Skip to main content

মনের জানালা

আমার অসহায় মা
পৃথিবীতে যতগুলো শব্দ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে মধুর শব্দ ‘মা’। মা কথাটি ছোট অতি কিন্তু যেন ভাই ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই। হ্যাঁ আমি আমার মমতাময়ী অসহায় মায়ের কথা বলছি। আমার মায়ের মুখের দিকে তাকালে আমার দুঃখে বুক ফেটে যায়। আমার মা ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী কিন্তু ছোটবেলা থেকেই অসুস্থতার জন্য পড়াশোনা বেশিদূর করতে পারেননি। তারপর মাত্র ১৫ বছর বয়সে আমার মায়ের বিয়ে হয়ে যায়। আমার দাদার পরিবার ছিল আমার নানার পরিবারের চেয়ে সচ্ছল। তাই অবহেলা, অপমান, লাঞ্ছনা জুটেছে বিয়ের পর থেকেই। আমার বাবা ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। মাত্র ১০ বছর বয়সে মাকে হারান আমার বাবা। তাই অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেন। আমার বাবা মানুষ হিসেবে অত্যন্ত সৎ এবং ভালো মনের অধিকারী ছিলেন। কিন্তু আমার বাবা অত্যন্ত রাগীও ছিলেন। গ্রামের সবার বিপদে বিনা স্বার্থে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। কিন্তু তার সকল রাগ যেন এসে পড়ত আমার দুঃখী মায়ের ওপর। হঠাৎ করে অনেক রেগে যেতেন কারণে-অকারণে। এমনকি মাঝে মাঝে মারধরও করতেন আমার মাকে। আমরা সবাই বাবাকে খুব ভয়ও করতাম। আর সে কারণে আমরা বাবার থেকে মাকেই পছন্দ করতাম। আবার বাবা ছিলেন অলস প্রকৃতির। সংসারে যাবতীয় কাজ আমার মা একাই সামলাতেন। আমার মাকে বাবা অনেক ভালোবাসেন, শুধু রেগে গেলে খারাপ ব্যবহারও করেন। আমার বাবাও অবশ্য অনেক দুঃখী, ইচ্ছা করে বাবার জন্য কিছু করতে কিন্তু সে যোগ্যতা এখনো হয়নি। আমার মা সব সময় কোনো না কোনো অসুখে ভুগতেন। স্থানীয় ডাক্তার দেখাতেন কিন্তু টাকা-পয়সার অভাবে ভালো ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয়নি। কিন্তু এক সময় হঠাৎ অসুখ হওয়ার পর তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ডাক্তার বলছে আমার মায়ের স্তন ক্যান্সার আর বেশিদিন বাঁচবে না। আমরা অনেক দেরি করে ফেলেছি। কিন্তু আমরা কেউ মানতে রাজি নই। যত দিন বেঁচে থাকে তার চিকিৎসা আমরা করাব। তারপর মায়ের ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছে আজ দুই বছর ধরে। প্রায় ৬-৭ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে এখন আমার মা পিজি হাসপাতালে রয়েছে। মায়ের আরও একটি অপারেশন লাগবে। তার জন্য সবকিছু ঠিকঠাক ও ওষুধপত্র কিন্তু হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার সময় আমার বাবা অ্যাক্সিডেন্ট করেন। আমার বাবার চোখে ছানি পড়েছে, ভালো করে দেখতেও পারে না। আমার ছোটবোন ক্লাস সিক্সে পড়ে এবং আমার ছোট ভাই মাত্র অনার্সে ভর্তি হয়েছে। আর আমার পড়াশোনাও শেষ হয়নি। বাবা-মাকে সাহায্য করতে পারছি না এ দুঃসময়ে। আমার ভাইয়ের মাথায়ও একটি টিউমার, জানি না চিকিৎসা করাতে পারব কি না। আপনারা আমার বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করবেন। তারা যেন তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যান। মা আপনাকে বলছি আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি। আমাদের ছেড়ে এই পৃথিবী থেকে এত তাড়াতাড়ি চলে যাবেন না।

