Skip to main content

মনের জানালা

প্রাণপ্রিয় ভালোবাসা
প্রথমেই জানতে চাই তুমি কি সেই আগের মতোই আছ নাকি বদলে গেছ। আমার তো মনে হয় তুমি অনেকখানি নয় পুরোটাই বদলে গেছ। কিন্তু আমি তো একটুও বদলে যাইনি। আগে যেমনটা ছিলাম এখনো ঠিক তেমনটাই আছি-পৃথিবীতে সবকিছুই বদলে যাচ্ছে তুমিও না হয় বদলে গেছ, তাতে দোষের কিছুই নেই। শুধু বদলাতে পারলাম না আমি। অনেক চেষ্টা করেছি নিজেকে বদলে ফেলার কিন্তু কই পারলাম না তো। আসলে সবকিছু চাইলেই কি পারা যায়? অনেক দিন অনেক মাস অনেকগুলো বছর পার হলো তোমার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। আমি অনেক চেষ্টা করেছি তোমার সাথে যোগাযোগ করতে কিন্তু তুমি করতে চাওনি। আমি অনেকবার ফোন করেছি কিন্তু তুমি রিসিভ করোনি। আমি এক রকম ধরেই নিয়েছি তুমি আমাকে তোমার মন থেকে মুছে ফেলেছ। বিশ্বাস করো একটি বারের জন্যও আমি তোমাকে ভুলতে পারিনি। তোমাকে শুধু একটিবার দেখার জন্য আমার মনটা ছটফট করছে। জানি না তোমার সাথে আমার আর দেখা হবে কি না। তবে বিশ্বাস করি পৃথিবীটা যখন গোল তখন ঘুরতে ঘুরতে একদিন না একদিন তোমার সাথে আমার দেখা হয়ে যেতে পারে। সেদিন তুমি হয়তো মুখ ফিরিয়ে নেবে কিন্তু আমি ঠিক আগের মতোই থাকব। তোমার ভবিষ্যৎ জীবন উজ্জ্বল ও দীর্ঘায়ু হোক।
 
এম ওয়াসিম
চট্টগ্রাম
ফোন: ০১৬৭০-২৪৪৩৫৬


সুইসাইড নোট
অজস্র স্ফুলিঙ্গ উড়ে মরে যায় প্রতিদিন। নীড়হারা কৌঞ্চির করুণ আর্তনাদ কানে বাজে। দেখি রোদ, পাখি ও বৃক্ষের ক্রন্দন। কালবিনাশী ধ্বংসসতূপের নিচে চাপা পড়ে গেছে আমার মুখরিত কিশোরবেলা। এ শুধুই অন্তরঙ্গ দীর্ঘশ্বাস। অটিস্টিক শিশুর মতো জীবন এখন। অদেখা দূরত্বে সাদা মেঘ, তবুও কারো হাত দিয়ে ছুঁয়ে দিই নিরুদ্দেশের হাওয়ায় হাওয়ায়। গৎবাঁধা প্রণীত জীবন অদৃশ্য কষ্টে ঘেরা। বারবার ফিরে যাই আবার ফিরে আসি স্মৃতির রুদ্ধ দুয়ারে। কোনো খেদ নেই মনে। দিনরাত্রির ছায়াঘর এখন আমার। বিনা পয়সার অসংখ্য নীল গল্পে সাজানো একটি জীবন। তীর ভাঙা নদীর কাছে শুনি সন্ধ্যার লিরিক। ছায়া পুতুলে ঘেরা নষ্ট নগরী। কলগার্লের দুনিয়া বুঝি এটা। নিজেকে আড়ালে রাখি সযতনে। খুঁজে চলি তোমায় পুরুষের পৃথিবীতে একটি মেয়ে। উৎস থেকে মোহনা অবধি জল, স্থল, অন্তরীক্ষ কোথাও বাদ যায়নি। অথচ চৈত্রের ফুল হয়ে তুমি ফুটেছিলে দক্ষিণের বাগানে। খেয়াল করিনি তাই বলে এত দিন ডাকোনি কেন? অন্ধের সপর্শের মতো হঠাৎ আবিষকার তুমি। তোমার পাশে তখন রক্ত পুঁজে গেঁথে থাকা মাছিদের ভিড়। হুলফোটা খাওয়ার ভয়ে এক পা এগিয়ে দু পা পিছিয়েছি। কিন্তু তারপরও কী এক আকর্ষণে বারবার ছুটে যাই দিনান্তবেলায় ক্লান্ত পায়ে।

