Skip to main content

কুসংস্কারের আদ্যোপান্ত

বাংলাদেশের বিশিষ্ট মনোশিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী ও মনোচিকিৎসক
অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ

মানসিক রোগ শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা ও জনসচেতনতায় পথিকৃৎ

টেবিল (Table) টেবিল
ভোজনকারীরা যখন খাবার জন্য টেবিলে এসে বসে তখন তাদেরকে বিবিধ রকমের কুসংস্কার পালন করা উচিত। দুর্ভাগ্য এড়ানোর জন্য একজন তার বরাদ্দকৃত চেয়ারটি ছেড়ে উঠে যাবে না, আবার উঠে যাওয়ার সময় কেউ তার চেয়ারে লাথি মারবে না-যার অর্থ হয়ে দাঁড়াবে এতক্ষণ সে মিথ্যা বলে এসেছে। ইত্যবসরে শিশুদেরকে টেবিলের নিচে যাওয়া থেকে নিরুৎসাহ করতে হবে, কারণ এটা তাদের আসন্ন মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। যদি তারা টেবিলের নিচে হামাগুড়ি দেয় তবে তাদেরকে সেভাবেই ফিরিয়ে নিতে হবে যেন তাদের কোনো অনিষ্ঠ না হয়। বিশেষ করে একটি বালিকা একাকী টেবিলের শেষ প্রান্তে বসবে না যার অর্থ হবে তার কোনোদিনও বিয়ে হবে না। আর বাগদত্তা বালিকা টেবিলে বসে তার সঙ্গীর সাথে কোনো কথা বলবে না, কারণ এর অর্থ হবে তাদের বিবাহ ভঙ্গ হয়ে যেতে পারে (যদিও কেউ কেউ বলে থাকেন যে, যে বালিকারা টেবিলে বসে তারা অবচেতন মনে তাদের বন্ধুদের সাথে কথা বলে ফেলে)। ইত্যবসরে বলা হয়, যদি দুইজন লোক একসাথে টেবিলে বসে তবে তাদের মধ্যে অবশ্যই ঝগড়া হতে হবে।
অন্যান্য টেবিলের নিষিদ্ধ কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে গান গাওয়া, টেবিলের ওপর শোয়া (বলা হয়ে থাকে এটা মৃত্যুও অশুভ বার্তা) এবং টেবিলের ওপর একজোড়া জুতা বা একজোড়া হাপরযন্ত্র রাখা। ব্রিটিশ কুসংস্কারে বলা হয় টেবিলের চাদর গুটানোর সময় তার মধ্যস্থানে যদি একটি কফিনের আকার ধারণ করে তা হবে পরিবারে একজনের মৃত্যুর আগাম বার্তা (অনেক লোকে আরো যোগ করে যে সারা রাত ধরে টেবিলের ওপর একটা টেবিলক্লথ বিছিয়ে রাখাও মুর্খতা)। একজন অতিথি কোনো ঘরে প্রথমবারের মতো যখন খাওয়ার খাচ্ছে খাওয়ার শেষে সে তার রুমাল ভাঁজ করবে না, কারণ তার অর্থ হচ্ছে সে জীবনে আর কখনো এই ঘরে খানা খাবে না।
অনেক লোক সব সময়ই টেবিলে একটা অতিরিক্ত জায়গা রাখার জন্য জেদ ধরে। তারা দাবি করে অনেকটা শিহরণ জাগানোর মতো করে যে এ জায়গাটা হচ্ছে বাড়ির সদ্য প্রয়াত কোনো সদস্যের আত্মার জন্য অথবা যীশুখ্রিষ্ট যে পুনরায় উপস্থিত হবেন তার জন্য।
ট্যাক্সি (Taxi) ভারাটে মোটরগাড়ি
ভারাটে মোটরগাড়ির চালাকদের জন্য একান্ত নিজস্ব একটি কুসংস্কার হচ্ছে যে, তারা এমন একটা নিবন্ধন সংখ্যা নেবে যার মধ্যে সাত সংখ্যাটি থাকবে (এটা হচ্ছে সব সংখ্যার মধ্যে অন্যতম সৌভাগ্যের সংখ্যা) অথবা সাত সংখ্যার একটি গুণিতক সংখ্যা। তার চেয়েও ভালো হয় এমন একটি নম্বরপ্লেট লাগানো যেখানে থাকবে একসাথে সংখ্যা ‘সাত’ ও অক্ষর ‘ইউ’ যা দেখতে প্রায় একটি সৌভাগ্যবান অশ্ব খুরের মতো দেখায়।
টি (Tea) চা
এককাপ চা তৈরি করার বেলায়ও কুসংস্কারবাদী লোকেরা অনেক প্রতীকী অর্থ বের করে। বিশেষ করে চা প্রস্ততকারীর প্রেমিকের জীবন নিয়ে। যে নারী চায়ে চিনি দেয়ার পূর্বে দুধ ঢালে সে কখনো একজন স্বামী লাভ করতে পারবে না। আবার যে নারী এমন একটি পাত্র থেকে চা ঢালে যে পাত্র থেকে পূর্বে অন্য একটি নারী চা ঢেলেছে, তার অর্থ এই হয়ে দাঁড়াবে যে বছর শেষ না হতে দুজনের একজনের একটি সন্তান লাভ হবে। সম্ভবত লাল চুলওয়ালা জমজ সন্তান লাভ হবে (অন্যথায় তারা দুর্ভাগ্যের শিকার হবে)।
একজন নারী যদি একজন পুরুষকে তার কাপে এককাপের বেশি চা ঢালতে দেয় তবে সে তার জাদুর কাছে প্রতিরোধহীন হয়ে পড়বে। অন্য কুসংস্কারে বলে সে তার দ্বারা গর্ভধারণ করবে। যা যদি খুব কড়াভাবে তৈরি হয় তার দ্বারা বোঝা যায় একটা নতুন বন্ধুত্ব গড়ে উঠবে। আর চা যদি খুব হাল্কা হয় তার অর্থ হচ্ছে যে বন্ধুত্ব আছে তাও শেষ হয়ে যাবে। যদি কোনো লোক পানির মধ্যে চা দিতে একদম ভুলে যায় এটা হচ্ছে এককভাবে একটা অমঙ্গল চিহ্ন। একইভাবে পাত্রের মধ্যে চা নাড়া খুবই ভয়াবহ অভ্যাস, তাতে দুঃখ আসার সম্ভাবনা আছে, বিশেষ করে তা যদি নাড়া হয় ঘড়ির কাটার উল্টো দিকে। চা পাত্রের উপরের কভার ভুলক্রমে না লাগালে ঝগড়া বেঁধে যেতে পারে, এই মর্মে তা ভুলে গেলে চলবে না (যদিও এটাকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যে এর দ্বারা নতুন একজন অতিথি আসার আগাম বার্তা বোঝা যায়)। কেউ অন্য কারো চায়ের পেয়ালায় চা নেড়ে দেবে না, তাতের একটা ঝগড়া বাঁধার সম্ভাবনা থাকে। যথেষ্ঠ খেয়াল রাখতে হবে যে চা-চামচ ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে যেন কখনো চা নাড়া না হয়। যাইহোক চা পাত্রে চায়ের পাতা দেয়ার সময়ে যদি কিছু চা পাতা ছড়িয়ে পড়ে যায় তা হচ্ছে একটা সৌভাগ্যের চিহ্ন।
চা কাপের ওপরে যে বুদবুদ ওঠে তাতে বোঝা যায় যে পানকারী অতি শিগগিরই একটি চুমো অথবা কিছু টাকা পাবে। আবার যদি একটি চায়ের পেয়ালায় একটা চা পাতা বা বোঁটা ভেসে ওঠে তার অর্থ হবে অতি শিগগিরই একজন মেহমান আসবে। চায়ের পাতা যদি খুব শক্ত হয় তবে অবশ্যই একজন পুরুষ, নরম হলে একজন নারী আগন্তুকের আশা করা যায়। উভয় ক্ষেত্রেই লোকটি তাদের একজনের এক হাতের পেছনের ওপর চা পাতা রেখে তাতে আঘাত করবে অন্য হাত দিয়ে, বারবার আঘাত করতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত চায়ের পাতা নিচে না পড়ে যায়, এই চা পাতা নিচে পড়ে যাওয়ার পূর্বে যতবার হাতে আঘাত করা হয়েছে সেই কয়দিন পরেই একজন অতিথির আগামন ঘটবে।
টিথ (Teeth) দাঁত
