Skip to main content

ব্রেইন

অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহামমদ ফিরোজ

এফসিপিএস

মস্তিষেকর ডান অংশ বনাম মস্তিষেকর বাম অংশ: গত কয়েক দশক ধরে বৈজ্ঞানিকরা প্রচুর গবেষণা করেছেন মস্তিষেকর বাম এবং ডান খণ্ডের কাজ নিয়ে। এটি প্রচুর জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিষয়টি ছিল এ রকম: মস্তিষেকর ডান এবং বাম অংশের মধ্যে কোন অংশটি মানুষের প্রকৃতি বা আচরণগত দিককে নিয়ন্ত্রণ করে।
মস্তিষক হচ্ছে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে জটিল এবং  উল্লেখযোগ্য অংশ, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের ধারক এবং বাহক। প্রায় ১.৪ কেজির এই অঙ্গটি প্রায় ১০০ বিলিয়ন স্নায়ুকোষ বা নিউরনের ধারক এবং নিয়ন্ত্রক। মানুষের মস্তিষক দুটি অংশে বিভক্ত-বাম অংশ এবং ডান অংশ। প্রত্যক্ষ জ্ঞানগত বা বুদ্ধিগত দিক থেকে মস্তিষেকর ডান এবং বাম অংশের কাজের পার্থক্য রয়েছে। দুটি অংশের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং প্রধান পার্থক্য হলো যে মস্তিষেকর ডান অংশ নিয়ন্ত্রণ করে মানবদেহের বাম অংশকে। যেখানে বাম অংশ নিয়ন্ত্রণ করে মানবদেহের ডান অংশকে। যদিও বামহাতি লোকদের ক্ষেত্রে মস্তিষেকর বাম অংশ অথবা উভয় অংশই তাদের ভাষার ভান্ডারকে নিয়ন্ত্রণ করে। মস্তিষেকর ডান ও বাম অংশের কাজের বিস্তারিত আলোচনার আগে আমরা মানবদেহের এই বিস্ময়কর অঙ্গটি সম্পর্কে একটু সংক্ষেপে জেনে নিই।

মস্তিষেকর ডান অংশের বৈশিষ্ট্য
এখানে মস্তিষেকর ডান দিকের অংশের কিছু বৈশিষ্ট্য দেয়া হলো-
১. র‌্যানডম বা উদাসীনতা
২. ইনটুইভি বা অন্তর্গত দিক
৩. রোগের লক্ষণ বাহক
৪. মানুষের পুরো দেহের নিয়ন্ত্রক
৫. বিষয়গত দিক

মস্তিষেকর বাম খণ্ডের বৈশিষ্ট্য
এখানে বাম খণ্ড সম্পর্কে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-
১. যুক্তিগত দিক
২. ঘটনা বা ধাপগত দিক
৪. ব্যথামূলক দিক
৫. পরোক্ষতা

যখন আমরা মস্তিষেকর ডান ও বাম অংশের কাজ বিশেষভাবে আলোচনা করব তখন উপরোল্লিখিত বৈশিষ্ট্য আমাদের সেরেব্রাল অংশ, যা মূল ভূমিকা পালন করে, তা বুঝতে সুবিধা হবে।

মস্তিষেকর ডান এবং বাম দিকের পার্থক্য
মস্তিষেকর এই দুটি অংশের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। মানুষের আচরণ নির্ভর করে মস্তিষেকর কোন অংশ স্নায়ুতন্ত্রের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে। নিচে ১০টি পার্থক্য দেয়া হলো যাদের প্রত্যেকটিই বলবে মস্তিষেকর ডান এবং বাম অংশের কাজের বিচ্ছিন্নতার কথা।

১. মস্তিষেকর ডান খণ্ড প্রকৃতিগত বা সৃষ্টিগত যা নিয়ন্ত্রিত হয় মানুষের অনুভূতি দ্বারা আর বামদিকের অংশ হচ্ছে ব্যাখ্যামূলক যা নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের যুক্তিগত দিককে বা সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে।

২. মস্তিষেকর ডান অংশ উৎপন্ন তথ্য সম্পর্কে আক্ষরিক জ্ঞান দান করে আর বাম অংশ এই তথ্যকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্রভাবে বিভাজিত করে তার যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা দান করে।

৩. যেসব মানুষের ডান মস্তিষক বেশি কাজ করে তারা আংকিক ধারণা সম্পর্কে দক্ষ হয় আর যাদের বাম দিকের অংশ বেশি কাজ করে তাদের অংকের সূত্র মুখস্থ করতে সাহায্য করে এবং এটি প্রকাশ করতে বড় ভুমিকা পালন করে।

৫. ডান মস্তিষক যাদের বেশি কাজ করে তারা সাংগঠনিক দিক থেকে খুব দুর্বল হয়, আর যাদের বাম মস্তিষক বেশি কাজ করে তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা খুব দক্ষতাসম্পন্ন হয়।

৬. ডান মস্তিষেকর প্রভাবান্বিত লোকেরা বিস্তারিত ও খুঁটিনাটি সম্পর্কে কম মনোযোগ দেয় আর যাদের বাম মস্তিষক বেশি প্রভাবান্বিত তারা খুব বিস্তারিত ও গভীরভাবে চিন্তা করে এবং সেভাবে পদক্ষেপ নেয়।

৭. যখন ডান মস্তিষেকর কার্যকরী লোককে কোনো কাজকে গুছিয়ে করতে বলা হয় তারা তাড়াহুড়া করে নির্দেশ না পড়েই কাজ শুরু করে। আর যাদের বাম মস্তিষক বেশি কাজ করে তারা নির্দেশমতো ধীরেসুস্থে কাজে যত্নসহকারে অগ্রসর হয়।

৮. ডান মস্তিষেকর লোক মানুষের সাথে নানা ধরনের অঙ্গভঙ্গি করে কথা বলে, যা বাম মস্তিষেকর প্রভাব বিস্তারকারী লোকেরা করে না।

৯. ডান মস্তিষক জানতে চায় কীভাবে কোনো কিছু বলা হয়েছে আর বাম মস্তিষক জানতে চায় কী বলা হয়েছে।

১০. যদিও ডান মস্তিষেকর প্রভাবসম্পন্ন লোকেরা ব্যাখ্যা জানতে চায় না কিন্তু তাদের প্রশ্ন করার আগ্রহ বেশি কিন্তু বাম মস্তিষেকর লোকেরা প্রশ্ন না করে তা গ্রহণ করে।

কোনো কাজ করতে দেয়া হলে ডান মস্তিষেকর লোকেরা একদম শেষ মুহূর্তে বুঝতে পারে কোনটিকে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। বিপরীত দিকে বাম মস্তিষেকর লোকেরা আগে থেকেই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বুঝতে পারে এবং পদক্ষেপ নেয়।

ডান এবং বাম মস্তিষেকর তর্কযুদ্ধে এগুলোই মূলত প্রধান পার্থক্য। বিজ্ঞানী এবং গবেষক এই কাঠামোগত পার্থক্যকে বলেন মেরুগত, উল্লেখযোগ্য দিক ডান মস্তিষক ক্রিয়ারত লোকেরা অ্যাথলেটিক্স, গান, বাজনা, ব্যবসাসংক্রান্ত কাজে দক্ষ হয়। আর বাম মস্তিষেকর প্রভাবান্বিত লোকেরা বিচার-বিশ্লেষণ, গণনাবিষয়ক কাজে পারদর্শী হয়ে থাকে।

মস্তিষেকর দুই প্রান্ত
এই লেখাটি আমাদের মস্তিষেকর দুটি খণ্ড এবং তাদের কাজ এবং কীভাবে মস্তিষক কাজ করে সেই বিষয়ে আলোকপাত করতে সাহায্য করবে।

অত্যন্ত জটিল এবং বিস্ময়কর মানবদেহের এই অঙ্গটি বা মস্তিষক আসলে দুটি খণ্ডে বিভক্ত। বাম অংশ এবং ডান অংশ। যখন আমরা কোনো বাম বা ডান মস্তিষকসম্পন্ন ব্যক্তির সাথে কথা বলি তখন আমরা বুঝতে পারি কোনটি বাম অথবা ডান মস্তিষক ব্যক্তির ওপর বেশি প্রভাব ফেলছে। প্রত্যেকটি খণ্ডের আলাদা বা ভিন্ন ভিন্ন কাজ রয়েছে যা তাদের জীবনে সাফল্যের পেছনে কাজ করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে মস্তিষেকর ডান খণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে দেহের বাম দিকের অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে এবং মস্তিষেকর বাম অংশ নিয়ন্ত্রণ করে দেহের ডান দিকের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে।

