এফসিপিএসএমআরসিপি এফআরসিপি
রেইনবো (Rainbow) রামধনু
রামধনুর রহস্যময় চরিত্র, যাকে মনে হয় যেন স্বর্গের সাথে পৃথিবীর সেতু বন্ধন রচনা করছে। এর অর্থ হচ্ছে কুসংস্কারী লোকেরা মনে করে এই পরিবর্তন তাদের অনুপ্রাণিত করেছে বহুকাল থেকে বহু সংস্কৃতিতে, যদিও অনেকে রামধনুকে সৌভাগ্যের মনে করে এবং তারা এটা দেখতে পেলে একটা কিছু ইচ্ছা প্রকাশ করে। খ্রিষ্টীয় ধর্মীয় পুরানে দাবি করা হয় যে, রামধনু হচ্ছে ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি যে, তিনি ভবিষ্যতে আর কোনোদিন সেইরূপ বন্যা দেবেন না যেরূপ বন্যা দিয়েছিলেন এবং নুহ নবীর নৌকার ইতিহাসে যা ঘটেছিল।
যাইহোক অনেকে এই ধারণা গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ করে যে, তিব্বতের মধ্যবর্তী স্থানে বসবাসকারী লোকদের ওপর এর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ার জন্য রামধনু একটা ইতিবাচক আশ্বাসবাণী। উপরন্তু তারা এর উপস্থিতিকে একটা মৃত্যুর অশুভ লক্ষণ বলে ব্যাখ্যা করে। সম্ভবত এই ধারনা এসেছে সাধারণ মানুষের স্মৃতি থেকে যাকে পর্সদের শুরুকাল থেকে স্বর্গের সিঁড়ি হিসেবে কল্পনা করা হতো, যার ওপর দিয়ে মৃতেরা (বিশেষ করে শিশুরা) স্বর্গে প্রবেশ করে। শেটল্যান্ড দ্বীপে উদাহরণস্বরূপ এক প্রস্থ রামধনু কারো বাড়ির ওপর দেখতে পেলে তারা সেটাকে মৃত্যুর একটা অশুভ লক্ষণ বলে ধরে নেয়। বহুস্থানের বহু কুসংস্কারের রামধনুর খারাপ প্রভাবকে প্রত্যাখ্যান করা হয়ে থাকে।
কোনো কোনো অঞ্চলে রামধনুকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার জন্য গান গাওয়া হয়। আবার অন্য স্থানের লোকেরা দুটো লাঠি বা দুটো খড় একসাথে ক্রস করে রাখে যেন রামধনু শেষ হয়ে যায়। রামধনুর প্রতি কাউকে আঙুলি নির্দেশরত দেখলে তাও অবিবেকী কাজ বলে বিবেচিত হয়। কারণ তার ফলে আবার বৃষ্টি শুরু হয়ে যেতে পারে অথবা আরো বেশি দুর্ভাগ্যকে ডাকা হতে পারে। আরো বেশি ইতিবাচক প্রথা হচ্ছে যে, যদি সঠিকভাবে স্থানটি খুঁজে পাওয়া যায় তবে রামধনুর শেষ প্রান্ত যে স্থানে নির্দেশ করে সেখানে একপাত্র স্বর্ণ পাওয়া যেতে পারে।
র্যাভেন (Raven) দাঁড়কাক
অন্য কালো পাখির মতো দাঁড়কাক (প্রাচীন গ্রিক ও স্কন্ডেনেভিয়ার রাজাদের সহচরী) এটাকেও ব্যাপকভাবে অশুভ প্রাণী বলে মনে করা হয় এবং তাকে ভয় করা হয়। কারণ তার তাৎক্ষণিক ক্ষমতা আছে সে মৃত্যুকে পূর্বেই দেখতে পারে। এই পাখিটিকে অপছন্দ করা হয় বিশেষভাবে কোনো অসুস্থ রোগীর আশপাশে উপস্থিত হলে। কারণ এর ডাক হচ্ছে মৃত্যুর অগ্রদূত। অনেক সময় তার ডাক শোনা যায় করপস, করপস শব্দের মতো-যার অর্থ হচ্ছে মৃতদেহ। এটা এমন একটা কুলক্ষণ যে এই ডাক