Skip to main content

হৃদরোগ নির্ণয়ে ইসিজি ও অন্যান্য পরীক্ষা

ডা. মো. তৌফিকুর রহমান (ফারুক)

ইসিজি রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলেও কি হৃদরোগ থাকতে পারে?
হ্যাঁ রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলেও বিভিন্ন প্রকার হূদরোগ থাকতে পারে।
করোনারি আর্টারি ডিজিজে (CAD) কখন ইসিজি স্বাভাবিক থাকতে পারে?
সাধারণত হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন না হওয়া পর্যন্ত ইসিজির কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে না। তাই কোনো রোগীর হার্টের রক্তনালিতে এক বা একাধিক ব্লক থাকলেও ইসিজি স্বাভাবিক হতে পারে।
সে ক্ষেত্রে কীভাবে করোনারি আর্টারিতে ব্লক আছে তা অনুমান করা যায়?
যদি ইসিজি স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু রোগীর বয়স ৪০ বছরের বেশি হয়, বুকে ব্যথা হয় অথবা রোগী ধূমপায়ী হয় অথবা রোগীর ডায়াবেটিস থাকে বা রোগীর উচ্চরক্তচাপ বা রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে তবে অবশ্যই রোগীকে সঠিক মূল্যায়নের জন্য ETT (Exercise Tolerance Test) করা উচিত। হার্টের রক্তনালিতে যদি শতকরা ৭০ ভাগের বেশি ব্লক (Stenosis) থাকে তা এ টেস্টে ধরা পড়ার সম্ভাবনা বেশি।
ইসিজি স্বাভাবিক থাকলে ETT করার আগে কি Echo করার প্রয়োজন আছে?
কিছু কিছু হূদরোগ আছে যেমন Aortic Stenosis অথবা HOCM (Hypertrophic Obstructive Cardiomyopathy) যেখানে ইসিজি স্বাভাবিক থাকে কিন্তু ETT করালে ETT করার সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ রোগীকে আমরা ETT করানো থেকে বিরত রাখি। তাই কিছু কিছু রোগ যেখানে ইটিটি করালে ঝুঁকি বেশি সে সব রোগ নির্ণয় করার জন্যও অনেক সময় ঊঞঞ করার আগে ঊপযড় পরীক্ষা করাতে হয়।
রোগীর বুকব্যথা থাকলে এবং ঊঈএ স্বাভাবিক হলে কী করা উচিত?
এ ক্ষেত্রে বুকে ব্যথার কারণ নির্ণয়ের জন্য ইকোকার্ডিওগ্রাফি, ইটিটি, পেটের আলট্রাসনোগ্রাম, বুকের এক্স-রে এবং প্রয়োজনে এনজিওগ্রাম করা উচিত।
রোগীর বুক ব্যথা হলে পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম কেন করাতে হবে?
অনেক সময় পিত্তথলিতে ইনফেকশন বা পাথর হলে বিশেষত মহিলা রোগীদের ক্ষেত্রে (কলিলিথিয়াসিস) বুকে ব্যথা হতে পারে বা পেটের উপরিভাগে অস্বস্তি বা বুক ব্যথা বলে মনে হতে পারে। তাই এ পরীক্ষা করানো উচিত।
বুকে ব্যথা রোগীর কি এন্ডোসকপি পরীক্ষার কোনো ভূমিকা আছে?
হ্যাঁ, বুকে ব্যথা রোগীর পরীক্ষা করানো লাগতে পারে। কখনো কখনো পেপটিক আলসার ডিজিজ বা আলসার নয় কিন্তু মুখে টক ঢেঁকুর উঠলে অথবা অন্যান্য পাকস্থলীতে রোগ বা খাদ্যনালিতে সমস্যার কারণে বিশেষ করে Reflux esophagitis হলে প্রচণ্ড বুক ব্যথা হতে পারে। তাই এসব রোগ নির্ণয় করার জন্য এন্ডোসকপি করা লাগতে পারে।
কোনো রোগীর ইসিজি স্বাভাবিক হলে বুকের এক্স-রে পরীক্ষার ভূমিকা কী?
ইসিজি স্বাভাবিক হলেও বুকে ব্যথার অন্যান্য কারণ যেমন ফুসফুসের সমস্যা নিরূপণের জন্য এ পরীক্ষা করানো হয়।
ইসিজি স্বাভাবিক থাকলেও বুকে ব্যথা হলে কি কোনো রোগীর করোনারি এনজিওগ্রাম করা লাগতে পারে?
বুকে ব্যথা হলে ও ইসিজি স্বাভাবিক থাকলে যদি রোগীর বয়স ৪০-এর বেশি হয় বা ডায়াবেটিস বা উচ্চরক্তচাপ থাকে বা ধূমপায়ী হয় বা ইটিটি পজিটিভ হয় বা ইটিটি কোনো কারণে করা না যায় তবে করোনারি এনজিওগ্রাম সরাসরি করা যেতে পারে, রক্তনালিতে কোনো ব্লক (Stenosis) আছে কিনা তা দেখার জন্য। ইসিজি স্বাভাবিক থাকলে কোনো রোগীর রক্তনালিতে এক বা একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ বা তাৎপর্যপূর্ণ নয় ব্লক (Stenosis) থাকতে পারে।
ইসিজি স্বাভাবিক থাকলেও কি কোনো রোগীর হার্টে মারাত্মক সমস্যা থাকতে পারে?
হ্যাঁ, ইসিজি স্বাভাবিক থাকলেও কোনো কোনো রোগীর হার্টে মারাত্মক সমস্যা থাকতে পারে। যেমন-রোগীর ইসকেমিক হূদরোগ অথবা ভাসকুলার হার্ট ডিজিজ, কার্ডিওমায়োপ্যাথি পেরিকার্ডিয়াল হার্ট ডিজিজ থাকতে পারে যেখানে ইসিজি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারে।

লেখক : মেডিসিন, হৃদরোগ ও বাতজ্বর বিশেষজ্ঞ
জাতীয় হূদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল