Skip to main content

অ্যালার্জি প্রতিরোধের প্রাকৃতিক উপায়

ডা. আলমগীর মতি

অ্যালার্জি শব্দটা যদিও আজ আর কারো কাছে নতুন কিছু নয়, তবুও এটা সম্পর্কে সার্বিক ধারণা থাকা সবার জন্য অতীব জরুরি। কেননা শ্বাসকষ্ট, একজিমাসহ বহু চর্মরোগের জন্য দায়ী এই অ্যালার্জি।

ধুলাবালি, ফুলের রেণু, নির্দিষ্ট কিছু খাবার ও ওষুধ মানুষের শরীরে প্রদাহজনিত যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে সাধারণভাবে তাকেই আমরা অ্যালার্জি বলে জানি। অ্যালার্জি শব্দটা অললসঢ় ও ঊড়বসঢ় নামক দুটি গ্রিক শব্দের সমন্বয়ে তৈরি, সমিমলিতভাবে যার অর্থ দাঁড়ায় পরিবর্তিত প্রতিক্রিয়া।
 
কিছু অ্যালার্জেনের (যা অ্যালার্জি তৈরি করে) নাম

  • মাইট (এমন কিছু যা পুরোনো কাপড়ে জন্মায়)
  • কুকুর, বিড়ালের পশম, প্রস্রাব ও লালা
  • ফুলের রেণু
  • ঘরের ধুলাবালি
  • তুলা বা পাটের আঁশ
  • পোকামাকড়ের হুল
  • স্যাঁতসেঁতে কার্পেট
  • সিগারেটের ধোঁয়া
  • ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া
  • বিশেষ কোনো খাবার
  • হরমোন ইনজেকশন
  • চুলের কলপ
  • রঙ
  • স্বভাব ইত্যাদি

তবে এগুলোতে সকলেরই যে অ্যালার্জি হবে তা কিন্তু নয়। কিছু কিছু জিনিসের কারো কারো অ্যালার্জি হতে পারে।
 
অ্যালার্জিতে আক্রান্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ
শরীরের যে সকল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সহজে অ্যালার্জির ঝুঁকি ও কারণ
শরীরে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার যে অস্বাভাবিক প্রবণতা তার প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করতে বিজ্ঞানীরা নানা ধরনের ভিত্তির ওপর জোর দিয়ে থাকেন। যেমন-

বংশগত কারণ দেখা যায় অ্যালার্জি আক্রান্ত বাবা-মায়ের সন্তানরাও অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয় এবং তাদের অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা নন-অ্যালার্জিক বাবা-মায়ের অ্যালার্জিক সন্তান অপেক্ষা অনেক বেশি প্রকট। বাবা-মা কেউ অ্যালার্জিতে আক্রান্ত না থাকলেও সন্তানের মাঝে ১৫% আশঙ্কা থেকে যায়। বাবা-মা কেউ যদি অ্যালার্জিতে আক্রান্ত থাকে তবে সন্তানের ৩০% আশঙ্কা থাকে কিন্তু উভয়েই আক্রান্ত থাকলে তা বেড়ে ৬০%-এর অধিক দাঁড়ায়।

পরিবেশগত কারণ ঋতুজনিত কারণে (বিশেষ করে শীতকালে) বাতাসে যখন ফুলের রেণু বেশি থাকে তখন অ্যালার্জির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। শিল্পোন্নত দেশগুলোতে বাতাস দূষণের পরিমাণ বেশি হওয়াতে সেখানে অ্যালার্জির প্রকোপও বেশি।
 