তুশি
গলাচিপা, পটুয়াখালী
ফোনঃ ০১৭৩৯-০৬২০৫০

বাবা তোমায় ভালোবাসি
বাবা-মায়ের অবদানেই আমরা পৃথিবীতে আসি। অথচ একটা সময় তাদের অসহ্য মনে হয়। অবশ্য তাদের বুক নিংড়ানো ভালোবাসায় ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠি। স্বার্থপরের মতো ভুলে যাই তাদের কষ্টের করুণ কাহিনী। এটা যেন আমাদের সমাজের একটা অংশ।
আমার জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্র ছিল মাকে ঘিরে। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ছিল কিন্তু ভালোবাসা অনুভব করতাম না। আজ মনে হচ্ছে বাবা তোমাকে খুব খুউব ভালোবাসি। তুমি বিশ্বাস করবে কি না জানি না মায়ের সাথে যখন অকারণে রাগারাগি করতে, অপমানিত করতে খুব কষ্ট হতো আমার। ছোট ছিলাম বলে কেউ শুনত না আমার কথা, বলতেও পারতাম না। মায়ের চোখের জল আমাকে বিদ্রোহী করে তুলত। মনে হতো মরে যাই, এ রকম অশান্তি আর ভালো লাগে না।
সত্যি কথা বলতে কি দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে আজ প্রেক্ষাপট সব পাল্টে গেছে। আজ যার শুধু ভালোবাসা পাওয়ার কথা সে কেবল অযৌক্তিকভাবে অবহেলা আর গঞ্জনার শিকার। বাবা-মায়ের কষ্ট দেখে মনে হয় সন্তান জন্ম দেয়া এক মহা ভুল। সন্তানের কাছে লাঞ্ছনা আর বঞ্চনার যে কী কষ্ট তা তোমাদের দেখে উপলব্ধি করতে পারি।
আমার বাবার সবচেয়ে আদরের সন্তান হলো আমার বড় ভাই। বাবা কখনো কি ভেবেছিলে তোমার সবচেয়ে আদরের সন্তানটি তোমাকে কষ্ট দেবে। শিক্ষা-দিক্ষা ও কর্মজীবনে সাফল্যের দাবিদার হয়েও এ কেমন ব্যবহার জন্মদাতার সাথে। অকথ্য ভাষার মাধ্যমে পিতার চোখের জল ঝরায়, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়, উপর থেকে নিচে ফেলে দেয়। বিত্ত বৈভবের কাছে মনুষ্যত্ব হারিয়ে গেছে। বিলীন হয়ে গেছে বাবার আদর-ৱেহ-ভালোবাসা। প্রতি মাসে কিছু টাকা হাতে ধরিয়ে দিলেই সন্তান হিসেবে দায়িত্ব শেষ। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছার বড় অভাব। বাইরের লোকদের জন্য উদারভাবে খরচ করতে বাধা নেই, সংসারের কারও জন্য কিছু করলেই হিসাব।
একবারও ভাবে না বাবা-মা, ভাই-বোনদের প্রতি রয়েছে দায়িত্ব। দায়িত্ব পালন করলেই সে পাবে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। বাবার অহংকার ছিলে তুমি...কিন্তু বাবার মনের ক্ষতস্থানে কষ্টের প্রলেপ এঁকে দিলে নির্দ্বিধায়। আমার সামনে যখন তোমাকে কটূক্তি করে আমার বুকটা কষ্টে ভেঙে খান খান হয়ে যায়। বুকটায় টনটন একটা ব্যথা অনুভব হয়। প্রতিবাদ করতে ইচ্ছা করে কিন্তু পারি না। কারণ আমি যে সংসারে আর্থিক সাহায্য করতে পারি না। বাবা তোমার জন্য নীরবে-নিভৃতে চোখের জল ঝরে। এমনও হয় সারারাত ঘুমাতে পারি না। বাবা তোমাকে যে এত ভালোবাসি সেটা নিজেও জানতাম না। তোমার চোখের জল আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে বাবা হওয়াটা আনন্দের চেয়ে কষ্টের বেশি। আজ কেবল মনে হয় আমার বুঝতে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তোমার জন্য কিছুই করতে পারি না, এটা আমাকে যন্ত্রণা দেয়। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করছি তোমার কষ্ট দূর করার জন্য।
বাবা তোমার কষ্টগুলো আমাকে বলে দেয়...তোমাকে অনেক ভালোবাসি।

