‘প্রিয় মা’
আজ আমার জন্মদিন। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে গেলাম। নামাজ পড়ে নিজের জন্য, মায়ের জন্য এবং পরে সবার জন্য দোয়া করলাম। কেমন যেন একটা ভালো লাগা অনুভূতি অনুভব করছিলাম। হয়তো বা নিজের জন্মদিন বলেই।
আমার সব বন্ধুকে দুদিন আগে বলে রেখেছিলাম তারা যেন আমার জন্মদিনে আমাকে শুভেচ্ছা জানায়। কিন্তু শুভেচ্ছা তো দূরের কথা কেউ যেন আমার সাথে ভালো করে কথাও বলছে না। সবাই খুব ব্যস্ত, আমার সাথে কথা বলার সময় যেন তাদের নেই। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল, কিছুই ভালো লাগছিল না। বাসায় এসে শুয়ে রইলাম।
হঠাৎ আমার মাথায় যেন নরম হাতের সপর্শ অনুভব করলাম। তাকাতেই দেখি আমার স্নেহময়ী মা। যে আমাকে দশ মাস দশ দিন পেটে ধারণ করে অনেক কষ্টের বিনিময়ে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আমাকে এই সুন্দর পৃথিবীর মুখ দেখিয়েছিলেন।
আমি বললাম: মা তুমি?
মা বলল: মন খারাপ বাবা তাই না?
আমি বললাম: হ্যাঁ মা, দেখ না আজ আমার জন্মদিন অথচ আমার বন্ধুরা কেউ আমাকে একটু শুভেচ্ছা জানায়নি।
মা বলল: তাতে কী হয়েছে বাবা, আমি আছি না, দেখ আজ আমি তোর জন্য পায়েস রান্না করেছি আর তোর প্রিয় প্রিয় সব খাবার রান্না করেছি। আয় আমার সাথে।
এই বলে মা আমাকে রান্নাঘরে নিয়ে গেল এবং মা প্রথমে আমাকে পায়েস খেতে দিল। মায়ের রান্না করা পায়েস কত মজার ছিল তা না খেলে কেউ বুঝবে না। মা আমাকে একটা একটা করে আমার প্রিয় সব খাবার খেতে দিল। মা আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল।
কিছুক্ষণ পর মা আমাকে একটা নতুন শার্ট দিয়ে বলল-‘বাবা এটা তোর জন্মদিনের উপহার’। খুশিতে মাকে জড়িয়ে ধরে বললাম ‘মা তুমি খুব ভালো’।
মনে মনে ভাবলাম এত কষ্ট করে মা আমাকে জন্ম দিয়েছে আবার জন্মদিনের উপহার দিচ্ছে কিন্তু মাকে আমি কী দিলাম? ভাবলাম মাকে আজ কিছু একটা দেবই দেব।
ছুটে গেলাম মার্কেটে। আমার পছন্দমতো একটা শাড়ি নিয়ে এলাম মায়ের জন্য। মা আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক আদর করলেন। মা আমাকে অনেক ভালোবাসে, সব মা-ই তাদের সন্তানকে ভালোবাসে তবে কেমন জানি আমার মা একটু বেশি।
মা আমার মাথায় বিলি কেটে দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছিল। হঠাৎ কে যেন আমায় ধাক্কা দিয়ে ঘুম ভেঙে দিল। উঠে দেখি আমার সব বন্ধু আমার সমস্ত ঘর বেলুন ও ফুল দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে দিল। আমার জন্য কেক নিয়ে সবাই দাঁড়িয়ে আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাল। এটাই ছিল ওদের প্ল্যান। আমাকে সারপ্রাইজ দেয়া।
কিন্তু মা? আমার মা কই? আমি মা মা বলে চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠলাম। পাগলের মতো মাকে খুঁজতে লাগলাম। সবাই আমাকে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করল।
যে মা পাঁচ বছর আগে আমাকে রেখে সেই না ফেরার দেশে চলে গিয়েছিল সেই মা আজ এসেছিল। হ্যাঁ, সত্যি মা এসেছিল, আমার স্বপ্নে এসেছিল।
কিন্তু মা তুমি চলে গেলে কেন? মা তোমাকে ছাড়া আমি বড় একা, বড় অসহায়। মা তুমি ফিরে এসো, একটা বারের জন্য হলেও ফিরে এসো। হে আল্লাহ তুমি আমার মাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও। নয়তো আমার মায়ের কাছে আমাকে নিয়ে যাও।
মা আজ আমার জন্মদিনে তোমাকে খুব মিস করছি। খুব মিস করছি মা, খুব মিস করছি।
ওমর ফারুক মির্জা
হাটহাজারী, চট্টগ্রাম
ফোন: ০১৮২৯-৬৭১৮৭১
হ্যাঁ, তোমাকে বলছি...
