Skip to main content

মনের জানালা

‘মা’
মা আমরা সারাজীবনই ভালোবাসার সর্বোচ্চ আসনে তোমাকে বসিয়ে রাখি। যা জন্ম থেকে জন্মান্তর। আর আজও বর্তমান। মা নারী জাতির অপর নাম সন্তানের জননী। আর জননী হয়ে কতই না কষ্ট করে আমার মতো সন্তানকে মানুষ করেছ। মা আমি বলব না তোমার জন্মদানে কোনো ভুল ছিল। ভুল ছিল শুধু সঠিক সিদ্ধান্তের। তার চেয়েও বড় হিংস্রতাস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের বর্তমান সমাজ। সমাজ যে আজ এতই নিচে নেমে গেছে যা নতুন প্রজন্মের জন্য হুমকিস্বরূপ। আর এই সমাজের সাথে মিশতে গিয়ে অনেক নিচে নেমে গিয়েছিলাম। আর আমার এই অশোভন আচরণের জন্য বড়ই বকতেন মা। আর আমি কান পেতে শুনে নিতাম। জড়িয়ে ধরে বলতাম মা ক্ষমা করো। আর হবে না। তুমিও বলতে দুষ্ট ছেলে ভালো হয়ে চলো। মা আজ আমি সেই দিনগুলো থেকে অনেক দূরে। আজ আর আমি তোমার ছোট খোকা নই। মা তুমি বলেছ, গতকালই তোর মুখে আমি খাবার তুলে দিয়েছি। আমি বলছি অনেক বড় হয়ে গেছি এখন। আজ বাইরের জগতে চলতে গিয়ে বুঝলাম জীবন যে কত যন্ত্রণার। এক একটা মুহূর্ত এক একটা সংগ্রাম-সাধনা। আর এই সংগ্রামমুখর এভিনিউতে শুধু বাঁচার জন্য লড়াই। জীবনকে বাঁচাতে গিয়ে আজ মনে হয় মা তোমাকে অনেক দূরে ফেলে এসেছি। সারা দিনের মধ্যে একবারও মনে পড়ে কিনা জানি না। আর ছোটবেলায় একটু আড়াল হলেই পাগলের মতো খোঁজাখুঁজি করতে। জড়িয়ে ধরে আদর করতে। আজ মা তোমার দেখার মতো মন আমার তেমন একটা হয় না, জানি না কী তার কারণ। বছর ছয় মাঝে তোমার সাথে এক-দুইবার দেখা হয়।
 
মা তোমাকে পড়তে গিয়ে আজ আমার বড় কষ্ট হচ্ছে। ভিজে যাচ্ছে অশ্রুজলে দু নয়ন। ছোটবেলার সমস্ত স্মতি চোখে ভাসছে। শৈশব-কৈশোর-তারুণ্যের সময়টুকু তোমার কাছে থেকেই কেটেছে। এত দিনের আদরমাখা সোহাগ, রাগভরা বকুনির মাঝেও কখনো তোমাকে দূরে থাকতে দিইনি। আর সামান্য কদিন তোমার কাছ থেকে দূরে থেকে যেন মা তোমার এবং তোমাদের সবার থেকে অনেক দূরের হয়ে গেছি। যে সময় আমার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে গুরুত্ব দিইনি সেই সময় তুমি আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছ। বলেছ বাবা তোমার এটাতেই মঙ্গল। মা আজ নিজের বুদ্ধিতে যা বুঝি তা নিজের ভালোর জন্য বুঝি। মা এটুকু বুঝতে গিয়ে আসলেই তোমায় ভুলে গেছি। মা আজ এই বাস্তবতার রাজপথে প্রত্যেকেই নিতান্ত একা। মনে হয় আজই সকল দুঃখকে বরণীয় বলে মেনে নিতে হবে। উপভোগ করছি বাস্তবতাকে। মা তুমিই বলেছিলে, তোমার শ্রম সাধনাই তোমাকে জগতে প্রতিষ্ঠিত করে তুলবে। কোনো কাজকে অবহেলার চোখে দেখো না। কাজকে কখনো নিচু চোখে দেখি না। সুখ-দুঃখকে আজ নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গই বুঝি। মা আমি আগুনে পুড়ে দেহকে তৈরি করছি। আসলে আবেগ আর বাস্তব এক নয়। বাস্তব বড় কঠিন। জীবনকে ভালোবাসতে গিয়ে বড় স্বার্থপর হয়ে গেছি মা। বাইরের আরও দশজনের খবর রাখি না। মা এই জন্য আমাকে ক্ষমা করো। এই ক্লান্তিহীন জীবনটাকে চাইতে গিয়ে আজ সিক্ত দেহটাই ঝরে যাচ্ছে। সবই যেন কেমন করে পড়ে পড়ে যায়। তবুও মা পেছনে তাকাচ্ছি না। সামনের সুন্দর মনোরম উদ্যানই অভীষ্ট লক্ষ্য। মা জান, গহিন অরণ্য কেমন করে তার চরিত্রকে হারিয়ে ফেলে, শুধু বাঁচার জন্য লড়াই করে মাথা উঁচু করে উপরের দিকেই ওঠে। মা ঠিক তেমনি আমার মতো আরো কিছু লোক এতটুকু সুখ আর মুক্ত স্বাধীন জীবনের আশায় মাথা তুলে উপরের সিঁড়িতেই পা দিচ্ছি।

