Skip to main content

বিস্মৃতি এবং ডিমেনশিয়া

বাংলাদেশের বিশিষ্ট মনোশিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী ও মনোচিকিৎসক
অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ

মানসিক রোগ শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা ও জনসচেতনতায় পথিকৃৎ

জেনে রাখা ভালো
ডিমেনশিয়া বৃদ্ধ বয়সের এমন একটি রোগ, যা আপনার মস্তিষ্কে খারাপ প্রভাব ফেলে এবং মস্তিষ্কে কঠিন বিস্মৃতি ঘটায়। প্রিয় কারও ডিমেনশিয়া ধরা পড়লে এটা খুবই দুঃখজনক কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনি কে তা সে দ্রুত ভুলে যাবে। এই রোগটি প্রায়ই ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে এবং নতুন ওষুধ যেমন এরিসেপ্ট (Aricept) এর বিস্তারের গতিকে ধীরে করে দেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত লোকেরা সাধারণত স্বাভাবিকভাবেই জীবনযাপন করে, শুধু ছোট একটা বাড়তি সাহায্য নিয়ে। ১০০-এরও বেশি ধরনের ডিমেনশিয়া আছে বেশির ভাগই বংশগত নয় এবং সর্বাপেক্ষা পরিচিত হচ্ছে আলঝেইমারস।
অনেক লোক মনে করে তারা যতই বৃদ্ধ হতে থাকবে ততই তারা অমনোযোগী হতে থাকবে, এটি স্বাভাবিক এবং প্রায়ই এটা ডিমেনশিয়ার কারণে হয়, যেমন- বিষণ্নতা, অকার্যকর থাইরয়েড। মস্তিষ্কের সমস্যাগুলোর মধ্যে ডিমেনশিয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থা। এর কারণে মানসিক অক্ষমতা এবং অন্যান্য সম্পর্কীয় উপসর্গ দেখা দেয়। ডিমেনশিয়ার উপসর্গগুলো ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং কয়েক বছরের মধ্যে এটি ভয়ানক অবস্থায় পরিণত হয়। ডিমেনশিয়া চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির আন্তরিক সহায়তা এবং যত্ন।

মস্তিষ্ক বিস্মৃতি কী এবং এর কারণগুলো কী কী?
প্রত্যেকেই সময়ে সময়ে অনেক কিছু ভুলে যায়। স্বতন্ত্রভাবে যেসব জিনিস আমরা ভুলে যাই সেগুলো বেশির ভাগ সময় আমাদের কাছে কোনো ব্যাপারই মনে হয় না। যেসব জিনিস আমরা সহজেই মনে রাখি সেগুলোই বেশির ভাগ সময় আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, যেমন বিশেষ কোনো জন্মদিন। যাই হোক, কিছু লোককে দেখা যায় অন্যদের তুলনায় যাদের স্মৃতিশক্তি ভালো এবং কিছু লোক আছে যারা তুলনামূলকভাবে অন্যদের চেয়ে বেশি ভুলোমনের।
এমন কিছু নির্দিষ্ট অবস্থা আছে যা আপনার স্মৃতিতে খারাপ প্রভাব ফেলবে এবং আপনাকে স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি ভুলোমনের করে তুলবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-
* অমনোযোগ। যদি আমাদের মনোযোগ দুর্বল হয় তখন আমরা কোনো কিছুই খেয়াল করতে বা মনে রাখতে পারি না, যা আমরা স্বাভাবিকভাবে মনে রাখতে পারি। অমনোযোগিতা সাধারণত বিরক্তি বা ক্লান্তির ফলে ঘটে থাকে। যাই হোক, এটি অবসাদ এবং উদ্বেগেরও উপসর্গ।

