Skip to main content

মনের জানালা

অনিশ্চিত বন্ধু
হ্যালো হৃদয়! তোমাকে বলছি। প্রথম অজানা প্রশ্ন তুমি কি বেঁচে আছ? জানি না, সেই ভর্তি পরীক্ষা শেষে আমরা ৩ জনসহ আরো কয়েকজন সিলেটের বড় ভাইদের সাথে বাসের ছাদে করে আমি অক্সিজেন পর্যন্ত এসে নামলাম, আর তোমরা বাসটি নিয়ে আরো অনেক দূর গিয়েছ। সেই বাসটি দুর্ঘটনায় পড়ল কি না সেটিই আমার কাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন। সেই পরীক্ষার পর থেকে তোমার সাথে আমার আর কোনো যোগাযোগ হলো না। অথচ এর আগে তুমি আমার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করতে। আমরা দুজনই চট্টগ্রামের অস্থায়ী বাসিন্দা এবং এখানেই তোমার সাথে কোচিংয়ে আমার পরিচয় হলো। আবার দুজনই নোয়াখালীর স্থায়ী বাসিন্দা যদিও তুমি মাইজদীতে আর আমি ফেনীতে। ১৫ বছরের মধ্যে অনেকের সাথে আমার বন্ধুত্ব হয়েছে। নতুন হয়েও তুমি আমাকে অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু করেছ এবং আমিও তাই। তুমি একমাত্র সেই বন্ধু ছিলে যে আমাকে সুপরামর্শ দিতে। আমার মতো তুমিও প্রকৃতি প্রেমিক ছিলে। কী করলে ভালো, আর খারাপ হবে তা আমাকে পূর্বেই জানিয়ে দিতে। কিন্তু আজ সেই বন্ধু আর নেই। সেই বাসটি কি অ্যাক্সিডেন্ট করেছিল কি না সেই ব্যাপারে আমি অনিশ্চিত। আর তোমার দুটো নম্বর সব সময়ই বন্ধ পাই। দীর্ঘদিন ধরে কেন দুটো নম্বর বন্ধ রেখেছ জানা নেই। অথচ তুমি নিজেই বলেছিলে আমাকে তোমার নম্বরে ফোন করতে। যদি পার বন্ধ নম্বর দুটির যে কোনো একটি খুলে আমার সাথে যোগাযোগ করবে। কেননা আমি এমন কতগুলো বিষয় পছন্দ করি যা তোমার মধ্যে ছিল। তুমি সুপরামর্শদাতা, প্রত্যুৎপন্নমতি, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ও বুদ্ধিমান ছিলে। আমার সকল বন্ধুর মধ্যে একমাত্র তুমি এই সকল গুণাবলির অধিকারী ছিলে। তাই আমি তোমাকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু করে নিয়েছিলাম। তোমার সাথে আমার আর কখনো দেখা হবে কি না সেটি যেমন অনিশ্চিত। আমার অনেক ব্যস্ততার মাঝে লিখিত মনোজগতের মাধ্যমে এই লেখনি তোমার কাছে পৌঁছাবে কি না তাও অনিশ্চিত। তাই এই চিঠিতে তোমাকে অনিশ্চিত বন্ধু হিসেবে সম্বোধন করলাম, ভুল হলে ক্ষমা করে দিও। আমার এই লেখাটি সার্থক হবে যদি তুমি অনিশ্চিত হিসাব থেকে নিশ্চিত হিসাবে প্রমোশন পাও। ধন্যবাদ।

সজীব
সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
ফোনঃ ০১৯৩৮-১৭৯৬৮৮


জীবনের অপূর্ণতা
আমার দুই হাত তুলে দিতে চেয়েছিলাম তোমার হাতে, মেহেদি রাঙিয়ে দেয়ার জন্য, তোমার কল্পনার জগতে নিজেকে ভাসিয়ে দিতে চেয়েছিলাম স্বপ্ন দেখার জন্য। এই হৃদয় উজাড় করে তোমাকে ভালোবেসেছিলাম ঘর বাঁধার জন্য, কিন্তু কিছুই হলো না আর, বাকি থেকে গেল সবই। থেমে গেল তোমায় নিয়ে স্বপ্নের বাসর করা, তবুও আমি বুক ভরা কষ্ট নিয়ে বলব ভালোবাসি ‘খুব ভালোবাসি’ তোমায়।
‘মাইদুল’ এখনো আমার সব ভালোবাসা, আমার চাওয়া-পাওয়া সব যে শুধু তোমায় ঘিরে। আমার শত রাগ, অভিমান তোমায় নিয়ে। তারপরও কেন যে তুমি বোঝ না আমায়। আমি যে খুব ভালোবাসি শুধু তোমায়।

