মানসিক রোগ শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা ও জনসচেতনতায় পথিকৃৎ
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় কানে ভুল শব্দ শোনা বা যা অনুভূতির একটি ভুল প্রকাশ এটা ঘটা যখন কেউ মনে করে তার সাথে অতীন্দ্রিয় শক্তির যোগাযোগ রয়েছে। যদিও এটি একটি ভুল ধারণা এবং মানসিক রোগের লক্ষণ যা চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রমাণ করে। এই সময়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া একান- প্রয়োজন।
কানে শব্দ শোনা একটি ভুল এবং ইন্দ্রিয়ঘটিত সমস্যা। তারা এমন সব শব্দ শোনে যার সাথে বাইরের জগতের কোনো মিল নেই এবং এটা তাদের অসুস্থতার একটি নিদর্শন মাত্র। এ রোগের ফলে রোগীর মধ্যে বিশ্বাস জন্মায় যে সে যে শব্দ শোনে তা সত্যি। এটা রোগীর অনিচ্ছাকৃত একটি শ্রবণ। তারা যে শব্দ শোনে তার কোনো আকার বা ছবি বাস-বে নেই কিন্তু তাদের মনে হয় তারা যা করছে তা সত্যি বা বাস্তব। এই লেখাটি ‘কানে শব্দ শোনা’ এ রোগের বৈশিষ্ট্য এবং আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে আলোকপাত করব।
কানে শব্দ শোনা মানসিক অসুস'তার একটি পর্যায়। সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের ৭৫ ভাগই এ শব্দ শুনে থাকে। এটি বাইপোলার মানসিক রোগের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। যখন ব্যক্তি অধিক হতাশায় থাকে তখনো শুনে থাকে এবং যখন অধিক মানসিক রোগে ভোগে তখন শুনে থাকে।
‘কানে ভ্রমাত্মক শব্দ শোনা’ এ রোগটি সব সময় মানসিক রোগের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। যা গবেষণা করে দেখা গেছে ১০-৪০% মানুষ মানসিক রোগী হয়। ক্ষণস'ায়ী মৃগীরোগ, ঘুমের ঘরে প্রলাপ বকা, উন্মত্ত চিত্ত সম্মুখ মস্তিষ্কের ক্ষতি, ৱায়ুর ইনফেকশন যেমন- অ্যানকেফালাইটিস, মস্তিষ্কের টিউমার ইত্যাদি রোগে এ ধরনের শব্দ শুনে থাকে। অ্যালকোহল, কোকেইন, অ্যামফিটামিন এগুলোর ফলেও সাময়িকভাবে রোগী কানে এ ধরনের কথা শুনে থাকতে পারে।
হিপনোজেনিক এবং হিপনোপম্পিক ভ্রমাত্মক ধারণা অনেকের ক্সেত্রেই সাধারণ এবং এটা ঘটে যখন ব্যক্তি ঘুমিয়ে থাকে অথবা জেগে থাকে। এটা একটা লক্ষণ যা প্রথমে মানসিক সামান্য অভিজ্ঞতা থেকে বড় ধরনের মানসিক রোগের কারণ ঘটায়। এটা একটি জটিল, অনিচ্ছাকৃত এবং অভ্যন-রীণ লক্ষণ।
শ্রবণশক্তিজনিত রোগের লক্ষণগুলো বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন হয় এবং এটি হজমের সাথেও জড়িত। যাদের মানসিক রোগ নেই তারা সাধারণত আশাপ্রদ বিষয়ে কথা বলে, তাদের কথাবার্তা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এ রোগের কারণে অসুস'তা কম দেখা যায়, কাজের প্রতি অনাহূত কৌতূহল কম থাকে।
প্রমাণ রয়েছে যেসব, যারা শ্রবণভ্রান্তি- রোগে আক্রান- তারা কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাসপাতালে যাওয়ার অভিজ্ঞতাহীন রোগীদের থেকে ভিন্ন। অন্যদিকে দেখা যায় যাদের শ্রবণজনিত সমস্যা রয়েছে তাদের মানসিক রোগী হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তুলনা করলে দেখা যায় অনেক শ্রবণভ্রানি-জনিত রোগীর ভ্রানি- রয়েছে কিন' মতিবিভ্রম নেই।
