Skip to main content

শিশুর ঘুমের সমস্যা এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

বাংলাদেশের বিশিষ্ট মনোশিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী ও মনোচিকিৎসক
অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ

মানসিক রোগ শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা ও জনসচেতনতায় পথিকৃৎ

ঘুম আমাদের জীবনের জন্য একটি অপরিহার্য বিষয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জানা যায় ঘুম ছাড়া মানুষ খুব বেশি হলেও ১০ দিন বাঁচতে পারে। পক্ষান্তরে এই ঘুমের সমস্যা বা ঘুম না হওয়ার কারণেই নানা রকম মানসিক রোগে আক্রান্ত হই আমরা। বাচ্চাদের ঘুম নিয়ে আমাদের অনেকের মনে অনেক রকম প্রশ্ন থাকে সেসব প্রশ্নের উত্তর নিচে দেয়া হলো-

প্রশ্ন : আমি আমার ১৮ মাসের শিশুকে আমার সাথে বিছানায় ঘুম পাড়াই। এরপর তাকে তার বিছানায় নিয়ে শুইয়ে দিই। এটা কি কোনো খারাপ অভ্যাস তৈরি করবে?
উত্তর : না। আপনি ভালো অভ্যাস তৈরি করছেন। রাতে শিশু প্রতিপালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো স্বাস্থ্যসম্মত ঘুমের অভ্যাস দাঁড় করানো, যাতে শিশু বুঝতে পারে ঘুম একটা প্রশান্তিদায়ক অবস্থা। হয়তো শুনে থাকবেন যে কাছে নিয়ে ঘুমালে নিজের বিছানায় আর ঘুমাবে না। Sleep association থিওরিতে বলে যে, শিশু যেভাবে ঘুমায় ঠিক সেভাবেই পুনরায় ঘুম পাড়ে অর্থাৎ যদি আপনার হাতের ওপর ঘুমায় তাহলে নিজের বিছানায় শোয়ার পর জেগে গেলে আর আপনার সান্নিধ্য ছাড়া ঘুমাবে না। এর মধ্যে কিছুটা বাস্তব হলেও অন্যভাবে ভাবতে হবে। আপনার শিশু আপনার সান্নিধ্যে থেকে আপনাকে স্বস্তি দিচ্ছে। এমন হচ্ছে না যে সে বুঝে নিচ্ছে আপনি তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে ঘুম পাড়াচ্ছেন। শিশু তার বিছানায় ভালো ঘুমাতে শুরু করলে নতুন ব্যবস্থা করুন। প্রথমে তাকে আপনার নিজের কাছে রেখে ঘুম পাড়িয়ে নিন। তারপর তার নিজস্ব বিছানায় দিন, একটু বড় হলেই নিজের বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস হয়ে যাবে তার। তবে শিশুরা ঘুমের আগে দোলা, গল্প, মায়ের কোলের সান্নিধ্য পেতে চায়। এসব ছাড়া হঠাৎ করে ঘুমাতে চায় না। যেসব শিশুর ঘুম আসতে দেরি হয় এবং রাতে প্রায়ই জাগে তাদের কাছে নিয়ে ঘুম পাড়ানো ভালো।

প্রশ্ন : ঘুমের সময় কী পোশাক পরানো উচিত?
উত্তর : প্রয়োজন অনুযায়ী পরাতে হবে যেমন আপনি পরে থাকেন। নবজাতক যদি প্রিম্যাচিওর হয় অর্থাৎ স্বাভাবিক প্রসব সময়ের আগে হয় বা ৮ পাউন্ডের নিচে হয় বা জন্ম সময় অনুযায়ী শারীরিকভাবে ছোট হয় তাহলে এদের শরীরে পর্যাপ্ত চর্বি থাকে না। তাহলে এসব শিশুর একটু কাপড়-চোপড় বেশি লাগবে। সুতির পোশাক সবচেয়ে ভালো কারণ এগুলো শরীরের ঘাম, আর্দ্রতা চুষে নেয় এবং এর ভেতর দিয়ে বাতাস ভালোভাবে যাওয়া-আসা করে। একটু ঢিলেঢালা হওয়া ভালো যেন সে সুবিধামতো হাত-পা নাড়াতে পারে। কাপড়ের কারণে শিশুর শরীর খুব গরম হলে ঘুম থেকে জেগে ওঠার সমস্যা দেখা দেয়। তাই প্রথম ৬ মাসে গরম কাপড় কম চাপানো ভালো। শিশুকে কাছে নিয়ে শুলে শিশুর শরীর বেশ গরম হয়।
শিশুর শরীরের তাপ বোঝার চেষ্টা করতে হবে। ঠাণ্ডা হাত-পা মানে কাপড় আরও লাগবে। গরম, ভেজা শরীর মানে কাপড় সরাতে হবে। ঘরের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৫০ ও তাপমাত্রা ৭০ F রাখা শিশুর জন্য ভালো। শিশুকে নিরাপদ পোশাক পরাবেন। টাই বা ফিতে জাতীয় কোনো অংশ গলায় ফাঁস লাগাতে পারে। এরপর শিশু বড় হলে ভালো লাগার দিকে লক্ষ রেখে পোশাক দিতে হবে।

প্রশ্ন : আমার ঘরে সব সময় শব্দ বেশি হয়। আমার শিশুর ঘুমের সময় কি শব্দ কমিয়ে রাখতে হবে? আমার আরও দুটো শিশু আছে, ওদের বয়স ৬ ও ৪ বছর।
উত্তর : গর্ভের মধ্যে আপনার শিশু কিন্তু বেশ কোলাহলের মধ্যেই ঘুমিয়ে ছিল। গর্ভের এই শব্দ শিশুর মনে গেঁথে থাকে। তাই গর্ভের শব্দ রেকর্ড করে ঘুম পাড়ানোর সময় বাচ্চাদের শোনানো হয়। আমার বাচ্চারা শব্দের মধ্যেই ঘুম পাড়ত। শিশুরা ঘুমের সময় এসব শব্দকে নিজের মনের মধ্যে থামিয়ে দেয়ার কৌশল জানে। এরপরেও খুব জোরে শব্দ হলে ঘুমন্ত শিশু কেঁপে ওঠে জেগে যায়। তাই ঘরের অন্য বড় বাচ্চাদের বলতে হবে হঠাৎ করে জোরে শব্দ না করতে। অর্থাৎ এটাও একটা ভালো সুযোগ অন্য শিশুদের শৃঙ্খলা শেখানোর এবং ঘরের অন্যদের প্রয়োজনের গুরুত্ব ও সম্মান দেয়া। ফোনের শব্দে শিশু যদি জেগে যায় ফোনের শব্দ কমিয়ে রাখুন। শিশুর বিছানার কাছে মৃদু স্বরে গান বাজান।

