মুহা. হাসমত হোসেন
শিরোমনি, খুলনা
আমার বয়স ২০ বছর। দশ বছর পূর্ব থেকে আমি অজান্তে জিহ্বার এক পাশ দাঁত দিয়ে চিবুতে থাকি। এটা আমি নিজে বুঝতে পারি না। আমার এই রোগ যখন শুরু হয় অন্য কোনো লোক যদি বলে দেয় তখন আমি বুঝতে পারি। অন্যথায় বুঝতে পারি না।
কেবল এই সামান্য বর্ণনা থেকে এই রোগ নির্ণয় করা কঠিন। হয়তো বা আপনার মাঝে আরও অনেক উপসর্গ আছে যেগুলো হয়তো বা আপনি অবগত নন। অনেক সময় অবসেসিভ কম্পালশন রোগে এমনটি দেখা দিতে পারে। ব্যক্তির মনের মাঝে নানা উপসর্গ থাকে যেগুলো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলার পর রোগী সর্বপ্রথম এগুলোকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হন। এ কারণে আমরা আপনাকে বলব কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে এ বিষয়ে কথা বলুন। ঢাকায় এলে মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে একবার ঘুরে যেতে পারেন। আপাত ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম সকালে ও রাতে ১টা করে সেবন করুন।
সানোয়ার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
আমার বয়স ২৭ বছর। পেশা ছাত্র। আমার এ মানসিক সমস্যা প্রায় ৫-৬ বছর ধরে। সমস্যা হচ্ছে পড়ালেখা ও পরীক্ষাভীতি। প্রথম সমস্যা হয় ১৯৯৪ সালে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন। পরীক্ষার ২-৩ দিন পূর্বে আমি আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়ি। টেনশনে খাওয়া-দাওয়া করতে পারতাম না। সর্বদা অসি'র অসি'র লাগত। দিনে ঘুমাতে গেলে সামান্য একটু তন্দ্রা আসার সাথে সাথেই গোটা শরীর কেঁপে কেঁপে উঠত। ছটফট লাগত, পড়ার টেবিলে থাকতে পারতাম না। পরীক্ষা শেষে এ অবস'া আরও খারাপ হয় এবং সবশেষে আমি কঠিন বিষণ্নতায় আক্রান- হই। একজন ডাক্তারের কাছে ওষুধ খেয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠি। এ অবস্থা থেকে আমার রোগের সৃষ্টি। বর্তমানে আমার সমস্যাগুলো হলো লেখাপড়ার চিন্তায় সর্বদা অস্থির থাকি। সব সময় ভয় ভয় লাগে। প্রায়ই সময় বিষণ্নতা, বুকের ভেতর কাঁপতে থাকে ও হা হা করে। খাবারে অরুচি। দিনে ঘুমাতে গেলে ঘুম হয় না, পা শির শির করে। যে কোনো সমস্যা বা টেনশনে পড়লে অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। কারও কোনো জিনিস নিয়ে ফেরত দিলেও মনে হয় তা বুঝি ফেরত দেয়া হয়নি এবং এ চিন্তা সর্বদা আমাকে তাড়িত করে। কোনো রোগ হলে সেই রোগ সম্বন্ধে খারাপ চিন্তা সর্বদা মনে ভয়ের উদ্রেক করে। কিছুতেই চিন্তাগুলো তাড়াতে পারি না। দুশ্চিন্তা বেড়ে গেলে ছটফট লাগে। বুক চেপে আসে। যখন পড়ার চাপ থাকে না তখন কিছুটা ভালো থাকি। সবচেয়ে খারাপ লাগে সকালে। আমি এ পর্যন্ত ট্যাবলেট মোডিপ্রান, ক্লোবাজম, রিভোট্রিল এবং ট্রিপটিন খেয়েছি। আসলে আমি কী রোগে আক্রান-, কী ওষুধ খেলে আমি সুস' হতে পারব জানাবেন।
পরীক্ষাভীতি আমাদের ছাত্রসমাজের জন্য একটি সাধারণ সমস্যা। পরীক্ষার ফলাফলে যার যত বেশি ভালো করার ইচ্ছা তার ভীতির পরিমাণ তত বেশি। আপনি ট্যাবলেট লোনাজেপ ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক করে খেতে থাকুন। এক মাস পরে যোগাযোগ করুন।
জহির
ধানমন্ডি, ঢাকা
আমার বয়স ১৭ বছর। আমার অণ্ডকোষ দুটির একটি ধীরে ধীরে অনেক বড় হয়ে গেছে। ছোট বেলায় দুটি সমান ছিল। ১১-১২ বছর থেকে ধীরে ধীরে একটি বড় হতে শুরু করেছে। দয়া করে বলবেন কি এখন কী করণীয়? এতে আমার কোনো অসুবিধা হবে কি? আমার প্রশ্নের উত্তর পেলে কৃতজ্ঞ থাকব।
সাধারণত পুরুষের অণ্ডকোষ দুটি সমান হয়ে থাকে। আকারে তেমন একটা পার্থক্য দেখা যায় না। যদি কোনো একটা অণ্ডকোষ অন্যটির তুলনায় আকারে অনেক বেশি বড় হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে টেস্টিকুলার টিউমারের ঝুঁকি বাদ দেয়া যায় না। টেস্টিকুলার টিউমার সাধারণত এ অল্প বয়সে হয়ে থাকে। আপনি কোনো সার্জারি বিশেষজ্ঞকে দেখাতে পারেন। অবশ্য কোনো এমবিবিএস ডাক্তারকে দেখিয়ে এতে আসলেই কোনো অসঙ্গতি আছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিতে পারেন।
বিপুল হোসেন
ওয়ারী, ঢাকা
আমার বয়স ২২ বছর। আমার সমস্যা ২ বছর ধরে। আমি সব সময় একা একা ঠোঁট নাড়িয়ে কথা বলি। রাস-া দিয়ে হাঁটলে বাজে সংলাপ, ছবির পাঠ, জীবনসংক্রান- চিন্তা, কার সাথে কীভাবে কথা বলব এবং বাজে চিন্তা করি। এমনকি রাতে ঘুমাতে পারি না। অনেক সময় কাঁদি আবার হাসি। স্মরণশক্তি খুব কম। আমার সমস্যার সমাধান দিলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
আপনি অবসেসিভ কম্পালসিভ রোগে ভুগছেন। এক্ষেত্রে ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম রাতে ২টি ও সকালে ১টি করে সেবন করে দেখতে পারেন। উপকার না পেলে এক মাস পরে মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
মো. মাইন উদ্দীন
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
আমার বয়স ২৯ বছর। আমি একজন মৃগীরোগী। বহুদিন যাবৎ টেগ্রেটল সেবন করে আসছি। এই ওষুধটি সেবন করার পর থেকে আমার অনেক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তার মধ্যে প্রধান সমস্যা হচ্ছে ‘ভয়রোগ’। যেমন যদি কোনো স্যার বা অভিভাবক আমাকে ডেকে বলেন আগামী কাল আমার সাথে দেখা করবে বা কথা শুনবে। তখন থেকে আগামী সময় না আসা পর্যন্ত ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে যাই। আমার মধ্যে অনেক প্রশ্ন জাগে যেমন- লোকটি কেন আমাকে ডাকলেন? কী কারণেই বা দেখা করার কথা বললেন? আমি কি অপরাধ করেছি? এ রকম অনেক রকম দুশ্চিন্তা আমার মাথা ঘুরতে থাকে। তখন আমি ঘুমানোর চেষ্টা করি। কোনো মতেই ঘুম আসে না বা ঘুমাতে পারি না। আমি মনে মনে ভাবি, আমি তো কোনো অপরাধ করিনি। তাহলে আমার এত ভয় কেন? তবুও আমার ভয় দূর হয় না। সারারাত না ঘুমিয়ে কাটাতে হয়। যখন আমি সেই স্যারের কাছে যাই তখন স্যারের কথা শোনার পর আস্তে আস্তে ভয় চলে যায়। আমি পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে মিশতে পারি না এবং কথাও বলতে পারি না। কেউ কোনো প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে গেলে গলা শুকিয়ে যায় এবং হাত-পা কাঁপতে থাকে, উত্তর দিতে পারি না, ভয়ে এড়িয়ে যাই। আমার আরও কিছু সমস্যা আছে যেমন- অতি উত্তেজনা, অল্পকথায় উত্তর দেয়া, কোনো কিছু ভালো না লাগা, অরুচি, নিজেকে ছোট ভাবা, ওজন কমে যাওয়া, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, নিজের সাথে নিজে কথা বলা এবং যৌন সমস্যা। আমি আপনার সাথে যখন প্রথমবার দেখা করি তখন আপনি আমাকে নরট্রিলিন ও মেলেরিল খেতে দেন। এরপর দ্বিতীয় বার দেখা করার পর ওই ওষুধের পরিবর্তে ই-ক্যাপ ভিটামিন ই ও ইভালিন খেতে দেন। আমি এখনো তা খেয়ে যাচ্ছি। আপনার সাথে দেখা হওয়ার পর আমি সব কথা বলতে পারি নির্ভয়ে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। যারা মৃগীরোগে ভুগে থাকে তাদের এ ধরনের নানা মানসিক উপসর্গ থাকতে পারে। যদি এতে কোনো সমস্যা হয় তাহলে মৃগীরোগের ওষুধের পাশাপাশি মনোরোগের ওষুধও সেবন করতে হবে। আপনি এক সময় মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে চলে আসুন।