লম্বালম্বিভাবে মস্তিষেক দুটি অংশই রয়েছে যদিও কাজের দিক থেকে এরা ভিন্ন। আমরা আগেই জেনেছি মস্তিষেকর ডান অংশ বাম দিকের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে এবং বাম খণ্ড এর বিপরীতে কাজ করে। এখন বোঝা যাচ্ছে বাম হাত নিয়ন্ত্রিত হয় মস্তিষেকর ডান খণ্ড দিয়ে, ডান হাত নিয়ন্ত্রিত হয় মস্তিষেকর বাম খণ্ড দিয়ে। এটাই বোধগম্য যে বামহাতি লোকজনের মস্তিষেকর ডান অংশ এবং ডানহাতি লোকজনের ওপর মস্তিষেকর বাম খণ্ড কাজ করে।

মস্তিষেকর বাম খণ্ড
বাম খণ্ডের কাজ হচ্ছে ব্যাখ্যামূলক, যুক্তিমূলক ধারাবাহিকতা, কর্মমূলক এবং চিন্তামূলক। যেসব মানুষ বাম খণ্ড দ্বারা প্রভাবিত তারা জীবন পরিচালনা করে যুক্তি দিয়ে। তারা বেশি মনোযোগ দেয় সংখ্যা, শব্দ এবং চিহ্নের প্রতি। তাদের যুক্তিগত এবং ব্যাখ্যা দিয়ে পেশাগত দিকে যুক্তি দিয়ে বিচার করে। যেমন-প্রকৌশলী, অ্যাকাউন্টিং ইত্যাদি। এ ধরনের মানুষ পদক্ষেপ নেয় চিন্তা করে এবং তারা শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত কাজ করে।

মস্তিষেকর ডান অংশ
বিপরীত দিকে যারা ডান খণ্ড দ্বারা পরিচালিত তারা অন্তর্নিহিত এবং প্রকৃতিগতভাবে একত্র করে কাজ করে। সৃষ্টিশীল মনের হয়ে থাকে এবং খুব কম সময়ই কোনো কিছুর গভীরে ঢুকতে পারে তারা। ভাবমূলক দিকে যায়, সৃষ্টিশীল কাজে পারদর্শী হয় এবং সিদ্ধান্ত নেয় শেষ মুহূর্তে।

বাম খণ্ড দ্বারা পরিচালিত মানুষ এবং মস্তিষেকর ডান খণ্ড দ্বারা পরিচালিত মানুষের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে যখন বাম খণ্ডের লোককে কোনো কাজ দেয়া হয় তারা তা গুছিয়ে করে কিন্তু ডান খণ্ডের মানুষ কোনো কিছু না ভেবেই শুরু করে। মানুষের মস্তিষক হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ, যদি এটি কোনোভাবে আঘাত পায় তবে প্রত্যেকেই অনেক অসুবিধার সমমুখীন হয়।

সকল প্রাণীর স্নায়ুতন্ত্রের কেন্দ্র হচ্ছে মস্তিষক। সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে এবং অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে মস্তিষক রয়েছে। কিছু আদি প্রাণী যেমন-জেলি ফিস এবং তারা মাছ এদের মধ্যে বিকেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে কিন্তু মস্তিষক নেই, যেখানে সপন্ডই নামক প্রাণীর মধ্যে কোনো স্নায়ুতন্ত্র নেই।

মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মস্তিষক থাকে মাথায়, যা খুলি দ্বারা আবৃত থাকে এবং যেখানে নিহিত আছে প্রাথমিক স্নায়ুতন্ত্র যা দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি, দেহের ভারসাম্য, স্বাদ এবং গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করে। মানবদেহের মস্তিষেকর সচেতন নিয়ন্ত্রকের কোনো কেন্দ্র নেই। মস্তিষক অসংখ্য মাধ্যমের যোগাযোগের মাধ্যমে সচেতনতা নিয়ন্ত্রণ করে।

