সূর্যের আলোয় চলছে মোটরসাইকেল!
ক্লাস ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরছে দুটি চাকা, পিকআপ বাড়াতেই বাড়ছে গতি। বহনকারী মোটরসাইকেল নামক যন্ত্রটিতে মানুষও চড়েছে যথারীতি। তবে শুধু পার্থক্য মোটরসাইকেলটির সামনে-পেছনে রয়েছে সৌর সোলার। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এবার জ্বালানি তেল নয়, সূর্যের আলোতেই চলছে মোটরসাইকেল। অবিশ্বাস্য এই মোটরসাইকেলটি তৈরি করেছেন ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালীর আলী জোবায়ের (২৮) নামের এক লেদমিস্ত্রি। জোবায়েরের বিস্ময়কর ওই উদ্ভাবন নিয়ে সর্বত্র এখন চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সমগ্র উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজে প্রদর্শনী চলছে এ মোটরসাইকেলের। জ্বালানি তেলের দুঃসহ দাম থেকে মুক্তির আশায় স্বস্তির ছায়া নেমে এসেছে জনপদটিতে। সরজমিনে কামারখালী বাজারে জোবায়েরের গ্যারেজে গিয়ে দেখা যায়, সামনে-পেছনে সৌরপ্যানেল লাগানো মোটরসাইকেলটিকে ঘিরে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। জোবায়ের জানান, সম্পূর্ণ দেশী মালামাল দিয়ে তৈরি মোটরসাইকেলটিতে ২-৩ জন যাত্রী চড়তে পারবেন এবং ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে।
এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় ১ মাস, তবে এখন তিনি ১৫ দিনেই ১টি মোটরসাইকেল তৈরি করতে পারবেন বলেও জানান। এটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। তবে তিনি বলেছেন, ২৫-৩০ হাজার টাকায় এই মোটরসাইকেল তৈরি করা সম্ভব। আলী জোবায়ের তার উদ্ভাবিত সৌর মোটরসাইকেল সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ‘কৌতূহল থেকে ও তেলের দামের চিন্তা করে এ পরিকল্পনাটি আমার মাথায় আসে। কিন্তু ৩ বছর আগে আগুনে মালামাল পুড়ে যাওয়ায় সে সময় আর হয়ে ওঠেনি। এখন সুযোগ আসায় এটি তৈরি করলাম।’ কামারখালীর বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারা চৌধুরী বলেন, ‘মোটরসাইকেল তৈরির খবর পেয়ে জোবায়েরকে খবর দিয়ে নিয়ে এসেছিলাম কলেজে। ছাত্র-ছাত্রীরা এটি দেখতে ভিড় করে। এ মোটরসাইকেলটি বাজারে ছাড়তে পারলে দেশের অনেক টাকা বেঁচে যাবে। আমি জোবায়েরের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহবান জানাই।’
ব্ল্যাকহোল রহস্য!
গোলাপ মুনীর
ব্ল্যাকহোল মহাকাশের এক অনন্য রহস্য। হালকাভাবে বললে বলা যায়, ব্ল্যাকহোল হচ্ছে মহাশূন্যের সেই এলাকা, যেখানে অতিমাত্রায় এর পদার্থ এতটাই ঘনীভূত হয়ে আছে যে, এর আশপাশের বস্তুর কোনো উপায় নেই এর গ্র্যাভিটি বা মহাকর্ষ বলের টানকে উপেক্ষা করতে পারে। এই মুহূর্তে আমাদের কাছে সর্বোত্তম গ্র্যাভিটি থিওরি হচ্ছে আইনস্টাইনের জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি বা সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব। সে জন্য আমাদের গভীর গবেষণা করতে হবে এই তত্ত্বের ফলাফল নিয়ে- ব্ল্যাকহোলের বিস্তারিত জানতে ও বুঝতে হলে। কিন্তু সে কাজটি করতে হবে একটু ধীরে-সুস্থে। গ্র্যাভিটি সম্পর্কে ভাবতে হবে একদম সরল-সহজ ঘটনা নিয়ে।
