Skip to main content

মনের জানালা

এখন আমি বড় একা!
আজ ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। বাইরে দাঁড়ালে চুল ওড়না উড়ে একাকার। মনে হচ্ছে বিশাল সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে আছি। সমুদ্র ছোঁয়া, মুক্ত বাতাস ছুঁয়ে যাচ্ছে ক্ষুদ্র আমাকে। চারপাশের এত অপার্থিব আনন্দের মাঝে দাঁড়িয়ে নিজেকে বঞ্চিত মনে হচ্ছে। ভয়ঙ্কর সৌন্দর্যের মাঝে দাঁড়িয়ে আমার ভেতরের শূণ্যতা হাহাকার বড় বেশি অনুভব করছি। মানুষের জীবন এমন কেন হয়? বলতে পার? চারদিকে ভরপুর সুখের মধ্যে রিক্ত, নিঃস্ব একা আমি। এক সময় যা সুখের স্মৃতি ছিল আজ সেটা দুঃখের সঙ্গী। এক সময় যা সুখের ধারার মতো হৃদয়ে বর্ষিত হতো আজ তা কষ্টের প্লাবন হয়ে আমার হৃদয় ছুঁয়ে দেয়। পৃথিবীর অপর প্রানে-র সুরের কপোতকপোতি আর অন্য প্রান্তেতৃষ্ণার্ত, পিপাসিত আমি মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলছি...

এক ফোঁটা বৃষ্টি দাও সারা পৃথিবী দেব
এক ফোঁটা বৃষ্টি দাও হাসনাহেনা ফোটাব।

তোমাকে কৃতজ্ঞতা জানায় বাবু ভাইয়া, আমার এই একাকী অসহায় সময়ে আমার পাশে দাঁড়িয়ে নিজের ছোট বোনের মতো স্নেহ দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে আমার নিঃসঙ্গতা ঘুচিয়েছ। আর আমি তোমার অপূর্ণ হৃদয়ে জায়গা নিয়েছিলাম তোমার অপূর্ণ হৃদয় পূর্ণ করতে নয় বরং যার জন্য তোমার অপূর্ণত্ব তাকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে। আজ প্রিয়াংকা ফিরে এসেছে। তাই তোমার জীবনে আমার প্রয়োজনও ফুরাল। ভালো থেকো বাবু ভাইয়া, ছোট বোনটাকে ভুলে যেও, ক্ষমা করো আমাকে ভালো থেকো তোমরা সবাই।

গুলশান জাহান
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
ফোন : ০১৭৫৩-২৪৪৮৪৫


না বলা কথা
প্রিয় মা
তুমি কেমন আছ জানি না, কিন' আমি ভালো নেই। ভালো থাকার কথাও না। কারণ তোমার অভিশাপে আমার জীবনটা পাপাসক্ত হয়ে পড়েছে। তুমি ঠিকই বলেছিলে ভালোবাসা করে সুখী হওয়া যায় না। আসলে আমি বড় অপরাধ করেছিলাম। কিন' প্রায়শ্চিত্ত করার সময় তুমি আমাকে দাওনি মা। আবেগবশত না হয় আমি ভুল করেছিলাম তাই বলে তুমি এভাবে চলে যাবে। মা তোমার কি এখন আমার কথা মনে হয়? তুমি কি আমাকে মিস কর? আমার কিন' তোমার কথা নৈমিত্তিক মনে হয়। তোমাকে অনেক মিস করি মা। আর আমি এখন বড় একা, নিঃসঙ্গতা এখন আমার দৈনন্দিনের বন্ধু হয়েছে। সুমি যাকে আমি ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম সে আর এখন নেই। একটা সন্তানও হয়েছে। তোমার পছন্দের নাম রেখেছি। তোমার কি মনে পড়ে মা তুমি আমার সাথে ঠাট্টা করে বলতে আমার সন্তানের নাম হবে বন্ধন। যার মাধ্যমে দেশের সবাইকে ভালো বন্ধন করবে। কিন' সেই আদরের সন্তানটিকে রেখে যায়নি সুমি। বড় স্বার্থপর মেয়ে সুমি। আমি বুঝতে পারিনি মা। আসলে তোমরা মুরুব্বিরা যা বল ঠিকই বল। কিন' আমরা আসলে বুঝি না। তবে বুঝতে পারি যখন তখন কোনো লাভ হয় না। মা তুমি কোন গগনে থাক? আমার যেতে খুবই ইচ্ছা হয়। তুমি আমাকে একবার নিয়ে যাও না মা। আমার স্বপ্ন আর পূরণ হলো না হবেও না। তবে আমি আবার স্বপ্ন দেখতে চাই যাতে সফলতার ছোঁয়া আছে। তুমি যদি আস তাহলে সম্ভব হবে। তবে মা যেখানেই থাক যেভাবেই থাক আমাকে ক্ষমা করো। সন্তান হিসেবে ক্ষমা চাচ্ছি যদিও ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য সন্তান আমি নই। তথাপিও ক্ষমা করো।

