Skip to main content

ডিপ্রেশন

বাংলাদেশের বিশিষ্ট মনোশিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী ও মনোচিকিৎসক
অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ

মানসিক রোগ শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা ও জনসচেতনতায় পথিকৃৎ

মোট জনসংখ্যার শতকরা ১৫ ভাগ লোক ডিপ্রেশনে ভুগে থাকেন। ডিপ্রেশন হলো এক প্রকার মুড ডিসঅর্ডার। আমাদের প্রতি ৫ জনে ১ জন জীবদ্দশায় একবার না একবার ডিপ্রেশন রোগে ভুগে থাকেন। এই রোগে ভোগার হার পুরুষদের জন্য প্রতি ১০ জনে ১ জন আর নারীর জন্য প্রতি ৪ জনে ১ জন। এই মনোরোগটি নিয়ে পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত গবেষণা হচ্ছে। আবিষকৃত হচ্ছে নতুন নতুন ওষুধ।

সাধারণ অর্থে সবাই মনে করে যে কিছু চেয়ে তা না পেলেই বোধ হয় ডিপ্রেশন রোগের সৃষ্টি হয়। হয়তোবা কোনো কিছুর অভাব থেকে এ রোগের উৎপত্তি। আসলে এই কথাটা সব ক্ষেত্রে ঠিক নয়। বিশ্বজুড়ে গবেষকরা বলেছেন মানসিক রোগ যে কোনো অবস্থায়, যে কোনো পরিবেশে, যে কোনো সামাজিক ব্যবস্থায়, যে কোনো নারী-পুরুষের হতে পারে। আর এ ক্ষেত্রে ডিপ্রেশন রোগও যে কারও হতে পারে। ডিপ্রেশনের কারণ পারিপার্শ্বিক হতে পারে। তবে ডিপ্রেশন রোগে মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারে বিভিন্ন ধরনের জৈব রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। ফলে-

  • চিন্তাশক্তির ক্ষমতা কমে যায়
  • মনে অশান্তি লাগে
  • মনোযোগের সমস্যা হয়

ডিপ্রেশন রোগের কিছু জেনেটিক কারণ রয়েছে। বংশে ডিপ্রেশন মনোরোগ থাকলে শতকরা ৪০ ভাগ ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এ মনোরোগটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার অত্যন্ত ক্রিয়েটিভ বা শিল্পী-সাহিত্যিকদের মধ্যে ডিপ্রেশন রোগে ভোগার হার অন্যান্য জনসাধারণের চেয়ে বেশি।

নিচের উপসর্গের ৫টির উপস্থিতি কমপক্ষে ২ সপ্তাহের জন্য হয়ে থাকলে এবং কর্মদক্ষতা পূর্বের থেকে কমে গেলে এবং নিচের দুটোর যে কোনো একটির উপস্থিতি থাকলে বুঝতে হবে আপনি ডিপ্রেশন মনোরোগে আক্রান্ত- দুটোর যে কোনো একটি-

  • অশান্তিবোধ
  • উদ্দীপনা, উৎসাহ ও আনন্দের অভাব

নয়টির যে কোনো ৫টি উপসর্গের উপস্থিতি

  • কোনো কাজে উৎসাহ না পাওয়া, সব কাজে ক্লান্তি
  • সারাদিন বিষণ্ন অনুভূতি
  • অস্থিরতা বা স্থবিরতা
  • যথাযথ উৎসাহের অভাব প্রায় প্রতিটি বিষয়েই এবং প্রতিদিন
  • অনিদ্রা বা অতিনিদ্রা
  • ওজন কমে যাওয়া বা ওজন বেড়ে যাওয়া, প্রায় প্রতিদিন খাদ্যে অরুচি বা অতিরিক্ত রুচি
  • চিন্তা করতে না পারা, মনোযোগ দিতে না পারা, সিদ্ধান্ত নিতে না পারা
  • সব কিছু হারানোর ভয়, নিজেকে অপরাধী ভাবা

বারবার মৃত্যুচিন্তা আসা, সারাক্ষণ আত্মহত্যার চিন্তা করা অথবা আত্মহত্যার চেষ্টা করা
আপাত দৃষ্টিতে উপসর্গগুলো এলোমেলো লাগতে পারে। তবে ওই ধরনের উপসর্গগুলোর এক বা একাধিক উপস্থিতি থাকলেই মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেয়া উচিত।
ডিপ্রেশন রোগটিকে আমরা সমস্ত শরীরের রোগ বলি। এটি আপনার-

