Skip to main content

পরামর্শ পাতা

পাঠক প্রশ্নের উত্তর

হাসানুর রহমান
শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ
আমার বয়স ২১ বছর। আমার সমস্যা হলো দিনে টয়লেট ৫-৬ বার হয়। প্রতিবারই টয়লেট ভালো হয় কিন্তু ঝোল, মসলাজাতীয় খাবার খেলে পায়খানা একটু নরম হয়। ইমোটিল বা ফ্লাজিল খেলে ওই দিনের জন্য টয়লেট হয় না অর্থাৎ ইমোটিল বা ফ্লাজিল খাওয়ার পর পায়খানা বন্ধ হয় কিন্তু পরের দিন থেকে পূর্বাবস্থা। এ জন্য আগে কোনো ডাক্তার দেখাইনি। রোগের বয়স ৭ বছর ধরে। ওজন ৬৬ কেজি, শারীরিক গঠন মিডিয়াম এবং শরীরের অন্যান্য অবস্থা সব ঠিক আছে। দয়া করে পরামর্শ দেবেন।
আপনার অসুখটি সম্ভবত আইবিএস। অত্যন্ত দুশ্চিন্তা থাকলে আমাদের অম্ল এক ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। একে বলে আইবিএস। আপনি নিকটস্থ মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করুন। আপাতত ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম রাতে ১টা করে সেবন করুন।

কাজল
৫৮ কলেজ রোড, চট্টগ্রাম
আমার সমস্যা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত কোনো পড়া দু-একবার পড়লে বানিয়ে নিজের মতো করে লেখা যেত। অনার্স ১ম বর্ষ থেকে এই ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। আমার মনটা ভীষণ উড়ুউড়ু। কোনো কাজে বেশিক্ষণ মনোযোগ দিতে পারি না। মনের স্থিরতা নেই। কাজ করি একটা মন চলে যায় অন্যখানে। কিছুক্ষণ পড়লে মাথা গরম এবং চোখ ও মাথাব্যথা করে। এক সময় উপন্যাস পড়ে রাত কাটিয়ে দিতাম আর এখন দু-এক পাতাও উল্টাতে পারি না। সামান্য একা একা কথা বলার অভ্যাস আছে। যেখানে না বলা জরুরি সেখানে না, আর যেখানে হ্যাঁ বলা জরুরি সেখানে হ্যাঁ বলতে পারি না অর্থাৎ আমি দ্বিধাগ্রস্ত। পড়াশোনা করা একান্ত জরুরি অথচ পড়তে পারছি না। টেবিলের সাথে নিজেকে সংযুক্ত রাখা যাচ্ছে না। ১০ মিনিটও টেবিলে বসতে পারি না আর বসলেও পড়া হয় না। মেয়েই যেন আমার জীবনের সবকিছু। মন সব সময় একজন নারী সঙ্গ খোঁজে। মনটাকে জোর করে যৌনতার দিকে নিয়ে যাই। আমি ভীষণ অস্থির। কোনো কিছু ভালো লাগে না বেশির ভাগ সময়। মনে হয় কিছুই পাইনি। কী যেন পাইনি। কখনো লক্ষ্য স্থির করলে খুব বেশিক্ষণ সে লক্ষ্য সফল করার জন্য প্রচেষ্টা চালাই না। নেগেটিভ চিন্তা আসে, অলসতা আঁকড়ে ধরে। প্রায়ই পরিকল্পনা নষ্ট হয়ে যায়। সামান্য গোলযোগ কিংবা টেনশন দেখলে ভয় পেয়ে যাই। সাহসের সাথে কোনো কিছু মোকাবিলা করতে পারি না। অনুগ্রহ করে পরামর্শ দেবেন।
আপনি এক ধরনের টেনশন রোগে ভুগছেন। মনস্থির করে ফেলুন, কী কাজ করবেন? মনকে স্থির রাখার জন্য ট্যাবলেট লেক্সোটানিল ৩ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক করে সেবন করুন।

আব্দুর রহিম
সদর থানা, সিলেট
আমি দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। আমার সমস্যা হচ্ছে দেহের উচ্চতা নিয়ে। আমার দেহের উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি। আমার মনে হয় বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম। মানুষের অবহেলায় আমি দিন কাটাচ্ছি। আমি জানি না এটা কি আমার জন্য অভিশাপ। এখন লোকালয়ে বের হতে দ্বিধাবোধ করি। বন্ধুদের সামনে যেতে লজ্জা হয়। মনে হয় আমি তাদের সাথে বেমানান। মোট কথা, আমি এ নিয়ে বড় ধরনের মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছি।বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাড়িতে বসে স্বল্প সময়ে ৩-৬ ইঞ্চি লম্বা হতে চান? উক্ত কথাটি কি ঠিক? এটার কার্যক্রম কী? এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে? এ সম্বন্ধে আপনার মতামত কী? আমি মনোজগত পত্রিকায় এ বিষয়ে কোনো পদ্ধতি দেখিনি, এখন আসছে কি? দয়া করে আপনি এই সমস্যার সমাধান দিয়ে মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।
  আল্লাহর দেয়া উচ্চতা ২৫ বছর পর্যন্ত পাবেন। উচ্চতা অনেক কিছু জিনিসের সাথে নির্ভরশীল। তার মধ্যে একটি হচ্ছে জিন যা বংশানুক্রমিকভাবে আপনি পেয়েছেন। উচ্চতা নিয়ে সামাজিক ভীতি না থাকাই ভালো। আর বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হবেন না। কারণ নিয়তিকে আপনি ঠেকাতে পারবেন না।

শ্রাবন্তী
ঢাকা
আমার বয়স ২৬ বছর। আমার সমস্যা হলো আমি সব সময় কারণে-অকারণে বিষণ্নতায় ভুগি। কেউ আমার সাথে খারাপ আচরণ করলে দীর্ঘদিন মনে রাখি এবং সেই খারাপ আচরণ মনে পড়লে কষ্ট পেতেই থাকি। অন্যদিকে জীবনে সুখী হবার জন্য প্রয়োজন পূর্বে ঘটে যাওয়া এ ধরনের স্মৃতি ভুলে যাওয়া। কিন্তু এটা আমি কোনোভাবেই পারছি না। আমার দ্বিতীয় সমস্যা হলো-আমি খুব নার্ভাস ধরনের মেয়ে। অপরিচিত কোনো ব্যক্তি কিংবা ভাইভা দিতে গেলে বুক অস্বাভাবিক রকমের ধড়ফড় করে এবং সব কথা এলোমেলো এবং গুলিয়ে ফেলি। অথচ আমি যখন স্বাভাবিক থাকি সেই একই প্রশ্ন কত সুন্দরভাবে বলছি। আমি এই বিষয় নিয়ে খুব চিন্তিত। কারণ আমি বর্তমানে বেকার। আমাকে অনেক চাকরির জন্য ভাইভা এবং লিখিত পরীক্ষার সমমুখীন হতে হবে। আমার আরেকটা সমস্যা হলো যে কোনো একটা সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে পারি না। পড়ালেখায় একেবারেই মনোযোগ নেই। আমি মাস্টার্স পাস করেছি, রেজাল্ট খারাপ হয়েছে পড়ালেখায় মনোযোগের অভাবেই। দয়া করে উক্ত সমস্যাগুলোর সমাধান দিলে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।
আপনি অবসেশন জাতীয় ব্যক্তিত্ব সমস্যায় ভুগছেন। আপনার মন-মানসিকতায় সর্বদা কাজে ব্যস্ত থাকা প্রয়োজন। পারিবারিক বা সামাজিক যে কোনো কাজে নিজেকে বেশি করে ব্যস্ত রাখুন। বন্ধু-বান্ধব তৈরি করুন এমনকি ধর্মীয় কাজে মনোনিবেশ করতে পারেন। আপাতত ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম সকালে একটি ও রাতে একটি করে সেবন করুন এবং ১ মাস পরে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

ছিদ্দিক
সৌদি আরব
আমি একজন বাঙালি গাড়িচালক। আমি ডিপ্রেশন রোগে ভুগছি। দয়া করে আমার জন্য ওষুধের নাম পাঠাবেন। যদি ওষুধ পাঠান তবে আমি টাকা পাঠিয়ে দেব। আমি পারিবারিক এবং চাকরিস্থল দুজায়গাতেই এই রোগের কারণে শেষ হয়ে যাচ্ছি। আপনার প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ আমাকে বিমুখ করবেন না। অবশেষে আপনার মঙ্গল কামনা করি।
ভাই ছিদ্দিক বিদেশ থেকে চিঠি পাঠানোর জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। বিদেশে আপনার মতো শতকরা দশ থেকে পনেরো জন লোক প্রতিদিন বিষণ্নতা রোগে ভুগে থাকেন। বিশেষ করে পরিচিত পারিবারিক পরিবেশ ছেড়ে যারা বিদেশে পাড়ি জমান, তাদের ক্ষেত্রে বিষণ্নতাবোধ আরো একটু প্রবল হয়। একাকী জীবন, ভাষা না বোঝার ফলে এই বিষণ্নতা রোগের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় এই কথাই প্রমাণিত হয়েছে। আপনি সৌদি আরবে পেতে পারেন এমন ওষুধের নাম লিখে দিলাম যেমন-ট্যাবলেট ট্রিপটানল ২৫ মিলিগ্রাম দুদিন রাতে একটা করে সেবন করুন। দুদিন পরে রাতে দুটো করে সেবন করতে থাকুন। এ কমাস পরে আমাকে ফলাফল জানাবেন।