তুলনা করলে আরও দেখা যায় অনেক শ্রবণভ্রানি-জনিত রোগীই মানসিক রোগী হতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে ন্বিোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো রয়েছে-
- অতি মাত্রায় ভ্রান্তিজনিত সমস্যা থাকার অভিজ্ঞতা
- মাথার বাইরে শব্দ শোনা
- বড় ধরনের ভাষাগত জটিলতা
- বড় ধরনের আবেগবোধ
- তারা ভাবে অন্যরাও এটা শুনেছে
শ্রবণশক্তিজনিত ভ্রান্তির কারণ খুঁজতে গিয়ে অনেক চিকিৎসক রোগীর পূর্ব ইতিহাস, মানসিক বা মনের অবস্থা এবং মানসিক লক্ষণ এবং অনেক পরোক্ষ কারণ পেয়েছেন।
বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষা এবং মস্তিষ্কের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আরও অনেক কারণ পাওয়া যায়। শ্রবণভ্রান্ত রোগীর হাসপাতালভিত্তিক পর্যবেক্ষণ, রোগীরা অনেক সময়ই তাদের ভ্রানি-জনিত সমস্যার ব্যাখ্যা দিতে পারে। এটি পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে তারা রোগীদের জিজ্ঞাসা করতে পারেন যে তারা এমন কোনো শব্দ শুনেছেন যা অন্যরা শোনে না বা শব্দ শোনার যৌগিক ব্যাখ্যা আছে কি না। রোগীর অভিজ্ঞতার বর্ণনা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে গৃহীত হতে পারে। রোগী অনেক সময় আরও তথ্য দেয় ভ্রান্তি-জনিত সমস্যা সম্পর্কে যদি তাদের সঠিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরোক্ষ তথ্যগুলোর বারবার অনুশীলন অনেক সময় ডাক্তারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাহায্য করে। সত্যিকার শ্রবণভ্রানি- রোগীরা ন্বিলিখিত রোগীদের থেকে ভিন্ন-
১. সত্যিকার শব্দের বিকৃতি শ্রবণ
২. শ্রবণ কথককে দেখতে পাওয়া
৩. অস্বাভাবিক বিশ্বাস (যেমন- অন্যরা আমাকে নিয়ে কথা বলছে)
ভ্রান্তি ও অস্বাভাবিক বিশ্বাসকে পার্থক্য করার জন্য রোগীকে জিজ্ঞাসা করতে হবে যে শব্দটি রোগীর পারিপার্শ্বিক শব্দ থেকে সৃষ্ট নাকি তার চিন্তার ফসল। রোগীরা সাধারণত এটির পার্থক্য করতে পারে।
শ্রবণভ্রান্তিজনিত রোগীর বৈশিষ্ট্য, গঠন এবং আধেয়
সংক্ষেপে বলা যায় শ্রবণভ্রান্তি কানে শব্দ শোনা, মনে হওয়া, বাইরের যে কোনো শব্দ থেকে হতে পারে। শব্দের মাত্রা মৃদু থেকে তীক্ষ্ণ হতে পারে এবং সারা দিন চলতে পারে। শব্দের তীব্রতা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে ফিসফিস থেকে চিৎকার পর্যন্ত। শব্দের তীব্রতা এবং কম্পন অসুস'তার সময় বিভিন্ন হয়ে থাকে। এই মাত্রা নির্ভর করে এটা শ্রবণভ্রান্তির কেন্দ্রীয় চিত্রের ওপর যা কাজকর্ম, কৌতূহল এবং মানসিক কাজকর্মের ভিত্তি।
এ রোগীর বেশির ভাগ অংশ মানসিক অসুস'তা এবং শব্দ থেকে গৃহীত। শব্দটি পুরুষ বা মহিলার হতে পারে। এ রোগের এবং শব্দের তীব্রতা বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন মাত্রার হতে পারে। এ শব্দ একজনের হতে পারে বা বিভিন্ন জনের হতে পারে যারা পরিচিত যেমন প্রতিবেশী, পরিবারের সদস্য অথবা টেলিভিশনের কোনো ব্যক্তিত্ব, অথবা কোনো কল্পনাভিত্তিক চরিত্র যেমন- ঈশ্বর, শয়তান অথবা ফেরেশতা। এ শব্দ একটি পুরো বাক্য বা একটি শব্দ হতে পারে এবং যা প্রায় ধ্বনিত হয়। শব্দটি কারও ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে এবং মনে হয় তৃতীয় পক্ষ বলছে, যা রোগীকে সিজোফ্রেনিয়া রোগের দিকে ঠেলে দেয়। বিভিন্ন সমীক্ষণ থেকে দেখা যায় এ রোগীর অর্ধেক অংশই সিজোফ্রেনিয়া রোগের লক্ষণ বহন করে।
