কমল
আশুলিয়া, ঢাকা
ডাক্তার সাহেব, আমার সমস্যা হলো স্ত্রীকে নিয়ে সন্দেহ রোগে ভুগছি। সে যদি কোনো ছেলে বা পুরুষের সাথে (আমার অবর্তমানে) দেখা বা আলাপ করে, কোনো সুন্দর ছেলের কথা আমার সাথে আলাপ করলে আমার সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। সেদিন আলট্রাসনোগ্রাম করাতে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। ডাক্তার আলাদা একটা রুমে যখন স্ত্রীকে নিয়ে যায় তখন বাইরে দাঁড়িয়ে আমার সন্দেহ হচ্ছিল। আবার পত্রিকা বা ফিল্মে যখন দেখি স্বামী বা নায়ককে বেঁধে বা মেরে সন্ত্রাসীরা স্ত্রীকে বা নায়িকাকে ধর্ষণ করে পরে খুন করে, তখন আমার মনে হয় এই রকম হয়তো আমার জীবনে ঘটতে পারে। অথবা সন্ত্রাসীরা যদি এভাবে আমাদের আক্রমণ করে। এ জন্য আমি বড় সমস্যায় পড়েছি। স্ত্রীকে কোথাও যেতে দিতে (তার আত্মীয়ের বাড়িতে যেখানে ছেলে আছে) মন চায় না। আবার যেখানে সন্ত্রাসীরা বাস করে সেখানে যেতে ভয় করে। সব সময় স্ত্রীকে নিয়ে সন্দেহের বশে আজেবাজে চিন্তা মাথায় চলে আসে। কিছুতেই তখন শান্তি পাই না। আমার ভালো ঘুম হয় না, যা হয় সেই ঘুমে মোটেই তৃপ্তি পাই না। দেহ মন চাঙ্গা হয় না, খুব ক্লান্তি লাগে। ডাক্তারের দেয়া ওষুধ খেলে এই সমস্যাগুলো থাকে না। ওষুধ ছেড়ে দেয়ার পর আবার সমস্যা দেখা দেয়। রাতে ভালো ঘুম না হওয়াতে দুপুরে প্রচণ্ড ঘুম পায়। কিন্তু ঘুম লাগে না, বেশি পরিশ্রম করলে বা লম্বা জার্নি করলে মোটেই ঘুম হয় না। চোখ ভেতরে ঢুকে গেছে, চোখের মণি ছোট হয়ে গেছে। কিছু দিনের মধ্যে আমাকে কাজের জন্য দেশের বাইরে যেতে হবে। আমার ভয় হয় এই রোগ নিয়ে কি কাজ করতে পারব? ভালো ঘুম না হলে কাজ করতে অসুবিধা হয় তা জেনে কীভাবে যে বিদেশ যাব। এ জন্য সব সময় ভয় কাজ করে। পরামর্শ আর ওষুধ দিয়ে আমার অনিদ্রা দূর করে দেবেন এই প্রত্যাশায়।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি আপনার অনিদ্রাকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু আপনার স্ত্রীর প্রতি আপনার যে সন্দেহ সেটিও এক ধরনের মানসিক রোগ। এর নাম মরবিট জেলাসি বা ওথেলো সিনড্রম। চিকিৎসা করালে দেখবেন সন্দেহের মাত্রা কমে আসছে। আপনি আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। আপনার অনিদ্রা সমস্যা এমনিতেই চলে যাবে। এক্ষেত্রে ট্যাবলেট টেলাজিন ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে-দুপুরে-রাতে একটি করে সেবন করুন। ট্যাবলেট পারকিনিল ৫ মিলিগ্রাম সকাল-দুপুর-রাত তিন বেলা সেবন করুন। ট্যাবলেট লারগেকটিল ১০০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে একটা করে সেবন করুন। ঘুম কম হলে ট্যাবলেট ক্লোবাম ১০ মিলিগ্রাম সেবন করুন। তিন সপ্তাহের মধ্যে আপনার অবস্থার উন্নতি হবে। পরে চিঠির মাধ্যমে জানাবেন অথবা সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করবেন।
আরেফিন
সাভার, ঢাকা
হস্থমৈথুন অনিয়ন্ত্রিত মাত্রায় করলে নাকি দেহের ক্ষতি হয়। তা ছাড়া আমি একটি বইতে পড়েছি যে, শুক্র দেহ গঠনের ও পুষ্টি সাধনের অন্যতম উপাদান। কিছুদিন যাবৎ লক্ষ করছি আমার দৈহিক লাবণ্য কমে যাচ্ছে, ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে (বিশেষ করে মুখে), চোখ বসে যাচ্ছে এবং চোখের নিচে কালো দাগ পড়েছে। তাই আমি ধর্মীয় ও সেক্স সমস্যার ভয়ে ভীত। কীভাবে আমি এ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে পারব।
আমি দীর্ঘদিন যাবৎ স্মরণশক্তিহীনতা, ভুলে যাওয়া, পড়ায় অনিচ্ছা, পড়ার সময় বাজে চিন্তা আসা, ঘুম আসা, চুল ঝরে যাওয়া, পেকে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যায় ভুগছি। আমার বয়স যখন ১৩-১৪ বছর, তখন থেকে আমার স্তন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। প্রথম দিকে তেমন গুরুত্ব দিইনি। মনে করেছি স্বাভাবিক ব্যাপার কিন' অনেক দিন অতিক্রম হওয়া সত্ত্বেও যখন এটি স্বাভাবিক হচ্ছিল না তখন একজনের পরামর্শে এটিকে বিভিন্নভাবে চাপ দিলাম কিন্তু তাতে এটি আরও বড় হয়ে গেল। এখন এটি একটি অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে গেছে। দেহের গঠনও মেয়েদের মতো। স্তনের ভেতরে বড় বড় চাকার মতো হয়েছে। স্তনে, পেটের চারপাশে, কোমরের চারপাশে এবং তলপেটে প্রচুর চর্বি জমা হয়ে গেছে, যৌন এলাকা উঁচু হয়ে গেছে। জামা-কাপড় খুলে আয়নার সামনে দাঁড়ালে প্রায় মেয়েদের মতো মনে হয়। স্তনের ব্যাপারে একজন হরমোন বিশেষজ্ঞকে দেখালে তিনি বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল রিপোর্টের পর আমাকে ন্তন অপারেশন করতে বলেন। কিন্তু আমার ইচ্ছা সেনাবাহিনীতে যোগ দেব। অপারেশন করলে শরীরে যে স্পট পড়বে তাতে আমার এই ইচ্ছা পূর্ণ হবে না। তাই অপারেশনের ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছি। আপনি দয়া করে বলবেন কী করে অপারেশন ছাড়া আমার স্তন ও দেহ পুরুষের মতো করা সম্ভব। আমি মেয়েদের দেখলে খুব নার্ভাস হয়ে পড়ি। ঠিকমতো কথা বলতে পারি না, হার্টবিট বেড়ে যায়, কথা এলোমেলো হয়ে যায়। অপরিচিত পুরুষের সাথে কথা বলতে গেলেও এ রকম হয়। মনে হয় সবাই আমাকে বোকা ভাবছে, স্মার্টলেস মনে করছে। তাই আমি প্রায়ই কারও সাথে কথা বলি না, মেয়েদের সামনে যেতে লজ্জাবোধ হয়, মনে হয় সবাই আমার দৈহিক গঠন নিয়ে হাসাহাসি করছে। মাঝে মাঝে মেয়েদের সাথে কথা বলতে গেলেও ভয় হয়। অনেক দিন এক সাথে মেয়েদের সাথে ক্লাস করেও প্রয়োজনে কারও সাথে কখনো কথা বলিনি। মনে হয় মেয়েদের সাথে কথা বলতে গেলে হয়তো ওরা আমাকে বেহায়া মনে করবে। আমার বন্ধুরা যখন মেয়েদের সাথে ফ্রি আচরণ করে তখন আমার খুব খারাপ লাগে। আমার ইচ্ছা হয় সবার সাথে ফ্রিভাবে বন্ধুত্ব করি, কথা বলি। কিন্তু কেন যেন পারি না। তা ছাড়া আমার দৈহিক গঠনের জন্য সব সময় বিষণ্ন থাকি, সবাই আমাকে দেখে হয়তো খেত খেত মনে করে-এই চিন্তিই সারাক্ষণ মাথায় থাকে। স্যার আপনার কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, আমি দৈহিক ও মানসিক সমস্যাগুলো থেকে মুক্ত হতে পারি সে জন্য আপনার পরামর্শ চাই।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি লো-সেলফ স্টেম সমস্যায় ভুগছেন। পাশাপাশি নানা যৌনবিভ্রান্তির কারণে আপনার মনের ওপর নানা উপসর্গ চেপে বসেছে। আপনার দরকার সাইকোথেরাপি এবং সেক্সুয়াল কাউন্সিলিং। আপনি আমাদের মনোজগত প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত সেক্স গাইড সিরিজের বইগুলো পড়ে দেখতে পারেন। পাশাপাশি সেক্সুয়াল কাউন্সিলিংয়ের জন্য আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগের জন্য পরামর্শ থাকল। আপনার পাঠানো রিপোর্টগুলো আমরা পড়েছি। এতে অস্বাভাবিক কিছুই নেই। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না।
কেয়া চৌধুরী
কালিগঞ্জ
আমি একজন এতিম অসহায় পরিচয়হীন মেয়ে। আমাকে ১৯৮২ সালে কাকশিয়ালী নদীর ফেরিঘাট থেকে ২-৩ দিন বয়স অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক সন্তানহীন পিতা-মাতা আমাকে লালন-পালন করেন। আমার পাশের বাড়ির এক মহৎ হৃদয়বান মানুষ তার পরিবারের অনিচ্ছায় আমাকে গ্রহণ করে। যার কারণে আমাকে অনেক বিব্রতকর পরিস্তিতির মোকাবেলা করতে হয়। সে বর্তমানে আমার বাড়ির পাশের একজন ডাক্তারের অধীনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। বর্তমানে আমি আমার পালিত বাবা-মায়ের কাছে আছি। কিন্তু আমি আমার পালিত বাবা-মাকে সহ্য করতে পারি না। তাদের কোনো কথা আমার শুনতে ভালো লাগে না, কারণ আমার পিতা একজন অলস। কোনো কাজকর্ম করে না। তাই এখানে আমার মোটেও ভালো লাগে না। এদিকে স্বামী প্রশিক্ষণার্থী যার কারণে ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে এই পরিবেশের সাথে থাকতে হচ্ছে। শুধু আমার স্বামীর ভালোবাসায় আমি বেঁচে আছি। কিন্তু আমি তার কথা সব সময় শুনি না। যেমন-তিনি বললেন নামাজ পড়তে, কোরআন পড়তে, সব সময় ওড়না মাথায় দিতে অথচ অলসতা করে করি না। স্বামী অনেক কঠিন ভয় দেখায়, অথচ পারি না ঠিকমতো পালন করতে। সব সময় একা থাকতে ভালো লাগে, মাঝে মাঝে মনে হয় আমার কেউ নেই। সব সময় মরে যেতে ইচ্ছা হয়। মনে হয় আমার জন্য আমার স্বামীর অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। সে ভালো সঙ্গী পেত, বড়লোক শ্বশুর পেত। সব সময় মন খারাপ থাকে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। কাউকে সহ্য করতে পারি না। কারও উপদেশ শুনতে ভালো লাগে না। নিজেকে সব সময় অসহায় মনে হয়, মনের মধ্যে খুব দুঃখ সব সময়। সন্ধ্যা হলে শরীর খারাপ লাগে। ঘাড়ের শিরা যন্ত্রণা করে, বাম ঘাড়ের শিরা ফুলে ওঠে। মনে ভীষণ পরীক্ষাভীতি। গরম ও শীতকালে হাতের তালু, পায়ের তলা জ্বালা করে। বুকের ভেতর এক অজানা অনুভূতি মোচড় দিয়ে ওঠে, যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারি না। সে সময় স্বামীকে খামচে, মুচড়ে ধরি। খুব বেশি ইমোশনাল এবং সেন্টিমেন্টাল, অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে যাই। আমার জন্মদাতাদের দেখতে খুবই ইচ্ছা করে, তাদের পেলে আমি কী করব জানি না।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি বিষণ্নতা সমস্যায় ভুগছেন। এক্ষেত্রে আপনার মনের মধ্যে একটি দ্বন্দ্ব কাজ করছে। যেটি সাইকোথেরাপি আর কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে উপড়ে ফেলতে হবে। আর বিষণ্নতা সমস্যার জন্য আপাতত ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় ২টা একসঙ্গে সেবন করুন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম সকালে সেবন করুন এবং আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে কাউন্সিলিংয়ের জন্য সরাসরি যোগাযোগ করুন।
অভি
সাতক্ষীরা
মাসিক শুরুর দিন থেকে পরবর্তী মাসিক শুরুর আগ পর্যন্ত কোন দিনগুলোতে দেহমিলনে সন্তানের সম্ভাবনা থাকে না আর কোন দিনগুলোতে বেশি থাকে। দেহমিলনে কি ছেলেদের আয়ু কমে যায় এবং মেয়েদের আয়ু বৃদ্ধি পায়। আমার এক আত্মীয়া ১৭ বছর বয়সে গর্ভবতী হয়েছে। জানি গর্ভধারণের প্রকৃত বয়স ২০। এখন তাদের কী করা উচিত? যৌনাঙ্গের সাধারণ দৈর্ঘ্য কত? এবং পেনিসের সাধারণ এবং স্ফীত অবস্থায় দৈর্ঘ্য কী পরিমাণ? গত পত্রিকাতে আমাকে সেক্স গাইড পড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আপনাদের কাছ থেকে পেতে হলে কত টাকা পাঠাতে হবে জানাবেন।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। মাসিক ঋতুর কোন দিন সঙ্গম করলে সন্তান হবে আর কোন দিন করলে সন্তান হবে না সেটি মূলত প্রাকৃতিক পরিবার পরিকল্পনা নামেই পরিচিত। সাদামাটা হিসেবে ঋতুর মাঝামাঝি সময়ে, সাধারণত ১৪তম দিবসে ডিম্বাণুর বিকাশ ঘটে। সুতরাং হিসেব হলো মাসিক ঋতুর প্রথম দিকে এবং শেষের সময়গুলোতে সঙ্গমে গর্ভধারণের ঝুঁকি তেমন একটা থাকে না। উল্লেখ্য যে, মাসিক যেদিন শুরু হয় সেদিন থেকে এ হিসেব করতে হয়। আপনি এ ব্যাপারে আপনার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা অফিসারের সাথে দেখা করতে পারেন। আমাদের মনোজগত প্রকাশনীর সেক্স গাইড সিরিজের বইগুলো সংগ্রহের জন্য আপনি সার্কুলেশন ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করুন।
মো. সাজিদ
বরিশাল
মনোজগত পত্রিকায় পাঠানো আমার সমস্যাগুলোর সমাধান পেয়েছি। তবে বিগত জানুয়ারি সংখ্যায় প্রকাশিত আমার উপসর্গগুলোর সাথে মিলেছে এমন কয়েকজন রোগীর প্রেসক্রিপশন দেখে আপনার ওখানে চিঠি পাঠানোর দরুন পনেরো দিন আগে থেকেই ক্যাপসুল প্রলার্ট ২০ মিলিগ্রাম এবং রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম খেতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় যখন আমার প্রেসক্রিপশন দেখতে পেলাম আমাকে আপনি প্রদীপ নামে ট্যাবলেট ২০ মিলিগ্রাম, রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম ও পাশাপাশি টেলাজিন খেতে বলেছেন। এক্ষেত্রে যেহেতু প্রলার্ট ক্যাপসুল খেয়েছি এবং টেলাজিন এককভাবে পনেরো দিন খেয়েছি অর্থাৎ তাল মেলাতে পারতাম না। সে ক্ষেত্রে কোনো পরামর্শ দিতে প্রয়োজনবোধ করলে আগামী সংখ্যায় প্রকাশ করবেন দয়া করে। আর ওই ওষুধগুলো যখন খেয়েছি তখন দিন দিন আমি শুকাতে শুরু করেছি। রোগ থেকে অবশ্য অনেকটা পরিত্রাণ পেয়েছিলাম, বলতে গেলে এখন আমি সুস্থ। কিন্তু ওষুধ খাওয়া শেষ করার পর আমার মনে হচ্ছে ওষুধ খাওয়া অবস্থায় যেমন একটা মনে জোর পেয়েছি, খাওয়া বাদ দিয়ে তা হারাতে বসেছি। সাহস ওষুধ খাওয়াকালীন বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অফিস আদালতে যত কাজই করেছি দ্বিধা সংকোচহীনভাবে। তবে এক্ষেত্রে বলতে চাই আরও কিছুদিন ওষুধ খাওয়া লাগবে কি লাগবে না তা জানিয়ে যদি আমাকে এতটুকু উপকার করেন তবে অনেক ধন্য হব ও কৃতজ্ঞ থাকব আপনার নিকট।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আমাদের দেয়া ওষুধগুলো হঠাৎ বন্ধ করতে নেই। এগুলোকে আস্তে আস্তে বন্ধ করতে হয়। প্রথমে রিভোট্রিল মাত্রায় কমিয়ে আনতে হবে, অতঃপর এক সময় ক্যাপসুল প্রদীপটা বন্ধ করে দেবেন।
রিপন
পিরোজপুর
আমার সমস্যাগুলো হলো রাতে খারাপ স্বপ্ন দেখি, পড়া মনে থাকে না, স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেয়েছে, ক্ষয় হয়, গরমের দিনে অত্যধিক পরিমাণে ঘাম বের হয় সমস্ত শরীর থেকে, পায়খানা নরম হয়, অনেক সময় টক ঢেঁকুর ওঠে, রাতে চোখ লেগে ঘুম আসে, সকালে ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছা করে না এবং শরীর ব্যথা ব্যথা অনুভূত হয়। সকালে প্রস্রাবের জন্য তলপেটে ব্যথা হয় ও একটু ভারী মনে হয় দুই-একদিন। শরীর দুর্বল লাগে, কোনো কাজে মন বসে না। ওপরের সমস্যার জন্য আপনার মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে বাধিত করবেন।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার মধ্যে বিষণ্নতা সমস্যা রয়েছে। তবে পুরোটা মানসিক বলে উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিশেষ করে আপনার তলপেটে ব্যথা সমস্যা। আপনি এক্ষেত্রে আগে একটি ইউরিন পরীক্ষা করে দেখুন। ওখানে ইনফেকশনের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনি ট্যাবলেট কোট্রিম-ডিএস সকালে ও রাতে একটি করে সেবন করুন। আপনার সমস্যার জন্য আপনি কোনো মেডিসিন বিশেষজ্ঞকে দেখাতে পারেন। পরবর্তীতে রিপোর্টসহ আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
পারভেজ রেজা
চট্টগ্রাম
