Skip to main content

বিশ্বের নানা দেশ

ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ

সানমেরিনো

অবস্থান                   : দক্ষিণ ইউরোপীয় রাষ্ট্র।
আয়তন : ৬১.২ বর্গকিলোমিটার।
জলভাগ : শূন্য (০) বর্গকিলোমিটার।
স্থলভাগ : ৬১.২ বর্গকিলোমিটার।
স্থল সীমান্ত : ৩৯ কিলোমিটার।
সমুদ্র উপকূলীয় ভূমি : শূন্য (০) কিলোমিটার।
আবহাওয়া : সানমেরিনোতে ভূমধ্যসাগরীয় আবহাওয়া দেখা যায়। শীতকালে মৃদু থেকে তীব্র শীত থাকে এবং রৌদ্রকরোজ্জ্বল গ্রীষ্মকালে বেশ গরম অনুভূত হয়।
উচ্চতম অঞ্চল : মন্টে টিটানো ৭৩৯ মিটার।
নিম্নতম অঞ্চল : সমুদ্রপৃষ্ঠ সমতল।
প্রাকৃতিক সম্পদ : স্থাপত্য নির্মাণ উপযোগী পাথর।
ঐতিহাসিক পটভূমি : সানমেরিনো ইউরোপের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র। হোলি সি এবং মোনাকোর পরে এর অবস্থান। ৩০১ খ্রিষ্টাব্দে ম্যারিনাস নামক একজন খ্রিষ্টান স্থপতি এই অঞ্চলটি আবিষকার করেন। মনে করা হয় সানমেরিনো ইউরোপের সর্বপ্রাচীন প্রজাতান্ত্রিক দেশ। সানমেরিনোর বৈদেশিক নীতি প্রণয়নে ইতালির বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। এছাড়া এই প্রজাতান্ত্রিক দেশটির সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রথাসমূহ এর বৃহৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রথা অনুসারে তৈরি।
জাতীয়তা : সানমেরিনিজ।
জনসংখ্যা : ২৮,৫০৩ জন (২০০৪)।
জন্মাহার : প্রতি হাজারে ১০.৩১ জন (২০০৪)।
মৃত্যুহার : প্রতি হাজারে ৭.৯৬ জন (২০০৪)।
গড় আয়ু : পুরুষ ৭৮.০২ বছর, মহিলা ৮৫.৩৪ বছর (২০০৪)।
ধর্ম : রোমান ক্যাথলিক।
শিক্ষিতের হার : ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে মোট জনসংখ্যার ৯৬% শিক্ষিত; পুরুষ ৯৭%, মহিলা ৯৫% (১৯৯৬)।
বসবাসকারী জাতিগোষ্ঠী : সানমেরিনিজ ইতালীয়।
দেশটির সরকারি নাম : সানমেরিনো প্রজাতন্ত্র।
সরকার পদ্ধতি : স্বাধীন প্রজাতন্ত্র।
রাষ্ট্রপ্রধান : প্রেসিডেন্ট (ক্যাপ্টেন)।
সরকার প্রধান : রাষ্ট্রসচিব।
রাজধানী : সানমেরিনো।
স্বাধীনতা লাভ : ১৩০১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর।
প্রশাসনিক বিভাগ : ৯টি মিউনিসিপ্যালিটি
মুদ্রা : ইউরো।
রাজস্ব বাজেট : ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০০)।
সামরিক বাহিনী : জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ১৫-৫৫ বছর বয়সী সকল পুরুষ নাগরিকের সামরিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়।
রেলপথ : শূন্য (০) কিলোমিটার (সানমেরিনো শহরের সাথে বুর্গো মুজ্জিত্তার ১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ক্যাবল রেলপথ আছে)।
সড়কপথ : ২২০ কিলোমিটার।
মোট দেশজ    
উৎপাদন : ৯৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০১)।
মোট মাথাপিছু    
 উৎপাদন (GDP) : ৩৪,৬০০ মার্কিন ডলার (২০০১)।
প্রধান রপ্তানি দ্রব্য : ইমারত নির্মাণের পাথর, চুন, কাঠ, বাদাম, গম, মদ, সিরামিক।
আমদানি দ্রব্য : খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি।
বাণিজ্য সহযোগী    
রাষ্ট্রসমূহ : জার্মানি, ইতালি।

 