এ রোগীর কিছু অংশ অদ্ভুত শব্দ শোনে যেমন- গান, পশুপাখির আওয়াজ। যদিও এটি সমীক্ষণের বাইরেই থেকে যায়। অন্য এক ধরনের শ্রবণভ্রান্তি রয়েছে যার প্রতিচ্ছবি রয়েছে এবং যা বাস্তব শব্দ থেকে উৎপন্ন এবং রোগীর মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যেমন- একটি গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ ইত্যাদি। এ শব্দ একজন থেকে অন্যজনের ভিন্ন হতে পারে। প্রায় এ শব্দ নেতিবাচক এবং হিংসাত্মক হয়ে থাকে। তারা অপমানজনক বা আদেশভিত্তিক কথা বলে এবং শব্দগুলো রোগীর কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়। এ কথাগুলো রোগীকে মানসিক যন্ত্রণা দেয়। যাই হোক এ শব্দ আনন্দজনকও হতে পারে। কিন' চিকিৎসার মাধ্যমে এ শব্দ দূরীভূত করা যায়।
মানসিক যন্ত্রণা এবং আবেগজনিত সমস্যা
এ শব্দটি রোগীর জন্য বিরক্তিকর হয়। যেমন- এ শব্দের মাত্রা অনেক সময় তীব্র হয় এবং তখন হতাশাজনক হয়। রোগী এমন অবস্থায় পৌঁছে যখন তার মনে হয় সবাই তাকে নিয়ে কথা বলছে এবং এর ফলে তার আচরণ নেতিবাচক হয় এবং নিজেকে অন্যদের প্রতিপক্ষ ভেবে নিজে উদ্বিগ্ন হয় এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানে এমনভাবে ভাবতে থাকে।
শ্রবণভ্রান্তি- অনেক সময় মারাত্মক যন্ত্রণা দেয়। রোগী এ অবস্থা থেকে পালাতে চায় এবং এটা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হতাশা, উদ্বেগ, ভয়, রাগ দেখা যায় ২৫-৪০ ভাগ রোগীর মধ্যে। কেউ কেউ এ শব্দ থেকে পালানোর জন্য আত্মহত্যা করতে চায়। এ রোগ থেকে বড় ধরনের মানসিক রোগের সৃষ্টি হয়।
শ্রবণভ্রান্তির সঠিকভাবে বিস্তারের প্রক্রিয়া এখনো অজ্ঞাত। বিজ্ঞানীদের মতে, দুটি প্রধান এলাকা রয়েছে একটি নির্দেশ করে যে ৱায়ুর কাজ বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে ঘটে যেমন পজিট্রন নির্গত করে। অন্য প্রক্রিয়াটি হচ্ছে জ্ঞানগত এবং মানসিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে অনেক মানসিক ঘটনা ঘটে যা শ্রবণভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
শ্রবণভ্রান্তি কেন ঘটে তা এখনো অজানা। শ্রবণভ্রান্তির ২টি প্রধান কারণ পাওয়া যায় একটি হচ্ছে ৱায়ুতন্ত্রের কার্যক্রম যেমন- পজিট্রন উদগিরণ এবং অন্যটি হচ্ছে জ্ঞানগত ও বুদ্ধিগত অর্থাৎ সামগ্রিক মানসিক বিকাশের অসুবিধা।
একটি সাধারণ গঠন হচ্ছে শ্রবণভ্রান্তি। ভাষাগত সমস্যা বলতে গেলে অভ্যন্তরীণ কথা বলার প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সুস' ব্যক্তিরা আগত শব্দকে বুঝতে পারে না কিন' বাইরের শব্দ বুঝতে পারে এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা সেই শব্দ শুনতে পায়। এর ওপর একটি ব্যাখ্যা রয়েছে এটা হচ্ছে যে শ্রবণভ্রান্তি মস্তিষ্কের এলাকায় ঘটে যেমন প্রাথমিক শ্রবণ অঞ্চল এবং ব্রোকা এলাকা যা ভাষার উপাদানের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এই ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে এ রোগে আক্রান্ত রোগীরা বাইরের শব্দ শুনে, যদিও বাস্তবে কোনো শব্দ না থাকে।