আমি একজন কলেজপড়ুয়া ছাত্র। আমি একটি সাপ্তাহিকের প্রচ্ছদে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার ছবি দেখি। প্রথম দেখাতে সে ছবিটি আমাকে এতটাই আকৃষ্ট করেছে যে পূর্ণিমার প্রতি আমার এক ধরনের ভালো লাগা সৃষ্টি হয়। দিনে দিনে সে ভালো লাগা আজ এমন একটা অবস্থা পরিগ্রহ করেছে যার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে গিয়ে আমার কাছ থেকে এরূপ আচরণ প্রকাশ পায়। যা আমাকে অন্যদের কাছে ‘পাগল’ বলে প্রতিপন্ন করে। যদিও আমি জানি তাকে (পূর্ণিমা) নিয়ে অন্য কিছু ভাবা আমার জন্য দুরাশা। তবুও আমার হৃদয়ের কোথায় যেন আমি তার উপসি'তি অনুভব করি। আমার চিন্তা-চেতনায়, ধ্যানে-জ্ঞানে এখন শুধু পূর্ণিমা। পড়তে গেলে কোনো পড়ায় যদি পূর্ণিমা শব্দটি চোখে পড়ে, তবে ওই পড়া থেকে আমার মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু আমি একজন ছাত্র তাই পূর্ণিমাকে ঘিরে এসব ভাবনা কল্পনা আমার পড়ালেখায় ক্ষতিসাধন করছে। আশা করি আমার এ সমস্যার একটা সমাধান দিয়ে উপকৃত করবেন।
আপনার সমস্যার নাম অবসেশন। এটি একটি মানসিক সমস্যা। তবে ঘাবড়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ এটি লঘু মাত্রার মানসিক সমস্যা। এক্ষেত্রে ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ২টা করে সেবন করুন। পাশাপাশি ট্যাবলেট টেলাজিন প্রতিদিন রাতে ১টা করে সেবন করুন। তিন সপ্তাহের মধ্যে আপনার অবস্থার উন্নতি হবে। তবে এক্ষেত্রে ধৈর্যের দরকার। কারণ উন্নতি ঘটে খুব ধীরগতিতে। আপনি প্রয়োজনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগে দেখাতে পারেন।
রফিক উদ্দীন
চাঁদপুর
আমি আপনার পুরাতন রোগী। আমি আজ ১২-১৪ বছরের মাথাব্যথায় ভুগছি। আপনার এখানে রক্ত পরীক্ষার পর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ১ বছর চিকিৎসা করেছিলাম। কিন্তু আপনার এখানে উচ্চমাত্রার ভিজিটের দরুন আমার আর আপনার সাথে দেখা করা হয়নি। কারণ আমি একজন অতি দরিদ্র মানুষ। অর্থের কারণে ঠিকমতো ওষুধ সেবন করতে পারি না। প্রেসক্রিপশন মতে রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক রাতে অর্ধেক খেয়ে চলেছি। কিন' অদ্যাবধি নির্মূল হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না। আমার সমস্যা হলো মাথার দুই পাশে অর্থাৎ কানের নিচে চিন চিন করে ব্যথা অনুভূত হয়। মাথা ও ঘাড়ে কী যেন চাপ দিয়ে থাকে। দয়া করে মেডিকেলের আউটডোরে আমার প্রেসক্রিপশনের ব্যবস্থা করে দিলে চির কৃতজ্ঞ থাকব।
আপনাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আউটডোরে আগের কাগজপত্রসহ দেখা করার জন্য পরামর্শ থাকল। তবে আপাতত ট্যাবলেট পিজোফেন .৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে খেয়ে দেখতে পারেন।
আবিদ হাসান
খুলনা
আমার বড় সমস্যা হচ্ছে তলপেটে নাভির নিচ থেকে পুরুষাঙ্গ পর্যন্ত প্রায় সব সময় ব্যথা করে। মলত্যাগের সময় প্রস্রাবের পরে ধাতু বেরিয়ে যায়। রাতে স্বপ্নের ঘোরে বেরিয়ে যায়। সেই দিন সমস্ত গা হাত-পা অবশ থাকে। ইতিপূর্বে বহু কবিরাজের ওষুধ খেয়েছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আর একটা সমস্যা পড়তে গেলেই মাথার সামনের দিকটা খুবই ব্যথা করে। ইতিপূর্বে কলকাতায় দেখিয়েও কোনো কাজ হয়নি। আমাকে খুব পরিশ্রম করতে হয়। আপনি এর সমাধান দিলে উপকৃত হব।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার চিকিৎসার কাগজপত্র এবং রিপোর্ট পাঠালে ভালো হতো। যৌনতাকে ঘিরে নানা বিভ্রান্তির কারণে আপনার মনের মধ্যে হয়তো দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসার সর্বাগ্রে দরকার সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে অন্ধবিশ্বাসগুলো দূর করা। আপনাকে আমাদের মনোজগত প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত সেক্স গাইড সিরিজের বইগুলো পড়ার অনুরোধ থাকল। আপনি আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
মোহাম্মদ এমরান খান
মহাখালী
আমি আপনার মনোজগত চিকিৎসা কেন্দ্রের একজন রোগী। আপনার দেয়া ওষুধ আমি ১ বছরের মতো সময় সেবন করছি। সারলিপ্ট এবং রিভোট্রিল। এ ওষুধে আমি উপকৃত হয়েছি। তবে স্বাভাবিক হতে পারছি না। আগের মতো সুন্দর করে গুছিয়ে ধারাবাহিকভাবে বক্তব্যের লেন ঠিক রেখে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি না। কোনো বিষয় নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে পারি না। কিসের যেন একটা বাধা আসে আমার ব্রেইনের মধ্যে। কোনো ব্যাপারে গভীরভাবে, সুষ্ঠভাবে আত্মনিয়োগ করতে পারি না। মনে হয় যেন আমার ব্রেইনটা বন্ধ হয়ে আছে তাই চিন্তা করতে পারছি না। দীর্ঘদিন (প্রায় ৬ বছর) একটা ভীতিকর চিন্তাজগতে থাকার কারণে আমার চিন্তাভাবনার ক্ষেত্র পরিধি খুবই সংকুচিত হয়ে গেছে। পূর্বে আমি একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক যেমন তার ছাত্রকে কোনো টিপস সম্পর্কে অবগত করে তোলে ঠিক সে রকমভাবে সুন্দর করে সাজিয়ে ভাব প্রকাশ করতাম। তখন আমার ব্রেইন সুস' ছিল। কিন' এখন সে রকম হচ্ছে না। ডাক্তার সাহেব আমি আবার পূর্বের মতো সবকিছু ফিরে পাব না। এর কারণে আমি প্রতিনিয়ত পদে পদে সবার কাছে ছোট হয়ে যাচ্ছি। আমার ওষুধ পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলে অথবা মাত্রা কমানোর দরকার হলে জানাবেন। সারলিপ্ট ৫০ মিলিগ্রাম এবং রিভোট্রিল খাবার পর উপকার হয়েছে। তবে এখন সারলিপ্ট খেলে একটু সমস্যা হয়। মনে মনে আরও জ্যাম অনুভব হয়। তবে রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম খেলে ফ্রেশনেস ভাবটা আসে। তাই ২০ দিন যাবৎ শুধু এটাই খেয়ে যাচ্ছি। বিষণ্নতা রোগের ক্ষেত্রে কি অন্য আর কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না। দয়া করে সার্বিক দিক লক্ষ করে পরামর্শ দেবেন।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি যেসব ওষুধ সেবন করছেন তাতে পরিবর্তন আনার দরকার আছে কিনা তা চিঠি পড়ে ধারণা করা কষ্টকর। কারণ রোগীর নিকট থেকে অনেক কিছুই জানার দরকার হয়। এ কারণে আপনি পুরনো কাগজপত্রসহ আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে অনতিবিলম্বে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
জামিল
কুষ্টিয়া সদর
আমি ৬ মাস যাবৎ একটি সমস্যায় ভুগছি। সমস্যাটি হচ্ছে মৃত্যুভীতি যা আমাকে ভীষণভাবে অসুস' করে তুলছে। যেমন কোনো আত্মীয়-স্বজন কিংবা পাড়া-প্রতিবেশী যখন ইন্তেকাল করে তখন আমার তেমন ভয় লাগে না জানাজা-কাফন পর্যন্ত। কিন্তু রাত হলে ওই মানুষটির কথা মনে পড়ে সর্বক্ষণ। নিজেকে একাকিত্ব মনে হয়, রাতটা কাটে দুর্বিষহ। মনে হয় আমিও মরে যাব ফলে ভয়ে কাতর হয়ে যাই। এর জন্য রাতে একা ঘুমাতে পারি না। এই সমস্যার কারণে আপনার সাথে যোগাযোগ করলে আমাকে রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক খেতে বলেছিলেন ১ মাস। তা ছাড়া অন্য ডাক্তার মুডঅন, ফ্রিজিয়াম, লেক্সোটানিল খেতে বলেছিলেন। এগুলো খাওয়ার পর সুস্থ ছিলাম। বর্তমানে এ সমস্যা আবার দেখা দিয়েছে। এখন এক ডাক্তার ডেনজিট ১ মাস খেতে বলেছেন। তেমন ভালো ফল পাচ্ছি না। তা ছাড়া প্রেসার আছে বর্তমানে ১৩০/৯০ অথবা ১১০/৭৫। গ্যাস্ট্রিক আছে, এর জন্য আলকার খাচ্ছি। তবে বুকের মাঝখানে মাঝেমধ্যে চাপ দিলে ব্যথা করে। আমার এ সমস্যার সুষ্ঠ সমাধান চাই।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যাটি ডেথ ফোবিয়া বা ভয়রোগ। এক্ষেত্রে আপনি আগের মতোই ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক সেবন করবেন। পাশাপাশি ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টি করে সেবন করবেন। ভালো লাগলেও নিজের ওষুধ নিজে বন্ধ করবেন না। কমপক্ষে এক থেকে দেড় মাস খাওয়ার পরে প্রথমে টেলাজিন বন্ধ করবেন, অতঃপর ট্যাবলেট রিভোট্রিলের মাত্রা কমিয়ে আনবেন। ধীরে ধীরে ওষুধ বন্ধ করা হলে সমস্যা হয় না। এরপরে যদি সমস্যা হয় তাহলে আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করে দেখতে পারেন।