ফরিদুল ইসলাম নির্জন
হোটেল পার্ক বিল্ডিং, বড়গোলা, বগুড়া
ফোন : ০১৭১৯-৪৬১৩৫৫


তোমাদের হারিয়ে আমি আজ অন্ধকারে
কীভাবে যে লিখব আজ আমার লেখার ভাষা নেই । বোবা কান্নায় অশ্রুসিক্ত হয়ে আজ আমি সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব মানব জীবনের সব শ্রেষ্ঠ সম্পদ মা-বাবার চেয়ে আর দ্বিতীয় কিছু হতে পারেনা তা কারো অজানা নয়। সেই মা-বাবা হাজারও স্বপ্ন বুকে নিয়ে আমাকে মধ্যেপ্রাচ্যের ছোট্ট শহর ‘দোহা কাতারে’ পাঠাল তাদের স্বপ্ন একদিন তাদের অভাব বলতে কিছুই থাকবেনা, আমিও প্রবাসের যাতাকলে পড়ে যান্ত্রিক জীবন শুরু করলাম, কিন' এমন কিছু মানুষের থাকে যা শুধু স্বপ্নই থেকে যায় যা বাস-বে রূপ ধারণ করতে পারেনা। আমার মায়ের বেলায়ও তেমন হলো, সামান্য একটা দুর্ঘটনায় ১৬ই জুন ২০০৯ সালে অকাল মৃত্যু বরণ করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন' ভাগ্যের সেই নির্মম পরিহাস, শেষ দেখাটা দেখতে পারলাম না মাকে। ছুটে যেতে চেয়েছিলাম মাকে এক নজর দেখতে কিন' পার্সপোর্টের তারিখ শেষ হওয়াতে বিমান বন্দরে আটকা পড়ি। মনের যত না বলা কথা মনেই রয়ে গেল মাকে খুলে বলতে পারিনি। বুকে চাপা দিয়ে আছি অনেক বড় পাথর তবুও দিশেহারা না হয়ে ধৈর্য্যের সাথে আমি আমার বাবা ছোট ভাই-বোনদের নিয়ে নতুনভাবে পথচলা শুরু করলাম। কিন' এত তাড়াতাড়ি আমার পথচলা থেমে যাবে স্বপ্নেও চিন্তা করিনি আমি। মায়ের শোক ভুলতে চেয়েছি বাবার মুখ পানে চেয়ে। মা হারানোর ব্যথাতো ভোলার মতো নয় তবুও মাঝ পথে তো আর থেমে থাকা যায়না। আমার বাবা এবং আমার দাদী আমাদের মায়ের অভাব বুঝতে দেয়নি। আস্তে আস্তে করে মা-বাবার সমস্ত  আশা-আকাঙ্খা পূরণ করতে লাগলাম বাবার নির্দেশ মতো। বাবা আমাকে বলতেন আমি আমার সন্তানদের বন্ধু, তিনি এমন একজন মানুষ আগামীর কথা সারাক্ষণ ভাবতেন। চিন্তা করতেন কাল কী হবে এবং তার জানা হয়ে যেত কোন কাজের কী সফল ও বিফল। নিজ হাতে বাবা তৈরি করল সোনার সংসার, ছেলেদের মানুষের মতো মানুষ করল, একমাত্র মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে যোগ্য পাত্রের হাতে তুলে দিল কিন' সেই এতবড় হৃদয়বান মানুষের প্রতি আল্লাহ কী জন্য অসন'ষ্ট হয়ে গত ২৯.০৫.১১ তারিখ সকাল বেলা পরলোকে নিয়ে গেলেন। তার ইন্তেকালের খবর শুনে ছুটে যাওয়ার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লাম কিন্তু এই হতভাগার কপালে শেষ দেখাটাও জুটল না। ওইদিন বাংলাদেশে কোনো ফ্লাইট নেই। শোকে আর দুঃখে পাথর হয়ে গেলাম। মনে হচ্ছে এই মাত্র বাবার সাথে কোনো কথা বলছি। আজ আমি ডলার খুঁজতে গিয়ে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদগুলোকে হারিয়ে ফেললাম। আমার এ দেহ মনে প্রাণ থেকেও নেই। ছোট ভাই-বোনদের নিয়ে এই দুর্গম পথ পাড়ি দেব মা-বাবা ছাড়া তা কল্পনা করতে গেলে যেন মনে হয় আকাশটা আমার মাথার ওপর ভেঙে পড়বে।

