Skip to main content

বিশ্বের নানা দেশ

ড. একেএম শাহনাওয়াজ

স্লোভেনিয়া

অবস্থান                         মধ্য ইউরোপে অবস্থিত। এর সীমান্তে রয়েছে অ্যাড্রিয়াটিক সাগর এবং পূর্বাঞ্চলীয় আল্পস পর্বত। অস্ট্রিয়া এবং ক্রোয়েশিয়ার মধ্যবর্তী অংশে এর অবস্থান।
মোট এলাকা ২০,২৭৩ বর্গকিলোমিটার।
স্থলপথ ২০,২৫১ বর্গকিলোমিটার।
জলপথ ১২২ বর্গকিলোমিটার।
স্থল সীমান্ত ১,৩৩৪ কিলোমিটার।
সীমান্তবর্তী দেশসমূহ অস্ট্রিয়া ৩৩০ কিলোমিটার, ক্রোয়েশিয়া ৬৭০ কিলোমিটার, ইতালি ২৩২ কিলোমিটার, হাঙ্গেরি ১০২ কিলোমিটার।
সমুদ্র উপকূলীয় ভূমি ৪৬.৬ কিলোমিটার।
আবহাওয়া সমুদ্র উপকূলে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু প্রবাহিত হয়। গ্রীষ্মকালে মহাদেশীয় জলবায়ু হালকা উষ্ণ থাকে এবংপূর্বাঞ্চলের মালভূমি ও উপত্যকায় শীতকালটি বেশ ঠাণ্ডা অনুভূত হয়।
প্রধান নদী দ্রাভা, সাভা।
উচ্চতম অঞ্চল ট্রিগলাভ, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯,৩৯৩ ফুট (২,৮৬৩ মিটার) উঁচু।
নিম্নতম অঞ্চল সমুদ্রপৃষ্ঠ সমতল।
প্রাকৃতিক সম্পদ লিগনাইট কয়লা, সিসা, দস্তা, পারদ, ইউরেনিয়াম, রূপা, জলশক্তি, বনাঞ্চল।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা এবং ভূমিকম্প।
ঐতিহাসিক পটভূমি ১৯১৮ সাল পর্যন্ত স্লোভেনি ভূমি পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য এবং অস্ট্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর স্লোভেনিরা সার্ব ও ক্রোটসদের সঙ্গে মিলে একটি নতুন জাতি গঠন করে। ১৯২৯ সালে দেশটির নতুন নাম হয় যুগোস্লাভিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্লোভেনিয়া নতুন যুগোস্লাভিয়া প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়, কমিউনিস্ট রাষ্ট্র হলেও দেশটি নিজেকে সংস্কার আইনের ধারাক্রমে থেকে বিযুক্ত রাখে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সার্বদের শক্তি প্রয়োগে অসন্তুষ্ট স্লোভেনিজরা মাত্র ১০ দিনের যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৯১ সালে তারা স্বাধীনতা অর্জন করে। পশ্চিম ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে শক্তিশালী অর্থনীতি এবং স্থিতিশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে স্লোভেনিয়া একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ২০০২ সালের ডিসেম্বরে স্লোভেনিয়া ন্যাটোতে যোগদানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং ১ মে ২০০৪ সালে আরও ৯টি     রাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদান করতে সম্মত হয়। ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ লাভের জন্য ২০০৩ সালের মার্চ মাসে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে স্লোভেনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পক্ষে ৯০% ভোট পায় এবং ন্যাটোতে যোগদানের পক্ষে পায় ৬৬% ভোট পায়।
জাতীয়তা স্লোভেনীয়।
জনসংখ্যা ২০,১১,৪৭৩ জন (২০০৪)।
জন্মহার প্রতি হাজারে ৮.৯ জন (২০০৪)।
মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ১০.১৫ (২০০৪)।
গড় আয়ু পুরুষ ৭২.১৮ বছর, মহিলা ৭৯.৯২ বছর (২০০৪)।
ধর্ম রোমান ক্যাথলিক ৭০.৮%, লুথারিয়ান ১%, মুসলমান ১%, এথিক্স ৪.৩%, অন্যান্য ৩%।
শিক্ষিতের হার মোট জনসংখ্যার ৯৯.৭% শিক্ষিত; পুরুষ ৯৯.৭%, মহিলা ৯৯.৬% (২০০৩)।
বসবাসকারী জাতিগোষ্ঠী স্লোভেনি ৮৮%, ক্রোট ৩%, সার্ব ২%, বসনিয়াক ১%, যুগোস্লাভ ০.৬, হাঙ্গেরিয়ান ০.৪% অন্যান্য ৫% (১৯৯১)।
দেশটির সরকারি নাম স্লোভেনিয়া প্রজাতন্ত্র।
সরকার পদ্ধতি সংসদীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র।
রাষ্ট্রপ্রধান প্রেসিডেন্ট।
সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানী লজুবলজানা।
প্রশাসনিক বিভাগ ১৮২টি পৌরশাসিত নগর এবং ১১টি শহর পৌর প্রতিষ্ঠান।
স্বাধীনতা লাভ ২৫ জুন ১৯১১ (যুগোস্লাভিয়ার নিকট থেকে)।
মুদ্রা টোলার (SIT)
রাজস্ব বাজেট ১১.৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৩)।
সামরিক বাহিনী দায়িত্বে নিয়োজিত মোট সৈন্যসংখ্যা ৯০০০; স্থলবাহিনী ১০০%।
রেলপথ ১২০১ কিলোমিটার।
সড়কপথ ১৯.৫৮৬ কিলোমিটার; পাকা সড়ক ১৭,৭৪৫ কিলোমিটার, কাঁচা সড়ক ১৮৪১ কিলোমিটার (১৯৯৮)।
জলপথ নেই।
বন্দর ও পোতাশ্রয় আইজুলা, কুপার, পিরান।
বিমানবন্দর ১৪টি।
মোট দেশজ  
উৎপাদন (GDP) ৩৬.৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৩)।
মোট মাথাপিছু  
উৎপাদন ১৯,০০০ মার্কিন ডলার (২০০৩)।
প্রধান রপ্তানি দ্রব্য কৃষিজাত পণ্য, হালকা যন্ত্রপাতি, বস্ত্র, পাদুকা।
আমদানি দ্রব্য পরিবহনসামগ্রী, কেমিক্যাল, জ্বালানি, কাঁচামাল।
বাণিজ্য সহযোগী  
রাষ্ট্রসমূহ অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ইতালি।

