Skip to main content

পরামর্শ পাতা

মানসিক, স্নায়বিক, মাথাব্যথা, মৃগীরোগ, মাদকাসক্তি ঘুমের
পাঠক প্রশ্নের উত্তর

মো. আশরাফুল ইসলাম
পটুয়াখালী
আমি একজন সরকারি চাকরিজীবী। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। আমার সমস্যা হলো-মাঝেমাঝে নিজেকে খুব অসহায় মনে হয় আমার যেন কেউ নেই, তা ছাড়া কোথাও যদি যাই তাহলে নিজেকে খুব ছোট মনে হয়। যেমন ধরুন কোনো বন্ধু বা বান্ধবী তাদের সাথে কথা বলি বা তাদের বাসায় যাই মনে হয় যেন আমি দেখতে খুব খারাপ বা আমার প্যান্ট কিংবা শার্ট ভালো না কিন্তু আমি তুলনামূলকবাবে দেখতে অতটা খারাপ না যে দেখলে পছন্দ হবে না। পছন্দ হওয়ার মতো দেখতে। ঘুমের সমস্যা মাঝে মাঝে, আমার ব্যক্তিগত চিন্তা বা কোথাও গেলে সে স্থানের কথা ভাবা, ব্যক্তিকে নিয়ে ভাবা এ রকম দুশ্চিন্তা হয়। আমার ব্যক্তিগত জীবনে কোনো মেয়ের সাথে কোনো রকম সম্পর্ক হয়নি।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি আসলে লো সেলফ এস্টেম সমস্যাতে ভুগছেন। এক্ষেত্রে ওষুধ অপেক্ষা সাইকোথেরাপি আর কাউন্সিলিং দরকার। আপনি সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিংয়ের জন্য কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাতে পারেন।

মো. সরোয়ার হোসেন
নান্দাইল, ময়মনসিংহ
আমার বয়স ২৩ বছর। আমার সমস্যাগুলো হলো সারারাত ও দিনে আধা ঘণ্টাও এমনকি একেবারেই ঘুম হয় না। ঘুমের সমস্যা ৫-৬ বছর ধরে। শরীর প্রাণহীনের মতো চুপ করে থাকে। মাথায় মনে হয় কোনো কিছু বন্ধ হয়ে গেছে। মাথার বাম সাইডে উপরে একটু একটু ঠাণ্ডা লাগে। চোখ বের হয়ে গেছে, উদাসীনের মতো দেখা যায় আয়নায় দেখলে। পড়ালেখার প্রতি খুব বেশি আগ্রহ রয়েছে কিন্তু মাথা একদম খাটাতে পারি না, মাথায় পড়া লেখা ধরে না, মাথায় এখন ব্রেইন নেই, পাগলের মতো অবস্থা, মাথা একেবারে দুর্বল হয়ে গেছে। শরীর দুর্বল, ছোট থেকেই সাহস কম, পরিবারের সবাই বলে হাবা এবং বোকা, বর্তমানে আমার অযথা ভয় লাগে। ঘর থেকে বের হতে মন চায় না, খেলাধুলা করি না, কারও সাথে মেলামেশা, হাসিঠাট্টা করতে পারি না। গরমের দিনেও শীত করে, গোসল করতে গেলে শীত করে, হাত-পা ঠাণ্ডা থাকে।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা বিষণ্নতা। এ ক্ষেত্রে আপনি ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম খেয়ে দেখতে পারেন। এটি প্রতিদিন সন্ধ্যায় বা রাতে খাওয়ার আগে খাবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।