সত্যি বড় কষ্ট হয় মা এমন একটা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত আমি। একটু বেশি চাইতে গেলে মনে হয় আমার সমস্ত সমাজটাকেই বিক্রি করে দিচ্ছি। আর এই পরিবারকে চাইতে গিয়ে আজ আমায় বাঁধা অবস্থায় চলতে হয়। তোমার সাথে কথা বলতে গিয়ে যতবার মা বলে ডেকেছি জানি না আমার এই কর্মজীবনে তোমাকে ততবার মা বলে ডেকেছি কি না। তবুও তোমায় পৃথিবীর সকল নারীর চেয়ে বেশি ভালোবাসি। মা আমার ভালোবাসা আর ভালো লাগার মধ্যে তোমাকেই যেন পাই। শেষ সময়ে আমার ভেজা নয়নে তোমার পদতলে আমার সালাম।

মো. ফরহাদ আহমদ চৌধুরী
গুলশান, ঢাকা
ফোন: ০১৮১৫-২৯৩৯৫৯


সব প্রেম সুখের হয় না
তুমি লাল গোলাপের পাপড়িতে প্রেম ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলে, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মধ্যে ভয় পুষে রেখেছিলে। আমি তোমার অন্তরে বপন করতে চেয়েছিলাম লাল গোলাপের চাপা, পারিনি তোমার একগুঁয়েমির জন্য, তোমারই কারণে হয়ে ওঠেনি আজ অবধি। ভালোবাসার সেই তৃষ্ণা আমার মধ্যে এখনো রয়েছে। তোমাকে ভালোবেসেছিলাম কিন্তু জয় করতে পারিনি, ভালোবাসার জন্য উভয়ের মন প্রাণ এক হওয়া চাই। মন আর মানুষের বদলে প্রেম এখন টাকায় বিক্রি হয়। প্রেম কুমার, তুমি আমাকে ছেড়ে সুখী হতে পারোনি। তোমার চুলগুলো কেমন উদাসী হাওয়ায় দোল খায়। তোমাদের বাড়ির পাশে বহমান খরস্রোত নদী এখন মৃতপ্রায়। বিষণ্ন বদনে তুমি চেয়ে থাক দূরে বহুদূরে। তোমার দুঃখটা আমার অন্তরে খুব বেশি আঘাত করে তোমাকে দেখে আমি এখনো মুগ্ধ হই।

উন্মাদের মতো তোমার সান্নিধ্যে ছুটে যাই। তোমাকে দেখেছি, বুঝেছি, ভালোবেসেছি, এখনো তুমি নাকি নারী দেখলে খুব ভয় পাও, নারীর মিথ্যাচারে তোমার বুক আজ ক্ষতবিক্ষত। এখন তুমি যেন ‘ঘর পোড়া গরু’ তোমার জীবনে অন্য নারীর আবির্ভাব আতঙ্কিত এক অধ্যায়। পুষ্পরাজ্যে ডুবিয়ে রাখবে বলে যে নারী তোমাকে আশ্বাস দিয়েছিল সে আজ অন্যত্র ঘর বেঁধেছে।

