কোরবান আলী
সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম
আমার বর্তমান বয়স ৪২ বছর। আমি বিবাহিত ৫ সস্তানের জনক। কিন্তু আমি বেশ ছোটকাল থেকে মাথার যন্ত্রণায় ভুগছি। প্রথমে এগুলোকে পাত্তা না দিলেও পরবর্তীতে আমাকে এর চরম মাশুল দিতে হচ্ছে। একদা দেখা যায় আমার মাথা ঝিনঝিন করতে থাকে তারপর আমার মাথায় টুপি বা কিছু দিলে দম বন্ধের ভাব হতো। আর আমার মাথার মধ্যে একটা যন্ত্রণাময় ফোড়ার মতো টনটন করতে থাকে। তার কিছুদিন পর আমার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা শুরু হয়। আমার বুক ধড়ফড় করে, রক্তচাপ দ্রুত বেড়ে যায়, ঘন ঘন প্রস্রাব-পায়খানা হয়, মনে হয় যেন হার্ট বন্ধ হয়ে যাবে।
আমাকে গ্রাম্য এক ডাক্তার হাই-অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দিলে রোগ আরও বেড়ে যায়, তখন আমি ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হই। ডাক্তার ওষুধ দেন ক্লোবাজম, প্রোপানল, অ্যামিট্রিপটাইলিন, পেরিডল, পারকিনিল, রেনিট ইত্যাদি। অন্য একজন ডাক্তার দেন সিনারন, নসিডান, টেলাজিন। কিন' আমি ভালো হলাম না। আমার বর্তমান সমস্যা মাথার মধ্যে ফোড়ার মতো যন্ত্রণা কপাল পর্যন্ত। ঘুম আসতেই খিঁচুনির মতো একটা ঝাঁকি দিয়ে ওঠে যেন আমি মরে যাচ্ছি, জ্ঞান হারাব, হুঁশ থাকে না। ভয়, বিষণ্নতা, অবসাদ, হতাশা, চিন্তা, ভাবাবেগ, অপরাধবোধ, অপমান, প্রতিবাদ না করা, অসি'রতা, অন্যের মাঝখানে কথা বলা, স্মৃতি হারানোর ভয়, কোনো লোভ না থাকা, যৌন ইচ্ছা না জাগা, সর্বদা রোগের চিন-া করা, কোনো আনন্দদায়ক কাজে না যাওয়া, আনন্দ ফুর্তি না থাকা, নিজেকে ছোট মনে করা, প্রশান্তিদায়ক ঘুম না হওয়া। বর্তমানে আমার মাথায় একটি ঊর্ধ্বচাপ যন্ত্রণা অনবরত লেগেই আছে। আমার আর সহ্য হয় না। আমার আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা হয়। বর্তমানে আমি চট্টগ্রাম মানসিক হাসপাতালের এক মহিলা ডাক্তারের দেয়া রিভোট্রিল ও লুডিওমিল খাচ্ছি। কয়েক দিন ভালো ছিলাম। আবার সমস্যা দ্বিগুণ হয়েছে। আমার কোনো পরামর্শ আপনার নিকট থাকলে আমাকে দেবেন।
আপনার অসুখটির নাম দীর্ঘমেয়াদি মাথাব্যথা। আপনি অবিলম্বে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিন। যেমন-সিটিস্ক্যান অব ব্রেন, রক্তের সুগার ইত্যাদি। যত দিন উপশম না হয় তত দিন ট্যাবলেট কিওলাক্স ১০ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে ১টা করে সেবন করুন।
প্রিন্স
ফকিরাপুল, ঢাকা
স্যার আমি ডিগ্রি পাস করেছি তৃতীয় বিভাগে কারণ আমার স্মরণশক্তি একদম কম। মুখস্ত হয় মনে থাকে না, মারাত্মক অবহেলা, আজ করব, কাল করব, পরশু করব এভাবে আর হয় না। কোনো কাজ করতে ভয় হয়। অত্যন্ত লজ্জা, সংকোচ, নার্ভাসনেস কাজ করে। দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ এ রোগে ভুগছি। প্রেম, দুলাভাইয়ের নির্যাতন, পরীক্ষায় অকৃতকার্য, দারিদ্র্য, দুশ্চিন্তা, টেনশনের ফলে ৱায়ুরোগের জন্ম হয়। ৮ বছর যাবৎ এ রোগের চিকিৎসা বাংলাদেশের বিখ্যাত মানসিক ডাক্তারের কাছে করার পরও সুস্থ হচ্ছি না। ওষুধ খাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট অনীহা কাজ করে। সে জন্য অনিয়মও করেছি অনেক সময়। সব সময় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় কাজ করে, মনে হয় শরীরের কোনো অঙ্গ বিকল হয়ে যাবে। প্রচুর স্বপ্ন দেখি, একটা মেয়ের সাথে দৈহিক সম্পর্ক আছে। রীতিমতো মিলিত হলে হাত-পায়ের গিরাগুলো খুব কামড়ায়। সারাক্ষণ কল্পনা করি, কিন্তু বান্তবে কোনো কাজ হয় না। টাকা খরচ করার সময় অপরের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে ভেবে বেশি খরচ করি। অত্যন- অপব্যয় করি, যেখানে যাই সেখানে মেয়েরা আমাকে কাছে পেতে চায়। আমি ভয়ে ভয়ে দূরে থাকি। একবার কাছে পেলে আর যেতে ইচ্ছা করে না। সারাক্ষণ মেয়েদের দেখতে ইচ্ছা করে অথচ কাছে যেতে ভয় পাই। প্রচুর মিথ্যা কথা বলি, নিজের মনে করে চুরি করি। পরে অনুশোচনা করি এবং এতে শাস্তিস্বরূপ নিজের গায়ে নিজে আঘাত করি। আমাকে দেখলে কেউ বিশ্বাস করে না সব সময় পাপী পাপী মনে হয়, জীবনে কোনো কাজে জয়ী হতে পারিনি। যেখানে অতি গুরুত্বপূর্ণ সেখানে আরও বেশি অবহেলা করি। প্রত্যেক দিন মেয়েদের সাথে মিলিত হই। এতে শরীর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তারপরও মিলিত হই থাকতে পারি না। তলপেটে সব সময় কী যেন বাজে মনে হয় স্নায়ুরোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিডনির সমস্যা হচ্ছে, মনে হয় জীবন ফুরিয়ে আসছে। রাস্তাঘাটে নিজে নিজে কথা বলি। কোনো কাজ শুরু করলে মন অন্যদিকে চলে যায়। আমি কীভাবে এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাব আমাকে জানাবেন।
আপনার অসুখটি ক্রনিক নিউরোটিক ডিসঅর্ডার। এ অসুখে আপনাকে সব সময় পবিত্র মন নিয়ে থাকতে হবে। সর্বদা ভালো কিছু করার চেষ্টা করুন এবং স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য নিজ থেকে কোনোরূপ ওষুধ খাবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। সাধারণ অর্থে আমাদের দেশে যে সমস্ত সবুজ শাকসব্জি পাওয়া যায় সেগুলো খেতে থাকুন এবং যথাসম্ভব নারীদের সম্মান দিয়ে চলার চেষ্টা করুন। পরবর্তীতে ভালো থাকবেন।
আকবর হোসেন
সরকারি তোলারাম কলেজ
ডাক্তার সাহেব আমি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১-১-২০০০ তারিখে আপনার চেম্বারে দেখা করি এবং আপনার প্রেসক্রিপশনকৃত ওষুধ খেয়ে কিছুটা সুস্থতা লাভ করি। আপনার চেম্বারে তিনবার গিয়েছিলাম কিন' আর্থিক সংকটের কারণে আপনার সাক্ষাৎ করার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তাই মাসিক মনোজগত পত্রিকার আশ্রয় নিলাম। বর্তমানে যে সমস্যায় ভুগছি তা হলো শুয়ে থাকলে বুক ধড়ফড় করে, বুকের বাম দিকে প্রচুর ধড়ফড় করে। পা হতে মাথা পর্যন্ত মৃদু কাঁপে। ডাক্তার সাহেব উল্লিখিত রোগের সমাধান দিলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আমি বর্তমানে লোনাজেপ ২ মিলিগ্রাম প্রতিদিন ১টি করে খাচ্ছি। এতে করে কোনো সমস্যা হবে কিনা জানালে উপকৃত হব।
আপনি ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক করে খেতে থাকুন। প্রেসক্রিপশনে দেয়া ওষুধ মাসখানেক চালানোর পরে যদি কোনোরূপ উন্নতি না হয় তাহলে যে কোনো মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
মো. মনজুরুল হক
রাজশাহী
আমার বয়স ২৫ বছর। আমি বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছি যেগুলো নিম্নে উল্লেখ করলাম। আমার দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার পূর্বে নিচের সমস্যাগুলো দেখা যায়- সর্বদা মাথায় একটা ঝিঁ ঝিঁ ভাব থাকত। পড়তে বসলেই চিন্তা চলে আসত। পড়াশোনায় বেশিক্ষণ মনোযোগ থাকত না, শুধু অসুখের চিন্তা হতো, শরীর ক্রমেই শুকিয়ে যাচ্ছিল, পড়াশোনা মুখস্ত করতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল, মনে হয় স্মরণশক্তি লোপ পেয়েছে। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যেত মাঝে মাঝে, ঘুম ভালো হতো না, পেটের সমস্যা লেগেই থাকত। প্রায় সব সময় পেটে অস্বস্থি ভাব থাকে, বিশেষ করে খাওয়ার পর পেট ভার ভার মনে হয়, পেটে চাপ ধরে থাকে এবং তলপেট ফাঁপা থাকে। পেটে কোনো ব্যথা নেই। ঘন ঘন বায়ু নির্গত হয় ও পায়খানা দিনে ৩-৪ বার হয়। পেটে চোঁ চোঁ ও ভুটভাট শব্দ হয়; বিশেষ করে দুপুরে খাবার পর শুলেই হয়, ফলে ঘুমাতে পারি না। ভুটভাট করার বা পেটে মোচড় দেয়ার সাথে সাথে যেন বাতাস তৈরি হয় এবং পেট ফেঁপে যায়। পায়খানা মাঝে মাঝে কষা ও কালচে হয়। মনে হয় খাদ্য ভালোমতো হজম হয় না। ঢেকুর হয়, বুক জ্বালা করে এবং বুকের মধ্যে বাতাসের চাপ ধরে থাকে। সব ধরনের খাবার পেটে সহ্য হয় না, যেমন- ভাজা, তেলুক, দুধ, ডাল, ঘি, টক, কাঁচা ফল ও সব্জি, কলা, পেঁপে ইত্যাদি। মাথার মধ্যে সব সময় একটা ঝিঁঝিঁ ভাব থাকে। সর্বদা মনের মধ্যে বিভিন্ন চিন্তা ঘুরপাক খায়। পড়াশোনায় মনোযোগ থাকছে না।