হাতে হাত রেখে ছুঁয়ে দেব পাপড়ির রেণু অথচ তুমি যেন ইশারায় আমাকে বললে যোজন যোজন ব্যবধান আমাদের। তপোবনে ধ্যান করো বোকা চাষার ছেলে। তারপর নিশ্চিত-অনিশ্চিতের দোলায়মান শূন্যতায় পেরিয়েছি শপথের বহু তোরণ। কামনার স্তব্ধ গান, দূর্বাঘাসের দেশ। তোমাকে পাব বলে কষ্টগুলো মিলিয়ে যায় শাড়ির আঁচলতলে। শিরায় শিরায় অনুভূতির আলোড়ন অবিরত লুকোচুরি খেলা করে। আর কাটে আমার অভুক্ত এক একটি দিন। প্রতিটি গল্পেরই বোধ হয় একটি নির্দিষ্ট সমাপ্তি থাকে। কবিতার পর কবিতা সাজিয়ে ইতির মহাকাব্যিক আয়োজন চলে তোমার প্রান্তিক মনে। তখন ঘূর্ণি বাতাসের সমুদ্দুরে চক্রপাক খায় আমার অব্যক্ত ভালোবাসা, আমার প্রেম। তারপর এলোমেলো সময় আমার। অবেলায় শীত, শীতের শেষে অসময়ে বর্ষা আসে। জলের ভেতর মেঘ থাকে, বিদ্যুৎ চমকায়। জলপিঁপড়া বাস করে আমার সমস্ত হৃদয়জুড়ে। একটি ফড়িংয়ের লাশ বহন করে নিয়ে যায় তারা। হে রাত্রি, কোথায় তুমি? কোথায় আমার প্রিয় সেই শেফালী ফুল। কোনো আনাড়ি হাত ছিঁড়ে নিয়েছে বুঝি ডাঁটা থেকে বৃন্ত পর্যন্ত। তাই এখন চাঁদের সাথে গভীর মিতালির বদলে খেলি শত্রু শত্রু খেলা। দারুণ অসহায় ব্যর্থ এ হৃদয়। অপলক চোখ দুটো ঊর্ধ্বলোকে চেয়ে থাকে। কী জ্বলজ্বলে একটি, দুটি, অসংখ্য মৃত তারা। আর পিঁপড়ের কাঁধে ফড়িংয়ের লাশ সে তো আমারই শবযাত্রা।
 
মো. আবুল কালাম আজাদ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
ফোন: ০১৭২৫-৪১২১৮৬


