডিডা দ্বারা সংক্রমিত।

ডাক্তার বা ক্লিনিক্যাল যোনি নিঃসৃত তরল বা রস পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করতে পারেন। যদি ইনফেকশন হয়েই থাকে, তবে চিকিৎসার জন্য বলা হয় পিল খেতে, ক্রিম, সাপোজিটরিস বা বিশেষ ডুশ ব্যবহার করতে। তাই একই সঙ্গে অন্যান্য যৌনসঙ্গীকেও চিকিৎসা করাতে হবে। এতে করে ইনফেকশনের বিস্তার লাভ করতে পারবে না। নারীর এক্ষেত্রে উচিত সাময়িকভাবে সঙ্গম বন্ধ রাখতে ও যৌনসঙ্গীকে কনডম পরিধানে উদ্ধুদ্ধ করা।

যোনির ইনফেকশন এড়ানোর উপায়

  • যোনির বাইরের দিকের এলাকা পরিষকার ও শুষক করে রাখুন।
  • সুতির তৈরি অন্তর্বাস পরিধান করুন কোনোভাবেই সিনথেটিক কাপড়ের তৈরি অন্তর্বাস পরিধান করবেন না। কেননা এতে তাপ ও আর্দ্রতা আটকে পড়ে, যা কি-না ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিতে পারে।
  • গায়ের সাথে শক্তভাবে লেগে থাকে এমন পোশাক পরা পরিহার করে চলুন।
  • বাবল বাথ বা বাথওয়েল পরিহার করুন।
  • যোনিতে পারফিউম বা সুগন্ধি ও সেপ্র ব্যবহার বন্ধ করুন।
  •  প্রয়োজনমতো উন্নতমানের স্বাস্থ্যসমমত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করুন।
  • সঙ্গমের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ ফোম বা জেলি, বা পানিতে দ্রবণীয় জেলি ব্যবহার করুন।
  • চিনি ও ক্যাফেইন খাওয়া কমিয়ে দিন।
  • সুস্থ স্বাস্থ্যকে ধরে রাখুন, এটা ইনফেকশনকে প্রতিরোধ করবে।

সাধারণ যৌন সমস্যা ও
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
আমাদের দেশে পাঠ্য কারিকুলাম কিংবা অন্য কোনোভাবে যৌন বিজ্ঞান শেখার উপায় নেই। আমরা নিজেরা দাদা-দাদী, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীর কাছে যতটুকু পরামর্শ পাই সেটুকুই আমাদের জ্ঞান বলে ধরে নিই। এতে করে অনেক কুসংস্কার আমাদের মনে বাসা বাঁধে। অজ্ঞানতার কারণে নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হয়। আর এ ধারণা আরো ব্যাপক আকার ধারণ করে অশিক্ষাজনিত কারণে। দেশের জনগণের অনেকের ধারণা এটি একটি খারাপ কাজ, এ সম্পর্কে কথা না বলাই ভালো এমনকি দৈনিক পত্রিকাগুলোতেও যৌন বিষয়ক প্রবন্ধ ছাপাতে আপত্তি জানায়। যেনো ব্যাপারটি ঠেলে দেয়া হচ্ছে ‘তুমি নিজে জেনে নাও’ এভাবে। অবৈজ্ঞানিকভাবে লেখা কিছু পুস্তক আজ আমাদের জন্য সহায়ক হিসেবে প্রকাশ পাচ্ছে। পাঠকের জন্য যৌন বিজ্ঞান ভিত্তিক কোনো পুস্তক বর্তমানে বাজারে নেই।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় আমি জানি আমার কাছে যত রোগী যৌন সমস্যা নিয়ে আসেন, তাদের শতকরা ৯৫ ভাগের সমস্যা যৌন মানসিক। বিভিন্ন অশিক্ষা ধারণা সম্পর্কে নিজের অক্ষমতাকে বড় করে দেখা হয়। মাঝে মাঝে কিছু শারীরিক প্রতিক্রিয়া যা যেকোনো সময় হতে পারে, এটিকেও রোগ আকারে মনে করা হয়। অথচ সামান্য জ্ঞান বা ধারণা লাভ করলে আমাদের জীবন তথা দাম্পত্য জীবন অনেক সুখের হতে পারত বলে আমি মনে করি। তাই আমার দেখা কিছু সমস্যা ও সমাধান নিয়ে এখানে আলোচনা করা হল-

সমস্যা-১
পুরুষের ক্ষেত্রে: অকালে বীর্যস্খলন ও মেয়েদের ক্ষেত্রে মিলনের ভয়
বিভিন্ন মানসিক টেনশনজনিত কারণে, নতুন পরিস্থিতি ও নতুন সঙ্গীর অভিজ্ঞতার অভাব, অল্প বয়সে কুসংসপর্শে থাকা, নিষিদ্ধ জায়গায় গমন, ধর্ষিত হওয়া ইত্যাদি কারণে ছেলেদের ক্ষেত্রে অকালে বীর্য স্খলন ও মেয়েদের মিলনের ভয় দেখা দিতে পারে। এসমস্ত ক্ষেত্রে সাধারণত পূর্ণ যৌন উত্তেজনা ঘটে না।

পরামর্শ: অকালে স্খলন একটি সাধারণ সমস্যা। যথাযথ যৌন উত্তেজনা না হলে পুরোপুরি উত্থান সম্ভব হয় না। এজন্য দরকার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর দ্বারা যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করা। এতে আপনি যথাযথ উত্তেজিত হতে পারবেন। অকালে বীর্য স্খলন ঠেকানোর জন্য লিঙ্গ মুন্ডতে প্রেসার পদ্ধতি ও ব্যাকওয়ার্ড কাউন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেক সময় কাল্পনিকভাবে অঙ্ক করা যেতে পারে। মেয়েদের ক্ষেত্রে যে কারণে ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন। অত্যধিক দুশ্চিন্তা, টেনশন, মদ্যপান কিংবা পতিতালয়ে গমন ইত্যাদি পরিহার করুন। প্রেসার পদ্ধতি ও ব্যাকওয়ার্ড কাউন্ট পদ্ধতি জানার জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।

সমস্যা-২
চূড়ান্ত উত্তেজনা লাভে ব্যর্থতা
অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছার অভাব, দুশ্চিন্তা, শিশু বয়সে যৌন আসক্তি এবং কু-সঙ্গে জড়িয়ে পড়া, বিকৃত যৌন সঙ্গম, ওষুধ নির্ভরতা, ব্যথা দেয়ার ইচ্ছা, শ্রোনী প্রদেশের মাংসপেশি ঢিলে হয়ে পড়া ইত্যাদি কারণে এটি হতে পারে। অনেকে চূড়ান্ত উত্তেজনা লাভে ব্যর্থ হন। এটি পুরুষদের চেয়ে মেয়েদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। আমাদের দেশের অনেক মহিলা সারা জীবনব্যাপী চূড়ান্ত উত্তেজনা কাকে বলে এ ব্যাপারটি ধারণা করতে পারেন না।

পরামর্শ: পুরুষের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত উত্তেজনা লাভে ব্যর্থতা সাধারণত দুশ্চিন্তা, বিষণ্নতা ও ওষুধ নির্ভরতার কারণে হয়ে থাকে। অনেকে বিভিন্ন রক্তচাপ কমানোর ওষুধ খেয়ে থাকেন, অনেকে বিষণ্নতা বিরোধী ওষুধ খেয়ে থাকেন। এই ওষুধগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে উত্তেজনা লাভে ব্যর্থতা ঘটতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিন। বিষণ্নতা একটি কারণ হতে পারে। তবে যাই হোক মিলনকালীন একে অপরের উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করুন। এতে করে চূড়ান্তভাব চলে আসতে পারে। যাদের যৌন পেশিগুলো ঢিলে হয়ে গেছে সেসব মহিলারা প্রস্রাব শুরু করে আটকিয়ে আবার শুরু করে, আটকিয়ে ১০ সেকেন্ড ধরে রেখে আবার ছেড়ে দিয়ে একটি ব্যায়াম করতে পারেন। এভাবে কমপক্ষে দিনে ৩-৪ বার অনুশীলন করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে যৌনাঙ্গ সবল হবে ও চূড়ান্ত উত্তেজনা লাভ সহজ হবে। এরপরেও কোনোরূপ লাভ না হলে সেক্স থেরাপির জন্য যোগাযোগ করুন।

সমস্যা-৩
মিলনের ভয়
নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এ সম্পর্কিত জ্ঞানের অভাব, সেক্স করতে পারব কি পারব না এরকম ধারণা, পূর্ব মিলনের অভিজ্ঞতা না থাকা, প্রথম মিলন, অনভিজ্ঞতা ইত্যাদি মিলনে ভয় তৈরি করতে পারে। মনে রাখা ভালো, অনেক পুরুষ শুধু মিলনের ভয়ে সারাজীবন অবিবাহিত থেকে যান বা এভাবে বলা যায়-মিলনের ভয়ে অনেক পুরুষ বিবাহ পর্যন্ত করেন না।

পুরুষদের জন্য পরামর্শ: নিজের ভয় সম্পর্কে সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সাথে খোলামেলা কথা বলুন। এতে তার মধ্যে সহনশীলতা বাড়বে। শারীরিক ও মানসিক পূর্ণ বিশ্রাম দরকার, পরিমাণ মতো নিদ্রা, আহার করা উচিত, টেনশন ফ্রি ঘুম এতে ভালো কাজ দেয়। ঘরোয়া পরিবেশের দিকে দৃষ্টি দেয়া ভালো যেমন-হাল্কা গান, সেক্সি পোশাক, নির্ঝঞ্ঝাট পরিবেশ, হাল্কা আলো, বিভিন্ন তরল পানীয়, হাত ধরা, চুমা খাওয়া ইত্যাদি সাহায্যকারী হতে পারে। সেক্সুয়াল বই, পত্র-পত্রিকা, ভিডিও অনেক ক্ষেত্রে উপকারী হয়। মিলনের আগে পরসপর পরসপরকে আদর করা উচিত। এটিকে শৃঙ্গার বলা হয়। পর্যাপ্তভাবে উত্তেজনা আসার পর মিলনে যাওয়া উচিত। মিলন সম্পর্কে গুরুগম্ভীর না হওয়াই ভালো- হাসি, ঠাট্টা, জোকস, চিত্ত  বিনোদন ইত্যাদি কাজ সম্পর্ককে গভীর এবং বন্ধুত্বপূর্ণ করতে সাহায্য করে। পছন্দসই আসন বেছে নিন।

মেয়ের ক্ষেত্রে: তাদের সঙ্গীকে হাল্কা করে নেয়া উচিত। নিজের শরীরকে এমনভাবে ব্যবহার করা দরকার যাতে করে সঙ্গী ভয় না পায়।

সমস্যা-৪
ব্যথাপূর্ণ মিলন
পুরুষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের ইনফেকশন, অন্ডকোষের টিউমার, মূত্রনালীর ইনফেকশন ও মহিলাদের ক্ষেত্রে মূত্রনালীর ইনফেকশন এবং বিভিন্ন সাইকোলজিক্যাল কারণ যেমন-ভয়, পাপবোধ, ব্যথা পাওয়ার ভীতি ইত্যাদি কারণ দায়ী হতে পারে।

পরামর্শ: মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে ইনফেকশনের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া দরকার। অন্যান্য সাইকোলজিক্যাল সমস্যার জন্য মনোচিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। অনেকক্ষেত্রে মেয়েরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এমন পরিচিত ব্যক্তির কাছে খোলামেলাভাবে কথা বলতে পারে, তার নিজের ভয় সম্পর্কে নিজের সঙ্গীকে ব্যাখ্যা করতে পারে।

সমস্যা-৫
ইচ্ছার অভাব (মেয়েদের ক্ষেত্রে এটি পাওয়া যায়)
একঘেয়েমিজনিত বিরক্তি, সঙ্গিনীর ব্যক্তিত্বহীনতা, বিভিন্ন মৃত্যুজনিত শোক, মানসিক চাপ, প্রেগনেন্ট হয়ে যাওয়ার ভয়, দ্রুত স্খলনের আশঙ্কা ইত্যাদি কারণ হিসেবে বলা যায়।

পরামর্শ: শারীরিক অসুখ আছে কি-না তা দেখার জন্য শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যেতে পারে। প্রয়োজন হয় বিশ্রাম এবং পুষ্টিকর খাবারের। অনেক সময় প্রকৃতির কাছাকাছি বেরিয়ে এলে ফ্রেশ ভাবটা আসে। পারসপরিক সঙ্গ লাভের জন্য একে অপরের সাথে খোলামেলা কথা বলুন। সাময়িক অনিচ্ছা বা অপারগতাকে গুরুত্ব দিয়ে সঙ্গীকে খোটা দেয়া বা আঘাত করে কথা বলা বা ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করা উচিত নয়।
তাই ইচ্ছার অভাব দূর করতে এমন আচরণ করুন যাতে ইচ্ছা তৈরি হয়। প্রথম কথা নিজের ওপর আস্থা হারাবেন না। অনেক সময় বিভিন্ন অসুখ যেমন-বিষণ্নতা ইচ্ছার কমতি ঘটাতে পারে। তাই মনোচিকিৎসকের সাহায্য নেয়া ভালো।

সমস্যা-৬
নারী-পুরুষের বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা
এর মধ্যে ডায়াবেটিস, মেয়েদের ক্ষেত্রে স্তন এবং জরায়ুর টিউমার, পুরুষের প্রস্টেট অপারেশন, হার্টঅ্যাটাক ইত্যাদি কারণ হতে পারে।

পরামর্শ: বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার জন্য যুক্তিযুক্ত চিকিৎসকের সাহায্য নিন। শারীরিক অসুস্থতা হতে এই প্র্যাকটিস বন্ধ করার কোনো কারণ নেই। অনেকক্ষেত্রে কোনোরূপ অসুস্থতা ছাড়াও বৃদ্ধ বয়সে এটি হতে পারে। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক টেনশন, ক্লান্তি ইত্যাদি কারণ মেয়ে এবং ছেলেদের মধ্যে সমান প্রভাব বিস্তার করে। তাই বয়সের কারণে যা হয় এটিকে মেনে নিয়ে স্বাভাবিক চলাচল করা উচিত। এক্ষেত্রে আপনার ডাক্তার আপনাকে সাহায্য করতে পারেন।

সমস্যা-৭
লিঙ্গের উত্থান ঘটাতে অসামর্থ্যতা
কারণ হিসেবে অজ্ঞানতা, কম জ্ঞান, বিভিন্ন মাদকে আসক্তি, শৈশবে কু-সঙ্গ, মাতা-পিতার অতিরিক্ত শাসন ইত্যাদি হতে পারে।

পরামর্শ: মাদকদ্রব্য ত্যাগ করুন। সাময়িক উত্থানজনিত সমস্যা হলে দুশ্চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। পূর্ণ বিশ্রাম নিন এবং হাল্কাভাবে সব জিনিসকে গ্রহণ করুন। নিজের উপর জোর খাটাবেন না, আত্মবিশ্বাস কমিয়ে ফেলবেন না।

সমস্যা-৮
যৌনাঙ্গের ক্ষুদ্রতা ও আকার
এটি পুরুষের ক্ষেত্রে ব্যাপক আকারে পাওয়া যায়। কোনো পুরুষই তার অঙ্গ নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। অপরদিকে কোনো মেয়েই তার দেহ নিয়ে সন্তুষ্ট নয়।

পরামর্শ: আমাদের দেশে বেশিরভাগ যুব সমাজের এটি একটি অভিযোগ। লিঙ্গের আকার ছোট হওয়া বা বাম-ডানে বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি ব্যাপার নিয়ে তারা হরহামেশা মাথা ঘামান। আসলে আকার জিনিসটি বিভিন্ন কারণের ওপর নির্ভরশীল। তাই অযথা আকার নিয়ে চিন্তা না করে সেক্স থেরাপির জন্য মনোচিকিৎসকের সাহায্য নিন।

জন্মনিয়ন্ত্রণ কী ধরনের
জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করবেন
মনে করুন কোনো দম্পতি যৌনসঙ্গম বা যৌনমিলনে লিপ্ত হতে চায়, তখন তাদের গর্ভসঞ্চার এড়ানোর জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ বা কন্ট্রাসেপশন পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হবে। কোন দম্পতির ক্ষেত্রে ঠিক কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বেশি উপযোগী হবে তা বলা মুশকিল। শতকরা ১০০% কার্যকরী কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এখন পর্যন্ত নেই। তথাপি বেশ কিছু পদ্ধতি রয়েছে যেগুলো নিয়মমাফিক ব্যবহারে অত্যন্ত কার্যকরী এবং নিরাপদ।

কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সবগুলো নিয়ম-কানুন সতর্কতার সাথে মেনে না চললে অথবা কোনো ভুল করলে, তা যে পদ্ধতিই হোক না কেন এটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিপজ্জনক। গর্ভসঞ্চার যে কোনো সময় শুরু হয়ে যেতে পারে। একজন নারী যে যে পরিস্থিতিতে গর্ভসঞ্চার করতে পারে সেগুলো হলো-

  • নারী যদি কারোর সাথে প্রথমবার সেক্স করে থাকে।
  • এটা যে কোনো অবস্থানে বা আসনে হতে পারে।
  • এটা মাসিক ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে হতে পারে।
  • নারী যদি সেক্স খুব কম মাত্রায় করে তাহলেও হতে পারে।
  • যৌনসঙ্গী যদি বীর্যস্খলনের ঠিক পূর্বে যোনি থেকে পেনিস সরিয়ে নেয়।
  • নারী যদি যৌনসঙ্গীর সাথে যৌনসঙ্গম নাও করে কিন্তু পার্টনার যদি যোনির আশপাশে বীর্যস্খলন ঘটায়।

শতকরা ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ নারী যারা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন না, তারা এক বছরের মধ্যে যৌন সঙ্গমের মাধ্যমে গর্ভবতী হয়ে যেতে পারেন। অবাক হলেও সত্য যে, এই গর্ভসঞ্চারের হার শতকরা ৯০ ভাগ পর্যন্ত হতে পারে। কাজেই সঙ্গত কারণে প্রশ্ন জাগে আপনি জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য কোন পদ্ধতিটি প্রতিবারের জন্য বেছে নেবেন।

আচ্ছা, আপনি কি প্রায়ই সেক্স করেন? আপনি কি মনে করেন, কেবলমাত্র যৌনসঙ্গম বা যৌন আচরণের সময় কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি যেমন-কনডম ও ফোম বা ডায়াফ্রাম ও জেলি ইত্যাদি ব্যবহার। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়মতো একটি পিল খাওয়া আপনার জন্য সুবিধানজনক। আপনার জ্ঞাতার্থে আবারও জানানো যাচ্ছে যে, পিল কিন্তু যৌনবাহিত রোগ বা ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে পারে না।

ইদানীংকালে অনেক ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। এদের মাঝে কতকগুলো কোনো ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে কিনে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অন্যান্য পদ্ধতি যেমন-ডায়াফ্রাম, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, আইইউডি, সার্ভাইক্যাল ক্যাপ বা নরপ্ল্যান্ট ইত্যাদির জন্য ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ গ্রহণ করুন। প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কার্যকরী করতে সঙ্গী ও সঙ্গিনীর উভয়ের সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে এ পদ্ধতি পুরাতন ছন্দ পদ্ধতি যেমন-পঞ্জিকাতে দিন নির্দেশ করে হিসাব করা থেকে ভিন্ন। আবার কতক নারী-পুরুষ রয়েছে যারা ভবিষ্যতে আর সন্তান চান না, তারা স্থায়ী বন্ধ্যাত্বকরণের ব্যবস্থাটি বিবেচনা করে থাকেন।

গর্ভসঞ্চার প্রতিরোধ করতে আরেকটি পদ্ধতি হলো যৌনসঙ্গম এড়িয়ে চলা। অনেক দম্পতি সৃজনশীল যৌন উদ্দীপনার মাধ্যমে নিজেদেরকে যৌনসুখ এবং যৌনতৃপ্তি এনে দিতে পারে। যৌনসঙ্গম বহির্ভূত যৌন আচরণকে বলা হয় আউটার কোর্স। এই সুখসপর্শ সম্পর্কে যৌনতা অধ্যায়ে খুব ভালোভাবে বলা হয়েছে।

আপনি হয়তবা জন্মনিয়ন্ত্রণের আরো কতক প্রণালীর কথা শুনে থাকতে পারেন। বীর্যস্খলন বা চরমপুলকের পূর্ব মুহূর্তে যোনি থেকে পেনিস সরিয়ে ফেলা তেমন কোনো কার্যকরী পদ্ধতি নয়, বরং এ পদ্ধতিতে অনেকেই ঝুঁকির সমমুখীন হন। স্তন্যদান করা যে গর্ভসঞ্চার সম্পূর্ণ এড়াতে পারে এ ধারণাও সঠিক নয়। ডুশিংয়ের মাধ্যমে শুক্রকীট বা শুক্রাণু যোনির আরো ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। কাজেই আপনি যদি সত্যিই গর্ভসঞ্চার এড়াতে চান তাহলে কার্যকরী কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নির্বাচন করুন। যা আপনার এবং আপনার যৌনসঙ্গীর জন্য আরামদায়ক হবে। নিচের প্রশ্নগুলো সম্পর্কে একটু চিন্তা করুন-

  • গর্ভসঞ্চারের জন্য আপনি কী করবেন?
  • আপনার যৌনসঙ্গী এটাকে ঠিক কিভাবে অনুভব করেন?
  • জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে আপনার পার্টনারের অনুভূতি কেমন?
  • আপনি কি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে সবার সাথে সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন?
  • জন্মনিয়ন্ত্রণের কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করতে আপনি কি কাউকে সহযোগিতা করেন?
  • আপনি যে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বেছে নিলেন সেটিতে কেমন খরচ পড়বে? আপনি এবং আপনার পার্টনার কি খরচ পারসপরিক শেয়ার করবেন?
  • আপনি কি নিজে এবং আপনার পার্টনারকে যৌনবাহিত বিভিন্ন রোগ হতে একই সময়ে রক্ষা করবেন?

