Skip to main content

বিশ্বের নানা দেশ

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ

লিথুনিয়া

অবস্থান                    : লাটভিয়া এবং রাশিয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চলে পূর্ব ইউরোপের এই দেশটি অবস্থিত। এর সীমান্তে বাল্টিক সাগরের অবস্থান।
মোট এলাকা : ৬৫,২০০ বর্গকিলোমিটার
স্থলসীমান্ত : ১,২৭৩ কিলোমিটার।
সীমান্তবর্তী দেশ : বেলারুশ ৫০২ কিলোমিটার, লাটভিয়া ৪৫৩ কিলোমিটার, পোল্যান্ড ৯১ কিলোমিটার, রাশিয়া (ক্যালিগ্র্যান্ড) ২২৭ কিলোমিটার।
সমুদ্র উপকূলীয় ভূমি : ৯৯ কিলোমিটার।
আবহাওয়া : সমুদ্রতীরবর্তী এলাকা এবং স্থলভাগে আর্দ্র জলবায়ু, শীতকাল ও গ্রীষ্মকালে জলবায়ুর পরিবর্তন লক্ষণীয়।
প্রধান নদী : নেমুনাস, নেরিস, ভেন্টা।
উচ্চতম অঞ্চল : জুওয়াপিনস, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯৫৮ ফুট (২৯২ মিটার) উঁচু।
নিম্নতম অঞ্চল : সমুদ্রপৃষ্ঠ সমতল।
প্রাকৃতিক সম্পদ : পিট কয়লা, চাষা যোগ্য জমি।
ঐতিহাসিক পটভূমি : ১৩ শতকের মাঝামাঝি টিউটোনিক নাইটদের বিরুদ্ধে লিথুনিয়ার গোত্রগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়। জেডিমিনাস নামের একজন ডিউক লিথুনীয় রাজ্য সম্প্রসারণ করে সমা্রাজ্যে পরিণত করেন। এই সাম্রাজ্য ১৪ থেকে ১৬ শতক পর্যন্ত পূর্ব ইউরোপের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল। ১৩৮৬ সালে লিথুনিয়ার এই খ্যাতিমান ডিউক পোল্যান্ডের রাজা হন। ১৭৯৫ সালে পোল্যান্ডের তৃতীয় বিভাজনের পূর্ব পর্যন্ত এই দুটি রাষ্ট্র ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এরপরই রাশিয়া লিথুনিয়া অধিকার করে নেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়  জার্মানির অধিকারভুক্ত হয় লিথুনিয়া। ১৯১৮ সালে লিথুনিয়া স্বাধীনতা লাভ করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন দেশটিকে অধিকার করে নেয় ১৯৪০ সালে। লিথুনিয়া হচ্ছে সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের প্রথম দেশ যে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল ১৯৯০ সালের ১১ মার্চ। তবে ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরের পূর্ব পর্যন্ত এই ঘোষণা বাস্তবে রূপ নেয়নি। রাশিয়ার শেষ সৈন্যবাহিনী ১৯৯৩ সালে এদেশ ত্যাগ করে। পশ্চিম ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একত্র হওয়ার জন্য লিথুনিয়া পর্যায়ক্রমে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে উদ্যোগী হয় এবং ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ২০০২ সালে যুক্ত হয়।
জাতীয়তা : লিথুয়ানিয়ান।
জনসংখ্যা : ৩৬,০৭,৮৯৯ জন (২০০৪)।
জন্মাহার : প্রতি হাজারে ৮.৪৯ জন (২০০৪)
মৃত্যুহার : প্রতি হাজারে ১১.০৩ জন (২০০৪
গড় আয়ু : পুরুষ ৬৮.২২ বছর, মহিলা ৭৯ বছর (২০০৪)।
ধর্ম : রোমান ক্যাথলিক, লুথরান, রাশিয়ান অর্থোডক্স, প্রটেস্ট্যান্ট, ইভালগেলিকান খ্রিষ্টান, ব্যাপ্টিস্ট, মুসলিম, ইহুদি।
ভাষা : লিথুয়ানিয়ান (সরকারি ভাষা), রাশিয়ান, পোলিশ।
শিক্ষিতের হার : ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে মোট জনসংখ্যার ৯৯.৬% শিক্ষিত; পুরুষ ৯৯.৭%, মহিলা ৯৯.৬% (২০০৩)।
বসবাসকারী জাতিগোষ্ঠী : রোমান ক্যাথলিক ৮০.৬%, রাশিয়ান ৮.৭%, পোলিশ ৭%, বেলারুশিয়ান ১.৬%, অন্যান্য ২.১%।
দেশটির সরকারি নাম : রিপাবলিক অব লিথুনিয়া।
সরকার পদ্ধতি : সংসদীয় গণতন্ত্র।
রাষ্ট্রপ্রধান : প্রেসিডেন্ট।
সরকার প্রধান : প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানী : ভিলনিয়াস।
প্রশাসনিক বিভাগ : ১০টি প্রদেশ।
স্বাধীনতা লাভ : প্রথম ১৯১৮ (জার্মানির কাছ থেকে), পরে ১১ মার্চ ১৯৯০ (সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে) ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯১, সোভিয়েত ইউনিয়ন এই ঘোষণা অনুমোদন করে।
মুদ্রা : লিটাস (LTL)
রাজস্ব বাজেট : ৫.৪২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৩)।
সামরিক বাহিনী : দায়িত্বে নিয়োজিত মোট সৈন্যসংখ্যা ১২,৭০০; স্থলবাহিনী ৭৩.৫, নৌবাহিনী ৪.৫%, বিমানবাহিনী ৬.৩%, (২০০০)।
সংক্ষিপ্ত নাম : লিথুয়ানিয়া।
সড়কপথ : ৪৪,০০০ কিলোমিটার; পাকা সড়ক ৩৫,৫০০ কিলোমিটার, কাঁচা সড়ক ৮,৫০০ কিলোমিটার (২০০১)।
জলপথ : ৬০০ কিলোমিটার।
পাইপলাইন : অপরিশোধিত তেলের জন্য ১০৫ কিলোমিটার, প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য ৭৬০ কিলোমিটার (১৯৯২)।
বন্দর ও পোতাশ্রয় : বুটিনগে, কাউনাথ, কলাইপেডা।
বিমানবন্দর : ৯৬টি।
মোট দেশজ    
উৎপাদন (GDP) : ৪০.৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৩)।
মোট মাথাপিছু  
উৎপাদন : ১১,৪০০ মার্কিন ডলার (২০০৩)।
প্রধান রপ্তানি দ্রব্য : পেট্রোলিয়াম জাতীয় দ্রব্য, খাদ্য, ইলেক্ট্রনিক্স ইত্যাদি।
আমদানি দ্রব্য : কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি, শস্য, তেল।
বাণিজ্য সহযোগী    
রাষ্ট্রসমূহ : রাশিয়া, ইউক্রেন, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ।