শরীরের প্রায় অন্যান্য সব অঙ্গের মতোই দাঁত নিয়ে বিবিধ কুসংস্কারী বিশ্বাস রয়েছে। দাঁত নিয়ে যেসব কুসংস্কার বিশ্বাস আছে তার মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত হচ্ছে Tooth Fairy বা দাঁত পরীর ঐতিহ্য। যাতে বলা হয় একটি শিশু যদি তার একটি ফেলে দেয়া দুধ দাঁত বালিশের নিচে দিয়ে ঘুমায় তবে সে তাকে একটি ধাতব মুদ্রা এনে দেবে। এই প্রথার বিকল্পে আরো যোগ করা হয় যে, পরীর জন্য কিছুটা লবণ আলাদা পাত্রে রেখে দিতে হবে এবং যে মধ্য রাত্রির মধ্যেই যদি সেই দাঁতটি সেখান থেকে চলে না যায় তবে সেটা শিশুর ভাগ্যের ৰতি করবে (যদিও আজকালকার পরীরা দাঁত এবং টাকা দুটোই রেখে দেয় যেন সকালে উঠে শিশুটি তা দেখতে পারে)।
আর একটি প্রথা অনুসারে শিশুর প্রথম চর্বন দাঁত পড়ে গেলে তাতে লবণ ছিটিয়ে আগুনে নিক্ষেপ করতে হবে তার ফলে শিশুর শরীরের সাথে জড়িত শয়তানী শক্তিকে বিতাড়িত করা হবে। এটা না করা হলে শিশুর দাঁতটি একটি কুকুরে খেয়ে ফেলতে পারে, যার ফলে তার সব দাঁত কুকুরের দাঁতের মতো হবে। অথবা দুর্ভাগা লোকটি মরে যাওয়ার পর তার সেই দাঁতটি নরকের মধ্যে রক্তের বালতিতে খুঁজতে বাধ্য হবে। পড়ে যাওয়া দাঁত মাটিতে কবর দেয়ার আরো একটি ফায়দা আছে যে তারা কখনো জাদুকরী শয়তানের হাতে পড়বে না, তাতে তারা এর পূর্বের মালিকের ওপর কোনো জাদুকরী প্রভাবও ফেলতে পারবে না। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে শক্ত সামর্থ ধারালো দাঁত পাওয়ার জন্য ফেলে দেয় দুধ দাঁতটি ইঁদুরের গর্তের মধ্যে রেখে দেয়া ভালো।
কোনো শিশু একটি দাঁত নিয়ে জন্মালে তাকে অত্যন্ত অশুভ বলে বিবেচনা করা হয়। অনেক অঞ্চলে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয় যে বাচ্চাটি বড় হয়ে একজন হত্যাকারী হবে। যদি শিশুর প্রথম দাঁতটি উপরের মাড়িতে ওঠে এটাও হচ্ছে অশুভ লক্ষণ এবং এর অর্থ করা যেতে পারে যে শিশুটি বাল্যাবস্থায় মারা যাবে। যেসব শিশুর দাঁত খুব অল্প বয়সেই গজিয়ে যায় তারা হয়তো অত্যন্ত মেধাবী হবে অথবা অতি তাড়াতাড়ি মারা যাবে অথবা তারা অন্যান্য শিশুর চেয়ে বেশি বর্ধিষ্ণু কারণ তাদের মায়েরা শিগগিরই আর একটি শিশুর জন্ম দেবে এটা তার আগাম হুঁশিয়ারি।
টেলিফোন (Telephone) দূর কথন যন্ত্র
যদিও এটা একটা তুলনামূলক আধুনিক প্রযুক্তির সমপ্রসারণ তারপরেও টেলিফোন তার সাথে অনেকগুলো অদভুত ধরনের প্রথা বা কুসংস্কার জড়িয়ে নিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে এই কুসংস্কার যে, এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের যদি কোনো কল ছাড়াই মাঝে মধ্যে ফোন বেজে ওঠে। এর দ্বারা একটা সম্ভাব্য মৃত্যুর আগাম বার্তা বোঝা যায়। অথবা যদি টেলিফোনে রিং হয় কিন্তু ধরলে কেউ উত্তর দেয় না সেক্ষেত্রেও একই দুর্ভাগ্য আসবে। অনেক লোকেই দাবি করেন তাদের অতীন্দ্রিয় দৃষ্টির দ্বারা আগেই বলে দিতে পারে কোন সময়ে কে তাকে ফোনে কল করতে যাচ্ছে এবং কী কারণে যাচ্ছে। এমনকি ফোনে রিং বাজার আগেই তারা বলে দিতে পারে।
টেনিস (Tennis) টেনিস বল খেলা
খেলোয়াড়গণ সাধারণত বিশ্বাস করে যে প্রায় সব প্রতিযোগী নারী-পুরুষ খেলোয়াড়গণই স্বাভাবিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, কিন্তু তারপরেও  তাদের নিজস্ব বিশেষ বিশেষ কুসংস্কার নিয়ে তারা গর্ব করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে হাতে তিনটি বল নিয়ে সার্ভ করার বিরুদ্ধে কুসংস্কার আর একটি হচ্ছে যে, যে বলটির জন্য এইমাত্র বাঁশি বাজানো হয়েছে সেই বলটি দ্বারা সার্ভ করা। অনেক দুর্বল খেলাড়ুই একটি নতুন টেনিস বল দেখলে আনন্দিত হয়, কারণ এই বলটি হয়তো তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন এনে দিতে পারে। অন্যরাও প্রত্যেকটি র‌্যালে শুরু হওয়ার পূর্বে র‌্যাকেট দ্বারা পায়ের ওপর আঘাত করে অথবা হাতের মধ্যে থু থু দেয়। এটা যেমন ভাগ্যের জন্য তেমননিই শক্ত হাতে র‌্যাকেট ধরার জন্য।
থাম (Thumb) হাতের বুড়ো আঙুল
যেভাবে আঙুল দ্বারা করা হয় তেমনি হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি পরীক্ষা করেও মানুষের চরিত্র সম্বন্ধে অনেক তথ্য জানা যায়। বৃদ্ধাঙ্গুলি নিয়ে কুসংস্কারে বলা হয় যে, যদি কারো বৃদ্ধা চুলকায় তবে মনে করতে হবে যে কোনো অপ্রত্যাশিত মেহমান আসছে। আর একটি প্রথায় বলা হয় যে কেউ যদি একটা বৃদ্ধায় কোনো সুচ বা তারকাটা দিয়ে খোঁচা দেয় তাও হবে অত্যন্ত বোকামি, কারণ তাতে ওই লোকটির দুর্ভাগ্যের ঝুঁকি আছে। একজনের বৃদ্ধাঙ্গুলি অন্য শক্ত করে চেঁপে ধরলে বলা হয় এর দ্বারা ভুত তাড়িত হয়, হিক্কাতোলা বন্ধ হয় এবং শয়তানি জাদুকরীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
টাওয়েল (Towel) তোয়ালে
অনেকগুলো গার্হস্থ্য নিয়মনীতি ব্যাপক কুসংস্কার দ্বারা পরিচালিত হয়। যেগুলোর জন্মের ইতিহাস অজ্ঞাত। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সেই অদভুত ধারণা যে যদি দুজন লোক একত্রে একই তোয়ালে বা গামছায় হাত শুকায় তবে তারা অদূর ভবিষ্যতে অবশ্যই ঝগড়া বাঁধাবে, যদি তারা প্রেমিক- প্রেমিকা হয় তবে তারা আলাদা হয়ে যাবে। হাত থেকে একটা তোয়ালে পড়ে গেলে মনে করতে হবে যে শিগগিরই একজন মেহমান এসে উপস্থিত হবে।
ট্রাভেল (Travel) ভ্রমণ করা
ভ্রমণ নিয়ে প্রায় সবগুলো কুসংস্কার হচ্ছে সেই পুরনো সময়ের যখন দিনে বাড়ি থেকে দূরে ভ্রমণে বের হওয়া ছিল আজকালকের চেয়ে অনেক বেশি কষ্টকর ও বিপদসঙ্কুল। ভ্রমণের প্রথম পদক্ষেপেই বহু পশু পাখির আচরণ থেকে অনেক কিছু সংগ্রহ করা যায়। সাধারণত যেসব জিনিস যাত্রা পথের বাম দিকে প্রত্যক্ষ করা হয় তা অমঙ্গলজনক আর ডানদিকেরগুলো হচ্ছে মঙ্গলজনক ও উৎসাহব্যঞ্জক।
এটা বিশেষভাবে একটা চুড়ান্ত পরীক্ষা যে একবার ঘর থেকে যাত্রা করে কোনো ভ্রমণকারী ঘরের দিকে ফিরে যাবে না। এটা করলে তার সমস্ত ভ্রমণটাই অজ্ঞাত কারণে বৃথায় পর্যবসিত হবে। যদি অন্য কোনো উপায় না থাকে তবে ভ্রমণকারী সেদিনের বা তৎপরবর্তী দিনের জন্য অপেক্ষা করবে। বিকল্পে সে বসে পড়ে দশ পর্যন্ত গুণবে অথবা একবেলার জন্য খাবার খেতে খেতে যাবে, তারপর যাত্রা করবে।

ইউ-U
আলসার (Ulcer) ক্ষত
জিহ্বার ওপর ক্ষত হলে কুসংস্কারে সেটাকে ব্যখ্যা করে এভাবে যে, এটা হচ্ছে একটা প্রমাণ কথিত লোকটি মিথ্যা কথা বলে এসেছে। কিছু কারণ বশত একটা দাবি করা হয় যে, মুখের আলসার ভালো করতে হলে বাইবেলের অষ্টম ধর্মসঙ্গীতটি পাঠ করতে হবে এবং প্রতিদিন তিনবার করে পাঠ করে  তিনদিন পর্যন্ত তার গায়ে ফুঁক দিতে হবে।

আমব্রেলা (Umbrella) ছাতা
কুসংস্কার ছাতার প্রতি আশ্চর্য হওয়ার মতো কয়েক ধাপ উপরের মনোযোগ প্রদান করে, যাকে ঘিরে অনেক অদভুত ধরনের বিশ্বাস লেগে আছে। ঘরের মধ্যে বসে একটা ছাতা খোলা অত্যন্ত বেশি অমঙ্গলজনক, কারণ এর দ্বারা যে খুলবে তার এবং ঘরের অন্যান্য সকলের দুর্ভাগ্য আসবে, (আবার অনেকের মতে যদি ছাতাটা খুলে তা মাথার উপর না তোলা হয় তবে কোনো ক্ষতি হবে না)। এই ধরনের বহু পরিচিত প্রথাটি সম্ভবত শুরু হয়েছিল দূরপ্রাচ্যে ছাতাকে সানশেড হিসেবে ব্যবহার করার মাধ্যমে। যেখানে কেবলমাত্র রাজকীয় সমপ্রদায় সেটাকে ব্যবহার করতে পারত। (ইংল্যাণ্ডে ছাতার ব্যবহার এসেছে কেবলমাত্র অষ্টাদশ শতাব্দির শেষভাগে)। বিপরীতে প্রথমদিকের সানশেড ও সানের সাথে যে সম্পর্ক ছিল তার দ্বারা এই ধারণার উদ্ভব হয়েছিল যে, যেখানে সূর্যালোক নেই সেখানে ছাতা খোলা যাবে না, কারণ এতে স্বয়ং সূর্যকে অপমান করা হয়। ঘরের বাইরে থেকেও সুন্দর আবহাওয়া থাকলে ছাতা খোলা নিষেধ, কারণ এর বৃষ্টি আসে বলে ব্যাপক জনশ্রুতি রয়েছে।
অন্যান্য কুসংস্কারে দাবি করে যে ছাতা কখনো টেবিলের বা বিছানার ওপরে রাখা যাবে না, আর যদি পড়ে যায় তবে অন্যের দ্বারা তা তুলতে হবে (যে নারী তার নিজের ছাতা পড়ে গেলে নিজেই তুলে নেয় সে কখনো একটি স্বামী পাবে না)। ছাতা উপহার দেয়াকেও অশুভ মনে করা হয়। নাবিকেরা জাহাজের ওপর ছাতা নিয়ে যাওয়াকে একটা কুসংস্কার মনে করে, বিশেষ করে যদি ছাতাটা হয় কালো।