মো. রফিকুল ইসলাম
ঢাকা
আমার বয়স ২২ বছর। আমি ছোটকাল থেকেই দুর্বল ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এ জন্য আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার পরিবারবর্গ খুবই চিন্তিত। এ জন্য আমি ঢাকা থেকে একজন সাইকোথেরাপিস্টের কাছে থেরাপি গ্রহণ করেছি। অপর দিকে ‘আত্মোয়ন’ নামে একটি বই সংগ্রহ করে পড়েছি। এখন দুটি পদ্ধতির মধ্যে বেশ মিল আছে বলে আমার মনে হয়। আর যেটুকু পার্থক্য আছে সেটুকুও আমার উপকার করবে বলে বিশ্বাস হয়। তাই সকালে ওই থেরাপিস্টের দেয়া পদ্ধতি অনুশীলন করি আর রাতে ওই বই দেখে চর্চা করি। এখন প্রশ্ন হলো-যে কোনো একটি পদ্ধতি চর্চা করলে কি আমার জন্য বেশি ভালো হবে না কি দুটি পদ্ধতিই একসাথে চালিয়ে যাব? আর দুটি সাইকোথেরাপি একই সাথে চালিয়ে গেলে কি ওষুধের মতো কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা কোনো ধরনের অসুবিধা সৃষ্টি করে। আর রোগ অনুযায়ী সঠিক সাইকোথেরাপি না হলে কি কোনো অসুবিধা আছে? এ ব্যাপারে সঠিক পরামর্শ দিয়ে বাধিত করবেন।
আপনার সমস্যা পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার। সুষম ব্যক্তিত্ব নিয়ে কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করে না। আচার-আচরণ, কথাবার্তা, সামাজিক ক্রিয়া, ফ্যামিলি অনুশাসন ইত্যাদি পারিবারিক অনুঘটক একজন লোককে ব্যক্তিত্ববান করে তুলতে সাহায্য করে। ব্যক্তিত্ব প্রতিদিন গড়তে পারা যায়, এটি গড়ার কোনো শেষকাল নেই। তাই নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আত্মনিয়ন্ত্রণের বইটি কাজী আনোয়ার হোসেনের লেখা। এটি আমি নিজেও বাল্য বয়সে পড়েছি। তার এই বই অনেকে পড়ে দেখতে পারেন। আপনার চিকিৎসা সঠিকভাবেই হচ্ছে বলে আমি মনে করি। যার কাছে আপনি সাইকোথেরাপি সেশন নিচ্ছেন তার কাছে আপনি যা যা গ্রহণ করতে পারেন সে সম্বন্ধে বলুন ও বই থেকে যা যা গ্রহণ করতে চান তাও তাকে জানান। অল্প কথায় মিলমিশ করে চিকিৎসা করলেও কোনোরূপ সমস্যা হবে না। আর সাইকোথেরাপির কোনোরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

সৈয়দ নজমুল হোসেন
জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ
আমার বয়স ৪৮ বছর। আজ প্রায় ৭-৮ বছর যাবৎ আমার হাতের কব্জা পর্যন্ত বিখাউজের মতো এক ধরনের খুজলি হয়েছে। যার দরুন অনেক ওষুধ খাওয়া ও ব্যবহার করার পরেও সে রোগ থেকে মুক্তি পাচ্ছি না। আমি আশা করি আপনার পরামর্শ পেলে হয়তো আমি চিরতরে মুক্তি পেতে পারি।
আপনার সমস্যাটি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের দেখার কথা। আমি শিগগিরই একজন চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করুন।

সৈয়দা উমেম সাওদা সিদ্দিকা
জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ
আমার বয়স ৩৫ বছর। উচ্চতা ৪ ফুট ৬ ইঞ্চি। স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালো। সমস্যা হলো যে, আমার মুখের ভেতর নিচের পাটির ডান দিকে তিনটি ও বাম দিকে তিনটি দাঁত নেই এবং ওপরের দাঁত দুই সাইটে ৪টি পোকায় খেয়ে ফেলেছে। আবার কী করলে দাঁত উঠবে এবং পোকা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় দয়া করে জানাবেন? আজ কয়েক দিন হলো দাঁতে ব্যথা আছে।
এ বিষয়ে আপনি অবিলম্বে দন্তরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করুন। তবে জেনে রাখুন ২৫ বছর বয়সের পর স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে পুনরায় আর দাঁত জন্মায় না।

গিয়াস উদ্দিন
চকরিয়া, কক্সবাজার
আমার বয়স ১৭ বছর। আমার সমস্যাটি ২ বছর পর্যন্ত। আমি এখন কলেজে পড়ি। আমার সমস্যা হলো আমার একজন বড় ভাই পাগল ছিল। বয়স ৪৭ বছর ও আজ পর্যন্ত বিয়ে করেনি। তাকে নিয়ে আমার সারাক্ষণ চিন্তা। পড়তে বসলে সে চিন্তা, খেলতে গেলেও সে চিন্তা। আমি মনে করি এই পৃথিবীতে আমার ভাই আছে অবিবাহিত। এ নিয়ে আমার সারাক্ষণ দুশ্চিন্তা, আমার বাবা-মা বড় ভাইয়ের বিয়ের কথা বলে না, তারা বলে এই পাগলকে কি কেউ মেয়ে দেবে? আমি কী করব? আপনার কাছে দেখা করে ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম, টেলাজিন ৫ মিলিগ্রাম, পারকিনিল ৫ মিলিগ্রাম ৫ মাস পর্যন্ত চালিয়ে গেছি। এখন ওষুধ খেতে ইচ্ছা হয় না। ইনজেকশন দিয়ে যদি ভালো হয় তাহলে আমাকে ইনজেকশন দেবেন। নইলে আমি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হব।
আপনি এবং আপনার বড় ভাই (যিনি গত ৪৭ বছর ধরে পাগল আছেন) অবিলম্বে মনোজগত সেন্টারে এসে আমার সাথে যোগাযোগ করুন। বর্তমানে মেডিকেল সায়েন্স অনেক উন্নতি সাধন করেছে এবং অনেক উন্নত নতুন ওষুধ এখন পাওয়া যায়। আমরা ভালো করার চেষ্টা করতে পারি ইনশাআল্লাহ।

মামুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আমি কিছু জটিল সমস্যায় আক্রান্ত। আমি আপনার নিকট দুটি প্রশ্নের জবাব চাই। প্রশ্নগুলো হলো-১. দীর্ঘদিন অত্যধিক মাত্রায় কোনো নেশা গ্রহণের ফলে যদি কোনো ব্যক্তির মস্তিষক বিকৃতি ঘটে বা সে পাগল হয়ে যায় তবে কি তাকে ওষুধের মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ করানো সম্ভব? এক্ষেত্রে তার মস্তিষেকর সিটি স্ক্যান অব ব্রেন আর এমআরআই করাতে হবে এবং তা করাতে কত ব্যয় হতে পারে। ২. যদি কোনো ব্যক্তির মস্তিষেকর নিউরন, নার্ভ ও স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে কি ওষুধের মাধ্যমে সেই ক্ষতিগ্রস্ত নিউরন, নার্ভ ও স্নায়ুকোষের পূর্ণ ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব? এক্ষেত্রে কি ওই ব্যক্তির সিটি স্ক্যান অব ব্রেন আর এমআরআই করাতে হবে?
আপনি যে বিষয়টি জানতে চাচ্ছেন এটি আমাদের মেডিকেল শাস্ত্রে অর্গানিক ব্রেন ডিসঅর্ডার বলা হয়। রোগীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাপেক্ষ বলা যেতে পারে এমআরআই বা সিটি স্ক্যান দরকার হবে কি না তবে মাদকদ্রব্য গ্রহণ করার ফলে যে ধরনের মানসিক সমস্যা তৈরি হয় এটি ওই সমস্ত পরীক্ষা না করেও খুব ভালোভাবে করা যায়। আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ।

প্রমিত বাবু
চিটাগাং
আমি সঙ্গীত চর্চা করি বিধায় বাধ্য হয়ে মদ, পান, বিড়ি, সিগারেট ও চা ছেড়ে দিয়েছি। এগুলো ছেড়ে দেয়ার পর এখন আর আমার নিয়মিত পায়খানা হয় না। এর কারণ কী? ইতিপূর্বে সিগারেট মুখে দিয়ে পায়খানায় গেলে খুব ভালো পায়খানা হতো, এর কারণ কী? আর গলার স্বর চঞ্চল করার জন্য এমন কোনো ট্যাবলেট আছে কি? যদি থাকে বলে দিলে খুবই খুশি হব।
প্রমিত বাবু আপনি মদ, গাঁজা, তামাক ইত্যাদি ছেড়ে দিয়েছেন শুনে আমি যারপরনাই খুশি হলাম। ওই সমস্ত মাদকদ্রব্য ছেড়ে দেয়ার দুতিন বছর পর্যন্ত শরীরে নানা রকম ক্রিয়া হতে পারে। আপনি শাক সব্জির পরিমাণ বেশি করে খান, পায়খানার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আর কণ্ঠস্বর ভালো করার ওষুধ আমার জানা নেই। আমার মনে হয় এটি আল্লাহর দেয়া।

জাকির
মিরপুর, ঢাকা
আমার বয়স ২১ বছর, সুস্বাস্থ্যবান। চেহারাও সুন্দর, বলতে গেলে হ্যান্ডসাম। আমার বয়স যখন ১৬-১৭ বছর তখন আমি আমার চেয়ে কয়েক বছরের ছোট একটি সুন্দর ছেলের সাথে যৌন সঙ্গম করি। এতে আমি খুবই তৃপ্তি পাই। কিন্তু তারপর থেকে আমার মেয়েদের প্রতি কোনো আকর্ষণ নেই। এমনকি উলঙ্গ মেয়ে দেখলেও কোনো উত্তেজনা আসে না। অথচ কোনো সুন্দর স্বাস্থ্যবান ছেলে দেখলেই পেনিস উত্তেজিত হয়। শরীর গরম হয়ে যায়। এরপরে বছর খানেক আগে আমার চেয়ে বড় একজন সুন্দর যুবকের সাথে সেক্স করেছি। এতেও আমি পুরোপুরি তৃপ্তিলাভ করি এবং সেও খুব খুশি হয়েছে। কিন্তু সে বাইরে চলে যাওয়ায় আমি একা হয়ে যাই এবং বিভিন্নভাবে সুযোগ খুঁজতে থাকি। কিন্তু এভাবে কি বেঁচে থাকা যায়। অনেক মেয়ে আমাকে প্রেমের অফার করেছে কিন্তু আমি সাড়া দিতে পারিনি। ডাক্তার সাহেব আমি খুবই হতাশার ভেতর আছি। আমাকে বোঝার মতো কোনো বন্ধুও পাইনি যাকে আমার মনের অবস্থাটা বোঝানো যায়। তাই আপনার সুপরামর্শ কামনা করছি।
আপনার অসুখটির নাম হোমোসেক্সুয়ালিটি। আপনি যত শিগগিরই সম্ভব মনোজগত পরামর্শ কন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

