সবুজ
মুহসীন হল, ঢা. বি
আমার বয়স ২০ বছর। পড়াশোনা করতে ভালো লাগে না। ১০ মিনিটও টেবিলে বসে থাকতে পারি না। আজেবাজে চিন্তা মাথায় আসে। কী করব বুঝতে পারি না। কু-কর্মের ইচ্ছা জাগে কোনো রমণী দেখলেই, যাকে ভালোবাসি তাকে দেখলেও। কোনো কিছু মনে থাকে না। মাঝে মাঝে মেজাজ খুব খারাপ থাকে। কারও সাথে কথা বলতে ইচ্ছা হয় না। আমি পড়ালেখা করতে চাই, জীবন গড়তে চাই, আমাকে বাঁচান।
ছাত্রদের পড়াশোনা করাই তাদের জীবনের তপস্যা। অনেক টাকা-পয়সা খরচ করে দরিদ্র পিতা পড়াশোনার জন্যই আপনাদের ঢাকা শহরে পাঠান। পিতার মুখটি একটু চোখের সামনে আনুন তো। নানা রকমের চিন্তা করার পরে অনেক সময় পাওয়া যাবে কিন্তু পড়ার সময় ততদিনে শেষ হয়ে যাবে। তাই মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করা আপনার প্রাথমিক উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। আজেবাজে চিন্তা দূর করার জন্য ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম সকালে ১টা রাতে ১টা, করে সেবন করে দেখতে পারেন।
মো. রিয়াজুল ইসলাম
ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর
আমি একজন ২৪-২৫ বছরের ছাত্র। আমি দুইবার বি.কম পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফলাফল করতে পারিনি। কারণ আমি যা পড়ি তা আমার কিছু মনে থাকে না। এই একটু আগে যদি কাউকে কিছু বলি পরে তা আর বলতে পারি না। বাড়ি থেকে বাজারে কোনো জিনিস আনতে গেলে আর মনে থাকে না। তবে আমার রাগ খুব বেশি। দুই এক কথায় রেগে যাই। রাগ করে কাউকে কিছু বললে পরে আবার তাই ভুলে যাই কী বলেছি। এই কিছু দিন যাবৎ খুব টেনশনে ভুগছি কারণ একে তো রেজাল্ট খারাপ তারপর আবার পরীক্ষা দিতে হবে সেই টাকা কোথায় পাব।
আপনার রাগের প্রকাশ কতকটা পরিবেশ ও সামাজিক কারণে হয়ে থাকে। তবে পরিবেশ ও সমাজকে মেনে চলাই মানুষের চরিত্র। রাগ কমানোর জন্য ট্যাবলেট লারগেকটি ২৫ মিলিগ্রাম রাতের বেলা খেয়ে দেখতে পারেন।
মো. তারেক উদ্দিন (রুবেল)
রামু, কক্সবাজার
আমি একজন ছাত্র। আমার সমস্যাটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। আমার লিঙ্গের আকৃতি তেমন ছোট নয়। আমার সমস্যা হচ্ছে লিঙ্গের ছিদ্র যে এত ছোট আমার প্রস্রাব ও সেক্স করতে খুব কষ্ট হয়। তা নিয়ে কি ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হবে? আপনাদের কাছে এই পরামর্শ জানতে চাই আমাকে কী করতে হবে।
আপনি একজন অভিজ্ঞ ইউরোসার্জনের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করুন। আমার বিশ্বাস তিনি আপনাকে সাহায্য করতে পারবেন।
এসএম মোক্তারুল হাসান (আক্কাস)
নাজিরহাট, ফটিকছড়ি
গত ১৮ জুন ১৯৯৯ সালে আমার বড় ভাই বিয়ে করেন। ভাবীর বয়স ১৭-১৮ বছর হবে। কিন্তু ভাবী এখন সন্তান নিতে চায় না। পিল, কনডম ব্যবহার করতেও চায় না। পিল, কনডম ছাড়া মাসের কোন কোন দিন সহবাস করলে গর্ভপাত বা অন্তঃসত্ত্বা হবে না দয়া করে জানালে খুশি হব।
এ সমস্যা অনেকের পরিবারেই আছে। আপনার ভাবীকে জানাতে হবে মাসিক চক্রের প্রথম ১০ দিন ও শেষ ১০ দিন সহবাসের জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ। মাঝখানের ১০ দিন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে মাসিক চক্র ৩০ দিনে ধরা হয়েছে এবং যাদের মাসিকচক্র নিয়মিত হয় তাদের কথা বলা হয়েছে। সবচেয়ে ভালো হয় আপনার ভাবী যদি কোনো পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে যান।
রাজু
পোস্ট অফিস লেন, রংপুর
আমার বয়স ২৫ বছর। আমার কিছু মানসিক সমস্যা রয়েছে যেমন-প্যালপিটিশন, নার্ভাসনেস, মনোযোগের অভাব, দুশ্চিন্তা এবং গা ম্যাজম্যাজ করা। রাতে ঘুমানোর সময় যখন তন্দ্রা লেগে আসে, তখন হঠাৎ চমকে উঠি। ঘুম ভেঙে যায় আর তখন বুক ধড়ফড় শুরু করে তা সারারাত ধরে চলতে থাকে। নার্ভাসনেসের জন্য আমি কারো সাথে পরিষকার করে ভালোভাবে কথা বলতে পারি না। কথা বলতে গেলে শরীর ঘেমে যায়, কেমন সব এলোমেলো হয়ে যায়, কথা আটকে যায়। আমি কোনো পড়া গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারি না। বিশেষ করে সকালের দিকে পড়তে বসলে নানা চিন্তা মাথায় আসে, অতীতের বিভিন্ন কথা মনে আসে, তাকে এটা কেন বললাম না, এটা বললে ভালো হতো ইত্যাদি। অশ্লীল চিন্তাও মনে আসে। আমার পড়াশোনা করতে খুব ভালো লাগে কিন্তু এই সমস্যার জন্য পড়তে পারি না। আমার মনে খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষা, আমার খুব বড় হতে ইচ্ছা করে। আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশি ভালো না। এটাও দুশ্চিন্তার কারণ। আমি অনেকটা নরম প্রকৃতির, কারো অর্থনৈতিক কষ্ট দেখলে খুব খারাপ লাগে। একটু বেশি চিন্তা করলে মাথা ঝিমঝিম করে। কারো সাথে একটু তর্কবিতর্ক করলে মাথাটা কেমন ঝিঝি করে তাই ভালো করে কথা বলা হয় না।
আপনার সমস্যা টেনশন। আর্থিক কারণ ও সামাজিক কারণ টেনশনের বিরাট একটা অনুঘটক। সুস্থ-সবল স্বাভাবিক ধর্মীয় জীবন-যাপন করুন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম সকালে একটি ও রাতে একটি করে সেবন করুন। এক মাস পরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন।
ইকবাল বাহার চৌধুরী
বিশ্বনাথ নতুন বাজার
আমার বয়স ২৯ বছর এবং অবিবাহিত। আমি একটি প্রাইভেট টেলিফোন কোম্পানিতে চাকরিরত। আমার সমস্যা হলো টেলিফোনে কারো সাথে দীর্ঘক্ষণ আলাপ করতে পারি না। কিছু শুনি আবার কিছু মিস করি। কোনো আলোচনায় পুরোপুরিভাবে মনোসংযোগ করতে পারি না। আমার নার্ভাসনেস প্রবল এবং অল্পতেই ভয় পেয়ে যাই। সব সময় আপসেটভাবে থাকি। মাথা গরম থাকে এবং ঘুরায়। দয়া করে এর সুষ্ঠু সমাধান দিলে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।
মনোযোগের অভাব একটি কারণ বটে। তবে নানা রকম মানসিক রোগে মনোযোগের অভাব একটি উপসর্গ আকারে আসতে পারে। যেমন-নার্ভাসনেস বা টেনশন রোগ। আপনি ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে চার ভাগের এক ভাগ ও রাতে অর্ধেক এই হিসেবে সেবন করুন। এক মাস পরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করুন।
এইচ কবির
২/১, মগবাজার