প্রশ্ন : আমার এক বাচ্চা হাঁটে এবং অন্য বাচ্চাটি সদ্যোজাত কী করে দুজনকে একসাথে ঘুম পাড়াব?
উত্তর : এটা একটা কঠিন কাজ। দুজনের ঘুমের ধরন ও প্রয়োজন দুই রকম। কষ্টকর হলেও দুজনকে একই সময়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করুন। একই সাথে দুজনকে দুপাশে নিয়ে শুয়ে পড়ুন। গুনগুন করে গান গাইতে থাকুন। তবে বড়টা যদি ঘুমাতে না চায় তাহলে ওর দিকে প্রথমে মন দিন। ওকে ঘুম পাড়ানোর ব্যবস্থা করুন এবং ঘুম পাড়িয়ে দিন। এরপর ছোটজনের দিকে মন দিন। এ সময় গল্প বলুন অথবা গান বাজালে কাজটা সহজ হবে।
তবে সমস্যা হলো বয়স অনুযায়ী প্রয়োজন ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় সব সময় একজন শিশুকে সবকিছু দেয়া যায় না। ফলে সব সময় একই রকমভাবে সবকিছু করা যায় না। তাই বড় শিশুটাকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী খেলার সাথী দিতে হবে। সেই ফাঁকে আপনি নবজাতককে সময় দিতে পারবেন। এভাবে প্রয়োজন অনুযায়ীই কাজগুলোকে সাজাতে হবে।

প্রশ্ন : আমার ৪ বছর বয়সী ছেলেটা ঘুমাতে চায় না। ঘুম পাড়াতে গেলে সে নানা রকম বায়না- এটা দাও সেটা দাও। কীভাবে তাকে ঘুম পাড়াব?
উত্তর : শিশুদের ঘুম পাড়ানোর সময় ওরা এ রকমই করে। এটাই স্বাভাবিক। তবে ওরা যদি রেগে না থাকে এবং মায়ের সাথে সম্পর্ক ভালো হয় তাহলে এসব করে না। তিনটি কারণে ওরা এ রকম করে-ঘুমাতে যাওয়ার ভয়, মা-বাবাকে কিছুক্ষণের জন্য না পাওয়া এবং মা-বাবাকে বেশি সময় কাছে পাওয়ার জন্য। ব্যস্ততা বেড়ে গেছে ফলে কঠোরভাবে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম হয়তো সম্ভব হয় না। আগে যখন গ্রামেই সবাই বাস করত তখন শিশুকে অনেক সময় দেয়া হতো। এখন শিশুদের সময় কম দেয়া হয় তাই ওরা যখনই মা-বাবাকে পায় আর ছাড়তে চায় না। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে যতটুকু সময় পাওয়া যায় ওদের সঙ্গে থাকুন। ওদের দিকে মন দিন। যদিও সব সময় আপনার জন্য সম্ভব নাও হতে পারে। ঘুমাতে দেরি করা, গড়িমসি করার অর্থ হলো সে আপনাকে আরও বেশি চায়। জোর করে ঘুম পাড়ানো ঠিক নয়। কিছু কিছু ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে যেমন-
(১) অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করতে হবে। ঘণ্টা বাজার মানে হলো ঘুমানোর সময় এখন এবং ঘুমানোর সময় পাঁচ মিনিট।
(২) ঘুমের সময়ের ১ ঘণ্টা আগে থেকে দৌড়, ঝাঁপ করা খেলা থামিয়ে দিতে হবে।
(৩) ঘুম পাড়ার সময় লাইট কমিয়ে দিন, গল্প বলুন।
(৪) শিশুর পিঠে হাত বুলিয়ে দিন এবং ঘুম না পড়া পর্যন্ত করতে থাকুন।
(৫) বাচ্চার সাথে শুয়ে পড়ুন।
(৬) ক্যাসেট প্লেয়ারে তার প্রিয় গল্প বাজিয়ে শোনান।
(৭) এরপরেও যদি শিশু গড়িমসি করে তাহলে নতুন নতুন গল্প শুরু করুন।
(৮) দিনের শেষে দৌড়-ঝাঁপ করতে দিন যেন সে ক্লান- হয়।
(৯) কখনো কখনো দুজনে মিলে সেই ছবি দেখুন যা দেখে সে ধীরে ধীরে শান্ত হবে এবং ঘুমাবে।
কখন শিশু ঘুমাতে গেল, এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কীভাবে শিশু ঘুমাতে গেল। তার দিনে-রাতে একই সময়ে ঘুমাতে গেলে একটা মানসিক প্রস্তুতি তৈরি হয়ে যায়। শিশুদের মন ঘুমানোর আগে তেমনই অবস্থায় থাকে যে, যা বলা হয় সে মন দিয়ে গ্রহণ করে। আপনার নিজের ছোটবেলার কথাগুলো তাকে বলুন। এ সময় নানা গুণাবলির কথা গল্পের মতো করে বলুন। এর সবকিছু ও মনে রাখবে এবং পরে যখন বড় হবে তখন গুরুত্বের সাথে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। এ সময় প্রার্থনা করলে শিশু এই গুণাবলিও শিখবে। শিশু চোখ বন্ধ করলেই ঘুম পড়ে না। তাদের কান খোলা থাকে অনেকক্ষণ, তাই আপনি গল্প বলা থামাবেন না।

প্রশ্ন : আমার ৪ বছরের বাচ্চা ঘুমাতে খুব দেরি করে এবং ওকে ঘুম পাড়ানোর পর আমি খুব ক্লান্ত হয়ে যাই। অন্য কাজ করতে শক্তি পাই না।
উত্তর : বাচ্চাকে সময় দিতে পারছেন এটাকে ভালোভাবে নিন। ওরা মা-বাবাকে কাছে চায়। সারা দিন হয়তো আপনাকে কাছে পাওয়ার সুযোগ পায় না, তাই বিছানায় আপনাকে বেশিক্ষণ কাছে পাওয়ার জন্য ঘুম পড়তে দেরি করে।

প্রশ্ন : আমার ১০ মাসের শিশুটা রাতে হামাগুড়ি দেয়া শুরু করে এবং কিছু ধরে উঠে দাঁড়াতে চায়। কী করে নিরাপদ বিছানা দেব?
উত্তর : এ সময়ে হামাগুড়ি দেয়া ও উপরে ওঠার কৌতূহল ওদের বেশি থাকে। একটা বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে যেন সে নিরাপদ থাকে এবং আপনিও নিশ্চিন্তে থাকেন এবং ঘুম, বিশ্রাম আপনার দুটোই হয়। এর জন্য শিশুর বিছানা আপনার বিছানার খুব কাছে রাখতে হবে। শিশুর বিছানার দুপাশে উঁচু রেলিং থাকতে হবে। তার নিজস্ব বিছানা পৃথক হলে সে তার নিজের জায়গা পাবে এবং আপনি আপনার বিছানায় হাত-পা ছড়িয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন। শিশুর বিছানায় এ সময় খেলনা রাখবেন না। অ্যালার্জিজনিত কাশি হয় এমন বাচ্চাদের বিছানায় অ্যালার্জি হতে পারে এমন খেলনা রাখা ঠিক না। শিশুর শোবার ঘরে ধূমপান করবেন না।