শরীফুল ইসলাম
পবা, রাজশাহী
আমার বয়স ২১ বছর। আমার সমস্যা হলো বিষণ্নতা, কিছুই ভালো লাগে না। সব সময় মনে দুশ্চিন্তা বিরাজ করে। ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশায় থাকি। বর্তমানে মেজাজ খুব খিটখিটে। সমস্যাটা ২-৩ বছর ধরে। নিজেকে দুর্বলবোধ করি। অবাস্তব অনেক চিন্তা মাথায় আসে, যা ইচ্ছা করলেও দূর করতে পারি না। সব সময় বিষণ্নতায় ভুগি। প্রচুর ঘুমাই। সকালে খুব দেরিতে ঘুম থেকে উঠি। ওঠার পর থেকেই বিষণ্নতা আমাকে গ্রাস করে। আর তা বিদ্যমান থাকে পরের রাত ঘুমানোর পূর্ব পর্যন্ত। মনে প্রফুল্লতা নেই, ভীষণ ভয় হয়, আমি বোধহয় সারাজীবন এভাবে থেকে যাব। তাহলে এই কষ্টের মধ্যে বাঁচব কী করে? মাঝে মধ্যে কোথাও বেড়াতে গেলে বা বন্ধুদের সাথে কথা বললে ভালো লাগে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই বিভিন্ন প্রশ্ন মাথায় ঢুকে অন্য জগতে নিয়ে যায়। যেমন-এটা করে কী হবে? ওটা কেন হলো? ইত্যাদি নানা প্রশ্ন। সর্বদা অলসতায় কাটাই, কিছুই ভালো লাগে না।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি ২-৩ বছর যাবৎ মানসিক সমস্যায় ভোগার পর মনে করছেন চিকিৎসা করানো দরকার। আগে চিকিৎসা করানো উচিত ছিল। আপনার সমস্যা বিষণ্নতা হলেও আপনার মাঝে অবসেশনের সমস্যা রয়েছে আর এ কারণে মুহূর্তের মধ্যেই বিভিন্ন প্রশ্ন মাথায় ঢুকে অন্য জগতে নিয়ে যায়- এমনটি ঘটে। আপনি ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট ক্লোফ্রানিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে খাবেন। ওষুধ চালিয়ে যান। ২ সপ্তাহ যাওয়ার পর কিছুটা ভালো লাগার অনুভূতি আসা শুরু হতে পারে। পূর্ণ সুস্থ হতে ৬ মাসের বেশি সময়কাল ওষুধ খেতে হবে। আসলে আপনার রোগের চিকিৎসার বেলাতে ধৈর্যের দরকার। ১ মাস পর অবস্থা জানিয়ে যোগাযোগ করবেন।

আল-আমিন
মোহাম্মদপুর, ঢাকা
আমার সমস্যা হলো মাথাব্যথা। ঘুমাতে গেলে ঘুম আসে না, শুধু মাথার মধ্যে চিন্তা হয়, যার জন্য ঘুম আসে না। আমি কল্পনা করতে চাই না। কিন্তু ঘুমাতে গেলে এমনকি এক জায়গায় বসে থাকলেও চিন্তা হয়। নানা ধরনের চিন্তা হয় যেমন-যদি বড়লোক হতে পারতাম বা আমার অনেক টাকা থাকত ইত্যাদি। এছাড়া আরও কিছু সমস্যা হয় পারিবারিক। হঠাৎ কোথাও ঝগড়া-বিবাদ দেখলে ভয় লাগে।       ঝগড়া অসহ্য মনে হয়। অতিরিক্ত ভয় লাগলে বুক ধড়ফড় করে, গলা শুকিয়ে যায়। হাত-পা কাঁপতে থাকে, সিঁড়িতে উঠলে হাত, পা অবশ লাগে। আকাশে মেঘ দেখলে খুব ভয় লাগে। মনে হয় এই বুঝি সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল। সব সময় টেনশন হয়। পারিবারিক টেনশন একটু বেশি। কাজ-কর্মে মন বসে না, দিন দিন শরীর শুকিয়ে যাচ্ছে। শরীর খুব দুর্বল লাগে, বসা থেকে উঠলে বা শোয়া থেকে উঠলে মাথা চক্কর দেয়, বমি বমি ভাব হয়। শরীরে কোথাও কোনো সমস্যা হলে মনে হয় এই বুঝি বড় কোনো রোগ হলো আর বুঝি বাঁচব না, মরে যাব।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অবসেশন। এক্ষেত্রে ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রেসপোলাক্স ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় খাবেন। ১ মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।