আমার বয়স ২৫ বছর। আমি একটি সমস্যায় ভুগছি। ঠিক এমনি সমস্যা দেখতে পেলাম ডিসেম্বর সংখ্যায়। ইকবাল হোসেন সাহেব জানতে চেয়েছিলেন কনডম ব্যবহারের ব্যাপারে। তিনি লিখেছিলেন, দুবছর হলো বিয়ে করেছেন। স্ত্রীর বয়স ২০ বছর। আর্থিক অবস্থা খারাপ বিধায় ৫ বছর সন্তান নিতে চাচ্ছেন না। তাই তিনি কনডম ব্যবহার করছেন। স্ত্রীর বক্তব্য ছিল তার পেটের চামড়া একটু মোটা হয়ে যাচ্ছে সেভাবে মা হতে গেলে হয়তো অসুবিধা হবে। অর্থাৎ জানতে চেয়েছিলেন কনডম ব্যবহার করলে ৫ বছর পর কোনো সমস্যা হবে কিনা এবং ঠিকভাবে বাচ্চা নেয়া যাবে কিনা। কিন্তু তার উত্তর প্রদান করা হয়নি। প্রশ্নটি আমারও। পাঁচ বছর পরে নির্ধারিত সময়ে বাচ্চা নেয়া যাবে কিনা? কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এ সময়ে হবে কিনা।
জন্মনিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতিতে এ জাতীয় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। আপনি তবুও নিকটস্থ পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
মো. মাঈন উদ্দীন
২০৪/৭ বিএএফ কোয়ার্টার, ঢাকা
আমার বয়স ২৯ বছর। আমার বয়স যখন ১৪-১৫ বছর হঠাৎ করে বাসায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই এবং খিঁচতে থাকি। সেদিন রাতে ৪-৫ বার সেই খিঁচুনি ওঠে বাসার সবাই ভয় পেয়ে যায়। পরদিন থেকে শুরু হয় চিকিৎসা, প্রথমে কবিরাজ তারপর ফকির দিয়ে ঝাড়ফুঁক করানো হয় কিন্তু কিছুতেই ভালো হয় না। দুমাস পর মামার কথায় আমাকে নারিন্দায় নিয়ে যায়। তিনি আমার সব সমস্যার কথা শোনেন এবং রক্ত, পায়খানা, প্রস্রাব পরীক্ষা এবং এক্স-রে ইত্যাদি করান। পরে তিনি আমাকে ওষুধ ‘গ্রাডিনেল সোডিয়াম’ ৬০ মিলিগ্রাম খেতে দেন। আমি প্রায় দু বছর যাবৎ তা খাই, আবার ডাক্তারের কাছে যাই এবং সমস্যা জানাই। তিনি সমস্যার কথা শুনে আমাকে পরীক্ষা করেন। তারপর তিনি আমাকে ‘টেগ্রেটল’ ২০০ মিলিগ্রাম খেতে দেন এবং আমি তা নিয়মিত খেয়ে আসছি। আমি প্রায় ১৩-১৪ বছর যাবৎ এই ওষুধ খেয়ে আসছি। কিন্তু যদি আমি ভুলে যাই ওষুধ খেতে তখন আমার রোগ ওঠার মতো ভাব লাগে তখন আমি ২টি ট্যাবলেট একসাথে খাই এবং ৪-৫ ঘণ্টার মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাই। তাছাড়া আমার অনেক মানসিক সমস্যাও আছে যেমন-ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ, কারো সাথে কথা বলতে ভয়, স্মরণশক্তি কম, অনুভূতিহীন, নির্জনতাপ্রিয়, একাকী থাকতে ভালো লাগে ইত্যাদি। দয়া করে আমাকে পরামর্শ দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।
আপনার অসুখটির নাম এপিলেপসি বা মৃগীরোগ। এ রোগের ওষুধ মোটামুটিভাবে সারাজীবন খেতে হয়। কতকটা ব্লাডপ্রেসার ও ডায়াবেটিস রোগের মতো। নিয়ম মাফিক আট বা বারো ঘণ্টা পরপর ওষুধ সেবন করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পকেটে ওষুধ বহন করতে হয়। খালি পেট বা ভরা পেট কোনোরূপ কারণ হতে পারে না। মনে রাখা দরকার, যতবার এই খিঁচুনি হবে ঠিক ততবার আপনার মগজে কিছু না কিছু ক্ষতি হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটি প্রকটভাবে দেখা যায়। বয়সকালে ক্ষতির সম্ভাবনা কমে আসে। এপিলেপসি রোগী সব থেকে বেশি জটিলতা থাকে মানসিক দিকে। অনুভূতিহীন, কম স্মরণশক্তি, ভুলে যাওয়া, ডিপ্রেশন, ম্যানিয়া ইত্যাদি নানা রকমের রোগ এপিলেপসির সাথে থাকতে পারে। এ জন্য মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের দ্বারা চিকিৎসা করা সব থেকে ভালো। আপনি নিয়মিত ওষুধ সেবন করুন, সুস্থ থাকুন। কতদিন ওষুধ খেলেন, কেন খেলেন এটা কোনো ব্যাপার না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
ধানমন্ডি, ঢাকা
আমার বয়স ১৬ বছর। প্রায় পাঁচ বছর থেকে আমার মধ্যে জটিল কিছু মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এগুলো হলো বিষণ্নতা, স্মরণশক্তিহীনতা, ম্যানিক ডিপ্রেসিভ সাইকোসিস, সোশ্যাল ফোবিয়া, শুচিবায়ু, অমনোযোগ ইত্যাদি। তাছাড়া অণ্ডকোষের একটি অংশ অন্যটির তুলনায় অনেক বড় ও লম্বাটে।
আপনার চিঠি পড়ে আপনার অসুখ সম্বন্ধে পরিষকার কোনো ধারণা পাওয়া গেল না, তাই ওষুধ সম্বন্ধীয় কোনো উপদেশ আমরা দিলাম না।
মো. পাপ্পু আহমেদ
চকবাজার, ঢাকা
আমার বয়স ২১ বছর। আমার সমস্যাগুলো হচ্ছে আমি কোনো মানুষের সাথে গুছিয়ে কথা বলতে পারি না এবং কথা বলতেও মন চায় না। সব সময় নিজেকে নিস্তেজ মনে হয়। দিন দিন স্মরণশক্তিও কমে যাচ্ছে কোনো কাজে মন বসাতে পারি না, বাড়ির কোনো কাজ করতেও ভালো লাগে না। শরীর দুর্বল হয়ে গেছে এবং প্রচণ্ড হাত-পা ব্যথা করে। মন সব সময় খারাপ হয়ে থাকে। নিজেকে সব সময় ছোট মনে হয়, এর জন্য আমি বেড়াতেও যেতে পারি না। প্যান্ট-শার্ট পরলে মনে হয় আমাকে বুঝি খুব বিশ্রী দেখাচ্ছে, এর জন্য আমি কোথাও যেতে পারি না। মনে কোনো রকম ফুর্তি আনতে পারি না। দয়া করে উত্তর দিলে খুশি হব।
আপনার অসুখটির নাম ব্যক্তিত্বের সমস্যা। আপনার প্রয়োজন সাইকোথেরাপি। আপনি মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে দেখা করুন।
মো. আশরাফ উল মোবারক
সানারপাড়, ডেমরা-ঢাকা
আমার বয়স ২৩ বছর। আমি ২-৩ বছর যাবৎ মৃত্যুচিন্তায় অস্থির হয়ে গেছি। সবসময় মনে হয় আমি বা আমার পরিবারের কেউ জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হব কি-না। মনে হয় দিনগুলো ফুরিয়ে যাচ্ছে আর মৃত্যুর দিকে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছি। যখন তখন ছোটখাটো ব্যাপার নিয়ে ভাবতে ভাবতে অস্থির হয়ে যাই। বুকের ভেতর শূন্যতা বিরাজ করে। আমি বাঁচব না। আমাকে বাঁচান।
আপনি ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক, রাতে অর্ধেক করে খেতে থাকুন। এক মাস পরে দেখা করুন।
শামীম আক্তার
মহাখালী, ঢাকা-১২১২
আমার বয়স ৩২ বছর। ৭-৮ বছর আগে আমার স্ত্রী লিঙ্গে একটি পিঁপড়া কামড় দেয়। কামড় দেয়ার পরে ওই অংশটুকুতে চুলকালে ওই অংশটুকু ফুলে গিয়ে কালো হয়ে যায়। আর যোনির ভেতরে আঙুল ঢুকালে ভেতরে পুরুষ লিঙ্গের মতো মনে হয়। এর কারণে আমি নিজেকে হিজড়া মনে করে ভয় পাচ্ছি। বিয়ে করতেও সাহস পাচ্ছি না। দয়া করে আমার সমস্যা সমাধানের পথ দেখিয়ে উপকৃত করলে আমি ভয় থেকে মুক্তি পেতে পারি।
আপনি অবিলম্বে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করুন। কারণ অসুবিধা অনুযায়ী আপনার বিশেষ অঙ্গের ডাক্তারি পরীক্ষা করার দরকার হতে পারে।
ফরিদ
নাখালপাড়া, ঢাকা
