রাগ নিয়ন্ত্রণ
মানুষ যেমন হাসে, কাঁদে, তেমনি রাগ হওয়াটাও স্বাভাবিক ব্যাপার। তেমনি রেগে গেলে সে যদি তা প্রকাশ করে, তাও কিন্তু স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত রাগের বহিঃপ্রকাশ একজন মানুষের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে যার প্রভাব পড়তে পারে তার পারিবারিক কাজকর্মে এবং ব্যক্তিগত জীবনে। মানুষ ঠিক কখন রেগে যায় এর বোধহয় কোনো নির্দিষ্ট উত্তর খুঁজে পাওয়া কঠিন। হতে পারে অফিসের কোনো কাজের কারণে বা বাসায় বাচ্চারা কথা না শুনলে। হাসি, কান্না, রাগ বা হিংসা এই সবই মানুষের ন্যাচারাল ইমোশন। কিন্তু রাগকে কীভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে তা মনে রাখা খুব প্রয়োজন। যদি জিজ্ঞাসা করা হয় রাগ হলে কী করেন, বেশির ভাগ উত্তর হবে চিৎকার করা বা যা কিছু আছে সব ছুড়ে ফেলে দেয়া অথবা কেউ চুপ হয়ে থাকে বা কেঁদে ফেলে। কিন্তু এর কোনোটি কিন্তু সঠিক উপায় নয় রাগ প্রকাশ করার জন্য। একবার ভেবে দেখা উচিত যে এ ধরনের ব্যবহার আমাদের আশপাশের মানুষকে কীভাবে প্রভাবিত করছে। আর যখন আপনার রাগ কমে গেলে নিজের কাছেও তেমন ভালো লাগে না ব্যাপারটা। নিজেকে এবং আশপাশের সবাইকে ভালো রাখতে হলে দরকার নিজের ইমোশনগুলো কন্ট্রোল করে রাখা। রাগের সময় নিজের মাথা ঠান্ডা রাখা কিন্তু সম্ভব আর এটা কার্যকর।
কেউ যখন রাগ করে, তিন ধরনের রেসপন্স দেখতে পাওয়া যায়-মানসিক, শারীরিক এবং ব্যবহারিক। যদি মাথা গরম হয়ে যায় তা হলো মানসিক রেসপন্স; বুক ধড়ফড় করা, হাত কাঁপতে থাকা হলো শারীরিক রেসপন্স; শরীরের বিভিন্ন গ্ল্যান্ড থেকে হরমোন নিঃসৃত হয় যা হার্টরেট বাড়িয়ে দেয়। রেগে গেলে একেকজন মানুষ একেকভাবে রিঅ্যাক্ট করে। কেউ কেউ যার ওপর রেগে যান তাকে মার দেয়া শুরু করে, আবার কেউ চুপ করে অপেক্ষা করতে থাকে সঠিক সময়ের পক্ষে যখন যথাযথ শাস্তি দিতে পারবে। কিন্তু এমন লোকও আছে যাদের স্বভাবের সাথেই রাগ জিনিসটা খুব ছোটবেলা থেকেই আছে। কোনো তুচ্ছ ব্যাপার ঘটলেও সহজেই রেগে যায় তারা, আর এদের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন। এর ফলে অনেক সময় সাইকোথেরাপির দরকার হতে পারে। অতিরিক্ত রেগে যাওয়া যেমন খারাপ, তেমনি মনের মধ্যে রাগ লুকিয়ে রাখাটাও খারাপ। অনেকের কাছে মনে হয়, রেগে যাওয়াটা যেন অস্বাভাবিক। তাই তারা সেটা প্রকাশ করে না। কিন্তু এর ফলে অনেক সময় এটা শারীরিক এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এবং হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য জটিল রোগ দেখা দেয়। আরও দেখা যায় যে, যারা রাগ প্রকাশ করতে পারে না তারা কাউকে সামনাসামনি কোনো কথা মুখ খুলে বলতে পারে না। আর পেছনে সমালোচনা করে থাকে। এর ফলে নিজেকে একা মনে করতে থাকে এবং সম্পর্ক গড়ে তুলতে কষ্ট হয়।
রাগ করাটা কোনো অন্যায় নয়। মানুষ নিশ্চয় রাগ করবে কিন্তু তার প্রকাশ হতে হবে অন্য রকম। জীবনের সবকিছু যেমন ব্যালেন্সড করে চলতে হয়, তেমনি ইমোশনগুলো প্রকাশের ক্ষেত্রেও ব্যালেন্স করে নিতে হবে। বলতে পারেন জীবনে এত কিছু মেনে চলতে গেলে সুস্থভাবে বেঁচে থাকাই তো কষ্টকর হয়ে যাবে, আসলে আমরা প্রতিদিন যেভাবে খাওয়া-দাওয়া, সাজপোশাক, জীবনযাপনের ধারা মেনে চলি তেমনি আমাদের ইমোশনগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। হয়তো সবকিছু একদিনে সম্ভব হবে না। কিন্তু একবার শুরু করে তো দেখা যাক। এভাবে দেখবেন যে আপনি অবশ্যই সাফল্য অর্জন করবেন।
রাগ এবং অসুখ
কিছু অসুখের কারণেও মাথা গরম হয়ে যায় বেশ তাড়াতাড়ি। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না যেমন-
- এপিলেপসি
- ব্রেন ইনজুরি
- লেড পয়জনিং
- মানসিক অস্থিরতা
কিছু মানসিক অসুখের কারণেও অনেক সময় অতিরিক্ত রাগ হতে পারে যেমন-
- অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার
- সিজোফ্রেনিয়া
- বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার
- বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডার
- ডিপ্রেশন
কিছু সহজ কৌশল
- প্রথমে যেটা করা প্রয়োজন তা হলো খুঁজে বের করতে হবে সবগুলো জিনিস যা দেখতে বা কেউ করলে অথবা সেখানে গেলে আপনার মাথা গরম হয়ে যেতে পারে। এসব জায়গায় যদি দেখেন মাথা গরম হওয়ার মতো কোনো কিছু হচ্ছে, ভালো হয় তখন ওখান থেকে চলে যাওয়া এবং আলোচনা করে সেই সমস্যার সমাধান করা।
- যখন মাথা গরম হয় তখন কেমন লাগে তা একটি ডায়রিতে লিখে রাখুন। কারণগুলো লিখে রাখুন, আর সাথে রিঅ্যাকশনগুলো। মাথা ঠান্ডা হলে এটি নিয়ে একটু ভাবুন এবং চেষ্টা করুন সঠিক উত্তরটি খুঁজে বের করতে।
- রাগ হলে মানুষ যা ইচ্ছা তাই বলে ফেলে। সব কথা বলার আগে অবশ্যই ভেবে দেখুন, যা বলতে যাচ্ছেন সঠিক বলছেন তো? বুঝে, যুক্তি দিয়ে কথা বলাটাই কিন্তু একজন মানুষের কাজ। যখন রাগ করেন যদি পারেন কোনো মজার লেখা, এসএমএস বা গল্প পড়তে বসে যান। দেখবেন এটা অবশ্যই কাজ করবে।
- এ ছাড়া রাগ হলে যদি এক্সারসাইজ করে থাকেন তাও অনেক উপকারে আসবে। মেডিটেশনও মনকে অনেক প্রশান্তি দিতে পারে। এই দুই মিলে আপনাকে করে তুলতে পারে প্রাণবন্ত। আর দিতে পারে রাগ থেকে মুক্তি।
- যখন রাগ হবে, তখন পজিটিভ কথা ভাবুন। হতেই পারে তা আপনার ছোটবেলার কথা। যে সময়গুলো আপনি খুবই উপভোগ করেছেন। আর সেগুলো আপনার কাছে খুবই স্পেশাল।
- আবার আপনার খুব কাছের বন্ধুকেও ফোন করে কথা বলে নিতে পারেন। তবে আপনার সঙ্গীর কী হয়েছে আর আপনি কেন রেগে আছেন। তার থেকে পুরনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করাই ভালো।
- নিজের অ্যাটিচিউড বদলানোর চেষ্টা করুন। এমন যদি দেখেন যে সবার সঙ্গে আপনার ঝামেলা হচ্ছে। কারও কোনো কথাই আপনি মেনে নিতে পারছেন না তাহলে বুঝতে হবে আপনারই কোথাও ভুল হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে প্রথমেই নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানো দরকার।
- রাগ চেপে রাখেন যারা তাদের জন্য প্রানিক হিলিং খুবই উপকারী। এই পদ্ধতি মনের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ ভুলে যেতে সাহায্য করে।
প্রয়োজন আত্মবিশ্বাসের
লম্বা, ছিপছিপে, মেদহীন শরীর, নিখুঁত গড়ন-না, কোনো সংজ্ঞাই আপনার ফিগারের সঙ্গে মিলছে না। আয়নার সামনে আপনার প্রতিবিম্ব বলে আপনি মোটার দিকেই। তবে তার জন্য অকারণে মন খারাপ করার অথবা হীনম্মন্যতায় ভোগার কোনো প্রয়োজন নেই। মোটা তো কী হয়েছে! আসলে প্রয়োজন আত্মবিশ্বাসের। গ্লাস সাইজেও পারফেক্ট থাকা যায়। ফিট অ্যান্ড হেলদি থাকার জন্য দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা একান্ত প্রয়োজন। তার মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যালেন্সড ডায়েট এবং নিয়মিত এক্সারসাইজ।
একটু মোটাসোটা, গোলগাল বলেই ছেলেবেলা থেকে সকলের কাছে আদর পেয়েছেন। বড় হয়ে বন্ধুদের কাছে হাসি-ঠাট্টার সঙ্গে কিছুটা প্রশ্রয় ছিল, না কি? এই স্মৃতিগুলোই তো আপনার সম্পদ। হ্যাঁ, মাঝে মাঝে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেলে অনেক দিন পরে দেখা হওয়া আত্মীয় বলতেই পারেন, ‘তুই কিন্তু বেশ মোটা হয়ে গিয়েছিস’। কিন্তু তাতে মুষড়ে পড়ার কিছু হয়নি। পৃথিবীতে সব মানুষই কি ছিপছিপে সুঠাম, ব্যাকরণসম্মত ফিগারের অধিকারী হবে? এটা কখনোই সম্ভব নয়। তাই এসব ছোটখাটো মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের চেহারাকে বিচার করতে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। একেকজন মানুষের গড়ন একেক রকমের।
দৈনন্দিন জীবনে নানা ছোটখাটো ঘটনা কি বারবার আপনার হীনম্মন্যতা তৈরি করে? আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা খায় প্রতিনিয়ত? নাই বা হলেন আপনি তন্বী সুন্দরী। অথবা শপিং মলে গিয়ে কোনো পোশাক পছন্দ হলেও সেই পোশাকটি আপনি কিনে ফেলতে পারেন না। কারণ, আপনার সাইজেই পাওয়া যায় না। তাতেও দমে যাওয়ার কিছু নেই।
সামান্য গোলগাল চেহারা অথবা এক্সএল সাইজের পোশাক এই সবকিছু কি একজন মানুষকে বিচার করার মাপকাঠি হতে পারে! হ্যাঁ, মানছি প্রত্যেক মানুষের কাছেই বাহ্যিক সৌন্দর্য গুরুত্ব রাখে। কিন্তু জীবনে চলার পথে বাহ্যিক সৌন্দর্যের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ আপনার আত্মবিশ্বাস, কখনোই ওভার ওয়েট বলে আপনি হীনম্মন্যতায় ভুগবেন না। আসল কথা হলো সুস্থ এবং হেলদি থাকা; ওভারওয়েটের হলে দেখা দিতে পারে নানা রকম অসুখ। আবার চিন্তাটা সেখানেই। কিন্তু মোটা হওয়া কি শুধু বেশি খাওয়া, এক্সারসাইজ না করার ওপর নির্ভর করে? একেবারেই না।
মোটা হওয়ার পেছনে থাকতে পারে অনেকগুলো কারণ। তাই কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা যত চেষ্টাই করি না কেন একটা পর্যায়ের পরে বাড়তি ওজন আর কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসতে চায় না। আর এসবের মধ্যে প্রধান হলো মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ড। অনেক ক্ষেত্রেই জেনেটিক কারণে আমাদের মোটা হওয়ার ধাত দেখা দিতে পারে। এর মানে এই নয় যে, আপনার মা মোটা হলে আপনিও মোটা হয়ে যাবেন। এ রকম তো হতেই পারে যে, আপনার বাবা রোগার দিকে। আর তাই জিনই আপনার মধ্যে বেশি সক্রিয়। সে ক্ষেত্রে আপনার মোটা হওয়ার সম্ভাবনা কম। আর মা-বাবা যদি দুজনই মোটা হন সে ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও আপনার মোটা হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। আসলে জিন আমাদের শরীরে ফ্যাট স্টোরেজকে খুব বেশি মাত্রায় প্রভাবিত করে থাকে। অন্যদিকে আবার থাইরয়েড গ্ল্যান্ড যদি সঠিকভাবে কাজ না করে সে ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে ওজনের সমস্যা। থাইরয়েড গ্ল্যান্ড থেকে নিঃসৃত হরমোন আমাদের শরীরের মেটাবলিজমকে নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের শরীরের মেটাবলিজম রেটই নির্ধারণ করে কে কত তাড়াতাড়ি ক্যালরি বার্ন করতে পারবে। যখন থাইরয়েড গ্ল্যান্ড থেকে হরমোন নিঃসরণ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায় তখনই দেখা দেয় হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রেই হাইপোথাইরয়েডিজম দায়ী হয় অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির জন্য। আবার অনেক মহিলার ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রম থাকলে ওজন বাড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রশ্ন হচ্ছে বুঝবেন কী করে যে আপনার এমন কোনো সমস্যা আছে কি না। এর উপায়ও খুব সহজ। অনেক চেষ্টার পরও যদি দেখেন যে আপনার ওজন কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে থাকছে না তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিন। টেস্ট করলেই বুঝবেন আপনার অস্বাভাবিক ওজন বাড়ার পেছনে সঠিক কারণ কী? তাই আপনারও যদি এমন কোনো সমস্যা থাকে তাহলে ওজন বাড়া বা কমা কোনোটাই খুব একটা আপনার হাতে থাকে না।
অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে আপনার বাড়তি ওজন যেন কোনোভাবেই আপনার শারীরিক ক্ষতি না করতে পারে। ‘ফিট অ্যান্ড হেলদি’ থাকাই হলো মূল লক্ষ্য। আর ফিট অ্যান্ড হেলদি থাকার জন্য দৈনন্দিন জীবনে অবশ্যই কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা একান্ত প্রয়োজন। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যালেন্সড ডায়েট এবং নিয়মিত এক্সারসাইজ।
শুধু বাড়ির দৈনন্দিন কাজ অথবা ছেলেমেয়ের পেছনে ছোটাছুটি করাটা কখনোই এক্সারসাইজের সাপ্লিমেন্ট হতে পারে না। নিয়মিত এক্সারসাইজ করাটা একটা অভ্যাস। যারা একেবারেই এক্সারসাইজের ধারেকাছে যান না প্রথমটা তাদের পক্ষে একটু অসুবিধা হতেই পারে। আপনি প্রথমে যোগাসনের অভ্যাস করুন। তারপর আস্তে আস্তে অন্যান্য ব্যায়ামও করুন। আসলে নিয়মিত এক্সারসাইজ আপনার ইমিউনিটি সিস্টেমকে আরও বেশি স্ট্রং করতে সাহায্য করে।
চেহারা যাই হোক না কেন, তা নিয়ে কখনোই হীনম্মন্যতায় ভুগবেন না। আপনি যদি সব সময়ে অ্যাক্টিভ, ফিট এবং হেলদি থাকেন তাহলে রোগা না মোটা সেটা খুব একটা ফারাক তৈরি করবে না। অনেকেই মনে করেন, ধুর, আমি তো এমনিই মোটা, আমাকে কি আর সাজগোজ করলে মানাবে? এই চিন্তাভাবনাটাই ভুল। মোটা তো কী হয়েছে? নিজেকে সুন্দর দেখতে কার না ভালো লাগে। যাদের চেহারা ভারীর দিকে তাদের সব সময় হালকা রঙ অথবা খুব বোল্ড প্রিন্টের পোশাক না পরাই ভালো। এতে আরও বেশি মোটা দেখতে লাগে। তাই সব সময় চেষ্টা করুন সিঙ্গেল, ডার্ক সলিড কালারের পোশাক পরতে। এমন কোনো পোশাক অথবা এক্সেসরিজ পরবেন না যাতে আপনার শরীরের খুঁতগুলো আরও বেশি হাইলাইটেড হয়। যারা মোটা তাদের নেকলেস ধরনের কোনো জুয়েলারি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। একান্তই কোনো হার পরতে ইচ্ছা করলে লম্বা লেংথের নেকপিস পরতে পারেন।
সঠিক হেয়ার স্টাইলও আপনার লুক বিস্তর ফারাক তৈরি করতে পারে। যাদের মুখ গোল এবং ভারী তারা এমনভাবে চুল কাটুন যাতে আপনার মুখের চওড়া ভাবটা কম লাগে। তবে এ জন্য প্রয়োজন কোনো এক্সপার্ট হেয়ার স্টাইলিস্টের, যিনি আপনার সমস্যাটা ঠিক কোথায় তা ভালো করে বুঝবেন।
আপনার ভালো থাকাটা সম্পূর্ণভাবেই নির্ভর করছে আপনার মাইল্ড সেট এবং অবশ্যই আপনার অ্যাটিটিউডের ওপরে। আপনার মনের মধ্যে যদি সব সময়ে নিজের চেহারা নিয়ে একটা দ্বিধা আর নেগেটিভ চিন-া কাজ করে তা হলে সেটা আপনার চেহারাতেও প্রতিফলিত হবে। তাই সব সময়ে জীবনকে পজিটিভভাবে দেখার চেষ্টা করুন। সব সময়ে খুশি থাকুন। বাহ্যিক সৌন্দর্য অবশ্যই জীবনে গুরুত্ব রাখে। কিন' তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি একজন মানুষ হিসেবে কতটা সুন্দর। চারপাশের মানুষজনের প্রতি আপনার ব্যবহার এবং আন-রিকভাবেই হয়ে উঠবে আপনার প্রকৃত পরিচয়। রোগা না মোটা-এই সংকীর্ণ মাপকাঠির ওপরে সবার কাছে ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠতে আপনাকে সাহায্য করবে এই ছোট ছোট চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই।
শিশু মাথায় আঘাত পেলে...
সবার কাছে ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠতে আপনাকে সাহায্য করবে এই ছোট ছোট চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই।
বাচ্চারা খেলাধুলা করার সময়ে বা অন্যমনস্ক থাকার জন্য পড়ে যেতেই পারে। এর ফলে অনেক সময়ই মাথায় আঘাত লাগে। মাথার ওপর আঘাত লাগলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু যদি মাথার ভেতরে চোট লাগে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট চিকিৎসা করানো প্রয়োজন।
মাথায় আঘাত কীভাবে লাগতে পারে
ডাইরেক্ট হেড হিট
পড়ে গেলে বা মাথায় ভারী কিছু লাগলে এই ধরনের আঘাত লাগতে পারে। মাথা ফুলে যেতে পারে বা ভেতরে গভীর কোনো ক্ষত তৈরি হতে পারে।
নন-অ্যাক্সিডেন্টাল
এই ধরনের আঘাতের সঙ্গে পড়ে যাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। চাইল্ড অ্যাবিউজে এই ধরনের আঘাত লাগতে পারে। হয়তো বাচ্চা খুব কাঁদছে, কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। এই সময় বাচ্চাকে চুপ করানোর জন্য বাচ্চার আয়া খুব জোরে ঝাঁকিয়ে দিলেন। এর ফলে ইন্টারনাল ইনজুরি হতে পারে। বাইরে থেকে দেখলে বোঝা যায় না কোনো আঘাত লেগেছে কি না, কিন্তু বাচ্চা অতিরিক্ত কাঁদতে থাকে বা ড্রাউজি হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে সিটিস্ক্যান করে দেখতে হবে গভীর কোনো চোট লেগেছে কি না।
হেড ইনজুরির প্রকারভেদ
প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি ইনজুরি
মাথায় সরাসরি চোট লাগলে তাকে প্রাইমারি ইনজুরি বলে। যেমন-ধরুন বাচ্চার মাথায় যদি ভারী কোনো জিনিস পড়ে, তাহলে মাথা ফুলে যাওয়া, কেটে যাওয়া ছাড়াও ব্রেনে গভীর আঘাত লাগতে পারে। ইডিমা জাতীয় সমস্যা দেখা যেতে পারে। ব্রেন ফুলে যায়। যেহেতু ব্রেন স্কাল্প ভেদ করে বাইরে বের হতে পারে না। তাই নিচে নেমে গিয়ে স্পাইনাল ক্যানালের মুখে আটকে যায়। প্রাইমারি ইনজুরির কারণে এই ধরনের সমস্যা দেখা যায়। তাই একে সেকেন্ডারি ইনজুরিও বলা হয়।
এক্সটারনাল ইনজুরি
স্কাল্পে অনেক রক্ত ভেসেল থাকে। তাই সামান্য লাগলেই রক্ত বের হতে পারে। অনেক সময় আঘাত লাগার কারণে ভেইন থেকে রক্ত বেরিয়ে স্কাল্পের নিচের অংশে জমাট বেঁধে যায়। এর ফলে মাথা ফুলে যায়।
ইন্টারনাল ইনজুরি
স্কাল্পের মধ্যে এক ধরনের ফ্লুয়িড থাকে, যার মধ্যে ব্রেন ভেসে থাকে। কোনো কারণে যদি ব্রেইন নিজের অবস্থান থেকে সরে যায় বা স্কাল্পে ধাক্কা খায় তাহলে স্কাল্পে ফ্র্যাকচার পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত ফ্র্যাকচার দুই ধরনের হয়-ডিপ্রেসড ফ্র্যাকচার (স্কাল্পের হাড় ভেঙে ব্রেনের ভেতরে ঢুকে যায়) ও লিনিয়ার ফ্র্যাকচার (হাড়ের মধ্যে চিড় ধরে)। এ ছাড়া ব্রেনের ভেতরে রক্ত ঝরতে পারে।
ইন্টারনাল ইনজুরি ৪টি স্তরে প্রভাব ফেলতে পারে
কানকাশন
বাচ্চা ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়, জ্ঞান থাকে কিন্তু কী করছে, কী হয়েছিল কিছুই মনে করতে পারে না। এমন হয় খুব বেশি কাঁদতে শুরু করে, না হয় অতিরিক্ত হাসতে থাকে।
লেথার্জি
বাচ্চা ড্রাউজি হয়ে যায়। ঠিকমতো রিঅ্যাক্ট করতে পারে না।
স্টুপার
আশপাশে কী হচ্ছে বুঝতে পারে না, কিন্তু ব্যথা দিলে বুঝতে পারে ও রিঅ্যাক্ট করে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
- মাথায় আঘাত লাগার পর বাচ্চা যদি অজ্ঞান হয়ে যায়। স্কাল্প কেটে যদি রক্ত পড়তে থাকে।
- কথা বলতে বা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। আঘাত পাওয়ার পর যদি দেখতে না পায়।
- অতিরিক্ত বমি করলে কিংবা নাক, কান, মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকলে।
- খিঁচুনি হতে থাকলে।
যদি আঘাত লাগার পর বাচ্চার মধ্যে কোনো রকম অস্বাভাবিকতা লক্ষ না করেন তাহলে এতটা চিন্তার কোনো কারণ নেই। তখনকার মতো মাথায় আইস প্যাক দিতে পারেন। তবে বাচ্চার ওপর আগামী ২৪ ঘণ্টা নজর রাখুন। অনেক সময় আঘাত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে না হলেও পরে ইন্টারনাল ইনজুরির উপসর্গ দেখা যায়। তাই আপনাকে সচেতন থাকতে হবে সব সময়।
মাথায় চোট লাগার আশঙ্কা কমান
- বাসায় এমনভাবে জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখবেন না যাতে করে বাচ্চারা জিনিসপত্রে বেঁধে হোঁচট খায় কিংবা পড়ে যেতে পারে।
- খেলাধুলার সময় বাচ্চাকে উপযুক্ত হেডগিয়ার পরান। সাইকেল চালানোর সময়, স্কেটিং করার সময়, ক্রিকেট খেলার সময় মাথায় হেলমেট পরা খুবই জরুরি।