অ্যালার্জিজনিত সমস্যা ও তার উপসর্গ
অ্যালার্জিক রাইনিটিস সাধারণভাবে যেটা হে ফিভার নামে পরিচিত। এ ধরনের অ্যালার্জিতে রোগীর অসম্ভব রকম হাঁচি হয়। এ জন্য এর নাম অ্যালার্জিজনিত হাঁচি। বাতাসে অত্যধিক মাত্রায় ফুলের রেণু এর প্রধান কারণ। এছাড়া ধূলিকণা, কুকুর ও বিড়ালের লোম, ছত্রাকের কারণেও এটা হতে পারে। নিঃশ্বাসের সাথে এই জাতীয় জীবাণু যখন নাকের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে, প্রদাহজনিত কারণে অভ্যন্তরীণ টিস্যুগুলো নানা ধরনের উপসর্গ প্রকাশ করে। নাকসংলগ্ন কান, সাইনাস এবং গলাও এই কারণে আক্রান্ত হয়।
 
উপসর্গ

  • ক. নাক দিয়ে অনবরত পানি ঝরা
  • খ. নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • গ. নাক চুলকানো
  • ঘ. অসম্ভব রকম হাঁচি
  • ঙ. কান ও গলা চুলকানো, খুসখুস করা ইত্যাদি

অ্যালার্জিক অ্যাজমা বা হাঁপানি
কষ্টদায়ক এই অ্যাজমার বিভিন্ন কারণের মধ্যে অ্যালার্জি অন্যতম। শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত এ সমস্যায় ফুসফুস ও এর অভ্যন্তরভাগে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এই প্রদাহ ফুসফুসে বাতাস প্রবেশের পথকে সংকীর্ণ করে ফলে বাতাস ঢুকতে ও বেরুতে সমস্যার সৃষ্টি হয়।
 
উপসর্গ

  • ক. প্রথম দিকে সর্দি কাশি বা শুকনো কাশি শুরু হয়
  • খ. ক্রমশ শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়
  • গ. নিঃশ্বাসে শোঁ শোঁ শব্দ হয়
  • ঘ. দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয় ইত্যাদি

অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস বা চোখের অ্যালার্জি
শরীরের অন্যান্য অংশের মতো চোখেও অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়। অক্ষিগোলকের চারপাশের পর্দায় এবং চোখের পাতার নিচের ভাগে অ্যালার্জির কারণে প্রদাহ দেখা দেয়। ঋতু পরিবর্তনের সময় এ ধরনের অ্যালার্জি বেশি দেখা যায়। কোনো ফুলের রেণু (যেমন বাঁশফুল, আতাফুল, ঘাসফুল, পেঁপের ফুল, সজনে ফুল, নারকেল ফুল ইত্যাদি) হাওয়ায় ভেসে চোখে লাগলে চোখের অ্যালার্জি হতে পারে। এছাড়া কাজল, আইলাইনার, মাসকারা ইত্যাদি প্রসাধনও অনেক সময় চোখের অ্যালার্জির কারণ হয়।
 
উপসর্গ

  • ক. সমস্ত চোখ বিশেষ করে চোখের পাতার নিচে লাল হওয়া
  • খ. চোখ চুলকে ফুলে ওঠা
  • গ. চোখ ছলছল করা ও পানি পড়া

অ্যালার্জিক একজিমা ত্বক
অ্যালার্জিক কোনো কিছুর সংসপর্শে এলে এটপিক ডার্মাটাইটিস বা একজিমায় আক্রান্ত হয় যা অ্যালার্জিতে আক্রান্ত রোগগুলোর মধ্যে খুবই সাধারণ।
 
উপসর্গ

  • ক. সমস্ত শরীর চাকচাক হয়ে লাল হয়ে ফুলে ওঠে ও ভীষণ চুলকায়।
  • খ. শরীরের ত্বক শুকনো ও রুক্ষ হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড চুলকায়
  • গ. বিশেষ করে বাচ্চাদের মুখে ও ঠোঁটের কোণে ঘা হয়, বড় ছেলেমেয়েদের বেলায় চোখের চারপাশে, কনুইয়ের ভাঁজে, হাঁটুর নিচে এবং বয়স্কদের শরীরের মধ্যভাগে ফুসকুড়ি বের হয় ও চুলকায়।

হাইভস
অ্যালার্জিক ও নন-অ্যালার্জিক উভয় ব্যক্তির শরীরেই হাইভস দেখা দিতে পারে। বিশেষ কোনো খাবার বা ওষুধের কারণে শরীরের যে কোনো অংশের ত্বকে এই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
 