হয়ত আপনি জন্ময়িন্ত্রণের জন্য যে পদ্ধতি ব্যবহার করছেন সেটি সঠিক নয়, যেহেতু আপনি এবং আপনার জীবনধারায় পরিবর্তন আসছে, তাই জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে নতুনত্ব বা পরিবর্তন দরকার। কতক নারীর ক্ষেত্রে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে তা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সবচেয়ে বড় কথা এই যে, যে পদ্ধতি ব্যবহার করুন না কেন, তা খুব শুদ্ধভাবে এবং নিরাপদভাবে ব্যবহার করুন।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কার্যকারিতা
যদিও বর্তমানে অনেকগুলো জন্ময়িন্ত্রণ পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে তথাপি প্রত্যেকটারই কোনো না কোনো সুবিধা ও অসুবিধা বিদ্যমান। তবে গর্ভসঞ্চার এড়াতে অনেক পদ্ধতির মাঝে ল্যাটেক্স কনডম খুব ভালো একটি পদ্ধতি কেননা এটির সাহায্যে একই সাথে যৌনবাহিত রোগ বা ইনফেকশন প্রতিরোধ করা যায়।

কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিটি কেমন কার্যকর সেটা জানতে প্রতিটি পদ্ধতিকেই নিবিড়ভাবে ক্লিনিক্যাল বা পরিসংখ্যানগতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। গবেষকরা বের করে দেখছেন কোন পদ্ধতি পুরো এক বছর নিয়ম-মাফিক সতর্কতাসহ মেনে চলার পরেও ঠিক কতজন নারী গর্ভধারণ করে। ধরুন ১০০ জন দম্পতি কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করছে, দেখা গেল যে ৩ জন নারী গর্ভধারণ করে ফেলেছেন। সেক্ষেত্রে বলা যাবে পদ্ধতির অকার্যকারিতা বা নিস্ফলতার হার ৩%। অবশ্য কখনো কখনো কার্যকারিতা বা সফলতার কথাটিই বেশি শুনে থাকবেন। যদি ১০০ জন নারীতে ৩ জনের গর্ভসঞ্চার হয়ে যায় তবে পদ্ধতিটির কার্যকারিতার বা সফলতার হার ৯৭%। অর্থাৎ এটি ১০০ থেকে ৩ বাদ দিয়ে যা থাকে তাই আসলে কার্যকারিতার হার।

তবে এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, আপনি যে প্রকারের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিই ব্যবহার করুন না কেন, কী পরিমাণ সতর্কতা আর নিয়মমাফিক নির্দেশগুলো মেনে চললেন তার ওপর পদ্ধতির কার্যকারিতা বিশেষভাবে নির্ভরশীল। যদি একেবারে সময়মতো প্রতিবার বা প্রতিদিন যে কোনো একটি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন, তবে সব পদ্ধতিই খুব কার্যকরী। ভুলে গেলে বা কোনো জিনিস ঠিকমতো না জেনে ব্যবহার করলে কোন পদ্ধতি সত্যিকার অর্থে কতটুকু কার্যকর তা বলা কঠিন।

  • স্টেরিলাইগেশন বা স্থায়ী বন্ধ্যাত্বের জন্মনিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া। নারীদের বেলায় এটিকে বলে লাইগেশন আর পুরুষদের বেলায় ভ্যাসেকটমি। এগুলো শতকরা ১০০ ভাগই কার্যকর।
  • ল্যাটেক্স কনডম যদি কন্ট্রাসেপটিভ বা জন্মনিয়ন্ত্রণ ফোম, জেলি বা ক্রিম সহযোগে ব্যবহার করা হয়, তবে তা শতকরা ৯৯ ভাগের চেয়েও বেশি কার্যকরী ও নিরাপদ।
  • ল্যাটেক্স কনডম সতর্কতার সাথে ব্যবহার করলে ৮৮ থেকে ৯০% কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ভূমিকা প্রদর্শন করে।
  • জন্মনিয়ন্ত্রণ ফোম, জেলি বা ক্রিমের কার্যকারিতা শতকরা ৮০ থেকে ৯৭ ভাগের মধ্যে। তবে যেহেতু এগুলো অপেক্ষাকৃত কম কার্যকর ভূমিকা পালন করে, তাই এগুলোর সাথে কনডম ব্যবহার করা উচিত।
  • জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বা বড়ি শতকরা ৯৮-৯৯%-এর বেলায় অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
  • ইন্ট্রাইউটেরাইন ডিভাইস বা আইইউডি প্রায় ৯৯% কার্যকর।
  • জেলিসহকারে ডায়াফ্রাম ব্যবহার ৮২-৮৯% কার্যকর তবে এটা নির্ভর করে কতটুকু ভালোভাবে ব্যবহার করা হলো তার ওপর।
  • সার্ভাইক্যাল ক্যাপ, সপঞ্জ শতকরা ৮২-৯৪% কার্যকর।
  • ডায়াফ্রাম, ক্যাপ বা সপঞ্জ কনডম সহকারে ব্যবহার করলে অত্যন্ত কার্যকরীভাবে গর্ভসঞ্চার প্রতিরোধ করে।
  • প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি প্রায় ৭০-৯৭% কার্যকর ভূমিকা প্রদর্শন করে। তবে এটি কিন্তু আগেকার দিনের ছন্দ বা পঞ্জিকা পদ্ধতির মতো নয়। কোন দম্পতি কত ভালোভাবে পদ্ধতিটি শিখল ও প্রয়োগ করলো তার ওপর এ কার্যকারিতার হার নির্ভর করে।

আপনি যদি মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তবে এটি নিঃসন্দেহে খেয়াল করে থাকবেন যে, জন্মনিয়ন্ত্রণের কোনো পদ্ধতিই শতকরা ১০০ ভাগ কার্যকর নয়। তাই জন্মনিয়ন্ত্রণের বেলায় একেবারে দোষশূন্য কোনো পদ্ধতি নেই তাও আবার এর কার্যকারিতা নির্ভর করে নিয়মমাফিক সতর্কতার সাথে ব্যবহার করার ওপর।

কতক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নির্দেশিত নয়। এর মাঝে একটা হচ্ছে পেনিস বের করে ফেলার পদ্ধতি যাতে পুরুষটি চরম উত্তেজনাকর মুহুর্তে বীর্যস্খলনের ঠিক আগে যোনি থেকে পেনিস সরিয়ে নেয়। তবে কোনো কিছু না করার চেয়ে এটি ভালো।

আগেকার দিনের ছন্দ পদ্ধতি শতকরা ১২-২০% কার্যকর। স্তন্যদানও কোনো আস্থা স্থাপনযোগ্য পন্থা নয়। ডুশিংয়ের একটা নেতিবাচক দিক রয়েছে সেটি হলো এটি সপার্ম বা শুক্রকীটকে ছড়িয়ে দিতে পারে। কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার না করাও শতকরা প্রায় ১০ ভাগ বাৎসরিক হিসেবে কার্যকর। এর মানে হচ্ছে প্রতি ১০ জন নারীতে ১ জন নারীই বছরে গর্ভসঞ্চার করে যে কি-না কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করে না।

তাই যে কোনো প্রকারের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সতর্কতার সাথে নিজেদের ওপর প্রয়োগ করা চাই। তাই আপনার ও আপনার পার্টনার বা যৌনসঙ্গীর জন্য কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক তা ভালোভাবে নির্বাচিত করে নিন।

কনডম ও শুক্রনাশক
কনডম ও শুক্রনাশক দিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ এতটাই সহজ যে, যে কোনো ড্রাগ স্টোর বা ফার্মেসি থেকে এগুলো ক্রয় করে ডাক্তারের সহায়তা ব্যতিরেকেই ব্যবহার করা যেতে পারে। সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করলে এই পদ্ধতি গর্ভসঞ্চার এড়াতে শতকরা ৯৯ ভাগের চেয়ে বেশি কার্যকর। তবে এটি ব্যবহারের একটা খুব ভালো দিক হলো-এটি যৌনবাহিত রোগ বা ইনফেকশন কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করতে পারে। তাই এটি অনেকের ক্ষেত্রে খুব বেশি নির্দেশিত। শুক্রনাশকগুলো সাধারণত ফোম, ক্রিম বা জেলি ইত্যাদি নানা ধরনের থাকে ড্রাগ স্টোরে পাওয়া যায়। এগুলোর মূল উপাদান হচ্ছে ননক্সিনল-৯ যা কি-না শুক্রাণুকে মেরে ফেলতে পারে বা নাশ করে দিতে পারে এবং যৌনবাহিত রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সহায়তা করে।

জন্মনিয়ন্ত্রণ ফোম সাধারণত ক্যানে করে পাওয়া যায়। তবে প্রথমবার আপনি যখন এটি ক্রয় করবেন তখন সাথে একটা এপ্লিকেটর থাকা চাই যা দিয়ে আপনি একে ব্যবহার করবেন। এরপর থেকে আপনার কেবলমাত্র রিফিল কিনলেই চলবে। তবে আপনার সাথে কিন্তু দ্বিতীয় আরেকটা ক্যান থাকা চাই যা আগেরটি শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আপনার কাজে লাগবে।

আপনি যখন সেক্স করবেন তার প্রায় ২০ মিনিট আগেই ফোম ব্যবহার করে নিন। ক্যানের ক্যাপটি খুলে নিন। একে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। এবার ক্যানের শীর্ষে এপ্লিকেটরটিকে লাগিয়ে নিন। এখন একটা এপ্লিকেটরকে ফোম দিয়ে ভরে যোনির ভেতরে প্রবেশ করান।

আপনি যদি একই সাথে আবার সেক্স করেন তবে বেশি করে ফোম ব্যবহার করুন। ফোমটি ক্রয়ের সময় দেখে নিন এটার গায়ে শুক্রনাশক বা জন্মনিয়ন্ত্রণ বা সপার্মিসাইডেল লেখাটি আছে কি-না। এটাকে অন্যান্য মেয়েলি স্বাস্থ্য রক্ষার বিপণন হিসেবে মনে হয় ভুল হতে পারে বা একটাকে আরেকটা মনে হতে পারে যদি না দেখে কেনা হয়। ফোম বিষাক্ত বা দোষযুক্ত নয়। তবে হঠাৎ এটা ত্বকে চুলকানো বা র‌্যাশের সৃষ্টি করতে পারে। আপনি যদি এ ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হন তবে ফোমের ব্রান্ড বদলিয়ে ফেলুন। প্যাকেটের গায়ে দেখে নিন যে, এটি আবার মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে কি-না।

কন্ট্রাসেপটিভ বা জন্মনিয়ন্ত্রণ জেলি এবং ক্রিম টিউবে পাওয়া যায়। তবে এগুলোকেও ফোমের মতো ব্যবহার করতে হয়। প্রথমবার ক্রয় করার সময় সাথে এপ্লিকেটর কিনে নিন এবং পরবর্তীতে কেবল রিফিল কিনলেই চলবে। ক্যাপটিকে খুলে ফেলুন এপ্লিকেটরকে জেলি বা ক্রিম দিয়ে ভরে নিন এবং যোনিতে প্রবেশ করান।

ল্যাটেক্স কনডম ব্যবহার করুন। এটা অনেকভাবেই পাওয়া যায় যেমন মসৃন বা (বুননসই) পাওয়া যেতে পারে, রঙিন বা সুগন্ধযুক্তও পাওয়া যেতে পারে। কোনো কোনো ব্র্যান্ড একটি অন্যটির চেয়ে সামান্য মোটা, চিকন, বড় বা লম্বা হতে পারে। কখনো কনডমকে বেশি পরীক্ষা করতে যাবেন না এতে আপনি কনডমকে নষ্ট করে ফেলতে পারেন। সতর্ক হন যে, আঙ্গুলের নখের খোঁচা লেগে এটি যেন ফেটে বা ছিড়ে না যায়। একটা কনডমকে কখনই পুনরায় ব্যবহার করবেন না। আপনি যদি কোনো লুব্রিকেন্ট বা পিচ্ছিলকারক ব্যবহার করেন তবে খেয়াল করবেন তা যেন পানিতে দ্রবণীয় হয়। ভ্যাসলিন বা অন্যান্য চর্বিতে দ্রবণীয় লুব্রিকেন্টগুলো ল্যাটেক্স কনডমকে নষ্ট করে দিতে পারে। খুব উষ্ণ স্থানে কনডম সংরক্ষণ করবেন না কেননা বেশি তাপে কনডম নষ্ট হয়ে যেতে পারে। প্যাকেটের গায়ের মেয়াদের তারিখ ভালোভাবে দেখে নিন।

পুরুষের পেনিস দাঁড়ানোর বা উত্থানের সাথে সাথে কনডম পরে ফেলা উচিত। বীর্যস্খলনের পূর্বে যে সাদা তরল বেরিয়ে আসে তাতেও শুক্রাণু থাকে। প্যাকেট থেকে কনডম বের করুন। বীর্যস্খলনের বীর্য যাতে থাকতে পারে সেজন্য কনডমের মাথার দিকে একটু জায়গা রাখুন। ধীরে ধীরে পেনিসের বডিতে কনডমটিকে পরিয়ে নিন। বীর্যস্খলনের পর পেনিস দাঁড়ানো বা উত্থিত থাকা অবস্থাতেই যোনি থেকে বের করে ফেলুন। কনডম যখন যোনি থেকে বের করবেন তখন বীর্য যাতে গড়িয়ে পড়তে না পারে তাই কনডমের ওপরে একটা আঙ্গুল রাখুন।

কনডম আসলে খুব পাতলা, তাই সপার্ম উত্তাপ একজনের শরীর থেকে আরেকজনে পরিবাহিত হয়। কনডম ও শুক্রনাশক ভালোবাসার উষ্ণসপর্শও বাড়িয়ে দেয়। যৌনতাকে আরো বেশি উপভোগ্য করে তোলে। তবে কতক দম্পতির ক্ষেত্রে যৌন উত্তেজনায় বা শিহরণে একটু ঘাটতির সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু আপনি সুবিবেচক হলে নিশ্চয় এর ভালো দিকগুলোও দেখবেন। তাই কনডম ব্যবহারে বরং আপনার সঙ্গিনীর প্রতি মমত্ববোধই প্রকাশ পায়। তাই আপনি যেদিন কনডম ব্যবহার না করবেন সেদিন বরং সঙ্গম বা যৌনমিলন ব্যতীত যৌনতার অন্যান্য সুন্দর আচরণকে উপভোগ করুন। আপনাকে বুঝতে হবে যে, যৌনতা একটি স্বাচ্ছন্দ্য ব্যাপার এবং ভালোবাসা ও যৌন আকর্ষণ বা আবেদনকে অনেক সুন্দরভাবে প্রকাশ করা যায়। কোনো কারণবশত কনডম যদি ছিড়ে বা ফুটো হয়ে যায় তবে গর্ভসঞ্চার এড়াতে দুইটি পদ্ধতি রয়েছে। এগুলো সম্পর্কে এ অধ্যায়ে পরবর্তীতে আপনারা জানবেন।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বা খাবার বড়ি
জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বা বড়িতে প্রকৃতপক্ষে দুইটি মেয়েলি হরমোন ইস্ট্রোজেন আর প্রজেস্টেরন থাকে। এই মেয়েলি হরমোনগুলো নির্দেশিত মাত্রায় সেবন করলে গর্ভাশয় থেকে ডিম্বাণু আর নিঃসৃত হয় না। এগুলো নারীর শরীরে আরো কতক পরিবর্তন আনে যার ফলশ্রুতিতে গর্ভসঞ্চার হয় না। নিয়মমাফিক সময়মতো সেবন করলে এটা শতকরা ৯৯ ভাগের চেয়েও বেশি কার্যকর। তবে ‘পিল’ যৌনবাহিত রোগ বা ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে পারে না।

কোনো নারী পিল সেবন করতে যদি চায়, তবে অন্তত প্রথমবার তাকে কোনো ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। ডাক্তার নারীর স্বাস্থ্য, নারীর পারিবারিক স্বাস্থ্য এবং নারী ধূমপায়ী কি-না সে সম্পর্কে খবর নেবেন। নারী এটি সেবন করলে অবশ্যই নিয়ম জেনে নিতে হবে। প্রথম মাসে গর্ভসঞ্চারের ঝুঁকি থাকে। তাই এ সময়টুকু সাথে অন্য কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি যেমন কনডম ও ফোম ব্যবহার করা যেতে পারে।

ঠিক কোনদিন থেকে পিল খাওয়া শুরু করবেন এবং কখন নতুন প্যাকেট শুরু করবেন তা ভালোভাবে জেনে নিন। অবশ্যই সপ্তাহের একই দিনে নতুন প্যাকেট শুরু করতে হবে। যদি প্রথম পিলটি আপনি রবিবারে খেয়ে থাকেন তবে পরবর্তী সময়েও অন্য প্যাকেটটির প্রথম দিন রবিবারে সেবন করতে হবে।

দুই ধরনের প্যাকেটে পিল বাজারে যাওয়া যায়-২১ দিনের ও ২৮ দিনের। উভয়ের বেলায় আসলে পিল থাকে ২১টি, ২১ দিনের কার্যকারি উপাদানসহ। একজন নারী যদি নিয়মমতো ও সময়মত নির্দেশিকা অনুসারে পিল সেবন করে, তবে তিনি প্রতিদিনের গর্ভসঞ্চারজনিত ঝুঁকি এড়াতে পারবেন। যে পিলগুলো ২১ দিনে সেবন করানো হয় সেগুলোর প্রত্যেকটি মূলত হরমোন পিল। ২৮ দিনের প্যাকেটে ২১টা থাকে হরমোন পিল আর বাকিগুলো নিয়মিত বড়ি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য। যারা ২১ দিনের প্যাকেট সেবন করেন তারা ৭ দিন বিরতি দিয়ে আবার নতুন প্যাকেট থেকে পিল খাবেন।

পিল সেবনজনিত কারণে মাসিক ঋতুস্রাব একটু কমে যেতে পারে বা হঠাৎ করে একটা পিরিয়ড নাও হতে পারে এটা কিন্তু স্বাভাবিক। পিল নিয়মমাফিক সেবন অত্যন্ত কার্যকরী। যে যে নিয়ম আপনার অনুসরণ করা উচিত-

প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ে পিল সেবন করুন। এটা শরীরে হরমোনের মাত্রাকে সুস্থিত রাখে যা কি-না গর্ভসঞ্চার এড়ানোর জন্য প্রয়োজন।