প্রেম কুমার! তুমি এখনো ভুল করছ, সত্যিকারের ক্ষেত্র চিনতে পারোনি। একটু আমার দিকে চেয়ে দেখ তোমার অপেক্ষায় এখনো আমি নিদ্রাহীন। আমার হাতটি শুধু একটিবার ধরো, ধন দৌলত দিয়ে সুখ শান্তি কেনা যায় না। আমি তোমাকে জনম জনম ধরে চিনে এসেছি, প্রেম কুমার আজ জ্বলজ্বল চোখে তাকিয়ে দেখ তুমি শান্তি ফিরে পেয়েছ। আমার সমস্ত প্রেম-ভালোবাসা তোমার অভ্যন্তরে ঢেলে দিতে চাই। তোমার অন্তরে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হোক। আজ মুছে যাক অন্তরের সব দুঃখ-শোক। প্রেম কুমার, আসলেই সব প্রেম সুখের হয় না, পৃথিবীতে সবকিছু নিজের মতো করে পাওয়া যায় না।

কানিজ রোকসানা মুক্তা
চাটখিল, নোয়াখালী
ফোন: ০১৯১৯-৪৭১২১৭


স্বাধীনতা দেখিনি
আমি স্বাধীনতা দেখিনি
কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের ভিক্ষা করতে দেখেছি।
আমি স্বাধীনতা দেখিনি
কিন্তু হাজার মায়ের চিৎকার শুনেছি
প্রিয় সন্তানের জন্য।

আমি স্বাধীনতা দেখিনি
কিন্তু আজও অপেক্ষা করতে দেখেছি
হাজার নারীর স্বামীর জন্য।

আমি স্বাধীনতা দেখিনি
কিন্তু স্বাধীন পতাকার অসমমান দেখেছি
স্বাধীন পতাকার আর্তনাদ শুনেছি।

আমি স্বাধীনতা দেখিনি
কিন্তু এসিডদগ্ধ নারী দেখেছি
আত্মহত্যা করতে দেখেছি ধর্ষিতাকে।

আমি স্বাধীনতা দেখিনি
কিন্তু যৌতুক অভিশাপে জর্জরিত, নির্যাতিত
পবিত্র নারী দেখেছি।

আমি স্বাধীনতা দেখিনি
কিন্তু রাস্তার ফুটপাথে ঘুমাতে দেখেছি
শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে।

আমি স্বাধীনতা দেখিনি
কিন্তু দেখেছি ধর্ম নিয়ে টানাটানি
দলে দলে বিভেদ কলহ।

আমি স্বাধীনতা দেখিনি
তাই আজ স্বাধীনতার কাছে প্রশ্ন
বলে যাও আবার সবার হৃদয়ে
কী ছিল স্বপ্ন তোমার বাংলাকে নিয়ে?

মনির
ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়
ধানমন্ডি, ঢাকা
ফোন ঃ ০১৭৫১-২১৯৩২৮


বহুদিন ভালোবাসাহীন
মাঝে মাঝে নিজেকে বড় একা লাগে। মনে হয় সবই আছে, তবু যেন কী নেই। তখন বুকের গহিনে শূন্যতার ঢেউ ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়। নির্জন দুপুরে কিংবা সন্ধ্যায় যখন একা একা পথ হাঁটি, কত যে এলোমেলো কথা আর পুরনো দিনের স্মৃতি মনে পড়ে। তখন সবটুকু মনজুড়ে নিঃসঙ্গতা ভর করে। কিন্তু আজকাল এই নিঃসঙ্গতাকেই বড় ভয় পাই। জীবনে যদি বসন্ত না আসে তাহলে প্রেমের কবিতা লিখে কী হবে? ঢাকা শহরে কেউ হয়তো একা থাকে না। কিন্তু এই শহরে কেউ কারো খোঁজ রাখে না-না সুখে বা দুঃখে। জীবন তবু চলে যায় আপন খেয়ালে। আমার একাকিত্ব তবু কাটে না। প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি নিলে জীবন যেন স্থবির হয়ে পড়ে, সেখানে সূর্যের আলো পড়ে না কোনোদিনই। হৃদয় জমিন তবু প্রতীক্ষায় থাকে কোনো এক শুভ দিনের। কিন্তু বসন্তও আসে না, কোকিলও ডাকে না কুহু কুহু। কেবলই শহরজুড়ে কাকের কর্কশ কা-কা। সেটা কি আর মন ভেজায়? নিঃসঙ্গতা তবু কাটে না। কত দিন প্রতীক্ষায় থেকেছি, আমার যদি সুন্দর মনের একজন বন্ধু থাকত, সে দেখতে কালো বা শ্যামলা হোক, তবু মনটা সুন্দর। তাহলে হয়তো মনের সব সুপ্ত কথামালা খুলে দিতাম তাকে। তেমন কারো দেখা পেলাম না আজও। আজ কেবলই মনে হচ্ছে-বহুদিন ভালোবাসাহীন। বহুদিন উথালপাথাল মেঘহীন হৃদয়জমিন। বহুদিন পড়েনি কোনো হাত কপালে, ভালোবাসার, স্বপ্ন দেখার। বহুদিন একা একা জীবনের দীর্ঘ পথে ছন্দহীন। জীবনে হয়তো বসন্ত আসে না কোকিল ডেকে, সরবে বা নীরবে। তবু দিন যায়, রাত যায়। স্বপ্ন ও সম্ভাবনা পাশাপাশি চলে। বহুদিন ভালোবাসাহীন...।