আমি একজন জটিল মানসিক রোগী। দীর্ঘদিন যাবৎ অত্যন্ত দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছি। আমার পিতা-মাতার আর্থিক অবস্থা খারাপ ও অশিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও আমাকে লেখাপড়া শেখায়। ১৯৯৪ সালে আইএ পরীক্ষার কয়েকদিন পূর্ব হতে আমি কোনো মানুষের সাথেই কথা বলি না, একটা হতাশা যেন গ্রাস করে ফেলল। পরীক্ষা দিয়ে প্রথম বিভাগে পাস করেছিলাম কিন্তু এরপর থেকে লেখাপড়া বন্ধ। ছোটকাল থেকেই আমি লাজুক ও ভীরু প্রকৃতির ছিলাম। তবে বর্তমানের মতো জীবন সম্পর্কে সম্পূর্ণ হতাশাব্যঞ্জক অবস্থায় ছিলাম না। আমার বর্তমান মানসিক অবস্থা কখনো উদাসীনতা, ক্লান্তি, নিস্তেজ, নিষিক্রয়তা, আবার কিছুক্ষণ পর এমনিতেই মনোভাব একটু স্বাভাবিক সহজ হয়। তখন বেশ ভালো লাগে। আবার অন্য সময় উদ্বিগ্ন, উত্তেজিত ও বিষণ্ন মনে হয়। তখন মানুষের সামনে কথা বলতে পারি না। তারপর মাঝেমধ্যে মৃদু ফুর্তিও অনুভব হয়, তখন মনে আশা জাগে। আমার কিছু যৌন সমস্যাও আছে। এ বিষয়ে অনেক মনোচিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েও কোনো কাজ হয়নি। আশা করি আমাকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে উপকৃত করবেন।
আপনি ক্যাপসুল মোডিপ্রান ২০ মিলিগ্রাম সকালে একটা করে খেতে থাকুন। ইনশাআল্লাহ আপনার সমস্যার সমাধান হবে।
আবু ইউসুফ
পার্বত্য জেলা, চট্টগ্রাম
আমার বয়স প্রায় ২০ বছর। পেইন সেপশালিস্টের সাথে দেখা করি এবং এক বছর যাবৎ ওষুধ খাবার পর তেমন কোনো সুস্থতা অনুভব করতে পারিনি। বর্তমানে বড় কোনো শব্দ শুনলে বেশি কথা বললে তা মাঝে মাঝে মানসিক কষ্টের কারণে মাথাব্যথা হয়ে থাকে। তবে আগের তুলনায় কম। বর্তমানে কোনো ওষুধ খাই না। বিগত দুই বছর ধরে আমার স্মরণশক্তি মনে হয় অনেক কমে গেছে। কোনো কিছু বেশিক্ষণ মনে থাকে না। জটিল কোনো বিষয় সহজে বুঝতে পারি না। সারাদিন কোনো না কোনো কাজে ভুল হবেই। যার কারণে অনেক সময় বিরাট মাশুলও দিতে হয়েছে। উল্লেখ্য, আমি বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে ট্রেনিং অবস্থায়। যার কারণে মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত। সারাক্ষণ আজেবাজে চিন্তায় মগ্ন থাকি। ক্লাসের পড়া বা কোনো কাজে মনোযোগী হতে পারি না। যে সময় পড়ার কথা সে সময় অন্য কাজে ব্যস্ত থাকতে বেশি আগ্রহী। প্রবল মনোবল থাকার ফলেও পড়ালেখায় মন বসাতে পারি না। সারাক্ষণ এ চিন্তায় আমার কর্মক্ষেত্রের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে হারাচ্ছি গ্রহণযোগ্যতা। উদার মনের অধিকারী হয়েও বন্ধুদের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছি। এতে অর্থ এবং মানসিক দুইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। শান্তিপ্রিয় হয়েও সহকর্মীদের সাথে ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে যা আমার কখনো কাম্য নয়। অলসতাপ্রিয় হয়ে দাঁড়াচ্ছি। অলসতার কারণে খাওয়া-দাওয়াও মাঝেমধ্যে বাদ দিতে হয়। কখনো নিজের কথা রাখতে পারি না। দয়া করে আমাকে পরামর্শ দিয়ে উপকৃত করবেন।
আপনার অসুখটির নাম নিউরোটিক ডিপ্রেশন। আপনি ট্যাবলেট নরট্রিলিন ১০ মিলিগ্রাম সকালে একটা রাতে একটা করে খেতে থাকুন। এক মাস পরে দেখা করুন।
আনিস
সুহুড়ী পাড়া, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ১৮ বছর। আমার সমস্যা হলো আমি যখন নিজে নিজে কথা বলি বা কোনো বই পড়ি (জোরে বা আস্তে) তখন আমার মুখের ভেতর কোনো কথা আটকায় না বা আমি তোতলাই না। কিন্তু যখন কোনো মানুষের সাথে কথা বলি তখন প্রায় কথা আমার মুখের ভেতর আটকে যায়। এর আগে আপনারা বলেছেন রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম (সকালে ৪ ভাগের ১ ভাগ এবং রাতে অর্ধেক) সেবন করতে। কিন্তু আপনারা কত মাস খেতে হবে সেটা বলেননি। তাই আমি প্রতিদিন রাতে ১টি করে ১ মাস খেয়েছি। কিন্তু আমার অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। কারণ এখনো কোনো মানুষের সাথে কথা বলার সময় প্রায় কথা আমার মুখের ভেতর আটকে যায়। কিন্তু নিজে নিজে কথা বললে আমার মুখের ভেতর কোনো কথা আটকে যায় না। এ সমস্যার একটি নিশ্চিত পরামর্শ দিলে আমি খুব উপকৃত হব।
রিভোট্রিল সেবনের পাশাপাশি আপনার প্রয়োজন বিহেভিয়ারার থেরাপি। তোতলামির খুব একটা ভালো চিকিৎসা বাংলাদেশে নেই তবুও আপনাকে কথা বার্তা বলার মাধ্যমে এ প্র্যাকটিস চালিয়ে যেতে হবে। যতটা প্র্যাকটিস করবেন ঠিক ততটা উন্নতি পাবেন। ওষুধের দায়িত্ব শুধু টেনশনটাকে কমিয়ে দেয়া। বাকিটা সব প্র্যাকটিসের ওপর নির্ভরশীল। প্রয়োজন মনে করলে আপনি আমার সাথে দেখা করতে পারেন।
মো. ফেরদৌস (লেদু)
জালালাবাদ, কক্সবাজার
আমার বর্তমান বয়স ২০ বছর। পেশা ছাত্র। আগামীতে বিএ পরীক্ষা দেব। যার জন্য আমি মনোজগতের আশ্রয় নিচ্ছি মেয়েটি হচ্ছে আমার বড় ভাইয়ের প্রেমিকা। নাম আরেফা সুলতানা। আরেফার বর্তমান বয়স ২৩ বছর। মেয়েটির বাড়িতে নিয়মিত যেতাম কারণ ভাইয়ের জন্য মেয়েটির সংসারের সাথে আমার সম্পর্ক গভীর হয়ে গেছে। জানাজানিতে তাদের বিয়ে হবেই। আজ প্রায় ৭-৮ বছর ধরে তাদের সম্পর্ক চলে আসছে। বড় ভাইয়ের অমিলের কারণে আমি সেখানে যাই। ভাই বিদেশ যাওয়াতে আরো বেশি যাই। তাহলে আমার প্রশ্ন হচ্ছে এখন আমি কী করব? বড় ভাইয়ের সম্পর্ক রক্ষা করতে গিয়ে নিজে তাদের সাথে মিলে গেলাম। আমি কেমন যেন হয়ে গেছি। পড়ালেখা ভালো হচ্ছে না। মেয়েটিকে ত্যাগ করতে হলে আমাকে কী করতে হবে? আর দুজনের সম্পর্ক রক্ষা করতে গেলে কী করতে হবে? দয়া করে পরামর্শ দানে বাধিত করবেন।
আপনি যেহেতু একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোক সেহেতু যা বলার সোজাসুজি আরেফাকে বলুন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন কী করতে হবে।
নুসরাত জাহান
উত্তর শাহজাহানপুর, ঢাকা
আমার বয়স ২৫ বছর। সমস্যা হলো নতুন কোনো খবর শুনলে ভীষণ ভয় লাগে। কোনো নেতিবাচক কিছু সহ্য করতে পারি না। নিজের বা অন্যের কোনো কষ্ট দেখলে মনে হয় এটা আর কখনও ভালো হবে না। সব ধরনের মানুষের সাথে মিশতে ভালো লাগে না।
আপনার এক ধরনের সামাজিক ভীতি আছে। আপনি ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম সকালে ১টা রাতে ১টা করে সেবন করুন। এক মাস পরে দেখা করুন।
প্রকাশ দাশ শাহ
আব্দুল করিম রোড, যশোর