সুসমি
ঢাকা
মোবাইলঃ ০১৯২২-৯৮৯৭৬৬


একটি স্মৃতিময় ফুল
একটি ফুল আমার হৃদয় কেড়েছে
ভ্রমরের মধুর সুর আজও কানে ভেসে আসে
একা থাকতে মোর ভালো লাগে
তোমায় যখন পড়ে মনে।
চাপা কষ্টটা বৃষ্টি হয়ে ঝরে
তোমার স্মৃতি কেবলই গভীর রাতে কাঁদায়
আমায় দুঃখের সাগরে ভাসায়
পৃথিবীর সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে
নিদ্রাদেবীর কোলে।
মোর আঁখি দুটি জোড়া নাই মিলে
দাঁড়িয়ে আছি আমি বাতায়নের পাশে
দাঁড়িয়ে আছ তুমি একটু দূরে
কত সুন্দর জ্যোৎস্না রাতে পূবালী বাতাসে
হাসনাহেনার পুষ্প ছড়িয়ে দিয়েছ
বাতায়নে কে যেন দূরে মুক্তোর মতো
হৃদয় উজাড় করে হেসে চলেছে
নীরবে নিভৃতে দাঁড়িয়ে বাতায়নের পাশে
পৃথিবীর সুখ-দুঃখের খবর জানায় বাতাসে
ভ্রমরেরা মধু খায় গান গায় মধুর সুরে
একটি ফুল আমার হৃদয় কেড়েছে।
আজও ভুলিনি তোমায়, সে স্মৃতি
চির অম্লান হয়ে থাক।
সে মধুময় দিনের স্মৃতিগুলো
যদি ভুলে মনে পড়ে আমায়
চেয়ে দেখ দাঁড়িয়ে আছি
তোমারই আঙিনায়...।

হুমায়রা তাবাসসুম রাখি
ছোট বনগ্রাম, রাজশাহী
ফোনঃ ০১৭৩২-১১৭৮৭৪


অভিভাবকদের প্রতি ‘শিশুকে করবেন না হেলা’
মাঠে যাব দেখব খেলা কাটাব বেলা।
খেলার ফাঁকে এক পাশে দেখি হেলায় হেলায় একটি শিশুর কাটছে রাখাল বেলা।
মন আমার বসছে না তখন একটুও মাঠের খেলায়
কোমলময়ী চোখ দুটি তার, তার কোমল চেহারা
দেখে তারে মনে পড়ে গেল আমার ছোট বেলা
সময় না হয় গিয়েছে তখন লাঞ্ছনা আর লীলায়
ছিলেন যারা ছিল যারা দিন গেছে পেরিয়ে
তবু বলি আছে তারা বেশ মন্দ সকলকে এড়িয়ে
কিন্তু এ শিশু কী করবে? এ কাল তো সে কাল নয়, কি তার আগামী?
হয়তো হবে গুন্ডা, মাস্তান বেছে নেবে নিল নেশার পথ
হয়তো হবে তার হাতে উন্নয়ন বিনে দেশের সংস্কৃতি বধ।
বলি আমি তাই শুনুন এমন শিশুর পিতা,
তারে ক্রীড়ানন্দ দিন না দিয়ে লাঠি কাঁচি।
বাড়ির কর্ম থাক যার হাতে দিন তারে স্কুলে যেতে কলম খাতা
হতে পারে সে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল কিংবা শামসুর রাহমান।
তবেই থাকবে দর্শকের দৃষ্টি খেলায় বহমান।