উপসর্গ

  • ক. তীব্র চুলকানি
  • খ. ত্বক লাল হয়ে ফুলে যাওয়া

অ্যালার্জিক শক
কোনো কোনো অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ, কেননা এটাতে একই সাথে শরীরের একাধিক জায়গা আক্রান্ত হয়। হরমোনাল ইনজেকশন বা কোনো পোকামাকড়ের হুল দ্বারা এ ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
 
উপসর্গ

  • ক. দ্রুত শ্বাস নেয়া, সাথে শোঁ শোঁ আওয়াজ হওয়া
  • খ. গলা শুকিয়ে আসা
  • গ. নাক বন্ধ হওয়া
  • ঘ. ব্লাডপ্রেশার কমে যাওয়া
  • ঙ. সমস্ত ত্বক লাল বর্ণে রূপ নেয়া

 
ফুড অ্যালার্জিক
ফুড অ্যালার্জি বা খাবারের ফলে অ্যালার্জিক প্রবণতার বেশ কিছু কারণ-

  • জন্মের পরপর একাধিকবার ডায়রিয়াজনিত রোগে ভোগা
  • জীবনের শুরুতেই নানাবিধ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ গ্রহণসহ যাদের পরিপাকতন্ত্র একটু দেরিতে পরিণত অবস্থার দিকে এগোয় তাদেরও খাবারে অ্যালার্জি দেখা দেয়।
  • কোনো কারণে পাকস্থলীতে প্রদাহ দেখা দিলে অ্যালার্জি বৃদ্ধি পায়
  • এছাড়া কোনো কারণে পরিপাকতন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াল ফ্লোরা বিপর্যস্ত হলে ফুড অ্যালার্জি দেখা দেয়। এ কারণে ডায়রিয়া বা যে কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার সময় এবং তার থেকে অব্যাহতির পরে খাদ্য নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

খাবার থেকে অ্যালার্জি দেখা দিলে তার ফলস্বরূপ সাধারণত আমবাত, একজিমা, শ্বাসকষ্ট, পেটের গোলমাল ও বমি দেখা দেয়।
 
বিরল অ্যালার্জি
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে মনের সাথে অসুস্থতার একটা অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আছে আর তাই মানসিক কারণেও অনেক সময় অ্যালার্জি হতে পারে। টেনশন বা মানসিক চাপ বেড়ে গেলে গায়ে র‌্যাশ বেরায়, হাঁচি বা কাশি হয় অথবা হাঁপানির টান ওঠে। ডাক্তরি ভাষায় এর নাম কোলিনার্জিক আর্টিকোরিয়া। কোনো মানুষ সম্পর্কে তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকলে তাকে দেখামাত্রই কারো মাঝে অ্যালার্জিক প্রবণতা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আর ঠিক এ কারণেই স্বামীর সাথে ঠিকমতো বনিবনা না থাকলে কোনো মহিলার তার স্বামীকে দেখলেই গায়ে র‌্যাশ বেরোয় বা হাঁচি শুরু হয়। উত্তেজনা কমে গেলে বা বিরক্তকর মানুষটি সামনে থেকে সরে গেলে এই সমস্ত উপসর্গও কমে যায়। অনেক সময় মানসিক কারণে বাড়াবাড়ি রকমের অ্যালার্জি হতে পারে।
 
রঙে অ্যালার্জি
অনেকের রঙে অ্যালার্জি দেখা দেয় অর্থাৎ বিশেষ কোনো রঙ দেখলে শরীর চুলকে ফুলে ওঠে। সহবাসের সময়ও অনেকের অ্যালার্জি হয়। বিভিন্ন ধরনের কনডম এর একটি বিশেষ কারণ।

