খালিদ
বরিশাল
আমার বয়স ২৮ বছর। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাবিজ্ঞানে অনার্স শেষ করেছি। আমার মূল সমস্যা হলো পরিবারের কেউ আমাকে বুঝতে চায় না। ভার্সিটি জীবনে আমি এক পর্যায়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিলাম এবং পরে চিকিৎসা গ্রহণ করে সুস্থ হয়েছি। বাবা-মা আমাকে সব সময় দোষারোপ করে। আমি নেশা বাদ দিয়েছি ২ বছর হলো। পরিবারের লোকজন অযথা আমাকে সন্দেহ করে। আমি অপবাদ একদম সহ্য করতে পারি না। রাতে ঘুম হয় না। ছোটবেলা থেকেই মায়ের সাথে আমার সম্পর্ক আন্তরিক ছিল না, কারণ আমি অনেক শাসনের মধ্যে বড় হয়েছি। তারা আমাকে বলে যে সবকিছু তুমি নতুন করে শুরু কর কিন্তু এই করার একটু পরই আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। তাদের বর্তমান অভিযোগ আমি চাকরি করি না কেন?
এই ধরনের সমস্যা মাদকাসক্তির বেলায় পারিবারিক বিশ্বাস অর্জন করতে হলে আপনাকে কিছু পজিটিভ কাজ করতে হবে। এর মধ্যে একটি হলো তুমি যদি সুস্থ হয়েই থাক তাহলে চাকরি বা যেকোনো অর্থকরী কাজ করতে কোনো বাধাই থাকা উচিত নয়। যখনই তুমি এটা করবে দেখবে তোমার পরিবারের বিশ্বাস অর্জন করা সহজ হবে। তুমি কেন কাজ করছ না এটা কিন্তু বোধগম্য নয়। এমনও হতে পারে কাজ না করার পেছনে তোমার মধ্যে কোনো মানসিক কারণ নিহিত আছে। তার জন্য তুমি কাউন্সিলিং নিতে পার।
জাহাঙ্গীর আলম
বেনাপোল, যশোর
আমি স্নাতক শ্রেণীতে অধ্যয়নরত একজন ছাত্র। এ বছরের প্রথমদিকে একজন দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের দ্বারা জোরপূর্বক সমকামিতার শিকার হই। প্রকাশ থাকে যে, সে বিদেশ থাকত। এরপর থেকে আমি এইচআইভি আতঙ্কে ভুগতে থাকি। এ ঘটনার ৩ মাস ১০ দিন পর এইচআইভি টেস্ট করেছি এবং রেজাল্ট আসে এইচআইভি নেগেটিভ। কিন্তু পরীক্ষাকারী স্বাস্থ্যকর্মী বলেন ৬ মাস পরও নতুন করে কোনো অনিরাপদ মিলন না হলেও এই ঘটনার জের ধরে এইচআইভি ধরা পড়তে পারে। এখন কী করব বুঝতে পারছি না। এইচআইভি শরীরে আছে কি না এর নিশ্চিত তথ্য পেতে অনিরাপদ মিলন থেকে কত দিন পর পরীক্ষা করলে আমি নিশ্চিত তথ্য পাব যে আমি এইচআইভি নেগেটিভ না পজিটিভ। ব্লাড ব্যাংক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এনজিও, হেলথ ক্লিনিক একেকজনের নিকট একেক রকম তথ্য পাচ্ছি। ফলে আমি কনফিউজড হয়ে গেছি। রাতদিন মানসিক টেনশনে আছি। সমস্যার কথা কাউকে বলতেও পারছি না, সঠিক তথ্যও পাচ্ছি না। কয়েকবার আত্মহত্যারও চিন্তা করেছি। এ প্রশ্নের উত্তর যদি আপনি দয়া করে দেন তাহলে হয়তো আমার জীবন বেঁচে যাবে।
৬ মাস না যাওয়া পর্যন্ত এইচআইভির উপস্থিতি সম্পর্কে কোনো রকম মন্তব্য করা ঠিক নয়। তবে ধর্ম বিরোচিত যে কোনো কাজই নিন্দার যোগ্য। এই জাতীয় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। খুব সহসা মনোজগত সেন্টারে যোগাযোগ করুন।
মো. মোমিনুর রহমান
সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম
আমার সমস্যা হলো যদি কোনো দিন গাড়িতে কোথাও যাওয়ার ইচ্ছা করি তার আগের দিন থেকে ঘুম হয় না। কারণ আমার শুধু চিন্তা থাকে কীভাবে গাড়িতে থাকব, যদি প্রস্রাব লাগে, তা হলে কোথায় যাব, কারণ গাড়ি তো স্ট্যান্ড ছাড়া থামবে না। যখন গাড়িতে উঠি তখন তলপেটে বা পেটের ভেতর কামড় দিয়ে সমস্ত শরীর কাঁপতে থাকে এবং পেটের ও বুকের ভেতর খুব বেশি কাঁপতে থাকে এবং ঘামও ঘন ঘন প্রস্রাব করতে থাকি। কী করব, কোথায় যাব খুব নার্ভাস লাগে। মনে হয় গাড়িতে প্রস্রাব হয়ে যাবে। গাড়ি ও ট্রলার দেখলে শরীর ও বুকের ভেতর কাঁপে ও কামড় দিয়ে ওঠে। এই রোগের জন্য আপনি ট্যাবলেট নিক্সিটো ১০ মিলিগ্রাম এবং রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম দিয়েছিলেন কিন্তু এই ওষুধ খেয়ে ভালো-মন্দ কিছু বুঝতে পারছি না। এখন কী করব দয়া করে জানাবেন।
আপনার অসুখের বিবরণ শুনে মনে হচ্ছে আপনি অবসেশনাল ডিসঅর্ডারে ভুগছেন। নিক্সিটো যদি একান্তই কাজ না করে তাহলে ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম ১টি করে ২ বেলা সেবন করবেন। আসলে এই রোগটির প্রকৃতি আরো হচ্ছে এই রোগের বহিঃপ্রকাশ সাধারণত হয় যেমন-একই চিন্তা বা একই ভীতি বারবার আসা, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। আপনারও বারবার চিন্তাভীতি, গাড়িতে ওঠার ভয়ভীতি অবসেশনাল রোগের কারণে হচ্ছে। আপনার এই রোগের জন্য দুটি চিকিৎসা পদ্ধতি আছে ঃ একটি ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা, যা পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে এবং বিহেভিয়ার থেরাপি প্রযোজ্য। বিহেভিয়ার থেরাপি হচ্ছে কিছু কিছু অযৌক্তিক ব্যবহারকে বিভিন্ন উপদেশ কার্যপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি চলনসই সামাজিক ব্যবহারে রূপান্তরিত করা। এতে থেরাপিস্ট আপনাকে কিছু প্র্যাকটিসের কথা বলবেন এবং আপনাকে তা পড়ে দেখাতে হবে এবং শিখে গেলে পরবর্তী জীবনে তা প্রয়োগ করতে হবে। সাইকোথেরাপিস্ট এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাইকিয়াট্রিস্ট এই বিহেভিয়ার থেরাপি প্র্যাকটিস করিয়ে থাকেন।
মো. আনোয়ার হোসেন
রাজশাহী
সমস্যা হচ্ছে আমার মায়ের। তার বয়স ৫০ বছরের বেশি। ছোটবেলায় আমার নানা, নানি একই দিনে মারা যান। নানা, নানি তিন সন্তান রেখে মারা যান। আমার মা সবার বড় সন্তান। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর আমার মাসহ দুই বোন তার দাদার কাছে মানুষ হন। এই সময় তারা দাদির কাছে অনেক কষ্ট করে এবং অনেক সমস্যার মাঝে বড় হয়। এরপর মায়ের বিয়ে হয় এবং আমার বাবা ছিলেন ড্রাইভার। ফলে তিনি থাকতেন বাইরে বাইরে। মাকে তেমন মূল্যায়ন করতেন না, নিজের ইচ্ছামতো সবকিছু করতেন। আমরা ৫ ভাই বোনের মধ্যে আমার বড় বোন নিজের পছন্দের এক ছেলেকে বিয়ে করে চলে যায়। আমাদের বাড়ির পাশে একটি মাজার আছে। আমার মা পূর্বে সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এসব সার্বিক বিষয় নিয়ে তিনি ছোটবেলা থেকেই খুব কষ্টে, মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। ফলে এখন ওই পূর্বে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে তিনি সারাদিন একা একা কথা বলেন। কখনো আস্তে কখনো জোরে জোরে। কখনো আব্বুকে অথবা অন্য কাউকে বকাবকি করেন। মাঝে মাঝে অনেক রাতে ঘুম থেকে জেগে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জোরে জোরে বকাবকি করেন, এভাবে এক-দেড় ঘণ্টা বকাবকি করার পর ঠান্ডা হয়ে যান, তারপর ঘুমিয়ে পড়েন। কেউ যদি শখ করে কোনো কিছু রান্না করে আমাদের ঘরে দেয় মা সেগুলো কাউকে খেতে না দিয়ে ফেলে দেন। মায়ের মাথার সব চুল উঠে গেছে, তিনি মাঝেমধ্যে বলেন-প্রচুর গরম লাগে, শরীর এবং মাথা দিয়ে আগুনের মতো ভাপ বের হয় এবং শরীর প্রচুর ঘামে। মায়ের ধারণা তার ছেলেমেয়েদের এবং ভাই-বোনদের সবাই ক্ষতি করতে চায়। মা কারো বাড়িতে যেতে চান না, ঘরের মধ্যে সারাদিন একা একা থাকেন, ঘরের কাজ করেন আর কথা বলেন। আবার কোনো মেহমান এলে অথবা কোথাও গেলে সবার সাথে সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মতো কথা বলেন এবং মেশেন। মায়ের ডায়াবেটিস আছে, হাইপ্রেশারের সমস্যাও আছে। তবে আমাদের ধারণা, মায়ের যখন প্রেসার বেড়ে যায় তখন মায়ের খারাপ লাগে এবং আবোল-তাবোল বকতে থাকেন। এই কথা আমরা কাউকে বলতেও পারি না লজ্জায়।