শুনলে রোগী আর ভালো হবে না। বিগত দিনে বলা হতো যে পাখিটি ছদ্মবেশ ধারণকারী শয়তানের প্রিয়। এটা তার পাখা দ্বারা দেশের মধ্যে রোগ ব্যাধি ছড়ায়। অনেক সময় বলা হয়ে থাকে যে এই মৃত্যুর সাথে যোগাযোগের কারণ হচ্ছে পাখিটির অত্যন্ত বেশি সূক্ষ্ম ঘ্রাণ নেয়ার ক্ষমতা। যার ফলে অনেক দূর থেকেও যেন শরীরের মাংসের সামান্যতম অবক্ষয়েরও ঘ্রাণ পায়। আরো শোনা যায় যে, ইংল্যান্ডে সতেরশ খ্রিষ্টাব্দে যখন নর্ম্যান আক্রমণকারীরা প্রবেশ করে তখন তারা তাদের পতাকায় এনেছিল দাঁড়কাকের ছবি। এভাবে ইংরেজদের মনে দাঁড়কাক সম্বন্ধে একটা যুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসের ছবি এঁকে গিয়েছিল।
রেজর (Razor) ক্ষুর
কুসংস্কারে বলা হয় ক্ষুর যা প্রায় চাকুর মতোই কাউকে উপহার দেয়ার অযোগ্য। কারণ কোনো ধরনের ফলক উপহার দেয়ার অর্থ হচ্ছে বন্ধুত্ব ছুটে যাওয়ার বিপদ। একইভাবে আটলান্টিক মহাসাগরের দুইপাড়েই একটা প্রথা হচ্ছে ক্ষুর পথে দেখতে পাওয়া হচ্ছে দুর্ভাগ্যের কারণ।
রিকগনিশন (Recognition) স্বীকৃতি
একটি অমঙ্গলসূচক ব্রিটিশ কুসংস্কার অনুযায়ী একজন আগন্তুককে অন্য কেউ বলে ভুল করলে তা হবে অশুভ এবং দুর্ভাগ্যজনক। এরূপ ভুল হলে যে লোকটির জন্য ভুল করা হলো সেই লোকটি অতি তাড়াতাড়ি মারা যাবে বলে ধারণা করা হয়।
রেড (Red) লাল রঙ
যেমন রক্তের রঙ তেমনি মনের ভাবাবেগ ও জীবনীশক্তি হিসেবে লাল রঙের একটা অতিপ্রাকৃতিক গুণাগুন আছে বলে সুখ্যাতি আছে এবং এটাকে বিশেষভাবে জাদুকরী ক্ষতির বিপরীতে এবং অশরীরী অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে একটা সুরক্ষা হিসেবে মূল্য দেয়া হয়। এই কারণের জন্যই লালকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় শুভ রঙ হিসেবে অনুষ্ঠানাদিতে ব্যবহার করা হয়। পৃথিবীর অন্যত্রও ধর্মীয় অনুষ্ঠানসমূহ লাল রঙকে শুভ বলে গণ্য করা হয়। অনেকগুলো জাদুটোনার ক্ষেত্রে একপ্রস্থ লাল সুতা ব্যবহার করা হয়। বাতের আক্রমণ হলে সেই অঙ্গে লাল সুতা শক্ত করে বেঁধে দেয়া হয়, নাকের রক্ত বন্ধ করার জন্য ঘাড়ের ওপর পেঁচিয়ে দেয়া হয় এবং হুপিংকাশ ভালো করা হয়।
রিবন (Ribbon) ফিতা
অনেকগুলো দোষত্রুটি ও মন্দের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কুসংস্কারে এক প্রস্থ রেশমী ফিতা অথবা সুতা পরিধান করার ব্যাপক পরামর্শ প্রদান করে। এটা বিশেষ বিশেষ রোগ ভালো করার জন্যও দেয়া হয়। মাথার ফিতা, বিশেষ করে তা যদি হয় লাল, তাহলে পরিধানকারীর সুখ শান্তি বাড়বে এবং এমন একজন প্রেমিকের কাছ থেকে যদি ধার নেয়া হয় যার একটা ব্যবহারিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে তার দ্বারা মাইগ্রেনের মাথাব্যথার উপশম হয়। অন্য ওষুধ প্রয়োগের স্থলে সাধারণত ফিতা অথবা সুতার টুকরা আক্রান্ত স্থানে পেঁচিয়ে রাখা হয়। অতএব গলা ফোলার স্থানে একটি ফিতা বাঁধা হলে গলাফোলা কমে যাবে। একটি মোজাবাঁধা ফিতা পায়ের ডিমের ওপর বেধে দিলে খিঁচুনি রোগ ভালো হয়ে যাবে।