আপনার অসুখটির নাম টেনশন রোগ। যে কোনো জনসংখ্যার শতকরা ২০ থেকে ৩০ ভাগ লোক এই টেনশন রোগে আক্রান্ত থাকে। এখন আপাতত ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ২৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে সেবন করুন। এক মাস পরে আমাকে জানান।
শ্রী বিকাশ সরকার
কলাবাগান, ঢাকা
আমার বয়স ২০ বছর। আমার সমস্যা হলো আমি সব সময় আজেবাজে চিন্তা করি। কিছুতেই এসব চিন্তা দূর করতে পারি না।
আপনার অসুখের নাম অবসেশনাল নিউরোসিস। মনের মধ্যে এক চিন্তা বারবার আসে, বন্ধ করতে চাইলেও তা শেষ করা যায় না। মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই এটি বারবার হতে থাকে। চিন্তাগুলোর কোনো মাথামুণ্ডু কিছু থাকে না। আপনি ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রথম দুই দিন রাতে ১টা করে ও দুই দিন পর সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে খেতে থাকুন। পনেরো বা বিশ দিন পরে মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
সাজ্জাদ পারভেজ
দিনাজপুর
আমার বয়স ৩০ বছর। আমার সমস্যা ৪ বছর থেকে। সব সময় খারাপ লাগে, মৃত্যুভয়, সব ধরনের পত্রিকায় অনেক ধরনের রোগের পূর্ব লক্ষণ বা উপসর্গ দেয়া থাকে আমি তখন ওই বিষয়টা চিন্তা করলে মনে হয় ওই উপসর্গগুলো নিজের মধ্যে আছে। যেমন- কিছুদিন আগে আমার বন্ধু আমাকে বলে তুই খারাপ মেয়ের সাথে মিশেছিস তোর দেখ এইচআইভি হয়েছে। আর ঠিক তার পর দিন থেকে এ কথা চিন্তা করতে করতে মনে হয় অসুস্থ হয়ে পড়লাম। তারপর একদিন হঠাৎ বুকে ব্যথা মনে হলে মেডিকেলে ভর্তি হলাম। ওখানে ডাক্তার আমাকে বললেন এর মধ্যে কোনো মেয়ের সাথে মিশেছেন কিনা। আর ওই দিন থেকেই আমি ভাবতে লাগলাম আমার ঠিক এইচআইভি হয়েছে কারণ আমি একটা মেয়ের সাথে মেলামেশা করেছিলাম। মেডিসিন ডাক্তার দেখাই। কেমোডিন ৪০ মিলিগ্রাম এবং ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম ২ মাসের জন্য খেতে দেন। বেশি উপকার পাইনি। এখন আমার হাত ও পায়ের পাতা কিছুদিন থেকে শুকনা লাগছে এবং মুখের ভেতর ঘা আছে। আমার কি এইচআইভি হয়েছে নাকি পেটের মধ্যে অন্য কিছু হয়েছে। কারণ এন্ডোস্কপি রিপোর্টে বলেছে পেটের মধ্যে দানার মতো হয়েছে। সঠিক উত্তর দেবেন পরামর্শসহ।
আপনার অসুখটির নাম অসুখভীতি বা ইলনেস ফোবিয়া। এটি ফোবিয়া রোগের একটি ধরন। এ অসুখে মৃত্যুভয়, কীটপতঙ্গের ভয়, উঁচু স্থানে উঠলে পড়ে যাবার ভয়, বিভিন্ন সামাজিক পরিবেশে উপসি'ত হওয়ার ভয়, খোলা জায়গায় একা থাকার ভয়, বদ্ধ জায়গায় একা থাকার ভয়, রক্ত দেখার ভয় ইত্যাদি ধরনের হয়ে থাকে। ফোবিয়া রোগের মূল চিকিৎসা যেখানে যে ভয়টি পাবেন সে ভয়ের কাজটি ধীরে ধীরে জয় করার চেষ্টা করুন। তাতে সময় লাগতে পারে কিন' শেষে লাভবান হবেন। আপাতত ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকাল বেলা ৪ ভাগের ১ ভাগ এবং রাতের বেলা অর্ধেক সেবন করুন।
মো. ইব্রাহীম খলিল
নারায়ণগঞ্জ
আমার বয়স ২৯ বছর। আমি আজ দীর্ঘ দশ বছর যাবৎ রোগে ভুগছি। কোনো ফলাফল পাচ্ছি না। বিভিন্ন ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়েছি কিন' কোনো প্রতিকার পাইনি। শেষ মুহূর্তে পেটের জন্য একজন সার্জনের নিকট যাই, তিনি আমাকে দেখেন এবং মলদ্বার পরীক্ষা করে দেখার পর আপনার নিকট পাঠান। আমার সমস্যাগুলো নিম্নে বর্ণনা করলাম যদি সমস্যাগুলোর সমাধান দেন তাহলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। সবচেয়ে বেশি অসুবিধা হলো ঘন ঘন প্রস্রাব। প্রস্রাবের বেগ অনেক, ব্যথা, জোরে আসে, ধরে রাখতে পারি না। প্রস্রাব পড়ে জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়, নামাজ পড়তে পারি না। তার সাথে সাথে পায়খানার বেগ হয়, কখনো কখনো পায়খানা হয়ে যায়। শরীরের সম্পূর্ণ লোমগুলো দাঁড়িয়ে যায়। পেট খুব গরম থাকে এবং ঘামায়। পায়খানা মাঝে মাঝে খুব কষা, প্রায় সময় যে কোনো খাবার খেলে পাতলা পায়খানা হয়, আমাশয়ের মতো আম যায় পায়খানার সাথে। আমার মনে হয় সব সমস্যা পেট থেকে। ঘন ঘন স্বপ্নদোষ হয়, বীর্য পাতলা, মেয়েদের সাথে কথা বলতে পারি না, সাদা আঠালো পানিটা বের হয়ে কাপড় নষ্ট হয়ে যায়, লজ্জার ব্যাপার লিঙ্গ শক্ত হয় না। অণ্ডকোষটা গরম থাকে, চুলকায়, বাড়ির সবাই বলে বিয়ে করলে রোগ ভালো হয়ে যাবে। এই কথাটি কি সঠিক। দিনের পর দিন শুকিয়ে যাচ্ছি, নিজেকে অনেক বয়স্ক মনে হয়। শীতের দিন এলে সকাল ও সন্ধ্যার পর হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে আসে। শরীর ঘামলে পোশাক লবণাক্ত হয়ে যায়। হাতের তালু ভীষণ গরম থাকে, হাত-পায়ের তালু ঘামায়। পায়ের পাতা থেকে শুরু করে মাথার তালু পর্যন্ত টিক টিক শব্দ হয়।
ঘন ঘন ডাক্তার দেখানো এটা একটা বাতিক বটে। একে বলে ডক্টর শপিং। সাধারণক্ষেত্রে নিউরোসিস জাতীয় রোগীরা এ কাজটি প্রায়ই করে থাকেন। আপনার উপসর্গ বিচারে আমার মনে হয় আপনি ‘আইবিএস’ বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম রোগে আক্রান্ত। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রণালীর দিকে লক্ষ রাখুন। পুষ্টিদায়ক খাদ্য গ্রহণ করুন এবং ট্যাবলেট মেলিপ্রামিন ২৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টি ও রাতে ১টি করে খেতে থাকুন। এতে যদি উন্নতি না হয় তাহলে এর সাথে ট্যাবলেট জোসার্ড ৫০ মিলিগ্রাম সকালে নাশতার পরে ১টি করে খেতে থাকুন।
দিলীপ বিশ্বাস
লক্ষ্মীপুর
আমার বয়স ২৮ বছর। আমি আপনার নিকট বিগত ৭ মাস যাবৎ চিকিৎসারত। আমাকে ইসিটি ও ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম দিয়েছেন। এগুলো খাওয়ার পর কিছু সমস্যা সমাধান হয় বাকি সমস্যা থেকে যায়। তারপর আবার আপনার সাথে সাক্ষাৎ করার পর আপনি ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম জোসার্ট ৫০ মিলিগ্রাম দিয়েছেন। আমি অ্যানাফ্রেনিল বর্তমানে খাচ্ছি আর জোসার্ট সামান্য ঢাকা থেকে এনেছিলাম। আমি বর্তমানে জোসার্ট পাচ্ছি না। অনেক তল্লাশি করে এবং চট্টগ্রাম হাজারী লেইন দেশী-বিদেশী সব দোকান দেখেছি, কোথাও পাইনি। আমি এটা কীভাবে পেতে পারি এর বিকল্প কিছু আছে কিনা জানাবেন। আমার সমস্যা হচ্ছে-আমার ইচ্ছাশক্তি মোটেই নেই, নিজস্ব কোনো কাজের প্রতি উদ্যম নেই, কাজের প্রতি অনীহা ভাব, ভয় ভয়, আত্মবিশ্বাস আসে না। কোনো আশায় বুক বাঁধতে পারি না, বহু চেষ্টা করেছি কোনো ছোট-বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। কোনো আশা-আকাঙ্ক্ষা নেই মন ও শরীর সব সময় দুর্বল, কাজে আনন্দ লাগে না।
জোসার্ট বা সারটালিন একটি অত্যাধুনিক ওষুধ। এটি ঢাকা শহরে দু একটি দোকানে পাওয়া যেতে পারে। গ্রামের প্রত্যন- অঞ্চলে এটি পাওয়া সম্ভব নয়। আমরা চিকিৎসাব্যবস্থায় সব সময় অত্যাধুনিক ওষুধ ব্যবহারের পক্ষপাতি। তাই আপনাকে এই ওষুধটি দেয়া হয়েছিল। আপনি দয়া করে ঢাকা থেকে তা সংগ্রহ করুন।
মো. মুশফিকুর রহমান
ওসমানপুর, ঘোড়াঘাট
আমি একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। একটানা দশ বছর নেশা করেছি ফেনসিডিল। ৫-৭ বার বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছি কিন্তু সুস্থ থাকতে পারিনি। বারাক নামক একটি প্রতিষ্ঠান আছে ৯/১৪ ইকবাল রোড, মোহাম্মদপুর সেখানে একটানা চার মাস যাবৎ থাকি এবং তারই ফলে আজ প্রায় নয় মাস সুস্থ আছি। আমার ইচ্ছা আপনার পত্রিকায় বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে একটি সাক্ষাৎকার দেয়া। প্রয়োজনে আমি আমার ছবি দিতেও প্রস্তুত আছি। আমার সাক্ষাৎকার দেয়ার কারণ একটাই তা হলো বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে যেন মাদকাসক্তরা বুঝতে পারে এর ফলে কী ক্ষতি হয়েছে এবং এর শেষ পরিণতি কী?