মো. সেলিম উদ্দীন (হৃদয়)
দোহা, কাতার
ফোন : ০০৯৭৪-৬৬৪৮৭৩৯৯


বেকারত্ম আমায় ছুঁয়েছিল
সকাল ৮টা বেজে ৩০ মিনিট কাক পক্ষিরা সবাইকে জাগিয়ে দিয়ে খাদ্যের সন্ধানে চলে গেছে। ছাত্র-ছাত্রীরা হাতমুখ ধুয়ে সকালের নাশতা করে ঘুমকে ভেঙে চলে যাচ্ছে স্কুল, কলেজে, চাকরিজীবীরা অফিসে। একমাত্র আমি আছি চিন্তামুক্ত স্বপ্নযুক্ত আগামীর সন্ধানে ঘুমঘরে। বিছানায় গড়িয়ে বালিশকে জড়িয়ে গভীর নিদ্রায়।

আমার সবচেয়ে স্নেহের ছোট বোন হাবীবা তার ডাকা ডাকিতে ভেঙে গেল ঘুম। ঘুম থেকে উঠেই দিয়ে ফেললাম পেটের যামিন তারপর প্যান্ট শার্ট পরছি। কেমন যেন অস্বস্তি লাগছে কিছুই বুঝতে পারলাম না। দরজার বাইরে পা দেব এমন সময় হাবীবা পেছন থেকে ডাকতে শুরু করল অসি'র হয়ে ঘন নিশ্বাসে ভাইয়া ভাইয়া আমার মেজাজ ওই সময় খিটখিটে হয়ে গেল।

এই তুমি চিল্লাচিল্লি করছ কেন? ও বলল ভাইয়া নাশতা কইরা ফেলছ আর তোমার ব্রাশ কি আমি করব? হাবীবার একটা কথা আমার খিটখিটে মেজাজটাকে হাতে করে পকেটে ঢুকিয়ে দিল। পকেট থেকে আমার রাগান্বিত ভাবটা স্নেহ জড়িত হয়ে বের হলো একটি বিশ টাকার নোট দেখিয়ে তাকে আস্তে আস্তে বললাম। বাইরে মানুষ শুনলে কী বলবে এটা দিয়ে একটা চকবার এনে দেব তোমাকে। ও বলল এখনই এনে দিতে হবে আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে।

তারপর এক দৌড়ে আমার ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে নিয়ে এলো। ব্রাশ করা পর্যন্ততার দৃষ্টি আড়াল হতে দিল না। আমি ব্রাশ করে ফ্রেশ হয়ে দোকানে গিয়ে তাকে নিয়ে দিলাম চকবার, নিস্তার পেলাম ওর হাত থেকে।

এবার হাঁটা দিলাম পৃথিবীতে আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছে। বহুদিন দেখা নেই তার সাথে সেও আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে। সে আমাকে ভালোবাসে আমিও তাকে ভালোবাসি নিজের চেয়ে বেশি। হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম তার নিকট। কৌশল বিনিময়ের পর সে অভিমানে বলল এতদিন বন্ধু কোথায় ছিলে? নিশ্চয় ভালো আমাকে ছেড়ে নতুন বন্ধুদের নিয়ে। ভালো থাকলে এসেছ কেন এখানে আবার? যাও তাদের কাছে? জবাবে আমি বললাম সবই তুমি বলছ আমাকেও বলতে দাও। সত্যিই নতুন বন্ধুদের সাথে খুব ভালো আছি তবে এতটা ভালো না। যতটা ছিলাম তোমার সাথে।

