Skip to main content

‘হ্যাঁ’ বলতে শেখা

ডা. মুজাহিদ আকাশ

হ্যাঁ। ইংরেজিতে বলতে গেলে যার অর্থ দাঁড়ায় ইয়েস। হ্যাঁ তথা ইয়েস বলার প্রসঙ্গ এলেই আমরা ধরে নিই শিশুদের কথা বলা হবে। যেহেতু হ্যাঁ বলাটা শিশুদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে এখানে কিন্তু শিশুদের হ্যাঁ বলার কথা বলা হচ্ছে না। এখানে বলা হচ্ছে বড়দের হ্যাঁ কিংবা ইয়েস বলার বিভিন্ন ধরন প্রসঙ্গে। নানা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিদিন সবাইকে বহুবার ইয়েস অথবা হ্যাঁ বলতে হয়। তবে বারবার এই দুটো শব্দ উচ্চারণ করতে গেলে যে কারো কথাই শ্রুতিমধুরতা হারায়। যার সাথে কথা বলা হচ্ছে সেও বারবার একই শব্দ শুনে বিরক্ত হয়ে যায়। তাই দরকার একটু ভিন্নতা। ভিন্নতা আনতে গিয়ে যে ইয়েসের জায়গায় নো আর হ্যাঁ-এর জায়গায় না বলা যাবে না-এটা সবারই জানা আছে। বরং বলতে হবে এমন কিছু শব্দ যেগুলোর শাব্দিক অর্থ না হোক অন্তত ভাবার্থ হচ্ছে-হ্যাঁ। তাহলে তেমনি কিছু শব্দের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যাক। তবে এখানে বলে রাখা ভালো, ইয়েসের যে কতগুলো রূপভেদ কিংবা প্রতিশব্দ রয়েছে, সেগুলো কিন্তু সবক্ষেত্রে সমানভাবে ব্যবহার উপযোগী নয়। বিশেষ করে অফিস আদালত কিংবা ফর্মাল জায়গাগুলোতে তো নয়ই। শিক্ষক কিছু একটা জিজ্ঞেস করলেন যার উত্তরে ইয়েস বলতে হবে, কিন্তু ইয়েস না বলে এমন একটা শব্দ বলা হলো, যার মানে দাঁড়ায় ইয়েস, তবে সেটা সোজাভাবে না। প্যাঁচিয়ে। তাহলে কিন্তু বিষয়টা শোভন হলো না। তাই ইয়েসের অন্যান্য রূপ তথা প্রতিশব্দগুলো বন্ধু-বান্ধবের মধ্যেই ব্যবহার করা উচিত। এতে স্মার্টনেসও বজায় থাকবে-

  • বন্ধুদের আড্ডায় ইয়েসের পরিবর্তে ‘ইয়োপ’ কিংবা ‘ইয়া’ বলা যেতে পারে অনায়াসে। আবার ইচ্ছে করলেই ‘রাইট’ শব্দগুলো বলা যায়। যেমন কেউ যদি বলে তুমি কি অমুক কাজটি করবে? তখনই ইয়েস না বলে ‘রাইট’ও বলে দেয়া যায়। কারো কথায় সমমতি জানানোর ক্ষেত্রে বিশেষ করে কারো কথায় একমত প্রকাশের ক্ষেত্রে বলা যায়-ইউ গট ইট। যা ইয়েসের ভাবার্থ।
  • ‘ডিল’ শব্দটাও ইয়েসের পরিবর্তে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন কেউ বলল তুই অমুক জিনিসটা দিলে আমি তোকে অমুক জিনিসটা দেব। এই কথার প্রতিউত্তরে ‘ডিল’ শব্দটা ব্যবহার করা যথেষ্ট জুতসই। এক কথায় বলতে গেলে ‘ইয়েস’-এর এই প্রতিশব্দটি সাধারণত কোনো প্রস্তাবে সমমতি জানানোর ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা ভালো।
  • কেউ কাউকে কোনো কাজ করতে দিল। সময় বেঁধে দিল কাজটা যাতে সে সাতদিনের মধ্যে করে দেয়। সাতদিন পরে অথবা সাতদিনের মাথায় তাকে জিজ্ঞেস করা হলো-কিরে, কাজটি হয়েছে? এক্ষেত্রে যদি কাজটি সম্পন্ন হয়ে থাকে তাহলে সে ‘ইয়েস’ বা হ্যাঁ বলবে এটাই স্বাভাবিক। তবে কেউ যদি তার কথায় নতুনত্ব বা ভিন্নতা আনতে চায় তাহলে সে বলতে পারে ‘ডান।’ (অর্থাৎ কাজটা হয়ে গেছে।