প্রশ্ন : শিশুর জন্য কি আমাদের যৌনজীবন থেমে যাবে?
উত্তর : বলা হয়ে থাকে শিশুরা যেন বাবা-মায়ের সমস্যার কারণ না হয়। স্বামী-স্ত্রীর গোপনীয়তা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। ৬ মাস বয়সের নিচের বাচ্চারা তত বুঝতে পারে না। কিন্তু এরপর যত এরা বড় হতে থাকে ততই এদের সামনে শৃঙ্গার ও যৌনসঙ্গম করতে সংকোচ, দ্বিধাবোধ হয়। সুতরাং একটু পরিবর্তন আনতে হবে। সব সময়ই যে শোবার ঘরে সঙ্গম করতে হবে তা না। যে কোনো ঘরেই সে কাজ করা যাবে বা ঘুমন্ত শিশুকে অন্য ঘরে শুইয়ে দিন। উঠবে না। শিশু আরও বড় হলে তাদের ধারণা দিতে থাকুন শুধু প্রয়োজন ছাড়া বাবা-মায়ের ঘরে ঢোকা যাবে না। বিশেষ করে বাবা-মা যখন একসাথে শোবার ঘরে থাকে। মাঝে মাঝে ওদের সামনে একে অপরকে আদর করুন। তাহলে ওরাও শিখবে ও বুঝবে আপনারা দুজন দুজনকে কত ভালোবাসেন।

প্রশ্ন : একসাথে ঘুমানোর সুফল অনেক জানার পর একসাথে ঘুমাই। কিন্তু ও যখন কাছে ঘেঁষে থাকে তখন আমার ঘুম হয় না। আপনার পরামর্শ চাই।
উত্তর : শিশুর সাথে একটা নির্দিষ্ট দূরত্বে ঘুমানো উচিত। এতে দুজনেরই ঘুম ভালো হয়। বেশি কাছে থাকলে দুজনের কারোরই ঠিক ঘুম হয় না। একটা বিছানা রাখুন আপনার বিছানার পাশে। সে নিজস্ব জায়গা পাবে। আপনার গায়ের সাথে ঘেঁষবে না। আপনিও আপনার জায়গা পাবেন। বারে বারে ঘুম ভাঙবে না।

প্রশ্ন : আমি আমার শিশুর সাথে ঘুমাতে চাই। কিন্তু মনে হয় গড়িয়ে ওর গায়ের ওপর উঠব ও শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যাবে। এটা কি সম্ভব?
উত্তর : প্রতি রাতেই লক্ষ লক্ষ শিশু ঘুমাচ্ছে এবং সকালে ঠিকই ঘুম থেকে উঠে যাচ্ছে। ভালো ব্যাপার হলো শ্বাসরোধ হয়ে শিশুর মৃত্যু খুব কমই হয়। আপনার অবচেতন মনে সব কাজ করে যাচ্ছে তাকে নিরাপদ রাখার। মায়েদের সাথে কথা বলে জেনেছি তারা ঘুমের মধ্যেই কতটা সতর্ক থাকে। তারা পাশে থাকা শিশুর অবস্থান বুঝতে পারে। কখনোই তাদের মনে হয় না যে তারা গড়িয়ে শিশুর ওপর উঠে যাবে। যদিও কখনো এ রকম হয় তাহলে শিশুরা হইচই শুরু করে, ফলে ঘুম ভেঙে যায়।
যে মা শিশুকে দুধ দিচ্ছে তার স্তন অনেক বড় থাকে ফলে উপুড় হলে তার স্তন ব্যথা করে এবং ঘুম ভেঙে যায়। তবে খুব ছোট বিছানা, একই ছোট বিছানায় অনেকে ঘুমাচ্ছেন, মা-বাবা ঘুমের ওষুধ খাচ্ছেন বা অনিরাপদ ঘুমের ধরনের কারণে শ্বাসরোধে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে কখনোই এ কথা মনে আনবেন না যে, আপনি শিশুর ওপর পড়ে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলবেন।

প্রশ্ন : শিশুর সাথে এক বিছানায় ঘুমানোর বিপদ নিয়ে একটা গবেষণা পড়লাম এটা কি ঠিক?
উত্তর : ১৯৯০-১৯৯৯ সাল পর্যন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের মৃত্যুর সার্টিফিকেট থেকে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, ২ বছরের নিচে ৫১৫টা শিশুর মৃত্যু ঘটেছে বড়দের সাথে একই বিছানায় শোয়ার কারণে। এর মধ্যে ১২১ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মা-বাবার, ভাই-বোনের শরীরের চাপে শ্বাসরোধ হয়ে। ৩৯৪ জন মারা গেছে বিছানার বিভিন্ন জায়গায় চাপ খেয়ে শ্বাসরোধ হওয়ার জন্য। এদের বয়স ছিল ৩-৬ মাসের ভেতর। অনেক গবেষণার ফলাফলের মতো এটাও মিশ্র প্রতিক্রিয়া বয়ে এনেছে। এ গবেষণার ভালো দিক এটাই যে, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে তা হলো যারা শিশুর সাথে এক বিছানায় ঘুমাতে চান তারা কাজটি করুন এবং সতর্ক ও নিরাপদ থাকুন এবং গবেষণার খারাপ দিকটি হচ্ছে লক্ষ লক্ষ বাবা-মা এই ফলাফলে ভয় পেয়ে গেছেন।
Consumer Products safets Commission (CPSC)-এর করা গবেষণায় বলা হচ্ছে, আমেরিকাতে প্রতি বছর ৬৪ শিশুর মৃত্যু হয় বড়দের সাথে একই বিছানায় ঘুমানোর কারণে। সাধারণ জ্ঞান ও বিজ্ঞানের ফলাফল এক না হলে দোষযুক্ত বিজ্ঞানকে দায়ী করতে হবে। মূল সত্যি হলো এই যে, অনেক বেশি শিশু মারা যায় তার শিশু শয্যায় যেখানে সে একা ঘুমায়। এভাবে ভয় ধরিয়ে দেয়ার জায়গায় কীভাবে নিরাপদে শিশুর সাথে এক বিছানায় শুতে হবে সেটাই প্রচার করা উচিত। কিছু উপায় বলা হলো-

