মাথা মাঝে মাঝে এমন চক্কর দিয়ে ওঠে, ঘুরে ওঠে যেন ফ্লোরে পড়ে যাচ্ছি এমন অবস্থা। তখন চোখে একদম মারাত্মক ঝাপসা দেখি, খুব কষ্ট হয়, মাথা, কান, শরীর অতিরিক্ত গরম হয়। অবস্থা বর্তমানে আগের উন্নতির দিকে আলহামদুলিল্লাহ। তবে বর্তমানে যেসব কষ্টদায়ক উপসর্গ কমবেশি বিদ্যমান তা হলো-
(১) মনের মধ্যে অশ্লীল চিন্তা যা মুখে উচ্চারণ করতেও লজ্জা লাগে। বাজে, বেহায়া, আল্লাহর নামে গালিসূচক (নাউযুবিল্লাহ) ও বিভিন্ন রকমের বেখাপ্পা কথা মনের মধ্যে আসে যেমন-বিনা অর্ধবোধক ঃ ফেরাউনছানা ধ্বংস হোক, ইটিলবিটিল, লিকিমিকি ছুটি টুকি, ভাবুক ধ্বংস হোক এ রকম ফালতু অর্ধবোধক কথা মনে আসে। আমার ক্যান্সার, এইডস হোক, এ রকম কথা, আরো হে হে হে লেখাপড়ার জীবন তোর ধ্বংস হোক মনের মধ্যে মনে হয় ইবলিশ যেন বলছে আরো বলে লেখাপড়া তোর জীবনেও হবে না। এরূপ বহু কথা এমনকি ফেরাউন আমার মাবুদ, নামাজে দাঁড়ালে বিশেষ করে ও যে কোনো অবস্থায় আল্লাহ মাবুদ না, সে ধ্বংস হোক (নাউযুবিল্লাহ) এ রকম আরো বহু কথা আসে। দু-একটি উদাহরণ দিলাম যেমন-মনের মধ্যে এরূপ কথা আসে আরো যে কত কথা আসে তা ভাষায় বলে শেষ করতে পারব না। তখন চেহারা, মুখ কালো, ফ্যাকাশে হয়ে যায়, উজ্জ্বল মুখ কালোরূপ ধারণ করে, তখনই মাথা ভার থেকে আরো ভারী হতে থাকে। এই মাথা ভার আমার মনে কথা না এলেও আসে। ঘুম থেকে উঠছি, মনে হলো মাথার মধ্যে কী যেন একটা খলবল করছে, মাথা ভারী, চাপ দিচ্ছে মাথায় ব্রেন শক্ত হয়ে গেছে এমনকি আমি যে এখন লিখছি এ অবস্থায়ও মাথা ভারী রয়েছে। অর্থাৎ সারাদিনই মাথাভার কমবেশি থাকে। মনে কথা এলেও হঠাৎ করে মন ভীষণ আঁতকে ওঠে। শরীর, মন আনকন্ট্রোল হয়ে যায়। মাথার বিশেষ করে পেছনে ও সামনে বেশি ভার লাগে। মনে হয় ঘাড়ের রগগুলো যেন কষে আসছে, ঘাড় শক্ত ও বাঁকা হয়ে যাচ্ছে। আঙ্কেল এ ব্যাপারে অর্থাৎ এ বিষয়ে খুব দুঃখজনক বলতে গেলে চোখ দিয়ে পানি আসে যে, পূর্বে ছোট ক্লাসে আমি যখন ভোরে উঠে পড়াশোনা করতাম তখন মস্তিষক খুব ক্লিয়ার থাকত। একবার পড়লেই পড়া মুখস্থ হয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর মনে আজেবাজে কথা আসে, মাথা ভার হয়, ফলে কিছুই পড়তে ভালো লাগে না।
(২) আমার যৌন সমস্যা আছে। আমি যখন ক্লাস ফোর-ফাইভে পড়ি তখন থেকেই নারীগত কুচিন্তা আসে। ব্যভিচারগত চিন্তা মনে আসে সেই পূর্বের ছোটকাল থেকে। ফলে আমার মন বিষাক্ত ও ভীষণ কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। আমি এ সমস্যায় দীর্ঘ ৭-৮ বছর একটানা ভুগছি। আমি ৫ ওয়াক্ত নামাজ ও কোরআন পড়ি। তারপরেও আমার মনে এত ভীষণ বাজে কুচিন্তা আসে, তা আমার নিজের কাছে ভাবতেও ভীষণ লজ্জা লাগে, কষ্ট লাগে।
