এমবিবিএস এফসিপিএস এমআরসিপি এফআরসিপি
E-mail :professorfiroz@yahoo.com
ফোন: ০১৭১১-৫২১২২২, ০১৯৯-৫২১২২২
পূর্ব প্রকাশের পর
১৯৯০-র দশকে বহুসংখ্যক চিকিৎসক Kohuytian self psychology-তে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে বিষণ্নতাগ্রস্ত রোগীদের চিকিৎসায় এবং বর্ডার লাইন রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে হৃদয়গ্রাহী আবেদন রেখেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ Joanlang (1995) self psychology-র একটা পরিবর্তিত বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করতেন এবং আত্মহত্যা করতে পারে সেরকম রোগীদের চিকিৎসা করতেন। তার লক্ষ্য ছিল ওইসব রোগীদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা। এটা তিনি করতেন চিকিৎসকের বিশেষ অনুভূতির মাধ্যমে, যাতে করে রোগীদের তাদের নেতিবাচক পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে এবং তাদের জীবনের আঘাতজনিত দুটো বা তিনটি বাল্যস্মৃতির হাত থেকে মুক্ত করে স্বতৎস্ফূর্তভাব ফিরিয়ে আনা যায়। তার লক্ষ্যমাত্রা শুধু রোগীদের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর জন্যই ছিল না বরং তা ছিল তাদের মধ্যে একটা আধ্যাত্মিকতার উদ্ভাবনের মাধ্যমে তাদের বিগত কষ্টদায়ক প্রকৃতির হাত থেকে মুক্ত করার জন্য।
এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে রোগীরা তাদের বিগত জীবনের বিশ্বাস ভঙ্গকারী পরিবারের অভিজ্ঞতার এবং বর্তমান জীবনের অনেক হিতৈষী ব্যক্তির বিশ্বাস বাড়ানোর গুণাবালীর পার্থক্য নির্ণয় করতে সক্ষম হলো। এই থেরাপি রোগীদের মনস্তাত্ত্বিক পৃথিবীকে আরো প্রশস্ত করার জন্য পরিচালিত করেছে অন্যের জন্যে বেঁচে থাকার বিশ্বাস এনে দিয়েছে। একটি ধর্মের কয়েকটি লক্ষে পৌঁছার জন্য মিলিতভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে, মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা ও ধর্মের মিলিত চৌরাস্তায় Lang-এর কৌশল স্থাপন করেছে। সম্পূর্ণ ১৯৮০ এবং ১৯৯০-এর দশকজুড়ে অজাচারের বিষয়টি মনোসমীক্ষকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বেলজিয়ামের মনস্তত্ত্ববিদ Nicolas Drruz (1981) Kernberg-এর ব্যবহৃত সংজ্ঞার মধ্যে পার্থক্যকে প্যাথলজিক্যাল বা রোগ বিজ্ঞানের মর্মে ব্যাখ্যা করেছেন। বিষয়ভিত্তিক তার ধারণায় ওইসব ব্যক্তির পরিচয়, যিনি নিজেকে জীবন্ত বলে মনে করেন, নিজের সত্ত্বার সাথে সমতানে উপস্থিত হন এবং যিনি নিজের মধ্যে আত্মাভিমান ধারণ করেন। সংক্রমণের দ্বারা Internalizations (একটি মানসিক যান্ত্রিকতা বিশেষ, যাতে অন্যের ধ্যান ধারণা বা চলনধরণ অজ্ঞানভাবে নিজের বলে ধরে নেয়া হয়) এর মাধ্যমে অজাচারের যে কেন্দ্রীয় সমস্যা তার বিভিন্ন প্রকার জড়িত ব্যবহারিক দিক নিয়ে বিদ্যমান ছিল তা নিয়ে আরো ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হলো। Arnold Cooper এ নিয়ে অনেকগুলো প্রবন্ধ রচনা করলেন। তিনি ছিলেন আমেরিকার মনোসমীক্ষক সমিতির প্রাক্তন সভাপতি।