সাদিয়া খানম
কাওলার মেইন রোড, উত্তরা, ঢাকা
ফোনঃ ০১৭২১-১৫০১৯০

আজ আমি অনেক সুখী
‘সুখের মাঝেই জীবন আমার, দুঃখ ছিল সাথী; আবার দুঃখ দূরে সরে গিয়ে সুখ যে হলো সাথী।’ হয়তো এটাই জীবন, আর প্রতিটা মানুষের জীবনেই এ রকম হতে পারে আর হবে এটাই বাস্তব। জীবনের এই মধ্য অবস্থায় এসে বুঝতে পারলাম ‘আজ আমি অনেক সুখী’। সত্যিই তাই খুঁজে পেয়েছি মেরিন নামক সেই মানবী জাহাজটি যাকে ঘিরে এখন আমার বেঁচে থাকার সব স্বপ্ন। আর তা সম্ভব হয়েছে গত ১১-৮-২০১০ তারিখে। তার বিশাল ভালোবাসার ছোঁয়ায় আমি আজ পরিপূর্ণ। এত সুখের মহিমায় এখন ছোটখাটো কোনো দুঃখ, কষ্ট আমায় স্পর্শ করতে পারে না। আমার জীবন চলার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনোজগতে লেখা ‘এখনো তোমায় খুঁজি, নেবে কি একটু কষ্ট’ এই শিরোনামের সকল পাঠক-পাঠিকাকে জানাই আমার হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে অফুরন্ত ভালোবাসা। তোমরা আমার নতুন লেখাটি পড়ে খুশি হবে যে আজ আমি অনেক সুখী। লেখাপড়া থেকে দূরে সরে গিয়ে আবার নতুন করে পড়ালেখা করে পদার্থবিদ্যা বিভাগ থেকে ভালো রেজাল্ট করে অনার্স কমপ্লিট করতে পেরেছি। ভুলতে পেরেছি ফেলে আসা সেসব দিনের কথা যেখানে দুঃখরা আমাকে সারাক্ষণ কাঁদাত। স্থির হতে পারতাম না কোনো কাজে। আজ আমার সব হয়েছে, হয়েছে জীবন চলার সহজ পথ। মনের ভেতর ভালো চিন্তা থাকলে সব সময় সুখী হওয়া সম্ভব। আর তাই আমার সব সুখ হলো মেরিন। মেরিনকে নিয়েই হয়েছিল আমার এবারের পয়লা বৈশাখ, এক অন্য রকম ভালোবাসা এবং অনুভূতি যা কখনো ভুলে যাওয়ার নয় এবং ভুলতে পারব না। মনোজগতের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলাম আমার সুখের বার্তা। তোমরা আমার সুখটাকে গ্রহণ করে নিয়ো তোমাদের দুঃখের পাশে। তোমাদের জীবনে আমার আশার প্রদীপ জ্বলে থাকবে অনন্তকাল। আমাকে তোমরা ভুলে যেয়ো না, তোমরা সবাই ভালো থেকো এমনি করে। পরিশেষে একটি কথাই বলব; সত্যিই আমার জীবন এখন আলোকময় এবং ‘আজ আমি অনেক সুখী’।

