বাংলাদেশে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। এ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আপনাকে খুব সচেতন হতে হবে। চাকরির বাছাইপর্ব থেকে শুরু করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পর্যায়ে নির্ভুলভাবে পা ফেলতে হবে। প্রায় ১৫ কোটি মানুষের এ দেশে বেকার শ্রেণীর মানুষের অভাব নইে। যে কোনো ধরনের একটা চাকরি পাওয়ার জন্য তারা মরিয়া। তাই প্রতিযোগিতায় আপনাকে খুব বুঝেশুনে চলতে হবে। যাতে কোনোভাবে ফসকে পড়ে না যান। চাকরির ক্ষেত্রে ফসকে পড়ার সিরিয়াস পর্যায় হলো ইন্টারভিউ পর্যায়। পছন্দসই চাকরি বাছাই করা, চাকরি সম্পর্কে বিভিন্ন খোঁজ-খবর নেয়া, নিয়োগের জন্য আবেদন করা, ভালো প্রস্তুতি নেয়া সব ধাপই আপনি নির্ভুলভাবে শেষ করেছেন। কিন্তু ইন্টারভিউতে ভালো করতে পারেননি। চাকরি পাওয়াটা আর আপনার হলো না। এতদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা, কষ্ট সব নিঃশেষ হয়ে গেল। অথচ ইন্টারভিউতে একটু ভালো করতে পারলেই চাকরিটা নিশ্চিত ছিল। এ রকম ভুল যেন আর না হয়, সে জন্য আপনাকে আগে ইন্টারভিউতে ভালো করার সহজ উপায়গুলো জানতে হবে, নিচে ইন্টারভিউতে ভালো করার সহজ উপায় সম্পর্কে ৮টি টিপস দেয়া হলো-
১. চাকরিটি সম্পর্কে আপনার বিসতৃত জ্ঞান থাকতে হবে। এ জ্ঞান অর্জনের জন্য আপনি ওই চাকরি সম্পর্কিত বিভিন্ন বই পড়তে পারেন। চাকরিটির কার্যক্ষেত্র পরিদর্শন করতে পারেন। এতে আপনার বাস্তব জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে। ইন্টারভিউর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে তো কোনো কথাই নেই। তাহলে তো আপনি ইন্টারভিউর জন্য সম্পূর্ণ পারফেক্ট।
২. ইন্টারভিউতে ভালো করতে চাইলে ওই প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। তাদের সঙ্গে চাকরিবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এতে চাকরিটি সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা পেয়ে যাবেন। ইন্টারভিউর প্রসঙ্গেও তাদের সঙ্গে কথা বলে নিতে পারেন। এসব চাকরির ইন্টারভিউতে সাধারণত কোন ধরনের প্রশ্ন করা হয়, উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে কোন ধরনের জটিলতায় পড়তে হয়, তা কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, এসব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করে নিলে ইন্টারভিউ দেয়া অনেকটা সহজ হয়ে যায়।
৩. মনের মধ্যে ভীতি কিংবা দুর্বলতা কাজ করলে ইন্টারভিউতে কখনো ভালো করা যায় না। এতে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস কমে যায়। হতাশার মধ্যে নির্ভুল উত্তর দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ইন্টারভিউর আগে আপনাকে দৃঢ় মনোবলসম্পন্ন হতে হবে। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। তাহলেই আপনি সফল হতে পারবেন।
৪. ইন্টারভিউর ক্ষেত্রে পোশাক-পরিচ্ছদের ওপর খুব সচেতন থাকা উচিত। একজন নিয়োগকর্তা প্রথমেই নজর দেবেন সাক্ষাৎকার দাতার পোশাক-পরিচ্ছদের ওপর। পোশাক-পরিচ্ছদ দেখেই তিনি সাক্ষাৎদাতার স্মার্টনেস, বাহ্যিক গুণাবলি, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনেকটা মেপে নেন।
৫. পোশাক-পরিচ্ছদের দিক থেকে ন্যূনতম স্ট্যান্ডার্ড বজায় না থাকলে নিয়োগকর্তা চাকরিপ্রার্থীর ওপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে চাকরি পাওয়াটা তার পক্ষে কঠিন হয়ে যায়। তাই ভালো ইন্টারভিউ দিতে হলে আপনাকে অবশ্যই ভালো পোশাক নির্বাচন করতে হবে।
৬ নিয়োগকর্তার সামনে কখনো এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যাতে নিয়োগকর্তা তাকে অভদ্র হিসেবে চিহ্নিত করেন (কারণ অভদ্রদের কেউ পছন্দ করে না) কিন্তু ভদ্র চাকরিপ্রার্থীর ওপর নিয়োগকর্তারা অনেকটা দুর্বল থাকেন। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তার ওপর সুনজর রাখেন। সুতরাং ইন্টারভিউয়ের সময় নিজের শালীন আচার-আচরণের ওপর খেয়াল রাখা উচিত।
৭. ইন্টারভিউতে গভীর মনোযোগী না হলে প্রশ্নকর্তার কৌশলগত প্রশ্নের উত্তর দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশ্নকর্তাও তাকে প্রশ্ন করতে বিরক্তবোধ করেন। একজন অমনোযোগী মানুষ কোনো কিছুতেই ভালো করতে পারে না। শুধু ইন্টারভিউতে নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গভীর মনোযোগী থাকা বাঞ্ছনীয়। তা হলে প্রতিটি কাজে নিজেকে সফল করা যায়।
৮. প্রশ্নকর্তা আপনাকে প্রশ্ন করেছেন কিন্তু আপনি সঠিক উত্তরটি ভালোভাবে জানেন না-এ অবস্থায় আপনি কখনোই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে উত্তর দিতে চেষ্টা করবেন না। অসপষ্ট জবাব দিয়ে উত্তর শেষ করবেন না। এতে নিয়োগকর্তা বিরক্তবোধ করবেন। না জানলে পারি না বলাই শ্রেয়। তখন প্রশ্নকর্তা অন্য কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সুযোগ দেবেন