(৩) আমার আমমু, মেঝো কাকা, নানির বংশের অসংখ্য অগণিত লোক মানসিক রোগে ভুগছে। তারা এ সম্পর্কে সঠিক জানে না। আমি বিশ্বাস করি যে আমার এ রোগ বংশগত ও জন্মগত, জন্মসূত্রেই আমি এ রোগে আক্রান্ত। তবে শিশুকালে তা সুপ্ত অবস্থায় ছিল, বয়স বাড়তে বাড়তে এ মানসিক রোগ ভীষণ এবং ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে আমি অশেষ কষ্টে ভুগছি।
(৪) আমার শরীরে কখনো কখনো ভীষণ চুলকানি হয় ও মাঝে মাঝে মুখ, বিশেষ করে কান গরম, লাল টকটকে রক্তবর্ণ ধারণ করে যা বিশেষ কষ্টদায়ক।
(৫) রাস্তায় হাঁটছি। মনে হয় লোকে সবাই আমার দিকে তাকাচ্ছে। মনে হয় আমি যেমন খুব সুন্দর, গণ্যমান্য ও পণ্ডিত ব্যক্তি হয়ে গেছি। এটা আমার স্বাভবিক হাঁটাচলায় ভীষণ কষ্ট দেয়। আমি অত্যন্ত ঘিনঘিনে স্বভাবের। সুন্দর হুজুরদের দিকে তাকালে আমার হৃদয় আঁতকে ওঠে। একবার মাশাআল্লাহ বলার পরেও অনিচ্ছা সত্ত্বেও আবার মাশাআল্লাহ বলি।
(৬) আমি কোরআনের আদেশ অনুযায়ী মেয়েদের দিকে চোখ পড়লে তা সংযত করি। কিন্তু এক্ষেত্রে আমার বিশেষ একটি মানসিক রোগ হলো-নারীদের দিকে রাস্তায় বা টিভিতে একবার চোখ পড়লেই বা তাকালেই আমার প্রাণ ভয়ে আঁতকে ওঠে। আমি খুশিমনে চোখকে সংযত রাখতে পারি না। মনের মধ্যে ভীষণ ভয়ের জ্বালায় চোখ সংযত রাখি। কোনো সামাজিক নাটক আমি দেখতে চাই না। কেননা একবার মেয়েদের দিকে চোখ পড়লেই আমার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। অর্থাৎ আমি খুশিমনে, আনন্দচিত্তে চোখ সংযত রাখতে পারি না, চোখ সংযত রাখি ভীষণ ভয়ে। নারীদের দিকে চোখ পড়লেই মনে হয় ওরা যেন চোর, ডাকাত, আমাকে, আমার জীবনকে ধ্বংস, ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেবে।
(৭) আমি ভীষণ ভীতু, তেলাপোকা দেখলেই দৌড়ে পালায় যেমন হার্টফেল করার মতো অবস্থা মরে যাওয়ার মতো অবস্থা।
(৮) আমার দেহ অনেক সময় ভীষণ জ্বালাপোড়া করে।
(৯) মন দিনের প্রায় সময়ই এত অস্থির, চঞ্চল থাকে যে স্থিরচিত্তে কোনো কিছুই করতে পারি না।
(১০) নারীগত কুচিন্তায় আমার ভীষণ রকম উত্তেজনা দেখা দেয়। পূর্বে এ কুচিন্তায় জননাঙ্গ দিয়ে প্রায়ই ধাতুভঙ্গ হতো। তবে কোরআনের সূরা পড়ে বুকে ফুঁ দিলেই তা চলে যায়। কিন্তু আবার সেই কুচিন্তা আসে। মন বিষাক্ত, ভারী, বিষাদ ও অশান্তিময় হয়ে ওঠে তখন। আঙ্কেল আমার মা ওষুধ কেনার ব্যাপারে টাকা-পয়সার কোনো চিন্তা করছে না বরং আমি যেন বেশি ওষুধ খেলেও আল্লাহর দয়ায় রোগমুক্ত হতে পারি এটাই আমাদের কামনা।