ইকবাল হোসেন
ঢাকা
আজ আমি আমার অতি আপনজন আমার আম্মার ব্যাপারে আপনাকে কিছু জানিয়ে আপনার কাছ থেকে পরামর্শ চাচ্ছি। প্রায় এক মাস আগের ঘটনা। একদিন আমার ছোটবোন আমাদের ভাড়াটিয়া এবং আমাদের মহল্লার অনেকেই এক ফকিরবেশী লোককে রাতে ঘরে নিয়ে আসে। লোকটা কিছু অস্বাভাবিক কথা বলার কারণে আমরাসহ মহল্লার অনেকেই তাকে বড় কোনো ফকিরবেশী দরবেশ ভেবে রাত সাড়ে বারোটায় ঘরে নিয়ে আসি। ওই সময় আমাদের ঘরে গার্জিয়ান হিসেবে কোনো পুরুষ লোক ছিল না। কেবল ঘরে আমার ছোটবোন আর আমার আম্মা ছিল। সেই সুযোগে লোকটি আমার আম্মা আর বোনকে নেশাজাতীয় মিঠা পানি খাইয়ে এবং নানা রকমের ফকিরি কথাবার্তা এবং ভয়-ডর দেখিয়ে বেশ কিছু টাকা নিয়ে যায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো আমার আম্মা আর বোন নিজের হাতে তাকে টাকা তুলে দেয় কিন্তু ওই সময় তাদের স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা কাজ করেনি। তাদের তখন মনে হয়েছে কোনো এক নিয়ন্ত্রণহীন অলৌকিক ক্ষমতা তাদের বশ করে ফেলেছে। তাদের ব্রেইন কিছুতেই কাজ করতে পারেনি এটা দেখার পরও যে লোকটা তার টাকা নিয়ে যাচ্ছে। নেশা কেটে গেলে পরদিন সকালবেলা সে বুঝতে পারে যে লোকটা টাকা চুরি করেছে। এতে আম্মা খুব বড়ভাবে আঘাত পায়। কিছুতেই ভুলতে পারে না, মেনে নিতে পারছে না এই মন্দভাগ্যকে। সে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা, খাওয়ার সময়, শোয়ার সময় সকল অবস্থায় ওই লোকটার চেহারা কল্পনা করে, আফসোস করে। কিছুতেই ভুলতে পারছে না। এখন পরিসি'তি এমন হয়েছে যে, সে একাই ঘরে বসে বসে নিজের সাথে ওই বিষয় নিয়ে ভাবে, প্রশ্ন করে আবার নিজেই উত্তর দেয়। সব সময়ই বিড়বিড় করে ওই একই ব্যাপারে চিন্তামগ্ন থাকে। আমার আম্মা খুবই সহজ-সরল, তাই এ ধরনের আঘাত সহজেই গ্রহণ করতে পারেনি। সে সাংসারিক চিন্তা ভুলে গিয়ে ওই ব্যাপারেই মগ্ন থাকে। তার এসব ভাবনা তার মনে জোরপূর্বক আপনা-আপনি ভেসে আসে। আমি আপনার পত্রিকার একজন পাঠক, তাই এ ধরনের বিষয় সম্পর্কে কিছুটা অবগত আছি, এ ব্যাপারে আপনার কাছে পরামর্শ চাচ্ছি। তার এসব কষ্টদায়ক চিন্তা দূর হওয়ার কি কোনো পথ নেই?
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আমাদের সমাজে কত ধরনের প্রতারণা চলছে এটি তার একটি নমুনা। ঘটনার পর থেকে আপনার মায়ের বেলাতে যে সমস্যা হচ্ছে তার নাম অবসেশন। এক্ষেত্রে ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে একটি করে সেবন করাতে পারেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম অর্ধেক করে প্রতিদিন রাতে সেবন করান। ২ সপ্তাহ পরেই অবস্থার উন্নতি হবে। যদি অবস্থার উন্নতি না হয় তাহলে আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
আছমা নার্গিস
নরসিংদী
আমার বয়স ২০ বছর। ১৩-১৪ বছর বয়স থেকে আমার মাসিক আরম্ভ হয়। শুরু থেকে আমার মাসিক নিয়মিত হতো। কিন্তু ৪-৫ বছর যাবৎ আমার মাসিক বছরে ২-৩ বার হয়। শ্বেতপ্রদর সমস্যাটিও আমার আছে। শ্বেতপ্রদর যায় ১ বছর যাবৎ। আমার বিয়ে হয়েছে ৫-৬ মাস। আমার স্বাস্থ্য খুব ভালো। হাতের তলা-পায়ের তলা খুব বেশি ঘামে। আমার এই সমস্যাগুলোর জন্য অনেক বান্ধবী বলে আমি কখনো মা হতে পারব না। এসব কথা মনে হলে নিজেকে খুব অপরাধী এবং পাপিষ্ঠ মনে হয়। আসলেই কি আমি কখনো মা হতে পারব না। দয়া করে নিজের বোন মনে করে আমার সমস্যার প্রতিকার জানাবেন।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যাটি অনিয়মিত মাসিকের। মেয়েদের দেহ-শারীরবৃত্তিতে প্রতি মাসে গড়ে ২৮ দিনের হিসেবে মাসিক হয়ে থাকে। ১৩-১৪ বছর বয়স থেকে শুরু হয়ে সাধারণত ১৮-২০ বছর বয়সে মাসিক সুসি'ত হয়। প্রথমদিকে মাসিক খুব অনিয়মিত হয়ে থাকে। তবে ১৮ বছরের পরে মাসিক অনিয়মিত হওয়াকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে একজন গাইনোকলোজিস্ট দেখাতে হবে। আপনার দ্বিতীয় একটি সমস্যার কথা বলেছেন শ্বেতপ্রদর বা লিউকোরিয়া। এ সমস্যাটি আমাদের দেশে খুবই সাধারণ। তবে মজার ব্যাপার হলো যে, দুই সপ্তাহের ওষুধ সেবন করলে এটি ভালো হয়ে যায়। অনিয়মিত মাসিক বা শ্বেতপ্রদর কোনোটি আপনার মা হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা নয়। যেহেতু আপনি সন্তান নেয়ার পরিকল্পনা করছেন এ কারণে কোনো অভিজ্ঞ গাইনোকলোজিস্টকে দেখাতে পারেন। পাশাপাশি আমাদের মনোজগত প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত সেক্স গাইড সিরিজের বইগুলো পড়ে দেখতে পারেন।
হাসান মাহমুদ
সাভার
সমস্যা-১ : আমার দৈহিক কোনো অসম্পূর্ণতা নেই। তবু নিজেকে খুব অসুন্দর মনে হয়। এ সমস্যা প্রায় ৫-৬ বছর ধরে। সম্ভব হলে সারাদিন নিজের রুম থেকে বের হই না। মানুষের সাথে সহজভাবে মিশতে পারি না। মনে হয় আমার কোনো ব্যক্তিত্ব নেই ও সবাই আমাকে অপছন্দ করছে। স্বাভাবিক সামাজিক কর্মকাণ্ড যেমন বাজার করা, সিনেমা হলে যাওয়া সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা খুব সীমিত। তাই আমি এসব এড়িয়ে চলি। লজ্জা অত্যন্ত বেশি, কাউকে মনের কথা ঠিকমতো গুছিয়ে বলতে পারি না। মাঝে মাঝে মনকে শক্ত করে অতি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কাজে এগিয়ে যাই ঠিকই তবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নয়। সব সময় নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করি, নিজেকে অসহায় এবং কিছু একটা থেকে বঞ্চিত মনে হয়।
সমস্যা-২ : আমার বড় হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটি কিছুটা অস্বাভাবিক। ছোটবেলায় আমার শ্বাসকষ্ট, রিউমেটিক ফিভার, অ্যালার্জিসহ নানা রকম অসুস'তা ছিল বলে আমি বেশ দুর্বল ও অন-র্মুখী ছিলাম। তবে উপযুক্ত চিকিৎসায় আমি এখন বেশ সুস্থ ও সম্ভবত মানসিক সমস্যা ছাড়া বড় কোনো দৈহিক সমস্যা নেই। আমাদের বংশে ডায়াবেটিস আছে। আমার সারাক্ষণ দুশ্চিন্তা হয়। আমার খুব শিগগিরই ডায়াবেটিস হবে ও আমি যৌন অক্ষম হয়ে পড়ব এ দুশ্চিন্তা আমাকে সারাক্ষণ এমনভাবে তাড়া করে ফিরছে যে, আমি এক মুহূর্তের জন্য স্বস্তি পাচ্ছি না। রাতেও ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না। সারাক্ষণ নিজেকে পরীক্ষা করে দেখার ইচ্ছা হয়। আমার ধারণা ১৫-১৬ বছর বয়সেও আমার পেনিস যত দ্রুত ও শক্তভাবে উত্থিত হতো এখনই তার চেয়ে অনেক নমনীয় হয়ে গেছে। মনে হয় আমি খুব দ্রুত বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। ইদানীং বুক ভার লাগছে ও নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। রক্তচাপ সামান্য উচ্চ, ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছেন একদম টেনশন ফ্রি থাকতে। কিন্তু টেনশন দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমি মনোজগতের সেক্স গাইড সিরিজের ১টি বই পড়েছি। পড়ে মনে হয়েছে আমার এখনো তেমন বড় কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। তবু ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা আমার কিছুতেই কমছে না। মনে মনে সারাক্ষণ আমার শারীরিক সমস্যার সমাধান খুঁজে বেড়াই। বিভিন্ন অদ্ভুত পরিকল্পনা করি, নানা সময়ে মনোজগতে যেসব সমাধানের কথা পড়েছি সেগুলো কি সত্যিই কার্যকর? সত্যিই কি এসব সমস্যার সমাধান আছে বাংলাদেশে?