আপনার মায়ের রোগের নাম হচ্ছে প্যারানয়েড সাইকোসিস বা প্যারানয়েড স্ট্রেস। বাংলায় একে বলা হয় সন্দেহবাতিক রোগ। এই রোগে আক্রান্ত যারা হয় তারা সবাই নানা রকম দোষারোপ করে যেমন কেউ ক্ষতি করবে এবং অন্যভাবে মেরে ফেলার সন্দেহ করে। অনেক সময় এই সন্দেহ অবসেশনাল নিউরোসিসের সঙ্গে ভুল হতে পারে, যেখানে একই কথা বারবার করে, কোনো কিছুতে সপর্শ লাগলে সে মনে করে নাপাক হয়ে গেছে, এছাড়া অবসেশনাল রোগের চিকিৎসা প্যারানয়েড সাইকোসিসের চিকিৎসা সম্পূর্ণ তফাৎ। আমার মনে হয় অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ ব্যবহার করলে রোগের অনেক উন্নতি হবে। তবে তার আগে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
হৃদয় খান
বটিয়াঘাটা, খুলনা
ইতিপূর্বে আমার সমস্যাকে আপনি প্যানিক ডিসঅর্ডার বলে চিহ্নিত করেছেন। আপনার পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন সকালে ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম ১টি, ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক খেয়েছি ১ মাস, ওষুধ খাওয়ার সাথে সাথে ১ মাস খুব ভালো ছিলাম তবে খাওয়ার রুচি ছিল না। ১ মাস পরে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় যেমন মাথার মধ্যে অস্বস্তি, বুকের ভেতর হাঁপানি ভাব, পরে অবশ্য ভালো হয়েছে। বর্তমানেও খুব ভালো আছি। তার জন্য আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। বর্তমানে আমার ঘুম খুব কম হয়, মাথা সামান্য গরম থাকে, পেটের ডান পাশে হাড্ডির নিচে একটু ব্যথা করে, অনেক সময়ে প্রস্রাব করার সময়ে ২ নালা প্রস্রাব বের হয়। একটু বৃষ্টি হলে বা রোদ মাথার মধ্যে লাগলে মাথাব্যথা এবং ধরা থাকে। অবশ্য ৭-৮ বছর আগে মাথার মধ্যে ২ বার ব্যথা পেয়েছি তা আপনাকে আগে জানানো হয়নি। আর বর্তমানে আমার যৌন ইচ্ছা একেবারে নেই। আমার মাথা যেন সব সময়ে ঠান্ডা থাকে ভালো ঘুম হয় এবং আর কখনো যেন মানসিক রোগে অ্যাফেক্ট না করে এবং ওই ওষুধ আর কত দিন খেতে হবে আপনার পরবর্তী পরামর্শের প্রত্যাশায় আছি।
আপনি যে সমস্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলেছেন সেগুলো আপনাকে প্রেসক্রাইব করা ওষুধে হয় না এবং হাঁপানির সমস্যা থাকলে প্রতিদিন রাতে ভেন্টোলিন ২ মিলিগ্রাম ১টা করে খেয়ে যান। আগের ওষুধগুলো চালিয়ে যান।
মো. আল-আমীন
নোয়াখালী
আমার বয়স ১৮ বছর। আমি একজন ছাত্র। আপনার পরামর্শক্রমে আমি নেক্সসিটাল ৫ মিলিগ্রাম ১ মাস খেয়েছি। এখন আল্লাহর রহমতে আগের চেয়ে কিছু ভালো আছি। আমার পড়ার প্রতি আগ্রহ আছে কিন্তু পড়তে পারছি না। পড়তে বসলে নানা রকম চিন্তাভাবনা মাথায় ঘুরপাক খায়, যা তাড়াতে চাইলেও তাড়াতে পারি না। পড়লে মনে হয় কেউ আমার পড়া শুনে হাসছে বা আমার দিকে তাকিয়ে আছে মনে হয়। আবার কোথাও গেলেও এই মনোভাব সৃষ্টি হয়। লজ্জার জন্য পথ চলতে পারি না। নিজেকে নিজের কাছে অপরাধী মনে হয়। বাস্তবে কোনো খারাপ কাজ না করলেও এটা মনে হয়। কেউ কোনো আলোচনা করলে মনে হয় তারা আমাকে নিয়ে আলোচনা করছে। মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করি। সারাক্ষণ মাথা ঝিনঝিন করে আর কেউ আমাকে মারবে বা কিছু বলবে এই মনে হয়। কোনো কিছু ভালো লাগে না, ক্ষুধামান্দ্য, বিড়বিড় করে কথা বলি কারো সামনে প্রয়োজনীয় কথা বলতে গেলেও লজ্জা লাগে। সহজ বিষয় নিয়ে অধিক ভাবা, স্মৃতিশক্তি কমে গেছে, আত্মবিশ্বাসহীনতা হয়ে পড়েছি। হতাশা, ভাঙচুর করার প্রবণতা, সারাক্ষণ মনমরা থাকি। আর কোনো কাজের জন্য পদক্ষেপ নিতে পারি না। অশ্লীল চিন্তা-ভাবনা, খিটখিটে মেজাজ।
আপনার মেজাজ খিটখিটে থাকার কারণে খারাপ আচরণ করছেন। যেহেতু নেক্সিটাল খেয়ে উপকার পেয়েছেন আমার মনে হয় আরো কিছুদিন অন্তত ৩ মাস এই ট্যাবলেট খেতে থাকুন, তাহলে অনেক উন্নতি হবে। এরপর যদি উপকার না পান তাহলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।
রতন পাল
গাজীপুর
আমার বয়স ২৮-২৯ বছর। অবিবাহিত। আমার প্রধান সমস্যা হলো ঘুম হয় না। সারা রাত জেগে কাজ করার পর দিনে এমনকি রাতেও ঘুম হয় না। ৪-৫ বছর যাবৎ পেটের সমস্যা দেখা দিয়েছে। শাক-সবজি খেলে হজম হয় না। মাঝে মাঝে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় এবং পায়খানা ক্লিয়ার হয় না। দিনে ৩-৪ বার পায়খানা হয়। খাওয়ার পর মনে হয় গলায় বেঁধে আছে। শরীর সব সময় গরম থাকে। মাথা প্রচুর গরম থাকে এবং ঘামে এবং প্রচুর পিপাসা লাগে। নিজেকে পাপী মনে হয়। পূর্ব জন্মে পাপ করেছি বলে আজ গরিবের ঘরে জন্ম মনে হয়। কোনো কিছু মনে থাকে না, কাছের জিনিসও অনেক সময় খুঁজে পাই না।
আপনি অসুখের যে বিবরণ দিয়েছেন তাতে মনে হয় যে সিভিয়ার অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগ রোগে ভুগছেন। এবং উদ্বেগ ছাড়াও শারীরিক উপসর্গ থাকে যেমন-শ্বাসকষ্ট হওয়া, বুক ধড়ফড় করা, মাথা ধরা, বুকে চাপচাপ লাগা, পেটে কামড় দেয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, হাত-পা, শরীর ঝিনঝিন করা ইত্যাদি। আপনি ট্যাবলেট ডিসোপ্যান .৫ মিলিগ্রাম ২ বেলা এক মাস সেবন করুন ও সকাল-বিকেল হাল্কা ব্যায়াম করুন, পুষ্টিকর পথ্য খান, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধগুলো মেনে চলুন এবং পরবর্তীতে আবার যোগাযোগ করবেন।
পপি
লক্ষ্মীপুর
আমার বয়স ২২ বছর। আমি বিবাহিত এবং একটা ৪ বছরের মেয়ে আছে। আমার সমস্যা হলো কোমর ব্যথা, তলপেট ব্যথা, মুখে ব্রণ, মন খারাপ, দুশ্চিন্তা, স্বাস্থ্যহীনতা, বিষণ্নতা ও নার্ভাস। ঘন ঘন প্রস্রাব, হাত-পা জ্বালাপোড়া ইত্যাদি গত মার্চ মাস থেকে আমার এ সমস্যাগুলো দেখা দিয়েছে। সারাদিন বুকের ভেতর একটা কথা বিরাজ করছে-জীবন থেকে আমার মূল্যবান জিনিস হারিয়ে গেল মাঝে মাঝে মনে হয় আমার এ সমস্যা আর কখনো ভালো হবে না। একা থাকলে খুবই চিন্তা আসে এবং অস্থির অস্থির লাগে। কোনো কিছু তখন আর ভালো লাগে না। মনে কোনো আনন্দ উচ্ছ্বাস নেই। নিজের প্রতি নিজের ভালোবাসা এবং মেয়ের প্রতি যত্ন নেয়া একেবারে ভুলে গেছি।
