মানসিক রোগ শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা ও জনসচেতনতায় পথিকৃৎ
পূর্ব প্রকাশের পর
এছাড়া চিকিৎসালয়ের সংক্ষিপ্ত জীবনীর অংশগুলো একত্রিত করা যেতে পারে সব ধরনের অজাচারাক্রান্ত রোগীর উপাত্তগুলো সংগ্রহের মাধ্যমে। নারীরা পুরুষের চেয়ে ৬টি কারণের জন্য বেশি ঝুঁকির মধ্যে ছিল। বয়োসন্ধিকালের সময় নারীরা প্রায়ই ঘর থেকে পালিয়ে যেত, পানাসক্ত হয়ে পড়ত, নিজেদের হাত কেটে অথবা পুড়িয়ে ক্ষতবিক্ষত করত, যৌনতার দিক দিয়ে বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত অথবা কঠিনভাবে বিষণ্ন হতো, আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে উঠত। অনেকে আত্মহত্যার ভান করত। অন্যরা সত্য সত্যই আত্মহত্যার চেষ্টা করে খুব কমই বেঁচে যেত। অজাচার দ্বারা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দৈহিক ও মানসিক কষ্ট ছিল সাধারণ। Vander Kolk দেখিয়েছিলেন কত তাড়াতাড়ি এই নারীরা পিটিএসডির বিশেষ আলামত প্রদর্শন করত। যেমন একজন লোকের সাথে বন্ধুত্ব করত যেখানে আবার তারা আক্রান্ত হতো সেই পুরুষের দ্বারা। যারা তাকে গালাগাল দিয়ে অপব্যবহার করত প্রতিহিংসাপরায়ণতার সাথে এবং তাকে আবার রোগাক্রান্ত করে ফেলত। তাদের যৌনসঙ্গীদের কাছ থেকে চরম হিংসাত্মক ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে তারা ভগ্নমনস্ক হয়ে পড়ত এবং মানুষজাতির প্রতি সমস্ত বিশ্বাস হারিয়ে ফেলত।
রোগশয্যায় এই লক্ষণ প্রদর্শনকারী সব নারীই অজাচারাক্রান্ত ভিকটিম ছিল না এবং প্রত্যেকটি অজাচারী রোগীই এসব অস্বাভাবিক আচরণ করত না। কিন্তু এসব রোগ লক্ষণ চিকিৎসকদের এতটুকু সতর্ক করতে পারে যে যৌন নিপীড়ন ইতিহাসের অন্তরালের একটি অংশ হতে পারে বা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদি সচেতনতার সাথে প্রশ্ন করে রোগীদের কাছ থেকে এর সত্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয় তবে যথাযথ থেরাপির ব্যবস্থা কার্যকরী করা যেতে পারে।
মনোরোগ চিকিৎসার মূল্যায়ন
মনোরোগ চিকিৎসার ঈপ্সিত ফলদানের ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক বিগত ১৫ বছর ধরে চলে এসেছে। মনোরোগ সমীক্ষক ও মনস্তাত্ত্বিক ওষুধের ক্রিয়ার ওপরে গবেষকগণ অনেক সময় অস্ত্রযুদ্ধের দুটো শিবিরে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে, প্রত্যেকেই অন্য দলের পদ্ধতির ঈপ্সিত ফল লাভ সম্বন্ধে অসত্য প্রচারে লিপ্ত হয়েছে। আলাপ-আলোচনা প্রায়ই নেমে আসত রুক্ষ্ম ব্যবহারে। যখন অন্যভাবে আশীর্বাদপুষ্ট মনোরোগ সমীক্ষক Hans Eysenck ফ্রয়েডের মনোসমীক্ষণের রাজ্যে অলেখ্য ভাষায় মিথ্যা দুর্নাম রটনা করেছিলেন।
Smith, Glass Ges এবং Miller যারা নেতিবাচক চিন্তা করতেন, তাদের ধারণাকে যুক্তি দ্বারা খণ্ডন করেছিলেন। থেরাপি প্রায়ই কার্যকরী হয়। তার বেশির ভাগই নির্ভর করে রোগীর প্রকৃতির অবস্থার ওপর এবং থেরাপিস্টের আন্তরিক সহমর্মিতার ওপর, উষ্ণ আবেগের ওপর এবং ব্যাখ্যাকৃত যুক্তির একটা অখন্ড দৃঢ়তার ওপর।
শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক-এর মধ্যস্থিত ভারসাম্যের বিষয়ে মানসিক রোগ চিকিৎসার দিকে যে অগ্রসরমানতার কথা আসে তাতে সাধারণত আমেরিকাতে একটা লক্ষ করার মতো প্রকৃতি বদল হয়েছে বিগত প্রজন্মের সময়ে। যার পেছনে বিভাগীয় প্রধানদের পেছনের শিক্ষা সংস্কৃতি গলায় ঘণ্টা বাঁধা মেষের মতো কাজ করতে পারে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর থেকে ১৯৮০-দশক পর্যন্ত প্রায় সব বিভাগীয় প্রধানের মনোসমীক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা প্রাথমিকভাবে নিউরো বৈজ্ঞানিক অথবা সাইকোজেনেটিক অথবা যে সকল সমীক্ষকের মনোযোগ একত্রিত হয়েছে বা প্রতিফলিত হয়েছে সমীক্ষণের বাইরের বিষয়ের ওপরে।
হাসপাতালে মনোরোগ চিকিৎসা
স্বল্প সময়ে হাসপাতালে অবস্থান এবং বেশির ভাগ বিকল্প অনুক্রম চালু করার জন্য আন্দোলন করেন।
১৯৭০ দশকের শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ একথার স্বীকৃতি দিয়েছিলেন যে, বিশ্লেষণমূলকভাবে উদ্ভুত সাইকোথেরাপি, মনোসমীক্ষণ বা মনোরোগের চিকিৎসায় সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের জন্য কিছুই করার ছিল না, বিশেষ করে ওইসব রোগীর ক্ষেত্রে যাদের কেস অনেকটা ক্রনিক আকার ধারণ করেছিল। যদিও সমীক্ষক সস্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা আমৃত্যু সংগ্রাম চালু রাখা হয়েছে মনোসমীক্ষণের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। তাদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে এবং প্রমাণাদি তাদের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে। কতগুলো সাক্ষ্য এনে দেয়া হয়েছিল, যারা সিজোফ্রেনিয়া রোগ নিয়ে গবেষণায় তাদের বিশ্লেষণমূলক থেরাপি দ্বারা অথবা সাপোর্টিভ টেকনিক দ্বারা চিকিৎসা করে দেখতে পেয়েছেন যে প্রথমটির দল পরের দলের চেয়ে বেশি ভালো ফল লাভ করেনি। সাপোর্টিভ থেরাপি পছন্দনীয় থেরাপি হয়ে উঠেছিল এবং তার মধ্যে এসব পদ্ধতি যোগ করা হয়েছিল পুনঃনিশ্চয়তা ও পুনঃশিক্ষার জন্য। বিশেষ ধরনের সমীক্ষকগণ বিশেষ করে Ottokern Berg বহু বছর বৈদ্যুতিক চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে এসেছেন।
নতুন চিকিৎসা দর্শন
১৯৮০-র দশকের শেষের দিকে অসংখ্য দীর্ঘস্থায়ী ফলোআপ স্টাডিজ নেয়া হয়েছিল হাসপাতালে ভর্তি সিজোফ্রেনিয়ার রোগীদের ওপর। এ সম্বন্ধে বেশির ভাগ রোগীই তাদের ৪০ ও ৫০ বছর বয়সের সময় গবেষণার শেষের দিকে জীবনের নীরস পথ নির্দেশ করেছিলেন। তাদের সমন্বয়সাধন তখন পর্যন্ত ছিল প্রান্তদেশীয়। বেশির ভাগই আশ্রিত অবস্থায় বসবাস করতেন. তাদের অনেক কম সামাজিক যোগাযোগ ছিল এবং তারা আর্থিক সাহায্যের জন্য আত্মীয়দের অথবা সরকারের ওপর নির্ভরশীল ছিল। পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞগণ, অ্যানালাইটিক আগত চিকিৎসা পদ্ধতি শুরু করে নিজেদের ভারাক্রান্ত করতেন না; তারা তাদের সিজোফ্রেনিয়ার রোগীদের অন্য ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি দ্বারা ভালো করার চেষ্টা করতেন।
সর্বশেষে যখন বাস্তববাদিতার ঢেউ আমেরিকান মানসিক রোগ চিকিৎসক সমপ্রদায়ের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে গেল তখন অসংখ্য মনোচিকিৎসক নতুন চিকিৎসার দর্শনতত্ত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলেন। যেমন- William McFarlane স্বীকার করেছিলেন যে সিজোফ্রেনিয়ার রোগীদের জন্য আরো অনেক ভালো কিছু করা যায় যদি তাদের নিম্নে স্থাপিত অবস্থার উন্নতির চেষ্টা না করে বরং তাদের পরিবারের সদস্যদের তাদের আত্মীয়দের রোগের প্রকৃতি সম্বন্ধে শিক্ষিত করে তোলা যায়। McFarlane-এর পারিবারিক চিকিৎসার বইটি ছিল এই নতুন পদ্ধতির আদর্শস্বরূপ। যাতে জোর দেয়া হয়েছিল পরিবারকে শিক্ষিত করে তোলার বিষয়ে। প্রায়ই রোগীর অনুপস্থিতিতে এটা করা হতো। নিয়মতান্ত্রিক পারিবারিক চিকিৎসার চেয়ে এটা বেশি করা হতো পূর্বে যেখানে রোগীর সামনেই পরিবারের অবস্থার কথা, তাদের দ্বন্দ্বের কথা, গতিময়তার কথা আলোচনা করা হতো।