আমার সমস্যা হলো আমি অনেক দিন ধরে মাথাব্যথার সমস্যায় ভুগছি। আগে লক্ষ রাখতাম ঘুম থেকে উঠলে প্রচণ্ড মাথাব্যথা হতো। এখনো ঘুম থেকে উঠলে মাথাব্যথা বাড়ে। তবে আগের তুলনায় এখন একটু কম হয়। কয়েক দিন ধরে লক্ষ করছি খাওয়ার পর ব্যথা বাড়ে। বমি বমি মনে হয় তবে কোনো দিন বমি হয়নি। মাথাব্যথা যখন বাড়ে তখন খুব ঘুম আসে। শরীর সব সময় দুর্বল মনে হয়। তবে খাওয়ার পর শরীর অবশ অবশ লাগে। মনে হচ্ছে আমি দিন দিন অলস হয়ে যাচ্ছি। কোনো কাজের প্রতি আগ্রহ হয় না। পড়াশোনা করতে ইচ্ছা হয় না। এই মাথাব্যথার জন্য আমি ভালো পড়তে পারি না। এর জন্য আমার অনার্সের ১ম বর্ষের পরীক্ষা খুব খারাপ হয়। তখন থেকে পড়তে বসলে মনে হয় এক বছর পড়ে কী রকম পরীক্ষা দিলাম। সব সময় মনে হয় আমি অনার্স পাস করতে পারব না। মাঝে মাঝে মনে হয় পড়া ছেড়ে দেব। পরীক্ষার কথা মনে এলেই নিজেকে খুব ছোট মনে হয়। সবাই ভালো পরীক্ষা দিল আমি খারাপ করলাম কেন? সব সময় অসহ্য লাগে। আমি ডাক্তার দেখিয়েছিলাম প্যারাসিটামল, অ্যান্টিবায়োটিক খেতে দিয়েছিল কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এরপর মাথার এক্স-রে করাই কিন্তু ডাক্তার বলে তেমন কিছু না। ওষুধ খেলে সেরে যাবে। আপনি আমাকে পরামর্শ দিয়ে চিন্তামুক্ত করবেন।
আপনি ট্যাবলেট অ্যামিট্রিপটাইলিন ২৫ মিলিগ্রাম রাতে ১টা করে খেতে পারেন। এতে না কমলে আপনার কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে সে ক্ষেত্রে আপনি আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
মো. নজরুল ইসলাম
খিলক্ষেত, ঢাকা
আমার বয়স ২৫ বছর। অবিবাহিত, ছাত্র। আমার সমস্যা প্রায় ৩-৪ বছর থেকে। সমস্যা হলো পরীক্ষাভীতি যেমন-পরীক্ষা হলে সমস্ত শরীর কাঁপতে থাকে। জানা প্রশ্নের উত্তরও ভুলে যাই। ভয়ে পর পর দুববার ডিগ্রি পরীক্ষার আগের দিন পরীক্ষা বাতিল করে দিয়েছি। প্রিপারেশন প্রচুর ভালো থাকলেও তিন চার দিন আগে থেকেই শরীর কাঁপতে থাকে। পরীক্ষা নিয়ে সারাক্ষণ টেনশনে থাকি। পরীক্ষা হলে ভয়ে চোখে ঝাঁপসা দেখি, নকল তো দূরের কথা জানা জিনিসও সম্পূর্ণ লিখতে পারি না, পরীক্ষা হলে হাত মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। পরীক্ষার দু-তিন দিন আগ থেকেই চিন্তায় বিষণ্নতারোগী হয়ে যাই। আমার শরীরে এ সমস্যা ছাড়া অন্য কোনো রোগ তেমন নেই। মাঝে মাঝে শুধু পড়ার সময় মাথা গরম হয়ে যায়। উল্লেখিত সমস্যার সমাধান দিলে আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব এবং সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিয়ে নিজের জীবন গড়তে পারব।
পরীক্ষাভীতি আমাদের সমাজে অনেকেরই আছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি অনেকেই জিনিসটি বুঝতে পারেন না। অথচ পরীক্ষার পূর্বে সামান্য কতগুলো কাজ করলে বা ওষুধ খেলে এ রোগ চলে যায়। জীবন থেকে একটা বছর নষ্ট হয় না। আপনি ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে চার ভাগের এক ভাগ, রাতের বেলা অর্ধেক খেতে থাকুন। পরীক্ষার দুমাস পূর্বে বিহেভিয়ার থেরাপির জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
জামান
নয়াপাড়া
আমার বয়স ২৮ বছর। ৩-৪ বছর আগে আমি দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য মনস্থির করি। তখন ঢাকায় একজন ডেলিগেটের সাথে দেখা করতে হবে। দেখা করার তারিখ যত কাছে আসে আমি অসুস্থ হতে থাকি। মনের মধ্যে একটা নার্ভাসনেস, ভয় চলে আসে কী করে যাব ইত্যাদি। আমার খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। হাত-পা অবশ হয়ে যায় বুকে এসিড হয়ে জ্বালা-পোড়া করতে থাকে। ঘুম হয় না, মুখ কালো ফ্যাকাশে। সবচেয়ে দুঃখজনক আমি যে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি তা আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু কাউকে বলতে পারছি না। তারপর অনেক ডাক্তার সবাই গ্যাস্ট্রিক জাতীয় ওষুধ ধরিয়ে দেয়। আমার সমস্যা শুধু আমি বুঝতে পারি। এখনো মাঝে মাঝে এ সমস্যা হচ্ছে। আজ ভালো তো কাল খারাপ। ২ মাস পর আমার আবার বিদেশ যাওয়ার একটা সুযোগ আসছে আমার বিশ্বাস আগের মতো আমার অবস্থা হবে। এখন থেকেই আমার মনের ভেতরে তোলপাড় আরম্ভ হয়ে গেছে। হয়তো এবার আমাকে স্বেচ্ছায় এ ভুবন ছেড়ে চলে যেতে হবে। আপনি যদি নিশ্চয়তা দেন ভালো হব তবে আমি আপনার সাথে দেখা করতে চাই। যোগাযোগের ঠিকানা দেবেন।
আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের ঠিকানা হলো-মনোজগত সেন্টার, ২য় তলা, রোড নং-৪, বাড়ি নং-৫, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৫, ফোন ঃ ০১৭১৫-১৭৮৮৮৮, ০১৮১৯-২৪০০০০, ৯৬৬২৪৭৫।
এম খালিক
শিমুলতলা, সিলেট
আমার স্ত্রীর বয়স ১৯ বছর। গত দেড় মাসের মধ্যে ঋতুস্রাব হয়নি। বর্তমানে ওর মাথা ঘোরে এবং বুক কাঁপে। তবে বুকে কাঁপন মাত্রা একটু বেশি। কাঁপুনিটা কিন্তু সব সময় নয়। যখন কাঁপন ওঠে সে সম্পূর্ণ দুর্বল হয়ে পড়ে, স্বাস্থ্যহীনতাও আছে। কাঁপনের ফলে কোনো কোনো সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। খাবার রুচি খুবই কম। নববিবাহিত ওর এমতাবস্থার জন্য মন সার্বক্ষণিক খারাপ থাকে। এখন আমাকে দয়া করে ভালো একটি পরামর্শ দিন যাতে দাম্পত্য জীবন সঙ্গীকে নিয়ে গড়ে তুলতে পারি।
আপনার স্ত্রীর শারীরিক সমস্যা আছে কিনা আগে পরীক্ষা করে নিন। আপনি ঢাকায় একজন ভালো মেডিসিন বিশেষজ্ঞকে দেখান।
সোমা
গ্রীনরোড, ঢাকা
আমার বয়স ২১ বছর। আমি বিএ পরীক্ষার্থিনী, অবিবাহিতা। আমি একটি সমস্যার কারণে ভীষণ হীনমমন্যতায় ভুগছি। আমার স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালো কিন্তু আমার স্তন একেবারে ছোট। একদম স্ফীত হয়নি, দেখতে ছেলেদের বুকের মতো। এ নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছি। অন্য বান্ধবীরা তিরস্কার করে। খুব লজ্জা পাই। এখন আমি কী করব, আমার তো বিয়ে হবে না। এদিকে আমার ছোট বোনের অবস্থা ঠিক বিপরীত। ওর বয়স ১৪ বছর, ক্লাস সেভেনে পড়ে। ওর স্তনদ্বয় এখনই খুব বেশি বড় হয়ে গেছে। সাইজ ৩৬। ওকে এত বড় স্তনে বিশ্রী দেখায়। প্রতি রাতে ও আমাকে জ্বালায়। ওর স্তন টিপে দিতে হয়। না দিলে ও আমাকে কামড়ায়। ও আমার স্তন টিপে দেয় কিন্তু আমার স্তন বড় হচ্ছে না। শুধু ওরটাই বড় হচ্ছে। ওর এত বড় স্তন নিয়ে মোটেই মাথাব্যথা নেই। পোশাকে অশালীন। আপনার পরামর্শ চাই।
স্তনের আকার কতকটা জিনের ওপর নির্ভরশীল। শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মতো এর আকার নির্ধারিত হয়। তবে অতিরিক্ত চর্বি, মেদবহুল শরীর, চর্বিযুক্ত খাদ্য শরীরে চর্বি জমিয়ে দেয় ও স্তনের আকার বাড়াতে পারে। বিদেশে স্তনের আকার বাড়ানো বা কমানোর জন্য এক ধরনের সার্জারি আছে তাকে বলে কসমেটিক সার্জারি। আমাদের দেশে কসমেটিক সার্জনদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