মো. আজাদুর রহমান
বগুড়া
আমার সমস্যা হলো আমার শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝরে। এর ফলে শরীর থেকে প্রচুর লবণ ও পানি বের হয়ে যায়। ফলে শরীর লবণ ও পানিশূন্যতায় দুর্বল হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় আমি খাওয়ার স্যালাইন খেতে চাই। তাই আমি আপনার পরামর্শ চাই। এটা শরীরের জন্য উপযুক্ত হবে কিনা। আর দ্বিতীয় সমস্যা হলো-আমার শরীরের টি৩ টি৪ এবং টিএইচএস পরীক্ষা করার জন্য বগুড়ার একজন ভালো ডাক্তারের ঠিকানা দেবেন যেন আমার এই পরীক্ষার ব্যাপারে কোনো অসুবিধা না হয়। ডাক্তারের পূর্ণ ঠিকানা দেবেন। আর এ পরীক্ষা ছাড়া লোনাজেপ ট্যাবলেট খাওয়া যাবে কিনা।
প্রথম সমস্যার জন্য খাবার স্যালাইন খেতে পারবেন। এতে কোনো সমস্যা হবে না। তবে টি৩ টি৪ পরীক্ষাটি ঢাকার পিজি হাসপাতাল, বারডেম অথবা বড় বড় ল্যাবরেটরিতে করালে ভালো হয়। ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়া লোনাজেপ সেবন করা থেকে বিরত থাকুন। নিজের ডাক্তারি নিজে করতে যাবেন না। এতে বিপদ ঘটে যেতে পারে। সব ওষুধেরই কমবেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। বগুড়া মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করতে পারেন।
জুয়েল আহমেদ
ধুনট, বগুড়া
আমার বয়স ২১ বছর। আমি দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। আমার সমস্যাগুলো নিম্নরূপ- আমি সব সময় হাসি-খুশি থাকতে চাই কিন্তু পারি না। কারণ প্রায়ই সময় আমি কোনো না কোনো কিছু নিয়ে ভাবি। আমি বই নিয়ে বসলে যদি সর্বোচ্চ ইচ্ছা করি তাহলে হয়তো ১০-১৫ মিনিট মনোযোগ রাখতে পারি। তারপর কখন যে মন অন্যদিকে চলে যায় তা আমি নিজেও জানি না। পড়াশোনা মনে রাখতে পারি না। আমার হার্টবিট খুব দুর্বল, পরিশ্রম করতে পারি না, খুব তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়ি, সাহস একদম নেই। আমার মনের ভেতর সব সময় একটা ভয়ভীতি কাজ করে যার ফলে সবার সাথে ভালোভাবে সঠিক বিচার বুদ্ধি দিয়ে গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। কথা মুখের মধ্যে আটকে থাকে, হাত-পা কাঁপতে থাকে। ফলে আসল কথাই ভুলে যাই। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। অনেক সময় আমার প্রতি কেউ অন্যায় করে গেলে দুর্বলতার ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করতে পারি না। কিন্তু প্রতিবাদ করতে না পারায় পরে মনের মধ্যে সংশয় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সর্বদা মাথায় একটা ঝিঁ ঝিঁ ভাব থাকত। স্মরণশক্তিও আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। কোনো কথা মনে রাখতে পারি না। রাতে নিটোল ঘুম হয় না। ঘুমের মাঝে বিভিন্ন প্রকার স্বপ্ন চলে আসে। ইতিপূর্বে আমি একজন মানসিক ডাক্তারের পরামর্শে টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রায় ১ মাস খেয়েছি কিন' তাতে আমি আশানুরূপ কোনো ফল পাইনি বরং ওষুধ খাওয়ার পর আমার অসি'রতা এত বেড়ে গিয়েছিল যে আমি সি'র থাকতে পারতাম না।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার রোগে ভুগছেন। এক্ষেত্রে ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম রাতে ২টা করে কমপক্ষে এক মাস সেবন করুন।
সাগর
পবা, রাজশাহী
আমার সমস্যা নিম্নরূপ- বিদেশ যাওয়ার জন্য সর্বস্ব বিক্রি করে এক লাখ টাকা দেয়া হয় কিন্তু বিদেশ যাওয়া হচ্ছে না এবং টাকা ফেরত পাচ্ছি না। সব সময় টাকার চিন্তা। চিন্তা বাদ দিতে চাইলেও পারি না। চিন্তার জন্য কিছুই ভালো লাগে না। মরে যেতে ইচ্ছা করে। সেক্স বলে কোনো কিছুই নেই, দিনে ৩-৪ বার নরম পায়খানা হয়, ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। ঘুম খুব কম। ডাক্তার সেক্স থেরাপি গ্রহণ করতে বলেছেন। সেক্স থেরাপি কী, কোথায় নেয়া যায় খরচ কত জানাবেন।
আপনি বিষণ্নতা সমস্যায় ভুগছেন। ট্যাবলেট নরট্রিলিন ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে সেবন করে দেখুন। সেক্স থেরাপির ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
শাহীনা চৌধুরী
ঢাকা
আমি একজন এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্রী। গত ১ বছর হলো আমার বিয়ে হয়েছে। স্বামী বিদেশে থাকে। কিন্তু আমি অনিচ্ছাবশত একজনের সাথে ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়ে পড়েছি। সম্পর্কটা প্রথমে বন্ধু থেকে এখন অনেক গভীরে চলে গেছে। কিন্তু আমি জানি আমার পরিবার এবং শ্বশুরবাড়ির কেউ তা মেনে নেবে না। বরং জানাজানি হলে অনেক বড় অপবাদ এসে যাবে। কিন্তু আমি কাউকে ছাড়তে পারছি না। সারাদিন বিভিন্ন দুশ্চিন্তায় থাকি এবং দুঃস্বপ্ন দেখি। সেদিন দেখলাম দুটো সাপ আমাকে কামড়াতে আসছে এবং আমি ঘুম থেকে চিৎকার করে উঠি। মাঝে মাঝে আত্মহননের কথাও মনে হয়। কাজেই এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাকে আশু সমাধান দিলে খুশি হব।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাধ। আপনি যা করছেন তা অসামাজিক ও ধর্মীয় দিক থেকেও পাপ এবং অপরাধ। এটি আপনার মনে মানসিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আপনার চিঠি থেকে এর সূক্ষ্ম ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আপনি যত তাড়াতাড়ি পারেন ওই অবৈধ সম্পর্ক ছিন্ন করুন এবং ধর্মীয় নিয়মনীতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনার চেষ্টা করুন এবং পাশাপাশি ট্যাবলেট নরট্রিলিন ১০ মিলিগ্রাম সকালে ১টি ও রাতে ১টি করে সেবন করুন।
খালিদ হোসেন
মিরপুর, ঢাকা
আমার বয়স ২১ বছর। আমি একজন ছাত্র। আমার কিছু সমস্যার কথা জানালাম, দয়া করে এর উত্তরপ্রকাশ করলে খুশি হব। আমার অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ হয় অর্থাৎ মাসে ১০ বার। আমার স্বাস্থ্য খুব চিকন, প্রায় দেড় বছর যাবৎ আমার কোমরে ব্যথা। এই ব্যথা শুধু কোমরে স্থায়ী থাকে না, কখনো গিরায় চলে যায়, কখনো পিঠে, আবার কখনো পায়ের রানের মধ্যে চলে যায়। ব্যথার জন্য অনেক এক্স-রে এবং ওষুধ খেয়েছি কিন্তু কিছুই হয়নি। আর নাইট প্রেসারের জন্য তেমন কোনো চিকিৎসা করা হয়নি। কীভাবে নাইট প্রেসার হয় তাও জানি না, কোনো কিছু দেখি না। কীভাবে নাইট প্রেসার রোধ করা যায়। আর এটা কী ধরনের ব্যথা, কী করলে ভালো হবে তাও জানাবেন। আমার খাওয়ার কোনো রুচি নেই।