আপনি মাদকাসক্তি থেকে দূরে এটা জেনে আমি খুশি হলাম। মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকা নিজের মনের শক্তির ওপর নির্ভর করে। কোনো ওষুধ বা বারবার বিভিন্ন প্রকারের নার্সিং হোমে ভর্তি হওয়া এতে কোনো লাভ নেই। আমার মতে মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকার সব থেকে ভালো উপায় ধর্ম কর্মে মনোযোগ দেয়া। আপনি আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের পাঠকের পাতা কলামে লিখে পাঠান আমরা তা ছাপিয়ে দেব।
আলী আহাম্মদ
পাঠানটুলী রোড, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ৩৭ বছর। আমি অনেক দিন থেকে কোমরের ব্যথায় ভুগছি। অনেক ডাক্তার যেমন- মেডিসিন এবং অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ দেখিয়েছি। ওষুধ সেবন করলে ভালো থাকি না করলে ব্যথা লাগে। কিন' ৩-৪ বছর আগে একজন ডাক্তার দেখাই। তিনি আমাকে ইসবগুলের ভুষি খেতে বলেন এবং খাওয়ার পর থেকে আমি ভালো ছিলাম। বর্তমানে আবারও ব্যথা লাগে এবং ২ বছর যাবৎ ডান পাশের রানে ঝিন ঝিন করে অবশ হয়ে যায়, রান বলতে কোমরের নিচ থেকে হাঁটু পর্যন্ত। বিশেষ করে রাতে শোয়ার সময় বা শুয়ে পড়লে ঝিন ঝিন আরম্ভ হয়। অনেকে বলেছেন নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞকে দেখানোর জন্য। এখন আপনার নিকট জানতে চাচ্ছি চট্টগ্রামের কোনো নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ না অন্য কোনো ডাক্তারকে দেখালে ভালো হব।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নিউরোমেডিসিন বিভাগে যোগাযোগ করুন।
তৌফিকুল ইসলাম
কাঁচিঝুলি, ময়মনসিংহ
আমার বয়স ২৭ বছর। খুব ছোটবেলা থেকেই আমি ভীষণ আত্মকেন্দ্রিক এবং আবেগপ্রবণ। আমার বাবা-মা, ছোট ভাই-বোন ও চারপাশের অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী থাকলেও নিজেকে খুব একা মনে হয়। মানুষের সাথে ভালোভাবে মিশতে পারি না। বিশেষ করে মেয়েদের সাথে গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। এক ধরনের জড়তা ও সীমাবদ্ধতা আমার জীবনকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। এমনিতেই আমি শান্ত প্রকৃতির কিন্তু হঠাৎ কোনো কারণে রাগলে উত্তেজিত হয়ে পড়ি। তখন সারা শরীর কাঁপতে থাকে। কোনো বিষয়েই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। ইদানীং আমার ইচ্ছাশক্তি ও স্মরণশক্তি হ্রাস পেয়েছে। আমার মনোযোগ বিক্ষিপ্ত, প্রচুর পাড়াশোনা করলেও ভুলে যাচ্ছি। আমি সুস', সুন্দর, স্বাভাবিক, প্রাণোচ্ছল জীবন ফিরে পেতে চাই। বর্তমানে আমার কী করা উচিত জানাবেন।
আপনার সমস্যাটি ব্যক্তিত্বের ঘাটতিজনিত সমস্যা। ছোটবেলা থেকেই সাধারণত স্বাভাবিকভাবে আপনার ব্যক্তিত্ব সুষমভাবে গড়ে ওঠেনি। তাই বিভিন্ন ধরনের পারিপার্শ্বিক ও মানসিক উপসর্গ হচ্ছে। আপনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে মানসিক রোগ বিভাগীয় প্রধানের সাথে ব্যক্তিত্বসংক্রান্ত ব্যাপারে কয়েকটি বিহেভিয়ার থেরাপির সেশন নিলে ভালো হবে।
মো. আবু শাহীন
দত্তপাড়া, লক্ষ্মীপুর
আমার বয়স ২০ বছর। আমার সমস্যা হলো পেটে গ্যাস জমে। চর্বিজাতীয় কোনো খাবার খেতে পারি না। মাঝে মাঝে পেটের ডান পাশে খুব ব্যথা করে এবং ক্রমান্বয়ে সেই ব্যথা ওপরের দিকে উঠতে থাকে। তখন আমি খুব কষ্ট পাই। এক কথায় চর্বিজাতীয় কোনো ভালো খাবারই আমি খেতে পারি না। এ সমস্যাটা আজ প্রায় পাঁচ ছয় মাস ধরে। সব সময় গলা দিয়ে শিষ ওঠে। আর একটি সমস্যা হলো আমার শরীর দুর্বল, হাত-পা সাদা দেখায়। লোকে বলে রক্তস্বল্পতা। অর্থাৎ শরীরে হিমোগ্লোবিনের অভাব। এ ব্যাপারে আপনার পরামর্শ চাই।
আপনার অসুখটির নাম আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রম। আপনি চর্বিজাতীয় খাদ্য পরিহার করে চলুন। শরীরের ডান দিকের ব্যথার জন্য দ্রুত একটি আলট্রাসনোগ্রাম করে নিন। শাকসব্জি বেশি পরিমাণে সেবন করুন বিশেষ করে কচু শাক খেতে থাকুন। রক্তশূন্যতার জন্য ফেরোনিন সিরাপ দু চামচ করে তিনবার খেতে পারেন। আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ।
মো. শহীদুল ইসলাম
ছাতনী, নাটোর
আমার বয়স ২২ বছর। আমি একজন ছাত্র। আমার পড়ালেখায় মন বসে না। আবার বেশি পড়লে মনে থাকে না। মাথা ঝিমঝিম করে, মাঝে মাঝে প্রচণ্ড ব্যথা করে। ঘুম কম হয়। খাবারের প্রতি কোনো রুচি নেই। অল্প খেলে মনে হয় পেট ভরে যায়। সব সময় দুর্বল লাগে। কিছু দিন থেকে আমার বুকের বাম পাশে মাঝে মাঝে ব্যথা করে। এমতাবস্থায় আপনার পরামর্শ কামনা করছি।
আপনি টেনশনজনিত সমস্যায় ভুগছেন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম সকালে ১টা বিকেলে ১টা সেবন করুন। সব সময় কাজে ব্যস্ত থাকবেন, পড়াশোনার নিয়মাবলি মেনে চলবেন। বিকেলের দিকে হাল্কা ব্যায়াম করা ভালো।
মো. মিজানুর রহমান
বগুড়া
আমার বয়স ১৭ বছর। আমার সমস্যা হলো- শারীরিক দুর্বলতা, আমি ঠিক শারীরিক দুর্বলতা বলতে পারছি না। তার কারণ এর আগে আমি ডাক্তারকে বলেছি এ ব্যাপারে। তিনি বলেছেন তোমার কোনো শারীরিক অসুখ নেই। অবশ্য এ কোনো নামীদামি শহরের বড় ডাক্তার নয়, গ্রাম্য ডাক্তার। আমি কাজ করতে করতে হঠাৎ এমন এক পর্যায়ে এসে পড়ি মনে হয় আর কাজ করব না। আবার কলম দিয়ে লিখতে লিখতে একটানা ২-৩ ঘণ্টা লিখলে পরবর্তীতে আর লিখতে ইচ্ছা করে না। এদিকে আমার প্রেসার স্বাভাবিক আছে, শরীর প্রচুর ঘামে যার ফলে গা গন্ধ হয়। এতে করে আমার বাইরে লোকের মাঝে চলাচলে অসুবিধা হয়। আমি এই দুটো রোগের প্রতিকার চাই।
আপনি যে অসুবিধার কথা লিখেছেন সেটি একজন সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া মাত্র। যে কোনো লোক একটানা ২-৩ ঘণ্টা লেখার পরে ক্লান্ত অনুভব করতে পারে। এটি কোনো অসুখ নয়। আমাদের ছাত্রদের অনেকেই এই ধরনের সমস্যার কথা বলেন। সাধারণ অর্থে একটানা এক ঘণ্টা লেখাপড়া করার পর অন্তত দশ মিনিট সময় মস্তিষ্কে বিশ্রাম দেয়া প্রয়োজন। এই দশ মিনিট সময় আপনি গান শুনতে পারেন, চা খেতে পারেন, মনটাকে অন্যদিকে সরিয়ে নিতে পারেন। এতে পড়া ভালো মনে থাকে। আপনি নিউরোলেপ ৮০০ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক সেবন করুন।
মো. আরাফাত রহমান
আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ১৮ বছর। আমি দীর্ঘদিন যাবৎ একটি সমস্যায় ভুগছি। তা হলো আমার হাতের লেখা দ্রুত নয়। ক্লাস সেভেন থেকে দ্রুত লেখার চেষ্টা করে আসছি কিন্তু পারছি না। বিশেষ করে পরীক্ষার হলে গেলে আমার হাত কাঁপে, আমি যখন লেখা নিয়ে খুব বেশি ভাবি না তখন মোটামুটি স্বাভাবিকভাবে লিখতে পারি। কিন' যখন পরিকল্পনা করি লেখা দ্রুত করব, তখন আমার ভেতর একটা টেনশন কাজ করে, হাত কাঁপতে থাকে এবং লেখার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি।
আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসহীন, সন্দেহপ্রবণ এবং টেনশন বা উদ্বিগ্নবোধ করি। কোনো জিনিস পড়লে সহজেই বুঝতে এবং মনে রাখতে পারি কিন' লেখাজনিত সমস্যাটির কারণে খাতায় ভালোমতো উপস্থাপন করতে পারি না। এর জন্য কী করতে হবে আপনার পরামর্শ চাই।