নাজিম উদ্দিন (রিক্ত)
ফোনঃ ০১৮৩১-৩২১০১০


বিড়ম্বনা
‘বিড়ম্বনা’ কথাটার সাথে কমবেশি সবাই পরিচিত। বিড়ম্বনাকে আমরা বলতে পারি ভোগান্তিতে পড়া, আধুনিক ভাষায় ‘মাইনক্যা চিপায় পড়া’ কিংবা ‘গ্যাঁড়াকলে পড়া’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এ বিড়ম্বনাটা বিবাহ অনুষ্ঠানে বেশি লক্ষ করা যায়। কিংবা বিবাহ আয়োজনে। একবার এক বন্ধুর বিবাহ অনুষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ হয়। বরের বন্ধু বলে কিছু সময় বরের সাথে সাথে থাকতে হলো। খাওয়া-দাওয়া শেষে যেই না জুতা পরতে গেলাম! জুতা গায়েব! (আমি ফাইস্যা গেছি মাইনক্যা চিপায়) তার পরের ঘটনা আরো করুণ। আমার সাদা পাজামা আর পাঞ্জাবি বন্ধুর বউয়ের জ্ঞাতি বোনদের কল্যাণে নানা রঙে রঞ্জিত হয়েছিল। বিড়ম্বনা কাকে বলে!
আজ থেকে ১০-১২ বছর আগে যখন ছেলেপক্ষ মেয়ে দেখতে যেত তখন ছেলেপক্ষের লোকেরা মেয়ের হাত, কান, চুল, ঠোঁট, মেয়ে সুন্দর না কালো সবকিছু দেখত। সর্বশেষ একটু হাঁটত কোরবানির গরুর মতো করে। পছন্দ হলে মাশাআল্লাহ, পছন্দ না হলে ছেলের অমুক আত্মীয় রয়েছে আসলে-সিদ্ধান্ত নেব, এটা কেমন কথা। এখন আধুনিক যুগে মেয়েকে দেখানো হয় শপিংমলে, রেস্তরাঁয়, কোনো প্রতিষ্ঠানে কিংবা আত্মীয়-স্বজন বা দুলাভাইয়ের বাসায়। তবে ছেলে যদি বিদেশপ্রবাসী কিংবা ধনী হয় তবে মা-বাবা চায় একদম বাসায় বসিয়ে দেখাতে। তবে এ দেখাদেখির সময় মেয়েটার অনুমতি কিংবা অনুভূতির তোয়াক্কা করা হয় না। এটা কেমন আচরণ? এমনি একটা মেয়েকে দেখতে আসে শপিংমলে, অনেকটা মেয়ের অজান্তে। তারা মেয়েটাকে দেখছে ছবি তুলছে কেউ আবার ভিডিও করছে, কেউ অশোভন আচরণ করছে, ঠাট্টা করছে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করছে। একবারও চিন্তা করল না মেয়েটা কেমন মানসিক অস্বস্তিতে ভুগছে কিংবা মেয়েটা আদৌ এ আচরণ পছন্দ করছে কি না। মেয়েটা প্রায় সব কেনাকাটা এই শপিংমলে করত বিধায় বেশির ভাগ দোকানি তাকে চিনত। এরূপ অবস্থায় মেয়েটার ভদ্রবেশী লোকগুলোর আচরণে হৃদয়ে যে ক্ষত হয়েছে তার খবর কি ওই লোকগুলো রাখে? মা-বোন তো আমাদের সবার আছে। যে মেয়েটাকে এ মানসিক কষ্ট দেয়া হচ্ছে সেও তো কারো না কারো বোন, মনে হচ্ছে আমরা বেশি মাত্রায় আধুনিক হতে গিয়ে পারসপরিক সমমানবোধ, সহানুভূতি, সহিষ্ণুতা হারাতে বসেছি। তাই আমি মনোজগতের সকল পাঠক-পাঠিকার প্রতি সমমান রেখে বলতে চাই, আসুন আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাই, এদেশের মানুষকে ভালোবাসি, সমমান করি। বিশেষ করে মা-বোনদের এবং বৃদ্ধদের। আমাদের আচরণে যেন কোনো মা-বোন বিড়ম্বনার শিকার না হয়। If you want to change the world at first change yourself.