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি যৌনতা নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। স্বপ্নদোষ একটি সহজাত ও শারীরিকবৃত্তিক প্রক্রিয়া। এর মধ্যে দোষের কিছুই নেই। যৌবনপ্রাপ্তির পর আমাদের দেহে যে বীর্য প্রতিনিয়ত তৈরি হয়ে চলেছে তার মাত্রা নির্দিষ্ট পরিমাণ অতিক্রম করলে তা স্বপ্নের মধ্যে স্খলিত হয়। এবং উত্তেজক স্বপ্নসহকারে এটি ঘটে থাকে। যারা বিবাহিত অথবা হস্ত-মৈথুন করে থাকেন তাদের দেহের বীর্য বের হয়ে যাওয়ার পথ পায় বলে স্বপ্নদোষ তেমন একটা দেখা যায় না। স্বপ্নদোষের যে ইংরেজি পরিভাষা ‘নখটার্নাল ইমিশন’ যার মাঝে দোষের কোনো উল্লেখ নেই। যৌনতাকে ঘিরে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে স্বপ্নদোষ পরিভাষার জন্ম হয়েছে। যেটি সহজাত প্রক্রিয়া সেটি বন্ধ করতে যাবেন কেন? এক্ষেত্রে আপনাকে বলব দেহ শারীরবৃত্তি সম্পর্কে জেনে আপনার যৌনতা সম্পর্কে ধারণাকে ইতিবাচক করে নিন। আপনাকে আমাদের মনোজগত প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত সেক্স গাইড সিরিজের বইগুলো পড়ে দেখার অনুরোধ করছি। এর পরেও কিছু জানার থাকলে আপনি আমাদের পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। আপনি সে সমস্ত শারীরিক উপসর্গের কথা বলেছেন সেগুলো আসলে উদ্বেগপ্রসূত। উদ্বেগ নিরসন করলেই এগুলো আপনিতেই চলে যাবে। ওষুধ দিয়ে এগুলো চিকিৎসা করা সম্ভব নয়।
মো. আনিছুর রহমান
বুড়িচং, কুমিল্লা
আমার প্রথম চিঠির উপসর্গগুলোকে আপনি ‘অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার’, দ্বিতীয় চিঠির উপসর্গগুলোকে ‘বিষণ্নতা’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। দুই সংখ্যায় ভিন্ন মন্তব্য দেখে কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়ে আপনার সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করতে না পারার কারণে সশরীরে কুমিল্লায় একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের নিকট যাই। তিনি আমাকে চেকআপ ও কিছু প্রশ্ন করে ওষুধ দেন এবং ১৫ দিন পরে দেখা করার জন্য বলেন। ওষুধ দিয়েছিলেন প্রদীপ, কেডরিন, সুপ্রাভিট-এম, আর একটি ওষুধের নাম মনে নেই। তাছাড়া তার সাজেশন আমার মনঃপূত না হওয়ার কারণে পরে আর দেখা করিনি। তবে ওষুধ সেবন করেছিলাম।
যা হোক শেষে নিরুপায় হয়ে পুনরায় আপনার দ্বারস্থ হলাম। এই মুহূর্তে আমার উপসর্গগুলো নিম্নরূপ। মনোজগতের একটি সংখ্যায় জনৈক রোগী আপনার কাছে লিখেছিলেন তার মানসিক উৎকর্ষতা বাড়ার খবর দিয়ে। অর্থাৎ ওই রোগী যা ভবিষ্যদ্বাণী করত তা অনেকটা ফলে যেত। এ কারণে সে নিজে জোর করে গৃহবন্দী থাকত। বর্তমানে আমিও অনেকটা প্রায় উক্ত রোগীর অনুরূপ মানুষের মনোবাসানা যেন বুঝে যাচ্ছি। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি চারপাশের মানুষের ব্যবহার, চালচলন নিরীক্ষণ করতে গিয়ে আমার সাথে যাদের কথা হয় তাদের মন অনুযায়ীও ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত ব্যাপারে আমার অভিজ্ঞতামূলক কথা বলার কারণে বর্তমানে আমার ঘরের সদস্যরা এবং অন্যান্য সকলে আমাকে জিনে বা ভূতে ধরেছে, কেউ পীর দরবেশ হওয়ার সম্ভাবনা অর্থাৎ নানা সন্দেহ ও চিন্তার মধ্যে আছে। আমি যাদের সাথে কথা বলি তারা সহজ হতে পারছে না, আমাকে এড়িয়ে চলতে চায়, কৌতূহল, সন্দেহ, ভয় মিশ্রিত চোখে তাকায়। তাদের বডি ইমেজ আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়। মাঝে মাঝে আমার মনে হয় আমি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ক্ষমতা রাখি, যদি সেভাবে কাজ করি। প্রতিদিন আমার মানসিক ক্ষমতা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। চারপাশের জগৎটাকে সুন্দর দেখছি, অটোসাজেশন দিচ্ছি, প্রো-অ্যাকটিভ হওয়ার চেষ্টা করছি, কৃত্রিম ও ভেজাল খাবার এড়িয়ে সামাজিক কার্যক্রম বাড়িয়ে দিয়েছি, ঘর ও বাইরে অনেকটা কন্ট্রোল ও সুন্দরভাবে চলার সাজেশন দিচ্ছি। এখন যদি আপনি আমাকে হেলপ না করেন তবে ভীষণ বিপদ।
স্যার বর্তমানে আমার ব্রেন সুপার কম্পিউটারের মতো চলছে বলে আমার মনে হচ্ছে। আর এখানেই আমার সাথে অন্যান্য সকলের সংঘাত। আমার ত্বরিত সিদ্ধান্ত, চিন্তা করার ক্ষমতা এগুলোর সাথে সাধারণ মানুষ এডজাস্ট করতে পারছে না। বর্তমানে নিজেকে প্রচণ্ড প্রতিভার অধিকারী বলে আমার বিশ্বাস। প্রতিভাবানরা পদে পদে হেনস্তা হন যার ইতিহাস অবশ্যই আপনার জানা আছে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আসলে শুধুমাত্র পত্রে বর্ণিত উপসর্গের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করাটা খুবই কঠিন। এবং যেসব সিদ্ধান্ত দেয়া হয় সেগুলো প্রবিশনাল। আপনার দুটি চিঠির মধ্যে ফারাক ছিল বিধায় রোগের নামের ক্ষেত্রে ধরনভেদ এসেছিল। বাস্তবিকভাবে অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার এবং ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার দুটোই একই ধরনের রোগ। এদের নিউরোসিস বা মৃদু মানসিক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আরও মজার ব্যাপার হলো-দুটো রোগের বেলাতে একই জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয় এবং যারা অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারে ভুগে থাকেন তাদের মনে প্রায় ক্ষেত্রে বিষণ্নতার সমস্যা থাকে। সুতরাং আপনার রোগের ডায়াগনোসিস নয় আপনার উপসর্গের কতটা উপশম হয়েছে সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু বর্তমান চিঠিতে আপনি এমন সব উপসর্গের কথা বলছেন যেগুলোর কারণে আমাদের নতুনভাবে চিন্তা করতে হচ্ছে। হয়তো বা আপনি বাইপোলার ডিসঅর্ডার ম্যানিয়া রোগে ভুগছেন। এ রোগে রোগী তার মাঝে অফুরন্ত ক্ষমতার সম্ভার দেখতে পায়। যেহেতু আপনি ইতিপূর্বে অ্যান্টিডিপ্রেসিভ জাতীয় ওষুধ খেয়ে আসছিলেন, সুতরাং ম্যানিক হওয়াটা অসম্ভব নয়। তবে এক্ষেত্রে সিজোফ্রেনিয়া বা সিজো অ্যাফেক্টিভ এ দুটো সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেয়া যাবে না। আসলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে হলে রোগীর মেন্টাল স্টেট এক্সামিনেশন করতে হয়। এর একমাত্র সমাধান আপনাকে সরাসরি আমাদের সাথে দেখা করার। কারণ পত্র মাধ্যমে এটি করা সম্ভব নয়। আর একমাত্র মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরাই মেন্টাল স্টেট এক্সামিনেশন করতে পারেন। আশা করি এবার আপনার চিঠির জবাব পেয়েছেন।
মো. মতিয়ার রহমান
রাজশাহী
সমস্যা হলো আমার মায়ের। শরীর তেমন ভালো না, কাজ করতে করতে অথবা এমনিভাবে হাসতে হাসতে গায়ে বা হাতে, পায়ে একদম বল থাকে না। এদিকে তার প্রেসার হাই। তাই আমি দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি কখন কী হয়। আমি এর সঠিক পরামর্শ চাই।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার আম্মার আসলে কি হাইপারটেনশনে ভুগছেন কিনা অথবা এর জন্য কোনো ওষুধ খাচ্ছে কিনা সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি এবং এ জাতীয় সমস্যার ক্ষেত্রে রোগীর বয়স খুবই গুরুত্বপূর্ণ যেটা আপনি উল্লেখ করেননি। আপনার আম্মার যেসব সমস্যার কথা বলেছেন তা টিআইএ, বহুমূত্র এমনকি মানসিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। আপনি অনতিবিলম্বে বগুড়ায় কোনো মেডিসিন বিশেষজ্ঞকে দেখান। তিনি ব্লাডসুগার, সিরাম কোলেস্টেরল, ব্লাড ইউরিয়া ইত্যাদি নানা টেস্ট করাবেন এবং এ রিপোর্ট হতে মূল সমস্যা বের হয়ে আসবে আশা করা যায়। তবে আশা করি আপনি এ ব্যাপারে আমাদের সাথে পরবর্তীতে আবার যোগাযোগ করবেন। ইনভেস্টিগেশনের রিপোর্ট এবং প্রেসক্রিপশন পাঠাতে ভুল করবেন না।