মো. হাফিজুর রহমান
গাবতলী, বগুড়া
আমার বয়স ২২ বছর। উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, ওজন ৪৩ কেজি। আমার চেহারা দেখতে একেবারে ছোট ছেলের মতো অর্থাৎ ১৪-১৫ বছরের ছেলেদের মতো। আমার ছোট ভাই আমার চেয়ে ৮ বছরের ছোট, তারপরেও ওকে এখন আমার চেয়ে বড় মনে হয়। ভার্সিটিতে পড়ি তাই এখন আমার খুব খারাপ লাগে। বন্ধুদের সাথে স্বাভাবিকভাবে মিশতে পারি না, পড়াশোনা করতে ভালো লাগে না। মাঝে মাঝে মনে হয় আত্মহত্যা করি। মনে হয় সৃষ্টিকর্তা আমার প্রতি অবিচার করেছেন। আমার ভাই এবং বোনদের এই সমস্যা তো হয়নি। তাহলে এর কারণ কি? এটা কোন ধরনের অসুখ, এর চিকিৎসা করানো সম্ভব কি না?

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্সে ভুগছেন। আপনার দরকার সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং আর সাইকোথেরাপি। আপনি কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেখান।

মো. আশিকুর রহমান
চাঁদপুর
আমার বয়স ২৬ বছর। ওজন ৬৪ কেজি। আমার সমস্যা হলো-সারাদিন কিছুই ভালো লাগে না, স্মরণশক্তি খুব কম কিন্তু মনে রাখতে পারি না, খাওয়ার ইচ্ছা হয় না। যদিও জোর করে খেতে চাই তাহলে বমির ভাব হয়। মাঝেমধ্যে ঘুম কম হয়, আমি বিবাহিত আমার মাঝে মাঝে ইন্টারকোর্স করতে খুব ইচ্ছা হয় আর মাঝেমধ্যে হয় না। কখনো কখনো খুব টেনশন করলে খুব মাথাব্যথা করে, এই সমস্যাগুলো প্রায় ৫-৭ বছর ধরে।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি বিষণ্নতা সমস্যাতে ভুগছেন। আপনি ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সন্ধ্যায় খান। রাতে খাওয়ার পর ট্যাবলেট ক্লোব ১০ মিলিগ্রাম খাবেন। ১ মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।

জুলফিকার আলী
সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৭ বছর। আজ তিন-চার বছর যাবৎ এই সমস্যায় ভুগছি। আমার সমস্যাগুলো নিচে উল্লেখ করলাম। সব সময় টেনশনে থাকি, মাথাব্যথা ও মাথা গরম হয়ে থাকে। প্রায় রাতে ঘুম হয় না, হলেও সকালে মাথা এবং শরীর ব্যথা করে। খাওয়া-দাওয়ার ইচ্ছা কম। নানা রকম দুশ্চিন্তা মাথায় আসে। শত চেষ্টা করেও তা মাথা থেকে বের করতে পারি না। স্মরণশক্তি কমে গেছে, কোনো কিছু মনে রাখতে পারি না। কোনো মেয়েদের সাথে ভালোভাবে কথা বলতে পারি না, নার্ভাস ফিল করি। সব সময় নিজেকে ছোট মনে হয়। সারাক্ষণ বিষণ্নতা কাজ করে। সহজে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। আপাতত আপনাদের পরামর্শ পাতার একজন রোগীকে ফলো করে রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম একটা সকালে ও একটা রাতে এবং প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম একটা সকালে সেবন করছি। এখন কিছুটা ভালো লাগছে। ওষুধগুলো কি সেবন করব নাকি বন্ধ করে দেব জানাবেন।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি আপনার সমস্যাটিকে ভালো ডায়াগনোসিস করেছেন। আপনি নির্দ্বিধায় ওই ওষুধ সেবন করতে পারেন। তবে দীর্ঘদিন খেতে হবে। কমপক্ষে ৩ মাস খেতে হবে।