সমস্যা-৩ : ইদানীং আরেকটি সমস্যা দেখা দিয়েছে, খুব দ্রুত সবকিছু ভুলে যাচ্ছি। চিন্তা-ভাবনা কেমন যেন এলোমেলো, যুক্তিহীন হয়ে পড়ছে, সব সময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি, কেমন যেন নার্ভাস হয়ে গেছি। হাত-পা সব সময় মৃদু কাঁপতে থাকে। পারিবারিকভাবেও নিজেকে খুব দুর্বল মনে হচ্ছে। লেখাপড়া তো একদমই হচ্ছে না। ডাক্তার সাহেব আমার ভবিষ্যৎ কি অনিশ্চয়তার সাগরে হারিয়ে যাবে? আমার কী করা উচিত জানার জন্য আগামী সংখ্যার প্রত্যাশায় থাকলাম।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যার নাম সোশ্যাল ফোবিয়া বা সামাজিক ভীতি। পাশাপাশি আপনার মাঝে আত্মবিশ্বাস ঘাটতি বা লো-সেলফ স্টেমের সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা দীর্ঘদিন থাকার কারণে আপনি ক্রমশ বিষণ্নতার দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। এ কারণে আপনার মনের মাঝে নানা ধরনের নেতিবাচক চিন্তা চেপে বসেছে। যেমন আপনার বংশে ডায়াবেটিস আছে সেহেতু আপনার বিশ্বাস আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবেন এবং যৌন ক্ষমতা হারাবেন। আসল সত্য হলো বংশে ডায়াবেটিস থাকলে যে ডায়াবেটিস হবে এমন কোনো কথা নেই। আর ডায়াবেটিসের এত উন্নত চিকিৎসা বিদ্যমান যে যৌন অক্ষমতার মতো জটিলতা সৃষ্টি খুব কমই হয়ে থাকে। যদি ব্যক্তি চিকিৎসার ব্যাপারে গাফিলতি না করে। এমতাবস্থায় আপনার ওষুধের পাশাপাশি সাইকোথেরাপি, সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং, কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি দরকার। আপনি আপাতত ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে সেবন করুন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক করে সেবন করুন। আশা করা যায় ৩ সপ্তাহের মধ্যে আপনার অবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি আপনার কাউন্সিলিং নেয়ার জন্য আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে আসার অনুরোধ থাকল।
আনিছুর রহমান
জয়পুরহাট
আমি যখন এইচএসসি পাস করি তখন আমার বাবার আশা ছিল আমি ইঞ্জিনিয়ার হই। কিন্তু যখন ব্যর্থ হই তখন বাবা এবং আমি হতাশ হয়ে পড়ি। আমার বাবার একঘেয়েমি ছিল কিন্তু আমার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার যোগ্যতা বা প্রিপারেশন যে নেই সেটা আমার বাবার জানা ছিল না। আমার অমতে সে এটা হওয়ার জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করত। আমি ছিলাম পিতৃভক্ত, তাই বাবাকে সবকিছু মুখে খুলে বলার সাহস করতাম না। আমারও অন্ধবিশ্বাস ছিল বড়দের মান্য করলে সবকিছু হওয়া যায়, এবার সেটা পারি বা না পারি। পরপর দুবার যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারভিউ দিই কিন্তু ফলাফল এসে দাঁড়ায় জিরো। এরপর হতাশার বেড়াজালে পড়ে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইনি। যেখানে উত্তীর্ণ হওয়ার কথা সেখানেও আমি ব্যর্থ। ঘুম নেই, খাওয়া নেই, মানুষের সাথে বন্ধু-বান্ধবের সাথে লজ্জায় কথাবার্তা কিছুই বলি না, কেমন জানি আনমনা হয়ে মনে ভয়ের সৃষ্টি করে ফেলি। এরপর আমার কাছে কেউ আসে না, তা ছাড়া আমাদের পরিবারও মানসিক রোগ সম্বন্ধে অজ্ঞ। যেহেতু আমার বাবাও এ রকম ছিলেন অর্থাৎ রি-অ্যাকটিভ এবং সোশ্যাল ফোবিয়া। আমি তখন নিজে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে লাগলাম, না এভাবে আর কত দিন! একদিন আমার কেমন যেন মনে হলো আমি মরে যাব তবুও আমি নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যুদ্ধ করলাম, প্রথমে আমার মামার কাছে গেলাম, মামা ধমনি দেখে ওষুধ দিল এবং বলল ট্যাবলেট রাতে অর্ধেক আর সকালে অর্ধেক করে খেতে। (কী ওষুধ ছিল মনে নেই) এরপর এক মাস বন্ধ করে দিলাম খাওয়া। আবার ঘুম হয় না বুক ধড়ফড় করে, তারপর দিল ডেনজিট। কয়েক মাস খাওয়ার পর মনে করলাম অন্য কোনো ভালো ডাক্তার দেখাই। দেখি কোনো ভালো অবস্থায় পৌঁছাতে পারি কি না। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পর ডাক্তার আমাকে সেরিটেন ১০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট কোসিয়াম আর ট্যাবলেট নিউটেক দিল। এগুলো খাওয়ার পর আবার বন্ধ করে দিলাম। এরপর হঠাৎ আমার বাবা মারা গেল। আমি আরও হতাশায় পড়ি। তারপর মামা আমাকে ডেনজিট প্রতি রাতে খাওয়ার পরামর্শ দিল। ওষুধ খেতে খেতে একদম বিরক্তি এসে গেল। এবার দেখালাম অন্য ডাক্তার। ওনাকে সবগুলো বলার পর আমাকে লুডিওমিল, নোজেপ ৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন ট্যাবলেট কেরোসেট দিল। এগুলো খাওয়ার পর কোনো পরিবর্তন না দেখে আবার ওনার কাছে গেলাম। বললাম এবার বুকে পিঠে ব্যথা করে। তিনি নরট্রিলিন ১০ মিলিগ্রাম দিলেন। এ এক মাস পর আবারও অন্য ডাক্তার। তিনি রিভোট্রিল .৫ মিলিগ্রাম এক মাস খেতে দিলেন খাওয়ার পর আবার বন্ধ করে দিয়ে দু মাস পর দেখা করলাম। তিনি ভেগা ২৫ মিলিগ্রাম ও রিভোট্রিল .৫ মিলিগ্রাম খেতে দিলেন। ভেগা ট্যাবলেট আমি খাইনি। রিভোট্রিল সকাল ও রাতে খেতে বলেছে কিন্তু সকালে না খেয়ে রাতে ৫ দিন খেয়ে বন্ধ করে দিই। এখন মোটামুটি ভালোই আছি তবে সন্তোষজনক নয়। এখন আমার সমস্যা হলো কোনো কিছু করার আগে ভয় হয়, না জানি পারব কি না। যে কোনো জিনিস নিয়ে দুশ্চিন্তা, কথা গুছিয়ে বলতে না পারা, অহেতুক ভয় প্রায়ই দেখা দেয়। বুকে চাপ চাপ লাগা, মাথাব্যথা, সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা। আপনার সঠিক চিকিৎসায় ভালো হয়ে যেন জীবনটা ফিরে পাই সেই আশায়।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি বিষণ্নতা সমস্যায় ভুগছেন। এক্ষেত্রে আপনার ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি সাইকোথেরাপি দরকার। কেবল ওষুধে পুরোপুরি ভালো হওয়া সম্ভব নয়। আর বিষণ্নতা সমস্যার ক্ষেত্রে অনেক দিন ওষুধ সেবন করতে হয়। ডাক্তারের সুপারভিশনে থাকতে হয় অনেক দিন। সময়ের সাথে সাথে আপনার অবস্থার উন্নতি হলে তখন ডাক্তার নিজেই আপনার ওষুধ ক্রমশ কমিয়ে আনবেন। আপনি আপাতত ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টি করে সেবন করুন এবং ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক করে সেবন করুন। সাইকোথেরাপির জন্য আপনি মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে এসে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
রুপম
সিলেট
আমি দীর্ঘদিন ধরে ঘুম রোগে ভুগছি। পূর্বে অবশ্য রাতে মোটেই ঘুম হতো না। ডাক্তারের পরামর্শ মতে লুডিওমিল, ট্রিপটিন, অ্যামিট্রিপটাইলিন, রিভোট্রিল, ইমোভ্যান প্রভৃতি ওষুধ সেবন করেও পুরোপুরি রোগমুক্ত হতে পারিনি। ইদানীং বিয়ে করেছি এবং ঘুম কিছুটা ভালো হচ্ছে। তবে ওই ঘুমে মোটেই শান্তি পাই না, ক্লান্তি দূর হয় না। যা হোক এখন আমার প্রথম সমস্যা হচ্ছে রাতে ভালো ঘুম না হওয়াতে নতুবা কোনো কারণে যদি রাত জাগি তাহলে দুপুরে খাওয়ার পর বিছানায় গেলে প্রচণ্ড ঘুম আসে। মনে হয় তিন দিনের জন্য ঘুমিয়ে যাব। কিন্তু কিছুক্ষণ পর এই ভাব চলে যায় আর ঘুম হয় না। আমার প্রশ্ন হলো এই ঘুম যখন আসে তাহলে ঘুম হয় না কেন? আমার মনে হয় এখানেই আমার আসল রোগ। এ রোগের কি চিকিৎসা আছে?