আপনার সমস্যাগুলো একটি অসুখের পূর্ব উপসর্গ। অসুখটির নাম রাইটার্স ক্র্যাপম বা লেখকের অসুখ। এ অসুখে সাধারণক্ষেত্রে একটু দ্রুতগতিতে লেখার তাগিদে হাতের লেখা জড়িয়ে যায় ও অনেকের সামনে লিখতে অস্বস্তিবোধ করে। অনেক ক্ষেত্রে জোর করে লেখার ফলে হাতের মাংসপেশিতে বা বাহুতে ব্যথা হতে পারে। আপনার জন্য সুখবর এটাই যে, আপনি এখনো অসুখে পড়েননি। হাতের লেখা দ্রুতগতিতে বাড়ানোর চেষ্টা বন্ধ রাখুন। মোটামুটি স্বাভাবিক গতিতে লেখা ভালো। আপনি ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে সেবন করুন।
মো. ফয়েজ খান
খিলগাঁও, ঢাকা
আমি সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত ছিলাম। আপনার চিকিৎসায় এখন আমি ৯৫% সুস্থ মানুষ। সমস্যা হলো- মানুষের সাথে আমার মিশতে ইচ্ছা করে কিন' আমার বড় ভাই এলাকার সবাইকে গোপনে বলে দেয় যে আমি পাগল। ফলে সবাই আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আমি বন্ধুহীন হয়ে পড়ি। এ থেকে মুক্তি চাই।
এটি আসলে একটি সামাজিক সমস্যা। সামাজিকভাবে সচেতন না হলে এ জাতীয় রোগীদের সারা জীবন এই কষ্ট ভোগ করতে হয়। আপনার বড় ভাইয়ের মতো এ রকম অনেক পরিবারেই এ ধরনের বড় ভাই রয়েছে তারা কাজটি অত্যন্ত খারাপ করছে। যা হোক আপনি নিজ থেকে লোকজনের সাথে কথা বলুন, মেলামেশা করুন ও কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করুন।
মো. ফয়সাল আহমদ
সুনামগঞ্জ
আমার বয়স ২০ বছর। আমি ৪ বছর যাবৎ জটিল মানসিক সমস্যায় ভুগছি। তা হলো বুকে প্রচুর ব্যথা করে, বুক ধড়ফড় করে, মাথা কিছুটা ব্যথা ও মাথা ভার ভার এবং মাথা চক্কর দেয়। বিশেষ করে যখন কোনো বই বা পত্রিকা পড়ি তখন মাথাব্যথা খুব বেশি হয়। মাথা ভার ভার লাগে এবং মাথায় কী হয় অনুমান করা যায় না। তখন আমার মনে হয় আমি কী পড়ছি তা বুঝতে পারছি না। এছাড়া মৃত্যুভীতি হয় খুব বেশি, বিভিন্ন ধরনের দুশ্চিন্তা আসে এবং ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে হতাশা জাগে, মনের বিরুদ্ধে কথা আসে এটাকে আটক করে রাখা যায় না তখন। ভেতরে খুব কষ্ট হয় এবং মনে হয় আমার মেধাশক্তি একেবারে উঠে যাচ্ছে। এছাড়া মন খারাপ, সন্দেহবাতিক, নার্ভাসনেস, নিজেকে ছোট ভাবা অর্থাৎ নিজেকে এটা করলে মনে হয় এটা সুন্দর হচ্ছে না খারাপ লাগছে। স্মরণশক্তি কম, লেখাপড়া খুব মন দিয়ে করতে পারি না। এছাড়া আমার ভেতর শুকিয়ে যায়, লোকসমাজে কথা বলতে ভয় লাগে- তখন আমার মনে হয় আমি মানুষের সম্মুখে স্পষ্ট করে কথা বলতে পারব না। মুখে জড়তা লেগে যাচ্ছে।
আপনার টেনশনজনিত সমস্যার জন্য ট্যাবলেট নরট্রিলিন ১০ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে খেতে থাকুন। এক মাস পরে আমাকে জানান।
প্রমিত
আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম
আমার সমস্যা হলো এক সপ্তাহ পর পর আমার মুখের ভেতরে ও জিহ্বায় বিচি ওঠে, ঘা হয়। খুবই যন্ত্রণা করে, কিছু খেতে পারি না। ইতিপূর্বে ওষুধ খেয়েছি রিবোফ্লাভিন ও ফেস্টাল। কোনো উপকার পাইনি। কী ওষুধ খেলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাব ওষুধের নাম বলে দিলে আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব। পায়খানা ও প্রস্রাব নিয়মিত নয়, এতে কোনো অসুবিধা হয় না। শাকসব্জি ও পানি প্রচুর পরিমাণ খাই। আর গলার কফ পরিষ্কার করার জন্য কী ওষুধ খেলে কফ পরিষ্কার হবে বলে দিলে খুশি হব।
আপনার নিকটস্থ' মেডিসিন বিশেষজ্ঞের সাথে আজই দেখা করুন। শারীরিক নানা কারণের জন্য মুখে ঘা হতে পারে। পাশাপাশি মনে রাখা প্রয়োজন প্রচণ্ড টেনশনজনিত কারণেও মুখে ঘা দেখা দিতে পারে।
শ্রী বিকাশ সরকার
ঢাকা
আমার সমস্যা হলো আমি সব সময় আজেবাজে চিন্তা করি। আজেবাজে চিন্তা সব সময় মাথায় ঘুরপাক খায়। এ জন্য আপনি আমাকে ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল খেতে বলেছেন কিন' কথা হলো কত দিন আমি এটি খাব তা বলেননি। দয়া করে জানাবেন। আর ১৫-২০ দিন পর আপনি আমাকে আপনাদের পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলেছেন। আর্থিক অভাবের কারণে আমি যোগাযোগ করতে পারছি না। তাই এই সম্বন্ধে আপনার পরামর্শ চাই।
আপনি ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ট্যাবলেটটি সকালে ১টা ও বিকেলে ১টা করে ন্যূনতম ৩ মাস সেবন করুন।
সোহেল
ধানমন্ডি, ঢাকা
ডাক্তার সাহেব আমি ৫-৬ বছর যাবৎ খুঁজলি রোগে ভুগছি। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত অরফানেজে লেখাপড়া করেছি। গ্রামের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করে আজও সম্পূর্ণ ভালো হইনি। অ্যালার্জি জিনিস খেলে আরও বেশি বাড়ে যেমন- ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি। কিন' এখন আর এগুলো খাই না। এখন শুধু ভেজিটেবলগুলো খাই। এক মাস আগে এভিল রিটার্ড ট্যাবলেট দৈনিক ১টা করে খেতাম। কিন্তু এর কোনো ফল পাইনি। ফলে এগুলো ছেড়ে দিয়েছি। আর এখন ঘুমানোর আগে পানি গরম করে গোসল করে ঘুমাই। এটা না করলে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রচণ্ড চুলকায় যা আমার ঘুমে ডিস্টার্ব হয়। ডাক্তার সাহেব এগুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আপনার পরামর্শ চাচ্ছি।
আপনি অবিলম্বে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে দেখা করুন।
মোতালেব
রাজশাহী
আমার বয়স ২৫ বছর। প্রায় সময় পেটে অস্বস্তি ভাব থাকে, বিশেষ করে খাওয়ার পর পেট ভার ভার মনে হয়, পেটে চাপ ধরে থাকে এবং তলপেট ফাঁপা থাকে, পেটে কোনো ব্যথা নেই। ঘন ঘন বায়ু নির্গত হয় ও পায়খানা দিনে ৩-৪ বার হয়। পেটে চোঁ চোঁ ও ভুটভাট শব্দ হয়। বিশেষ করে দুপুরে খাবার পর শুলেই হয়। ফলে ঘুমাতে পারি না। ভুটভাট করার বা পেটে মোচড় দেয়ার সাথে সাথে যেন বাতাস তৈরি হয় এবং পেট ফেঁপে যায়। পায়খানা মাঝে মাঝে কষা ও কালচে হয়, মনে হয় খাদ্য ভালোমতো হজম হয় না। মাঝে মাঝে ঢেকুর হয়, বুক জ্বালা করে এবং বুকের মধ্যে বাতাসের চাপ ধরে থাকে। মাথার মধ্যে সব সময় একটা ঝিঁ ঝিঁ ভাব থাকে। সর্বদা মনের মধ্যে বিভিন্ন চিন্তা ঘুরপাক খায়। পড়াশোনায় মনোযোগ থাকছে না। পড়তে বসলেই হঠাৎ করে মনে অন্য চিন্তা চলে আসে ফলে পড়া মুখস্ত হতে চায় না। এছাড়া স্মরণশক্তিও খুব কমে গেছে। যেমন- অতি পরিচিত মানুষের নাম শিগগিরই ভুলে যাই। কোনো কথা মনে রাখতে কষ্ট হয়। এমনকি কোনো ঘটনা বলতে লাগলে মাঝখান থেকে কথা হরিয়ে যায় অর্থাৎ ভুলে যাই। এ জন্য কথা বলার পূর্ব থেকেই কী বলব তা মনের মধ্যে ঘুরপাক খায়। ঘুম আসতে দেরি হয়, রাতে নিটোল ঘুম হয় না। ঘুমের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার স্বপ্ন চলে আসে। পত্রিকা পড়ে আপনার কাছে বিস্তারিত জানাতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
আপনি ট্যাবলেট টেলাজিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা সেবন করুন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম রাতে অর্ধেক সেবন করুন। তিন মাস পরে আমার সাথে দেখা করুন।
মো. কাউসার
চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২০ বছর। আমি আপনাকে আমার কয়েকটি সমস্যার কথা বলছি। আমার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো। তবে মাঝে মাঝে শরীর খুব দুর্বল মনে হয়। আমি যখন বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়াই তখন মাথা ঘুরে চোখে ঝাপসা দেখি এবং খুব দুর্বল মনে হয়। আমার আসল সমস্যা হলো আমি যখন ইলেকট্রিক্যাল যাবতীয় কাজ করতে শুরু করি যেমন স্ক্রু খোলার সময় স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খুলি তখন হাত কাঁপে। কারও সাথে কথা বলার সময় তখন অ্যাবনরমাল হয়ে যাই। তখন আমার মুখ ও ঠোঁট কাঁপতে থাকে। আবার আমি যখন প্রচণ্ড রেগে যাই তখন আমার সমস্ত শরীর কাঁপতে থাকে। যখন আমি খুব ভয় পাই তখন আমার বুকের ভেতর ধুপধাপ করে। আর আমার হার্ট খুব দুর্বল। জানি না আমি আপনাকে কতটুকু বোঝাতে পেরেছি। তবে আমি যা বলেছি সবই সত্য। আমি এসব সমস্যা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। আমি আশা করি আপনি আমার এই সমস্যার সঠিক সমাধান জানাবেন।
আপনার অসুখটির নাম সোশ্যাল ফোবিয়া। আপনি ট্যাবলেট সারট্রালিন ৫০ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক নাশতার পরে সেবন করুন। এক মাস পরে আমাকে জানান।
মো. এমরান খান
মিরপুর, ঢাকা
আমার বর্তমান বয়স ২০ বছর। আপনার কাছে আমার কিছু প্রশ্ন করার প্রয়োজনবোধ করছি। (১) একজন মানুষের সিটিস্ক্যান অব ব্রেন পরীক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে তার শারীরিক বা মানসিক কী কী লক্ষণ দেখা দিলে। (২) যদি কারও সিটিস্ক্যান অব ব্রেন চেকআপ করে নেগেটিভ রেজাল্ট আসে তাহলে তার মধ্যে মানসিক কী কী আচরণ বা ব্যবহার লক্ষ করা যায়। তাকে কি ওষুধ সেবনের মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হবে। (৩) আমি উত্তেজনা বা রাগবশত মাঝে মাঝে দেয়ালে মাথার পেছন দিকটা প্রচন্ডভাবে আঘাত করতাম। তখন আমি সাময়িক আরামবোধ করতাম। কিন্তু এখন মাথাটা প্রায়ই ভার ভার লাগে। সব সময়ই মনে হয় আমার চিন-া, মন সবকিছু মাথার মধ্যেই ঢুকে আছে। মানে প্রতি মুহূর্তেই আমি মাথাটা ভারী বোধ করি। মনে হয় মসি-ষ্ক বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো কাজ করতে চায় না, কোনো কাজে গভীরভাবে নিমগ্ন থাকতে পারি না। এখন বুদ্ধি করে কোনো যুক্তিসঙ্গত কথা বা কাজ করতে পারি না। প্রতিটি মানুষেরই কম বেশি জ্ঞান, প্রতিভা, চিন্তাশক্তির ক্ষমতা, যোগ্যতা যে কোনো কিছুতে কমবেশি দক্ষতা থাকে। আগে আমি অনর্গল অবিরামভাবে যুক্তির সাহায্যে যে কোনো মানুষকে যে কোনো বিষয় সম্পর্কে সহজবোধ্য করে কথার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতে পারতাম। কিন' এখন তা পারি না। সব সময় চুপ করে থাকি। নার্ভাস ফিল করি অল্প কথায় ভাব প্রকাশ করি। নিজের বুদ্ধি দিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে কাজ বা কথা বলতে পারি না। নার্ভাসনেস দূর করার কি কোনো ওষুধ আছে? থাকলে নাম বলবেন দয়া করে। (৪) আমার মনে হয় দেয়ালে মাথা আঘাতজনিত কারণে আমি অনেক স্মৃতি বা শব্দকোষ যা আমার মসি-ষ্কে সংরক্ষিত ছিল এখন আমি তা হারিয়ে ফেলেছি। তবে খুবই ধীরে ধীরে কিছু কিছু শব্দ ফিরে পাচ্ছি। আপনার কাছে কি স্মরণশক্তি তীক্ষ্ণ করার কোনো ওষুধ আছে? থাকলে নাম বলবেন। (৫) একজন মানুষ যেমন তার মানসিক শক্তির সাহায্যে যে কোনো কথা সাজিয়ে বলতে পারে যে কোনো কাজ ধারাবাহিকভাবে করতে পারে আমার সে ক্ষমতা অনেকটা লোপ পেয়েছে। আমি কথার ঝাঁপিগুলো সহজভাবে এখন কারও সামনে উপস'াপন করতে পারি না কেন? দয়া করে জবাব দেবেন। (৬) আপনি কি মনে করেন যে আমার সিটিস্ক্যান অব ব্রেন পরীক্ষা করার প্রয়োজন আছে? যদি উত্তর হ্যাঁ হয় তবে কেন মনে করেন? আমি শুধু কারণগুলো জানতে চাই। অনুগ্রহপূর্বক আমার এ প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আগামীতে পরামর্শ পাতায় প্রকাশ করবেন।
সিটিস্ক্যান সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় নানা রকম শারীরিক ও মানসিক কারণে সিটিস্ক্যান করা হয়ে থাকে। কী কী কারণে সিটিস্ক্যান করা হলো তা আপনার ডাক্তারই ভালো বলতে পারবেন। আপনার প্রশ্নের শেষভাগের উত্তরে বলা যায় ট্যাবলেট মেলেরিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতি রাতে ১টা করে খেতে থাকুন।
মামুন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
আমি অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। আমার হাত ও পা জ্বলে এবং কিছু গরম অনুভব করি। আজ থেকে প্রায় ৪ বছর আগে শুধু পায়ের তলা জ্বালাতন করত কিন্তু আস্তে আস্তে এটা বিস্তার লাভ করেছে এবং বর্তমানে দুই পায়ের তলা থেকে শুরু করে নিতম্ব পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। এর মধ্যে বেশি জ্বালাপোড়া করে দুই পায়ের পাতা (তলা ও পিঠ উভয়) হাঁটুর পেছন সাইড এবং নিতম্ব বিশেষ করে পায়ুর চারপাশ। চেয়ারে আধা ঘণ্টা বসলেই জ্বালা শুরু করে। আবহাওয়া গরম হলে এবং সাবান ব্যবহার করলে জ্বালা আরও বেশি হয়। এ রোগের প্রথম অবস্থায় হোমিও চিকিৎসা করেছি কোনো লাভ হয়নি। এখন প্রচুর পানি খাই। দয়া করে আমাকে পরামর্শ দিয়ে উপকৃত করবেন। দ্বিতীয় সমস্যা ভয়-আমার মনে সবসময় ভয় কাজ করে। লেখার সময় হাত কাঁপে, বুক ধুঁক ধুঁক করে। আর আমার কাছে চরম পর্যায়ে পরীক্ষাভীতি। পরীক্ষা আসার বহু পূর্ব থেকে মনে হয় এত পড়া পরীক্ষার আগে শেষ করতে পারব তো। তাছাড়া আমার দ্বারা পাস হবে তো? এ রকম নানা ভয় আমার মধ্যে সব সময়ে আসে। আর একটা ভয় আমার মধ্যে দেখা যায় তা হচ্ছে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারব কিনা। জীবনের হতাশায় খুব চিন্তিত।
আপনি ট্যাবলেট লেক্সোটানিল ৩ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক করে খান। এর সাথে ভাইটেক্স-এম একটি করে সেবন করুন। এক মাস পরে জানাবেন।
মিসেস শাহিনা আক্তার
গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ
আপনার রোগী আনিছুর রহমান আগের চেয়ে একটু ভালো কিন্তু কতগুলো সমস্যা এখনো আছে। সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকে এবং টেনশন করে, গোমড়া মুখ করে বসে থাকে। এসব সমস্যা কীভাবে দূর করা যায় পরামর্শ দেবেন। এই রোগী দশ বছর যাবৎ আপনার চিকিৎসায় আছে। আজ দশ মাসের মধ্যে দুবার স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। এখন আপনার চিকিৎসায় আছে, চারবার দেখানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত আপনার রোগীর মানসিক অবস্থা তেমন একটা ভালো নয়। চিকিৎসা করাতে ইচ্ছুক কিন্তু রোগীকে কোনোক্রমেই আনা সম্ভব হচ্ছে না। যেভাবেই হোক রোগীকে ভালো করতে হবে। আমি তার দিকে খেয়াল করে দেখি যেখানে বসে দুশ্চিন্তায় বসে থাকে। বলে মন খারাপ লাগে কিছু ভালো লাগে না। আপনার এই রোগীকে যেভাবেই হোক ভালো করে তুলতে হবে তা না হলে আমার বিপদ হবে। কারণ উনি আমার স্বামী। আপনার রোগী এখন এই ওষুধগুলো খাচ্ছে- হ্যালোপেরি, লারগেকটিল, পারকিনিল, কেমকোল্ট (এস) আপনি এই ওষুধগুলো দেখে এবং তার সমস্যাগুলো দেখে অন্য কী ওষুধ লাগবে তা দয়া করে বলে দেবেন। রোগী যখন ঘুম বন্ধ করে দেয় এবং কথা বলা বন্ধ করে দেয় কোনো স্মৃতিশক্তি থাকে না। খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, তখন আমি তাকে কী ওষুধ খাওয়াব আপনি দয়া করে ওই ওষুধটির নাম এবং ব্যবহারবিধি বলে দেবেন।