একটি ব্যাখ্যায় বলা হয় যারা এ রোগে আক্রান্ত তারা বাইরে থেকে আগত এবং মনের মধ্যে সৃষ্ট কাল্পনিক শব্দের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। কারও কারও মতে, যারা এ রোগে আক্রান- তারা নিজের কল্পিত কথাই বা যে কথা সে শুনবে বলে আশা করে তাই শোনে। শুধু ভাষাগত জটিলতা নয় বরং মানসিক বিষয় যেমন- বিশ্বাস, চিন্তা শব্দ ইত্যাদিও এ রোগের কারণ। পারিপার্শ্বিকতা এবং রোগীর এ শব্দ পরিত্যাগ করার প্রক্রিয়া থেকেও এ রোগ হয়। কীভাবে এ শব্দ উৎপন্ন হয় রোগী এ ব্যাখ্যা দিতে না পারলেও কে এ শব্দ করে এর এবং মানুষভেদে এ শব্দের পার্থক্যও রোগী ধরতে পারে।
শ্রবণভ্রান্তি রোগের চিকিৎসা
যদি এ অসুবিধা জীবনের স্বাভাবিক কাজকর্মকে ব্যাহত না করে তবে এ রোগের জন্য কোনো ওষুধের প্রয়োজন হয় না। যদি চিকিৎসার দরকার হয় তবে পছন্দমতো মানসিক রোগ দমনকারী ওষুধ খেতে হয়। ডাক্তারের উচিত রোগী সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা এবং প্রত্যেকটি ওষুধের উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে রোগীকে জানানো। ওষুধ দিতে হবে রোগীর শারীরিক ও মানসিক অসুস'তার লক্ষণ দেখে। যদি অপকারিতা থাকে তবে রোগীকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখতে হবে। এই অস্বাভাবিকতা অভ্যন্তরীণ কথার মধ্যেও ঘটে। এই ধরনের রোগীরা বিভিন্ন বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ ঘটনার বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে।
বিপরীত দিকে বেনটিল এবং স্লেইডের মতে, এ রোগীরা বিভিন্ন ঘটনাকে সত্যি মনে করে এবং তারা এটাকে বাস্তব বলে মনে করে যদিও তারা কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারে না। আরও বলা যায়, এই শ্রবণভ্রান্তি রোগী নিজ মন থেকে উদ্ভূত কথা এবং বাইরের কথার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। তারা অতীতের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করতে পারে না। এই অসুবিধা তাদের দ্বিধার মধ্যে রাখে এবং রোগের উৎপত্তির কথা মনে করতে পারে না। তারা বাস্তব এবং চলমান ঘটনা, অতীতের ঘটনার সামঞ্জস্যতা রক্ষা করতে পারে না।
যখন অভ্যন্তরীণ ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে অভিজ্ঞতা এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না তখন এটি অসুস্থতা বলে ধরা হয়। এটি তখনই ঘটে যখন কাজকর্ম অনিচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তিত হয়। যখন জ্ঞানগত চিন্তা নিয়ন্ত্রিত হয় অনিচ্ছাকৃত আচরণের মাধ্যমে ও চিন্তার মাধ্যমে তখনই জ্ঞানগত ভ্রান্তি বা চিন্তাভ্রান্তি দেখা যায়।
যদি আমরা ৱায়ুকে ব্যবচ্ছেদ করে দেখি তখন মস্তিষ্কের অগ্রসম্মুখ ভাগের ৱায়ু এ হ্যালুসিনেশনের জন্য দায়ী থাকে। যখন মসি-ষ্কের অগ্র ও পশ্চাৎ ভাগের ৱায়ু কাজকর্মের মধ্যে সামঞ্জস্যহীনতা দেখা দেয় তখন সাময়িক ঘটনা এবং কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবেই ব্যাহত হয়।