খুশি
শুরুতেই গ্রহণ করো আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসার শুভেচ্ছা। মনে কি পড়ে না তোমার সে দিনের স্মৃতিগুলো, যেদিন তুমি ফোন করেছিলে আমাকে। যদিও তুমি সঠিক নম্বরে ফোন করেছিলে কিন্তু সেটা রং নম্বর। আমি ফোন রিসিভ করতেই তুমি বলে উঠলে কেমন আছ, কী করো। জীবনে প্রথম ফোন অচেনা নারীর কণ্ঠ পেয়ে বেশ আনন্দিত হলাম। কারণ এর আগে আমি কোনো অপরিচিত মেয়ের সাথে বাস্তবে কিংবা মোবাইলে কথা বলিনি। অনুভূতিটা বেশ মজাদার ছিল। তারপর তুমি বারবার মিসড কল দিতে আমি ব্যাক করতাম। তুমিও মাঝে মাঝে কল করতে। দুজনার মাঝে জমে উঠল অচেনা, অজানা সম্পর্ক। এভাবে চলল কটি মাস। তুমি আমাকে তোমার নাম বলেছিলে খুশি, জানি না তোমার আসল নাম কী? বলেছিলে তুমি নাকি সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা, জানি না তুমি কোন জায়গার মেয়ে। কিন্তু আমি সঠিক বলেছি যে পিরোজপুরের ছেলে। কিছুদিন তোমাকে খুব মিস করছি। কল করলেও তুমি রিসিভ করো না, ফোন বন্ধ করে রাখ। কেন? কী অপরাধ আমার বলো না, তুমি তো ভুলে থাকতে পার আমাকে কিন্তু আমি ভুলে থাকতে পারি না তোমাকে। কারণ আমার মাঝে আছে জাগ্রত প্রেম। তোমাকে দেখিনি দুচোখে শুধু কণ্ঠ শুনেছি। তোমাকে দুশমন ভাবিনি হৃদয়ে গেঁথেছি। সেদিন মাঝরাতে স্বপ্নে দেখি তুমি আমার পাশে দাঁড়িয়ে মুক্ত কণ্ঠে বলছ, উঠো শামীম তোমার সাথে জরুরি কথা আছে। ঘুম ভেঙে গেল। চোখজুড়ে অশ্রুর বন্যা, ভাবতে লাগলাম আর মনোজগতের সহায়তা নিলাম। উঠে পড়লাম। টেবিলে বসে লেখা শুরু করলাম তোমার নামে। জানি না তুমি বয়সে আমার ছোট না বড়। তবুও আমি মনে করি তুমি বয়সে আমার চেয়ে বড়। তাতে কী হয়েছে বন্ধুত্বের মাঝে তো কোনো বয়স নেই-উদাহরণস্বরূপ একটা কথা বলি শোন। মহানবী (সা.) এর বয়স যখন ২৫ বছর তখন তিনি খাদিজা (রা.) কে (৪০ বছর) বিবাহ করলেন। সময় বদলে গেছে, পৃথিবী আধুনিক হয়েছে, মেয়েরাও চালাক হয়েছে। এটা যেমন সত্য তেমনি সত্য আমার মতো বোকা ছেলেরা আরো বোকা হয়েছে। অবশেষে বলছি খুশি ম্যাডাম যদি পার আমাকে স্মরণ কোরো, আমি থাকব তোমার পাশে, হৃদয় উজাড় করে ভালোবসে রাখব তোমাকে বন্ধুর কোঠায় সোনার পালঙ্কে।
 
অচেনা বন্ধু
শামীম হোসেন মুন্না
ফোন: ০১৯২৫-৫৯২৮৪৪


সমাধি
তোমার সাথে প্রথম দেখা শান্ত নদীটির তীরে
মায়াবী চোখে দেখেছিলে তুমি আমায় ফিরে ফিরে।
সেই লগনে তোমার কপালের ছোট কালো টিপ
হৃদয়ে আমার জ্বেলেছিল যেন সন্ধ্যা তারার দীপ।

সেই আলোতে হারিয়ে গেলাম তোমার চোখের নীড়ে
তাই তো আজও ভাবছি আমি তোমায় বারে বারে।
তুমিও কি আমারই মতো একা আছ বসে?
ভয় কোরো না চেয়ে দেখ আমি আছি পাশে।

থাকতে যদি বলো আমায় সারাটি জীবন ধরে
কাছে ডেকো নীরব সুরে আমায় আপন করে।
আমায় তুমি লুকিয়ে রেখো তোমার মনের ঘরে
জোছনা নিশি হারানো দুজন গোপন অভিসারে।

সুখে তোমায় গান শোনাব, দুঃখে হব সাথী
কেমন হবে এভাবে যদি কাটে দিবস-রাতি?
এভাবেই আমি তোমার মাঝে হয়েছি একাকার
ভুলতে যত চেয়েছি তবু ভালোবেসেছি আবার।

জানি তুমি আসবে কাছে দিতে হৃদয়ের দাম
সেদিন আমি তোমার সাথে করব অভিমান।
বেলী নিয়ে এসো তুমি আমায় হৃদয় দিতে
মরে যদি যাই তবে সে ফুল দিও আমার সমাধিতে।
 
অমিত বিশ্বাস
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ফোন: ০১৯১৫-০০৮০২৩