  • অবসাদ। অমনোযোগিতার মতো অবসাদগ্রস্থ লোকদেরও চিন্তাশক্তি কমে যায়। অবসাদ দূর না হলে যেটি মস্তিষ্কের সমস্যা ঘটাতে পারে। যদি আপনি নিজেকে অবসাদগ্রস্থ মনে করেন তাহলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন যেহেতু চিকিৎসা অনেক সময় ভালো ফল দেয়। অবসাদের অন্য উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে মন খারাপ থাকা, জীবনের প্রতি আগ্রহ ও উপভোগ্যতা হারিয়ে ফেলা, অস্বাভাবিক দুঃখবোধ, কান্না প্রবণতা, অপরাধবোধ এবং হীনম্মন্যতা, উৎসাহের অভাব, অনিদ্রা, ক্লানি-বোধ, আবেগজনিত সমস্যা, অরুচি, অস্বসি'বোধ অথবা অবিশ্রান্তি।
  • শারীরিক অসুস্থতা। তুমি যদি অসুস্থ বোধ করো, এটি তোমার মনোযোগ এবং স্মৃতিতে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। নির্দিষ্ট অসুস'তা মসি-ষ্কের কাজের পথে সরাসরি খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ অকার্যকর থাইরয়েড মস্তিষ্কসহ অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজের গতিকে হ্রাস করতে পারে এবং তোমাকে ভুলোমনা করে দিতে পারে।
  • বয়স। বয়স বাড়ার সাথে সাথে কোনো কিছু মনে রাখা আমাদের জন্য কঠিন হতে থাকে। একে বলে ‘বয়সসংক্রান্ত স্মৃতি দুর্বলতা’। ষাট বছরের পরে বেশির ভাগ লোকেরই এই সাধারণ সমস্যাটি হয় এবং এটি ডিমেনশিয়া নয়। উদাহরণস্বরূপ বয়স বাড়ার সাথে সাথে নতুন কিছু শেখা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। অন্য আরেকটি সাধারণ উদাহরণ হচ্ছে ইতিমধ্যে পরিচিত হয়েছে এমন মানুষের নাম তুমি সহজেই ভুলে যেতে পার। ধারণা করা হয় বয়স বাড়ার পরে যত বেশি আমরা আমাদের মস্তিষ্ককে ব্যবহার করি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার বয়সসংক্রান্ত ক্ষয় ততই বাধাপ্রাপ্ত হতে থাকে। সুতরাং তোমার স্মৃতিকে ভালো অবস'ানে রাখার জন্য কিছু কাজ করা যায়। যেমন- নিয়মিত বই পড়া, কুইজ, শব্দজট, কবিতা অথবা নাটক মুখস' করা, নতুন কিছু শেখা ইত্যাদি।
  • ডিমেনশিয়া। ডিমেনশিয়া হচ্ছে মস্তিষ্কের সমস্যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থা। এই প্রতিবেদনের বাকি অংশে শুধু ডিমেনশিয়া সম্পর্কে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

ডিমেনশিয়া কী?
ডিমেনশিয়া হলো মস্তিষ্কের এমন একটা অবস্থা যার ফলে মানসিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। উপরন' অন্য যেসব উপসর্গ সাধারণত দেখা যায় যেমন- ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন, সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, এমনকি নিজের দেখাশোনা করা বা যত্ন নেয়ার ক্ষমতাও কমে আসে। ডিমেনশিয়ার বিভিন্ন কারণ আছে।

কাদের হয় ডিমেনশিয়া?
সাধারণত বয়স্ক লোকেরা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এর প্রবণতা বাড়ে। ৬৫ বছরের পরে অনেক সময় প্রতি ২০ জনে ১ জন লোকের ডিমেনশিয়া হতে পারে। ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রতি ৫ জনে ১ জন ডিমেনশিয়ায় আক্রান- হয়। কদাচিৎ এটি অল্পবয়সীদের ওপর প্রভাব ফেলে। ডিমেনশিয়া বয়োবৃদ্ধির একটি সহজাত অংশ নয়। বয়স্ক লোকদের সাধারণত যে ‘বয়সসংক্রান্ত স্মৃতি দুর্বলতা’ হয় তা থেকে ডিমেনশিয়া ভিন্নতর।

