Skip to main content

মনের জানালা

ঈদের আনন্দ
আশেপাশের ঘরগুলোতে
দেখে তারা চেয়ে,
শিশুর মুখে হাসি
বাবাকে কাছে পেয়ে।
ঈদের দিনে সবাই খুশি
নতুন পোশাক নিয়ে,
কলরবে ছোটে সব
ঈদগাহ মাঠে,
এতিমগুলোর কাটছে প্রহর
হৃদয়ে ব্যথা নিয়ে,
স্রষ্টা বলেন সবার নাহি
ঈদে আসা সাজে।
মেনেছে যে আল্লাহর আইন
মাহে রমজানে,
করেছে খরচ হালাল টাকা
মোবারক কোরবানে।
তাহার তরে ঈদগাহটি
আনন্দের স্থান।
ঈদ মানে এমন নয়
দূর-দর্শনের ছবি।
পাড়ায় পাড়ায় ঘুরতে হবে
নিজেকে ভেবে পরী।

এসএম শাহজাহান
মোহাম্মদপুর, ঢাকা
ফোনঃ ০১৭২৫-৪৩৮২৭৯


সেই কষ্টগুলো
বৃষ্টি আর আমি একসঙ্গে কলেজে পড়তাম। দুজনেই খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলতে হতো না আমাদের। দুজন দুজনের মুখ দেখেই বুঝে যেতাম। যদি কখনো বিন্দুমাত্র আমার মন খারাপ হতো বৃষ্টি প্রাণপণ চেষ্টা করত আমার মন ভালো করার জন্য। শুধু দুজন দুজনকে ভালোবাসি একথাটা কখনো মুখ ফুটে বলা হয়নি। একদিন ঠিক করলাম মনের কথাটা ওকে সরাসরি বলব। বৃষ্টি বেলিফুল অনেক ভালোবাসত। অনেক বেলিফুল কিনলাম সেদিন। আর একটা নীল থ্রিপিস। ভয়, শঙ্কা, দ্বিধা সবকিছুই কাজ করছিল নিজের মধ্যে। যদি সে ফিরিয়ে দেয়। আমি রাস্তার এপাশে অপেক্ষা করছি। এই তো বৃষ্টি চলে এসেছে। আর মাত্র কিছুক্ষণ এরপর অপেক্ষার পালা শেষ হবে। বৃষ্টিকে সেদিন অসম্ভব সুন্দর লাগছিল। বৃষ্টি রাস্তা পার হচ্ছিল, হঠাৎ একটি দ্রুতগামী গাড়ি, তারপর সব শেষ। চূর্ণবিচূর্ণ স্বপ্ন, ছড়ানো-ছিটানো বেলিফুল। আমি কয়েক মুহূর্তের জন্য পাথর হয়ে গেলাম। দেখলাম আমার প্রিয়তমার সুন্দর স্নিগ্ধ মুখটাতে কেউ যেন লাল রঙের প্রলেপ দিয়ে দিয়েছে। যখন সম্বিত ফিরে পেলাম দৌড়ে গেলাম ওর কাছে। ওকে কোলে তুলে উদভ্রান্তের মতো সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকি। অস্ফুট কণ্ঠে বৃষ্টি কিছু বলতে চায়, সেই কণ্ঠ আমার কান পর্যন্ত পৌঁছায় না। তার আগেই বৃষ্টি চলে যায় অচেনা মেঘের দেশে, অধরার দেশে। আমি বৃষ্টিকে ভালোবাসি, পাগলের মতো ভালোবাসি। কিন্তু এ ছোট কথাটি ওকে বলার সময় আমি পাইনি। জানি না ও বুঝতে পেরেছিল কি না। কী বা বলতে চেয়েছিল সেই অস্ফুট কণ্ঠে? এ প্রশ্ন আমাকে সারা  জীবন তাড়া করে বেড়াবে। বৃষ্টি চলে যাওয়ার পর তার বান্ধবী ওর একটা ডায়েরি আমাকে