খুরশীদ আলম ইসতি
সিরাজদিখান, মুন্সিগঞ্জ
আমার সামনে পরীক্ষা কিন্তু কোনোভাবেই পড়ার টেবিলে মনোযোগ দিতে পারছি না। শুধু নিজে নিজে বলে যাচ্ছি আজ থেকে পড়া শুরু করব কিন্তু তা পারছি না। টেবিলে বসে বই নাড়াচাড়া করে ঠিক করতে পারি না কোন বইটি পড়ব। টেবিলে কিছুক্ষণ বসে থেকে ঘুমিয়ে পড়ি। আমার এখন ভয় হচ্ছে আমি পাস করতে পারব কি না। আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গুরুত্বপূর্ণ কাজে অবহেলা করা। যেমন সামনে ফাইনাল পরীক্ষা পড়ব পড়ব বলে পিছিয়ে পড়ি। এমনকি রেজাল্টও খারাপ করে ফেলি। আশা রাখি সুপরামর্শ দিয়ে উপকৃত করবেন।
আপনার সমস্যা উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটি। আমরা যে উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটি নিউরোসিসের কথা বলে থাকি এটি নয় কিন্তু। আপনি যদি সারা বছর পড়াশোনা না করে পরীক্ষার কয়েক দিন আগে হতে সিরিয়াস হওয়ার চেষ্টা করেন তাহলে এমনটি হবে এটাই স্বাভাবিক। সময়ের কাজ সময়ে করা চাই। আপাতভাবে এটিকে স্রেফ উপদেশ মনে হলেও এটিকে পার্সোনাল ম্যানেজমেন্টের একটি অত্যন্ত্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ধরা হয়ে থাকে। সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং-এ মূলত পার্সোনাল ডেভেলপমেন্টে এ ধরনের উপদেশ দেয়া হয়ে থাকে। আগামীতে সতর্ক হওয়ার চেষ্টা করুন। আপাতত আপনি ট্যাবলেট ইনডেভার ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ও রাতে একটি করে সেবন করুন। এর পরেও বেশি ভয় লাগলে প্রতিদিন রাতে একটি করে সেডিল ৫ মিলিগ্রাম সেবন করুন। আশা করি এতে আপনার বর্তমান সমস্যা কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
মো. জহিরুল ইসলাম
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর
আমার বয়স ২১ বছর। আমি বিকম পরীক্ষা দেব। আমি শ্রীনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্র। আমরা শ্রেণী শিক্ষক আমাদের মনোজগত পত্রিকা পড়ার উপদেশ দেন। সেই দিনই আমি আর আমার বন্ধুরা মনোজগত পত্রিকা কিনি এবং পড়ি। পড়ে বেশ ভালো লাগল এবং সেই থেকে আমার প্রিয় পত্রিকা মনোজগত হিসেবে আমার হৃদয়ে স্থান পেয়ে যায়। আমি হয়ে যাই নিয়মিত পাঠক। তবে পড়ে বুঝতে পারলাম এতে মানুষের শারীরিক ও মানসিক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। তাই আজ আমার সমস্যাটি লিখছি তা সমাধান পেলে আমি বেশ উপকৃত হব।
আমার সমস্যা হলো বেশ কিছু দিন পর পর আমার ঘাড় থেকে এসে আমার সারা মাথা প্রচণ্ড ব্যথা করে আর যখন ব্যথা হবে তখন আমি বুঝতে পারি যে আমার মাথাব্যথা হবে। যখন মাথা প্রচণ্ড ব্যথা করে তখন আমার প্রেসার মেপেছিলাম ডাক্তার সাহেব আমাকে বলল পেসার স্বাভাবিক আছে। আমার স্বাস্থ্য ভালো উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। আমার এই সমস্যাটির সমাধান দিয়ে আমাকে উপকৃত করবেন।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার যে মাথাব্যথা এটিকে মাইগ্রেনাস হেডেক বলা হয়। তবে মাথাব্যথার সময় বমি বমি ভাব হয় কিনা অথবা বমি হওয়া, সাময়িকভাবে চোখে ঝাপসা লাগা ইত্যাদি উপসর্গ হয় কিনা এ ব্যাপারে কোনো উল্লেখ করেননি। আপনি এক্ষেত্রে ট্যাবলেট পিজোফেন .৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে একটি ও রাতে একটি সেবন করুন। যখন আপনার মনে হবে আপনার মাথাব্যথা শুরু হতে যাচ্ছে তখন এটি শুরু করুন ও কমপক্ষে সাত দিন চালিয়ে যাবেন। এবং এ ওষুধ খাওয়ার পর আপনার কতটা উন্নতি হচ্ছে তা জানিয়ে চার সপ্তাহ পরে চিঠি লিখবেন।
মো. আনোয়ারুজ্জামান
সাহেব বাজার, রাজশাহী
স্যার আমি যখন একেবারে ছোট ছিলাম তখন আমি পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পাই এবং অজ্ঞান হয়ে যাই। চিকিৎসা করানোর পরে জ্ঞান ফিরে আসে এবং ডাক্তার সাহেব বলেন ছেলেটি ব্রেইনি হতো কিন্তু তাকে আপনারা নষ্ট করে ফেলেছেন। সেই থেকে আমার বুদ্ধি জ্ঞান কম। অনেকে আমাকে পাগল বলে ডাকে। আমি আসলেই মানসিক ভারসাম্যহীন? আমাকে কি চিকিৎসা করানো দরকার। দয়া করে আমার এ সমস্যার সমাধান দিয়ে বাধিত করবেন।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। মাথায় আঘাতপ্রাপ্তির কারণে মানসিক সমস্যা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে যখন আঘাতপ্রাপ্তির পরে রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়। তবে আপনার চিঠি থেকে আপনার সমস্যা আসলে কী সে সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয়। মাথাব্যথার কারণে হাল্কা বিষণ্নতা, উদ্বেগ সমস্যা থেকে শুরু করে বড় মাপের মানসিক রোগ যেমন- সিজোফ্রেনিয়া, ম্যানিয়া, ডিমেনশিয়া ইত্যাদি হতে পারে। তবে একটি আশার কথা চিকিৎসা করে এসব রোগ ভালো করে দেয়া যায়। এবং এক্ষেত্রে বিলম্ব করাটা উচিত নয়। আপনাকে আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি দেখানোর উপদেশ থাকল। আসার সময় আগের সমস্ত কাগজপত্র বিশেষ করে আপনি যখন অজ্ঞান ছিলেন সে সময়ের কাগজপত্র অবশ্যই আনবেন।
জয়নাল আবেদিন
চট্টগ্রাম
নিম্নে আমার সমস্যা উল্লেখ করলাম। পত্র দেখে আপনার ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী আমার রোগের নাম বিষণ্নতা ও পেপটিক আলসার। এখন আমি জানতে চাই বিষণ্নতা থেকে কি পেপটিক আলসারের উৎপত্তি। বিগত এক বছর যাবৎ আমি ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম যখন যে রকম লাগে সেবন করে আসছি। ট্রিপটিন থেকে আমি যে উপকারটা পাই তা হলো এটা টেনশন কাটে এবং ঘুম আনয়ন করে। এটার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে যা দেখি তা হলো দুই হাতের বাহু এবং মুখ দিয়ে গম বিচির মতো প্রচুর বিচি বের হয়। এখন আমি জানতে চাই এটা ছাড়া অন্য কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা? মোটামুটি ট্রিপটিন খেলে আমার ভালো লাগে। অন্য এক এমবিবিএস ডাক্তার আমাকে পারমিভাল ট্যাবলেট ১+১ এবং অন্য এক ডাক্তার টেলাজিন এমবিবিএস ডাক্তার টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম ২+২ এভাবে খাবার পরামর্শ দিলে তা খাওয়ার পর আমার ব্লাডপ্রেসার বেড়ে যায় ১৮৫/৯০ পর্যন্ত হয়েছে। এখন আমার প্রশ্ন হলো বিষণ্নতা রোগীর জন্য পারমিভাল, টেলাজিন এগুলো খেলে ব্লাডপ্রেসার বাড়ে কিনা। আর ট্রিপটিন, ডেনজিট এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী?