  • আপনার পিল খাওয়ার ব্যাপারটি অন্য একটা দৈনন্দিন কাজের সাথে বেঁধে দিন যেমন-প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার পর বা লাঞ্চের পর পিল সেবন করতে হবে। এতে করে আপনি পিল খেতে ভুলবেন না।
  • আপনি যদি পিলটি সেবন করতে ভুলে যান বা ৪ ঘণ্টার বেশি দেরি হয়, তবে যখনই মনে পড়ে সাথে সাথে পিলটি সেবন করুন। তবে জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য মাসের বাকি দিনগুলোতে কনডম ও শুক্রনাশক ব্যবহার করুন। কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না নিলে গর্ভসঞ্চার হওয়া মোটেও অস্বাভাবিক নয়।
  • কতক ওষুধ যেমন অ্যান্টিবায়োটিক বা এন্টাসিড পিলের কার্যকারিতার ব্যাঘাত ঘটায়। আপনি যদি কোনো অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করে থাকেন বা প্রেসক্রিপশনবিহীন কোনো ওষুধ সেবন করেন তবে ডাক্তারের বা ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে জেনে নিন যে, এটি পিলের কার্যকারিতায় বাধা দেবে কি না। যদি তাই হয় তবে ওষুধ সেবনকালীন সময় আপনাকে কনডম ও শুক্রনাশক ব্যবহার করতে হবে। আপনি যদি বারবার বমি করেন বা পাতলা পায়খানা করেন, তাহলেও গর্ভসঞ্চার হতে পারে। কাজেই আপনার পার্টনারের উচিত কনডম ও কোনো শুক্রনাশক বাকি দিনগুলোর জন্য ব্যবহার করা।
  • অনেক নারী পিল সেবনকালীন সময়ে শরীরের কতক পরিবর্তন দেখতে পান। এগুলোর মাঝে রয়েছে বমি বমিভাব, মাথাব্যথা, স্তনে ব্যথা, ওজন বৃদ্ধি পাওয়া, মাসিক চক্র চলাকালীন সময়ে রক্তক্ষরণ হওয়া, উত্তেজনা, বিষণ্নতা বা মনোপজ পরিবর্তন। এগুলোর বেশিরভাগ তেমন কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না এবং পিল গ্রহণ করার ২-৩ মাস পর আপনা-আপনি চলে যায়। অনেক নারীর বেলায় পিলের ব্রান্ড বদলাতে হতে পারে বা জন্মনিয়ন্ত্রণের অন্য কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

যেসব নারীরা ধূমপান করেন তাদের ক্ষেত্রে পিল মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এসব ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ, রক্ত জমাট বাঁধা, হার্টঅ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। কতক উচ্চ রক্তচাপযুক্ত বা ডায়াবেটিক নারীর পিল সেবন না করাই ভালো। নারীদের জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলের একটি মারাত্মক বিপজ্জনক উপসর্গ হচ্ছে তীব্র পেটব্যথা বা পেটের পেশির কুঞ্চন, বুকে ব্যথা, পাকস্থলীতে ব্যথা, ঘন ঘন শ্বাস নেয়া, কফ, কফের সাথে রক্ত যাওয়া, তীব্র মাথাব্যথা, স্নায়বিক উত্তেজনাবোধ করা, পা ফুলে যাওয়া বা অবশ হয়ে যাওয়া এবং অসপষ্ট দৃষ্টি বা হঠাৎ অল্প সময়ের জন্য দৃষ্টি শক্তি সম্পূর্ণ হ্রাস। আপনার যদি উপরোল্লিখিত উপসর্গগুলো কিছু থাকে তবে অবিলম্বে ডাক্তার বা ফিজিশিয়ানের সাথে যোগাযোগ করুন।

এখনও এমন কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি যে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবনে সার্ভিক্স বা জরায়ু বা স্তনে কোনো ক্যান্সার হতে পারে। বিশেষত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন এবং স্তন ক্যান্সারের মাঝে কোনো অন্তর্নিহিত সম্পর্ক আছে কি-না এ বিষয়ে এখনও গবেষণা চলছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে এখনও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছা যায়নি। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবনে পরবর্তীতে গর্ভসঞ্চারের ক্ষেত্রে বা সন্তান নেয়ার বেলায় কোনো অসুবিধা সাধারণত হয় না।

উপরোক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি যেসব নারীরা সেবন করেন তারা কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপকৃত হন। যেমন-তাদের ত্বক পরিষকার থাকে, মাসিক বা ঋতুস্রাবকালীন সময় কমে যায়, অল্প পরিমাণ রক্ত ক্ষরিত হয়, মাসিকের সময় সংকোচন বা কুঞ্চন কম হয়। গর্ভাশয় বা অ্যান্ডোম্যাট্রিয়াসের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। কতক নারীদের মাসিক পূর্ববর্তী যেসব সিনড্রোম দেখা যায় সেগুলোও জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবনে অনেক উপকার পাওয়া যায়। মহিলাদের   স্তন এবং গর্ভাশয়ে যেসব সিস্ট হয় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি তাদের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, নারীদের যেহেতু গর্ভসঞ্চারের কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না তাই তারা যৌনমিলনকে আরো নতুন আঙ্গিকে উপভোগ করতে পারে। অনেক নারীদের ক্ষেত্রেই জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বা বড়ি গর্ভসঞ্চার এড়ানোর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পন্থা। তবে স্মরণ রাখবেন যে, পিল যৌনবাহিত রোগ বা ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে পারে না। আপনি যদি নতুন নতুন পিল খান, তবে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে সেবন করবেন এবং এর মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে সচেতন থাকবেন।

ডায়াফ্রাম এবং জেলি
ডায়াফ্রাম একটা রাবার ক্যাপের মতো জিনিস। এটাকে যোনির ভেতরে যৌনসঙ্গমের সময় ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এটাকে অবশ্যই বিশেষ ধরনের ক্রিম বা জেলি দিয়ে ভরে নিতে হয়। যেগুলো কি-না শুক্রকীটকে নাশ করে ফেলে। এটাকে যোনির পশ্চাতে স্থাপন করা হয় যাতে করে সার্ভিক্সকে কভার করে থাকে। এই সার্ভিক্সের মাধ্যমে যোনি ও জরায়ুর মাঝে যোগাযোগ রক্ষা হয়। ডায়াফ্রামের আশপাশে শুক্রকীট থাকলে বা আসলে সেগুলো জেলি বা ক্রিমের সাহায্যে মারা যায়।

বিভিন্ন সাইজ বা আকারের ডায়াফ্রাম বাজারে প্রচলিত আছে। প্রত্যেক নারীকে ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর নিকট থেকে সঠিক সাইজ জেনে নিতে হবে। কিভাবে এটিকে ব্যবহার করবেন তা ভালোভাবে জেনে নিন এবং সঠিকভাবে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন। যখন এটিকে ঠিক জায়গামতো প্রবিষ্ট করানো হয় তখন কিন্তু আপনি নিজেও এটিকে অনুভব করতে পারবেন না এবং আপনার যৌনসঙ্গীর সাথে সঙ্গম করার সময় এটা কোনো রকমের অস্বস্তির সৃষ্টি করবে না। আপনি যদি কোনো সমস্যা বা অস্বস্তিবোধ করেন, তবে অবশ্যই ধরে নিতে হবে যে, এটার সাইজ ঠিকমতো নির্ধারিত হয়নি অথবা নিয়মমাফিক এবং সঠিকভাবে প্রবিষ্ট করানো হয়নি।

ডায়াফ্রাম ব্যবহারের সাথে আপনাকে কোনো না কোনো ভালো শুক্রনাশক জেলি বা ক্রিম অবশ্যই রাখতে হবে। ডায়াফ্রামে একটি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে ২-৬ চা চামচ বা ১০-৩০ মিলিগ্রাম জেলি ব্যবহার করুন। অবশ্য ডায়াফ্রামের পাশেও শুক্রনাশক জেলি ব্যবহার ভালো। ডায়াফ্রাম প্রবিষ্ট করানোর আগে এর কিনারায় বা প্রান্তে চাপ দিয়ে অর্ধেক করে ভাঁজ করুন এবং যোনি দিয়ে পিছলিয়ে যতদূর যায় যেতে দিন। একটা আঙ্গুল দিয়ে এটাকে অনুভব করুন এবং নিশ্চিত হোন যে, এটা সার্ভিক্সকে আবৃত করে রেখেছে। অভ্যস্ত হয়ে গেলে আপনি এটি খুব সহজেই করতে পারবেন।

আপনি যদি একই সাথে কয়েকবার বা একবারের বেশি সেক্স করেন তবে অবশ্যই বেশি করে শুক্রনাশক জেলি ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত ব্যবহারের ২ ঘণ্টার পর থেকে শুক্রনাশক জেলির কার্যকারিতা কমতে থাকে। আবার জেলি ব্যবহার করতে গিয়ে ডায়াফ্রাম সরিয়ে ফেলবেন না। যোনির ভেতরে জেলিসহকারে আরেকটা অ্যাপ্লিকেটর ব্যবহার করুন। আপনি যখন জেলি বা ক্রিম ক্রয় করবেন তখন অবশ্যই প্যাকেটের গায়ে কন্ট্রাসেপটিভ বা শুক্রনাশক কথাটি দেখে নিন। এগুলো যে কোনো ড্রাগ স্টোর থেকে প্রেসক্রিপশন ছাড়াও পাওয়া যেতে পারে। এগুলো বিষাক্ত নয় বা কাপড়কে রঞ্জিত করে না। তবে শুক্রকীটনাশক জেলি বা ক্রিমগুলো যৌনবাহিত রোগ বা ইনফেকশনকে প্রতিরোধ করতে পারে না।

শেষ যৌনসঙ্গমের ৬-৮ ঘণ্টা পর যোনি থেকে ডায়াফ্রাম সরিয়ে ফেলুন। এই সময়ের ভেতর গোসল করবেন না, সাঁতার কাটবেন না বা ডুশ ব্যবহার করবেন না। তবে শাওয়ার ব্যবহার করতে পারেন। মনে রাখবেন যে, প্রস্রাব বা মল ত্যাগ করার সময় ডায়াফ্রাম থাকলেও তা কোনো সমস্যার সৃষ্টি করবে না। ডায়াফ্রাম যত্নের সাথে বা নিয়মমতো পরলে খুব ভালোভাবে কাজ করে। ব্যবহারের পর এটাকে গরম পানি দিয়ে পরিষকার করুন ও ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। আলোতে খুব ভালোভাবে দেখে নিন এতে কোনো ফুটো বা কানা বা অন্য কোনো সমস্যা আছে কি-না। মনে রাখতে হবে যে, খুব ছোট ছিদ্র থাকলেও তা দিয়ে শুক্রাণু ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। প্রতি ২ বছর পরপর নতুন ডায়াফ্রাম কিনুন।

নারী যদি তার শারীরিক ওজনের বেশি বা কম ১০ পাউন্ড (৪ কেজি) ওজন লাভ করেন বা হারান, তবে অন্য আকারের ডায়াফ্রামের দরকার হতে পারে। নারী যদি সন্তান জন্ম দিয়ে থাকেন বা গর্ভপাত করে থাকেন বা তলপেটে কোনো অপারেশন বা শল্য চিকিৎসা নিয়ে থাকেন তাহলেও ডায়াফ্রামের আকার বদলাতে হতে পারে।

আইইউডি (ইন্ট্রাইউটেরাইন ডিভাইস)
আইইউডি বা ইন্ট্রাইউটেরাইন ডিভাইস হলো একটা ‘টি’ আকারের প্লাস্টিকের ছোট টুকরা যা কি-না ডাক্তারের সহায়তায় নারীর জরায়ুতে সংস্থাপন করা হয়। এর ফলে নিষিক্ত ডিম্বাণুটি মাসিক চলাকালীন সময়ে জরায়ু থেকে বেরিয়ে আসে বা জরায়ু ত্যাগ করে। এটা অত্যন্ত কার্যকরী ও আস্থাযোগ্য। প্রায় ৯৯%-এর বেলায় এটা গর্ভসঞ্চার প্রতিরোধ করতে পারে। একবার সংস্থাপিত করার পর আইইউডি প্রায় ১-৫ বছর পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে এটা আইইউডি-এর ধরনের ওপর কিছুটা নির্ভর করে। তবে প্রত্যেক নারীর জন্য আইইউডি প্রযোজ্য এটি সঠিক নয়। আইইউডি যুক্ত কতক নারী তাদের শরীরে কতক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। এর মাঝে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি ও তীব্র মাত্রার পিরিয়ড, অতিরিক্ত কুঞ্চন, দুই মাসিকের অন্তর্বতীকালীন সময়ে যোনি দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। আবার কতক নারীর ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ আপনা আপনি কমে যায়-কতক আবার আইইউডি পরিহার করেন।

খুব স্বল্প সংখ্যক নারীর বেলায় এটা মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। খুব বিরল হলে আইইউডি কোনো কোনো সময় জরায়ুর প্রাচীর বা দেয়ালকে চাপ দিতে পারে। তাই আইইউডি সংস্থাপিত থাকা অবস্থায় টিউবাল প্রেগনেন্সি বা ফেলোপিয়ান নালিতে গর্ভসঞ্চারের সম্ভাবনা বিদ্যমান। তবে সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো শ্রোনী বা পেলভিসে ইনফেকশন। যৌনবাহিত রোগ বা ইনফেকশন অধ্যায়ে শ্রোনীর প্রদাহজনিত রোগ সম্বন্ধে ভালোভাবে বলা হয়েছে। আইইউডির সুতার মতো একটা অংশ বিদ্যমান যা সার্ভিক্স দিয়ে ঝুলে থাকে। এর সাহায্যে বোঝা যায় যে, আইইউডি ঠিক জায়গামতো সংস্থাপিত হয়েছে এবং এটাকে সরানোর কাজটিকে সহজসাধ্য করে তোলে। তবে আইইউডি সংস্থাপিত করার কাজটি যেমন ডাক্তারকে দিয়ে করাতে হবে তেমনি জরায়ু থেকে এটিকে সরানোর কাজটিও অবশ্যই ডাক্তারই করবেন অন্যথায় বিপত্তি বাড়তে পারে।

আইইউডি জরায়ুতে সংস্থাপিত করানোর প্রথম মাসের প্রতি সপ্তাহে আঙ্গুল দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা উচিত এবং এরপরে প্রতিমাসে অন্তত একবার ঠিকভাবে আছে কি-না তা অবশ্যই দেখতে হবে। আইইউডি যৌনানন্দের বেলায় কোনো ঘাটতি সৃষ্টি করে না এটা নোংরা কোনো জিনিসও নয় এবং প্রতিদিন স্মরণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে এটা ঠিক যে, আইইউডি যৌনবাহিত রোগ বা ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে পারে না। মাঝে মাঝে ব্যাকটেরিয়া যেমন গনোরিয়া বা ক্ল্যামাইডিয়া সুতা দিয়ে বাহিত হয়ে জরায়ুতে পৌঁছে যেতে পারে। তাই আইইউডি সংস্থাপিত করার পর যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি বরং একটু বাড়ে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো পেলভিস বা শ্রোনীতে ইনফেকশন সৃষ্টি করতে পারে এবং একজন নারীকে বন্ধ্যা পর্যন্ত করে দিতে পারে। যাতে পরবর্তীতে নারীর আর সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা থাকে না। তবে নারীর যদি একজন মাত্র সেক্স পার্টনার বা যৌনসঙ্গী থাকে এবং পার্টনারের যদি কোনো সঙ্গিনী না থাকে এবং দুইজনই যদি নিরাপদ যৌনতা বজায় রাখে তবে এ ধরনের ঘটনা একেবারেই বিরল। আপনার যদি পূর্বে একবার শ্রোনীতে ইনফেকশন হয়ে থাকে বা ডিম্বনালী, ফেলোপিয়ান টিউবে গর্ভসঞ্চার হয়ে থাকে, তবে আপনার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

ভবিষ্যতে সন্তান নিতে চান এমন নারীর বেলায় কতক ডাক্তার আইইউডি স্থাপন করতে চান না। নিজে কখনো আইইউডি স্থাপনের চেষ্টা চালাবেন না। এতে পেটব্যথা ও সংকোচন বা কুঞ্চন হতে পারে। এ ধরনের আইইউডির ঝুঁকি, রক্ত ক্ষরণ, জ্বর, কাঁপুনি বা যোনি দিয়ে অস্বাভাবিক ক্ষরণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারের সাথে অবিলম্বে যোগাযোগ করা দরকার।

প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ
মাসের কয়েকটা নিরাপদ দিন রয়েছে যে দিনগুলোতে কি-না যৌনসঙ্গম করলে গর্ভসঞ্চারের ঝুঁকি থাকে না। এটি শুনে অবশ্য অনেকে একটু অবাক হতে পারেন। অবশ্য এ দিনগুলো আপনি আন্দাজ করে গুনে বা পঞ্জিকা থেকে হিসেব করে বের করলে সঠিক হবে এমন কোনো কথা নেই। গর্ভসঞ্চার প্রথমবার যৌনসঙ্গমেই হয়ে যেতে পারে এবং মাসিক স্রাব চলাকালীন সময়ে এমনকি পিরিয়ড চলাকালীন সময়েও হয়ে যেতে পারে। শুক্রকীট বা শুক্রাণু নারীর শরীরে অনেক দিন যাবৎ বেঁচে থাকতে পারে। প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ আগেকার দিনের ছন্দ পদ্ধতির মতো নয়-এটা গর্ভসঞ্চার প্রতিরোধ করতে প্রয়োগ করা যেতে পারে। জন্মনিয়ন্ত্রণের সফলতা বা কার্যকারিতা বাড়াতে অন্যান্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সাথে এটিকে অনুসরণ করা যেতে পারে।

প্রতি মাসেই নারীর শরীর গর্ভসঞ্চারের জন্য প্রস্তুত হয়। ওভারি বা গর্ভাশয় থেকে একটি ডিম্বাণু বা ডিম্বনালী বা ফেলোপিয়ান টিউব দিয়ে চলে আসে। এই ডিম্বাণুটির যদি শুক্রাণুর সাথে মিলন ঘটে তবে নিষেক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং গর্ভসঞ্চার হয়। পিরিয়ড শুরু হওয়ার ২ সপ্তাহ পূর্বে গর্ভাশয় থেকে ডিম্বাণুটি নির্গত হয়। তথাপি এই সময়টা অসুস্থতা, মনোশারীরিক চাপ, ভ্রমণ বা আহারে পরিবর্তনজনিত কারণের ওপর নির্ভর করে। এর মানে হচ্ছে ডিম্বাণুটি গর্ভাশয় থেকে সময়ের হেরফেরে অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের আগে বা সামান্য পরে নির্গত হতে পারে। কতক নারীর বেলাতে এটা পিরিয়ডকালীন সময়ে হতে পারে। গর্ভাশয় থেকে নিঃসৃত হওয়ার পর ফেলোপিয়ান বা ডিম্বনালীতে আসতে প্রায় ১ দিন লেগে যেতে পারে। এটার যদি সপার্ম বা শুক্রাণুর সাথে মিলন হয়েই যায় তবে গর্ভসঞ্চার হতে পারে।

গর্ভসঞ্চারের সম্ভাবনা কখন সবচেয়ে কম তা কেবল আন্দাজ করে বা পঞ্জিকাতে হিসেব করা দিনগুলোকে অনুসরণ করবেন না তার ব্যাখ্যা দেয়া হলো। প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি দম্পতিদেরকে শেখায় মাসের কোন দিনগুলো সবচেয়ে নিরাপদ। মাসিক চক্র চলাকালীন সময়ে নারী তার শরীরের তাপমাত্রা মাপবে, তা রেকর্ড করবে এবং একটি বিজ্ঞাননির্ভর তাপমাত্রার গ্রাফ আঁকবে। নারীকে আরো শেখানো হয়ে থাকে যে, চক্র চলাকালীন সময়ে যোনি নিঃসৃত মিউকাসের কী পরিবর্তন ঘটে। এটি ভালোভাবে ও সুষ্ঠুভাবে করতে হলে দম্পতির ধৈর্য, সহযোগিতা ও বিশেষ ট্রেনিং দরকার। কোনো কোনো জাতি বা গোষ্ঠীতে দম্পতিদের এসবের ওপর কোর্স করানো হয়ে থাকে।

পুরুষদের স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ: ভেসেকটমি
পুরুষদেরকে স্থায়ীভাবে বন্ধ্যা করতে বা সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নাশ করতে যে পদ্ধতিটির সাহায্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা হয় তাকে ভ্যাসেকটমি বলা হয়। অপারেশনটি করতে মাত্র ১৫-৩০ মিনিট সময়ের প্রয়োজন। এটা পুরুষের বীর্যকে যৌনসঙ্গমের সময় ক্ষরিত হতে বাঁধা প্রদান করে।

ভ্যাসেকটমি করার সময় পুরুষের ভাসডিফারেন্স বা শুক্রনালীকে কেটে বেঁধে দেয়া হয়। এই শুক্রনালী শুক্রাণু বহন করে। কাজেই শুক্রাণু বীর্যে আসতে পারে না। কাজেই নারী গর্ভসঞ্চার করতে পারে না। এই অপারেশন কোনো ডাক্তারের অফিসে বা হাসপাতালের বহির্বিভাগে করা যেতে পারে। যৌন এলাকা সাময়িকভাবে অবশ করার জন্য লোকাল এনাসথেসিয়া ব্যবহার করা যেতে পারে।

