মানসিক রোগ শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা ও জনসচেতনতায় পথিকৃৎ
ব্যক্তির ব্যক্তি বা পার্সোনালিটি
পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্ব বলতে সাধারণত ব্যক্তির সেই বৈশিষ্ট্যকে বোঝায় যার জন্য সে অন্য ব্যক্তি থেকে স্বতন্ত্র-আলাদা। এ কারণে পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্বের সংজ্ঞা নির্দেশ করতে গিয়ে কোনো কোনো বিজ্ঞানী বলেছেন যে ‘পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্ব হলো সেই বৈশিষ্ট্য যা একই ধরনের বুদ্ধি ও জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিকে একই অবস্থায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া করায়’। পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্ব শব্দটির লৌকিক ব্যাখ্যা তার মনোবিদ্যাসমমত ব্যাখ্যা থেকে পৃথক। সাধারণত Individuality বা স্বাতন্ত্র্য এবং Uniqueness বা অসাধারণত্বকেই ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির লক্ষণ বলে মনে করা হয়। দৈনন্দিন জীবনে ‘ব্যক্তিত্ব’ বা পার্সোনালিটি শব্দটিকে নানাভাবে ব্যবহার করা হয়। যে লোক তার চালচলনে কথাবার্তায় আচার-আচরণে ব্যবহারে অন্যের মনের ওপর একটা প্রভাব রেখে যায়, সে ব্যক্তির পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্ব আছে বলে মনে করা হয়। ইংরেজি Personality শব্দটির আদি অর্থের সঙ্গে এই জাতীয় লৌকিক ব্যাখ্যার একটা সামঞ্জস্য লক্ষ করা যায়। ল্যাটিন শব্দ Persona থেকে ইংরেজি Personality শব্দটির উৎপত্তি ঘটছে। Persona শব্দটির অর্থ হলো ‘মুখোশ’। সত্যিকার অর্থে একেকটি মানুষ যেন একেক ধরনের মুখোশ পরে থাকে। কারণ মানুষের বাইরের রূপ আর ভেতরের রূপ এক নয়। মানুষ বাইরে থেকে এক রকম আর ভেতর থেকে আরেক রকম। কেউ বা ভালো মানুষের মুখোশ পরে থাকে, কেউ বা খারাপ মানুষের মুখোশ পরে থাকে, কেউ বা পরে থাকে দুশ্চরিত্র চরিত্রের মুখোশ। সত্যিকার অর্থে একেকটা মানুষ অন্য আরেকটি মানুষ থেকে আলাদা। প্রাচীনকালে ইতালির রোমে অভিনেতারা মুখোশ পরে মঞ্চে অভিনয় করতেন। তখন একেক ধরনের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য একেক ধরনের মুখোশ পরতেন। একেকটা মুখোশে একেক ধরনের চরিত্র ফুটে উঠত। পার্সোনালিটি শব্দটির উৎপত্তি যে শব্দটি থেকে সেটি অতীতে একটা মিথ্যা বা বিকৃতরূপ, ছদ্ম বা ব্যক্তি যেভাবে অপরের কাছে প্রকাশিত হয় তাকেই বোঝাত। পরবর্তীকালে Persona শব্দটির অর্থ পরিবর্তিত হয়ে যায়। শব্দটির অর্থ হয়ে দাঁড়ায় নাটকের অভিনেতা। মজার কথা হলো এ অর্থেও পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্ব ব্যক্তির আসল স্বরূপকে না বুঝিয়ে নাটকে অভিনীত রূপকে বোঝাত।
পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্ব বলতে আবার মনে করা হয় যে, ব্যক্তির কতগুলো অসাধারণ গুণ বা ব্যক্তিত্বকে অপরের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা, আবার কোনো কোনো দার্শনিক মনে করেন যে, ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি হলো ব্যক্তির সেই অন্তর্নিহিত সার ধর্ম যা আসল সত্তা বা ব্যক্তির পর্যবেক্ষণযোগ্য আচরণকে সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত করে। এ অর্থ অনুসারে ব্যক্তিত্ব ব্যক্তির বিভিন্ন আচরণ এবং ক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয় না। সত্যিকার অর্থে সকল প্রকাশের অন্তরালে পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্ব অজ্ঞাত থেকে যায়। মনোবিজ্ঞানের দিক থেকে ব্যক্তিত্বের পূর্বোক্ত লৌকিক ব্যাখ্যা এবং দার্শনিক ব্যাখ্যার কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়। স্বাতন্ত্র্য ও অসাধারণত্ব ছাড়াও ব্যক্তি তার-
- চিন্তা
- প্রবণতা
- গুণ
- আগ্রহ
এবং জীবনাদর্শ নিয়ে এক বিস্ময়কর জটিল সংগঠন। ব্যক্তির পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্বের মূলে আছে ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিবেশের পারসপরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং জাগতিক ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে ব্যক্তির উপযোজন। এই বিষয়টিকে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের ব্যাখ্যায় উপেক্ষা করা কোনোমতেই যুক্তিসঙ্গত নয়। সুতরাং অপরের মনের ওপর রেখাপাত করা বা অপরের কাছে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলাকে ব্যক্তিত্বের প্রধান লক্ষণ বলা যাবে না। বিজ্ঞানী G. Allport তার Personality এবং Boring and others Foundation of psychology বইতে এ ধরনের কথাই বলেছেন।
পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্ব বলতে অনেক সময় ব্যক্তির অনুভূতি, চিন্তা ও ভাবধারাকে বোঝানো হয়। আবার সময় সময় ব্যক্তিত্ব এবং চরিত্র এ দুটোকে সমার্থক শব্দ মনে করা হয়। তবে ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির এ জাতীয় ব্যাখ্যাও গ্রহণযোগ্য নয়। পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্ব বলতে যদি বুঝি ব্যক্তির চিন্তা, অনুভূতি ও ভাবধারা তাহলে ব্যক্তিত্বের মানসিক দিকটিরই উল্লেখ করা হবে, যে আচরণের মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের প্রকাশ তার কোনো উল্লেখ করা হবে না। পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্বকে চরিত্রের সঙ্গে অভিন্ন করে দেখাও যুক্তিযুক্ত নয়। পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্ব চরিত্র থেকে ব্যাপকতর এবং চরিত্রকে ব্যক্তিত্বের একাধিক উপাদানের মধ্যে অন্যতম উপাদান মনে করা যেতে পারে। পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্বের সব উপাদানের নৈতিক মূল্য নির্ধারণ করা হয় না। বিজ্ঞানী অষষঢ়ড়ৎঃ এর মতে, ব্যক্তিত্বের যখন নৈতিক মূল্য নির্ধারণ করা হয় তখন তা হয় চরিত্র, আর চরিত্র থেকে নৈতিক মূল্যায়নের বিষয়টুকু যখন বাদ দেয়া হয় তখন আমরা পাই ব্যক্তিত্ব। (Character is personality evaluated and personality is character-Allport personality) যদি বলা হয় বাহ্যিক কার্যাবলি যার মাধ্যমে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে, তার সমন্বয়ই ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি তাহলে ব্যক্তির দৈহিক এবং মানসিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করা হলো না। অপরিবর্তনশীল আত্মাই ব্যক্তিত্ব-ব্যক্তিত্বের এ জাতীয় ব্যাখ্যা মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ কেউ আবার পার্সোনালিটি ও বুদ্ধিকে অভিন্ন মনে করেন। ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বুদ্ধির সম্পর্ক আছে। কিন্তু সেই কারণে তাদের অভিন্ন মনে করা যুক্তিযুক্ত নয়।
ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটির সংজ্ঞা
পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্ব জটিল বিষয় এবং ব্যক্তিত্বের নিখুঁত সংজ্ঞা নির্দেশ করাও সহজ নয়। বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানী, মনোবিদ ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটির বিভিন্ন সংজ্ঞা দিয়েছেন। বিজ্ঞানী এ. অললহসড়য় তার ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটির ওপর লেখা প্রায় ৫০টি প্রচলিত সংজ্ঞার উল্লেখ করেছেন। কিন্তু বিশেষ বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এ সংজ্ঞাগুলো দেয়া হয়েছে বলে কোনো সংজ্ঞাই ব্যক্তিত্বের পূর্ণ স্বরূপকাঠিকে প্রকাশ করতে পারেনি। মনোবিজ্ঞানী, মনোবিদ উডওয়ার্থ ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন ব্যক্তিত্ব হলো-‘ব্যক্তির আচরণের সামগ্রিক প্রকৃতি’। (Personality can be broadly defined as the total quality of an individuals behaviour-Woodworth: Psychology) কিন্তু সামগ্রিক প্রকৃতিটি বা ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের এই ঐক্য সূত্রটি কী, তা উডওয়ার্থ ব্যাখ্যা করেননি। কোনো কোনে মনোবিদ তাদের সংজ্ঞার্থে বিভিন্ন অবস্থার সঙ্গে ব্যক্তির সামঞ্জস্য সাধন বা উপযোজনের শক্তিকেই ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটির লক্ষণ বলে নির্দেশ করেছেন। মনোবিদ ওয়াটসন-এর মতে, উদ্দীপক জীবদেহের ওপর ক্রিয়া করার জন্য যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় সেই প্রতিক্রিয়ার সমষ্টিই হলো ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি। কিন্তু ওয়াটসনের সংজ্ঞার্থে ব্যক্তিত্বের মানসিক এবং উদ্দেশ্যমূলক দিককে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। মনোবিদ বোরিং ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, ব্যক্তিত্ব হলো ব্যক্তির পরিবেশের সঙ্গে এক বিশেষ ধরনের সঙ্গতিপূর্ণ উপযোজন। (It is defined as an individuals typical or consistent adjustment to his environment-Boring Foundation of psychology) বিজ্ঞানী গ্যারেট-এর মতে, পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্ব হলো আচরণের বিশেষ রীতি বা পদ্ধতি। (Personality, then is the style or form of behaviour-H. G Garnett: Great experiments in psychology) তার মতে, প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যক্তি যে বিশেষ ধরনের রীতিতে প্রক্রিয়া করে তার মধ্যে সেই তার ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি প্রকাশিত হয়। মনোবিদ মনোবিজ্ঞানী ম্যাকডুগাল-এর মতে, পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্ব কতগুলো সহজাত বৃদ্ধির ক্রিয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। কেউ বা ব্যক্তিবিশেষের অর্জিত প্রবণতা ও বৃত্তিকে, কেউ বা ব্যক্তির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বা গুণের সমষ্টিকে ব্যক্তিত্ব মনে করেছেন, আবার কোনো কোনো মনোবিজ্ঞানী বা Psychologist ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটির মধ্যে যে সংহতি বা ঐক্য আছে তাকেই ব্যক্তির ব্যক্তিত্বরূপে নির্দেশ করেছেন। পূর্বোক্ত সংজ্ঞাগুলো অসম্পূর্ণ কারণ এগুলোতে ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির কোনো একটি বিশেষ দিকের ওপরই গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। মনোবিজ্ঞানী Munn ও তার সংজ্ঞার মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির মধ্যে যে ঐক্য বা সংহতি আছে তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি ব্যক্তিত্বের সংজ্ঞায় বলেছেন, বিশেষ করে সামাজিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য ব্যক্তির-
- গঠন
- আগ্রহ
- আচরণের ধরন
- ভাবভঙ্গি
- সামর্থ্য
- ক্ষমতা এবং
- প্রবণতার
বিশেষ সংহতি বা ঐক্য হলো ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি (Personality May be defined as the most characteristic intergration of an individuals Structure, Modes of behaviour, Interests, attitudes, abilities and aptitudes especially from the stand point of adjustment in social situations-Munn) বিজ্ঞানী আলপোর্ট-এর মতে, ‘ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি মানুষের অন্তঃস্থিত দৈহিক মানসিক তন্ত্রের সেই গতিবন্ত সংগঠন যা পরিবেশের সঙ্গে তার অভিনব উপযোজন নির্ধারণ করে (Personality is the dynamic Organization with in the individual of those psycho-physical system that determine his Unique adjustments to his environment-Allport: Personality)
অন্যান্য সংজ্ঞার তুলনায় আলপোর্টের সংজ্ঞাটি অপেক্ষাকৃত সন্তোষজনক। কারণ তিনি ব্যক্তিত্বের পরিবর্তনশীল রূপকে স্বীকার করেছেন। তিনি বাহ্য প্রকাশের ওপর গুরুত্ব আরোপ না করে অভ্যন্তরীণ দিকের ওপর এবং ব্যক্তির সামাজিক দিকের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটির কোনো সংজ্ঞাই ত্রুটিমুক্ত নয়। ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি এক জটিল বিষয়। আসলে ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি দেহমনের এক জীবন্ত ঐক্য। ব্যক্তির-
- সহজাত প্রবৃত্তি
- বৈশিষ্ট্য
- আকাঙ্ক্ষা
- কামনা
- বাসনা
- মানসিক প্রবণতা
- ব্যক্তির আশা
- বাসনা
- অভ্যাস
- আগ্রহ
- জীবনাদশ
- বুদ্ধি
- অভিজ্ঞতা
- কল্পনাশক্তি
- নৈপুণ্য
- দোষ
- গুণ
প্রভৃতি প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে উপযোজনের ক্ষমতা এবং বাহ্য প্রতিক্রিয়া এসব কিছুর সংমিশ্রণেই ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি। ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি শুধুমাত্র গুণ ও ক্রিয়ার সমষ্টি নয়, শুধুমাত্র সংহতি বা ঐক্য নয় ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি হলো সেই সত্তা যা গুণ ও ক্রিয়ার মধ্যে উপস্থিত থেকে তাদের ঐক্যবদ্ধ বা সংহত করে।
ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটির বৈশিষ্ট্য বা উপাদান
