স্ট্রেস কী
প্রত্যেক মানুষেরই কিছু না কিছু মানসিক বা শারীরিক চাপ থাকে। এই মানসিক বা শারীরিক চাপকে স্ট্রেস বলে। আধুনিক জীবন বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। ফলে স্ট্রেস মানুষের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। মনোচিকিৎসকের মতে, মানুষ যখন এই চাপ আর সহ্য করতে পারে না তখনই সে মানসিক ও শারীরিক রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং তার আচার-আচরণ হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, শারীরিক অথবা মানসিক, অভ্যন্তরীণ অথবা বহিঃস্থ, উচ্ছ্বাসমূলক অথবা উত্তেজক পদার্থের যে কোনো বিরূপতার প্রতি শারীরিক সাড়ার সামগ্রিকতাকে স্ট্রেস বলে। যে ঘটনার জন্য স্ট্রেস উৎপন্ন হয় তাকে ঝঃৎবংংড়ৎ বলে। স্ট্রেস একই সাথে শরীর ও মনকে আক্রান্ত করতে পারে। মানুষ যদি অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকে তাহলে সে ক্লান্ত, অসুস্থ, অমনোযোগী হয়ে পড়ে। এমনকি সে সঠিক চিন্তা করতে পারে না, ফলে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অথচ এই স্ট্রেসই কিন্তু জীবনের সঞ্জীবনী। কারণ স্ট্রেস বাধা-বিপত্তিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে এবং এর সাহায্যেই মানুষ ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনকে চিনে নিয়ে বড় হতে থাকে।
স্ট্রেস কীভাবে তৈরি হয়
স্নায়ুতন্ত্র এবং কিছু নির্দিষ্ট হরমোনের মাধ্যমে আমাদের শরীর স্ট্রেসরের (যা স্ট্রেস তৈরি করে) প্রতি সাড়া দেয়। মস্তিষেকর হাইপোথ্যালামাস পিটুইটারি গ্রন্থির মাধ্যমে অ্যাড্রেনাল গ্রন্থিকে বেশি পরিমাণে অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসোল হরমোন তৈরি করার জন্য এবং তা রক্তে অবমুক্ত করার জন্য সংকেত পাঠায়। এই হরমোন হার্টের মাধ্যমে মস্তিষেক প্রবেশ করে এবং স্ট্রেস তৈরি করে।
স্ট্রেসের চিহ্ন
স্ট্রেসের ফলে শারীরিক ও মানসিক দুধরনের লক্ষণ দেখা দেয়। এই লক্ষণ বিভিন্ন মানুষের জন্য বিভিন্ন রকম হতে পারে-
স্ট্রেসের ফলে সৃষ্ট রোগসমূহ
স্ট্রেসের ফলে অনেক রোগ হতে পারে। স্ট্রেস আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘুম কমে আসতে থাকে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। স্ট্রেসের সবচেয়ে বড় কুফল হলো অ্যাংজাইটি। এটি জটিল অবস্থায় গেলে মানুষ প্যানিক অ্যাটাকে ভুগতে থাকে। সাধারণত অ্যাংজাইটির সময় হৃদসপন্দন দ্রুত হয়। নিশ্বাস-প্রশ্বাসের অসুবিধা হতে পারে। মাংসপেশিতে চাপ পড়ার ফলে মাথা ধরা, ঘাড় ও পিঠে ব্যথা অনুভূত হয়। বমিভাব ও পেটের নানা গণ্ডগোল দেখা দেয়। কিছুক্ষেত্রে ঘাম বা ফ্ল্যাশ হতে পারে। ক্রমাগত ক্লান্ত বা লেথার্জিকবোধ হতে পারে। এটি মূলত স্ট্রেসের ফলেই হয়। অ্যাংজাইটি দুই ধরনের হতে পারে যেমন-
(ক) স্টেট (State)-যা কিছুদিনের জন্য হতে পারে
(খ) ট্রেট (Trait)-যা চরিত্রগতভাবে স্থায়ীরূপ নেয়
উল্লেখযোগ্য রোগগুলো হলো-
যে কোনো ধরনের ব্যথা
- বদহজম
- বমি ভাব
- অনিদ্রা
- গ্যাস্ট্রোইন্টেসটিনাল গণ্ডগোল
- স্থূলতা
- হৃদরোগ
- একজিমা
- থাইরয়েড গ্রন্থির অতিবৃদ্ধি
- ডায়াবেটিস
- মাড়ির রোগ
- আলসার অটোইমিউন ডিজিজ
- ক্যান্সার
- অবসাদ
- হতাশা
কী করে বুঝবেন আপনি স্ট্রেসের মধ্যে আছেন