খুব জানতে ইচ্ছা করে
আজকাল গোলাপি রঙটা কেন জানি বড্ড বেশি ভালো লাগে। কিন্তু প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গোলাপি তোমার প্রিয় রঙ তখন খুব বিরক্ত লেগেছিল। হয়তো তোমার শূন্যতাই এই রঙকে আমার পছন্দের তালিকায় স্থান দিয়েছে। তুমি কি জানো শফিক তুহিনের ‘চোখ মেললেই দেখি তোমাকে’ গানটি এখন আমার কত প্রিয়। তোমার কি মনে আছে এই গানটি যখন তুমি আমাকে প্রথম শুনিয়েছিলে আমি কেমন করে হেসেছিলাম। এই তো সেদিন যখন আকাশে চাঁদ-তারারা পূর্ণভাবে উদয় হলো হয়তো সেদিন পূর্ণিমা ছিল। আমি তখন একা একা বাইরে এলাম। খোলা আকাশের দিকে তাকাতেই আবছা আলোতে তোমার আর আমার খোলা ছাদে দাঁড়িয়ে পূর্ণিমা দেখার স্মৃতিগুলো হৃদয়পটে ভেসে উঠল। তখন আমাকে বড় অসহায় এবং একা মনে হয়েছিল। জানো বন্ধু সেদিন না আমার এক ভাইয়ের সাথে নদীর পাড়ে বেড়াতে গিয়েছিলাম। তখন পরিবেশটা খুব নিরিবিলি ছিল এবং আকাশে লাল সূর্যটা ডুবুডুুবু খেলা খেলছিল। আমার সাথের ভাইটি প্রকৃতিকে ভালোভাবেই উপভোগ করেছিল কিন্তু আমি পারিনি। কীভাবে পারব? আমার কাছে মনে হয়েছিল একটু দূরেই যেন তুমি আর আমি পাশাপাশি বসে আছি এবং অন্যদিকে তাকাতেই দেখি তুমি তোমার মোবাইল সেট দিয়ে আমার ছবি তুলতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছ। এসব দৃশ্য আমার চোখে ভেসে ওঠার কারণ আমার জানা নেই। শুধু জানি এই স্থানের প্রতিটি দৃশ্যই আমাদের স্মৃতির সাক্ষী। জানো বন্ধু তোমার ইষঁবঃড়ড়ঃয হ্যান্ডসেটটি কেন জানি এখন বেশি ভালো লাগছে, তাই চিন্তা করছি এই রঙের এবং এই মডেলের একটি হ্যান্ডসেট কিনব। তোমার বন্ধু নামটি এখন আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। তাই তোমাকে বন্ধু বলে এই লেখায় সম্বোধন করলাম। কিছু মনে কোরো না।

জানো বন্ধু তুমি চলে যাওয়ার পর আমি একটুও মন খুলে হাসিনি। সারাক্ষণ শুধু তোমার কথা ভেবেছি এবং তোমার স্মৃতিগুলো কল্পনা করেছি। আরেকটি কথা, এখন না আমি কথায় কথায় কসম কাটি না কারণ কসম কাটলে কেউ তোমার মতো এসে আমার গলা চেপে ধরে না। তুমি হঠাৎ করে কেন এমন হয়ে গেলে? কেন তোমার সাথে কথা বলতে নিষেধ করে দিলে? খুব জানতে ইচ্ছা করে কেন তুমি প্রথম আলো পত্রিকার মতো বদলে গেলে এবং আমাকেও ডিজিটাল বাংলাদেশের মতো বদলে যেতে অনুরোধ করলে। কিন্তু তুমিই তো বলেছিলে কখনো হাজার ঝড় এলেও কেউ কাউকে ভুলতে পারবে না, সে অধিকার কারো নেই। তবে আজ কেন তুমি ওয়াদা ভঙ্গ করলে। তবে তুমি কি ওয়াদা ভঙ্গকারী? কেন জানি আজকাল আমার মোবাইল ফোনে কথা বলতে ইচ্ছা হয় না এবং আজও প্রতি রাতে একটেল বা বর্তমানের ‘রবি’ সিম চালু করে কার ফোনের জন্য যেন অপেক্ষা করি। অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে যাই। ঘুমে তখন তাকে স্বপ্নে দেখি। কী করব আমি বলো? তোমাকে যে কিছুতেই ভুলতে পারছি না। হয়তো আমিও কালের স্রোতে একিদন তোমাকে ভুলে যাব। কিন্তু আমি তো তা চাই না। তুমি আমায় ভুলে গেছ এবং ভুলে গিয়ে খুব সুখেই আছ তাতে আমার কোনো কষ্ট নেই। কষ্ট শুধু এতটুকু যে কেন তুমি যাওয়ার বেলা আমাকে কিছু বলে যাওনি। বোধহয় বলার প্রয়োজন মনে করোনি-তাই বলোনি। তুমি কি আমার বাংলালিংক নাম্বারটা এবং আমার দেয়া মেসেজগুলো সব ডিলেট করে দিয়েছ? হয়তো দিয়েছ। আমার একটা প্রশ,্ন তোমাকে কি এখন কেউ ফজরের নামাজ পড়তে ফোন করে জাগিয়ে দেয়, নাকি কাজা হয়ে যায়? জানি তুমি কোনো জবাবই দেবে না। কারণ তুমি এই লেখাটা পড়বে না। মনোজগতে যদিও লেখাটা ছাপা হয় তুমি তা পড়বে না কারণ তুমি তো বলেছিলে মনোজগত পাগলের পত্রিকা আর তুমি তো আমার মতো পাগল নও।
 