মনে হয় বিষণ্নতা রোগে আক্রান্ত আপনি। বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী বিবাহিতা মেয়েদের মধ্যে এই রোগের প্রকটতা একই বয়সী ছেলেদের চেয়ে ৩ গুণ বেশি। মহিলাদের নানা কারণে বিষণ্নতা হতে পারে। এর মধ্যে একটি বিশেষ কারণ হয়েছে সামাজিক অবহেলা। বিষণ্নতা রোগে মনে বিষাদভাব থাকা ছাড়াও কতগুলো উপসর্গ থাকে যেমন-কোনো কিছু ভালো না লাগা, কোনো কিছুতে আনন্দ না পাওয়া, সব সময় মন খারাপ ভাব, উৎসাহহীনতা, অতি অলসতা, অনেক ক্ষেত্রে অতি ঘুম, খাদ্যের রুচি কমে যাওয়া, যৌনাকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া, নিজেকে ছোট ভাবা, বিভিন্ন নেগেটিভ চিন্তা মনে আসা, অনেক সময় আত্মহত্যার চিন্তা বা প্রচেষ্টা থাকা। আপনার নিকটস্থ মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করুন এবং যত দিন পর্যন্ত না দেখা করতে পারছেন তত দিন পর্যন্ত ট্যাবলেট সিটালন ১০ মিলিগ্রাম সকালে ১টি করে খান এবং ট্যাবলেট ক্লোনাপিন .৫ মিলিগ্রাম রাতে ১টি করে সেবন করুন। সুস্থ পরিনত আহার করুন, পুষ্টিকর পথ্য খান, শাক-সবজি খান, মনকে নানা কাজে ব্যস্ত রাখুন। সব সময় সতেজ থাকার চেষ্টা করুন ও লোকজনের মাঝে থাকার চেষ্টা করুন। এক মাস খাওয়ার পর আপনার অসুখের পরিণতি কী হলো জানিয়ে চিঠি লিখুন।
নয়ন
চট্টগ্রাম
আমি কুকুরকে খুব বেশি ভয় পাই। যেমন একটা সিঙ্গাড়া খাওয়ার সময় যদি কোনো ছিদ্র দেখি তাহলে মনে হয় কুকুরে কামড়েছে এবং এটা খেলে আমার জলাতঙ্ক রোগ হবে। ডাক্তারের পরামর্শমতো ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম, সিজোডন ২ মিলিগ্রাম করে খাচ্ছি কিন্তু আমার সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
অসুখটিকে সাধারণ ভীতিরোগ অপর অর্থে কুকুর ফোবিয়া বলা যায়। সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সে এই রোগের সৃষ্টি হয়। ছেলে এবং মেয়েদের মধ্যে সমানভাবে তা পাওয়া যায়। এর সাথে থাকে একপ্রকার সন্দেহ রোগ। বিভিন্ন প্রকার ভীতি ছাড়াও এর সাথে অ্যাংজাইটি রোগের উপসর্গের সমন্বয় থাকতে পারে। ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম সকালে ১টি ও রাতে ১টি করে খান এবং ট্যাবলেট ক্লোনাপিন .৫ মিলিগ্রাম রাতে ১টি সেবন করুন ও ট্যাবলেট ক্লোফ্রানিল ২৫ মিলিগ্রাম রাতে ১টি করে সেবন করুন। এক মাস পরে আপনার পরিণতি বা রোগের ফলাফল জানিয়ে আবার লিখুন।
আনিসুর রহমান
চাঁদপুর সদর
আমার বর্তমান সমস্যা হচ্ছে পড়াশোনায় বসা তো দূরের কথা পড়াশোনার নাম শুনলেই রাগে মনে হয় সব বই ছিঁড়ে ফেলি। পড়াশোনার নাম শুনলেই অস্থির ও উত্তেজিত হয়ে পড়ি। অথচ আমার পরিবার আমার ওপর আশা ভরসা করে আছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সারাদিন সারাক্ষণ এমনকি পড়াশোনার সময়ও কল্পনায় আচ্ছন্ন থাকি। কল্পনায় আলাদিনের চেরাগের মতো অবাস্তবভাবে অনেক টাকার মালিক হই এবং অনেক পরিকল্পনা করি। কিন্তু যখন বাস্তবতায় ফিরে আসি বা বাস্তব চিন্তা করি তখনই শুরু হয় গোলমাল। বাস্তবতায় কোনো কিছু না পেয়ে শুরু হয় উত্তেজনা ও অস্থিরতা। কিছু ভালো বইয়ের নাম বললে উপকৃত হব। যেগুলোতে সাইকোথেরাপি জাতীয় ও সামাজিক জীবনভিত্তিক কনসেপ্ট খুঁজে পাব। বাস্তবতাকে মেনে নিতে ও খাপ খাওয়াতে না পেরে মাঝেমধ্যে ইচ্ছা করে অন্যকে বা নিজেকে কোনো অঘটন ঘটাতে বা আত্মহত্যাজাতীয় চিন্তা করি।
আপনার সমস্যার নাম অবসেশন। এটি একটি মনোরোগ। এতে আসলে হয় কি ব্যক্তির মাথার মধ্যে নানা চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে। ব্যক্তি ইচ্ছা করলে চিন্তাগুলোকে বের করতে পারে না এবং এই চিন্তাগুলোর কারণে ব্যক্তির মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা কমে আসে। এভাবে যেতে যেতে এক সময় বিষণ্নতার সমস্ত উপসর্গ প্রকাশ পায়। এ ক্ষেত্রে ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করুন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টি ও রাতে ১টি করে সেবন করুন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করুন। ৩০ দিন পর ট্যাবলেট টেলাজিন বন্ধ করে দেবেন। দেড় মাস পর ট্যাবলেট রিভোট্রিল শুধু রাতের বেলায় সেবন করবেন। ক্যাপসুল প্রদীপ চলতে থাকবে। ২ মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। এসব ওষুধের তেমন একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। প্রথমদিকে বড়জোর ঘুম বাড়তে পারে কিন্তু কয়েক দিন গেলেই তা স্বাভাবিক হয়ে আসে। আপনি সাইকোথেরাপি জাতীয় যে ধরনের বইয়ের কথা বলেছেন সে ধরনের বই বাজারে এখনো আসেনি। ইংরেজিতে কিছু বই পাওয়া গেলেও সেগুলো আমাদের দেশে সহজলভ্য নয়। তবে আপনার জন্য একটা জিনিস জ্ঞাতব্য অবসেশনের ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপির তেমন একটা ভূমিকা নেই। যদিও পাশ্চাত্যে কিছু কিছু সাইকোথেরাপি দেয়া হয় কিন্তু বাস্তবে সেগুলো তেমনটা কার্যকরী দেখা যায় না। মূলত ওষুধই মুখ্য ভূমিকা রাখে। ওষুধ সেবনের পরে ২-৩ মাস অতিবাহিত হলে ব্যক্তি আবিষকার করে যে সমস্ত কিছুর ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
মনিরুল ইসলাম
দৌতলপুর, কুষ্টিয়া
আমার বয়স ৩৫ বছর, ওজন ৫০ কেজি। প্রধান সমস্যা হলো-৫ বছর যাবৎ বাম পাশের অণ্ডকোষের রগের মধ্যে ব্যথা। তিন মাস যাবৎ ডানপাশের অণ্ডকোষেও অনুরূপ ব্যথা করছে। প্রথমে যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ ও পরে ইউরোলোজি ডাক্তার দেখিয়েছি। তারা বিভিন্ন ওষুধ (অ্যান্টিবায়োটিক) খাওয়ানোর পর ব্যথাটা একটু কমেছিল। কিন্তু ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিলে ব্যথা আবার শুরু হয়। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যথাটা আমাকে অতিষ্ঠ করে তোলে। বিভিন্ন পরীক্ষার পর ডাক্তার বলেছিল ‘ভেরিকোজ’ নামে একটি রোগ হয়েছে, এটার নাকি অপারেশন লাগবে। আপনার নিকট আমার বিনীত জিজ্ঞাসা, ডাক্তারের উক্ত ধারণা ঠিক আছে কি না এবং থাকলেও অপারেশনবিহীন আর কোনো চিকিৎসা আছে কি না যা দিয়ে আমি অতি অল্প খরচে রোগমুক্তি পেতে পারি। আর আমার উক্ত সমস্যা হওয়ার পর যৌনমিলনে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছি। সপ্তাহে একদিনের বেশি স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে পারি না। এ নিয়ে আমার সংসারে অশান্তির কালো ছায়া নেমে এসেছে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ‘এএনএইচ’ হরমোন ১+০+১ করে খেয়ে কিছুটা উপকার পেয়েছিলাম। একাধারে দীর্ঘদিন উক্ত ওষুধ সেবনে কোনো অসুবিধা হবে কি না দয়া করে জানাবেন। সেই সাথে আমার উপরোক্ত সমস্যাগুলোর স্থায়ী পরামর্শ ও চিকিৎসা দিয়ে বাধিত করলে চির কৃতজ্ঞ থাকব।
যেহেতু আপনার সমস্যার নাম বলেছে সুতরাং আপনার আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। ভেরিকোজ ভেইন সমস্যার ক্ষেত্রে অপারেশন ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ নেই। কোনো ওষুধ সেবনে এটির সমাধান দেয়া যাবে না। যেহেতু অপারেশন করাতেই হবে এ কারণে বিলম্ব না করাই উচিত।
নাহিদ
বান্দরবান, পার্বত্য জেলা