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি আপনার সমস্যার জন্য যে ওষুধগুলো সেবন করেছেন সেগুলোর নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকলেও ব্লাডপ্রেসার বাড়ায় এ ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিজ্ঞান গবেষণায় এখনো জানা যায়নি। এসব ওষুধের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর অন্যতম হলো মুখ শুকনা থাকা, চোখে ঝাপসা লাগা, পায়খানা কোষ্ঠবধ্যতা হওয়া, বুক ধড়ফড় করা, বসা থেকে দাঁড়ালে দুর্বল লাগা এ জাতীয় নানা উপসর্গ। তবে যেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ উপসর্গগুলো দীর্ঘমেয়াদি নয় দুই সপ্তাহের মধ্যেই সয়ে যায়। এ ওষুধগুলোতে উচ্চরক্তচাপ তো বাড়ে না বরং ওষুধ খাওয়াকালে রক্তচাপ সামান্য কমার সমস্যা হয়। আপনার রক্তচাপ সমস্যার জন্য আপনি কোনো মেডিসিন বিশেষজ্ঞকে দেখান। আপনার রক্তচাপ কেন বেড়েছে এ নিয়ে আপনাকে দুশ্চিন্তা করতে হবে না। নানা কারণে রক্তচাপ বাড়তে বাড়ে। মেডিসিন বিশেষজ্ঞই নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেই এর কারণ বের করে আনবেন।
এম রহিম মাহফুজ
রাউজান, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২০ বছর। আমার সমস্যা হলো শুধু কল্পনায় থাকি। মনে মনে কথা বলি নিজে নিজেই হাসি। এভাবে চলতে থাকলে হঠাৎ প্রকাশ্যে কিছু বলে ফেলি তার পর বাস্তবে ফিরে আসি। তখন নিজেকে নার্ভাস মনে হয়। এমনকি নামাজ পড়ার সময়ও মনটা কল্পনায় চলে যায়। শত চেষ্টার পরেও এক মনে নামাজ পড়তে পারি না। আমার সাহস খুবই কম। কেউ অন্যায়ভাবে আমার ক্ষতি করলে এর প্রতিবাদ করতে গেলে মনটা কেমন যেন দুর্বল হয়ে যায়। যদিও আইনগতভাবে সে অপরাধী, তবুও তার সাথে কথা বলার সময় মুখ দিয়ে স্পষ্ট কথা বের হয় না। মুখে কথা আটকে যায়। এমনিতেও আমি সুন্দর করে গুছিয়ে যুক্তি সহকারে কথা বলতে পারি না। সুতরাং পয়েন্ট আমার কাছে থাকা সত্ত্বেও তর্কে আমি হেরে যাই। আমার এই রোগের নাম কী এবং কত দিন সময়ের ব্যবধানে মুক্তি পাব জানালে খুশি হব এবং আপনাদের সেবা গ্রহণ করব।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার রোগের নাম অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। এটি এক ধরনের লঘু মানসিক রোগ। এতে নিয়মিত ওষুধ সেবন করা চাই। আপনি ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় দুটা করে সেবন করুন, ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে সেবন করুন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল .৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে সেবন করুন। ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পরে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
আকাশ
বেগমপুর, চুয়াডাঙ্গা
আমার সমস্যা আমি নতুন বিয়ে করেছি কিন্তু মাসে কতবার স্ত্রী সহবাস স্বাস্থ্যসম্মত জানালে উপকৃত হব। আমার ইচ্ছা আমি প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করব। প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। স্ত্রী সহবাসে কোনো বাধাধরা নিয়ম নেই। আপনি ইচ্ছা করলে প্রতিদিনই স্ত্রী সঙ্গম করতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে যারা সপ্তাহে ৪ বারের বেশিবার স্ত্রী সঙ্গম করে থাকেন তাদের যৌন জীবন সপ্তাহে ১ বার বা ১ বারের কম করে থাকেন তাদের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় এবং বার্ধক্য অবস্থা ও তা বহাল থাকে। প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি আসলে এমন কতক নির্দেশনা যাতে মাসের কতক বিশেষ দিনে দম্পতিদের যৌনসঙ্গম হতে দূরে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়। এ পদ্ধতির ফেলিওরেইট বা ব্যর্থতার মাত্রা ২০ শতাংশের মতো। যা অন্যসব পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি। আমরা এ সম্পর্কে পরবর্তীতে বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করব। তবে এ ব্যাপারে আপনি পরিবার পরিকল্পনা অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাকে আমাদের মনোজগত প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত সেক্স গাইড সিরিজের বইগুলো পড়ে দেখার অনুরোধ থাকল।
মোছা. ছফিনা বেগম
বালাগঞ্জ, সিলেট
আমার বয়স ৪৮ বছর। আমি ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ের জননী। আমার সমস্যা হলো-আমি দেড় বছর ধরে ডায়াবেটিক-এ ভুগছি। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে আমার ডায়াবেটিকস নরমাল আছে।
আমার প্রধান সমস্যা হচ্ছে হঠাৎ আমার জ্বালা পোড়া আরম্ভ হয় পেটে। একটু পরে পেটে গুড়গুড় শব্দ করে। আমি অনুভব করি পেট থেকে জ্বালাপোড়াটা মাথার দিকে উঠতে থাকে। প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা সমস্ত মাথায় জ্বালাপোড়া করতে থাকে। এরপর আমি অনুভব করি যে ২-৩ ঘণ্টা পর জ্বালাপোড়াটা একত্র হয়ে কপালের বাম দিকে একত্র হয়ে বেদনায় পরিণত হয়ে বাম চোয়ালের ওপরে চক্ষুর ভেতরে জমাট বেঁধে একত্র হয়ে যায়। তখন থেকে মাথার ব্যথা দুই-তিন দিন স্থায়ী থাকে। তখন থেকে অজ্ঞানের মতো, খানাপিনা, কথা বলা এই সমস্ত কোনো কিছুই ভালো লাগে না। বমির ভাব হয়। বহু ডাক্তার দেখিয়েছি কোনো উপকার পাইনি। তাই আপনার শরণাপন্ন হলাম আমাকে আশু সমাধান দিয়ে উপকৃত করবেন।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার রোগ মাইগ্রেনাস হেডেক হতে পারে, এর পাশাপাশি অন্য কারণ এর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে। এমনকি ব্রেন টিউমারের ব্যাপারটাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। কারণ আপনার বয়সে মাইগ্রেনের প্রকোপ কমে আসার কথা। তবে এক্ষেত্রে আপনি কোন কোন ওষুধ সেবন করেছেন সেগুলোর নাম পাঠালে ভালো হতো। কত বছর থেকে আপনার এ সমস্যা শুরু হয়েছে, বয়সের সাথে সাথে এ সমস্যা কি বেড়ে যাচ্ছে কি না, এ সময়ে বমি বমি লাগা বা বমি হওয়া এই উপসর্গগুলো আছে কিনা, এর সাথে মাসিকের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা কিংবা আপনার মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে কিনা এ ব্যাপারে কোনো তথ্য আপনি দেননি। আপনি এক্ষেত্রে ট্যাবলেট পিজোফেন .৫ মিলিগ্রাম ব্যথাকালীন সময়ে সকালে ও রাতে একটা করে সেবন করে দেখুন এবং ট্যাবলেট ট্রিপটিন ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে একটা করে সেবন করুন। এক মাসের মধ্যে যদি কোনো উন্নতি না হয় তাহলে সমস্ত কাগজপত্রসহ ঢাকায় আমাদের পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। আপনার রোগের ডায়াগনোসিসে সিটি স্ক্যান অব ব্রেনের মতো টেস্টের দরকার হতে পারে। এ জাতীয় সমস্যা নিয়ে বিলম্ব করা উচিত নয়।
হিমেল
সিলেট
ডাক্তার সাহেব আমার নিম্নোক্ত সমস্যাগুলোর সমাধানকল্পে সঠিক পরামর্শ প্রদান করলে উপকৃত হব- আমি কিছু লিখতে গেলে আমার হাত কাঁপে, আমার লেখাটা কারও প্রদর্শিত হতে, চিন্তাটা মাথায় ঢুকলে লেখাই দায় হয়ে দাঁড়ায়। সুন্দরভাবে সাজিয়ে কথা বলতে পারি না, কথাবার্তা মানুষের সামনে বলতে ভয় হয়। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে বিরক্তি লাগে। আমার কাজে অন্য কেউ মাতব্বরি করলে আমি সহজেই রেগে যাই। ছোট খাটো ঘটনা মাঝেমধ্যে আমাকে খুব বেশি উদ্বিগ্ন করে তোলে। কোনো বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না বিধায় আমার সব তালগোল পাকিয়ে যায়। ইদানীং মনে হচ্ছে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাচ্ছে।