এখন থেকে ওইসব সিজোফ্রেনিয়া রোগী যাদের পুনর্বাসন করা সম্ভব তাদের পুনর্বাসন করা, প্রতি জোর দেয়া হচ্ছিল এবং যারা বৃদ্ধ বয়স ও অসুস্থতার বেশি প্রকোপের জন্য পুনর্বাসনের উপযুক্ত বিবেচনা হতো না তাদের জন্য আশ্রয়স্থান তৈরি করার পর সম্মানজনক বসবাসের ব্যবস্থা করা হতে লাগল। এসব পরিবর্তন আমেরিকার কঠিনভাবে আক্রান্ত মানসিক রোগীদের জন্য একটি চলমান পুনর্বাসন চাকার পুনরাবিষ্কার করা হলো, যা আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ল সারা পৃথিবীতে পুনর্বাসন কেন্দ্র ও সেবাশ্রম হিসেবে। যেমন- Luc Coimpi in Bern সুইজারল্যান্ডে বছরের পর বছর সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের জন্য একটি প্রোগ্রাম করে এসেছিল যার মধ্যে পেশাগত প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল শহরের বিশেষজ্ঞ কারিগর দ্বারা। রোগীদের সংসারের প্রয়োজনীয় এবং বাজারে বিক্রয়যোগ্য জিনিস তৈরির শিল্প নৈপুণ্য বিশেষ ধরনের কর্মশালার শিক্ষা দেয়া হতো এবং তাদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের ভার নিজেরা বহন করার সামর্থ্য অর্জন করেছিল। তারা কাজের বিনিময়ে ভালো বেতন পেত। যার কারণে তারা সাধারণ মানুষের সমপ্রদায়ের সাথে মিশে যেতে পেরেছিল। যেসব রোগীকে এসব পুনর্বাসনের ব্যবস্থার মধ্যে আনা সম্ভব হতো না তাদের জন্য ব্যবস্থা হতো সরকারি হাসপাতালে।
ইতিমধ্যে আমেরিকাতে সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ আরো সুদৃঢ় ও আরো সুনিপুণ হয়ে উঠেছে। রোগীদের সামাজিক দুর্বলতার প্রতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ অত্যন্ত মানবিক দায়বদ্ধতা নিয়ে যে দায়িত্ব পালন করছেন তার জন্য তারা স্মরণীয় হয়ে আছেন। দ্বিতীয় সুদক্ষ প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের ব্যবস্থা করেছেন Liberman তাতে সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের মননশীলতার সাথে শিক্ষা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সামাজিক শিষ্টাচার ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যাপারগুলো কীভাবে বিশেষ সমস্যার অবস্থাকে সামলানো যায় নিত্যনৈমিত্তিক জীবনে কার্যকরভাবে। কাজের জন্য সাক্ষাৎকারের সময় ভালো পোশাক পরে কীভাবে উপস্থিত হতে হয় ইত্যাদি। এসবই করা হয় তাদের পরনির্ভরশীলতাকে কম করার জন্য জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে। যার ফলে প্রায়ই দেখা যায় তারা কাজের জায়গায় সামাজিক বন্ধনে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে। এই উন্নতির সাথে সমান্তরাল করতে গিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের অবস্থানের সময় কম করে দেয়ার প্রয়াস চালানো হচ্ছে এবং তার সাথে সাথে বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মোটিভেট করে তাদের জন্য আশ্রয়ের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। দিনের বেলা পরিচালিত হাসপাতালগুলোর ব্যবহারও ছিল অনেক বেশি। দলবদ্ধভাবে চিকিৎসা করার জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল, স্টাফদের দ্বারা সামাজিক দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হতো, হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়ে পুনর্বাসন করা হতো এবং সাধারণত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শ্রান্তি-বিনোদনমূলক কাজ-কর্মের ব্যবস্থা করা হতো। Marvin Herz এই ব্যবস্থার ঘোর সমর্থক ছিলেন-সংক্ষিপ্ত হাসপাতালে অবস্থানের সাথে জড়িত থাকত দেয়ালের বহিঃস্থ প্রোগ্রামসমূহ। যার দ্বারা সবচেয়ে বেশি সংখ্যার সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের সমপ্রদায়ের মধ্যে পুনর্বাসন করা সম্ভব হতো। ১৯৮০-র দশক থেকে একই ধরনের একটি কর্মধারা শুরু হয়েছে কোপেনহ্যাগেনে। সেখানে সিজোফ্রেনিয়ার নবযৌবনপ্রাপ্ত রোগীদের পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ ধরনের পরিচর্যা ও যত্ন নেয়া হয়। এই অনুষ্ঠানের মধ্যে যখন রোগীরা ক্রমশ স্বাস্থ্য লাভ করতে থাকে তখন তারা স্থানীয় শহরের স্কুলে পড়াশোনা শুরু করে। যেখানে তারা একটা তদারককৃত অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের মধ্যে উচ্চ বিদ্যালয়ের লেখাপড়ায় মনোযোগ দেয়।
স্থানীয় দক্ষতার প্রশিক্ষণের জন্য সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের ওপর সমসাময়িকভাবে জোর প্রয়োগকে আরো বেশি ধন্যবাদ দিতে হয়। কেননা এই বিষয়টি খুব ভালোভাবে ওষুধের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করে যার কোনো শেষ নেই।
সিজোফ্রেনিয়ার পরিমাণ
নির্দেশক সংস্কারকরণ
আমাদের পরিমাণ নির্দেশক বোধগম্যতার দ্বারা সিজোফ্রেনিয়ার চিকিৎসার আরো উন্নতি সাধন করা হয়েছে ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে। বিভিন্ন গবেষণায় রোগীদের অনেক বেশি অনুকূল জীবনযাত্রাকে বহু সংখ্যক গ্রামীণ গবেষণার ফলাফলের সাথে তুলনা করা হয়েছিল। তাতে বুঝতে পারা যায় গ্রামীণ কম চাপের জীবনযাত্রার পরিবেশে সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের ওপর একটা রক্ষাপ্রদ ফল পড়ে। অস্ট্রেলিয়াতে একটি গবেষণা হয়েছিল ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে।
তাতে high (EE)-এর সমীকরণকে খুব দুর্বল ফলাফলের সাথে তুলনা করা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার গবেষকগণ প্রত্যক্ষ করেছেন যে high EE ছিল একটি মাতা-পিতার গৃহস্থালির মধ্যে নেতিবাচক ইঙ্গিত প্রদানকারী এবং গরিব হাসপাতাল পরবর্তী চিকিৎসার সর্বোৎকৃষ্ট ভবিষ্যৎবক্তা ছিল হাসপাতাল-পূর্ব দুর্বল চিকিৎসা। এই আবিষ্কারের দ্বারা এটা পাওয়া গেল যে, অনেক ক্ষেত্রে অত্যধিকভাবে এবং জটিলভাবে আক্রান্ত সিজোফ্রেনিয়ার রোগীরা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে high EE পেয়ে থাকবে, বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত এক মা-বাবার দুর্বল সুরক্ষিত বাসস্থান থেকে পেয়ে থাকে মিথস্ক্রিয়ার ফলে। যেহেতু এই শতাব্দীর শেষে অনেক সিজোফ্রেনিয়া রোগীর জীবনের মান বেড়েছে বা বেড়ে চলেছে কেননা বিকল্প ব্যবস্থাসমূহও বাড়ছে। অনেক কম রোগীই এখন ক্রনিক কেয়ার প্রতিষ্ঠানে পড়ে থাকে। এ ধরনের অনেক প্রতিষ্ঠানই চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। দুঃখজনকভাবে হলেও কিছু সংখ্যক রোগী এর মাঝখানে ধরা পড়ে আছে। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে না বাইরে বেরুতে পারছে আর না ততটা অসুস্থ যে নিজেদের চিরস্থায়ী বৃদ্ধ আশ্রয়ে থাকার যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারছে। তারা গৃহহীন হয়ে পড়ে আছে বা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের লিঙ্গের সমানুপাত হারে সমতার ধারণা অনেক বছর ধরে শিক্ষা দেয়া হয়েছে। বিগত প্রজন্মের সময় যাই হোক না কেন এটা ব্যাপকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, পুরুষরা সব ধরনের প্রভাবের প্রতি বেশি সংবেদনশীল এবং নারী সিজোফ্রেনিয়া রোগীর চেয়ে পুরুষ সিজোফ্রেনিয়া রোগী অনেক বেশি।