আন্ডারওয়্যার (Underwear) অন্তর্বাস
সাধারণত অন্তর্বাস সম্বন্ধে কুসংস্কারগুলো নিজেদের নারীর নিচোলবাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। অথচ একটা একক লিঙ্গের প্রথায় বলা হয় যে যার একটি অশুভ দিন যাচ্ছে সে তার ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে চাইলে তার আন্ডারওয়্যারটি খুলে উল্টিয়ে পরবে। যখন আন্ডারওয়্যার পরবে তখন তার হুক বা বুতাম সঠিকভাবে লাগানো জরুরি, কারণ এর দ্বারা একজনের সারাদিনের ভাগ্যের ওপর প্রভাব পড়ে, হোক সে নারী বা পুরুষ এটা উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এটা নারী পুরুষ উভয়ের জন্য অমঙ্গলের যদি তারা পরনে থাকা অবস্থায় অন্তর্বাস সেলাই করে, এটা অন্যান্য জামা-কাপড়ের  জন্যও সত্য।
অবিবাহিত বালিকা কখনো একটি অন্তর্বাস একজন বিবাহিত নারীর কাছ থেকে ধার এনে পরবে না। কারণ এর দ্বারা তাদের নিজেদের মধ্যেই এক বছরের মধ্যে বিয়ে হয়ে যাবে। অন্যদিকে যদি তারা কার্যত পুরুষদের আকর্ষণ করতে চায় তবে আন্ডারওয়্যারের মধ্যে কয়েকটি ভ্যালারেনের পাতা ভরে রাখবে তাতে তাদের বিপরীত লিঙ্গের কাছে অপ্রতিরোধ্য করে তুলবে, এটা হচ্ছে ওয়েলসবাসীদের নিয়ম-কানুন, প্রথা।
কোনো কারণ ছাড়াই যদি একটি বালিকার আন্ডারওয়্যার পিছলে নিচের দিকে চলে আসে তবে মনে করা হয় সে তার প্রেমিককে স্মরণ করার কথা অস্বীকার করছে। ইত্যবসরে একটি বালিকার নৈশ পোশাক রাতে খুলে যায় তবে নিশ্চিত যে তার প্রেমিক তাকে স্মরণ করছে। সবশেষে একটি বালিকা যখন বিয়ের কনে হয়ে গির্জার পার্শ্ববর্তী স্থান দিয়ে রাতে হেঁটে যায় তখন সে তার বিবাহিত জীবনের সুখ সমৃদ্ধি ও ভাগ্যকে বাড়াতে পারে, যদি সে বিয়ের ড্রেসের নিচে আন্ডারওয়্যার না পরে। এটা হচ্ছে মধ্য ইংল্যান্ডবাসীদের একটি প্রথা। এই কুসংস্কারটি সম্ভবত এসেছে সেই পুরনো বিশ্বাস থেকে যে বিয়ের কনে তার বিয়ের সময়, বিয়ের কাপড় ছাড়া অন্য কোনো কিছু পরে না, তার পেছনের ঋণগুলো সব শোধ হয়ে যায়। অন্যথায় তার স্বামীকে পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত সেই ধার দেনাগুলো দিতে হতো।

ইউরিন (Urine) প্রস্রাব
অন্যান্য শারীরিক তরল পদার্থের সাথে একত্রে প্রস্রাবও একটা অতি প্রাকৃতিক সম্পর্ক রেখেছে শরীরের সাথে। সুতরাং তারও রয়েছে কিছুটা জাদুকরী গুণ। খেয়াল রাখতে হবে যেন জাদুকরী ডাইনীরা কারো প্রস্রাব সংগ্রহ করে নিতে না পারে, কারণ সেটা সেই লোকের কল্যাণের বিপরীতে ব্যবহার করতে পারে। এই ধরনের হস্তক্ষেপ যাতে না করতে পারে সেজন্য প্রস্রাবের মধ্যে থুথু দেয়া হয় এবং হাত ধোঁয়া হয়। যেভাবে প্রত্যেক বাড়ির দরজায় এবং প্রতিটি সদস্যের গায়ে মূত্র ছিটিয়ে দেয়া হয়। জাদুকরী ডাইনীদের সত্যি সত্যিই সন্দেহ হয় তবে কিছুটা প্রস্রাব গরম করে তার সাথে একটা কেক রাখতে হবে অথবা প্রস্রাবের মধ্যে রোগীর কাটা নখ দিয়ে সিদ্ধ করতে হবে, উভয়ক্ষেত্রেই শয়তানী ডাইনী নিজেকে গুটিয়ে নেয় এবং সাধারণত সে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
আগের দিনে লোকে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন যারা বাড়ি থেকে অনেক দূরে আছে তারা কেমন আছে তা জানার জন্য তাদের প্রস্রাব বোতলে পুরে ঘরে রেখে দিত এবং মাঝে মাঝে পরীক্ষা করে দেখত, যদি কোনো প্রকার পরিবর্তন না দেখা যেত তবে মনে করা হতো তারা ভালো আছে, সুস্থ আছে। যদি সেই মূত্র মেঘাচ্ছন্ন বা অন্যরূপভাবে রঙ বদলাত তবে মনে করা হতো হারিয়ে যাওয়া লোকগুলো অসুস্থ বা কষ্টে আছে অথবা মরে গেছে।
উপকারিতার জন্য প্রস্রাবের ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে শিশুর প্রথম প্রস্রাবের ভেজা তোয়ালে দ্বারা মুখ মুছলে চামড়ার রঙ ভালো হয়, সাপে কামড় দিলে তার ওপর প্রস্রাব ঢালায় অথবা যদি কারো কানে শুনতে অসুবিধা হয় তাতে প্রস্রাব দিলেও ভালো হয়। কেউ যদি জ্বরে ভোগে তার প্রস্রাব কিছু বিছুটি পাতার সাথে মিশিয়ে রোগের ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে বলা যায়। যদি পাতাগুলো সবুজ থেকে যায় তবে রোগী ভালো হয়ে যাবে, কিন্তু সেগুলো যদি শুকিয়ে যায় তবে রোগী মারা যাবে। আর একটি কুসংস্কারে প্রস্রাব নিয়ে নাবিকদের নিয়ম হচ্ছে বাতাসের বিপরীতে প্রস্রাব করা।