ধরুন, আপনি দাঁড়িয়ে আছেন কোনো এক গ্রহের ওপরে। খুব একটা জোরে নয় স্বাভাবিক শক্তি খাটিয়ে সোজা ওপরে আকাশের দিকে একটি পাথর ছুড়ে মারুন। পাথরটি কিছু সময় ওপরের দিকে উঠবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গ্রহটির মাধ্যাকর্ষণের টানে তা আবার নিচে নেমে আসবে। যদি পাথরটি পর্যাপ্ত জোরে ছুড়তে পারতেন, তবে আপনার দাঁড়িয়ে থাকা গ্রহটির মাধ্যাকর্ষণ বলের টান উপেক্ষা করে পাথরটিকে মহাশূন্যে পাঠিয়ে দিতে পারতেন। এটি চিরদিনের জন্য উপরের দিকেই উঠতে থাকত। এখন কত জোরে অর্থাৎ কত বেগে ছুড়লে পাথরটি গ্রহটির টানকে উপেক্ষা করে মহাশূন্যে চলে যেতে পারত, তা নির্ভর করে গ্রহটির ভরের ওপর। যে বেগে ওই পাথরটি ছুড়লে তা মহাকাশে চলে যেতে পারত, তাকে বলা হয় ওই গ্রহের এসকেপ ভেলোসিটি। গ্রহটি যত বেশি বড় বা গুরুভার এ এসকেপ ভেলোসিটিও তত বেশি। একটি হালকা-পাতলা গ্রহের এসকেপ ভেলোসিটি হবে কম। এ ছাড়া আপনি গ্রহটির কেন্দ্র থেকে কত ওপরে অবস্থান করছেন তার ওপর এসকেপ ভেলোসিটির মান নির্ভর করবে। আমাদের পৃথিবীর ক্ষেত্রে এসকেপ ভেলোসিটির মান হচ্ছে সেকেন্ডে ১১ দশমিক ২ কিলোমিটার বা ঘণ্টায় ২৫ হাজার মাইল। চাঁদের বেলায় এর মান সেকেন্ডে মাত্র ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার বা ঘণ্টায় ৫৩০০ মাইল।
কল্পনা করুন এমন একটি বস্তু, যার ছোট্ট ব্যাসার্ধে প্রচুর পরিমাণ ভর এমনভাবে ঘনীভূত হয়ে আছে যে এর এসকেপ ভেলোসিটি আলোর গতির চেয়েও বেশি। যেহেতু কোনো কিছুই আলোর গতির চেয়ে বেশি গতিতে চলতে পারে না, সেহেতু কোনো কিছুই এই বস্তুর গ্র্যাভিটি বা মহাকর্ষ বলের ক্ষেত্রের বাইরে যেতে পারবে না। এমনকি আলোকরশ্মিও এ বস্তুর গ্র্যাভিটির টানে ফিরে যাবে ওই বস্তুর দিকেই। অতএব কোনো কিছুই এই বস্তু আকর্ষণ বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না, যেমনটি পারবে না আলোও। আর আলো যদি সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে না পারে, তবে স্বাভাবিকভাবেই আমরা তা দেখতে পাব না।
এই ভর ঘনীভূত হওয়া কোনো বস্তু থেকে আলোর বাইরে বেরিয়ে আসতে না দেয়ার ধারণা মানুষ জেনে গেছে সেই আঠারোতম শতকের লাপলাসের সময়েই। আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব আবিষকারের প্রায় পরপরই কার্ল সোয়ার্টজচিল্ড এই তত্ত্ব্ের গাণিতিক সমীকরণের সমাধান প্রমাণ করেন। এই সমীকরণে এ ধরনের বস্তু বর্ণিত হয়। এর আরো পরে অপেনহেইমার, ভোকফ ও সিন্ডারের মতো গবেষকদের কর্মসাধনার সূত্র ধরে ১৯৩০-এর দশকে মানুষ গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে শুরু করে যে এ ধরনের ঘনীভূত ভরের বস্তু এই মহাবিশ্বে থাকতে পারে। হ্যাঁ, এই অপেনহেইমারই পরিচালনা করেছিলেন ম্যানহাটান প্রজেক্ট। এসব গবেষক দেখিয়েছেন, যখন একটি ম্যাসিভ বা অতি গুরুভার তারকার জ্বালানি ফুরিয়ে যায়, তখন এটি এর নিজের মহাকর্ষের টানের বিরুদ্ধে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারে না। তখন এটি রূপ নেয় একটি ব্ল্যাকহোলে।
সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বে বিন্যাস করে দেখানো হয়েছে সেপসটাইমের বক্রতাকে। সেপসটাইম হচ্ছে কালের ও সময়ের যুগ্ম প্রেক্ষাপটে ত্রিমাত্রিক অর্থাৎ দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও বেধসংবলিত মাপ বা নিরীক্ষা। একটি ম্যাসিভ অবজেক্ট বা গুরুভার বস্তু এলোমেলো করে দেয় সেপস ও টাইমকে। ফলে সেখানে কোথাও জ্যামিতির স্বাভাবিক নিয়ম চলে না। একটি ব্ল্যাকহোলের কাছে সেপস ও টাইমের এই ওলট-পালট হয় সবচেয়ে ভয়াবহভাবে। এর ফলে ব্ল্যাকহোলগুলো বিশেষ অবাক করা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়। বিশেষ করে ব্ল্যাকহোলের রয়েছে ‘ইভেন্ট হরাইজন’ নামে একটা কিছু। এটি একটি সেপরিক্যাল সারফেস বা গোলীয় উপরিতল, যা নির্ধারণ করে ব্ল্যাকহোলের সীমানা। আপনি সে হরাইজন অতিক্রম করতে পারেন কিন্তু সেখান থেকে আর ফিরে আসতে পারবেন না। এর সরল অর্থ আপনি কোনোক্রমে একবার সে ইভেন্ট হরাইজন পার হয়ে গেলে, সেখান থেকে ফিরে আসার পথ আপনার জন্য চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। আপনি সোজা চলে যাবেন ব্ল্যাকহোলের কেন্দ্রের সিঙ্গুলারিটির কাছে। আপনি এ হরাইজনকে ভাবতে পারেন এমন এক জায়গা যেখানে এসকেপ ভেলোসিটি আলোর গতিবেগের সমান। এ হরাইজনের বাইরে এসকেপ ভেলোসিটির মান আলোর গতিবেগের চেয়ে কম। অতএব আপনার রকেটের পর্যাপ্ত গতি থাকলেও সেখান থেকে বেরিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবেন না। কিন্ত আপনাকে বহনকারী রকেট যদি ভুল করে কোনোক্রমে এই হরাইজনের ভেতরে চলে যায় তবে রকেটের গতি যত বেশিই হোক না কেন ব্ল্যাকহোলের বাইরে আসার কোনো উপায় অবশেষে থাকবে না। কারণ আপনার পক্ষে আলোর গতিতে কিংবা তার চেয়েও বেশি গতিতে চলা সম্ভব নয়।
এই ইভেন্ট হরাইজনের রয়েছে বেশ কিছু মজার ও অবাক করা গুণাবলি। ধরুন, একজন পর্যবেক্ষক ব্ল্যাকহোল থেকে অনেক দূরে কোথাও আছেন। তার কাছে এ হরাইজনটি মনে হবে খুবই সুন্দর, স্থির, নিশ্চল এক গোলীয় উপরিতল। কিন্তু যদি সে হরাইজনের আরো কাছে চলে যায়, তখন সে দেখতে পাবে, এটি বেশ বড় গতি নিয়ে ছুটে চলেছে। আসলে এটি বাইরের দিকে ছুটে চলেছে আলোর গতিবেগে। এ থেকেও একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, কেন এ হরাইজন অতিক্রম করে ভেতরের দিকে যাওয়া সহজ কিন্তু এ থেকে বেরিয়ে আসা সহজ তো নয়ই, এমনকি একেবারে অসম্ভব। যেহেতু এ হরাইজন বাইরের দিকে আলোর গতিবেগ নিয়ে ছুটে আসছে, সেহেতু এর বাইরে আসতে হলে আপনাকে ছুটতে হবে আলোর গতিবেগের চেয়ে বেশি গতি নিয়ে। আর আলোর গতির চেয়ে বেশি গতিতে ছোটা আপনার পক্ষে সম্ভব নয়, সে জন্য ব্ল্যাকহোল থেকে বেরিয়েও আসতে পারবেন না।