১৯৬০-এর দশক থেকে শুরু করে ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত এবং ১৯৯০ দশক পর্যন্ত অবৈধ পানীয়ের ব্যাপক অপব্যবহার চলে এসেছিল। যেমন মারিজুয়ানা, কোকেন, এলএসডি, অ্যাম্ফিটামিন এবং এ ধরনের আরো অনেক কিছু। অনেক সময় এসব ড্রাগ মস্তিষ্ক বিকারগ্রস্তের মতো অবস্থার সৃষ্টি করত যাকে সিজোফ্রেনিয়া বলে ভ্রম হতে পারে। যেসব লোকের সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা রয়েছে তাদের প্রতি ঘৃণা বা অবজ্ঞা করলে তাদের মাথার গোলযোগের অবস্থার আরো অবনতি ঘটতে পারে অথবা একজন সুপ্তাবস্থার রোগীকে পূর্ণমাত্রার রোগীতে পরিণত করতে পারে। Linzen এবং তার সহকর্মীরা নেদারল্যান্ডে ইদানীং প্রত্যক্ষ করেছেন যে সবেমাত্র সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত রোগীগণ যারা বেশি করে মারিজুয়ানার অপব্যবহার করেছে তারা হাসপাতালে আসার পূর্বে ও পরে উভয় সময়ই খুব ঘনঘন রোগের পুনরাক্রমণের শিকার হয়েছে। সেই তুলনায় যারা মারিজুয়ানার ব্যবহার থেকে মুক্ত ছিল তাদের সেরূপ আক্রমণ ঘটেনি।
মেজাজের বৈকল্যসমূহ
অত্যধিক লক্ষ করার মতো একটি আধুনিক আবিষ্কার হচ্ছে পুনঃপুনঃ বিষণ্নতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা। তা হচ্ছে প্রাথমিকভাবেই অ্যান্টিডিপ্রেশান্টস ওষুধ দ্বারা চিকিৎসা করা পরবর্তী প্রাসঙ্গিকতার সময়ে। যার দ্বারা এই আক্রমণকে ৪ থেকে ৫ মাস পর্যন্ত কম করা যায়। সমমানের চিন্তাধারায় এখন অনেকেই একমত হয়েছেন যে ধারাবাহিকভাবে অ্যান্টিডিপ্রেশান্টস দ্বারা চিকিৎসা করলে রোগীর এপিসোড অনেকটা কমে আসবে, কম করে হলেও আক্রমণের অবস্থান কমে আসবে এবং ভবিষ্যতের আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে, যা ওষুধ না গ্রহণ করলে হতো না। আগের দিনে একবার ব্যবহার করার পর রোগের প্রকোপ একটু কম হলেই অ্যান্টিডিপ্রেশান্টস বাদ দিয়ে দেয়ার প্রবণতা দেখা দিত।
এখানে আবার কিছু রোগী মাঝপথে ধরা পড়ে গিয়েছিল যদি ওই ড্রাগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অস্বস্তিকর হতো তাহলে অন্য কিছু বিবেচনা না করেই ওষুধ বাদ দেয়া হতো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আশা করা হতো যে রোগের আক্রমণ আর বেশি হবে না। কৌতূহলোদ্দীপভাবে যৌন ক্রিয়া কর্ম প্রায় হয়ে উঠত ঘণ্টা বাঁধা মেষের মতো সর্দার। বিমর্ষতার সময় কামেচ্ছা প্রায়ই কম হয়ে যায়, এটা বিষণ্নতা প্রতিরোধী ওষুধ সেবনে স্বাভাবিক হয়ে আসে। পুনরায় আবার কমে যেতে পারে যৌন প্রতিক্রিয়া কম হয়ে যাবার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে। এটা সাধারণভাবে অ্যান্টিডিপ্রেশান্টস বা বিষণ্নতাহারী ওষুধ সেবনের দ্বারা ২০% রোগীর ক্ষেত্রে অনুভূত হয়। সৌভাগ্যক্রমে কিছু কিছু নতুন যৌগিক পদার্থের এই প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম রয়েছে। বিষণ্নতাগ্রস্ত রোগীদের জন্য সর্বোচ্চ প্রকারের থেরাপি ঠিক করার জন্য নিয়মিত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এটাকে কেন্দ্র করে Irene Elkin এবং তার সহযোগীরা মিলে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব মেন্টাল হেলথ-এ ৪টি চিকিৎসা পরিচালনা দক্ষতার মাধ্যমে একটা গবেষণা শুরু করেন। এতে ভ্রমণশীল বিমর্ষতা বা বিষণ্নতাগ্রস্ত রোগীদের নেয়া হয়েছিল। সাধারণত সাপোর্টিভ থেরাপি হিসেবে ইমিপ্রামিন বা টোফ্রানিল ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যেত। এর সাথে সাথে চলতে থাকত ইন্টারপার্সোনাল অ্যান্ড কগনিটিভ সাইকোথেরাপি। কিন্তু অতি কঠিনভাবে আক্রান্ত বিষণ্নতাগ্রস্ত রোগীদের জন্য ওষুধপত্রের সাথে সাথে সাপোর্টিভ থেরাপি দিলেই ভালো কাজ করত। আরো কিছু কিছু ইন্টারপার্সোনাল থেরাপির কার্যকারিতার প্রমাণ রয়েছে এই দলের মধ্যে। চারটি পদ্ধতির সবকটিই সমভাবে চলত তার মধ্যে ছিল Placcboplus Support. এই গবেষণা অনেক চিকিৎসকের ধারণার সমর্থন দিয়েছিল যে, কম করে হলেও অনেক কম মারাত্মক রোগীদের ক্ষেত্রে ফার্মাকোথেরাপির সাথে সাথে সাইকোথেরাপি ভালো কাজ করত। এটা আরো স্নায়ুবিজ্ঞান অনুযায়ী ওষুধের সাথে মিথস্ক্রিয়ার দ্বারা উন্নতমানের ফলাফল তৈরি করত।
যেসব থেরাপিস্ট বিষণ্নতার রোগীদের জন্য কগনিটিভ থেরাপি ব্যবহার করেন তাদের বিশেষ মধ্যস্থতা করার জন্য একটা সতর্ককারী সংকেত পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। ইদানীং সেগুলোকে বিসতৃত করা হয়েছে। এই পদ্ধতিটি এই ধরনের ও অন্য প্রকারের সাইকোথেরাপির কাগজপত্র তৈরিতে সাহায্য করেছে। এখানে কগনিটিভ অ্যামেপ্রাচ ব্যক্ত পারস্পরিক সমস্যার চেয়ে ব্যক্তি পরস্পরের ওপরে অনেক বেশি জোর দেয়, বেশি লক্ষ্য দেয় ওইসব লোকের প্রতি যারা রোগীকে প্রভাবিত করে। রোগী তার নিজের সমস্যার জন্য নিজে যতটুকু না করে তার চেয়েও বেশি সমস্যা তৈরি দ্বারা এবং আরো বেশি মনোযোগ দেয় যখন তখন তার পিতা-মাতা ও বাল্যের অভিজ্ঞতার চেয়েও বেশি। যেসব রোগ চিকিৎসা করে সারানো যায় না সেই ধরনের ত্বরিত বৃত্তাকার আবর্তনশীল দ্বিমেরু রোগীদের চিকিৎসার জন্য অনেক উন্নতি করা হয়েছিল। এসব রোগীর ওপর লিথিয়াম প্রয়োগ করেও প্রায়ই কোনো প্রতিক্রিয়া হতো না।
একক মানসিক বিকৃতির প্রশ্ন
সিজোঅ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার নিয়ে যে কোনো আলোচনার ফলে একটি প্রশ্নের পুনঃ পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা চলে আসে। সম্পর্কটা কী? যদি মেজর সাইকোসিস এবং ম্যানিক ডিপ্রেশনের মধ্যে কোনো সম্পর্ক থেকে থাকে তা কী? এখানে শর্ত বা অবস্থা কি আলাদা? অথবা সেখানে কোনো মৌলিক যুক্তি ছিল? যাই হোক না কেন Einheit এর ঊনবিংশ শতাব্দীর ধারণার একটি Inilary Psychosis এবং Henning Sass কিছুদিন পূর্বে একটি পুস্তকের সম্পাদনা করেছেন তাতে আমরা এখন যাকে দুটো আলাদা ক্যাটাগরি বলে ধারণা করি তার মধ্যে মিল ও অমিল নিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। চিন্তা এবং মেজাজের মানসিক বিকৃতি এবং তার সহকর্মীবৃন্দ কুইবিকে তর্ক উঠিয়েছেন যে মানসিক বিকৃতির কারণগুলো বিশ্লেষণ করে তিনটি আদর্শ কারণ পাওয়া যায়। নেতিবাচক সিমটম, সাইকোটিসিজম এবং শৃঙ্খলাভঙ্গ। কিন্তু এই তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে একটি হাসপাতালের ছবি শুধু সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের জন্য হয় না। যেভাবে ইদানীং শনাক্ত করা হয়েছে বাইপোলার আক্রান্ত রোগীরাও এই তিন প্রকার উপসর্গ দেখাতে পারে।
বিগত ১৫ বছরে সাইকোফার্মাকোলজির (মনস্তাত্ত্বিক ক্রিয়া এবং মানসিক অবস্থার ওপরে ওষুধের ক্রিয়াবিষয়ক) গবেষণায় মানসিক রোগ চিকিৎসার কাষ্ঠফলকের ব্যাপক সমৃদ্ধি ঘটেছে বেশির ভাগ মানসিক বৈকল্যের ক্ষেত্রে। উদাহরণস্বরূপ এখন নিউরোলেপটিক যা কিছু সিজোফ্রেনিয়া রোগীর ক্ষেত্রে নেতিবাচক সিমটমের উপশম করে এর মধ্যে রয়েছে ওইসব কিছু সংখ্যক রোগী যারা বেশির ভাগ সামাজিক চিকিৎসায় অবাধ্য ছিল। আমরা এখন এমন একটা বিন্দুতে এসে পৌঁছেছি যেখানে বেশির ভাগ সিমটম ডিসঅর্ডারকে সেরে তোলা যেতে পারে একটা বা অন্য ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে। যদিও এখন পর্যন্ত অ্যানোরেক্সিয়া এবং বুলিমিয়া রোগ খুব কমই নতুন ওষুধে উপশম লাভ করছে। এই উন্নতি হওয়া সত্ত্বেও কিছু রোগী অত্যন্ত কঠিন বৈকল্য শুধু ক্রনিক সাইকোসিসকেই ধরা যাক, সম্পূর্ণ লক্ষণহীন এবং সামাজিকভাবে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে মনস্তাত্ত্বিক গবেষণালব্ধ তৈরি ওষুধ ব্যবহারের ফলে। আন্তর্ব্যক্তিক সমস্যাসমূহ, আত্মাভিমানের ঝগড়া, নেতিবাচক মেজাজের নিয়ন্ত্রণ এবং বিশেষ লক্ষণসমূহ প্রায়ই দেখা দেয়।