হ্যাঁ আমি অনুতপ্ত, ভীষণ রকম অনুতপ্ত। আমি যে ধরনের মানসিকতা মনে-প্রাণে ধারণ করে চলি তোমার সাথে করা সর্বশেষ আচরণের সাথে সেটা কোনোভাবেই মানায় না। রুমা, তুমি আমায় ক্ষমা করে দিয়ো। আসলে কি জান ভয়, সংকোচবোধ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, একজন অপরজনকে শ্রদ্ধা করতে না পারা, একে অন্যের পুরনো বিষয়গুলো নিয়ে লেগে থাকা, যে কোনো বিষয়ে কেউ কাউকে ছাড় না দেয়া, পুরনো কিছু বাজে ব্যবহার কিংবা বাজে কিছু কাজ এসব নিয়ে যে সম্পর্ক বিদ্যমান সে সম্পর্ক কখনোই শক্তিশালী হতে পারে না। তাছাড়া তোমার-আমার নিজস্ব যোগ্যতা বিচারেও আমি অনেকটা পিছিয়ে। এমতাবস্থায় সম্পর্ক টিকিয়ে রেখে নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করাই আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তুমি তোমার নিজস্ব ভাষায় আমাকে ভণ্ড, প্রতারক, মেয়েদের সাথে এমন করাটা নাকি আমার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে-এরূপ লেখার অযোগ্য আরো কিছু ভাষা ব্যবহার করেছ। প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে মানুষ মানুষকে অনেক কিছু বলতে পারে-তবে তোমার নিকট অনুরোধ আমাকে অনেক কিছু বলার আগে নিজের সম্পর্কেও চুলচেরা বিশ্লেষণ করে নিয়ো। আমি যতই তোমার কাছ থেকে সরতে চেয়েছি তুমি ততই নানা ছলে বলে কৌশলে আমাকে ধরতে চেয়েছ। আমাকে প্রলোভিত করে নানা প্রকার উপহার দিয়েছ। যদিও এসবে আমি কখনো লালায়িত ছিলাম না। তবে হ্যাঁ তোমার দেয়া উপহারগুলোই আজ আমায় বেশি জ্বালা দিচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে ছোট হয়ে যাচ্ছি আমি, না পারছি এসব হজম করতে আর না পারছি বমি করে ফেলতে। যাই হোক, সম্পর্ক শেষ করে দেয়ার নানা পথ থাকা সত্ত্বেও তোমার সাথে করা আমার সেই পথটি কখনোই ভালো ছিল না। সে জন্য আজ আমি ভীষণ-ভীষণ অনুতপ্ত। পারলে আমায় ক্ষমা করে দিয়ো। আমি মনে-প্রাণে চাই তুমি ভালো থাক, অনেক বড় হও। আমার ওপর কোনো অভিমান রেখো না। এই মনোজগত তোমার আর আমার সম্পর্কের সূত্রপাত ঘটিয়েছে, মনের জগৎকে বোঝাতে সহায়তা করেছে। সেই মনোজগতকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমার রুমার সাথে করা আচরণটুকুর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী, সাথে এটাও জানাতে চাই আমি কখনোই ভণ্ড, প্রতারক ছিলাম না, এখনো নই। মনোজগতের সকল পাঠক সমাজের প্রতি আমার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা রইল।
ম. হাসান
বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট কলেজ
বগুড়া
প্রতীক্ষা