আলী হোসেন
বিশ্বনাথ, সিলেট
আমার বয়স ২২ বছর। আমার সমস্যা হলো-ব্রেন খুব দুর্বল কোনো কিছু মনে থাকে না। পড়াশোনা করতে অসম্ভব খারাপ লাগে। জোর করে লেখাপড়া করতে গেলে মাথাব্যথা শুরু হয়। বেশি ঘুম হয়। দ্বিতীয় সমস্যা হলো-আমার নাক খুব জোরে ডাকে গরু জবাই করলে যেভাবে ডাকে ঠিক সেভাবে কিন্তু আমি অনুভব করতে পারি না। যদি কেউ আমার সাথে থাকে সে ঘুমাতে পারে না, আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গেলে রাতে চলে আসি এই নাক ডাকার জন্য। আমার খুব লজ্জা লাগে। আমার স্বাস্থ্য বেশ বেড়ে গেছে, মেদ ভুঁড়ি বেড়েছে। মেদ কীভাবে কমানো যায় তা বলবেন। শ্বাস খুব জোরে হয় কাছে কেউ থাকলে তার অসুবিধা হয়। বন্ধু-বান্ধবের সাথে বেড়াতে যেতে পারি না।
মোটা মানুষের সমস্যা অনেক। তার মধ্যে একটি হলো নাক ডাকা। নাক ডাকা কমানোর জন্য শয্যার ধরন পরিবর্তন করে দেখতে পারেন। সব থেকে জরুরি প্রয়োজন হলো আপনার বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলা।

কবির
চট্টগ্রাম
আমার বয়স ১৯ বছর। আমার সমস্যা হলো আমি যখন নিজে নিজে কথা বলি তখন আমি একটু একটু তোতলাই। আর যখন কোনো মানুষের সাথে কথা বলি তখন একটু বেশি তোতলাই। ছোটকাল থেকেই আমার এ সমস্যা। এ সমস্যার পরামর্শ দিলে আমি খুব উপকৃত হব।
তোতলামি একটি সাইকোসোমাটিক ডিসঅর্ডার। দৈহিক কোনো ক্ষত না থাকলে তোতলামি সারাতে দরকার সিপচ থেরাপিস্টের। কিন্তু বাংলাদেশে সিপস থেরাপিস্ট নেই। তাই এ কাজটা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ করে থাকেন। আপনি অবিলম্বে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে মানসিক রোগ বিভাগে যোগাযোগ করুন।

মামুন
খিলক্ষেত মধ্যপাড়া, ঢাকা
আমার এক ছোট ভাই দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ তামাক পাতা দ্বারা তৈরি গুল নামক নেশাজাতীয় বস্তু মুখের ভেতরে ব্যবহার করে আসছে। ফলে বর্তমানে তার মস্তিষক বিকল, স্নায়ুতন্ত্রের গোলযোগ, স্মৃতিবৈকল্য, বুদ্ধিবৃত্তির ক্রমাবনতি, চিন্তার অসংলগ্নতা ইত্যাদি সমস্যা হয়েছে। এ জন্য বর্তমানে তার অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ ও করুণ। তাই আমি জানতে চাই যে, কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে এবং তার দেয়া ওষুধ ব্যবহার করে কি পূর্ব অবস্থা ও পূর্বশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব?
গুল গ্রহণ একটি মাদকাসক্তি সমস্যা। এটি থেকেও নানা রকমের মানসিক রোগের সৃষ্টি হতে পারে। আপনি অবিলম্বে ভাইকে নিয়ে আমার সাথে দেখা করুন।

এম জেড ইকবাল
ফতেয়াবাদ, চট্টগ্রাম
আমার সমস্যা হচ্ছে মাথাব্যথা। আমি একজন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হই। এতে আমার মাথাব্যথার উপশম না হলে আমি একজন নাক, কান, গলা রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হই, কিন্তু তাতেও আমার অবস্থার উন্নতি হয়নি। মাথাব্যথার কারণে আমার রেজাল্ট খারাপ হয় এবং এতে আমি মানসিক বিধ্বস্ত হই। পরবর্তীতে আমি একজন নিউরোলজিস্টের কাছে যাই। তার ওষুধ প্রায় ৬ মাস খাই। পরবর্তীতে কোনো কারণবশত ডাক্তারের সাথে আর দেখা করতে পারিনি। মোট কথা ডাক্তারের ওপর থেকে আমার আস্থা হারিয়ে গেছে। মনোজগতে প্রকাশিত মাথাব্যথা সম্পর্কে অনেক লেখা পড়েছি এবং ডাকযোগে আপনার লেখা ‘মানসিক রোগের সাধারণ জ্ঞান’ এবং ‘বিষণ্নতা’ বই দুটি সংগ্রহ করে পড়েছি। তা থেকে আমার যা অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার মনে হয় আমি ডিপ্রেশনে ভুগছি। এখানে আমি কিছু উপসর্গ উল্লেখ করছি।
মাথাব্যথা, চোখের ওপরের দিকে থেকে শুরু করে (কপালসহ) প্রায় পুরো মাথাব্যথা করে, ঘাড়ে ব্যথা করে এবং শক্ত মনে হয়, ঘাড় এদিক-সেদিক নিতে ব্যথা হয়, সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি, আমি কিছুটা ইমোশনাল, মাঝে মাঝে মনে হয় হার্টবিট মিস হয়ে যাবে, বেশির ভাগ সময় বিষণ্ন থাকি, সারাক্ষণ শুয়ে থাকতে ইচ্ছা করে, দুর্বলতা, (৮-৯ ঘণ্টা ঘুমালেও উঠতে মন চায় না), আগের চেয়ে ওজন কমে গেছে, ধর্মীয় কারণে আত্মহত্যার চিন্তা বাদ দিয়েছি, ক্রোনিক পেইন, বুকে ব্যথা, গলা শুকিয়ে যায় এবং ঢোঁক গিলতে কষ্ট হয়, কিছু মনে থাকে না, মনোযোগের অভাব, অস্থিরতা, বিরক্তিভাব, মন খালি থাকে, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমি পড়তে পারছি না। আশা করি আমাকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে বাধিত করবেন।
মাথাব্যথার ১০০১টি কারণের মধ্যে প্রায় ৯৫০টি কারণ মানসিক অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি মাথাব্যথার ৯০ ভাগ কারণ মানসিক। তাই আপনি সব ডাক্তার সাহেবকে দেখালেও কোনো মানসিক ডাক্তার দেখাননি বলে আমার মনে হচ্ছে। অনেক সময় বিষণ্নতা রোগেও মাথাব্যথা একটি মৌলিক উপাদান হিসেবে আসতে পারে। তাই আর দেরি না করে অবিলম্বে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

মো. সাইদুর রহমান
সবুজবাগ, ঢাকা
আমার বয়স ২৬ বছর। মানসিক অস্থিরতা প্রচণ্ড, প্রায় সময়ই তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তখন কী করব বুঝতে পারি না। শ্বাস-প্রশ্বাস বেড়ে যায়, বুক ধড়ফড় করে, বুক চেপে থাকে, কান্না আসে, মরে যেতে ইচ্ছা করে। অশান্তি, বিষণ্নতা, ক্লান্তি, অবসাদ, হতাশা, মন খারাপ থাকা, প্রায় সময়ই দেখি ঘুম থেকে উঠেই মন খারাপ। দুশ্চিন্তা, বিতৃষ্ণা, মূল্যহীন জীবন, নিঃসঙ্গ একাকিত্ব নির্জনতা ভালো লাগে। সংকোচ, ভয়-ভীতি, পড়া, পরীক্ষা, লোকজন, সকল কাজে ব্যর্থতা, ব্যর্থতার ভয়, নার্ভাসনেস, অস্থিরতা, নার্ভাসনেসে শরীর কাঁপে। মনোযোগ বিক্ষিপ্ত, দুর্বল ব্যক্তিত্ব, হীনমমন্যতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব ইত্যাদি। আমার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক শিক্ষা, ধর্মীয় মোটকথা আমার জীবনের সর্বক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করেছে। আমাকে বলতে গেলে পঙ্গু করে একঘরে করে রেখেছ। প্রত্যহ সমাজের আর দশটা সুস্থ স্বাভাবিক ছেলেকে দেখে নিজের সীমাবদ্ধতার কথা মনে পড়ে নিজেকে বড় অসহায় মনে হয়। মনটা হতাশ হয়ে যায়। মনে পড়ে যায় আমার ছোটবেলার সেই আনন্দ, উচ্ছল, দুরন্ত দিনগুলোর কথা। আমার সেই দিন ও বর্তমান জীবনধারায় আকাশ-পাতল ব্যবধান। ব্যবধানের এই মাত্রা যেন ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। অগ্রসর হচ্ছে ভবিষ্যতের দিকে এবং গ্রাস করে চলেছে আমার অস্তিত্বকে। শিগগিরই হয়তো পৃথিবীর বুক থেকে আমার অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন বলে ঘোষিত হবে। হতভাগ্য আমি কী কপাল আর পরিণতি নিয়ে পৃথিবীতে এসেছি। আর হিপনোসিসের প্রতি আমার বিশেষ আগ্রহ আছে। আশা করি আমার সমস্যার সমাধান পাব।
আপনি বিষণ্নতা সমস্যায় ভুগছেন। বিষণ্নতা সমস্যা আমাদের দেশে খুবই সাধারণ। আপনি এক্ষেত্রে ক্যাপসুল নরট্রিলিন ২৫ মিলিগ্রাম রাতে একটা করে খাবেন। ওষুধের পাশাপাশি আপনার সাইকোথেরাপির দরকার। একজন মনোচিকিৎসকই এই সাইকোথেরাপি দিতে পারেন। আপনি অনতিবিলম্বে আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