নাজমুল হাসান
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা


মা জননী
পৃথিবীতে আমি পেয়েছি বেহেশত, করেছি কি মূল্যায়ন?
পাপী বুক যে হাহাকার করে অশ্রুসিক্ত নয়ন।
নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে গর্ভে করে ধারণ
যন্ত্রণাকাতর প্রতিটি প্রহর, পিছু পিছু ছিল মরণ।
পৃথিবী ছাড়ার সমীকরণে ছিল, এক পর্দা দূরে,
ভূমিত হয়েছি মাগো কষ্ট দিয়ে, আর্তনাদের সুরে।
এত ব্যথা এত যন্ত্রণা পেয়েও সব যে গিয়েছ ভুলে
নতুন পৃথিবী উপহার দিয়ে, বুকে নিয়েছ তুলে।
বুকের দুগ্ধ পান করিয়ে আগলে রেখেছ কাছে
এক মুহূর্ত আড়াল করনি হয় যদি কিছু পাছে।
বাকহীন হয়ে নির্বাক চোখে যখন চেয়েছি যা
একটুও বুঝতে দেরি করনি, স্নেহময়ী প্রিয় মা
কত রাত যে বিনিদ্র কাটিয়ে পাশে ছিলে তুমি বসে
এ ঋণ যে শোধ হওয়ার নয়, যদি পুনঃ জনমও আসে।
আধো আধো বোলে যখন তোমায় ডেকেছি মা বলে
আকাশের যেন চাঁদ পেয়েছ, আমায় পেয়ে কোলে
রোগে শোকে কাতর হয়েও করনি কো অবহেলা
আঁচলের শীতল ছায়ায় রেখেছ, আগলে সারাটি বেলা।
দুর্বলকে তুমি সবল করেছ নিজেকে শেষ করে
আজ যেন সবই গিয়েছি ভুলে, কালের পরিসরে।
কাজের শক্তি চলার শক্তি পেয়ে যেন দেহ মনে
হারিয়ে ফেলেছি সব স্মৃতিগুলো, তোমার ছায়াতলে
তোমার কোমল মনে কষ্ট দিয়েছি, কাজে-কথার ছলে
এ পাপীর যে ঠাঁইও হবে না আগুনের কারাগারে
মাথার মুকুট তুমি যে মাগো, করতে পারিনি যতন
চোখের জল আজ নীরবে ঝরে অবুঝ শিশুর মতো।
কেঁদে কেঁদে যদি রক্ত ঝরে, তবু যে আমি ঋণী,
বিধাতাও যে মুখ ফেরাবে না, যদি ক্ষমা না কর তুমি।
তোমার হৃদয়ে কীভাবে মাগো, কষ্ট দিয়েছি এত
মানুষরূপী আমি এক বন্য পশুর মতো।
চরণ ধরিয়া মাথা ঠুকিয়া চাই যে ক্ষমা পাপী হইয়া
তোমার চরণধূলি মা, জগতের এই সংসারে
স্বর্ণ কোমল বেহেশত মাগো তোমার পদতলে
শেষ নিদ্রা আসে যেন মোর, তোমার শীতল কোলে।

আকাশ
ঢাকা
ফোনঃ ০১৯১৩-৮৫০৭২৯


না পাঠানো চিঠি
মা, কেমন আছ? প্রতিনিয়ত তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করে। এত দিন পর আজ তোমার খোঁজ নিচ্ছি বলে খুব অবাক হয়েছ, তাই না। কী ভাবছ আমি এখনো জীবিত? হ্যাঁ মৃত্যু এত সহজে আমাকে সপর্শ করবে না। এই অসহ্য কষ্টের বোঝা বয়ে বেড়ানোর চেয়ে মৃত্যুও বোধ করি অনেক সুখের। ইদানীং আর ঘুমাতে পারি না ক্লান্ত দিনের শেষে দু চোখে তন্দ্র আসে বৈকি কিন্তু কোনো এক প্রেতচ্ছায়ার মহাগ্রাসে আমার নিশিনিদ্রা উবে যায় কালবৈশাখীর বেগে। জানো মা, সাদা কার্পেটে বাঁধা তোমার সেই তুচ্ছ ছবিটি এখন আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। আচ্ছা মা, তোমার মনে পড়ে না আমার শিশুবেলার কথা। ‘কী দস্যি ছেলেরে বাবা! সারাদিন এত জ্বালাতন করতে পারিস’ বলেই আদর করে তুমি বুকে জড়িয়ে নিতে। মা গো, আমাদের বাড়ির বুড়ো তালগাছে এখনো কি বাবুই পাখিরা বাসা বাঁধে। আতাগাছের মগডালে বসে কুটুম্ব পাখিরা কি এখনো মিষ্টি সুরে ডাকে। এখনো কি শীতের শেষে বেথুল ফলের লোভে দুষ্ট ছেলেরা চুপি চুপি ভিড় করে আমাদের বেতের ঝোপে। মা, তুমি কি এখনো নামাজে বসে প্রতিদিন আমার জন্য দোয়া কর? শুনেছি তোমার পুরানো চশমাটির কাচ ফেটে ঝাপসা হয়ে গেছে। নতুন আরেকটা চশমা কিনে নাও না কেন? বাবার শরীরটা নাকি আজকাল আর ভালো যাচ্ছে না। ডাক্তার দেখাও। বাবার রাগী মেজাজ কি এখনো আগের মতোই। মা গো তোমরা কি আমাকে আসলেই ভালোবাসতে? সত্যি করে বলো। আমিও একজনকে খুব ভালোবেসেছিলাম। কী আশ্চর্য ব্যাপার তাই না। তারপর তোমাদের আত্মসমমান আর বংশমর্যাদার কাছে আমার সাজানো স্বপ্ন কেমন তছনছ হয়ে গেল। বিশ্বাস কর, আমি তোমাদের মৃত মুখগুলো কখনোই দেখতে চাইনি। তাই সেদিন নীরবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু কোর্টের একটি রায় আমাদের এত দিনের সব সম্পর্ক কেমন বিচ্ছিন্ন করে দিল। আজ আমি তোমাদের কাছে চির পরিচিত হয়েও অচেনা কোনো এক আগন্তুক। আমার শরীরে প্রবাহিত প্রতিটি রক্তকণাকে কীভাবে অস্বীকার করবে মা। তোমাদের রক্ত আজ আমার সাথে বিদ্রোহ করতে চায়। বলতে পার কী এমন অপরাধ ছিল আমার। মমতার বন্ধন ছিন্ন করে ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চেয়েছিলাম কিন্তু প্রকৃতি আমাকে ঠিকই শাস্তি দিয়েছে। আকস্মিক কী বীভৎস এক দুর্ঘটনা আমার পৃথিবীকে কেমন এলোমেলো করে দিল। অথচ আমি দিব্যি বেঁচে আছি ভালোবাসাহীন। দিনের শেষে যখন গোধূলি নামে সব পাখি ঘরে ফেলে শুধু নীড়হারা একা আমি। সুখ নয় কষ্ট খুঁজে ফিরি স্তব্ধ অন্ধকারে।

মো. আবুল কালাম আজাদ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
ফোনঃ ০১৭২৫-৪১২১৮৬