হিমেল
পান্থপথ, ঢাকা
ফোন: ০১৭১৭-৭২৫৮৬১


ঘাড় ত্যাড়া তবুও...২
হ্যাঁ, নভেম্বর ২০০৯ সংখ্যায় (ঘাড় ত্যাড়া তবুও) প্রিয় আমার ছোট ভাইকে উদ্দেশ করে আমার আবেগ, অনুভব, অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়েছিলাম। ভাই তুই তখন এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলি সেই আনন্দে আমরা উদ্বেলিত হয়ে গিয়েছিলাম। তুই তো জানিস তোর ভাইটার প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও সে কিছুই করতে পারেনি। তোকে নিয়ে তোর ভাইটির অনেক বড় আশা। এই মাসেই (৫ এপ্রিল ২০১১) তোর এইচএসসি পরীক্ষা। তোকে নিয়ে আমার অনেক চিন্তা হয় ভাই।

আমি জানি তুই আমাকে মোটেও সহ্য করতে পারিস না। কারণ তোকে সব সময় গাইড দিই, সাথে নজরে রাখি। আধাআধি পড়াশোনা করার থেকে মোটে না করা অনেক ভালো আর তাই তো আমি চাই আমার ভাইটি আমার মতো না হয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হোক, মানুষের মতো মানুষ হোক। ভাই তুই জানিস না তোর ব্যথায় তোর এই ভাইটি ব্যথিত হয় যেমন, তেমনি তোর যে কোনো সাফল্যেও সব থেকে বেশি খুশি তোর এই ভাইটির থেকে বোধহয় কেউ হয় না।

সামনে তোর পরীক্ষা। আল্লাহর নিকট আমার প্রার্থনা থাকবে তুই যেন তোর স্বপ্নের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে আমাদের মুখে আবারও হাসি ফোটাতে পারিস। আমাকে ভুল বুঝিস না, নিজে সব দিক দিয়ে বঞ্চিত বলেই আমি চাই আমার ভাইটির দ্বারা সবকিছুর পূর্ণতা পেতে। কারণ তুই যে আমাদের অনেক বড় আশার প্রদীপ। ভাই, তোর এই ভাইটি তার নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসে তোকে। তাই তোকে নিয়ে তার প্রত্যাশাও আকাশছোঁয়া। তোর সামনের পরীক্ষাগুলো ধাপে ধাপে ভালো হোক, আমাদের মনকে আলোকিত করুক সেই সত্য প্রত্যাশায় তোর শত্রু ভাইটি...।

মো. মাহমুদ হাসান (সোহেল)
বানারীপাড়া, যশোর
ফোন: ০১৯১১-৯২৫১৯৯


আপনার চেয়ে আপন যেজন!
আমার অনেক ইচ্ছা করে চিঠি লিখি। প্রিয়জনের মন ভরিয়ে দিই। প্রিয়জনদের প্রাণের রস উজাড় করে দিয়ে বলি বড্ড বেশি ভালোবাসি। কিন্তু প্রিয়জন খুঁজতেই কাকে লিখব বুঝে উঠতে পারি না। নাকি ডোবা ভালোবাসা ব্যক্ত হতে চায় না প্রিয়জনের মাঝে। কে নেই আমার, জন্মদাতা বাবা-মা থেকে শুরু করে ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, অফিস কলিগ সবই আছে। হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা, সব আস্থা যার নিকট রাখা যায় সেই নীল প্রজাপতিও আছে। তবুও ব্যক্ত কথাগুলো অব্যক্ত থাকে। কোথাও যেন প্রাণ খুঁজে পাই না। সত্যিই কি তবে আমার প্রিয়জন নেই। আমার হৃদয়ের উদগীরিত লাভার মতো যে কষ্ট প্রতিনিয়ত বৃষ্টির ন্যায় ঝরছে তা আমি ছাড়া আর কে জানে। আমার ডোবা কষ্টগুলো পাথর হয়ে জমা থাকতে চায় জন্ম থেকে জন্মান্তরে।