বিপ্লব
বানিয়ারচালা, গাজীপুর
ফোনঃ ০১৭১৬-২৩৪৭৪৪

ভালোবাসি বলে প্রিয়
কেবল তোমাকে ভালোবাসি বলে প্রিয় আমার
নীরবে সয়েছি লাঞ্ছনা-গঞ্জনা, মিথ্যা অপবাদ,
আরব্য উপন্যাসের মতো আজগুবি কথা যত
নির্বাক হয়ে মেনেছি সেসব জ্বালা, করিনি প্রতিবাদ।
হজম করেছি কত রাঙা চোখের বাঁকা চাহনি
সহ্য করেছি শারীরিক নির্যাতন কতবার নিশ্চল দাঁড়িয়ে
তেরো শ দিনের বিচ্ছেদে বাঁচা কত অকারণ অবহেলা
ছন্দময় জীবনে নেমেছে অন্তহীন কষ্ট তোমাকে হারিয়ে।
মাঝে মাঝে কবিতা লিখি, গান গাই উন্মুক্ত জনতার মঞ্চে
কেবল তোমাকে ভালোবাসি বলেই বুঝি এত কিছু সম্ভব
ক্ষুধার্ত সারা দিন-জীবন কাটে চরম অনিয়মে এলোমেলো
উদাসীন মনে তবু বাঁচার আশা-হয়তো ব্যর্থ চেষ্টা সব
বন্ধুদের আড্ডায় কখনো মৌন, কখনো বা হয়ে যাই মুখর
অসুস্থ রাজনীতির ধারা, সাহিত্যের ব্যর্থ মান বিচারে ঝড়ে
বিপন্ন সমাজ শিক্ষা ও ধ্বংসের বীভৎস সংবাদের ফাঁকে
বিচিত্র চিন্তার সাগরে ডুবেও কেবল তোমাকেই মনে পড়ে।
নিদ্রাহীন বহু রাত কাটে উদ্বিগ্নতা আর অস্থিরতায়
প্রায়শই ভোর হয় তোমাকে ভেবে ভেবে ধ্যানে ও মগ্নতায়
আবার কখনো সোডিয়াম রাতে রাস্তায় একাকী পথচলা
কখনো বা কবিতায় গোপন শান্তি খোঁজে আপন আত্মা
কবিতা যেহেতু সত্য ও সুন্দরের কথা বলে নির্বিঘ্নে অবলীলায়
তাই স্বীকার করতে দ্বিধা নেই শুধু তোমাকে ভালোবাসি বলে
ফিরিয়ে দিয়েছি অগণিত চুম্বনউদ্যত কোমল মায়াবী মুখ
ফেলে দিয়েছি মিষ্টি ভাষার লেখা প্রেমপত্র বুঝেও না বোঝার ছলে
ছেড়েছি সকল প্রিয়জন, সম্পদ, স্বাস্থ্য এমনকি আপন গৃহ
নিজের যা কিছু সঞ্চয়, শুধু অভিজ্ঞতাটুকু রেখেছি ধরে
তবু সত্যের আগুনে পুড়ে এ জীবন খাঁটি ও নিষ্পাপ হোক
জানি পৌঁছে যাব ভালোবাসার স্রোতে তোমার কাছেই ফিরে।

এসএম শাহজাহান
শ্যামলী, ঢাকা
ফোনঃ ০১৭২৫-৪৩৮২৭৯

হৃদয়ের শূন্যতা
এ জীবনে সুখ, শান্তি, সাফল্য আর ঈর্ষা করার মতো একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ আর কিছু স্বপ্ন ছিল। কিন্তু হঠাৎ এক কালবৈশাখী ঝড়ে পাল্টে গেছে আমার জীবনধারা। নক্ষত্র যেমন মাঝে মাঝে নিজে চলার পথ হারিয়ে ফেলে, মরুভূমিতে যেমন ঝড়ের সৃষ্টি হয় ঠিক তেমনি আমার হৃদয়ের আকাশে জমেছে এক কালো মেঘের ছায়া। অমাবস্যার রাত। এ ক্ষুদ্র জীবনে যেমনিভাবে পেয়েছি অতি ভালো কিছু বন্ধু ঠিক তেমনিভাবে কুয়াশার ধূম্রজালের মতো হারিয়ে গেছে অতি কাছের কিছু বন্ধু শুভাকাঙ্ক্ষী। মানুষ যখন খুব কষ্টে থাকে দুঃখ-বেদনা কিংবা অসময়ের মধ্যে থাকে, তখন মনে মনে যে শুধু চায় তার দুঃখটা কেটে যাক দুঃখ-বেদনা চলে যাক একদম জীবন থেকে। কিন্তু যেটা ভুলে যাওয়ার নয় যেমন-
হারানো দিন, হারানো সময়, হারানো মানুষগুলো ফিরে আসে না কোনো দিন। কিন্তু সুখ-দুঃখ তারা বিস্তৃতের মাধ্যমে তলিয়ে না গিয়ে ভেসে বেড়ায় আপন মহিমায়।
মনে মনে যে শুধু সুসময়কে ডাকে, সুখ এবং আনন্দকে ডাকে। হৃদয়ের গভীর থেকে বলে আজকের পর থেকে জীবনের যে কোনো কষ্টের মুহূর্তে দুঃখ-বেদনা এবং সব সময়ে আমি কেবল তোমাকেই ডাকব। মনে মনে বলব এসো, এসো তুমি। হয়তো এ চাওয়ার কারণেই কর্মব্যস্ত দিনশেষে যখন ঘুমের ঘোরে স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে যাই তখন ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব ঘটে একটি সুন্দর মুখের। যে মুখটির দিকে সারাক্ষণ তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে। বলতে ইচ্ছা করে তোমাকেই যেন ভালোবেসেছি শতরূপে শতবার। জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার। চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয় গেঁথেছে গীতহার। কতরূপ ঝরে পড়েছে গলায় নিয়েছে যে উপহার জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।