দেয়। ডায়েরি পড়ে জানতে পারি সেও আমাকে আমার মতোই ভালোবাসত। শুধু বলার অপেক্ষা ছিল। বৃষ্টি সমুদ্র খুব ভালোবাসত। বলত সমুদ্রের কাছে গেলে নাকি নিজের সব কষ্ট উৎসর্গ করে দেয় ওই সমুদ্রের কাছে। সমুদ্র তার বিশাল নীল জলরাশির একাংশ হিসেবে বহন করে সেই কষ্টগুলোকে। তাই আমি প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে সমুদ্রের কাছে নিজেকে হালকা করতে যাই। কারণ এ মাসটা এলেই আমি সম্পূর্ণ এলোমেলো হয়ে যাই। ফেব্রুয়ারি মাসেই বৃষ্টি আমাকে ছেড়ে চলে গেছে চিরদিনের মতো আর না ফেরার দেশে।

মো. সাইফুল ইসলাম
সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ, সীতাকুণ্ড
ফোনঃ ০১৮১২-৯১৭৮৩৬


আমার ভালোবাসা
সবটুকু ভালোবাসা তোমাকে দিলাম   
তুমি বুকের মাঝে লুকিয়ে রেখো।
দু চোখের যত স্বপ্নগুলো
তোমার চোখে ছুঁয়ে দিলাম,
তুমি নীল আকাশে তাকিয়ে দেখো।
হে আমার দুরন্ত প্রেয়সী
স্বপ্নের ডানায় ভর দিয়ে
হারাতে চেওনাকো
পারবে না তুমি।
কারণ আমার ভালোবাসা, আমার স্বপ্ন
তোমাকে আমার কাছে
ফিরিয়ে আনবে আবার
বারবার।

জাহাঙ্গীর আলম মিদুল


দুঃখে গড়া জীবন মনে রেখ
জীবনের চলার পথে অবচেতন মনের অনিচ্ছাকৃত দেয়া ছোটখাটো দুঃখ-ব্যথার খতিয়ান ও ভুলগুলো, আজ তোমার হৃদয় পাতায় ভেসে ওঠে সর্বক্ষণ অথচ কী আশ্চর্য! আমাদের চমৎকার ভালোবাসাও ছিল।

তুমি নিমিষে ভুলে যাও সেসব স্বপ্নমাখা দিন যেখানে এক টুকরো বিশ্বাস ছিল, সাধ ছিল মানুষ হওয়ার, আজ তুমি যেসব গল্প বল চমৎকারভাবে মিথ্যার রঙ মিশিয়ে। নতুন বন্ধু কিংবা আত্মীয়দের কাছে তা শুনতে বড়ই মজাদার।

গল্পের আসরে মাঝে মাঝে গর্ব করে বলে বেড়াও সুখের ছোঁয়া, প্রীতির চিহ্ন আর নিঃশর্ত প্রেম চেয়েছিল যে যুবক তোমার কাছে করুণা ভিক্ষা তাকে তুমি কিছুই দাওনি! এ তোমার কেমন খেলা?

আজ তোমার পদতলে বারবার খাচ্ছে লুটোপুটি দীর্ঘ আড়াই বছর, হয়তো এ সাধনায় বিধাতার মন উঠত, তবু তোমার এই প্রতীক্ষা তুচ্ছ আবেদনমাত্র, পাষাণ হৃদয়ে জাগে না দরদ। তোমাদের দেয়া হাজার শর্ত এখন আমার জন্য লাল ফিতার বাঁধা অফিসের যত বন্দী ফাইলের মতো, অনুমোদনের আশায় নতুন তরিকার খোঁজে প্রতিদিন ছুটে চলি ক্লান্তিহীন পথিক আমি, জীবন স্বপ্নে বিভোর।