ব্যক্তি যখন জন্মগ্রহণ করে তখন ব্যক্তির মধ্যে সুপ্ত থাকে অনন্ত সম্ভাবনা ও বিচিত্র শক্তি এবং সেই সম্ভাবনা শক্তিকে বাস্তবে রূপায়িত করার জন্য ব্যক্তির এক দৈহিক মানসিক সংগঠন আছে। জন্মের পর থেকেই পরিবেশের বিভিন্ন শক্তিগুলো ব্যক্তির ওপর ক্রিয়া করে এবং এর ফলে ব্যক্তির অন্তর্নিহিত শক্তি, ব্যক্তির সহজাত প্রবৃত্তি ও প্রবণতা এবং পরিবেশের শক্তির মধ্যে যে পারসপরিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, তার থেকেই ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশ লাভ করে। কাজেই পারিপার্শ্বিকের সঙ্গে উপযোগের জন্য ব্যক্তির কার্যাবলি তার ব্যক্তিত্বের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ।
ব্যক্তির সঙ্গে পারিপার্শ্বিকের এই উপযোগের পেছনে আছে ব্যক্তির-
- চিন্তা
- ভাবধারা
- ইচ্ছা
- কামনা
- বাসনা
- জীবনাদর্শ এবং
- ব্যক্তির সহজাত প্রবণতা ও
- বৃত্তি
ব্যক্তিত্ব স্থির বা নিশ্চল নয়, ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির গঠন ক্রমবর্ধমান ও গতিধর্মী। পরিবেশের মধ্যে পরিবর্তন ও বৈচিত্র্য এবং এই পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে ব্যক্তির সঙ্গতিসাধনের প্রচেষ্টার জন্য ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির মধ্যেও পরিবর্তন দেখা দেয়। ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি নিশ্চল নয়-এ হলো চির পরিবর্তনশীল, সদা বিকাশমান ও গতিধর্মী।
ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি পরিবর্তনশীল ও বিকাশমান হলেও এর মধ্যে একটা স্থায়িত্ব আছে। যার মাধ্যমে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটিকে বুঝে নেয়া যায়। প্রতিটি ব্যক্তি এক বিশেষ ব্যক্তি এবং এ হিসেবে সে অন্যজন থেকে আলাদা পৃথক স্বতন্ত্র। অন্য কারো সঙ্গে তার তুলনা করা যায় না পরিপূর্ণরূপে।
ব্যক্তির মানসিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে দৈহিক বৈশিষ্ট্য। ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি দেহ-মনের এক জীবন্ত ঐক্য। মানসিক এবং দৈহিক বৈশিষ্ট্যগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটা সুসামঞ্জস্য রূপ লাভ করে। ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির মধ্যে আছে একটা সমগ্রতা, একটা সংহতি, একটা সুসামঞ্জস্য সংগঠন।
যে আত্মসচেতন জীব নিজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রিত করতে সমর্থ, তিনিই ব্যক্তিৃ সুতরাং Self-consciousness বা আত্মসচেতনতার এবং Self determination বা আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাই ব্যক্তিত্বের মূল ভিত্তি।
ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি আত্মপ্রকাশ করে সামাজিক পরিবেশের মধ্যে। সমাজের-
- আচার-ব্যবহার
- রীতি-নীতি
- কৃষ্টি ও
- ভাবধারা
প্রভৃতি সামাজিক উপাদান ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি তৈরি করে। সে কারণে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি সমাজের ওপর নির্ভরশীল।
ফ্যাক্টরস অব পার্সোনালিটি (ব্যক্তিত্বের উপাদান)
পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্ব হলো একটা সুসংহত সামগ্রিক সত্তা, বহু উপাদানের গড়া কমবেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ঐক্যবদ্ধ জটিল সংগঠন। প্রশ্ন হলো যে বহুবিধ উপাদানে এই ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি গঠিত, সেই উপাদানগুলো কী? এর জবাবে বলা যেতে পারে যে, ঠিক কোন কোন উপাদানের দ্বারা ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি গঠিত তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয় ১০০% ভাবে। প্রাণহীন ও অচেতন জড়বস্তুর উপাদানগুলো সহজে জানা যায় এবং জড় পদার্থের বিভিন্ন উপাদানগুলোকে বর্ণনার মাধ্যমেই জড় পদার্থের স্বরূপকাঠিকে মোটামুটি বুঝে নেয়া যায়। তাছাড়া, জড় পদার্থের উপাদানগুলোকে বিশ্লেষণের মাধ্যমে পৃথক পৃথকভাবে পাওয়া সম্ভব নয়। ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির উপাদানগুলোকেও ঠিক সেভাবে পাওয়া সম্ভব নয়। কেননা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব সামগ্রিকভাবে কার্যকর। জড় পদার্থে তার উপাদানগুলোর সমষ্টিমাত্র, কিন্তু ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি বিচ্ছিন্ন উপাদানের সমষ্টিমাত্র নয়। ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি এক চলমান জীবন্ত ঐক্য। বহুবিধ বিচিত্র উপাদানে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব গঠিত। আমাদের দৃষ্টির অগোচরে এবং অজ্ঞাতসারে বহুবিধ ঘটনা ব্যক্তির ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব দৈহিক, মানসিক সমস্ত রকম শক্তি ও সম্ভাবনার এক সুষম সমন্বয়। ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির উপাদানগুলোকে সাধারণভাবে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- প্রাকৃতিক উপাদান এবং
- পরিবেশগত উপাদান।
ট্রেইটস অব পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্বের প্রলক্ষণ
ট্রেইটস অব পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্বের প্রলক্ষণ বলতে বোঝায় ব্যক্তির এমন কতগুলো গুণ বা বৈশিষ্ট্য যার সাহায্যে আমরা একটি ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটিকে অন্য ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি থেকে পৃথক করতে পারি। যেমন-
- প্রফুল্ল ব্যক্তিত্ব
- বিষণ্ন ব্যক্তিত্ব
- সদাশয় ব্যক্তিত্ব
- উদারতাময় ব্যক্তিত্ব
- পরিশ্রমশীলতা ব্যক্তিত্ব
- ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির প্রলক্ষণের ধারণা আমরা কীভাবে করি এবং কীভাবে তার নামকরণ করি, কোনো কোনো মনোবিদ তার একটা যুক্তিশাস্ত্রসমমত পদ্ধতির উল্লেখ করেছেন-
- প্রথম স্তরে ব্যক্তির আচরণকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমরা কোনো একটি ক্রিয়া বিশেষণের ব্যবহার করি। যেমন-অমুক লোক বেশ সতর্কতার সঙ্গে বা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করছে।
- দ্বিতীয় স্তরে-এই গুণটিকে ব্যক্তির আচরণের ব্যাখ্যায় প্রয়োগ না করে যখন ব্যক্তির বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করি তখন এটি ক্রিয়া বিশেষণ বা অনযপধয়মংপ হয়ে যায়। যেমন-লোকটি সাবধানী বা আত্মবিশ্বাসী।
- তৃতীয় স্তরে আমরা এই বিশেষণটিকে বিশেষ্যরূপে ব্যবহার করি এবং মনে করি ব্যক্তির মধ্যে এই বিশেষ গুণটির অস্তিত্ব আছে। তখন বলি এই ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির মধ্যে সাবধানতা এবং আত্মবিশ্বাস এই দুই প্রলক্ষণের অস্তিত্ব রয়েছে। কোনো কোনো মনোবিদ/ মনোবিজ্ঞানী এভাবে অমূর্ত বিষয়কে বিশেষ্যরূপে ব্যবহার করার বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু এই বিষয়টির ওপর এতখানি গুরুত্ব আরোপ করা সমীচীন নয়।