জাহেদ আহমদ
চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৪ বছর। বিগত প্রায় ২ বছর যাবৎ এক মারাত্মক মানসিক সমস্যায় ভুগছি। মাঝে মাঝে মানসিক উদ্বিগ্নতা এমনভাবে বৃদ্ধি পায় যে, একা ঘর থেকে বের হতে পর্যন্ত ভয় লাগে। কলেজে ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছি না। ক্লাস করার সময় মনে হয় আমি পড়ে যাব। মনের মধ্যে সব সময় ভয় ভয় লাগে। ভয় যখন বেশি লাগে তখন বুকের ভেতর মারাত্মক ধড়ফড় করে। ডাক্তার সাহেব আমি এ মানসিক যন্ত্রণা হতে মুক্তি চাই।
আপনার অসুখটির নাম সোশ্যাল ফোবিয়া বা সামাজিক ভীতি। আপনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে মানসিক রোগ বিভাগে দেখাতে পারেন।
জাফর সিদ্দিকী
বিয়ানীবাজার, সিলেট
আমার ঘুম হয় না, ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। কোমরে ব্যথা, শরীর সব সময় দুর্বল থাকে। আমি অবিবাহিত, সব সময় মনের দুশ্চিন্তা বিষণ্নতা লাগে। আমি দীর্ঘ ৭ বছর এই রোগে ভুগছি। আর কোনো কাজে মন বসে না। প্রতিদিন একটি মেয়ের কথা মনে পড়ে।
আপনার বিবাহের বয়স হলে বিয়ে করে ফেলুন। অযথা চিন্তা-ভাবনা না করে সকাল-সন্ধ্যা এক মাইল করে দৌড়ান। গঠনমূলক কোনো কাজে লেগে যান।
দেবু সরকার
নয়ামাটি, নারায়ণগঞ্জ
আমার বয়স ৩০ বছর। মাথার খুশকি স্থায়ীভাবে নির্মূল করা যায় কি না? আপনাদের মাঝেই দুই ধরনের কথা জেনেছি। ১ম সম্ভব ২য় অসম্ভব বা নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়। কোনটা ঠিক। আমার মাথার চুল পড়ে গেছে। তা পূরণ করার কোনো পদ্ধতি স্বল্প খরচে করা যায় কি? আপনার সাথে দেখা করতে চাই কিন্তু আপনার সমমানী আমার মতো মধ্যবিত্ত লোকের কাছে বাহুল্য খরচের মতোই, তাহলে আমরা কি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত থাকব। খুশকির জন্য ‘পলিটার লিকুইট’ ব্যবহার করছি লাভ হয়নি।
আপনি চর্মরোগ চিকিৎসার জন্য একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন।
মো. নুরুল ইসলাম
তেজকুনিপাড়া, ঢাকা
আমার বয়স ২১ বছর। সমস্যা হলো দুবছর আগে হতে আমি এ সমস্যার সমমুখীন। সমস্যাটা হঠাৎ করে আবিষকার। আমি সব সময় আমার মাথার ভেতরে এক ধরনের শব্দ অনুভব করি। অনেকটা ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকের মতো। সব সময় এবং সারাক্ষণ এটা অনুভূত হয়। এই জন্য আমি একজন নিউরোসার্জনের পরামর্শ চাই। তিনি আমাকে টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম খেতে দিয়েছেন। দু মাস পর অবস্থার উন্নতি না হলে উনি আমাকে একজন সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে পাঠান। উনি আমাকে প্রথমে ট্যাবলেট ইনডেভার ১০ মিলিগ্রাম এবং লেক্সোটানিল ৩ মিলিগ্রাম খেতে দেন ৫ মাস পর আবার সাক্ষাৎ করলে আমাকে অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম দেন। এতেও আমার সমস্যার সমাধান হয়নি। আমি কোলাহল সহ্য করতে পারি না, মানে শব্দ আমাকে দারুণভাবে বিরক্ত করে। এমনকি রুমমেটদের পড়ার শব্দও আমাকে বিরক্ত করে। আমি ধোঁয়া, বিশেষ করে সিগারেটের ধোঁয়া মোটেও সহ্য করতে পারি না। পড়াশোনায় মনোযোগী নই, মানে পড়তে বসলে বেশিক্ষণ পড়তে পারি না। দৈনিক ৮-৯ ঘণ্টা ঘুমাই, যখন ইচ্ছা তখন ঘুমাতে পারি তবে মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রমও ঘটে। নামাজ পড়ার সময় আজেবাজে চিন্তা মাথায় আসে, এ জন্য মানসিকভাবে কষ্ট পাই। গত বছর ভর্তি পরীক্ষায় কোথাও সুযোগ পাইনি, সে জন্য আত্মবিশ্বাস হারিয়েছি, সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি। আমি দৃঢ়চেতা নই, মানে এটা করবই এ রকম ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও করা হয় না। দয়া করে আমাকে পরামর্শ দেবেন।
আপনার অসুখটির নাম অবসেশন। আপনি ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম সকালে ১টা রাতে ১টা করে খেতে থাকুন এবং ট্যাবলেট ক্লোফ্রানিল রাতে ১টা করে খান। এক মাস পরে ফলাফল জানান।
জাকির
ওমান
আমি বিগত ১০ বছর ধরে ডিপ্রেশনে ভুগছি। বর্তমানে আপনার নির্দেশমতো ওষুধ খাচ্ছি। এরপর উপকারও হয়েছে। বর্তমানে আমার ঘুম ও খাওয়া ঠিক আছে বমি ভাবও নেই। আমি মোটামুটি সুস্থ আছি। আপনার দেয়া ওষুধ আরও ১৫-২০ দিন চলবে। এখন আমি কী করব এবং কীভাবে ওষুধ খাব, কত দিন খাব, আপনার নির্দেশ কামনা করছি। বর্তমানে আমার বিপি ১২০/৯০ এখন কী কী খাব এবং প্রেসারের ওষুধ খাব কিনা। তবে বর্তমানে সব ওষুধ আপনার প্রেসক্রিপশন মতো খাচ্ছি।
ডিপ্রেশনের ওষুধ অনেক দিন খেতে হয়। ভালো থাকলে আমার দেয়া নির্দেশিত মাত্রায় এটি চালিয়ে যান। তবে এই অল্প প্রেসারের জন্য ওষুধ খাওয়ার দরকার নেই।
মোহামমদ আবুবকর
সৈয়দপুর, সুনামগঞ্জ
আমার বয়স ৪০ বছর, উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। শরীর হাল্কা পাতলা, গ্যাস্ট্রিক আছে প্রায় ৮ বছর ধরে। দিনে একবার অথবা কোনো সময় দুদিনে একবার পায়খানা হয়, মাঝে মধ্যে পায়খানা খুব কঠিন এবং কুঁত দিয়ে পায়খানা করতে হয়। আমার আসল সমস্যা হলো যে, আমি সপ্তাহে একবার অথবা কোনো সপ্তাহে দুবার গোসল করি। সপ্তাহে যেহেতু দুএকবার গোসল করি তাই শরীরের জন্য কোনো ক্ষতি হয়েছে কি? আশা করি সঠিক সমাধান দেবেন।
প্রতিদিন গোসল করা ভালো স্বাস্থ্যের লক্ষণ। আপনার শারীরিক কোনো সমস্যা নেই সেই জন্য কোনো দুশ্চিন্তা করবেন না।
মো. রেজাউল করিম
বনানী, ঢাকা
আমার বয়স ১৮ বছর। আমার সমস্যা দুটি। (১) সবকিছু খুব অল্প সময়ে ভুলে যাই এবং বই পড়ার সময় ৫ মিনিটের বেশি মনোযোগ থাকে না। বেশি পড়তে গেলে মাথা গরম হয়ে যায়। (২) আমার ৪ মাস থেকে ঘুমের সময় কোনো স্বপ্নদোষ হয় না। ৪ মাস আগে আমি যখন বিছানায় শুতাম সেই সময় সেক্স উঠত তখন আমি বিছানায় গড়াগড়ি করতাম এর মধ্যে ১ মিনিট হতে না হতেই বীর্য বের হয়ে যেত। প্রস্রাব করতে গেলে সাদা পানির মতো বের হতো কিন্তু বর্তমানে এটা নেই আর যখন বীর্যপাত হতো সেই সময়ই মন খুব হতাশ হতো। স্বাস্থ্য বা আমার মুখমণ্ডল বসে গিয়েছে আমাকে দেখলে সবাই বলে ছেলে সন্তানের পিতা কিন্তু আমি অবিবাহিত। এখন কী ব্যবস্থা নিলে স্বাস্থ্য ভালো হবে।
আপনার অসুখটির নাম ধাত সিনড্রম। আপনার উচিত সুস্থ স্বাভাবিক জীবন-যাপন করা। শরীর, স্বাস্থ্য, বীর্য ইত্যাদি নিয়ে দুশ্চিন্তা না করাই ভালো।