পৃথিবীতে ভালোবাসার একটি মাত্র উপায় আছে আর তা হলো প্রতিদান পাওয়ার আশা না করে ভালোবেসে যাওয়া। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই লেখাটি বড় বেশি কাজ করে নিজের মধ্যে। মাঝেমধ্যে ইচ্ছা হয় ভুলে যাই তোমাকে। সারা পৃথিবীটা স্বার্থপর। স্বার্থ ছাড়া কেউ কিছু বোঝে না। যেমন তুমি ছুটেছ তোমার সুখের খোঁজে। তেমনি আমিও ছুটেছি তোমার পিছে আমার সুখের জন্য। তুমি হয়তো বলবে কী সুখ দিয়েছি তোমায় আমি, শুধু দুঃখ-বেদনা ছাড়া। কিন্তু তুমি তো জানো ‘কারিমা’ তোমার সমস্ত দুঃখ-কষ্ট-বেদনা আমার কাছে মধুর লাগে যখন সে বেদনা আমাকে তুমি তোমার নিজ হাতে নিক্ষেপ করো। তুমি নিয়মিত আমাকে আঘাত-অপমান করে যাচ্ছ যাতে আমি তোমাকে ভুলে যাই। কিন্তু বিশ্বাস করো কারিমা তোমার দেয়া প্রতিটি দুঃখ-কষ্ট, আঘাত, অপমান-অবহেলা আমি খুব যত্ন সহকারে আমার হৃদয় আঙিনায় তুলে রেখেছি। বিশ্বাস করো কারিমা তোমার দেয়া আঘাত-অপমানে আমি একটুও দুঃখিত হইনি। আমি দুঃখ পেয়েছি এ জন্যই কেন তুমি একবার আমাকে বুঝতে চেষ্টা করলে না। কেন তুমি অনুগত হলে দশজন মুখের বিক্ষেপে। না হয় অন্যের কথাই শুনলে কিন্তু তুমি নিজে এসে কেন তা যাচাই করলে না? কেন তুমি ওইসব বিভীষিকার কথামতো আমার হৃদয় আঙিনা থেকে দূরে চলে গেলে? আমার যদি কোনো ভুল থেকে থাকে তাহলে কেন তুমি সেই ভুল আমাকে ধরিয়ে না দিয়ে আমাকে ভুলের মাঝে রেখেই চলে গেছ। না হয় তোমাকে ভালোবেসে ছিলাম কিন্তু তোমার অমঙ্গল তো কামনা করিনি। সুখ না হয় তোমাকে না দিতে পারতাম কিন্তু দুঃখকে তো তোমায় সপর্শ করতে দিতাম না। প্রকৃতির সাথে তুমিও বদলে গেলে কারিমা, একবারও পেছনে ফিরে তাকালে না। অনেকবারই ভেবেছি তোমাকে ভুলে যাব।
যখনই চেষ্টা করেছি তোমার কাছ থেকে দূরে সরে দাঁড়াতে, ঠিক তখনই ডায়রির পাতা থেকে ভেসে উঠেছে রবীন্দ্রনাথের সেই লেখাটি-পৃথিবীতে ভালোবাসার একটি মাত্র উপায়...কিন্তু তবুও পারিনি কবিগুরুর সেই কথাটি রক্ষা করতে। ছুটে গিয়েছি আমার স্বার্থের লোভে তোমার কাছ থেকে বেদনা পাওয়ার জন্য। ধন্য কারিমা আমাকে কখনো খালি হাতে ফিরিয়ে দাওনি। যখনই তোমার ভালোবাসা কুড়াতে গিয়েছি ঠিক তখনই আঘাত-অপমান আর অবহেলা দিয়ে স্বাগত জানিয়েছ। ধন্যবাদ আমাকে তুমি খালি হাতে না ফেরানোর জন্য। হয়তো তুমি ভাবছ আজ আমার কাছ থেকে তুমি দূরে সরে থাকলেই তোমাকে আমি ভুলে যাব। কিন্তু আমিও চাই তোমাকে ভুলে যাব। কারণ পৃথিবীতে সবাই সুন্দরভাবে বাঁচতে চায়, কেউ চায় না তার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাক, কিন্তু আমার জীবনটা যে কেন তিলে তিলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তা আজও আমি জানতে পারলাম না। তোমার সুখের জন্য আজও দূরের মানুষ হয়ে দূরে বসে আছি আমি। যখন শূন্যতা এসে শ্বাসরুদ্ধ করে তোলে আমাকে তখন শুধু দূরে থেকেই একটি ম্যাসেজ পাঠাই তোমার মোবাইলে। হয়তো বা আমার ম্যাসেজ পড়ে তুমি মনে মনে হাসো, হয়তোবা বিরক্তবোধ করো। জানি না আমি তোমার কতটুকু ভালোবাসা পেয়েছি এবং কতটুকু হারিয়েছি। শুধু জানি বৃষ্টির মতো ঝরিয়েছ এ চোখের জল, ঝড়ের মতো ভেঙেছ এ চোখের স্বপ্ন, বজ্রের মতো আঘাত করেছ এই অবুঝ হৃদয়ে। কিন্তু তবুও তোমাকে ভোলা সম্ভব হয়নি। কী করেই বা সম্ভব কারণ মৃত্যু পারেনি যে হৃদয়কে তোমার ভালোবাসা থেকে ফেরাতে, আজ কি আর তুমি দূরে বসে থাকলেই সে হৃদয় তোমাকে ভুলে যাবে? কেন আর মিছে চেষ্টা! তাই বলছি আমাকে আর মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে দূরে সরে থেক না কারিমা! ফিরো এসো এই হৃদয়ে। তোমার প্রতীক্ষায়।