যৌন বিকৃতির দৃশ্যমান বিষয়বস্তু, মনোসমীক্ষক সম্প্রদায়ের মধ্যে মনোযোগ উৎপাদন করেই চলেছিল। সচরাচর এটা ওসব রোগীদের প্রতি প্রযোজ্য হতো যারা আপাত বিরুদ্ধ সত্য হিসেবে নিজেদের অবমাননা এবং বশীভূতকরণ তালাশ করত। এই ধরনের যৌনবিকৃতি সচরাচর পুনঃপুনঃ হতে দেখা যায় নারী ও পুরুষের মধ্যে সমানভাবে। এর মৌলিক গতিবিজ্ঞান অনেক বেশি নির্ভরশীল একজনের অখন্ডতার সাধারণ স্তরের ওপর। বেশি একত্রিত, যৌনবিকৃত রোগীরা সাধাণত অন্যের প্রতি ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে উপস্থিত করার প্রয়োজনে-এমন একটি ছাঁচ যা তারা প্রায়ই শিখে থাকে তাদের ঘৃণিত অত্যাচারী মা-বাবার শারীরিক দুর্ব্যবহারের প্রতি উত্তরে। এখানে বেঁচে থাকার তাগিদে তাদের বশ্যতা স্বীকার করতে হয় অথবা নিষ্ঠুর মা-বাবার কাছ থেকে সামান্য স্নেহ পাওয়ার আশায় সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করতে হয়। বয়োঃপ্রাপ্তির সময় এই ছাঁচ অতিরিক্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে অজ্ঞানতাবশত নিষ্ঠুর যৌন সঙ্গী মনোনয়নের মাধ্যমে। স্নায়ুবৈকল্য যৌনবিকৃত রোগীদের আর একটি সাধারণ গতিময়তা হচ্ছে যৌনতার দোষকে আগামভাবে প্রায়শ্চিত্ত করার প্রয়োজনীয়তা যেন এমন একজন সঙ্গীকে পছন্দ করা যে হচ্ছে কটুভাষী। এই ছাচের চারিত্র গড়ে ওঠে ওইসব লোকদের মধ্যে যারা যৌনতা দমনকারী পরিবারে লালিত পালিত হয়, যেখানে যৌনতাকে অপবিত্র ও লজ্জাকর মনে করা হয়। যৌন বিকৃতি লোকেরা পরবর্তীতে একটা অভ্যন্তরিক কাজের ওপর আঘাত করে ‘আমাকে যৌন আনন্দ ভোগ করতেই হবে এবং আমি তার জন্য আগাম মূল্য প্রদান করেছি এমন একজনের সাথে জড়িত হয়ে যে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে।’
অন্য পরীক্ষা দ্বারা পরিবেষ্ঠিত ছাঁচগুলোর মতো এসব গতিময়তাকে মনোসমীক্ষণের দ্বারা সঠিক করার চেয়ে খুঁজে বের করা সহজতর, কিন্তু তারা সমীক্ষণের দিক দিয়ে অনেক যৌন বিকৃতির চেয়ে কম ভয়াবহ। এটা সাইকোটিক ও কঠিনভাবে বিষণ্নতাগ্রস্ত কয়েকজন রোগীর মধ্যে দেখা গেছে। যেটা একজন সাধারণ মানুষের কাছে খুব যন্ত্রণাদায়ক মনে হয় তা এই রোগীদের জন্য অনেক প্রশান্তি এনে দেয়। কারণ এটা সাময়িকভাবে তাদের একটা অসহ্য অসাঢ়তা ও মৃতাবস্থার অনুভব এনে দেয়। Sto lorow Atwood এবং Bradchaft (1988) এই ধরনের বিভিন্ন প্রকার যৌনবিকৃতির কথার উল্লেখ করেছেন একটি সমীক্ষণযোগ্য যুবতীর কথা লিখতে গিয়ে, যিনি তার সমীক্ষককে আবেদন করেছিলেন আমাকে আঘাত কর এই বলে। এই রোগীটির আরো ছিল অস্তিত্বহীনতার ও কঠিন পরিচিতির সমস্যামূলক বিভ্রান্তি asif type-এর দ্বারা এমন একটা যৌন বিকৃতির কাঠামোর প্রতিনিধিত্ব করা হয় যাকে কেবল উচ্চশ্রেণীর সমীক্ষণের দ্বারাই সঠিক করা যেতে পারে। অনেক ধরনের সমর্থনযোগ্য পদক্ষেপেরও ছিল প্রয়োজন। যার দ্বারা এই রোগীর যন্ত্রণার জন্য আকাঙ্ক্ষার তীব্রতাকে শেষ করা যায়।
