ধূমপান হচ্ছে তামাকজাতীয় দ্রব্যাদি বিশেষ উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শ্বাসের সাথে তার ধোঁয়া শরীরে গ্রহণের প্রক্রিয়া। সাধারণত যেকোনো দ্রব্যের পোড়ানো ধোঁয়া শ্বাসের সাথে প্রবেশ করলে তাকে ধূমপান বলা গেলেও মূলত তামাকজাতীয় দ্রব্যাদির পোড়া ধোঁয়া গ্রহণকেই ধূমপান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিকসহ মোটামুটি সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত যে ধূমপান যক্ষ্মা, ফুসফুসের ক্যান্সারসহ নানা রোগের অন্যতম প্রধান কারণ এবং ধারক ও বাহক। সমপ্রতি ধূমপানের এই বদঅভ্যাস ও মরণনেশা নিয়ে অনেক সময়ে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে থেকে কিছু জার তথ্যও পাওয়া গেছে। আমাদের আশপাশে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যারা এই নেশা থেকে নিজেদের ছাড়িয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। জেনে নিন সেই আলোকিত ব্যক্তিদের পরিচয়।
আমরা দেখি আমাদের পছন্দের তারকারা সিগারেট খান। কারও কাছে ব্যাপারটি খারাপ লাগে আবার কারও কাছে অনুপ্রেরণামূলক। তবে যদি দেখা যায় এই তারকাদের মাঝে এমন অনেকেই আছেন যারা এই বদঅভ্যাস ত্যাগ করেছেন তবে সেগুলো কি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার হবে!
বারাক ওবামা
আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, সম্প্রতি সিগারেট ছেড়েছেন এমন খবরে ধুম পড়ে গিয়েছিল সারা বিশ্বে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাতে তার এই সিগারেট ছাড়া নিয়ে ফলাও করে খবর ছাপা হয়েছিল। হবেই বা না কেন। তিনি বিশ্বের লিডার। সারা বিশ্বে যেখানে ‘মাদককে না বলুন’ কর্মসূচিতে নেমেছে সেখানে বিশ্বের লিডার ধূমপানের মতো বদঅভ্যাসটি পুষে রেখেছেন, ব্যাপারটি কেমন অদ্ভুত হয়ে যায় না! ওবামা সম্পর্কে ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা জানিয়েছেন ওবামা টিনেজ বয়স থেকেই ধূমপান করতেন। পরবর্তীতে নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়ার আগে তাকে প্রথম শর্ত দেয়া হয়েছিল সিগারেট ছাড়তে হবে। তিনি তার এই কথা রাখতে পেরেছেন, এটা অবশ্যই বড় একটি ঘটনা। আর এই কাজটি করে তিনি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সেই সাথে তরুণ প্রজন্মের অনেকের কাছে হয়ে উঠেছেন আইকন।
ড্রিউ ব্যারিমোর
ড্রিউ ব্যারিমোর, ‘দ্য ওয়াইল্ড ফ্লাওয়ার’ হিসেবে পরিচিত হলিউড সিনেমা জগতে। তার ব্যক্তিগত ইতিহাস বলে তিনি একজন বেহিসেবি ড্রাগ ও অ্যালকোহলসেবী। আরও অদ্ভুত খবর হলো তিনি মাত্র ১০ বছর বয়স থেকে মরণনেশা সিগারেট খাওয়া শুরু করেন। তিনি নিজেকে ‘স্মোকাহলিক’ হিসেবে পরিচয় দিতে খুব পছন্দ করেন। তবে অনেকে তাকে ‘ম্যাড রাশিয়ান’ও বলে থাকেন। হঠাৎ করে তিনি উপলব্ধি করেন, সিগারেটের নেতিবাচক দিক সম্পর্কে। সেই সাথে তিনি জানলেন কীভাবে ছাড়তে পারেন সিগারেট। প্রচণ্ড মানসিক জোর দেখিয়ে তিনি ছেড়ে দিলেন সিগারেট। সম্প্রতি খবর পাওয়া গেছে তিনি একেবারেই এই নেশা সেবন করেন না আর।
আমির খান
শেষ পর্যন্ত আমির খান ধূমপানের বদঅভ্যাসটি ত্যাগ করলেন। অনেক দিন ধরেই তিনি ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন। ‘তারে জমিন পার’ ছবির পরে এবার সেটা বাস্ত-বায়ন করলেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সম্প্রতি তার ব্লগে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ আমি শেষ পর্যন্ত বদঅভ্যাসটি ত্যাগ করতে পেরেছি। আমি জানি এটা জেনে আপনারা উল্লসিত। আর আমি সেটা বুঝতেও পারছি। যদিও নববর্ষের রাত থেকেই অভ্যাসটি আমার ত্যাগ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পারিনি। তাই এই ব্লগে আমি মন্তব্য দেয়া থেকেও বিরত ছিলাম। আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। তখন পারিনি, কিন্তু এখন পেরেছি। তাই দয়া করে আমার ওপর রাগ না করে আমাকে সমর্থন করুন।’ আমির খানের প্রথম পরিচালিত ছবি ‘তারে জমিন পার’-এর বিপুল সাফল্যের পর এবার তিনি জীবনের রুটিনটা নিয়মানুবর্তিতায় বাঁধতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে আছে পরিমিত স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া এবং তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া। তরুণ প্রজন্মের আইকন আমির খানের এই খবরে অনেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের বদঅভ্যাস ত্যাগ করবে এমনটা আমরা আশা করতেই পারি।
ব্র্যাড পিট
তরুণ অভিনেতাদের মধ্যে থেকে যিনি অনেক বেশি নাম কামিয়েছেন তিনি ব্যক্তিগত জীবনে তুখোড় একজন স্মোকার। অথবা বলা যায় তুখোড় একজন স্মোকার ছিলেন। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ট্রয় সিনেমাটির পরে তার নাম দেয়া হয়েছিল ‘ট্রয়’। মাসকুরার ফ্রেম ফর দ্য এপিক ব্লকবাস্টার, ‘ট্রয়’ খ্যাত ব্র্যাড পিট সিগারেট ছেড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। শোনা গিয়েছিল এই সিনেমাটি মুক্তির পরপরই তিনি বেশি করে সিগারেট খাওয়া শুরু করেছিলেন। তবে এখন তিনি একেবারেই সেটি করেন না। একজন সফল পুরুষের পেছনে যে একজন নারীর হাত রয়েছে সেই কথাটির প্রমাণ মেলে ব্র্যাড পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সম্পর্ক থেকে। জানা গেছে ব্র্যাড পিটের সিগারেট ছাড়ার পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। সব মিলিয়ে গত বছরে ছয় সন্তানের জনক ব্র্যাড পিট নিজেকে মুক্ত করেছেন সিগারেট অ্যাডিকশন থেকে।
পিংক
আমেরিকান পপ গায়িকা পিংক। মাত্র ১৯ বছর বয়স তার। সম্প্রতি গ্রামি পুরস্কার জিতেছেন। তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি বদঅভ্যাস শোনা যায় তিনি ৯ বছর বয়স থেকে ধূমপান শুরু করেন। আর আস্তে আস্তে জড়িয়ে যান অন্যান্য মাদক নেশায়। দীর্ঘ কয়েক বছর পরে তিনি সিগারেট ছেড়েছেন। ২০০৯ সালের প্রথমে একটি অ্যাওয়ার্ড ফাংশনে এসেই তিনি সিগারেট ছাড়ার এই ঘোষণাটি দিয়েছেন বলে জানা যায়। তার সম্পর্কে পরবর্তীতে আরও খবর প্রকাশ পেয়েছে তিনি নাকি এখন সিগারেটের গন্ধও সহ্য করতে পারেন না এবং শুধু সিগারেট না অন্যান্য অ্যাডিকশন থেকেও তিনি দূরে সরে গেছেন। জানা যায় কোল্ড টার্কি নামের একটি পদ্ধতির সাহায্যে তিনি সিগারেট ছেড়েছেন। এটি সিগারেট ছাড়ার একটি পুরাতন পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তিনি একজন সফল ব্যক্তিত্ব যিনি এই বদঅভ্যাস থেকে মুক্ত করতে পেরেছেন নিজেকে।
মেল গিভসন
শোনা যায় হলিউডের তারকাদের মধ্যে নাকি সিগারেট আসক্তি খুব বেশি। তারা জনসমক্ষেও ধূমপান করেন বলে শোনা গেছে। এমনই একজনের খবর পাওয়া যায়, মেল গিভসন। তিনি একাধারে অভিনেতা ও একজন সফল ডিরেক্টর। তার এই বর্ণাঢ্য জীবনে তিনি সব থেকে বেশি যে জিনিসটিকে ভালোবেসেছেন তা হলো সিগারেট। অন্যদের তুলনায় কম এগিয়ে নন তিনি, মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই সিগারেট খাওয়া শুরু করেছিলেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেন স্কুলের বন্ধুদের কাছ থেকে এই বদঅভ্যাসটি রপ্ত করেন তিনি। শুধু সিগারেটই নয় তাকে একজন অ্যালকোহল আসক্তও বলা চলে। তার কাছের মানুষের ধারণা ভুল প্রমাণ করে তিনি ২০০৬ সালের শেষভাগে এসে একটি ছবির প্রিমিয়ারে সাংবাদিকদের সামনে ঘোষণা দেন তিনি খুব চেষ্টা করছেন এবং খুব শিগগিরই তিনি সিগারেট ও অন্যান্য অ্যালকোহল আসক্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করে ফেলবেন।
