Skip to main content

পুনঃআসক্তির প্রক্রিয়া সম্বন্ধে কিছু কথা

টেরেন্স টি. গোর্‌স্কি ও মারলিন মিলার

পুনঃআসক্তি কী? এই প্রশ্নটির উত্তর এত সহজ নয়। এ সম্বন্ধে সঠিক উত্তরটি জানার জন্য পুনঃআসক্তির ধারণার ইতিহাস পর্যালোচনা করা দরকার।

১৯৩০ দশকের মধ্যভাগে অ্যালকোহলিক অ্যানোনিমাস (এ.এ.)-এর প্রথম দিকের দিনগুলো মদ্যাসক্তরা পুনরায় মদ্যপান শুরু করাকে পুনঃআসক্তি হিসেবে মনে করত। সাধারণত মদ্যপানে প্রত্যাবর্তন করাকেই পুনঃআসক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। কিন্তু মদ্যাসক্তরা যখন মদ্যপানের বিকল্প হিসেবে অন্যান্য মাদকদ্রব্যের ব্যবহার শুরু করল তখন তারা উপলব্ধি করতে সক্ষম হলো যে, তারা যে কোনো প্রকার প্রশান্তিদায়ক মাদকদ্রব্য কখনোই নিরাপদে ব্যবহার করতে পারে না। মদ হলো এক প্রকার স্নায়বিক উত্তেজনা ও মানসিক অস্থিরতা প্রশমনকারী মাদকদ্রব্য এবং বতমানে এটিও প্রমাণিত সত্য যে, শরীরের ওপর যেকোনো প্রকার প্রশমনকারী মাদকদ্রব্য মদের মতো একই ধরনের প্রভাব ফেলে। মূলত এ জন্য কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি ‘মদ্যাসক্তি’ শব্দটির পরিবর্তে ‘প্রশমন আসক্তি’ শব্দের ব্যবহার শুরু করল। কেননা, দেখা গেল যে, মদ নয়, বরং বেদনা প্রশমনকারী মাদকদ্রব্যের প্রতি শরীরের প্রক্রিয়াটিই হলো মূল সমস্যা। তাই শেষ পর্যন্ত পুনঃআসক্তির মানে দাঁড়াল, মদসহ যেকোনো প্রকার প্রশমনকারী মাদকদ্রব্যের ব্যবহারে প্রত্যাবর্তন।

১৯৬০ সালের দিকে বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্যের ব্যবহারের মধ্য দিয়ে কোনো কোনো ব্যক্তি উপলব্ধি করতে শুরু করল যে, মন-মানসিকতার পরিবর্তন সৃষ্টিকারী যেকোনো প্রকার মাদকদ্রব্য পুনঃআসক্তিকে জাগ্রত করতে পারে। অ্যামফিটামিন, মারিজুয়ানা, কোকেন বা এলএসডির মতো মাদকদ্রব্যগুলো শরীরের ওপর প্রভাব প্রশমনকারী মাদকদ্রব্যের প্রভাবের চেয়ে ভিন্ন। কিন্তু এই মাদকদ্রব্যগুলোও মানসিক ও আবেগীয় অবস্থার পরিবর্তন ঘটায় এবং বিচার-বিশ্লেষণ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে যার ফলে ব্যক্তির পক্ষে সুস্থতা লাভ ব্যাহত হয়। এই দ্রব্যগুলোও ব্যক্তির আচরণের ওপর প্রভাব বিস্তার করে যার দরুন আপনার মধ্যে এই মুহূর্তে ভালো লাগা, পরবর্তীতে তীব্র যন্ত্রণার অনুভূতি সৃষ্টি হয় এবং আচ্ছন্নতা, বাধ্যবাধকতা ও নিয়ন্ত্রণহীনতার উদ্ভব হয়। মোটকথা, যেকোনো মাদকদ্রব্যের ব্যবহারই শেষ পর্যন্ত শারীরিক-মানসিক-সামাজিক ক্ষতির সৃষ্টি করে এবং আসক্তির চক্রকে পুনরায় সক্রিয় করে তুলতে পারে। এসব নতুন জ্ঞানের পরিপ্রেক্ষিতে মদ্যাসক্তরা মন-মানসিকতার পরিবর্তন সৃষ্টিকারী যেকোনো প্রকার মাদকদ্রব্যের ব্যবহারকে পুনঃআসক্তি বলে চিন্তা করতে শুরু করল (স্মরণ রাখতে হবে যে মদও একটি মন-মানসিকতার পরিবর্তন সৃষ্টিকারী মাদকদ্রব্য)।