ভি-V
ভ্যালেনটাইনস ডে (Valentine’s Day) ভালোবাসা দিবস
গির্জার দিনপঞ্জীতে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয় লিপি আদান-প্রদান এবং প্রেমিকদের মধ্যে লাল গোলাপ ও অন্যান্য উপঢৌকন আদান-প্রদানের দিন হিসেবে। প্রথা অনুযায়ী প্রেরিত লিপিতে দস্তখত দেয়া হয় না, তার জন্য পত্রের প্রাপক সুন্দর কল্পনার মাধ্যমে অতিবাহিত করে প্রেরকের পরিচয় জানার চেষ্টা করে (প্রথম দিকে প্রেরকেরা নিজেরাই লিপিগুলো নিজেদের হাতে এঁকে চিত্র দ্বারা সাজাত)। সেন্ট ভ্যালেনটাইন দিবস হচ্ছে একটি শুভ দিন যখন ভবিষ্যৎ জীবন সঙ্গী বা সঙ্গিনী সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বানী করা যায়। একটি প্রথায় আছে যে, ওই দিন যদি কোনো বালিকা সকাল সকাল ঘর থেকে বের হয়ে প্রথমেই একটি পুর্বষে লোকের সাক্ষাৎ পায় তবে তিন মাসের মধ্যেই তার বিয়ে হবে (অনেকটা সম্ভাবনা আছে সেই লোকটির সাথেই বিয়ে হবার)। তার জীবনের ভালোবাসার মানুষটিকে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যাবে সে যদি তার জামার বোতামের ছিদ্রে একটা হলুদ বাসন্তী ফুল পরিধান করে। তার ভবিষ্যৎ প্রেমিক সম্বন্ধে আরো তথ্য জানতে পারবে যদি সে লক্ষ্য করে যে কোন প্রজাতির পাখি সে সবার আগে প্রত্যক্ষ করেছে।

ভ্যালেরিয়ান (V) কড়া সুগন্ধি গাছ
একপ্রকার কড়া সুগন্ধি গাছ। এই গাছটিকে মূল্য দেয়া হয় তার রোগ আরোগ্যের ক্ষমতার জন্য এবং প্রথাগতভাবে ভালোবাসার বিষয়াদির সাথে জড়িত থাকার কারণে। ভ্যালেরিয়ানকে মনে করা হয় তার রয়েছে প্রেম উদ্দীপক ক্ষমতা এবং মধ্য যুগে এর সুগন্ধির খুব কদর ছিল। যদিও অনেকদিন থেকে এর স্বাদ শেষ হয়ে গেছে এবং এর ঘ্রাণের বাষ্প হুলোবিড়ালের জন্য ক্ষতিকর বলে এটাকে এড়িয়ে চলা হয়। ব্রিটিশদের কুসংস্কারে মানা হয় যে, যদি কোনো বালিকা একটি ভ্যালোরিনের পাতা গু"ছ সাথে ধারণ করে তবে তার অনেক বেশি জনপ্রিয়তা হবে এবং অন্য লিঙ্গের লোকে বেশি পছন্দ করবে। লোক ওষুধধিতে এই গাছটির রোগ সারার ক্ষমতা আছে যেমন কাশি, নিদ্রাহীনতা এবং স্নায়বিক অভিযোগসমূহ।

ভার্জিনিটি (Virginity) কুমারী অবস্থা
কুমারীত্বের সমস্যাটা এক সময় অনেক সমাজেই বিবাহের আলাপ আলোচনায় চুড়ান- পরীক্ষার রূপ ধারণ করেছিল এবং বেশিরভাগেই এই কুসংস্কারটির স্মরণে আজও অনেক রকমের অলীক চিন্তা-ভাবনা জড়িয়ে আছে। আগেকার দিনে সতীত্ব একটি বালিকার সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ বলে বিবেচিত হতো, যার দ্বারা অনেক সভ্যতায় কুমারী কন্যাদের একটা বিশেষ ঐন্দ্রজালিক অবস্থানে রাখা হতো। একমাত্র কুমারী কন্যাই ইউনিকর্নকে বশ করতে পারে, সরাসরি সূর্যের দিকে তাকাতে পারে, মৌমাছিদের ঝাঁকের মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে পারে তাতে তাকে মৌমাছি হুল ফুটাবে না এবং সে নিভে যাওয়া মোমবাতির আলো ফিরিয়ে আনতে পারে।
একজন বালিকা তার সতীত্ব হারিয়েছে তার প্রমান তার বিপরীতে সমস- দাবি-দাওয়ার পরেও এটাই উত্থাপন করা হয় যে তার স্তন দুটো অনেক বড় হয়ে উঠেছে এবং সে লবণের পাত্রটি টেবিলের উপরে রাখতে ভুলে যাচ্ছে। আর একটি পরীক্ষা হচ্ছে একটি বালিকার খাবারের মধ্যে একটু কয়লার গুঁড়ো মিশিয়ে দেয়া সে যদি এখনো সতীত্ব বজায় রেখে থাকে তবে সাথে সাথে তার প্রস্রাবের বেগ হবে। একটা প্রাচীন ইংরেজি প্রথায় দাবি করা হয় যে একটি সদ্যপ্রসূত শিশুকে একজন সতী কুমারীর প্রথম কোলে নেয়া অত্যন্ত সৌভাগ্যের এবং এই ধরনের নিষ্কলঙ্ক বালক ও বালিকার রোগ আরোগ্য ও ভবিষ্যদ্বাণী করার অনেক ক্ষমতা থাকে। অনেকে বলে থাকে যে একজন সতী কুমারী বালিকাকে স্পর্শ করলেও চামড়ার ওপরের কালো আঁচিল বা ছোট টিউমার নিঃশেষ হয়ে যায় এবং ছোট খাটো রোগব্যাধি দূর হয়ে যায়। আবার এটাও দাবি করা হয় যে একজন সতী কুমারী মেয়ের কবরের ওপরের জন্ম নেয়া ঘাস, মাটি ও চারাগাছ নিয়ে অনেক জাদুকরী কাজ করা যায়।