ডিমেনশিয়া কী কারণে হয়?
ডিমেনশিয়া বিভিন্ন রোগের কারণে হতে পারে যেগুলো চিন্তা পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের অংশগুলোর উপরে খারাপ প্রভাব ফেলে। যাই হোক, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি ঘটে থাকে আলঝেইমার রোগ অথবা ভাসকুলার ডিমেনশিয়ার কারণে। সব ধরনের ডিমেনশিয়ার ক্ষেত্রেই একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায় কিন' সুনির্দিষ্ট কারণেও কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। অতএব প্রতিটি স্বতন্ত্র ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই এটি নির্দিষ্ট করে বলা যায় না যে কোন রোগের কারণে ডিমেনশিয়া হয়।

আলঝেইমারস রোগ
প্রায় ১০টির মধ্যে ৬টি ক্ষেত্রেই ডিমেনশিয়ার কারণ এটি। যে চিকিৎসক প্রথম এটি সম্পর্কে বলেছিলেন তার নামেই এটির নামকরণ করা হয়েছিল। আলঝেইমার রোগে মস্তিষ্ক সংকুচিত হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কে স্নায়ুতন্ত্র সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যায়। মস্তিষ্কের কিছু রাসায়নিক উপাদান বা নিউরোট্রান্সমিটার কমে যায়, এর মধ্যে নির্দিষ্ট একটিকে বলা হয় অ্যাসিটাইলকোলিন। এই রাসায়নিক উপাদানগুলো মস্তিষ্কের কোষে বার্তা পাঠাতে সাহায্য করে। মস্তিষ্ক জুড়ে ক্ষুদ্র সঞ্চয় গঠিত হয়। এখনো এটা জানা যায়নি কেন মস্তিষ্কের এই পরিবর্তনগুলো ঘটে বা প্রকৃতপক্ষে কীভাবে ডিমেনশিয়া ঘটে।
এটা কখনো ভবিষ্যদ্বাণী করা যাবে না যে কার আলঝেইমারস রোগ হবে। এটি বংশগত নয় এবং যে কারও এটি হতে পারে।

পরিবাহী বা রক্তবাহিকা ডিমেনশিয়া
ডিমেনশিয়া রোগের ১০টির মধ্যে ২টির কারণই হলো ভাসকুলার ডিমেনশিয়া। এটি মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র রক্তবাহিকাজনিত সমস্যার কারণে ঘটে থাকে। ডিমেনশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বহুল পরিচিত ধরনকে বলা হয় ‘মাল্টি ইনফ্র্যাক্ট’ ডিমেনশিয়া। এর ফলে মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তির অংশ জুড়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক আঘাত হতে দেখা যায়। এ আঘাতগুলো তখনই হয় যখন রক্তবাহিকাগুলো আটকে যায় এবং রক্তচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সুতরাং মস্তিষ্কের যে অংশটিতে ওই রক্তবাহিকা রক্ত সরবরাহ করে সেটি নষ্ট হয়ে যায় অথবা মরে যায়। যখনই এই বাধাপ্রাপ্তিগুলো ঘটে তখন মস্তিষ্কের আরও অনেক টিস্যু বা কলা নষ্ট হয়ে যায়। তাই মানসিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসে।
মস্তিষ্কের আঘাতের ঝুঁকি যে কারণে বাড়তে থাকে সেই একই কারণে পরিবাহী ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ উচ্চরক্তচাপ, ধূমপান, উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রা, শরীরচর্চার অভাব ইত্যাদি।

ডিমেনশিয়ার অন্যান্য কারণ
৬০টিরও বেশি রোগের কারণে ডিমেনশিয়া হতে পারে। বেশির ভাগই বিরল এবং অনেক ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়া হলো অন্যান্য সমস্যা ও উপসর্গের অংশ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করা যায় না অথবা নির্মূল করা যায় না। কিছু ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করা যায় অথবা যদি চিকিৎসা করা হয় তাহলে অবস্থা আরও অবনতির দিকে যাওয়াকে বাধাগ্রস্থ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ কিছু ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়ার কারণ হচ্ছে অ্যালকোহলের অপব্যবহার অথবা সংক্রমণ যেমন- সিফিলিস। উল্লিখিত দুটি ক্ষেত্রেই চিকিৎসা করা যায়।