কেএম তরিকুল ইসলাম (নয়ন)
নগরকান্দা, ফরিদপুর
ফোন: ০১৯৩১-০০৬১৩৬
বিশাল শূন্যতা
গভীর রাতে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছি একা। আকাশের এক ফালি চাঁদ আর নির্মেঘ আকাশের সাথে একাকার হয়ে যায় আমার ভাবনাগুলো। অনাদিকালের বেদনায় হৃদয়রাজ্য আজ ভরপুর। আজ একে একে সবকিছু মনে পড়ছে। তোমার হিংস্র ভালোবাসার হাত দিয়ে আমার মনটাকে যখন মুষড়ে মুষড়ে ভাঙলে তখন নীরবে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আমার আর কোনো গত্যন্তর ছিল না, তুমি শুধু ভেঙেই ক্ষান্ত হলে না, একেবারে গুঁড়ো গুঁড়ো করে দিলে। অথচ তোমার ভালোবাসার প্রলেপ দেয়া কথাগুলো মনে পড়লে চোখে শুধু জল আসে। আমার বিদ্যা হলো বাড়ি হলো ব্যবসা হলো, মান-সমমান সবই হলো তবু বুকের কোথায় যেন একটা হাহাকার শুধু কী যেন নেই কী যেন নেই সে এক বিশাল শূন্যতা তা হলো তোমার অনুপস্থিতি। যখন তুমি ছিলে তখন আমার কিছুই ছিল না, আজ অনেক কিছুই আছে শুধু তুমি নেই। তোমাকে নিয়ে সংসার করার সাধ করেছিলাম, সেসবই বিফলে গেছে, তবু আমার যৌবন আছে, সেই যৌবন বড়ই নিঃসঙ্গ। এক এক সময় তোমার মুখচ্ছবি এসে প্রায়ই লুনাকে আড়াল করে দেয়। তোমার কাছে আমি আত্মনিবেদন করেছিলাম সেখান থেকে বন্ধন ছাড়িয়ে লুনার পাদপদ্মে আপনাকে সমর্পণ করা সহজ হয়নি। তোমার সাথে যতই দূরত্ব তৈরি হোক বন্ধন কিছুতেই যেতে চায় না। শত ব্যস্ততার মাঝে পথ চলতে চলতে আজও তোমাকে আমি খুঁজি যদি একবার দেখা পাই এই আশায়। শুধু একবার দেখা হলে আমি এমন করে দেখে নিতাম যেন এ জীবনে আর কখনো দেখার সাধ না জাগে। বুকে বিশাল শূন্যতা নিয়ে সকলের সাথেই সুখী মানুষের ভান করে যাই। কেউ দেখে না বুকের জ্বালা। কেউ দেখুক আর নাই জানুক শুধু তুমি জানলেই হলো যে আমার সাথে একদিন কবরে যাবে আমার এক বিশাল শূন্যতা।
মাহবুব আলম
মৌচাক, গাজীপুর
ফোন: ০১৬৭৬-৭২৮৪০৯
তুষি
এই পৃথিবীতে খুব মিষ্টি একটি সুন্দর শব্দ যার নাম হচ্ছে ভালোবাসা। মানুষ ভালোবাসার কাঙাল। সম্পর্কের অন্তরালে মানুষ ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ। ভালোবাসা শব্দটির প্রকাশ ভিন্ন রকম। তারপরও সবার কাছে ভালোবাসার বিশেষ একজন প্রিয় মানুষ থাকে। আমার কাছে ভালোবাসার সেই অতি প্রিয় মানুষটি আমার তুষি। যার সাথে আমার পরিচয় মোবাইল ফোনে। আমি সর্বপ্রথম ধন্যবাদ জানাই আমার প্রিয় মনোজগত পত্রিকাটিকে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মনের জানালা অধ্যায়ে মানুষের প্রতি ভালোবাসা আমার লেখাটি প্রকাশ করায়। আজ আমি একজন প্রাণবন্ত সহজ, সরল, সুন্দর স্বভাব, সুন্দর চেহারা, সুন্দর শিষ্টতা একটি মেয়ের সন্ধান পেয়েছি। তুষির মতো মেয়ে আমাদের দেশে বেশি নেই। আমার চোখে আর একটাও পড়েনি। রূপসী শিক্ষিতা মেয়ে হয়তো অনেক আছে কিন্তু এমন মৃদু, স্নিগ্ধ, সুরভিত, সুমিষ্ট স্বভাব তো আর কোথাও দেখলাম না। তুষি মনের কথাগুলো মোবাইল ফোনে প্রকাশ না করতে পারায় আজ এই মনোজগত হাতিয়ারটি আমার একমাত্র মাধ্যম। তুষি তুমি