লোকাল এনাসথেসিয়া প্রয়োগ করার পর ডাক্তার স্ক্রুটাম বা শুক্রাশয়ের পাশে একটু কাটেন। স্ক্রুটাম হচ্ছে ঝোলার মতো একটা অংশ যা শুক্রাশয় বা অণ্ডকোষকে ধরে রাখে। শুক্রাণু বহনকারী নালিকা বা শুক্রনালীকে কেটে বেঁধে দেয়া হয় এবং আগের কাটা অংশ সেলাই করে দেয়া হয়। ভ্যাসেকটমি অপারেশন করার পরবর্তী ২ দিন পর থেকে যে কোনো পুরুষ সুস্থবোধ করেন। রোগী সাধারণত ব্যথাবোধ করে থাকেন এবং কিছুটা চুলকানি অনুভব করেন। তবে এসব ব্যাপারকে প্রথমে অবশ্যই সহজভাবে নিতে হবে। সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

ভ্যাসেকটমি করার সাথে সাথেই এটি কার্যকরী হয় না। শুক্রনালীর যেখানটায় বাঁধা হয়েছে তার ওপরে কিন্তু সপার্ম বা শুক্রাণু থাকতে পারে। ছয় সপ্তাহ পর অপারেশনকৃত রোগীর উচিত ডাক্তারের কাছে গিয়ে নিশ্চিত হওয়া যে, তার শুক্রনালীর কোথাও কোনো শুক্রকীট বা শুক্রাণু নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত না ডাক্তার একেবারে নিশ্চিত হতে না পারবেন, ততোদিন পর্যন্ত জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য পদ্ধতি যেমন কনডম ও ফোম গর্ভসঞ্চার এড়াতে অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত।

টেস্টোস্টেরন হরমোনের প্রভাবে একজন পুরুষের যৌন ইচ্ছা নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত হয় যা মূলত টেস্টিস বা শুক্রাশয়ে তৈরি হয়। তবে ভ্যাসেকটমি অপারেশনে এই যৌন ইচ্ছা বা যৌন আবেদনময়তার তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটে না। পেনিস বা অণ্ডকোষ (শুক্রাশয়) এতে প্রভাবিত হয় না। এতে আসলে কেবলমাত্র শুক্রনালীর বিশেষ অংশকে কেটে বেঁধে দেয়া হয়। ভ্যাসেকটমি জন্মনিয়ন্ত্রণের অত্যন্ত কার্যকরী একটা পদ্ধতি এটা প্রায় ৯৯.৯% কার্যকারিতা প্রদর্শন করে।

ভবিষ্যতে আর কোনো সন্তান নেবেন না এটা সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হয়ে ভ্যাসেকটমির সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়। ভ্যাসেকটমি অপারেশন করানোর পরে কেউ যদি আবার পূর্বের শুক্রনালীর অবস্থা ফিরে পেতে চায় বা সন্তান চায়, তবে তার অবস্থাকে আগের ঠিক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া অনেক সময় বা বেশিরভাগ সময়ই সম্ভবপর হয় না। যদিও কতকক্ষেত্রে সফলতা অর্জিত হয়েছে। এই পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার অপারেশনটি একটু সময়সাপেক্ষ এবং জটিল। তাই ভ্যাসেকটমি করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সন্তান নেয়ার ব্যাপারটা অবশ্যই চিন্তা করে নিতে হবে।

নারীদের স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ: লাইগেশন
নারীদের বেলায় লাইগেশন একটা অত্যন্ত কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। ফেলোপিয়ান টিউব বা ডিম্বনালী গর্ভাশয় থেকে জরায়ুতে ডিম্বাণু পরিবহন করে। তাই ডিম্বনালীকে কেটে বেঁধে দিলে ডিম্বাণু জরায়ুতে আসতে পারে না। কোনো কোনো নারীদের বেলাতে এ অপারেশনটি করে রাতে হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন হয়। আবার কতক নারীদের বেলায় হাসপাতালে বহির্বিভাগে অপারেশন করা যেতে পারে।

টিউবাল লাইগেশন একটা অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি এবং খুব কম ক্ষেত্রেই টিউব জোড়া লেগে যেতে পারে। এই লাইগেশন পদ্ধতি জন্মনিয়ন্ত্রণের বেলায় শতকরা ৯৯.৯ ভাগে কার্যকর। অপারেশন করানোর পরেও একবার মাসিক ঋতুস্রাব হয়ে যাওয়ার পরে গর্ভসঞ্চারের ঝুঁকি ব্যতিরেখে যৌনসঙ্গম করা যেতে পারে।

এটা সাধারণত নারীর যৌন আবেদনময়তা বা যৌন ইচ্ছা বা মাসিক স্রাবের ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না। জরায়ু এই অপারেশনে কখনোই কাটা হয় না-তারপরও শুক্রাণু কখনোই ডিম্বাণুকে সপর্শ করে না। কতক নারী এতে করে সেক্সকে আরো নতুন উদ্যমে উপভোগ করতে পারে কেননা তাদের গর্ভধারণের কোনো ঝুঁকি থাকে না।

নারীদের এই অপারেশনটি করতে জেনারেল এনাসথেসিয়া প্রয়োগ করতে হয় এবং সারতে একটু সময়ের প্রয়োজন। তাই পুরুষদের ভ্যাসেকটমি নারীদের লাইগেশনের চেয়ে অনেক নিরাপদ। নারীদের লাইগেশনে তুলনামূলক ঝুঁকি বেশি।

ভ্যাসেকটমি বা পুরুষদের স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ লোকাল এনাসথেসিয়া দিয়ে করা হয় যাতে যৌন এলাকাকে অবশ করা হয় এবং পেট কাটার কোনো প্রয়োজন নেই।

কতক নারী রয়েছে যারা লাইগেশন করানোর পরে আবার ডিম্বনালী বা ফেলোপিয়ান টিউব জোড়া লাগাতে চান-তবে এটা সময়ব্যাপী ও জটিল অপারেশন। তাই লাইগেশন করার আগে অবশ্যই ভবিষ্যতে সন্তান নেবেন কিনা ভালোভাবে চিন্তা করে নিন।

প্রাতঃকালীন পিল ও সঙ্গম পরবর্তী আইইউডি
কনডম যদি ফেটে যায় বা ফুটো হয়ে যায়, তাহলে আপনি কী করবেন? আপনি যদি অরক্ষিত অবস্থায় যৌনসঙ্গম করে থাকেন কিন্তু গর্ভধারণ করতে চান না সেক্ষেত্রে কী করবেন? আপনি যদি বলাৎকার বা ধর্ষণের শিকার হন তাহলে কী করবেন? ওপরের সবগুলো ক্ষেত্রে জরুরি কতক ব্যবস্থা নেয়া হলে আপনি নিষকৃতি পেতে পারেন বা তাৎক্ষণিকভাবে গর্ভসঞ্চার এড়াতে পারেন।

প্রাতঃকালীন বা মর্নিং আফটার পিল আসলে চার রকমের হরমোনের পিল বা বড়ি। যেসব নারী গত ৭২ ঘণ্টা বা ৩ দিনের ভেতর যৌনসঙ্গম করেছেন তাদের গর্ভসঞ্চার এড়াতে ডাক্তার এ পিল প্রেসক্রাইব করতে পারেন। তবে আগে যৌনসঙ্গম করে থাকলে সেটা গর্ভসঞ্চারকে প্রতিরোধ করে না বা মাসিক চক্রের বাকি দিনগুলোতে গর্ভবতী হওয়াকে বাধা দিতে পারে না। এটা আসলে জরায়ুর অভ্যন্তরীণ গাত্রের আবরণকে প্রভাবিত করে যার ফলশ্রুতিতে নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুতে সংস্থাপিত হতে পারে না।

একজন নারীকে চারটা পিল দেয়া হয়। এর মাঝে প্রথম ২টা পিল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেবন করতে বলা হয় এবং বাকি ২টা পিল ১২ ঘণ্টা পরে সেবন করতে বলা হয়। অত্যন্ত সতর্ক থাকবেন যেন এ সময়ের মাঝে ঘুমিয়ে না পড়েন।

এই হরমোন পিল সেবনে বমি বমিভাব দেখা দিতে পারে, কতক নারীদের ক্ষেত্রে বমি পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে-বিশেষ করে দ্বিতীয় পিলদ্বয় সেবনের পরেও। একটা গ্রেভল ট্যাবলেট সেবন করে ও দ্বিতীয় ডোজ ওষুধ খাওয়ার আধঘণ্টা পূর্বে আহার করা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে সহায়তা করবে। অতঃপর এক গ্লাস দুধসহকারে পিলদ্বয় সেবন করুন। তবে পারতপক্ষে পানি দিয়ে পিলটি সেবন করবেন না। নারী যদি দ্বিতীয় ডোজের পিলটি বমি করে বের করে দেন, তবে ডাক্তার বা ফিজিশিয়ানরা তৃতীয় মাত্রার ওষুধ দিয়ে থাকেন। তবে তৃতীয় মাত্রার পিলদ্বয় যদি দরকার না পড়ে তবে এগুলোকে ফেলে দিন।

অন্য সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেগুলো হতে পারে সেগুলো হলো যোনি দিয়ে রক্তক্ষরণ, জরায়ুর কুঞ্চন এবং ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা। এগুলো যদিও সাময়িক, তথাপি কয়েকদিন পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে এ রক্তক্ষরণকে কোনোভাবেই মাসিক স্রাবের রক্ত বলা যাবে না। তবে পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব নারীর সময়মত আসবে। মাসিক যদি না হয়, তবে নারীর প্রেগনেন্সি টেস্ট বা গর্ভসঞ্চারের পরীক্ষা করা যেতে পারে। কিন্তু এটা ঠিক যে, প্রাতঃকালীন পিল আপনাকে মাসিকচক্রের অন্য দিনগুলোতে গর্ভসঞ্চার রোধ করবে না।

প্রাঃকালীন পিলের কার্যকারিতা খুব বেশি। এটি প্রায় ৯৮%-এর বেলায় কার্যকর বিশেষত তাড়াতাড়ি সেবন করলে। তবে কোনো নারীর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর না হলে সেক্ষেত্রে নারীকে অন্যান্য বিষয়টিকে বিবেচনা করতে হবে যেমন এবোরশন বা গর্ভপাত অথবা গর্ভাবস্থাকে টিকিয়ে রাখা। এসব ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ডাক্তার বা ফিজিশিয়ানরা প্রাতঃকালীন পিল সেবনের পরামর্শ দেন। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে এটি পাওয়া যেতে পারে। এটি সেবনের আগেও সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে নিন।

প্রাতঃকালীন পিল সেবনের পরেও আরেকটা দ্বিতীয় পদ্ধতি রয়েছে যাকে বলে সঙ্গম পরবর্তী আইইউডি। কিছু ডাক্তার যৌনসঙ্গমের পরে গর্ভসঞ্চার এড়াতে আইইউডি নারীর যৌনাঙ্গ দিয়ে প্রবিষ্ট করান। অরক্ষিত যৌনসঙ্গমের ৭দিন পর পর্যন্ত এটি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

নরপ্ল্যান্ট
বর্তমানে নরপ্ল্যান্ট বিশ্বের অনেক দেশে প্রচলিত। ১৯৯৪ সাল থেকে এটা কানাডাতেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

যেসব নারীরা দীর্ঘমেয়াদি কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা বহন করতে চান কিন্তু ভবিষ্যতে কোনো সন্তান নেয়ার কথাও বিবেচনা করেন, তারা নরপ্ল্যান্ট পদ্ধতিটি বহন করতে পারেন। যারা নরপ্ল্যান্ট পদ্ধতিটি বেছে নেন তাদের প্রতিদিন জন্মনিয়ন্ত্রণের পথ্য সেবন করতে হয় না বা প্রতিবার যৌনমিলনের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ জেলি বা ফোমের কথা ভাবতে হয় না।

নরপ্ল্যান্ট হচ্ছে ছয়টি ছোট ক্যাপসুল বা রডের মতো একটি সেড যাদের আকার একটি ম্যাচ স্টিকের মতো। বিশেষভাবে দক্ষ ডাক্তার নারীর বাহুর ওপরের অংশ কেটে ত্বকের ঠিক নিচে রডগুলোকে বিশেষভাবে প্রবিষ্ট করান, এটা করতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময়ের প্রয়োজন হয়। কোনো স্টিচের প্রয়োজন হয় না। তবে ত্বকের ওপর দিয়ে কয়েকদিনের জন্য একটি ব্যান্ডেজ দিয়ে আবৃত করে দিতে হয়।

একবার প্রবিষ্ট করানোর পর ক্যাপসুলগুলো ২৪ ঘণ্টার ভেতরে এদের কার্যকারিতা প্রদর্শন করে এবং আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত গর্ভসঞ্চার প্রতিরোধ করতে পারে। তবে এগুলোর যৌনবাহিত রোগ বা ইনফেকশনকে আদৌ প্রতিরোধ করতে পারে না। নরপ্ল্যান্ট ক্যাপসুলগুলো সাধারণত প্রোজেসটিন নামক একটি হরমোনের নিঃসরণ ঘটায় যা অন্যান্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলেও পাওয়া যায়। এটা আসলে তিনভাবে গর্ভসঞ্চারকে বন্ধ করে থাকে।

প্রথম এটা ওভুলেশন প্রতিরোধ করে বা প্রতিমাসে ডিম্বাণুর ক্ষরণকে বন্ধ করে। দ্বিতীয়ত এটা নারীর সার্ভাইক্যাল মিউকাস মেমব্রেনের পুরুত্বকে বাড়িয়ে দেয়। এর ফলশ্রুতিতে শুক্রাণু ইউটেরাস বা জরায়ুতে ঢুকতে পারে না। এটা অবশ্য জরায়ুর আবৃতকারী পর্দা যাকে অ্যান্ড্রোম্যাট্রিয়াম বলে তার গুরুত্ব কমিয়ে দেয়। নিষিক্ত ডিম্বাণু সাধারণত বেশি পুরুত্ব দিয়ে আবৃতকারী জরায়ুতে লেগে থাকতে চায়। নরপ্ল্যান্ট কোনো ইস্ট্রোজেন হরমোন বহন করে না। তাই যেসব নারীরা ইস্ট্রোজেন পিল সহ্য করতে পারেন না তাদের ক্ষেত্রে এটা সহনীয় ও কার্যকরী।

যদিও এই জন্মনিয়ন্ত্রণ ক্যাপসুলগুলো ৫ বছর পর্যন্ত কার্যকারিতা প্রদর্শন করে। তথাপি কোনো কারণে যে কোনো সময় নারীর বাহুর ওপরের দিককার ত্বকের নিচ থেকে এটাকে সরিয়ে ফেলা যেতে পারে। অবশ্য সরিয়ে ফেলার কাজটিও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার দিয়েই করানো হয়। ক্যাপসুল সরিয়ে ফেলার কিছুদিন পর নারী আবার গর্ভসঞ্চার করতে পারে।

নরপ্ল্যান্ট অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকরী একটি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি যা সাধারণ পিলের চেয়েও অনেক বেশি কার্যকারিতা প্রদর্শন করে। প্রবিষ্ট করানোর পর প্রথম বছরে এটি প্রায় ৯৯ ভাগ সফলতা প্রদর্শন করে। পরবর্তী বছরগুলোতে অবশ্য সফলতার হার সামান্য একটু কমে আসে বিশেষত যেসব মহিলার ওজন ৭০ কেজি বা ১৭৮ পাউন্ডের বেশি।

নরপ্ল্যান্ট ব্যবহার করাকালীন সময়ে গর্ভসঞ্চার করেছেন এমন নারীর সংখ্যা বিরল। তবে এসব নারীদের গর্ভসঞ্চারের বেলায় ডিম্বনালীতে নিষিক্ত ডিম্বাণুটি অবস্থান করে যা পরবর্তীতে টিউবাল প্রেগন্যান্সি নামক এক ঝুঁকিজনিত গর্ভাবস্থার রূপ নিতে পারে। তবে নরপ্ল্যান্ট সন্তানের জন্মগত ত্রুটির সাথে জড়িত এরকম কিছু এখনও প্রমাণিত হয়নি।

যেসব নারীরা নরপ্ল্যান্ট ব্যবহার করেন তারা বিশেষত প্রথম বছরে যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভোগেন সেগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে অনিয়মিত ঋতুস্রাবকালীন রক্তক্ষরণ। এটা সাধারণত একটু দীর্ঘমেয়াদি হয়ে থাকে অথবা দুই পিরিয়ডের মাঝামাঝি সময়ে হতে পারে। অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো হলো ওজন বৃদ্ধি পাওয়া, ত্বকে মেচতা বা ব্রণ হওয়া, বিষণ্নতা, মাথাব্যথা, চুল গজানো এবং ত্বকের যে স্থানটিতে ক্যাপসুল প্রবিষ্ট করানো হয়েছে সেখানে চুলকানি হতে পারে। অতি বিরল ক্ষেত্রে বাহুর সেই বিশেষ অংশে কোনো সপর্শহীনতা দেখা দেয় বা অসাড় মনে হয়।

কোনো নারী যদি নরপ্ল্যান্ট ব্যবহারের কথা বিবেচনা করেন, তবে অবশ্যই উচিত একজন ভালো কাউন্সিলরের সাথে ব্যাপারটি নিয়ে পরামর্শ করা। কাউন্সিলর নরপ্ল্যান্টের বিভিন্ন সুবিধা, অসুবিধা, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আপনাকে অবহিত করবেন। যেসব মহিলার যকৃতে কোনো সমস্যা রয়েছে বা স্তন ক্যান্সারের কোনো পূর্ব ইতিহাস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে নরপ্ল্যান্ট সঠিক নয়। যেসব নারী বা মহিলা গর্ভবতী বা গর্ভসঞ্চার করতে চান তাদের নরপ্ল্যান্ট ব্যবহার না করাই উচিত।

অন্যান্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং আরইউ-৪৮৬
বর্তমানে কানাডাতে বেশ কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি রয়েছে যেগুলো কিনা অন্যান্য দেশে তেমন প্রচলিত নয়। সার্ভাইক্যাল ক্যাপ অনেকটা ডায়াফ্রামের মতোই। এটাকে সার্ভিক্স সাকসানের মাধ্যমে আবৃত করে দেয়া হয়। তবে এটি যে কোনো নারীর বেলায় অভিজ্ঞ ডাক্তার বা ক্লিনিকে করানো উচিত। এটার এক তৃতীয়াংশ সঙ্গমের প্রায় ৬ ঘণ্টা পূর্বে শুক্রনাশক জেলি বা ক্রিম দিয়ে ভরে নিতে হয়।

এরপর শেষবার যৌনসঙ্গমের পর থেকে ৬ থেকে ২৪ ঘণ্টার ভেতরে এটাকে সরিয়ে ফেলতে হয়। সার্ভাইক্যাল ক্যাপটি আসলে তৈরি হয় লেটেক্স দিয়ে। এটাকে সতর্কভাবে সরাতে হবে, ভালোভাবে পরিষকার করতে হবে এবং ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। এর কার্যকারিতার হার শতকরা ৮২ থেকে ৯২ ভাগ। তবে এটা নিয়মমাফিক ব্যবহার করা হলে তার ওপর এর সফলতা অনেকখানি নির্ভর করে।

জন্মনিয়ন্ত্রণ সপঞ্জ যে কোনো ড্রাগ স্টোর বা ফার্মেসি থেকে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যেতে পারে। এটাকে যৌনমিলনের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পূর্বেই যোনিতে প্রবিষ্ট করাতে হয় এবং অনেক নারী এতে খুব আরামবোধ করেন। সপঞ্জ ব্যবহার করার পূর্বে হাত ভালোভাবে পরিষকার করুন এবং এটাকে প্যাকেট থেকে ধীরে ধীরে আলাদা করুন। এবার এটাকে ভালোভাবে পানিতে ধুয়ে নিন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত এটা না খোলা হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এটাকে চাপ দিন। এটি আসলে শুক্রনাশক হিসেবে কাজ করবে। এবার এটিকে সতর্কভাবে যোনিতে এমনভাবে প্রবিষ্ট করান যাতে এটা সার্ভিক্সকে আবৃত করে রাখে। এই সপঞ্জ প্রায় ২৪ ঘণ্টা গর্ভসঞ্চার প্রতিরোধ করতে পারে। তবে যৌনমিলনের পর ৬-৮ ঘণ্টা এটি সার্ভিক্সে রেখে দেয়া উচিত। এই সপঞ্জ কখনো দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা উচিত না। কতটা সতর্কভাবে বা নিয়ম মাফিক ব্যবহার করা হলো তার ওপর সফলতা অনেকখানি নির্ভর করে। তবে এর গড় কার্যকারিতার হার হচ্ছে শতকরা ৭২-৯১ ভাগ। যেসব মহিলা এখনও সন্তান নেননি তাদের বেলায় এটা বেশি কার্যকরী।

ডেপো প্রোভেরা একটি জন্মনিয়ন্ত্রক যা বিশ্বের অনেক দেশে ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে এটি অন্যান্য মেডিকেল উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। গর্ভসঞ্চার এড়াতে এই ইনজেকশনটি তিন মাস পরপর মাংশে পুশ করতে হয়। এটা যৌনবাহিত রোগ বা ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে পারে না। এই ইনজেকশনের প্রভাবে কোনো কোনো নারীর রজঃস্রাবকালীন রক্তক্ষরণের কিছুটা পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে এটা আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যায়।