(১১) মাঝে মাঝে এত অস্থির হয়ে যাই যে, শিং মাছের মতো ফ্লোরে শুধু তড়পাতে থাকি। হাত-পা ছুড়াছুড়ি করি, ভীষণ রকমের অশান্তিতে। মনে আজেবাজে কথা আসাই বিশেষ করে ভোর বেলায় ও অন্য যে কোনো সময় এতেই মাথা ভার হয়ে যায়, কলিজা কেঁপে ওঠে। তখন পড়াশোনা তো দূরের কথা, বই ছুঁতেই অশান্তি লাগে, নোংরা কথা মনে এলেই মাথা ভার শুরু হয়।
(১২) আমার মেধাশক্তি দারুণ রকমের দুর্বল। তেমন কিছুই মনে থাকে না, প্রায় সব ভুলে যাই। যতই পড়ি না কেন, মাথা ভার অবস্থায় কিছুই ব্রেনে ধরে না, ভীষণ অশান্তি লাগে। আবার প্রধান সমস্যা হলো এই মনে কথা আসার ফলে মন ভীষণ আঁতকে ওঠে এবং চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। ফলে মাথায় ভীষণ চাপ এবং ভারী হয়ে ব্রেনশক্তি খলবল করে।
(১৩) আমি অত্যন্ত আবেগী খেয়ালী। আবেগে অনেক উপদেশমূলক কথা আব্বু-আমমুকে বলি কিন্তু কিছুতেই তা কাজে পরিণত করতে পারি না।
(১৪) পড়াশোনায় একদম মন নেই, একাগ্রতা নেই। পড়তে বসলেই মনের মধ্যে ভীষণ জ্বালাপোড়া করে। বেশির ভাগ সময় ভীষণ অশান্তি লাগে আব্বু আমাকে পড়াতে এলে আমি ভয়ে আরো মুষড়ে পড়ি, একদমই বই পড়তে পারি না।
(১৫) কান গরম, রক্তবর্ণ ও লাল হয়ে যায়। মুখ ভীষণ ফ্যাকাশে ও চোখের নিচে কালি পড়ে যায়। কেননা মনে জ্বালাপোড়া ও নানা আজগুবি ফালতু কথা আসে।
(১৬) অনেক সময় গায়েবি আওয়াজ শুনি।
(১৭) মনে হয় কেউ যেন আমাকে নিয়ে কথা বলছে ও কুপরামর্শ দিচ্ছে। আব্বু-আমমু আমার পড়ার আলোচনা করলেই আমি নেগেটিভ চিন্তা করি। অন্য ছাত্রদের চে য়ে নিজেকে অনেক অসহায় ও দুর্বল মনে হয়।
(১৮) আমার চেহারা পূর্বে অনেক সুন্দর ছিল। সাদা ছিল গায়ের রঙ। মানসিক রোগের ফলেই আমার শরীর কালো, ফ্যাকাশে ও মাঝে মাঝে কুৎসিত হয়ে যায় এবং চোখের নিচে কালি পড়ে যায়। এই রোগেই শারীরিক লাবণ্য হারিয়ে ফেলেছি।
(১৯) হাতের দিকে তাকালে অনেক সময় মনে হয় আমার এক হাত সাদা, অপর হাত কালো। অর্থাৎ দেহে কালো, সাদা বিভিন্ন রঙ হয়।
(২০) আমি ভীষণ খুঁতখুঁতে ও শুচিবায়ুপ্রবণ। বাথরুমে গেলে আমার লুঙ্গি প্রত্যেকদিন ভিজে যায়। আমার অনুভূতি দারুণ কমে গেছে। সন্দেহপ্রবণ, ভাবী যে প্যান্টে একটু প্রস্রাব লাগল কি না? প্রস্রাব সুষ্ঠুরূপে করি তবুও এ সন্দেহ হয়।
(২১) আমি এককথা বারবার বলি, সিজোফ্রেনিয়া রোগের মতো। মুখ শুকনো লাগে।