প্রযুক্তির হাত সিগারেটে
স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সিগারেটের বিকল্প হিসেবে বাজারজাত ই-সিগারেটের গুণের শেষ ছিল না। আসল সিগারেটের মতো স্বাদ, তবে বাড়তি পাওয়া ছিল- এতে আসল সিগারেটের ধোঁয়ায় যে বিকট গন্ধ রয়েছে এটিতে তা নেই, তা ছাড়া সত্যিকারের সিগারেটের তামাকের চেয়ে এতে প্রায় চার হাজার রকমের রাসায়নিক কম পরিমাণে রয়েছে। তামাক ও কার্বন মনোক্সাইডের মতো মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদানগুলো এতে অনুপসি'ত। এতে ছাই হয় না, নেই আগুন লাগার ভয়ও। সবচেয়ে বড় কথা, আসল সিগারেটের চেয়ে এর খরচও অনেক কম। এসব কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই ধূমপায়ীদের কাছে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ই-সিগারেট। তবে এবার ই-সিগারেট প্রেমীদের জন্য দুঃসংবাদ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ স্বাস্থ্যবিষয়ক অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এখন বলছে আসলে গত কিছুদিনে ই-সিগারেটের স্বাস্থ্যগত ইস্যুটি নিয়ে কয়েকটি গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। সেসব গবেষণায় বলা হয়েছে ই-সিগারেট যে আসল সিগারেটের চেয়ে নিরাপদ এর সপক্ষে এখনো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। দুজন গ্রিক গবেষক সতর্ক করে বলেছেন জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও ই-সিগারেট তেমন নিরাপদ নয়। সম্প্রতি ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে বলা হয়েছে আরও তথ্য হাতে পাওয়ার আগে এটি আসল সিগারেটের চেয়ে ভালো না মন্দ তা বলা কঠিন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আরও কিছু সংগঠন জানিয়েছে, ই-সিগারেটে তামাক না থাকলেও এতে ভোক্তার শরীরে বাষ্পের সঙ্গে নিকোটিন প্রবেশ করে, যা বেশ ক্ষতিকর। বলা হচ্ছে স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ই-সিগারেট ব্যবহার করা উচিত হবে না। ই-সিগারেটের বড় বাজার ব্রিটেনের সরকার বিতর্কের এ প্রেক্ষাপটে ই-সিগারেট ভোক্তাদের ‘সতর্কতা অবলম্বন’ করার পরামর্শ দিয়েছে। অন্যান্য দেশের সাথে ই-সিগারেট গবেষণায় তাল মিলিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা জানিয়েছেন ইলেকট্রনিক সিগারেটও স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। সাধারণ সিগারেটের মতোই এর নিকোটিনও সরাসরি ফুসফুসে চলে যায়।
আসলে কী এই ই-সিগারেট
ইলেকট্রনিক সিগারেট তামাক পোড়ানো ছাড়াই নিকোটিন গ্রহণের সুযোগ দেয়। এটি তৈরি হয় একটি ব্যাটারি, একটি অ্যাটোমাইজার এবং প্রোপিলিন গ্লাইকলসহ নিকোটিনের একটি কার্টিজ ব্যবহার করে। গবেষকরা জানিয়েছেন যখন কেউ ই-সিগারেট পান করে তখন একটি সেন্সর ব্যাটারিকে সক্রিয় করে এবং ডিভাইসটির মাথার দিকে লাল হয়ে ধোঁয়া তৈরি করে এবং অ্যাটোমাইজারকে গরম করে তোলে। এই পদ্ধতিটি প্রোপিলিন গ্লাইকলকে বাষ্প করে তোলে। এই সিগারেটে টান দিলে তখন নিকোটিনের স্বাদ পাওয়া যায় এবং তা সাধারণ সিগারেটের মতোই ফুসফুসে চলে যায়। এবারে জেনে নেয়া যাক, এই বহুল আলোচিত ই-সিগারেটের আবিষ্কারক সম্পর্কে কিছু কথা।
আবিষ্কার হন লিক