মানুষের মস্তিষক কেনিয়াল স্নায়ু এবং সপাইনাল কর্ডের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষের মস্তিষক প্রায় ১০০ বিরিয়ন স্নায়ুকোষ দ্বারা গঠিত, যার প্রতিটি কোষ আরো ১০ হাজার কোষের সাথে সংযুক্ত, যেটা প্রায় ১০০০ ট্রিলিয়ন কোষের সাথে সম্পৃক্ত। আমাদের মস্তিষক অত্যন্ত নরম, জেলির মতো এবং গাঢ়, লাল রঙের পদার্থ দিয়ে গঠিত। মস্তিষক শ্বাস-প্রশ্বাস, হার্টের রক্ত সঞ্চালন, হজমক্রিয়াও নিয়ন্ত্রণ করে। জটিল কাজও মস্তিষক করে থাকে যেমন-  চিন্তা, কোনো ঘটনার কারণ, অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ।

পুরুষের সপাইনাল কর্ড প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার লম্বা এবং মহিলাদের ৪৩ সেন্টিমিটার। সপাইনাল কর্ডের ওজন প্রায় ৩৫ গ্রাম। মানুষের মস্তিষেকর ওজন প্রায় তিন পাউন্ড বা ১.৫ কেজি।

আপনার মস্তিষক ও স্নায়ুতন্ত্র
আপনি কীভাবে মনে রাখেন বন্ধুর বাসায় যাওয়ার পথ? কীভাবে আপনার চোখের পলক পড়ে? কোথা থেকে স্বপ্ন আসে? আপনার মস্তিষকই এই বিশাল দায়িত্ব পালন করে।

প্রকৃতপক্ষে আপনার মস্তিষক আপনার মন এবং দেহের চালক। আপনার সব কাজের নিয়ন্ত্রক মস্তিষক, এমনকি আপনি যখন ঘুমিয়ে থাকেন তখনো। এটি দেখতে বড়, রেখাযুক্ত, ধূসর সপঞ্জের মতো। আপনার মস্তিষেক অনেকগুলো অংশ রয়েছে যেগুলো সব এক সাথে কাজ করে। আমরা পাঁচটি অংশ সম্পর্কে জানতে যাচ্ছি, যা ব্রেন বা মস্তিষক দলের নিয়ন্ত্রক খেলোয়াড়।

১. সেরেব্রাল

২. সেরেবুলাম

৩. ব্রেন স্টেম

৪. পিটুইটারি গ্ল্যান্ড

৫. হাইপোথ্যালামাস

মস্তিষেকর সবচেয়ে বড় অংশ হচ্ছে সেরেব্রাম। মস্তিষেকর ৮৫% ওজনই হচ্ছে সেরেব্রাম। এটা বোঝাও সহজ কেন এটা এত ভারী। চিন্তাশক্তির মূল কেন্দ্র হচ্ছে সেরেব্রাম এবং এটা ঐচ্ছিক পেশিকে নিয়ন্ত্রণ করে যখন আপনি ঐচ্ছিক পেশিকে নাড়াতে চান। কাজেই সেরেব্রাম ছাড়া আপনি নাচতেও পারবেন না কিংবা বলে লাথি দিতেও পারবেন না।

যখন আপনি কঠিনভাবে কিছু চিন্তা করেন তখন আপনি আপনার সেরেব্রামকে ব্যবহার করেন। গণিতের সমাধানে, ভিডিও গেম খেলায়, ছবি আঁকায় মস্তিষেকর সেরেব্রাম কাজ করে। আপনার স্মৃতিশক্তি মস্তিষেকর সেরেব্রামে সংরক্ষিত থাকে-সেটি যদি এমন হয় যে আপনি গত রাতে কী খেলেন বা আপনি দুই বছর আগের রোলার কোস্টারে কী মজা করলেন তার স্মৃতি। সেরেব্রাম আপনার কাজের কারণ খুঁজে বের করতেও সাহায্য করে। সেরেব্রামের দুটি অংশ। কিছু বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন মস্তিষেকর ডান খণ্ড চেষ্টা করে চিন্তা করতে যেমন গান, রঙ এবং আকার নিয়ে এবং বাম খণ্ড সাহায্য করে যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন মস্তিষেকর ডান খণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে দেহের বাম অংশকে এবং বাম খণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে দেহের ডান অংশকে।