জানতে চাইলে তোমায় কতটুকু ভালোবাসি। মুখ ফুটে না বলতে পারায় লেখার মাঝে প্রকাশ করলাম। তুষি ধরো প্রতিদিন সূর্য তার নিজ গতিতে উঠল, সকাল পেরিয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে বিকেল, অস্তাচলে সূর্যটা তখন দিগন্তের কাছাকাছি। এমন সময় যদি আকাশ থেকে গায়েবি আওয়াজ আসে। আজ শেষবারের মতো সূর্য উঠেছে, সুন্দর স্নিগ্ধ পৃথিবীটা আর কখনো নতুন দিনের দেখা পাবে না। অন্ধকারে লুকিয়ে যাবে পৃথিবীটা। প্রিয় মানুষগুলোর সাথে আর দেখা হবে না তবে সূর্যাস্তের আগে স্বল্পতম যে সময়টুকু অবশিষ্ট আছে এরই মধ্যে সকলের একটা চাওয়া পূরণ করা হবে। তুমি চোখ বন্ধ করে দৃশ্যটা একটু কল্পনা করো। সূর্য দ্রুত মিলিয়ে যাচ্ছে দিগন্ত রেখায়। ছুটছে সবাই তাদের ব্যস্ততা নিয়েই, নামছে অন্ধকার, চোখজুড়ে আর কোনো স্বপ্ন নেই। পৃথিবীটা ধ্বংসের মুখোমুখি। এমন দুঃসময়ে অন্য সবার মতো আমার সামনে একটা মাত্র সুযোগ, জীবনের শেষ সুযোগ তুষি, কে, কী চাইবে, কার কী বাসনা, কিছুই জানি না, কিন্তু একটা কথা নিশ্চিতভাবে জানি এ দুঃসময়ের মুখোমুখি হয়ে কেবল তোমার মায়াবী মুখটাই একটিবার দেখতে চাইব।
তুষি আমার প্রিয় বন্ধুরা সবাই প্রশ্ন করে জানতে চায় আমার জীবনের শ্রেষ্ঠতম অর্জন কী। আমি উত্তরে তাদের বললাম, আসলে অর্জনের খাতায় তেমন কিছু নেই। আছে কয়েকটা প্রিয় মুখ। আর তাদের সর্বপ্রথম নামটি তোমার। দ্বিতীয় মুখটি লিখতে গিয়ে বিরাট সমস্যা দেখা দিল কারণ সিরিয়াল অনুযায়ী একের পর দুই আসার কথা। কিন্তু কেন জানি আসছে না, একের পাশে কাউকে রাখা যাচ্ছে না। তাই তোমার নাম লেখার পর পুরো পৃষ্ঠা খালি রেখে দিলাম। তুষি একের পর দুই আছে ঠিকই। কিন্তু তার অবস্থান একের পাশাপাশি নয়। এর দূরত্ব যোজন যোজন। তুষি আমার বর্ণহীন জীবনকে তুমি বর্ণময় করেছ। হাজার গন্ধের, হাজার বর্ণের ফুল তোমার জীবনে ফুটুক, বিনিময়ে আমি পাব আত্মার শান্তি। তুষি সম্পর্কের পর থেকে তোমাকে একটি বারের জন্যও ভুলিনি। ভুলতে পারিনি। তোমাকে এ জীবনে বহির্লোকে পাইনি তা একেবারে চির সত্য, কিন্তু আমার অন্তর লোকে যে আসন তুমি অলংকৃত করেছ সে আসন এখন অবিচলিত আছে এবং চিরকাল থাকবে। তুষি তুমি অতুলনীয় সুন্দর। তৃষিত হৃদয়ের পানে তাকালে চোখ ফেরানো যায় না। ভুলে যেতে হয় চাঁদের হাসি, ফুলের সৌরভ, নদীর কলতান, পাখির গান, বাঁশির সুর, এমন একজন যার নাম তুষি। মনে হয় শত জনম ভরে তোমায় দেখি। শুধু দেখি, তুষি আমার সমস্ত হৃদয় দখল করে তুমি বসবাস করেছ, সত্যি, তুমি অনেক ভাগ্যবতী তুষি। সবশেষে তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করে এবং মনোজগত পরিবারের সকল সদস্যকে অজস্র ধন্যবাদ জানাই এই জন্য যে তারা মনোজগতের মতো একটা ম্যাগাজিন পড়ে। আজ আমি একটি তুষি পেয়েছি। হয়তো আমার মতো অনেকে হাজারো তুষির সন্ধান পাবে এই মনোজগতের মাধ্যমে। জয় হোক তুষি, জয় হোক মনোজগত, জয় হোক পৃথিবীর প্রতিটি মনের ভালোবাসার।
মো. আলমগীর হোসেন
রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর
ফোন: ০১৭২০-২২২৬৯৭
মৌন কথা...