  • ৬ মাসের বাচ্চাকে চিৎ করে শোয়াবেন।
  • ঘুমের ওষুধ বা মাদক সেবন করলে শিশুর পাশে শোবেন না।
  • খুব নরম বিছানায় একসাথে ঘুমাবেন না।
  • ম্যাট্রেস ও বিছানার পার্শ্ব ও দেয়ালের মধ্যে যেন কোনো ফাঁক না থাকে।
  • সাইড রেইল, হেড বোর্ড বা ফুট বোর্ড যাতে পাতলা কাঠের ফালি আছে তা ব্যবহার করবেন না, মাথা আটকে যেতে পারে।
  • কোনো ঝোলানো পর্দা বা ভেনিসিয়ান ব্লাইন্ডের পাশে শোয়াবেন না, এতে ঝোলানো দড়ি থাকলে গলায় ফাঁস লেগে যাবে।
  • এক শিশুকে এক বিছানায় একা শুতে দিন।

সংবাদমাধ্যমে যা কিছু প্রকাশ পাক না কেন সারা বিশ্বের কোটি কোটি শিশু মায়ের সাথে এক বিছানায় নিরাপদে ঘুমাচ্ছে। এতে মা ও শিশু দুজনেরই সুবিধা হয়। রাতে দুধ দেয়ার জন্য দুজনের একজনকেও পুরোপুরি জাগতে হয় না। এখন এমন হচ্ছে যে বাবা-মা দুজনকে আয় করতে হচ্ছে। শিশু সারা দিন মাকে কাছে পায় না। রাতে একসাথে ঘুমালে শিশু অন্তত দিনের স্পর্শের অভাবটুকু রাতে পুষিয়ে নেয়। এ প্রসঙ্গে এটাও চিন্তা করার বিষয় যে, হাজার বছর ধরে যে অভ্যাস নিরাপদ সেটা হঠাৎই রাতারাতি বিপজ্জনক হয় কী করে? রাত শিশুর জন্য ভয়ের। সুতরাং আপনি ভেবে দেখুন আপনি কি শিশু অবস্থায় মা-বাবা থেকে দূরে অন্য একটা ঘরে অন্ধকারে রাত কাটাতে পারতেন? তাই রাতের ঘুম নিরাপদ ও নিশ্চিত করা এবং একই সাথে শিশুকে দুধ দেয়া ও স্পর্শ নিশ্চিত করা আপনাদের নিজস্ব দায়িত্ব।

প্রশ্ন : আমাদের পোষা বিড়ালটা আমাদের সাথে বিছানায় ঘুমায়। বাচ্চা হলে কি বিড়ালকে সরিয়ে দেব?
উত্তর : হ্যাঁ, বিড়ালকে সরিয়ে দিতে হবে। বিড়ালের লোমের কারণে শিশুর শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে। পশুর শরীরের ময়লা নাকে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। শিশুর নাকের ওপর কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকলে শ্বাসরোধ হতে পারে।

প্রশ্ন : আমার ৩.৫ বছরের বাচ্চা খুব জোরে নাক ডাকে। এটা কি কোনো চিন্তার কারণ?
উত্তর : ঘুমন্ত শিশুকে লক্ষ করে দেখুন। যদি দেখেন তার শ্বাস বন্ধ হচ্ছে এভাবে ১০ সেকেন্ড পার হওয়ার পর হঠাৎ ভীষণ জোরে শ্বাস নিচ্ছে তাহলে ডাক্তারকে জানাতে হবে। কখনো টনসিল বড় হলে এবং অ্যাডেনয়েডস-এর জন্য এটা হতে পারে। রাতে বাতাস যাওয়ার পথ সরু ও শিথিল হয়। শিশু বিশেষজ্ঞ দিয়ে আপনার শিশুর নাক ও গলা পরীক্ষা করে নিন। যদি নাকে ও গলায় কোনো সমস্যা না পাওয়া যায় তাহলে শোবার ঘরকে অ্যালার্জেন মুক্ত রাখুন। অ্যালার্জেনের কারণে নাক বন্ধ হয়ে যায় এবং তখন শিশু জোরে শব্দ করে শ্বাস ফেলতে থাকে। শোবার ঘরে বাতাস বিশুদ্ধকারী যন্ত্র লাগাতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন শোবার ভঙ্গিতে শিশুকে ঘুমাতে অভ্যাস করুন। এক পাশে কাৎ হয়ে শুলে বা উপুড় হয়ে শুলে নাক ডাকা বন্ধ হতে পারে।
রাতে শ্বাস বন্ধ হলে শিশুর সামগ্রিক সুস্বাস'্য ও বেড়ে ওঠায় ব্যাঘাত ঘটে। ঘুম একবার গাঢ় হয় একবার পাতলা হয়-এভাবে সারা রাত চলতে থাকে। নাক বন্ধ হলে বাতাসের অভাবের জন্য শিশু বারে বারে জেগে যায়, কেঁপে ওঠে। এতে অ্যাড্রেনালিন ক্ষরণ হয় এটাও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। এর জন্য শিশু রাতে বিছানায় প্রস্রাব করে দেয়। অ্যাড্রেনালিন মূত্রথলিকে খালি হওয়ার সংকেত দেয়। অ্যাডেনয়েড না থাকলে রাতে শিশু ততটা বিছানা ভেজায় না। টনসিল বা অ্যাডেনয়েডের সমস্যা থাকলে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ দেখান।

প্রশ্ন : আমার ৩.৫ বছরের বাচ্চা প্রতি রাতেই ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে জেগে ওঠে। পুরোপুরি জাগে না। আপনার সাহায্য চাই।
উত্তর : শিশু রাতে আতঙ্কিত হলে গভীর ঘুম থেকে জেগে উঠে বসে। প্রচণ্ড জোরে চিৎকার করে। এরপর তাকে ফ্যাকাসে ও ভীত দেখায়। চোখ বড় করে তাকিয়ে দেখতে থাকে, থেমে থেমে কাঁদতে থাকে, ঘামতে থাকে, বড় বড় শ্বাস নিতে থাকে। সান্তনা দিয়ে তাকে থামানো যায় না। ৫-১০ মিনিট এ রকম হওয়ার পর আবার সে শুয়ে পড়ে এবং ঘুমিয়ে যায়।
দুঃস্বপ্ন দেখে শিশু সম্পূর্ণরূপে জেগে ওঠে এবং ভয়াল স্বপ্নের কথা মনে করে আর ঘুমাতে পারে না। তবে রাতে আতঙ্কিত হলে শিশু পুরোপুরি জেগে ওঠে না, ফলে কিছু মনে রাখতে পারে না। ফলে পরের দিন সে ভীত থাকে না। আবার রাতে ঘুমাতে পারে স্বাভাবিকভাবে। বড় হওয়ার সাথে সাথে এগুলো কমতে থাকে। ঘুমানোর সময় তাকে কাছে নিন, খেলুন, গল্প বলুন, পিঠে হাত বুলিয়ে দিন, ক্যাসেট প্লেয়ার ছেড়ে দিন-এসব করলে Night terror কমবে।