প্রলক্ষণ বা ট্রেইটস হলো ব্যক্তির মধ্যে একটা কম-বেশি স্থায়ী গুণ যার জন্য অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে আমরা বিশেষ এক ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করি অন্যরূপ প্রত্যাশা করি না। কিন্তু ব্যক্তির আচরণ নির্দেশক যে কোনো গুণবাচক শব্দকেই ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির প্রলক্ষণরূপে গণ্য করা যেতে পারে না। (Al though a trait is a description of human behaviour, not every word that describes behaviour defines a trait-Boring foundations of psychology)
ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির প্রলক্ষণ বা ট্রেইটরূপে গণ্য হবার জন্য যে কোনো গুণবাচক শব্দের যে সকল বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন সেগুলো হলো-
- ব্যক্তিত্বের ট্রেইট বা প্রলক্ষণের দুটি দিক আছে
একটি মানসিক ও
একটি আচরণমূলক
যেমন নম্রতা। মনের দিক থেকে নম্রতা মার্জিত রুচিসম্পন্ন মনোভাবকে বোঝায় এবং আচরণের দিক থেকে শিষ্ট সভ্য আচরণকে বোঝায়।
- ব্যক্তির জন্মগত প্রবণতা ও পরিবেশ এই উভয়ের প্রতিক্রিয়া থেকেই ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির লক্ষণগুলোর জন্ম।
- সাধারণত মানুষের মধ্যে ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির প্রলক্ষণগুলো কম বেশি পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো গুণই চরম মাত্রায় বিদ্যমান থাকে না। যেমন সামাজিতা। কোনো ব্যক্তি কম সামাজিক, আবার কোনো ব্যক্তি বেশি সামাজিক।
- বাহ্য অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির এই প্রলক্ষণগুলোর পরিবর্তন ঘটলেও ব্যক্তির স্বভাবের মধ্যে এগুলো কম বেশি স্থায়ী। এ প্রলক্ষণগুলো থেকে যে আচরণের উদ্ভব হয় সে আচরণের মধ্যে এই প্রলক্ষণের প্রকাশ অনেকটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সঙ্গতিপূর্ণ। যেমন-যে ব্যক্তি উদার মনোভাবাপন্ন, মোটামুটি সব অবস্থায় তার আচরণের মধ্যে উদার মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়।
- ব্যক্তিত্বের প্রলক্ষণগুলো সহজবোধ্য। অর্থাৎ এদের বুঝে নিতে বা চিনে নিতে কষ্ট হয় না, যার জন্য ব্যক্তির বিশেষ ধরনের আচরণের সহজ ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেয়া যায়।
- ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটির প্রলক্ষণের সাহায্যে ব্যক্তির ভবিষ্যৎ আচরণের স্বরূপ সম্পর্কে অনুমান করা সম্ভব হয়।
- পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্বের অধিকাংশ প্রলক্ষণই দ্বিমুখী। অর্থাৎ একটি গুণ এবং তার বিপরীত গুণ এই দুটিকে নিয়েই ব্যক্তিত্বের প্রলক্ষণের দ্বিমুখী সত্তা গঠিত হয়। এ জন্য কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের কোনো বিশেষ প্রলক্ষণ নির্ণয় করতে হলে দুটি পরসপরবিরোধী গুণকে দুদিকে রেখে তাদের একটি কাল্পনিক সরলরেখা দ্বারা যুক্ত করতে হবে এবং তারপর নির্ধারণ করতে হবে ব্যক্তির ঐ গুণটি। ঐ সরলরেখার কোন জায়গায় অবস্থিত। এই কাল্পনিক রেখাকে বলা হয় Dimension of personality বা ব্যক্তিত্বের পরিসর। যেমন-সামাজিকতা বনাম অসামাজিকতা, প্রফুল্লতা বনাম বিষণ্নতা। কোনো ব্যক্তিকে প্রফুল্ল না হলেই যে বিষণ্ন হতে হবে বা সামাজিক না হলে অসামাজিক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। এর অর্থ হলো, সামাজিকতা থেকে অসামাজিকতা এই পরিসরের মধ্যে প্রলক্ষণটি বিভিন্ন মাত্রায় বিভিন্ন লোকের মধ্যে বিদ্যমান। যে ব্যক্তির মধ্যে এই প্রলক্ষণটি অধিক পরিমাণে থাকবে তাকে সামাজিক এবং যার মধ্যে খুব কম পরিমাণে আছে তাকে অসামাজিক বলা হয়। তেমনি একটি লোককে যখন ভীরু বলা হচ্ছে তখন তার অর্থ এই নয় যে, তার মধ্যে সাহসিকতা নেই। তবে যেটুকু সাহসিকতা আছে তা নিতান্ত উপেক্ষার বিষয়। এ প্রসঙ্গে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব সামগ্রিকভাবে কাজ করে এবং তার একটা সুসংবাদ, সুসামঞ্জস্য ও ঐক্যবদ্ধ রূপ আছে। সুতরাং প্রলক্ষণ বা ট্রেইটগুলোর যোগফল মাত্র ব্যক্তিত্ব নয় বা প্রলক্ষণগুলোকে পৃথক পৃথকভাবে পরিমাপ করলেই ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটিকে বোঝা যাবে না।
ব্যক্তিত্বে পরিবেশগত উপাদান
ব্যক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে বাবা-মা এবং পূর্ব পুরুষদের অনেক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়। ব্যক্তির মধ্যে সুপ্ত থাকে-
- বিচিত্র সম্ভাবনা
- অনন্ত শক্তি
তবে অনুকূল পরিবেশেই ব্যক্তির এই সম্ভাবনা ও শক্তি বাস্তবে রূপায়িত হয়। পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সঙ্গবিধান এবং সেই সঙ্গে নিজের শক্তি ও সম্ভাবনার সুষম সমন্বয়ের ফলেই ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি গড়ে ওঠে। এই পরিবেশ দু-ধরনের। যথা-
- প্রাকৃতিক এবং
- সামাজিক
প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যক্তির মনের ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে
- জলবায়ু
- গাছপালা
- মৃত্তিকা
- জীবজন্তু
- খাদ্য
এ সবকিছুর প্রভাব ব্যক্তির ওপর আছে। এগুলোর প্রভাবে ব্যক্তি হয়-
- কর্মঠ বা আয়েসী
- শক্তিমান বা দুর্বল
- পরিশ্রমী বা আলসে।
Social environment বা সামাজিক পরিবেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য হলো গৃহের বা পরিবারের পরিবেশ। পরিবারের সুস্থ ও মনোরম পরিবেশ শিশুর ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি গঠনে বিশেষভাবে উপযোগী। পরিবারের পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের কার্যকলাপ, চিন্তাধারা ও আদর্শ শিশুর ব্যক্তিত্বের ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে। মা-বাবা যদি শিশুকে স্বাধীনভাবে কর্ম করার সুযোগ দেন তাহলে শিশুর মধ্যে-
- আত্মনির্ভরতা
- সাহস
- আত্মবিশ্বাস
- স্বাধীনভাবে কাজ করা ও
- চিন্তা করার ক্ষমতা দেখা দেয়
তার ফলে শিশু স্থির ব্যক্তিত্ব অর্জন করে। আবার অপর পক্ষে মা-বাবা যদি শিশুকে কেবল চোখে চোখে রাখতে চান-
- তাকে স্বাধীনভাবে কাজ করা ও
- চিন্তা করার সুযোগ না দেয়
তাহলে শিশুর মধ্যে এক দুর্বল ভীরু ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি গড়ে উঠবে। আবার পিতা-মাতা যদি শিশুর প্রতি-
- নির্মম ব্যবহার করেন