ইলেকট্রনিক সিগারেটের ধারণা প্রথম দুনিয়ার সামনে নিয়ে আসেন যে ব্যক্তি তিনি একজন ফার্মাসিস্ট। চীনে তার জন্ম এবং সেখানে এক ফার্মেসিতে কাজ করেন। ২০০৩ সালের শেষ দিকে হন লিক নামের এই চায়নিজ ফার্মাসিস্ট আবিষ্কার করেন ইলেকট্রনিক সিগারেট সংক্ষেপে ই-সিগারেট। এর ঠিক পরের বছরই তিনি বিশ্ব বাজারের সাথে এই ই-সিগারেটের পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি ‘গোল্ডেন ড্রাগন হোল্ডিংস’ নামের একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটির নাম বদলিয়ে ‘রুয়ান’ রাখা হয়েছে। এর অর্থ হলো বিকল্প সিগারেট। তিনি তার এই প্রোডাক্ট ২০০৫ এবং ২০০৬ সালের দিকে বাজারে ছাড়া শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তিনি এই প্রোডাক্টের পেটেন্ট লাভ করেন। আর এই ২০০১ সালে এসে এই ই-সিগারেট একটি বহুল জনপ্রিয় সিগারেট। তরুণ প্রজন্মের একটি বড় আকর্ষণ। তবে এ সিগারেট আসল সিগারেটের থেকে বেশি ক্ষতিকর না কম ক্ষতিকর সেটা নিয়ে এখনো কোনো গবেষণা করা হয়নি। এই কারণেই বিষয়টি সবার আলোচনার মূলে উঠে এসেছে। তবে একটা কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় ই-সিগারেট কমবেশি যাই ক্ষতিকর হোক না কেন ধূমপান একটি নেশা আর নেশা মানেই ক্ষতিকর।
ধূমপান নিয়ে গবেষণার ফল
এবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের একটি রিপোর্টে ঘোষণা দিয়েছে ধূমপানের কারণে চলতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬০ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করবে। আর এর মধ্যে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মারা যাবে প্রায় ৬ লাখ মানুষ।
এত মানুষের মৃত্যুর জন্য ডব্লিউএইচও বিশ্বের সরকারগুলোকে দায়ী করেছে। সংস্থাটি দাবি করেছে কোনো দেশের সরকারই জনগণকে ধূমপান বিমুখ করতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। একই সাথে পরোক্ষ ধূমপান ঠেকাতেও কর্তৃপক্ষ যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
যদিও ধূমপান শুরু করার অনেক বছর পর এর স্বাস্থ্যগত ক্ষতির দিক প্রকাশ পেতে থাকে তারপরও ধূমপানজনিত রোগ ও এর ফলে মৃত্যু এখন মহমারীর রূপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
সংস্থাটির মাধ্যমে আরও জানা যায় ২০৩০ সাল নাগাদ ধূমপানের ফলে মৃত্যুর সংখ্যা প্রতি বছরে ৮০ লাখে গিয়ে দাঁড়াবে। একটি গবেষণায় এমনই ফল পাওয়া গেছে। জাতিসংঘের এই সংস্থাটি বিশ্বের আরও বেশি সংখ্যক দেশের সরকারকে এর তামাক নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে তা প্রয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছে।
এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৭২টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অব টোবাকো কন্ট্রোল’ (এফসিটিসি) তে স্বাক্ষর করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, ‘বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে চলতি একবিংশ শতাব্দীতে তামাকের কারণে ১০০ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে যা বিগত শতাব্দীর দশ গুণ।’ বিংশ শতাব্দীতে তামাকজনিত কারণে দশ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ধূমপান নিরোধে কয়েকটি রাষ্ট্রের গৃহীত পদক্ষেপে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এর মধ্যে উগান্ডা নিয়ম করেছে তামাকজাত দ্রব্যাদির প্যাকেটের আশি ভাগজুড়ে স্বাস্থ্য সতর্কতা নির্দেশ করার জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে।
গত মাসে চীন জনসমাগমের সন্তানগুলো যেমন হোটেল, রেস্তোরাঁ, বার ইত্যাদিতে ধূমপান নিষিদ্ধ করেছে। এ পদক্ষেপগুলোকে উৎসাহজনক বললেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মার্গারেট চ্যান এগুলোকে যথেষ্ট বলে স্বীকৃতি দেননি। তিনি বলেছেন, ‘রাষ্ট্রগুলোকে ধূমপান নিরোধে প্রয়োজনীয় আইন জারি করতে হবে এবং সেগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ধূমপানকে ‘সভ্যতার ইতিহাসে জনস্বাস্থ্যর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি’ বলে চিহ্নিত করেছে।