এসব জেনে নিশ্চয়ই অবাক লাগছে। কিছুটা ভয়ও জাগছে মনে। ভয় নেই। এক বিবেচনায় এ হরাইজন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। আরেক বিবেচনায় এটি উড়ে চলেছে আলোর গতিবেগ নিয়ে। একবার যদি এই হরাইজনের ভেতরে ঢুকেই যান, সেপস ও টাইম এতটাই ওলট-পালট হয়ে যাবে যে, র্যাডিয়েল ডিসটেন্স ও টাইমের বর্ণনাকর কো-অর্ডিনেট বা স্থানিক মান পরিবর্তন হয়ে যায়। অর্থাৎ কেন্দ্র থেকে দূরত্ব নির্দেশক কো-অর্ডিনেট o হয়ে যায় টাইম q এর মতো। আর q হয় o-এর মতো। সোজা কথায় টাইমলাইক কো-অর্ডিনেট হয় সেপসলাইক কো-অর্ডিনেট, আর সেপসলাইক কো-অর্ডিনেট হয় টাইমলাইক কো-অর্ডিনেট। এর একটি পরিণতি হচ্ছে, আপনি আপনাকে ছোট থেকে ছোটতর o-এর মানের দিকে যাওয়া থামাতে পারবেন না। ঠিক সাধারণ অবস্থায় আপনি যেমন আপনাকে ভবিষ্যতের দিকে যাওয়া থেকে ফেরাতে পারছেন না। আপনি শুধু ছুটে চলেছেন বড় থেকে বড়তর সময়ের দিকে। এভাবে ব্ল্যাকহোলের ভেতরে থাকলে এক সময় আপনি গিয়ে পৌঁছবেন সিঙ্গুলারিটিতে, যেখানে o-এর মান শূন্য। এ পরিস্থিতি এড়াতে আপনি হয়তো চাইবেন রকেটের গতি বাড়িয়ে দিতে কিন্তু কোনো কাজ হবে না, তা আপনি যেদিকেই যেতে চান না কেন। আপনার এ পরিণতি কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না। হরাইজনের ভেতরে ঢুকে পড়েছেন, আর চাইছেন ব্ল্যাকহোলের কেন্দ্র থেকে দূরে থাকতে- এ যেন গত রোববারকে এড়িয়ে চলে যাওয়ার প্রয়াসেরই মতো। সবশেষে আরেকটি বিষয় জানিয়ে আজকের লেখার ইতি টানতে চাই। জর্জ আর্চিব্যালাড হুইলার ব্ল্যাকহোল নামটি আবিষকার করেন। এর আগে এর অনেক নাম দেয়া হলেও এ নামটি সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় বলে বিবেচিত হয়। এর আগে ব্ল্যাকহোলের একটা নাম ছিল ‘ফ্রোজেন স্টার’। কেন এমন নাম দেয়া হয়েছিল? ফুরসত পেলে তা অন্য এক লেখায় ব্যাখ্যা দেয়ার আশা রইল।
সহজে শনাক্ত করা যাবে কালাজ্বর
আহমেদ ইফতেখার
কালাজ্বর বা ভিসেরাল লেসমোনিয়াসিস একটি পতঙ্গবাহিত পরজীবীঘটিত রোগ। এ রোগটির বাহক বেলে মাছি। এ মাছি গ্রাম অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। আর এ কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেশি আক্রান্ত হয়। দেশের ডিজিজ কন্ট্রোল ইউনিটের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৯৯৪-২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার ৮৬৯ জন কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। ২০০৮ সালে আক্রান্ত হয়েছে চার হাজার ৮২৪ জন ও মারা গেছে ১৭ জন। বর্তমানে দেশে কালাজ্বরের ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ২০ লাখ মানুষ। কালাজ্বরের প্রচলিত রোগ নির্ণয় পদ্ধতি ঝুঁকিপূর্ণ, ব্যথাদায়ক, জটিল ও ব্যয়বহুল হওয়ায় দেশে আক্রান্ত রোগীর মূত্রের নমুনা হতে কালাজ্বর নির্ণয়ের পদ্ধতি আবিষকার করেছেন আইসিডিডিআরবির পরজীবীবিদ্যা বিভাগ।