ডিমেনশিয়ার উপসর্গগুলো
সব ধরনের ডিমেনমিয়ার উপসর্গগুলো একই ধরনের এবং নিচে সেগুলো উল্লেখ করা হলো-

  • বিস্মৃতি : নিয়মানুযায়ী প্রথমেই বেশির ভাগ সামপ্রতিক ঘটনাগুলো ভুলে যাওয়া উদাহরণস্বরূপ ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে একজন লোক দোকানে গেলে প্রায়শই মনে করতে পারে না। সে কী চেয়েছিল। জিনিসপত্র ভুল জায়গায় রাখা একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য। ডিমেনশিয়া তীব্র পর্যায়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত অতীতের ঘটনাগুলো প্রায়ই ভালোভাবে মনে পড়ে। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত বেশির ভাগ লোকই তাদের শৈশব ও জীবনের প্রথম পর্যায় নিয়ে কথা বলে। এর বৃদ্ধির ফলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একজন লোক সামপ্রতিক ঘটনাবলি তীব্রভাবে ভুলে যেতে থাকে এবং মনে হতে পারে যে সে অতীত জীবনে বসবাস করছে। তারা নিজেদের অল্প বয়সী ভাবে এবং নিজেদের সঠিক বয়স চিহ্নিত করতে পারে না।
  • নতুন পরিবেশ এবং নতুন মানুষঃ একজন ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত লোককে দ্বিধাগ্রস্ত করে তুলতে পারে। যাই হোক পরিচিত জায়গা এবং পুরনো নিয়মে একজন লোক ভালোভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। এই কারণে মৃদু ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের বাড়িতে ভালোভাবে খাপ খাওয়াতে পারে। সময়ের গতিপথ হারানোও বৈশিষ্ট্যমূলক। উদাহরণস্বরূপ সকাল অথবা বিকেল বুঝতে না পারা অথবা আজকে কোনো দিন সেটি না জানা।
  • মনোযোগের অভাবঃ কোনো ব্যাপারে স্থির মনোযোগ রাখতে অসমর্থ।
  • বুদ্ধিলোপ পাওয়াঃ এমনকি চতুর ব্যক্তিরাও নতুন ধারণা অথবা নতুন দক্ষতা আয়ত্ত করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ নতুন কোনো গৃহস্থালি যন্ত্র বা উপকরণ ব্যবহার করতে না পারা।
  • ব্যক্তিত্বের পরিবর্তনঃ প্রথমত খুব সহজেই বিরক্ত বা গম্ভীর হয়ে যাওয়া যা পরিবার অথবা বন্ধুরা খেয়াল করতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত একজন লোক অনেক সময় বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। এর অর্থ এই যে সে (নারী পুরুষ) তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যবহির্ভূত কথা বলতে বা কাজ করতে পারে। পরিবার ও বন্ধুদের জন্য প্রায়ই এ ধরনের আচরণের সাথে খাপ খাওয়ানো কঠিন হয়ে পড়ে।
  • নিজের যত্নঃ কিছু লোক অন্যের সাহায্য ছাড়া ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিতে পারে না। তারা তাদের কাপড় পরিষ্কার করতে অথবা পরিবর্তন করতে ভুলে যেতে পারে।
  • মনোভাব/মেজাজঃ ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত কিছু লোক বুঝতে পারে যে তারা ব্যর্থ হচ্ছে এবং অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। যাই হোক ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত অনেক লোক এ ব্যাপারে সচেতন নয় যে তারা অসুস্থ। তারা প্রফুল্ল থাকতে পারে। এই দুর্দশাটা সবচেয়ে বেশি অনুভব করতে পারে আত্মীয়স্বজনরা, যাদের কছে খাপ খাওয়ানোটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
  • ওজন হ্রাস এবং কিছু ক্ষেত্রে অচেতন হওয়ার প্রবণতাঃ ব্যাখ্যাতীত অচেতন হওয়া অথবা ব্যাখ্যাতীত ওজন হ্রাস হতে পারে প্রথম লক্ষণ যে একজন লোক ডিমেনশিয়ায় আক্রান-।
  • তীব্র ডিমেনশিয়াঃ বাকরোধ হতে পারে। ডিমেনশিয়ার পরবর্তী পর্যায়ে তীব্র শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন-পক্ষাঘাতগ্রস্থতা এবং সাধারণ দুর্বলতা।