কান্ত মনি সিংহ
কাটাবিল, মৌলভীবাজার
আমার বয়স ৬০ বছর। আমার সমস্যা হলো ডান হাত নড়াচড়া করলে ব্যথা পাই, কাঁধের দিকে নাগাল করতে পারি না, কোনো জিনিস তুলতে কষ্ট হয় এবং বাম হাতেও একই ভাব দেখা দেয়। হাতের পাতার জোড়াতে ব্যথা, কোনো জায়গাতে ভর করতে পারি না, ভর করলেই ব্যথা পাই (৪ বছর ধরে)। ডান ও বাম হাঁটুতে খুব ব্যথা, নীরবে থাকলে আরাম পাই, নড়াচড়া ও চলাফেরা করতে ভীতি কারণ ভূপাতিত হয়ে যাব বলে। পায়ের পাতায় কিছু কিছু ব্যথা পাই (একই সময় ধরে)। চোখে খুব ঝাপসা এবং দৃষ্টিশক্তি কম; পায়খানা, প্রস্রাব, ঘুম এবং খাওয়া-দাওয়াতে কোনো অসুবিধা হয় না। প্রথম এবং দ্বিতীয় সমস্যার ‘ভল্টারিন’ ইনজেকশন ৭টি এবং অসংখ্য ট্যাবলেট সেবন করা হয়েছে তাতে কোনো লাভ হয়নি। আশা করি পরামর্শ দেবেন।
আপনি হাড় জোড়ারোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে পারেন। আশা করি উপকৃত হবেন।
নয়ন
ধনিওয়ালাপাড়া, চট্টগ্রাম
বর্তমানে আমার বয়স ২৪ বছর। ১৪-১৫ বছরে কুসংসর্গে পড়ে মাস্টারবেশনের অভিজ্ঞতা লাভ করি। অনেক ডাক্তার দেখানোর পর কোনো ফল পাইনি। শেষে যৌন ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখাই। তিনি আমার প্রস্টেইট মর্দন ও টেনশনের ওষুধ দেন। ফলে আমার সমস্যার অনেকাংশ সমাধান হয়, তবে বর্তমানে কিছু সমস্যা এখনো বিদ্যমান। দিনে এখনো ১০-১২ বার প্রস্রাব হয়। রাতে ঘুম কম হয়। স্বপ্নদোষ হলে পরের দিন ঘুম কম হয়। চুল উঠে বর্তমানে সম্পূর্ণ মাথা প্রায় টাক অবস্থা। কী কারণে বর্তমানে প্রস্রাব বেশি এবং ঘুম কম হয় জানালে অত্যন্ত উপকৃত হব। আপনার মনোজগতের প্রতিটি সংখ্যা আমার কাছে আছে। রক্ত ও প্রস্রাব টেস্ট করেছি কোনো সুগার পাওয়া যায়নি।
প্রস্রাব বেশি ও ঘুম কম টেনশন রোগে হতে পারে। আপনি ট্যাবলেট লেক্সোটানিল ৩ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক করে খেতে থাকুন। এক মাস পরে ফলাফল জানান।
কৃষ্ণ সাহা
দক্ষিণ কান্দাপাড়া, নরসিংদী
আমার বয়স ২৫ বছর। সব সময় কোনো না কোনো চিন্তায় অস্থির থাকি। বিশেষ করে অর্থনৈতিক অনিরাপত্তার কারণে পেশাগত কাজে খুব সতর্কতা অবলম্বন করি। কোনো কাজ করার পর সেই কাজটি সঠিকভাবে হয়েছে কি না তা নিয়েও দুশ্চিন্তা করি। মনে মনে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি যেমন-কেউ আমাকে একটা জিজ্ঞাসা করবে এবং আমি তার উত্তর দেব। এই চিন্তা করতে করতে অস্থির, উত্তেজিত ও দুর্বল হয়ে পড়ি। তখন আমার বাঁ দিকে ব্যথা হয় বুকে ও পিঠে। দয়া করে আমি আপনার মূল্যবান পরামর্শ চাই।
আপনার সমস্যাটির নাম টেনশন। আপাতত ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে সেবন করুন।
তানু রহমান
দিরাই, সুনামগঞ্জ
আমার বয়স ১৬ বছর। আমার সমস্যাবলি আমার ছোট বোনের তিন বছর যাবৎ চোখের ভেতর টুকরো টুকরো লাল রঙের মতো হয়ে আছে। আমি অনেক সময় বলি ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য কিন্তু যায় না। এ নিয়ে আমার চিন্তা হয়। সকালে রোদ্রে থাকে বেশি যখন মাথাব্যথা ওঠে তখন চিৎকার করে কাঁদে, চোখ লাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথাব্যথার সৃষ্টি হয়েছে প্রায় তিন বছর ধরে। সে অনেকবার মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে যেমন-মাথার মধ্যে একবার একটি বাঁশ পড়েছে এবং বড় ধরনের আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। আরও অনেকবার আঘাত পেয়েছে। এই রকম আঘাতে কি মাথার কোনো ক্ষতি হয়। আমি জানতে চাই মাথায় এ রকম বাঁশ বা লাঠির প্রচণ্ড আঘাত হলে কী করা উচিত।
আপনি আপনার বোনের সমস্যা নিয়ে প্রথমে একজন চোখের রোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করুন।
সেলিমুর রহমান
মীরের ময়দান, সিলেট
আমার বয়স ১৯ বছর। আমি ছোটবেলা থেকেই কারো সাথে বেশি মিশতাম না। বেশির ভাগ সময় একা একা থাকতাম। এখন আমি কলেজে পড়ি, কিন্তু এখন ইচ্ছা করেও কারো সাথে মিশতে পারি না। কারো সাথে কথা বলতে গেলে মুখ দিয়ে কথা বেরোয় না। কী কথা বলব তা ঠিক করতে পারি না, বিশেষ করে কোনো অপরিচিত লোকের সাথে একেবারেই কথা বলতে পারি না। অথচ একা একা থাকলে অনেক কথা মনে আসে, কার সাথে কী করে কথা বলব, কী কী কথা বলব সব মনে আসে। কিন্তু কারো সামনে গেলে সব কথা ভুলে যাই। মেয়েদের সাথে একেবারেই কথা বলতে পারি না, তাদের সামনে দাঁড়াতেই ভয় হয়। আমার এই স্বভাব নিয়ে খুব চিন্তায় আছি, কী করে সবার সাথে সহজে মিশতে পারব, কথা বলতে পারব তা আমাকে পরামর্শ দেবেন।
আপনার অসুখটি সামাজিক ভীতি। সামাজিক ভীতি রোগের চিকিৎসা হচ্ছে যে কাজে বেশি ভয় তা বেশি বেশি করে করা। একে বলে এক্সপোজার টেকনিক।
মো. মোমিনুর রহমান
শিবগঞ্জ, বগুড়া
আমার বয়স ১৭ বছর। আমার সমস্যা হলো-আমার হাতের তালু এবং পায়ের তালু ঘামে এটা প্রায় কয়েক বছর হলো। এর প্রভাব শীতকালে বেশি পড়ে, যার কারণে হাত দিয়ে কোনো কাজ করতে গেলে দারুণ অসুবিধা হয়। এর আগে আমি একজন ডাক্তারকে বললে তিনি বলেন যে এটা সাধারণত ক্যালসিয়াম বা ভিটামিনের অভাবে হয়ে থাকে। আমি মাঝেমধ্যে অপসোভিট বা অ্যারিস্টোভিট ভিটামিন খেতে থাকি। কিন্তু কোনো ফল পাইনি। এদিকে স্বপ্নদোষ আছে। আমার শরীর সব সময় গরম থাকে। এক পর্যায়ে আমি মনে করেছিলাম যে শরীরে জ্বর আছে, পরীক্ষা করে ডাক্তার বলেন তোমার শরীরে জ্বর নেই। শরীরে যদি জ্বর না থাকে তাহলে শরীর এত গরম থাকার কারণ এবং যার ফলে শরীর একটু পরিশ্রমে ঘামে এবং ঘামের খুব গন্ধ হয়। আমার যারা সহপাঠী আমি তাদের সাথে চলাফেরা করতে পারি না এই কারণে। আমার অনুরোধ আমাকে সঠিক পরামর্শ দেবেন।
আপনার অসুখের জন্য টি৩ টি৪ ও টিএইচএস পরীক্ষা করতে হবে। যদি পরীক্ষা স্বাভাবিক থাকে তবে ট্যাবলেট লোনাজেপ ৩ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক খেতে থাকুন। এক মাস পরে ফলাফল জানান।
মো. জজ মিয়া
টংগী সরকারি কলেজ