ফিরে এসো স্বপ্ন থেকে
অবশেষে আমার ঘাড়ে ভালোবাসা বা প্রেম নামক ভূতটি চেপে বসল। এ ভূত সিন্দাবাদের ভূতের মতো চুপ করে বসে থাকে না। আমার ঘাড়ে বসে আমাকেই কিলায়। দিবা-নিশি এ ভূত আমাকে তাড়া করে। যন্ত্রণা দেয়, কষ্ট দেয়। আবার গভীর সুখও দেয়। গাঢ় আনন্দে হৃদয় নাচিয়ে দেয়।
মেয়েটির নাম তিশা। সে শুধু আমার ভালোবাসার মানুষই নয়। সে আমার বন্ধু, প্রেমিকা...অনেক...অনেক কিছু। সে আমার হৃদয়ে এসে সবকিছু তছনছ করে দিয়ে হৃদয়রাজ্যের রানি হয়ে বসে আছে।
প্রতিটি ক্ষণ তার কথা ভেবে অস্থির হয়ে যাই। তন্ময় হয়ে তার কথা ভাবি। তার ফটোখানা বের করে বুকে জড়িয়ে ধরি। কই, তার হৃদয়সপন্দন তো এখন পাই না। সেও তো আমাকে জড়িয়ে ধরে না। পরে ভুল বুঝতে পারি এ তো শুধুই ছবি ছাড়া কিছুই নয়।
তবুও তার সাথে অনবরত আমি কথা বলে যাই। ছবির সেই সুন্দরী চুপ করে শোনে। কথা বলে না। তার ঠোঁট থেকে ঝরে না কথার জ্যোৎস্না। আমি শুধু একা একা কথা বলি। অথচ যার প্রতিমূর্তি এই ছবি সে কি এভাবে চুপ থাকতে পারত! সে কি আমার শত অনুনয় উপেক্ষা করতে পারত? তবুও দেখি কথা বলি একা একা রূপসী রহস্যময় নারীকে।
সে যখন ফিসফিস করে বলে ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ আমি তখন অবশ হয়ে যাই। দ্রুত হয়ে যায় আমার হৃদসপন্দন, আমার অস্তিত্ব দেবতার সঙ্গীতে রূপান্তরিত হয়। আমার পৃথিবী বদলে যায় নিমিষেই। যেন ঝাঁক ঝাঁক পাখি উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে আমাকে গান শুনিয়ে দিল। আমি যেন তাকে নতুন করে পেলাম। উড়ার উদ্যান যেন পায় নতুন বসন্তকে।
তার উচ্চারিত সেই শব্দের মাঝে আছে সেই প্রেরণা যা আমাকে সুন্দরভাবে, প্রবলভাবে বাঁচতে শেখায়, তুচ্ছ করতে শেখায় সব বাধাবিঘ্নকে। এ মন সব সময় তাকে খুঁজে ফেরে। ঘরের নিঃসঙ্গতায়, পথের ভিড়ে, সকাল-দুপুর, সন্ধ্যা-রাত্রি সর্বদা তাকে দেখার জন্য মনটা ব্যাকুল হয়ে থাকে। তোমার ছবিখানা দেখেই তৃষ্ণা মেটাতে চাই দু চোখের। কিন্তু না চোখদ্বয় চায় জান্তব তোমাকে দেখতে। কর্ণকুহর শুনতে চায় তোমার গোলাপি ঠোঁটের হাসি।
সে যখন আমাকে অর্কের আব্বু বলে ডাকে শিহরিত হয়ে যাই আমি। আমি তাকে ডানি অর্কের আমমু। সে হাসে, লাজুক সেই হাসি আমার প্রাণ জুড়িয়ে দেয়।
তিশা, তোমার কাছে আমি চিরঋণী। তুমি আমাকে দেখিয়েছ এবং বুঝিয়েছ বেঁচে থাকার আনন্দ। আজকাল তোমাকে এবং আমাকে ছেলে অর্ককে নিয়ে ভাবি, স্বপ্ন দেখি। কবে সেই স্বপ্ন থেকে বাস্তবে আসবে? আমি যে আর পারছি না। প্রতীক্ষ করা যে বড়ই কষ্ট। অর্কের আমমু, আমি যে তোমাকে খুবই ভালোবাসি। প্লিজ তাড়াতাড়ি স্বপ্ন থেকে বাস্তবে আসো। ভালো থেকো। রাগ কোরো না, কারণ আমার অনুভূতি মনের জানালার সব বন্ধুর সাথে শেয়ার করলাম বলে।