মনে রেখ এই বিশ্বে যা কিছু ঘটে তার অন্তরালে অর্থের একটা নিয়ন্ত্রণ থাকে। কার্ল মার্ক্সের বাণী, তুমি আসবে এবং অবশ্যই ফিরে আসবে ঝরনা এ সত্যটুকু যেমন তুমি জানো, তেমনি আমিও জানি।

একেএম নূরনবী
শ্যামলী, ঢাকা
ফোনঃ ০১৯১৫-৯৬৫৯৩২


তবু ভালোবাসি
১৬ বছর বয়সে তুমি মা হলে, কিন্তু তোমার ছিল না কোনো স্বামী, ছিল না সংসার, মিলনের স্বাদ কী তা কোনো দিন তুমি পাওনি, পাওনি কারও আছর, ভালোবাসা কোনো কিছু। কিন্তু তবু তুমি আজ এক     সন্তানের মা!

তবে হ্যাঁ, তুমি কোনো খারাপ মেয়ে ছিলে না, তুমি ছিলে নিষ্পাপ, তোমার ছিল নারীত্ব। কিন্তু তবুও তুমি কীভাবে সন্তানের মা হলে তা আজ না হয় সবার কাছে রহস্য হয়েই থাক। তোমার এসব কিছু জেনেই তোমাকে ভালোবাসলাম। তোমাকে আপন করে পাওয়ার স্বপ্ন দেখলাম। তুমিও আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলে, আমাকে ভালোবাসলে নিজের মতো করে। আমি পরিবারের বড় ছেলে, বাবার টাকায় এখনো সংসার চলে। বয়স হয়েছে বাবার, হয়তো আর কিছুদিন পর সংসারের হাল ধরতে হবে আমাকে। তোমার কথা আমার বাবা-মাকে বললে তারা কখনো রাজি হবে না। কারণ তুমি এক সন্তানের মা। আমার বাবা-মা কেন? পৃথিবীর সব বাবা-মাই চান তার সন্তানকে ভালো একটা মেয়ে বিয়ে করাতে। আমি জানি তুমি ভালো, কিন্তু আমার বাবা-মা তো তা কখনো বুঝবে না। তোমাকে যদি বিয়ে করতে হয় আমাকে পরিবার ছেড়ে চলে যেতে হবে। যা আমি কখনো পারব না। কারণ আমার বৃদ্ধ বাবা-মা, ভাই-বোন এদের দেখবে কে? বাবার পরে একমাত্র আমিই তো আছি সংসারের হাল ধরার মতো কেউ।

জানি আমি তোমাকে কোনো দিন আপন করে পাব না, পারব না কখনো তোমাকে বিয়ে করতে। কারণ আমি পারব না আমার পরিবারকে ছেড়ে যেতে, পারব না আমার বাবা-মাকে এই বয়সে এসে একা করে দিতে।

কিন্তু আমারও তো মন আছে, আছে ভালোবাসা, আছে ভালোবাসার মানুষকে আপন করে পাওয়ার ইচ্ছা। আমারও তো আছে স্বপ্ন, ছোট একটা সংসার হবে আমার, আমি আমার বাবা-মা, ভাই-বোন ও প্রাণপ্রিয় স্ত্রীকে নিয়ে সুখেই থাকব। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য; স্বপ্নটা আমার কখনো সত্যি হবে না।

আমার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দিকে তাকিয়ে আমাকে সব ত্যাগ করতে হবে, ত্যাগ করতে হবে আমার ভালোবাসাকে, কবর দিতে হবে আমার সোনালি সেই স্বপ্নগুলোকে।

মিলি, আজ আমি তোমার কাছে অনেক বড় অপরাধী। জানি তুমি কখনো আমাকে ক্ষমা করবে না। আমি চাইও না তুমি আমাকে ক্ষমা করবে। তুমি আমাকে ক্ষমা করলে যে আমি শাস্তি থেকে পার পেয়ে যাব। কিন্তু আমাকে যে শাস্তি পেতেই হবে। শাস্তি যে আমার প্রাপ্য। এই জনমে না হোক পরজনমে হলেও তুমি আমাকে শাস্তি দিও, কঠিন শাস্তি।

তোমাকে আমি আপন করে পাব না, তাই বলে তো ভালোবাসতে পারব না এমন কোনো বিধান নেই। তোমাকে পাই বা না পাই, ভালো যখন বেসেই ফেলেছি ভালোবেসেই যাব। হয়তো একদিন ভালোবেসেই মরব।

ওমর ফারুক মির্জা
হাটহাজারী, চট্টগ্রাম
ফোনঃ ০১৮২৯-৬৭১৮৭১, ০১৬৭২-২৭৩৪৬৫


ব্যতিক্রম
জীবন এক ছোট বহতা নদী। এই নদীর ঢেউয়ের মধ্যে রয়েছে কিছু আনন্দ এবং অন্য রকম দুঃখ। জীবনের সুখের ডায়েরিটা এখনো বেশ হালকা। কিন্তু দুঃখের ডায়েরির পাতা অনেক ভারী। যখন ছোট থেকে বড় হলাম তখন আমি নিজেকে ব্যতিক্রম অনুভব করলাম। যা একদম অন্য রকম। অন্যদের থেকে আলাদা। আমার চারপাশের সব ছেলে আড্ডা দেয় মেয়েদের নিয়ে। কিন্তু আমি থাকি রাতের আঁধারের জেগে একলা চাঁদের মতো নিশ্চুপ হয়ে। আমার পছন্দ স্মার্ট কোনো ছেলের দিকে। আমার ভালো লাগে ও আকর্ষণ করে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী কোনো ছেলেকে। কিন্তু আমি নিজেও একজন ছেলে। শৈশব থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে আজ আমি একজন যুবক। কিন্তু আমার পছন্দ আজও অটুট, পরিবর্তনহীন। আমার কল্পনার মনিটরে, স্বল্পলোকের জগতে পুরোটাই একটি ছেলেকে নিয়ে। তারপরেও আমার কোনো বন্ধু নেই এই মর্তলোকে। জানি না কোনো জনমের, কোন ভুলের জন্য আমি আজ এমন। বন্ধু ছাড়া মানুষ কি কখনো ভালো থাকতে পারে? না পারে না, অনেক দেরিতে বুঝলাম। আজ আমিও ভালো নেই। বন্ধুর সাথে সব রকম ভালো লাগা, সুখ-দুঃখ, কষ্ট শেয়ার করা যায়। আমি রাতের অন্ধকারে নির্জনে বসে স্বপ্ন দেখি ওই বন্ধুটিকে নিয়ে যে আমার মতো ছেলে হয়েও অসহায়। আমি জানি এই ব্যতিক্রম শুধু আমি একাই নই। এই পৃথিবীতে অনেকেই রয়েছে আমার মতো দুঃখী হয়ে। মানুষ মানুষের জন্য, তবে কেউ কি আছে আমার জন্য এই সুন্দর পৃথিবীতে? বন্ধু হওয়ার জন্য? ভালোবাসা দেয়ার ও নেয়ার জন্য?