আপনার রোগের নাম সোশ্যাল ফোবিয়া। এটি এক ধরনের অ্যাংজাইটি নিউরোসিস বা উদ্বেগ রোগ। আপনি এক্ষেত্রে ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে একটা করে সেবন করুন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক সেবন করুন। এক মাস পরে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার সমস্যার ক্ষেত্রে ওষুধের পাশাপাশি সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং এবং বিহেভিয়ার মোডিফিকেশন দরকার। এ জন্য আপনি সিলেট মেডিকেল কলেজে মনোরোগ বিভাগে দেখাতে পারেন।
মো. আনোয়ার হক
রাজশাহী
আমার সমস্যাগুলো অতি সংক্ষেপে তুলে ধরছি। আমি মূলত দুটি যৌন মানসিক সমস্যায় ভুগছি।(১) সেক্সুয়াল এডিকশন বা যৌন নেশাগ্রস্থতা অর্থাৎ কম্পালসিভজনিত সেক্সুয়াল বা যৌন আচরণ। আমি প্রায় ৮ বছর বয়স থেকে কুসংসর্গে পড়ে মাস্টারবেশন করে আসছি। অর্থাৎ প্রায় ১৮ বছর যাবৎ বিরামহীন এবং মাত্রাতিরিক্ত অভ্যাসের ফলে আমি মনোদৈহিকভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছি। প্রতি রাতে দুই তিনবার উক্ত অভ্যাসে লিপ্ত হতেই হবে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন যাবৎ আমি একেবারে পুরো এডিক হয়ে পড়েছি। যা থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এহেন মাত্রাতিরিক্ত চর্চায় আমার প্রচুর সময় নষ্ট হয়। জীবনের প্রতিটা দিক থেকে আমি সীমাহীন ক্ষতিগ্রস্থ। সাথে সাথে পর্ণোগ্রাফি, পর্নোসিনেমার প্রতি মাত্রাতিরিক্ত নেশাসক্ত হয়ে পড়েছি। মাস্টারবেশনজনিত পাপবোধ আমাকে পুরোপুরি কুরে কুরে খেয়েছে। বিষাক্ত সাপের মতো ছোবল মেরেছে মুহুর্মুহু।
এই রকম নিয়ন্ত্রণহীন যৌনাচারণের ফলে লেখাপড়া, নিজের যত্ন নেয়া, আনন্দজনক ক্রিয়াকর্মকে সম্পূর্ণ অবহেলা করেছি। আপনার দেয়া বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ডোনাল্ড-ই উইলিয়ামের মতে ‘সেক্স বা যৌনতা তখনই কম্পালসিভ হয়ে দাঁড়ায় যখন ব্যক্তির চিন্তা চেতনা ভাবনা ও কাজকর্মসমূহ এতে বাধাগ্রস্থ হয়’। আমার বেলায় এই সংজ্ঞা শতভাগ খাঁটি। এসবের মূলে যে সকল মনোদৈহিক কারণ আছে বলে আমি মনে করি সেগুলো হলো- পারিবারিক কলহ, ভীষণ একাকিত্ব, মাঝারি ধরনের বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা, স্ট্রেস প্রভৃতি। (২) মৃদু বা মাঝারি ধরনের বিষণ্নতা।
১৯৯৬ সালে আমি অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র ছিলাম। উপরোক্ত যৌনসর্বস্বতা, বিষণ্নতা, পরীক্ষাভীতি এবং পোস্ট ট্রমাটিক, স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের কারণে (মেসে থাকাকালীন একটি মেয়ের সাথে কম্পালসিভলি খারাপ ব্যবহারের ফলে তার অভিভাবকরা আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করে) আমি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারিনি হেতু তীব্র বিষণ্নতায় আমি আত্মহত্যা করে ফেলি কিন্তু অল্পের জন্য বেঁচে যায়। বর্তমানে আমি মৃদু বা মাঝারি ধরনের বিষণ্নতায় ভুগছি যার লক্ষণগুলো নিম্নরূপ-
মাত্রাতিরিক্ত ক্লানি-বোধ, দীর্ঘমেয়াদি অশানি-বোধ, মাজা, পিঠে প্রায় সারা শরীরে টান টান ব্যথা, মনঃসংযোগের অভাব, চরম অসি'রতা, সব কাজে ধীর গতি, উৎসাহের অভাব, কোনো কাজ শুরু করতে না পারা, শুরু করলেও শেষ করতে না পারা। আপাত স্মরণশক্তির অভাব, হীনম্মন্যতা, অপরাধী ভাবা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, সিদ্ধান্তহীনতা, জীবনকে অর্থহীন মনে করা, আত্মবিশ্বাসের অভাব, কোনো কাজে আনন্দ না পাওয়া ইত্যাদি।
এখানে উল্লেখ্য যে, আমার বাবা একজন মানসিক রোগী তিনিও বাইপোলার ডিপ্রেশনে ভুগছেন। আরেকটি বিরক্তিকর সমস্যায় ভুগছি যেমন- তিন মাস থেকে বাম চোখের ওপরের পাতা মাঝেমধ্যেই নাচছে। কোনো কোনো সময় ওপর-নিচ এবং ইদানীং ডান চোখও নাচছে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। মনোজগতের সবগুলো কপি পড়ে আপনার সাইকোলজিক্যাল কনসেপ্টে পরিবর্তন এসেছে আপনার চিঠি তার সাক্ষ্য দেয়। আপনি আপনার উপসর্গগুলো সাজিয়ে তুলেছেন পাশাপাশি আপনার ডায়াগনোসিসও ঠিক আছে। যেহেতু আপনি বিষণ্নতা সমস্যায় ভুগছেন এ কারণে বর্তমান সমস্যাটিকে বুঝে উঠতে পারছেন না। মাস্টারবেশনকে ঘিরে আপনার মনের দুশ্চিন্তা এবং অপরাধবোধের মাত্রা এত বেশি মাত্রায় বেড়ে গেছে যা আপনাকে বিষণ্নতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আপনার বিষণ্নতা সমস্যা নানা পারিপার্শ্বিক কারণপ্রসূত হলেও মূল কারণ কিন্তু মনের গভীরে চেপে থাকা প্রচণ্ড অপরাধবোধ। মাস্টারবেশন একটা সহজাত ও শারীরবৃত্তিক যৌন প্রক্রিয়া। যৌনতাকে ঘিরে আমাদের সমাজে বিদ্যমান নানা কুসংস্কার এবং নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আপনার মনে এসব নানা উপসর্গের জন্ম দিয়েছে। সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিংয়ের জন্য কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখান। আপনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজে মনোরোগ বিদ্যা বিভাগে দেখাতে পারেন। পাশাপাশি আমাদের মনোজগত প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত সেক্স গাইড সিরিজের বইগুলো পড়ে দেখার অনুরোধ থাকল।
মো. রজিব উদ্দিন
এলাহীপুর, কুমিল্লা
আমার বয়স ২০ বছর। আমার রোগ খুব পুরনো। নিচে আমার কিছু রোগের বিবরণ উল্লেখ করলাম। ১. হস্তমৈথুন সম্পর্কে খারাপ ধারণা, মনে হয় আমি এর কারণে শেষ হয়ে গেছি। ২. আমি কারও সাথে সহজভাবে মিশতে পারি না। কথা বলতে পারি না, কথা যেন স্পষ্ট হয় না। ৩. আমার স্মরণশক্তি নেই বললেই চলে। সব সময় উদাসীনভাবে চলি। ৪. কোনো কিছুতে সঠিকভাবে মনোযোগ দিতে পারি না। কোনো কিছু থেকে মনোবল পাই না। ৫. আমি বাড়ি থেকে কয়েকবার পালিয়ে যাই, সব সময় মন খারাপ থাকে। ৬. কোনো চিন্তা মাথায় প্রবেশ করলে সেটা মাথা থেকে সরাতে পারি না। ৭. মাথার তালু সব সময় গরম থাকে। ৮. কোনো কিছুতেই আনন্দ পাই না এবং বুদ্ধি খাটিয়ে কথা বলতে পারি না। ৯. আগে কোনো বস' দেখলে বা শুনলে মনে হয় কোথায় যেন দেখেছি বা শুনেছি, কিন্তু মনে করতে পারতাম না। আমার সমস্যাগুলো আজ থেকে প্রায় ৬-৭ বছরের পুরনো। আমার সমস্যাগুলো সঠিকভাবে চিন্তা করে ওষুধ দিলে চিরকৃতজ্ঞ হব।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যার নাম ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার বা বিষণ্নতা রোগ। পাশাপাশি আপনার মধ্যে সোশ্যাল ফোবিয়া আর হাল্কামাত্রার অবসেশন রয়েছে। শেষোক্ত দুটি সমস্যা আপনার বিষণ্নতা রোগের উপসর্গ। যৌনতাকে ঘিরে আপনার মনের মধ্যে নানা শঙ্কা আর উদ্বেগ রয়েছে যেটি পরোক্ষভাবে আপনার বিষণ্নতাকে প্রভাবিত করেছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ যুবক মাস্টারবেশনকে একটা ক্ষতিকারক যৌনতা হিসেবে ধারণা করে থাকে। এবং এই ধারণা এত বেশি এতটা তীব্র তা নানান মানসিক উপসর্গ এমনকি যৌন অক্ষমতা বিষণ্নতা ইত্যাদি মানসিক রোগ পর্যন্ত সৃষ্টি করে। নানা বিজ্ঞান গবেষণায় দেখা গেছে, মাস্টারবেশন একটা সহজাত স্বাভাবিক যৌনতা। এর মাঝে ক্ষতি বা দোষের কিছু নই। এটি তখনই ক্ষতি করে থাকে যখন এটিকে ঘিরে নানা উদ্বেগ আপনার মনের মাঝে চেপে বসে। আপনাকে এক্ষেত্রে প্রথমেই আমাদের মনোজগত প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত সেক্স গাইড সিরিজে বইগুলো পড়ে দেখার অনুরোধ থাকল। পাশাপাশি সেক্সুয়াল কাউন্সিলিংয়ের জন্য আপনি একবার ঢাকায় এসে আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার বর্তমান সমস্যার জন্য আপনি প্রতিদিন সকালে একটা করে ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম খেয়ে যান। পাশাপাশি ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক, রাতে অর্ধেক করে সেবন করুন। আশা করি আপনার অবস্থার উন্নতি হবে। তিন সপ্তাহ পরে অবশ্যই আপনার অবসস্থা জানিয়ে যোগাযোগ করবেন।