স্ট্রেস লেভেলের দুটো দিক রয়েছে। হাই স্ট্রেস লেভেল ও লো স্ট্রেস লেভেল। স্ট্রেস থেকে আপনার কাজে ব্যাঘাত ঘটলে, ব্রেকডাউন হলে আপনি ইয়েলো ও রেড জোনের অন্তর্গত। যদি আপনি টেনশন কম রেখে নিজের পারফরম্যান্স ভালো রাখতে পারেন তাহলে আপনার জন্য গ্রিন জোন। আপনি কোন জোনের অন্তর্গত তা জানতে নিচের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিন।
- সহজেই রেগে যান
- হাসি ঠাট্টাতেও রিঅ্যাক্ট করেন
- সব কাজ আপনি নিজেই করতে যান
- অফিসের কাজ আর শেষ করে উঠতে পারেন না
- সবকিছুর খারাপ দিকটাই আগে মনে হয়
- সামান্য ব্যাপারকে বড় করে তুলেছেন
- সব সময় অভিযোগ জানানোর অভ্যাস হয়েছে
- ভুল না থাকলেও সবার কাজেরই খুঁত ধরেন
- বাড়ি, অফিস কোনোটাই মনের মতো হচ্ছে না, সব সময় মনে হচ্ছে কম্প্রোমাইজ করছেন।
প্রশ্নগুলোর মধ্যে অন্তত ৫টি প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ হলে বুঝবেন আপনি স্ট্রেসের মধ্যে আছেন এবং রেড জোনের মধ্যে পড়েছেন। আসলে একেক জোনের ব্যক্তিত্ব, তার লাইফ স্টাইল, আচরণের ওপর নির্ভর করে কোন পরিস্থিতিতে সে কী রকম রিঅ্যাক্ট করবে। তবে হাই স্ট্রেস লেভেল থেকে লো স্ট্রেস লেভেলে নিজেকে নিয়ে যাওয়াটা খুব একটা কঠিন কাজ নয়।
স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট কৌশল
স্ট্রেস সাধারণ কোনো অসুখের মতো নয় যে ওষুধ খেলে সেরে যাবে। স্ট্রেস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদের কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে।
স্ট্রেসের উৎস সম্পর্কে জানুন
প্রথমেই কী কী কারণে আপনার স্ট্রেস বেড়ে যায় তা জানার চেষ্টা করুন। বাড়ি বা অফিসের কোনো পরিস্থিতি, চারপাশের সবার ব্যবহার, ডেডলাইন মিট করতে না পারা, রান্নার লোক না আসা, বাচ্চার স্কুলের পরীক্ষা বিভিন্ন কারণে আপনার স্ট্রেস হতে পারে। কখন কোন কারণে স্ট্রেস হচ্ছে তা খুঁজে বের করুন। তাহলে আপনি সহজেই তা সমাধানের পথও খুঁজে পাবেন।
রাতের খাবার পরিবারের সবাই এক সঙ্গে মিলে খান
যতই কাজ থাক, ফেরার সময় একেকজনের একেক রকম হোক, ডিনার টাইমে পরিবারের সকলে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করুন। এক সঙ্গে গল্পগুজব করুন, সকলের খোঁজখবর নিন।
পজিটিভ আচরণ গড়ে তুলুন
যে কোনো খারাপ পরিস্থিতিতে পুরো ব্যাপারটি নিয়ে অন্তত দুবার ভাবুন। যুক্তি দিয়ে ভাবলে দেখবেন জটিল বিষয়ও অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছে। এমন কোনো পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা করবেন না, যেটা আমাদের আওতার বাইরে। ভবিষ্যতের চিন্তা করে অযথা উত্তেজিত না হয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করবেন তা চিন্তা করুন। এরপর আর কী কী খারাপ হতে পারে তা নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা করবেন না।
বই পড়ুন
বই পড়ার অভ্যাস করুন। এতে সময় কাটে, মন ভালো থাকে, জানার পরিধি তো বাড়েই। বই পড়ার অভ্যাস না থাকলে মনোযোগ দেয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। ভালোও লাগে না তাই প্রথম দিকে অভ্যাস গড়ে তুলতে হালকা যে কোনো বই, ম্যাগাজিন পড়ার চেষ্টা করুন, সুবিধা হবে।
গান শুনুন
পছন্দমতো গান শোনার অভ্যাস করুন। সকালে কাজ সারতে সারতে গান শুনতে পারেন অথবা রাতে ঘুমানোর সময় গান শুনতে পারেন, আপনার সময় ও সুবিধার ওপর নির্ভর করবে কখন শুনবেন। একবার অভ্যাস হয়ে গেলে দেখবেন মন ভালো রাখতে এর জুড়ি নেই।