কৌশিক
নিউ মার্কেট, রাজশাহী
ফোনঃ ০১৯৩৮-৭৫০২৩৬


মনুষ্যত্বের মানবী
আমার স্বল্প বুদ্ধির দৃষ্টিতে বলব তোমার তুলনা শুধু তুমি। তোমার সাথে অন্য কারও তুলনা করা যায় না। তোমার বুদ্ধি, বিবেক, কথাবার্তার মাধুর্য আচরণের গুণাবলি সবই যেন বিস্ময়ের বিষয়। তোমার চাওয়া-পাওয়া, আবেগ অনুভূতির সাথে মিশে আছে বিনয়, সংযম আর শালীনতার ভাব। তোমার মতো একজন বন্ধুকে পেয়ে নিজেকে একজন সৌভাগ্যভান মানুষ মনে করি। বন্ধু হিসেবে তুমি অতুলনীয়। তুমি যখন আমার সাথে কথা বলো মনে হয় আমার বলার ভাষা, আবেগ-অনুভূতিকে কেড়ে নিয়ে যাচ্ছ। মন হৃদয় সবই ভেঙে কোমলতায় রূপ দিচ্ছ। তোমার বলার ভাষা যে এতই হৃদয় নিংড়ানো যা শুনে আমার পাথরসম মন গলিত বরফে পরিণত হয়ে এক ফোঁটা জলে রূপ নিয়ে বের হয়ে গেছে কোনো এক চোখের পাশ দিয়ে নিজের অজান্তে। তোমার ওই আবেগভরা বলার ভাষা, শোক ভরা হাসি আমাকে এক ইশারায় নিয়ে যায় সাগরও অতল তলে। দুঃখে, কষ্টে, সুখের অনুভূতিতে, ভালো লাগার সমস্ত আঙিনাতে বিরাজমান তোমার আদেশ-উপদেশ নিয়ে যেটুকু সাহায্য পাই তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। আমার ভাবতেও অবাক লাগে তুমি একজন নারী আর বাবা-মাহারা একজন এতিম সন্তান হয়েও এই উচ্ছৃঙ্খল সমাজের সাথে মিশে তোমার দায়িত্ব-কর্তব্য, নীতি-আদর্শ সবই যেন বিলিয়ে দিচ্ছ কারও না কারও জন্য। আমি বলব তোমার ছোট-ভাইবোনরা কখনো বাবা-মায়ের অভাব আছে বলে বুঝতে পারেনি তোমার মতো একজন মনুষ্যত্বের মানবী নামের বোনকে পেয়ে। চির সবুজ ক্লান্তহীন তোমার এই মনের মধ্যে হাজারও দুঃখ-কষ্টকে চেপে রেখে সংগ্রাম। চালাচ্ছ সুদূরের কোনো এক স্বপ্নীল সুখের জন্য। আমি আজীবন ভোরের পাখি হয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করব তোমার এই শান যেন পূর্ণ হয়।

সৃষ্টিকর্তার পদতলে তুমি সব সময়ই বিলিয়ে রেখেছ তোমার প্রিয় আঁচলখানি। ছড়িয়ে দিয়েছ কোনায় কোনায় ভালোবাসার সর্বোচ্চ পাত্রগুলো। আর তোমাকে তিনি কখনো ফিরিয়ে দেবেন না। সৃষ্টিকর্তা যাকে ভালোবাসেন তাকেই তো বুদ্ধি-বিবেক, ধৈর্র্র্য, সহনশীলতা দিয়ে তৈরি করেছেন। তিনি ছুটে আসবেন কোনো একদিন তোমার কাছে। তোমার রুচি-অরুচি, দুঃখ-কষ্ট আর অনুভূতির মধ্যে যেন অনেকটা মিল খুঁজে পাই আমার মধ্যে। দুই প্রান্তের দুজন মানুষ যেন চলে এসেছি আজ একই ছাদের নিচে। আসলে মনটা কোনো দরিদ্রতা আর অট্টালিকার কাঙালপনা নয়। মন শুধু মনকেই বোঝে। তোমার একাত্মময় পথচলা, বয়সের চেয়েও বেশি দায়িত্ববোধ আমাকে সর্বক্ষণই ভাবিয়ে তোলে। তোমাকে আমি সারাদিনের মধ্যে একবারও ভুলতে পারি না। তাই তোমার জন্য আমার অনেক কষ্ট হলেও তোমাকে সাহায্য করতেও পারি না আর সান্ত্বনা দিতেও পারি না। কারণ তোমাকে বলার মতো ভাষা আমার এখনো শেখা হয়নি। তুমি যে চিত্ত সংযমের মধ্য দিয়ে মহৎ আদর্শকে সামনে রেখে সকল স্বার্থকে ত্যাগ করেছ, এই জন্য জীবনের অপর অধ্যায়ে আছে চিরশান্তির হাতছানি। তোমার মতো একজন বন্ধুকে হয়তো কিছু দিতে পারব না। অচেনা, অজানা হয়ে সারা জীবন সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া কামনা করে যেতে পারব। ভালোবাসতে পারব হৃদয়ের সকল আবেগ-অনুভূতি দিয়ে। খুঁজে নিতে পারব নীরব, নিশ্চল, শান্ত প্রকৃতিভরা কোনো মনোরম উদ্যানে তোমার শান্তিময় প্রেরণাগুলো। মেনে নিতে পারব তোমার কোনো একদিন হারিয়ে যাওয়াকে, ধরে নেব এটাই বাস্তবতার মহৎ দান। সৃষ্টিকর্তার কাছে আজীবন বলব তোমার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চাওয়া, আগামী দিনের জন্য বোনা সুখগুলোকে তিনি প্রতিনিয়তই পূর্ণ করে দেন। আমার জন্য তুমি যতটুকু কামনা করো হয়তো তোমার এই অধম বন্ধুটি ততটুকু পারবে না। তবুও সংকল্পে বাঁধা রইল অটুট বন্ধুত্ব। সুখময় হোক তোমার পথচলা। সুন্দরে সুন্দরে ভরে উঠুক তোমার আগামী জীবন। এটাই রইল এক পাহাড়সম প্রত্যাশা। শেষ সময়ে বলব যদি তুমি আমার লেখা পড়ে কোনো কষ্ট পেয়ে থাক কোনো একদিন তাহলে সেদিন যেন সারা জীবনের জন্য ক্ষমা করো।