অবাধ্য রোগী বা যে রোগীকে আনা যাচ্ছে না এই ধরনের রোগীকে আমরা অনেক ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজনের কথা ও তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে সাময়িক চিকিৎসা দিয়ে থাকি। যারা এ ধরনের রোগী নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে যেতে পারছেন না তারা রোগীর বিশেষ বিশেষ উপসর্গসহ ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা সাময়িকভাবে রোগীকে নিরাময়ের মাধ্যমে ওষুধ সেবনে রাজি করাতে পারব। আপনার স্বামীকে ট্যাবলেট মেলিপ্রামিন সকালে ১টি ও রাতে ১টি করে সেবন করাতে থাকুন। আমার দেয়া পূর্বের ওষুধগুলো যথাযথ নিয়মে চালু রাখুন।
মো. হাছান
রাজশাহী
আমার বয়স ২০ বছর। আমার সমস্যা অনেক। পরামর্শ দিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন। (১) স্নায়ুশল্য চিকিৎসা কি? স্নায়বিক দুর্বলতা থাকলে কি এ চিকিৎসা নেয়া যেতে পারে? (২) আমার মাথায় সব সময় কোনো না কোনো বিষয় ঘুরপাক খাচ্ছে। চেষ্টা করে দূর করতে পারছি না। মাথায় বল পাচ্ছি না। বুক ধড়ফড় করে। সারা দিন ও সারা রাত বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। সাহস ও আত্মবিশ্বাস নেই। সামাজিক ভয় রয়েছে। আমি সবই বুঝি কিন' যা বুঝি তা ঠিকভাবে করতে পারি না। কোনো কাজ হওয়ার পর তৎক্ষণাৎ তার ভুল বুঝতে পারি। আমি অহরহ ভুল করি। আমার মাথা গরম এবং আমার অত্যন্ত রাগ হয়। বিষণ্নতা আছে। (৩) আমি পড়তে পারছি না এবং পড়া মনে থাকছে না। পড়ার অত্যন্ত আগ্রহ রয়েছে। ঢাকা মেডিকেল, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল ছাড়াও রাজশাহীর মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েছি। আমি লেক্সোটানিল, ট্রিপটিন, টেলাজিন, ফ্লোনজল এবং টলভন এবং আরও অ্যান্টিবায়োটিকসহ পার্শ্ব ওষুধ খেয়েছি। টেলাজিন খাওয়ার পর উপকার পেয়েছিলাম। কিন' পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকায় অন্য ডাক্তার নিষেধ করেছেন এবং ফ্লোনজল ও টলভন খেতে থাকায় পড়াশোনায় খুব ভালো মনোযোগ হয়েছিল এবং খুব ভালো উপকার হয়েছিল। প্রতিক্রিয়ার জন্য বাদ দিয়েছি। আমার অ্যান্টিবায়োটিক সহ্য হয় না। এখন অত্যন্ত কঠিন অবস্থায় রয়েছি।
স্নায়ুশল্য বলতে স্নায়ুসংক্রান- সার্জারি চিকিৎসাকে বোঝায়। এটি নানা প্রকারের রয়েছে। প্রশ্নে মনে হয় আপনি মানসিক কারণে ব্রেন সার্জারির ওপর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এটি বর্তমানে পৃথিবীতে আর করা হয় না। যা হোক আপনার অসুখের জন্য আপনি আমাদের পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন।
মো. বনি আমিন
ঢাকা
আমার আব্বু একজন ব্যাংকার। তিনি সোনালী ব্যাংকে অফিসার ক্যাশের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ব্রেন স্ট্রোক করেন এবং তার ডান পার্শ্ব প্যারালাইজড হয়ে যায়। তারপর তাকে ঢাকা মেডিকেল, নিউরোলজি ফাউন্ডেশন হাসপাতালসহ এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, হোমিওপ্যাথি ডাক্তারসহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা করানো হয় এবং সাথে প্রথম দিকে ফিজিওথেরাপিস্ট দ্বারা এবং বর্তমানে আমি ব্যায়াম করিয়ে যাচ্ছি। এত দিনের চিকিৎসায় আব্বু হাঁটতে পারেন অনেক দিন থেকে। কিন্তু তার হাত দিয়ে কোনো কাজ করতে পারেন না। এমতাবস্থায় বিভিন্ন লোকে আব্বুকে ভারত গিয়ে চিকিৎসা করাতে বলেন। তাদের মতে সেখানে এর ভালো চিকিৎসা আছে। যার মাধ্যমে ভালো হওয়া যায়। দু একজন নাকি ভালো হয়ে ফিরে এসেছে। এখন আব্বু ভারত গিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এদিকে অনেকে বলে এসব ভুল কথা। এখন আপনিই বলুন আব্বুকে কি ভারতে যাব যদি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাহলে যত কষ্ট করেই হোক আব্বুকে ভারত পাঠাব। আমাদের দেশে কোনখানে কোন ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা করালে ভালো হবে জানাবেন।
আপনি অনেক কষ্ট করে পিতার সেবা করছেন তা চিঠি পড়ে বোঝা যায়। এ জাতীয় প্যারালাইসিস রোগে টুকটাক ওষুধ ও ফিজিওথেরাপি সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা। ভারত, পাকিস্থান, বার্মা, শ্রীলঙ্কা এবং এমনকি পৃথিবীর কোথাও এ রোগে এর চেয়ে ভালো চিকিৎসা নেই। আরও দিন গেলে আপনার পিতা হাতে লিখতে পারবেন ও অন্যান্য যাবতীয় কাজ করতে পারবেন। কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে ও আপনি যেভাবে তার নার্সিং চালিয়ে যাচ্ছেন তা অব্যাহত রাখুন। কোথাও কোনো দেশে যেতে হবে না।
আনোয়ার হোসেন
বগুড়া
আমার বয়স ২০ বছর। আমার সমস্যা হলো যৌবনের প্রারম্ভ থেকেই বদঅভ্যাসে জড়িত। এখন অনেক সমস্যায় ভুগছি। যেমন- আমার মুখে দাড়ি নেই, সামান্য কিছু থুতনির নিচে রয়েছে কিন্তু কখনো বড় হয় না। আমি ফর্সা ছিলাম কিন্তু কালো হয়ে গেছি এবং চামড়া মোটা হয়ে গেছে। আমার মাথায় সব নেতিবাচক চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে এবং কল্পনা ভেসে উঠছে তাড়াতে পারছি না। আমার খুঁতখুঁতে ভাব এবং বিষণ্নতা রয়েছে। আমার মাথা গরম, এমনিতেই রেগে যাই। মাথা স্বচ্ছ এবং মস্তিষ্কের গঠন ভালো নয়। আমার মাথা হাল্কা পাতলা। কথা গুছিয়ে বলতে পারি না। মানুষের সঙ্গে মিশতে পারি না। পরিবেশের সঙ্গে খাপ খেতে পারি না। উদ্যম নেই, উৎসাহ নেই। মন খারাপ থাকে। চোখ বসা, আমার মনে হয় আমি গুরুতর স্নায়বিক এবং হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছি। আমি পড়তে পারছি না। চা খেলেই পড়ায় মনোযোগ হয়। আমি বেঁটে, আমার হাত-পা সবই চিকন অথচ পেট তথা বক্ষ প্রদেশ খুবই মোটা। মনে হয় রক্তসংবহনতন্ত্র পরিষ্কার নয়। আমি রক্তস্বল্পতার শিকার হয়েছিলাম। রক্ত চলাচল ভালোভাবে করতে পারছে না। শরীরটা গিটগিট, জ্যাম ও বন্ধ মনে হয়। ডাক্তার সাহেব বাংলাদেশে কি স্নায়বিক ও হরমোনজনিত রোগের ভালো চিকিৎসা রয়েছে? তাহলে কীভাবে আমার অ্যান্টিবায়োটিক সহ্য হয় না। আমি ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল, টেলাজিন, ট্রিপটিন, টলভন খেয়েছিলাম। আপনার পরামর্শের অপেক্ষায় রইলাম।
আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার চিঠি পেয়ে আমরা খুশি হলাম। আপনার মানসিক সমস্যাগুলোর জন্য ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল সকালে ১টি ও রাতে ১টি করে সেবন করুন ও এক মাস পরে দেখা করুন।
মো. মঈন উদ্দীন
বিশ্বনাথ, সিলেট
আমার সমস্যা হচ্ছে ছোট ভাইকে নিয়ে। ৮-৯ বছরের ছেলে হিসেবে যতটা দায়িত্ব সচেতন থাকার কথা সে তার অর্ধেকও না। স্কুলে যাওয়ার সময় ওর হাত থেকে বই, কলম পড়ে গেলে বলতে পারে না। ছাতা নিয়ে গেলে সেটি রেখে আসে। পড়ালেখার সময়সীমা আমাদের পরিবারে অত্যন্ত সুন্দরভাবে করা থাকলেও সে সময়মতো বসবে না। এর জন্য ওকে মার খেতে হবে জেনেও ভুলে খেলাধুলা বা যে কাজে ছিল সে কাজেই থাকবে। ও ঠিক বোকা না আবার অনেক কাজ করে যা বোকাকেও হার মানায়। তাই সে কড়া শাসনের শিকার হয়। সর্বোপরি ওর কাজের প্রতি অনীহা, আত্মবিশ্বাসহীনতা, নার্ভাসনেসের সমস্যা রয়েছে। আমার বয়স ১৮ বছর। ছোটবেলা আমারও প্রায় ওর মতো সমস্যা ছিল। যা আজও শতভাগ কাটিয়ে উঠতে পারিনি। তাই আমি আমার ছোট ভাইয়ের প্রিপারেশন এখন থেকেই নিতে চাচ্ছি। এটা কি কোনো বংশগত সমস্যা? না অন্য কিছু। সমাধান দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।
