Skip to main content

শৈশবে শিশুর অস্বাভাবিক আচরণ

ডা. মোহিত কামাল

ছোটবেলা থেকে অস্বাভাবিক আচরণের লাগাম টেনে ধরতে হবে। নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বদ স্বভাব। একই সাথে শিশুর এমন আচরণকে উৎসাহিত করতে হবে, যা অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য ও প্রশংসনীয় হয়।

অস্বাভাবিক আচরণের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। এ কারণে শুরুতে বদ আচরণগুলোর মূলোৎপাটন করতে হবে। বড়দের সতর্ক নজর রাখতে হবে, অভিজ্ঞতার আলোয় শিশু নিজেকে পরে সংশোধন করে নেবে, এমন আশায় বসে না থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

একটি কৌশল হচ্ছে, অস্বাভাবিক আচরণের ক্ষতিকর দিক তার সামনে ব্যাখ্যা করা, কেন সে অন্যের কাছে অপ্রিয় হয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি বিশদ উপস্থাপন করতে হবে। যদি পূনরায় বদ আচরণ করে, দু-তিন দিনের জন্য অন্যদের সাথে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখতে হবে। ঘোষণাটি জোরালোভাবে বলতে হবে শিশুকে। এ ধরনের দু-একটি এপিসোড যথার্থ কার্যকর করা সম্ভব হলে শিশুর ভেতরগত বোধ সৃষ্টি হবে, নিজের অস্বাভাবিক আচরণগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে উদ্বুদ্ধ হবে, সমর্থও হবে।  শৈশবে অস্বাভাবিক আচরণের সাধারণ কয়েকটি ধরন

ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে যাওয়া
দুই থেকে সাত বছরের প্রায় সব শিশু খেলার সময় অন্যের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে, খেলা বা খেলাধুলার কোনো সামগ্রী নিয়ে ঝগড়া বাধে। এ ক্ষেত্রে ঝগড়ার ধরনটি গুরুত্বপূর্ণ কাউকে মেরে ভূপাতিত করতে পারে কিংবা অপ্রয়োজনীয়ভাবে ফাইটিং দীর্ঘ করতে পারে, বিলম্বিত করতে পারে। সবচেয়ে বাজে ধরনের বিবাদটি ঘটে একই পরিবারের সমবয়সী অন্য শিশুর সাথে কিংবা বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে। দুর্বল শিশুকে ভয় দেখানো বা পীড়ন করার জন্য বল প্রয়োগ করা নিজেই উত্তম, এ ধরনের অনুভূতির জন্য কোনো কোনো শিশু দৈহিকভাবে অন্য শিশুকে জখম করতে পারে।  অন্যের ওপর বল প্রয়োগ করে এ ধরনের শিশুরা সবার নজর কাড়তে চায় ধরনটি হচ্ছে-কাউকে হোঁচট খাওয়ানো, চিমটি কাটা, খামচি দেয়া, কেউ চেয়ারে বসতে উদ্যত হয়েছে, পেছন থেকে চেয়ারটি সরিয়ে নেয়া অথবা কারোর মুখের ওপর দরজা সজোরে সেঁটে দেয়া ইত্যাদি।

টিজ করা
বুলিংয়ের মতো টিজিংয়ের মাধ্যমেও এ ধরনের শিশুরা অন্যের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, অন্যের মনোযোগ পেতে চায়। অন্যের অনূভূতিতে আঘাত করে অন্যের মাঝে মানসিক যন্ত্রণা সৃষ্টি করা তাদের মূল উদ্দেশ্য। টিজ করার জন্য অন্য শিশুদের খুঁতগুলো প্রথমে খুঁজে বের করে। যেমন কেউ মোটা, কেউ ছিপছিপে, কেউ খুব স্লো, কারোর সমন্বিত মুভমেন্টের সমস্যা আছে ইত্যাদির আলোকেই টিজ করে, অন্যের মাঝে বিরক্তি জাগায়, মানসিকভাবে আঘাত করে। অন্যদের সামনেও এ ধরনের অত্যাচার চলতে থাকে।

গালি দেয়া
শিশুটি যদি বুঝতে পারে অন্যের সাথে ফাইট করলে শাস্তি পাওয়ার আশঙ্কা আছে বা অন্যকে ঘুষি দিলে, লাথি মারলে বা আঘাত করলে খেলায় অংশ নেবে না সেই শিশুটি, তখন গালাগাল শুরু করে। এটাও এক ধরনের ফাইটিং।

বকবক করা, বাজে বকা
কিছু কিছু শিশু বড়দের সামনে অন্য শিশুকে নিয়ে বাজে বলে। অন্যের নজরে আসার জন্য এমন করে। যাদের প্রতি ক্রোধ পুষে রাখে, তাদের নিয়ে উল্টাপাল্টা বলে, নিজের ক্রোধটি লাঘব করার একটি অপকৌশল এটি। এ ধরনের বানানো কথার কারণে যদি অন্যের নজর কাড়তে পারে, বারবার এ জাতীয় ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠবে শিশু। সুতরাং এ ধরনের বাজে কথায় শিশুকে প্রশ্রয় দেয়া চলবে না।

লেখকঃ সহযোগী অধ্যাপক
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনসিটটিউট, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা
মোবাইলঃ ০১৭১১-৮৩২৯৫৫