মনোসমীক্ষণকে বোঝা যেতে পারে মনের সিদ্ধান্ত হিসেবে, একটা চিকিৎসা হিসেবে, ওইসব লোকের জন্য একটি প্রশিক্ষণ পদ্ধতি হিসেবে। যারা তাদের পেশাদারী কাজকে ব্যাপক মনোসমীক্ষণের মাধ্যমে অনুসরণ করতে আগ্রহী। যেমনি আমরা বিশ শতাব্দির শেষভাগে এসে পৌঁছেছি মনোসমীক্ষণ এখন একটা ব্যাখ্যাযোগ্য এতটা বেশি সরলতাবঞ্চিত বা Sophisticated মতবাদে এসে থেমেছে যে, সার্বক্ষণিক বিস্তৃতগামী প্রত্যক্ষজ্ঞান এবং স্নায়ুবিজ্ঞানের সাথে একত্রিত হয়েছে। মনোসমীক্ষণের আওতায় অত্যন্ত কঠিন পরিমাণ সূচক গবেষণা যেমনভাবে করা হয়েছিল সানফ্রানসিসকোর মনোসমীক্ষক Joseph Weiss দ্বারা। তার সমীক্ষণে অজ্ঞানদের কাজের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। Weiss-এর Control hypothesis কে স্বতঃসিদ্ধ বলে ধরে নেয়া হয়েছে। তার একটা ব্যাখ্যাযোগ্য মূল্য আছে বিশেষ কোনো ক্লিনিক্যাল অবস্থায়। যেটা dynamic hypothesis-এর চেয়ে উন্নততর। Control hypothesis অনুযায়ী রোগীর সমীক্ষণে দমনকারী বিষয়বস্তু এনে দেয়। এটা এজন্য নয় যে, একটা আবেগ এসে তাকে হঠাৎ করে বিচলিত করে বরং এর কারণ হচ্ছে রোগীরা অজ্ঞানতাবশত তাদের দুশ্চিন্তাকে দূর করতে সক্ষম হয়। তারা কি উদ্ভাবন করতে যাচ্ছে তার ফলাফল সম্বন্ধে জানতে পারে। সমীক্ষক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে এই পদ্ধতিকে সহজ করে তুলে যা রোগীকে অত্যন্ত ক্রোধ ব্যক্ত করতে সংকটপূর্ণ অথবা ভয়াবহ জিনিসকে আলিঙ্গন করতে সাহায্য করে। অন্যতায় যা তাকে অজ্ঞানতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করত। সম্ভবত কার্যকরী সমীক্ষকগণ তা যে কোনো প্রাচীনত্ত্বের থেকে আসুক না কেন এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে সাহায্য করে যে, সেখানে নিষিদ্ধ জিনিসগুলোও ওপরে উঠে আসতে পারে।
মনোসমীক্ষণের শক্তি
চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে মনোসমীক্ষণের প্রয়োজনীয়তা, অপরিবর্তিত অবস্থায় উচ্চ স্তরের চারিত্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে সীমিত হয়ে পড়েছে। মনোসমীক্ষণের দ্বারা জ্ঞাত মনোসমীক্ষার যাইহোক অনেক বেশি কঠিন অবস্থার জন্য ব্যবহারযোগ্যতা আছে। যদিও এসব অবস্থার ক্ষেত্রে Parameters ও ওষুধ প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রশিক্ষণ পদ্ধতি হিসেবে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারীদের জন্য মনোসমীক্ষণের অনেক বেশি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যদিও যেভাবে লক্ষ্য করা গেছে কোনো কোনো স্থানে এর কদর বাড়ছে আবার কোনো কোনো স্থানে কমছে। এর কারণ হিসেবে ধরা হয় খরচাপাতি ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনসমূহকে। অবশ্যই আগামী শতাব্দিতে মনোসমীক্ষণের একটা স্থান হবে। Michel