প্রশ্ন : আমার ২২ মাসের বাচ্চা রাতে প্রায়ই দৌড়ে আমাদের ঘরে চলে আসে। কী করে তাকে ঘুমপাড়াব? তাকে কি তার ঘরে আটকে রাখব?
উত্তর : হাঁটতে শিখেছে এমন শিশুরা এ রকমই করে। এ রকম শিশুদের জন্য বলতে হবে-তুমি রাতে আমাদের কাছে আসতে পারো যদি তুমি তোমার নতুন বিছানায় ঠিকমতো ঘুমাও। আসার সময় কোনো শব্দ কর না। আমাদের ঘুম দরকার যদি তোমার শব্দে আমরা জেগে যাই তাহলে সকালে আমরা খুব রাগ করব। শিশু যেন উঠে না আসে সে জন্য কিছু কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে যেমন-

  • ওর বিছানার কাছে এক গ্লাস পানি রেখে দিন। পিপাসা হলে খেয়ে নেবে।
  • আপনার গাওয়া ঘুমপাড়ানি গান ক্যাসেটে বাজাতে থাকুন ওর বিছানার পাশে।
  • বিছানাটা আকর্ষণীয় করে তুলুন যেন সে নিজের বিছানায় থাকতে ভালোবাসে। অ্যালার্জিমুক্ত খেলনা রাখুন বিছানায়।

প্রশ্ন : আমাদের ৩ বছরের বাচ্চা মাঝরাতে জেগে যায়। আমাদের ঘরে চলে আসে। বায়না ধরে মাকে ওর বিছানায় ঘুমানোর অথবা আমাদের সাথে ঘুমানোর।
উত্তর : প্রথমে বুঝে নিতে হবে বাচ্চা যে আপনাদের সাথে শুতে চাচ্ছে এটা কি তার প্রয়োজন? না অভ্যাস? রাতের বেলা শিশুরা ভয় পায় সুতরাং রাতে আপনার কাছে শোয়া তার একটা প্রয়োজন। যদি দিনের বেশির ভাগ সময়ে আপনাকে না পেয়ে থাকে তাহলে রাতে সে আপনার ছোঁয়া চাইবে সুতরাং এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যেন তার প্রয়োজন মেটে। শিশুকে নিয়ে তার ঘরে শুয়ে পড়ুন। গান শোনান, কোলে টেনে নিন, পিঠে হাত বুলিয়ে দিন। এরপর তাকে বলুন যদি ঘুম ভেঙে যায় রাতে এবং সে আপনার সাথে ঘুমাতে চায় তাহলে মেঝেতে তার জন্য যে বিছানা করা আছে তাতে যেন সে শুয়ে পড়ে, বাবা-মাকে বিরক্ত না করে। দেখতে পাবেন যে সে আস্তে আস্তে নিজের বিছানাতেই বেশি সময় কাটাচ্ছে। তার মানসিক সমস্যা আছে এটা ভাবা ঠিক নয়। মানসিকভাবে সুস্থ সব বাচ্চাই মায়ের কাছে ঘুমাতে চায়। যদি তেমন হয় তবে তাকে শুতে দিন। এক সময় সে বুঝবে ঘুমের জগৎটা ভয়ের কিছু নয়।

প্রশ্ন : আমার শিশুর বয়স ৪ মাস। এত দিন পর্যন্ত সে চিৎ হয়ে শুয়েছে। এখন মাঝরাতে সে উপুড় হয়ে যায়। হঠাৎ শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করতে হলে চিৎ হয়ে শোয়া দরকার। আমার কী করা উচিত?
উত্তর : চিৎ হয়ে শুলে হঠাৎ শিশুর মৃত্যুহার ৩০%-৫০% কমে যায়। এটা পরিসংখ্যানের কথা। এর মানে এই না যে আপনার শিশু উপুড় হয়ে ঘুমালে হঠাৎ মারা যাবে। এখন আমেরিকায় শিশুর হঠাৎ মৃত্যু হয় ১০০০ জনের মধ্যে ১ জনের। অর্থাৎ ৯৯৯% ভাগ ক্ষেত্রে বাঁচার সম্ভাবনাই বেশি। হঠাৎ মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, অপরিপক্ব শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা যেসব শিশুর থাকে তারা গভীর ঘুমে আক্রান্ত হলে শ্বাসক্রিয়া থেমে যায় অথবা পুনরায় শুরু হয় না। ‘হঠাৎ মৃত্যু’ গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর ঘুমানোর ভঙ্গি সেটাই হয় যেটাতে তার শ্বাস নিতে-ফেলতে কষ্ট কম হয়। আপনার শিশুর জন্য হয় ওই ভঙ্গিটাই ঠিক। যদি দুশ্চিন্তা থাকে তাহলে উপুড় অবস্থায় ঘুমানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ঘুমালে চিৎ করে দিন।

প্রশ্ন : আমার ১০ মাসের শিশু সকালে ঘুমাতে চায় না। দিনে আধঘণ্টার বেশি ঘুমায় না।
উত্তর : শিশু ও অভিভাবকের ছোট ঘুম দরকার হয়। ছোট শিশুদের ১ ঘণ্টা ঘুম দরকার সকালে এবং ১-২ ঘণ্টার ঘুম বিকেলে। ১-২ বছরের শিশুদের অনেকেই সকালে ঘুমায় না কিন্তু দুপুরের পর দরকার হয়। শিশুকে জোর করে ঘুম পাড়ানো যায় না। তবে বিশেষ ব্যবস্থা নিলে তারা ঘুমাতে পারে যেমন-

  • শিশুকে কাছে নিয়ে শুয়ে পড়ুন।
  • দৈনিক সকালে ও দুপুরের পর ঘুমানোর রুটিন করে নিন।
  • ঘরের আলো কমিয়ে দিন, গান বাজান, জড়িয়ে কাছে নিন, দোলা দিন, ঘুমালে বিছানায় শুইয়ে দিন। আপনিও ছোট ঘুম দিয়ে নিতে পারেন।

প্রশ্ন : আমার ৩ বছরের বাচ্চা ঘুমাতে চায় না। ক্লান্ত হলেও ঘুমাবে না, কী করে তাকে ঘুম পাড়াব?
উত্তর : দুপুরের পর ঘুমানো শিশুদের স্বাসে'্যর জন্য উপকারী। এতে শরীরের ক্লান্তি দূর হয়, শরীর নতুন শক্তি পায়।