- যদি খেয়ালি হন
- পিতামাতা যদি অত্যাচারী হন
- যদি উৎপীড়ক হন
- তাহলেও শিশু বিদ্রোহী মনোভাবাপন্ন
- অসংযত
- অসামাজিক ও
- রুক্ষ মেজাজের হয়ে থাকে।
- কাজেই গৃহের পরিবেশ যত মনোরম, যত স্বাস্থ্যকর, যত স্নেহপূর্ণ হবে পরিবারের ছেলেমেয়েরা সেভাবেই ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি অর্জন করবে।
আবার বিদ্যালয়ের পরিবেশও উল্লেখ করা যেতে পারে। অর্থাৎ শিশুমনের ওপর বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকা এবং শিশুর সহপাঠীদের প্রভাব। শিক্ষকদের-
- সদয় ও স্নেহপূর্ণ ব্যবহার
- শিক্ষা দেবার আগ্রহ
- তাদের আচার-ব্যবহার
- কথাবার্তা
- চাল-চলন
শিশুর জীবনের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। অপর পক্ষে শিক্ষক-শিক্ষিকার-
- কঠোর ব্যবহার
- নির্মমতা
শিশুমনকে বিদ্রোহী করে তোলে। তার মধ্যে উদাসীনভাব সৃষ্টি করে। সহপাঠীদের সাহচর্যে শিশু তার সু্প্ত ক্ষমতা ও শক্তির স্বাধীন বিকাশ সাধনে সচেষ্ট হয়। কোনো কোনো শিশুর মধ্যে নেতৃত্ব করার প্রবণতা জাগে। দলের অপর ছেলেমেয়েদের সে নেতা সাজে। বিভিন্ন শিশুর বিভিন্ন সহজাত ক্ষমতা দলের প্রভাবে বিশেষভাবে ক্রিয়া করার সুযোগ পায়। সুতরাং শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠন ও বিকাশের মূলে শিক্ষা, প্রতিষ্ঠান ও দলের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তারপর শিশু যখন পরিণত বয়স্ক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয় তখন বিভিন্ন-
- প্রতিষ্ঠান
- রীতিনীতি
- অনুষ্ঠান
- সমাজের আচার-আচরণ
- ধর্ম প্রতিষ্ঠান
- সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান
- ক্লাব
- অফিস
প্রভৃতি সংগঠন ব্যক্তির চিন্তাধারা ও আচরণের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং প্রভাবের তারতম্য অনুযায়ী ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির মধ্যে তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। নাইট এবং নাইট-এর অভিমতানুসারে পরিবেশগত প্রভাবের মধ্যে যেগুলো ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটিকে প্রভাবিত করে, তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংস্কৃতির ছাদ বা Culture Pattern অর্থাৎ ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের মধ্যে গড়ে ওঠে সেই সম্প্রদায়ের মূল প্রত্যাশা, আচার-ব্যবহার এবং অনুষ্ঠান তার মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে।
ব্যক্তিত্বে দৈহিক গঠন
দৈহিক বা শারীরিক গঠনের ওপর ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি বিশেষভাবে নির্ভর করতে দেখা যায়। ব্যক্তির নিজস্ব ব্যবহার এবং অপরের সঙ্গে তার আচরণ দৈহিক গঠনের দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়। Kretschmer এবং Sheldon দেহের গঠনের সঙ্গে ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটির গভীর সম্বন্ধ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। মনোবিজ্ঞানী অনলপড়-এর মতে, শারীরিক ত্রুটিযুক্ত ছেলেমেয়েদের মধ্যে হীনমমন্যতাবোধ দেখা যায়। নাইট এবং নাইট বলেন যে, সপষ্টতই প্রমাণ পাওয়া গেছে যে স্নায়ুতন্ত্র এবং অন্যান্য শারীরিক অঙ্গের দিক থেকে পার্থক্য নিয়েই ব্যক্তি তার জীবন শুরু করে এবং এ সমস্ত পার্থক্য যা অনিবার্যভাবে ক্রিয়ামূলক পার্থক্য ঘটায়, তাদের বৃদ্ধি ব্যক্তিত্বের সংগঠনকে প্রভাবিত করে। (A modern Introduction to Psychology-Kinght & Knight)
- প্রাকৃতিক এবং
- সামাজিক
প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যক্তির মনের ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে
- জলবায়
- গাছপালা
- মৃত্তিকা
- জীবজন্তু
- খাদ্য
এ সবকিছুর প্রভাব ব্যক্তির ওপর আছে। এগুলোর প্রভাবে ব্যক্তি হয়-
- কর্মঠ বা আয়েসী
- শক্তিমান বা দুর্বল
- পরিশ্রমী বা আলসে।
Social environment বা সামাজিক পরিবেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য হলো গৃহের বা পরিবারের পরিবেশ। পরিবারের সুস্থ ও মনোরম পরিবেশ শিশুর ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি গঠনে বিশেষভাবে উপযোগী। পরিবারের পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের কার্যকলাপ, চিন্তাধারা ও আদর্শ শিশুর ব্যক্তিত্বের ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে। মা-বাবা যদি শিশুকে স্বাধীনভাবে কর্ম করার সুযোগ দেন তাহলে শিশুর মধ্যে-
- আত্মনির্ভরতা
- সাহস
- আত্মবিশ্বাস
- স্বাধীনভাবে কাজ করা ও
- চিন্তা করার ক্ষমতা দেখা দেয়
তার ফলে শিশু স্থির ব্যক্তিত্ব অর্জন করে। আবার অপর পক্ষে মা-বাবা যদি শিশুকে কেবল চোখে চোখে রাখতে চান-
- তাকে স্বাধীনভাবে কাজ করা ও
- চিন্তা করার সুযোগ না দেয়
তাহলে শিশুর মধ্যে এক দুর্বল ভীরু ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি গড়ে উঠবে। আবার পিতা-মাতা যদি শিশুর প্রতি-
- নির্মম ব্যবহার করেন
- যদি খেয়ালি হন
- পিতামাতা যদি অত্যাচারী হন
- যদি উৎপীড়ক হন
- তাহলেও শিশু বিদ্রোহী মনোভাবাপন্ন
- অসংযত
- অসামাজিক ও
- রুক্ষ মেজাজের হয়ে থাকে।
কাজেই গৃহের পরিবেশ যত মনোরম, যত স্বাস্থ্যকর, যত স্নেহপূর্ণ হবে পরিবারের ছেলেমেয়েরা সেভাবেই ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি অর্জন করবে।
আবার বিদ্যালয়ের পরিবেশও উল্লেখ করা যেতে পারে। অর্থাৎ শিশুমনের ওপর বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকা এবং শিশুর সহপাঠীদের প্রভাব। শিক্ষকদের-
- সদয় ও স্নেহপূর্ণ ব্যবহার
- শিক্ষা দেবার আগ্রহ
- তাদের আচার-ব্যবহার
- কথাবার্তা
- চাল-চলন
শিশুর জীবনের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। অপর পক্ষে শিক্ষক-শিক্ষিকার-
- কঠোর ব্যবহার
- নির্মমতা
শিশুমনকে বিদ্রোহী করে তোলে। তার মধ্যে উদাসীনভাব সৃষ্টি করে। সহপাঠীদের সাহচর্যে শিশু তার সু্প্ত ক্ষমতা ও শক্তির স্বাধীন বিকাশ সাধনে সচেষ্ট হয়। কোনো কোনো শিশুর মধ্যে নেতৃত্ব করার প্রবণতা জাগে। দলের অপর ছেলেমেয়েদের সে নেতা সাজে। বিভিন্ন শিশুর বিভিন্ন সহজাত ক্ষমতা দলের প্রভাবে বিশেষভাবে ক্রিয়া করার সুযোগ পায়। সুতরাং শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠন ও বিকাশের মূলে শিক্ষা, প্রতিষ্ঠান ও দলের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তারপর শিশু যখন পরিণত বয়স্ক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয় তখন বিভিন্ন-
- প্রতিষ্ঠান
- রীতিনীতি
- অনুষ্ঠান
- সমাজের আচার-আচরণ
- ধর্ম প্রতিষ্ঠান
- সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান
- ক্লাব
- অফিস
প্রভৃতি সংগঠন ব্যক্তির চিন্তাধারা ও আচরণের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং প্রভাবের তারতম্য অনুযায়ী ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির মধ্যে তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। নাইট এবং নাইট-এর অভিমতানুসারে পরিবেশগত প্রভাবের মধ্যে যেগুলো ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটিকে প্রভাবিত করে, তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংস্কৃতির ছাদ বা ঈৎলয়ৎড়প চথয়য়পড়ষ অর্থাৎ ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের মধ্যে গড়ে ওঠে সেই সম্প্রদায়ের মূল প্রত্যাশা, আচার-ব্যবহার এবং অনুষ্ঠান তার মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে।
ব্যক্তিত্বে দৈহিক গঠন
দৈহিক বা শারীরিক গঠনের ওপর ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি বিশেষভাবে নির্ভর করতে দেখা যায়। ব্যক্তির নিজস্ব ব্যবহার এবং অপরের সঙ্গে তার আচরণ দৈহিক গঠনের দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়। Kretschmer এবং Sheldon দেহের গঠনের সঙ্গে ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটির গভীর সম্বন্ধ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। মনোবিজ্ঞানী অনলপড়-এর মতে, শারীরিক ত্রুটিযুক্ত ছেলেমেয়েদের মধ্যে হীনমমন্যতাবোধ দেখা যায়। নাইট এবং নাইট বলেন যে, সপষ্টতই প্রমাণ পাওয়া গেছে যে স্নায়ুতন্ত্র এবং অন্যান্য শারীরিক অঙ্গের দিক থেকে পার্থক্য নিয়েই ব্যক্তি তার জীবন শুরু করে এবং এ সমস্ত পার্থক্য যা অনিবার্যভাবে ক্রিয়ামূলক পার্থক্য ঘটায়, তাদের বৃদ্ধি ব্যক্তিত্বের সংগঠনকে প্রভাবিত করে। (A modern Introduction to Psychology-Kinght & Knight)
আমাদের দেহের মধ্যে কতগুলো বহিঃক্ষমতা গ্রন্থি আছে, যেমন-
- স্বেদগ্রন্থি
- লালাগ্রন্থি
- অশ্রুগ্রন্থি
- মূত্রগ্রন্থি
এগুলো যদিও ব্যক্তির আচরণের ওপর ক্রিয়া করে, ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তবুও আমাদের দেহের মধ্যে যেসব duct less glands বা গ্রন্থি আছে, ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির বিকাশে সেগুলোর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নালিহীন গ্রন্থিগুলো রক্তের মধ্যে যে ক্ষরণ ঘটায়, সে ক্ষরণরস সমস্ত দেহের মধ্যে সঞ্চালিত হয়ে থাকে, ছড়িয়ে থাকে। দেহের বিভিন্ন আভ্যন্তরীণ ক্রিয়ার সমন্বয় সাধন করা ছাড়াও দেহ ও মনের সম্পূর্ণ বিকাশের পক্ষে এ গ্রন্থিগুলোর উপযুক্ত ক্ষরণ একান্ত জরুরি। ব্যক্তির অনুভূতি জীবনে এই গ্রন্থিগুলো দারুণ প্রভাব বিস্তার করে। থাইরয়েড গ্রন্থির কাজ ব্যাহত হলে-
- শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়
- ব্যক্তির মধ্যে উৎসাহের অভাব দেখা দেয়
- বিষণ্নতা দেখা দেয়
- অবসন্নতার সৃষ্টি হয়
থাইরয়েড, পিটুইটারি এবং যৌনগ্রন্থির স্বাভাবিক ক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হলে ব্যক্তির পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতিবিধানের ক্ষমতা কমে যায়। থাইরয়েড গ্রন্থির ক্ষরণ বৃদ্ধি পেলে ব্যক্তির মধ্যে দেখা দেয়-
- উত্তেজনা
- চপলতা
- মানসিক উদ্বেগ
- দুশ্চিন্তা
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির সঙ্গে এসব অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির সংযোগ বাইরে থেকে চট করে পরিমাণ করা যায় না। কেবল কতগুলো নাটকীয় পরিস্থিতিতে যখন এসব গ্রন্থির বিকাশ খুব কম বা অধিক মাত্রায় ঘটে থাকে তখনই ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির ওপর তাদের প্রভাব আমরা উপলব্ধি করতে পারি।
ব্যক্তিত্বের প্রাকৃতিক উপাদানের বংশধারা
- প্রথমত এই উপাদানগুলোর মধ্যে প্রথম হলো বংশধারা বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কতগুলো বৈশিষ্ট্য!
- দ্বিতীয়ত Psysique বা দৈহিক গঠন
- তৃতীয়ত Function of ductless glands বা অনালি বা রসক্ষরা গ্রন্থির ক্রিয়া
- উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বৈশিষ্ট্যঃ আমাদের ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির ওপর বংশ প্রভাব কীভাবে কাজ করে এবং আমাদের পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে বংশধারা বা উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা কী কী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হই, তা জানতে হলে খুব সংক্ষেপে প্রাণীর জন্মরহস্য সম্পর্কে কিছু জানা দরকার। মাতৃগর্ভে যে ডিম্বকোষে জীবনের সর্বপ্রথম আবির্ভাব ঘটে সেই ডিম্বকোষটি হলো দুটি জননকোষের মিলনের ফসল। এই দুটি জননকোষের মধ্যে একটি হলো পিতৃকোষ এবং আর একটি হলো মাতৃকোষ। প্রথমটি আসে পিতার কাছ থেকে আর দ্বিতীয়টি আসে মায়ের কাছ থেকে। পিতার কাছ থেকে পাওয়া জননকোষটির নাম শুক্রকীট বা Spermatozoon এবং মাতার কাছ থেকে পাওয়া জননকোষের নাম Ovum বা ডিম্বাণু।
প্রতিটি জননকোষে ২৩টি করে Chromosome থাকে এবং শুক্রকীট ও ডিম্বাণুর মিলনের ফলে মাতৃগর্ভে যে ডিম্বকোষের বা Zygote-এর সৃষ্টি হয় তার মধ্যে মোট ২৩টি ২৩টি করে ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। এদের মধ্যে শেষের জোড়াটাই যৌন নির্ধারক ক্রোমোজোম। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই যৌন নির্ধারক ক্রোমোজোম দুটির একটি হলো X এবং অপরটি Y । স্ত্রী দেহে দুটি ক্রোমোজমই X। এই ক্রোমোজোম হলো সূক্ষ্ম সূতার মতো পদার্থ। পূর্বে এই ক্রোমোজোমকেই বংশগত প্রলক্ষণের বাহক বা Hereditary traits বলে ধারণা করা হতো। কিন্তু গবেষণার ফলে জানা গেছে যে, প্রত্যেকটি ক্রোমোজোমের মধ্যে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানার মতো রাসায়নিক পদার্থ থাকে যাকে Gene বলা হয়। এই জিনই হলো বংশগত প্রলক্ষণের যথার্থ বাহক। (Since, however, each chromosome thread is composed of numerous infinitesimal units called genes, it is more proper as Gilliland suggests, to regard the latter as the real basis of in heritance-Thrope psychologyical Foundation of personality) পিতৃকোষের এবং মাতৃকোষের জিনগুলোর পারসপরিক মিলনের ওপরই শিশুর বংশধারার স্বরূপ নির্ভর করে। (নিষিক্ত কোষ অথবা ডিম্বকোষ বা Fertilised Ovum স্বাভাবিক ধর্মবশত নিজেকে বহুকোষে বিভক্ত করে। ডিম্বকোষ যখন দ্বিধাবিভক্ত হয় তখন তার ক্রোমোজোম তথা জিনগুলোও দ্বিধাবিভক্ত হয়। ৪৬টি ক্রোমোজোম অর্থাৎ জিন নতুন কোষে চলে যায় যার জন্য প্রতি কোষে ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। কিন্তু জননকোষের ক্ষেত্রে বিভাজনের রীতি ভিন্নরূপ। কোষ বিভাজনের পূর্বে ক্রোমোজোমগুলো দ্বিগুণ না হয়ে প্রতি জোড়া থেকে একটি করে ক্রোমোজোমকে বর্জন করে। তাই প্রতিটি পরিপক্ব জননকোষে ২৩টি ক্রোমোজোম থাকে। পিতার দেহকোষে যৌন নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়ায় একটি X এবং অধমাট Y এই জিনিসগুলো শিশুর দৈহিক এবং মানসিক প্রকৃতি নির্ধারণ করে। মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য এবং গুণগুলো এই জিনিসগুলোর মাধ্যমেই শিশুর মধ্যে সংক্রমিত হয়। ব্যক্তির দৈহিক, মানসিক, স্বভাবগত সব রকম সহজাত বৈশিষ্ট্যই এই জিনগুলোর ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। সেহেতু বংশগতির ক্ষেত্রে এই জিনগুলোর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জিনগুলো সব সময় জোড়ায় জোড়ায় কাজ করে। একটি জিন পিতৃকোষের, অপরটি মাতৃকোষের। যেহেতু এক জোড়া জিন একই ধরনের কাজ করে এবং যেহেতু প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম সে জন্য কোনো একটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলেও অন্যটি সমস্ত কাজ একাই করতে পারে। জিনগুলো কীভাবে জোড় বাঁধবে, সেই জোড় বাঁধার ওপরই নির্ভর করে বংশগতি। প্রত্যেক পিতা-মাতার জিনের মধ্যেও তারতম্য দেখা যায়। সেই কারণে একই পিতা-মাতার সন্তানদের-
- দৈহিক
- মানসিক ও
- স্বাভাবিক
বৈশিষ্ট্যের নানা প্রকার তারতম্য লক্ষ করা যায়, তার কারণ প্রত্যেক সন্তানের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন সমেমলন ঘটে। প্রত্যেক সন্তানের মধ্যে জিনের বিশেষ সমেমলনের জন্য তার বংশগতিও এক বিশেষ ধরনের হয়ে থাকে। এই কারণে Jennings বলেন, যেভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির বিকাশ ঘটে, যে বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের মধ্যে দেখা যায় তথাকথিত বংশগতির নিয়মগুলো মাতা-পিতা ও সন্তানের মধ্যে অসাধারণ রকমের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য এসব কিছুই জিনের বিন্যাস এবং ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। (The Biological basis of Human nature-H.S Jennings)
সুতরাং জিনের যে সংগঠন নিয়ে একটি মানুষ শুরু হয়েছে তার ওপরই নির্ভর করছে ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত কী ধরনের হবে। একটি রাসায়নিক মিশ্রণের প্রকৃতি যেমন যে যে উপাদানে মিশ্রণটি গঠিত, তার ওপর নির্ভর করে, তেমনি ব্যক্তির প্রকৃতি গঠনে যে যে জিনের সমাবেশ হয়েছে সেগুলোর ওপরই ব্যক্তির প্রকৃতি নির্ভর করে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই বৈশিষ্ট্যগুলোকে ৩ ভাগে ভাগ করা যেতে পারে-
- শারীরিক বা দৈহিক বৈশিষ্ট্য
- মানসিক বৈশিষ্ট্য এবং
- মনের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দৈহিক বৈশিষ্ট্যগুলো অন্তর্গত হলো দৈহিক গঠন, উচ্চতা, মুখ-চোখের গড়ন, দেহের রঙ ইত্যাদি, অনালো গ্রন্থিগুলোর ক্ষরণের ফলে যে দৈহিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য সূচিত হয় সেগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত। মানসিক বৈশিষ্ট্য হলো-
- চিন্তা
- কল্পনা
- ইচ্ছা
- বুদ্ধি ও
- মানসিক শক্তি প্রভৃতি মনের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য হলো শিশুর Mood বা মেজাজ।
ব্যক্তিত্বে ক্যাটেলের প্রলক্ষণ তালিকা
মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্বের প্রলক্ষণগুলোর সংখ্যা কত। এ প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব দেয়া সহজ নয়। অভিধানে প্রায় ১৭,৯৫০টি গুণবাচক এবং দোষবাচক শব্দ পাওয়া যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো মৌলিক প্রলক্ষণগুলোর সংখ্যা কত। ক্যাটেল-২০ জোড়া প্রধান প্রধান বাহ্য প্রলক্ষণ এবং ১২ জোড়া অভ্যন্তরীণ প্রলক্ষেণের একটি তালিকা দিয়েছেন। ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির এই অসংখ্য ও অনির্দিষ্ট গুণগুলোর পৃথক পৃথক বর্ণনা বা ব্যাখ্যা সম্ভব নয়। এ কারণে
- ক্যাটল
- উডওয়ার্থ
- মারকুইস
- আলপোর্ট ও
- আইসেঙ্ক প্রমুখ মনোবিদ ব্যক্তিত্বকে শ্রেণীবদ্ধ করতে চেয়েছেন।
ক্যাটল প্রদত্ত ব্যক্তিত্বের প্রলক্ষণ
প্রলক্ষণ বা ট্রেইটগুলোর স্থায়িত্বকে কেন্দ্র করে ক্যাটল এগুলো ২ ভাগে ভাগ করেছেন।
- বাহ্য প্রলক্ষণ এবং
- অভ্যন্তরীণ প্রলক্ষণ
বাহ্য প্রলক্ষণ বলতে ক্যাটল বোঝেন সেই সব গুণ বা বৈশিষ্ট্য যেগুলো ব্যক্তির বাহ্য কাজের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে পরিস্ফুট হয়। যেমন-সামাজিকতা, সাহসিকতা, একগুঁয়েমি ইত্যাদি।
অভ্যন্তরীণ প্রলক্ষণগুলোকে ব্যক্তির বাহ্য কাজের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে জানা যায় না। এগুলোর অস্তিত্ব রয়েছে অনেক গভীরে, এগুলো পরোক্ষভাবে বাহ্য আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ অভ্যন্তরীণ প্রলক্ষণগুলোই বাহ্য প্রলক্ষণগুলোকে নিয়ন্ত্রিত করে এবং এগুলোই কমবেশি স্থায়ী। যেমন-‘নিরাপত্তার অভাববোধ’ এই প্রলক্ষণটি একটি অভ্যন্তরীণ প্রলক্ষণ; একে সোজাসুজি বাইরে থেকে প্রত্যক্ষ করা যায় না। কিন্তু অভ্যন্তরীণ প্রলক্ষণটি কতগুলো বাহ্য প্রলক্ষণ যেমন-অস্থিরতা, ভীরুতা, অত্যধিক উত্তেজনা প্রভৃতির মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করে। অন্যান্য মনোবিজ্ঞানী প্রলক্ষণের উপরিউক্ত শ্রেণীবিভাগকে পরিবর্তিত করে ‘মুখ্য প্রলক্ষণ’ এবং ‘গৌণ প্রলক্ষণ’ এভাবে শ্রেণীভুক্ত করতে চান। ক্যাটল প্রলক্ষণ সম্পর্কে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ২০টি বাহ্য প্রলক্ষণ ও ১২টি মৌলিক অভ্যন্তরীণ প্রলক্ষণের উল্লেখ করেছেন। ক্যাটল বর্ণিত ১২টি মৌলিক অভ্যন্তরীণ প্রলক্ষণের তালিকা হলো-
মৌলিক প্রলক্ষণ
- স্ফুর্তিবাজ, দরদি, আয়াসী, উদার প্রকৃতি
- নির্ভরযোগ্য, বুদ্ধিমান, স্বাধীনচেতা
- বাস্তববাদী, ধীর-স্থির, একাগ্র
- প্রভাবশালী, আত্মপ্রতিষ্ঠাকামী
- গল্পপ্রিয়, শান্ত, মিশুক, প্রফুল্ল
- কোমল হৃদয়, অনুভূতিপ্রবণ, সহানুভূতিসম্পন্ন
- সৌন্দর্যপ্রিয়, মার্জিত রুচি সম্পন্ন
- কষ্টসহিষ্ণু, বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন, দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন
- সদয়, দুঃসাহসী, নিরুদ্বেগ
- তৎপর, তেজস্বী, অধ্যবসায়ী, উদ্যমযুক্ত