আমি একজন ছাত্র। আমি বিকম পরীক্ষার্থী, আমার বয়স প্রায় ২৩ বছর। আমার সমস্যা হলো ব্যথা। ব্যথাটা কোমরে ও মেরুদণ্ডসহ পিঠে। ব্যথার কারণে আমার চেয়ারে বসে পড়া খুব কষ্ট হয়। অনেকক্ষণ বসে থাকলে বা কোনো কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লে ব্যথায় অস্থির হয়ে যাই। বিশেষ করে পরীক্ষাস্থলে বসে থাকলে, জুমার নামাজে বসে থাকলে, পড়ার টেবিলে বসে থাকলে, বসে কিছু কাপড় কাঁচলে কোমরসহ পুরো মেরুদণ্ড ব্যথা করে। ব্যথাটা ২৪ ঘণ্টা থাকে। বেশি টেনশন, বসা ও কাজ করলে বেড়ে যায়, কোনো জায়গা থেকে জার্নি করে এলে প্রচুর ব্যথা অনুভব হয়। কোমরের একটু ওপরের দিকে মেরুদণ্ডের দুপাশের যে রগগুলো আছে সেখানে ব্যথাটা বেশি অনুভব হয়। ব্যথার যন্ত্রণায় কোমর মোচড় দিয়ে নড়াচড়া করতে মন চায়। ইদানীং আবার ঘাড়ের দুপাশের রগেও ব্যথাটা অনুভব হয়। ঘাড় নাড়াচাড়া করলে ও নুয়ে থাকলে প্রচুর ব্যথা হয়। ব্যথার কারণে ঘাড় ও মোচড় দিয়ে নাড়াচাড়া করতে মন চায়। বন্ধুরা দেখলে বলে তোর কি ঘাড় ও কোমর নাড়াচাড়া করার বদ অভ্যাস আছে নাকি। তখন আমি বলি ব্যথার যন্ত্রণায় আমার এমন করতে মন চায়। আমার ব্যথাটা প্রায় ২-৩ বছর যাবৎ। প্রথমে কম ছিল, বর্তমানে ব্যথাটা বেশি। এলাকার ডাক্তারের নিকট থেকে অনেক পেইনের ওষুধ খেয়েছি কিন্তু ব্যথা কমেনি। ডাক্তারের পরামর্শে কোমরে ২টি এক্স-রে করেছি, রক্ত পরীক্ষা করেছি পরীক্ষাতে কোনো ত্রুটি ধরা পড়েনি ফলাফল স্বাভাবিক। আমার ব্যথাটা কেন ডাক্তাররা নির্ণয় করতে পারল না এখন আমি খুব চিন্তিত।
আপনি অবিলম্বে মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
মো. মনিরুল ইসলাম
দক্ষিণ কাফরুল, ঢাকা
আমি বেশিক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকলে পা ঝিন ঝিন করে ও পায়ের গোড়ালি হতে হাঁটু পর্যন্ত ব্যথা করে। মাঝে মাঝে মেরুদণ্ডও ব্যথা করে, হাতের তালু সব সময় ঘামতে থাকে এবং শরীরে প্রচুর ঘাম হয়। একটু দৌড় দিলে ও পরিশ্রম করলে হাঁফিয়ে উঠি। বেশি উত্তেজিত হলে বুক ধড়ফড় করে, দৈনিক ৫-৭ বার প্রস্রাব হয়। প্রস্রাব করে দাঁড়ালে মনে হয় আরো প্রস্রাব রয়ে গেছে। প্রস্রাব নিঃসরণ হয় না পরে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব পড়ে। আরেকটা সমস্যা পানিতে নামলে ও গোসল করলে প্রস্রাবের বেগ হয়। হাত পা জ্বালা পোড়া করে, শরীর বেশি ভালো নয়, আমার বয়স ২৭ বছর। স্বাস্থ্য হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখি না। আমি যে কোনো পুরুষ বা মহিলার শরীরের সাথে মিশি না। কেন আমার শরীর ঠান্ডা অনুভব হয়। স্ত্রী সহবাসে বেশি সময় দিতে পারি না, শুক্র একেবারে তরল, এখন কী করব।
ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল রাতে ১টা করে এক মাস খাবার পরে ফলাফল জানান।
মো. ফারুক
গোবিন্দগঞ্জ. সিলেট
আমার বয়স ১৮ বছর। আমার সমস্যা হচ্ছে যে কোনো কথা যদি বিকেলে শুনে থাকি সকালে সে কথা আর মনে থাকে না। এভাবে প্রায়ই কথা আমার মনে থাকে না। একটু ক্ষুধা পেলে পেট ব্যথা করে, পড়তে বসলে পড়তে ইচ্ছা করে না। যদি কোনো কাজ বেশি জরুরি হয় তখন কী ছাড়ব কী করব এই জ্ঞান থাকে না। শুধু অস্থির মনে হয়। এই সব সমস্যা অনেক আগে থেকে। আমার এই সমস্যাগুলোর পরামর্শ চাই।
আপনি টেনশননাশক ওষুধ ক্যাপসুল নরট্রিলিন ১০ মিলিগ্রাম সকালে, বিকেলে ১টা করে সেবন করুন। ১ মাস পরে ফলাফল জানান।
ফরিদ
বিকে পাড়া, কিশোরগঞ্জ
আমি দীর্ঘদিন যাবৎ মানসিক রোগে ভুগছি। আমার সমস্যা হলো নিস্তেজ, উদাসীনতা, ক্লান্তি, চেতনার অসপষ্টতা, মানুষের সাথে কথা বলতে অনিচ্ছা, অনাগ্রহ, অবসাদ, বিরক্তি, নিষিক্রয়তা, উদ্যমহীন ইত্যাদি। এ ব্যাপারে স্থানীয় ময়মনসিংহ মেডিকেল ছাড়াও ঢাকা পিজি, মিটফোর্ট হাসপাতালের অনেক মানসিক রোগের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কোসিয়াম, পারকিনিল, লারগেকটিল, সিজোপিন, অ্যামিট্রিপটাইলিন, মেলিপ্রামিন, রিলাক্সেন, প্রদীপ, নিরাক্সোইট, মেলিরিল ইত্যাদি অনেক অনেক ঘুম জাতীয় ওষুধ খেয়েও কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমি এখন সাইকোথেরাপি চিকিৎসা করতে চাই। আপনার কাছে জানতে চাই আপনি কোন কোন সাইকোথেরাপির সাহায্যে চিকিৎসা করেন। আর কোনটার ফি কত এবং এ ব্যাপারে আপনার সাথে কোথায় যোগাযোগ করব দয়া করে জানাবেন।
আপনি মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করে জেনে নিন এবং বিশেষ প্রয়োজনে ৯৬৬২৪৭৫, ৮৬১৩৭৮৬, ০১৮১৯-২৪০০০০, ০১৭১৫-১৭৮৮৮৮ এই নম্বরগুলোতে ফোন করেও তথ্য পেতে পারেন।
শাহীনুর বেগম
বামনগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর
আমার বিয়ে হয়েছে দীর্ঘ ৫ বছর হলো। বিয়ের পর আমার স্বামী ৫ বছরের আগে বাচ্চা নেবে না বলে আমাকে পরপর দুই পাতা ওভাস্টেটও খাওয়ায়। তারপর শ্বশুর-শাশুড়ির পীড়াপীড়িতে বাচ্চা নেয়ার জন্য স্বামীর সাথে একমত পোষণ করি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমি দীর্ঘ পাঁচ বছর বিবাহিত জীবনে সন্তানের মা হতে পারলাম না। আমার প্রথম সমস্যা হলো অনিয়মিত মাসিক, ২য় মাসিকের আগে তলপেট প্রচুর ব্যথা থাকে, ৩য় অতিরিক্ত সাদা স্রাব হয়, ৪র্থ যৌনাঙ্গের চারপাশে চুলকায় দৈনিক ৮-১০ বার প্রস্রাব হয়। প্রস্রাব বেশিক্ষণ আটকিয়ে রাখতে পারি না। ৫ম হাত-পা জ্বালাপোড়া, ৬ষ্ঠ সহবাসে প্রচুর জ্বালাপোড়া, ৭ম দিন দিন স্বাস্থ্য শুকিয়ে যাচ্ছে, ৮ম ক্ষুধামান্দ্য ও শরীর দুর্বল সারাদিন শুয়ে থাকতে মন চায়। তাই আপনার নিকট সমাধান চাই।
আপনি আপনার স্বামীকে নিয়ে নিকটস্থ কোনো মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করুন।
সেলিম খান
স্টেশন রোড, শ্রীমঙ্গল
আমার বয়স ৩২ বছর অবিবাহিত। আলসার, বমিভাব, অরুচি, দেরিতে ঘুমানো ৪-৫ বছর ধরে। ঘুম দুপুরে ভালো হয় শুধু ঘুমাতে ইচ্ছা হয়। রোগা পাতলা গড়ন, ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতা, ওজন ৪৮ কেজি, শরীর দুর্বল ফ্যাকাশে, কাজে অমনোযোগী ৪ বছর পায়খানা সমস্যা। কখনো পাতলা কখনো শক্ত, লিভার সমস্যা। ২ বছর আগে রক্তসহ কৃমি, বর্তমানে নেই। স্কিন সমস্যা কয়েক বছর ধরে পায়ে ছত্রাক, দাগ বসে গেছে মাথায় খুশকিজনিত চুলকানোর ফলে ঘা ও গোজ ফুলে গেছে। দুশ্চিন্তা ও হতাশা, খারাপ অভ্যাস কম, স্মরণশক্তি কম। বর্তমানে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাধীন।
ট্যাবলেট লুডিওমিল ২৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা রাতে ১টা করে সেবন করুন। ১ মাস পর ফলাফল জানান।
আনোয়ারা
পাকুন্দিয়া
একটি সমস্যার জন্য খুবই নিরুপায় হয়ে আপনার কাছে পরামর্শ চাইলাম। দয়া করে পরামর্শ দিলে খুবই উপকৃত হব। সমস্যাটা আমার নয়, আমার মায়ের। অল্পদিন পর পর অধিক রক্তস্রাব হয়, তখন শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। রক্ত দুর্গন্ধযুক্ত, মাঝে মাঝে রক্তের রং হয় কালচে। পেটে তখন খুব ব্যথাও অনুভব হয়। স্থানীয় ডাক্তার দ্বারা ওষুধ খাওয়ালে কিছুটা উপকার হয় কিন্তু কিছুদিন পর আবার শুরু হয়। ডাক্তার সাহেব আমি দেখলাম মনোজগত পত্রিকায় আপনি মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেন। দয়া করে বলবেন কী উপায়ে আমার মায়ের অসুখটি চিরতরে নির্মূল করা যাবে।