ভি সাইন (V sing) জয় সূচক চিহ্ন
কারো প্রতি তর্জনী ও মধ্যমাকে ‘ভি’ আকারে গঠিত করে তাকালে তাকে অপমান করা হয়। কুসংস্কারে এর শেকড় গাঁথা আছে। এভাবে দুটো আঙুল ওঠানোকে প্রথম দিকে শয়তানের দুটো শিং বলে ধরা হতো। সুতরাং কারো প্রতি ‘ভি’ চিহ্নটা দেখালে সেই লোকটি তার শত্র"কে একটা অভিশাপের মধ্যে ফেলে দিত। আগের দিনে এভাবে আঙুল দ্বারা একটা ‘ভি’ চিহ্ন তৈরি করে নিম্নমুখী করে দেখানো হলে মনে করা হতো যে শয়তানকে দোযখের মধ্যে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়ে উইন্সটন চার্চিলের নতুন আবিষ্কৃত ‘ভি’ চিহ্ন যাতে হাতের তালু বাইরের দিকে রেখে দেখানো হয়, তার সাথে পূর্বের প্রথার কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে হয়নি। এটা ছিল শুধুমাত্র ‘ভি’ অক্ষরটির উ"চারণ করার জন্য দেখানোর জন্য। এটা ছিল Victory শব্দটির সংক্ষিপ্তরূপ।

ডাব্লিউ-W
ওয়াকিং (Walking) হাঁটা
সাধারণত রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলাকে যথেষ্ট নিরাপদ ব্যায়াম বলে মনে হতে পারে, কিন' কোনো কোনো অবস্থায় বিশেষ সতর্ক ব্যবস্থা নেয়া উচিত। সিঁড়ি বা মইয়ের নিচে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার বিপরীতে দেয়া নিয়মনীতি পালন করা হচ্ছে সমস্ত কুসংস্কারের মধ্যে ব্যাপকভাবে পালিত একটি ধর্মীয় আচার। কিন' কোনোভাবেই এটা একমাত্র সতর্কতা বলে মনে করা যাবে না। যদি একত্রে হেঁটে চলা দুই বন্ধু, একটি শিশু, একটি কুকুর অথবা অন্য কোনো জিনিস দ্বারা আলাদা হয়ে যায়, তবে তাদের বন্ধুত্বটা ভবিষ্যতে ভয়ানকভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। যদিও এটা নিরাপদ হতে পারে যদি তাদের মধ্যে কোনো একজনের উপসি'ত বুদ্ধি হয় এবং বিড় বিড় করে ব্রেড এন্ড বাটার শব্দ দুটো উচ্চারণ করে। স্কটল্যান্ডে এক সময়ে প্রচলিত ছিল যে যদি দুজন প্রেমিক-প্রেমিকার হেঁটে যাওয়ার মধ্যে একটি শূকর শাবক ঢুকে পড়ে তবে তারা কখনো বিয়ে করতে পারবে না। একইভাবে অন্যত্র আছে যে যদি একটি নব দম্পতি কখনো কুকুর, শূকর শাবক, খরগোশ অথবা বিড়ালের দ্বারা আলাদা হয়ে যায় তবে তারা কখনো সৌভাগ্য লাভ করবে না।

ওয়ার (War) যুদ্ধ
যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ভয় মানুষকে সব সময়ই বিগত শতাব্দিগুলোতে এমনভাবে সঞ্চালিত করেছে যে তারা তাদের চারদিকের পৃথিবীর মধ্য থেকে কোনো জাদুকরী ইঙ্গিত তালাশ করেছে যা পূর্ব থেকেই যুদ্ধের বার্তা জানিয়ে দেয়। যার ফলে আসন্ন যুদ্ধের খবরকে খারাপ ঘটনাসমূহের গণনার মধ্য দিয়ে পাঠ করা হতো। আকাশে অতিপ্রাকৃতিক কিছু একটা দেখা গেলে বিশেষ করে একটা ধূমকেতুর উপসি'তি হলে, অথবা কোনো একটা গ্রহণ দেখতে পেলে, সেটাকে যুদ্ধের অমঙ্গল চিহ্ন বলে ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করা হতো। এই প্রথাটির সমর্থনে উদাহরণ খাড়া করা হয় যে ৪০৬৬ খ্রিষ্টাব্দে নরম্যানদের ইংল্যান্ড বিজয়ের পূর্বে আকাশে ধূমকেতুর আবির্ভাব হয়েছিল এবং পরবর্তীতে প্রথম মহাযুদ্ধের পূর্বেও তদ্রূপ ধূমকেতু দেখা গিয়েছিল।
একইভাবে আসন্ন যুদ্ধ সম্বন্ধে আবহাওয়া অনেকটা ইঙ্গিত দেয়। ব্রিটিশ কুসংস্কারে বলা হয় পূর্বে এটাই বিশ্বাস করা হতো যে যদি সেন্ট পল দিবসে অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারি মোটেই সূর্য না ওঠে তবে যুদ্ধ অবধারিত।

ওয়াশিং (Washing) ধৌত করা
মানুষের শরীর ধৌত করার ব্যাপারে পৃথিবীর বহু ধর্মেই নানা প্রকার নিয়ম পালনের জটিলতা আছে। এছাড়াও কুসংস্কারবাদী লোকদের জন্য গোসলের একটা ভিন্ন তাৎপর্য আছে। ধারণা করা হয় যে ভালোভাবে ধোয়ার কারণে মানুষের পাপ মোচন হয়। এটা বহু সমপ্রদায়ের ঐতিহ্যে প্রতিফলিত হয় যে এটা আত্মার জন্য উপকারী। এটা যেমন আত্মার জন্য তেমনি শরীরের জন্যও উপকারী যদি জর"রি কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান, শিশু জন্ম বা অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া এবং পশু বলি বা কোরবানীর আগে এবং পরে গোসল করা হয়।
প্রত্যেকদিনের নিয়ম অনুযায়ী মানুষ যে পাত্রের জলে ধোয়া মোছার কাজ করে সেই জল যথাযথভাবে ফেলে দেয়ার জন্য যত্নবান হতে হবে। কারণ তাদের শরীরের ময়লার সাথে তাদের আত্মার দাগ সেই পানিতে চলে আসে এবং এর দ্বারা একটা জাদুকরী ডাইনী তাদের আত্মার ওপর জাদুর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যান্য অমঙ্গলজনক প্রথা হচ্ছে যে কখনো হাত দিয়ে পানির ওপর শব্দ করে চাড়াতে নেই (বিশেষ করে সকালের স্নানের সময় এরূপ করলে তার মানে হবে সারাদিনের জন্য সৌভাগ্যের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়া)। আর কখনোই অন্য একজনের সাথে ভাগাভাগি করে পানি ব্যবহার করতে নেই, কারণ তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবে, যদি না তারা প্রথমেই বাটির ওপরে একটা ক্রস চিহ্ন দেয় অথবা দুজনের একজন সেই পাত্রের  মধ্যে থু থু দেয়।