কীভাবে ডিমেনশিয়া বৃদ্ধি পায়?
উপসর্গগুলো ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় প্রায় কয়েক বছরে ধরে। এই রোগটির প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক লোক যারা মৃদু ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত তারা সামান্য পরিমাণে সহযোগিতা এবং যত্ন পেলে মানিয়ে চলতে পারে। এই রোগটি বাড়ার সাথে সাথে সাধারণত অনেক বেশি যত্নের প্রয়োজন হয়। একজন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন আলঝেইমারস রোগীর প্রথম লক্ষণগুলো হলো মস্তিষ্কের সমস্যা, যা তীব্রতর আকার ধারণ করতে ৮ থেকে ১০ বছর সময় লাগে এবং অবশেষে শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতার কারণে মৃত্যু ঘটে। যাই হোক ব্যক্তিভেদে এবং ডিমেনশিয়ার প্রকারভেদে লক্ষণগুলোর বৃদ্ধির গতি বিপুলাকারে পরিবর্তিত হতে পারে।

কীভাবে ডিমেনশিয়া নির্ণয় করা যায়?
আত্মীয়স্বজন অথবা বন্ধুবান্ধবদের বর্ণনাকৃত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণগুলো থেকে ডিমেনশিয়া অনুমান করা যায়। এই রোগটি নির্ণয় নিশ্চিত করতে একজন চিকিৎসক বিশেষ কিছু স্মৃতির পরীক্ষা করতে পারেন। এমন কোনো নিয়মানুগ পরীক্ষা নেই যা আলঝেইমারস রোগ নিশ্চিত করতে পারে। যাই হোক আরও কিছু চিকিৎসাযোগ্য অবস্থা আছে যেগুলোর উপসর্গগুলো ডিমেনশিয়ার মতোই। উদাহরণস্বরূপ বয়স্কদের স্মৃতি সমস্যা মাঝে মাঝে অবসাদের কারণে হতে পারে। একজন লোক তার আত্মীয়স্বজন অথবা বন্ধুবান্ধব অপেক্ষা নিজের মস্তিষ্কের বিস্মৃতিগুলো নিজেই চিহ্নিত করতে পারে, এটা ঠিক উদাসীনতা যা ডিমেনশিয়ার ক্ষেত্রে হয়। অবসাদ প্রায়ই নিরাময়যোগ্য। সব ধরনের সন্দেহও ডিমেশিয়া নয়। কিছু শারীরিক সমস্যা যেমন থাইরয়েড সমস্যা, যকৃৎ ও বৃক্ক সমস্যা, মস্তিষ্কের টিউমার একজন বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডিমেনশিয়ার অনুরূপ রোগাক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘সন্দেহের’ কারণ হতে পারে।
অতএব সাধারণভাবে কিছু পরীক্ষা করা হয় অন্যান্য অবস্থা ‘নির্ণয়’ করতে অথবা ডিমেনশিয়ার নিরাময়যোগ্য কারণগুলো চিহ্নিত করতে। উদাহরণস্বরূপ বৃক্ক, থাইরয়েড এবং যকৃতের অবস্থা এবং আরও কিছু নির্দিষ্ট অবস্থা নির্ণয় করতে একটি রক্ত পরীক্ষা করা যেতে পারে। মসি-ষ্কের একটি নিখুঁত পরীক্ষা প্রায়ই করা হয়। যদি ডিমেনশিয়ার একটি অপ্রচলিত কারণ সন্দেহ করা হয় তাহলে অন্যান্য অনেক জটিল পরীক্ষা করা যেতে পারে।