  • শরীর
  • আবেগ
  • চিন্তা-চেতনা
  • অনুভূতিতে আক্রমণ চালায়। এর ফলে শারীরিক উপসর্গ যেমন পাওয়া যায় তেমনি পাওয়া যায় মানসিক উপসর্গও। এটা যেমন আপনার খাবারে অরুচি আনে, ঘুমকে আক্রমণ করে, আক্রমণ করে আপনার অনুভূতিকে, তেমনি আক্রমণ করে আপনার কর্মকাণ্ডকে। এর ফলে শুধু মন খারাপ ভাবটা এসে যায় তাই নয়, ইচ্ছা করলেও ইচ্ছাশক্তির দ্বারা এটিকে তাড়ানো যায় না। এটা আপনার কোনো ব্যক্তিগত দুর্বল নৈতিকতাবোধের জন্যও হয় না। যারা এই মনোরোগে আক্রান্ত হন তারা কোনোভাবেই এই রোগকে দূরে ঠেলে দিতে পারেন না এবং ভালো থাকতে পারেন না। এর জন্য দরকার লাগসই চিকিৎসা। মনোচিকিৎসকরা চিকিৎসার মাধ্যমে শতকরা ৯৫ ভাগ ডিপ্রেশন রোগ ভালো করতে পারেন।

ডিপ্রেশনের বেশ কতগুলো উপসর্গ রয়েছে যা জানা থাকা প্রতিটি নারী-পুরুষের জন্য দরকারি। উপসর্গগুলো হলো-

  • নিজেকে খুব দরিদ্র ভাবতে থাকা
  • নিজেকে অপরাধী ভাবতে থাকা
  • কেউ কোনো সাহায্য করবে না এই অনুভূতি আসা
  • জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত থেকে আনন্দ উপভোগ না করা
  • কোনো আনন্দদায়ক কাজে আনন্দ না পাওয়া
  • আশাহত অনুভূতি
  • নেতিবাচক ভাব
  • দুশ্চিন্তাবোধ
  • মন খালি খালি লাগা
  • সেক্স বা যৌনতা সম্পর্কে উৎসাহ কমে যাওয়া
  • ক্লান্তিভাব
  • কাজকর্মে ধীরগতি
  • শেষ রাতে ঘুম ভাঙলে আর ঘুম না আসা
  • সারাদিনের বেশি সময় ঘুমানো কোনো কোনো ক্ষেত্রে
  • বিরক্তিভাব
  • ক্রোধপ্রবণতা
  • আপাত স্মরণশক্তির অভাব
  • সিদ্ধান্ত নিতে না পারা
  • আস্থাহীনতা
  • আত্মবিশ্বাসের অভাব
  • প্রতিটি জিনিস নেতিবাচক দেখা
  • শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা
  • মাথাব্যথা
  • দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা
  • হজমজনিত গণ্ডগোল
  • মাথা ঝিমঝিম করা
  • দুর্বলতা ভোর বেলার দিকে
  • আত্মহত্যার চিন্তা করা
  • আত্মহত্যা করা

২০১০ সালে কেবল ডিপ্রেশন মনোরোগটি বিশ্বের ২ নম্বর ঘাতক ব্যাধি হবে, মতামত পৃথিবীর চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের। পৃথিবীতে যত আত্মহত্যা সংঘটিত হয় তার ৭০ ভাগ কারণ কোনো না কোনোভাবে ডিপ্রেশন। অনেক ক্ষেত্রে যারা গুরুতর ডিপ্রেশনে ভোগেন তারা পানাহার ত্যাগ করেন। সে ক্ষেত্রে না খেয়েও কিছু মরার ইতিহাস রয়েছে।