এ জাতীয় শিশুদের সমস্যা অবাধ্যতাজনিত। আপনি ওকে নিয়ে মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
জাবেদ খান
মতিঝিল, ঢাকা
আমার বয়স ২৮ বছর। আমার বুকের বামপার্শ্বের মাঝখানে ভারী লাগে। মনে প্রশান্তি পাই না, মাঝে মাঝে পেট মোচড় মারে, তখন মনের অশান্তি আরও বেড়ে যায়। মনে হয় ভয় পাই। রস্টিল খাওয়ার পর পেটের মোচড়টা কমেছে। কিন্তু এখনো বুক কিছুটা ভারী হয়ে থাকে, মনে প্রশান্তি নেই। খুব সম্ভবত বুকে গ্যাস জমে। গ্যাসের জন্য এন্টাসিড, রেনিটিড খেয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এখন আমার সঠিক ওষুধ দেবেন কি? আমি এন্ডোস্কপিও করেছি, সব নরমাল আছে। উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম। রস্টিল খাওয়ার পাশাপাশি আপনি ক্যাপসুল এভিলিন ১০ মিলিগ্রাম সকালে ১টা রাতে ১টা করে সেবন করুন। এক মাস পরে আমাকে জানান।
টনি
ফেনী
দুমাস হলো বিয়ে করেছি। দীর্ঘদিন ধরে ইনসমনিয়া রোগে ভুগছি। সপ্তাহের মধ্যে একদিনও ভালো ঘুম হয় না। এ জন্য দিন দিন আমার স্বান্থ্য খারাপ হচ্ছে। শরীরে লাবণ্য নেই, চোখ ভেতরে বসে গেছে, খুবই ক্লান্তি লাগে, প্রচুর ঘাম হয়। এ জন্য আমি মানসিক বিশেষজ্ঞদের কাছে অনেকবার গিয়েছি এবং তাদের দেয়া ওষুধ যেমন অ্যামিট্রিপটাইলিন, লুডিওমিল, ট্রিপটিন, রিভোট্রিল, প্রোপানল, মটিভাল, ডেনজিট ইত্যাদি সেবন করেছি। যত দিন সেবন করি ততদিন ঘুম হয় ছেড়ে দেয়ার পর আর হয় না। তাই এ নিয়ে প্রচণ্ড হতাশা আর দুশ্চিন্তায় আছি। আসলে ওই রোগের কি কোনো ওষুধ নেই? পত্রিকায় দেখলাম আমেরিকার হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের চিকিৎসকগণ বিড়ালের ওপর গবেষণা চালিয়ে ইনসমনিয়া রোগের ওষুধ তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে কি ওই রোগের ওষুধ পাওয়া আপাতত সম্ভব হচ্ছে? দয়া করে পরামর্শ দিয়ে চিন্তামুক্ত করবেন।
ক্রনিক ইনসমনিয়া বা ঘুমের সমস্যা আমাদের দেশের অনেকেরই রয়েছে। এটি ওষুধ দ্বারা সাময়িক পরিত্রাণ করা যায় মাত্র। আপনি ট্যাবলেট ইমোভান ৭.৫ মিলিগ্রাম প্রতি রাতে ১টি করে পনেরো দিন সেবন করুন। পরে আমাকে জানান।
হাবিব
রাজবাড়ী
আমার সমস্যা হচ্ছে অতিরিক্ত ঘাম। দু ধরনের ঘাম হয়। সামান্য হেঁটে এসে বসলে বা দাঁড়ালে ঘাম শুরু হয়। সামান্য পরিশ্রম করলে প্রচণ্ড ঘাম হয়। অপরিচিত কারও সাথে আলাপ করলে (তবে তিনি যদি আমার চেয়ে বেশি শিক্ষিত সুন্দর, ধনী হন) ঘাম শুরু হয়। কোনো কাজে যেমন লোকের সামনে কিছু লিখলে বা কয়েকজন যদি আমাকে ফলো করে তবেই ঘাম শুরু হয়। কোনো সুন্দরী মেয়ের সাথে কিংবা কয়েকজন যদি আমার সাথে আলাপ করে তবে ঘাম শুরু হয়ে যায়। যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে গেলে ঘাম হয়। এগুলো কি শারীরিক দুর্বলতা, হীনম্মন্যতা, নার্ভাসনেস, ফোবিয়া? ওই রোগের কারণে আমি লোকের সাথে মিশতে পারছি না। দয়া করে পরামর্শ দিয়ে আমাকে বাঁচাবেন।
আপনার অসুখটির নাম সামাজিক ভীতি। আপনি ট্যাবলেট রিভোট্রিল সকালে চার ভাগের এক ভাগ ,রাতের বেলা অর্ধেক এভাবে পনেরো দিন সেবন করুন।
মো. জুয়েল আহমদ
হেতিমগঞ্জ, সিলেট
আমার বয়স ১৮ বছর। আমার স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালো। আমি একজন ছাত্র। দীর্ঘ দুবছর থেকে আমার বুকের ডান পাশে ব্যথা করে। আমি প্রথমে হার্ট ও মেডিসিন বিভাগের ডাক্তার এবং বাথ ও ব্যথা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাই। তারা আমাকে ব্যায়াম করতে বলেন। আমি তা করেছি। আমার ব্যথা সারছে না। এ নিয়ে আমি খুব হতাশায় আছি।
আপনি সত্বর আমাদের পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
খোরশেদ আলম
খিলক্ষেত, ঢাকা
আমার বয়স ২৫ বছর। সারাক্ষণ মাথা গরম থাকে। এই সমস্যাগুলো দুই বছর ধরে। অদ্ভুত কল্পনা ও সারাক্ষণ মেয়েলি ভাবনা ভাবতে থাকি। প্রচুর টেনশন ফিল করি এবং সারাক্ষণ মনমরা হয়ে থাকি। কারও সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না। কথায় জড়তা এসে যায়। সারাক্ষণ মেয়েদের নগ্ন ছবি দেখতে ভালো লাগে, পরে মাথাব্যথা করে, কোনো কাজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। আত্মহননের পথ বেছে নিতে মন চায়। অনেকে বলে আমি বিষণ্ন রোগী।
আপনি ক্যাপসুল নরট্রিন ১০ মিলিগ্রাম সকালে ১টা রাতে ১টা করে সেবন করুন। ১ মাস পরে আমাকে জানান।
মো. শরীফ
মিরপুর, ঢাকা
আমার বয়স ২৩ বছর। বর্তমানে আমার কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে- অল্প পরিশ্রমে শরীর ক্লান্ত হয়ে যাই। কাজ শেখার প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। কাজ দেখলে ভয় লাগে। বেশি মানসিক শ্রম বা চিন্তা করলে মাথা ভারি ভারি লাগে। তথা শারীরিক শ্রম করতে পারি না। তাই নিজেকে ছোট এবং বোকা মনে হয়। বিগত এক বছর যাবৎ হেলপার আছি। মনে হয় আমার দ্বারা কোনো কাজ হবে না। বাড়ি ছেড়ে চলে যাই বা এমনকি আত্মহত্যার মতো মহৎ কাজও আমার দ্বারা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ বাঁচতেও ইচ্ছা করে, আবার মরতেও ইচ্ছা করে না। বাবা-মা আমাকে বিদেশে পাঠাতে চায় আমি যেতে ভয় পাই। প্রায়ই সময় মন আপনা-আপনি খারাপ থাকে। মনের মধ্যে হাসি, আনন্দ নেই। মনে অবান্তব ও আকাশ কুসুম কল্পনা আছে। পজিটিভ কোনো চিন্তা করতে পারি না। ভবিষ্যতের কোনো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নেই। কারও কোনো উপদেশ আমার ভালো লাগে না। প্রায়ই সিদ্ধান-হীনতায় ভুগি, কেউ আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে চায় না। আমার বিরুদ্ধে বাড়ির লোক আড়ালে অনেক কিছু বলে। সর্বোপরি হতাশা, ব্যর্থতা, দ্বন্দ্ব মনের কথা খুলে বললে বোঝে না বা অন্য উপদেশ দেয় এবং মন খারাপ থাকে। এই পত্রের সমাধান দিলে আমি আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
আপনার সমস্যা ব্যক্তিত্বজনিত। আপনার প্রয়োজন সাইকোথেরাপির। অবিলম্বে মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
শওকত ওসমান
মহেশখালী, কক্সবাজার
আমার বয়স ১৮ বছর। আমি একজন ছাত্র। একটা চিন্তা বারবার আসে। সারাদিন এই চিন্তা নিয়ে ব্যস্ত। আপনি বলেছিলেন এ রোগটার নাম অবসেশন। আপনার সাথে তিনবার দেখা করেছিলাম। আপনি আমাকে ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল, রিভোট্রিল, পারকিনিল খেতে বলেছিলেন এবং ইসিটিও করেছিলেন। ওষুধ বেশ কয়েক মাস চালিয়েছিলাম কিন্তু ভালো হচ্ছে না। মরে যেতে মনে হয়। কিন্তু তা থেকে মুক্তি পাই না। এখন আমার শেষ চিকিৎসা হচ্ছে বিহেভিয়ার থেরাপি। আসলে বিহেভিয়ার থেরাপি মানে কী এবং এগুলো করতে কত টাকা লাগবে বলবেন।
বিহেভিয়ার থেরাপি অর্থাৎ আচরণ সংশোধন চিকিৎসা। এটি একটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা। আপনি আমার দেয়া পূর্বের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ খেতে থাকুন।