- উত্তেজনাপ্রবণ, অতি অভিমানী, অতিরিক্ত অনুভূতিপ্রবণ
- বিশ্বাসপরায়ণ
- বন্ধুভাবাপন্ন
বিপরীত প্রলক্ষণ
- ভীরু, অনমনীয়, শত্রুভাবাপন্ন
- ছেবলা, নির্বোধ, অপরিণামদর্শী
- অস্থিরচিত্ত, স্নায়ুরোগাক্রান্ত, এড়ানো স্বভাব
- আত্মলোপকারী, বশ্যতা স্বীকারপ্রবণ
- নির্জনতাপ্রিয়, উদ্বিগ্ন, বিষণ্ন, ভগ্নোদ্যম
- দয়ামায়াশূন্য, উদাসীন
- স্থূল রুচিসম্পন্ন, অমার্জিত
- দায়িত্বজ্ঞানশূন্য, পরনির্ভর
- অসরল, চাপা, সতর্ক
- স্বপ্নবিলাসী, নিস্তেজ
- সহনশীল, নির্জীব
- শত্রুতাপূর্ণ, সন্দিগ্ধমনা
ব্যক্তিত্বে আলপোর্টের প্রলক্ষণ
মনোবিজ্ঞানী/ মনোবিদ ফ্রয়েড আলপোর্ট ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটির ৫টি প্রধান সংলক্ষণ এবং এই সংলক্ষণগুলোর অন্তর্ভুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো-
বুদ্ধিঃ বুদ্ধি হলো জীবনের সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হবার এবং সেগুলো সমাধান করার সামর্থ্য। স্মৃতিশক্তি, বিচারশক্তি, মনোযোগ, শিক্ষা করার ক্ষমতা, গঠনমূলক কল্পনাশক্তি এবং পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতি বিধানের ক্ষমতা প্রভৃতিও বুদ্ধির অঙ্গীভূত।
মানস প্রভৃতিঃ আবেগমূলক সংলক্ষণগুলো ব্যক্তিত্বের প্রয়োজনীয় উপাদান।
- কেউবা শান্ত
- কেউবা উত্তেজনাপ্রবণ
- কেউবা প্রফুল্ল
- কেউবা বিষণ্ন
- কেউবা সাহসী
- কেউবা ভীরু
ব্যক্তির জীবনে ভাবাবেগের যে পরিবর্তন, আবেগের তীব্রতা বা সাধারণ কথায় যাকে বলি মেজাজ বা মুড-এ মানস প্রকৃতির অন্তর্ভুক্ত।
গতীময়তাঃ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্ম সম্পাদন করার যে মনোভাব তাই গতিশীলতা, কোনো কোনো লোকের মধ্যে কর্ম করার জন্য উৎসাহ, উদ্দীপনা, সংকল্প প্রভৃতি দেখা যায়। আবার কারও মধ্যে নিষিক্রয়তা, আলস্য, শৈথিল্য প্রভৃতি দোষ দেখা যায়।
আত্মপ্রকাশঃ কোনো ব্যক্তি নিজেকে প্রচার করতে চায়। আবার কেউ বা নীরবে কাজ করতে ভালোবাসে। নিজেকে গুটিয়ে রাখে অন্যের কাছে থেকে।
- অন্তর্মুখিতা
- বহির্মুখিতা
- প্রভুত্ব
- বিনয়
প্রভৃতি সংলক্ষণ আত্মপ্রকাশের অন্তর্ভুক্ত।
সামাজিকতাঃ ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের প্রতিক্রিয়ার ফলে ব্যক্তির পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে। সুতরাং সামাজিকতা ব্যক্তিত্বের একটি প্রয়োজনীয় প্রলক্ষণ।
- সহানুভূতির মনোভাব
- বিনয়
- দয়া
- কর্তব্যপরাণয়তা
- আত্মকেন্দ্রিকতা প্রভৃতি সামাজিকতার অন্তর্ভুক্ত। কোনো কোনো মনোবিদের মতে উপরিক্ত তালিকার সঙ্গে দৈহিক প্রলক্ষণগুলো যেমন-
- মুখশ্রী
- উচ্চতা
- দৈহিক আকৃতি
- দেহের রঙ
- পোশাক-পরিচ্ছদ প্রভৃতি যুক্ত হলেই তালিকাটি পূর্ণাঙ্গ হতো উথঢ়ভমপল ছয়টি প্রধান প্রলক্ষণ এবং তার অন্তর্ভুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর একটা তালিকা দিয়েছেন। এগুলো হলো-
- Physique বা দেহ
- Intelligence বা বুদ্ধি
- Motility বা গতীয়তা
- Temperment বা মানস প্রকৃতি
- Motivatio বা প্রেষণা এবং
- Sociability বা সামাজিকতা
ব্যক্তিতে গুষ গার্ড ফ্রাই সলক্ষণ
মনোবিজ্ঞানী Haggard এবং Fry প্রলক্ষণের যে তালিকা করেছেন সে তালিকা হলো-
- Physique বা দেহ
- Impulse or Driving force বা তাড়না বা পরিচালনা শক্তি
- Intelligence বা বুদ্ধি
- Temperament বা মানস প্রকৃতি এবং
- Ego as constituting the prime element of personality বা অহংকার বা ব্যক্তিত্বের মূল উপাদান।
A.J. Rosanoff এর Manual of psychiatry বইতে ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটির প্রলক্ষণের তালিকা মানস প্রকৃতিগত উপাদানের ওপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। এছাড়া তিনি আরও যুক্ত করেছেন বুদ্ধি, যৌনতা, দৈহিক উপাদান এবং অন্যান্য গৌণ উপাদান যেমন-গাণিতিক বা সঙ্গতি সম্পর্কীয় দক্ষতা। এছাড়া Factor Analysis বা উপাদান বিশ্লেষণের রূপ গাণিতিক পদ্ধতি সহায়তায় ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির স্বরূপ নির্ণয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। গিলফোর্ড এবং তার অনুগামীরা এ পদ্ধতির সহায়তায় ব্যক্তিত্বের ১৩টি উপাদান আবিষকার করেছেন।
মনোবিদ গর্ডন আলপোর্টের মতে, প্রতিটি ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি অভিনব; সে কারণে সাধারণ প্রলক্ষণের মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির স্বরূপের যথার্থ উপলব্ধি হয় না। তার মতে, ব্যক্তির প্রলক্ষণের কথা বলা চলে, সমাজের প্রলক্ষণের কথা বলা চলে না। (Only the individual traits are true (a) because traits are always in individuals and not in the community at large...-G.D. Allport: personality)
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে বুঝতে পারা যাচ্ছে যে, ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির প্রলক্ষণ বা ট্রেইটের বিজ্ঞানসমমত নিখুঁত তালিকা তৈরি করা এবং পরিমাপ করা খুবই কঠিন। তার কারণ হলো-
- এগুলো অত্যন্ত দুর্বোধ্য এবং বিভিন্ন ব্যক্তি, ব্যক্তির বিভিন্ন ধরনের আচরণমূলক বৈশিষ্ট্যকে একই প্রলক্ষণের অন্তর্ভুক্ত করেন।
- এসব প্রলক্ষণ নির্ধারণের ব্যাপারটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।
- কোনো পিতা তার ছেলের দুষ্টমি দেখে মনে করতে পারেন যে ছেলেটি অবাধ্য।
- আবার কোনো প্রগতিশীল পিতা তার ছেলের মধ্যে এ রকম আচরণ দেখে মনে করতে পারেন যে তার ছেলে উদ্যোগী।
- এভাবে প্রলক্ষণের পরিমাপ করা হলো সামাজিক পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির পরিমাপ করা, যা যুক্তিযুক্ত নয়।
- মানুষের যে কোনো আচরণ এতই জটিল এবং বিচিত্র উপাদান-নির্ভর যে, সব সময় লোক একই প্রলক্ষণের অন্য ক্রিয়া করছে এরূপ অনুমান যুক্তিযুক্ত নয়। (Any particular piece of behaviour depends on such a multiplicity of factors in the personality structure and environment that no one reactsis accordance with a trait all the time-P.E. Vernon: personality tests and/Assestssment)
- সব রকম অসুবিধা সত্ত্বেও ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির প্রলক্ষণের বিজ্ঞানসমমত তালিকা গঠন করা যদি কখনো ভবিষ্যতে সম্ভব হয় তবে ব্যক্তিত্বের বা পার্সোনালিটির স্বরূপ সম্পর্কে আমাদের ধারণা ১০০% সুসপষ্ট হবে।
- আবার অপরদিকে এ পদ্ধতি এতই বিশ্লেষণাত্মক যে এই জাতীয় বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের মতো একটা গতিশীল জটিল সংগঠনকে অনেক সময় বুঝে ওঠা সহজ হয় না।