কত দুরন্তপনায় ছিল আমার মনটা। গোলাপের পাপড়ি ছেঁড়া, নাম না জানা কত কত ফুল দিয়ে চিঠির খাম ভরিয়ে দেয়া, কালো অন্ধকার রাতে জোনাকির সাথে গল্প বলা, তারাদের মিলনমেলায় কবিতা শোনা, দুরন্তপনার ঢেউগুলোর মতো চৈত্রের দুপুরে দৌড়াদৌড়ি, পাখিদের কলকাকলির মতো কথা বলা, সকালের শিশিরের ন্যায় শুভ্রতায় ছেয়ে থাকা, সবই ছিল আমার জীবনে। রাঙা বধূর হাসির মতো হাসি ছিল আমারও। ভালোবাসা ছিল বর্ষার জলের মতো কানায় কানায় ভরা। রাতভর চিঠি লিখেছি হৃদয়ের সব রঙ মাখিয়ে প্রিয় যেন প্রিয়তমা হয়, প্রিয়জন হয়। সময়ের ব্যবধানে আজ আমি ঐশ্বর্যবান রাজার মতো, যে রাজা অধিক শোকে পাথর। ডোবা ভালোবাসা, ভালো লাগার একটি চিঠি লেখার প্রিয়জন খুঁজে পায় না। কেউ প্রিয় হতে প্রিয়তমা হয় না।

কত দিন পথের ধারে ঘুমিয়ে থাকা সুখী লোকদের মতো ঘুমাতে পারি না, আহা! কত সুখেই না থাকে তারা, যারা ঘুমাতে পারে। কত দিন একটা লেখা লিখা হয় না মাধুরী মিশিয়ে। কীভাবে লিখব? কাকে লিখব? আর কেনইবা লিখব প্রশ্নগুলো বারবার চলে আসে। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে রাতে যখন ঘরে ফিরি চাতক পাখির ন্যায় চেয়ে থাকি বিছানার দিকে। শুধু এই চেয়ে থাকা আমার।

যে আমাকে নীল স্বপ্ন, সবুজ স্বপ্ন স্বপ্নের রাজা বানাবে বলে স্বপ্নের স্বর্গ দেখাত, স্বপ্নের চূড়ায় বসিয়ে আমাকে সুখী করত, সে নাই যে। সে চলে গেছে স্বপ্ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি সুখী হবে বলে। সে স্বপ্নের রাজা বানিয়েছে অন্য একজনকে, আমাকে অব্যক্ত রাজা বানিয়ে। তাই আর লিখতে ইচ্ছা হয় না। গাছের গোড়া কেটে উপরে পানি ঢালার মতো অবস্থা আমার।

সময়ের ব্যবধানে দূরত্ব বেড়েছে, যাদের সাথে কেটেছে অলস দুপুর, অনেকটা সময়। সবাই যে যার মতো ভালো থাকছে। পরিকল্পনা করছে ভালো থাকার। আমি সেই এলোমেলো আছি পাক খাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের মতো। যার ধ্বংস আছে গতি নেই, সিদ্ধান্ত নেই, পরিকল্পনা নেই, স্বপ্ন নেই। নেই নেই শুধু। মাঝে মাঝে পাথর গলে বালিশ ভিজে যায়, ইচ্ছা করে কোনো এক না ফেরার দেশে চলে যাই। যেখানে ভালোবাসলে ঠকতে হয় না,  জেতা যায়। মাঝে মাঝে আমার ভীষণ ইচ্ছা হয় আমি জয়ী হবই হব। হই না, পারি না। মা-বাবা আছে যে। আমি আমার মা-বাবাকে এই এক পৃথিবীর চেয়ে বিলিয়ন বিলিয়ন বেশি ভালোবাসি। জয়ী হওয়া হয় না আমার।