লুক্সেমবার্গ

অবস্থান                   : পশ্চিম ইউরোপে অবস্থিত। ফ্রান্স এবং জার্মানির মধ্যবর্তী অঞ্চলে এর অবস্থান।
মোট এলাকা : ২,৫৮৬ বর্গকিলোমিটার।
স্থলভাগ : ২,৫৮৬ বর্গকিলোমিটার।
জলভাগ : শূন্য (০) বর্গকিলোমিটার।
স্থলসীমান্ত : ৩৫৯ কিলোমিটার।
সীমান্তবর্তী দেশ : বেলজিয়াম ১৪৮ কিলোমিটার, ফ্রান্স ৭৩ কিলোমিটার, জার্মানি ১৩৮ কিলোমিটার।
সমুদ্র উপকূলীয় ভূমি : শূন্য (০) কিলোমিটার।
আবহাওয়া : মৃদু শীতকাল ও উষ্ণ গ্রীষ্মকালসহ পরিবর্তনশীল মহাদেশীয় আবহাওয়া।
প্রধান নদী : আটার্ট, আল জেটে, মোসেরে, সুর।
উচ্চতম অঞ্চল : বার্গপ্লাজ, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,৮৩৫ (৫৫৯ মিটার) উঁচু।
নিম্নতম অঞ্চল : মোসেলে নদীর নিকট সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩৫ ফুট (১৩৩ মিটার) উঁচু।
প্রাকৃতিক সম্পদ : আকরিক লৌহ, কৃষি উপযোগী ভূমি।
ঐতিহাসিক পটভূমি : রোমের অধিকারের সময় (৫৭-৫০ খ্রিষ্টপূর্ব) লুক্সেমবার্গে বেলজীয় উপজাতির বাস ছিল। এরপর একে একে নানা জাতির অধিকারে চলে যায় দেশটি। যেমন ৪০০ খ্রিষ্টাব্দের পর জার্মান গোত্র অধিকার করে। এরা এখানে ডিউক শাসিত সামন্ত রাজ্য গঠন করে ১৩৫৪ সালে। ১৪৪৩ সালে বার্গান্ডি এবং ১৪৭৭ সালে হাবসবুর্গদের অধিকারে চলে যায় লুক্সেমবার্গ। লুক্সেমবার্গ ১৮১৫ সালে বৃহৎ ডাচ রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং নেদারল্যান্ডসের স্বাধীন রাজ্যে পরিণত হয়। ১৮৩৯ সালে লুক্সেমবার্গ বেলজিয়ামের কাছে অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চল হারালেও অনেক বেশি স্বায়ত্তশাসন লাভ করে। পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করে ১৮৬৭ সালে। দুই বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি কর্তৃক বিধ্বস্ত হওয়ার পর ১৯৪৮ সালে যখন বেনিলাক্স কাস্টমস ইউনিয়ন এবং পরবর্তী বছর ন্যাটোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় দেশটি তখন তার নিরপেক্ষতা হারায়, ১৯৫৭ সালে ইউরোপীয় ইকোনোমিক ইউনিয়ন (পরবর্তীকালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন)-এর ৬টি দেশের একটি দেশরূপে নিজের অবস্থান করে নেয়। ১৯৯৯ সালে দেশটি ইউরো মুদ্রায় প্রবেশ করে।
জাতীয়তা : লুক্সেমবার্গার।
জনসংখ্যা : ৪,৬২,৬৯০ জন (২০০৪)।
জন্মহার : প্রতি হাজারে ১২.২১ জন (২০০৪)।
মৃত্যুহার : প্রতি হাজারে ৮.৪২ জন (২০০৪)।
গড় আয়ু : পুরুষ ৭৫.৩১ বছর, মহিলা ৮২.০৭ বছর (২০০৪)।
ধর্ম : রোমান ক্যাথলিক ৮৭%, প্রটেস্ট্যান্ট, ইহুদি এবং মুসলিম ২৩% (২০০০)
ভাষা : লুক্সেমবার্গিস (জাতীয় ভাষা), জার্মান এবং ফ্রেঞ্চ (প্রশাসনিক ভাষা)।
শিক্ষিতের হার     ঃ     ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে মোট জনসংখ্যার ১০০% শিক্ষিত; পুরুষ ১০০%, মহিলা ১০০%।
বসবাসকারী জাতিগোষ্ঠী : কেল্ট সম্প্রদায় (ফ্রান্স এবং জার্মানদের মিশ্রণসহ) পর্তুগিজ, ইটালিয়ান দাস (মন্টেনিগ্রো, আলবেনিয়া এবং কসোভো থেকে) এবং ইউরোপীয় (স্বদেশী ও ভিনদেশী শ্রমজীবী)।
সরকার পদ্ধতি : সাংবিধানিক রাজতন্ত্র।
রাষ্ট্রপ্রধান : গ্রান্ড ডিউক।
সরকার প্রধান : প্রধানমন্ত্রী (প্রেসিডেন্ট অব দি গভর্নমেন্ট)।
রাজধানী : লুক্সেমবার্গ।
প্রদেশ : ৩টি জেলা: ডায়েকিরচ, ড্যারবেন মার্চার, লুক্সেমবার্গ।
স্বাধীনতা লাভ : ১৮৩৯ সালে (নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে)।
মুদ্রা : ইউরো।
রাজস্ব বাজেট : ১১.৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৩)।
সামরিক বাহিনী : দায়িত্বে নিয়োজিত মোট সৈন্যসংখ্যা ৮৯৯ জন; স্থলবাহিনী ১০০% (২০০০)।
রেলপথ : ২৭৪ কিলোমিটার।
স্থলপথ : ৫,১৬৬ কিলোমিটার।
জলপথ : ৩৭ কিলোমিটার (মোসেলের দিকে)।
পাইপলাইন : পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থের জন্য ৪৮ কিলোমিটার।
বন্দর ও পোতাশ্রয় : মারটারট।
বিমানবন্দর : ২টি (২০০২)।
মোট দেশজ    
উৎপাদন (GDP) : ২৫.০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৩)।
মোট মাথাপিছু  
উৎপাদন : ৫৫,১০০ মার্কিন ডলার (২০০৩)।
প্রধান রপ্তানি দ্রব্য : আকরিক লৌহ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক, ইসপাতের দ্রব্যসামগ্রী।
আমদানি দ্রব্য : খাদ্য, যন্ত্রপাতি।
বাণিজ্য সহযোগী    
রাষ্ট্রসমূহ : ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম এবং যুক্তরাষ্ট্র।