প্রায়োরিটি নির্ধারণ করুন
সারাদিন কী কী কাজ করবেন তার একটা তালিকা তৈরি করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে তালিকার শীর্ষে রাখুন। কম গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে কম সময় দেয়ার চেষ্টা করুন। দরকারি কাজগুলো গোড়াতেই সেরে ফেলতে পারলে টেনশন অনেকটা কমে যাবে। আর কাজ ভালোভাবে শেষ করতে পারলে মনও ভালো থাকবে। এভাবে তালিকা করে কাজ করতে পারলে দেখবেন দিনের শেষে বেশ কিছুটা সময় আপনার হাতে রয়েছে।
বাগান করুন
নিজের হাতে বাগান করার আনন্দই আলাদা। বাগান করার আলাদা জায়গা না থাকলে বারান্দার টবেই পছন্দের ফুল কিংবা পাতাবাহার গাছ লাগান, নিজে দেখাশোনা করুন, সঙ্গে আপনার সন্তানকে সাহায্যকারী হিসেবে নিতে পারেন। এতে আপনার সন্তানও স্ট্রেস মুক্ত থাকবে।
হাসুন
হাসতে শিখুন, জোক বলুন, হাসলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়, রক্তনালি সবল থাকে, অ্যাবডমিনাল পেশি সুঠাম হয়। মন ভালো থাকে, বাড়ির সকলে মিলে জোক বলুন, মজার ছবি দেখুন।
নিজেকে রিচার্জ করুন
কাজ থেকে বাড়ি ফিরে ক্লান্ত, অবসন্ন থাকলে স্ট্রেস আরো চেপে বসে। তাই সক্রিয় থাকার চেষ্টা করুন। সক্রিয় থাকা মানে এই নয় যে জোরদার ব্যায়াম করতে হবে বা বাড়ির সব কাজ করতে হবে। বাড়ি ফিরে অবসন্ন অবস্থায় শুয়ে না পড়ে ভালো করে গোসল করে, হালকা চা-নাশতা করে বাচ্চাদের সাথে খেলতে পারেন অথবা পরিবারের সবার সাথে গল্প করতে পারেন, ডিনারের পর এক সঙ্গে হাঁটতে পারেন। পরের দিনের কাজের কথা বেশি না ভেবে রাতে ভালো করে ঘুমান। প্রয়োজনে হালকা মিউজিক চালিয়ে ঘুমাতে পারেন।
মেডিটেশন করুন
সারাদিনের কাজের চাপে বিপর্যস্ত? দিনের শেষেও ঝেড়ে ফেলতে পারছেন না কাজের ভূত? তাহলে বাড়ি ফিরে গোসল সেরে প্রদীপ কিংবা মোমের শিখার দিকে তাকিয়ে থাকুন, এটা চাপমুক্তির একটা বড় কৌশল।
না বলতে শিখুন
আপনার সীমাবদ্ধতার কথা সব সময় মাথায় রাখুন। সবার সাথে সম্পর্ক ভালো রাখতে গিয়ে নিজস্ব মূল্যবোধ থেকে সরে আসা ঠিক না। যে কাজ আপনি করতে পারবেন না, সে কাজের দায়িত্ব নেবেন না। না বলতে শিখুন। আপনার হাতে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় নেই। নিজের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করবেন না।
আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠুন
কোনো সমস্যার সমমুখীন হলে ‘আমি পারব না’ ‘আমার দ্বারা কিছু হবে না’ এই ধারণাগুলো মনে আনবেন না। বরং মনে মনে বলুন ‘আমি পারব’ তারপর দেখবেন আপনি নিজেই পারছেন। নেতিবাচক ধারণা মনে পোষণ করে রাখা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
যাদের জন্য স্ট্রেস হয় তাদের সঙ্গ পরিত্যাগ করুন
যদি আপনার সাথে এমন কোনো ব্যক্তির পরিচয় থাকে যে আপনাকে নিয়মিতভাবে চাপের মধ্যে রাখে, তবে তার সাথে মেলামেশা কম করুন অথবা তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করুন।
আপনার চারপাশের পরিবেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনুন
আপনার বাসায় হালকা ও উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার করুন। এতে সব ঘর বড় দেখাবে। ঘরে বড় বড় দরজা জানালা রাখুন যাতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস ঘরে ঢুকতে পারে। যদি সন্ধ্যার খবরে আপনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন তবে টেলিভিশন বন্ধ রেখে বাইরে ঘুরে আসুন। যেসব আলোচনায় আপনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন সেসব আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন না।