আপনি অবিলম্বে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
আসাদগঞ্জ, চট্টগ্রাম
আমার একটি সমস্যায় আপনার দ্বারস্থ হচ্ছি। আমার বয়স ২৮ বছর। আমার সমস্যা হলো আমি ছোটবেলা থেকে বন্ধু নির্বাচনে সব সময় আমার থেকে বড় বয়সীদের বেছে নিতাম। কখনো সহপাঠীদের সাথে মিশতে ইচ্ছা হতো না। এখনো সমবয়সীদের সাথে মিশি না। সহপাঠী, সমবয়সীদের সাথে মিশলে মনে হতো আমার ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিচ্ছি, ব্যক্তিত্বহীন আমি। নিজেকে ছোট মনে হয়। তাই আমার কোনো সহপাঠী সমবয়সীদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠেনি। আমার বন্ধু বান্ধব সবাই আমার থেকে বয়সে বড়। এইচএসসি পড়ার সময় ২ বছর সিনিয়র এক আপুর সাথে চমৎকার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিন্তু ভালোবেসেছিলাম বুঝতে পারিনি, আপুও। তার পরিবার যখন তাকে বিয়ে দিতে চাইল তখন সে তার পরিবারকে আমার কথা জানাল। আমিও জানালাম, কিন্তু কেউ মেনে নেয়নি। জোর করে তাকে বিয়ে দিলেন অন্যত্র। তার স্বামী আমাদের সম্পর্ক জেনেছেন এবং পবিত্র জেনে তিনি মেনেও নিয়েছেন। যার ফলে বড় মানসিক বিপর্যয় থেকে আমি মুক্তি পেলাম কিন্তু নতুন করে সমস্যায় পড়লাম। এখন আমাকে বিয়ের ব্যাপারে পরিবার থেকে চাপ দিচ্ছে। পাত্রী দেখাচ্ছে সব আমার থেকে বয়সে ছোট। যা আমি মনের দিক থেকে মেনে নিতে পারছি না। উল্লেখ্য, আমার মা নেই। মা, বাবার দুটোরই স্নেহ দিয়ে আব্বু আমাকে মানুষ করেছেন। আব্বুর অবাধ্যও হতে পারছি না। মনের দ্বিধা-দ্বন্দ্বে যদি আমার থেকে ৭-৮ বছরের ছোট পাত্রীকে মেনে নিই তাহলে কি দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে পারব? এই মানসিক দ্বন্দ্ব থেকে কীভাবে মুক্তি পাব? এই মন-মানসিকতা কি কোনো রোগ? এর কি কোনো প্রতিকার নেই?
কম বয়সী মেয়ের সাথে দাম্পত্য সম্পর্কে কোনো প্রকার অসুবিধা হবে না। আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ।
শাহ নূর জামাল
উজমানপুর, সিলেট
আমার বয়স ২৪ বছর অবিবাহিত। আমার সমস্যা হলো শরীরে কোনো দুর্বলতা নেই। শরীরের সবগুলো অঙ্গ নিয়মমতো বড় এবং ঠিক আছে কিন্তু মুখটি ছোট এবং চোখ ও গাল ভেতরে। আমার দ্বিতীয় সমস্যা হলো ঘরের কাউকে যদি আমার কিছু কাজের কথা বলি সে যদি আমার কাজ না করে তবে ভীষণ রাগ হয়। আমাকে পরামর্শ দিলে খুশি হব।
রাগ নিয়ন্ত্রণ করা একটা বিশেষ ক্ষমতা। নিয়ন্ত্রণ করা শিখুন যখন রাগ হবে তখন একশ থেকে পেছনের দিকে এক পর্যন্ত গুনে আসুন। প্রথম সমস্যার জন্য কোনো আফসোস করবেন না এটি আল্লাহ প্রদত্ত।
রায়হান
শান্তিনগর, ঢাকা
আমার বয়স ১৭ বছর। আমি গত বছর ৮৭০ নম্বর পেয়ে এসএসসি পাস করি। কিন্তু আমি এক মারাত্মক সমস্যার শিকার। আমার সমস্যা হচ্ছে তোতলামি। তবে স্বাভাবিক সময়ে তা সাধারণ হয়ে যায়। কেবল সমীহ জানানো ব্যক্তিদের সাথে কথা বলার সময় এই সমস্যা দেখা যায়। আমার সামনে এইচএসসি পরীক্ষা। আমি আমার সমস্যার কারণে কোনো স্যারের বাসায় যেয়ে পড়তে পারি না। আমি এর আগেও দেখেছি যে মনোজগত হতে অনেক ব্যক্তি সুপরামর্শ পেয়েছে। তাই আমার প্রিয় পত্রিকার সমমানিত ডাক্তার সাহেবের কাছে আমার আবেদন আমাকে আমার সমস্যার সমাধান দেবেন।
তোতলামি সমস্যা আমাদের দেশে বেশ প্রকট। অনেক ক্ষেত্রে একটি উজ্বল ছেলের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যায়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি আমাদের দেশে সিপচ থেরাপিস্ট নেই। তবে আপনি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৩ বছর। শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল, বেশিক্ষণ লেখাপড়া করতে পারি না। লেখাপড়া করতে বসলে আজেবাজে সব চিন্তা মাথায় ঘুর ঘুর করে। হঠাৎ করে আমার পায়খানার সাথে রক্ত বেরুচ্ছে। প্রথমে সামান্য রক্ত দেখা গেলেও অনেকদিন পর আবার পায়খানার সাথে বেশ কিছু রক্ত বেরুচ্ছে। তবে তা মাঝে মাঝে, আমার খুব ভয় হচ্ছে। কখনো ডাক্তার দেখাইনি। উল্লেখ্য, এই রোগটা আমার আব্বারও আছে। সুপরামর্শ দিলে আনন্দিত হব।
ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম সকালে বিকেলে সেবন করুন ও ট্যাবলেট মেলিপ্রামিন ২৫ মিলিগ্রাম রাতে ১টি করে সেবন করুন। এক মাস পরে ফলাফল জানান।
আকাশ
বড় মগবাজার, ঢাকা
আমার বয়স ২৮ বছর, অবিবাহিত। আমার সমস্যা হলো-আজ থেকে প্রায় ৮-১০ বছর আগে আমার প্রবল হস্তমৈথুনের অভ্যাস ছিল, বর্তমানে আর নেই। বর্তমানে আমার সমস্যা হচ্ছে মেয়ে বান্ধবী আছে এবং আমরা দুজন খুবই ফ্রি। তার সাথে কয়েকবার আমি যৌনমিলন করতে যেয়ে প্রায় ব্যর্থ হয়েছি। প্রচুর শৃঙ্গার করেছি, তার পরেও পেনিস প্রবেশ করানোর সাথে সাথে আমার বীর্যপাত হয়ে গেছে এবং তার পরে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে পেনিস আর উত্থিত হয়নি। অথচ যখন মিলন করেছি তখন ছিল সুন্দর পরিবেশ, কোনো সমস্যা বা ভয়ের কারণ ছিল না এমনকি আমি মানসিকভাবেও কোনো শঙ্কায় ছিলাম না। আমি এখন কী করব অথচ বিয়ের বয়স হয়েছে বাড়ি থেকে বিয়ের কথা-বার্তা চলছে। এই মুহূর্তে কি বিয়ে করা ঠিক হবে? দয়া করে আমাকে সুপরামর্শ দেবেন এবং কী ওষুধ খেতে হবে পরামর্শ চাই।
আপনি সেক্স থেরাপির জন্য মনোজগত সেন্টারে এসে আমার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
মো. আব্দুল মালেক
ঢাকা কলেজ
আমার বয়স ২৬ বছর। আমার সমস্যা হলো আমার বন্ধু-বান্ধব আমাকে ঠাট্টার চোখে দেখে। আমার খারাপ নাম ধরে ডাকে। আমি অত্যন্ত ক্ষেপে যাই। ক্ষ্যাপা উচিত নয় জেনেও ক্ষেপি। আমি এখন মানসিক যন্ত্রণায় ভুগি, এই নিয়ে মনে মনে কাঁদি। আমি খুব পড়ূয়া। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে কম মিশি। নতুন করে বন্ধু সম্পর্ক গড়তেও পারছি না। দয়া করে জবাব দেবেন।
আপনার অসুখটির নাম ব্যক্তিত্বের সমস্যা। যতটা সম্ভব বন্ধু-বান্ধবদের সাথে মেশার চেষ্টা করুন, তাদের সাথে সহজ ভঙ্গিতে কথা বলুন। যারা আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করে তাদের সাথে আপনি ভালো ব্যবহার করুন। তাদের সাথে কথা বলুন, সম্পর্ক গড়ে তুলুন।