বন্ধু
টঙ্গী-গাজীপুর
ফোন: ০১৮২৫-২০১৯৫৯


ফিরে এলে ফেরাব না
জীবনে একবার হলেও মানুষ প্রেমে পড়ে, কথাটা আমি চিরন্তন সত্য মনে করি। কারণ প্রেমে পড়েনি এমন মানুষ পৃথিবীতে কম আছে। তাই আমিও তাদের থেকে বাদ যেতে পারি না। পড়ে গেলাম আমাদের পাশের গ্রামের এক মেয়ের প্রেমে। কারণ প্রেম আছে বলেই পৃথিবীটা এত সুন্দর। তাই সাজাতে চেয়েছিলাম সুন্দর এই পৃথিবীকে। সুন্দর দুটি জীবনকে, প্রেম স্বপ্ন দেখায় মানুষকে, রঙিন করে তোলে জীবনকে, বাড়তে থাকে বেঁচে থাকার প্রয়াস, আমিও পেয়েছিলাম সেই প্রেমের সুগন্ধ, অনুভব করতে লাগলাম স্বর্গীয় প্রেমের গতিময়তা, কিন্তু কথায় আছে যে, ‘প্রেমের পবিত্র শিখা চিরদিন জ্বলে স্বর্গ থেকে আসে প্রেম স্বর্গে যায় চলে’।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হৃদয়-মন, প্রাণ সবকিছু উজাড় করে স্বর্গীয় প্রেম নিয়ে যাকে দিয়ে স্বপ্নীল বীজ বুনেছিলাম দীর্ঘ ছয় বছর সোনার বরণ চেহারা হলেও তার অন্তরটা বিষে মাখা ছিল তা অনুভব করার মতো সঠিক জ্ঞান বুদ্ধি বিবেক আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম। কারণ আমার ভালোবাসা, প্রেম গভীরতা, গতিময়তা ছিল সীমাহীন, তাই ভালো-মন্দের বিচার করতে পারিনি। এক কথায় বলা যায় অন্ধ হয়ে ভালোবেসেছিলাম চুমকিকে। ২০০৫ সালের শেষের দিকে হঠাৎ চুমকি আমাকে বলল সে চট্টগ্রাম শহরে তার ভাইয়ের বাসায় চলে যাবে। আমি অনেক অনুরোধ করলাম, বাধা দিলাম শহরে না যাওয়ার জন্য। কিন্তু আমার বাধা অনুরোধ তার হৃদয়ে সাড়া জাগাতে পারল না। আমি জানতাম চুমকিও আমাকে ভালোবাসে-মনে প্রাণে, কিন্তু তার ভালোবাসার মাঝে নাটকীয়তা লুকিয়ে আছে তা আমার অজানা ছিল। আর যখন সেই অজানা আমার জানা হলো তখন অনেক দেরি হয়ে গেল। ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে হঠাৎ আমার প্রবাস জীবনে পাড়ি দেয়ার সময় একেবারে নিকটে চলে এলো। বাকি আছে মাত্র ১ সপ্তাহ। ওই অবস্থায় চুমকি বলল তাকে যেন বিয়ে করেই আসি যা আমার পক্ষে ছিল অসম্ভব। তার পক্ষেও তা সম্ভব ছিল না তা আমি জানি। আমাদের প্রেমে কোনো রকম বাধা ছিল না, তার মা, বড় বোন, মামি সবাই জানত আমাদের সম্পর্কের কথা, আমি চলে এলাম, তাকে মানিয়ে রাজি করে, প্রবাস জীবনে এসেই কর্মব্যস্ততার ফাঁকে যতটুকু সময় পাই তাকে নিয়ে ভাবতে থাকি, অনুভব হতে লাগল প্রিয়জনের কথা, প্রবাস জীবনে সব সময় মনে পড়ে। কাছ থেকে যখন প্রিয়জন দূরে চলে যায় তখন অনুভূতি, প্রেম, ভালোবাসা দ্বিগুণ আকারের রূপ ধারণ করে। এভাবেই কাটতে লাগল প্রবাস জীবন। কিন্তু কর্মব্যস্ততার পরে যখন চুমকির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করতাম,