(২২) শারীরিকভাবে আমি ভীষণ দুর্বল। শুধু ঘুমাই আর ঘুমাই। তবুও মাথা ভার ও শরীর দুর্বল লাগে। অনেক সময় বসে বসে নামাজ পড়ি যা আমার মতো বয়সের কোনো ছেলেই করে না। মুরব্বিরা সবাই দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছে অথচ আমি শারীরিক দুর্বলতায় বসে বসে নামাজ পড়ি, যা অত্যন্ত লজ্জাষকর।
(২৩) মাথা চাপ ও ভারী হয় তাই স্মরণশক্তি, ব্রেনে পড়া ধরে রাখার ক্ষমতা একদমই লোপ পেয়েছে।
(২৪) কোনো স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি না, চিন্তা অস্বচ্ছ, এলোমেলো। মাথায় হিজিবিজি চিন্তা আসে।
(২৫) নামাজ ধীরে সুস্থে না পড়ে এত চঞ্চল হয়ে পড়ি যে, কোনো রকম দায়সারা নামাজ পড়ি। বেশির ভাগ সময়ই চঞ্চল ও অস্থিরচিত্ত থাকি প্রত্যেকটি কাজে। তাই কোনো কাজই করতে পারি না, একদম অক্ষম হয়ে পড়ি।
(২৬) পা ভারী লাগে, শরীর ভারী লাগে, হাঁটাচলা করা অবস্থায় এবং যখন নামাজ পড়ি তখন মনে হয় যে, আমার মাথা থেকে পা পর্যন্ত কী যেন একটা ভারী বোঝা আমাকে চাপ দিচ্ছে। বিশেষত রুকুতে যখন যায়, তখন মনে হয় কী একটা ভারী জিনিস যেন আমার শরীরে বোঝাস্বরূপ হয়ে আছে। অর্থাৎ শরীর ভারী ভারী লাগে অনেক সময় ভীষণরূপে।
(২৭) অনেক সময় কথার খেই হারিয়ে ফেলি। এলোমেলো, অসঙ্গতিপূর্ণ ও একটি কথার সাথে আর একটি কথার সম্পর্ক নেই এমন পাগলামিসূচক কথাও বলি। বাথরুমে প্রস্রাব-পায়খানায় খুব বেশি পানি অপচয় করি ঘিনঘিনে স্বভাবের কারণে।
(২৮) বুক ভারী লাগে, শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে অনেক সময় কষ্ট হয়। বুকে চাপবোধ হয়।
(২৯) প্রস্রাব ক্লিয়ার হয় না, মনে হয় পেটের মধ্যে প্রস্রাব কিছু জমা আছে। একবার প্রস্রাব করা সত্ত্বেও প্রস্রাব অনেক সময় ধীরগতি ও বেশি বেশি হয়।
(৩০) মনে অনেক সময়ই শান্তি পায় না, শুধু অশান্তি আর অশান্তি। মন ক্লিয়ার, প্রফুল্ল থাকে না, মন ভারী, বিষাদময় থাকে।
(৩১) আব্বু, আমমু পড়াশোনার জন্য যথেষ্ট বকে। এতে মন আরো খারাপ হয়ে যায় ও একদমই পড়তে পারি না। টুপি পরলে মাথা ভার হয় ও চোখ নিচু করে নামাজ পড়লে মাথা ভার মনে হয়। আমি প্রায় সময় অবসরে কাটাই কোনো পড়াশোনা করি না। কেননা মনে অশান্তি লাগে, ম্যানিয়া রোগের মতো বারবার গাল কামড়াই।
(৩২) মনের মধ্যে জ্বালাপোড়া, অশান্তি, বিষাদ, হতাশা, বিষণ্নতা কাজ করে। আল্লাহর প্রতি দৃঢ় আস্থা, ধৈর্র্য ও ভরসা খুব কম। মনের মধ্যে মনে হয় কে যেন আমার অন্তরটা ছুরি দিয়ে কেটে কুঁচিকুঁচি করে ফেলছে। প্রত্যেক দিনই এ সমস্যা ঘটছে। অটোমেটিক্যালি মনে এত কষ্ট অনুভব করি যা অবর্ণনীয়।