মূত্রের নমুনা থেকে কালাজ্বর নির্ণয়ের পদ্ধতি বিশ্বের আর কোথাও প্রচলিত নেই। এই প্রথম বাংলাদেশের একদল গবেষকের নিরলস পরিশ্রমের ফল কালাজ্বর নির্ণয় পদ্ধতি আবিষকার করা সম্ভব হয়েছে। এ গবেষণা দলে ছিলেন- গোলাম মুসাব্বির খান, শফিউল আলম, মিল্কা প্যাট্রিসিয়া পোদ্দার, মাকাতো ইতোহ, কাজী এম জামিল, রশিদুল হক, ইউকিকো ওয়াগাত সুমা। জাপান-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগের এ গবেষণার অর্থায়ন করেছে জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতা করেছেন পরজীবী গবেষক দেবাশীষ ঘোষ, নাজমুল হুদা, এইচ এম রুবায়েত এলাহী ও শারমিনা দেলোয়ার।
সাধারণত কালাজ্বরের দুটো পরজীবী প্রজাতি লেসমেনিয়া ডনোভানি, লেসমেনিয়া চাগাসি এর জন্য দায়ী। এদের মধ্যেই রয়েছে ‘৩৯ অ্যামাইনো অ্যাসিডবিশিষ্ট’ পরিবর্তিত জিনেটিক বৈশিষ্ট্যযুক্ত প্রোটিন অণু। লেসমেনিয়া ছাড়া অন্য কোনো পরজীবী বা অণুজীবে এটি পাওয়া যায় না। আক্রান্ত রোগীর মূত্রের নমুনায় খুঁজে পাওয়ার ওপর ভিত্তি করেই উদ্ভাবন করা হয়েছে নতুন পদ্ধতিটি। মূত্রের নমুনা ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় পদ্ধতির নাম ‘আরকে-৩৯ স্ট্রিপ টেস্ট’। মূত্রের নমুনা থেকে রোগ নির্ণয়ের এ পদ্ধতির মাধ্যমে মাত্র ১০ মিনিটে জানা যাবে কালাজ্বরের পরজীবীর উপস্থিতি। আগের প্রচলিত পদ্ধতিতে কোনো নমুনায় ‘অ্যান্টি আরকে-৩৯ ইমিউনোগ্লোবিউলিন’ অণু খুঁজে পেতে লাগত ৩০ মিনিট। নতুন পদ্ধতিতে ১০ মিনিটেই ‘অ্যান্টি আরকে-৩৯ ইমিউনোগ্লোবিউলিন’ অণু খুঁজে পাওয়া সম্ভব। এতে আলাদা কোনো দ্রবণও যোগ করার প্রয়োজন হয় না। এখান থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত পরিসংখ্যানের সফটওয়্যার এসপিএসএস ব্যবহার করে নির্ভুল ফল পাওয়া সম্ভব। সহজে নমুনা সংগ্রহের কারণে এ পদ্ধতিটি খুবই উপযোগী। বিশেষ করে শিশু বা বৃদ্ধ রোগীদের অস্থিমজ্জা, প্লীহা সুই-সিরিঞ্জ দিয়ে ছিদ্র না করে নমুনা সংগ্রহ অনেক সহজ, আরামদায়ক।
কালাজ্বরের এ গবেষণায় প্রথমে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একশ স্বেচ্ছাসেবী রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ওই ১০০ রোগীকে প্রথমে রক্তরস বা প্লাজমা ও সিরামে টেস্টের মাধ্যমে কালাজ্বর আক্রান্ত হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। পরে তাদের মূত্রের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায় তাদের ওই নমুনার মাধ্যমেও কালাজ্বরের উপস্থিতি বলে দেয়া সম্ভব। এ গবেষণা আইসিডিডিআরবির মহাখালী শাখায় পরজীবীবিদ্যা গবেষণাগারের পাশাপাশি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায়ও ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
আইসিডিডিআরবির পরজীবীবিদ্যা গবেষণা ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, জাপানের আইচিয়ে মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সুকুবা। এ গবেষণাকর্ম গত বছরের ২৬ নভেম্বর বিজ্ঞান সাময়িকী বায়োমেড সেন্ট্রালের ‘প্যারাসাইটস অ্যান্ড ভেক্টরস’ নামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।