তারপরের অংশ হচ্ছে সেরেবুলাম। সেরেবুলাম ব্রেনের নিচের এবং পেছনের অংশে অবস্থান করে। এটি সেরেব্রামের আট ভাগের একাংশ। কিন্তু এটি মস্তিষেকর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি নিয়ন্ত্রণ করে দেহের ভারসাম্য। দেহের বিভিন্ন অঙ্গের নড়াচড়া ও সব অঙ্গেরই সামঞ্জস্য রাখে। সেরেবুলামের কারণে আপনি দাঁড়িয়ে থাকতে, নড়াচড়া করতে ও দেহের ভারসাম্য রাখতে পারেন। আপনি সার্ফিং খেলার সময় কে আপনাকে স্থির রাখতে সাহায্য করে, আপনার সার্ফিং বোর্ড, আপনার ওয়েট সুট, আপনার লোপ আপনি জেনে অবাক হবেন মস্তিষেকর সেরেবুলামই আপনাকে সাহায্য করে।

অন্য একটি অংশ যা ক্ষুদ্র কিন্তু যার অবদান অনেক বড় সেটি হচ্ছে ব্রেন স্টেম। এটি সেরেব্রামের নিচে এবং সেরেবুলামের সামনে অবস্থিত। এটি মস্তিষেকর সকল অংশ এবং সপাইনাল কর্ডের সাথে গলা এবং দেহের পেছনের অংশের সাথে সংযোগ স্থাপন করে। এটি দেহের জীবন্ত থাকা, শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য হজম, রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে।

ব্রেন স্টেম অনৈচ্ছিক পেশিগুলোকেও নিয়ন্ত্রণ করে যেগুলো স্বেচ্ছায় চলনশীল। আপনার হৃৎপিণ্ড এবং পাকস্থলীর পেশি সঞ্চালনে সাহায্য করে যখন আপনি দুপুরের খাবার খান তখন তা হজমে, যখন আপনি সাইকেল চালাচ্ছেন আপনার হৃৎপিণ্ডে বেশি রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে কে জানেন? সেটি আর কেউ নয় আপনার ব্রেন স্টেম। লক্ষ বার্তা আপনার সামনে-পেছনে ছড়িয়ে আপনার দেহকে সক্রিয় রাখে আপনার ব্রেন স্টেম। বুঝতেই পারছেন এটি মস্তিষেকর কত বড় সেক্রেটারি।

পিটুইটারি গ্ল্যান্ড খুবই ছোট, অনেকটা মটরশুঁটির মতো। এটি হরমোন উৎপন্ন করতে এবং দেহ থেকে নির্গমনে সাহায্য করে। যদি গত বছরের তুলনায় এ বছর আপনার জামা ছোট হয় তবে বুঝতে হবে আপনার পিটুইটারি গ্ল্যান্ড থেকে যে হরমোন নিঃসৃত হয় তা আপনাকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। মস্তিষেকর এই হরমোন আপনার নারীসত্তা ও পুংসত্তাকে সপষ্ট করতে সাহায্য করে। এই ছোট গ্রন্থিটি অন্য গ্রন্থির নিঃসৃত হরমোনের সাথে যুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন একটি গ্রন্থির হরমোন পানি এবং শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। আপনার মেটাবলিজমকে নিয়ন্ত্রণ করে এই গ্রন্থি। আর মেটাবলিজম আপনার দেহকে সক্রিয় রাখতে, আপনার শক্তিকে অক্ষুণ্ন রাখতে যেমন শ্বাস-প্রশ্বাস, খাদ্য হজম এবং দেহের সর্বত্র রক্ত সঞ্চালনে ভূমিকা রাখে।

আপনার দেহের তাপ নিয়ন্ত্রক হচ্ছে হাইপোথ্যালামাস। হাইপোথ্যালামাস জানে কত তাপমাত্রা আপনার দেহের জন্য প্রয়োজনীয়। যদি আপনার দেহ গরম হয়ে যায় তখন হাইপোথ্যালামাস শ্বাস নির্গত করার মাধ্যমে আপনার দেহকে ঠাণ্ডা বা স্বাভাবিক রাখে। যখন আপনি খুব ঠাণ্ডাবোধ করেন তখন মস্তিষেকর হাইপোথ্যালামাস আপনাকে কাঁপুনি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে। এই ঘাম নির্গতকরণ এবং কাঁপুনি আপনার দেহের তাপমাত্রার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।