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। বর্তমানে আপনি ঘুমের সমস্যার পাশাপাশি অন্য কোনো সমস্যায় ভুগছেন কি না সে সম্পর্কে আলোকপাত করেননি। যেমন বিষণ্নতা, অশান্তি লাগা, প্রচণ্ড অপরাধবোধ ইত্যাদি। যদি শুধু ঘুমের সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে প্রতি রাতে ট্যাবলেট লারগ্যাকট্রিল ৫০ মিলিগ্রাম এবং ট্যাবলেট ক্লোবাম ১০ মিলিগ্রাম ১টা করে সেবন করবেন। এতে অবস্থার অনেক উন্নতি হবে। ২ সপ্তাহ পরে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
মো. জিয়া উদ্দিন
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
আমার বয়স ২৯ বছর, অবিবাহিত। আমি একজন মৃগীরোগ। প্রায় ১৫ বছর যাবৎ এই রোগে ভুগছি এবং ডাক্তারের পরামর্শে টেগ্রেটল অর্ধেক করে ৩ বেলা সেবন করে চলেছি। বর্তমানে আমার দুটি সমস্যা দেখা দিয়েছে। (১) কল্পনায় থাকি এবং মনে মনে কথা বলি। নিজে নিজে হাসতে থাকি, হঠাৎ কেউ দেখে ফেললে আমি নার্ভাস হয়ে পড়ি এবং খুব লজ্জা পাই। আমার সাহস খুবই কম। অন্যদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে মনটা কেমন যেন দুর্বল হয়ে যায় এবং সাহস হারিয়ে ফেলি। তর্ক করতে গেলে মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। আমি গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। (২) আমি কোনো কিছু লিখতে গেলে আমার হাত-পা কাঁপে, বড়দের সামনে বা কর্মকর্তার সামনে কোনো কাজ করতে গেলে খুব ভয় হয় এবং হাত-পা কাঁপে। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে বিরক্ত লাগে। আমাকে কেউ ঠাট্টার মাধ্যমে কোনো কথা বললে আমি রেগে যাই। সহজে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। দুমাস আগে আমি একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার পর তিনি আমাকে রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক এবং পোলার্ট ২০ মিলিগ্রাম খেতে দেয়। আমি প্রায় ৩ মাস যাবৎ তা সেবন করে আসছি কিন' কোনো উপকার পাচ্ছি না। দয়া করে আমার এই সমস্যার সমাধান দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি ১৫ বছর যাবৎ মৃগীরোগে ভুগলেও ট্যাবলেট টেগ্রেটল অর্ধেক করে দিনে ৩ বেলা সেবন করে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি। আপনার বর্তমান সমস্যার নাম বিষণ্নতা। দীর্ঘদিন মৃগীরোগে ভোগার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্যা নিরাময়ে প্রথম শর্ত হলো মৃগীরোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি ট্যাবলেট টেগ্রেটল সকালে ১টি ও রাতে ১টি সেবন করুন। পাশাপাশি ট্যাবলেট ট্রিপটিন ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১টি করে সেবন করুন। ৩ সপ্তাহ পরে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
প্রণব মজুমদার
কক্সবাজার
এটা আমার তৃতীয় চিঠি। আমার বয়স ২৭ বছর। প্রায় ৮-৯ বছর থেকে আমার এসব সমস্যা। বর্তমানে আমার মেজাজ খিটখিটে থাকে প্রায়ই। কোনো কাজ করার পূর্বে অজানা একটা টেনশন কাজ করে, বুক ধড়ফড় করে, উত্তেজনাকর মুহূর্তে হাত ভীষণভাবে কাঁপে, কথাবার্তা আটকে যায়। একটা অস্বস্তিবোধ সব সময় কাজ করে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অহেতুক টেনশন, উৎকণ্ঠায় থাকি। মাঝে মাঝে নিজের ব্যক্তিত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন জাগে। নিজেকে খুব ছোট অনুপযুক্ত মনে হয়। সন্দেহপ্রবণতা আমার জীবনকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে। যে কোনো বিষয়ে একটা সন্দেহ অবিশ্বাস কাজ করে। মনে হয় আমাকে নিয়ে রাস্তায়, বাসায় সবাই কানাকানি করছে। সব ময় একটা অজানা ভীতি, আশঙ্কা কাজ করে মনে হয় অমুক অমুক আমার ক্ষতি করবে, আমাকে আঘাত করবে, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, পড়া ভুলে যাওয়া, কাজ কর্মে অলসতা ভীষণভাবে কাজ করে। সব সময় একটা অসি'রতা ঘিরে থাকে। মাঝে মাঝে অতীতের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলি।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি সাইকোসিস জাতীয় সমস্যায় ভুগছেন। এক্ষেত্রে ট্যাবলেট পেরোল ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে, দুপুরে, রাতে তিন বেলা সেবন করবেন। ট্যাবলেট পারকিনিল ৫ মিলিগ্রাম সকালে, দুপুরে, রাতে সেবন করবেন। পারকিনিল সেবনে খুব নিয়মিত হতে হবে। এটি সেবনে অনিয়মিত হলে মুখ দিয়ে লালা পড়া, ঘাড় বেঁকে আসা, খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া নানা সমস্যা হতে পারে। এ দুটি ওষুধ সেবন করলে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হবে। ওষুধ কিন্তু বেশ কিছু দিন সেবন করতে হবে। আপনি আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন। কখন ওষুধ বন্ধ করতে হবে সেটি আমরাই নির্ধারণ করব।
মেহেদী হাসান
দাউদকান্দি
আমার বয়স ২৩ বছর। আমার সমস্যা হলো আমি ছোটবেলা থেকেই লজ্জিত এবং ভীতু প্রকৃতির। লোকজনের সামনে গেলে বুক ধড়ফড় করে, সারা শরীর অত্যধিক কাঁপে। মানুষের সামনে কথা বলতে পারি না, কথায় তোতলামি এবং দ্রুত এসে যায়। কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারি না। মাইকের সামনে কিছু বলতেও পারি না। সমস্ত ভয়ের প্রধান কারণ হচ্ছে মানুষ দেখে ফেলবে, তারা যদি কিছু মনে করে। ভয়টা আগেই এসে যায় যেমন আগামীকাল আমাকে আজান দিতে হবে মাইকে। সারা রাত আমার ঘুম হবে না ভয় এবং টেনশনে। পরীক্ষার কিছুদিন আগে থেকেই আমার মনে হয় যেন পরীক্ষা দিতে পারব না, মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাব। আমি গত বছর বিএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। আমার আরেকটি প্রধান সমস্যা হলো কল্পনার মধ্যে ডুবে থাকা। নিজকে বড় বড় কোনো ব্যক্তিত্ব হিসেবে কল্পনা করতে আমার ভালো লাগে। যার কারণে মাথা গরম থাকে, রক্তচাপ অধিক থাকে এবং ঘুম কম হয়। আমি দুই বছর যাবৎ একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে নিম্নোক্ত ওষুধগুলো খাচ্ছি। ইনডেভার, অ্যালজোলাম, প্রদীপ, রিভোট্রিল, টেলাজিন, পারকিনিলসহ আরও অন্যান্য ওষুধ খেয়েছি। ওষুধ খাওয়াকালীন কিছুটা ভালো থাকলেও এখন আরও বেড়ে গেছে। ওষুধ ৪-৫ মাস আগে বন্ধ করেছি।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি অবসেশনে ভুগছেন। পাশাপাশি আপনার মধ্যে সোশ্যাল ফোবিয়ার সমস্যা রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনি ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে একটা করে সেবন করবেন। ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় ২টা করে সেবন করবেন। ৩ সপ্তাহ পরে আমাদের সাথে আপনার অবস্থা জানিয়ে যোগাযোগ করবেন। অন্যান্য অনেক রোগের মতো অবসেশন সমস্যার ক্ষেত্রেও অনেক দিন ওষুধ সেবন করতে হয়। কখন ওষুধের মাত্রা কমানো হবে বা ওষুধ বন্ধ করা হবে তা ডাক্তারের কাজ। আপনার দায়িত্ব ডাক্তারকে সহযোগিতা করা।
জাহেদ কাজী
চট্টগ্রাম