মো. সাইফুল ইসলাম
চট্টগ্রাম
ফোনঃ ০১৮১২-৯১৭৮৩৬

রোকেয়া
তুমি আছো পড়ার টেবিলে
তুমি আছো কলমের নিবে;
তুমি আছো প্রার্থনার মধ্যভাগে
তুমি আছো পার্কে, রেস্তোরাঁতে।

তুমি আছো চোখের কোণে
তুমি আছো স্বপ্নের ভেতরে
তুমি আছো বৃষ্টির ঝমঝম শব্দে,
তুমি আছো বিলের শাপলার মাঝখানে।

তুমি আছো আকাশের নীলে.
তুমি আছো মোমের শিখাতে,
তুমি আছো শিশির ভেজা দূর্বাঘাসে,
তুমি আছো মাঠে শস্যের হলুদ ফুলে।

তুমি আছো আমার মুঠোফোনে
তুমি আছো দৃষ্টির সীমানাজুড়ে।

তুমি আছো শরীরের লোমকূপে
তুমি আছো তারাভরা মধুর জ্যোৎৱা রাতে
তুমি আছো অস্তিত্বের সমস্ত উঠোনজুড়ে।

তুমি আছো সকালবেলার পাখির কিচিরমিচির রবে
তুমি আছো পদ্মা নদীর মাঝির বৈঠাতে,
তুমি আছো উত্তরে-দক্ষিণে আর পুবে-পশ্চিমে
তুমি আছো নিষ্পাপ শিশুর অমলিন হাসিতে।

তুমি আছো মোনালিসার দুষ্টমিভরা হাস্যময় চাহনিতে
তুমি আছো নিঃশ্বাসে-বিশ্বাসে, চিন্তা-চেতনা ও ভাবনাতে
তুমি আছো রক্তের প্রতিটি বিন্দুকণাতে।

তুমি আছো মঙ্গাপীড়িত ও বন্যাকবলিত মানুষের হাহাকারে
তুমি আছো অন্তরে-বাইরে সবখানে;
তুমি আছো ভালো-মন্দ সবকিছুর সঙ্গে
তুমি আছো মরুভূমির তপ্ত বালুরাশিতে,
তুমি আছো পথ চলতে, কাজকর্মে সর্বদাই সঙ্গী হয়ে
তুমি আছো শত দুঃখ-কষ্ট ও অসহ্য যন্ত্রণার মাঝে।

জয়নুল আবেদীন তুহিন
ফোনঃ ০১৭১৮-৭৮৭১৩১
e-mail : tuhinabedin@gmail.com

টুনাটুনির ভালোবাসার গল্প
এক ছিল টুনা আর এক ছিল টুনি। দুজনই বাস করত দূরের দুই অচিন গাঁয়ে। প্রকৃতির খেয়ালে হেমন্তের এক বিকেল বেলায় দুজনের দেখা হয়ে যায়। তারপর প্রতিদিন একসাথে ঘুরাঘুরি, ডাকাডাকি, গান করা, দুষ্টমি, চিমটিকাটা, মান-অভিমান, এভাবেই দুজনে মিলে কাটাতে থাকে দিন।
ঋতুর পালাবদলে বর্ষাকাল আসতে বেশি দেরি নেই। তাই দুজনে মিলে ছোট একটা বাসা বানানোর কাজে লেগে পড়ে। পালক, পশম, সুতা, গাছের পতিত তুলো দিয়ে এক এক করে তিন দিনে অনেক কষ্টে দুজনে বাসাটি তৈরি করে। বিকেলে দুজনে খেতে বের হলো। বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা। তখনি মুষলধারে বৃষ্টি নামতে শুরু করল। বাসায় জড়োসড়ো হয়ে দুজনে শুনতে লাগল বৃষ্টির রিনিঝিনি সুর। টুনি বলল, এই টুনা চলো না আজকের রাতটা দুজনে গল্প করে কাটিয়ে দিই। তারপর এভাবেই চলতে থাকল টুনাটুনির ভালোবাসার গল্প।