আমার বয়স ২০ বছর। আমার রোগটার নাম অবসেশন। ৪ বছর হচ্ছে আপনার সাথে দেখা করেছি। আপনি ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল এবং টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম দিয়েছিলেনভ প্রায় ৮ মাস পর্যন্ত সেবন করেছি। কোনো উন্নতি হয়নি এবং ২য় বার দেখা করার পর ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খেতে বললেন। চট্টগ্রাম মেডিকেলে মানসিক বিভাগে দেখা করলাম তিনিও একই ওষুধ দিলেন এবং সাইকোথেরাপিও করেছি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে। এখন কয়েক মাস ধরে আপনার দেয়া ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম খাচ্ছি। কেন এটা ভালো হচ্ছে না। কোনো একটা বিল্ডিং-এ গেলে মনে হয় এটা হঠাৎ ভেঙে পড়বে। এই নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তা। আমি বর্তমানে বিডিআর-এ চাকরি করছি। এ অসুখের জন্য ঠিকমতো কাজ করতে পারছি না। মনে মনে ভাবছি চাকরি ছেড়ে দেব এবং আত্মহত্যা করব। আমার এখন প্রশ্ন হলো, অবসেশন রোগটি কি ওষুধ সেবনে সম্পূর্ণ ভালো হয়। আর এ রকম ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমাকে সঠিক সমাধান দিলে আমি আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
আপনি এক্ষেত্রে ক্যাপসুল প্রদীপ খেয়ে যান। পাশাপাশি ট্যাবলেট লোপেজ ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে সেবন করুন। দেড় মাস পরে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
মো. শফিকুল হক
বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ
আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় বর্ষে ভর্তি হয়েছি। আমার অনেক দিন আগে থেকেই সমস্যা হলো-স্যারেরা ক্লাস নেয়ার সময় কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করলে এবং সেটা বলতে গেলে বুক ধড়ফড় করতে শুরু করে, মনে হয় দম বন্ধ হয়ে যাবে। ক্লাসে ইচ্ছা থাকলেও কোনো বিবৃতি বলতে পারি না। কথা বলার সময় অসুবিধা হয় প্রচণ্ডভাবে। তাতে অনেকেই হাসাহাসি করে। এমনকি আমার রোল কল আসার আগে থেকেই বুক ধড়ফড় শুরু করে। প্রেজেন্ট দেয়ার পরও অনেকক্ষণ ধড়ফড় থাকে। ঝগড়ার সময় উচ্চস্বরে কথা বলতে পারি না প্রচণ্ড বুক ধড়ফড়ের জন্য। এমনকি অন্যদের দ্বারা সৃষ্ট ঝগড়া-বিবাদের শব্দ শোনার পর এবং জোরে দৌড় দিলে বা কঠোর পরিশ্রমের সময় এবং ভয় পাওয়ার পর বুক ধড়ফড় শুরু করে। বর্তমানে আমি নামাজ আদায় করার চেষ্টা করি। কিন্তু সমস্যা হলো নামাজ পড়ার সময় আমার মন স্থির থাকে না। এদিক-সেদিক চলে যায়। নানা আজেবাজে চিন্তা হয়। শত চেষ্টা করেও একাগ্রচিত্তে নামাজ আদায় করতে পারি না। পড়ার সময়ও আজেবাজে চিন্তা মাথায় আসে এবং মন অন্যদিকে চলে যায়। বর্তমানে স্মরণশক্তি কমে গেছে।
আপনার সমস্যার নাম অবসেশন। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। এ রোগে মনের মধ্যে নানা চিন্তা ঘোরাঘুরি করতে থাকে। ব্যক্তি ইচ্ছা করলেও এগুলোকে তাড়াতে পারে না। যেটি একজন সাধারণ লোক পারে। মূলত এটাই হলো এ রোগের বৈশিষ্ট্য। এ কারণে রোগীর মনোযোগ দিতে প্রচন্ড সমস্যা হয়। ক্রমে ক্রমে রোগীর মধ্যে বিষণ্নতার ভাব চলে আসে। কিছু ভালো লাগে না, কোনো কিছুতে আনন্দ লাগে না, সবকিছুতেই হতাশা, ব্যর্থতা এমন একটি অবস্থা মনের ওপর চেপে বসে। তবে আপনার বেলাতে রোগের অবস্থা প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। অবসেশনের পাশাপাশি আপনার প্যানিক অ্যাটাকের সমস্যা রয়েছে। এ কারণে হঠাৎ করে বুক ধড়ফড় করা শুরু করে। সমস্যা যেমনই হোক ঘাবড়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। এদের প্রত্যেকটিরই চিকিৎসা সমাধান বিদ্যমান। আপনি এক্ষেত্রে ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করুন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক সেবন করুন। বুক ধড়ফড় করাটা প্রথমেই কমে যাবে কিন্তু মনের ভেতরে নানা চিন্তা ঘুরার যে মূল সমস্যা তা যেতে সময় লাগবে। ২০ দিন যাওয়ার পরে কিছুটা ভালো বোধ করবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। এক মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
মো. লিয়াকত হোসেন
মতিঝিল, ঢাকা
আমার বয়স ২৫ বছর। আমার সমস্যা হলো-যেদিন থেকে আমি কথা বলতে শিখেছি সেদিন থেকে আমার কথা আটকে যায় বা তোতলায়। আমি বড়ই কল্পনাবিলাসী মানুষ, কল্পনার স্রোতে এমনভাবে ভেসে যাই যে আমার শাশ্বত জ্ঞান, খেয়াল থাকে না, কাজ করতে ভালো লাগে না, কাজের মাঝে আনন্দ বা আত্মতৃপ্তি কোনোটাই আমি পাই না। কোনো কিছুতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। আজ থেকে আট বছর আগ থেকে রাতে কিংবা দিনে ঘুমাতে গেলে কানের ভেতর এক প্রকার শব্দ শুনতে পাই। ভয়ানক এবং কষ্টদায়ক সেই শব্দ। শরীর দিয়ে অতিরিক্ত ঘাম বের হয়। সারাদিন কী যেন আবোল-তাবোল চিন্তা করি। কোনো চিন্তা মাথায় ঢুকলে আর বের করতে পারি না। মনে হয় সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমাকে নিয়ে ভাবছে। খাওয়া-দাওয়ায় কোনো তৃপ্তি পাই না। কোনো কিছুতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না, কোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারি না। আমাদের পরিবারে মানসিক সমস্যা আছে যেমন-আমার মা ছোট একটা বিষয় নিয়ে রাগ করে আত্মহত্যা করে। আমারও মাঝেমধ্যে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করে। জড়তা, অসাড়তা আর হীনমমন্যতা আমাকে ঘিরে ধরেছে।
আপনার সমস্যার নাম অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। এ রোগে মনের মধ্যে নানা চিন্তা ঘোরাঘুরি করতে থাকে। এ চিন্তাগুলো সমস্যাগ্রস্ত লোককে খুবই কষ্ট দেয়। ব্যক্তি ইচ্ছা করলেও এগুলোকে তাড়াতে পারে না, যেটি একজন সাধারণ লোক পারে। মূলত এটাই হলো এ রোগের বৈশিষ্ট্য। এ কারণে রোগীর মনোযোগ দিতে প্রচণ্ড সমস্যা হয়। ক্রমে ক্রমে রোগীর মধ্যে বিষণ্নতার ভাব চলে আসে। কিছু ভালো লাগে না, কোনো কিছুতে আনন্দ লাগে না, সবকিছুতেই হতাশা, ব্যর্থতা এমন একটি অবস্থা মনের ওপর চেপে বসে। তবে আপনার বেলাতে রোগের অবস্থা বিষণ্নতা সমস্যা পর্যন্ত ঠেকেছে। অবসেশনের পাশাপাশি আপনার তোতলামির সমস্যা রয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তোতলামিকে বলা হয় এস্টেমারিং। এতে অবচেতন, ভয়, উদ্বেগ সংশ্লিষ্ট থাকে। এ কারণে অপরিচিত কারো সাথে কথা বলা, পরীক্ষা দেয়া অথবা চাকরির ভাইভা দিতে গেলে সমস্যাটি প্রকটমাত্রায় নজরে আসে। সমসাময়িকে বুক ধড়ফড় করা শুরু করে। সমস্যা যেমনই হোক ঘাবড়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। আপনি এক্ষেত্রে ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করুন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক সেবন করুন। বুক ধড়ফড় করাটা প্রথমেই কমে যাবে কিন্তু মনের ভেতরে নানা চিন্তা ঘুরার যে মূল সমস্যা তা যেতে সময় লাগবে। ২০ দিন যাওয়ার পরে কিছুটা ভালো বোধ করবেন। তোতলামির ক্ষেত্রে কোনো ওষুধ চিকিৎসা করিয়ে তেমন একটা উপকার পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের সাইকোথেরাপির দরকার। যেটার নাম সিপচ থেরাপি। মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে সাইকোলজিস্টরা এটা দিয়ে থাকেন। এটি বর্ণনা দিয়ে বোঝানো যাবে না। আপনি এটার জন্য আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