এমন অনেক মানুষ আছে যাদের পানি থেকে অ্যালার্জি হয়। এদের ক্ষেত্রে পানি খেলে গলার ভেতরে চুলকাতে থাকে এবং ফুলে ওঠে। গোসল করলে সমস্ত শরীরে র‌্যাশ দেখা যায়। আরো মারাত্মক ব্যাপার হলো এরা যদি পুকুরে ডুব দিয়ে গোসল করতে যায় তবে শ্বাসনালিতে ইডিমা ও অ্যালার্জি হয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়।
 
অ্যালার্জি নিবারণে খাদ্যবিষয়ক নির্দেশনা
বায়োফ্ল্যাভনয়েডগুলো প্রাকৃতিকভাবেই শাকসবজি ও ফলমূলে তৈরি হওয়া ফেনলের যৌগ যা অ্যালার্জির বিরুদ্ধে কাজ করে।
 
কোয়েরসেটিন
বায়োফ্ল্যাভনয়েড গ্রুপের এক বিশেষ ধরনের রাসায়নিক উপাদান যা ফলের খোসা ও গাছের ছালে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। এর অন্য নাম মেলিটিন বা সফরেটিন, কোয়েরসেটিন তৈরি কমাতে সাহায্য করায় হিস্টামিন নির্গমনে বাধা দেয় যার ফলে অ্যালার্জি দূরীভূত হয়। এছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে অ্যাজমা প্রতিরোধ করে ও প্রদাহ কমায়।

উৎস পেঁয়াজ, রসুন ও আপেলের খোসা, জিংগোবা, লেবুজাতীয় ফল, ব্রকলি, গ্রিন টি, চেরি ফল, লাল ও কালো আঙুর, কালো জাম, সবুজ শাকসবজি, মধু (ইউক্যালিপ্টাসের ও চায়ের ফুল থেকে প্রাপ্ত), শিমজাতীয় ব্রোমোলিন শরীরে প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া কমায়। তবে কোয়েরসেটিনের সাথে মিলিতভাবে অধিক কার্যকর উৎস আনারস।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এগুলো মানব শরীরে ও প্রকৃতিতে বিদ্যমান রোগ প্রতিরোধের অন্যতম হাতিয়ার। শরীরে ও প্রকৃতিতে তৈরি হওয়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলোর মধ্যে ভিটামিন সি অন্যতম, যা শক্তিশালী অ্যালার্জি প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক উভয় গুণাগুণে ভরপুর। দিনে ৩ বার ১০০০-২০০০ মিলিগ্রাম করে ভিটামিন সি গ্রহণ অ্যালার্জি উপশমের অন্যতম উপায়।

ভিটামিন সি-এর উৎস হলো কাঁচামরিচ, বাঁধাকপি, আলু, লেবু, বাতাবি লেবু, কমলা লেবু, টমেটো, আঙুর, পেয়ারা, কামরাঙ্গাসহ বিভিন্ন টকজাতীয় খাবার।

ভিটামিন এ এবং জিংক এরা উভয়ে অ্যালার্জি উপশমে সহায়ক যা পাকস্থলীসহ অন্যান্য প্রদাহজনিত স্থানের প্রদাহ কমায়।

ভিটামিন এ-এর উৎস হলো বাঁধাকপি ব্রকলি, লেটুস পাতা, পালংশাক, টমেটো, মটরশুঁটি, গাজর, কুমড়া, মিষ্টিআলু, ধনিয়া পাতা, পিচ, কলা, পেঁপে, তরমুজ, ভুট্টা ইত্যাদি।

জিংকের উৎস হলো ওয়াস্টার মাশরুম, যা এখন আমাদের দেশের সর্বত্রই পাওয়া যায়। অন্যান্য যেসব খাদ্যে জিংক বিদ্যমান সেগুলো হলো মিষ্টিকুমড়ার বীজ, শিম বীজ, বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ ইত্যাদি। প্রাণিজ জিংকের জন্য ভালো উৎস হলো মুরগির মাংস। এছাড়া শামুক, ঝিনুক ইত্যাদিতেও প্রচুর পরিমাণে জিংক পাওয়া যায়।