ওয়াটার (Water) পানি
পৃথিবীর বুকে প্রাণীর জীবন ধারণের জন্য পানির যে প্রামানিক ভূমিকা রয়েছে তার সাথে সঙ্গতি রেখে কুসংস্কারে রোগ আরোগ্যর ব্যাপারে পানির ওপর একটা জাদুকরী প্রভাবের গুরুত্ব আরোপ করেছে। প্রকৃত পক্ষে পৃথিবীর প্রায় সবকয়টি ধর্মেই তাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে পানির ব্যবহার করে থাকে এবং প্রত্যেকটি সমাজেই এর জাদুকরী প্রভান্বিত ঝর্ণা, পাত কুয়া এবং লেকসমূহ ছাড়াও অতান্দ্রিয় যৌবনদ্বীপ্ত ঝর্ণা সম্বন্ধে গর্ব করে থাকে।
যে কোনো প্রকার জলপ্রবাহকে ব্যাপকভাবে মনে করা হয় অতিপ্রাকৃতিক শক্তিধর। অনেকেই এটাকে একটা জাদুকরী প্রাচীর বলে মনে করে যা কোনো প্রেতাত্মা বা ভূত ক্রস করতে পারে না। পিছু নেয়া কোনো শয়তানী ডাইনীকে কৌশলে পরিহার করতে হলে একটা জলস্রোতের ওপর দিয়ে লাফিয়ে পার হতে হবে অথবা একটা ব্রিজের ওপর দিয়ে পার হয়ে আসতে হবে। আত্মহত্যাকারী, ফাঁসির আসামীর এবং রক্তচোষা বাদুরদের মৃতদেহ প্রায়ই চলন্ত পানির স্রোতের  নিচে কবর দেয়া হতো, যাতে করে তাদের প্রেতাত্মা হেঁটে না আসতে পারে। চলন্ত জলস্রোতের মধ্যে ডুব দিলে আঁচিল, বাতরোগ, চামড়ার ওপরের ক্ষত এবং অন্যান্য অনেক রোগ ভালো হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে নদীর তলদেশ বা ঝর্ণার থেকে পাথর এনে তা রোগীর গায়ে ঘষলে তার রোগ ভালো হয়েছে। বিছানার নিচে এক বাটি ঠাণ্ডা পানি রেখে দিলে ইত্যবসরে ঘুমন্ত ব্যক্তির খিঁচুনি রোগ হবে না।
পানি নিয়ে অন্যান্য কুসংস্কারে দাবি করা হয় যে জাদুকরী ডাইনীরা গাছের ডাল পানিতে ডুবিয়ে তা বাতাসের মধ্যে ঝেঁড়ে দিয়ে ঝড় বৃষ্টি আনতে পারে। ফ্রান্স ও ওয়েলসবাসীদের মতে পাথরের জগে পানি রাখলে ক্রিসমাস মধ্য রাতের একঘণ্টা পূর্বে তা মদে পরিণত হয় এবং ঈষ্টার পর্বেও একইরূপ হয়। সন্ধ্যার পরে কখনো ঘরের বাইরে পানি ছুঁড়ে ফেলতে নেই কারণ তা প্রেতাত্মাদের রক্ষা করে। ফুটন্ত পানি কখনো নিয়ে যেতে নেই, কারণ এটা সেই লোকটির ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া করবে যেহেতু শয়তানীরা এটা পছন্দ করে না এবং তাদের জন্য কষ্ট ও ভোগান্তি আনবে। আর স্বপ্নে পানি দেখাও দুর্ভাগ্যজনক।

উইন্ডো (Window) জানালা
দরোজা ও ধূমনালীর মতো জানালাও যদি ভালোভাবে বন্ধ না রাখা হয় তবে অনেক অশরীরী শক্তির প্রবেশ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এটা সত্য যে কাঠের জানালার ফ্রেমের মধ্যে একটা ক্রস চিহ্নের মতো ফ্রেম দেয়া হয় যার দ্বারা প্রায় সবগুলো ভূত-প্রেতের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু প্রায় ক্ষেত্রেই ভীত সন্ত্রস্ত্র বাসিন্দারা ডবল নিশ্চয়তা প্রদান করার জন্য জানালার অনেক গাছের ফুল ও মালা ঝুলিয়ে ভূত তাড়ানোর জন্য ব্যবহার করে। জানালা সম্বন্ধে অন্যান্য যেসব হুঁশিয়ারী করা হয় তারমধ্যে রয়েছে কখনোই জানালার মধ্য দিয়ে উঁকি দেয়া শবযাত্রা দেখতে নেই, নতুন চাঁদ ওঠা দেখতে নেই। তদুপরি কোনো একজনের মৃত্যুও সময় জানালা খুলে দিতে হবে যাতে তাদের আত্মা সহজে ঘরের বাইরে যেতে পারে এবং ঝড় ওঠার সময়ও দেখতে নেই তাতে ঘরের মধ্যে কোনো বজ্রপাত ঢুকে বের হয়ে যাওয়ার পথ পায়। ওক গাছের ফলের মতো করে ববিন দিয়ে পর্দা সহকারে একটা জানালা ফিট করলেও তাতে বজ্রপাতকে প্রতিরোধ করে।