মো. তুরাব আলী
গাবতলী, ঢাকা
আমার বয়স ৩৪ বছর, ওজন ৫০ কেজি, উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। চেহারায় কোনো লাবণ্য নেই। দেখতে প্রায় কঙ্কালসার। বহু বছর পর গত বছর একদিন দৈনিক প্রায় ১ ঘণ্টা করে দৌড়াতাম ও বিভিন্ন শারীরিক কসরত করতাম। এভাবে প্রায় ১ মাস করার পর হঠাৎ একদিন দৌড়ের মাঠেই আমার শরীরের মধ্যে এমন অবসন্নতা ও ভীষণ দুর্বলতা দেখা দিল যে এরপর আর কোনো দিন ৫ মিনিটও দৌড়াদৌড়ি করতে পারিনি। দৌড়ানো তো দূরের কথা যদি কোনো সময় ৫ মিনিট শারীরিক কসরতও করতাম বা করি তাহলে ঐদিনই রাতে জ্বর ওঠা, শরীর প্রচণ্ড ব্যথা হয়। তাছাড়া এমনিতেও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সর্বদাই ব্যথা থাকে, বিশেষ করে মেরুদণ্ডের উপরিভাগে, ঘাড়ের নিচে। সেই দৌড়ের মাঠের ঘটনার পর থেকে শরীর দিনে দিনে নিস্তেজ ও বিষণ্নতা হওয়ার সাথে সাথে মানসিক স্মৃতিশক্তি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাচ্ছে। বিশেষ প্রয়োজনীয় কাজটুকুও করতে ইচ্ছা করে না। ডাক্তারি পরীক্ষায় আমার রক্তে ‘ফাইলেরিয়া’ জীবাণু ধরা পড়েছে। সে জন্য ডাক্তারি পরামর্শে ট্যাবলেট নটিজিন ১+২+২ টা করে প্রথম ৪ সপ্তাহ খাওয়ার পরে তিন সপ্তাহ বাদ দিয়ে আবার তিন সপ্তাহ উক্ত নিয়মেই খেয়ে যাচ্ছি। শরীর ব্যথার জন্য হাই পাওয়ারের অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করে কিছুটা উপকার পেলেও ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিলে আবার ব্যথা হয়। হার্টের সমস্যা মনে করে ডাক্তারের পরামর্শেই ইসিজি করেছি তাতে নরমাল রিপোর্ট এসেছে।
আপনার সমস্যার নাম ডিসফোরিয়া। এটিকে শুদ্ধ বাংলায় অবসাদ বলা হয়। এ সমস্যার ক্ষেত্রে শারীরিক সমস্যা থাকলেও রোগের তীব্রতা রোগীর কাছে অনেক প্রকটমাত্রায় প্রকাশ পায় যেটি মেলানো কষ্টকর। এ রোগের বেলাতেও ওষুধ চিকিৎসা খুব একটা কাজ করে না, সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং, সাইকোথেরাপি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে, এটি দীর্ঘদিন চালিয়ে যেতে হয়। ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট সেট্রা ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে সেবন করুন। ১ মাস যাওয়ার পরে মনের অবস্থার উন্নতি হবে। ওষুধ চালিয়ে যাবেন। আমাদের কথা ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। ওষুধ চলাকালীন একসময় আমাদের সাথে সাইকোথেরাপির জন্য যোগাযোগ করবেন।
মো. মিজানুর রহমান
পবা, রাজশাহী
আমার বয়স ২৪ বছর। আমার সমস্যা হচ্ছে সব সময় মাথাব্যথা করে ও ভারী হয়ে থাকে। এই জন্য প্রতিরাতে একটা করে ট্যাবলেট ইনফ্ল্যাম খাই, এতে কিছুটা সুস্থ বোধ করি। তাছাড়া চোখে ঝাপসা দেখি, কানের ভেতর ভোঁ ভোঁ শব্দ করে এবং ধাপা ধরে থাকে। এই সমস্যা বেশি হয় সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং দিনের বেলায় ঘুমালে। তাছাড়া বাম কানে শুনতে পাই না। আমার সর্দি লাগে না আর যদি একবার হয় তাহলে আর ঝরে না ভেতরে জমে যায়। যখন মাথাঘোরা শুরু হয় তখন সমস্ত শরীর ও মাথা গরম হয়ে যায়, তার সাথে মাথা ও শরীর ঘেমে যায়। বমি বমি ভাব হয়, কখনো বমি হয়ে যায়। কোনো কিছু দিয়ে বমি বন্ধ করা যায় না। দুচোখে প্রচুর ঘুম আসে। শরীর এত দুর্বল যে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকতে পারি না। স্মরণশক্তি ও জ্ঞান-বুদ্ধি খুব কম। কোনো কিছু মনে রাখতে পারি না। কেউ আমাকে কিছু বললে সে বিষয়ে কোনো যুক্তি-তর্ক পরামর্শ কিছুই করতে পারি না। আমার শরীর খুব দুর্বল, কোনো শক্ত কাজ করলে হাঁফিয়ে যাই এবং এত ক্লান্তি আসে যে কাজ করতে ইচ্ছা হয় না। আশা করি আমার এসব সমস্যার সমাধান দিয়ে বাধিত করবেন।
আপনার মাথাব্যথার বর্ণনা থেকে মনে হয় আপনি মাইগ্রেন জাতীয় মাথাব্যথায় ভুগছেন। এসব মাথাব্যথাতে ব্যথানাশক ওষুধগুলোতে কাজ হলেও পূর্ণ নিরাময় ঘটে না। পাশাপাশি দীর্ঘদিন মাথাব্যথার কারণে আপনার মনে বিষণ্নতা সমস্যাও চেপে বসেছে। এ কারণে স্মরণশক্তি কমে গেছে বলে মনে হচ্ছে, অল্পতেই হাঁফিয়ে উঠছেন। এক্ষেত্রে আপনি ট্যাবলেট অ্যানকোরেট ২০০ মিলিগ্রাম ১+১+১ সেবন করুন। ট্যাবলেট লুডিওমিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে সেবন করুন। ৩ দিন পর ১টার স্থলে ২টা সেবন করুন এবং ওষুধ চালিয়ে যান। ২ সপ্তাহ গেলেই দেখবেন আপনার উপসর্গগুলো বেশ কমে এসেছে। ১ মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
মো. শাকিল
পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২০ বছর। আমার স্বাস্থ্য ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে এবং আমার চোখ দুটি ভেতরের দিকে ঢুকে যাচ্ছে। কিন্তু আমার কোনো শারীরিক দুর্বলতা নেই। স্বাস্থ্য ভেঙে যাওয়ার কারণে সবার কাছে আমাকে লজ্জা পেতে হয়। কিন্তু ১ বছর পূর্বে আমার স্বাস্থ্য খুব ভালো ছিল। বর্তমানে আমার শরীরে কোনো কোমলতার ভাব নেই। পুরো শরীর যেন শক্ত শক্ত মনে হয়। প্রাইভেট পড়তে প্রতিদিন আমাকে ৯ মাইল সাইকেল চালাতে হয়। জানি না এতে কি আমার স্বাস্থ্যের অধঃপতন। ভিটামিন হিসেবে আমি এরিস্টোভিট-এম ওষুধটি কিছুদিন আগে খেয়েছিলাম। কিন্তু এতে কোনো ফল পাইনি। দয়া করে আপনি যদি আমার এসব প্রশ্নের জবাব দেন তাহলে আপনার নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার চিঠিতে আপনার উপসর্গ কিছুটা অসপষ্ট রয়ে গেছে। শারীরিক দুর্বলতা নেই কিন্তু স্বাস্থ্য ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে এ কথা বলতে আপনি কী বুঝিয়েছেন তা অসপষ্ট। আপনার ওজন সম্পর্কে কোনো কিছু বলেননি। যদি মনে হয় আপনার ওজন কমে যাচ্ছে তাহলে স্রেফ অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এমনটি বলা উচিত নয়। পূর্বে ওজন নিয়ে থাকলে বর্তমান ওজনের সাথে মিলিয়ে হিসাব করে দেখুন। যদি ওজন কমতে থাকে তাহলে সমস্যা ধরে নিতে পারেন। যদি আপনার খাবার-দাবার ঠিক থাকে সে ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৯ মাইল সাইকেল চালানো তেমনটা কঠিন কোনো ব্যায়াম নয়। যে কারণে আপনার শরীরের ওপর প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি হবে। যদি আপনি এ অবস্থাকে সমস্যা মনে করে থাকেন তাহলে মেডিসিন বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করে আপনার শরীরের ভেতরের অবস্থা জেনে নিন। পরবর্তীতে রিপোর্টগুলোসহ আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
মো. জিয়াদ হোসেন
মধুশহীদ, সিলেট