সুইজারল্যান্ড

অবস্থান                   : মধ্য ইউরোপে দেশটির অবস্থান। সীমান্তে রয়েছে ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর ইতালি।
মোট এলাকা : ৪১,২৯০ বর্গকিলোমিটার।
স্থলভাগ  : ৩৯,৭৭০ বর্গকিলোমিটার।
জলভাগ  :  ১,৫২০ বর্গকিলোমিটার।
আবহাওয়া  :  নাতিশীতোষ্ণ; তবে উচ্চতা অনুযায়ী কিছুটা পার্থক্য লক্ষ করা যায়। শীতকাল ঠাণ্ডা মেঘাচ্ছন্ন, বৃষ্টিমুখর, কখনো কখনো তুষারপাত হয়। গ্রীষ্মকাল শীতল থেকে উষ্ণ, মেঘাচ্ছন্ন এবং আর্দ্র। কখনো কখনো বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়।
প্রধান নদী : রাইন, রোন, ইন, টিসিনো।
উচ্চতম অঞ্চল : ডুফারসিপ্রজ অব মন্টেরোসা, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫,২০৩ ফুট (৪,৬৩৪ মিটার) উঁচু।
নিম্নতম অঞ্চল : শোর অব লেক ম্যাগিওর, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬৩৩ ফুট (১৯৩ মিটার) উঁচু।
প্রাকৃতিক সম্পদ : জলশক্তি, কাঠ, লবণ।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ : হিমবাহ, ভূমিধস, হঠাৎ বন্যা।
ঐতিহাসিক পটভূমি : রোমানরা স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ৫৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এই পার্বত্য অঞ্চলে এসেছিল। ২৯৫ সালে জার্মান গোত্র অ্যালিম্যানিরা এবং পরে অঞ্চলটি ফ্রঙ্কিশদের অধীনস্থ হয়। ১২৯১ সালে কয়েকটি অঞ্চল নিয়ে সুইস কনফেডারেশন গঠিত হয়। ১৮ শতকে সুইজারল্যান্ড বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ফ্রান্স ১৭৯৪ সালে সুইজারল্যান্ডের অনেকখানি অঞ্চল দখল করে নেয়। ১৮৪৮ সালে নতুন একটি যুক্তরাষ্ট্র হিসেবে সুইজারল্যান্ডের উত্থান ঘটে। সুইজারল্যান্ডের স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষতা দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় প্রধান শক্তিগুলোর কাছে সমমানিত হয়ে আসছিল। এমনকি দুটি বিশ্বযুদ্ধের একটিতেও সুইজারল্যান্ড নিজেদের সম্পৃক্ত করেনি যা তাদের নিরপেক্ষতারই স্বাক্ষর। বিগত অর্ধ শতক ধরে ইউরোপের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ঐক্য স্থাপনে সুইজারল্যান্ডের ভূমিকা ছিল অনেকটা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মতো। সুইজারল্যান্ড তার সকল ক্ষমতা দ্বারা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করেছিল। দেশটি ২০০২ সালের পূর্ব পর্যন্ত জাতিসংঘের সদস্যপদ গ্রহণ করেনি। বর্তমানে সুইজারল্যান্ড জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করলেও তারা তাদের নিরপেক্ষতাকে আজও ধরে রেখেছে।
জাতীয়তা : সুইস।
জনসংখ্যা : ৭৪,৫০,৮৬৭ জন (২০০৪)।
জন্মহার : প্রতি হাজারে ৯.৮৩ জন (২০০৪)।
মৃত্যুহার : প্রতি হাজারে ৮.৪৪ জন (২০০৪)।
গড় আয়ু : পুরুষ ৭৭.৫১ বছর, মহিলা ৮৩.২৭ বছর (২০০৪)।
ধর্ম : রোমান ক্যাথলিক ৪৬.১%, প্রটেস্ট্যান্ট ৪০%, অন্যান্য ৫%, এছাড়া ৮.৯% (১৯৯০)।
ভাষা : জার্মান ৬৩.৭%, ফরাসি ১৯.২%, ইতালীয় ৭.৬%, অন্যান্য ৯.৫%।
শিক্ষিতের হার : ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে মোট জনসংখ্যার ৯৯% শিক্ষিত (১৯৮০)।
বসবাসকারী জাতিগোষ্ঠী : জার্মান ৬৫%, ফ্রেঞ্চ ১৮%, ইতালীয় ১০%, রোমান ১%, অন্যান্য ৬%।
দেশটির সরকারি নাম : সুইস কনফেডারেশন।
সরকার পদ্ধতি : ফেডারেল রিপাবলিক।
রাষ্ট্রপ্রধান : প্রেসিডেন্ট।
সরকার প্রধান : প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানী : বার্ন।
প্রদেশ : ২৬টি শাসনতান্ত্রিক বিভাগ।
স্বাধীনতা লাভ : ১ আগস্ট, ১২৯১।
মুদ্রা : সুইস ফ্রাঙ্ক (CHF)
রাজস্ব বাজেট : ১২৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৩)।
সামরিক বাহিনী : দায়িত্বে নিয়োজিত মোট সৈন্যসংখ্যা ৩,৪৭০ জন।
সড়কপথ : ৭১,০৫৯ কিলোমিটার; পাকা রাস্তা ১০০% (১৯৯৯)।
রেলপথ : ৪,৫১১ কিলোমিটার।
জলপথ : ৬৫ কিলোমিটার।
পাইপলাইন : অপরিশোধিত তেলের জন্য ৩১৪ কিলোমিটার, প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য ১,৫০৬ কিলোমিটার।
বন্দর ও পোতাশ্রয় : বাসেল।
বিমানবন্দর : ৬৯টি।
মোট দেশজ    
উৎপাদন (GDP) : ২৩৯.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৩)।
মোট মাথাপিছু    
উৎপাদন : ৩২,৭০০ মার্কিন ডলার (২০০৩)।
প্রধান রপ্তানি দ্রব্য : কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি, খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধ, ঘড়ি।
আমদানি দ্রব্য : পরিবহনসামগ্রী, কাঁচামাল।
বাণিজ্য সহযোগী    
রাষ্ট্রসমূহ : ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন, জার্মানি, ইতালি এবং যুক্তরাষ্ট্র।