পেপো প্রোভেরার জন্মনিয়ন্ত্রণ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর কার্যকারিতার হার শতকরা ৯৯ ভাগ। কতক নারী ডেপো প্রোভেরা ইনজেকশনকে পছন্দ করেন আবার কারো কারো ক্ষেত্রে অতীতে সন্তান উৎপাদন এড়ানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হতো। তবে যেসব নারীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হতো জানতো না এটির ভূমিকা কী। এখনো অনেক লোক রয়েছে যারা এই ইনজেকশনের অপব্যবহার করে থাকেন। ডেপো ইনজেকশনটির যে সকল সুবিধা রয়েছে যেগুলো হচ্ছে মাসিক চলাকালীন সময়ে পেশির কুঞ্চন কমানো এবং জরায়ু ও গর্ভাশয়কে ক্যান্সারের হার কমানো। তবে ডেপো ইনজেকশনটি প্রত্যাহার করার এক বছরের পরে শতকরা ৮০ ভাগ নারী আবার গর্ভসঞ্চার করতে পারেন। কতক নারী একে খুব সন্তোষজনক হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে এটা যৌনবাহিত রোগ বা ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে পারে না।

কতক জন্মনিয়ন্ত্রণ সাপোজিটর ড্রাগ স্টোর বা ফার্মেসিতে পাওয়া যায়। এগুলোকে যৌনমিলনের দশ মিনিট বা তার পূর্বে নারীর যোনিতে প্রবেশ করানো হয়, যাতে এই সময়ের ভেতরে পুরোপুরি গলে যেতে পারে। এই পদ্ধতির কার্যকারিতার হার প্রায় শতকরা ৮০-৮৫ ভাগ। এটি ক্রয় করার সময় প্যাকেটের গায়ে কন্ট্রাসেপটিভ লেখাটি দেখে কিনবেন। বর্তমানে কোনো কোনো দেশে মহিলাদের জন্য এক প্রকারের কনডম রয়েছে। এটা নারীদের অতিরিক্ত প্রতিরোধ প্রদান করে। যদিও এটা পুরুষদের ব্যবহারযোগ্য কনডমের মতোই। তথাপি এর নিচের দিকে একটি রিং রয়েছে। এর ওপরের অংশটি বন্ধ থাকে এবং নারীর সার্ভিক্সের ডায়াফ্রামের মতোই আবৃত করে রাখে। নিচের অংশটি খোলা থাকে যা পিউবিক এরিয়াকে আবৃত করে রাখে। সাধারণ কনডমের মতোই এটা একবার ব্যবহার করে ফেলে দিতে হয়।

জন্মনিয়ন্ত্রণের আর একটি পদ্ধতি হচ্ছে ‘ভিসিএফ’ বা ভেজাইনাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল। এটি একটি অধঃস্বচ্ছ পিল যা নারীর যোনি দিয়ে সার্ভিক্সের যত কাছাকাছি পারা যায় ততো কাছাকাছি স্থাপন করা হয়। এটা আসলে একটি জেল-এ পরিণত হয় এবং গর্ভসঞ্চারের বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তবে এটা যৌনবাহিত বা ইনফেকশন দুই ঘন্টার জন্য এড়াতে পারে।

আরইউ-৪৮৬ বা গর্ভপাত পিল অপারেশন যা সার্জিকেলে গর্ভপাতের বিকল্প একটা পদ্ধতি। এটাকে অবশ্য কোনো কোনো সময় প্রাতঃকালীন পিল বা মর্নিং আফটার পিলও বলা হয়। কোনো নারী তাৎক্ষণিকভাবে গর্ভসঞ্চার এড়াতে চাইলে ফিজিশিয়ান সাধারণত প্রেসক্রাইব করে থাকেন। এই পিলটি প্রথমে একটি এবং পরবর্তীতে আরো একটি সেবন করানো হয়। এটি গর্ভপাত অধ্যায়ে আপনারা বিস্তারিত জানতে পারবেন। এটা নিরাপদ এবং অপারেশন ছাড়া গর্ভপাত করানোর একটা কার্যকর পদ্ধতি।

বিবিধ
যৌন নিপীড়ন ও প্রেমজনিত ধর্ষণ (অভিসারঘটিত বলাৎকার)
যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কারো সাথে জোরপূর্বক বা সমমতি ব্যতীত যৌন আচরণ করে থাকেন, তখন তাকে আমরা যৌন আচরণ বা যৌন নিপীড়ন বলতে পারি। অনিচ্ছাকৃত যৌনমিলন বা যৌনসঙ্গমকে ধর্ষণ বা বলাৎকারও বলা যেতে পারে। প্রেমঘটিত বা অভিসারঘটিত যে কোনো ব্যাপারই হোক না কেন, যৌন নিপীড়ন বা যৌন অত্যাচার একটি আইনগত অপরাধ-এমনকি বিবাহিতদের বেলাতেও একথা প্রযোজ্য। সমীক্ষাতে প্রমাণিত নানা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, প্রতি ৪ জন নারীর একজন ও প্রতি ৮ জন পুরুষের মাঝে ১ জন যৌনভাবে নিপীড়িত হয়ে থাকে।

বেশিরভাগ যৌন নিপীড়ন বা যৌন অত্যাচারের শিকার হয় নারী ও শিশু-কিশোররা। এর পেছনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরুষ দায়ী। এসব অপরাধ যারা করে তারা মাঝে মাঝে আসক্তও হয়ে থাকে-তবে এরকম ঘটনা কম হয়। যৌন নিপীড়নের সাথে যারা জড়িত তারা সাধারণত যৌনসঙ্গী, কারো বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী, অফিসের বস, ডাক্তার, যুবনেতা, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, প্রতিবেশী এবং অন্যান্য আরো বেশ কিছু পেশার লোক।

কতকক্ষেত্রে প্রেমিক-প্রেমিকাদের বেলায় যেটি হয় তারা দেখা করার জন্য একে অন্যকে তারিখ দিয়ে থাকে। অতঃপর সেই নির্দিষ্ট তারিখে একজন অপরজনকে নানা যৌনকর্মে বাধ্য করে। একে প্রেম বা অভিসারঘটিত ধর্ষণ বা ‘ডেটরেপ’ বলা যেতে পারে। এক্ষেত্রে যৌন নিপীড়ন বা অত্যাচারের শিকার যদি নারীটি হয়ে থাকে তবে সেও নিজেই নিজেকে দোষী মনে করা শুরু করে। কারণ সে হয়ত মনে মনে সামান্য সমমতি দিয়েছিল এবং সে তার প্রেমিককে ভালোভাবেই চিনত। তাই এসবের শিকার যেসব নারীরা হয় তারা নিজেদেরকে এসবের জন্য দায়ী মনে করে এবং আরো একটা ভ্রান্ত ধারণা যেটি তারা করে, সেটি হলো তারা তাদের নিজেদের অজান্তেই ভেবে নেয় যে, প্রেমিক তাদের দ্বারাই কোনো না কোনোভাবে উৎসাহবোধ করেছিল।

ওপরের সবগুলো ক্ষেত্রেই নারীদের মনে রাখতে হবে যে, এসব যৌন নিপীড়ন বা অত্যাচারের জন্য তারা নিজেরা দায়ী নয়-তা যৌন আচরণ বা যৌনকর্ম যতদূর পর্যন্তই হোক না কেন।

যিনি যৌন নিপীড়ন বা অত্যাচার করছেন তিনি নিঃসন্দেহে একটা অপরাধ করছেন। আপনি যদি কারো সাথে যৌনমিলন বা সেক্স আগে করে থাকেন তথাপি পরেরবার যৌন আচরণ বা যৌনকর্ম করতে হলে অবশ্যই অনুমতি বা সমমতি নিয়ে নিতে হবে। আপনার শরীরের ওপর পূর্ণ অধিকার বা নিয়ন্ত্রণ আপনার আছে। কেউ যদি আপনার এ অধিকারে হস্তক্ষেপ করে তবে তা অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। তাই যৌন নিপীড়ন বা যৌন অত্যাচার নিঃসন্দেহে একটা আইনগত অপরাধ। যৌন অপরাধের কারণ হিসেবে কোনোভাবেই অ্যালকোহল বা ড্রাগকে দায়ী করা যাবে না। আইন অনুসারে যৌন আচরণ বা যৌনকর্ম করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার সবারই রয়েছে। তাই বিবাহিতদের বেলাতে যৌন সংসপর্শের বা যৌনকর্মে কারো আপত্তি থাকলে তার সাথে কোনো রকম যৌন আচরণ করা যাবে না। ‘না’ একবার উচ্চারণ করলেও না মানে হচ্ছে ‘না’। আর যে কোনো পরিস্থিতিতেই ইতিবাচক উত্তর হ্যাঁ মানে হচ্ছে ‘হ্যাঁ’।

যে কোনো যৌনকর্ম বা যৌন আচরণ তা হতে পারে কারো শরীর সপর্শ করা অথবা জোরপূর্বক যৌনমিলন বা ধর্ষণ বা বলাৎকার করা-সবগুলোই যৌন নিপীড়ন বা যৌন অপরাধের আওতাধীন। কতক ক্ষেত্রে চাকরিতে পদোন্নতি বা ভালো রিপোর্টের বিনিময়ে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ সেক্স করে থাকেন। যা একজনের জন্য অক্ষতিকর তুচ্ছ ঘটনা এবং অন্যের বেলায় সমমানহানিকর ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। তবে সব সময়ই মনে রাখবেন যৌন নিপীড়ন একটি আইনগত অপরাধজনিত আচরণ।

আপনি যদি যৌনভাবে নিপীড়িত বা অত্যাচারিত হয়ে থাকেন তবে সেটি নিশ্চয় আপনার অপরাধ বা দোষ নয়। এসবের বেলায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া, এলোমেলো লাগা বা সাময়িক একাকিত্ববোধ একেবারে স্বাভাবিক ব্যাপার। আপনার নিজের ব্যাপারেও সেক্স সম্পর্কে একটা নেতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠতে পারে। তাই যৌন নিপীড়নের শিকার যদি হয়েই যান তবে মনের সব না বলা কথা আপনার বিশ্বস্ত ও অন্তরঙ্গ কাউকে কাউকে খুলে বলুন।

পারিবারিক যৌন নিপীড়ন বা
বলাৎকার (জোরপূর্বক সেক্স)
পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য যারা রয়েছে তাদের মাঝে জোরপূর্বক যৌন অত্যাচার বা নিপীড়ন ঘটে থাকলে তাকে ইনসিস্ট বলে। এগুলো ঘটতে পারে পিতা-কন্যার মাঝে, মা-ছেলের মাঝে, নানা-নাতি বা অন্যান্য ঘনিষ্ঠদের মাঝে। তবে এক্ষেত্রে যৌনসঙ্গম বা যৌনমিলন নীতিবিরুদ্ধ। পরিবারে অনিচ্ছাকৃত যৌনকর্ম করাকে বলা হয় যৌন নিপীড়ন বা সেক্সের অপব্যবহার। শারীরিক যেসব যৌন অত্যাচার বিদ্যমান সেগুলো হলো যৌনমঙ্গম করা, অসঙ্গতভাবে শরীর সপর্শ করা, শিশুকে যৌনাঙ্গ সপর্শ করতে বাধ্য করা বা শিশুকে যৌন কর্মকে দেখতে বাধ্য করা। শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার্থে এসব যৌনকর্মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিদ্যমান।

পরিবারের যেসব সদস্য শিশুদের সাথে যৌনক্রিয়া বা যৌনতার অপব্যবহার করে তারা সাধারণত অন্যদেরকে না বলার জন্য শিশুকে ভীতি প্রদর্শন করে। তারা শিশুকে বলে ফেলে এটা কাউকে বললে তোমার মায়ের খারাপ কিছু হবে বা তারা তোমাকে ফেলে রেখে চলে যাবে বা তোমার ছোট বোনের সাথেও এমন আচরণ করা হবে। কতকক্ষেত্রে পরিবারের একাধিক সদস্য যৌন নিপীড়ন বা অত্যাচার বা ধর্ষণের শিকার হতে পারে। তবে যৌনভাবে নিপীড়িত যদি হয়েই যান, তবে অন্তরঙ্গ এবং আস্থা স্থাপন করতে পারেন এমন কাউকে মনের কথা খুলে বলুন।

পারিবারিক যৌন নিপীড়ন বা যৌন অত্যাচার কয়েক বছর ধরে চলতে পারে। তবে এটা ঠিক যে, পরিবারে এমন সদস্য থাকবেই যিনি আপনার কথা শুনবেন ও সহায়তা করবেন। কতক প্রফেশনাল রয়েছেন যারা আপনার সমস্যাটাকে বুঝতে পারবেন, আপনাকে বিশ্বাস করবেন, সহায়তা বা সমর্থন করবেন।

যৌন নিপীড়িত হলে কী করবেন
যৌন অত্যাচারিত বা নিপীড়িত হলে কী করবেন সেটা তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া বেশ কষ্টকর। এসব পরিস্থিতিতে আপনাকে নিচের পরামর্শসমূহ সহায়তা করবে-

  • একটা নিরাপদ স্থানে যান।
  • মনের অর্থাৎ যৌন নিপীড়নের সব কথা অবিলম্বে বিশ্বস্ত কাউকে খুলে বলুন।
  • কারো সমর্থন বা সহায়তা নিন।
  • স্বাস্থ্য সম্পর্কীয় ঝুঁকি এড়াতে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
  • আপনার জীবনে যা ঘটেছে তা একটা কাগজে লিপিবদ্ধ করুন।

অতএব প্রথমেই আপনাকে নিজের জন্য নিরাপদ একটা স্থান খুঁজে নিতে হবে। আপনার যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি যদি বাসায় হয়ে থাকে এবং আক্রমণকারী যদি বাসা থেকে চলে যায়, তবে আপনি হয়ত সেখানেই নিরাপদ বা আপনি কোনো অন্তরঙ্গ বিশ্বস্ত বান্ধবীর বাসায় চলে যেতে পারেন। প্রতিক্ষেত্রে ভালোভাবে চিন্তা করে নিন কোন জায়গাটা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। অন্তরঙ্গ ও বিশ্বস্ত কাউকে অবশ্যই খুঁজে বের করুন। তার নিকট থেকে আপনি সহায়তা, সমর্থন ও পরামর্শ নিঃসন্দেহে পাবেন। আপনার অনুভূতি আর আবেগের কথা তাকে সম্পূর্ণ খুলে বলুন। পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব বা কাউন্সিলরের সাথে পরামর্শ করে নিন।

আপনি যদি ধর্ষণের শিকার হন তবে আইনগত সহায়তার জন্য পুলিশকে খবর দেবেন কিনা সেটা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আপনি কোনো মারাত্মক পরিস্থিতিতে বা বিপজ্জনক অবস্থানে থেকে থাকলে পুলিশ আপনাকে উদ্ধার করতে সহায়তা করবে বা ধর্ষণকারীকে কীভাবে দোষী সাব্যস্ত করা যায় সেদিকে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত দেবেন। তাই এসবের বেলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি কী ধরনের সহায়তা ও সমর্থন আশা করেন। তাই আপনি নিজে পুরো ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করুন এবং পুলিশের ব্যাপারে নিজেই সিদ্ধান্ত নিন, অন্য কারো দ্বারা তাড়িত হবেন না।

বিদেশে যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণ কেন্দ্রগুলোতে যারা নিপীড়িত হয়েছেন সেখানে কাউন্সিলর থেকে এসব ব্যাপার নিয়ে পরামর্শ নিন এবং ওদের পরামর্শ মেনে চললে আপনি অল্প সময়ে খুব ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

স্বাস্থ্য সম্পর্কীয় ঝুঁকি এড়াতে সরাসরি ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন যদি যৌন অত্যাচারের কারণে যৌনাঙ্গ বা তৎসংশ্লিষ্ট এলাকায় ক্ষত বা রক্তক্ষরণ হয়ে থাকে। কতক নারীতো ঠিক ওই অবস্থায় এটা চিন্তাই করতে পারে না যে, তাদের মেডিকেল যত্ন নেয়া প্রয়োজন। কতকের ক্ষেত্রে তারা বুঝতেই পারে না যে, তাদের যৌনাঙ্গ বা যৌন আচরণসম্পর্কিত অন্য কোনো এলাকাতে ইনজুরি হয়েছে। কেননা তারা তখন এক ধরনের শোকের অবস্থায় থাকে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এসবের বেলায় আপনাকে বেশ সহায়তা করবে এবং আপনি যদি গর্ভসঞ্চারের সম্ভাবনাও এড়াতে চান তবে তাদের পরামর্শ অবিলম্বে গ্রহণ করুন। পুলিশকে হুটহাট করে রিপোর্ট করা হয়ত ঠিক নয়-সামান্য হলেও ভেবে নিন। হাসপাতাল থেকে যে প্রমাণ আপনি পাবেন সেগুলোও দোষী সাব্যস্তকরণে কোর্টে ব্যবহার করা যাবে।

হাসপাতালের ডাক্তার বা অন্যান্য জড়িত স্টাফকে যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণের ব্যাপারটি অবশ্য বলবেন। এসবের বেলায় আপনি কোনো নিবেদিত সংস্থার সাহায্য নিয়ে এবং আইনগতভাবে নিয়মমাফিক সামনে এগোতে থাকুন যাতে কিনা ধর্ষণকারীকে পুরোপুরি দোষী সাব্যস্ত করা যায়। এ সম্পর্কিত কোনো কিছু বুঝে না থাকলে কাউকে জিজ্ঞেস করে ভালোভাবে বুঝে নিন। আপনি যদি সবকিছু ধুয়ে ফেলে পরিষকার পরিচ্ছন্ন হতে চান তবে অবশ্যই মেডিকেল বা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট ভালোভাবে তৈরি হওয়ার পরেই সবকিছু ধোয়া উচিত বা ভালোভাবে গোসল করা উচিত; কাপড়ও পাল্টাবেন না। কারণ সেখানেও কোনো প্রমাণ লেগে থাকতে পারে বিশেষত রক্তের বা কোনো ক্ষরণের চিহ্ন থাকতে পারে। এ সময়ে কোনো  ড্রাগ বা অ্যালকোহল সেবন করবেন না, কেননা সবকিছু ভালো ভালোভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা থাকা চাই।

আপনি যদি হাসপাতালে যেতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন সেক্ষেত্রে ধর্ষণে সহায়তাকারী কোনো সংস্থার সাহায্য নিয়ে মেডিকেল স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নিন। অরক্ষিত জোরপূর্বক যৌনসঙ্গমের বেলাতে প্রাতঃকালীন পিল বা মর্নিং আফটার পিল গর্ভসঞ্চার এড়াবে বা প্রতিরোধ করবে। কতক ক্ষেত্রে যেসব নারীরা ধর্ষণের শিকার হয় তাদের ও সংশ্লিষ্ট পরিবার-পরিজনকে ধর্ষণকারীরা ভয় দেখায় যাতে আইনগত কোনো ব্যবস্থা না নেয়া হয়। তাই এসব কিছুর সাথে নারী সংস্থার সাথে পরামর্শ করে সব সিদ্ধান্ত নিলে আপনাকে কোনো বিপদে পড়তে হবে না।

কিভাবে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ করবেন?
আপনার যৌনতার সীমাকে নির্ধারণ করে নিন। এ নির্ধারণ করার সম্পূর্ণ অধিকার কেবল আপনারই রয়েছে। যৌনতার সীমা হয়ত ব্যক্তি বিশেষে পার্থক্য হতে পারে-তা হওয়াই বরং স্বাভাবিক। কিন্তু যৌন আচরণ অবশ্যই সুনির্দিষ্ট কোনো সীমা পর্যন্ত করবেন। অবশ্য নিজের ওপর আস্থা ও নিয়ন্ত্রণ থাকলে সীমাতে ছাড় দেয়া যেতে পারে। কোনো জটিল পরিস্থিতি বা ঘটনায় পড়লে আপনি কী কামনা করেন বা ঠিক কী রকম অনুভব করেন সেটিও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সবকিছুর সর্বোচ্চ সীমা আগেই সংশ্লিষ্টদেরকে অবহিত করবেন। কেননা এমন ভাবা বোকামি যে, কেউ বুঝি আপনার মনকে বুঝে ফেলবে বা মনের কথাটি জেনে ফেলবে।