আপস করতে শিখুন
যদি আপনি কাউকে তার আচরণ পরিবর্তন করতে বলেন, তবে আপনি নিজেও সেই ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকুন।
অসাধ্যকে সাধ্য করতে যাবেন না
এই পৃথিবীতে অনেক জিনিস আছে যার ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। যেমন আমরা চাইলেই অন্যের আচার-আচরণ পরিবর্তন করকে পারব না। সুতরাং আপনার আয়ত্তের বাইরের বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাবেন না।
ক্ষমা করতে শিখুন
আমাদের পৃথিবীতে অনেক অসঙ্গতি আছে, থাকবে এবং এর ফলে মানুষও ভুল করবে। কেউ ভুল করলে তাকে ক্ষমা করে দিন এবং তাকে তার ভুল ধরিয়ে দিয়ে সংশোধন করে দিন।
নিয়মিত ম্যাসাজ নিন
ক্লান্তি কমাতে, স্ট্রেস দূর করতে ম্যাসাজ একটি ভালো উপায়। ম্যাসাজ অয়েল বা অলিভ অয়েল তো ভালোই, খাঁটি নারকেল তেলও ত্বক নরম রাখতে সাহায্য করে। আপনার সুবিধামতো আপনি বাড়িতেই ম্যাসাজ করতে পারেন অথবা ভালো পার্লারে গিয়ে নিয়মিত ম্যাসাজ করান। খরচসাপেক্ষ মনে হলেও নিজেকে ঠিক রাখতে, দৈনন্দিন স্ট্রেসের মোকাবিলা করতে ম্যাসাজের কোনো বিকল্প নেই।
চাপমুক্ত থাকার উপায়
- মাঝে মাঝে মুক্ত বাতাসে হাঁটুন।
- আপনার ভালো কোনো বন্ধুর সাথে সময় কাটান।
- ডায়েরি অথবা সাময়িকীতে লিখতে পারেন।
- অনেক সময় নিয়ে গোসল করতে পারেন।
- চা অথবা কফি পান করুন।
- আপনার পোষা প্রাণীর সাথে সময় কাটাতে পারেন।
- বাগানে কাজ করতে পারেন।
- পছন্দের গান শুনতে পারেন।
- কৌতূকপূর্ণ ভিডিও দেখতে পারেন।
- নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন (কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে ২-৩ দিন)।
- সুষম খাবার গ্রহণ করুন।
- খাদ্য তালিকা থেকে অতিরিক্ত ক্যাফেইন, চিনি, অ্যালকোহল, সিগারেট বাদ দিন।
- অসুস্থ হলে নিজে নিজে ডাক্তারি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- ছুটির দিনে পরিবারের সকলকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আসতে পারেন।
- পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
- জাংক ফুড পরিহার করুন।
- তাড়াহুড়ো না করে ধীরে সুস্থে খাবার খান।
হাসির মেডিটেশন
ভোরে ঘুম ভাঙার পর চোখ বন্ধ রাখা অবস্থায় বেড়ালের মতো আড়মোড়া ভাঙুন। শরীরের প্রতিটি পেশিকে টান টান করুন। কয়েকবার লম্বা দম নিন। ৩-৪ মিনিট সময় পার হওয়ার পর আপনি হাসতে চেষ্টা করুন। প্রথম দিকে হা-হা....হি-হি....করে হাসতে চেষ্টা করুন। হা-হা-হি-হি শব্দ করে হাসতে চেষ্টা করার ফলে যে শব্দ সৃষ্টি হবে সেই শব্দই আপনাকে ক্রমান্বয়ে নির্মল প্রাণখোলা ও দমফাটানো হাসির রাজ্যে নিয়ে যাবে। আপনি হাসির রাজ্যে হারিয়ে যাবেন কয়েক মিনিটের জন্য। প্রথম দিন চেষ্টা করেই হয়তো আপনি প্রাণখোলা হাসি হাসতে পারবেন না। হয়তো হা-হা-হি-হি শব্দ করবেন। কারণ আপনি হয়তো হাসতে ভুলেই গেছেন। কিন্তু কয়েক দিন অনুশীলন করার পরই দেখবেন আপনার ভেতর থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্মল স্বর্গীয় হাসি বেরিয়ে আসছে। হাসিতে ডুবে থাকুন ৫ মিনিটের জন্য। আপনার এই স্বর্গীয় হাসি পুরো দিনটিকেই করে তুলবে আনন্দ উচ্ছল।
যৌথ হাসির চর্চা
যৌথ হাসির চর্চা খুব সহজ। ৫-৬ জন থেকে ১০০-১৫০ জন একত্রে হাসতে পারেন। প্রথমে সবাই গোল হয়ে দাঁড়ান। একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে হা-হা হো-হো হি-হি করে কৃত্রিমভাবে হাসতে চেষ্টা করুন। দেখবেন সুড়সুড়ি শুরু হয়ে গেছে। একজন দিলখোলা দম ফাটানো হাসি দেয়ার সাথে সাথে অন্যরাও কিছুক্ষণের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত হাসিতে ফেটে পড়বেন। কারণ হাসি ছোঁয়াচে। ৫-১০ মিনিটের পেট ফাটানো হাসি আপনার দেহমনকে চাঙা রাখবে সারাদিন।
স্ট্রেসমুক্ত থাকতে কীভাবে খাওয়া-দাওয়া করবেন
কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেলে শান্তভাব বজায় থাকে। প্রোটিনজাতীয় খাবার খেলে আমরা সহজে চিন্তা করতে পারি, সতর্ক হতে পারি। এ জন্য প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার একসাথে খান। এতে মুডের ব্যালান্স বজায় থাকবে।
ক্লিনিক্যাল রিসার্চে দেখা গেছে যে ফলিক এসিডের অভাবে অনেক সময় ডিপ্রেশন দেখা দেয়। এক গ্লাস কমলার রস এই অভাব পূরণ করতে পারে।
ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার যেমন-গাজর, ভুট্টা, সবুজ শাক-সবজি খান।
কমলালেবুতে ভিটামিন সি আছে এবং আমন্ড, টমেটো, তিল, সামুদ্রিক খাবারে ভিটামিন ই আছে। এ দুটো ভিটামিন মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
দুধ, সবজি, ডাল, মাংস, ভিটামিন বি৬ সমৃদ্ধ খাবার, ফলিক এসিড, ভিটামিন সি, জিংক সেরোটনিন হরমোন উৎপন্ন করে। সেরোটনিন হরমোন মুড ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে, ঘুম ভালো হয়।
স্ট্রেস সম্পর্কে ভুল ধারণা ভাঙুন স্ট্রেসের প্রভাব সবার ওপর এক রকম
স্ট্রেসের প্রভাব সবার ওপর এক রকম পড়ে না। আপনি যে কারণে টেনশন করবেন, অন্য জন সেই কারণে টেনশন নাও করতে পারেন। স্ট্রেস থেকে একজন হয়তো মাথা গরম করতে পারেন, অন্যজন হয়তো চুপচাপ হয়ে যেতে পারেন।
স্ট্রেস থেকে পুরোপুরি রেহাই পাওয়া সম্ভব না
আজকের লাইফ স্টাইলে স্ট্রেস এড়ানো যাবে না, এটা ঠিক হলেও এর থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না, এটা ঠিক না। আপনার সদিচ্ছাই আপনাকে স্ট্রেস থেকে মুক্তি দিতে পারে।
স্ট্রেসের কোনো লক্ষণ নেই মানে আপনি স্ট্রেসড নন
খিটখিটে মেজাজ, অল্পতে রেগে যাওয়ার মতো পরিচিত লক্ষণগুলো সবার মধ্যে দেখা নাও যেতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সে চাপের মধ্যে নেই।
স্ট্রেসের ইতিবাচক দিক
স্ট্রেস জীবন সঞ্জীবনী হতে পারে। মানুষ যদি স্ট্রেসকে চ্যালেঞ্জ নিতে পারে তাহলে সে অল্প সময়ে অনেক কাজ করে দেশ ও দশের সেবা করতে পারবে।
যদি আপনি চাপ অনুভব করেন তাহলে চাপের উৎস খুঁজে বের করুন এবং তা সমাধানের চেষ্টা করুন। কারণ মানবজীবন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। এই সংক্ষিপ্ত জীবনে আমাদের অনেক কাজ সুচারুরূপে সম্পাদন করতে হবে।
শেষ কথা
আধুনিক জীবনের দ্রুত গতির সঙ্গে তাল রাখতে গিয়ে অনেকেই প্রচণ্ড অস্থিরতায় ভোগেন এবং মানসিক চাপ অনুভব করেন। এ ধরনের লোকজনের মধ্যে হৃদরোগের প্রবণতা বেশি হয়। মানসিক চাপের ফলেই হৃদসপন্দন বেড়ে যায়, রক্তচাপও বাড়তে থাকে। আর্টারি বা ধমনির সপ্যাজম বাড়ে। এরকম নিয়মিত ঘটলে আপনার হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যাবে।