কত জন জানতে চায় কেন আমি লিখি না। কবে আবার লেখা পড়বে। আমি কাউকে কিছুই বলতে পারি না। সাদা মেঘের ভেলায় ভাসছি আমি অবিরত, কী জানাব? পেনডুলামের মতো দুলছি, কোনো ঠিকানা নেই, অস্থিরতাকে পৌঁছে দেয়ার। মনোজগত তোমার নিকট আমার সকল দুর্বলতা। শেষ বিকেলে মিষ্টি রোদের মতো হেসেছিলাম শুধু তোমার কারণে। শুধু তোমার কারণে যে অপরিসীম ভালোবাসা, সুখ পেয়েছি কেউ দিতে পারেনি আর পারবেও না। ‘স্মৃতি তোমারে দেব না ভুলিতে’ ‘রাত্রির কালো অন্ধকারে আমি স্বপ্ন’ ‘যেন সর্বান্তকরণে ভালোবাসে’ সবই শিরোনাম। মনোজগত, শুধু তোমার কারণেই আমার অব্যক্ত কথাগুলো প্রকাশ করতে পেরেছি। তোমাকে কি ভুলতে পারি বল? আপনার চেয়ে আপন যেজন তাকে ভোলা যায় না কখনোই।

নাহিদ হাসান (রাসেল)
গাজীপুর
ফোন: ০১৭২৫-০৭৩০৮০


অগোছালো স্বপ্ন নীড়
আমরা কয়েকজন দলছুট যুবক অমাবস্যা রাতে গেলাম সাগর দেখার জন্য। আকাশে তারা দেখব আর সাগরে ঢেউয়ের গর্জন শুনব। বেশ আনন্দ নিয়ে রাতের সাথে মিতালি করব, করলামও তাই। রাতের স্বপ্নগুলো থাকে আঁধারে আর দিনের স্বপ্নগুলো চার দেয়ালের বন্দিঘরে। অথচ মা-বাবা নাম রেখেছেন স্বপ্নীল। স্বপ্নীল নামের ছেলেরা স্বপ্নবাজ হয় ধারণা ছিল কিন্তু তা যে দুঃস্বপ্ন নিয়ে এমন কল্পনা করিনি।

বারবার শুধু দুঃস্বপ্ন দেখেছি। দুঃস্বপ্নের মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে দিয়েছি। কল্পনার অতীত ছিল প্রিয়াঙ্কাকে জীবন থেকে হারাব। নিজের কোনো দোষ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। নিজের অনুসন্ধিৎসু বিবেক অন্ধ হয়ে গেছে কোনো এক আবেগী প্রেমের বন্ধনে। সব স্বপ্ন উজাড় করে দিয়েছিলাম রক্তজবাকে। জবা ফুল রক্তের রঙে রক্তাক্ত হয়ে রক্তক্ষরণ করবে হৃদয়ে জানা ছিল না, মধ্যরাতে নির্ঘুম রাতাতিপাত করে প্রলাপ বকি, আমি তোমাকে ভালোবাসি, বুড়ি আমি তোমাকে ভালোবাসি।

আমার ভালোবাসা ছিল ব্যক্তি স্বাধীনতার নিচে, বুড়িকে (প্রিয়াঙ্কা) কখনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাবিনি। নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করিনি সামান্য। ইচ্ছামতো স্বাধীনতা দিয়েছি, আমি তার অভিভাবক হতে চাইনি কখনো। আমার এ উদারতা আমার জন্য কাল হলো ভাবতে খারাপ লাগে বেশ।

মানুষ পরিবর্তন হয় জানা ছিল। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের মন-মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন ঘটে। পরিবর্তন ঘটে প্রকৃতিতে। বদলে যায় আচার-আচরণ, সবকিছু বুঝেও মাঝে মাঝে বুকের মধ্যে শূন্যতা অনুভব করি। যে শূন্যতার পাশে আছে ক্ষত আর অতৃপ্তি। কত স্বপ্ন দেখাল সে শিশিরভেজা নরম ঘাসের ওপর হেঁটে যাব, বৃষ্টিতে ভিজব, হারিয়ে যাব অজানা, অচেনা দিগন্তে, যেখানে থাকব তুমি, আমি আর আমাদের সোনালি স্বপ্ন, হোক না কুঁড়েঘর, ভালোবাসা যে আমাদের সঙ্গী।