বয়স ২৮ বছর। বর্তমানে বেকার। আজ প্রায় ৮ বছর যাবৎ মাথা নিয়ে বড় কষ্টে আছি। আসলে আমার রোগটাই হচ্ছে বিষণ্ন যা আপনার প্রচ্ছদ রচনা বিষণ্ন মন ক্লান্ত শরীর প্রবন্ধে পড়ে বুঝতে পারলাম। আমার রোগগুলো ডিপ্রেশন, মেজর ডিপ্রেশন, ডিপ্রেসিভ এপিসোডের মধ্যে আছে। ডাক্তারের নির্দেশ মতে আমি বেশ কয়েক বছর পর্যন্ত ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম, টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম, ইনডেভার ১টি করে খেয়ে আসছি। এরপরও রাতে ঘুমটা ওষুধের ওপর নির্ভর তবুও ফ্রেশ ঘুম হয় না। দুই তিন ঘণ্টা পর ঘুম ভেঙে যায় আর আসে না। ভুলে যাওয়াটা আমার জন্য মারাত্মক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ স্মরণশক্তি নেই বললেই চলে। কোনো স্থানে এই জিনিস রাখলাম পর মুহূর্তে খুঁজে পাচ্ছি না। এভাবে অনেক জিনিস হারালাম। এই নিয়ে বড় কষ্টের মধ্যে আছি। এই পৃথিবীটা যেন আমার জন্য বিষাদে পরিপূর্ণ। কিছুই করতে পারছি না। কি চাকরি কি কাজকর্ম কিছুই না। স্কুল জীবনে আমি ভালো ছিলাম কিন্তু এখন কেন এই রকম হলাম বুঝতে পারছি না। বর্তমানে আমার এই অবস্থা কীভাবে পরিবর্তন হবে এবং কোন ওষুধ কত দিন সেবন করব জানাবেন।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি বেশ প্রকটমাত্রার বিষণ্নতা সমস্যায় ভুগছেন এবং আপনার পরিস্থিতি সমস্যাটিকে আরও প্রকট করে তুলেছে। আপনি কি এখনো ওষুধগুলো সেবন করে যাচ্ছেন তা জানাননি। এক্ষেত্রে আমাদের সাজেশন আপনি ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় খালি পেটে একসাথে ৩টা সেবন করবেন। ঘুমের জন্য ট্যাবলেট ক্লোবাম ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে একটা করে সেবন করবেন। ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি আপনার সাইকোথেরাপির দরকার। সাইকোথেরাপির জন্য আপনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে মানসিক রোগ বিভাগে দেখাতে পারেন। এভাবে ওষুধ সেবন করলে আপনার অবস্থার উন্নতি হবে অবশ্যই। পরবর্তীতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
শিবলী
লালমনিরহাট
আমি ভীষণ ভীতু। বিশেষ বিশেষ পরিসি'তিতে টেনশন ফিল করি। টেনশনে হার্টবিট বেড়ে যায়। হাত-পা বিশেষ করে মাথা কাঁপে। মনে হয় যেন সেন্স হারাব। সমস্ত শরীর হাল্কা লাগে। রেগে গেলেও এ অবস্থা হয়। যার কারণে সবার সামনে লজ্জিত হই। ছোটবেলা থেকে আমি খুব লাজুক। বেশি লোকজনের সাথে কথা বলতে গেলে নার্ভাস লাগে। টেনশনে মুখ বিবর্ণ হয়ে যায়, ঘন ঘন হাই তুলি। ভীষণ অন্যমনস্ক থাকি। আড্ডায় বন্ধুরা কী বলে অথবা ক্লাসে শিক্ষক কী বলে ঠিকমতো অনুসরণ করতে পারি না, ভুলে যাই। এমনকি কারও সাথে পরিচয় হওয়ার পরপরই তার নাম ভুলে যাই। কোনো কাজের পূর্বে অজানা টেনশন ঘিরে ধরে। দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগি। মেজাজ খিটখিটে। অল্পতেই বিরক্তিবোধ করি। আমার ঘুমের কোনো সমস্যা নেই বরং ঘুম একটু বেশিই হয়। শরীর দুর্বল লাগে, স্বাস্থ্য ভালো।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার রোগের নাম অ্যাংজাইটি নিউরোসিস। এ রোগে মনের মাঝে এক অজানা আতঙ্ক চেপে বসে। কিসে আপনার ভয় সেটি বের করা কষ্টকর। অথচ আপনি সব সময় ভয়ের মধ্যে থাকেন। মনের মাঝে সব সময় আতঙ্ক আর ভয় চেপে থাকে বলে স্মরণশক্তি ঠিকমতো কাজ করে না, মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। এ রোগের ক্ষেত্রে ওষুধের পাশাপাশি সাইকোথেরাপি ও সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আপনি এক্ষেত্রে ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম এবং ট্যাবলেট ইপাম ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে একটা করে সেবন করবেন। আশা করি ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে আপনার অবস্থার উন্নতি হবে। পরে আমাদের সাথে চিঠিতে যোগাযোগ করবেন। ঢাকায় কোনো সময় এলে আমাদের পরামর্শ কেন্দ্রে ঘুরে যাওয়ার উপদেশ থাকল।
শৈবাল
চট্টগ্রাম
নেতিবাচক চিনন্তা-ভাবনা আসে, পেপার-পত্রিকায় কোনো অসুখের রিপোর্ট পড়লে মনে হয় ওই রোগটা আমার মধ্যে আছে। ডাক্তার না দেখানো পর্যন্ত শান্তি পাই না। সমস্যা একটার পর একটা আছে। কিছুদিন পর সমস্যা একাই চলে যায়। প্রায় কল্পনা করি, ঠোঁট নেড়ে কথা বলি, মানুষের সাথে মিশতে পারি না ৩ বছর থেকে।
আপনি অবসেশনে ভুগছেন। এ রোগে একটা চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে, আপনি ইচ্ছা করেও সেটিকে সহজে মন থেকে বের করে দিতে পারেন না। তবে আপনার বেলাতে সমস্যাটি এখনো হাল্কা মাত্রার। আপনি ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে একটা করে সেবন করুন। ৩ দিন পর মাত্রা বাড়িয়ে ২টি করে সেবন করবেন। এভাবে বেশ কিছুদিন খেতে হবে। তবে ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল গ্রহণকালীন মুখ শুকিয়ে যাওয়া, পত্রিকা পড়তে গেলে চোখে সামান্য ঝাপসা লাগা, ঘনঘন পিপাসা পাওয়া, পায়খানা কোষ্ঠবদ্ধতা ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। এগুলো এ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যা পরবর্তীতে ক্রমশ কমে আসে। আপনাকে এই ওষুধ এক মাসের বেশি সেবন করতে হবে। এক মাস পরে আপনার অবস্থা জানিয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
নিরাংকো তনচংগ্যা
রাঙ্গামাটি
আমার বয়স ৩২ বছর। আমি বিগত ১৮ বছর যাবৎ মানসিক রোগে ভুগছি। বিভিন্ন ওষুধ সংগ্রহ করে খেয়েছি কিন্তু কোনো উপকার পাইনি। আমার সমস্যা হলো-আমার সব সময় ভয়-ভীতি থাকে। কারণ যে কোনো জায়গায় আমি একা একা যেতে পারি না। রোগ বেশি হলে বুকের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। অন্ধকার দেখলে রোগ বেশি হয়। আমার মন খারাপ। যে কোনো জিনিস কোথায় রাখি ভুলে যায়। সব সময় দুশ্চিন্তা থাকে। ঘরে বসে সব সময় দুশ্চিন্তা করি। রাতে ভালোভাবে ঘুমাতে পারি না। অধিক সময় জেগে থাকি। আমার ভাত খেতে ইচ্ছা করে না। এক বেলা খেলে আর এক বেলা খেতে ইচ্ছা করে না। আমি ফুটবল খেলার সময় দৌড়াতে পারি না, শরীর দুর্বল থাকে।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি বিষণ্নতা রোগে ভুগছেন। এটি একটি মানসিক রোগ। এক্ষেত্রে আপনি ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম ৩ দিন একটা করে সেবন করবেন। ৩ দিন পর থেকে ২টা করে সেবন করবেন এবং ট্যাবলেট ট্রিপটিন সন্ধ্যায় খালি পেটে খেলে সবচেয়ে ভালো হয়। পাশাপাশি ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক সেবন করবেন। এতে ভালো ঘুম হবে। যদি ঘুমের সমস্যা মনে করেন তাহলে ট্যাবলেট নকটিন ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা বা ২টি সেবন করবেন। এ রোগের অবস্থার উন্নতি হতে সময় লাগে, বিশেষ করে প্রথম দিকে ওষুধের কাজ শুরু হতেই ২-৩ সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। মনে রাখবেন এই ট্যাবলেট সেবনকালীন মুখ শুকিয়ে যাওয়া, পত্রিকা পড়তে গেলে চোখে সামান্য ঝাপসা লাগা, ঘনঘন পিপাসা পাওয়া, পায়খানা কোষ্ঠবদ্ধতা ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। এগুলো এ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যা পরবর্তীতে ক্রমশ কমে আসে। তবে ওষুধ চালিয়ে যাবেন। আমাদের সাথে এক মাস পরে যোগাযোগ করবেন।
বাদশা
দোহার, ঢাকা
আমি হঠাৎ করেই রেগে যাই, ছোট ছেলেদের সঙ্গে মিশতে বিরক্ত লাগে, অবশ্য আগে মিশেছি। রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না, এমন কি সেডিল, রিলাক্সেন, ইনোকটেন খেলেও ঘুম হয় না। এক সঙ্গে ৮টি ইনোকটেন খেয়েও দেখেছি। মাঝে মাঝে আবার প্রচুর ঘুম হয়। আমি ধূমপান করি। হঠাৎ মাথাব্যথা হয় বিশেষ করে জার্নি করলে। আগে চক্ষু ডাক্তারের পরামর্শে ইকোসিপ্রন, ভারগন এবং ইনডেভার খেয়ে উপকার পেয়েছিলাম। একা একা থাকতে ভালো লাগে, মাঝে মাঝে কাজে মন বসাতে পারি না। কারণ হঠাৎ করেই বিরক্ত হয়ে যাই। তখন যে কোনো মানুষের কথা বিরক্ত লাগে। অল্পতেই আমি রেগে যাই। তবে আমার এমনিতেই ধৈর্য আছে, মাঝে মাঝে অবাস্তব সব কথা কল্পনা করি। আমার প্রচুর টেনশন যেমন পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত। মাঝে মাঝে প্রচুর ক্ষুধা থাকলেও ইচ্ছা করে খাই না। মাঝেমধ্যে চোখ ব্যথা করে, আমার মনে হয় আমি অল্প দিনের মধ্যেই পাগল হয়ে যাব। মাঝেমধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা করলেও সেটা ইসলামের পরিপন্থী বিধায় নিজেকে নিজেই ট্যাকেল করি। দীর্ঘ তিন বছর আগে থেকে এ রকম অনুভব করে আসছি।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি বিষণ্নতা সমস্যায় ভুগছেন। পাশাপাশি আপনার মনের মাঝে অবসেশন সমস্যাও রয়েছে। আপনি ক্যাপসুল প্রদীপ প্রতিদিন সকালে একটা করে সেবন করবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক করে সেবন করবেন। নিজের পছন্দমতো ঘুমের ওষুধ সেবন করবেন না। আপনার আজকের সমস্যা আপনার ঘুমের ওষুধের আসক্তির কারণে জটিল রূপ নিয়েছে। আমাদের দেয়া ওষুধ খাওয়ার পরেও ঘুমের সমস্যা হলে ক্যাপসুল অ্যালোকটিন ৩০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে সেবন করবেন। ওষুধের পাশাপাশি আপনার সাইকোথেরাপির দরকার। সাইকোথেরাপির জন্য আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন।
আবু হেনা
সুনামগঞ্জ
বোবা মানসিক রোগে আক্রান্ত বোনের সঠিক চিকিৎসার দিকনির্দেশনার জন্য। তার সমস্যা হলো সে দিনে মানসিকভাবে বিবর্ত থাকে, এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। কোনো একটা জিনিস বারবার চিন্তা করে বা বলে, দেখায় আকার ইঙ্গিতে। কোনো কাজ করতে অনীহা করে, কোনো একটা জিনিস হারালে বা নষ্ট হলে বারবার সে কথা বলে, অনেক সময় সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় মানসিকভাবে বিবর্ত থাকে। তখন প্রস্রাব-পায়খানা করতে চায় না। অনেক সময় মাথা কামড়ায় বা ব্যথা করে বলে ইঙ্গিতে। সে অনেক সময় রাতে ঘুমায় না। সে অতীত কোনো জিনিস দেখায় বারবার বা মনে করে। তার বুকে গ্যাস পাম্প করে বা গ্যাস হয়। কোনো কাজ করবে কি করবে না এ রকম প্রায়ই করে। আমার বোনের মোটামুটি চিত্র তুলে ধরলাম এবং সঠিক দিকনির্দেশনার দিকে চেয়ে রইলাম।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি চিঠিতে আপনার বোনের উপসর্গের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা হতে আপনার বোনের রোগ সম্পর্কে কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন। সবচেয়ে ভালো হয় আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করলে। তবে আপাতত ট্যাবলেট টেলাজিন ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টি ও রাতে ১টি করে সেবন করান। পাশাপাশি ট্যাবলেট পারকিনিল ৫ মিলিগ্রাম সকালে, দুপুরে ও রাতে ১টা করে তিন বেলা সেবন করাবেন। পারকিনিল ওষুধটা যেন বাদ না যায়। টেলাজিনের কতগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে যেগুলো না হওয়ার জন্য পারকিনিল ব্যবহার করা হয়। পারকিনিল বাদ গেলে মুখ দিয়ে লালা পড়া, ঘাড় বেঁকে আসা, খাবার গিলতে অসুবিধা, হাত কাঁপা ইত্যাদি নানা সমস্যা হতে পারে। সুতরাং নিয়মিত ওষুধ সেবন করবেন। ৩ সপ্তাহ পরে অবস্থা জানিয়ে আমাদের সাথে পুনরায় যোগাযোগ করবেন।
বাবুল হোসেন
কুড়িগ্রাম
স্যার আমি প্রায় ২ বছর যাবৎ এ সমস্যায় ভুগছি। আমার সমস্যাগুলো হলো আমার সব সময় বুকের মাঝে ধড়ফড় করে, সব সময় ভয় ভয় করে ভীত থাকি। কারও সাথে কথা বলতে গেলে মুখে কথা আসে কিন্তু বলতে পারি না। কোনো অফিসারের সাথে কথা বলতে পারি না, কথা ভেতরে থাকে। তোতলামি করে থাকি এমনি নরমাল লোকের সাথে কথা বলতে পারি অথচ কোনো অফিসারের সাথে কথা বলতে পারি না। তখন কথা বলতে গেলে শরীর হাত-পা কাঁপতে থাকে। মনে হয় আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। প্রধান সমস্যা হলো আমি কথা বলতে পারি না। আমি একজন সৈনিক, অফিসারদের সাথে কথা বলতে হয়। কোনো অফিসার নাম জিজ্ঞাসা করলে বলতে পারি না, ভয়ে তখন কাঁপতে থাকে শরীর। যখন কারও সাথে কথা বলতে যায় ভেতরে কথা আসে মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। স্যার আমার সমস্যাটা দূর না হলে আমি চাকরি করতে পারব না। আমি একজন গরিব ঘরের সন্তান। আমার চাকরি করে সংসার চালাতে হয়। দয়া করে আমার সমস্যাগুলোর সমাধান জানাবেন।
আপনার রোগের নাম অ্যাংজাইটি নিউরোসিস। পাশাপাশি আপনার মাঝে তোতলামির সমস্যা রয়েছে। যা নানা পরিস্থিতিতে প্রকট হয়ে দাঁড়ায় এবং সমস্যার কারণ ঘটায়। এ রোগের ক্ষেত্রে ওষুধ দেয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং এবং বিহেভিয়ার মোডিফিকেশন করা হয়। আপনি বিহেভিয়ার থেরাপির জন্য আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন। আপাতত ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম সকালে একটি ও রাতে একটি করে সেবন করুন। ট্যাবলেট ইপাম ৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে একটা করে সেবন করুন। ৩ সপ্তাহ পরে অবস্থা জানিয়ে আমাদের সাথে পুনরায় যোগাযোগ করবেন।
মাহফুজ
মতলব, চাঁদপুর
আমার সমস্যাটি হলো ছোটকাল থেকেই তোতলামি। এটা কোনো মানসিক রোগ নয়। আমি এই বছর বিকম পরীক্ষা দিয়েছি। লেখা। পড়া করার সময় কথা আটকায় না কিন্তু কথা বলার সময় কথা বাধে। কোথাও গেলে আনন্দ করতে পারি না। আমার আশা আছে আমি ভালো চাকরি করব। কিন্তু কথা বাধে এই জন্য চাকরিতে ইন্টারভিউ দিতে পারছি না। যদি আপনি বলেন যে, আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে তাহলে সাক্ষাৎ করব। আমি আশা করি ব্যর্থ হব না।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। তোতলামি একটা সমস্যা যেটিকে ইংরেজিতে এস্টেমারিং বা এস্টেটারিং বলা হয়। মজার ব্যাপার হলো এটি একটি মানসিক সমস্যা এবং মানসিক সমস্যার শ্রেণী বিন্যাসের যে বিশ্ব স্বীকৃত বই ডিএসএম-৪ এবং আইসিডি-১০ এই বইগুলোতে এটিকে মানসিক রোগ হিসেবেই দেখানো হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে এটির পেছনে মূলত মনের আতঙ্ক সংশ্লিষ্ট থাকে প্রায় ক্ষেত্রে। এটি সারাতে স্পিচ থেরাপি, সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং ও আতঙ্ক কমানোর নানা ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে আপনার চিকিৎসক একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি প্রয়োজনে আপনাকে স্পিচ থেরাপিস্টের নিকট পাঠাতে পারেন। পাশ্চাত্যে স্পিচ থেরাপিস্ট পেশাদার পাওয়া গেলেও আমাদের দেশে এখনো গড়ে ওঠেনি। এ কারণে স্পিচ থেরাপিসহ পুরো দায়িত্ব মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরাই পালন করে থাকেন। আপনাকে আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে আসার আমন্ত্রণ রইল।
রিদওয়ানুল হক
মিরপুর, ঢাকা
সবকিছু অত্যন্ত নিখুঁতভাবে করতে চেষ্টা করি যা কোনো মানুষের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়। আর নিখুঁতভাবে করতে না পারলে মন খুঁতখুঁত করতে থাকে। যেমন কোথাও যাওয়ার সময় বিশেষ করে চুলের স্টাইল ঠিক না থাকলে, পোশাক ঠিক না থাকলে। তখন আমি আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগি। মাঝে মাঝে আমি আজেবাজে যৌন চিন্তায় নিমগ্ন হয়ে যাই, তারপর হস-মৈথুন করি। যদিও ভাবি এ রকম চিন্তা আর করব না। আবার কখনো অতীত চিন্তা, স্মৃতি বা ভবিষ্যৎ চিন্তায় ডুবে থাকি মাঝে মাঝে যা আমার কাছে অবান্তর মনে হয়। মাঝে মাঝে আমার ঘুমের সমস্যা হয়। সারারাত ঘুমাতে পারি না আবার যখন ঘুম হয় তখন খুব বেশি হয়।
আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যার নাম অবসেশন। এক্ষেত্রে ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ২টা করে সেবন করুন। পাশাপাশি ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে একটা করে সেবন করুন। ১ মাসের মধ্যে আপনার অবস্থার উন্নতি হবে। মনে রাখবেন ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল গ্রহণকালীন মুখ শুকিয়ে যাওয়া, পত্রিকা পড়তে গেলে চোখে সামান্য ঝাপসা লাগা, ঘনঘন পিপাসা পাওয়া, পায়খানা কোষ্ঠবদ্ধতা ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। এগুলো এ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যা পরবর্তীতে ক্রমশ কমে আসে। আপনাকে আমাদের মনোজগত প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত মানসিক রোগের ইত্যাদি বই পড়ে দেখার অনুরোধ থাকল।