হে আমার প্রিয় বন্ধু রব-বয়ে যাওয়া এই ক্লান্ত দুপুরে তোমাকে খুব মিস করছি! মৌন অস্থিরতায় আমি চমকে উঠি কোথায় হারিয়েছি আমরা তোমাকে এই ভাবনায়। কোকিলের কুহুতানে হেলাল, আনিস, মাহবুবের সাথে এই পাড়া ওই পাড়া করে ঘুরে বেড়িয়েছি সমস্ত গ্রাম। কোথায় তুমি, আমার প্রিয় বন্ধু আড্ডা। যেখানে ইমাম, ইকবাল, রাজেশ, শিবলুসহ সাজিয়ে তুলেছিলাম এক স্বপ্নীল ভালোবাসায় ভরা আমাদের বন্ধু ক্যাম্পাস। মোটা মামার চায়ের দোকানে, নাসিরের বিতলামি, সোহাগের গল্পকথা আর ভাবনাহীন মোবারকের অপলক দৃষ্টি আমরা কি পারব ভুলে যেতে? বন্ধু রোমাঞ্চিত সেই অতীত স্মৃতি আজ বন্ধু বিহঙ্গ হয়ে হৃদয় আকাশে শুধু ডানা ঝাপটায় আর আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। বন্ধু রব, মনে নেই প্রাণচাঞ্চল্য ভরা আমাদের রাসুর কথা? হ্যাঁ সেই রাসু যে ওই মেয়েটিকে ভালোবাসে। তুমি কি দেখেছ বৃত্তের কাঁটা তারে আবদ্ধ হয়ে রাসুদের মনগুলো ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যেতে? আমি দেখেছি ভালোবাসা কত নির্মম পরিণতি হতে পারে, কত নিকৃষ্ট হতে পারে প্রিয়াসীর মন! তবুও তো রাসু ভুলে যেতে কিংবা ঘৃণা করতে পারে না ভালোবাসার মানুষটিকে। বন্ধু রব রাসুর একাকিত্ব কি আমাদেরও ছুঁয়ে যাবে? না, এটি হতে পারে না। আমি আজও দিনের শেষে রক্তিম গোধূলি লগ্নে সবুজ মাঠে নীলাকাশের নিচে অপেক্ষায় থাকি তোরা ফিরে আসবি ভেবে। আবার আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই মানব সভ্যতাকে দেখিয়ে দেব বন্ধুত্ব কখনো হারায় না। ভালো থেকো হে আমার বন্ধু রব।
এমএসএ রাসেল
মিরসরাই, চট্টগ্রাম
ফোন: ০১৮১২-৯৩৩৮৬৬
কিছু স্মৃতি কিছু কথা
শৈশবের কিছু স্মৃতি আছে যা মানুষ কোনো দিন ভুলতে পারে না, দুষ্টমি, আনন্দ আর হাসি গানের মুহূর্তগুলো বসন্তের দখিনা হাওয়া হয়ে আজও মনে দোলা দিয়ে যায়, চোখ বন্ধ করলেই যেন ফিরে যাই শৈশবের সেই দিনগুলোতে। অজান্তেই কখনো বা হেসে উঠি কখনো বা আবার ভাসি দুচোখের অশ্রুতে। তবুও শৈশব নিয়ে ভাবতেই মনের মাঝে আনন্দ খুঁজে পাই, বুঝতে পারি বয়স বাড়ার সাথে সাথে ভালোবাসার কত ঘাটতি পড়েছে এই জীবনে। আমি তখন গুলবাহার উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে পড়াশোনা করি, বাবা ঢাকা থেকে বদলি হয়ে এই কচুয়ায় থানায় জয়েন করেছে এক বছর আগে। অষ্টম শ্রেণী পাস করে কেবল নাইনে উঠেছি। নাইনে উঠতেই নিজেকে কেমন যেন বড় বড় মনে হতে লাগল। আমাদের বাসা থেকে স্কুল ছিল আধা ঘণ্টার রাস্তা, সাইকেলে চড়ে স্কুলে যাওয়ার আনন্দটাই অন্য রকম, যা ভাষায় বর্ণনা করে বোঝানো যাবে না। অঙ্ক প্রাইভেট পড়ার জন্য রোজ বিকেলে বিশ মিনিটের রাস্তা হেঁটে অলুপ স্যারের বাসায় যেতে হতো। রাশেদ, মিরাজ, ইকবাল এবং আমি, এই চারজন সাথে যেত খান বাড়ির জেসিকা এবং সিউটি, এই ছয়জন মিলে প্রতিদিন অলুপ স্যারের বাসায় প্রাইভেট পড়তে যেতাম। সবাই একই স্কুলে পড়তাম। বুঝতে পারছেন আমাদের মাঝে কী রকম মজা হতো রোজ বিকেলে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময়। হঠাৎ করেই ইকবাল আর জেসিকার মধ্যে ভাব জমে উঠল যাকে বলে একেবারে রোমিও-জুলিয়েটদের ভালোবাসা।
একদিন হলো কি আমরা ছয়জন একসাথে অঙ্ক প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছি। ঠিক এমন সময় জেসিকা বলে উঠল তোরা এতগুলো বন্ধু থাকতে আমার একটা ইচ্ছা পূরণ করতে পারছিস না। ইকবাল জেসিকাকে বলল কী ইচ্ছা তোমার, সিউটি বলল, পেয়ারা খাওয়ার। আমি বললাম এটা আবার কেমন ইচ্ছা? রাশেদ আমাকে থামিয়ে বলল, পেয়ারা কিনে খাওয়ানোর মানুষ তো সাথেই আছে কী বলো ইকবাল ভাই ইকবাল যেন একটু লজ্জা পেয়ে গেল রাশেদের কথায়। আমি বললাম বিলকুল ইকবাল আমাদের সবাইকে বাজার থেকে পেয়ারা কিনে এনে খাওয়াবে তোরা কী বলিস, সবাই একসাথে হাত তালি দিয়ে উঠল সিউটি বলল বাজারের পেয়ারায় হবে না ইকবাল, পেয়ারাটা কিন্তু মিয়াদের বাগানের লাল পেয়ারা হতে হবে বুঝলি। এটা হচ্ছে তোর ভালোবাসার পরীক্ষা। ওর কথা শুনে আমাদের মুখ শুকিয়ে গেল ভয়ে। তারপর প্রাইভেট শেষ করে যে যার বাড়ির দিকে চলে গেলাম এবং ইকবালকে বললাম বাজারে গিয়ে দেখ পেয়ারা পাওয়া যায় কি না, যদি পাস মিয়ার বাগানের বলে চালিয়ে দিস। রাতের বেলা আমি ঘরে বসে শেক্সপিয়ারের কিং লিয়ার গল্পটা পড়ছিলাম, ঠিক এমন সময় রাশেদ, মেরাজ আর ইকবাল এসে হাজির হলো আমার ঘরে। কী রে কী হয়েছে তোদের মুখখানা এমন শুকনো কেন? ইকবাল এসে আমার পাশে বসল। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল দোস্ত লাল পেয়ারা বাজারে গিয়ে পাইনি। আরে বাবা এত চিন্তার কী আছে। তুই চাইলে রাতের মধ্যেই পেয়ারা জোগাড় হয়ে যাবে। ইকবাল যেন আমার কথায় আশার আলো খুঁজে পেল। কীভাবে দোস্ত বল না। সবাই মিলে আমাকে ঘিরে ধরল। আরে বাবা মিয়াদের পেয়ারা বাগানে গিয়েই তো যত খুশি পেয়ারা আনতে পারবি। তবে সাবধান পাহারাদার হাবুল্লা যেন না দেখে। রাশেদ রেগে গিয়ে বলল আমাদের সাথে তুই রসিকতা করিস, তুই জানিস মিয়ারা যদি জানতে পারে তাহলে কী হবে, ইকবাল বলল যা হবার হবে চল আগে পেয়ারা আনি। আমি বললাম এই তো সম্রাট শাহজাহানের মতো কথা। একটা বুদ্ধি অবশ্য এর মধ্যে করে ফেললাম।
কোকের ভেতর ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে হাবুল্লাকে খাইয়ে দেব আমরা আর হাবুল্লা ঘুমিয়ে পড়লেই খেলা শুরু। মিরাজ বলল আমাদের ঘরেই তো ঘুমের ওষুধ আছে, আমার মা মাঝে মাঝে খায়। আমি বললাম নিয়ে আয় জলদি করে। মেরাজ ওষুধ নিয়ে এলো। অন্ধকারের মধ্যেই বাজার থেকে আনা কোকের মধ্যে ৪-৫টা ট্যাবলেট ছেড়ে দিলাম আর বাকিগুলো আমার পকেটে রেখে দিলাম, তারপর ওদের রেখে আমি হাবুল্লার