রাইস (Rice) চাল
সমস্ত প্রাতিচ্যদেশব্যাপী বিবাহ অনুষ্ঠানে ভাত ফেলে দেয়ার রীতিকে এক সময়ের সামাজিক মর্যাদা হিসেবে উদাহরণ দেয়া হতো। বলা হতো এটা হচ্ছে উর্বরতার প্রতীক চিহ্ন এবং এর উপাদান দ্বারা অতিথিদের ইচ্ছা সংগঠিত হতো যে নতুন বিবাহিত দম্পতির সঠিক সময়ে যেন ছেলেমেয়ে হয়। চাল আসার পূর্বে সদ্য বিবাহিত দম্পতিকে প্রথমতো বাদামের পোটলা দেয়া হতো। এটা দেয়া হতো যখন তারা গির্জা থেকে বের হয়ে যাচ্ছে সেই সময়। বর্তমানে তার পরিবর্তে চাল দেয়ার নিয়ম ব্যাপকভাবে চালু হয়েছে।
চাল নিয়ে পৃথিবীতে অন্য যেসব কুসংস্কার রয়েছে তার মধ্যে আছে আরবী ধারণা যে প্রত্যেকটি চালের দানা হচ্ছে হযরত মুহামমদ (সাঃ)-এর ভ্রূর ঘামের ফোটা। জাপানীদের প্রথায় চালকে প্রার্থনার মাধ্যমে সমমান দেখান হয় ঈশ্বরকে প্রসন্ন করার জন্য যিনি আগামী মৌসুমের শস্য কর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করেন।
রাইট সাইড (Right Side) ডান দিক
সাধারণত ডানদিকটা হচ্ছে শুভ দিক, যেভাবে পৃথিবীর কুসংস্কারে বাম দিকটাকে অশুভ, শয়তান ও দুর্ভাগ্যের সাথে জড়িত বলে মনে করা হয় সুতরাং ডান হচ্ছে ঈশ্বর ও সৌভাগ্যের দিক। পশুদের নিয়ে অসংখ্য কুসংস্কারে বলা হয় যে, পশুটি যদি ডানদিক দিয়ে অগ্রসর হয় তবে সৌভাগ্য নিশ্চিত। আবার প্রাণীটি বাম দিক দিয়ে এলে দুর্ভাগ্য নিয়ে আসবে। এইভাবে সূর্য হচ্ছে জীবন ও শুভ। সে আসমানে সূর্যওয়ারী দিকে চলাচল করে (অর্থাৎ ডান দিকে চলাচল করে)। বহুবিধ ধর্মীয় প্রথায় জোর দেয়া হয় যে, যখন বিছানা থেকে নামতে হবে ঘরে ঢুকতে হবে অথবা আরো অসংখ্য কাজের জন্য বাইরে বেরুতে হবে তখন অবশ্যই ডান পা প্রথমে দিয়ে শুরু করতে হবে। সাধারণত হঠাৎ করে ডানদিকে মোড় নেয়াকেও সৌভাগ্যের মনে করা হয়। কারণ এর দ্বারা উপকারী অভিভাবক আত্মার নিকট থেকে সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ থাকে।
রেইন (Rain) বৃষ্টি
জমিনে যারা কৃষি ইত্যাদির জন্য কাজ করে তাদের মধ্যে প্রধান চিন্তাই হচ্ছে কখন বৃষ্টি শুরু হবে। আর এক্ষেত্রে কুসংস্কার তার কুলক্ষণ সম্বন্ধে খুব সমৃদ্ধভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে। এর অনেকগুলোই হচ্ছে খুব সতর্কতার সাথে পশু-পাখিদের আচরণ লক্ষ করে (উদাহরণস্বরূপ একটা বিড়াল তার মুখ ধোয়ার সময় কানের পেছন দিকটায় ঘষা দিলে তার অর্থ হচ্ছে বৃষ্টি আসবে, যেভাবে মাকড়সা যদি আশ্রয় খুঁজতে থাকে তাতেও বৃষ্টি আসবে বলে মনে করা হয়।) যদিও অনেকে দাবি করে শরীরের কোনো অঙ্গ ব্যথা করলে অথবা পায়ের কড়াগুলোতে যন্ত্রণা হলেও সমভাবে বিশ্বাসযোগ্যতার সাথে প্রকাশ করে যে শিগগিরই বৃষ্টি আসছে। প্রকৃতপক্ষে এই ধারণাটা আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারা সমর্থিত হয়েছে। কারণ এসব রোগের লক্ষণ আবহাওয়ার চাপের সাথে জড়িত।
রিং (Ring) আঙটি
আঙটি তাদের গঠন অনুসারে অনেক জিনিসের প্রতীকী হিসেবে কাজ করে এবং তাকে অনেক অতি প্রাকৃতিক গুণের অধিকারী হিসেবে গুণ আরোপ করা হয়। তার মধ্যে রয়েছে অনেক ধরনের রোগ ভালো করার ক্ষমতা এবং জীবন রক্ষা করার ক্ষমতা। যে আঙটির মালিক দূরে আছে তার ভাগ্য সুরক্ষার জন্য আঙটির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষকার পরিচ্ছন্নতার ওপর নির্ভর করতে হয়। যা আঙটির মধ্যে খোদাই করা হয় সেটা কোনো জাদুকরী শব্দ হতে পারে অথবা পবিত্র পরিবারের কারো নাম হতে পারে অথবা হতে পারে তিনি ম্যাগী। সেগুলো কুদৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করে বলে মনে করা হয় এবং এক সময় বলা হতো এর দ্বারা প্লেগ রোগ ভালো হয়। আঙটি যদি এমন ধাতুর হয় যা যে কোনোভাবে পবিত্র, তার থাকবে আরোগ্য করার বিশেষ শক্তি। এডওয়ার্ড নামের একজন জাদুকরের একটি আংটি ছিল (যেটা বর্তমানে লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবেতে রক্ষিত আছে) যার খিঁচুনি রোগ ভালো করার ক্ষমতা ছিল বলে জনশ্রুতি আছে এবং অনেক ইংলিশ রাজারা এই তথাকথিত ক্রম্প রিংকে রোগীর হাতে দেয়ার পূর্বে আশীর্বাদ করেছেন। এটা এক সময়ে একটা সাধারণ স্থানেও পরিণত হয়ে ছিল যেখানে যীশুখ্রিষ্টের ভোজসভায় প্রদত্তা প্রথম পাঁচটি রৌপ্য অঙ্গরী গ্রহণ করা হতো এবং প্রার্থনার সাথে তাদের গলানো হতো এবং তার দ্বারা এই জাদুর আংটি তৈরি করা হতো।
রোজ (Rose) গোলাপ ফুল
কুসংস্কারের ক্ষেত্রে গোলাপফুলই হচ্ছে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করার যোগ্য। এটা হচ্ছে ভালোবাসার ফুল। কুইন ভিক্টোরিয়ার সময়কালে বিভিন্ন রঙের গোলাপের প্রতি প্রেমিকেরা বিভিন্ন রকম গুণ আরোপ করত। লাল গোলাপ ধৈর্যের প্রতীক এবং সাদা গোলাপের মানে পবিত্র ভালোবাসা এভাবে অর্থ করা হতো। গোলাপের প্রেমিকদের সাথে এই যে সম্পৃক্ততা এবং প্রেম নিবেদনের যে গোপনীয়তা তাও গোলাপ ফুলের সদিচ্ছা ও নীরবতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। সুতরাং তার সমমান এতটা বেড়ে গিয়েছিল যে সেটাকে কাউন্সিল চেম্বারের সিলিংয়ের ওপরেও খোদাই করা হতো, অন্যান্য সভা সমিতির স্থানেও অংকিত থাকত।