সোহেল
দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা
আমার বয়স ১৬-১৭ বছর। আমার বড় সমস্যা হলো আমার মেয়ে হতে ইচ্ছা করে। সব সময় সুন্দর চেহারার ছেলে দেখলেই পছন্দ হয়ে যায়। মনে হয় মেয়ে হলে তাদের সাথে বিয়ে হতো। আমার ছেলেদের সাথে সেক্সুয়াল সম্পর্ক আছে। তাছাড়া    হস্তমৈথুনের অভ্যাসও আছে। ছোটবেলা থেকেই এই সমস্যা, সব সময় আমার একজনকে ভালো লাগে না। একদিকে মেয়ে হতে ইচ্ছা করে আবার অন্যদিকে বাচ্চা হওয়ার কথা মনে হলে গা শিউরে ওঠে। কোনো অনুষ্ঠানে গেলে মেয়েদের পোশাকের প্রতি নজর পড়ে। মেয়েরা কীভাবে সাজে সেটা নজরে পড়ে কিন্তু ছেলেদের পোশাকের প্রতি আকৃষ্ট হই না। কিছুদিন আগে থেকে মৃত্যুচিন্তা মাথায় ঢুকেছে। মনে হয় এই মরে গেলাম, সূর্যটা বুঝি গায়ে পড়ল, কোথাও ব্যথা হলে মনে হয় আমি আর বাঁচব না, ক্যান্সার হয়েছে, টিউমার হয়েছে ইত্যাদি। সকলে আমাকে পাগল বলে, আরও বলে আমাকে নাকি পাবনা মেন্টাল হসপিটালে ভর্তি করতে হবে। অতীতের কোনো কিছুই ভুলতে পারি না এবং অতীত ভেবে কাঁদি।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যার বেলাতে সর্বাগ্রে দরকার কাউন্সিলিং। পাশাপাশি আপনার মাঝে বিষণ্নতার সমস্যা রয়েছে। আপনি ট্যাবলেট সিটোপ্রাম ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রেসপোলাক্স ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট লেক্সোটানিল ৩ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা খাবেন। ওষুধ অনেক দিন খেতে হবে। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন। ঢাকায় এলে কাউন্সিলিংয়ের জন্য মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন।
সাইদুল হক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
আমার বয়স ২৩ বছর। সমস্যা ৩ বছর যাবৎ। একটি শারীরিক সমস্যা নিয়ে খুব টেনশন করতাম। পরবর্তীতে তা ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো সমস্যা নয় বলে প্রমাণিত হয়। তারপর থেকে আমি নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো বোধ করছি। মন সব সময় বিষণ্নতায় ভরপুর থাকে, আনন্দহীন মন, মাথা সব সময় ঝিম ধরে থাকে, মাথা ভারী মনে হয়। মাথার দুপাশে চিনচিন করে ব্যথা করে, সাথে সাথে ঘাড় ব্যথা করে। চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে, চোখে বিষণ্নতার ছাপ স্পষ্ট। সাথে দাঁতের মাড়ি এবং চোয়ালের হাড়ে হাল্কা ব্যথা অনুভব হয় এবং স্বাস্থ্য দিন দিন ভেঙে যাচ্ছে। সব সময় নেতিবাচক চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়। বিশেষ করে সেক্সুয়াল চিন্তা এবং সর্বক্ষেত্রে নেতিবাচক চিন্তা মাথায় বিরাজ করে। শত চেষ্টা করে মন ফুরফুরে সতেজ করা যায় না, শুধু ঘুম থেকে উঠলে কিছুটা হাল্কা অনুভব হয়, পরবর্তীতে আস্তে আস্তে তা পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে। বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং একঘেয়েমি, প্রচণ্ড উদ্যমে কোনো কাজ শুরু করলে পরবর্তীতে তাতে ভাটা পড়ে এবং মাঝপথে আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। কারও সাথে ভালোভাবে মিশতে এবং কথা বলতে গেলে নিজেকে খুব ছোট এবং সংকীর্ণ মনে হয়। শত চেষ্টা করেও মনকে আনন্দপূর্ণ রাখা যায় না। স্মরণশক্তি কমে গেছে, ধৈর্যচ্যুতি, চলাফেরা, কাজকর্ম ধীর হয়ে গেছে। চরম হতাশা, হীনম্মন্যতাবোধ, সংকীর্ণতা, জড়তা সব সময় মন ও শরীরকে আচ্ছন্ন করে রাখে। সামান্য ব্যাপারকে অনেক বড় মনে করি।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা বিষণ্নতা। আপনি ট্যাবলেট নেক্সেসিটাল ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। এই ওষুধ অনেক দিন খেতে হবে। ৬ মাস পর যোগাযোগ করবেন।