মো. ফরহাদ আহমদ চৌধুরী
জকিগঞ্জ, সিলেট
ফোনঃ ০১৮১৫-২৯৩৯৫৯


নিঃসঙ্গ ভাবনা
ভুলতে পারি না কিছু, ভোলা যায় না। বারে বারে মনে পড়ে কেন তা জানি না। জীবনের সময়গুলো পার হয়ে যায় কালের নিয়মেই। কালের চাকার নিষ্পেষণে প্রাণবন্ত সময়গুলোও হয়ে পড়েছে নিস্তেজ নির্জীব। তারপরও হৃদয়ের গভীর থেকে বেরিয়ে আসে একান্ত কিছু কথা। আমি যখন থেকে মানুষ, মানুষের মন এবং প্রেম-ভালোবাসা বুঝতে শিখেছি। তখন থেকে আমার একমাত্র চাওয়া হচ্ছে আমি যাকে ভালোবাসব এবং যে আমাকে ভালোবাসবে মনের দিক থেকে সে হবে একেবারে অন্য রকম, উদার, সহনশীল, রোমান্টিক, পবিত্র এবং বিশ্বাসী। সে আমাকে ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনো পুরুষের কথা ভাববে না। সে কেবল আমাকে নিয়ে ভাববে এবং গভীর করে শুধু আমাকেই ভালোবাসবে। কিন্তু হায়...ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস। যাকে পেলাম সে নিয়তিই আমার বিপরীত। সে কোনো মন বোঝে না, সে বোঝে অন্য কিছু। কিন্তু আমি বুঝেছিলাম মন, খুঁজেছিলাম প্রেম, কোনো এক স্বার্থলোভীর মাঝে, তার কাছ থেকে পেলাম শুধু আঘাত-অপমান আর অবহেলা। তাই তো এখন বলি ‘বুক ভরা ভালোবাসাকে দিয়ে আমারে লুকিয়ে রইল সে কোন বা পাথারে’ হৃদয়ে আজ অনেক কথাই জমে আছে যা বলতে এখন শুধুই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব জাগে। হৃদয়ের সব না বলা কথা আজ দুচোখে অশ্রুর প্লাবন হয়ে ঝরে পড়ে। কত দিন কত পথ একাকী হেঁটেছি আর নিজেকে প্রশ্ন করেছি জীবন কি আর এভাবে কাটবে? কারণ প্রথম জীবনের শুরুতে হৃদয়ের যে উত্তাপ পারেনি তাকে স্পর্শ করতে, আজ কি আর এই অবেলায় এসে তা সম্ভব? কেন আর মিছে চেষ্টা। কিন্তু অবুঝ হৃদয় কোনো বুঝ মানে না, কোনো বাধা মানে না, সে ঠিক তার নিজের গতিতেই ছুটে যায় আপন ইচ্ছায়।