  • দিনের যে যে সময়ে ঘুম দরকার সে সময়ে সবকিছু নীরব করে দিন।
  • ওই সময়ে অন্য কাজ করার ঝোঁক কমিয়ে দিন। শিশু ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হবে।
  • ঘরের যে কোনো জায়গায় তাকে ঘুমাতে দিন। বাক্স দিয়ে ছোট ঘর বানিয়ে দিন-একটা দরজা রাখুন। দেখবেন নিজে নিজেই সময়মতো ওই ঘরে ঢুকে পড়বে ও ঘুমাবে।
  • এমনও হতে পারে শিশু আরও কিছুক্ষণ খেললে ঘুমাবে তাহলে আর একটু খেলতে দিন।
  • ঠিক দুপুরের পর পরই ঘুমালে রাতেও তাড়াতাড়ি ঘুমাবে। এ রকম করলে দেখা যাবে যাদের মা-বাবা দেরিতে অফিস থেকে ঘরে ফেরে তাদের শিশুরা বিকেলে তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। মা-বাবার সাথে ভালোভাবে সময় দিতে পারে না। সুতরাং এমন সময়ে ঘুম দেয়া ভালো যে ঘুম থেকে ওঠার কিছুক্ষণ পর সে বাবা-মাকে সময় দিতে পারবে, ক্লান্ত থাকবে না।

প্রশ্ন : আমার ২ বছরের বাচ্চা রাতে তার নিজের বিছানায় ভালো ঘুমায়। কিন্তু দিনের বেলায় সে আমার কোলে ছাড়া ঘুমায় না। এতে বদঅভ্যাস হয়ে যাচ্ছে না? কী করে এ অভ্যাস ছাড়াব?
উত্তর : আপনার কোলে ঘুমাতে দিয়ে খারাপ অভ্যাস হচ্ছে না, বরং ভালো অভ্যাসই হচ্ছে। শিশুরা তাদের প্রয়োজনটা প্রকাশ করে। যে তার লালন-পালন করছে তাকে বুঝে নিতে হয় সেই সংকেতগুলো। যদি রাতে একা ভালো ঘুমায় তাহলে দিনের বেলায় কিছুটা সময় তাকে আপনার দেয়া উচিত। নইলে দেখা যাবে সে রাতে ঘুমাচ্ছে না, আপনাকে কাছে চাচ্ছে। শিশুদের সংকেতগুলো বুঝে নিতে হয়। আপনার কোলে ঘুমাচ্ছে মানে আপনি ওকে নষ্ট করে দিচ্ছেন বা সে আপনাকে ইচ্ছামতো চালাচ্ছে তাও না। এ ধরনের চিন্তা করলে সন্তানের সাথে আপনার দূরত্ব বেড়ে যাবে এবং শিশুর প্রয়োজনগুলো আপনি আর বুঝতে পারবেন না। ‘শিশু ঘুমালে আমি অন্য কাজ করতে পারতাম’ এ ধরনের ঝোঁক থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখুন এবং তার সাথে থেকে তাকে জড়িয়ে ধরুন। এক সময় প্রয়োজন মিটলে সেও আপনাকে ছেড়ে দেবে।

বিছানায় অনেক বেশি ভিড়
প্রশ্ন : আমার ৬ বছর ও ২ বছরের বাচ্চা দুটো আমাদের সাথে একই বিছানায় ঘুমায়। কীভাবে এ অভ্যাস ভাঙবে?
উত্তর : দিনের বেলা যারা বাচ্চাদের সময় দেয় না তাদের উচিত বাচ্চাদের সাথে এক বিছানায় শোয়া। এতে তারা আবার যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। আপনার ছোঁয়া পায়। তবে যদি আপনার সমস্যা হয় তাহলে ঘরের অন্য কোনায় তাদের জন্য বিছানা তৈরি করে দিতে পারেন। তাহলে তারা এ ধারণাটুকু পাবে যে মা-বাবা কাছে আছে, দূরে নয়। প্রথমে বড় বাচ্চাকে ওই বিছানায় শুতে দিন। পরে ছোট বাচ্চাকে নিয়ে যাবেন। এরপর ওই বিশেষ বিছানা ওদের নিজেদের ঘরে তৈরি করে সেখানে শোয়ার অভ্যাস করুন।

প্রশ্ন : আমার ১৫ মাসের মেয়েকে একজন শিশু পরিচর্যাকারীর কাছে পার্ট টাইম রাখতে হবে। ঘরে আমি তাকে ঘুমাতে সাহায্য করি। কী করে অন্যভাবে ঘুম পাড়ানো শেখানো যায়?
উত্তর : শিশু পরিচর্যাকারীর ঘরের পরিবেশ আপনার ঘরের পরিবেশের মতো করতে বলুন। তাকে বলুন শিশুকে ঘুম পাড়ানোর জন্য দোল দিতে হবে, গান শোনাতে হবে, পাশে শুতে হবে তবেই ঘুমাবে। অনেক শিশু Sling Carrier-এ ঘুমাতে ভালোবাসে। তাই ঘুমানোর আগে তাকে Sling Carrier ব্যবহার করতে বলুন।

প্রশ্ন : আমার ১৩ মাসের মেয়ে রাতে ১১টায় ঘুমায় এবং সকাল ৭টায় ওঠে। দিনের বেলা ৪৫ মিনিট ঘুমায়। কতক্ষণ ঘুমানো দরকার?
উত্তর : এই বয়সের শিশুরা গড়ে ১১-১২ ঘণ্টা ঘুমায়। সেই হিসেবে একটু কম ঘুম। তবে যদি এতটা সময় ঘুমানোর পর তাকে দেখে মনে হয় বিশ্রাম পর্যাপ্ত হয়েছে তাহলে চিন্তা করার কিছু নেই। কিন্তু যদি মনে হয় ঝিমাচ্ছে, খিটখিটে হয়েছে তাহলে আরও ঘুম প্রয়োজন।

বিভিন্ন বয়সে ঘুমের সময়ের তালিকা

বয়স ঘণ্টা/প্রতিদিন
জন্ম থেকে ৩ মাস ১৪-১৮
৩ মাস-৬ মাস ১৪-১৬
৬ মাস-২ বছর ১২-১৪
২ বছর-৫ বছর ১০-১২

রাত ১১টায় ঘুমানো একটু দেরিই হয়ে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি ঘুম দেয়ার অভ্যাস করা ভালো। নিজেদের সুবিধা হয় এমন সময় বের করে নিন।

প্রশ্ন : আমার ৩ মাসের শিশু রাতে প্রায়ই জেগে যায়। আমি দুধের বোতল দিই। কী করব বুঝতে পারছি না?
উত্তর : শিশুদের ঘুম বড়দের চেয়ে পাতলা এবং খুব অল্প সময়ের জন্য ঘুমায় এরা। কিছু কারণ আছে জাগার। যেমন- রাতে দূরে থাকার ভয়ে শিশুরা মায়ের কাছেই ঘুমাতে চায়। বিভিন্ন রকম ব্যবস্থা নিয়ে দেখতে পারেন কোনটা সবচেয়ে ভালো কাজ করে, সেও ঘুমায় আপনারও বিশ্রাম হয়। নিজের বিছানায় নিরাপদ দূরত্বে রাখতে পারেন অথবা ওর জন্য আপনার কাছাকাছি পৃথক বিছানা দিতে পারেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের প্রয়োজনও বদলায়। ফলে আগে যেভাবে ঘুমাত সেভাবে হয়তো পরে ঘুমাতে নাও পারে। যদি শিশুকে নিজের বিছানায় অথবা নিজের ঘরে শোয়াতে ভালো লাগে তাহলে তার বিছানা আপনার বিছানা থেকে ধীরে ধীরে সরাতে থাকুন।

গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স (Gastroesophageal reflux-GER) গলায় খাবার উঠে আসা
রাতে কার বারে বারে জেগে ওঠার এটাও অন্যতম কারণ। এই সমস্যায় ভুগছে এমন শিশুরা চিৎ হয়ে শুলে পেটের এসিড গলনালীতে চলে আসে এবং এতে ব্যথা হয়। শিশুদের GER-এর লক্ষণ-

  • বারে বারে মুখে থুথু আসে দিনে
  • চিৎকার করে জেগে ওঠে
  • পেট মোচড় দিয়ে বারে বারে ব্যথা করে
  • গলায় খড়খড় শব্দ যখন গলায় খাবার উঠে আসে
  • খাবার ঠিক পরপরই পেটের ব্যথা

GER চিকিৎসা করলে ভালো হয়ে যায় তাই শিশু বিশেষজ্ঞকে দেখান।

  • কৃত্রিম দুধে অ্যালার্জিঃ দুধ খাবার পরপরই যদি শিশু চেঁচামেচি করে, অস্বস্তি প্রকাশ করে তাহলে এ জাতীয় দুধে তার অ্যালার্জি আছে। যদি বুকের দুধ দেন তাহলে আপনি যে খাবার খাচ্ছেন তাতে বাচ্চার অ্যালার্জি থাকতে পারে। কখনো মুখে বিন্দু বিন্দু র‌্যাশ দেখা যায়। মলদ্বারের আশপাশেও র‌্যাশ হতে দেখা যায়। এ রকম সন্দেহ হলে দুধ পরিবর্তন করুন এবং আপনার খাবার পরিবর্তন করুন। ডাক্তার ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে পারেন।
  • বাতাসের সঙ্গে যুক্ত অ্যালার্জিঃ বাতাসে অ্যালার্জি হওয়ার মতো কিছু থাকলে বাচ্চার নাক বন্ধ হয়ে যাবে এবং কানের পর্দার পেছনে শ্লেষ্মা জমা হবে, ঘুম ভেঙে যাবে। যদি নাক বন্ধ হওয়ার কারণে বারবার জেগে ওঠে তাহলে ঘর ধুলাবালিমুক্ত রাখতে হবে।
  • কান্না মানেই যোগাযোগ করাঃ কান্নাকাটি করা মানেই সে শিশুর কোনো প্রয়োজন আছে বা সমস্যা হচ্ছে। সুতরাং ঘুমানোর ব্যবস্থা, খাবার, ধুলাবালিমুক্ত ঘর এগুলো ঠিক রাখলে সমস্যা কমবে। সবাই ভালো ঘুমাতে পারবেন।

প্রশ্ন : আমাদের ৪ বছরের বাচ্চা আমরা না ঘুমানো পর্যন্ত ঘুমাবে না। প্রায়ই রাত ১২টা পর্যন্ত জেগে থাকে। সকালে উঠতে দেরি করে। জোর না করে কী করে তাকে তাড়াতাড়ি শোয়ানো যাবে?
উত্তর : এই অভিযোগটাই সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। জীবনের নানা পরিবর্তনের জন্য এটা হচ্ছে। শিশুর দেরিতে ঘুমাতে যাওয়া মানে হলো সে আরও কিছুক্ষণ বেশি মায়ের কাছে থাকতে চায়। এর মানে এই নয় যে তারা শুতে চায় না। এটা লক্ষ করেছি, যে বাবা-মা দিনে যত বেশি ব্যস্ত তাদের সন্তানরা রাতেই মা-বাবাকে বেশি কাছে পেতে চায়।
শিশুকে তাড়াতাড়ি ঘুম পাড়াতে চাইলে বিকেলে খেলতে দিন যেন ক্লান্ত হয়ে পড়ে। যে সময়ে ঘুম পাড়াতে চান তার ১ ঘণ্টা আগে থেকে শুরু করুন। গল্প বলুন, গান শোনান, কাছে টেনে নিন- এভাবে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করুন। প্রতি রাতেই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর জন্য চেষ্টা করুন, পরে অভ্যাস হয়ে যাবে।

প্রশ্ন : আমার ছোট মেয়ে সহজে ঘুম পাড়তে চায় না। ওর বাবা নেভিতে চাকরি করে। আমি একা কী করি বুঝতে পারছি না। বাচ্চার জন্মের পর প্রথম ৩ বছর ওর বাবা বাসায়ই ছিল।
উত্তর : বাসায় হঠাৎ কোনো পরিবর্তন হলে শিশুদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। বাবা-মা হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হলে শিশুরা জাগবে এটাই স্বাভাবিক। যাদের স্বামীরা মিলিটারিতে চাকরি করে ওইসব স্ত্রীর উচিত বাচ্চাকে নিজের কাছে নিয়ে ঘুমানো। আগে তাকে ঘুম পাড়িয়ে নিয়ে তারপর অন্য কাজ শুরু করুন। নিজের শোয়ার সময় হলে ওকে অন্য বিছানায়ও সরিয়ে দিতে পারেন।

প্রশ্ন : শিশুরা কি বেশি ঘুমাতে পারে? আমার বাচ্চার বয়স ৩ মাস। প্রতি ৪.৫ ঘণ্টা পরপর তাকে আমি তুলে দুধ দিই। এটা কি স্বাভাবিক?
উত্তর : শিশুদের ঘুমের ধরন নানা রকম। শান্ত প্রকৃতির যারা তারা শান্ত ভাবে ঘুমায়। চঞ্চল শিশুরা বারে বারে জেগে যায়। বেশি ঘুমালে বেড়ে ওঠা অনেক সময় বাধা পায়। বেড়ে ওঠা বলতে শরীরের বড় হওয়া নয়- শারীরিক, মানসিক ও আবেগের পরিবর্তন হওয়া।
শিশুরা কাঁদবে এবং এভাবে কাছে ডাকবে। মায়ের সাথে যোগাযোগ হবে। কিন্তু বেশি ঘুমালে এটা হয় না। আপনার বাচ্চাকে প্রতি ৩ ঘণ্টা পরপর তুলে দুধ দিন। রাতে জাগতে দিন। ডাক্তারের কাছে নিয়মিত নিন, ওজন বাড়ছে কি না দেখুন। যেহেতু আপনার বাচ্চার চাহিদা কম ফলে এদের খাওয়াও কম হয়। তাই নিয়ম মতো জাগিয়ে খাওয়ান।
পর্যাপ্ত খাবার দেয়ার সাথে সাথে ঘন ঘন আপনার শরীরের ছোঁয়াও নিশ্চিত করুন। যেসব বাচ্চার চাহিদা বেশি তারা নিজে থেকেই কাঁদে। কিন' যারা ঘুমায় তারা ঘুমাতেই থাকে। তাই একে দিনের অনেকটা সময় কোলে-পিঠে রেখে স্পর্শ দিন।