কাছে গেলাম। মিয়াদের অনেক বড় পেয়ারা বাগান তার পাশেই একটা ছোট ঘরে হাবুল্লা একা থাকে। হাবুল্লাকে ঘরের মধ্যেই পেলাম। আমাকে দেখে বলল, কী রে বেটা এত রাতে এখানে কী করিস, আমি হাবুল্লার পাশে গিয়ে বসলাম এবং কোকের বোতলটা হাবুল্লার হাতে দিয়ে বললাম, তুমি যদি এই কোকাকোলাটি তিন মিনিটের মধ্যে খেতে পার তাহলে তোমাকে এক প্যাকেট সিগারেট খাওয়াব, হাবুল্লা বলল আরে বেটা এটা কোনো কাজ হলো এই দিকে দে। আমার হাত থেকে বোতলটা টেনে নিয়ে তিন মিনিটের আগেই খেয়ে সাবাড় করে ফেলল। আর আমিও নিয়মমতো সিগারেটের একটু নতুন প্যাকেট হাবুল্লাকে দিয়ে এলাম। সব ওকে এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা, মিরাজ আর রাশেদ দুই দিকে পাহারা দেবে আর আমরা দুজন পেয়ারা পাড়ব, তবে শর্ত হলো কেউ যদি ধরা পড়ে তবে আর কারো নাম বলতে পারবে না, একটা সংকেত সবাই শিখে নিলাম কাউকে এদিকে আসতে দেখলে দেয়া হবে।
চিরকালের ভিতু মিরাজের অবস্থা তখন খারাপ হয়ে গেছে। ঘণ্টা খানেক পর সবাই মিশনে গেলাম ভাবলাম হাবুল্লা হয়তো এখন স্বর্গে আছে। কথামতো যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলাম, খানিক সময় যেতেই মিরাজের চিৎকার শোনা গেল, সোহান, রাশেদ, ইকবাল তোরা পালা হাবুল্লা আসছে। মিরাজ হাবুল্লাকে দেখে বোধহয় শেখানো সংকেতই ভুলে গেছে। তাই সকলের নাম ধরে ডেকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। আমরা তো একেক জন একেক দিকে ছুটতে লাগলাম। অন্ধকারে কে যেন পানির মধ্যে গিয়ে পড়ল রাস্তা না পেয়ে, তখন আর হাসার সময় নেই পালাতে হবে। আমি এক দৌড়ে চলে গেলাম বাবার পরিচিত এক আঙ্কেলের বাসায়, সেদিন রাতেই দেখলাম মিরাজ ভুল করে ঘুমের ট্যাবলেটের বদলে মাথা ব্যথার ট্যাবলেট নিয়ে এসেছিল। পরদিন বিকেলে বাসায় ফিরে চারজন একসাথে হলাম, তারপর কালভার্টের ওপর বসে সেই কথা তুললাম, জানতে পারলাম ইকবাল গতকাল রাতে ওর বোনের বাড়িতে ছিল, আর রাশেদ এক বাড়ির গরুর ঘরে সারারাত মশার কামড় খেয়ে কাটিয়ে দিয়েছে। মিরাজকে বললাম তুই সকলের নাম ধরে ডাকলি কেন? মিরাজ বলল শোন তাহলে আমি তো পাহারা দিচ্ছিলাম অন্ধকারে। সামনে থেকে পেছনে ঘুরে দেখি আমার পেছনে একজন লোক দাঁড়িয়ে হাতে লাঠির মতো কী যেন, প্রথমে মনে করলাম ভূত তারপর ভালো করে তাকিয়ে দেখি হাবুল্লা। তাই তো ভয়ে মুখ দিয়ে তোদের নাম বেরিয়ে গেছে। হাবুল্লা যদি সেদিন অন্ধকারে খালের মধ্যে না পড়ত তাহলে আমাকে মেরে তকতা বানিয়ে ফেলত বুঝলি হাবুল্লার কথা শুনে তো আমরা হাসিতে ফেটে পড়লাম একে অন্যের দিকে। আজ আমরা বন্ধুরা সব দূরদূরান্তে বসবাস করছি জানি না ইকবাল-জেসিকার প্রেম কতটুকু এগিয়েছে, শৈশবের সেই কথাগুলো মনে পড়লে আজও হেসে উঠি নিজের অজান্তেই।
সোহানুর রহমান অনন্ত
ছনটেক সড়ক, শনির আখড়া, ঢাকা
ফোন: ০১৯২০-৪৬৩৭৬৩