রাত ১২টার পরেই তার মোবাইল ফোন সব সময় বিজি থাকে, প্রশ্ন করলে কার সাথে কথা বললে সে উত্তর দিত তার খালাতো বোন তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলে তার মোবাইল-থেকে আরো অনেক ভঙ্গি দিয়ে উড়িয়ে দিত। কিন্তু দিন দিন আমার সন্দেহ বাড়তে লাগল, এভাবে দিন পেরিয়ে মাস, মাস পেরিয়ে ২ বছর সমাপ্ত করলাম প্রবাস জীবনে, চুমকিকে বললাম আমি দেশে আসছি এবার দুজনে যুগল জীবনে আবদ্ধ হব। দেশে আসার পর তার এক বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারলাম এক ছেলের সাথে তার সম্পর্ক ছিল এবং গোপনে বিয়েও হয়েছিল। চুমকির পরিবারের লোকজন বিষয়টি জানত না কিন্তু সম্পর্কটা বেশিদূর যেতে পারেনি, বিচ্ছেদ হয়ে গেল দুজনের। তবুও তা আমি পরোয়া না করে ছুটে গেলাম চুমকির কাছে। জানতে চাইনি কী সত্য কী মিথ্যা। আমি বললাম চুমকি আমি এসেছি তোমাকে বিয়ে করব বলে। চুমকি আজ নয় কাল, কাল নয় পরশু করতে করতে আমাকে এড়িয়ে চলতে লাগল। কিন্তু কেন তা আমার জানা ছিল না। এখনো পর্যন্ত অজানা রয়ে গেছে। চুমকি আমি জানি আমার এই লেখাটা তোমার নিকট পৌঁছাবে। আমি আরো জানি তুমি খুব উগ্র মেজাজি, অভিমানী ও জেদি মেয়ে, তুমি কি নিজেকে নিঃশেষ করে দিতে চাও? নাকি সেই ছেলেটার অপেক্ষায় বসে আছ যোগ-বিয়োগ করে আমি এখন শূন্য কোঠায় এসে দাঁড়িয়েছি। অনেক কেঁদেছি তোমার জন্য, চোখ দিয়ে এখন অশ্রুর বিনিময়ে রক্ত আসার সময় হয়ে গেছে। অন্ধকারে পড়ে আছি পরাজিত সৈনিকের মতো। একবার তুমি স্বচক্ষে এসে দেখে যাও না হয় বলে যাও আমায় ভালোবাসনি। ছিল সবই নাটকীয়তা।