বর্তমানে আমার বয়স ২০ বছর। মনোজগত পড়ে আমার সমস্যা মনে হয়েছিল অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। তাই ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম ২০ দিন এবং রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম, প্রোলার্ট ২০ মিলিগ্রাম ৪ মাস খেয়েছিলাম। তাতে সমস্যা কিছুটা কমেছে। পুরোপুরি কমেনি। তাই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম। ফলে আগের সমস্যা কিছু দেখা দিয়েছে যেমন-লোকজনকে দেখলে সাহস করে কথা বলতে পারি না, কোনো বক্তৃতা দিতে গেলে বা ইন্টারভিউ দিতে গেলে হার্টবিট বেড়ে যায়, সব সময় মনে হয় আমার মধ্যে কোনো রোমান্টিকতা নেই, মনে হয় সবাই আমাকে নিয়ে সমালোচনা করছে, আমাকে বোকা ভাবছে, আমাকে অবহেলা করছে। ঘরে বসে অলস সময় কাটাই, আবার ঘরে বসে ভাবি যে সবাই আমাকে গুরুত্বহীন মনে করছে। বাইরে গেলেও বন্ধুদের সাথে সুন্দর করে মিশতে পারি না, কাউকে প্রভাবিত করতে পারি না, মনে হয় আমার মধ্যে কোনো পুরুষত্ব নেই। কোনো কাজের প্রতি আগের মতো আগ্রহ নেই, কোনো রাগ নেই, অভিমান নেই, মনে হয় এটাই আমার নিয়তি। শরীরে কোনো দুর্বলতা নেই, তবুও কেন জানি অস্বস্তি লাগে, মাঝে মাঝে হাই ওঠে, দীর্ঘশ্বাস নিতে হয়। চোখে পানি এসে যায়, বুকে চাপচাপ লাগে, চোখ ভারী লাগে।
ওষুধ অনেক দিন চালাতে হবে। আপনি ক্যাপসুল প্রোলাট ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ২টা করে ৬ মাস খেয়ে যান। অতঃপর ১টা করে পরের ৬ মাস চালিয়ে যাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খান। ১ মাস পর অর্ধেক করে চালিয়ে যাবেন। আশা করি উপকার পাবেন।
শামিম হোসেন
পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম
আপনি আমাকে ট্যাবলেট জেনাক্স ০.৫ মিলিগ্রাম দিনে ৩ বার, ট্যাবলেট সেট্রা ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা, রাতে ট্রিপটিন ১০ মিলিগ্রাম ১টা খেতে দিয়েছেন এবং ১ মাস পর যোগাযোগ করতে বলেছেন। কিন্তু আমি যোগাযোগ করতে পারিনি এবং ট্যাবলেট খাওয়া আজও চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এখন সমস্যা হচ্ছে-মাথার ভেতর যেন ঝিঁ ঝিঁ পোকা চেঁচাচ্ছে, মনে হয় মাথার ভেতর মেশিন চলছে। ঘুমাতে গেলে মনে হয় শত শত ঝিঁ ঝিঁ পোকা কানের ভেতর চেঁচাচ্ছে। প্রচুর ঘুম হয়। কিন্তু ঘুমাতে যাওয়ার সময় এসব ঘটে। ঘুমের ঘোরে আজেবাজে স্বপ্ন দেখি এবং কথা বলি। পাশে যে থাকে সে এসব কথা শোনে। স্বপ্নের কারণে প্রচুর ঘুম সত্ত্বেও ঘুমাতে যেতে ইচ্ছা করে না। মাথার ভেতর মগজে কেমন একটা চক্কর দেয়। তখন মনে হয় যেন পৃথিবীর সবকিছু ভুলে গেছি। স্মৃতিশক্তি কমে গেছে, বুকের ভেতর ধড়ফড় করে। লিখতে গেলেও হাত-পা কাঁপে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার যে সমস্যার কথা বলেছেন তা ওষুধের কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়। আপনি এক্ষেত্রে আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
শোয়েব আক্তার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
আমার বয়স ২২ বছর। অহেতুক মনের মধ্যে বিভিন্ন চিন্তা জড়ো হয়। মনে হয় যেন মরে যাই। মাঝে মাঝে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করে। মন কোনো সময় ভালো থাকে, আবার হঠাৎ করেই খারাপ হয়ে যায়। নিজেকে সব সময় ছোট মনে হয়। আর আমার শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে বেশি ভাবায়। যেমন ধরেন আমার কেমন চেহারা, আমার ফিটনেস নেই, আমার প্রধান সমস্যা হচ্ছে চুল পড়ে যাচ্ছে। এটাই আমাকে বেশি চিন্তিত করে তোলে। মনে হয় চুল না থাকলে বেঁচে থেকে কী লাভ। আর আমার শরীরের চেয়ে মুখে মাংস মনে হয় বেশি। এই জন্য সবাই বলে তুই মোটা হয়ে যাচ্ছিস। এটা আমাকে ভাবায়। অন্যদিকে রাতে ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে উঠি। আমি কিছুই বুঝতে পারি না, মাঝে মাঝে রুমের দরজা খুলে বাইরে চলে যাওয়ার পর যেন সেন্স ফেরে। রুমমেটরা বলে তোমার সমস্যা হয়েছে, তুমি ডাক্তার দেখাও। এই ঘটনাগুলো রুমমেটরা যখন বলে তখন লজ্জা লাগে। কারো ওপর রেগে গেলে বুক ধড়ফড় করে যেন আর জোরে কথা বলতে পারি না।
আপনার সমস্যা লো সেলফ এস্টেম ডিসঅর্ডার। পাশাপাশি আপনার মাঝে নাইট মেয়ারের সমস্যা রয়েছে। আপনি ট্যাবলেট নেক্সসিটাল ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.২৫ মিলিগ্রাম সাথে ১টা করে খাবেন। রাতে খাওয়ার পর ট্যাবলেট সিজোপিন ২৫ মিলিগ্রাম অর্ধেক খাবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।
আ ক ম হাসান
সৌদি আরব
আমার বয়স ২৩ বছর। আমার সমস্যা হলো কোমরের উপরে ঠিক কিডনি বরাবর মাঝে মাঝে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হয় এই ব্যথার কারণে। মাঝে মাঝে মাথা, চোখের পাতা ও গর্দানও ব্যথা হয়, যেমন হয় প্রেসারের রোগীদের। এই সমস্যা আজ ৩-৪ বছর হবে। তবে এখন একটু বেড়ে যাচ্ছে মনে হয়। আমার পুরো শরীর সারাক্ষণ ঝিম মেরে থাকে। বর্তমানে খাওয়ার রুচিটা কম এবং শরীর দুর্বল থাকে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনাকে সমস্যাটি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি বিলম্ব না করে একটা আলট্রাসনোগ্রাম কেইউবি, একটা এক্স-রে কেইউবি করে নিন। অতঃপর রিপোর্টের ফটোকপি আমাদের নিকট পাঠান।
মো. আবিদ হোসেন
সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২০ বছর। আমার সমস্যাগুলো ২ বছর থেকে। পড়ালেখা করার প্রচুর আগ্রহ কিন্তু পড়তে বসলে পড়ায় মন বসে না। পড়ায় ও নামাজে আজেবাজে চিন্তা আসে, স্মরণশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। সময়মতো কাজ করতে পারি না। প্রতিজ্ঞা করি নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত কাজ করব কিন্তু তা করতে পারি না। কথা দিয়ে কথা রাখতে পারি না। কোনো একটি কাজ করার পর সন্দেহ লাগে কাজটি ঠিকমতো হয়েছে কি না। যেমন-ঘরের দরজায় তালা লাগানোর পর কতটুকু গেলে মনে হয় দরজায় তালা লাগেনি আবার এসে দেখি তালা ঠিকভাবে আটকানো আছে।
আমি বড় কারো চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারি না। তাদের যেই কথা বলতে যাই তা বলতে পারি না, মেয়েদের সাথে কথা বলতে সংকোচবোধ করি। আমার গাল দুটি ভাঙা, শরীর হাল্কা পাতলা, চোখে চশমা, আমাকে দেখতে ছাত্রের মতো মনে হয় না। আমি বন্ধুদের সাথে মিশতে লজ্জাবোধ করি, কেননা তাদের সাথে আমাকে মানায় না।
আপনার সমস্যার নাম অবসেশন। এটি আপনার বেলাতে বেশ প্রকট মাত্রায় পৌঁছেছে। এ ক্ষেত্রে ট্যাবলেট অক্সাট ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট বোপাম ৩ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও বিকেলে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট ফুয়াঞ্জল ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে খাবেন। প্রথম দুটো ওষুধ চালিয়ে যাবেন, তৃতীয় ওষুধটি ২০ দিনের মাথায় বন্ধ করে দেবেন। দেড় মাস পর অবস্থা জানিয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
সামসুল হক
কয়রা, সাতক্ষীরা
আমার বয়স ১৯ বছর। আমি দুই বছর যাবৎ মাথার যন্ত্রণায় ভুগছি। স্থানীয় ডাক্তারের পরামর্শে অ্যামিট্রিপটাইলিন নামের ওষুধ এবং সাথে ঘুমের বড়ি ও ভিটামিন ওষুধ খেতে বলেছিল। আমি দুই-তিন মাস তা খাই কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পর আমার মাথার যন্ত্রণা সাময়িকভাবে কমে, পরে আবার যন্ত্রণা শুরু হয়। এই মুহূর্তে আমি আপনার শরণাপন্ন। আমার সমস্যা হলো আমার সব সময় মাথা যন্ত্রণা করে, তবে সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং বিকেলে সবচেয়ে বেশি অসহনীয় যন্ত্রণা করে। এই সময় কানের ওপর থেকে মাথার চারপাশে প্রচণ্ড জ্বালা করে।