রিক্ত
ফোন : ০১৮১৩-৩২১০১০


যে বসন্তে কোকিল ডাকে না
আজ অনেকদিন পর লিখতে বসেছি। ইদানীং তেমন লেখালেখি হয় না। এক সময় নিয়মিত গল্প লিখতাম। ছাপা হতো বিভিন্ন পত্রিকায়। আজকাল বড় ক্লান্তি নামে অনুভূতির সমস্ত আঙিনায়। সবকিছু কেমন যেন অর্থহীন মনে হয়।

মাঝে মাঝে অনেকের কাছেই লিখতে বসি। চিঠির আদলে জীবনের কিছু কথামালা। কিন' লেখার পর মনে হয় এগুলো সস্তা অনুভূতি। বাস-বে হয়তো এসবের তেমন কোনো প্রয়োজন নেই। তখন তা ছিড়ে ফেলি। অথবা রেখে দিই পরবর্তী সময়ে নিজেই পড়ার জন্য। কখনো কখনো মনে হয় না হয় নিজের কাছেই লিখি। এতে করে তো আর অন্যের কাছে লজ্জায়, পড়তে হবে না। কিন্তু লেখা শেষ করে নিজের ঠিকানায় পোস্ট করতে কেমন বোকা বোকা লাগে।

আজকের দিনটা বড় খারাপ কেটেছে আমার। তাই ভালো কাউকে স্মরণ করে মনটাকে উৎফুল্ল করতে চাচ্ছি। এখনকার অনুভূতি মনে হচ্ছে চেষ্টা বিফলে যাচ্ছে না। ভাবনার সমুদ্রে ডুব দিয়ে একা একা বসে থেকে অনেক পেছনে চলে গিয়েছিলাম এবং নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছিল। এখন নিজেকে প্রাণবন' লাগছে। জানি না এ অনুভূতি কতক্ষণ থাকবে। সংসার বড় বিচিত্র। এখানে একজনকে লাথি মেরে আরেকজন বড় হতে চায়। দুঃখটাই মনে হয় ভালো। কারণ দুঃখ-কষ্ট যদি না থাকত তাহলে সুখের তীব্র অনুভূতিগুলো মানুষ বুঝে উঠতে পারত না।

মনের পিঞ্জরে এখন ভালোবাসার দুঃখময় স্মৃতি জেগে উঠেছে। অনেকের কথা মনে পড়ছে। সব মুখকে আড়াল করে যে মুখটি উজ্জ্বল হয়ে উঠল সে সুইট। সে আমার কেউ না। কিন্তু সে আমার কে না হতে পারত! বড় মধুর ছিল আমাদের ভালোবাসাবাসি। সুইট দক্ষ অভিনেত্রীর ভূমিকায় আমার সাথে অভিনয় করেছে। তার অভিনয়ে আমি মুগ্ধ ও বিস্মিত হয়েছি। এখন হয়েছি স্ট্যাচু। এত সুন্দর, এত গভীর সম্পর্কেরও ছেদ হয়? এখন সে যাকে ভালোবাসে সেখানেও কি স্বপ্নভাঙার একটি গল্প তৈরি হবে? কি জানি, হতেও পারে। মাঝে মাঝে মনে হয় এক জীবনে কতভাবে অপেক্ষা করে মানুষ! সময়ের অপেক্ষায় মানুষ কীভাবে দিন গোনে। কীভাবে অপেক্ষমান সময় বদলে যায়। প্রশ্ন জাগে, মেলে না উত্তর। তবু সে ভালো থাকুক। সুখময় সুন্দর জীবন হোক তার প্রতিদিন। পরম করুণময় তাকে স্নিগ্ধ সৌরভে ভরিয়ে রাখুক সারাজীবন...