সামপ্রতিক গবেষণা কিছু তথ্য দিয়েছে যে কারণটির কারণে রোগী এমন একটি বিষয় চিন্তা করে যা ঘটেনি। কর্টেক্সের অতি উৎসাহী কাজকর্মই এর ভিত্তি হতে পারে। শুরুর দিকে ধারণা করা হতো ৱায়ুতান্ত্রিক জটিলতাই এবং সিদ্ধান- নেয়ার অভাবই এর কারণ। কোনো শব্দ ছাড়াই মস্তিষ্ক কতগুলো শব্দ উৎপন্ন করে। বর্তমানে ধারণা করা হয় কিছু ঘটনার অতি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম গবেষণার কারণে এ রোগ হয়, যা উর্বর ও সুন্থ মস্তিষ্ক এড়িয়ে যায় বা খেয়াল করে না।
কিছু পরীক্ষা বিভিন্ন ধরনের ৱায়ুতন্ত্রীয় চিকিৎসার সাথে তুলনীয়। শ্রবণভ্রাস্তি অনেক সময় তীব্র হয়ে ওঠে এবং মানসিক দৈহিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে। এখন অনেক চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়েছে যা ট্রান্সক্রেনিয়াল চৌম্বকীয় উত্তেজকের ওপর নির্ভর করে। এটা ভাষাতত্ত্বীয় ক্রিটিকেল অঞ্চলের ওপর নির্ভর করে। আরটিএমএস চিকিৎসা এ রোগের ওষুধ তীব্রতার আধিক্য কমায়।
অনেক মানসিক চিকিৎসায় বিভিন্ন রোগী বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখায় যা রোগীর বিভিন্ন পদ্ধতি আয়ত্ত করা বা অভ্যাস করা এবং আবেগীয় প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। পরীক্ষা প্রমাণ করে অনেক রোগী জ্ঞান ও আচরণগত থেরাপিতে উন্নয়নমূলক প্রতিক্রিয়া দেখায় যার বিষয়বস' হচ্ছে মানসিক বিশ্বাস, কারণ এবং অনুভূতির দুশ্চিন্তা কমানোর মাধ্যমে রোগীর মানসিক রোগের লক্ষণের তীব্রতা কমে। এছাড়া আরও প্রমাণ রয়েছে পরিবার এবং মানসিক ভূমিকার সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে এ রোগের ভালো ও উন্নত চিকিৎসা করা যায়।
ক্রমবর্ধিত হারে প্রমাণ রয়েছে যে যারা শব্দ শোনে তাদের সমঝোতার মাধ্যমে এ শব্দের তীব্রতা কমানো যায়। আত্মসচেতনতার মাধ্যমে রোগীকে এ রোগের ওপর থেকে বিশ্বাস কমানো যায় এবং শব্দগ্রাহী ও শব্দকারকের সমঝোতার মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করা যায়। এ শব্দ উৎপাদক এবং শব্দগ্রাহীর মধ্যে সাফল্যময় সমাঝোতা যেমন- সহ্য করতে শেখা, রাগান্বিত না হওয়া, বিরক্তবোধ না করা ইত্যাদির মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করা যায়।
কারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিগত তারতম্যের কারণে এ রোগের সৃষ্টি হয়। জ্ঞানগত চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগের তীব্রতা কমানো যায়, যদিও এটি এখনো গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং এখনো শুরুর দিকে রয়েছে। ইদানীং তত্ত্ব এবং অভ্যাসগত প্রয়োগের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। স্যাভরভ এবং তার বন্ধুরা রোগীকে এমন কিছু বিষয় শিখিয়েছেন যার মাধ্যমে রোগী তার শব্দ উৎপাদককে চিনতে পারে এবং রোগী সুস্থ হয়।
শেষ কথা
শ্রবণভ্রান্তি বেশির ভাগ সময়ই মিথ্যা অনুভূতি থেকে নয় বরং বাস্তব শব্দ থেকে সৃষ্টি হয়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং বোঝানো যুক্তির মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে বদ্ধমূল বিশ্বাসকে উৎপাদন করা সম্ভব হয়। শ্রবণভ্রান্তি বেশির ভাগ সময়ই জ্ঞানগত, বুদ্ধিগত, জৈবিক এবং দৈহিক অসংলগ্নতার কারণেই সৃষ্টি হয়। এটি তীব্র হয় মোহিত শ্রবণভ্রান্তির কারণে। এর তীব্রতার ক্ষেত্রে আলোচনা বা ব্যাখ্যামূলক থেরাপি অনেক কাজ করে।