ক্যারোটিনয়েড হলো উদ্ভিদের মধ্যস্থিত রঞ্জক বা রঙিন পদার্থ। এসবের মধ্যে ক্যারোটিন, বিটাক্যারোটিন, লুটিন, লাইকোপেন, ক্রিপটোজেস্থিন এবং জিজেস্থিন আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজন। এগুলো অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে কাজ করে।

সবুজ, হলুদ অর্থাৎ রঙিন শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিনয়েড পাওয়া যায় যেমন গাজর, মিষ্টিকুমড়া, হলুদ, পালংশাক, ডাঁটা শাক ইত্যাদি। ট্রিপটোফেন সমৃদ্ধ খাবার যা সেরোটনিনে পরিবর্তিত হয় তা এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন-গরুর মাংস, চিংড়ি মাছ ইত্যাদি।
 
অন্যান্য
মাশরুমের অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া কমানোর এক অসাধারণ ক্ষমতা আছে। এটা হিস্টামিন তৈরিতে বাধা প্রদান করে ও প্রদাহ কমায়।

অনন্তমূল এই গাছের পাতায় ও শিকড়ে টাইলোফিরিন নামে যে উপাদান থাকে তা অ্যালার্জিজনিত শ্বাসনালিতে প্রদাহসহ অ্যাজমার প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।

অ্যালার্জি থেকে রক্ষা পাওয়ার এক অনন্য নাম কুচিলা। এই গাছে স্টিকনিন, ব্রুলিনসহ নানা মূল্যবান উপাদান তৈরি হয়।
 
কোল্ড অ্যালার্জি থেকে রক্ষার উপায়
একটু শীতেই অনেকেই সর্দি, কাশি, গলা ব্যথায় ভোগে যা কোল্ড অ্যালার্জি নামে পরিচিত। এটা ঘাবড়ানোর মতো তেমন কিছু নয় এবং কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই এ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। যেমন-

  • বেশি করে পান পানি করা।
  • বিশেষ পথ্যের দরকার নেই, তবে ফলের রস বিশেষত কমলা লেবু বা পাতিলেবুর রস খেলে উপকার পাওয়া যায়।
  • গরম পানির ভাপ নেয়া অন্তত দিনে চারবার
  • এক টুকরো মিসরি, লবঙ্গ বা আদা মুখে রাখা
  • মধুর সাথে তুলসী বা বাসক পাতার রস মিলিয়ে খাওয়া
  • সর্দি কাশির সাথে গলা ব্যথা হলে এক গ্লাস গরম পানিতে এক চামচ লবণ দিয়ে দিনে ২ থেকে ৩ বার গর্গল বা কুলকুচা করা
  • সমপরিমাণ মধু আর লেবুর রস মিশিয়ে ১০ মিনিট অন্তর বড় চামচের এক চামচ খেলে গলা ব্যথায় আরাম পাওয়া যায়।
  • ৫ গ্রাম শুকনো হলুদ গুঁড়ো ২৫০ মিলিগ্রাম দুধ এবং ২ চামচ চিনি ১০ থেকে ১২ মিনিট ফুটিয়ে সে দুধ খেলে সর্দি কমে যায়।
  • আদা ও তুলসী পাতা এক গ্লাস পানিতে ফুটিয়ে তাতে এক কাপ মধু মিশিয়ে দিনে ৪ থেকে ৫ বার খেলে উপকার পাওয়া যায়।
  • খানিকটা পানি ফুটিয়ে তার সাথে একটি পাতিলেবুর রস আর অল্প চিনি বা লবণ মিশিয়ে গরম গরম খেলে আরাম পাওয়া যায়।
  • সর্দি-কাশি লেগে থাকলে ওল পোড়ার সাথে নারকেল কোরা ও ৫ থেকে ৭ ফোঁটা ঘি মিশিয়ে খেলে সর্দির দোষটা কেটে যাবে।

উপরোক্ত টিপসগুলো মেনে চললে ঠাণ্ডা একেবারে সেরে যাবে, তবে অবস্থার যদি খুবই অবনতি ঘটে তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।