সানোয়ার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
আমার বয়স ২৭ বছর। পেশা ছাত্র। আমার এ মানসিক সমস্যা প্রায় ৫-৬ বছর ধরে। সমস্যা হচ্ছে পড়ালেখা ও পরীক্ষাভীতি। প্রথম সমস্যা হয় ১৯৯৪ সালে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন। পরীক্ষার ২-৩ দিন পূর্বে আমি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ি। টেনশনে খাওয়া-দাওয়া করতে পারতাম না। সর্বদা অস্থির অস্থির লাগত। দিনে ঘুমাতে গেলে সামান্য একটু তন্দ্রা আসার সাথে সাথেই গোটা শরীর কেঁপে কেঁপে উঠত। ছটফট লাগত, পড়ার টেবিলে থাকতে পারতাম না। পরীক্ষা শেষে এ অবস্থা আরও খারাপ হয় এবং সবশেষে আমি কঠিন বিষণ্নতায় আক্রান্ত হই। একজন ডাক্তারের কাছে ওষুধ খেয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠি। এ অবন্থা থেকে আমার রোগের সৃষ্টি। বর্তমানে আমার সমস্যাগুলো হলো লেখাপড়ার চিন্তায় সর্বদা অস্থির থাকি। সব সময় ভয় ভয় লাগে। প্রায়ই সময় বিষণ্নতা, বুকের ভেতর কাঁপতে থাকে ও হা হা করে। খাবারে অরুচি। দিনে ঘুমাতে গেলে ঘুম হয় না পা শির শির করে। যে কোনো সমস্যা বা টেনশনে পড়লে অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। কারও কোনো জিনিস নিয়ে ফেরত দিলেও মনে হয় তা বুঝি ফেরত দেয়া হয়নি এবং এ চিন্তা সর্বদা আমাকে তাড়িত করে। কোনো রোগ হলে সেই রোগ সম্বন্ধে খারাপ চিন্তা সর্বদা মনে ভয়ের উদ্রেক করে। কিছুতেই চিন্তাগুলো তাড়াতে পারি না। দুশ্চিন্তা বেড়ে গেলে ছটফট লাগে। বুক চেপে আসে। যখন পড়ার চাপ থাকে না তখন কিছুটা ভালো থাকি। সবচেয়ে খারাপ লাগে সকালে। আমি এ পর্যন্ত ট্যাবলেট মোডিপ্রান, ক্লোবাজম, রিভোট্রিল এবং ট্রিপটিন খেয়েছি। আসলে আমি কী রোগে আক্রান-, কী ওষুধ খেলে আমি সুস্থ হতে পারব জানাবেন।
পরীক্ষাভীতি আমাদের ছাত্র সমাজের জন্য একটি সাধারণ সমস্যা। পরীক্ষার ফলাফলে যার যত বেশি ভালো করার ইচ্ছা তার ভীতির পরিমাণ ততো বেশি। আপনি ট্যাবলেট লোনাজেপ ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক করে খেতে থাকুন। একমাস পরে যোগাযোগ করুন।
মুহা. হাসমত হোসেন
শিরোমনি, খুলনা
আমার বয়স ২০ বছর। দশ বছর পূর্ব থেকে আমি অজান্তে জিহ্বার এক পাশ দাঁত দিয়ে বিচুতে থাকি। এটা আমি নিজে বুঝতে পারি না। আমার এই রোগ যখন শুরু হয় অন্যকোনো লোক যদি বলে দেয় তখন আমি বুঝতে পারি। অন্যথায় বুঝতে পারি না।
কেবলমাত্র এই সামান্য বর্ণনা থেকে এই রোগ নির্ণয় করা কঠিন। হয়তো বা আপনার মাঝে আরো অনেক উপসর্গ আছে যেগুলো হয়তো বা আপনি অবগত নন। অনেক সময় অবসেসিভ কম্পালশন রোগে এমনটি দেখা দিতে পারে। ব্যক্তির মনের মাঝে নানান উপসর্গ থাকে যেগুলো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলার পর রোগী সর্বপ্রথম এগুলোকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হন। একারণে আমরা আপনাকে বলব কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে এ বিষয়ে কথা বলুন। ঢাকায় এলে মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে একবার ঘুরে যেতে পারেন। আপাতত ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম সকালে ও রাতে ১টা করে সেবন করুন।
জহির
ধানমন্ডি, ঢাকা
আমার বয়স ১৭ বছর। আমার অণ্ডকোষ দুটির একটি ধীরে ধীরে অনেক বড় হয়ে গেছে। ছোট বেলায় দুটি সমান ছিল। ১১-১২ বছর থেকে ধীরে ধীরে একটি বড় হতে শুরু করেছে। দয়া করে বলবেন কি এখন কী করণীয়? এতে আমার কোনো অসুবিধা হবে কি? আমার প্রশ্নের উত্তর পেলে কৃতজ্ঞ থাকবো।
সাধারণত পুরুষের অণ্ডকোষ দুটি সমান হয়ে থাকে। আকারে তেমন একটা পার্থক্য দেখা যায় না। যদি কোনো একটা অণ্ডকোষ অন্যটির তুলনায় আকারে অনেক বেশি বড় হয়ে যায় সেক্ষেত্রে টেস্টিকুলার টিউমারের ঝুঁকি বাদ দেয়া যায় না। টেস্টিকুলার টিউমার সাধারণত এ অল্প বয়সে হয়ে থাকে। আপনি কোনো সার্জারি বিশেষজ্ঞকে দেখাতে পারেন। অবশ্য কোনো এমবিবিএস ডাক্তারকে দেখিয়ে এতে আসলেই কোনো অসঙ্গতি আছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিতে পারেন।
বিপুল হোসেন
ওয়ারী, ঢাকা
আমার বয়স ২২ বছর। আমার সমস্যা ২ বছর ধরে। আমি সবসময় একা একা ঠোঁট নাড়িয়ে কথা বলি। রাস্তা দিয়ে হাঁটলে বাজে সংলাপ, ছবির পাঠ, জীবনসংক্রান্ত চিন্তা, কার সাথে কীভাবে কথা বলব এবং বাজে চিন্তা করি। এমনকি রাতে ঘুমাতে পারি না। অনেক সময় কাঁদি আবার হাসি। স্মরণশক্তি খুব কম। আমার সমস্যার সমাধান দিলে চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।
আপনি অবসেসিভ কম্পালসিভ রোগে ভুগছেন। এক্ষেত্রে ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম রাতে ২টি ও সকালে ১টি করে সেবন করে দেখতে পারেন। উপকার না পেলে একমাস পরে মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
মো. শাকিব
ময়মনসিংহ
আমার বয়স ২১ বছর। পেশা ছাত্র। আমার সমস্যা হলো আমার বয়স যখন ১৪-১৫ বছর হবে তখন রাস্তায় চলাফেরার সময় ট্রাকের ধাক্কায় আঘাতপ্রাপ্ত হই। এতে আমার পুংলিঙ্গের মাঝ বরাবর এবং ঊরুর কিছু অংশ থেঁতলে যায়। তার পরদিন দেখতে পাই আমার পুংলিঙ্গ ফুলে গেছে। আমার আব্বা আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে আমাকে খত্নার পরামর্শ দেন এবং খত্না করা হয়। এখন আমার সমস্যা হলো বর্তমানে আমার লিঙ্গ উত্থিত হলে নিচের দিকে হেলে থাকে। ফলে লিঙ্গ শক্ত অনুভূত হয় না এবং অণ্ডকোষ যেন ঝুলে গেছে। ডাক্তার সাহেব আমি একটি ম্যাগাজিনে দেখেছি এক ধরনের থেরাপির সাহায্যে বাঁকানো লিঙ্গ সোজা করা যায়। যদি সত্যি হয় তবে এ ধরনের থেরাপি কোথায় পাওয়া যাবে জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। দুর্ঘটনাজনিত কারণে লিঙ্গ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বক্র হয়ে যাওয়ার ঘটনা বিরল নয়। সেক্স বিশেষজ্ঞগণ এ বক্রতাকে তেমন একটা গুরুত্ব দেন না, যতক্ষণ না পর্যন্ত তা যৌনমিলনে বাধা সৃষ্টি করে। আপনার সমস্যা নিশ্চয় এতটা তীব্র নয়। লিঙ্গের বক্রতার জন্য একজন ইউরোলজিস্টকে দেখাতে পারেন। আপনি প্রফেসর গোলাম কিবরিয়া ইউরো সার্জনের সাথে দেখা করতে পারেন।
মো. মোহায়মেন
সিলেট
আমার বয়স ১৮ বছর। আমার সমস্যা হলো অতিরিক্ত সংকোচ, আমি সর্বদা নিজেকে অত্যন্ত ছোট মনে করি। আমার মনে প্রেম, ভালোবাসা, আনন্দ, আবেগ, চঞ্চলতা, উৎসাহ বলতে কিছুই নেই। আমার সর্বদা একা একা থাকতে ভালো লাগে। যদি কোনো গুপ্ত গুহার মধ্যে আত্মগোপন করে বাঁচা যেত তবে এটাই আমার জন্য স্বর্গ হতো। আমার এ সমস্যা প্রায় তিন বছর যাবৎ। আমার অতিরিক্ত সংকোচ থেকে কীভাবে পরিত্রাণ পেতে পারি। আমার সংকোচের কারণে পদে পদে আমি লজ্জিত হচ্ছি। তাই আমার বাঁচতে ইচ্ছা করে না। আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ।
আপনি সোশ্যাল ফোবিয়াতে ভুগছেন। এ সমস্যাটি খুবই সাধারণ। এতে শুরুতেই চিকিৎসা করানো বাঞ্ছনীয়। দেরি করলে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে বিলম্ব হয়। আপনার আরো আগে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত ছিল। এক্ষেত্রে আপনি ট্যাবলেট রিভোটি