ইলিয়াস হোসেন
উত্তরা, ঢাকা
আমার বয়স ১৮ বছর। আমি নটরডেম কলেজের ১ম বর্ষের একজন ছাত্র। আমি প্রায় ৫ বছর যাবৎ মানসিক রোগে অনেক কষ্ট পাচ্ছি। বর্তমানে আমার অবস্থা খুবই খারাপ। আমি সারা দিন-রাত শুধু বিষণ্নতায় কাটাই। সেই ৫ বছর আগে থেকে সেই বিষণ্নতার জন্ম। গত বছর ২০০৪ সালের মার্চ মাস থেকে আমার মনের মধ্যে আরেকটি রোগের সৃষ্টি হয়েছে। তা হলো আমার শুধু ভয় আর ভয়, সর্বদাই মনের মাঝে বিরাজ করছে। আমার শুধু মনে হয় এ বুঝি আমি মরে যাব। আমার হার্ট এখনই ফেটে যাবে, আমার ব্রেন এখনই ব্রাস্ট হয়ে যাবে ইত্যাদি। আরও নানা ধরনের মৃত্যুভীতি। আসলে এটা শুরু হয় যখন আমি প্রথম গাঁজা খাই। আমি জীবনে ওই একবারই গাঁজা খেয়েছি। সেই গত বছর মার্চ মাসে। গাঁজা খাওয়ার পর প্রথম আমার হার্ট প্রচণ্ডভাবে লাফাতে থাকে। এরপর আমার সারা শরীরের রক্ত খুব গতিতে প্রবাহিত হতে থাকে। আমার শরীরের শক্তি শেষ হয়ে যায়। মাথা প্রচণ্ডভাবে ঘুরতে থাকে। তখন আমার মনে হচ্ছিল আমি বাতাসের সাথে উড়ে যাচ্ছি। আবার মাটির ভেতরে ঢুকে যাচ্ছি। মনে হচ্ছিল পাগল হয়ে গেছি এবং মৃত্যুর খুব কাছাকাছি এসে গেছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো- আমি মাথার মধ্যে অনেক ওজন অনুভব করি এবং চোখের মধ্যে ঝাপসা এবং একটা বস্তুকে অনেকগুলো দেখি। মনে হচ্ছিল সবকিছু ভুলে যাচ্ছি, যারা আমার সামনে কথা বলছিল তাদের কথাগুলো আমার মাথার মধ্যে প্রতিধ্বনি হচ্ছিল এবং প্রচণ্ড ভয় করছিল। মনে হয়েছে আমি একজন নয়, আমি হাজার হাজার হয়ে গেছি। এমন প্রচণ্ড ভয় আমার জীবনে আমি কোনো দিন পাইনি। তারপরে ২ ঘণ্টা পর আমি সুস্থ হই। কিন্তু চোখের মধ্যে একটা ধোঁকা ধোঁকা ভাব অনুভব করি। ২০ দিন পর্যন্ত এভাবেই কাটে। আমি পরবর্তীতে আর গাঁজা খাইনি। কিন্তু ২০ দিন পর থেকে আমার চোখের ধোঁকা ধোঁকা ভাবটা আরও বাড়তে থাকে এবং প্রচণ্ড ভয় করতে থাকে। আমার পরিচিত সকল স্থান সেদিন থেকে অপরিচিত লাগা শুরু করে।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার মাঝে গাঁজার কারণে হাল্কা সাইকোসিসের সমস্যা তৈরি হয়েছে। আপনি ট্যাবলেট পেরিডল ৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা খাবেন। ট্যাবলেট পারকিনিল ৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা খাবেন। ঘুম কম হলে রাতে ট্যাবলেট নকটিন খাবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।