হিমেল
পান্থপথ, ঢাকা
০১৭১৭-৭২৫৮৬১


কেন ইভটিজিং?
সর্ব প্রথম মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে তিনি অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ স্যারকে এ রকম একটা মান সম্মত পত্রিকা প্রকাশ করার ক্ষমতা দিয়েছেন এবং আমাকে পত্রিকাটিতে লেখার সুযোগ দিয়েছেন। বর্তমান বাংলাদেশের সব থেকে আলোচিত বিষয় হচ্ছে ইভটিজিং। কিন্তু কেন মেয়েরা ইভটিজিংয়ের শিকার হয় সেটা কি আমরা কখনো খোঁজ নিয়েছি? আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি কীভাবে সমাজ থেকে ইভটিজিং দূর করতে পারি? দোকান খোলা থাকলে ক্রেতা আসবেই, মিষ্টি দেখলে পিঁপড়া যাবে, টক দেখলে প্রতিটা মানুষের খেতে ইচ্ছা করবে এটা কি স্বাভাবিক ব্যাপার নয়? আমরা যদি দোকান বন্ধ রাখি তাহলে কি ক্রেতা আসবে? যদি মিষ্টি ঢেকে রাখি পিঁপড়া কি খেতে পারবে মিষ্টি? টক না দেখলে কেউ কি খেতে চাইবে? আমার এই প্রশ্ন বিশ্বের প্রতিটা বিবেক সম্পন্ন মানুষের কাছে। সৃষ্টিকর্তা নর এবং নারীকে সৃষ্টি করেছেন চুম্বকের দুইটা মেরুর মতো। মেয়েদের পুরো শরীরটা যে ছেলেদের কাছে চুম্বকের মতো আকর্ষণীয়। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। মেয়েদের শরীরের সব থেকে আকর্ষণীয় অঙ্গ হলো তাদের ‘স্তন’। কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমানে ৯৬% মেয়েরা তাদের বুকের ওড়না গলায় পেচিয়ে বুক টানটান করে পথঘাটে চলাফেরা করে। অথচ ওড়নাটা কিন্তু বুক ঢেকে রাখার জন্য। আর কিছু মেয়েরা নাভি বের করে পাতলা জর্জেট বা সিল্কের শাড়ির সঙ্গে পিঠে ৩ ইঞ্চি ঘের দেয়া ব্লাউজ পরে বুক টানটান করে কোমর দোলাতে দোলাতে বাইরে চলাফেরা করেন। এই অবস্থা দেখলে ৬০ বছরের বুড়ো হাবড়ারও যৌবনে ধাক্কা দেবে। মন চাইবে...। যেন এটা উত্তপ্ত মরুভূমির দেশ। তাই মেয়েরা তাদের শরীর কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে বিরক্তিবোধ করে। আসলে আপুরা কিসের জন্য শরীরটা খোলামেলা রাখেন? পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই কি? শ্রদ্ধেয় মা-বোনেরা একবারও কি ভেবে দেখেছেন আপনাদের শরীরটা খোলামেলা দেখার অধিকার একমাত্র আপনার স্বামীর, পর পুরুষের নয়। একটু চিন্তা করে দেখুন আপনারা খোলামেলা পোশাকে দেহটা যেভাবে অন্যকে দেখাচ্ছেন এতে আপনাদের মূল্য নৈতিক দিক থেকে কতটা মূল্যহীন হয়ে পড়ছে। আমি জানতাম ইজ্জতই নাকি মেয়েদের অমূল্য সম্পদ যা হারালে আর পাওয়া যায় না। আজ সেই অমূল্য সম্পদও অন্য দ্রব্যের মতো অন্যকে দেখাচ্ছেন। আপনাদের কি একটুও লজ্জা করে না এরকম চলতে? আপনারা না আমাদের মায়ের জাতি। একটু ভাবুন তো! আপনাদের কারণে আজ ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ। গোটা দেশ, সমগ্র জাতি। যাদের মধ্যে রয়েছে আপনাদেরই বাবা, ভাই এবং বন্ধু। ঘটছে অসংখ্য বিবাহ বিচ্ছেদ। যে মেয়েটি স্বামীর আদর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সে হতে পারে আপনার বা আমার বোন। শুধুমাত্র আপনাদের এই খোলামেলা দেহের জন্য। সমগ্র পুরুষ জাতীর প্রতি আমার অনুরোধ মেয়েদের সম্মান করে চলুন। আমাদের মনে রাখা উচিত আমরা যে মায়ের পেট থেকে ভুমিষ্ট হয়েছি সেও কিন্তু মেয়ে জাতি। অন্য মেয়েকে অসম্মান করা মানে নিজের মা-বোনকে অসম্মান করা। আমাদের মনে রাখা উচিত যে আমাদের মা -বোনরাও রাস্তায় চলাফেরা করে। স্কুল, কলেজে পড়ালেখা করে। মেয়েদের আমি অনুরোধ করছি প্লিজ আপনারা মানসম্মত পোশাক পরে চলাফেরা করুন। তাহলেই প্রকৃত সম্মান পাবেন। কোনো জায়গায় লাঞ্ছিত হবেন না। আমাদের সরকার বা কোনো আইন রক্ষকের একার পক্ষে ইভটিজিং দূর করা সম্ভব না। এজন্য প্রয়োজন প্রতিটা বাবা-মায়ের সচেতনতা। প্রতিটা বাবা-মায়ের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা সন্তানদের পোশাক পরিচ্ছেদ, চালচলন আচার-ব্যবহারের প্রতি খেয়াল রাখুন। আসুন আমরা ছেলেমেয়ে সবাই মিলে সমাজ থেকে ইভটিজিং নামক ভাইরাসকে চিরতরে দূর করি। আমরা সবাই একত্রে তৈরি করি আমাদের বসবাসের উপযোগী একটা সুষ্ঠ সমাজ ব্যবস্থা।

মো. হুমায়ুন কবির
ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর
ফোন : ০১১৯১-৮১৩৬৩২


এসো হাত ধরো
আকাশে আজ জোছনার লুকোচুরি। জোছনার আলোয় ভাসছে সারা পৃথিবী। সাথে ভাসছি আমি, আবার যেন বারবার ডুবে যাচ্ছি জোছনার মাতাল স্রোতে। দখিনা বাতাস এসে উড়িয়ে দিচ্ছে আমার শাড়ির আঁচল। আমি আজ সাদা শাড়ি অঙ্গে জড়িয়েছি জোছনা দেখব বলে, নিজেকে জোছনার জলে ম্লান করব বলে। জোছনার রঙ আর সাদা শাড়িতে আমাকে কি দেখতে পরীর মতো লাগছে!

আমি মাতাল অনুভবে তাকাই জোছনাস্নাত প্রকৃতির দিকে। এ যেন আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে, ‘কাছে এসো...। আমি ছুটে যাই জোছনা মাখা প্রকৃতির নিবিড় আলিঙ্গনে। স্বপ্নের আবেশ এসে জড়িয়ে রাখে আমাকে। এতসব ভালোলাগার ভেতরেও আমার মন কেমন হু হু করে ওঠে। বুঝতে পারি নির্বাসিত এই মনটা আমার কারও অংশীদারিত্ব চায়। পেতে চায় প্রিয় কোনো মানুষের স্বপ্নছোঁয়া। আর তাইতো আমি অপেক্ষায় থাকি অনন- প্রহর। ভাবি হঠাৎ একদিন আমার সেই রাজকুমার এসে আমার হাত ধরবে। সেদিনও এমনি জোছনা থাকবে আকাশে। আমরা বসে থাকব মুখোমুখি অনন্তকাল। মেতে থাকব ভালোবাসার কতকথায়। আমি তার বুকে মাথা রেখে গেয়ে উঠব প্রিয় কোনো গান...

‘আমরা দুজনে ভেসে এসেছি যুগল প্রেমের স্রোতে অনাদিকালের হৃদয় উৎস হতে’। বলবে এসো প্রিয়া হাত ধরো। আমার হৃদয় রাজধানীতে করে নাও ঠাঁই তোমার। আর আমি? প্রিয় সেই দিনটির জন্য হৃদয়ে পেতেছি আসন। সে আসবে বলে, ভালোবাসবে বলে...।

জেনি
সিলেট সদর সিটি
ফোন : ০১৭৪৩-০৭৭৪৮