আপনার সমস্যার নাম সাইকোজেনিক মাথাব্যথা। আপনি এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন দুপুরে অন্তত এক ঘণ্টা ঘুমানোর ব্যবস্থা করুন আর বিকেলে ট্যাবলেট বোপাম ৩ মিলিগ্রাম সেবন করুন। আশা করি কিছুটা উপকার পাবেন।
আজিবুর রহমান
সিলেট
আমার বয়স ২৪ বছর। ছোটবেলা থেকে আমার তোতলামির সমস্যা ছিল। এখন আগের মতো আর তেমন সমস্যা হয় না। তবুও মাঝেমধ্যে কিছু শব্দ বলতে গেলে আটকে যাই। তখন শব্দটা বাদ দিয়ে বলার চেষ্টা করি বা কিছুক্ষণ পর ওই শব্দটা বলি। এতে সব সময় স্বাধীনভাবে সব কথা বলতে পারি না। বিদেশে এ ধরনের সমস্যা দূর করার জন্য সিপচ থেরাপি বা নানা চিকিৎসা রয়েছে। বাংলাদেশে কি কোথাও এ ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয়? যদি হয় তবে সেখানকার ঠিকানা জানতে চাই। কথা বলার এবং জড়তা দূর করার, নিজে নিজে চর্চা করার মতো কোনো ব্যবস্থা আছে কি?
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। তোতলামির চিকিৎসার ক্ষেত্রে সিপচ থেরাপি দরকার। এ ধরনের পেশাদার আমাদের দেশে এখনো তৈরি হয়নি। আপনি কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাতে পারেন।
শাহনেওয়াজ
পলাশ, নরসিংদী
আমার বয়স ২৪ বছর। আমি অবিবাহিত। আমি প্রায় ২ বছর যাবৎ খুবই অস্বাভাবিকভাবে প্রতিনিয়ত মানসিক অশান্তিতে ভুগছি। মাঝেমধ্যে মনে হয় আত্মহত্যা করি এবং কয়েকবার বিষ খাওয়ার জন্য চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। আমার মানসিক রোগটা সবার চেয়ে আলাদা। আমার শরীর স্বাস্থ্য সব ভালো। কিন্তু আমার হাতের কব্জিটা শরীরের তুলনায় খুবই ছোট এবং ছোট হওয়ার কারণে হাতের কব্জিটা হতে উপরে ছয় আঙুল ওই অংশটুকুর গঠনও খুব ছোট। যা ১৪-১৫ বছর ছেলেদের হাতের কব্জির মতো। আমি পুলিশ বাহিনীতে চাকরি করি। এ অবস্থায় ডিউটি করতে খুব লজ্জা লাগে। প্রচুর ব্যায়াম করেছি কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি।
আপনি এ ব্যাপারটা নিয়ে কোনো অর্থোপেডিক ডাক্তারের সাথে কথা বলতে পারেন। তবে যেহেতু এ ব্যাপারটিকে ঘিরে আপনার মনের মাঝে বিষণ্নতা সমস্যা দেখা দিয়েছে এ কারণে এ বিষণ্নতার চিকিৎসা করানো দরকার। আপনি ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও সন্ধ্যায় ১টা খাবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।
মো. খাইরুল ইসলাম
নওগাঁ
রোগের লক্ষণসমূহ-দুশ্চিন্তা, টেনশন, বিষণ্নতা, মাথাব্যথা, চঞ্চলতা, উত্তেজিত হওয়া, বেশি বেশি কথা বলা, ভুল কথা বলা, এলোমেলো কথা বলা, শরীরে জ্বালাপোড়া করা, শরীরের দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা এ ব্যথা বুকে ও কোমরে বেশি অনুভূত হয়। অসহায়বোধ, আত্মবিশ্বাসহীনতা, নিজেকে ছোট ভাবা, অশান্তিবোধ, খাবারে অরুচি, অহেতুক ভীতি, মৃত্যুভীতি, যৌনভীতি, খুঁতখুঁতে স্বভাব, একই কাজ ও একই চিন্তা বারবার করা, সন্দেহবাতিক, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, অবাধ্যতা, ঝগড়াটে স্বভাব, ঘুমের সমস্যা, অকারণে দুর্বলতা, ক্লান্তিবোধ ইত্যাদি।
আপনার সমস্যার নাম অবসেশন। পাশাপাশি আপনার মাঝে বিষণ্নতার সমস্যা রয়েছে। আপনি ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন বিকেলে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক করে খাবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। ওষুধ অনেক দিন খেতে হবে।
বেলাল হোসেন
নাটোর
আমার বয়স ২১ বছর। আমার সমস্যা আমি অন্য কোনো লোকের সামনে লিখতে গেলে হাত কাঁপে, হাতে কোনো শক্তি পাই না। কোনো কারণে কোনো জায়গায় সিগনেচার দিতে গেলে হাত কাঁপে এবং শক্তি পাই না। ইদানীং একা একা লিখতে গেলেও হাত কাঁপে, জোরে লিখতে পারি না, লেখা নষ্ট হয়ে যায়। শরীর দুর্বল লাগে। ঘুম বেশি হয়। একা থাকতে ভালো লাগে। কারো সামনে গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। কাজ করলে হাঁপিয়ে উঠি, সমস্ত শরীর কাঁপে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি অ্যাংজাইটি সমস্যায় ভুগছেন। ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম আর ট্যাবলেট ইনডেভার ১০ মিলিগ্রাম সকাল, দুপুর ও রাত ৩ বেলা সেবন করবেন। সাইকোথেরাপির জন্য মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন।
মোহায়মেন
চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৩ বছর। আমার প্রথম সমস্যা হলো অনেক দিন থেকে মাথাব্যথায় ভুগছি। যদিও মাথাব্যথা আগে ২-৩ বছর পর হতো, এখন ২-৩ সপ্তাহ পরপর দেখা দেয়। মাথাব্যথা ওঠার প্রায় ১ ঘণ্টা আগে থেকে জানতে পারি। মাথাব্যথা ওঠার আগে চোখে ঝাপসা দেখি ও অন্ধকার দেখি, কানে ঝিঁ ঝিঁ ধরে, চলতে গেলে হঠাৎ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। মাথাব্যথা ডান বা বাম পাশ অথবা ঠিক মাথার মাঝখান হতে শুরু হয়। ব্যথা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বমির ভাব লাগে। যতক্ষণ বমি আসবে না মাথাব্যথা কমবে না। বমি করার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা কমতে শুরু করে। পড়াশোনা একটু বেশি করলে মাথাব্যথা হয় এবং মাথা গরম হয়ে যায়। চোখে অন্ধকার দেখি। বসে থাকলে আমার বুকটা ধড়ফড় করে। বিপরীত আলোতে দেখলে মনে হয় আমাকে কেউ ধীরে ধীরে দোলা দিচ্ছে। পায়খানা পরিষকার হয় না, মাঝেমধ্যে দেখা যায় সারাদিনে ১ বারও পায়খানা হয় না। একটু ভালো জিনিস খেলেই পেট দম হয়ে থাকে, ঢেকুর দিতে থাকে। স্মরণশক্তি কম, পড়লে ভুলে যাই, পড়তে বসলে বিভিন্ন চিন্তা এসে মাথায় জড়ো হয়, প্রায় চিন্তার জগতে হারিয়ে যাই।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা মাইগ্রেন। আপনি ট্যাবলেট পিজোফেন টিএস ১.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে খাবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।
স্বপন চন্দ্র দাস
চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২২ বছর। আমি সারাদিন টেনশনে থাকি, শরীর দুর্বল, স্মরণশক্তি কম, আমি খুব কল্পনাপ্রিয় মানুষ। সারাদিন খাওয়া-দাওয়া, কাজকর্ম বাদ দিয়ে শুধু কল্পনা করি, কল্পনা যেন আমার সঙ্গী। কল্পনা ছাড়া আমি অচল, কল্পনায় আমি কখনো রাজা, নায়ক, গায়ক, যোদ্ধা, নামকরা কোনো মাস্তান ইত্যাদি হয়ে যাই। শত চেষ্টা করলেও কল্পনা মাথা থেকে সরাতে পারি না। মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে নিজেই নিজেকে গালি দেই, যৌন সমস্যা রয়েছে ইত্যাদি।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অবসেশন। মনোরোগের ভাষাতে অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। আপনি ট্যাবলেট চিয়ার ৫০ মিলিগ্রাম ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা খাবেন। ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম রাতে ১টা করে সেবন করবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।
আব্দুল খালেক
নড়িয়া, শরীয়তপুর
আমার বয়স ২৪ বছর। আমার সমস্যাগুলো হলো-নিজেকে ছোট ও অসহায় ভাবা, নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস নেই, সাধারণ কারণেই রেগে ওঠা, কোনো ধরনের কাজ করতে গেলেই হাজারো প্রশ্ন মাথায় জাগে, কাজটি ভালো না মন্দ, লাভ না ক্ষতি এসব নিয়ে হাজারো চিন্তা করা, পড়াতে মন বসে না, আজেবাজে কথা মনে আসে, রাস্তায় অথবা মার্কেটে গেলে মনে হয় সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমাকে নিয়ে কথা বলছে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি অবসেশন সমস্যায় ভুগছেন। মনোরোগ চিকিৎসাবিদ্যায় যাকে ওসিডি বা অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার বলে আখ্যায়িত করা হয়। আপনি ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম রাতে ১টি করে সেবন করবেন, ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টি ও রাতে ১টি সেবন করবেন এবং ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম রাতে ১টি করে সেবন করবেন। ১ মাস পর আমাদের মনোজগত চেম্বারে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।
এজাজ মুন্না
পবা, রাজশাহী
আমার বয়স ৩০ বছর। আমি দীর্ঘ ৮-৯ বছর ফেনসিডিল, ঘুমের ট্যাবলেট ও গাঁজা নিয়মিত সেবন করেছি। ৪ বছর পূর্বেই আমি মাদক থেকে পরিপূর্ণভাবে মুক্ত হয়েছি। এ কথা আমি নির্দ্বিধায় বলছি। এই ৪ বছর থেকে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো নিয়ে অবর্ণনীয় এবং অসহনীয় কষ্টের সঙ্গে বাস করে আসছি। প্রচণ্ড মাথাব্যথা, কপাল কিটকিট করা, চোখ জ্বালা করে ও ঝাপসা দেখি। দাঁতের মাড়ি কড়া ও ব্যথা, কানের ভেতরে ও বাইরে চাপ ও ধাপা ধরে থাকে এবং চি শব্দ হতেই থাকে। বুক চেপে ধরে থাকে, মাথা, ঘাড়, বুক, পেট হাত ও পায়ের মাংস ব্যথা ও শক্তিহীন। তলপেট টিব ও চাপ হয়ে থাকে। অণ্ডকোষে চাপ অনুভব করি। মাথা থেকে পায়ের নিচ পর্যন্ত খিঁচুনিযুক্ত ব্যথা যা টিপলে ব্যথা পাওয়া যায় না। নাকের এক পাশ সব সময় বন্ধ থাকে। হাত-পা সব সময় ঠান্ডা। খাবারে রুচি নেই। শ্বাস-প্রশ্বাস অতৃপ্তিকর। শরীর ও মাথা সব সময় ঝিমঝিম করে। ভাবনা এলোমেলো, মনে মনে কথা বলতেই থাকি। পার্থিব চাহিদার কিছুই নেই। কী যেন করব, কী যেন করা হয়নি, কী যেন নেই এমন বোধ হতেই থাকে। আচ্ছন্ন ঘোরের মধ্যে থাকি। ঘুম থেকে উঠে শরীর সুস্থ ও ঝরঝরে হয় না।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। চিকিৎসার শুরুতে আপনাকে মাদক ছাড়তে হবে। এটিকে ডিটক্সিফিকেশন বলা হয়। আপনি এর জন্য কোনো মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হতে পারেন। অতঃপর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
রানা
ছাতক, সুনামগঞ্জ
আমার বয়স ১৯ বছর। আমার সমস্যা হলো আমার মাথায় সব সময় আজেবাজে চিন্তা, নানা অশ্লীল ভাবনা থাকে। নাটক বা সিনেমা দেখলে আমি গল্পের কোনো চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মেলানোর কল্পনা করি। ওই চরিত্রে খারাপ কিছু থাকলে তা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। কিন্তু পারি না, সিনেমা দেখলে সিনেমার অশ্লীল দৃশ্যগুলো চোখে ভাসতে থাকে। এমনকি আমার পরিচিত কিছু মেয়েকে নিয়েও অশ্লীল ভাবনা হয়। যে জন্য নিজেকে খুব ঘৃণা হয়। মেজাজ খিটখিটে থাকে, কোনো কিছুই ভালো লাগে না। কারো কথা বেশিক্ষণ শুনতেও বিরক্ত লাগে। কারো সঙ্গে মতপার্থক্য দেখা দিলে ঝগড়া বাধিয়ে ফেলি। সব সময় মৃত্যুভীতি ও বিপদের আশঙ্কায় থাকি। অপরিচিত কারো সঙ্গে কিংবা সহপাঠী বা সমবয়সী মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বস্তি লাগে। কারো সঙ্গে গুছিয়ে কথা বলতে পারি না।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অবসেশন। মনোরোগের ভাষাতে অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। আপনি ট্যাবলেট চিয়ার ৫০ মিলিগ্রাম ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা খাবেন। ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম রাতে ১টা করে সেবন করবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন। ওষুধ অনেক দিন সেবন করতে হবে। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। তবে এক মাস যাওয়ার পর কিছুটা উপকার পাবেন। এ ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে হবে।
আজিজুল হক
মিরপুাকুষ্টিয়া
আমার বয়স ১৯ বছর। উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি, ওজন ৪০ কেজি। দৈনিক ১-২ বার কষা পায়খানা হয়। আমার চোখ খুব ভেতরে ঢুকে গেছে। চেহারা ভেঙে বুড়ো মানুষের মতো হয়ে গেছে। চোখের নিচে হাল্কা কালো ছাপ। ইদানীং আমার হালকা হালকা মাথা ঘোরায়, সবাই আমাকে দেখলে হাসে এবং কঙ্কাল বলে। আমার শরীর খুব দুর্বল। খুব ক্ষুধা লাগে, খেতে বসলে খেতে পারি না। মুখে রুচি নেই, স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করতে করতে আমি মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে যাচ্ছি।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা লো সেলফ এস্টেম। আপনি মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সাইকোথেরাপি গ্রহণ করতে পারেন।
জুলফিকার আলী
মতিঝিল, ঢাকা
মাঝে মাঝে মনে হয় বুকটা ছিঁড়ে কাউকে যদি দেখাতে পারতাম কত কষ্টে আছি তাহলে শান্তি পেতাম। নিজের কোনো উপস্থিত বুদ্ধিশুদ্ধি নেই বলে মানুষ আমাকে মানুষের মতো মনে করে না। কেউ পরোয়া করে না। মানুষকে নিজের কোনো মনোভাব বোঝাতে পারি না যে জন্য এত কষ্টকর, এত অসহ্যময় জীবন। মাঝে মাঝে মনে হয় পাগল হয়ে যাব। মানুষের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতে পারি না, তাদের সঙ্গে মিশতে পারি না। পাবলিক ফাংশনে যেতে পারি না, লোক দেখলে মনে ভয়ের সঞ্চার হয়। সব সময় মানুষকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। বেশির ভাগ সময় একা একা থাকি। যখন ডিপার্টমেন্টে যাই তখন খুব অসহায় লাগে। কারো সঙ্গে মিশতে পারি না, তাই কেউ আমার সঙ্গে মেশে না। এভাবেই চলছে বিগত তিনটি বছর। মাথার তালু যখন গরম হওয়া শুরু করে তখন মনে হয় বাঁচা আর সম্ভব হলো না। বিশেষ করে পরীক্ষা এলে এমন দশা হয়। সেক্সুয়াল সমস্যাটিও মাঝেমধ্যে প্রকট আকার ধারণ করে। প্রস্রাব ঘন ঘন হয়। শরীর বেশ দুর্বল। এই নানা সমস্যায় আমার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আমার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন সবাই আমার কাছে দূরের মানুষের মতো।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা সোশ্যাল ফোবিয়া। ট্যাবলেট নেক্সিটিল ১০ মিলিগ্রাম সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা সেবন করবেন।