মো. ইউসুফ
লালবাগ, ঢাকা
আমার বয়স ২০ বছর। আমি একজন বি.কম-এর ছাত্র। আমার একটি সমস্যায় যাতনা ভোগ করতে হচ্ছে। আমি ছোটকাল থেকেই কোনো মানুষের সাথে মিশতে পারি না। অর্থাৎ কারো সাথে কথাবার্তা বললে নার্ভাস হয়ে যাই। বুক ধড়ফড় করতে থাকে। মুখ লাল হয়ে যায়, হাত-পা কাঁপা শুরু হয়ে যায়। মনটা ঠিক সময় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং যে কোনো উত্তর জানা সত্ত্বেও তা আমার পক্ষে আর বলা সম্ভব হয় না। আশা করি আমাকে সমস্যার সমাধান দেবেন।
আপনি অ্যাংজাইটি নিউরোসিস এবং সোশ্যাল ফোবিয়াতে ভুগছেন। এক্ষেত্রে অতিসত্বর একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখান। আপনি বর্তমানে ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম সকালে ও রাতে একটা করে খেতে থাকুন। ওষুধের পাশাপাশি সাইকোথেরাপি দরকার, কেবল একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞই এটি দিতে পারেন।

কামরুজ্জামান
কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
আমার বিভিন্ন জার্নাল এবং মনোজগত পড়ে মোটামুটি মানসিক রোগ সম্পর্কে ধারণা অর্জন করেছি। আমার স্ত্রী আজ আট মাস হলো বুকে তীব্র ব্যথা এবং অস্থিরতা ও প্যালপিটিশন সমস্যা নিয়ে দারুণ যন্ত্রণায় ভুগছে। নানা পরীক্ষা যেমন-এন্ডোস্কপি, আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, ব্লাড টেস্ট করে কোনো ধরনের রোগ পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত আমাদের বিয়ে হয়েছে দুই বছর। বিয়ের আগেও আমার স্ত্রীর বুকে বা পেটে ব্যথা হতো। বিয়ের এক বছর পর স্ত্রী গর্ভবতী হলে বুক জ্বালাপোড়া হয় যা অস্বাভাবিক এবং মানসিক রোগের ইঙ্গিত বহন করে। সমস্যা হচ্ছে আমার শ্বশুর-শাশুড়ি মানসিক রোগ বলতে শুধু পাগল বুঝে থাকে যার ফলে তারা কোনো মানসিক ডাক্তার দেখাতে রাজি হচ্ছে না। তারা গোড়া মুসলমান। ফকিরি চিকিৎসা, তাবিজ কবজ, ঝাড়, ফুঁক, পানি পড়া ইত্যাদি অলৌকিক চিকিৎসা বা অপচিকিৎসায় বিশ্বাসী। যাই হোক তবুও আমি আমার স্ত্রীকে অনেক বুঝিয়ে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞকে দেখিয়েছি তিনি ট্যাবলেট অ্যামিট্রিপটাইলিন, ক্লোবাজম এবং সামান্য ভিটামিন ও গ্যাসের ওষুধ দিলেন। কিন্তু এবারও আমার শ্বশুর-শাশুড়ি অল্প কিছু দিন ওষুধ খাওয়ানোর পর বন্ধ করে দিলেন এই অজুহাতে যে সামান্যতম বুকের ব্যথা বা অস্থিরতা কমেনি। এখন আমার প্রশ্ন আমার এই অবস্থায় কী করণীয়, অ্যামিট্রিপটাইলিন ও ক্লোবাজম ৩ মাস খাবার পর রোগীর অবস্থার কোনো পরিবর্তন হলো না কেন জানতে চাই।
আপনার চিঠি হতে একটা বিষয় পরিষকার আপনার স্ত্রী মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু এটি কোন ধরনের মানসিক সমস্যা তা এত অল্প বর্ণনাতে মন্তব্য করা উচিত নয়। আরো বিস্তারিত জানা দরকার আপনি আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে চলে আসুন। একটি বিষয় জ্ঞাতব্য অন্য যে কোনো রোগের মতো বিলম্ব করলে বা অবহেলা করা হলে মানসিক রোগও ক্রমশ জটিল হতে থাকে এবং অনেক মানসিক রোগে দীর্ঘদিন ওষুধ সেবন করতে হয়। পাশাপাশি রোগীকে সহানুভূতি ও সহমর্মিতার দরকার। একজন স্বামী হিসেবে আপনাকে এটি বুঝতে হবে।

রাজু
আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম
আমার সমস্যা প্রায় তিন বছর। সব সময় অস্থির লাগে। ঢাকার মনোরোগ ডাক্তার দেখাই তিনি ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম খেতে দেন। ১ মাস খাবার পর ভালো লাগে। আবার কিছু দিন থেকে খারাপ লাগছে। এখন ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম খাচ্ছি, মেডিসিনের ডাক্তার দেখাই। তিনি রক্ত ও এন্ডোস্কপি করতে দেন। এন্ডোস্কপিতে ডাক্তার সাহেব বলেন পেটের মধ্যে ঘামাচির মতো সপট আছে। ব্যবস্থাপত্র দেন ট্যাবলেট ফেমোডিন ৪০ মিলিগ্রাম ২ মাসের জন্য। ১ মাস হলো কোনো উন্নতি হচ্ছে না। পেটে সব সময় ভুট ভুট শব্দ করে, খুব খারাপ লাগে। কিন্তু পায়খানা নরমাল হয়, আমার আসলে কী রোগ হয়েছে জানতে চাই।
আপনি কী সমস্যা নিয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখিয়েছিলেন সে সম্পর্কে ভালো আলোকপাত করেননি বিধায় আপনার মূল সমস্যা কী তা বলা মুশকিল। তবে ওষুধ থেকে অনুমান করা যায় আপনি হাল্কামাত্রার বিষণ্নতা অথবা ডিসথাইমিয়া সমস্যায় ভুগছিলেন। আপনার বর্তমান সমস্যা হলো পেপটিক আলসার ডিজিজ। একজন লোক একই সময়ে দুটি সমস্যায় আক্রান্ত হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছুই নয়। নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে ও ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে দুটো সমস্যা থেকে নিষকৃতি পেতে পারেন।

মাহবুব
আড়াইহাজার
আমার বয়স ১৭ বছর। এবার একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছি। আমার মনের ভেতর প্রায় সময় একটা ভয়-ভীতি কাজ করে যার দরুন সবার সাথে ভালোভাবে সঠিক বিচার বুদ্ধি দিয়ে গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। কথা মুখের মধ্যে আটকে থাকে। হাত-পা কাঁপতে থাকে, ফলে আসল কথাই ভুলে যাই। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। মাঝে মাঝে হঠাৎ কেউ কিছু বললে শুনতে পাই না। লোকটি কী বলল। অনেক সময় আমার প্রতি কেউ অন্যায় করে গেলেও ভয়ে (বয়সে ছোট বা মুরব্বি বলে) প্রতিবাদ করতে সাহস পাই না। পরে ভাবোদয় হয় প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। কিন্তু না পারায় মনের ভেতর আরো ক্ষোভের ও সংশয় সৃষ্টি হয়। রাতে একা বের হলে মনে ভয়ের সৃষ্টি হয়। প্রচুর পড়াশোনা করি কিন্তু মনে থাকে না। বাজারে সদাই আনতে গেলে ভুলে যাই। পড়ার সময় বা একা থাকলে মনে ভাবনা আসে যে, এটা কেন করলাম, ওটা করলাম না কেন, এটা না করে ওটা করলে ভালো হতো। এই সকল সমস্যা আমাকে দিন দিন ঘায়েল করছে। তাই সঠিক পরামর্শ দিয়ে আমাকে সাহায্য করবেন।
আপনি উদ্বেগ রোগে ভুগছেন। এটি এক ধরনের মানসিক রোগ। আপনার দরকার মনোরোগ চিকিৎসককে দেখানো। আপাতত ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম রাতে একটি ও সকালে একটি করে সেবন করুন। সময় হলে একবার মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে ঘুরে যেতে পারেন।

বাবু
শ্যামলী, ঢাকা
আমার বয়স ২৪ বছর। আমার কিছু সমস্যা আছে। সমস্যাগুলোর কথা আপনাকে জানাচ্ছি। এই লক্ষণের ভিত্তিতে আমি কোন ধরনের মানসিক রোগে ভুগছি তা জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। আমার প্রথম সমস্যা-আমার সার্বক্ষণিক চিন্তা-ভাবনা, আবেগ অনুভূতি, সিদ্ধান্ত অর্থাৎ আমার মনে যা ঘটছে সবই বাইরের আশপাশের লোকজন জেনে যাচ্ছে এবং ভালোমন্দ প্রতিক্রিয়া করছে। তাদের এই অসপষ্ট সমালোচনা যে গায়েবি কোনো আওয়াজ নয় এই ব্যাপারে আমি দৃঢ় বিশ্বাসী এবং তা চরপাশের বাস্তবসমমত মানুষেরই কণ্ঠ। আমার দ্বিতীয় সমস্যা হলো-আমার এসব চিন্তা ভাবনার ওপর আমার নিজের কোনো সচেতন নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে বিশেষ কোনো অলৌকিক শক্তি তা নিয়ন্ত্রণ করছে এমন মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয় আমার মনের অবস্থা খারাপ থাকায় এমন হয়। আর অন্যরা আমাকে সাহায্য করে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে (যেখানে আমি দুর্বল) বলে মনে হয়।
তৃতীয় সমস্যা-রাস্তা দিয়ে হাঁটলে মনে হয় মানুষ আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আর তাদের সন্দেহ চিটার, বাটপার এই হিসেবে আমার কোনো ক্ষতি করবে। ডাক্তার সাহেব আমি জানতে চাই আমার অসুখটার নাম কী? এবং চিকিৎসা কী?
আপনি সাইকোসিস জাতীয় মানসিক রোগে ভুগছেন। মনে হয় সিজোফ্রেনিয়া রোগ। তবে কেবলমাত্র পত্র পড়ে এটি ডায়াগনোসিস করা উচিত নয়। এ কারণে অনতিবিলম্বে আপনি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখান এবং সাথে অবশ্যই আপনার অভিভাবককে নিয়ে যাবেন।