ডিপ্রেশনের চিকিৎসা
অত্যন্ত জরুরি
শোকাবস্থা অনুভব করেনি এমন লোক পাওয়া যাবে না। মৃত্যু প্রত্যেকের জীবনেই আসে। চিন্তা করুন, সে দিনের কথাগুলো। ওই সময় কিছু ভালো লাগত না, যে মারা গেছে তার কথা মনে করে চোখভর্তি পানি আসত, রাতে ঘুম হতো না। খাদ্যে অরুচি ছিল। ঘুমের মধ্যে মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্ন দেখতেন। অনেকগুলো উপসর্গ ছিল। স্বাভাবিক কাজকর্মে কোনোরূপ ব্যাঘাত ছিল না। মৃত ব্যক্তির জানাজা আপনাকেই দৌড়ে গিয়ে সম্পন্ন করতে হলো। কোরআন খতম দিতে হলো, ফকির-মিসকিন খাওয়াতে হলো, কোনো কাজই থেমে থাকল না। কিছুদিন যেতে না যেতেই শোকের মাত্রা কমতে শুরু করল। লক্ষ করলে দেখা যায়, শোকাবস্থায় দুঃখবোধ প্রচণ্ড থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি নয় এবং স্বাভাবিক কাজকর্মে কোনোরূপ বাধার সৃষ্টি করেনি। কিন্তু ডিপ্রেশন মানসিক রোগে এমনটা হওয়ার সুযোগ নেই। অবশ্যই তা দীর্ঘমেয়াদি হবে এবং আপনার স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধার সৃষ্টি করবেই। ডিপ্রেশনকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় যথা-

  • মৃদু ডিপ্রেশন ও
  • মেজর ডিপ্রেশন

মৃদু ডিপ্রেশনের মানসিক রোগ পারিপার্শ্বিক কারণজনিত ব্যাপারে হতে পারে-

  • সামাজিক
  • পারিবারিক
  • রাজনৈতিক
  • অর্থনৈতিক ইত্যাদি কারণে কোনো ব্যক্তি মৃদু ডিপ্রেশনের শিকার হতে পারেন। তবে ওই সমস্ত কারণের সমাধানে মৃদু ডিপ্রেশন রোগটি সাধারণভাবে সেরে ওঠে।

মেজর ডিপ্রেশন হলো একটি বড় মাপের মানসিক রোগ। এর উৎপত্তি মস্তিষ্কে। এটি একটি সিরিয়াস রোগ যা মানুষের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, নার্ভাস সিস্টেমের প্রতি সেল বা কোষকে আক্রমণ করে শরীরের জৈব-রাসায়নিক পরিবর্তনের দ্বারা। এর চিকিৎসা দরকার, এর ভালো চিকিৎসা আছে। ওষুধের দ্বারা সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য এটি।

আপনার আশপাশে খেয়াল করলে দেখবেন যে, অনেক ব্যক্তি ৬টি ঋতুর যেকোনো একটি ঋতুতে বারবার ডিপ্রেশনে ভুগে থাকেন। শীতকালে এই রোগ বেশি হয়। তাই একে শীতকালীন ডিপ্রেশন রোগ বলা হয়। অল্প মাত্রায় রোগটি হলে এনার্জির অভাববোধ হয়, ঘুম বেশি হয়, শর্করাজাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়। সকালের উজ্জ্বল আলো বা আলোকিত স্থানে কিছুক্ষণ অবস্থান এবং ২-৪ কাপ চা-কফি পান ও কিছু হালকা ব্যায়াম করলে ঋতুকালীন ডিপ্রেশন রোগের মাত্রা অনেক কমে যায়।

স্বাভাবিকভাবে বাচ্চা জন্ম নেয়ার পরে অর্থাৎ ৩-৪ দিনের মাথায় দেখা যায় মায়ের কিছু ভালো লাগছে না, মন কেমন যেন করছে, নতুন বাচ্চাকে আদর করতে ইচ্ছা হচ্ছে না- এই জাতীয় উপসর্গ মা ও শিশু দুজনের জন্যই ক্ষতিকর। সত্যিকার অর্থে ডিপ্রেশন রোগটি হওয়ার পেছনে কোনো কারণ থাকতেও পারে আবার নাও পারে। আর কারণ যদি থাকে তবে যে কারণে যতটুকু ডিপ্রেশন হওয়ার কথা তার চেয়ে অনেক বেশি ডিপ্রেশন অনুভূত হয়। যদি কোনো কারণে মন খারাপ ভাব জন্মায় তবে যারা সাধারণ ব্যক্তি, যারা ডিপ্রেশনে ভোগেন না, তারা সহজে ব্যাপারটা ম্যানেজ করতে পারেন। তাদের কাজে-কর্মে কোনো প্রকার ব্যাঘাত ঘটে না বা ক্ষতি হয় না। কিন্তু ডিপ্রেশন রোগের ক্ষেত্রে কোনো কারণ থাকুক বা না থাকুক, রোগটির জন্য তাদের কাজেকর্মে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। ডিপ্রেশনের প্রধান উপাদান-