সবশেষে বলা যায়, বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে যেহেতু গুরুগম্ভীর কথাবার্তা হয় না, বরং হাসি-ঠাট্টা এবং হালকা চালের কথাবার্তা হয়, অতএব এসব কথাবার্তার ফাঁক ফোকরে ইয়েস-এর প্রতিশব্দগুলো গুঁজে দেয়া যায়। তাতে শুধু মুখের এই কথাটাই না, পুরো ব্যাপারটাই বেশ গতিময় হয়ে ওঠে। তবে এক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ ভুল প্রয়োগের একটা ব্যাপার থেকে যায়। ইয়েসের জায়গায় অন্য কোনো প্রতিশব্দ কিংবা ভাবার্থ ব্যবহার করতে গিয়ে যদি ভুল কোনো শব্দ ব্যবহার করা হয় তাহলে পুরো বক্তব্যটাই অর্থহীন হয়ে যাবে। মাটি হয়ে যাবে আলাপের স্বাদটা। আর হাসাহাসি লেগে যাবে অন্যদের মাঝে। অতএব, যাই বলা হোক না কেন একটু সামলে বলতে হবে একটু বুঝে-শুনে বলতে হবে।

মনোজগত ডেস্ক
সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমাদের প্রথমে যে কথাটা মনে আসে তা হলো আজকের দিনটা কেমন কাটবে! সেই সাথে সবাই আশা করি দিনটা যেন ঝামেলামুক্ত ও আনন্দময় কাটে। কিন্তু দেখা যায় সব সময় মনের ইচ্ছাটা পূরণ হয় না। দিনের শেষে ক্লান্ত-বিষণ্ন চিত্তে বাসায় ফিরতে হয়। আমরা কিন্তু একটু চেষ্টা করলেই এই অবস্থার উন্নতি করতে পারি। সেটা অনেকটাই নিজের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। এখানে সে সম্পর্কিত কিছু টিপস দেয়া হলো-

  • প্রথমেই দৃষ্টিভঙ্গির প্রশ্ন। সব সময় সবকিছুর ভালো দিকগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে। মন চাইবে সমস্যার দিকে, নেতিবাচক দিকগুলোর দিকে ঝুঁকতে। তবে সেগুলো পাত্তা দেয়া যাবে না।
  • সমস্যা সমাধানের কথা ভাবতে হবে, সমস্যা নিয়ে ভাবলে জটিলতা বাড়ে।
  • ঠান্ডা ও উচ্ছ্বসিত গান শোনা যেতে পারে।
  • পারলে মজাদার কিছু হাস্যরসাত্মক নাটক, ডেইলি জোকস দেখা যেতে পারে।
  • প্রতিদিন সামান্য পরিমাণে হলেও নিজেকে অনুপ্রেরণামূলক বই কিংবা পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করে নিতে পারলে ভালো।
  • নিজের চিন্তাভাবনার দিকে লক্ষ রাখতে হবে। যখনই মনে নেতিবাচক চিন্তা আসবে, তখনই জীবনের সুখকর দিকগুলোর দিকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে হবে।
  • আপনি সারাদিনে কী করেছেন অথবা কী করছেন না সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যা করেননি বা করতে পারেননি, সেসব নিয়ে ভেবে কোনো লাভ নেই। আমরা সেসব কথা ভেবে মন খারাপ করে বসে থাকি। অথচ যা করতে পারলাম সেগুলোর কথা ভাবতে গেলে দেখা যায, ইচ্ছাগুলোর অনেকটাই পূরণ করতে পেরেছি। যা কিছুটা হলেও মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
  • প্রতিদিন নিজের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা অন্তত করা উচিত। এই যেমন-বই পড়ার অভ্যাস থাকলে পছন্দের লেখকের বই কেনা যেতে পারে, কোনো রেস্টুরেন্টে গিয়ে নিজের পছন্দের কিছু খাওয়া যেতে পারে। বাসায় ফিরে প্রিয় কোনো সিনেমা, নাটক দেখা যেতে পারে। অথবা নিজের প্রিয় কোনো জায়গা থেকে ঘুরে আসা যায়। তাতে জীবনের একঘেয়েমি কিছুটা হলেও কাটানো সম্ভব।
  • অনেক সময় অন্যের জন্য কিছু করতে পারলেও আনন্দ পাওয়া যায়। কারো দুঃখের সময় পাশে থাকা, কাউকে ছোট হলেও কিছু একটা উপহার দেয়া, বাসে কারো জন্য সিট ছেড়ে দেয়া। এসবই আনন্দের কারণ হতে পারে।
  • যারা ভালো আছে তাদের দেখে আমরা অনেক সময় ঈর্ষাবোধ করি। কিন্তু আমাদের ঠিক উল্টোটা করা উচিত।
  • সব সময় যে ভালো কিছু ঘটে তা নয়। খারাপ ঘটতে পারে। কিন্তু সেগুলো নিয়ে না ভেবে মনকে সবকিছুর জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে। মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। তাতে অনেক কিছুর সমাধান সহজে পাওয়া যায়।

সবশেষে এভাবে বলা যায় যে নিজেকে ভালো রাখার জন্য যা করা সম্ভব তাই করা উচিত। অর্থাৎ মন যা চায় তা পূরণ করার চেষ্টা করা।