মো. আব্দুল গনি
কোতোয়ালি, রংপুর
আমি এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী তাই আমাকে আপনি যতটুকু পারেন খুব বেশি পাওয়ারের ওষুধ দেবেন যেন আমি তাড়াতাড়ি সমস্যা হতে মুক্তি পাই। আমার সমস্যা (১) পরীক্ষাভীতি ঃ পরীক্ষা এলে আমার মনে ভয় হয় যেন পাস করতে পারব না (২) মন খারাপঃ সব সময় আমি মন খারাপ করে বসে থাকি। সবাই বলে তোমার এত কিছু থাকার পরও মন খারাপ কেন? আমি সব সময় হাসি খুশি থাকতে চাই কিন্তু পারি না (৩) নার্ভাসনেস ঃ সব সময় নার্ভাস লাগে-একা কোনো কিছু করতে পারি না। পর নির্ভরতা হয়ে থাকি। মনে হয় এ কাজের যোগ্য আমি নই, সে জন্য মানুষ দিয়ে সব কাজ করাই। ডাক্তার সাহেব আমাকে বাঁচান, আমি এই সুন্দর পৃথিবীতে বাঁচতে চাই।
আপনি অ্যাংজাইটি নিউরোসিস রোগে ভুগছেন। এটি এক ধরনের মানসিক রোগ। আপনি এক্ষেত্রে ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম ও ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম সকাল ও রাতে একটা করে সেবন করুন। আর অনতিবিলম্বে রংপুর মেডিকেল মনোরোগ বিভাগে দেখা করুন।

মোহামমদ গোলাম হোসেন
পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২২ বছর। আমার প্রধান সমস্যা হলো-আমি আগে কানে পুরোপুরি শুনতাম। কিন্তু পরে বাম কানে আস্তে আস্তে কম শুনতাম। এখন আমি বাম কানে শুনি না। শেষ পর্যন্ত কি আমার ডান কানও বন্ধ হয়ে যাবে কিনা। কী ওষুধ খেলে আমি কানে শুনব। আমার আরো ২টি সমস্যা আছে (১) আমার লিঙ্গের নিচের অংশে চামড়ার ভেতরে গম বিচির মতো ছোট ছোট বিচি। সময় সময় কানের লতির ভেতরেও হয়। এই গুটি গুটি বিচির জন্য লোটরিক্স ক্রিম ২ বার ব্যবহার করেছি, কোনো ফল পাইনি। অপর সমস্যা হলো আমার একজিমা আছে। কী ওষুধ ব্যবহার করলে আমি এ রোগ থেকে রেহাই পাব, রোগের বয়স ১ বছর।
আপনার দুটো সমস্যা দৈহিক। আমরা কেবলমাত্র মানসিক সমস্যার পরামর্শ দিয়ে থাকি। আপনি নাক, কান, গলা রোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজনে চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞের সাথেও আলাপ করতে পারেন।

অরুণ বিকাশ
রাঙ্গামটি, পার্বত্য জেলা
আমার বয়স ২৩ বছর। আমার প্রধান সমস্যা ভুলে যাওয়া। কোনোকিছু সহজে মনে রাখতে পারি না এবং কোনো বিষয় সহজে বুঝতে পারি না। কোনো কিছু পড়তে গেলে শুধু পড়ি কিন্তু কী পড়ি নিজেই বুঝতে পারি না। আর একটু পরিশ্রম হলেই মাথা খুব ব্যথা করে এমনকি মাঝে মাঝে খুব পরিচিত লোকের নামও ভুলে যাই। এই সমস্যাটি আজ প্রায় দুই বছরের এবং এই সমস্যা হওয়ার আগে খুব বড় একটি মানসিক আঘাত পাই। আশা করি আমার সমস্যাটির সুসমাধান দেবেন। সম্ভবত আপনি বিষণ্নতা রোগে ভুগছেন।
আপনি ক্যাপসুল নরটিন ২৫ মিলিগ্রাম রাতে একটা করে সেবন করতে থাকুন। বিষণ্নতা একটি মানসিক রোগ, অনতিবিলম্বে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখান।

কোরবান আলী
সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ৪২ বছর। মনোজগতের মাথায় আঘাত নামক লেখাটির প্রতি আমার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। মাথায় আঘাত বিভিন্নভাবে লাগতে পারে এবং তার প্রতিক্রিযা কম বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তিনি লিখেছেন মাথায় আঘাত পাওয়ার পর অনেক লোক দীর্ঘমেয়াদি মাথার যন্ত্রণায় কষ্ট পান এবং নামীদামি পরীক্ষায়ও রোগ ধরা পড়ে না, এতে মানসিক বিশেষজ্ঞরা কিছু সাইকোটিক ওষুধ দিয়ে যন্ত্রণা লাঘবের চেষ্টা করেন সমসাময়িক। তিনি বলেন দীর্ঘমেয়াদি মাথার যন্ত্রণার সাথে মন তার ভেতরে আহাজারি আলাদা করতে পারে না। সব ব্যথা একাকার হয়ে যায়। বর্তমানে কিন্তু আমি দীর্ঘদিন যাবৎ মাথার যন্ত্রণায় আক্রান্ত। ১২ বছর বয়সে একবার টাইফয়েড হয়। তারপর থেকে আস্তে আস্তে আমার মাথার সমস্যা শুরু হয়।
প্রথম প্রথম আমার মাথায় ভোঁ ভোঁ শোঁ শোঁ করত, শরীরে তাপ কম ছিল। অল্প বিষণ্নতা ছিল। কিন্তু ক্রমান্বয়ে মাথায় ঝিন ঝিন করতে করতে মাথার তালুতে একটা যন্ত্রণাময় ফোড়ার মতো অনুভূত হয়। চাপ যন্ত্রণা যার একদণ্ড বিশ্রাম নেই। আমার চরম উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ, বুক ধড়ফড় এবং দ্রুত রক্তচাপ হওয়ায় আমাকে চট্টগ্রাম মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে ৪ মাস চিকিৎসা করেন মানসিক ডাক্তারগণ। ওষুধ খাওয়ান-ক্লোবাজম, অ্যামিট্রিপটাইলিন, প্রোপানল, টেলাজিন, পারকিনিল কিন্তু যন্ত্রণা একটুও কমেনি বরং আরো বাড়ে। আমি কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খেতে পারি না এতে আমার খিঁচুনি হয়। ডায়াজিপাম খেলে একটু ভালো লাগে কিন্তু শ্বাসকষ্ট ও মাথার যন্ত্রণা বাড়ে। আমার রোগটা কী, আমার ওষুধ কী, আমাকে কী করতে হবে একটু জানাবেন।
আপনার অসুখটি মাথায় আঘাত দিয়ে শুরু হলেও আমার মনে হয় আপনি এক ধরনের বিষণ্নতায় আক্রান্ত। একে বলে মাকসড ডিপ্রেশন। এ রোগে রোগী বিষণ্নতার উপসর্গ ছাড়াও নানা ধরনের শারীরিক উপসর্গের কথা বলে। আপনি ট্যাবলেট লুডিওমিল ২৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ২টা করে খেতে থাকুন। সাথে ট্যাবলেট এটিভান ১ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে প্রতিদিন খান। ১ মাস পরে কোনোরূপ উন্নতি না হলে আমার সাথে যোগাযোগ করুন।

মো. আনোয়ার হোসেন
তাকিয়া রোড, সোনাগাজী
আমার বয়স ২১ বছর। আমার সমস্যাটি গত ২ বছর আগে থেকে। সমস্যাটি হলো অহেতুক ভয়। অথচ আমি নিজেও জানি এটা অহেতুক ভয়। তারপরও কেন যে আমি ভয় পাই একমাত্র মাবুদ আল্লাহই জানে। আমার ভয়টা হলো কুকুরকে নিয়ে। সারাক্ষণ এই নিয়ে টেনশনে থাকি। যেমন-একটা কুকুর আমার পাশ দিয়ে চলে গেল তখন আমি এ নিয়ে ভাবতে থাকি-আমার গায়ে কামড় দিল নাকি। তারপর এ নিয়ে সারাটি দিন টেনশনে কাটে। বাড়িতে এসে যে পায়ের পাশ দিয়ে কুকুর চলে গেছে সে দিকে ভালোভাবে দেখি-কোনো দাগ আছে কিনা। পায়ের ভেতরে সামান্য কোনো দাগ দেখলে মনে মনে ভাবতে থাকি মনে হয় কামড় দিয়েছে। আসলে কুকুর আমার শরীরের সাথে মোটেও লাগেনি। তারপর যেন এক জায়গায় বা কোনো বাড়িতে কুকুর আছে এটা যদি আমার জানা থাকে তাহলে ওই বাড়িতে আমি যাই না। তারা যতই নিকট আত্মীয় হোক না কেন। এখন আমি কী করব?
আপনার অসুখটির নাম অবসেশন ও ফোবিয়া। এটিতে দরকার বিহেভিয়ার থেরাপি। আপনি যেহেতু চট্টগ্রামে থাকেন তাই সেখানকার মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন। যত দিন যোগাযোগ হচ্ছে না ততদিন ট্যাবলেট সারলিফট ৫০ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক করে দুদিন, তারপর সকালে ১টা করে এক মাস খেতে থাকুন। সময় সুযোগ হলে মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে বিহেভিয়ার থেরাপির জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।