সব স্বপ্ন আজ বিরহের অনলে জলাঞ্জলি দিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে আর শেষ করে দিচ্ছে আমার অস্তিত্ব, অনুভবের গোলকধাঁধায় আমি বিলীন হয়ে যাচ্ছি। অনুভূতিতে দেহে আর শিহরণ জাগে না, মনের আকাশ সব সময় মেঘাচ্ছন্ন থাকে। বৃষ্টি হয় আর সেই বৃষ্টি বন্যা হয়ে বুকের দুকূল ভাঙে। আমি অনুভব করি অস্তিত্বহীন মানবের মতো।

অথচ আমি কিন্তু এমন ছিলাম না। স্বপ্ন দেখতাম, স্বপ্ন দেখাতাম, সত্য আর সুন্দরের স্বপ্ন, সৃষ্টিশীল স্বপ্ন, মনের গহিণ কোণে ধারণ করেছি একটি সত্য বাক্য ‘যার স্বপ্ন যত বড় সে মানুষটাও ঠিক তত বড়।’ আমার স্বপ্ন ছিল আকাশের মতো বিশাল।  ইচ্ছা ছিল সব স্বপ্নহীন মানুষ আমার নিচে আশ্রয় নেবে, আমি তাদের বুকে স্বপ্নের বীজ বুনব, কিন্তু আজ সব হারিয়ে গেছে।

এখন আমার স্বপ্ন আবর্তিত হয়- ণ, এ, অ-এর মাইনাস, ভাবনা, টেনশন, কুলি আর পিক-আপ লেবারকে ঘিরে। অন্ধকারের স্বপ্নগুলো হারিয়ে গেলে যন্ত্রের যান্ত্রিকতায় আর আমি আছি কষ্টের দুঃখের হতাশায়। দোষ দেয়ার জন্য কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না, সবকিছু যে পরিবর্তনশীল।

হিমাদ্রী হিমু
পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম
ফোন ঃ ০১১৯০-৩৮৩২২৬


মনের মতো বন্ধু চাই
এই বিশ্ব পরিমণ্ডলে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে যার জীবনে কোনো দিন প্রেম আসেনি। প্রেম সবার জীবনেই কোনো এক লগ্নে আসে। টমাস মিল্টন বলেছিলেন-ভালোবাসা এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে সব শ্রেণীর লোকই দাঁড়াতে পারে। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। আমার হৃদয় আঙিনাতেও একদিন প্রেমের জোছনা ঢুকেছিল। জোছনার আলোতে আলোকিত হয়েছিল আমার হৃদয় বাগান। সেই হৃদয় বাগানে রোপণ করতে চেয়েছিলাম এক গোলাপ বৃক্ষ। হৃদয়ে তৈরি করতে চেয়েছিলাম তাজমহল। কিন্তু আশা যেন গুড়ে বালি। বালির বাঁধের মতো সবকিছু তছনছ হয়ে গেল। এক কালবৈশাখী ঝড় এসে সব স্বপ্ন কেড়ে নিয়ে গেল আর দিয়ে গেল নিঃসঙ্গ নামক একটি বৃক্ষ। যে বৃক্ষটিকে পরিচর্যা করতে করতে এখন আমি বড়ই ক্লান্ত। নিঃসঙ্গ জীবনটা যেন কাফনে জড়ানো একটি জীবন্ত লাশ। এই কষ্ট ও কাফনে জড়ানো জীবন ঝেড়ে ফেলে নতুন একটি প্রাণের ছোঁয়া পেতে চাই। চাই শিশিরভেজা কোনো এক সকাল। তুষার বরফে আর নিজেকে ঢেকে রাখতে চাই না। বসন্তের কোকিলের কুহুকুহু ডাক শুনতে চাই। অতীততে ভুলে বর্তমানকে নিয়ে বাঁচতে চাই। কবির ভাষায়-‘এখন যৌবন যার এগিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত সময় তার।’ বিশ্ব চরাচরে প্রায় ৬,৮৯২ মিলিয়ন লোকের মাঝে আমিও একজন। কম-বেশি সবাই স্বপ্ন দেখে। কেউ দেখে ঘুমের ঘোরে আবার কেউ দেখে জেগে। আমিও রক্তে, মাংসে গড়া একজন মানুষ। আমারও একটা সুন্দর হৃদয় আছে। এই সুন্দর হৃদয়ে উদার মনের একজন মানুষ চাই। যার সাথে জীবনের সুখ, দুঃখ, আনন্দ ও বেদনা ভাগাভাগি করব। সুন্দর এই হৃদয়ে আরো পাঁচজনের মতো আমিও স্বপ্ন দেখি। আমার স্বপ্ন হচ্ছে সহজ সরল একটি মুখ। যে মুখে থাকবে না প্রতিহিংসার অসহ্য বুলি, যে চোখে থাকবে না ঝাঝালো কদর্য দৃষ্টি, যে ঠোঁটে থাকবে না মরুভূমির তপ্ত সাহারা। যার হাসিতে মুক্ত ঝরবে, তার ঠোঁটের কোণায় থাকবে বিন্দু বিন্দু হাসির রেশ। নিয়তির এই নিরন্ত সংগ্রামে এক বিচিত্র বিশ্ব গড়ব তার মাঝে, রচিব শান্তির এক কুঞ্জ। যেথায় রাখব তাকে তিলোত্তমা করে। এখন কেবল এমন কারো অপেক্ষায় আছি যে আসবে আমার স্বপ্নের রাজ্যের প্রেম হয়ে।

মো. মিজানুর রহমান
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ফোন ঃ ০১৭২০-২৫৮৪২৯


হ্যাঁ, তোমাকে বলছি...
হ্যাঁ আমি অনুতপ্ত, ভীষণ রকম অনুতপ্ত। আমি যে ধরনের মানসিকতা মনে-প্রাণে ধারণ করে চলি তোমার সাথে করা সর্বশেষ আচরণের সাথে সেটা কোনোভাবেই মানায় না। রুমা, তুমি আমায় ক্ষমা করে দিয়ো। আসলে কি জান ভয়, সংকোচবোধ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, একজন অপরজনকে শ্রদ্ধা করতে না পারা, একে অন্যের পুরনো বিষয়গুলো নিয়ে লেগে থাকা, যে কোনো বিষয়ে কেউ কাউকে ছাড় না দেয়া, পুরনো কিছু বাজে ব্যবহার কিংবা বাজে কিছু কাজ এসব নিয়ে যে সম্পর্ক বিদ্যমান সে সম্পর্ক কখনোই শক্তিশালী হতে পারে না।

তাছাড়া তোমার-আমার নিজস্ব যোগ্যতা বিচারেও আমি অনেকটা পিছিয়ে। এমতাবস্থায় সম্পর্ক টিকিয়ে রেখে নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করাই আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তুমি তোমার নিজস্ব ভাষায় আমাকে ভণ্ড, প্রতারক, মেয়েদের সাথে এমন করাটা নাকি আমার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে-এরূপ লেখার অযোগ্য আরো কিছু ভাষা ব্যবহার করেছ। প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে মানুষ মানুষকে অনেক কিছু বলতে পারে-তবে তোমার নিকট অনুরোধ আমাকে অনেক কিছু বলার আগে নিজের সম্পর্কেও চুলচেরা বিশ্লেষণ করে নিয়ো। আমি যতই তোমার কাছ থেকে সরতে চেয়েছি তুমি ততই নানা ছলে বলে কৌশলে আমাকে ধরতে চেয়েছ। আমাকে প্রলোভিত করে নানা প্রকার উপহার দিয়েছ। যদিও এসবে আমি কখনো লালায়িত ছিলাম না। তবে হ্যাঁ তোমার দেয়া উপহারগুলোই আজ আমায় বেশি জ্বালা দিচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে ছোট হয়ে যাচ্ছি আমি, না পারছি এসব হজম করতে আর না পারছি বমি করে ফেলতে।

যাই হোক, সম্পর্ক শেষ করে দেয়ার নানা পথ থাকা সত্ত্বেও তোমার সাথে করা আমার সেই পথটি কখনোই ভালো ছিল না। সে জন্য আজ আমি ভীষণ-ভীষণ অনুতপ্ত। পারলে আমায় ক্ষমা করে দিয়ো। আমি মনে-প্রাণে চাই তুমি ভালো থাক, অনেক বড় হও। আমার ওপর কোনো অভিমান রেখো না।

এই মনোজগত তোমার আর আমার সম্পর্কের সূত্রপাত ঘটিয়েছে, মনের জগৎকে বোঝাতে সহায়তা করেছে। সেই মনোজগৎকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমার রুমার সাথে করা আচরণটুকুর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী, সাথে এটাও জানাতে চাই আমি কখনোই ভণ্ড, প্রতারক ছিলাম না, এখনো নই। মনোজগতের সকল পাঠক সমাজের প্রতি আমার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা রইল।

ম. হাসান
বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট কলেজ
বগুড়া