ওষুধ কি সাহায্য করতে পারে?
এমন কোনো ওষুধ নেই যা ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করতে পারে। কিছু ওষুধ আছে যা ব্যবহারে কিছু উপকার পাওয়া যেতে পারে। জেনে রাখা ভালো বিস্মৃতি এবং ডিমেনশিয়া Cholinesterase inhibitors কোলিনেসটেরাস প্রতিরোধ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে Donpenzil (ডলপেনজিল), Rivastigmine (রিভাসটিগমাইন) এবং Galantamine (গ্যালনেটামাইন) এরা Acetycholine (অ্যাসিটাইকোলিনের) মাত্রা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এটি মস্তিষ্কের একটি রাসায়নিক উপাদান যা আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত লোকদের মধ্যে অল্প পরিমাণে থাকে। এই ওষুধগুলো মস্তিষ্কের পরিবর্তনে কোনো প্রভাব ফেলে না এবং এটা কোনো প্রতিকার নয়। যাই হোক প্রায় অর্ধেক আলঝেইমার রোগীর ক্ষেত্রে এগুলো উপসর্গগুলোর ক্রমোন্নতি কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। এ বিষয়ে একটি বিতর্ক আছে যে এই ওষুধগুলো একজন আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত লোকের সুস্থতা এবং যত্নে প্রকৃতপক্ষে কতখানি সাহায্য করতে পারে। কিছু চিকিৎসক মনে করেন যে এই ওষুধগুলো শুধু সীমিত উপকার করতে পারে, যা সব সময় কার্যকর নয়। যাই হোক কিছু লোক অন্যদের চেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারে।
২০০৬ সালের শরতে (২০০৭ সালে সংশোধিত) জাতীয় স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সম্মানসূচক অধিদপ্তর (NICE) এই ওষুধগুলোর ব্যবহারের ওপর জাতীয় অধ্যাদেশ জারি করে। NICE অনুমোদন/সুপারিশ করে যে Donpenzile, Galantamine, Rivastigmine মাঝারি ধরনের আলঝেইমার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় একমাত্র উপায় হিসেবে বিবেচনাযোগ্য। যেহেতু কিছু মানুষ মনে করে যে মৃদু, প্রাথমিক পর্যায়ের আলঝেইমার আক্রান্তদের কাছে এই ওষুধগুলো সহজলভ্য হওয়া উচিত। তাই সুপারিশটি বিরোধমূলক ছিল। বিশেষ করে আলঝেইমার আক্রান্ত সমপ্রদায় এই ওষুধগুলোর ব্যাপক ব্যবহারের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে। যেহেতু তারা মনে করে NICE-এর সিদ্ধান্তটি ভুল। যদি এই ওষুধগুলোর কোনো একটি শুরু করা হয় তাহলে এটি কোনো পরিবর্তন ঘটিয়েছে কিনা তা জানতে সাধারণত তিন মাস পরে সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করা হয়। উপযুক্ত চিকিৎসাকাল এখনো জানা যায়নি। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন- দুর্বল অনুভূত হওয়া, খিঁচুনি এবং আমাশয় হতে পারে।
Mementime-এই ওষুধটি নির্দিষ্ট কিছু মস্তিষ্ক ও স্নায়ুকোষে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কমাতে কাজ করে। আলঝেইমার রোগের কারণে আক্রান্ত কোষগুলোর ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে। উল্লিখিত ওষুধগুলোর মতো এটা কোনো প্রতিকার নয়। গবেষণায় দেখা যায় যে, অনেক ক্ষেত্রে এটি লক্ষণগুলোর ক্রমোন্নতি কমিয়ে দেয়। যেহেতু এটি আপেক্ষিকভাবে নতুন তাই Mementime-এর ভূমিকা এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এটি নিয়মিতভাবে ব্যবস্থাপত্র হিসেবে দেয়া হয় না। Cholionesterase inhibitor medicines-এর মতোই একই নির্দেশনা Mementime-এর ক্ষেত্রেও প্রদান করা হয়। এই উপদেশাবলিতে বলা হয়েছে যে, মাঝারি ধরনের তীব্র থেকে তীব্রতর আলঝেইমার রোগীর জন্য চিকিৎসা শাস্ত্রে Mementime একমাত্র সুপারিশকৃত।