নিজের মাঝে যে এতটা বেশি ভালোবাসা লুকিয়ে ছিল তা আগে কখনো টের পাইনি আমি। কিন্তু কোনো এক ফেব্রুয়ারির সকালের যখন গায়ের মেঠোপথ দিয়ে হেঁটে হেঁটে গিয়েছিলাম কোনো এক স্কুলে অনুষ্ঠান দেখার জন্য। যখন হঠাৎ দূর থেকে চোখে পড়ল স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সেই মেয়েটি। তখন একটু একটু অনুভব করতে পারলাম আমার হৃদয়ে, হৃদয়ের গভীরে আরও গভীরে গুপ্ত ভালোবাসার হিমালয় রয়ে গেছে কারও জন্য। তার জন্য হৃদয়ে শূন্যতা অনুভব করতে লাগলাম। এই শূন্যতা দূর করার জন্য কাজের মধ্যে ডুবে থেকেছি, হাসি আনন্দের মাঝে মজে থাকতে চেয়েছি। তবু আমার শূন্যতা দূর হয়নি। নিয়তই হৃদয়ের অপূর্ণতায় ভুগেছি। তারপর তাকে একদিন বলেছিলাম কেবল একটি দিন তোমার ভালোবাসা চাই। বাকিটা জীবন না হয় ঘৃণা আর অবহেলাই করলে, তোমার একটি দিনের ভালোবাসা পেলে বাকিটা জীবন আমি কাটাতে পারব নিরানন্দে, অপমানে, অবহেলায় কেবলই একদিন ভালোবেসে আমায়। বিনিময়ে তোমার দূরত্ব থেকে আমার হৃদয় পর্যন্ত আকাশের তারা দিয়ে সাজিয়ে ঝলমলে পথ করে দেব। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। তাকে দেবীর মতো প্রার্থনা করেও তার পাথরের হৃদয়ে ফুল ফোটাতে পারিনি আজও। আমি তার সত্যিকার ভালোবাসা পাইনি, কিন্তু আঘাত অপমান ঠিকই পেয়েছি। যাকে হৃদয় মন্দিরের শ্রেষ্ঠ দেবী করে তাকে নিয়ে দেখেছিলাম অনেক স্বপ্ন, হৃদয়ে গেঁথেছিলাম একরাশ কথার মালা, আর আজ সেই দেবী চলে যেতে চায় আমার হৃদয় মন্দির থেকে অনেক দূরে। কিন্তু দেবীবিহীন জীবনটা যে আমার কষ্টের মরুভূমি! মেঘহীন, বৃষ্টিহীন চৈত্রের বসবাস। নিঃসঙ্গ এই জীবনে কোনো ছায়াবৃক্ষ নেই যে সেখানে গিয়ে একটু আশ্রয় নেব, অশান্ত এই মনটাকে শান্ত করব। অন্ধের মতো শুধু তাকে ভালোবেসে গেলাম। কিন্তু এখনো তার পাথরের হৃদয়ে ফুল ফোটাতে পারিনি।

কে এম তরিকুল ইসলাম (নয়ন)
নগরকান্দা, ফরিদপুর
ফোনঃ ০১৯৩১-০০৬১৩৬


জীবন এত সহজ নয়!
‘সময় ভাঙে সময় গড়ে
সময় বাঁধে নীড়
জীবন ঘিরে জলের খেলা
কোনটা আমার তীর?’
সত্যিই জীবন চলার পথে সময় যে কীভাবে অতিবাহিত হয় তা বোঝানোর নয়। মানুষের বেঁচে থাকার গড় আয়ু হিসাব করলে আমার অবস্থান এখন মাঝামাঝিই বলা চলে। ছোটবেলা থেকেই আমি একটু রক্ষণাত্মক আচারবিমুখ একটা মানুষ। সার্টিফিকেটগত বিদ্যায় আমি অতটা শক্তিশালী না হলেও আদর্শগত বিদ্যায় একেবারে কম শক্তিশালী নই। আমার ন্যায়বোধ, আমার সততাই আমার অহঙ্কার। বর্তমান সময় বিচারে আমার সাফল্য যথারীতি শূন্যের কোঠায় হলেও আমি নৈতিকতাবিরোধী কোনো কাজ দ্বারা সফলতা পেতে চাই না। আমি এটাও জানি আমার দেশ বাংলাদেশ এখানে, সাফল্য জাতীয় কিছুর দেখা পেতে হলে পুরোপুরি দুই নাম্বার না হলেও দেড় নাম্বার হওয়া আবশ্যক। যাতে মোটামুটি হলেও ভালো থাকা যায়। আসলে সবার দ্বারা কি সবকিছু সম্ভব? জীবন চলার পথে ছোটখাটো হোঁচট প্রায়ই খেতে হয়েছে। মানুষকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে ভালোবেসে দুঃখের অথৈ জলে ডুবে ডুবে বিষাক্ত জল পান করেছি, এখনো করে চলেছি। জানি না এর শেষ কোথায়?

প্রতিটা জিনিসের একটা পরিবর্তন পরিবর্ধন রয়েছে কিন্তু এই আমি সেই আমিই রয়ে গেলাম, আমার পরিবর্তন কই?

মাঝে মাঝে এই অভিশপ্ত জীবন থেকে পগার পার হতে ইচ্ছা জাগে। জীবনের হিসাব মেলাতে পারছি না। জীবনের হিসাব মেলাতে গিয়ে এই বেহিসাবি আমি পরাজয়ের স্বাদ নিয়েছি বারবার। আদর্শ, সততা ফেরি করতে গিয়ে আমার নিজের পেটেই ভাত জুটছে না আজ। সত্যিই সেলুকাস বিচিত্র এই বিশ্ব। চারপাশে এত দুঃস্বপ্ন তাড়া করে ফিরলেও আমি বিশ্বাস রাখি আজ না হোক কোনো না কোনো দিন জয় আমাকে ধরা দেবেই। কারণ সত্যের জয় অসম্ভব নয়।

আমি এখনো স্বপ্ন দেখি আমাদের দেশকে আমরা সবাই মিলে ভালোবাসার, আমি স্বপ্ন দেখি সত্য ও ন্যায়ের পথে সকলে চলার, আমি স্বপ্ন দেখি বড়দের যথাযোগ্য সম্মান দেয়ার এবং ছোটদের কাছ থেকে সেরূপ সম্মান পাওয়ার, আমি স্বপ্ন দেখি মা-বোনদের চলার পথের পূর্ণ নিরাপত্তার, আমি স্বপ্ন দেখি সত্যের পক্ষে সবার নিরপেক্ষ বিচার।

আসুন আমরা সবাই সবার আগে নিজেকে ভালোবাসি, তারপর সেই ভালোবাসা ছড়িয়ে দিই সবার মাঝে কোনো সংকীর্ণতা ছাড়াই। এত হতাশার মাঝে আমি যদি আশা খুঁজে পাই তবে আপনি কেন থেমে থাকবেন। কাজেই ঘড় হতাশা রহলড়ু.

মো. শাহরিয়ার (রানা)
পূর্ব গোড়ান, ঢাকা
ফোনঃ ০১৭৫৬-৩১৪৯৬৬