প্রকাশ দেবনাথ
চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম
আমার সমস্যা হলো-মাথার চুল নিয়ে। আমার বয়স ১৯ বছর। গত এক বছর যাবৎ আমার কপালের সামনে থেকে মাথার তালু পর্যন্ত চুল চলে যাচ্ছে। বর্তমানে মাথার তালুর চুল প্রায় হাল্কা হয়ে গেছে, অনেক দূর থেকে মাথার তালু দেখা যায়। এই নিয়ে আমাকে প্রায়ই লজ্জা পেতে হয়। মাথায় সামান্য খুশকি আছে, শ্যাম্পু ব্যবহার করলে কমে যায়। কিন্তু চুল চলে যাওয়ার ভয়ে খুব কম ব্যবহার করি। চুলের গোড়া শক্ত করতে ও মাথায় নতুন চুল গজাতে চাই। আশা করি আমাকে পরামর্শ দিয়ে বিপদ ও লজ্জা থেকে রক্ষা করবেন।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। মাথায় চুল পড়ে যাওয়াটা খুব একটা সাধারণ সমস্যা। বর্তমান সময়ে এটি বেশ বেড়ে গেছে। গবেষকদের অনেকে পরিবেশ দূষণকে এর সাথে সংশ্লিষ্ট করে থাকেন। তবে মাথায় টাক পড়াটা বংশগতি দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত হয় এবং এ কারণে ২০-২৫ বছর বয়সেও অনেক ছেলের মাথায় টাক দেখা যায়। মাথায় ফাংগাস সংক্রমণ ও অন্যান্য নানা কারণেও মাথার চুল পড়তে পারে। আপনি এ ব্যাপারে কোনো চর্মরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখান।
জাহেদ কাজী
চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৯ বছর। বর্তমানে একজন বেকার যুবক এবং মনোজগতের ভক্ত। আমি ৮ বছর পর্যন্ত খুব কষ্টে আছি। নিচে আমার বর্তমান সমস্যাগুলো উল্লেখ করলাম। আমার স্মরণশক্তি স্কুলজীবনে যেভাবে প্রখর ছিল বর্তমানে স্মরণশক্তি একেবারে নেই। মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করলেও পর মুহূর্তে সব ভুলে যাই। কোনো জিনিসপত্র এই রাখলাম কিছুক্ষণ পর আবার খোঁজ করলে তা কোথায় রাখলাম আর মনে থাকে না। খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে এভাবে অনেক জিনিস হারিয়ে ফেলি। কোনো চাকরি করতে পারছি না ভুলে যাওয়ার কারণে। কেউ আমাকে রাখতে চায় না। সবাই বলে আমাকে স্মার্ট হতে আরও চালু হতে হবে, আবার মাঝে মাঝে মাথা গরম হয়ে যায়, খিটখিটে মেজাজ-যেন উগ্র অবস্থা, গরমকালে শরীর সব সময় ঘর্মাক্ত হয়ে যায়, কোনো কিছু ভালো লাগে না। কাজকর্ম মনোযোগ দিয়ে করতে পারি না। সব সময় যেন অলস অলস হয়ে থাকি। কিছুই করতে ইচ্ছা হয় না, পেটে গ্যাস, দুর্বল হয়ে যাই কোনো কাজ করতে না করতে। মনে হয় বিয়ে করে ফেলি। চোখে ঘুম নেই, ওষুধ খেলে ঘুম হয়, ওষুধ বন্ধ করলে হয় না। ঘুম হলেও ৩-৪ ঘণ্টা। সবসময় অশান্তি অশান্তি লাগে। কোনো গঠনমূলক কাজ করতে পারি না। ঘুমানোর পরে ২-৩ ঘণ্টা ভালো লাগলেও দিন বাড়ার সাথে সাথে শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বা সমস্যাগুলো বাড়তে থাকে। মাঝে মাঝে বুক ধড়ফড় করে, কম্পন শুরু হয়, ঘুম থেকে উঠলে শরীর খারাপ, মানসিক শক্তি লোপ ইত্যাদি সমস্যা তো লেগেই আছে। মানুষের সামনে যেতে ভয় পাই। আশা করি আমাকে সঠিক ব্যবস্থাপত্র দিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি বিষণ্নতা রোগে ভুগছেন। এক্ষেত্রে আপনার অবস্থা বেশ তীব্র মাত্রায় পৌঁছেছে। আপনি ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় একটি করে তিনদিন সেবন করুন। তিনদিন পর দুইটা করে চালিয়ে যান। ট্রিপটিন সেবন করতে হবে সন্ধ্যায় খালি পেটে। পাশাপাশি ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে একটা করে সেবন করে যান। ট্যাবলেট ক্লোবাম ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে অর্ধেক ও রাতে একটি করে সেবন করুন। নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে আপনার অবস্থার উন্নতি হবে। বিষণ্নতাবিরোধী এসব ওষুধ সেবন করলে সবচেয়ে লক্ষণীয় দিক হলো- রোগের উপশম শুরু হয় একটু দেরিতে, সাধারণত ৩ সপ্তাহ পর থেকে রোগীর ভালোবোধ হওয়া শুরু হয় এবং ওষুধ অনেক দিন সেবন করতে হয়। মনে রাখবেন ট্রিপটিনের কারণে আপনার দুর্বলবোধ হওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা বিশেষ করে পত্রিকা পড়ার সময়, কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা, জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো হতে পারে এবং এগুলো সাময়িক। আপনার অবস্থা জানিয়ে এক মাস পরে অবশ্যই আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
মো. আনিসুর রহমান
নারায়ণগঞ্জ
আমার বয়স ১৯ বছর। আমার মন সবসময় খারাপ থাকে। আমার মেজাজ খিটখিটে। কারও সাথে ভালোভাবে কথা বলতে পারি না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমি কারও সাথে সহজে মিশতে পারি না। যার কারণে আমার বন্ধু-বান্ধব খুব কম। বন্ধু-বান্ধব যারা আছে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারি না। বেশি কথা বলতে এবং শুনতে একদম ভালো লাগে না। সব সময় একা থাকতে ভালো লাগে। আর একা থাকলে মনের ভেতর অবাস্তব চিন্তা-ভাবনা আসে। অচেনা কোনো লোকের সাথে পরিচয় হলেও তার সাথে কথা বলতে ইতস্তবোধ করি। কথা বলার সময় অন্যমনস্কভাব থাকে। কোনো কাজই মনোযোগ দিয়ে করতে পারি না। মনের ভেতর সব সময় অজানা এক টেনশন কাজ করে। সব সময় অস্থিরভাব থাকে।
আরেকটি সমস্যা হলো- আমার চেয়ে সিনিয়র লোকদের সাথে কথা বলার সময় ভয় ভয় ভাব থাকে। সৎ সাহস দেখাতে চাইলেও সামনাসামনি গেলে ভয় লাগে। কারও সাথে ঝগড়া লাগলে রাগান্বিত অবস্থায় আমার হাত-পা কাঁপে। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় মনে হয় চারপাশের লোকজন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হয় সবাই আমাকে নিয়ে সমালোচনা করছে। মাঝেমধ্যে এ রকম হয় যে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতেও ইতস্তবোধ করি। বর্তমানে যেটা নিয়ে বেশি সমস্যায় আছি সেটা হচ্ছে ভীতি। বিভিন্ন প্রকার ভীতি আমার মনে আসে। যেমন ধরুন, আমি আগামীকাল একটি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাব, স্যার আমাকে কী জিজ্ঞাসা করবে আর আমি সঠিক উত্তর দিতে পারব কি না-এ ধরনের ঘটনা নিয়ে আমি ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়ি এবং এটাকে কেন্দ্র করে মনে এক ধরনের ভয় জাগ্রত হয়। অথবা আমি আমার বড় ভাইয়ের সাথে টেলিফোনে কথা বলতে গেলে এক ধরনের ভয়ে আমার কথাগুলো হারিয়ে ফেলি। আমি যখন ভয় পাই তখন আমার হার্টবিট অনেক বেড়ে যায়। তাছাড়া আমার স্বাস্থ্য খুব চিকন। অনেক চেষ্টা করেও স্বাস্থ্যবান হতে পারিনি। আমার সমস্যার মধ্যে টেনশন হচ্ছে আরেকটি। শত চেষ্টা করেও টেনশন কমাতে পারি না। টেনশনের কারণে আমার স্বাস্থ্য দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আমার শরীর সব সময় গরম থাকে কেন? উল্লেখ্য, আমি কখনো কোনো ডাক্তারের কাছে যাইনি। আশা করি আমার সমস্যাগুলো বুঝতে পেরেছেন। আমার কোন সমস্যার জন্য কোন প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং কোথায় পাওয়া যাবে জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার রোগের নাম সোশ্যাল ফোবিয়া। পাশাপাশি আপনার মাঝে অবসেশনের সমস্যা রয়েছে। চিঠি পড়ে পরিষ্কার, আপনার সমস্যা বেশ প্রকটমাত্রার। এ কারণে আপনাকে আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগের জন্য পরামর্শ থাকল। তবে আপনার বর্তমান সমস্যার জন্য আপনি প্রতিদিন সকালে একটা করে ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম খেয়ে যান। পাশাপাশি ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক রাতে অর্ধেক করে সেবন করুন। আশা করি আপনার অবস্থার উন্নতি হবে। তিন সপ্তাহ পরে অবশ্যই আপনার অবস্থা জানিয়ে যোগাযোগ করবেন। আপনার সমস্যার ক্ষেত্রে ওষুধের পাশাপাশি সাইকোথেরাপি ও কাউন্সিলিং দরকার। এটি আপনার ক্ষেত্রে ওষুধের চেয়েও ভালো ভূমিকা রাখবে। ওষুধ সেবন করলে প্রথম দিকে ভালোবোধ হলেও পরের দিকে ওষুধে আর কাজ করে না।
মাসুদ জুয়েল
ঈদগাহ, কক্সবাজার
আমার বয়স ২৬ বছর। অবশ্য এ বিষয়ে আমি এখনো পর্যন্ত কোনো বড় ডাক্তারের শরণাপন্ন হইনি। আমার সমস্যাগুলো নিম্নরূপ।
১. সব সময় একটা সন্দেহপ্রবণতা আমার ভেতরে কাজ করে। জগতের প্রতিটি বিষয়ে কোনো না কোনো সন্দেহ আমায় তাড়া করে। যেমন-কেউ আমাকে টার্গেট করে ক্ষতির চিন্তা করছে, আমার সমালোচনা করছে, হাঁটার সময় আমার সামনে বা পেছনে হাসি-ঠাট্টা করছে অর্থাৎ সব সময় অহেতুক একটা চিন্তায় আবেগ, উদ্বেগ ও আশঙ্কায় থাকি।
২. কোনো কাজে মনোযোগ বসাতে পারি না। সব সময় একটা অসি'রতা উদ্বেগ, আশঙ্কার ভয় করে। কোনো কাজ করার পরও তা নিয়ে তৃপ্ত হতে পারি না। মনে হয় কাজটি ঠিক করিনি। তাই একই কাজ বারবার করার প্রবণতাও দেখা যায়। আর এ বিষয়ে যথেষ্ট দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, উদ্বেগ, টেনশন কাজ করে। মেজাজ সব সময় খিটখিটে থাকে। হঠাৎ করে রেগে যাওয়া প্রায়ই স্বভাবে দাঁড়িয়েছে।
৩. সব সময় অলসতার একটা প্রবণতা কাজ করে। মাঝে মাঝে উদ্যম, আত্মবিশ্বাস হারিয়ে নিজের সম্বন্ধে হীনম্মন্যতায় ভুগি। বিশেষ করে বক্তৃতা করতে যেয়ে বহুজনের সাথে কথা বলতে গিয়ে নিজেকে অন্যজনের সাথে অ্যাডজাস্ট করতে পারি না। নিজেকে হীন মনে হয়। তাছাড়া জীবন সম্বন্ধে একটা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি চলে আসে। বিশেষ কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে কোথাও যাওয়া, পরীক্ষার ব্যাপার এসব বিষয়ে ভীতি ও আবেগ-উদ্বেগ কাজ করে।
৪. ছোট বিষয়কেও অনেক ক্ষেত্রে খুব বড় করে ভাবতে থাকি এবং যতক্ষণ না বিষয়টির সমাধান হচ্ছে সে বিষয়ে একটা উত্তেজনা বা মনে স্ট্রেস কাজ করে।
৫. সব সময় আবেগ-উত্তেজনা, অস্থিরতা ও অজানা আশঙ্কায় ভুগি। মেজাজ সব সময় গরম থাকে। কেউ অন্যায় করলে বা অসঙ্গত আচরণ করলে আমার সমালোচনা করলে সঙ্গে সঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করি। এ সময় হার্টবিট বেড়ে যায় বেশি। প্রথমে কথা আটকে যায়, হাত-পা কাঁপে বিশেষ করে পত্রিকা পড়তে হাত কাঁপে। এ সময় ঘাড়ের দুদিকে ব্যথা করে, ঘাম হয়।
৬. সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে স্মৃতিশক্তি তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে। এখন পড়েও মুখস্ত রাখতে পারি না। পড়াশোনায় মনোযোগের ও চিন্তার বিভাজন ঘটে। এ সময় অন্যান্য প্রসঙ্গ চিন্তায় চলে যায় কী করে স্মরণশক্তি বাড়ানো যায়।
ডাক্তার সাহেব আপনি হয়তো আমার জীবনকে নতুনভাবে বদলিয়ে দিতে পারেন আপনার ব্যবস্থাপত্র দিয়ে। আপনার সুন্দর জীবন কামনা করছি।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার চিঠিতে কয়েকটি দিক অনুল্লেখিত থাকায় রোগ ডায়াগনোসিস করার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়। আপনার বংশে কোনো মানসিক রোগের ইতিহাস আছে কিনা তা জানালে ভালো হতো। পাশাপাশি সন্দেহ কতটা মাত্রার, কানে গায়েবি কথা আসে কিনা, আপনার মনের কথাগুলো সবাই জেনে যাচ্ছে এমনটি বোধ হয় কি না বিস্তারিতভাবে লিখে আমাদের পরবর্তীতে জানান। আপাতত ট্যাবলেট টেলাজিন ৫ মিলিগ্রাম সকালে একটি, রাতে একটি করে সেবন করুন। ট্যাবলেট পারকিনিল ৫ মিলিগ্রাম সকাল, দুপুর ও রাতে একটি করে সেবন করুন। ২ সপ্তাহ পরে অবস্থা জানিয়ে আমাদের সাথে পুনরায় যোগাযোগ করুন।
মো. ফরহাদ হোসেন
ফেনী
স্যার আমার বয়স ২২ বছর। ৬ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত আমি হস্তমৈথুন করি কিন্তু এখন করি না। আমার প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ বার স্বপ্নদোষ হয়। আমার শরীর খুব দুর্বল ও প্রায় সময় বুক ধড়ফড় করে। আমি কারও সাথে কথা বলতে মুখে বাধে বা তোতলাই ৪ থেকে ৫ বছর। আমাকে সব সময় রোগা রোগা দেখায় এবং বন্ধুরা আমাকে তিরস্কার করে। আবার কেউ কেউ বলে আমার শরীরে নাকি অনেক রোগ আছে। কোনো সিদ্ধান্ত ধীরেসুসে' চিন্তা করে নিতে পারি না। আমার স্মরণশক্তি একেবারেই নেই। আমি বর্তমানে এইচএসসিতে পড়ি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। কিন্তু কী পড়ি কিছুই মনে রাখতে পারি না। পড়ার টেবিলে বসলে অন্য চিন্তা আসে। পড়ার টেবিলে বসে থাকতে ইচ্ছা করে না, মনে হয় শরীর ব্যথা করছে, ঘুমের ভাব আসে ঘুমাতে ইচ্ছা করে।
আমার যৌন সমস্যার জন্য আমি তিনজন ডাক্তারের পরামর্শ নেই কিন্তু কোনো ভালো ফল পাওয়া যায়নি। আমি এসব রোগ থেকে রেহাই পাব না মনে হয়। আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করি। কিন্তু আবার মনোজগতের ম্যাগাজিনগুলো থেকে কিছুটা বিশ্বাস জন্মে। এমনিতে আমাদের খুব খারাপ অবস্থা। ডাক্তারের নিকট গিয়ে চিকিৎসা করব আমার নিকট ওই টাকা নেই। আমাকে পরামর্শ দিলে উপকৃত হব।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি যৌনতা নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। যৌনতাকে ঘিরে নানা কুসংস্কারের কারণে আপনার মনে বিষণ্নতা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এক্ষেত্রে আপনার সর্বাগ্রে দরকার সেক্সুয়াল কাউন্সিলিং এবং সাইকোথোপি। এটার কোনো বিকল্প নেই। যৌনতা সম্পর্কে আপনার মনে সাবলীল দৃষ্টিভঙ্গি এলে সমস্যাগুলো আস্তে আস্তে চলে যাবে। সেক্সুয়াল কাউন্সিলিংয়ের জন্য আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে আসার জন্য পরামর্শ থাকল। আপাতত ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় একটি করে সেবন করুন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন বিকেলে ১টা করে সেবন করুন। ঘুমের সমস্যা হলে ট্যাবলেট নকটিন ৫ মিলিগ্রাম একটা করে সেবন করুন। আমাদের মনোজগত প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত সেক্স গাইড সিরিজের বইগুলো সংগ্রহ করে পড়ে দেখতে পারেন।
সুমা
শিবগঞ্জ, সিলেট
আমার শরীরে কোনো সমস্যা নেই। আমার সমস্যা হলো স্বাস্থ্য নিয়ে। এসএসসি পরীক্ষার পর থেকে আমার স্বাস্থ্য দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে ঠিক যেন ৩য় বর্ষ ফেব্রুয়ারি সংখ্যার উত্তর বাসাবোর শিল্পীর মতো। তিনি যা লিখেছিলেন তার মতো আমারও হয়েছে। আপনি পরামর্শ পাতায় শিল্পীকে বলেছেন যে ক্যাপসুল জেনিকল ১২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে খাওয়ার জন্য। জেনিকল ক্যাপসুল খেলে কোনো সমস্যা এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেবে কিনা যা ভবিষ্যতে অসুবিধা হবে। পরামর্শ পাতায় পরামর্শ দিলে খুব খুশি হব।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি আপনার সমস্যার জন্য ক্যাপসুল জেনিকল ১২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে খেতে পারেন। ক্যাপসুল জেনিকলে তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এটি আমাদের খাবারের চর্বির শোষণমাত্রা কমিয়ে দেয়, যে কারণে মলের সাথে চর্বি বের হয়ে আসে। পায়খানা খুব তৈলাক্ত হয়ে থাকে। এমনকি তা পায়খানার প্যানের সাথে আটকে যায়। ক্যাপসুল সেবনের প্রথম দিকে পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়ার সমস্যার হতে পারে। দুই সপ্তাহ পরে এগুলো সয়ে আসে। তবে এই ক্যাপসুল শুরু করলে অনেক দিন খেতে হবে। একটা কথা মনে রাখবেন, দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। আপনি আপনার বয়স উল্লেখ করেননি। বয়ঃসন্ধিকালে বিশেষ করে ১৪-১৮ বছর বয়সে অনেক সময় বাড়তি ওজনের সমস্যা হতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যায়াম করাটাই যৌক্তিক।