রাকিব হাসান
বাসাইল, নরসিংদী
ফোনঃ ০১৯১১ ৬১৬৫৪৪


তৃপ্ত কিছু কষ্ট
বিচিত্রময় এ পৃথিবী। বিচিত্র মানুষের জীবন। যে জীবনের পুরোটা জুড়েই সুখ-দুঃখের বসবাস। তবে বিশাল এই পৃথিবীতে সুখের দেখা কয়জন পায়। সুখপাখিকে শান্তির খাঁচায় বন্দি করা বড় কঠিন কাজ। সুখপাখি যেন অধরাই রয়ে গেছে। কেন যেন কোনোভাবেই সুখের দেখা পাইনি। কেন পাইনি বলতে পারব না। সুখপাখি যে কোনো বাগানের গাছে শান্তির দূত হয়ে বসে আছে, বেঁধেছে ছোট শান্তির ঘর, কে জানে। তবে দুঃখকে চিনেছি, জেনেছি অনুভাবে হৃদয়ে আগুনে জ্বলছে। দুঃখকে সাথী করে অজানা উদ্দেশ্যহীনভাবে পথ চলেছি। দুঃখের দোল খেতে খেতে পথভ্রষ্ট হয়েছি। দিশেহারা হয়েছি বারবার। নিজের মনের কাছে থেকে মানসিক নির্যাতন সহ্য করছি প্রতিনিয়ত। দুঃখ, কষ্ট, বেদনার জন্ম যে কোথা থেকে সৃষ্টি হয় কে জানে, আমি আপনি জানি! পৃথিবীতে কত ঘটনাই তো ঘটছে। আচ্ছা দুঃখের কষ্টের ঘটে যাওয়া স্মৃতিগুলো যদি চৈত্র মাসের পাতার মতো ঝরে যেত তাহলে দুঃখ, কষ্টের আর জন্ম দিতাম না। কিন্তু মানুষ তো আর গাছের পাতা নয় যে ঝরে যাবে। ছোট এই পৃথিবীতে আমার চোখের সামনে প্রতিমূহূর্তে কত সুখের ঘটনা ঘটতে দেখেছি। অন্যের সুখ দেখে নিজে কেন যেন আহত মনে হয়, ব্যাকুল হয়ে ওঠে দেহ, মন, শরীর। কখনো মনে হয় আমার এই মনের মন্দিরে কষ্টের মোমবাতি জ্বেলে রাখা আছে। জ্বলছে, হৃদয় ধীরে ধীরে পুড়ছে। কে এই মোমবাতির আগুন দেখতে পাচ্ছে। যে জানবে সে আমাকে বুঝবে, আমাকে জানবে সেই হয়তো আমার হৃদয়ের ভেতর জ্বালানো মোমবাতিটা ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দেবে। তখনি যদি একটু শান্তি পাই। জন্মেছি একা, সকল মায়া-মমতা ত্যাগ করে চলেও যেতে হবে একা। আসলে পৃথিবীটাও একা, সূর্য একা, চাঁদ একা, আমিও বড় একা।

রঞ্জিত রায়
কল্যাণপুর, ঢাকা
ফোনঃ ০১৯২২-৮৩৫২৬৯


পাথরচাপা কষ্ট
গল্প নয় সত্যি, কল্পনা নয় বাস্তব। অনেক রাত। চারদিক অন্ধকার, কিছু দেখা যায় না। জানালার পাশে বসে একা। আকাশের তারার মাঝে তোমাকেই খুজছি। পলকহীন দৃষ্টি, গাছের পাতার মর্মর শব্দ আর বাতাসের ঝলকানি হৃদয়ের মাঝে কষ্টের সাগরের মতো ঢেউ তুলছে। হৃদয়ে জমে থাকা আঁখি জল চোখের কিনারা ভেদ করে মাটি সপর্শ করেছে। সিগারেটের কালো ধোঁয়া ঠোঁট দুটিকে করে দিচ্ছে অস্বচ্ছ মলিন। পাথরচাপা কষ্ট হৃৎপিণ্ডকে করে দিচ্ছে সংকুচিত। কত দিন দেখিনি তোমাকে, পাইনি কাছে। রাস্তা, ফুটপাত, সাগর কিংবা পাহাড়, লোকালয় বা অরণ্য কোথাও যখন পেলাম না তোমাকে তখন অনেকটা বাধ্য হয়ে কলম ধরতে হলো। মনোজগত পত্রিকার মনের জানালা বিভাগে। যন্ত্রণার সপর্শকাতর কথাগুলো প্রকাশ করলাম। জানি না এ লেখা কোনো দিন তোমার চোখে পড়বে কি না।
তবুও আশায় বুক বাঁধি, তুমি ফিরে আসবে এ বুকে।
তোমার ভালোবাসার রসাতলে হারিয়ে যাবে কষ্টের সব স্মৃতি। সুখ আর শান্তিতে ভরে থাকবে জীবনের বাকি সময়। ফুলের সুবাসে মুখরিত হবে আমাদের ভালোবাসার ভুবন। মিসেস জাফরিন আক্তার জলি আমি তোমাকে বলছি। তুমি ইচ্ছা করলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পার। কিন্তু কেন করছ না? আমি জানি না। তবে কেন কষ্ট? কেন এত যন্ত্রণা? তুসের আগুনে প্রেম জ্বলে আর নেভে, যন্ত্রণা বল তুমি ব্যথা কত দেবে। পাহারা দেয় আমাকে তোমার দেয়া স্মৃতি বারবার কাঁদে আর তোমাকেই ডাকে।
তুমি কি জান? প্রতিটা মুহূর্ত আমার কীভাবে কাটে? আমি একটা জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে আছি। নিঃসঙ্গতা আর একাকিত্বের মাঝে চলছে জীবন। ব্যর্থতার গ্লানির সাথে নতুনের সপর্শ লেগেছে। যোগ হয়েছে ড্রাগসের মতো মরণনেশার। নিদ্রাবিহীন দুটি আঁখি ভাষা খুঁজে পায় না। প্যাকেট ভর্তি সিগারেট আর নেশার ট্যাবলেট প্রতি রাতের সঙ্গী। নেশার সপর্শ আমার জীবনে এনে দেয় নতুনত্বের সুমধুর সুখ আর পরম শান্তি। ভালোবাসতে চেয়েছ বেসেছি। বিয়ে করতে চেয়েছ করেছি। শারীরিক সপর্শ করতে চেয়েছ করেছি। তোমার বাবা-মাকে বলতে বলেছ বলেছি। তোমার বাবা-মা তোমাকে লুকিয়ে রাখছে। তোমাকে একদিন না দেখলে থাকতে পারি না। অথচ এই দীর্ঘদিন দেখা নেই কথা নেই। বেঁচে আছি না মরে গেছি একবারও খোঁজ নিলে না। আমি তো অপরাধ করিনি তবে এত কেন শাস্তি পাচ্ছি। তবে কি মরিচা পড়া এই সমাজের কাছে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছ। শুনেছি তোমার পুলিশ মামার কাছে তোমাকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তোমার মামা আমাকে হুমকি দেয় আমাকে দেখে নেবে কিন্তু একবারও ভাবল না সে নিজেই সবচেয়ে বড় অপরাধী। নিজে প্রেম করে বিয়ে করেছে অথচ অন্যের বিচার করে। কী অপূর্ব মানুষের বিচারব্যবস্থা, ভাবতে লজ্জা লাগে। ভালোবাসার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছি, তুমি সুখেই তো আছ আমাকে ভুলে। তোমার স্মৃতিগুলো কুরে কুরে খায় আমাকে। অসহ্য যন্ত্রণা আর বোবা কান্নার মাঝে চলছে আমার জীবন। আর কত? এভাবে কি বেঁচে থাকা যায়? তুমিই তো বলেছিলে অন্যসব মেয়ের মতো নও। কোনো দিনই আমাকে ছেড়ে যাবে না। যদি বুকটা চিরে দেখাতে পারতাম কত গভীরে তোমার বাস। তোমার দেয়া স্মৃতিগুলো নিয়ে যে কটা দিন বেঁচে থাকা যায়। যাকে স্বামীর অধিকার দিয়েছ, নিজের সতীত্ব বিলিয়ে দিয়ে ভালোবেসেছ তাকে ছেড়ে কী করে একা থাকবে। সবকিছু উজাড় করে দিয়ে কেন এত ভয় পাও তোমার বাবা-মাকে। তোমার অপেক্ষায় সকাল থেকে দুপুর, দুপুর থেকে বিকাল, বিকাল থেকে রাত এবং রাত থেকে আবার সকাল কিন্তু তুমি ফিরে আস না। কেন? কেন?... নেশা করতে করতে হয়তো একদিন থেমে যাবে জীবনের চাকা। হাসপাতালের বারান্দা হবে অস্থায়ী ঠিকানা। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে পড়ে থাকব মর্গে। শবাগারে নিয়ে শরীরের ভেতরের যাবতীয় অঙ্গ কেটে নেবে। ডেড বডিটা পরিজনদের কাছে হস্তান্তর করবে। আর আমার মৃতদেহটা সাদা কাফন পরানো হবে। খাটের ওপর রেখে সবাই বিদায় জানাবে। নিয়ে যাবে বাড়ি থেকে অনেক দূরে। ছোট, অন্ধকার, আলোবাতাসহীন মাটির ঘরে সকলে মিলে মাটিচাপা দিয়ে চলে আসবে।

জেডএম আকাশ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর
ফোনঃ ০১৭১৭-১৪৪৯৩৫