হাঙ্গেরি

অবস্থান                         মধ্য ইউরোপের এই দেশটির অবস্থান রোমানিয়ার উত্তর-পশ্চিমে।
মোট এলাকা ৯৩,০৩০ বর্গকিলোমিটার।
জলভাগ ৬৯০ বর্গকিলোমিটার।
স্থলভাগ ৯২,৩৪০ বর্গকিলোমিটার।
স্থল সীমান্ত ২,১৭১ কিলোমিটার।
সমুদ্র উপকূলীয় ভূমি শূন্য (০) কিলোমিটার।
আবহাওয়া জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ। শীতকাল ঠান্ডা ও মেঘাচ্ছন্ন এবং গরমকাল উষ্ণ ও আর্দ্র।
প্রধান নদী দানিউব, টিসজা।
উচ্চতম অঞ্চল মাউন্ট কেকস, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৩৩০ ফুট (১,০১৫ মিটার) উঁচু।
নিম্নতম অঞ্চল জেজেডের (ঝুবমবফ) নিকট, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৫৯ ফুট (৭৯ মিটার) উঁচু।
প্রাকৃতিক সম্পদ বক্সাইট, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, উর্বর জমি, চাষযোগ্য ভূমি।
ঐতিহাসিক পটভূমি চৌদ্দ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে হাঙ্গেরির পশ্চিমাংশ রোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। যাযাবর গোষ্ঠী ম্যাগিয়াররা নয় শতকের শেষ দিকে দানিয়ুব নদীর মধ্য উপত্যকা দখল করে নেয়। ১০০০ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন প্রথম স্টেফেন। তিনি দেশটিকে খ্রিষ্টান অধ্যুষিত দেশে পরিণত করেন। তেরো শতকে মোঙ্গল আক্রমণে বিপর্যস্ত হয় দেশটি। চৌদ্দ শতকে বিধ্বস্ত হয় অটোমান তুর্কি আক্রমণে। আধুনিক হাঙ্গেরি রাষ্ট্র ত্রিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছিল ১৫৬৮ খ্রিষ্টাব্দে। ১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দে হাঙ্গেরি অস্ট্রিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। অস্ট্রো-হাঙ্গেরি যৌথশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৭ খ্রিষ্টাব্দে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বহুভাষিক অস্ট্রোহাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে দেশটিতে মস্কো থেকে প্রচুর সংখ্যক সৈন্য আসে। যুদ্ধের পর হাঙ্গেরি কমিউনিস্ট ভাবাপন্ন দেশে পরিণত হয়। ১৯৬৮ জেমস কাদারের নেতৃত্বে হাঙ্গেরি তার অর্থনীতিকে উদারনৈতিক করে তুলতে শুরু করে। ১৯৯০ সালে হাঙ্গেরিতে প্রথম বহুদলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশটি মুক্তবাজার অর্থনীতি গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নেয়। ১৯৯৯ সালে হাঙ্গেরি ন্যাটোতে এবং ২০০৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়।