দিগন্ত সৌরভ
ধানমন্ডি, ঢাকা
ফোনঃ ০১১৯৯-৩৩১৩৮৫, ০১৯৭১-৯২৯৯৩৩

অন্য মানুষ
সময়ের গতির ঘোড়ায় চড়ে মানব সভ্যতা দিন দিন উন্নতি আর উৎকর্ষতার দিকে এগিয়ে চলছে। কিছু মানুষ তার চিন্তা ও চেতনা ও বুদ্ধিবৃত্তিকে মানব কল্যাণে নিয়োজিত করছে। অন্যদিকে আদিম যুগের অবসান হলেও কিছু মানুষের ভেতর থেকে আদিমতা লোপ পায়নি। যে আদিমতা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের দেহ-মনে বাসা বেঁধেছে। এখনো তার মৃত্যু হয়নি। যে কোনো মুহূর্তে মানুষের সেই আদিম কাম-তাড়না মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সুযোগ পেলেই তা নিরাভরণ ও নগ্ন হয়ে বেরিয়ে পড়ে। জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষক। আজ এমন কিছু শিক্ষক আছেন যারা অর্থলোভী। শিক্ষাকে তারা ব্যবসা হিসেবে দেখছেন। শিক্ষার্থীকে বানিয়েছেন পণ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে কষাইখানা খুলেছেন। এক কথায় বলা যায় প্রাইভোট পড়ো না হয় ফেল করো। আবার কেউ কেউ প্রতিষ্ঠানে কোচিং সিস্টেম চালু করেছেন। সুস্থ সুন্দর মানুষ অন্ধ সেজে রাস্তার পাশে ভিক্ষা করছেন। যে ব্যবসায় লাগে না কোনো মূলধন। শুধু একটু অভিনয় আর মিথ্যা বলার অভ্যাস। কেউ কেউ আছেন যারা খুব তাড়াতাড়ি অতীত ভুলে যান। অতীতে কী করতেন? কোথায় ছিলেন? কীভাবে ছিলেন? কেমন ছিলেন? সামান্য কিছু টাকা আর ভোগ-বিলাস তাদের জীবনের বড় অহংকার। নিজেদের সমাজের সবচেয়ে দামি ব্যক্তি মনে করেন। অহংকার তাদের একমাত্র সঙ্গী। বিচারকের সামনে বসে ভালোবাসার বিচার করছেন। আজ বাবা-মা তাই ভালোবাসার চরম শত্রু অথচ একদিন তারাই ছিলেন ভালোবাসার পূজারি। অন্য একজনের স্ত্রীকে আটকিয়ে রেখেছেন। হত্যা করতে চেয়েছেন দুটি নিষ্পাপ জীবনের ভালোবাসাকে। স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র সম্পর্ককে যারা গলা টিপে হত্যা করে তারা কি? ছবি, চিঠি আর কল্পনা জীবনের কিছু সময়। স্বপ্ন আর চোখের জল জীবনের বাস্তবতা। চোখের সামনে ভেসে ওঠে পত্রিকায় প্রকাশিত সেই ছবি। হেনা নামের ১৪ বছরের কিশোরী বাবার বয়সী নরপশুর হিংস্র থাবায় শেষ হলো ফুটন্ত একটা নিষ্পাপ ফুলের। ফোটার আগেই পাপড়িগুলো ছিঁড়ে দিল সমাজের মানুষরূপী হায়েনাগুলো, কিছু অসাধু আইনের রক্ষক ভক্ষণ করে ফেলল আইনের চোখ। বিধাতার পরে যদি কেউ মানুষকে বাঁচাতে পারে তারা ডাক্তার। এ মহান পেশাকে কলুষিত করে দিল অর্থলোভী কজন মাত্র। সমাজের উঁচুতলার মানুষগুলো খুবই বিবেকবান। এসির ভেতরে বসে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। সফল হয়েছেন খুবই কম। পরীক্ষায় প্রথম কিন্তু চাকরি নেই। মোটা মামা আছে যার চাকরি শুধু তার। অর্থাৎ টাকা দাও চাকরি নাও। সমাজের প্রতি স্তরেই এমন কিছু অন্য মানুষ দেখা যায়। পৃথিবীর আলো আজ পর্যন্ত তাদের নাগাল পায়নি। আর কোনো দিনই পাবে না। বাবা মেয়েকে ভালোবাসে এটা স্বাভাবিক। কিন' সেটা যদি একটু সুখ ও শান্তির পরশ হয়। এটি একটি নৈতিক চরিত্র। সৃষ্টির আদিম বর্বরতাও পেছনে ফেলে তাদের চরিত্রে। এসব অন্য মানুষের চরিত্রের নিষ্ঠুরতা, হীনম্মন্যতা, নারীলোলুপতা, পাশবিকতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য মানব সভ্যতার ইতিহাসকে পেছনে ফেলে জীবনকে রঙ্গমঞ্চ করে তুলেছে। কুকুরের মাতৃৱেহে ছাগলছানা পালন হতে পারে কিন্তু এসব অসভ্য ইতর, হিংস্র মানুষের কাছে সততা, নিষ্ঠা, ভালোবাসা সবই অর্থবহ। এসব অন্য মানুষের চরিত্র এতটাই খারাপ যে, পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট পশুগুলোও তাদের থেকে ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেবে। কিন্তু দুর্ধর্ষ এই লোকগুলো মরবে না। মানুষকে কষ্ট দেয়ার জন্যই বেঁচে থাকবে জগৎ সংসারে।