অন্যান্য ওষুধ

  • ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত যেসব লোক খুব সহজেই অশান্ত হয়ে ওঠে শেষ ভরসা হিসেবে তাদের মাঝে মাঝে ট্রাংকুলাইজার ব্যবস্থাপত্র হিসেবে দেয়া হয়।
  • যদি অবসাদ সন্দেহ করা হয় তাহলে অবসাদ প্রতিরোধকের উপদেশ দেয়া হতে পারে। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত লোকদের মধ্যে অবসাদ একটি সাধারণ ব্যাপার এবং এটি উপেক্ষা করা যেতে পারে।
  • আঘাত এবং হৃদরোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কারণসমূহের চিকিৎসায় কিছু লোকের জন্য অ্যাসপিরিন এবং অন্যান্য ওষুধ উপযুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে যারা ভাসকুলার ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত।
  • যদি ঘুমের সমস্যা কঠিন আকার ধারণ করে তাহলে মাঝে মাঝে ঘুমের ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে।
  • আরও কিছু অন্যন্য ওষুধ রয়েছে যেগুলো আলঝাইমার রেগের চিকিৎসায় পরামর্শ দেওয়া হয়। এগুলার রয়েছে- Gingo biloba (a herbal medicine), non-sterodal anti-inflammatory drugs (NSAIDS), Vitamin E, Oestrogens and stains. যাই হোক গবেষণামূলক পরীক্ষা থেকে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা দ্বারা এই ওষুধগুলোর কোনো একটি ডিমেনশিয়ার চিকিৎসা ও প্রতিকারে সামপ্রতিক সময়ে অনুমোদন করা যায়। বিশেষ করে একটি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা হিসেবে Gingko biloba সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় ছিল। যাই হোক ২০০৮ সালে প্রকাশিত ব্যাপক গবেষণামূলক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে Gingko biloba ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে খুব অল্প অথবা কোনো প্রভাব ফেলে না। গবেষণা চলছে এবং নতুন ওষুধপত্র তৈরি হচ্ছে, যা সম্ভাবনাময়।

ডিমেনশিয়ার জন্য চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো কী?
সমাজে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত বেশির ভাগ লোককেই সহানুভূতি দেখানো হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রধান তত্ত্বাবধানকারী হলো পরিবারের সদস্যরা। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যেন তত্ত্বাবধানকারীরা পূর্ণ সমর্থন এবং গরমিল পায় যা এলাকাভিত্তিকভাবে সহজলভ্য।
ডিমেনশিয়ার তীব্রতা এবং স্বতন্ত্র পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে নিম্নলিখিত একটি বা বেশি ক্ষেত্র থেকে সমর্থন ও পরামর্শের প্রয়োজন হতে পারে।

  • জেলাভিত্তিক সেবিকারা যারা দৈনন্দিন সেবা-শুশ্রূষার ব্যাপারে পরামর্শ দিতে পারে।
  • এলাকাভিত্তিক মনস্তাত্ত্বিক সেবিকারা যারা মানসিকভাবে অসুস্থ লোকদের যত্নের ব্যাপারে পরামর্শ দিতে পারে।
  • বিশেষজ্ঞ মনস্তত্ত্ববিদদের মূল্যায়ন। প্রয়োজনবোধে এই পরামর্শ করতে পারে।
  • সমাজসেবক যারা স্থানীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে পরামর্শ দিতে পারে, যেমন দিবাকালীন সেবাকেন্দ্র, সুবিধাসমূহ, গৃহের স্বযত্ন সাহায্য, সাময়িক যত্ন ইত্যাদি।
  • স্বেচ্ছাসেবক সংস্থাসমূহ। তুমি যদি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত কোনো লোকের সেবা করো তাহলে তোমার এলাকায় সহজলভ্য সাহায্য সহযোগিতা সম্পর্কে তথ্যাদি জেনে নেয়া ভালো। যুক্তরাজ্যের বেশির ভাগ জায়গায় এমন অনেক সংস্থা রয়েছে যারা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত লোকের তত্ত্বাবধানকারীদের সমর্থন এবং উপদেশ প্রদান করে থাকে।

