মানসিক রোগ শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা ও জনসচেতনতায় পথিকৃৎবার্ধক্য জীবনের এমন একটি অধ্যায় যা আমাদের সবাইকে মোকাবেলা করতে হবে। বার্ধক্যকালীন সময় আমরা মানসিক এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ি। যাদের আমরা ভালোবাসি, তাদের মৃত্যুসংবাদ শুনতে হয়, একাকিত্ববোধ করি। এমনকি আমরা চাকরি ছেড়ে দিই এবং অবসরপ্রাপ্ত হই।
এত ধরনের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলা কঠিন কিন্তু এটি সম্ভব।
শারীরিক পরিবর্তনের সাথে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করার উপায় যখন তোমার বয়স বেশি হয় তখন প্রাকৃতিকভাবে শারীরিক কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। খুব তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড় যা আগে ঘটত না। তুমি আগের চেয়ে বেশি ক্লান্ত এবং অসুস্থ হয়ে পড়। ঠিকমতো দেখতে বা শুনতে পাও না।
১. বাস্তবতা মেনে নিন। এটাকে অস্বীকার করলে আপনার জীবনের আনন্দ কমে যাবে। এমন কিছু ব্যবহার করুন যা আপনাকে সাহায্য করবে যেমন-চশমা, শোনার যন্ত্র ইত্যাদি।
- ইতিবাচক মনোভাব রাখুন। আস্তে চলার মানে এই নয় যে আপনি থেমে গেছেন বা শেষ হয়ে গেছেন। আপনি সব কাজই করতে পারবেন পূর্বের মতো, শুধু কাজটি হবে ধীরে এবং সময় লাগবে একটু বেশি।
- নিয়মিত ডাক্তার দেখান। যদি কোনো রোগের উপসর্গ দেখা দেয় সরাসরি ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
- ওষুধ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন হোন। যেহেতু আপনি বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন, ডাক্তার বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দিতে পারে যা পূর্বের চেয়ে এখন বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সব ওষুধ সম্পর্কে ডাক্তারকে অবহিত করুন।
- নিজের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিজেই নিন। ডাক্তারকে নিজের সমস্যা বলতে দ্বিধা করবেন না। প্রশ্ন করুন এবং জানুন।
- খাবারের অভ্যাস পরিবর্তন করুন। সুষম খাদ্যের অভ্যাস করুন এবং বেশি খাবার অভ্যাস পরিত্যাগ করুন।
- অ্যালকোহল জাতীয় খাবার কম খান। অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
প্রিয়জনের মৃত্যুতে শোকাহত
আমাদের প্রত্যেকেরই এ সময়ে প্রিয়জনের মৃত্যুতে কষ্ট ভোগ করতে হয়। কষ্ট নিয়ন্ত্রণ করার কিছু পদ্ধতি নিচে দেয়া হলো-
- আপনার অনুভূতিকে অস্বীকার করবেন না। কাউকে অসুস্থতায় মৃত্যু হতে দেখলে খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক এবং প্রত্যেকেরই এই পর্যায়ের সমমুখীন হতে হয়।
- আপনি যদি নিজেকে এই মৃত্যুর চির সত্য অধ্যায় স্বীকার করতে না চান তবে আপনি আপনার সমস্যাই বাড়িয়ে তুলবেন।
- যেটি অনুভব করেন তা নিয়ন্ত্রণ করুন। চোখের পানি, রাগ এবং দোষ এগুলো স্বাভাবিক অনুভূতি।
- মনে রাখুন এবং মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা করুন। তিনি আপনার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। যদিও আপনি দুঃখ ভুলে যাবেন, কিন্তু তার স্মৃতি আপনার হৃদয়ে থেকে যাবে।
- পরিবার এবং বন্ধুদের সাহায্য নিন। তারা আপনাকে কষ্ট বা দুঃখ ভুলে যেতে সাহায্য করবে এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করতে সাহায্য করবে।
- যারা কষ্ট পাচ্ছে এবং যাদের আপনি চেনেন তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। তাদের আপনার হৃদয়ের সহানুভূতি জানান এবং সাহায্য করুন তারাও আপনার বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে।
একাকিত্বের মুহূর্ত নিয়ন্ত্রণ
প্রত্যেকেরই কিছু নিজস্ব সময় চাই কিন্তু ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাকিত্ব খুবই কষ্টকর। এ সময় আপনার উন্নতি এবং নিজস্ব আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আপনি বিষণ্নও হয়ে যেতে পারেন। যদি আপনি পরিবার, বন্ধুদের কাউকে হারান এবং নিজের সন্তানরা আপনার চেয়ে পরিবারের প্রতি বেশি সচেতন হয় তখন আপনার নিজের একাকিত্ব দূর করার জন্য কিছু উপায় অবলম্বন করতে হবে।
- কর্মক্ষম থাকুন এবং নতুন বন্ধুর খোঁজ করুন। অনেক সংগঠন আছে যেখানে অনেক অনুষ্ঠান হয় এবং নতুন বন্ধুর সাথে আলাপ হয়। এ অনুষ্ঠানগুলোকে আপনি নতুন বন্ধু তৈরির মাধ্যম হিসেবে নিন।
- ছোট বাচ্চারা আপনার জীবনকে রাঙিয়ে তুলতে পারে। বিভিন্ন বয়সের মানুষের সাথে পরিচিত হোন। আপনি জেনে বিস্মিত হবেন খুব শিগগিরই আপনি কতটা জনপ্রিয় হয়ে গেছেন।
- নাতি-নাতনি, ভাইপো-ভাইঝির সাথে সময় কাটান। শিশুদের দেখাশোনার সংগঠন এবং স্থানীয় স্কুলে বিনা বেতনে কাজ করুন। ছোট বাচ্চারা তাদের উৎসাহ, উদ্দীপনা দিয়ে আপনার জীবন সুন্দর ও মধুময় করে তুলতে পারে।
- হতাশা নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন। ক্ষুধা ও ওজন কমে যাওয়া, ঘুমের স্বল্পতা, শক্তির অভাব, আত্মহত্যার প্রবণতা-এগুলো বিষণ্নতার উপসর্গ। আপনার ডাক্তার আপনাকে এ সময় সাহায্য করবে।
অবসরপ্রাপ্ত হওয়ার পর
আপনার অবসরপ্রাপ্ত হওয়া আপনার জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে কেননা এটি আপনার জীবনের একটি অংশ ছিল। এটি ক্ষতিকর হবে। বেশি তখনই যখন আপনার চাকরি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়া হবে বয়সের অজুহাতে। তখন আপনি আপনার নিজ সত্তা হারাতে পারেন। আপনি অভাববোধ করবেন আপনার চাকরিরত সঙ্গীদের। অবসরপ্রাপ্ত হওয়া আপনার জীবনের আশীর্বাদ হতে পারে যদি আপনি কিছু উপায় অবলম্বন করেন-
- আপনার মেধা এবং দক্ষতার একটি তালিকা তৈরি করুন। এই দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা আপনার ছোট ব্যবসা-বাণিজ্য সব পছন্দের কাজকর্মে কাজে লাগবে।
- আপনার বয়স্ক বন্ধু এবং অবহেলিত আত্মীয়দের সাথে নতুনভাবে সম্পর্ক তৈরি করুন।
- আপনি যে কাজগুলো পছন্দ করেন এবং আপনার শখগুলোকে নতুনভাবে উপভোগ করুন। আপনি ভাবুন এখন আপনার সময়কে উপভোগ করার লগ্ন এসেছে।
- যদি আপনার সামর্থ্য থাকে তবে এমন করুন। আপনার অদেখা অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে আপনি ব্যস্ততার জন্য যেতে পারেননি। সেখানে যান। অবসরপ্রাপ্ত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে এ কাজগুলো করলে আপনি কিছু সময়ের জন্য দুশ্চিন্তাহীন থাকতে পারবেন।