শাহানা
মহাখালী, ঢাকা
আমার মনের অবস্থাটা আপনার কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। পরামর্শ পেলে কৃতজ্ঞ থাকব। মনের অবস্থাটা অসপষ্ট ধোঁয়ার মতো। মাথার পিএনএস করেছিলাম বিশেষ কোনো রোগ ধরা পড়েনি। তবে রিপোর্টে আমি দেখেছি ইংরেজিতে লেখা আছে ‘ঈষড়ঁফু’ এর সাথে আমার মনের অবস্থার বেশ মিল আছে বলে আমার মনে হয়। অর্থাৎ সব সময় কুয়াশাচ্ছন্ন অবস্থা। আমি যেমন স্বপ্নের মধ্যে আছি কোনো সময়েই সুস্থ মেজাজ থাকে না।
আপনার পিএনএস এক্স-রে ক্লাউডি মনে হচ্ছে, আপনার সাইনাসে কোনোরূপ সমস্যা আছে। জানা ভালো মানুষের মাথায় কিছু কিছু ফাঁকা জায়গা রয়েছে তাকে বলে সাইনাস। এটিতে বাতাস থাকে, মাথার ভার বহন করার জন্য আল্লাহ তায়ালা এটি সৃষ্টি করেছেন। এটি ক্লাউডি মানে মন ক্লাউডি বা মেঘাচ্ছন্ন নয়। মনের মেঘাচ্ছন্নতা বুঝতে মানসিক রোগের ওপর জ্ঞান থাকা দরকার। আপনি সম্ভবত কুয়াশাচ্ছন্ন মন বলতে বিষণ্নতাকে বুঝিয়েছেন।
বিষণ্নতা রোগে মন মেজাজ সুস্থ থাকে না, কিছু ভালো লাগে না, কোনো কাজের ইচ্ছা জাগে না, শরীর দুর্বল থাকে ইত্যাদি। আপনি বিষণ্নতার চিকিৎসার জন্য অতি শিগগির আমাদের পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

মো. আব্দুর রহমান
জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ
আমার বাচ্চার বয়স ১ বছর ১০ মাস। কিন্তু সে এখন পর্যন্ত আব্বা-আমমা ছাড়া আর কিছুই বলতে পারে না। সে জন্মের পর থেকে মায়ের বুকের দুধ একশ’ গ্রামও খায়নি। জন্মের পর ১১ মাস এলফামিল এবং পরে ৪ মাস ল্যাকটোজেন ২ খেত। সে এখন কয়েক মাস ধরে হাঁটতে পারে। স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালো।
মায়ের দুধ কত দিন খেল না খেল এর সাথে বাচ্চার কথা বলার কোনো সম্পর্ক নেই। বাচ্চার যদি বুদ্ধিমত্তা কম হয় বা মেন্টালি রিডার্ডেট হয় তাহলে অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চার কথা বলা, হাঁটা চলাফেরা একটু দেরিতে হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার মানসিক বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেয়া দরকার। তবে মনে রাখা ভালো কোনো কারণ ছাড়া বাচ্চা এমনিতেই একটু দেরিতে কথা বলে। সেক্ষেত্রে পিতা-মাতা বা পারিপার্শ্বিক লোকজনের বাচ্চার সাথে কথা বলার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়া দরকার।

মো. তারেক আহমেদ
মহেশখালী
আমার বয়স ২৫ বছর। আমার সমস্যা হলো-আমার বড় ভাই বিয়ে করেছে ২৫ বছর, কোনো ছেলে মেয়ে হয়নি। মেজো ভাইয়ের একটি ছেলে দুটি মেয়ে। সেজো ভাই বিয়ে করেছে ১০ বছর কোনো ছেলে মেয়ে হয়নি। ছোট ভাইয়ের একটি ছেলে আছে। কিন্তু এখন সমস্যা আমার। আমি বিয়ের আগে পরীক্ষা করে নিতে চাই আমি সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম কি না। কী কী পরীক্ষা করলে বুঝতে পারব। দয়া করে আপনি এই সমস্যার সমাধান দিয়ে মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।
আপনার পূর্বের দুই ভাইয়ের বাচ্চা হয়নি বলে আপনার হবে না এ যুক্তি হাস্যকর। তবে আপনার দুশ্চিন্তার জন্য আপনি সিমেন এনালাইসিস করে দেখতে পারেন।

মো. মোমিনুর রহমান
শিবগঞ্জ, বগুড়া
আমার বয়স ১৭ বছর। আমার সমস্যা হলো আমার বৃদ্ধাঙ্গুলি নিয়ে। আজ প্রায় অনেক বছর হলো পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির এক পাশ নিচু হয়ে যাওয়া। যাকে আমরা গ্রামের লোক কানীপাকা বলে থাকি। এই কানী যখন পাকে তখন খুব ব্যথা হয় এবং প্রচুর পুঁজ হয়। আজও এর কোনো সুরাহা আমি পাইনি। আমি এর সমাধান চাই। আমার দ্বিতীয় সমস্যা হলো অ্যালার্জি নিয়ে। অ্যালার্জি কি বংশগতভাবে হয়ে থাকে না কোনো কিছুর আক্রমণে। যদি তা না হয় তাহলে এর জন্য আমি এভিল, এভিল রিটার্ড খেয়েছি কোনো ফল পাইনি। রোগের ধরন-চুলকালে গায়ের যে স্থানে হাত লাগে সেখানে চামড়া সামান্য চাকা চাকা হয়। অর্থাৎ চামড়ার ওপর খানিকটা চামড়া ফুলে ওঠে। এটা শরীরের যে কোনো জায়গায় হয়। ডাক্তার বলেছে এটা অ্যালার্জি। আপনারা এটাকে কী বলবেন তা জানি না। তবে যাই হোক আমি এর সমাধান চাই।
আপনার নখসংক্রান্ত ব্যাপারে সার্জারি বিশেষজ্ঞকে দেখাতে পারেন। অ্যালার্জির জন্য টোফেন ট্যাবলেট রাতের বেলা ১টা করে খেতে পারেন।

ঝিনুতারা আহমেদ
সিলেট
আমার সমস্যা হচ্ছে আমি খুব নিশ্চল হয়ে আছি। কোনো চঞ্চলতা, আনন্দ, উৎসাহ, আবেগ, ভালোবাসা, অনুভব নেই। এভাবে তো কোনো মানুষ চলতে পারে না। আগে আমি এমন ছিলাম না। আপনার সাথে দেখা হলে আমাকে অবশ্যই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করবেন। চিঠিতে একটু খোলাখুলি হলেও বাস্তবে অপরিচিতদের কাছে আমি লাজুক। আমি ১৮ বছরের এক মেয়ে। আমি ভালো ছাত্রী থাকা সত্ত্বেও এসএসসিতে ভালো রেজাল্ট করতে পারিনি। আমি খুব হতাশ, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে এইচএসসিতে পড়ছি। আমার সমস্যাগুলো বিস্তারিত চিঠিতে লিখতে পারলাম না এটা আমার ব্যর্থতা। আমি একা থাকি। আমার মনে হয় প্রাণ খুলে স্নেহের আবেগে অনেক দিন হাসিনি। আমি কখনো সুষ্ঠু, সুন্দর পরিবারে মানুষ হইনি। আমি আমার সমস্যাগুলো বুঝি এবং কী করলে ভালো হয় একটু একটু বুঝি কিন্তু পারি না বা করি না। তবে বুঝি আমার ভালো একজন গাইড দরকার। ১৮ বছর বয়সের একটা মেয়ের যেমন থাকা উচিত আমি তেমন নই। ম্যাচ করতে আরও দেরি হবে। আসল সমস্যা আমি মোটেও পড়াশোনা করতে পারছি না, কোনো উৎসাহ নেই। ছোট বোন, পেসেন্ট হিসেবে ক্ষমা করে দেবেন।
উৎসাহ কম বা কাজ করার ইচ্ছা নেই এটি একটি ব্যক্তিত্বের সমস্যা তথা বিষণ্নতা রোগও হতে পারে। আপনি ট্যাবলেট নরট্রিলিন ১০ মিলিগ্রাম সকাল-বিকাল একটা করে খেতে থাকুন। আপনার ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন সাইকোথেরাপি। এর জন্য সময় করে আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

মো. সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ
আমি তিনবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছি পাস আমার কপালে জোটেনি। কারণ আমি কল্পনার মধ্যে বসবাস করি। আমার কল্পনা হচ্ছে আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে চলে গেলাম। ৫-৭ বছর পরে এলাম কিন্তু এর মধ্যে আমি একটি বড় বোন পেলাম। সম্পর্ক করে খুব বড়লোক হয়ে গেলাম। বাড়ি, গাড়ি করলাম। কল্পনার বোনটিকে খুব সমমান প্রদর্শন করলাম ইত্যাদি ইত্যাদি সব সময় একই কল্পনা। সকাল থেকে ঘুম পর্যন্ত, হাঁটা চলা, খাওয়া-দাওয়া সব সময়। তিনবার ফেল করার কারণ একমাত্র কল্পনা। আমার অসুখের নাম কী? এর ওষুধ কী? এবং কোথা থেকে পাব দয়া করে জানাবেন। হার্ট দুর্বল, কোনো কাজ করতে ভালো লাগে না। মন দুর্বল, মনে ফুর্তি নেই।
কল্পনা ভালো। তবে অতি কল্পনা একটি অসুখ। একে বলে ফ্যান্টাসি সিনড্রম। যেমন কল্পনায় কোটি টাকা পাওয়া অথবা কল্পনায় কোটিপতি হওয়া ইত্যাদি। বাস্তববিবর্জিত যে কোনো জিনিসের অতিরিক্ত ফ্যান্টাসি সিনড্রমের মধ্যে পড়ে। আপনার উচিত বাস্তবানুগ ব্যবহার করা এবং প্রথমেই উচিত হবে কষ্ট করে এসএসসি পাস করা। আপনার পাসের জন্য আমার দোয়া রইল। কল্পনা কমানোর জন্য ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম সকালে ১টা বিকেলে ১টা করে খেতে থাকুন।