সাইকোথেরাপিউটিক চিকিৎসার একটা বা অন্য একটা রোগের জন্য প্রায় সব রোগীর ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হবে কি না তার যৌক্তিকতা আইনসম্মত। অর্থের কারণে এই মূল্যবান চিকিৎসাটা অনেকের কাছেই পৌঁছায় না এবং যাদের কাছে পৌঁছায় তাদের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশসমূহে যেখানে মানুষের সতর্কতা এবং সাইকোথেরাপি গ্রহণের ইচ্ছা দুটোই প্রবল। চাহিদা এবং সরবরাহ দুটোই সমতায় রয়েছে চীনের মতো দেশে, যেখানে খুব বেশি সাইকোথেরাপিস্ট নেই। তথাপি সেখানে বিশেষ ধরনের রোগীরা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলার চেয়ে ওষুধ ও চিকিৎসা পাওয়ার জন্য অনেক বেশি আগ্রহী।
ব্যক্তিত্বের গোলযোগ : দ্রুতবর্ধনশীল শিল্প হিসেবে ব্যক্তিত্ব নিয়ে গবেষণা
Theophratus-এর চারিত্রবিজ্ঞান প্রাচীন গ্রিকদের মন-মেজাজ এবং আমাদের সময়ের ব্যক্তিত্বের রোগের শ্রেণীবিভাগের সাথে একটা দীর্ঘসূত্রী সম্পর্ক আছে। এই বিষয়টিকে দেখা হয়েছিল বেশির ভাগ বৃত্তের বাইরে থেকে, যতক্ষণ পর্যন্ত না ব্যক্তিত্বের গোলযোগকে আলাদা করে PSM III of 1980-এর ভিন্ন মেরুরেখায় শনাক্ত করা হয়েছিল। মনোরোগ চিকিৎসার এই অঞ্চলে মনোযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, আদর্শসূচক হিসেবে বিগত ১৫ বছর ধরে। অবশ্যই মনস্তত্ত্ববিধগণ যাদের ব্যক্তিত্বের আদর্শ ও বিপথগমন সম্বন্ধে সংস্রব ছিল এবং যেসব মনোরোগ চিকিৎসকের পূর্বে মনোরোগ সম্বন্ধে প্রত্যক্ষ করার অভ্যাস ছিল, অভ্যাস ছিল অন্যান্য জটিল সমস্যা দেখার। তারা এখন আদান-প্রদান করছে একটা অভূতপূর্ব পরিমাপে।
ব্যক্তিত্বের গোলযোগ সম্বন্ধনীয় জার্নালের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে এবং ডিসঅর্ডার পার্সোনালিটির প্রথম আন্তর্জাতিক কংগ্রেস কোপেনহ্যাগেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে গবেষকগণ ব্যক্তিত্বের সম্ভাব্য শারীরিক/জাতিগত underpinning গুলোকে বের করার জন্য আন্তরিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।
রোগের শ্রেণীবিভাগের পরিবর্তন
১৯৮৮ সালের সম্মেলনে বহু বক্তা যুক্তি দেখিয়েছেন যে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক পদ্ধতি থেকে অন্য পদ্ধতিতে পরিবর্তন করার প্রয়োজন আছে। যাতে রোগ শনাক্তকরণের জন্য রয়েছে অনেক বেশি পরিমাণের সহজ পথ। Juan Mezzich পরামর্শ দিয়েছেন যে, ICD (International Classification of Diseases) কর্তৃক ব্যবহৃত পার্সোনালিটিকে লম্বীয় মেরুদণ্ড হিসেবে কল্পনা করা যেতে পারে। এটা শনাক্তকারীদিগকে প্রত্যেকটি কাঠির উচ্চতা চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে-উপযুক্ততা অনুযায়ী এই ধরনের বা ওই ধরনের স্তরের পার্সোনালিটি টাইপ নির্ণয় করার ক্ষেত্রে। এই ধরনের একটি অনুশীলন একটা সংক্ষিপ্ত জীবন কথা দেবে। যা আরো সূক্ষ্মভাবে একজনের সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলবে বা প্রতিফলিত করবে, যা একটা বা দুটো উল্লেখ করা উপযুক্ত ক্যাটাগরিতে করতে পারত না।
মানসিক রোগ চিকিৎসায় সব মিলিয়ে এই ধরনের পদ্ধতির পরিবর্তন গ্রহণ করতে অনেক দেরি হয়েছে। তার আংশিক কারণ হচ্ছে পরিমাণগত গমন। যখন আরো সঠিক হচ্ছে আরো জটিল। তার আংশিক কারণ হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকরী শৃঙ্খলাযুক্ত আন্তর্জাতিক মানের পরিমাপের বিকাশ ঘটানো খুব সহজ কাজ নয়। এটা আরো অসম্ভবের কাছাকাছি যে, এমন একটা পরিমাপ সৃষ্টি করা অসম্ভব যা অন্য জিনিসের প্রান্ত দেশের ওপর চেপে থাকে না। সব ধরনের মানসিক রোগীই উদাহরণস্বরূপ হচ্ছে অজাচারী। তা হোক এক ডিগ্রিতে বা অন্য ডিগ্রিতে। যত দিন পর্যন্ত এই ক্ষেত্রে অজাচারকে অসামাজিকতাকে মনোরোগকে আচার-আচরণের প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয় তত দিন পর্যন্ত ধারণার নির্ধারিত পরিমাণ ওভারল্যাপিংকে অবশ্যই বরদাশত করতে হবে।
১৯৮০ সাল থেকে DSM-এর তিনটি সংস্করণের লক্ষ্য ছিল এর সম্ভাব্য ব্যাপকতম ব্যবহার লাভ করা। চিরস্থায়ীভাবে না করতে পারলেও পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার অংশ হিসেবে প্রত্যেকটি সংস্করণকে বহু ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। যে কেউ এটা বলতে পারে যে রোগ শনাক্ত করার কাজটি হচ্ছে যুগ নির্ভরশীল। জার্মানিতে হিটলারের সময়ে পুরুষ মানুষের জন্য শীতল হওয়া, নিষ্ঠুর হওয়া এবং প্রভুত্ব বিস্তারকারী হওয়া ছিল খুব সাধারণ ঘটনা এবং নারীদের জন্য খুব স্বাভাবিক ছিল বাধ্যগতা হয়ে কাজ করা ও সন্তান দান করা। রাজানুগত্য এবং বাধ্যতাকে নৈতিক মূলনীতি হিসেবে মূল্য দেয়া হতো। এই বিপর্যস্ত পৃথিবীতে মনের যে কোনো রোগ ছিল অতি সাধারণ এবং সাধারণ মানবিকতা ছিল দুর্বল। এক সময়ে হাজার বছরের জার্মান রাষ্ট্রের ১২ বছর, অনেক করুণার সাথে শেষ হয়েছিল। তাদের ব্যক্তিত্ব কমে গিয়ে মামুলি সামাজিক নৈতিকতায় পর্যবসিত হয়েছিল এবং লিঙ্গের ভূমিকা তখন আর সুরভিত ছাঁচে ঢালা অপরিবর্তনীয় ছিল না।
ব্যক্তিত্বের গোলযোগের মহামারী বিদ্যা
বিভিন্ন দেশে ব্যক্তিত্বের বৈকল্যের উপস্থিতি ও পতনের কথা প্রসঙ্গে অনেক লেখক, গবেষক তাদের মহামারী রোগ গবেষণায় DSM III ব্যবহার করে প্রতিবেদন দিয়েছেন। এর দ্বারা তৈরি ব্যক্তিত্ব নিরূপণী তালিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং ইংল্যান্ডে মস্তিষ্ক বিকৃতিমূলক ব্যক্তিত্ব অনেক কম। সুইডেন ও ডেনমার্কে আরো কম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্ডার লাইন পার্সোনালিটি রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি সাধারণ, জাপানের চেয়ে বেশি। যাই হোক যেভাবে সার্ভে করা হয়েছে তাতে সংখ্যাগুলো গণনা করা হয়েছে তাদের আদর্শ হিসেসে। মানসিকভাবে বিকৃত লোকদের কঠিনভাবে ব্যাখ্যা করলে দেখা যায় তারা খুব কমই মানসিক রোগ চিকিৎসার সাহায্য চায়। যাতে তাদের সংখ্যা কম প্রতীয়মান হয় হাসপাতাল বেজড গবেষণায় সম্পূর্ণ শহরের গৃহ থেকে গৃহে পরীক্ষা করার তুলনায়। DSM-এর সংজ্ঞায় বর্ডার লাইন হচ্ছে অনেক বেশি ব্যবহার-আচরণের সাথে সম্পৃক্ত, পুরনো মনোসমীক্ষণের সংজ্ঞার তুলনায়ও অনেক বেশি এবং আরো সূক্ষ্মভাবে অনেক রোগীর মধ্যে ফুটে ওঠে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তার বিপরীতে জাপানে এবং সৌদি আরবে অনেক কম রোগী আছে যাদের আচার-আচরণ অনেকটা তাদের মতোই আবেগপ্রবণ। যেমন দেখা যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অথবা অস্ট্রেলিয়ায় DSM III বর্ডার লাইন রোগীদের মধ্যে। DSM বেজড পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের বিভাজন এক দেশ থেকে অন্য দেশে আলাদা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এতটা চিহ্নিত যে বিদেশী পদ্ধতিটা যতই ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হোক না কেন তাতে কোনো ফল লাভ হয় না যেমন তাদের দেশীয় উদ্ভাবিত নিয়মে চিকিৎসার জন্য ডাক পাড়তে হয়।
ব্যক্তিত্ব নিরূপণকারী যন্ত্রপাতি
বিগত ১৫ বছর ধরে মানুষের স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক অবস্থায় ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা করার জন্য শনাক্তকারী যন্ত্রপাতির উৎপাদনশীলতা ভয়ানকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। Clominger, Przybeck এবং Svrakie আবিষ্কার করেন ‘ত্রিআয়তনিক’ বা ব্যক্তিত্ব নিরূপণকারী প্রশ্নমালা (TPQ)। এটা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে তাতে তিনটি স্নায়বিক প্রেরণযন্ত্র লাগানো রয়েছে, যা ব্যক্তিত্বকে প্রভাবিত করে। যন্ত্রটিকে ইদানীং জাপানি ভাষায় অনূদিত করা হয়েছে এবং সেই জনসংখ্যার মধ্যেও নির্ভরযোগ্য প্রমাণিত হয়েছে।
Armand Loranger এবং তার সহকর্মীবৃন্দ ইত্যবসরে তাদের ব্যক্তিত্বের গোলযোগ পরীক্ষার ওপরে কাজ করেছেন তাকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রয়োগ করার জন্য। অধুনা এক গবেষণায় এই যন্ত্রটির উপকারিতার বিষয়ে উত্তর আমেরিকার ১১টি রাষ্ট্রে প্রদর্শন করেছেন এভাবে আরো প্রদর্শন করেছেন ইউরোপ, আফ্রিকায় ও এশিয়ায়। যন্ত্রটি একসাথে DSM এবং ICD ব্যক্তিত্বের গোলযোগের সঙ্গে তাল রেখে কাজ করতে পারে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে। যেখানে অসামাজিকতার উপস্থিতি নেই সেখানে ছাড়া দুটি সিস্টেমের মধ্যে PDE বেশির ভাগ ট্র্যাডিশনাল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে সংকেতের সৃষ্টি করে। এখানে DSM জোর দেয় অসামাজিক আচার-আচরণের প্রতি, আর ICD চাপ দেয় বিশেষ লক্ষণের ওপরে। যেমন নিষ্ঠুরতার জন্য অনুশোচনাহীনতা এবং অন্যের মনোভাবের প্রতি কম অনুভূতিশীল হওয়া।
ব্যক্তিত্বের গোলযোগের বিষয়ে একটি সার্বজনীন শনাক্তকারী যন্ত্র তৈরি করার ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হচ্ছে সাংকেতিক পার্থক্যের জটিলতাসমূহ। সম্ভবত এটা সত্য যে, শনাক্তকারীরা যে কোনো সাংস্কৃতিক পটভূমি থেকে এসে থাকুন না কেন তারা সঠিকভাবে অন্য সমাজের চূড়ান্ত অবক্ষয়কে শনাক্ত করতে পারেন। এসব রোগী শনাক্ত করা অতি সহজ-তাতে তারা যেকোনো দেশের অধিবাসী হোক না কেন। শুধু সূক্ষ্মতম কেসসমূহ যেখানে অস্বাভাবিকতা অনেকটা কম এবং তা ক্ষয়ে গিয়ে এতটা সাধারণ মানুষের চারিত্রিক অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে যে সেখানে সাংস্কৃতিক পার্থক্যগুলো একটা বিরাট ভূমিকা পালন করে। অন্যরা জীবাণুর শ্রেণী বিশ্লেষণের উন্নতি সাধন করার চেষ্টা করেছেন, DSM-এর মতো ক্লিনিক্যাল পদ্ধতিতে নয় বরং কারণগুলোর বিশেষ লক্ষণের তালিকা অথবা এই তালিকার দ্বারা যেসব কারণ উঠে আসে তার দ্বারা। এসব ট্যাক্সোনমিতে সাধারণত দেখা হতো সাধারণ ব্যক্তিত্বের যাদের মধ্যে কতটা অস্বাভাবিকতা দাবি করত, যাকে যোগ করা হতো অপ্রধান বা দ্বিতীয় পর্যায় হিসেবে। Buss এবং Finn উদাহরণ একটা পরিকল্পের প্রস্তাব করেছিলেন তিনটি বিকল্প সেটসহ যেভাবে লেখক উল্লেখ করেছেন, কোনো একটা একক শ্রেণী দ্বারা সমস্ত ব্যক্তিত্বের যেভাবে লেখক উল্লেখ করেছেন, কোনো একটা একক শ্রেণী দ্বারা সমস্ত ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, তাদের সিস্টেম হলো ব্যবহারে আছে এমন অন্য সিস্টেমগুলোর সাথে নির্ভরশীল হয়ে কাজ করা। Buss-Finn স্কিমা বা পদ্ধতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্গের পার্থক্য লক্ষ করা হয়েছে। যেমন-পুরুষ মানুষরা প্রত্যেকটি বৈশিষ্ট্যে যেমন প্রাধান্য বিস্তার, বিপ্লব সাধন, মারমুখো হওয়া, উত্তেজনা তালাশ প্রভৃতিতে সব সময় বেশি নাম্বার পাওয়ার প্রত্যাশী কিন্তু নারীরা প্রবণতা দেখায়-সামাজিকতার বৈশিষ্ট্যে, যেমন-পরার্থবাদ বা পরের হিত করা এবং খাদ্য পুষ্টি প্রদান।
Livesley এবং Schroeder ফোকাসে এনেছিলেন প্রোটোটাইপিক্যাল ব্যক্তিত্বের গোলযোগী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো। প্রকৃত রোগীরা এই প্রোটোটাইপকে বিভিন্ন ডিগ্রিতে প্রদর্শন করতে পারে। একটি ঘটনা যা একজন ডাইমেনশনাল রোগীর প্রয়োজনীয়তাকে Under Score করে এটা পার্সোনালিটি ডায়াগনোসিসের সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্র্যাডিশনাল DSM ক্যাটাগরি সৃষ্ট করা যেতে পারে দুই দিক থেকে অগ্রসর হয়ে। একটা হচ্ছে লেক্সিক্যাল পথ, যেখানে সম্পূর্ণ তালিকা প্রস্তুত করা হয় সব ধরনের গুণের ব্যাখ্যাসহ যা কিছু ব্যক্তিত্ব সম্বন্ধে ভাষায় ব্যক্ত হতে পারে। আর দ্বিতীয় পথটি হচ্ছে ফ্যাক্টরিয়াল পথ, যেখানে একটা বিরাট তালিকা প্রস্তুত করা হয় বিস্তারিত গুণাগুণ, বৈশিষ্ট্যসমূহ সঙ্গত কারণ অনুসারে শ্রেণীবিভাগ করা হয়। যা সংখ্যায় হয় অনেক কম।
পরিবার ও যমজ নিয়ে গবেষণা
এই অঞ্চলে পরিবার ও যমজদের ব্যক্তিত্বের উন্নতি বিষয়ের গবেষণায় আলোকপাত করা হয়েছে প্রকৃতি/আদর যত্নের বিতর্ক নিয়ে। কারণ প্রায় সব ধরনের ব্যক্তিত্বের বিশেষ লক্ষণের অথবা গোলযোগের মধ্যে মনোজাইগোট যমজ এবং ডিজাইগোট যমজের চেহারার মিল এত বেশি যে এর দ্বারা ৪০-৫০% উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্তি বোঝা যায়। সাধারণভাবে জন্মসূত্রে প্রাপ্ত কারণ প্রায় ব্যক্তিত্বেও পার্থক্যের জন্য হয়ে থাকে ৫০%, বাকি সবগুলো আসে প্রায় non shared environment থেকে ৪৭%, ভাগাভাগি করা পরিবার থেকে আসে মাত্র ৩%। Plomin এবং Danicls হচ্ছেন অনেক গবেষকদের মধ্যে দুজন যারা এই ভাগাভাগির কারণগুলো নিয়ে ব্যক্তিত্বের সম্পর্কের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করেছেন।
এই গবেষণার ফলাফল হয়েছে অনেক লোকদের জন্যই বিরক্তিকর যারা এটা বিশ্বাস করতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন যে, ব্যক্তিত্বের পার্থক্য আসে কেবল পরিবেশের প্রভাবে একজনের মা-বাবা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। অতএব এটা অনেক বেশি পরিবর্তনযোগ্য চিকিৎসার মাধ্যমে। আরো অনেক বেশি খারাপ, এই ধারণা যে, আমাদের পার্থক্যের বেশির ভাগ হচ্ছে আমাদের জন্মের মধ্যে থেকে আসা, যেমন কিছু লোক জন্ম নেয় খুব শক্তিশালী কতগুলো অসুবিধা নিয়ে। অনেক সময় তাদের সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘খারাপ’ আখ্যা দিয়ে পরিত্যক্ত করা হয়। সমসাময়িককালের উদাহরণ ভালোর জন্য ও খারাপের জন্য এই ধরনের মতামতকে সমর্থন করে।
জীববিজ্ঞান ও ব্যক্তিত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক
জীববিজ্ঞানের সাথে ব্যক্তিত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বিগত ১৫ বছরে গবেষণাকর্ম অগ্রগতি লাভ করেছে অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপে। Morton Zuckerman তার চমৎকার প্রকরণগ্রন্থে এই গবেষণাটি একত্রিত করেছেন। Cloninger-এর গবেষণায় যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে এই গবেষণাকর্মের বেশিরভাগ উদ্যোগ লক্ষ করা যায়। শুধু এটাই সত্য নয় যে জুয়াড়িরা প্রায়ই পর্যুতপ্লাবন ঘটাত এবং সেখানে শক্তিশালীরূপে পারস্পরিক সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। পর্যুতপ্লাবনের মাত্রার এবং নরঅ্যাপিনেফ্রিনের সাথে। Royetal মন্তব্য করেছেন যে নরঅ্যাপিনেফ্রিনের দ্বারা ক্রিয়াশীল অথবা নিঃসরণশীল সিস্টেমের মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিত্বের অস্বাভাবিকতা, কমপক্ষে হলেও জুয়াড়িদের সাবগ্রুপের মধ্যে। (যাদের বেশির ভাগের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিল বাইপোলার ডিসঅর্ডার।)
মনোরোগ চিকিৎসায় উদ্ভাবিত সমস্যার ক্ষেত্রে নসোলজির প্রভাব
১৯৮০ সালে DSM III প্রকাশিত হলে এটা ব্যাপকভাবে পুনঃ ব্যাখ্যা করা হয়ে যায় যে, ব্যক্তিত্বের অবক্ষয় বা নৈতিক অধঃপতনের রাজ্যে কী কী আছে আর কী কী নেই। পূর্বের দিনে মনোসমীক্ষণের চারিত্র-বিজ্ঞান কমপক্ষে হলেও পাশ্চাত্য দেশে, মনোচিকিৎসকদের দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই প্রভাবের পরিবর্তনের কারণে চিকিৎসার ধারণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়েছে।
হিস্টিরিয়া, বদ্ধসংস্কারী মাতাল, যৌনবিকৃতি এবং মানসিকভীতি যেসব রোগীর সাথে সাধারণত মনোসমীক্ষণগণ কাজ করেছেন তারা যুক্তিসঙ্গতভাবে ভালোই করেছেন, শুধু ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মধ্যে কিছুটা ব্যত্যয় ঘটেছে। যদিও এই রোগীদের সাহায্য করার জন্য একমাত্র মনোসমীক্ষকগণই উপস্থিত ছিলেন না যে তারা তাদের আন্তর্ব্যক্তিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতেন। এই পদ্ধতিটা প্রায়ই উৎসাহব্যঞ্জক ফলাফল দিত।
DSM-এর দ্বারা ব্যাখ্যাকৃত ব্যক্তিত্বের গোলযোগ অনেক বেশি মানসিক রোগগ্রস্ত ব্যক্তিদের ঘিরে আছে। যেসব রোগী Axis II disorder-এর সমস্ত গুণাগুণ বহন করে তা মেডিকেল ব্যাখ্যা থেকে কম উপকার করে। যেসব রোগী ক্লাস্টার সি ডিসঅর্ডারভুক্ত নয় যেমন নির্ভরশীল ব্যক্তিত্ব। যতটুকু ক্লাস্টার এ-এর মধ্যেও রোগীদের ধরা যায় সেখানে সিজোফ্রেনিয়ার রোগীরা কম তালাশ করে অথবা বেশিদিন চিকিৎসাধীন থাকে না। প্যারানয়েড ও সিজোটাইপাল রোগীদের মনোসমীক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসা করা খুব কঠিন এবং সাধারণত তাদের চিকিৎসার জন্য একটা মিথস্ক্রিয়াজনিত পদ্ধতির প্রয়োজন যাতে মিলিত থাকে সাপোর্টিভ, কগনিটিভ এবং এডুকেশনাল ইন্টারভেনশন। ওষুধপত্রেরও একটা ভূমিকা থাকতে পারে বিশেষ করে সিজোটাইপাল রোগীদের জন্য। ক্লাস্টার বি রোগীদের মধ্যে অবস্থা অন্য রকম হয়ে থাকে। মধ্য শতাব্দীতে মনোসমীক্ষকগণ যেসব রোগীর চিকিৎসা করতেন তাদের মধ্যে হিস্টেরিক রোগীদের চেয়ে হিস্টোরিওনিক রোগীরা প্রায়ই অনেক বেশি কর্মক্ষমতাহীন ছিলেন।
আমরা এরই মধ্যে প্রত্যক্ষ করেছি যে কী কী অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় অসামাজিক ব্যক্তিত্বের চিকিৎসার ক্ষেত্রে। DSM-এর মধ্যে অবস্থিত বর্ডার লাইন পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের চেয়ে বেশি কঠিন আলামতের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং Kernberg-এর সাইকোঅ্যানালাইটিক অবজেক্ট রিলেশনের ব্যাখ্যা অথবা বর্ডার লাইন পার্সোনালিটি অর্গানাইজেশনের ব্যাখ্যার চেয়ে অনেক সংকীর্ণভাবে ব্যাখ্যায়িত। অনেক বর্ডার লাইন পার্সোনালিটি রোগী মনোসমীক্ষণের দ্বারা সৃষ্ট থেরাপিতে সহজে শাসনযোগ্য। যার মধ্যে লিমিট সেটিংয়ের সমন্বয় আছে এবং মুখোমুখি হতে হয় নেতিবাচক হস্তান্তর প্রক্রিয়ার। অ্যানালাইটিক ব্যাখ্যা এবং অনুবাদ ছাড়াও এটা এখন আধুনিক প্রকারতার জন্য অনেক বেশি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। এরূপ সহজলভ্যতা সব সময় তাদের জন্য প্রাপ্য হয় না যারা প্রায়ই হয়ে থাকে অসুস্থ, বেশি আবেগপ্রবণ, আত্মধ্বংসাত্মক এবং শত্রুভাবাপন্ন রোগী এবং যারা বর্ডার লাইন পার্সোনালিটির DSM বিচার নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
যতটুকু যন্ত্রণার সাথে পরিশ্রম করা মনোসমীক্ষকদের বেষ্টন করে, যারা অ্যানালাইটিক্যালি উদ্ভূত প্রথার মধ্যে থেকে বর্ডার লাইন রোগীদের নিয়ে কাজ করেন এগুলোকে তীব্রতার সাথে ব্যাখা করেছেন। বিখ্যাত লন্ডনবাসী সমীক্ষকদের স্বামী-স্ত্রীর একটি টিম তাদের নাম হচ্ছে Anna Higgitt এবং Peter Fonagy তারা বর্ডার লাইন রোগীদের দ্বারা প্রায়ই ঘনঘন নিজেদের কাজে খাটানোর জন্য প্রক্ষিপ্ত শনাক্তকরণ প্রতিরক্ষাকে বোঝার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তারা আরো বোঝার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন বাগাড়ম্বরপূর্ণ ঘৃণার বা অপমানের যন্ত্রণাসমূহকে এবং সুগভীর নির্ভরশীলতাকে। থেরাপি বা মনোসমীক্ষণের প্রয়োজন পড়তে পারে ২ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত-সম্ভবত উদার প্রকৃতিতে কম হিসেবে। কেননা অন্যরা উল্লেখ করে থাকেন ১০ বছরে অথবা তার চেয়েও বেশি বছরের জন্য মনোসমীক্ষকদের সাহচর্যে থাকার কথা যেভাবে প্রয়োজন হয় প্রকৃত মনোসমীক্ষণের উন্নতি সাধিত হওয়া পর্যন্ত।
Higgitt এবং Fonagy আরো জোর দিয়েছেন যে থেরাপিস্টদের প্রয়োজন রয়েছে রোগীদের গোস্বাকে সংবরণ করার এবং শত্রুতাভাবাপন্ন মনোভাবকে ধারণ করার ক্ষমতা অর্জনের, তাছাড়া তাদের রাগান্বিত ও সাধারণ অবস্থার ব্যবহারের ছাঁচের সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে ব্যবহার করার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। রোগীদের অযৌক্তিক সমালোচনা এবং রাগে ফেটে পড়ার প্রতিক্রিয়ায় যদি মনোসমীক্ষক রাগান্বিত হন এবং শত্রুভাবাপন্ন অনুভব করেন এবং রোগীদের সাথে না জেনেই দুর্ব্যবহার শুরু করেন তবে তাতে রোগীর বাল্যকালের সেই গৃহের পরিস্থিতি ও পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বর্ডার লাইন রোগীদের সাথে কাজ করার জন্য তারা কতগুলো পরামর্শ দিয়েছেন-যাদের তাৎপর্যপূর্ণ পরামর্শ দ্বারা চিকিৎসা করা সম্ভব তারা খুব কম অসুস্থ গ্রুপের মধ্যে পড়ে, তাদের আবেগপ্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য লিমিট সেটিং করার বিশেষ প্রয়োজন আছে। কথার দ্বারা সমীক্ষণের ক্ষেত্রে বর্তমান সম্পর্কের প্রতি লক্ষ রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্কের প্রতি লক্ষ রাখা প্রয়োজন। তারা লক্ষ করেছেন যে বিষণ্নতাগ্রস্ত রোগীদের এই উচ্চতর স্তরের মনস্তাত্ত্বিক সতর্কতা, উচ্চতর অভিপ্রায় এবং তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে তাৎপর্যপূর্ণভাবে কাজ শুরু করার সর্বোৎকৃষ্ট রীতি। এটা বলার পর লেখক হুঁশিয়ার করে দেন যে, চিকিৎসার জন্য যথোপযুক্ততা অতি সাধারণভাবে হয়ে ওঠে নিজস্ব প্রামাণিক একমাত্র অনেক মাস পর্যন্ত। নেতিবাচক চিকিৎসার প্রতিক্রিয়ার সাথে যুদ্ধ করে হৃদযন্ত্রণা বাড়ানোর পরেই। ছুটির সময়ে বৃহদাকারের দুঃখ-দুর্দশার জন্য বিশেষ ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে...। আত্মহত্যার প্রবণতা এবং অনেক সময় শারীরিক আক্রমণপ্রবণতার কারণে।
অতিরিক্ত চিকিৎসা শুরু করার রীতি