মদ বা মাদকদ্রব্য ব্যবহারের প্রত্যাবর্তনকে পুনঃআসক্তি মনে করার ধারণার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা প্রদানকারী এবং এ.এ বা এন.এ-এর সদস্যরা সর্বদা বিশ্বাস করত যে, সুস্থতার জন্য শুধুমাত্র মদ বা মাদকদ্রব্যের ব্যবহার বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়। এ.এ-এর প্রথম ধাপেই কেবল মদ/মাদকদ্রব্যের উল্লেখ আছে, অথচ পরবর্তী ধাপগুলো আত্মনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপনের উপায়গুলোর কথা বলে। মোটকথা, ‘মাদকদ্রব্য ব্যবহার না করার’ ওপর কেন্দ্রীভূত হওয়ার পরিবর্তে আসক্তিমূলক ব্যবহার ব্যতীত ফলপ্রসূ ও স্বাচ্ছন্দ্যভাবে বেঁচে থাকার কৌশল শেখার ওপর কেন্দ্রীভূত হতে বলা হয়েছে। এটি আমাদের এই ধারণার দিকে পরিচালিত করে যে, পুনঃআসক্তির ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি মদ বা মাদকদ্রব্য ব্যবহার করছে নাকি করছেন তার চেয়েও মুখ্য বিষয় হলো ওই ব্যক্তি কীভাবে কার্যকর রয়েছে। মদ বা মাদকদ্রব্য ব্যবহার না করা হলো সুস্থতার পূর্বশর্ত, কিন্তু সুস্থতার মধ্যে শুধুমাত্র ড্রাগ ব্যবহার না করার বাইরেও আরো অনেক কিছু অন্তর্ভুক্ত।

এ ধরনের চিন্তার পরিপ্রেক্ষিতে, পুনঃআসক্তির প্রক্রিয়ার মধ্যে সুস্থতার যাত্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। এই অকার্যকারিতার মধ্যে শারীরিক, মানসিক বা সামাজিক স্বাস্থ্যের বিষয়গুলো থাকতে পারে। তার অর্থ এই নয় যে, আসক্তিমূলক ব্যবহার পুনঃআসক্তি নয়। এর অর্থ হলো, আসক্তিমূলক ব্যবহার শুরু হওয়ার পূর্বে পুনঃআসক্তির প্রক্রিয়ার উদ্ভব হয়! মূলত ইতিমধ্যে সক্রিয় হওয়া পুনঃআসক্তির প্রতিক্রিয়ার প্রত্যক্ষ ফলস্বরূপ আসক্তিমূলক ব্যবহারের সূচনা হয়। আর আসক্তিমূলক ব্যবহার হলো অকার্যকারিতার যন্ত্রণাকে প্রশমন করার একটি উপায়। এই অকার্যকারিতা একটি মানসিক প্রক্রিয়া হিসেবে শুরু হয় যাকে এ.এ-তে দুর্গন্ধময় চিন্তা বলা হয়েছে। এটি ব্যক্তির আচরণে পরিবর্তন নিয়ে আসে, এ.এতে যাকে ‘বিন্যাস বা প্রস্তুতি’ বলা হয়। আর এই বিন্যাস বা প্রস্তুতিই শেষ পর্যন্ত ব্যক্তির মাদকনিবৃত্তির মধ্যে অকার্যকর আচরণ বৃদ্ধি করে যা এ.এতে ‘শুষক মাতলামি’ নামে পরিচিত। এই শুষক মাতলামি ব্যক্তিকে আসক্তিমূলক ব্যবহার কিংবা আবেগীয় বিশৃঙ্খলা, চাপজনিত অসুখ বা শারীরিক অসুস্থতার মতো অন্যান্য জটিল অকার্যকারিতার দিকে পরিচালিত করতে পারে।

অনেক সুস্থতাগামী ব্যক্তি নেশামুক্ত থাকার পরেও আত্মহত্যা করেছে বা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এটি সুস্থতা নয়। শুধুমাত্র মদ বা ড্রাগ ব্যবহারকে পুনঃআসক্তির প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য করার ধারণা আসক্তির সুস্থতাকেন্দ্রিক উপসর্গগুলোর চিকিৎসাকে অবহেলা করে। মদ্যাসক্তি ও মাদক নির্ভরশীলতার অনেক সুস্থতাকেন্দ্রিক লক্ষণকে মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা হিসেবে অবহেলা বা অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। তীব্র প্রতিক্রিয়া ও তীব্র প্রতিক্রিয়া-পরবর্তী উপসর্গ হিসেবে আবির্ভূত হওয়া বিষণ্নতা, দ্বিধাগ্রস্ততা ও উদ্বেগকে প্রায়ই আসক্তির লক্ষণ হিসেবে শনাক্ত করা হয় না। তাই এসবের যথাযথ চিকিৎসা প্রদানে চিন্তা করা, পদক্ষেপ নেয়া বা উৎসাহিত করা হয় না। এসব আসক্তিসম্পর্কিত সমস্যায় জর্জরিত অনেক সুস্থতাগামী ব্যক্তিকে মনোচিকিৎসক বা মনস্তাত্ত্বিকের কাছে পাঠানো হয়, যাদের আসক্তিমূলক অসুস্থতা সম্বন্ধে ধারণা অতি সামান্য বা একেবারেই নেই। অথচ এই আসক্তিমূলক অসুস্থতার কারণেই উপরোক্ত সমস্যাগুলোর সৃষ্টি।
পুনঃআসক্তির প্রক্রিয়া সম্বন্ধে এই বিস্তারিত জ্ঞান এই সত্যের উন্মোচন করে যে, জীবনের মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র ড্রাগ ব্যবহার করা বা না করার ওপর কেন্দ্রীভূত নয়। বরঞ্চ মূল লক্ষ্যগুলো হলো আসক্তির কারণে সৃষ্ট ক্ষতি থেকে পুনরুদ্ধার, সুস্থতাকেন্দ্রিক উপসর্গগুলো নিয়ন্ত্রণের কৌশল শেখা এবং শারীরিক, মানসিক, সামাজিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন করা। এই বিষয়গুলোই আমাদের জীবনকে মদ ও মাদকদ্রব্য নয়, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের চারপাশে আবর্তিত হওয়ার সুযোগ প্রদান করে।

এটি আসক্তিমূলক ড্রাগ ব্যবহারে বাধ্য হওয়ার পূর্বে আপনাকে পুনঃআসক্তির প্রারম্ভিক সতর্ক সংকেতগুলো সম্বন্ধে জানতে ও চিহ্নিত করতে সাহায্য করে, যা পুনঃআসক্তির লক্ষণসমূহ নিবারণকল্পে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে। আসক্তিমূলক ব্যবহারই যদি পুনঃআসক্তির একমাত্র নির্ণায়ক হয়, তবে যত দিন আপনি মাদক গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবেন তত দিন নিজেকে ঝুঁকিমুক্ত বলে বিশ্বাস করবেন। আপনি আপনার জীবনের অন্যান্য অবস্থা বা পরিস্থিতি সম্বন্ধে সচেতন হবেন না যেগুলো মদ বা ড্রাগ ব্যবহারের মতো মারাত্মক হতে পারে। তাই জীবনের অন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর প্রতি অবহেলা আপনার সুস্থতার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।

বিকল্প নেশা বা আসক্তির ভূমিকা
একজন ব্যক্তি যখন কোনো মাদকদ্রব্যের ওপর আসক্ত বা নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তখন এই নির্ভরশীলতা অন্যান্য মন-মানসিকতার পরিবর্তন সৃষ্টিকারী মাদকদ্রব্যের কাছে স্থানান্তরিত হওয়ার একটি প্রবণতা থাকে। অন্য মাদকদ্রব্যগুলো যদি নির্ভরশীলতার মূল মাদকদ্রব্যের মতো একই রকম হয় তবে এর নিশ্চিত সম্ভাবনা আরো বেড়ে যায়। এই প্রক্রিয়াকে বিকল্প আসক্তি বলা হয়। কোনো একটি মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্তি ওই গ্রুপের অন্য যেকোনো মাদকদ্রব্যের প্রতি তড়িৎগতিতে আসক্তি তৈরি করবে। এর প্রাথমিক কারণ হলো শারীরিক। ব্যক্তির শরীর ওই জাতীয় মাদকদ্রব্যের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং সমগোত্রীয় অন্যান্য মাদকদ্রব্যের প্রতি একই রকম সাড়া প্রদান করবে। এছাড়া একজন ব্যক্তি ভিন্ন গোত্রের অন্যান্য মন-মানসিকতার পরিবর্তন সৃষ্টিকারী মাদকদ্রব্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। নতুন মাদকদ্রব্যের প্রতি ব্যক্তির এই নির্ভরশীলতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।

ব্যক্তির মাদক নির্ভরশীলতা বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের প্রতি পরিবর্তিত হতে পারে। আসক্তির সমীকরণের সাহায্যে এই প্রক্রিয়াকে সর্বোৎকৃষ্ট উপায়ে বোঝা যাবে-

যন্ত্রণা + মদ/মাদকদ্রব্য = তাৎক্ষণিক আনন্দ + ভবিষ্যৎ যন্ত্রণা

জীবনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তিরা পছন্দসই মাদকদ্রব্যের ওপর নির্ভরশীলতা অর্জন করে। ওই মাদকদ্রব্যের ব্যবহার থেকে নিবৃত্ত থেকে তারা যদি নতুন কোনো মাদকদ্রব্যে স্থানান্তরিত হয় তবে ওই নতুন মাদকদ্রব্যের প্রতিই নির্ভরশীল হতে পারে।

এই বিকল্প মাদকদ্রব্য হয়তো যন্ত্রণা নিরসনে প্রাথমিক পছন্দসই মাদকদ্রব্যের মতো কার্যকর নাও হতে পারে। আর এই বিষয়টি সুস্থতাগামী ব্যক্তির মূল পছন্দসই মাদকদ্রব্য সম্বন্ধে চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষা করার কারণ হতে পারে। এছাড়া ড্রাগের প্রমত্তা বা বিষক্রিয়ার সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিচার-বিশ্লেষণ ক্ষমতার দরুন ব্যক্তি পছন্দসই মূল মাদকদ্রব্য পুনঃব্যবহারের দায়িতজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

কিন্তু এক আসক্তি হতে অন্য আসক্তিতে প্রত্যাবর্তন কোনো দিনই সম্পূর্ণ সুস্থতা নয়। আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে, যত দিন পর্যন্ত মদ বা অন্যান্য মাদকদ্রব্য ব্যবহার না করছেন তত দিন আপনি প্রচুর পরিমাণ নিকোটিন ও ক্যাফেইন, গাঁজা, হজমি বা অপরাপর ঘুমের ওষুধ ইত্যাদি নিরাপদে ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে আপনি দ্বিতীয় একটি আসক্তি সৃষ্টির চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এটি সত্য যে, কিছু কিছু আসক্তি অন্যগুলোর চেয়ে অধিক ক্ষতিকর। আর মদ, কোকেইন বা হেরোইনের মতো কিছু মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্তি ক্যাফেইন বা নিকোটিন আসক্তির চেয়েও অতি মারাত্মক। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্যাফেইন আসক্তি মদ বা গাঁজার আসক্তির মতো একই রকম তীব্র সমস্যার সৃষ্টি করে না এবং কোনো কোনো ব্যক্তি ক্যাফেইন ও নিকোটিনের পরিমাণ বৃদ্ধি না করে এসবের ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো ক্যাফেইন ও নিকোটিনের আসক্তিমূলক ব্যবহার ব্যক্তির জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির প্রতিবেদন মতে, অন্য যেকোনো মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের তুলনায় নিকোটিন আসক্তির জন্য সৃষ্ট ক্যান্সারে অধিক সংখ্যক লোক মৃত্যুবরণ করে।

ক্যাফেইনের ভূমিকা
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ক্যাফেইন আসক্তিমূলকভাবে ব্যবহার করা যায়, এটি স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক কার্য সম্পাদনের জন্য ক্ষতিকর এবং মাদকাসক্তি থেকে সুস্থতাগামী ব্যক্তিদের আসক্তির চক্রকে পুনরায় সক্রিয় করে তুলতে পারে। জন ব্লাটনার তাঁর নজরকাড়া গবেষণাকর্মে ক্যাফেইন ব্যবহার ও সুস্থতার মধ্যে সম্পর্কে খুঁজে পেয়েছেন। মদ্যাসক্তরা সাধারণত অনাসক্ত ব্যক্তিদের চেয়ে বেশি ক্যাফেইন পান করে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন ব্যবহারকারী সুস্থতাগামী ব্যক্তিরা ক্যাফেইন গ্রহণের সময় শারীরিক চাপ ও উদ্বেগের ক্রমবর্ধমান উপসর্গ অনুভব করে। আর ক্যাফেইন গ্রহণ না করলে তারা মাথাব্যথা, তীব্র বিরক্তি ও আবেগীয় অতি-প্রতিক্রিয়ার অভিজ্ঞতা লাভ করে। বস্তুত এসব লক্ষণ হলো ক্যাফেইনের প্রত্যাহারজনিত প্রতিক্রিয়ারই অংশ।

ব্লাটনারের গবেষণাকর্মের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, অতিরিক্ত ক্যাফেইন ব্যবহারকারীদের মধ্যে পুনঃআসক্ত হয়ে পড়ার ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা রয়েছে। পুনঃআসক্তির ক্ষেত্রে ক্যাফেইন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণকারী ব্যক্তিরা ক্যাফেইন সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ, চাপ, বিরক্তি ও অতি প্রতিক্রিয়ায় ভোগে। তারা জানে না যে, এসব উপসর্গ ক্যাফেইনের দরুন সংঘটিত, ফলে তারা গুরুতর একটা কিছু হওয়ার আশঙ্কা করে। অন্যদিকে অতি প্রতিক্রিয়া সাধারণত পরিস্থিতি বা অবস্থাগত সমস্যার সৃষ্টি করে এবং এসব সমস্যাকে যথাযথভাবে মোকাবেলা করণে বাধা প্রদান করে। এর পরিণতিতে বর্ধিত সমস্যা, রাগ-জিদ ও হতাশার উদ্ভব হয় যা পুনঃআসক্তির ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

অতএব, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ ও পুনঃআসক্তির মধ্যকার সম্পর্ক সম্বন্ধে জ্ঞান যত বেশি বৃদ্ধি পাবে, ‘মন-মানসিকতার পরিবর্তন সৃষ্টিকারী মাদকদ্রব্য’ সম্বন্ধে আমাদের অতীত ধারণাও বদলে যাবে। ফলে এত দিন সুস্থতার জন্য অক্ষতিকর মনে করা ক্যাফেইন ও নিকোটিনকে ‘মন-মানসিকতার পরিবর্তন সৃষ্টিকারী মাদকদ্রব্যের’ মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা সহজতর হবে।