জাতীয়তা হাঙ্গেরিয়ান।
জনসংখ্যা ১,০০,৩২,৩৭৫জন (২০০৪)।
জন্মহার প্রতি হাজারে ৯.৭৭ জন (২০০৪)।
মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ১৩.১৬ জন (২০০৪)।
গড় আয়ু পুরুষ ৬৮.০৭ বছর, মহিলা ৭৬.৬৯ বছর (২০০৪)।
ধর্ম রোমান ক্যাথলিক ৬৭.৫%, ক্যালাভিনিস্ট ২০%, লুথারীয় ৫%, অন্যান্য ৭.৫%।
ভাষা হাঙ্গেরিয়ান ৯৮.২%, অন্যান্য ১.৮%।
শিক্ষিতের হার ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে মোট জনসংখ্যার ৯৯.৪% লিখতে ও পড়তে জানে; পুরুষ ৯৯.৫%, মহিলা ৯৯.৩% (২০০৩)।
বসবাসকারী জাতিগোষ্ঠী হাঙ্গেরিয়ান ৮৯.৯%, রোমা ৪%, জার্মান ২.৬%, মারি ২%, স্লোভাক ০.৪%, রোমানিয়া ০.৭%।
দেশটির সরকারি নাম রিপাবলিক অব হাঙ্গেরি।
সরকার পদ্ধতি সংসদীয় গণতন্ত্র।
রাষ্ট্রপ্রধান প্রেসিডেন্ট।
সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানী বুদাপেস্ট।
প্রশাসনিক বিভাগ ১৯টি সাধারণ প্রদেশ এবং ২০টি নগর প্রদেশ রয়েছে।
স্বাধীনতা লাভ ১০০১ সালে স্টিফেন (প্রথম) অঞ্চলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।
মুদ্রা ফুরিন্ট (HUF)
রাজস্ব বাজেট ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৩)।
সামরিক বাহিনী দায়িত্বে নিয়োজিত মোট সৈন্যসংখ্যা ৪৩,৭৯০; স্থলবাহিনী ৫৩.৭%, বিমানবাহিনী ২৬.৩%, সদর দপ্তরে     নিয়োজিত বাহিনী ২০.০% (২০০০)।
রেলপথ ৭,৮৭৫ কিলোমিটার (১৯৯৮)।
সড়কপথ ১৮৮,২০৩ কিলোমিটার; পাকা সড়ক ৮১,৬৮০ কিলোমিটার, কাঁচা সড়ক ১০৬,৫২৩ কিলোমিটার (১৯৯৮)।
জলপথ ১,৩৭৩ কিলোমিটার।
পাইপলাইন অপরিশোধিত তেলের জন্য ১,২০৪ কিলোমিটার, প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য ৪৩৮৭ কিলোমিটার (১৯৯৯)
বন্দর ও পোতাশ্রয় বুদাপেস্ট, ডুনাজভেরাস।
বিমানবন্দর ৭৮টি।
মোট দেশজ  
উৎপাদন (GDP) ১৩৯.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৩)।
মোট মাথাপিছু    
উৎপাদন ১৩,৯০০ মার্কিন ডলার (২০০৩)।
প্রধান রপ্তানি দ্রব্য অ্যালুমিনিয়াম, গবাদিপশু, যন্ত্রপাতি, প্রক্রিয়াজাত খাবার, কোমল পানীয়, স্টিল, পরিবহন-যন্ত্রপাতি।
আমদানি দ্রব্য যন্ত্রপাতি, গাড়ি, কয়লা, তুলা, বিদ্যুৎ, সার, আকরিক লোহা, তেল, পশুখাদ্য।
বাণিজ্য সহযোগী    
রাষ্ট্রসমূহ অস্ট্রেলিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া, জার্মানি।

ড. একেএম শাহনাওয়াজ সম্পাদিত
বিশ্বের নানা দেশ বই থেকে সংকলিত