অনেক কঠিন ব্যক্তিত্বের গোলযোগ বা পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার চিকিৎসার ক্ষেত্রে মনোসমীক্ষণের ও সহযোগী থেরাপিতে যেসব সীমাবদ্ধতা ছিল তার ক্ষতিপূরণের জন্য বা তাকে কাটিয়ে ওঠার জন্য অধুনাকালে অনেক আধুনিক চিকিৎসার উদ্ভব হয়েছে। আর ১৯৮০-র দশকের পূর্বে যেগুলোর উপস্থিতি ছিল সেসব চিকিৎসা পদ্ধতিকে উন্নত ও জনপ্রিয় করা হয়েছে। এই চিকিৎসার পরিচালন দক্ষতার উন্নতির আংশিক কারণ হচ্ছে বর্ধিত আকারের সংলাপ, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং মনোসমীক্ষকদের মধ্যে। মনোসমীক্ষকগণ সব সময়েই ব্যস্ত রয়েছে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল চাতুর্যগুলোর পরিকল্পনা ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কাজে। এই কলাকৌশলগুলোকে এখণ মনে হয় ওইসব রোগীর প্রয়োজনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রযোজ্য। যারা আক্রান্ত আছেন অজাচার, স্টোরিওনিক, বর্ডার লাইন এবং হাল্কা ধরনের অসামাজিকতাজনিত গোলযোগের দ্বারা। এদের জন্য সীমানা নির্ধারণ এবং অন্যান্য বিহেভিয়ারাল মেথড হচ্ছে অত্যন্ত জরুরি। তথাপি এর জন্য কোনো সরাসরি বন্দোবস্ত নেই। যদিও ভিন্ন প্রকৃতির ‘তৎজলদি আরোগ্য প্রদান’ অনেক সময় দালালি করা হয় তা ব্যক্তিত্বের বৈকল্যের রাজ্যে খুব কমই কার্যকর হয়ে থাকে। যেভাবে এক শতাব্দী পূর্বে William James মন্তব্য করেছেন এবং Costa এবং Mc Crac ইদানীং পুনঃ অনুমোদন করেছেন যে, ব্যক্তিত্ব দানা বাঁধতে শুরু করে ৩০ বছরের কাছাকাছি বয়সে। একমাত্র যারা শিষ্টাচারবর্জিত তারাই দাবি করে সুসম্পূর্ণতা, একাকিত্বের গতিবেগ প্রদান, পরিবর্তন, তাতে পদ্ধতিটা যা-ই হোক না কেন। সর্বোৎকৃষ্ট যে ফলাফল স্বল্পদৈর্ঘ্য সমীক্ষণের মাধ্যমে লাভ করা যায় তা সম্ভবত ওইসব রোগীর সহাবস্থানকে লাঘব করা, যাদের বিষণ্নতার উপসর্গের সাথে রয়েছে ডিপ্রেসিভ পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার। অথবা যাদের সাথে আছে অনেক খ্যাতনামা লোকের সমাবেশ।
এই ধরনের স্বল্পদৈর্ঘ্য কাজের উদাহরণ দিয়েছেন Chrispadesky। তার পদ্ধতি হচ্ছে বিশদ ব্যাখ্যা করা, তারপর আস্তে আস্তে পরিবর্তন করা। এভাবে তার নিজস্ব তরিকায় বিষণ্নতাগ্রস্ত রোগীর চরিত্রের পরিবর্তন আনেন তার অন্তরে বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে। এই ধরনের একজন রোগীর একটা লম্পট চক্র বা ভিসিয়াস সার্কেল থাকতে পারে। যাতে এরূপ কিছু বলা হয়-আমি ভালো নেই, অন্যরা আমার চেয়ে ভালো, অতএব আমি অবশ্যই তাদের প্রয়োজনে সাহায্য করব, তার ফলে আমি সব সময়েই ক্লান্ত আমাকে সাহায্য করার কেউ নেই, এটা আমাকে রাগান্বিত এবং ক্রুদ্ধ করে।
দেখুন আমি ভালো না! কগনিটিভ থেরাপিস্টগণ এই ধরনের রোগীদের জিজ্ঞেস করেন বশ মানেনি এমন লোকদের জন্য তোমরা আলাদাভাবে কী ব্যবহার করতে? এবং রোগীদের সাহায্য করেন এটা দেখার জন্য যে, সে যখন ক্লান্তবোধ করে তখন সে বিশ্রামের জন্য জেদ ধরতে পারে। কূটকৌশলীভাবে কিছু অনুগ্রহ দেখাতে অস্বীকার করতে পারে, যা তার ক্ষমতার অথবা সময়ের সামর্থ্যবহির্ভূত এবং তদ্রূপ আরো কিছু। এসব পদক্ষেপ দ্বারা তাদের আন্তর্ব্যক্তিক ভুবনকে আবিষ্কার করতে সাহায্য হয় যে ভুবনটা অনেক কম বৈরীভাবাপন্ন অথবা রোগীর ধারণার চেয়েও বেশি অগ্নিপ্রোজ্জ্বল। যার কারণে অন্যের সাথে অনেক বেশি সম্মত মিথস্ক্রিয়ায় বসবাস করা যায়। তারপরেই অন্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার দ্বারা তার নিজস্ব তিরস্কৃত বিশ্বাস আমি ভালো নেই, বা I am no good-কে বাতিল করে দেয়। কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপির বিষয়টি ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছিল Ann Hackmann কর্তৃক ১৯৯৩ সালে। তিনি উল্লেখ করেছেন ব্রিটিশ বিহেভিয়ারাল সাইকোথেরাপিক সমিতির ২০ বছর ধরে সদস্যপদের কথা, ১৯৭২ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত। ২০০ থেকে ১৭০০ সদস্যেরও বেশি। এখন হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোর সীমানার আবেদন ব্যাপক, তাতে শুধু পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারকেই কভার করে না, বরং আরো কভার করে ফোবিয়া, অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার, অ্যাংজাইটি স্টেটস, ডিপ্রেশন, সেক্সুয়াল প্রবলেম, সাবস্ট্যান্স অ্যাবিউজ, ইটিং ডিসঅর্ডারস এবং কন্ডাক্টটিভ ডিসঅর্ডারকেও যাদের বেশির ভাগের অবস্থা মস্তিষ্ক বিকারজনিত কারণে খুব জটিল আকার ধারণ করেনি।
সারা পৃথিবীর সেরা
যেমনি ১৯৯০-এর দশক শেষ হয়ে এসেছে তার সাথে সাথে মৌখিক মনোরোগ চিকিৎসার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর মধ্যে একটা বৃহদাকারের ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে। যদিও মনোরোগ চিকিৎসার একটা সার্বিক ভূমিকা রয়েছে সব ধরনের কার্যকর মানসিক বৈকল্যের ওপর। কারণ প্রায় ক্ষেত্রে ‘কথা বলার দ্বারা আরোগ্য’ শুধু হাল্কা ধরনের আক্রান্ত রোগীদের জন্যই প্রযোজ্য। মনোরোগের চিকিৎসা ওইসব লোকের জন্য প্রযোজ্য যারা আত্মীয়তার সম্পর্কের কষ্টে বা সমস্যায় ভোগেন এবং চাপের মুখে যাদের জীবন সমস্যাসংকুল হয়ে পড়ে। এই ধরনের প্রায় সব রোগীই ব্যক্তিত্বের গোলযোগে ভোগে, যা সব সময় এতটা প্রকট আকার ধারণ করে না যাকে ব্যক্তিত্বের বৈকল্য বা পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার বলা যায়। DSM-এর সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী একে সেই পর্যায়ে ফেলা যায় না। এটা হলো তেমনি একটা অবস্থা যাতে পূর্বের প্রজন্মের লোকদের মনোসমীক্ষকগণ ‘চারিত্রিক বৈকল্য’ বা ক্যারেক্টার ডিসঅর্ডার অথবা সাইকোনিউরোসিস হিসেবে চিকিৎসা করতেন।
বর্তমানে অনেক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক থেরাপি আছে-সম্ভবত অন্য দেশের চেয়ে বেশির ভাগই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তার মধ্যে সাইকোঅ্যানালাইটিক, কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল ইন্টারপার্সোনাল এবং ন্যাশনাল ইমোটিভ অরিয়েন্টেশনের নাম করলেও কয়েকটির মাত্র নাম করা হয়। অ্যানালাইটিকের রাজ্যেই অনেকগুলো স্কুল এবং অরিয়েন্টেশন রয়েছে-অর্থোডক্স, আলডারিয়ান, সুল্লিভানিয়ান, জাঙ্গিয়ান, হার্নিয়ান, রীচিয়ান, খৌটিয়ান ও অন্যান্য। এর সবগুলোই ব্যক্তিত্বে গোলযোগ নিয়ে চিকিৎসা করে তা যতই জটিল হোক না কেন। সাপোর্টিভ থেরাপিকে একটা আলাদা থেরাপি হিসেবে অথবা অন্যান্য থেরাপির তুল্য হিসেবে দেখা যেতে পারে। এসব বিভিন্ন চিকিৎসা রীতিনীতিকে দুটি প্রধান ভাগে পুনঃবিন্যাস করা যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে ওইগুলো যার পূর্বাভিমুখীনতা হচ্ছে রোগীর চিন্তার ও মানসিক কল্পনার ছাঁচকে পরিবর্তন করা এবং ওই সকল যাদের প্রাথমিক পূর্বাভিমুখীনতা হচ্ছে ব্যবহার-আচরণের পরিবর্তনের দিকে। সাপোর্টিভ থেরাপিতে যেহেতু রয়েছে বৈদ্যুতিক সাজসরঞ্জাম-উপাদান এটাকে ওই বিভাজনের কোনো একটাতেও যথাযথভাবে স্থাপন করা যায় না। দুটো অথবা তার বেশি চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে তারা বিহেভিয়ার চেঞ্জিং থেরাপির পরিবর্তে মাইন্ড চেঞ্জ থেরাপির দিকে টেনে নিয়ে যায়। অন্যান্য উদাহরণে এই দুটো শ্রেণীর মধ্যে একটিকে তুলনা করা হয় সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্টের সাথে।
বর্তমানের অনেক সুযোগী চিকিৎসকের মত হচ্ছে এই যে, সব ধরনের কার্যকরী মনোরোগ চিকিৎসার যে বৈশিষ্ট্যটা সাধারণ তা হচ্ছে অন্যের চিন্তার প্রতি সহমর্মিতা, যত্নশীল হওয়া, চিকিৎসকের ন্যায়পরায়ণতা, রোগীর জন্য সেখানে উপস্থিত থাকা-যতটুকু সম্ভব সাহায্য করা বা তার চেয়েও বেশি ভালো করা। শুধু নিয়মমাফিক রোগীদের ছেড়ে দেয়া ঠিক নয়। থেরাপিতে মনোযোগের মাধ্যমে যে উন্নতি হয় এবং যা বেশির ভাগ আচার-আচরণের প্রতি পরিচালিত হয় তা রোগীর নিজস্ব মানসিক ভাবকে উন্নত এবং মিথ্যা ধারণাকে সঠিক করতে পারে। যার অর্থ দাঁড়ায় রোগীর চিন্তাধারার মধ্যে পরিবর্তন আনয়ন করে। এই পদ্ধতির মধ্যে যে কোনো ধরনের চিকিৎসা আসুক না কেন Stern যেভাবে আমাদের জ্ঞাত করেছেন এটা সেই পদ্ধতির সমস্ত উপাদানকে পরিবর্তন করে দেয়। বিভিন্ন প্রকৃতির পূর্বাভিমুখীনতার বিভিন্ন ঈপ্সিত ফলদানের পার্থক্যকে খুব কম সময়ের মধ্যে মাপার প্রবণতা দেখা যায়। সচরাচর এক বছর বা দুই বছর। তথাপি প্রতিটি বিশিষ্ট পদক্ষেপকারী ঘোষকগণ তাঁদের পরিমিত পার্থক্যের জিনিসটিকে তুলে ধরে তাদের পদ্ধতির উৎকৃষ্টতা প্রমাণ করতে প্রয়াস পান। এই পার্থক্যসমূহ সম্ভব যা দেখানোর চেষ্টা করা হয়, আর তার চেয়ে অনেক কম শক্তিশালী এবং যে পার্থক্যসমূহ উপস্থিত থাকতে পারে তা অবশ্যই রোগীদের মধ্যস্থিত সংস্কৃতিগত পার্থক্যের জন্য হতে পারে। হতে পারে ভিন্নতর পূরাভিমুখীনতার জন্য।
Stern এটাও উল্লেখ করেছেন যে সৌন্দর্য বিজ্ঞান ও রাজনৈতিক বিবেচনা থেরাপির সমীকরণের মধ্যে প্রবেশ করেছে। একজনকে শুধু সামপ্রতিক চীন ও সোভিয়েত রাশিয়ার কথা ভাবা প্রয়োজন, যেখানে মনোরোগ চিকিৎসার দ্বারা সুস্থ হওয়ার জন্য কাজকে ধরা হয় উপশমের মাধ্যম। রোগীরা ভালো হয়ে যায় উৎসাহের মাধ্যমে, কাজ বণ্টনের মাধ্যমে, কাজের ভুবনে পুনঃপ্রবেশের মাধ্যমে। রোগীদের অভ্যন্তরীণ জীবন, তাদের জীবনের স্বপ্ন এবং বন্ধুত্ব তাদের চিকিৎসকদের কাছে খুব একটা আকর্ষণীয় বস্তু নয়। তারা এই ধরনের সংস্রবকে মধ্যবিত্ত বুর্জুয়াশ্রেণীর অবক্ষয় বলে গণ্য করতেন। এই ধরনের আচরণগত কর্মকেন্দ্রিক ছিল কমিউনিস্ট/ কালেটিভিস্টদের রাজনৈতিক নীতি। পাশ্চাত্য দেশে ব্যক্তির স্বয়ংসম্পূর্ণতার ওপর প্রত্যক্ষকরণ রাজনৈতিক পদ্ধতির মধ্যে সূক্ষ্মভাবে প্রবেশ করত এবং হঠাৎ আশ্চর্যজনকভাবে নয়। এটা চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রেও একইভাবে হতো।
আমরা চিনতে শুরু করেছি যে, অনেক ধরনের শক্তিশালী মনোরোগ চিকিৎসার কার্যকরী ব্যবস্থা আছে। প্রত্যেকটি আবার সুসংহত ও অধিকতর শক্তিসম্পন্ন মনের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তার এক একটির বিষয়ে জানতে অনেক বছর সময় লাগে। প্রত্যেকটি বিষয় নির্মিত হয়েছে একজন চাতুর্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠাতার জ্ঞান-বুদ্ধি ও ঈশ্বরপ্রদত্ত কলাকৌশলের মাধ্যমে। সম্ভবত সবচেয়ে আদর্শিক চিকিৎসক তিনি হবেন সর্বপ্রকার প্রয়োজনীয় পদ্ধতির সুপণ্ডিত। কিন্তু এই প্রশিক্ষণের পরিসর খুব কমই সারাজীবনের জন্য তুষ্টকর হতে পারে। নিশ্চিত করেই আদর্শের মডেল, ব্যক্তিত্বের গোলযোগ বোঝার ও চিকিৎসা করার জন্য সমস্ত চালু প্রতিদ্বন্দ্বী স্কুলের সবচেয়ে যুক্তিসিদ্ধ ও কার্যকরী দিকসমূহকে একত্রিত করা উচিত।
এটা একটা অত্যধিক ভীতি ও নিরুৎসাহব্যঞ্জক কাজ। তথাপি আমাদের দলের অনেক পণ্ডিত ব্যক্তি তাদের চেষ্টাকে পরিচালিত করছেন এটার সংযোগ সাধনের জন্য। তাদের মধ্যে বিখ্যাত হলেন Danid Stein and Jeffrey young যাদের অধুনা প্রকাশিত পুস্তকে কগনিটিভ অ্যাপ্রোচ এবং তার সাথে মনোসমীক্ষণের আদর্শের সুফল ও ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আগামী যুগে এই মনোভাব বজায় থাকলে তা বিভিন্ন প্রকার কলাকৌশলের মধ্যে কোনটাকে গ্রহণ বা কোনটাকে বর্জন করব এই ধরনের মনোভাব অনেক কমে আসবে। যখন সম্ভাব্য সব ধরনের মনোরোগ চিকিৎসার নৈপুণ্যকে একত্রিত করে একটা নমনীয় পদ্ধতির উন্নতি লাভ করবে, যা হবে সব রোগী ও ডাক্তারের কাছে গ্রহণীয়।
জীববিদ্যাবিষয়ক মানসিক গোলযোগের চিকিৎসা
জীববিদ্যাবিষয়ক মানসিক বৈকল্যের চিকিৎসা তার সাথে জড়িত তাবৎ মন সম্বন্ধীয় রোগের বিষয়টি সমসাময়িক মনোরোগ চিকিৎসা মানচিত্রের অনেকখানি জায়গা জুড়ে বিসতৃতি লাভ করেছে। যেভাবে একটি শতাব্দী শেষ হয়ে যাচ্ছে তার সাথে সাথে আমাদের দৃষ্টি ব্যক্তিগত মনস্তত্ত্ব থেকে সরে গিয়ে চলে যাচ্ছে পুরোদমে আত্মার রসায়ন ও পদার্থবিদ্যার দিকে। যেভাবে ঘটেছিল জার্মানির মনোরোগ চিকিৎসা বিষয়ের ক্ষেত্রে ১৯ শতকের শেষার্ধে। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে কয়েকজন গবেষক এই অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন, আমি বিশ্বাস করি যে তারা একটা নিরাপদ অবস্থানকে উপভোগ করতে পারবেন। অন্যরা ধারণা করতে পারেন এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ পথে যা আমরা ১৯৯০ দশকের মধ্যভাগে থেকে খুব জোর দিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারি না।
যে সকল প্রতিবেদন সব মানুষের মনোযোগ কাড়তে সক্ষম হয়েছে ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে যেমন the dexametha sone suppression test ছিল বিষণ্নতা রোগের জন্য অরক্ষিতার সূচি কিন্তু তা তাদের দাবি রক্ষা করতে সমর্থ হয়নি। অন্য বিষয় যেমন অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে basal ganglia abnormalities নিয়ে গবেষণা এবং সেরোটনিন রিআপটেক ইনহিবিটর চিকিৎসালয়ের প্রতিক্রিয়াসমূহ ১৯৮০-এর দশকের মধ্যভাগে খবরের হেডলাইন দখল করে নিয়েছিল এবং সেটা সাইকোবায়োলজিক্যাল গবেষণার সম্মুখভাগেই তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করে রেখেছিল। শেষ দশকে সিজোফ্রেনিয়া রোগের hyporrontality-এর গবেষণায় হৃদয়গ্রাহী ফলাফল পাওয়া গেছে। এই বৈকল্যের নেতিবাচক এবং আরো অনেক বেশি রঞ্জিত ইতিবাচক উপসর্গগুলো নতুন ওষুধের উদ্ভব ঘটিয়েছে। যেমন-ক্লোজিপাইন এবং রিসপেরিডল, যা অদ্যাবধি অনেক অবাধ্য নেতিবাচক উপসর্গের লাঘব করতে কিছুটা প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করছে।
সিজন্যাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডারকে ১৯৮০-এর দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত কেউ বড় একটা গ্রাহ্য করত না। এই সময়ের এক দশক পরে মেলাটোনিনের ওপরে গবেষণায় যা সিজন্যাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডারের সঙ্গে জড়িত। এমনকি জনপ্রিয় ম্যাগাজিনের কভারেজ পেয়েছে এবং একটা সুনাম লাভ করেছে-চিরন্তন যৌবনের চাবি এবং Jet lag থেকে মুক্তি হিসেবে। সজ্ঞানতা এবং স্মৃতির পেছনে যেসব কলকব্জা রয়েছে তা এখন ভালোভাবে হৃদয়ঙ্গম হচ্ছে। নবতর চাতুর্য বা কৌশল আসতে শুরু করেছে। এটা বলা এতটুকুও অতিরঞ্জিত হবে না যে বিগত ২০ বছর ধরে জীববিদ্যাবিষয়ক প্রত্যেকটি শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে সুগভীরভাবে গবেষণা করা হয়েছে এবং তার উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে। তার আদর্শ, পরিভাষা তৈরি হয়েছে। গবেষণাকর্ম গুরুতর মানসিক বিকৃতির সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূরে চলে গেছে। এখন এটা সুস্পষ্ট যে জীববিদ্যাবিষয়ক কারণগুলো বহু শতাব্দী ধরে কাজ করেছে। যেমন- জীববিদ্যার প্রভাবসমূহ সম্বন্ধে ধারণা পোষণ করে ছিলেন উইলিয়াম বেটিস তার ১৭৫৮ খ্রিষ্টাব্দের রচিত পাঠ্যপুস্তকে। তাতে তিনি বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন Original এর বিরপরীতে Consequential madness সম্বন্ধে। তার মতে, ঙৎরমরহধষ আদিম বা প্রাথমিক পাগলামি বা মস্তিষ্ক বিকারত্বটা ঘটে থাকে Constitutional Predisposition বা শরীর বা মনের প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রবৃত্তি থেকে।
অধুনা অনেক ক্ষেত্রেই বিস্তর উন্নতি হয়েছে, যেখানে জীববিদ্যার উপাদান হচ্ছে বেশি সূক্ষ্ম। এই সমস্ত অঞ্চলের মধ্যে আমরা দেখতে পাব যৌনতার পূর্বাভিমুখীনতা, খাদ্যের গোলযোগ। তারপর যা আসে তা হচ্ছে কতগুলো মূল অঞ্চলের মধ্যস্থিত সংক্ষিপ্ত উদ্ভব বা বিকাশ।