তাই মস্তিষকই হচ্ছে আপনার দেহের বস, কিন্তু এটি একা কিছু করতে পারে না। এর জন্য দরকার কিছু স্নায়ুর, বলতে গেলে অনেকগুলো স্নায়ুর প্রয়োজন। এর দরকার সপাইনাল কর্ড যা কতগুলো স্নায়ুর সমষ্টি এবং যাকে রক্ষা করে মেরুদণ্ড। দেহ এবং মস্তিষেকর যোগাযোগ রক্ষা করে এই স্নায়ুতন্ত্র, যা সপাইনাল কর্ড এবং স্নাযুর সমষ্টিতে গঠিত।

যদি কাঁটাযুক্ত ক্যাকটাস গাছ আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মাথার ওপর ভেঙে পড়তে আপনি দেখেন তখন আপনার মস্তিষক সাথে সাথে নির্দেশ পাঠায় যাতে আপনি লাফ দিয়ে আপনার বন্ধুকে সরিয়ে দেন ওই পথ থেকে। আপনি যদি সত্যিই ভালো হন আপনার বন্ধুর দেহের ওপর এটি ভেঙে পড়ার আগেই আপনি ধরতে পারবেন।

আপনি বিস্মিত হতে পারেন কীভাবে এটি সম্ভব যা আপনি আপনার অণুবীক্ষণযন্ত্র দিয়েও দেখতে পারেন না। স্নায়ুতন্ত্র মিলিয়ন সংখ্যক নিউরন দিয়ে গঠিত, যা আপনার অণুবীক্ষক কোষ হিসেবে কাজ করে।

যখন আপনি জন্মগ্রহণ করেন আপনার মস্তিষক সব নিউরন নিয়েই আসে কিন্তু এদের সংযোগ থাকে না। যখন আপনি কোনো বিষয় শিখতে শুরু করেন তখন এই বার্তাটি এক নিউরন থেকে অন্য এভাবে মস্তিষেক যখন বারবার খবর পৌঁছাতে থাকে তখন সেটি সহজ হয়ে যায় এবং আপনি ভালোভাবে ওই কাজ করতে পারেন।

একটু পেছনে চিন্তা করুন। যখন আপনি প্রথম সাইকেল চালানো শিখলেন। আপনার মস্তিষককে সাইকেলে প্যাডেল করা শিখতে হয়েছে, ভারসাম্য রাখতে হয়েছে, ধরে রাখতে হয়েছে স্টিয়ার,    রাস্তা দেখতে হয়েছে কিন্তু যখনই ব্রেক করেন সব শেষ। শক্ত কাজ তাই না? কিন্তু বারবার অভ্যাসের ফলে নিউরন মস্তিষেক বার বার খবর পাঠায় এবং একটি চিত্র তৈরি করে ফেলে সেখানে। এ জন্যই আপনি কোনো চিন্তা ছাড়াই সাইকেল চালাতে লাগলেন।

মস্তিষক ভালো রাখার উপায়:-

  • স্বাস্থ্যকর খাবার খান।  সেগুলো পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়াম। এই দুটি খনিজ
  • পদার্থ স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
  • ব্যায়াম এবং শিথিলায়নের জন্য সময় রাখুন।
  • সাইকেল বা মোটরসাইকেল চালানোর সময় কিংবা খেলার সময় হেলমেট পরুন যাতে মস্তিষক আঘাতপ্রাপ্ত না হয়।
  • অ্যালকোহল, ড্রাগ ও তামাকজাতীয় দ্রব্য বর্জন করতে হবে।
  • আপনার ব্রেনকে প্রতিযোগিতামূলক কাজে লাগান যেমন-দ্বিধা
  • কাটানো, পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা এমন কিছু যা আপনার ব্রেনকে কাজে লাগানো যায়।

মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখার উপায়
তোমার মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে ভাব। মানসিক স্বাস্থ্যকে পরীক্ষা করো নিয়মিত। যে সকল চাহিদা বা মানসিক চাপ তোমাকে ভাবায় যা তোমাকে আঘাত করে, তা মন থেকে দূরে সরাও।