প্রশ্ন : আমার ৩ বছরের শিশু বিছানায় যাওয়া নিয়ে যুদ্ধ করে। রাত ১০টার আগে ঘুমায় না। এভাবে আমি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ি।
উত্তর : ঘুম পাড়ানোর জন্য ১ ঘণ্টা আগে থেকে চেষ্টা করতে হয়। ঘুমানোর পরিবেশ তৈরি করলেই তবে এরা ঘুমাতে যায়। যেমন-

  • শিশুকে ক্লান্ত করুন খেলা দিয়ে
  • ঘুমাতে যাওয়ার আগে গল্প বলুন, হাল্কা খাবার দিন, গান ছেড়ে দিন
  • প্রতিদিনই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করুন
  • ঘরের আলো কমিয়ে দিন, কাপড় বদলে দিন, প্রার্থনা করুন ওকে কাছে রেখে-২০-৩০ মিনিটের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়বে
  • বিছানায় যাওয়ার আগে নীরব করে দিন
  • ঘুম আসে এমন গল্প বলুন
  • কিছু শর্ত দিন। যেমন ‘তুমি চোখ বন্ধ করলে আমি গল্প বলব’

প্রশ্ন : আমার স্বামী প্রায়ই ভ্রমণে যায়। যখনই সে থাকে না তখন আমার ৩ বছরের ছেলেটা প্রায়ই মাঝরাতে আমার ঘরে চলে আসে। এই সময়ে কীভাবে ওকে ঘুম পাড়াব?
উত্তর : যখন বাবা-মায়ের একজন অনুপন্থিত থাকে তখনই ওরা এই পরিবর্তনটা ধরতে পারে। এতে শিশুর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। তার মনে নিরাপত্তার অভাব দেখা দেয়। তখন আপনি তাকে আপনার কাছে নিয়ে ঘুমান। আপনার বিছানার কাছে ওর বিছানা করে দিন। বলুন যে বাবা চলে গেলে তখনই শুধু তুমি এখানে ঘুমাবে।
যাকে ভালো লাগে তাকে কাছে না পেলে ওরা উদ্বিগ্ন হয়। যখন দুজনই বাইরে যাবেন তখন তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে ‘আমরা ২ দিন পর আসব’। দূর থেকে ফোনে কথা বলুন। এরপর যখন ফিরলেন তখন তাকে দেখান আপনারা গাড়ি থেকে নামছেন। ২ দিন পর আসব যদিও সে বুঝবে না তাই বলুন আজ পার্কে যাব, কাল বাজারে যাব তারপর বাবা আসবে।

প্রশ্ন : আমি দৈনিক ৮ ঘণ্টার একটা চাকরি পেয়েছি। এর আগে খণ্ডকালীন চাকরি ছিল। এখন আমার বাচ্চা রাতে প্রায়ই জেগে আমার বিছানায় উঠে আসে-কারণ কী?
উত্তর : যে মাকে সে বেশি সময় কাছে পেত এখন আর তা পায় না। সুতরাং রাতে সে জাগে আরও বেশিক্ষণ মাকে কাছে পাওয়ার জন্য। এভাবেই সে আপনাকে জানাচ্ছে যে সে আপনাকে কাছে পায় না। আপনার ঘুম দরকার আর আপনাকে তার দরকার। এ দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং তাকে সময় দিন। আপনার বিছানার কাছে তার বিছানা করে দিন। ঘুমানোর আগে পর্যন্ত তাকে সময় দিন। এতেও যদি সে সন্তুষ্ট না হয় তাকে আপনার বিছানায় শোয়ান। এরপর ঘুম না আসা পর্যন্ত সেখানে থাকতে দিন। যদি মনে করেন সে আপনাকে ব্যবহার করছে তাহলে ভুল। এখানে শক্তির নয় ভালোবাসার সম্পর্ক।

প্রশ্ন : আমাদের ৩ বছরের বাচ্চাটা ভোর ৫টায় জেগে যায়। জেগে খেলা শুরু করে, কী করব?
উত্তর : শিশুকে বলুন-রাত খেলার সময় নয়, ঘুমানোর সময়। শরীর খারাপ হলে আমাদের ডাকবে। আমরা ঠিকমতো না ঘুমাতে পারলে সকালে রাগ করব।

  • যদি শিশু ভোরে ওঠে এবং পরের দিন ক্লান্ত না থাকে তাহলে ওটাই তার ওঠার সময়
  • দেরিতে ঘুম পাড়ান
  • জানালার পর্দা ফেলে ঘর অন্ধকার করে দিন
  • বাচ্চা কাছে এলে বিছানায় টেনে নিন, চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকুন। আপনাকে না পেয়ে হয়তো সে থেমে থাকবে বা নিজের ঘরে চলে যাবে
  • যদি সে না ঘুমায় তাহলে ওর ঘরে খাবার রেখে দিন। একা খেলতে দিন।

প্রশ্ন : আমার ১৮ মাসের বাচ্চা মাঝরাতে উঠে খেলতে শুরু করে। আমার ঘুম দরকার। কী করে শেখাব রাত ঘুমের জন্য?
উত্তর : যদি শিশু জেগে খেলতে শুরু করে খেলতে দিন। চুপ করে শুয়ে থাকুন। এক সময় খেলতে খেলতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিযে পড়বে। যদি না ঘুমিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে তাহলে বলুন এখন খেলার সময় না, রাত ঘুমানোর জন্য। এভাবে বলতে বলতে এক সময় সে বুঝে নেবে। জেগে গেলেও শব্দ না করে এক সময় ঘুমিয়ে পড়বে।

প্রশ্ন : আমাদের এক বছরের বাচ্চা মুখে বোতল নিয়ে শুতে চায়। এটা কি ঠিক?
উত্তর : না। এতে দাঁতের ক্ষতি হয়। এতে মুখের জীবাণু সংখ্যায় বাড়ে, প্ল্যাক তৈরি, দাঁতের ক্ষতি হয় একে Juice Bottle syndrome বলে। যদি না দিলেই নয় তাহলে ঘুমানো মাত্র বোতল মুখ থেকে সরিয়ে নিন। সকালে তাড়াতাড়ি দাঁত ব্রাশ করে দিন। প্রতি রাতে বোতলে পরপর বেশি পরিমাণ পানি দিতে থাকুন। এতে বোতলে পানির পরিমাণ বাড়বে, দাঁতের ক্ষতি কম হবে।