আমি কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি অতীতকে মনে করতে করতে। অতীত তো কেউ ভুলতে পারে না। আশা করি তুমিও পারবে না, কারণ অতীত জীবনের একটি অংশ। আমি অথৈ আঁধারে ডুবে আছি শুধু তোমাকে হারিয়ে। মনে করে দেখ তুমি সেই সোনালি দিনগুলো যা অম্লান স্মৃতি হয়ে আছে দুজনের মাঝে, তুমি তো অনেক যাচাই করেছ, পরীক্ষা করে দেখেছ আমাকে কিন্তু ফলাফল কী তা বলে গেলে না। আমার মনে হয় তোমার সেই অগ্নি পরীক্ষায় আমি অকৃতকার্য হইনি। চুমকি সাগর আর আকাশকে যদি মাপা যেত তাহলে হয়তো আমার ভালোবাসার পরিধি ও আয়তন তোমাকে দেখাতে পারতাম তোমায় কত ভালোবাসি। আজ তুমি যেভাবেই আছ তুমি আমার ভালোবাসা, আমি তোমার অসহায়ত্বের সুযোগে নয় বরং আমার গভীর ভালোবাসার টানে হৃদয়ের বন্ধনে তোমাকে ফিরে পেতে চাই। আমি ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকব তোমাকে স্বাগত জানাতে যদি ফিরে আস। তুমি যদি ফিরে আস তাহলে আমি তোমায় ফেরাব না।

মো. সেলিম উদ্দীন (হৃদয়)
দোহা, কাতার
ফোন: ০০৯৭৪ ৬৬৮৭৩৯৯


এ কেমন বন্ধুত্ব
হ্যালো সুরমা তোমাকে বলছি-তুমি এত নিচু মনের মানুষ তা আমার জানা ছিল না। আরো জানা ছিল না অহংকারের রাজ্যে তোমার বসবাস। তোমার সাথে আমার পরিচয় প্রাই দুই বছরের। এক বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। প্রথমে কথা বলা তারপর পরিচয় এরপর বন্ধুত্ব সৃষ্টি। ধীরে ধীরে তৈরি হতে থাকে বন্ধুত্বের এক সেতু। চলতে থাকে সময়ের আবর্তন চক্র। প্রায়ই তোমার সাথে চলত আমার ফোনালাপ। তোমার প্রতি ছিল আমার বন্ধুত্বের দুর্বার আকর্ষণ। ঈদ উৎসবে তোমাকে আমি শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে শুভেচ্ছা জানাওনি এমনকি একটি মেসেজও দাওনি। বন্ধুকে শুভেচ্ছা জানানোর মতো কী তোমার হৃদয় উন্মুক্ত ছিল না, নাকি আমি শুভেচ্ছা পাওয়ার উপযুক্ত ছিলাম না। আমার তো ঠিক তাই মনে হয়। যদি শুভেচ্ছা পাওয়ার উপযুক্ত হতাম তাহলে অবশ্যই শুভেচ্ছা পেতাম। ঠিকই করেছ আমিই বা কে আর কেনই বা তুমি আমাকে শুভেচ্ছা জানাবে। আজ চার থেকে পাঁচ মাস হয়ে গেল তোমার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। একে কি বন্ধুত্ব বলা যায়? দুজনে যে দুই মেরুর বাসিন্দা হয়ে আছি এতেই তা প্রমাণ করে। আজ আমি বড় একা হয়ে গেছি। নিঃশব্দ এক পৃথিবীতে আমার বাস। তোমার কথা ভেবে অনেক নির্ঘুম প্রহর কাটিয়েছি, এখনো কাটাচ্ছি। উল্কাপিণ্ডের মতো নিজেকে নিঃশেষ করতে ইচ্ছা করে কিন্তু পারি না। এখন আমার জীবনটা ছন্দ ছাড়া কবিতার মতো নীরস হয়ে গেছে। তোমার অহংকারী প্রাচীর কবে ভাঙবে তা আমার জানা নেই। কত বসন্ত পেরুলে তোমার পাথর হৃদয়ে ফুল ফুটবে তা শুধু সময়ের অপেক্ষায়। কেন এত অহংকার তোমার? তুমি তো বলেছিলে তোমার মনটা আকাশের মতো উদার। উদার মনের মানুষ তো কখনো অহংকার করতে পারে না। তোমার এই উদার মনের বন্ধুত্বের রাজ্যের এক কোণায় দাও না আমাকে স্থান। এসো না দুজনে মিলে সাজাই এক ফুলের বাগান, আত্মার সাথে করি আত্মীয়, সব জড়তা দূর করে নতুন এক পৃথিবী সাজাই। বন্ধু আমার হাতটা বাড়িয়ে দিলাম, দাও না তোমার বন্ধুত্বের কোমল হাতটা বাড়িয়ে।

মো. মিজানুর রহমান
আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ফোন: ০১৭২০-২৫৮৪২৯