  • আবেগ-অনুভূতির তারতম্য
  • কষ্টদায়ক আবেগের প্রকাশ
  • মন খারাপ অনুভূতি থাকা
  • অশান্তির ভাব থাকা। এ জন্যই ডিপ্রেশনকে আবেগজনিত রোগ বলা হয়। তবে এই অশান্তি ভাবটি যে ডিপ্রেশন রোগে থাকতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। ডিপ্রেশন রোগটি অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন আকারে আসতে পারে। ডিপ্রেশন রোগে যারা ভুগে থাকেন তারা তাদের অনুভূতির ব্যাপক পরিবর্তন দেখতে পান। অনুভূতির প্রকাশও বোধ করেন এবং সমস্ত পৃথিবীকে তারা অশান্তিময় মনে করেন, তাদের অনুভূতির প্রকাশও সে রকম হয়। ডিপ্রেশন রোগটির স্থায়িত্বকাল স্বল্প সময় থেকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত হতে পারে। মাত্রায় এর রকম হেরফের লক্ষণীয়, যা কম মাত্রা থেকে দীর্ঘ মাত্রা বা বেশি মাত্রা বা জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।

ডিপ্রেশনের চিকিৎসার জন্য অবশ্যই আপনাকে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। সাধারণভাবে আপনাকে অ্যান্টিডিপ্রেশন ওষুধ খেতে হবে কমপক্ষে ৬ থেকে ৯ মাস। শুরু হবে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায়। ১ মাস পরে মাত্রা একটু বাড়বে। তারপর দেড় মাস পরে একটি নির্ধারিত মাত্রায় আপনাকে আরও তিন মাস ওষুধ খেতে হবে। আপনার উন্নতির ওপর লক্ষ রেখে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ঠিক করে দেবেন, কোন মাত্রায় ওষুধ খাওয়া আপনি বন্ধ করবেন বা কত দিন ওষুধ খেয়ে তা বন্ধ করতে হবে। ৮ সপ্তাহের মাথায় কোনো উন্নতি না পেলে বিশেষজ্ঞ অন্য কোনো চিকিৎসা দেয়ার কথা বা ওষুধ পরিবর্তন করে দেয়ার কথা চিন্তা করবেন। এছাড়া ওষুধ দিয়ে চিকিৎসার পাশাপাশি সাইকোথেরাপি সাহায্য করতে পারে। বিভিন্ন ওষুধে বিভিন্ন ধরনের কাজ করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আছে। তবে ওষুধ খাবার ২১ দিনের মাথায় উন্নতি পাওয়া যায়।

ডিপ্রেশনের চিকিৎসায় আগে যেসব ওষুধ বেশি ব্যবহার হতো এগুলো হলো-

  • অ্যামিট্রিপটাইলিন
  • নরট্রিপটাইলিন
  • ম্যাপ্রোটাইলিন

বর্তমানকালে যেসব ওষুধ বেশি ব্যবহৃত হয় এবং যা ব্যবহারে অত্যন্ত সুফল পাওয়া যায় এগুলো হলো-

  • সারটালিন
  • পারঅক্সিটিন
  • ক্লোমিপ্রামিন

যেসব ডিপ্রেশন রোগে ওষুধে ভালো কাজ করে না, যেসব ডিপ্রেশনের রোগী আত্মহত্যার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যারা খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ বন্ধ করেছেন সেসব ক্ষেত্রে আরও একটি চিকিৎসা তাৎক্ষণিক বা জরুরি ভিত্তিতে দেয়া হয়, এটি প্রয়োগ করা হয় শুধু অত্যন্ত প্রয়োজনীয়তায়। এর নাম ইসিটি বা ইলেক্ট্রোকনভালসিভ থেরাপি। উন্নত বিশ্ব ইদানীংকালে ডিপ্রেশন চিকিৎসায় এই থেরাপি ব্যবহারে আরও মনোযোগী হয়েছে। ইসিটি চিকিৎসায় ভয়ের কিছু নেই। ওষুধের দ্বারা চিকিৎসায় যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তার চেয়েও কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইসিটি চিকিৎসায় হয়। তাই এটি গ্রহণে কোনোরূপ ভয়ের বা টেনশনের কিছু নেই।

ডিপ্রেশন হলে তার চিকিৎসা করানো হলো বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ চিকিৎসাবিহীন রোগীর রোগ ভালো হয় না। বরং রোগীর রোগের অবস্থা আরও অবনতির দিকে যেতে থাকে।