আপনার অনুভূতিগুলোতে বিশ্বাস স্থাপন করুন। বেশিরভাগ ধর্ষণ বা জোরপূর্বক বলাৎকারের সাথে আগন্তুক জড়িত নয়; বরং পার্টনার বা পরিচিতজনেরাই এহেন যৌন আচরণ করে থাকেন। অনেকক্ষেত্রে যৌন নিপীড়নের বা ধর্ষণের কর্মটি এমন পরিচিত কেউ করে ফেলেন যার সম্পর্কে এহেন কর্ম করার কথা হয়ত চিন্তাই করা যায় না। এসবের বেলায় যৌন অত্যাচার বা বাধ্যতামূলক যৌনকর্মের ব্যাপারটা আসলেই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কেননা আপনি বুঝতে পারছেন যে, আপনি চাপের মাধ্যমে অনিচ্ছা সত্ত্বেও হয়ত সেক্স করে ফেলছেন অথচ আপনার কিছুই করার নেই।

বিভিন্ন আচরণ করার সময় সতর্ক থাকুন যে, আপনি কী রকম মন্তব্য বা অসংলগ্ন কোনো এলাকায় সপর্শ করে ফেলেছেন কি-না। আরেকটা ব্যাপার খেয়াল রাখুন কে আপনার পাশে অন্তরঙ্গ বা ঘেঁষাঘেঁষিভাবে দাঁড়ায় বা বসে, আপনার চলার পথ রুদ্ধ করে বা আপনার দিকে সন্দেহজনক লোভাতুর যৌনদৃষ্টিতে তাকায় বা আপনাকে মৃদু ধাক্কা বা সপর্শ করে বা অবজ্ঞা করে। আপনি কি খুব সপষ্টভাষী বা আপনি যা আসলে চান না তা কি সাবলীলভাবে প্রকাশ করতে পারেন? এসব ক্ষেত্রে কি অবিলম্বে আপনার কিছু বলার আছে বা করার আছে? আসলে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনার উচিত সরাসরি সাবলীল ও স্বাচ্ছন্দ্যভাবে বলা যে, আপনি এসব আচরণ একেবারেই পছন্দ করেন না বা আপনাকে সপর্শ না করতে। এটা যদি আপনি নিজের সাথে বা বন্ধুর সাথে অভ্যাস করেন তবে নিশ্চয় আপনার কাজে লাগবে।

যৌন আচরণ সম্পর্কীয় সবগুলো ব্যাপারে আপনার অধিকার আছে। কেউ যদি আপনাকে যৌনভাবে নিপীড়িত করতে চায়, তবে তাকে পুলিশের কথা বলতে পারেন। মনে রাখবেন যে, নিজস্ব অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারটি যে কোনো রকম আক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করবে। আপনার উচিত অন্তত যৌনতার বেলায় নিজেকে আত্মরক্ষা করা। নিজের দায়িত্ব নিজেই নিন। যিনি আপনাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনকর্মে চাপ বা বল প্রয়োগ করে করতে চাচ্ছে তাদের সাথে নম্রভাবে আচরণ করে কোনো লাভ নেই। এদের অনুভূতিতে আঘাত করতে কোনো দুশ্চিন্তায় ভুগবেন না। যে আপনার আবেগ অনুভূতিকে সমমান করে না, তাকে বা তার অনুভূতিকে সমমান করার কিছু নেই।

আপনার পোশাক-আশাক, কথাবার্তার ধরন বা কতক আচরণ সেক্সি বা যৌন আবেদনময়ী মনে হতে পারে। অন্য মানুষ কী ভাবল বা বলল তাতে আপনার মাথাব্যথা হওয়া উচিত নয়। অবিলম্বে ‘না’ বলার অভ্যাসটা গড়ে তুলুন। অ্যালকোহল ও ড্রাগ সেবনে কারো কারো আবার নিজের শরীর ও মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। আপনি যদি এগুলো সেবন করেই থাকেন, তবে একটু চিন্তা করে দেখুন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন কি না বা নিজের শরীর ও মনের যত্ন নিতে পারবেন কিনা। যেসব পরিস্থিতি আপনার জন্য বিপজ্জনক বা আপনি খুব বেশি অস্বস্তিবোধ করেন সেগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। বন্ধু-বান্ধবের সাথে চমৎকার সম্পর্ক বজায় রাখুন। কেননা আপনার দুঃসময়ে তারাই আপনাকে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা বা সমর্থন করবে।

কখনো এ কথা প্রচার করে বেড়াবেন না যে, আপনি একা একা হেঁটে বাড়ি ফেরেন। কেউ হয়ত আপনাকে অনুসরণ করতে পারে। মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটুন। অলিগলি দিয়ে পারতপক্ষে হাঁটবেন না বরং ট্রাফিক জোন অনুসরণ করে হাঁটুন। গাড়িতে ওঠার সময় বা দরজা দিয়ে ঢোকার সময় চাবি খুব ভালোভাবে আগেই হাতে রাখা চাই। আপনার যদি মনে হয় যে, কেউ আপনাকে অনুসরণ করছে তবে কাছের যে কোনো ফোন থেকে পুলিশকে খবর দিন। সে সময় নিরাপদ বাড়িতে আপনি ঢুকে যেতে পারেন যা কিনা কেবল আপনার আয়ত্তের ভেতরে হলেই সম্ভব। সাথে একটা বাঁশি বা হুইসেল রাখলে আপনি সহজেই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন ও নিরাপদে থাকতে পারবেন।

তথাপি কিছু অশুভ ঘটনা যদি ঘটেই যায়, তবে আতঙ্কগ্রস্ত হবেন না। আপনার সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা হচ্ছে সুস্থচিন্তা। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, সব পরিস্থিতিতে নিজেকে রক্ষা করার মতো নিশ্চয়তা হয়ত থাকে না। তাই যেভাবে নিরাপদ মনে করেন সেভাবেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করুন। কেউ ধর্ষিতা বা বলাৎকারের শিকার যদি হয়েই যায় তবে এমনটি ভাবা অন্যায় যে, নিজেই বরং এর জন্য দায়ী।

নিজে নিজের স্তন পরীক্ষা
স্তন ক্যান্সারকে যত দ্রুত সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা করা যায়, নিরাময়ের সম্ভাবনাও ততো বেশি থাকে। নিজের স্তন নিজে মাসে অন্তত একবার করে পরীক্ষা করুন এবং মারাত্মক স্বাস্থ্যজনিত ঝুঁকি এড়ান। স্তন পরীক্ষা করতে কয়েক মিনিট সময় প্রয়োজন। নিয়মিত স্তন পরীক্ষা আপনাকে স্তনের সমস্যা বুঝতে সহায়তা করবে এবং প্রতি মাসে কোনো পরিবর্তন হলো কিনা তা সহজেই ধরতে পারবেন।

আপনার মাসিক শেষ হওয়ার পরমুহুর্তে পরীক্ষাটি করার উৎকৃষ্ট সময়। এই সময়েই স্তন অল্প ফুলে থাকে যা স্তনের সবচেয়ে আকারে ছোট অবস্থা। যদি আপনি মাসিক অবস্থায় না থাকেন তবে আপনি যে কোনো একটি নিয়মিত দিন পছন্দ করুন যেটা হতে পারে মাসের প্রথম দিন। এমনকি আপনি যদি একজন ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করার পরও করে থাকেন এবং কোনো পিন্ডাবস্থা স্তনে খুঁজে না পান, তবেই আপনি সাধারণ এবং স্বাভাবিক গ্রন্থি ও মাংস ধারণ করে আছেন এমনটি ভাবতে পারেন।

এটা কীভাবে করতে হয়
প্রথম অংশটা হবে ‘দর্শন বিচার বা দর্শন অংশ’। আপনার দু’পাশে দুটো শিথিল বাহু নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ান। স্তনের আকার এবং আকৃতির কোনো পরিবর্তন আছে কিনা সেটা লক্ষ্য করুন। কোনো প্রকার আঁচিল অথবা স্তনের চামড়ায় এবং বোঁটায় অথবা স্তনের বোঁটা থেকে কিছু ক্ষরণ হচ্ছে কিনা লক্ষ্য করুন। অতঃপর আপনার বাহু দুটো ওপরে উঠান এবং নিচে নামান এবং সাথে সাথে লক্ষ্য করুন আপনার স্তন অন্যদের মতো সহজেই নড়াচড়া করে কিনা। আপনার হাত কোমরের ওপর চেপে রাখুন। কারোরই দুটি স্তন প্রকৃতপক্ষে একই রকম হতে পারে না। তারপরও যদি একটি স্তন অন্যটির চেয়ে কিছুটা ভিন্নতা প্রদর্শন করে তবে একজন ডাক্তার দ্বারা তা পরীক্ষা করে নিতে পারেন।

দ্বিতীয় অংশ হচ্ছে ‘অনুভব অংশ’ আপনি স্তনের অস্বাভাবিক পুরুত্ব কিংবা শক্ত পিন্ড অনুভব করতে পারেন। আপনি আপনার আঙ্গুলের নখ ব্যবহার করবেন না। তার পরিবর্তে আঙ্গুলগুলো একত্র করুন ববং আঙ্গুলের চূড়ার নিচের দিকের সমতল পৃষ্ঠদ্বারা পরীক্ষাটি করুন। এক্ষেত্রে দুটি অথবা তিনটি আঙ্গুল ব্যবহার করা যেতে পারে। চাপটা কিন্তু আপনার স্তন সাপেক্ষে বক্ষদেশের বিরুদ্ধে হতে হবে।

এবার দাঁড়িয়ে পড়ূন এবং একটি বাহু মাথার ওপরে তুলুন। অন্য হাত দ্বারা উত্তোলিত বাহু সংলগ্ন স্তনটি অনুভব করুন। আঙ্গুলগুলো স্তনের শেষ সীমানা থেকে শুরু করে একটা গোলাকার চক্র তৈরি করে নাড়াচাড়া করুন। তারপর আঙ্গুলগুলো বোঁটার কাছাকাছি আনুন এবং এভাবে আপনার সম্পূর্ণ স্তনটি আবার অনুভব করুন। যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি আপনার কাঁধ পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্তনটি এভাবে দখল করতে না পারেন ততোক্ষণ পর্যন্ত পরীক্ষাটির পুণরাবৃত্তি ঘটান। তারপর আপনার বাহুটি নিচু করুন এবং সতর্কতার সাথে বাহুর সন্ধিস্থল অনুভব করুন। এটা একটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেখানে অনেক ক্যান্সার প্রথমে শুরু হয়।

উপরোল্লিখিত ধাপগুলোর পুণরাবৃত্তি অপর স্তনটিতেও ঘটান। অতঃপর ‘অনুভব অংশটি’ দুয়ের অধিকবার করুন, একবার শোয়াবস্থায় এবং পুনর্বার দেখাবস্থায়। আপনার স্ক্রিনে সাবান ব্যবহার করুন যেটা আঙ্গুলের সপর্শতা বাড়াতে সাহায্য করবে। যদি আপনি অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেন, তবে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। অধিকাংশ পিন্ডই কিন্তু ক্যান্সার নয়। যদি এটি ক্যান্সার হয়, তবে যত তাড়াতাড়ি এর চিকিৎসা হবে ততোই চিকিৎসা পদ্ধতি হবে সহজতর এবং সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভের বৃহৎ সুযোগটি এতে থাকবে।

স্তনের এই স্ব-পরীক্ষাটি একটি ভালো অভ্যাস। যদি পারিবারিকভাবে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে অথবা একজন মহিলা যদি পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের হন তবে নিয়মিতভাবে স্তনের ম্যামোগ্রাম পরীক্ষাটি বিবেচনায় রাখতে হবে। ম্যামোগ্রাম একটি বিশেষ এক্স-রে রশ্মি যা একটি ক্যান্সারজনিত পিন্ডের ছোট অবস্থা থাকাকালীন সময়েও তা খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

নারীদের মাসিক বা ঋতুস্রাব
মাসিক বা ঋতুস্রাব একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার। এটা আসলে সুস্থ স্বাস্থ্য এবং নারী যে গর্ভসঞ্চার করতে সক্ষম সেটিই প্রকাশ করে। গর্ভসঞ্চার না হলে নারীর মাসে একবার স্বাভাবিক ঋতুস্রাব হয়ে থাকে। এটা বয়ঃসন্ধিকালে ৯-১৪ বছরের মাঝে আরম্ভ হয়ে ৪৫-৫৫ বছরের দিকে বন্ধ হয়ে যায়। এটাকে মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তি বলা হয়ে থাকে। একটা পিরিয়ড হতে আরেকটা পিরিয়ড পর্যন্ত যে সময় তাকেই মাসিক চক্র বলা যেতে পারে।

মাসিক চক্র চলাকালীন সময়ে জরায়ুতে আভ্যন্তরীণ প্রাচীর বা গাত্র একটু পুরু হয়ে যায়। এতে রক্ত ও পুষ্টি সরবরাহ তখন তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। কেননা এর সাথে গর্ভস্থিত ভ্রূণের স্বাস্থ্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একই সময়ে একটা ডিম্বাণু পরিপক্বতা লাভ করতে শুরু করে। সাধারণত গর্ভাশয় থেকে ডিম্বাণুটি নিঃসৃত হয়ে জরায়ুতে আসে। এ সময় ওভুলেশন হয়ে থাকে। এ সময় ডিম্বাণুটি যদি শুক্রাণু কর্তৃক নিষিক্ত না হয় তবে গর্ভসঞ্চার হয় না। তাই তখন জরায়ুর অভ্যন্তরস্থিত গাত্রের পুরুত্বের কোনো প্রয়োজন নেই। অতএব প্রায় ২ সপ্তাহ পরে জরায়ুর ভেতরের গাত্র কিছুটা রক্ত সহকারে বেরিয়ে আসে সরাসরি যোনিপথ দিয়ে। একেই আমরা মাসিককালীন পিরিয়ড বলে থাকি।

নারীদের পিরিয়ড সাধারণত ৩-৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। প্রথমদিকের দিনগুলোতে যোনি দিয়ে রক্তক্ষরণ একটু বেশি হয়। তবে পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে আপনি বেশ ক্লান্ত বা অবসন্ন বোধ করতে পারেন। এটা আয়রন বা লোহার ঘাটতি বা অভাবজনিত কারণে হতে পারে। তাই আয়রন কমাতে বা রক্তাল্পতা (এনিমিয়া) দূরীকরণে আয়রন বা লোহাসহ ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ সেবন করা যেতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়ে বা নারী বা মহিলারা টেম্পুন ব্যবহার করতে পারেন। এটা বিভিন্ন সাইজ বা আকারের হতে পারে। আপনার শরীরের সাথে মানানসই একটা আকার বেছে নিন। এটাকে সঠিকভাবে প্রবিষ্ট করানো হলে সাধারণত অনুভূত হয় না। এটা আপনার যোনির অভ্যন্তরেও ঢুকে যাবে না বা হারিয়ে যাবে না। এই টেম্পুনের নিচের দিকের সাথে যে সুতা বা তন্তু লাগানো থাকে সেটি দিয়ে সহজেই এটিকে বেরও করা যেতে পারে।

প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পরপর টেম্পুন বদলাতে হবে। অনেকক্ষণ যাবৎ টেম্পুন পরিহিত থাকলে তা ব্যাকটেরিয়া বা অন্য জীবাণু জন্মাতে সহায়তা করে এবং এ থেকে সংক্রমণ বা ইনফেকশন পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। একে বলা হয় টক্সিক শক সিনড্রম। এটি বিরল ক্ষেত্রে হয়। তবে এতে তীব্র প্রতিক্রিয়াযুক্ত স্বাস্থ্যসম্পর্কীয় ঝুঁকি থাকে। কতক নারীর মাসিক বা ঋতুস্রাব খুব নিয়মিতভাবে হয়। যেমন ২৭ দিন পরপর বা প্রতি ৩৩ দিন পর পর হতে পারে। বেশিরভাগ নারীর ক্ষেত্রে মাসিক চক্র অনিয়মিত থাকে। এক মাস থেকে অন্য মাসে মাসিক চক্র কিছুটা কম বেশি হতে পারে। এটিও কিন্তু স্বাভাবিক। বেশিরভাগ মাসিক চক্র ২১ থেকে ৩৪ দিনের ভেতর হয়ে থাকে তবে গড় হচ্ছে ২৮ দিন।

মাসিক আরম্ভ হওয়ার প্রথম বছরে এটা খুব অনিয়মিত থাকতে পারে। আবেগজনিত সমস্যা, অসুস্থতা, স্ট্রেস বা মনোশারীরিক চাপ, দৈহিক ওজন হারানো বা লাভ করা ইত্যাদির কারণে মাসিক চক্র অনিয়মিত হতে পারে বা হঠাৎ কোনো একটা পিরিয়ড মিসও হয়ে যেতে পারে। যেসব নারীরা সম্প্রতি জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বা বড়ি সেবন করছেন, তাদেরও কোনো পিরিয়ড বাদ পড়তে পারে অথবা প্রথম কয়েক মাস দুই পিরিয়ডের মাঝামাঝি সময়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে। গর্ভসঞ্চারে বা গর্ভাবস্থাতেও পিরিয়ডের আমূল পরিবর্তন হয়। নারী মাসের বিশেষ দিনগুলোতেও আসলে আগের মতো স্বাস্থ্যবতী থাকে। এ সময় নারীরা শাওয়ারে গোসল করা, সাঁতার কাটা, শারীরিক ব্যায়াম, যৌনমিলন বা যৌনসঙ্গম ইত্যাদি সবই করতে পারে।

তবে বেশিরভাগ নারী পিরিয়ডের প্রথম বা দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত ব্যথা বা কুঞ্চন (সংকোচন) অনুভব করে থাকেন। এটা শারীরিক ব্যায়াম, সামান্য গরম প্যাড বা ব্যথানাশক ওষুধ সেবনে দূর করা যেতে পারে। কতক নারীর বেলায় আবার মাসিক পিরিয়ডকালীন জটিলতার জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হতে পারে। কেউ কেউ তীব্র কুঞ্চন বা সংকোচনের জন্য চাকরিস্থলে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না অথবা ৫ দিনে ১০-১২টি প্যাড ব্যবহার করে এদের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। মাসিক চলাকালীন সময় ব্যতীত যে রক্ত যায় বা কুঞ্চন হয় সে ব্যাপারেও সচেতন হওয়া উচিত। আর কারো যদি একটা মাসিক চক্র মিস হয়ে যায় তবে গর্ভসঞ্চারের সম্ভাবনা বিদ্যমান এবং অবিলম্বে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা যেতে পারে।

স্মরণ রাখবেন যে, একবার পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর যে কোনো সময় আপনার গর্ভসঞ্চার হতে পারে। তাই যদি যৌনসঙ্গম করে থাকেন অথচ গর্ভবতী হতে না চান, তাহলে অবশ্যই জন্মনিয়ন্ত্রণের কোনো পদ্ধতি বাছাই করা উচিত।

মাসিক পূর্ববতী সিনড্রম (পিএমএস)
কতক নারী তাদের মাসিক ঋতুস্রাব হওয়ার কয়েকদিন আগে তাদের শরীর ও মনে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করে থাকেন। একে মাসিক পূর্ববতী সিনড্রোম বা পিএমএস বলে। শারীরিক পরিবর্তনের মাঝে রয়েছে মাথাব্যথা, অবসন্ন বা ক্লান্ত লাগা, কোনো নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি ঝোঁক, ঘুমের সমস্যা বা অনিদ্রা, নিজেকে ভারী ভারী লাগা, স্তনে সংবেদনশীলতা ইত্যাদি। মানসিক পরিবর্তনের মাঝে বিষণ্নতা বা অল্প সময় মেয়াদি মন খারাপ অবস্থা, দুশ্চিন্তা, উত্তেজনা, মন মেজাজে পরিবর্তন বা কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে না পারা ইত্যাদি।

সব মহিলাদের পিএমএস বা মাসিক পূর্ববতী সিনড্রোম থাকবে এমন কোনো কথা নেই। কেউ কেউ এ সময়েও বেশ প্রাণবন্তু ও সতেজ থাকেন। তারা ভালো অনুভব করেন ও বেশ সৃজনশীল অনুভব করেন। আবার কতক নারী হয়ত হাতে গোনা কয়টি পরিবর্তন খেয়াল করে থাকেন। এসব উপসর্গ কখনো কখনো এত তীব্র মাত্রার হয় যে, তাদের কার্যক্ষমতা বাধাপ্রাপ্ত হয়। তবে নারীরা তাদের জীবনকে কিছু নিয়ম বা পন্থা অবলম্বন করে সহজতর করে রাখতে পারে। আগে বুঝতে শিখুন কী কারণে এসব উপসর্গ সৃষ্টি হয়। স্ট্রেস বা মনোশারীরিক চাপ এবং ডায়েট বা আহার এ ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