যেভাবে বাকপটুতার মাধ্যমে আলোচনা করেন আজকে ১৯৯৫ সালে এর আকার এবং রাজস্ব একই প্রকার থাকবে না-যেভাবে মেসমারের হিপনোটিক মেথড ১৭৮০-র দশকে যা ছিল তা অনেক পরিবর্তিত হয়ে ১৮৮০র দশকের ‘ন্যান্সির লাইবল্ট এবং বারহেইম’ স্কুলে বরং অনেকটা পরিবর্তিত হয়েছিল। মনোসমীক্ষণ চিকিৎসার একটি উপাদান পরিবর্তিত হবে না কারণ তার পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। তা হচ্ছে তার সমীক্ষণের কুটুম্বিতার সাংগাঠনিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা হচ্ছে প্রত্যেকটি মনোসমীক্ষণ স্কুলের প্রধান চাবিকাঠি। যেভাবে Horvath এবং Laborsky (1993) লিখেছেন যে, ফ্রয়েড জোর দিয়ে বলেছেন, সমীক্ষকদের একটি ইতিবাচক স্নেহ-আসক্তি লালনের মাধ্যমে রোগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনার দ্বারা বুঝতে চেষ্টা করতে হবে। Bordin (1976))-এর গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে তারা সপষ্ট করে দিয়েছিল যে, রোগী সমীক্ষণের মধ্যে প্রবেশ করে Wigh a days functional interpersonal Schema অর্থাৎ তা থেরাপির সময়কালে পুনঃসক্রিয় হয়ে ওঠে। যদি সমীক্ষক এমন একটা ব্যবহারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে যে, সেটা অনুপযুক্ততার ধারণাকে সমর্থন করে, তবে পরিকল্পনার নকশাটা আরো গভীরভাবে অঙ্কিত হয়ে যায়। কিন্তু সমীক্ষক যদি রোগীর অনুভূতির নেতিবাচক দিকগুলোকে পরীক্ষা করে দেখেন এবং সেটা একজন ভালো সমীক্ষক বন্ধুর সহায়তায় করেন তবে সময়মতো সেই পরিকল্পনাটা ভেঙে দেয়া যেতে পারে এবং তার পরিবর্তে আরো অধিক গ্রহণযোগ্য ছাঁচে চিন্তা এবং ব্যবহারের প্রয়োগ সম্ভব হতে পারে।
এই ধরনের সমীক্ষক রোগীর মিথস্ক্রিয়া সব ধরনের থেরাপির ক্ষেত্রে মৌলিক। Patrick Leung (1995) চাইনিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হংকং-এ আরো বেশি বিমূর্তভাবে একই ধরনের একটা কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছেছিলেন যাতে এক সাথে প্রাচ্য ও প্রাতীচ্যের সমীক্ষণের পদ্ধতিগুলোকে একত্র করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, সাইকোথেরাপির উপাদান চাবিকাঠিগুলো হচ্ছে-
(ক) একজন আরোগ্যকারী প্রতিনিধিত্ব যাকে নিজস্ব সাংস্কৃতি থেকে আরোগ্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রেরণ করা হবে।
(খ) একজন সাহায্য প্রার্থনাকারী যিনি বেঁচে থাকার সমস্যাগুলো নিয়ে অসুবিধার মধ্যে আছেন।
(গ) আরোগ্যকারী কর্তৃক এমন একটা আরোগ্যের সম্পর্ক গঠন করা, হোক তা গোপনে বা প্রকাশ্যে, তাতে যে সামাজিক প্রসঙ্গ থাকে যেখানে আরোগ্যকারী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, যার ফলে সাহায্যপ্রার্থী প্রাথমিকভাবে তার কথায়, কাজে এবং ধর্মীয় আচার-আচরণে নিজের মেজাজে, চালচলনে এবং আচার-আচরণে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন লাভ করে এবং
- চলবে