(৩৩) সবচেয়ে শান্তির যে বিষয় তা হলো আমার যত ওষুধের ডোজ বাড়ছে আমি আল্লাহর রহমতে দিনদিন তত সুস্থ হয়ে যাচ্ছি। এ পর্যন্ত আপনার কাছে যত ওষুধই খেয়েছি তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি বরং শারীরিক ও মানসিক উন্নতি ঘটছে। তবে পূর্বে যেসব মানসিক ডাক্তার দেখিয়েছি তাদের ওষুধে প্রচণ্ড রকমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল। কিন্তু আপনার দেয়া ওষুধে তা নেই বললেই চলে।
(৩৪) এসব ওষুধ খাওয়ার পর থেকে আল্লাহর রহমতে আমার একটা দিনও পাতলা পায়খানা হয়নি, পূর্বে তা প্রচুর হতো। প্রত্যেক দিন পায়খানা ভালো হচ্ছে। ওষুধ শরীরে বেশ ভালোমতো সেট হয়েছে।
(৩৫) আমার মধ্যে ভীষণ পরীক্ষাভীতি কাজ করে।
(৩৬) নিজের ওপর আস্থা খুবই কম, আত্মবিশ্বাসী নই।
(৩৭) মাথায় যন্ত্রণা করে।
(৩৮) রাস্তাঘাটে লোকজনের দিকে অহেতুক তাকিয়ে থাকি, অনেকের সাথে রাস্তায় কথা বলা শেষ করলেও লোকটির দিকে পেছন ফিরে তাকিয়ে থাকি। ভাবি কোনো অন্যায় করলাম না তো, অনিচ্ছা সত্ত্বেও পথের লোকজনকে বারবার সালাম দিই। মনটা একদম যেন কাতর হয়ে থাকে, ভাবি লোকজনের সাথে কথা বলতে গিয়ে কোনো অন্যায় হয়ে গেল কি না? অত্যধিক মানসিকভাবে দুর্বল শরীর অসম্ভব জ্বালাপোড়া, অস্থির লাগে অনেক সময়। পরিপূর্ণ শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। অনিচ্ছা সত্ত্বেও অত্যন্ত বেশি বকবক করে কথা বলি, মনে করি বেশি করে যে কোনো বিষয়ে কথা না বললে আমার বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে।
(৩৯) দারুণ রাগী, একগুঁয়ে, খিটখিটে, কারো অর্থাৎ আব্বু-আমমুর কোনো কথাই যেন সহ্য করতে পারি না। আমার বিরুদ্ধে কোনো কথা বললে ভীষণ রেগে যাই।
(৪০) মানসিক ও শারীরিকভাবে একদমই আনকন্ট্রোল, ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছি। মনে অহেতুক ব্যথা লাগে, আত্মহত্যামূলক চিন্তা মাথায় ও একা একা কথা বলি বিড়বিড় করে। আয়নার সামনে গিয়ে পাগলের মতো নানা অঙ্গভঙ্গ করি।
বুক জ্বলে, ব্যথা করে, মনে হয় কে যেন আমার বুকে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। মনে হয় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে। বুকে গ্যাস হওয়ার কারণেও বুক জ্বলতে পারে। তবে আমি শারীরিকভাবে যা উপলব্ধি করি গ্যাস্ট্রিকের চেয়ে বোধহয় মানসিক রোগের প্রচণ্ডতার কারণে বুক জ্বলে। আব্বু-আমমুর কাছে ঘনঘন ক্ষমা চাই। মনে করি কোনো অন্যায় হয়ে গেল কি না, মন খুব নরম।



