আপনি কি
- ধূমপায়ী?
- প্রচুর অ্যালকোহল গ্রহণকারী?
- অতিরিক্ত ওজনধারী?
- টেনশনে ভোগা মানুষ?
- ডায়াবেটিস রোগী?
- মানসিক চাপযুক্ত মানুষ?
- রক্তচাপ, হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের পারিবারিক ইতিহাস আছে?
- অ্যানজিনা বা বুক ব্যথা আছে?
- ইতিমধ্যে বাইপাস সার্জারি বা এনজিওপ্লাস্টি হয়ে গেছে?
- তাহলে ইসিপি আপনার কাজে লাগবে।
ইসিপি থেরাপি
বাইপাস সার্জারি, এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্টসের মতোই এর কার্যকারিতা।
ক্লিনিক্যালি প্রমাণিত
- করোনারি আর্টারি ডিজিজ, অ্যানজিনা ও কনজেসটিভ হার্ট ফেইলিওরের একমাত্র চিকিৎসা, যা আক্রমণমূলক নয়।
- কোনো ঝুঁকি নেই কিংবা নেই অপারেশনের ঝুঁকি বা স্বাস্থ্যহানি পুষিয়ে নেয়ার জন্য অনিবার্য সময়ক্ষেপণ।
ইসিপি সম্পর্কে জানুন
ইসিপিকে হার্টথেরাপিও বলা হয়। হার্টের রক্তনালিতে যাদের ব্লকেজ আছে, তাদের চিকিৎসায় এটি নতুন পদ্ধতি। ব্লক মানে হৃৎপিণ্ডে রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালিত হয়, কিন্তু কোনো রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে হৃৎপিণ্ড ওই নালি থেকে রক্ত পায় না, ফলে হৃৎপিণ্ডের কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয়।
রক্তনালিতে কোলেস্টেরল বা চর্বি জমে বাধা বা ব্লক তৈরি হয়। এ বাধা অপসারণ অথবা নতুন উপায়ে হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন অব্যাহত রাখাই হলো হার্ট চিকিৎসার মূলকথা।
হৃদযন্ত্রে শতসহস্র ধমনি বা রক্তনালি রয়েছে। তিনটি প্রধান ধমনি ১০টি শাখায় সজ্জিত, যেখান থেকে ১০০টি প্রশাখা ছড়িয়ে পড়েছে। এর আবার রয়েছে হাজারো প্রশাখা। এগুলোকে বলা হয় ক্যাপিলারিস। অনেকটা জালের মতো এগুলোর ভেতর আন্তসম্বন্ধ রয়েছে; আবার প্রতিটিই অন্যটির সঙ্গে রক্ত গ্রহণ ও প্রদানের সম্পর্কে সম্পর্কযুক্ত। একটি প্রধান বা অপ্রধান ধমনিতে ব্লক সৃষ্টি হলে ওই শতসহস্র রক্তনালি হৃৎপিণ্ডের পেশিতে রক্ত সঞ্চালনে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে পারে। যদি কোনো উপায়ে ওই রক্তনালিগুচ্ছের চ্যানেলটি মুক্ত ও বিসতৃত রাখা যায়, তাহলে হৃদযন্ত্রের রক্ত সঞ্চালন-প্রক্রিয়া সংহত থাকে। এটাকেই বলা হয় প্রাকৃতিক বাইপাস।
এটা চালু রাখার জন্য যে চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় তাকে প্যানবাইপাস বলা হয়। এই প্রাকৃতিক চ্যানেলটি খেলোয়াড় ও অ্যাথলেটদের ক্ষেত্রে সাধারণত তৈরি হয়। এর কারণ পর্যাপ্ত ব্যায়াম। তাই তাদের বেলায় ক্যাপিলারিস পরিণত হয় বর্ধিত টিউবে। এই টিউবের কারণেই ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ব্লাকেজ দেখা দিলেও এরা বুক ব্যথা বা অ্যানজিনায় ভোগেন না। এমনকি ১০০ শতাংশ ব্লাকেজ হলেও এদের হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি বিকল হয়ে পড়ে না।
কীভাবে এই প্রাকৃতিক বাইপাস চ্যানেল সৃষ্টি করা যায়?
না, হৃদরোগীকে দৌড়বিদের মতো দৌড়ানোর পরামর্শ বা এমন কোনো কঠিন ব্যায়ামও করতে হবে না, যাতে বুকের সমপ্রসারণ হয়ে বুক ব্যথা অনুভূত হবে। তবে বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এমন একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, যেটা সমান্তরাল রক্ত চ্যানেল সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মেশিনটি কৃত্রিমভাবে ধমনিতে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। এটাই ইসিপি।
কীভাবে নেবেন ইসিপি
বাংলাদেশে এটি নতুন। এটি এমন একটি যন্ত্র, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি বেড। রোগীকে ওই বেডে শোয়ানো হয়। তারপর দুই পায়ের হাঁটুর নিচে ও ওপরে এবং কোমরের কিছু অংশে দীর্ঘ কাফ বা বেল্টের মতো বাঁধন জড়ানো হয়। এই কাফগুলো দেখতে ও কাজে অনেকটা ব্লাডপ্রেশার মাপার যন্ত্রের কাফের মতো, যেগুলোর মাধ্যমে মাংসপেশির সংকোচন-প্রসারণ ঘটানো হয়। ফলে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিতে রক্ত সরবরাহের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই বাড়তি চাপ ও রক্ত সরবরাহের জন্য নতুন রক্তনালি খুলে যায়। ফলে বিকল্প উপায়ে কোলেস্টেরল রক্তনালির মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালিত হয় এবং রোগীর হার্টঅ্যাটাকের আশঙ্কা দূর হয়। পঁচিশ থেকে আশির কোটায় পৌঁছানো যেকোনো হৃদরোগী ইসিপি চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন।
মেশিনের এক ঘণ্টার সহায়তা এই সমান্তরাল আর্টারি অথবা ক্যাপিলারি সিস্টেম চালু করে দেয় এবং হৃৎপিণ্ডের পেশিতে অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চালন শুরু করে। সম্পূর্ণরূপে প্রাকৃতিক চ্যানেল চালু করার জন্য এ মেশিনের মাধ্যমে ৩৫টি সেশনের প্রয়োজন হয়। এক ঘণ্টার সেশনে ভাগ করে সপ্তাহে ৫ থেকে ৬ দিন এ চিকিৎসা দেয়া হয়।
এর জন্য রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না। কর্মক্ষেত্রে থেকে সাময়িক অবসরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না বা এসব শরীরের ওপর কোনো আঘাতও হানে না।
কী সুফল পাওয়া যাবে
- ইসিপি চিকিৎসা গ্রহণে বুক ব্যথা কমে যায় বা সম্পূর্ণরূপে চলে যায়।
- রোগীর প্রাণশক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
- আরো বেশি ব্যায়াম করা সম্ভব। যেহেতু হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যায়ামের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। তাই প্রয়োজনীয় ব্যায়ামের সক্ষমতা খুব দরকারি। যাদের একবার বাইপাস সার্জারি হয়ে যাওয়ার পরও নতুন করে রক্তনালিতে ব্লক ধরা পড়েছে বা বাইপাস সার্জারি যাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছেন কিংবা অপারেশনের ঝুঁকিও যারা এড়াতে চান এই উভয় শ্রেণীর রোগীর জন্য ইসিপি একটি ভালো চিকিৎসা পদ্ধতি।
লেখক : কনসালট্যান্ট
শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, ঢাকা