মো. রফিকুল আলম
পিরোজপুর
আমার বয়স ২৪-২৫ বছর। আমি বি. কম-এর ছাত্র। আমার সমস্যা হলো আমি যা কিছু পড়ি তা মোটেই মনে থাকে না। এমনকি একটু আগে যা পড়েছি তা একটু পরে আর মনে থাকে না। বাড়ি থেকে বাজার করতে গেলে বাজারের অনেক অংশই কিনতে মনে থাকে না। মোট কথা আমার স্মরণশক্তি নেই বললেই চলে। আমি দুই বার বি. কম পরীক্ষা দিয়েছি কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো দুবারই আমার রেজাল্ট খারাপ হয়েছে। আমার বাবা নেই, আমার পড়ার খরচ আমার বড় ভাই দিত, এবার দেবে না। তাই আমার কাছে যা ছিল তাই দিয়ে পরীক্ষা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই জন্য ভয় এবার যদি পরীক্ষা খারাপ হয় তবে আমাকে বাড়ি ছেড়ে পথে বেরুতে হবে। আমার প্রায়ই স্বপ্নদোষ হয়, প্রস্রাবের পরিমাণটা বেশি। দিনে ১০-১২ বার ও রাতে ৩-৪ বার। আমাকে এক ডাক্তার প্রস্রাব কমানোর জন্য ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম ৩০টি খেতে বলেছে। আপাত আমি তাই চালিয়ে যাচ্ছি।
আপনার স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন আপনি যে কাজ করছেন তাতে মনোনিবেশ করা। একটি কাজ একবার করাই ভালো। এক সাথে অনেক কাজ নেবেন না। এতে করে মনোযোগ ভাগ হয়ে যায়। অনেকের পক্ষে তা ধরে রাখা সম্ভব হয় না। পুষ্টিকর খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়াম আপনার বাকি সমস্যা থেকে রেহাই দিতে পারে।

সোহেল আরমান
নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৩ বছর। আমি একজন ছাত্র। আমার প্রচুর সমস্যা। সমাধান দিলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আমি সব সময় হাসিখুশি থাকতে চাই কিন্তু পারি না। আমি প্রায় সব সময় কোনো না কোনো কিছু নিয়ে ভাবি। এটা করতে আমার ভালোই লাগে। যেমন-বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি, আমি যখন কথা না বলি তখন হয়তো আমি কিছু নিয়ে ভাবা শুরু করি। আমি বই নিয়ে বসলে যদি সর্বোচ্চ ইচ্ছা করি তাহলে হয়তো ১০-১৫ মিনিট মনোযোগ রাখতে পারি, তারপর কখন অন্যদিকে মন চলে যায় আমি নিজেও জানি না এবং পড়াশোনা একদম মনে রাখতে পারি না। আমার হার্টবিট খুব দুর্বল, পরিশ্রম করতে পারি না, খুব তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে যাই, সাহস একদম নেই। আমি সব সময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি। অত্যন্ত সাধারণ বিষয়েও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি।
আপনি একটু কল্পনাপ্রবণ। কল্পনা করতে ভালোবাসেন। তবে এই জিনিসটি লেখাপড়াসহ আপনার জীবনের উন্নয়নের অনেক কাজেই ব্যাপক ক্ষতি করবে। একটি নির্ধারিত বয়স পর্যন্ত ছেলেমেয়েরা কল্পনাপ্রবণ হয়ে থাকে। আস্তে আস্তে তা কাটিয়ে ওঠে। কল্পনাকে মনের মধ্যে বজায় রাখলে শরীর ও মন দুই নষ্ট হয়। আপনি মন দিয়ে লেখাপড়া করার পাশাপাশি ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম করে সকাল ও রাতে খেতে থাকুন। ১ মাস পরে আমাকে জানান।

কাইয়ুম
সিলেট সদর
আমি একজন ছাত্র, আমার বয়স ২৬ বছর। আমার দুটি সমস্যা এবং এটিই আপনার কাছে আমার প্রথম চিঠি। ঘুমসংক্রান্ত ঃ মাঝে মাঝে সারারাত আমার ঘুম আসতে চায় না এবং আসে না। এদিক ওদিক করতে করতে রাত কাটিয়ে দিই। চোখ বুঝতেই অতীত এবং ভবিষ্যতের বিভিন্ন ভাবনা চলে আসে এবং ভাবনার সাথে সাথে কল্পনাতেও ছবি ফুটে ওঠে। দেখতে পাই একটি শেষ হওয়ার সাথে সাথে অপরটি চলে আসে। ইচ্ছা করে ভাবনাকে বিতাড়িত করা যায় না। এমনটি হয় ২-৩ মাসে ১-২ বার। প্রায় ২ বছর ধরে। আমি প্রেমে ব্যর্থ হয়েছি। জীবন চলার হিসেবে ভুল করেছি।
পেট সংক্রান্তঃ গত দু বছর ধরে লক্ষ করছি গরমের সময় এলে বিকেল বেলা পেট গরম থাকে। বিশেষ করে প্রস্রাব করার পর পর খুবই গরম লাগে। অবশ্য সাথে সাথে ঠান্ডা পানি দু-এক গ্লাস খেলে কিছুক্ষণ পর ভালো হয়ে যায়। উপরে আমি যেসব সমস্যা বলে উল্লেখ করেছি আপনার মতে সত্যিই কি সমস্যা? যদি হয় সমাধান দেবেন।
আমাদের দেশে শতকরা ২৫ জন লোকের কোনো না কোনো সময় ঘুমের সমস্যা হতে পারে। তবে ঘুমের সমস্যা যদি ১৫ রাতের বেশি থাকে তাহলে এটিকে ইনসমনিয়া রোগ বলে অভিমত করা হয়। ইনসমনিয়া রোগের চিকিৎসার ব্যাপারে খুব ভালো ধরনের ওষুধ নেই। সাধারণ ক্ষেত্রে রিলাক্সেশন পদ্ধতি উপকারী হতে পারে। দিনের বেলা ঘুমানোর অভ্যাস পরিত্যাগ করুন। সকালে বিকেলে নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে স্নায়ু উত্তেজক কিছু ব্যবহার বা খাদ্য গ্রহণ করবেন না। ট্যাবলেট মেলেরিল ২৫ মিলিগ্রাম রাত আটটার সময় একটি করে সেবন করুন। আপনার পেটের সমস্যার কথা যা লিখেছেন তাতে মনে হয় গরম কালে আপনি একটু ঠান্ডাজাতীয় খাদ্য বা পানীয় বেশি করে গ্রহণ করবেন। দ্বিতীয় সমস্যার জন্য কোনোরূপ ওষুধের দরকার নেই।

শ্রী বিকাশ সরকার
কলাবাগান, ঢাকা
আমার বয়স ২০ বছর। আমার সমস্যা হলো আমি সব সময় আজেবাজে চিন্তা করি। কিছুতেই এসব চিন্তা দূর করতে পারি না।
আপনার অসুখের নাম অবসেশনাল নিউরোসিস। মনের মধ্যে এক চিন্তা বারবার আসে বন্ধ করতে চাইলেও তা শেষ করা যায় না। মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই এটি বারবার হতে থাকে। চিন্তাগুলোর কোনো মাথামুন্ড কিছু থাকে না। আপনি ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রথম দুই দিন রাতে ১টা করে ও দুই দিন পর সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে খেতে থাকুন। পনেরো বা বিশ দিন পরে মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

মো. মনজুরুল হক
রাজশাহী
আমার বয়স ২৫ বছর। আমি বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছি যেগুলো নিম্নে উল্লেখ করলাম। আমার দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার পূর্বে নিচের সমস্যাগুলো দেখা যায়-সর্বদা মাথায় একটা ঝিঁ ঝিঁ ভাব থাকত। পড়তে বসলেই চিন্তা চলে আসত। পড়াশোনায় বেশিক্ষণ মনোযোগ থাকত না, শুধু অসুখের চিন্তা হতো, শরীর ক্রমেই শুকিয়ে যাচ্ছিল, পড়াশোনা মুখস্থ করতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল, মনে হয় স্মরণশক্তি লোপ পেয়েছে। হাত পা ঠান্ডা হয়ে যেত মাঝে মাঝে, ঘুম ভালো হতো না, পেটের সমস্যা লেগেই থাকত। প্রায় সব সময় পেটে অস্বস্তি ভাব থাকে, বিশেষ করে খাওয়ার পর পেট ভার ভার মনে হয়, পেটে চাপ ধরে থাকে এবং তলপেট ফাঁপা থাকে। পেটে কোনো ব্যথা নেই। ঘন ঘন বায়ু নির্গত হয় ও পায়খানা দিনে ৩-৪ বার হয়। পেটে চোঁ চোঁ ও ভুটভাট শব্দ হয়; বিশেষ করে দুপুরে খাবার পর শুলেই হয়, ফলে ঘুমাতে পারি না। ভুটভাট করার বা পেটে মোচড় দেয়ার সাথে সাথে যেন বাতাস তৈরি হয় এবং পেট ফেঁপে যায়। পায়খানা মাঝে মাঝে কষা ও কালচে হয়। মনে হয় খাদ্য ভালোমতো হজম হয় না। ঢেঁকুর হয়, বুক জ্বালা করে এবং বুকের মধ্যে বাতাসের চাপ ধরে থাকে। সব ধরনের খাবার পেটে সহ্য হয় না, যেমন-ভাজা, তেলুক, দুধ, ডাল, ঘি, টক, কাঁচা ফল ও সব্জি, কলা, পেঁপে ইত্যাদি। মাথার মধ্যে সব সময় একটা ঝিঁঝিঁ ভাব থাকে। সর্বদা মনের মধ্যে বিভিন্ন চিন্তা ঘুরপাক খায়। পড়াশোনায় মনোযোগ থাকছে না।
আপনার অসুখটির নাম টেনশন রোগ। যে কোনো জনসংখ্যার শতকরা ২০ থেকে ৩০ ভাগ লোক এই টেনশন রোগে আক্রান্ত থাকে। এখন আপাতত ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ২৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে সেবন করুন। এক মাস পরে আমাকে জানান।