এসএম আকাশ
মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজ
ফোনঃ ০১৭১৭-১৪৪৯৩৫

পরিবর্তিত হই!
আমাদের সমাজে নারীদের উত্ত্যক্ত করার মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে। পরিস্থিতি মাঝে মাঝে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে যার ফলে আত্মহত্যার মতো ঘটনা হরহামেশা পরিলক্ষিত হচ্ছে। পুরুষ জাতের এই নিষ্ঠুরতা এবং মেয়েদের এই চরম আত্মনিগ্রহ নিশ্চয়ই সমাজ সুস্থতার ভালো কোনো লক্ষণ নয়, হতে পারে না।
আমাদের সমাজ ছেলেমেয়ে তথা নর-নারীর বিকাশের জন্য স্বাভাবিক পথ তৈরি করতে পারেনি বলেই হয়তো তাদের আচার-আচরণে দিন দিন অসংলগ্নতা এবং অস্বাভাবিকতা দেখা দিচ্ছে। আমরা পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, মার্জিত, সুস্থ সমাজের কথা ভাবতে পারছি না কেন?
যথেষ্ট বুঝসম্পন্ন একটি ছেলেকে শাসন করার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে শাস্তি অথবা আইন...কিন্তু কেন ভালোবাসা এবং ৱেহ নয়? আমাদের বর্তমান সমাজে স্নেহ-ভালোবাসা, মায়া-মমতা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের খুব আকাল পড়েছে। এখন কে কাকে কীভাবে ঠকিয়ে উপরের সিঁড়িতে উঠবে সবাই সেই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে। এই অস্থির সময়, অস্থির মনের সমাজকে আদর স্নেহ-ভালোবাসা, মায়া-মমতা সর্বোপরি বুঝের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শাস্তি অথবা আইনের কঠোরতায় যা কখনো কাম্য নয়।
নর-নারী নির্বিশেষে যদি ভালোবাসার আন্তরিকতা বুঝতে দেয়া যায়, যদি সম্পর্কের আওতায় আনা যায় তবে কোনো মানুষই অন্য মানুষের বিরক্তির কারণ হতে পারে না। মনুষ্যত্বের শিক্ষা গ্রহণে খুব বেশি শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজেদের রুচিবোধের বিকাশ ঘটিয়ে কলুষিত মানসিকতা মন থেকে হটিয়ে আসুন নিজেদের পরিবর্তন করে সমাজ এবং দেশটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবি।

মো. রানা হাসান
সাভার, ঢাকা
ফোনঃ ০১৭৫৬-৩১৪৯৬৬