ওয়াইন (Wine) মদ
মদ তৈরি, পরিবেশন এবং পান করা নিয়ে দীর্ঘদিনের তার নিজস্ব সম্মানিত পৌরানিকী রয়েছে। অত্যন্ত ব্যাপকভাবে প্রচারিত কুসংস্কারের মধ্যে রয়েছে এই বিশ্বাস যে একটা মদের বোতল সূর্য চলার গতির মতো একে অন্যের হাতে দেয়া যাবে না (বিশেষ করে বন্দর এলাকার মধ্যে) এবং মদ ছড়িয়ে ফেলে দেয়াও অমঙ্গলজনক। যদিও গ্রিকবাসীরা তার উল্টোটা মনে করে যে, মদ ছড়িয়ে ফেলা সৌভাগ্যের। সমুদ্রের ঢেউয়ের ওপর দেবাদির সন্তষ্টির জন্য মদ ঢেলে দিলে একটা রেগে ওঠা সমুদ্রও শান- হয়ে যায়।
অনেক লোকেই মদকে অনেক রোগের ওষুধ হিসেবে প্রশংসা করে। মদ পানে অনেক প্রকার সর্দি, ঠাণ্ডা ভালো হয়, জ্বর এবং মাইগ্রেন মাথাব্যথা ভালো হয়। কুকুরের কামড়ের রোগ মদ পানে ভালো হয় তার জন্য মদের সাথে যে কুকুরটি কামড় দিয়েছে তার কয়েকটি পশম মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। যেসব শিশুদের ওজন কম তাদের মায়েরা তাদের হাতের বিবাহের আঙটি একটা মদের গ্লাসের মধ্যে ডুবিয়ে সেই মদ গ্লাস শিশুকে পান করতে দেবে তাতে শিশু অতি তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাবে। বিশেষ করে ছোটদের আরোগ্যের জন্য গির্জায় ভোজ উৎসবের সময়ের মদ খুবই উপকারী ভূমিকা পালন করে।

ওয়াই-Y
ইয়োলো (Yellow) হলুদ রঙ
অশুভ সব রঙের মধ্যে হলুদ রঙ হচ্ছে সবচেয়ে অশুভ রঙ। এটা সাধারণত ভীরুতা, অসুস্থতা এবং মৃত্যুর সাথে জড়িত (যদিও অনেক লোক এটাকে জীবন প্রদানকারী সূর্যের সাথে সম্পৃক্ত করে)। পেঁয়াজ ও বীন গাছের ওপর হলুদ পাতা দেখা গেলে তার দ্বারা মৃত্যুর আগাম বার্তা মনে করা হয়। এমতনকি ভূত-প্রেতরাও এই হলুদ রঙটাকে ভয় পায়। নায়ক-নায়িকারা বিশেষভাবে অনেক সময় এই হলুদ রঙের কাপড় পরতে অনীহা প্রকাশ করে।

ইয়োলোহ্যামার (Yellowhammer) হলুদ পাখি
হলুদ পালক পরা পাখি যার একটা অশুভ পাখি হিসেবে দুর্নাম আছে। এটা সত্য যে তার ডিমের ওপর সাপের মতো ঢেউ তোলা দাগ আছে, যার দ্বারা বোঝা যায় যে এ পাখিটার যোগসাজশ আছে শয়তানের সাথে। এই কারণে শতাব্দিকাল ধরে এই পাখিটির বাসা ভেঙে দিয়ে মানুষ তাকে যন্ত্রণা দিয়েছে। তারা ধারণা করত এর ডিম থেকে সাপ জন্ম নেয়। (আরো বলা হয়ে থাকে হলুদ পাখিরা সাপের শত্রু  আসতে দেখলে তা আগে ভাগেই তাকে হুঁশিয়ার করে দেয়)।
ওয়েলসের লোকগাঁথা অনুযায়ী এই পাখিগুলো রক্তচোষা বাদুরের রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে। আবার অন্যরা দাবি করে যে, তার অনিয়মিত উড়াউড়ির কারণ হচ্ছে যে তারা প্রত্যেক মে দিবসে শয়তানের রক্ত পান করে।
ওয়েলসের লোক ওষুধিতে দাবি করা হয় যে একটা ইয়োলোহ্যামার পাখিকে একজন জন্ডিস রোগীর মুখের কাছে এনে ধরলে রোগ সেরে যায়। যদিও ডেনিশবাসীরা দাবি করে যে, একে একে তিনটি হলুদ পাখি খেতে পারলে ওই রোগ সেরে যায়।

ইউ (Yew) চির সবুজ বৃক্ষ
চির সবুজ বৃক্ষ যেটা ব্যতিক্রমভাবে দীর্ঘজীবী এবং পরবর্তী জীবনের সাথে জড়িত। এই কারণেই এই গাছগুলোকে কবরস্থানে দেখা যায় ইউরোপের প্রায় সব দেশেই। ইউবৃক্ষের বিষাক্ত পাতার এবং ঘন কাঠের জন্য এবং তার সুরক্ষা করা ক্ষমতার কারণে গাছটিকে সর্বত্র সম্মানের চোখে দেখা হয়। এই গাছটির আশপাশের লোকের ওপর কোনো শয়তান বা জিন-ভূতের ভয় থাকে না। (যদিও একটা সত্য যে তার ঘনকৃষ্ণ পল্লবগুচ্ছ হচ্ছে অতিপ্রাকৃত শক্তির জন্য আকর্ষণীয় আশ্রয়স্থল। অতএব এই গাছের কাটা অংশ কখনোই ঘরের মধ্যে আনা যাবে না, তাতে ভাগ্য বিপর্যয়ের ভয় আছে)। ফলস্বরূপ একটা ইউ গাছ কেটে ফেলা বা তার ক্ষতি করা খুবই অশুভ কাজ। যদিও তার কাঠকে জাদু দেখানোর জন্য যন্ত্রপাতি তৈরি করার জন্য চড়া দাম দেয়া হয়। সত্যি বলতে কি, কেউ যদি এই নিয়মনীতি না মানে এবং ইউবৃক্ষের একটা ডাল ভেঙে ফেলে তবে সে এক বছরের মধ্যে মারা যাবে।
আরো আনন্দের সাথে যে বালিকা তার ভবিষ্যত প্রেমিককে স্বপ্নে দেখতে চায় তাকে শুধু কয়েকটি ইউগাছের পাতা বালিশের নিচে দিয়ে ঘুমাতে হবে। তবে সে ইউগাছের পাতা আনতে হবে এমন একটি কবরস্থান থেকে যেখানে সে পূর্বে কখনো যায়নি।
ইউগাছের এত সুনাম যে আগেকার দিনে বেশি উপকার লাভের আশায় এই গাছের নিকটে গির্জাঘর তৈরি করা হতো।

জেড-Z
জ্যোডিয়্যাক (Zodiac) রাশিচক্র
ক্যালেন্ডারকে বারোটি ঘরে ভাগ করা হয়ে থাকে। এটা হচ্ছে জ্যোতির্বিদ্যার একটা অবাস্তব বিজ্ঞানের মতানুসারে। প্রত্যেকটি ঘরে তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও চরিত্র আছে এবং লোক এই সময়ের মধ্যে যারা জন্মগ্রহণ করে তারা সেই সময়ের বিশেষ লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য প্রাপ্ত হয়। যদিও এর আরো বিস্তারিত তথ্য জানা যায় সঠিক জন্ম তারিখ, দিন, সময় ও পারিপার্শ্বিকতার পুঙ্ক্ষানুপুঙ্খ ব্যাখ্যার মাধ্যমে।