সাজ্জাদ পারভেজ
দিনাজপুর
আমার বয়স ৩০ বছর। আমার সমস্যা ৪ বছর থেকে। সব সময় খারাপ লাগে, মৃত্যুভয়, সব ধরনের পত্রিকায় অনেক ধরনের রোগের পূর্ব লক্ষণ বা উপসর্গ দেয়া থাকে আমি তখন ওই বিষয়টা চিন্তা করলে মনে হয় ওই উপসর্গগুলো নিজের মধ্যে আছে। যেমন কিছুদিন আগে আমার বন্ধু আমাকে বলে তুই খারাপ মেয়ের সাথে মিশেছিস তোর দেখ এইচআইভি হয়েছে। আর ঠিক তার পর দিন থেকে কথা চিন্তা করতে করতে মনে হয় অসুস্থ হয়ে পড়লাম। তারপর একদিন হঠাৎ বুকে ব্যথা মনে হলে মেডিকেলে ভর্তি হলাম। ওখানে ডাক্তার আমাকে বললেন এর মধ্যে কোনো মেয়ের সাথে মিশেছেন কিনা। আর ওই দিন থেকেই আমি ভাবতে লাগলাম আমার ঠিক এইচআইভি হয়েছে কারণ আমি একটা মেয়ের সাথে মেলামেশা করেছিলাম। মেডিসিন ডাক্তার দেখাই। কেমোডিন ৪০ মিলিগ্রাম এবং ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম ২ মাসের জন্য খেতে দেন। বেশি উপকার পাইনি। এখন আমার হাত ও পায়ের পাতা কিছুদিন থেকে শুকনা লাগছে এবং মুখের ভেতর ঘা আছে। আমার কি এইচআইভি হয়েছে নাকি পেটের মধ্যে অন্য কিছু হয়েছে। কারণ এন্ডোস্কপি রিপোর্টে বলেছে পেটের মধ্যে দানার মতো হয়েছে। সঠিক উত্তর দেবেন পরামর্শসহ।
আপনার অসুখটির নাম অসুখভীতি বা ইলনেস ফোবিয়া। এটি ফোবিয়া রোগের একটি ধরন। এ অসুখে মৃত্যুভয়, কীটপতঙ্গের ভয়, উঁচু স্থানে উঠলে পড়ে যাবার ভয়, বিভিন্ন সামাজিক পরিবেশে উপস্থিত হওয়ার ভয়, খোলা জায়গায় একা থাকার ভয়, বদ্ধ জায়গায় একা থাকার ভয়, রক্ত দেখার ভয় ইত্যাদি ধরনের হয়ে থাকে। ফোবিয়া রোগের মূল চিকিৎসা যেখানে যে ভয়টি পাবেন সে ভয়ের কাজটি ধীরে ধীরে জয় করার চেষ্টা করুন। তাতে সময় লাগতে পারে কিন্তু শেষে লাভবান হবেন। আপাতত ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকাল বেলা ৪ ভাগের ১ ভাগ এবং রাতের বেলা অর্ধেক সেবন করুন।

পলাশ
খড়কি, যশোর
আমি অনেক সমস্যা নিয়ে লিখছি। আমি অনেক দিন ধরে মাথার যন্ত্রণায় ভুগছি। স্থানীয় ডাক্তার দেখিয়েও কোনো উপকার পাইনি। আমার মাথা সব সময় ভার হয়ে থাকে। সারা শরীর অবশ হয়ে থাকে। বিশেষ করে খাওয়ার পর সারা শরীর অবশ হয়ে যায় এবং মাথার যন্ত্রণা বেশি হয়। তখন খুব ঘুম আসে। বুকের ভেতর ধড়ফড় করে এবং নিশ্বাস নিতে গেলে খুব কষ্ট হয়। সব সময় ঘুম ঘুম ভাব থাকে। মাথার যন্ত্রণা বাড়লেই ঘুম আসে। দুপুরে একটু ঘুমালে ভালো লাগে কিন্তু না ঘুমালে মাথা ভার হয়ে থাকে তখন ঘুম ঘুম লাগে। হাঁটলে খুব কষ্ট হয়। কোনো সময় কিছু ভালো লাগে না, আমি যখন পড়ি তখন আমার খুব একটা অসুবিধা হয় না কিন্তু আমার একটা ছাত্রী আছে তার সাথে কথা বললেই মাথার যন্ত্রণা বেশি হয়। মাঝে মাঝে মাথার দুই পাশে খুব লাফায়। আমার আর একটা অসুবিধা হচ্ছে পড়াশোনা মনে রাখতে পারছি না। যখন পড়ি তখন ভালো করে পড়ে রাখি কিন্তু দু এক ঘণ্টা পরেই আবার ভুলে যাই। ডাক্তার আমাকে ট্যাবলেট কেওলাক্স ১০ মিলিগ্রাম, এরিস্টোভিট-এম এবং পরে আবার ট্যাবলেট কেওলাক্স ১০ মিলিগ্রাম, প্রোক্সিড, ক্লোজাম দেন। এরপর তিনি চোখের ডাক্তারের কাছে যেতে বলেন এবং চোখের ডাক্তার ট্যাবলেট পিজোফেন দিলেন। এগুলো খাওয়ার পর আমার কোনো উপকার হয়নি। আশা করি আগামী সংখ্যায় উত্তর পাব।
আপনি মাথার একটি সাধারণ এক্স-রে করে নিন। এখন ট্যাবলেট ট্রিপটিন ১০ মিলিগ্রাম সকাল বিকেল খেতে থাকুন। এক্স-রে করে ফলাফল আমাকে জানান।

মো. ইব্রাহীম খলিল
নারায়ণগঞ্জ
আমার বয়স ২৯ বছর। আমি আজ দীর্ঘ দশ বছর যাবৎ রোগে ভুগছি। কোনো ফলাফল পাচ্ছি না। বিভিন্ন ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়েছি কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। শেষ মুহূর্তে পেটের জন্য একজন সার্জনের নিকট যাই, তিনি আমাকে দেখেন এবং মলদ্বার পরীক্ষা করে দেখার পর আপনার নিকট পাঠান। আমার সমস্যাগুলো নিম্নে বর্ণনা করলাম যদি সমস্যাগুলোর সমাধান দেন তাহলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। সবচেয়ে বেশি অসুবিধা হলো ঘন ঘন প্রস্রাব। প্রস্রাবের বেগ অনেক, ব্যথা, জোরে আসে, ধরে রাখতে পারি না। প্রস্রাব পড়ে জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়, নামাজ পড়তে পারি না। তার সাথে সাথে পায়খানার বেগ হয়, কখনো কখনো পায়খানা হয়ে যায়। শরীরের সম্পূর্ণ লোমগুলো দাঁড়িয়ে যায়। পেট খুব গরম থাকে এবং ঘামায়। পায়খানা মাঝে মাঝে খুব কষা, প্রায় সময় যে কোনো খাবার খেলে পাতলা পায়খানা হয়, আমাশয়ের মতো আম যায় পায়খানার সাথে। আমার মনে হয় সব সমস্যা পেট থেকে। ঘন ঘন স্বপ্নদোষ হয়, বীর্য পাতলা, মেয়েদের সাথে কথা বলতে পারি না, সাদা আঠালো পানিটা বের হয়ে কাপড় নষ্ট হয়ে যায়, লজ্জার ব্যাপার লিঙ্গ শক্ত হয় না। অন্ডকোষটা গরম থাকে, চুলকায়, বাড়ির সবাই বলে বিয়ে করলে রোগ ভালো হয়ে যাবে। এই কথাটি কি সঠিক। দিনের পর দিন শুকিয়ে যাচ্ছি, নিজেকে অনেক বয়স্ক মনে হয়। শীতের দিন এলে সকাল ও সন্ধ্যার পর হাত পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে আসে। শরীর ঘামলে পোশাক লবণাক্ত হয়ে যায়। হাতের তালু ভীষণ গরম থাকে, হাত পায়ের তালু ঘামায়। পায়ের পাতা থেকে শুরু করে মাথার তালু পর্যন্ত টিক টিক শব্দ হয়।
ঘন ঘন ডাক্তার দেখানো এটা একটা বাতিক বটে। একে বলে ডক্টর শপিং। সাধারণক্ষেত্রে নিউরোসিস জাতীয় রোগীরা এ কাজটি প্রায়ই করে থাকেন। আপনার উপসর্গ বিচারে আমার মনে হয় আপনি ‘আইবিএস’ বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম রোগে আক্রান্ত। স্বাভাবিক জীবন যাত্রা প্রণালীর দিকে লক্ষ রাখুন। পুষ্টিদায়ক খাদ্য গ্রহণ করুন এবং ট্যাবলেট মেলিপ্রামিন ২৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টি ও রাতে ১টি করে খেতে থাকুন। এতে যদি উন্নতি না হয় তাহলে এর সাথে ট্যাবলেট জোসার্ড ৫০ মিলিগ্রাম সকালে নাশতার পরে ১টি করে খেতে থাকুন।

আকবর হোসেন
সরকারি তোলারাম কলেজ
ডাক্তার সাহেব আমি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১-১-২০০০ তারিখে আপনার চেম্বারে দেখা করি এবং আপনার প্রেসক্রিপশনকৃত ওষুধ খেয়ে কিছুটা সুস্থতা লাভ করি। আপনার চেম্বারে তিনবার গিয়েছিলাম কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে আপনার সাক্ষাৎ করার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তাই মাসিক মনোজগত পত্রিকার আশ্রয় নিলাম। বর্তমানে যে সমস্যায় ভুগছি তা হলো শুয়ে থাকলে বুক ধড়ফড় করে, বুকের বাম দিকে প্রচুর ধড়ফড় করে। পা হতে মাথা পর্যন্ত মৃদু কাঁপে। ডাক্তার সাহেব উল্লেখিত রোগের সমাধান দিলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আমি বর্তমানে লোনাজেপ ২ মিলিগ্রাম প্রতিদিন ১টি করে খাচ্ছি এতে করে কোনো সমস্যা হবে কিনা জানালে উপকৃত হব।
আপনি ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক করে খেতে থাকুন। প্রেসক্রিপশনে দেয়া ওষুধ মাসখানেক চালানোর পরে যদি কোনোরূপ উন্নতি না হয় তাহলে যে কোনো মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগে সরাসরি যোগাযোগ করুন।