মাসের এ দিনগুলোতে মনোশারীরিক চাপ বা স্ট্রেস সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন। আপনার পরিবার ও পরিবারের সদস্যকে জানতে দিন যে, মাসিক পূর্ববর্তী সিনড্রোম আসলে কী। তবে আপনি তাদের নিকট থেকে সহায়তা ও সমর্থন পেতে পারেন। কতক নারী ইয়োগা, মেডিটেশন বা শিথিলায়নের কতক পন্থা মেনে চলে খুব ভালো ফল পান। অতিরিক্ত চিনি সমন্বিত খাবার, লবণ ও ক্যাফেইন পরিহার করুন বিশেষত পরবর্তী পিরিয়ডের ১০ দিন পূর্ব থেকে। অনেক নারীদের বেলায় এটা বেশ সহায়ক। দিনে বিরতি দিয়ে দিয়ে অল্প অল্প খাবার রক্তে চিনির সাম্যাবস্থা বজায় রাখুন। আপনি এ সময়ে উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত খাবার যেমন-কলা, বাদাম, দুধ বা মরিচ, প্রচুর শর্করা যেমন-রুটি, সিরিল, পেস্তা, আলু এবং প্রচুর ফলমূলও নারীদের এ সমস্যার বেলায় বেশ সহায়ক।

সারা মাসব্যাপী শারীরিক ব্যায়াম বেশ সহায়ক, এটা স্ট্রেস বা মনোশারীরিক চাপ এবং টেনশন বা দুশ্চিন্তা দূর করতে পারে। পরিমিত বিশ্রাম নিন। মাসিক চক্রের সময়কালের একটা রেকর্ড বা চার্ট করুন এবং শারীরিক বা মানসিক পরিবর্তনের দিকে খেয়াল রাখুন। মাসিক পূর্ববর্তী এ সময়ে আপনার কেমন লাগে এবং এটা কি একেকবার একেক রকম হয় কিনা সেটাও আপনি এ থেকে বুঝতে পারবেন। এতে করে আপনার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা আস্থা বাড়বে।

মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তি
মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তি মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া নারীদের জীবনের একটি সম্পূর্ণ শারীরবৃত্তীয় ও স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে এটি সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছরের ভেতরেই হয়ে থাকে এবং এর মানে হচ্ছে ভবিষ্যতে সন্তান উৎপাদন করা যাবে না বা গর্ভসঞ্চার করা যাবে না। আবেগজনিত নানা ব্যথা, দুশ্চিন্তা অথবা সমস্যা এড়াতেও কেউ কেউ অতিরিক্ত পরিমাণে আহার করে থাকে। রজঃনিবৃত্তি বা মেনোপজ নারীর জীবনে এক নতুন ধরনের স্বাধীনতা বয়ে আনে। মাসিক ঋতুস্রাব বা ঋতুস্রাবকালীন রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা এবং তাদের কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রয়োজন হয় না, গর্ভধারণের ভীতিও কমে যায়। কোনো নারীর জীবনের শেষের দিকেও পিরিয়ড কিংবা মাসিকগুলো সাধারণত অনিয়মিত হয়ে থাকে এবং ধীরে ধীরে কমে শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়।

তবে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক ক্ষরণ বা সংকোচন কিংবা কুঞ্চন ঘটে থাকলে অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। তবে রজঃনিবৃত্তি সম্পন্ন হতে একটু সময় লাগতে পারে। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত ঋতুস্রাব সম্পূর্ণ বা পুরোপুরি বন্ধ না হয়, সেই সময় পর্যন্ত নারীর গর্ভসঞ্চারের সম্ভাবনা থাকে। তাই সেই সময়েও যদি নারী যৌনভাবে সক্ষম থাকে কোনো ধরনের গর্ভসঞ্চার করতে না চান, তাহলে উচিত রজঃনিবৃত্তির পরেও প্রায় ১ বছর কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পন্থা অবলম্বন করা।

আসলে মাসিক ও ঋতুস্রাবকালীন ক্ষরণ মূলত হয় মেয়েলি হরমোনগুলোর প্রভাবে। আর রজঃনিবৃত্তির বেলায় যেটি ঘটে সেটি হচ্ছে মেয়েলি হরমোনগুলোর পরিমাণ খুব কমে যায়। কেননা নারীর বয়স যত বাড়ে ওভারি বা গর্ভাশয়ে ততো কম পরিমাণে মেয়েলি হরমোন উৎপন্ন করে। এসব শারীরিক বিভিন্ন বা হরমোনজনিত বিভিন্ন পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। বেশিরভাগ নারী এই সময় তাদের দেহে বেশ কিছু পরিবর্তন খেয়াল করে থাকে। আবার কতক নারীর ক্ষেত্রে কিছু শারীরিক পরিবর্তন তো ঘটেই, মানসিক বা আবেগজনিত কিছু পরিবর্তনও ঘটে-যেগুলো কিনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুব অস্বস্তিকর হয়ে থাকে।

রজঃনিবৃত্তির সময় যেসব অস্বস্তি দেখা যায়, তার ভেতরে একটি মূল হচ্ছে গরম ঝাপটা লাগার মতো বা মুখ রক্তিম হয়ে যাওয়া। এটা আসলে ত্বকে যেসব রক্তনালি রয়েছে সেগুলোর এক ধরনের রিঅ্যাকশন বা বিক্রিয়াজনিত কারণে হতে পারে। এতে আসলে এমন একটি অনুভূতির সৃষ্টি হয় যেন তাপ কিংবা গরম বুক থেকে মাথা পর্যন্ত উঠতে থাকে। এ সময় নারী প্রাথমিক পর্যায়ে বেশি বেশি ঘামতে থাকে এবং পরবর্তীতে ঘাম কমে আসে এবং ঠান্ডা বা শীতল অনুভব করে। এটা নিদ্রাকালীন সময়ে কিংবা জাগ্রতকালীন সময়ে যে কোনো অবস্থাতে হতে পারে। পরবর্তীতে যোনি সাধারণত শুষক এবং পাতলা হতে থাকে এবং যৌনসঙ্গম বা মিলনের সময় সাধারণত অস্বস্তিবোধ হয়।

নারীর মূত্রথলিতে সংক্রমণ বা ইনফেকশন
মূত্রথলিতে ইনফেকশন বা সংক্রমণ নারীদের তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হয়। যে নালীর সাহায্যে মূত্রথলি থেকে মূত্র বাইরে আসে, সেটি নারীদের ক্ষেত্রে অনেক ছোট থাকে। এটা ব্যতীত মূত্রনালীর ফুটো বা ছিদ্রটিও যোনিদ্বার ও পায়ুছিদ্রের খুব নিকটেই থাকে। তাই স্কেস করার সময় যোনি বা পায়ুপথের জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীর ছিদ্র দিয়ে গিয়ে মূত্রথলিতে ইনফেকশনের সৃষ্টি করতে পারে।

মূত্রথলির ইনফেকশনের প্রথম দিকে আক্রান্ত যে কেউ নারী হোক বা পুরুষ হোক ঘনঘন প্রস্রাব করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। আবার কখনো নারী একবার প্রস্রাব করেই আবার প্রস্রাব করার চেষ্টা করেন। এসব ক্ষেত্রে প্রস্রাব দিয়ে রক্ত বের হতে পারে বা এটির অন্য রকম গন্ধ থাকতে পারে। কতক ক্ষেত্রে প্রস্রাব করার সময় ব্যথা পাওয়া যায় ও কষ্ট হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধারণা করা হয় যে, সংক্রমণটি হয়েছে মূত্রথলিতে পরবর্তীতে দেখা যায় যে, ইনফেকশন আসলে কিডনিতে। এসব ক্ষেত্রে জ্বর, কাঁপা, বমি বমিভাব, কোমরের পেছনের দিকে ব্যথা ইত্যাদিও অন্যান্য উপসর্গের সাথে থাকতে পারে।

তবে ইনফেকশন বা সংক্রমণ মূত্রথলি আর কিডনি যেখানেই হোক না কেন আপনাকে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ল্যাব পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রস্রাবের নমুনা ল্যাবটেরিতে পাঠাতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করে ভালো ফল পাওয়া যায়। কতক নির্দেশ সতর্কতার সাথে মেনে চলুন আর সবগুলো ওষুধ খাওয়া সম্পন্ন করুন। সবগুলো নির্দেশ মেনে না চললে ইনফেকশন বা সংক্রমণ আবার হতে পারে।

মূত্রথলির নানা ইনফেকশন বা
সংক্রমণ এড়াতে যা করণীয়-

  • দৈনিক ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি বা তরল খাবার, তবে ফলের রস বেশ উপকারী। কফি, চা বা অ্যালকোহল তরল হলেও কিন্তু উপকারী হয়।
  • প্রস্রাব পরিষকারভাবে করুন। কখনো ধরে রাখবেন না।
  • যৌনসঙ্গম বা যৌনমিলন করার আগে ও পরে প্রস্রাব করে নিন। এর সাহায্যেও কতক জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে যায়।
  • টয়লেট ব্যবহারের পর সামনে থেকে পেছনের দিকে পরিষকার করুন। এর সহায়তায় পায়ুপথ থেকে মূত্রনালীর ছিদ্রপথে জীবাণু ঢুকতে পারে না।
  • আপনার সেক্স পার্টনারকে এনাস বা পায়ুপথ এবং মূত্রনালীর ছিদ্রপথ সপর্শ করতে দেবেন না।
  • গোসল করার পর কাপড় ভালোভাবে ধোবেন এবং শুকিয়ে নেবেন।
  • খুব বেশি মাত্রায় টেম্পুন ব্যবহার করবেন না বা স্যানিটারি প্যাড বা প্যান্টি লাইনার কম ব্যবহার করবেন।
  • সুতি কাপড়ের তৈরি অন্তর্বাস বা পেন্টি পরিধান করবেন।

শ্রোণীর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা
শ্রোণী বা পেলভিস, যোনি বা অন্যান্য অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহের পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল চেক-আপ। নারীদের বছরে অন্তত একবার এ পরীক্ষাটি করা দরকার। যে কোনো নারীর বেলাতে এ পরীক্ষাটি যখন প্রথমে করা হয় তখন নারী এতে লজ্জা, সংকোচ বা খুব অস্বস্তিবোধ করে। তবে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর তারা বেশ স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করে। এ পরীক্ষাটি নিয়মিত করার মানেই হলো নিজের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিজে নেয়া। এভাবে নিয়মমাফিক পরীক্ষাটি করা হলে সমস্যা ছোট থাকা অবস্থাতেই তা ধরা পড়ে ও চিকিৎসা অনেক সহজতর হয়।

যেসব নারীরা শ্রোণী অভ্যন্তরে নানা অঙ্গ কখনো পরীক্ষা করাননি তাদের উচিত মাসিক স্রাব চলাকালীন সময় ব্যতীত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা। তবে শাওয়ারে ভালোভাবে গোসল করে নেয়া উচিত ও অন্তর্বাস বদলিয়ে নেয়া উচিত। তবে নারীর আসলে ডুশ নেয়া উচিত নয়। শ্রোণীর পরীক্ষাটি করার আগে ডাক্তার আপনাকে কতগুলো বিশেষ প্রশ্ন করবে যেমন-শেষ মাসিক স্রাবের তারিখটি কত? আপনি কি যৌনমিলন বা যৌনসঙ্গম করেছেন বা আপনার কি গর্ভসঞ্চার হয়েছে? যদিও নারীর দেয়া উত্তরগুলোকে খুব গোপনীয় বিবেচনা করা হয়।

নারীকে অনাবৃত করে একটি গাউন পরিয়ে পিঠের দিকে শুতে বলা হয় একটি বিশেষ পরীক্ষার টেবিলে আর পা একটু উপরে তোলা হয় ও ছড়িয়ে দেয়া হয়। বেশিরভাগ নারী কেবল মহিলা ডাক্তার দিয়ে এটি করিয়ে স্বস্তিবোধ করে বা সেই রুমে অন্য কোনো মহিলার উপস্থিতি কামনা করে। লম্বা দম বা শ্বাস নেয়াও একই সাথে শিথিল হওয়া এ পরীক্ষাকে সহজতর করে তোলে। ডাক্তার আপনাকে পরীক্ষা করার সময় আপনি কিছু জানার থাকলে জিজ্ঞেস করে নিতে পারেন বা নিজেকে একটা আয়নাতে দেখার ইচ্ছা পোষণ করতে পারেন। ডাক্তার নারীর ভালভা বা বহিঃজননদ্বার বা যৌনাঙ্গ ও তৎসংশ্লিষ্ট এলাকাতে ইনফেকশন বা ঘা আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখবেন। এরপর প্লাস্টিকের বা ধাতুর তৈরি একটা সেপকুলাম যোনিতে প্রবিষ্ট করানো উচিত। এটার দুটো সমান অংশ বিদ্যমান যা যোনির অভ্যন্তরে ছড়িয়ে যায় এবং নারীর সার্ভিক্স দেখা যায়।

সার্ভিক্স থেকে কোনো রস ক্ষরিত হয় কিনা বা ওখানে কোনো চুলকানি আছে কিনা বা ইনজুরি আছে কিনা তা ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখেন। এটাকে বলে পেপ টেস্ট। সার্ভিক্সে খুব কম সংখ্যক স্নায়ুর শেষাংশ বিদ্যমান যার কারণে বেশি ব্যথা পাওয়া যায় না। সার্ভিক্স থেকে মিউকাস নিয়ে ইনফেকশন আছে কিনা তা পরীক্ষা করা যেতে পারে। এরপর সেপকুলামকে যোনি থেকে সরানো হয়। শ্রোণীর পরীক্ষাটি ভালোভাবে করার জন্য এক হাতের আঙ্গুল যোনিতে প্রবেশ করানো হয় এবং অপর হাত দিয়ে পেটে চাপ দেয়া হয়। এর মাধ্যমে ডাক্তার নানা পেলভিক অঙ্গ যেমন জরায়ু, গর্ভাশয় বা ডিম্বনালী ইত্যাদি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। যে কোনো ধরনের ব্যথা, সপর্শকাতরতা, অস্বস্তিবোধও কিন্তু ইনফেকশন বা সংক্রমণের কারণ হতে পারে।

পেপ টেস্ট
পেপ টেস্টটি নারীদের যৌনস্বাস্থ্যের জন্য খুব দরকারি। শ্রোণীর পরীক্ষা বা পেলভিসের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় পেপস্মিয়ার টেস্টটা করা যেতে পারে। এতে করে জরায়ু যেটার মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে (সার্ভিক্স) সেটাতে কতক পরিবর্তন দেখা যায়। এর মাঝে কতক পরিবর্তন আছে যেগুলোর চিকিৎসা না করালে ক্যান্সার পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। সার্ভিক্সের ক্যান্সার সাধারণত খুব আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। তাই প্রারম্ভিক পর্যায়ে ক্যান্সার ধরা পড়লে এবং অপারেশনের মাধ্যমে সারিয়ে ফেললে তাড়াতাড়ি আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।

পেপ টেস্ট করার পর ডাক্তার সার্ভিক্স থেকে খুব আলতোভাবে কতক কোষ সংগ্রহ করে। যেহেতু সার্ভিক্সে খুব বেশি স্নায়ুপ্রান্ত নেই তাই তেমন ব্যথা লাগে না। এই টেস্টের ফলাফল জানতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। তথাপি আপনার কোষসমূহে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা থাকলে ডাক্তার আপনাকে তা অভিহিত করবেন এবং এসবের বেলায় আরেকটা পেপটেস্ট করা দরকার হতে পারে। যৌনবাহিত নানা রোগ বা ইনফেকশন এবং নানান রাসায়নিক পদার্থের সংসপর্শে কোষ অস্বাভাবিক হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক কোষ মানেই ক্যান্সার নয়। তাই আপনার ডাক্তার যদি দ্বিতীয়বার পেপ টেস্ট করাতে বলেন, তখনই আবার ধরে নেবেন না যে আপনার ক্যান্সার হয়েছে। মনে রাখবেন যে, সার্ভিক্সের ক্যান্সার ভালোভাবে চিকিৎসা করালে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। আপনার যদি কোনো ইনফেকশন বা সংক্রমণ থেকে থাকে, তবে এর খুব ভালো চিকিৎসা সাধারণ ডাক্তারই করতে পারেন। কারো যদি অস্বাভাবিক কোষ থাকে সেক্ষেত্রে কেটে, ফ্রিজিং করে বা লেজার চিকিৎসা দিয়ে এদের ধ্বংস করা যায়।

বন্ধ্যাত্ব
বন্ধ্যাত্ব বলতে মূলত বোঝায় গর্ভধারণ করতে অক্ষমতা বা গর্ভসঞ্চার না হওয়া। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক দম্পতি মনে করে গর্ভসঞ্চার বা গর্ভধারণ হয়ত খুব একটি সহজ ব্যাপার। কিন্তু কারো কারো ক্ষেত্রে এটি কাল হয়ে দাঁড়ায়। কতক দম্পতি এ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় ভোগে এবং বেশ হতাশাগ্রস্ত হয়ে যায়। তবে বেশিরভাগ অভিজ্ঞ ডাক্তার বা ফিজিশিয়ানরা এসব দম্পতিদেরকে কমপক্ষে এক বছর ধৈর্য ধরতে বলেন। বন্ধ্যাত্ব ব্যাপারটির সাথে কেবল যে নারী জড়িত এটি একদম ভুল ধারণা। আসলে যেটা সত্য সেটা হচ্ছে নারী-পুরুষ উভয়ের যে কোনো একজনের কোনো মেডিকেল সমস্যার কারণে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে।

গর্ভসঞ্চার বা গর্ভধারণের সম্ভাবনাকে বাড়াতে নারী-পুরুষ উভয়েরই যেগুলো করা উচিত সেগুলো হচ্ছে-স্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবনযাপন করা ও স্বাস্থ্যবান থাকা (ক্যাফিন টোবাকো, নিকোটিন, ড্রাগ এবং অ্যালকোহল সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা)। মহিলাদের সহজে গর্ভসঞ্চার করার জন্য যেটি করা উচিত, সেটি হচ্ছে সব প্রকারের মনো-শারীরিক চাপ এবং অবসন্নতাকে কাটিয়ে ওঠা। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং পরিমিত ব্যায়াম গর্ভসঞ্চারে সহায়ক।

পুরুষদের ত্বকের সাথে শক্তভাবে লেগে থাকে এরকম পোশাক বা অন্তর্বাস ব্যবহার করা মোটেও উচিত নয়। কেননা, শুক্রাশয় বা অন্ডথলি সপার্ম বা শুক্রাণু তৈরি করার জন্য বা বেঁচে থাকার জন্য যে নিম্নতাপের প্রয়োজন এই ক্ষেত্রে তা ব্যাহত হয়। তাই শুক্রকীট বা শুক্রাণু বেঁচে থাকতে পারে না। যৌনমিলনের সময় নারীর উচিত পশ্চাৎদেশের ওপর ভর দিয়ে শোয়া এবং সে অবস্থায় কমপক্ষে ২০ মিনিট কাটানো। এটা গর্ভসঞ্চারে কিছুটা সহায়ক হতে পারে। বন্ধ্যাত্বের ওপরে অনেক কোর্স, বই এবং ক্ষুদ্র পুস্তিকা প্রচলিত রয়েছে। তাই কোনো দম্পতির জানা উচিত নারীটির কখন ওভুলেশন হয়। তবে এটা বুঝতে হলে কিছুটা অভিজ্ঞতার প্রয়োজন যেমন-মহিলার দৈহিক তাপমাত্রার চার্ট এবং যোনি নিঃসৃত মিউকাসের ঘনত্ব থেকে এটি বের করা যেতে পারে। ওভুলেশন সাধারণত পরবর্তী মাসিক ঋতুস্রাবের ১৪ দিনের দিকে হয়। তাই ওভুলেশনের ঠিক একদিন আগে যৌনমিলন বা যৌনসঙ্গম করলে গর্ভসঞ্চারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার জন্য অনেক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা ফিজিশিয়ান রয়েছেন। নারী-পুরুষ উভয়েরই ক্লিনিক্যাল বা শারীরিক পরীক্ষা করতে হবে এবং একই সাথে তাদের অন্য কোনো রোগের পূর্ব ইতিহাস নিতে হবে। পুরুষের ক্ষেত্রে প্রথমে যেটি করা হয় সেটি হচ্ছে শুক্রাণুর পরীক্ষা বা ধাতু পরীক্ষা এবং নারীর ডিম্বাণু কখন নিঃসৃত হয় তা দম্পতিকে ভালোভাবে শিখিয়ে দেয়া হয়। আরো বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয় এবং যেসব চিকিৎসা দেয়া হয় সেগুলো মূলত হরমোন দিয়ে চিকিৎসা বা শল্য চিকিৎসা।

বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার ফলশ্রুতিতে কোনো কোনো দম্পতির গর্ভসঞ্চার সম্ভব হয়, আবার কোনো কোনো দম্পতির ক্ষেত্রে হয়ত বা সম্ভব হয় না। কারো কারো ক্ষেত্রে আবার নিষিক্ত ডিম্বাণুকে জরায়ুতে স্থাপন করতে হয়। এই ক্ষেত্রে প্রথমে নারীর ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয় এবং বিশেষ পরিবেশে শুক্রাণুর সাথে নিষেক ঘটানো হয় এবং পরবর্তীতে জরায়ুতে স্থাপন করানো হয়। এই পদ্ধতিতে সফলতার হার প্রায় শতকরা দশ ভাগ। গর্ভবতী হওয়ার চেষ্টা করাটা অনেক সময় আবেগজনিত সমস্যা, হতাশা এবং নৈরাশ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এ ক্ষেত্রে অবিলম্বে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা ক্লিনিকের সাথে পরামর্শ করুন।

আহারজনিত সমস্যা
যৌবনে এবং গর্ভাবস্থায় এবং যেসব মায়েরা শিশুদের স্তন্য দান করেন তাদের পরিমিত এবং পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে যেসব শিশুদের ভালোভাবে খাবারের যত্ন নেয়া হয় তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে অন্যদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়ে থাকে। তারা যে কোনো কিছু খুব সহজেই শিখে ফেলতে পারে। প্রবীণদের যারা নিয়মমাফিক পরিমিত আহার করেন তারা দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারেন এবং তাদের স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা কম হয়। তবে কোনো কোনো শারীরিক অসুস্থতা প্রচুর পরিমাণে চিনি বা চর্বিজাতীয় খাবার সেবনে বেড়ে যেতে পারে। কতকক্ষেত্রে প্রবীণরা হয়তো ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ জাতীয় খাবার কম খান কিন্তু খনিজ, আমিষ এবং শর্করা জাতীয় খাবার বেশি খান এটিও কিন্তু ঠিক নয়। বিশেষত বয়ঃসন্ধিকালের মেয়ে এবং নারীরা তাদের শরীরের আকার আকৃতি বা বডি ইমেজ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় থাকে। কিন্তু গবেষণায় দেখা যায় বডি ইমেজ নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং ওজন নিয়ে দুর্ভাবনা তীব্র স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে। তবে প্রতিদিনের খাবারে আমাদের কিছু পরিমাণ চর্বি প্রয়োজন। শারীরিক জীর্ণতা বা অতি হাল্কা পাতলা গড়নের শরীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারে না।

ডায়েটিং বা খাবার নিয়ন্ত্রণ করে সাময়িকভাবে সামান্য ওজন কমানো যেতে পারে। তবে খুব দ্রুত ওজন কমানো স্বাস্থ্যের জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ। কাজেই হঠাৎ করে ওজন লাভ করা বা কমে যাওয়া সবগুলোই অস্বাস্থ্যকর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যারা ডায়েটিংয়ের মাধ্যমে ওজন কমান, পরবর্তীতে তাদের ওজন কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি বেড়ে যায়। আবার অনেক মেয়েদের বেলায় এনোরেক্সিয়া বা অরুচি থাকতে পারে। এর কারণস্বরূপ বলা যায়-তারা ওজন বেড়ে যাবে এই আশঙ্কায় এতটাই ভীত থাকে যে, তাদের বর্তমান ওজন সম্বন্ধে তারা চিন্তাই করে না। তারা সাধারণত কম আহার করে এবং রুচক জাতীয় ওষুধ বেশি সেবন করে। অথবা তারা এত বেশি শারীরিক ব্যায়াম করে যে, ওজন বেশি হ্রাস পেয়ে যায়। কতক ব্যক্তি আবার তাদের আবেগ বা অনুভূতি যেমন-হতাশা, নৈরাশ্য, ভয়, রাগ বা অনিরাপত্তা থেকে স্বস্তি পাওয়ার জন্য বা মুক্তি পাওয়ার জন্য আহারকে ব্যবহার করে। যদি কারো নিজের প্রতি বা নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কম থাকে তাহলে ওই সমস্যা হতে পারে।

কতক ব্যক্তি আবার অনাকাঙ্ক্ষিত ক্যালরি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বেশি আহার করে বমিও করে থাকে। একে বলা হয় বুলিমিয়া। এতে দাঁতের স্বাস্থ্য নষ্ট হয়। যদিও এখনও গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি ঠিক কী কারণে মানুষ এই অতিরিক্ত আহার করে। যদি কারো দৈহিক ওজন বর্তমান ওজনের চেয়ে শতকরা ২০ ভাগ বা তার চেয়ে বেশি বেড়ে যায় তাদেরকে আমরা মেদ ভুঁড়ি সম্পন্ন বলতেও পারি। এই মুটিয়ে যাওয়ার কারণে স্ট্রোক বা মস্তিষেক রক্তক্ষরণ, হার্টঅ্যাটাক এবং ডায়াবেটিস হতে পারে। এই মুটিয়ে যাওয়ার জন্য অন্যান্য স্বাস্থ্য সম্পর্কীয় ঝুঁকিও রয়েছে, এটা আয়ু কমিয়ে দিতে পারে।

আহারজনিত অভ্যাসগুলো মূলত শিশু বা কিশোর বয়সেই হয়ে থাকে এবং শৈশবকালের ব্যথা, বা অব্যবহার বা ভয় ভীতি থেকে তীব্র আহারজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটার চিকিৎসা আসলে সহজ নয় এবং এই ধরনের তীব্র আহারজনিত রোগীরা অভিজ্ঞ ডাক্তারদের সমর্থন ও সহায়তা প্রত্যাশা করে। কতক হাসপাতাল রয়েছে যেখানে কিনা নানা ধরনের পুষ্টি সম্পর্কীয় প্রোগ্রাম থাকে। যাতে করে খাদ্যাভ্যাসকে আগের চেয়ে উন্নত করা যায়।

তীব্র বিষণ্নতা ও আত্মহত্যা আপনার কাছে হয়তো প্রায়ই মনে হতে পারে যে, আপনি খুব হতাশ বা নিরাশ এবং জীবনে বেঁচে থাকার হয়তো তেমন কোনো মানে নেই। আসলে কিন্তু এ ধারণাটি সঠিক নয় বরং আপনার মতো কেউ না কেউ জীবনের কোনো পর্যায়ে এমনটি ভেবে থাকেন। আপনার জীবনে হয়তো এই মুহুর্তে ভয়ানক বা দুঃখজনক কিছু ঘটে যেতে পারে। হতে পারে আপনার অন্তরঙ্গ বা ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে বা স্কুলের পরীক্ষাতে ফেল করেছেন বা চাকরি হারিয়ে ফেলেছেন বা বাবা-মার বিচ্ছেদ ঘটে গেছে। এসব ক্ষেত্রে মনে আত্মহত্যার চিন্তা আসতেই পারে। কিন্তু অ্যালকোহল বা ড্রাগও একটি সমস্যা। আপনি হয়তো বা এখনও নিশ্চিত করে জানেন না কী জন্য ভবিষ্যৎ সম্পর্কে হতাশাগ্রস্ত। আচ্ছা, আপনি কি কাউকে খুব বেশি বিশ্বাস করেন? বা ধারণা করেন যে, তিনি আপনার সব কথা মন দিয়ে শুনবেন? আপনার সেই অন্তরঙ্গ পছন্দের ব্যক্তিটি হতে পারে আপনার বন্ধু-বান্ধবী, বাবা-মা, কাউন্সিলর, শিক্ষক বা ধর্মীয় নেতা। যদি শোনেন যে, কেউ আত্মহত্যার কথা বারবার বলছে সে বাবা-মা, আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব যেই হোক না কেন তার আত্মহত্যার কথাটিকে গভীরভাবে নেবেন। বিভিন্ন গবেষণা এবং সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, যারা বারবার আত্মহত্যার অনুভূতি প্রকাশ করে এবং আত্মহত্যার চিন্তা করে তারা আত্মত্যার করেও ফেলে। কখনো কখনো তারা আত্মত্যার অনুভূতিকে একটু অন্যভাবে প্রকাশ করে। যেমন-

  • মৃত্যুর ভয় প্রদর্শন বিশেষ করে আত্মত্যাঘটিত বা মৃত্যু সম্বন্ধে বারংবার আলোচনা।
  • আত্মহত্যা কীভাবে করবে সেই সম্পর্কে পরিকল্পনা।
  • স্কুল বা চাকরি স্থলে কোনো কারণ ব্যতীত অনুপস্থিত থাকা।
  • কোনো কিছুতে আগ্রহবোধ না করা।
  • মনে দীর্ঘমেয়াদি অস্বস্তিবোধ বা প্রায়ই কেঁদে ফেলা।
  • তীব্র দুশ্চিন্তা, ঘুম ও আহারে অনিয়ম বা সমস্যা।
  • অ্যালকোহল বা ড্রাগ সেবন করা।
  • যে কোনো ব্যাপারে খুব ঝুঁকি নেয়া যেমন-বিপজ্জনকভাবে গাড়ি ড্রাইভ করা বা গাড়ি চালানো।
  • অনাকাঙ্ক্ষিত, একাকিত্ব এবং এসব কিছুতে অক্ষম মনে হওয়া বা কোনো ক্ষতি বা আশঙ্কার অনুভূতি।

ওপরের সবগুলো উপসর্গ বা লক্ষণই হচ্ছে অন্তর্নিহিত বিষণ্নতা, অশনি সংকেত এবং এগুলো অবিলম্বে দূর করতে সচেষ্ট হওয়া উচিত। এই বিষণ্নতার চিকিৎসা মূলত করেন সাইকিয়াট্রিস্ট বা মনোচিকিৎসক বা মনোবিজ্ঞানীরা। তবে সমাজকর্মী এবং কাউন্সিলরও সহায়তা করতে পারেন।

এবোরশন বা গর্ভপাত
গর্ভপাত সম্পর্কে সাধারণ আলোচনা
যদিও এটা গর্ভপাত সম্পর্কে সাধারণ আলোচনা তথাপি এখানে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। কতক লোক রয়েছে যারা এটিকে বলে থেরাপিউটিক বা সার্জিক্যাল গর্ভপাত বা এবোরশন। আবার কিছু লোক এটিকে কেবলমাত্র গর্ভপাত বলে থাকে। গর্ভপাতের মানে হচ্ছে গর্ভসঞ্চারকে নিঃশেষ করে দেয়া। কোনো একজন নারী যখন অপরিকল্পিতভাবে গর্ভধারণ করে বা অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ এড়াতে চায় তখন এটি একটি উল্লেখযোগ্য পন্থা বা উপায়।

বর্তমানে কানাডাতে এবোরশন বা গর্ভপাত ব্যাপারটি আইনগতভাবে স্বীকৃত। সেখানে কী কারণে একজন নারী গর্ভপাত বা এবোরশন করাচ্ছে সেটি তেমন কোনো ব্যাপার নয় বরং প্রতিটি নারীরই নৈতিক বা আইনগত অধিকার রয়েছে গর্ভপাত করানোর। কানাডাতে গর্ভপাত ব্যাপারটি প্রাদেশিক হেল্‌থ প্লেনস বা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনার আওতাধীন রয়েছে। অন্টারিওতে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাকে বলে ওএইচআইপি যা কিনা গর্ভপাতের জন্য অর্থ সঞ্চয় দেয়। কানাডাতে অন্টারিওতে যাদের হেল্‌থ কার্ড রয়েছে তারা কোনো রকম টাকা-পয়সা বা ফি ছাড়াই গর্ভপাত বা এবোরশন করাতে পারেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে কোনো আঞ্চলিক প্যারেন্টহুড এসোসিয়েশন বা পাবলিক হেল্‌থ অর্গানাইজেশন থেকে গর্ভপাত সম্বন্ধে ভালোভাবে জেনে নেয়া যায়।

হাসসাতালে সাধারণত এবোরশন ব্যাপারটি কমই করা হয়। তবে কোনো কোনো প্রাদেশিক অঞ্চলে নারীরা ক্লিনিকে বিশেষ ব্যবস্থায় গর্ভপাত করিয়ে থাকে। কিন্তু এটা ঠিক যে, বিশেষ ব্যবস্থায় হাসপাতাল বা ক্লিনিক যেখানেই গর্ভপাত করানো হোক না কেন এটা নিরাপদ এবং উভয়ক্ষেত্রে এটা অন্টারিওতে করা হয়ে থাকে ওএইচআইপি নামক সংস্থার সাহায্যার্থে। আপনি যদি গর্ভপাত ব্যাপারটা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তবে আমাদের এ নিবন্ধে গর্ভপাতের ওপর অন্যান্য অধ্যায়গুলো পড়ে দেখতে পারেন। তবে গর্ভপাত বা এবোরশন করার ব্যাপারে আবারো সুষ্ঠুভাবে চিন্তা করে নিন। আপনার পছন্দের বা অন্তরঙ্গ বা আপনি যাকে বিশ্বাস করেন তার সাথে খোলামেলা আলাপ-আলোচনা করুন এবং আপনি যে গর্ভপাত করাবেন এ বিষয়ে অনুভূতিগুলো তার সাথে শেয়ার করুন।

এবোরশন বা গর্ভপাত
কীভাবে করা হয় এবং এটি কতটুকু নিরাপদ
বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের গর্ভপাত বা এবোরশন পদ্ধতি রয়েছে। যদিও এটা মূলত করা হয় গর্ভসঞ্চারের প্রথম তিন মাসের মধ্যে। গর্ভপাত বা এবোরশন করানোর সময় নারীকে তার উল্টোদিকে শুয়ে ফিরে থাকতে বলা হয় এবং ডাক্তার খুব যত্নের সাথে তার যোনিদ্বার খুলে সার্ভিক্স দেখেন যা কিনা মূলত জরায়ুর সাথে সংযোগ রক্ষা করে। এক্ষেত্রে ডাক্তার কোনো নির্দিষ্ট এলাকাকে অবশ করানোর জন্য লোকাল এনাসথেসিয়া ব্যবহার করতে পারেন বা জেনারেল এনাসথেসিয়া দিয়ে রোগীকে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পারেন। এবার ডাক্তার ধীরে ধীরে নারীর সার্ভিক্স খোলেন এবং একটি ছোট টিউব তার ভেতরে ঢুকিয়ে দেন। এই টিউবটি আসলে একটি মেশিনের সাথে যুক্ত থাকে যা কিনা খুব যত্নের সাথে জরায়ুর অভ্যন্তরস্থিত ভ্রূণটিকে যোনিদ্বার দিয়ে বের করে দেয়।

এরপর ডাক্তার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নারীর অভ্যন্তরভাগ পর্যবেক্ষণ করেন এবং নিশ্চিত হন যে সেখানে কোনো রকমের টিস্যু বা কলা নেই। এভাবে গর্ভপাত বা এবোরশন করাতে মাত্র ১০ মিনিট সময়ের প্রয়োজন। তবে এবোরশনের সময় নারীদের যোনি দিয়ে মাসিক ঋতুস্রাবের মতো সামান্য রক্ত বের হয়ে আসতে পারে। কিন্তু এ নিয়েই নারী স্কুলে যেতে পারে বা পরবর্তী দিন থেকে কাজ শুরু করতে পারে। তবে খুব তাড়াতাড়ি ওঠা-নামার কাজ বা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কাজ করা উচিত নয়।

এবার আসা যাক ১২ সপ্তাহের গর্ভসঞ্চারের ক্ষেত্রে এবোরশন বা গর্ভপাত ব্যাপারটি কেমন সে সম্পর্কে। গর্ভপাত সম্পর্কে যে ব্যাপারটি আপনি বোঝেন না সেটি সম্পর্কে সরাসরি প্রশ্ন করুন। নিচে এবোরশন বা গর্ভপাত সম্পর্কে কয়েকটি প্রচলিত প্রশ্ন দেয়া হল-

  • এবোরশন বা গর্ভপাত কি ব্যথযুক্ত না ব্যথাহীন।
  • অনেক নারী এবোরশন বা গর্ভপাতের সময় তীব্র কুঞ্চন বা সংকোচনজনিত অবস্থা বোধ করে। তবে কুঞ্চননালীর বা সংকোচ চলাকালীন সময়ে ব্যথা যদি খুব বেশি হয় সেক্ষেত্রে ওষুধ দেয়া যেতে পারে।
  • এবোরশন বা গর্ভপাত ব্যাপারটা কতটুকু নিরাপদ?
  • একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, কানাডাতে গর্ভপাত করানো পুরোপুরি নিরাপদ কেননা সেখানে এটি আইনগতভাবে স্বীকৃত এবং এটা মূলত অভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে আধুনিক সজ্জিত ব্যবস্থায় করা হয়। এই গর্ভপাত গর্ভসঞ্চারের যত কম দিনের মাঝে করা যায় জটিলতা বা ঝুঁকির হার ততোই কমে। আপনার যদি একবার গর্ভপাত বা এবোরশন করানো হয়ে থাকে আপনি কি এরপর সন্তান নিতে পারবেন?
  • এর উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ, যেসব নারীর গর্ভপাত অভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে করানো হয় তারা ভবিষ্যতে তেমন কোনো ঝুঁকির সমমুখীন হন না এবং স্বাস্থ্যবান শিশুরই জন্ম দিতে পারেন। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে গর্ভপাতের পর থেকেই নারী তার যৌনতাকে আরো নিরাপদ রাখার জন্য নিয়মিতভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এবোরশন বা গর্ভপাত করার পর যদি যৌনসঙ্গম বা সেক্স করতেই চান তাহলে উচিত কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ অপেক্ষা করা। তবে ইদানীংকালে একটি এবোরশন বা গর্ভপাতের ট্যাবলেট রয়েছে যাকে বলা হয় আরইউ-৪৮৬। আপনারা হয়ত এটির নাম শুনেও থাকতে পারেন। এটি সার্জিক্যাল বা অপারেশনগত গর্ভপাতের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ একটা পদ্ধতি, তবে কানাডা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে এটি এখনো স্বীকৃত নয়।

গর্ভপাত করাতে বাবা-মা বা
যৌনসঙ্গীর সমমতির প্রয়োজনীয়তা
গর্ভপাতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আপনি আপনার পার্টনারের সাথে আলাপ করে নিতে পারেন। যদিও এটি করতে নারীর পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। যৌনসঙ্গীর সমমতির বা যৌনসঙ্গীর সাথে চুক্তি করতে হবে এমন কোনো কথা নেই।

গর্ভপাত করার জন্য আপনি কোথায় যাবেন?
গর্ভপাত করানোর ব্যাপারে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যোগাযোগ করা যেতে পারে। হাসপাতালে গর্ভপাত করানোর আগে আপনার উচিত কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ ক্লিনিকে পরামর্শ করা। এবোরশন বা গর্ভপাত করার সময় ডাক্তার আপনাকে জেনারেল এনাসথেসিয়া দিয়ে নিতে পারেন।

গর্ভসঞ্চারের কোন পর্যায় পর্যন্ত
আপনি গর্ভপাত করাতে পারবেন?
এবোরশন বা গর্ভপাত আসলে গর্ভসঞ্চারের পর যত তাড়াতাড়ি করা যায় ততোই ভালো। এক্ষেত্রে এবোরশন নিরাপদ এবং করাও বেশ সোজা। আপনি যখনই একটা পিরিয়ড মিস করবেন তখনই নিশ্চিত হয়ে নিন আপনি গর্ভবতী হয়েছেন কিনা। মাসিক ঋতুস্রাবের প্রথম দিন থেকে ডাক্তার গর্ভসঞ্চারের হিসেবটা করেন। গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহের বা গর্ভাবস্থার প্রথম এক তৃতীয়াংশেই এবোরশন করে ফেলা উচিত। ২০ সপ্তাহ পরে গর্ভপাত কেবল গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্য রক্ষার্থেই করা যেতে পারে।

এবোরশন করানোর পরে
আপনার কেমন লাগবে?
নারীরা নানা কারণে এবোরশন বা গর্ভপাত করিয়ে থাকে। তবে গর্ভপাত করানোর পরে নারী সাধারণত কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। তবে যেসব নারী পার্টনার, বন্ধু-বান্ধব, পরিবার বা ডাক্তারের নিকট থেকে সহযোগিতা ও সমর্থন না পায় তারা বেশ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে।

আপনি যখন কাউকে জানেন যে,
তিনি গর্ভপাত করাবেনতখন আপনি কী করবেন?
মনে করুন আপনার পার্টনার বা কন্যা বা বান্ধবী এবোরশনের ব্যাপারে বিবেচনা করছেন-এটা কিন্তু আপনার জন্য দুশ্চিন্তার ব্যাপার। তবে গর্ভপাত করানোর পরে বেশিরভাগ নারী সহায়তা ও সমর্থনের জন্য তাদের পার্টনার, বন্ধু বা পরিবারে ফিরে যায়। আপনার উচিত এসবের বেলায় নারীকে সহায়তা করা, তার    দুশ্চিন্তা আর আবেগ অনুভূতিকে নিজের সাথে শেয়ার করুন ও নারীকে সমস্যা সমাধানে যতদূর সম্ভব সমর্থন করুন।