নিজের জন্য কিছূ সময় বেছে নাও। এই বেছে নেয়া নিজের সময় তোমাকে কাজে নতুন উদ্দীপনা দেবে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। এখানে কিছু সাধারণ পদ্ধতি দেয়া হলো-

দিবাস্বপ্ন
চোখ বন্ধ করো এবং ভাব তুমি স্বপ্নের দেশে আছ। আস্তে আস্তে শ্বাস নাও এবং গভীরভাবে হারিয়ে যাও যেন তুমি কোনো সমুদ্র সৈকতে, পাহাড়ের ওপর ঘন বনে অথবা তোমার পছন্দের কোনো রুমে আছ যেখানে অতীত খুব ভালো কেটেছে। এই আরামদায়ক পরিবেশ ও চিন্তা তোমাকে শান্তি দেবে।

ইতিবাচক সাফল্য নিয়ে ভাব
এমন কিছু চিন্তা করো যা তোমাকে আনন্দ, আরাম, কোমলতা, আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল। নেতিবাচক চিন্তার সাথে তাল মিলিয়ে চলো- নেতিবাচক     চিন্তাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করো, না পারলে চিন্তা বাদ দাও।

একবারে একটি কাজ করো
যেমন-যখন তুমি তোমার বন্ধুদের সাথে থাক তখন মোবাইল বন্ধ করে আনন্দ করো এবং কাজের চিন্তা বাদ দাও। সকল প্রকার দৃশ্য, স্বাদ, গন্ধ, শব্দ উপভোগ করার চেষ্টা করো।

ব্যায়াম করো
নিয়মিত শারীরিক কাজ তোমাকে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করবে এবং দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা দূর করবে। একটি ব্যায়ামের গ্রুপে যোগ দাও যা তোমার একাকিত্ব কাটাবে এবং তোমাকে নিজের লক্ষ্যকে সমভাবাপন্ন লোকের সাথে মিলিয়ে সাফল্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

শখকে উপভোগ করো
নিজের শখগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আনন্দের সাথে উপভোগ করো যা তোমার মস্তিষককে কর্মক্ষম রাখবে।

নিজস্ব লক্ষ্য স্থির করো
নিজের লক্ষ্যকে বিলাসবহুল কোরো না। তুমি একটি বই পড়ে শেষ করতে পার যা তুমি তিন বছর আগে শুরু করেছিলে। নিয়মিত একটি রাস্তা ঘুরে এসো, ব্রিজ খেলা শেখ অথবা বন্ধুর ফোনের জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই ফোন করো। তুমি যে লক্ষ্যই স্থির করো না কেন যদি তুমি তা পূরণ করতে পার তবেই তুমি আত্মবিশ্বাসী হবে এবং তোমার সন্তুষ্টি বাড়বে।

একটি পত্রিকা রাখ
একটি কর্মব্যস্ত দিনে মানসিক চাপে থেকেও তুমি যদি নিজেকে প্রকাশ করতে পার তবে তোমার দুশ্চিন্তা কমবে, ইতিবাচক করে তুলবে এবং তোমার দেহকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

কৌতূক উপভোগ করো
যখন জীবনের ব্যস্ততা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে তখন যদি কোনো কৌতূক শোন তবে তা অন্যকে বল। এই ছোট কৌতুকই তোমার মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

অন্যকে সাহায্য করো
অন্যকে সাহায্য করলে নিজেই জয়লাভ করা যায় কারণ অন্যের ভালো করার চিন্তা নিজের ভালো লাগাকে বাড়াবে। একই সময়ে এটি সামাজিকতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে এবং নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চারে সাহায্য করবে।

নিজের সাথে ভালো ব্যবহার করো
নিজের জন্য ভালো কিছু রান্না করো। আরাম করে গোসল করো, ছবি দেখ। বন্ধুকে অথবা আত্মীয়কে ফোন করো যার সাথে অনেক দিন কথা হয়নি। পার্কে যাও এবং ফুলের গন্ধ, ঘাসের গন্ধ অনুভব করো এবং শ্বাস নাও। যাই হোক না কেন নিজের জন্য কিছুটা সময় ব্যয় করো।