প্রয়োজনীয় যত্ন এবং সমর্থনের মাত্রা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়। উদাহরণস্বরূপ মৃদু ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত কিছু লোক তাদের নিজের পরিচিত বাড়িতে ভালোভাবে মানিয়ে চলতে পারে। কেউ কেউ পরিবারের সবচেয়ে যত্নশীল সদস্যটির সাথে থাকতে পারে। যদি অবস্থা খারাপের দিকে যায় তাহলে আবাসিক কোনো এলাকা বা সেবাকেন্দ্রেই সবচেয়ে ভালো। প্রদত্ত যত্ন এবং সমর্থনের উপযুক্ত মাত্রা নিশ্চিত করতে সমগ্র অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
যদি তুমি একজন তত্ত্বাবধানকারী হও এবং যদি তুমি আরও বেশি সমর্থনের প্রয়োজন মনে করো তাহলে একজন ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত লোককে মূল্যায়ন করতে এচ অথবা জেলাভিত্তিক সেবাদানকারীর সঙ্গে কথা বলতে পারে।

ডিমেনশিয়ার অন্যান্য সম্ভাব্য চিকিৎসা
Reality Orientation বা বাস-বমুখিতা
মনে করা হয় কিছু ক্ষেত্রে এটি সাহায্য করতে পারে। এটি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত লোকদের সময়, স্থান বা মানুষ সম্পর্কে তথ্যাদি দিয়ে তাদের বাস্তবমুখী রাখার সাথে সম্পর্কিত। এটি শুরু হতে পারে খুব সাধারণ বিষয় থেকে, যেমন- বিখ্যাত কোনো জায়গায় ভ্রমণের দিন, তারিখ, ঋতু ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে প্রতিটি সংস্পর্শে বারবার বাস্তবমুখী করা।

Cognitive stimulation বা জ্ঞানের উদ্দীপনা
জ্ঞানের উদ্দীপনা সাহায্য করতে পারে। এর অর্থ মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করা। উদাহরণস্বরূপ বিনোদনমূলক কার্যক্রম, সমস্যা সমাধানসংক্রান্ত কার্যক্রম এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা। আরও বলা যায় বিনোদনমূলক কার্যক্রম, জীবনের মান উন্নয়ন এবং স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি করে। যদি সম্ভব হয় নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম যেমন- হাসি, নৃত্য ইত্যাদি করা যায়, যেগুলো ডিমেনশিয়া আক্রান্ত লোকদের চলন ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রবণতাকে হ্রাস করে।

Reminiscence therapy বা স্মৃতিচারণ চিকিৎসা
কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। এই ধরনের চিকিৎসায় রোগীকে তাদের অতীত সম্পর্কে কথা বলতে উৎসাহিত করা হয় যেন তার অতীত অভিজ্ঞতা বর্তমান চিন্তাধারায় জাগ্রত করে।

Behaviour management বা আচরণ নিয়ন্ত্রণ
অনেক সময় চেষ্টা করা হয় অবসাদ কমানোর জন্য যেসব লোক ডিমেনশিয়ার পাশাপাশি অবসাদে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে।

Regular Physical activity বা নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম
ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য সহায়ক। যেমন- হাঁটা, নৃত্য ইত্যাদি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে চলন ক্ষমতা হ্রাসের সহজাত প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে।