মাওলানা আবুল কালাম
সিলেট
সমস্যা আমার মায়ের। মায়ের বয়স ৫৮ বছর। প্রায় ১০ বছর আগে সমস্যা শুরু হয়। সমস্যা শুরুর আগে তিনি খুব বেশি কথাবার্তা বলতেন, সামান্য কথায় কারো সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়তেন। রাতে শুয়ে শুয়ে শ্লোক গাইতেন এভাবে চলার ৩-৪ বছর পর হঠাৎ একদিন রাতে শয্য্যা ত্যাগ করে ঘরের মেঝেতে হাঁটতে শুরু করেন। ড্রামে রাখা চাল কিছুক্ষণ পরপর মুষ্টি ভরে ভরে খেতে থাকেন। জিজ্ঞাসা করলে বলেন অশান্তি, ঘুম আসে না। এমতাবস্থা চলার সপ্তাহ খানেক পর একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নিকট যাই। পর্যায়ক্রমে তার চিকিৎসা অনেকবার গ্রহণ করি। কিন্তু রোগের তেমন কোনো উন্নতি না হওয়ায় আমরা অন্য একজন ডাক্তারের নিকট যাই। তিনি ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম, অ্যাডলাক ১০ মিলিগ্রাম, অ্যামিলিন ২৫ মিলিগ্রাম, হ্যালোপ ৫ মিলিগ্রাম খেতে দেন। এই ওষুধগুলো খাওয়ার পর সমস্যা প্রায় ৮০% কমে যায়। রাতে মোটামুটি ঘুম হতো। কিন্তু আমরা পুরোপুরি ভালো হওয়ার জন্য ডাক্তারের নিকট আরো ৩ বার যাই। তিনি পূর্বের দেয়া ওষুধগুলো পরিবর্তন না করে সাথে ভিটামিন জাতীয় কিছু ওষুধ ও ডোজ পরিবর্তন করে দেন। সর্বশেষ সাক্ষাতে তিনি বললেন যে রোগী এর চেয়ে বেশি সুস্থ হবে না আর এই ওষুধগুলোই স্থায়ীভাবে চালিয়ে যেতে হবে। আমরা এখনো ওষুধগুলো নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সম্প্রতি এই সমস্যাগুলো পূর্বের চেয়ে বেড়ে যাচ্ছে যেমন অশান্তি, রাতে ভালোভাবে ঘুম হয় না, জিদ, মাঝে মাঝে প্রস্রাবের বেগ আটকাতে পারে না, বুক ধড়ফড় করে, দিনের বেলা কতক্ষণ শুয়ে থাকে আবার শুয়ে শুয়ে পা নাড়ায়, কতক্ষণ ঘরের বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করে, কথাবার্তা কম বলে, শরীর খুব দুর্বল, কথা গুছিয়ে বলতে পারে না, স্মৃতিশক্তি কমে গেছে।
আপনার মা বিষণ্নতা রোগে ভুগছেন। প্রাথম দিকে তিনি হাইপোম্যানিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। বর্তমানে ডিপ্রেশন অবস্থায় আছেন। ট্যাবলেট লুডিওমিল ২৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টি ও রাতে ১টি করে খাওয়াতে থাকুন। ট্যাবলেট ইপিক্লোন .৫ মিলিগ্রাম রাতে খেতে দিন। এক মাস পরে জানাবেন।
আমার বয়স ২৫ বছর। ওজন ৪০-৪৫ কেজি। আমার সমস্যা হলো দুই হাতের অগ্রভাগে চড়চড় করে দাগ পড়ে হাত দুটো কালো হয়ে গেছে। অত্যধিক চুলকায়। আমার এ সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে। চুলকানোর সময় কোনো ঘা বা পুঁজ হয় না সম্পূর্ণ শুকনা থাকে।
আপনি অতি সত্বর নিকটস্থ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কথা বলুন।
রবিউল
চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৫ বছর। আমি বেশ কয়েক বছর যাবৎ কিছু মানসিক সমস্যায় ভুগছি। আমার আত্মবিশ্বাস কখনোই ভালো ছিল না। কিন্তু আজ ৫-৬ বছর যাবৎ প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছি। আমার প্রচুর বন্ধু-বান্ধব, অনেকে আমাকে খুব পছন্দ করে আবার অনেকে একদম পছন্দ করে না। সবার সাথে আমি ভালোভাবে মিশতে পারি না। হঠাৎ করে প্রচণ্ড অস্থির হয়ে যাই। তখন নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। বাসায় কোনো মেহমান আসলে শুনলে বা অপরিচিত মানুষের সাথে পরিচয় হতে গেলেও এ সমস্যাগুলো হয়। অহেতুক ভীতি বা বুক ধড়ফড় করার সমস্যাও আছে।
মাথাব্যথার সমস্যাটি অদ্ভুত টাইপের। প্রচণ্ড মাথাব্যথা করে তবে ব্যথাটা কপালের বাম পাশ কেন্দ্রিক। পুরো মাথা বা কপালের অন্য অংশে তেমন একটা ব্যথা করে না। মাথাব্যথা করলে বাম কপালের রগ ফুলে যায়। মাইগ্রেনের ওষুধ খেয়েছি তবে তেমন একটা উপকার পাইনি। আমার মনে হয় আমার সকল ভাবনা, চিন্তা কপালের বাম পাশ নিয়ন্ত্রণ করে।
এটি একটি মাথাব্যথা রোগ। আপনি ট্যাবলেট ফ্লুভার ৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টি ও রাতে ১টি করে খেতে থাকুন। সাথে ট্যাবলেট ইনডিভার ১০ মিলিগ্রাম রাতে খেতে থাকুন। মাথার একটি সিটিস্ক্যান করে রিপোর্ট নিয়ে মনোজগত সেন্টারে সরাসরি দেখা করবেন।
মো. আরিফ
বাদুরতলা, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২২ বছর। আমার সমস্যা হলো ভয়, আমি কোনো কাজ ভালোভাবে করতে পারি না, কারো সঙ্গে ভালোভাবে মিশতে পারি না, কথা গুছিয়ে বলতে পারি না, অল্পতে নার্ভাস হয়ে পড়ি, দূর থেকে কারো সাথে চোখাচোখি হলে বুক ধড়ফড় করে। কারো চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারি না, বুক ধড়ফড় করে, কাঁপতে থাকে, সাহস একদম কম, আমার আত্মবিশ্বাস আমি বাড়াতে চাই কিন্তু পারি না। আমার এসব সমস্যা ছোটকাল থেকেই। এর জন্য ওষুধ খেলে ভালো থাকি কিন্তু ওষুধ বন্ধ করার পর বেড়ে যায়। আমার শুচিবায়ু রোগ ছিল, এখন ওষুধ খেয়ে কিছুটা কমেছে।
আপনার শুচিবায়ু রোগ আগেই ছিল, বর্তমানে এর সাথে ফোবিয়া নামক রোগটি হয়েছে। আপনি ট্যাবলেট চিয়ার ২৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টি ও রাতে ১টি করে সেবন করুন। এক মাস পরে বিস্তারিতভাবে জানাবেন।
আবু তৌহিদ
সাভার, ঢাকা
আমার বয়স ২০ বছর। আমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত খুবই কষ্টদায়ক ও হতাশাব্যঞ্জক মনে হয়। তীব্র মনঃকষ্টে ভুগি। মনে সব সময়ই থাকে বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তা। কোনো একটা চিন্তা মাথায় একবার উপস্থিত হলে তা সহজেই ছাড়ে না বা কোনো একটা ভীতি একবার মাথায় উপস্থিত হলে তা বারবার মাথায় চাপ দেয়। খুব সামান্য কারণেই ভয় পাই। নিজেকে নিজের কাছে খুবই অসহায় বলে মনে হয়। স্বাভাবিকভাবে মাথা তুলে কথা বলার সাহস নেই। আত্মবিশ্বাসের তীব্র অভাব। তাই নেতিবাচক চিন্তামুক্ত জীবন ও সদা প্রফুল্ল মন আমার কাম্য।
আপনি সামগ্রিকভাবে মৃদু মানসিক রোগে ভুগছেন। আপনার উচিত সকাল-বিকাল হাল্কা ব্যায়াম করা। পুষ্টিকর পথ্য খাওয়া এবং সামাজিকভাবে মেলামেশা বাড়ানো। প্রথমদিকে ভীষণ ভয় কাজ করবে কিন্তু এ ধরনের প্র্যাকটিস চালিয়ে গেলে পরবর্তীতে আর কোনো অসুবিধা হবে না।
মো. জয়নুল আলিম
পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৬ বছর। আমার সমস্যা হলো আমি যা পড়ি তা অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ভুলে যাই। কাউকে কথা দিয়ে কথা রাখতে পারি না। বিভিন্ন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি। আমার মাঝে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে। আমি আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। তাছাড়া কেউ জোরে জোরে কথা বললে আমার ভয়ে বুক ধড়ফড় করে। বর্তমানে এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে আমাকে কী করতে হবে পরামর্শ দেবেন।
আপনার অসুখটির নাম জিএডি অর্থাৎ অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই অ্যাংজাইটি রয়েছে তা যখন নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকে তখন এটি সহায়ক শক্তি মনে হয়। অতিরিক্ত মাত্রায় হলে এটিকে অসুখের পর্যায়ভুক্ত ধরা হয়।
আপনি আপাতত ট্যাবলেট স্টেলা ১ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা এবং ট্যাবলেট পারকিনিল সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক করে ১ মাস খেতে থাকুন। এর সাথে প্রয়োজনীয় জীবনযাত্রার নিয়মাবলি কঠোরভাবে মেনে চলুন। মাঝে মাঝে পিএমআর (রিলাক্সেশন পদ্ধতি) করবেন। যা গেল সংখ্যায় মনোজগতে ছাপা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম (শফিক)
ছাতক, সুনামগঞ্জ
রোগী আমার বোন। তার বয়স ৩০ বছর। জন্মের পর থেকে স্মরণশক্তি কম, বেশি উচ্ছৃঙ্খল। যখন রাগের প্রবণতা বৃদ্ধি পায় তখন সামনে যা কিছু পায় ভেঙে ফেলে। জ্ঞান প্রয়োগ করে কিছু বলতে পারে না। মাথা ঝিমঝিম করে, পেট কামড়ায়, এসব কথা প্রায়ই বলে। সিলেট মেন্টাল হসপিটালে প্রায় ১০ বার চিকিৎসা করা হয়েছে। তাদের দেয়া ওষুধ খেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়। কিন্তু ওষুধ খাওয়া বন্ধ করলে আবার পূর্বের অবস্থায় চলে আসে। বেশি সময় লক্ষ করা যায় যে যখন তার রাগ বেড়ে যায় তখন নিজেকে ওয়ালের সাথে আঘাত করে। শরীরের কাপড় টেনে ছিড়ে ফেলে।
মানসিক প্রতিবন্ধিতায় ভুগছেন আপনার বোন। এটি জন্মগত সূত্রে পাওয়া। সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বুদ্ধাঙ্কের হিসাবে ৯০ থেকে ১২০ হয়। ৯০-এর নিচে যাদের বুদ্ধাঙ্ক থাকে তাদের কম বুদ্ধিসম্পন্ন বলা হয়। তবে কম বুদ্ধিসম্পন্ন রোগীদের ছোটবেলার বিভিন্ন প্রশিক্ষণে তাদের বুদ্ধিমত্তা বাড়িয়ে নেয়া যায় এবং তারা সামাজিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে পারে। আপনি ট্যাবলেট লোপেজ ৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে ও ট্যাবলেট পারকিনিল ৫ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক করে ১ মাস খাওয়ান। এরপর মনোজগত সেন্টারে যোগাযোগ করবেন।
হোসনে আরা বেগম
ভাতালিয়া, সিলেট
আমার বয়স ২৬ বছর। আমার সমস্যা হলো চুপচাপ বসে থাকি। মাঝেমধ্যে কান্না পাই, খাদ্যে অনীহা, সারাক্ষণ শুয়ে থাকি, রাতে ঘুম হয় না, কারো সাথে মিশতে পারি না, সন্দেহ করি, স্বাভাবিক কাজে আগ্রহ নেই, পারিপার্শ্বিক কোনো কাজে আনন্দ পাই না, নিজের জীবন নিয়ে হতাশা অনুভব করি। মাঝেমধ্যে আল্লাহর উপরে রাগ হয় কেন আল্লাহ আমাকে এমন করল ইত্যাদি। আমি মাঝে মাঝে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই। এভাবে কলেজে একদিন অজ্ঞান হয়ে পড়লে পরীক্ষা করার পর আমার অ.উ.ঝ ধরা পড়ে। ২০০১ সালের শেষের দিকে অ.উ.ঝ অপারেশন করা হয়। আমি আরো দুশ্চিন্তায় পড়ি।
উপসর্গগুলোর বিচারে এই অবস্থা প্রতীয়মান হয় যে, আপনি মৃদু রকমের বিষণ্নতা রোগে ভুগছেন। বিষণ্নতা যে কোনো লোকের যেকোনো সময় হতে পারে। তবে জনগোষ্ঠীর উপরে ৩ থেকে ৫ ভাগ লোক বিষণ্নতায় আক্রান্ত থাকে। এদের এখনি চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন। যেহেতু বিষণ্নতা মৃদুমাত্রার তাই ট্যাবলেট চিয়ার ২৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা এবং ট্যাবলেট ক্লোনাপিন .৫ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে ১টি করে খেতে থাকুন। এক মাস পরে জানাবেন।
অভিক মার্টিন
নূর আহমেদ সড়ক, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ১৮ বছর। আমার কিছু সমস্যা হলো কোনো কিছু চিন্তা করার সময় অতীতের নানা চিন্তা একসঙ্গে চলে আসে, যা আমি মন থেকে বের করতে পারি না। এই সময় শরীরে জ্বালাপোড়া হয়, অস্থিরতা বেড়ে যায়, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস হয়। প্রচণ্ড রাগ হয় এবং ভাঙচুর করি। আমার মনঃপূত নয় বা আমার সমালোচনা করে কোনো কথা বলা হলে আমি তা সহ্য করতে পারি না। আমার মন খুব সন্দেহপ্রবণ। লেখাপড়া আমার কাছে ভীতিকর মনে হয়। একা একা কোথাও যেতে পারি না সব সময় ভয় ভয় ভাব বিরাজ করে, মেজাজ সব সময় খিটখিটে থাকে। রাতে ঘুম হয় না, ঘুম হলেও বারবার ঘুম ভেঙে যায়। ফলে আমার বাবা, মা, ভাই-বোন রাতে ঘুমাতে পারেন না।
আপনি ব্যক্তিত্ব সমস্যায় ভুগছেন। আপনার ওষুধের পাশাপাশি দরকার কাউন্সিলিং। প্রথমে ওষুধ চিকিৎসা শুরু করার পরে কাউন্সিলিং করতে হবে। আপাতত ট্যাবলেট রিপোজ ২৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টি ও রাতে ১টি করে খেতে থাকুন। ১ মাস পরে জানাবেন।
মো. রাসেল
জয়দেবপুর, গাজীপুর
আমার বয়স ১৮ বছর। আমার মনে সর্বদা অশ্লীল চিন্তা বিরাজ করে। নাটক বা সিনেমা দেখলে গল্পের কোনো চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে চেষ্টা করি। মনে আত্মবিশ্বাস নেই, অল্পতেই রেগে যাই। নিজেকে খুবই অসহায় মনে হয়। মাঝে মাঝে মনে হয় খারাপ কাজে লিপ্ত হয়ে যাই। স্মৃতিশক্তি একেবারেই নেই আমি খুবই ভীতু স্বভাবের। রাতে একা ঘর থেকে বের হতে পারি না।
আপনার অসুখটির নামও ব্যক্তিত্বজনিত সমস্যা। সহজ-স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য কতগুলো গুণাবলির প্রয়োজন। যা আপনার ব্যক্তিত্বে কম। আপনার উচিত হবে সামান্য মাত্রায় ওষুধ খাওয়ার পরে কাউন্সিলিংয়ের জন্য যোগাযোগ করা। আপনি আপাতত ট্যাবলেট অ্যানডেপ ৫০ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক করে খান এবং ট্যাবলেট ক্লোনাপিন রাতে অর্ধেক করে সেবন করুন। এক মাস পরে বিস্তারিতভাবে জানাবেন।
এম আব্দুল হাই
ভোলা
আমার বয়স ২৩ বছর। আমি ১৫ মাস যাবৎ অসুস্থ ছিলাম। আমার সমস্যা ছিল শরীর দিয়ে সিদ্ধ ধানের ভাপের মতো ভাপ বের হতো এবং সমস্ত শরীর মরিচের মতো জ্বলত। প্রায় তিন মাস বিছানা থেকে মাথা উঠাতে পারিনি। অনেক কবিরাজ, ডাক্তার দেখিয়েছি কোনো কাজ হয়নি। পরিশেষে ৮ মাসের মাথায় ঢাকার একটি হাসপাতালে দেখালে ডা. আমাকে অ্যালজোলাম নামে একটি ওষুধ দিলে (৫-৬) মাস খাওয়ার পর জ্বলা কিছুটা কমেছে কিন্তু পুরোপুরি সারেনি বিধায় মনের সাথে যুদ্ধ করে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা শুরু করলাম ও দুধ খাওয়া শুরু করলাম। এখন আমার শরীর মোটামুটি ভালো কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টাই হাত ও পায়ের তালু গরম থাকে। শরীর অল্প অল্প জ্বলে মাথাটা ভার হয়ে থাকে মনে হয় জ্ঞান হারিয়ে যাবে।
জেনারালাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার এই অসুখটির নাম। আপনার উচিত হবে ঘরের কোণে চুপটি করে বসে না থেকে লোকজনের সাথে মেলামেশা করা এবং কথাবার্তা বলা। তাদের সাথে আলোচনার পর আপনার নিজেরই ভালো লাগবে। আপাতত ট্যাবলেট সেট্রা ২৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা এবং ট্যাবলেট ইপিক্লোন .৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে খেতে থাকুন ১ মাস পরে জানাবেন। জীবনের অন্যান্য নিয়মাবলী (গত সংখ্যায় প্রকাশিত) মেনে চলুন।
চাঁদনী
রাজশাহী
আমার বয়স ১৯ বছর। আমার সমস্যা অবসেশন এবং বিষণ্নতা। ছোটবেলা থেকেই একা একা থাকতাম। ২৪ ঘণ্টা অহেতুক বাজে চিন্তা, শেষ রাতে ঘুম এবং দিনে ঘুম, রাতে ঘুম না আসা, সঠিক সময়ে সঠিক কাজ না করা, যে কোনো কাজ বেশি সময় ধরে করা, কারণ ছাড়াই মুখে হাসিভাব থাকা, দুঃখের সময়ও হাসি হাসি ভাব থাকা, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা, মুখ এমনিতেই বিড়বিড় করে, কারো সঙ্গে মিশতে না পারা, কোনো কিছুই ভালো লাগে না, পৃথিবীর কাউকে আপন মনে হয় না, এমনকি বাবা-মা, কারো সঙ্গে গল্প করতেও পারি না। সব সময় একা একা থাকতে ভালো লাগে। আত্মবিশ্বাসহীনতা, পড়ালেখায় মনোযোগ নেই, কোনো চিন্তা মাথায় ঢুকলে বের করতে পারি না, বুক ধড়ফড় করে, সবাইকে শত্রু মনে হয়, কোনো কাজ করতে ভালো লাগে না, সব সময় কল্পনাবিলাসী থাকতে ভালো লাগে। পরিষকার-পরিচ্ছন্ন থাকি না, কোনো কিছুর মধ্যে আনন্দ খুঁজে পাই না, বারবার হাত-পা ধুই, নামাজ পড়তে গেলে কত রাকাত পড়া হলো ভুলে যাই। মাঝে মাঝে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা হয়।
আপনার সমস্যাটি ব্যক্তিত্বের গঠনজনিত। সাধারণত ৫ থেকে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। এ সময়ে ব্যক্তিত্বের মধ্যে সুষম সকল উপাদানের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। ২৫ বছরের পরে যে ধরনের ব্যক্তিত্ব হয় তা মানুষের মৃত্যুকাল পর্যন্ত বলবৎ থাকে। তবে ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দোষ নিজের ইচ্ছায় পরিবর্তন করা যায়। মানুষের স্বভাব যেমন করে তৈরি হয় ঠিক তেমন করেই সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছাতেই নতুন ধরনের উপাদান ব্যক্তিত্বেও সংযোজন করা যায়। আপনি আপাতত ট্যাবলেট চিয়ার ২৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টি ও রাতে ১টি করে খেতে থাকুন। তার সাথে ট্যাবলেট লোনাপাম ০.৫ মিলিগ্রাম রাতে ১টি করে খেতে থাকুন। ১ মাস পরে জানাবেন।
বিউটি
সিরাজগঞ্জ
লিপন একজন সিজোফ্রেনিয়া রোগী। তার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে সাড়ে তিন বছর। বিয়ের কয়েক মাস আগে থেকে সে আপনার কাছ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। আমি যতটা দেখছি সে ওষুধ খেলে ভালো থাকে আর মাত্র দুদিন ওষুধ না খেলে তার মধ্যে বিষণ্নতা চলে আসে। শুয়ে থাকতে ভালো লাগে আর তখন সে সব সময়ই শুয়ে থাকে। ভালো কিছু চিন্তা করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তখন সে শুধু নেগেটিভ চিন্তাই করতে থাকে। আবার ওষুধ খেলেই স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে কয়েক মাস হলো হাত কাঁপছে কিন্তু ওষুধেও ঠিক হচ্ছে না। সে ওষুধ নিয়মিত খায় না। ওষুধ শেষ হলেও ঢাকা যেতে চায় না। আমার শাশুড়ির ধারণা দীর্ঘদিন আপনার ওষুধ খেলে শরীরে অন্য ক্ষতি হতে পারে। তাই নতুন করে হোমিও চিকিৎসা দিচ্ছেন। আমার কান্নাকাটিতে এখন আপনারটাও খাচ্ছে এবং হোমিও ওষুধও খাচ্ছে।
সে আমাকে খুবই সন্দেহ করে। আমার স্বাভাবিক জীবন সে পুরোপুরি নষ্ট করে ফেলেছে। হাসপাতাল এবং থেরাপি নেয়াকে সে খুবই ভয় পায়।
আপনার স্বামীর রোগটি সিজোফ্রেনিয়া। তিনি তার জন্য ওষুধ সেবন করছেন এবং আপনার কথামতো সেবন করলে তিনি ভালো থাকেন। তাহলে রোগীটিকে সম্পূর্ণরূপে নিরাময়ের জন্য ওষুধের পাশাপাশি কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুনর্বাসন করা অত্যন্ত জরুরি। সিজোফ্রেনিয়া রোগে ওষুধ ব্যবহারে অনিয়মিত থাকা উচিত না। প্রায় ৭৫ ভাগ সিজোফ্রেনিয়া রোগ একদম ভালো হয়ে যান আর বাকি ২৫ ভাগের মধ্যে কিছু কিছু উপসর্গ থাকতে পারে। সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের মানসিক সমস্যার পাশাপাশি নিজের কাজ করার ক্ষমতাও কমে যায়। ফলে এরা অলস ও মোটা হয়ে যায়। নিয়মমাফিক ওষুধ সেবন করান, কায়িক পরিশ্রম সাধন করুন এবং রোগীকে পরিবারের মধ্য থেকে সেবা প্রদান করার চেষ্টা করুন। আশা করি ভালো থাকবেন।
হৃদয় খান
চাঁদপুর
আমার বয়স ১৬ বছর। দশম শ্রেণীতে পড়ি। আমি সামাজিক ভীতিতে ভুগছি। একা একা লোকালয়ে হাঁটতে পারি না। মনে হয় সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করছে। আমার দিকে সবাই তাকিয়ে আছে। নতুন কোনো মানুষের সাথে কথা বলতে পারি না। তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারি না। অন্য লোকদের সামনে নিজেকে খুব ছোট মনে হয়। এ ব্যাপারে আপনার কাছে পরামর্শ কামনা করছি।
সামাজিক ভীতি নিয়ে অসংখ্যবার আলোচনা করা হয়েছে। এর চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও মনোজগত পত্রিকার গত সংখ্যাগুলোতে যথেষ্টবার লেখালেখি হয়েছে। সামাজিকভীতি রোগের একমাত্র চিকিৎসা হচ্ছে যাতে আপনি বেশি ভয় পান সেই কাজগুলো এড়িয়ে না গিয়ে তার সাথে যুদ্ধ করা। সামান্য পরিমাণে ট্যাবলেট ইনডিভার ১০ মিলিগ্রাম সকাল ও বিকেল এবং ট্যাবলেট সেট্রা ২৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টি করে সেবন করতে থাকুন। এক মাস পরে জানাবেন।
লিখন
মৌলভী পাড়া, খুলনা
আমার বয়স ২২ বছর। আমি বেশ কয়েক বছর যাবৎ কিছু মানসিক সমস্যায় ভুগছি। যেগুলো হলো নার্ভাসনেস, কল্পনাবিলাসিতা, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, ব্রেন আনফ্রেস থাকা, বিড়বিড় করে কথা বলা, উপস্থিত বুদ্ধি কমে যাওয়া, কথা বলার সময় হঠাৎ ভুলে যাওয়া, সর্বদা নিজেকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণা করা, হতাশা, কোনো কথা নিজে নিজে বলতে পারলেও মানুষের সামনে বলতে না পারা, অলসতা, স্নায়ুদুর্বলতা, ঘুম বৃদ্ধি পাওয়া, ব্রেনে কাজ না করা, হঠাৎ রেগে যাওয়া, মাথা প্রায় ভার ভার লাগা, হঠাৎ অন্যমনস্ক হয়ে যাওয়া, ভুলে যাওয়া।
জেনারালাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার আপনার অসুখটির নাম। এতে দুশ্চিন্তার উপসর্গের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের নিউরোটিক সমস্যাও পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় শারীরিক ব্যায়াম করুন, বিভিন্ন ধর্মীয় কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন ও হাল্কা এক্সারসাইজ করুন। আপাতত ট্যাবলেট ইসিটা ৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টি ও রাতে ১টি করে সেবন করতে থাকুন। একমাস পরে জানাবেন।
রাশেদ
জামালপুর
আমার বয়স ২০ বছর। আমার সমস্যা হচ্ছে দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত টেনশন, মাঝে মাঝে মাথাব্যথা, চঞ্চলতা, হঠাৎ উত্তেজিত হওয়া, বেশি কথা বলা, প্রচুর মিথ্যা কথা বলা, ভুল কথা বলা। অতিরিক্ত কল্পনা করি, পড়ার প্রতি অমনোযোগী। গত ৬ মাস যাবৎ মৃত্যুভীতি সব সময় থাকে। সারাক্ষণ বুক ধড়ফড় করে এবং সামান্য কিছুতেই আমি ভয় পাই। দৈনিক ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমাই।
নিউরোটিক বিষণ্নতা আপনার অসুখটির নাম। এটি মৃদুমাত্রার বিষণ্নতা বললেও অন্যায় ভুল না। আপাতত ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম রাতে ১টি ও ট্যাবলেট কোজিয়াম ১০ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে ১টি করে সেবন করতে থাকুন। ১ মাস পরে বিস্তারিত লিখে আমাদের জানাবেন।
প্রশান্ত চন্দ্র দে
ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ
আমার বয়স ১৭ বছর। আমার সমস্যা হলো ‘মাথাব্যথা’ ৫ মাস আগে নাকের অপারেশন হয়েছে। তারপর আমি চোখের ডাক্তার দেখাই ডাক্তার চোখ দেখে চশমা এবং কিছু ওষুধ লিখে দিলেন এবং বলেন চোখে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু মাথাব্যথা কমছে না। যেদিন আমি কলেজে বা কোচিংয়ে যাই সেদিন ব্যথা আরো বাড়ে এবং ব্যথা বাম চোখে বেশি হয়। এখন আমি কী করতে পারি পরামর্শ দিলে উপকৃত হব।
মাথাব্যথার ১০০ ভাগ কারণের মধ্যে ৯০টি হচ্ছে মানসিক কারণ। এই মানসিক কারণে সৃষ্ট মাথাব্যথা কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা যায় না। আরেকটি মাথাব্যথার কথা অবশ্যই জানা প্রয়োজন তা হলো মাইগ্রেন। এই মাইগ্রেন মাথাব্যথায় ব্যথা ৩-৪ দিন স্থায়ী থাকে, সাধারণত মাথার একদিকে হয়, চোখে ঝাপসা লাগে ও বমি হয়। ধীরে ধীরে তা ৩-৪ দিনে কমতে থাকে। আপনার মাথাব্যথাটি আমার নিকট টেনশনজনিত মাথাব্যথা বলেই মনে হয়। সাধারণত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমাবেন, দুপুরে ১ ঘণ্টা শুয়ে থাকবেন এবং আপনার সহ্যশীল মাত্রায় পড়াশোনা করবেন। হাল্কা রকমারি কাজকর্ম করতে পারেন এবং কিছুটা যোগব্যায়াম উপকারী হতে পারে। আপাতত ট্যাবলেট চিয়ার ২৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টি ও রাতে ১টি এবং ট্যাবলেট ইপিক্লোন .৫ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে ১টি করে খেতে থাকুন। ১ মাস পরে জানাবেন।
নূর মোহাম্মদ
ঢাকা সেনানিবাস, ঢাকা
আমার রাতে ঘুম হয় না, অতিরিক্ত যৌন উত্তেজনা। আমি অবিবাহিত। রাতের বেলা কেমন যেন মনে হয় ওই বাড়ির সুন্দরী মেয়েকে আমার সাথে বিয়ে দেবে, আমাকে ডাকছে এইরূপ ভ্রান্ত ধারণা। বাস্তবে এক বাসায় চলেও গিয়েছিলাম, পরে অপমানিত হয়েছি। নিজেকে বিরাট অলৌকিক কিছু লাভ করেছি বলে মনে হয়। যেমন-বেহেস্তবাসী হয়ে গিয়েছি, আল্লাহ তায়ালার সমস্ত কর্মকাণ্ড দেখতে পাচ্ছি, আবার কখনো মনে হয় কেউ আমাকে পরিকল্পিতভাবে ক্ষতি করছে, পাগল বানাচ্ছে ইত্যাদি। বিভিন্ন জায়গায় বেশি বেশি যাওয়া আসা করি, যেমন-বায়তুল মোকাররম মসজিদ, সংসদ ভবন, জাতীয় শহীদ মিনার ইত্যাদি। কিছু কিছু জিনিস দেখলে আবেগে কান্না আসে যেমন-জাতীয় পতাকা, মানচিত্র, দেশাত্মবোধক গান ইত্যাদি।
প্রথম কিস্তি এবং দ্বিতীয় কিস্তির চিঠি মনোযোগের সাথে পড়া সাপেক্ষে বলা যায় আপনি সাইকোসিস জাতীয় রোগে ভুগছেন। ট্যাবলেট টেলাজিন ৫ মিলিগ্রাম ১টা করে সকালে, রাতে এবং ট্যাবলেট সিজোপিন ২৫ মিলিগ্রাম রাতে সেবন করুন। এক মাস পরে আমার সাথে দেখা করুন।
মোজাম্মেল হোসেন
বগুড়া
আমার শিশুর বয়স ৫ বছর। তার সমস্যা হলো সে দিনে যেসব কাজ করে অর্থাৎ যে কথা বলে বা গান করে রাতে ঘুমের মধ্যেও সেগুলো উচ্চস্বরে গায়। এর জন্য তাকে অনেক কবিরাজ দেখানো হয়েছে। তবুও সে আরোগ্য লাভ করেনি। তার আর একটি সমস্যা হলো মেয়েটি রাতে ঘুম থেকে জাগলে সে একা একা ঘরের বাইরে যায় এবং আব্বা, আমমাকে খুঁজতে থাকে। তার তৃতীয় সমস্যা হলো কয়েক মাস আগে মেয়েটির নাক দিয়ে প্রচণ্ড রক্ত পড়ত। এ জন্য নাক, কান, গলা চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়েছিল। মোটামুটি ভালো হয়েছিল। তারপরে আবার পূর্বের মতো রক্তপাত হয়।
আপনার শিশুর প্রথম দুটি হলো ‘ঘুমের সমস্যা’। তার ঘুমের এই সমস্যা দুটি সমাধানকল্পে একটি ইইজি ও সিটি স্ক্যান (ব্রেন) করানো দরকার। এছাড়া আমার মনে হয় আপনার মেয়েটি ‘সমনমবিউলিজম’ নামক ঘুমের সমস্যা রোগে ভুগছে। আপনি পরীক্ষা দুটো করে আমার সাথে দেখা করুন। নাক দিয়ে রক্ত পড়া সমস্যার জন্য নাক, কান, গলার চিকিৎসক দেখান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
ধানমন্ডি, ঢাকা
আমি পেশায় একজন ছাত্র। বর্তমানে আমি অনার্স পড়ছি। আমি এসএসসি পরীক্ষায় ভালো নম্বর নিয়ে পাস করি এবং ঢাকা শহরের একটি ভালো কলেজে ভর্তি হই। ভর্তি হওয়ার পর থেকে আমার কিছুই ভালো লাগত না। পড়তে বসতাম কিন্তু পড়ায় মনোযোগ বসত না। তবে কোনো রকম আড্ডা বা নেশা করতাম না। এই ব্যাপারে আমি কাউকে জানাইনি। আস্তে আস্তে আমার এইচএসসি পরীক্ষা ঘনিয়ে আসে। তখন আমার মধ্যে তীব্র বিষণ্নতা দেখা দেয়। যার ফলে মুখস্থ করা প্রশ্নোত্তরগুলোও রিভিশন না দিয়ে পরীক্ষার হলে যাই এবং পরীক্ষা খারাপ করি। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্সে ভর্তি হই। আমার মাসের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ দিন কিছুই ভালো লাগে না। একা একা থাকতে ইচ্ছা করে। কারও সাথে মিশতে ভালো লাগে না এবং কোনো বিষয়েই আগ্রহ পাই না। তারপর হঠাৎ একদিন সমস্ত রাত জেগে থাকি, তার পর দিন থেকে কাজে আগ্রহ পাই ও নব উদ্যমে কাজ করি মাসের বাকি কদিন। এছাড়া আমার মধ্যে বারবার ঘড়ি দেখা বা একটা কাজ দুতিনবার করার অভ্যাস আছে। আত্মবিশ্বাসের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া আমার মধ্যে চঞ্চলতা খুব বেশি। যে কারণে একটি বিষয়ে খুব বেশিক্ষণ মনোযোগ দিতে পারি না।
আপনার অসুখটির নাম ‘ম্যানিক ডিপ্রেসিভ সাইকোসিস’। এ রোগে কিছু দিন বিষণ্নতাবোধ থাকে আবার কিছুদিন চঞ্চলতা থাকে। একই ব্যক্তির মধ্যে দুটি রোগ পরপর আসে বলে এই অসুখটির নাম ম্যানিক ডিপ্রেসিভ সাইকোসিস। বর্তমানকালে এ অসুখটি হলে নিরাময় করার পাশাপাশি প্রতিরোধ করারও ওষুধ আছে। আপনি বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপাতত ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম সকালে একটি করে নাশতার পরে সেবন করুন। এছাড়া আপনার স্বভাবে অবসেশনের কিছুটা উপসর্গ আছে। আমার মনে হয় এটি বিষণ্নতা রোগে ভোগার সময় বেশি হয়। এই অবসেশন উপসর্গের জন্য আপাতত চিকিৎসার কোনো দরকার নেই।
রকিব হাসান খান
ঢাকা
বয়স ১২ বছর। কথা বলতে গেলে খুব তাড়াহুড়ো করে এবং পরীক্ষায় প্রায়ই ভুল করে আসে। সুষ্ঠু সুন্দরভাবে ধীরগতিতে গুছিয়ে কথা বলতে পারে না। যার কারণে তাড়াহুড়ো করতে যেয়ে পরীক্ষায় ভুল করে, এর জন্য কী করা যায় মেহেরবানি করে জানাবেন।
রকিবের অসুখটির নাম ‘অ্যাটেনশন ডিফিসিট হাইপার কাইনেটিক ডিসঅর্ডার’ সংক্ষেপে বাংলায় শিশুদের চঞ্চলতা রোগ। আমাদের শিশুদের মধ্যে শতকরা তিন ভাগের বেশি এই অসুখে ভুগে থাকে। সাধারণ অর্থে মা-বাবার দুষ্টু ছেলে, বেশি দুষ্টমি করে, চঞ্চল ছেলে, কথা শোনে না ইত্যাদি ভাবে প্রকাশ করে থাকেন। অসুখটি সম্বন্ধে সাধারণ জ্ঞান না থাকার জন্য তারা এটি ধরতে পারেন না। চঞ্চলতা কমলে মনোযোগ বাড়বে। এই চঞ্চলতা কমানোর জন্য কিছু ওষুধ দেয়া যেতে পারে কিন্তু তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে চিন্তা করে পরামর্শ পাতায় এর প্রেসক্রিপশন করা হলো না। আপনি আমাদের চিকিৎসা কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
মো. ফারুক
চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা
আমার বয়স ২০ বছর। আমার সমস্যা হলো দাড়ি গোঁফ নিয়ে। আমার সমবয়সী বন্ধুদের সকলের দাড়ি গোঁফ গজিয়েছে কিন্তু আমার এখনো দাড়ি গোঁফ গজায়নি। সমস্যার সমাধান দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।
আপনার সমস্যাটি পুরুষ হরমোনজনিত। অনেকের এ বয়সে দাড়ি গোঁফ কম গজায়। এতে চিন্তার কিছু নেই। স্বাভাবিক খাওয়া, ব্যায়াম চালিয়ে যান, চিন্তামুক্ত থাকুন।
মিজানুর রহমান
আব্দুল্লাহপুর, সিলেট
আমার বয়স ২৮ বছর। চার বছর হচ্ছে বিবাহ করেছি। এক মেয়ের বাবা। মেয়ের বয়স ২ মাস। সমস্যা হচ্ছে আমার স্ত্রী বেশি মিলন করতে চায় না। কিন্তু আমার তা সয় না। আমি একজন শিক্ষক। সপ্তাহে ১ বার বাড়িতে যাই। তার কোনো সমস্যা আছে বলেও মনে হয় না। আমার ধারণা সে পুরোপুরি ফিট। ডাক্তারি মতে তার কোনো সমস্যা নেই। তবুও কেন এমন করছে আমি বুঝে উঠতে পারছি না। মনে ভীষণ কষ্ট অনুভব করছি। তাকে ভীষণ ভালোবাসি শুধুমাত্র মিলনে অনীহা থাকায় মাঝেমধ্যে মনে হয় মরে যেতে। কিন্তু সে কষ্ট পাবে এই ভেবে বেঁচে আছি। এখন মাঝে মাঝে হস্তমৈথুন করি। সে আগে এমন করত না। এই ১০-১৫ দিন যাবৎ এমন করছে। আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন মিলনের পর কোমর ব্যথা করে। এই কোমর ব্যথার কারণে অনেক সময় মিলন ঘটাতে পারি না।
আপনার স্ত্রীর মিলনজনিত একটা মানসিক ভয় আছে। এটি সম্পূর্ণ সাইকোলজিক্যাল। তবে তার কোনো শারীরিক কারণ আছে কিনা প্রথমে অনুসন্ধান করা দরকার। কোমর ব্যথার জন্য কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নেয়া প্রয়োজন। যদি সবকিছু নরমাল থাকে তাহলে আপনার স্ত্রীর প্রয়োজন সাইকোথেরাপি। ওষুধে এর চিকিৎসা অতটা ভালো নয়। সময় পেলে স্ত্রীকে নিয়ে আমাদের চেম্বারে যোগাযোগ করুন।
তুষার
আজমিরীগঞ্জ, হবিগঞ্জ
সমস্যাটা আমার নানির। ওনার বয়স ৬৫ বছর। কিন্তু গত ছয় মাস আগে তার একমাত্র ছেলে বিয়ে করলে সে এ বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। এখন কথা বেশি বলে, খাওয়া-দাওয়া, ঘুম সবই কম। যতক্ষণ জেগে থাকে পুরনো কথা বর্তমানের সাথে যুক্ত করে শুধু কষ্ট পায়। এর প্রতিকারক ওষুধ এবং পথ্য কী দয়া করে বলবেন।
আপনার নানির অসুখটির নাম ‘লেট অন সেট ম্যানিয়া’। খেয়াল রাখতে হবে এর সাথে স্মৃতিভ্রংশতা আছে কিনা। যদি তা না থাকে তবে ট্যাবলেট পেরিডল ৫ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক ও ট্যাবলেট পারকিনিল ৫ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক এবং ট্যাবলেট অপসোনিল ৫০ মিলিগ্রাম রাতে একটা এভাবে খাওয়াতে থাকুন। দশ দিন পরে যোগাযোগ করুন।
মাসুম আহমেদ
জয়দেবপুর, গাজীপুর
আমার বয়স ২১ বছর। আমি পরিচিত কোনো আত্মীয়-স্বজন বা অপরিচিত সুন্দরী মেয়ে বা স্মার্ট ছেলেদের পেছনে রেখে অর্থাৎ তাদের অতিক্রম করে সামনে হাঁটার সময় আমার স্বাভাবিক হাঁটা হাঁটতে পারি না। অনেক সময় দূর থেকে গুরুত্বপূর্ণ কেউ আমার দিকে তাকিয়ে আছে ভেবেও এমনটি হয়। তারা আমাকে নিয়ে কী ভাববে এ নিয়ে আমি খুব চিন্তিত থাকি। আমার এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে এ অস্বস্তি সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় জানিয়ে ধন্য করবেন।
আপনার অসুখটির নাম সোশ্যাল ফোবিয়া। এ অসুখে আক্রান্ত ব্যক্তি সামাজিকভাবে বিভিন্ন সমাবেশে মোকাবিলা করতে ভয় পায়। বিশেষ করে তরুণরা এ রোগে বেশি ভোগে। আপনি ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম রাতে ১টা ও সকালে ১টা করে খেতে থাকুন।
মো. মাহতাব হোসাইন
জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ
আমার বয়স ১৯ বছর। গত ২ বছর যাবৎ প্রতি সপ্তাহে ২-৩ বার আমার স্বপ্নদোষ হয়, গ্রামের ডাক্তার দেখিয়েছি তাতে কাজ হয়নি। এতে আমার কোনো বিশেষ ক্ষতি হচ্ছে কিনা সব সময় মাথায় চিন্তা জাগে। মন ছটফট করে। এতে আমি দিন দিন ভেঙে যাচ্ছি। আমি যখন রাতে হারিকেন নিয়ে টেবিলে পড়তে বসি তখন চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে। ডাক্তারের পরামর্শক্রমে চশমা ব্যবহার করছি কিন্তু কাজ হচ্ছে না। শুধুমাত্র দু পায়ের ওপর ভর রেখে কোথাও ৫-১০ মিনিট বসলে ওঠার সময় মাথা ঘুরে যায় এবং সে সময় মনে হয় আমি মাতালের মতো হয়ে যাচ্ছি। দয়া করে আমাকে পরামর্শ দিন।
আপনার প্রশ্নের উত্তর একটাই-এটি একটি স্বাভাবিক ক্রিয়া। শরীরের প্রয়োজনে এটি হয়। দুশ্চিন্তার কিছু নেই। স্বাভাবিক খাদ্য গ্রহণ করুন, মন প্রফুল্ল রাখুন, হাল্কা ব্যায়াম করুন, কাজে ব্যস্ত থাকুন।
করিম
উত্তরা, ঢাকা
আমার বয়স ২৭ বছর। গত আড়াই বছর ধরে রিভোট্রিল ৫ মিলিগ্রাম খাচ্ছি। অনেক চেষ্টা করে ছাড়তে পারিনি। ওষুধ ছাড়লে মৃত্যুর ঘটনা শুনলে বা মৃত ব্যক্তির জানাজায় গেলে বা খবরের কাগজ পড়লে প্যানিক ডিসঅর্ডারে ভুগি, অসুখের ১ বছরে অনেক ধরনের ওষুধ খেয়েছি কিন্তু সব ছাড়লেও রিভোট্রিল ছাড়তে পারিনি। বর্তমানে আমার যৌনশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। মাথায় শুধু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার চিন্তা। রিভোট্রিল যদি বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াশীল ওষুধ হয়, আমাকে অন্য ওষুধ লিখে দেবেন। রিভোট্রিল আজীবন খেলে হার্ট নষ্ট হয়ে যাবে কি?
আপনার রিভোট্রিল নির্ভরতা হয়ে গেছে। আপনার এ নির্ভরশীলতা কাটানোর জন্য অবিলম্বে আমার সাথে যোগাযোগ করুন।
রওশন আরা হেনা
করাতিটোলা লেন, সায়েদাবাদ, ঢাকা
একটি বিষয়ে এ পর্যন্ত কিছুই লেখা হয়নি। কিন্তু বিষয়টি অতীব প্রয়োজনীয়। তাই প্রশ্নটি করছি। বগল এবং যৌনাঙ্গের লোম তুলে ফেলার বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যসমমত উপায় কী? রেজার ব্যবহার, নাকি হেয়ার রিমুভার, নাকি কাঁচি ব্যবহার, নাকি অন্য কোনো উপায় আছে? দয়া করে জানাবেন।
ছেলেদের ক্ষেত্রে ডিসপোজেবল রেজার ব্যবহার করাই ভালো। মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু জটিল। তিনটির যে কোনোটি ব্যবহার করা যেতে পারে। নির্ভর করবে আপনার ইচ্ছার ওপরে ও ত্বকের সংবেদনশীলতার ওপরে।
স্বপন রায়
চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৭ বছর। আমার সমস্যা হলো ৪-৫ বছর আগে বিষণ্নতায় ভুগছিলাম। আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা হয়েছিল। তখন চিকিৎসকের পরামর্শে ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম খাই। বিগত সাড়ে তিন বছর খাওয়ায় আত্মহত্যার প্রবণতা কমে যায়। কিন্তু অন্যান্য সমস্যা রয়ে যায়-যেমন কোনো লক্ষ্য স্থির করতে পারি না, সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করি, কোনো কাজ করার ইচ্ছা, আগ্রহ, উদ্যম মোটেই নেই। কাজ-কর্মে আনন্দ পাই না। কারও অনুরোধে কাজ করলে মনে হয় আমার মতো এত পরিশ্রম আর কেউ করে না এবং সবকিছু এলোমেলো করে ফেলি। মনের মধ্যে অহংকার, হিংসা, রাগ, জিজ্ঞাসা, তেজ কিছুই নেই এবং কোনো চেতনাবোধ নেই। স্মরণশক্তি মোটেই নেই, যৌনশক্তি নেই বললেই চলে। বর্তমানে ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম খেলে ২ দিন ধরে বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়।
সন্দেহ নেই আপনার অসুখটির নাম বিষণ্নতা। বিষণ্নতার সাথে ম্যানিয়া অসুখটি থাকে। এক্ষেত্রে ম্যানিয়া সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। যে ক্ষেত্রে বিষণ্নতার সাথে ম্যানিয়া অনুপস্থিত থাকে সে ক্ষেত্রে বিষণ্নতা সারানোর জন্য ওষুধের মাত্রা বেশি প্রয়োজন হয়। আপনি অবিলম্বে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন।
মো. মাহতাব মহিন
৩০৬ নর্থ হোস্টেল, ঢাকা কলেজ
আমার বয়স ১৮ বছর। আমার সমস্যা হলো স্মরণশক্তি লোপ পাওয়া। গত এক বছর থেকে ভুগছি। বর্তমানে তা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বইয়ের পড়া বা স্যারের লেকচার শোনার পরপরই তা ভুলে যাই। দুই-তিন লাইনের কোনো পড়া বহুবার পড়লেও মুখস্থ হয় না। মুখস্থ হলে ১০-২০ মিনিটের মধ্যেই ভুলে যাই। কারও নাম, কোনো গানের কলি বহুবার শোনার পরও মনে রাখতে পারি না। কারও সাথে পরিচিত হলে কিছুদিন পর তাকে চিনতে পারি না। ছোটবেলা থেকে স্মরণশক্তি কম। আমার স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালো, ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। তবে পিপাসা লাগে না এ জন্য পানিও পান করি কম। খেলাধুলা করি না। রাত ১টা-২টা পর্যন্ত পড়ি। শোবার সাথে সাথে ঘুম চলে আসে এবং গভীর ঘুম হয়। ৬-৭ বছর ধরে পায়খানা শক্ত। শরীরে উত্তাপ খুব বেশি, সব সময় প্রচুর ঘাম হয়।
আপনার মনোযোগের অভাব। ইদানীংকালে তা বেশ প্রকট হয়েছে মনে হয়। এই মনোযোগের অভাব বিভিন্ন কারণে হতে পারে তার একটি কারণ টেনশন আর একটি বিষণ্নতা। আপনার চিঠি পড়ে কারণটি শনাক্ত করা গেল না। আপাতত ট্যাবলেট নরটিন ১০ মিলিগ্রাম সকালে একটা রাতে একটা সেবন করুন এবং অবিলম্বে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করুন।
দীলিপ বিশ্বাস
হাজারী লেইন, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৮ বছর। আমি প্রায় ৫ বছর ধরে বিষণ্নতা রোগে ভুগছি। আত্মহত্যার প্রবণতা জাগে এবং চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম, টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম, অপসোনিল তারপরে টলভন খাই। এরপরে আত্মহত্যার প্রবণতা কমে যায়। কিন্তু অন্যান্য সমস্যা যেমন-লক্ষ্য স্থির করতে পারি না, কোনো কাজের প্রতি উদ্যম, ইচ্ছা, আগ্রহ নেই। কেউ কিছু বললে ভালোভাবে বুঝি না, মাথায় কিছু ধরে না। হার্টের বল কম, কোনো মূল্যবান জিনিস হারানো গেলেও মনে কোনো দুঃখ হয় না। আমার এক ভাইয়েরও আমার মতো সমস্যা আছে। এটা আমাদের বংশগত কোনো রোগ কিনা জানাবেন।
আপনি অবিলম্বে আমার সাথে দেখা করুন।
মো. জসীম আহমেদ
কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
আমার বয়স ২১ বছর। আমার সমস্যা হলো আমি টেনশনে ভুগি। আমার কিছুই ভালো লাগে না। অস্থির অস্থির মনে হয়, নিজেকে ছোট মনে হয়, কোনো কাজে মন বসাতে পারি না। কোনো লোকের সাথে কথা বলতে মন চায় না। আর আমার নিজের চেহারাকে বিশ্রী মনে হয়। কোনো মেয়ের সামনে গেলে নিজেকে ছোট মনে হয়। আবার মনে হয় আমার স্বাস্থ্য নেই অথচ লোকে বলে আমার স্বাস্থ্য ভালো।
আপনার অসুখটির নাম হীমমমন্যতা। আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর প্রয়োজন। নিজেকে ছোট মনে করার কোনো কারণ নেই। চেহারা যেমনই হোক আপনার মনে রাখতে হবে আপনি একজন মানুষ। পৃথিবীতে কোনো সাধারণ মানুষই পারফেক্ট নয়। আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য সামাজিকভাবে বেশি মেলামেশা করুন। সব সময় মনে রাখবেন ‘মানুষ মানুষের জন্য’।
মানসী
১/১-৯ কল্যাণপুর, ঢাকা
আমি একজন ২২ বছরের তরুণী। অবিবাহিতা। আমার নাকের নিচে ঘন লোম আছে যা নিয়ে প্রতিটি সময় আমাকে বান্ধবীদের নিকট বিব্রত হতে হয়। এর কোনো চিকিৎসা আছে কি? দয়া করে এর একটা সমাধান দিয়ে আমাকে উপকৃত করবেন।
আপনি একজন হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
১/বি, ৩০/২ মিরপুর, ঢাকা
আমি বিগত ৪ বছর ধরে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলোতে ভুগছি। আমার সমস্যা হলো-স্মরণশক্তি খুব কম। একবার পড়লে দ্বিতীয়বার মনে করতে পারি না। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না, অন্যদের কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখি। নতুন কোনো জায়গায় যেমন-অফিসে, দোকানে, কারো বাসায় যেতে অস্বস্তি লাগে। ঠিকমতো গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। পড়াশোনায় অনীহা, মানসিক চাপ খুব বেশি। সারাক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকতে ইচ্ছ করে। অর্থনৈতিক সমস্যা আমাকে দারুণভাবে মর্মাহত করে। বর্তমানে আমি একজন বেকার যুবক। দয়া করে আমাকে পরামর্শ দিয়ে বাধিত করবেন।
আপনার অসুখটির নাম অবসেশন ও টেনশন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম সকালে-রাতে সেবন করুন। সাথে ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল রাতে ১টা করে খেতে থাকুন। এভাবে এক মাস খাওয়ার পর দেখা করুন।
নূরজাহান বেগম
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
আমি ৯১ সালে বিএএফ শাহীন কলেজে ১০ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বিষণ্নতা, চুপচাপ থাকা, স্বাভাবিক ঘুম না হওয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে তিনি ট্যাবলেট ‘লুডিওমিল’ দিলে ভালো হই। ৯৪ সালে বিয়ের পর এক বাসায় থাকতে খারাপ লাগত, বাইরে ঘোরা এবং সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার কারণে বিমানবাহিনী ও সিএমএইচ-এর মানসিক ডাক্তারগণ প্রথমে ডিপ্রেশন পরে সিজোফ্রেনিয়ার জন্য ট্যাবলেট ট্রিপটিন, টেলাজিন, পারকিনিল দিলে কিছুটা ভালো হই। পরে স্বইচ্ছায় পারকিনিল ছেড়ে দিলে অস্থিরতা বেড়ে গেলে ডাক্তার মেলেরিল ২৫ মিলিগ্রাম দিলে অস্থিরতা কমলেও সিদ্ধান্তহীনতা রোগ থেকেই যায়। পরে গুলশানে একজন প্রফেসরকে দেখালে একাদেশি নির্ণয় করে উপরিউক্ত ওষুধ দেন। এভাবে ২-৩ বছর চলার পর ৪ মাস হলো একজন প্রফেসর সিজোফ্রেনিয়া ভেবে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার মুহূর্তে কেমাড্রিন বন্ধ করে দিলে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় ইনজেকশন ক্লোফিক্সল আকুপেস ১০০ মিলিগ্রাম দেন। বর্তমানে অস্থিরতা কমলেও সিদ্ধান্তহীনতা, বিড়বিড় করা, ঘরের বাইরে না যাওয়া, ছেঁড়া কাপড় পরার সমস্যা আছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে সিজোফ্রেনিয়া হলে ইনজেকশনের পরিবর্তে সিজোপেন, সিজোডন ওষুধ আধুনিক আপনার ম্যাগাজিনে বলেছেন-কিন্তু দিচ্ছেন না কেন? এবং ডায়াগনোসিস কি সঠিক? কোনটি ঠিক?
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার চিঠিতে একটি সামাজিক অধিকারের কথা আপনি বলেছেন, সেটি হলো রোগীর অধিকার। আমরা মনোজগত পত্রিকায় এ ব্যাপারটা নিয়েই অনেক সময় আলোচনা করি। প্রথমে আপনার অসুখটি চিঠি পড়ে সঠিকভাবে নির্ণয় করা গেল না। কতগুলো ওষুধের নাম বলেছেন তাতে জিনিসটা পরিষকার হলো না আমার কাছে। যদি অসুখটি সিজোফ্রেনিয়াই হয় তাহলে এর নতুন চিকিৎসা অবশ্যই আপনার প্রাপ্য। তবে কী ক্ষেত্রে কী জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আপনাকে কী ওষুধ দিয়েছেন তা বোঝা গেল না। সে ক্ষেত্রে সেই চিকিৎসকের মতামতই শ্রেষ্ঠ। একটি অসুখের চিকিৎসার জন্য প্রতিদিনই নতুন নতুন ওষুধ আবিষকার হচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ব্যবহারও হচ্ছে। কিন্তু ব্যবহার করব কি করব না তা নির্ভর করে চিকিৎসকের দৃষ্টিভঙ্গির ওপরে। আমাদের এ ব্যাপারে মন্তব্য করার কিছু নেই। তবে আমরা নিত্যনতুন আবিষকারের কথা পাঠকদের জানাব। আমরা মনে করি এই জানানোটা আমাদের একটি সামাজিক দায়িত্ব।
রাসেল সরদার
শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ
আমার বয়স ১৮ বছর। আমার সমস্যা গত দেড় বছর ধরে কোনো কিছু মনে রাখতে পারি না। মনোজগতের চিঠি পড়ে টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন ২টা করে খাচ্ছি। তবু বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা ও অমনোযোগিতা দূর করতে পারছি না। কিন্তু বর্তমানে লেখাপড়ার মান দেখে দুশ্চিন্তায় ভুগছি। পড়তে বসলেই সারাদিনের কর্মকাণ্ড বা বহু অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনা বা ভবিষ্যৎ প্ল্যান মাথায় আসে। ফলে মাথায় এক চিন্তা, মুখে পড়ি পড়া কিছু হয় না। আবার দৈনিক ৬ ঘণ্টা পড়ব বা এখন এক বসায় ২ ঘণ্টা পড়ব জেদ ধরলেও এক-দেড় ঘণ্টার বেশি পড়তে পারি না। জোর করেও মনোযোগ বসাতে পারি না। দয়া করে আমাকে পরামর্শ দেবেন।
আপনি টেলাজিন ট্যাবলেট-এর পাশাপাশি ট্যাবলেট ক্লোফ্রানিল ২৫ মিলিগ্রাম রাতে একটা করে সেবন করুন। এক মাস পরে ফলাফল জানাবেন।
আনিস
চট্টগ্রাম
আমার বয়স ১৮ বছর। আমি যখন নিজে নিজে কথা বলি বা কোনো বই পড়ি তখন আমার মুখে কোনো কথা আটকে না। কিন্তু যখন কোনো মানুষের সাথে কথা বলি তখন প্রায় আমার মুখে কথা আটকে যায়। পরিষকারভাবে এবং তাড়াতাড়ি কথা বলতে আমার কষ্ট হয়। আমি একটু ভীতু। ভবিষ্যতে আমাকে অনেক চাকরিতে ইন্টারভিউ দিতে হবে তাই দয়া করে এ সমস্যার সমাধান দিলে আমি খুব উপকৃত হব।
আপনার অসুখটির নাম সোশ্যাল ফোবিয়া। এই অসুখের চিকিৎসা হচ্ছে যে বিষয়ে বেশি ভয় তা বেশি বেশি করে মোকাবিলা করুন। প্রথমে কষ্ট হলেও পরের দিকে ব্যাপারটা অনেক সহজ হবে। যতগুলো ইন্টারভিউ দেয়া যায় তা মোকাবিলা করুন। দেখবেন আস্তে আস্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। সামাজিক মেলামেশা বাড়ান, আত্মবিশ্বাস বাড়ান। আপনি ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকাল বেলা চার ভাগের এক ভাগ রাতের বেলা অর্ধেক সেবন করুন।
শাহ আলম
আলকরণ, চট্টগ্রাম
মনে সব সময় দুরভিসন্ধি কাজ করে। কোনো কাজ করেও যেন শেষ হলো না। মনে ইতস্ততবোধ, সন্দেহ কাজ করে, ফলে একই কাজ বারবার করার প্রবৃত্তি। কোনো জিনিস বারবার চেক করা, কোনো চিন্তা মাথায় ঢুকলে ফেলতে পারি না। একই চিন্তা বারবার করা। সন্দেহবোধ, এছাড়া রোগভীতি, অবিশ্বাস, কোনো কিছুতে বিশ্বাস স্থাপন করতে পারি না। স্মরণশক্তির সমস্যা, তাৎক্ষণিকভাবে যে কোনো কিছু ভুলে যাই। কোনো কাজ সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিতভাবে করতে পারি না। সব বিষয়ে জড়বুদ্ধিগ্রস্ততা। কোনো কাজে সময় সচেতন হতে পারি না। কোনো কাজে ধৈর্য রাখতে পারি না। সব কিছুতে অতিমাত্রায় হতাশা। ভীষণ অন্যমনস্ক, কাজে কর্মে প্রতিটি ক্ষেত্রে। কোনো বিষয়ে দৃঢ়ভাবে মনঃসংযোগ করতে পারি না। কোনো কিছুতে আনন্দ লাগে না, বিষণ্নভাব, বিরক্তি, অনিচ্ছা। কোনো কিছুর ঝামেলা সহ্য করতে পারি না খিটখিটে বদমেজাজ। কোনো কিছুর সামান্যতম ব্যতিক্রমে ভীষণ উত্তেজিত হয়ে যাই। সামান্য ব্যাপারে টেনশন, দুশ্চিন্তা তাতে ভীতগ্রস্ততা আর হতাশা। পড়ালেখায় অত্যন্ত কাঁচা, কেউ কোনো বিষয় বারবার বোঝালেও কোনো কিছু বুঝতে বা উপলব্ধি করতে পারি না। স্বাচ্ছন্দ্যভাবে কারো সাথে কথা বলতে পারি না, লজ্জাবোধ, নার্ভাসনেস। তাছাড়া খুঁতখুঁতে স্বভাবও আছে। মেরুদণ্ডহীনের মতো অনেকটা নিজের ওপর কেউ আধিপত্য বিস্তার বা অনধিকার করলেও প্রতিবাদ করতে পারি না এবং ভীতু আর আতঙ্কগ্রস্ত হই। চাপা স্বভাব, কাউকে কিছু বলতে দ্বিধা করি। মনে সব সময় হতাশা, শূন্যতা বিরাজ করে। নিজেকে অসহায় মনে হয়। সবকিছুতেই ভীতি, শারীরিকভাবে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা, পেটের গোলযোগ, ঘাড়, পিঠ ব্যথা করে মাঝে মাঝে। মানসিক সমস্যাগুলো বংশানুক্রমিকও বটে।
আপনার অসুখটির নাম অবসেশন। এটি বিভিন্ন উপসর্গে আসতে পারে আবার বংশানুক্রমিকভাবেও হতে পারে। আপনি ট্যাবলেট ক্লোফ্রানিল ২৫ মিলিগ্রাম সকালে একটি ও রাতে একটি করে সেবন করুন। এক মাস পরে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
মোহাম্মদ ছাইসুল ইসলাম
ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক
আমার বয়স ২০ বছর। আমার কিছু ভালো লাগে না। কী করব বুঝে উঠতে পারি না। পড়াশোনা করতে ইচ্ছা করে না। পরীক্ষা খারাপ দিয়েছি তা নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। মাঝে মাঝে মরে যেতে ইচ্ছা করে। নেশা করতে ইচ্ছা করে। আমি অনার্সের ছাত্র। পড়াশোনার ব্যাপারে কোনো চিন্তা হয় না। পড়তে ইচ্ছা হয় না। পড়তে বসলে আজেবাজে চিন্তা আসে। অন্যান্য কাজ করার কথা মনে পড়ে সামান্য কিছুতেই মাথা গরম হয়ে যায়। প্রেমিকাকে সব সময় পেতে ইচ্ছা করে। সবকিছু ছেড়ে দূরে চলে যেতে ইচ্ছা করে। সন্ত্রাসী হতে এবং খুন করতে ইচ্ছা করে।
আপনার অসুখটির নাম ব্যক্তিত্বের সমস্যা। প্রচণ্ড রাগ আপনার মনে। এর বহিঃপ্রকাশ হওয়া প্রয়োজন। আপনি ক্রিকেট খেললে ফাস্ট বোলিং করতে পারেন। তাতে রাগ কমে যাবে। ফুটবল খেললে ফরওয়ার্ডে খেলতে পারেন, তাতেও রাগ কমে যাবে। এগুলো যদি কোনোটাই না করতে পারেন তবে বিভিন্ন শারীরিক ব্যায়াম করুন। রাগের সময় একশ নাম্বার পেছন থেকে উল্টো দিকে গণনা করুন। যেমন-১০০, ৯৯, ৯৮, ৯৭...এভাবে ১ পর্যন্ত। এতেও যদি রাগ না কমে তবে ট্যাবলেট মেলেরিল ২৫ মিলিগ্রাম রাতে একটা করে খেতে পারেন।