শিউলী আক্তার
কক্সবাজার
আমার সমস্যা হলো- হাত-পা দুর্বল লাগে, আমার হার্টের মাঝে ধুপ ধুপ করে, নাভির বাম পাশে টিউমারের মতো কী যেন দেখা যায়, মাসিকের সময় তলপেট ব্যথা করে তা আমি ভাষায় প্রকাশ  করতে পারব না। আমার হাত-পা জ্বালা-পোড়া করে মরিচ লাগলে যে রকম জ্বালা-পোড়া করে ঠিক তেমন।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা ডিসম্যানোরিয়া। আপনি ট্যাবলেট ফ্লেক্সি ১০০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ভরা পেটে ১টা খাবেন। ট্যাবলেট এমিলিন ১০ মিলিগ্রাম রাতে ১টা খাবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।

এমদাদুল হক
নারায়ণগঞ্জ
আমার সমস্যা সপ্তাহে একটা দিনও আমি হাসিখুশিতে কাটাতে পারি না। আমি ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করি কিন্তু আমার শরীর ভালো হয় না। সারাক্ষণ আমার মন শুধু কাঁদতে চায় আর আমার মনে হয় যেন আমি একা এই দুনিয়াতে। আমার বাবা-মা, ভাই বোন, আত্মীয়-স্বজন বলতে কেউ নেই। সবাই যেন আমার পর আর মনে হয় যেন আমি মরে যাই। এমনকি একদিন আত্মহত্যা করার চেষ্টা করি। পরে নিজে নিজে সান্ত্বনা দিয়ে বলি আত্মহত্যা করা মহাপাপ, এমন কাজ আমি কীভাবে করব। আমার মনে হয় যেন অনেক দূরে চলে যাই আর আমাকে কেউ খুঁজে পাবে না এবং মনে হয় যদি জোরে কাঁদতে পারতাম তাহলে আমার ভালো লাগত। এখন আমার নিকট বিষ আছে যে কোনো সময় পান করে মরে যাব, যদি আমার এ অবস্থার উন্নতি না হয়। কোনো কাজে আমার মন বসে না, অস্থির অস্থির ভাব সারাক্ষণ থাকে।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা বিষণ্নতা। এটি বেশ প্রকট মাত্রায় আছে। আপনি ট্যাবলেট লুডিওমিল ২৫ মিলিগ্রাম রাতে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট ট্রিপটিন সকালে খাবেন। ট্যাবলেট ক্লোবাম ১০ মিলিগ্রাম রাতে খাওয়ার পর খাবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।

এনায়েত করিম
জিন্দাবাজার, সিলেট
আমার বয়স ২৩ বছর এবং আমি অবিবাহিত। গত কয়েক বছর ধরে আমার ঘুমের সমস্যা। রাতে বসে থাকলে মনে হয় ঘুম হবে-এই চিন্তা করে ঘুমাতে গেলে ঘুমাতে ঘুমাতে অনেক রাত হয়ে যেত। ৩-৪ ঘণ্টা বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করার পর ঘুম আসত। আর আমার আরও কিছু সমস্যা যেমন-আত্মবিশ্বাসহীনতা, হীনম্মন্যতা, কোনো কিছু ভালো না লাগা, মন খারাপ, স্মরণশক্তি কম, দুশ্চিন্তা, রাস্তা দিয়ে হাঁটলে মনে হয় আমাকে নিয়ে হাসছে, বন্ধু-বান্ধব এবং সমাজের মানুষের সাথে খাপ খাওয়াতে কষ্ট হওয়া, আর আমি একটু বোকা প্রকৃতির-কারো কোনো জটিল কথা সহজে ধরতে পারি না। সামান্য কিছুতেই উদ্বিগ্ন হওয়া, ছোটখাটো ব্যাপারেও দুশ্চিন্তা করা ইত্যাদি উপসর্গ ছিল। গত কয়েক মাস যাবৎ আবার আমাকে রোগভীতি এবং মৃত্যুভীতি পেয়ে বসেছে। মনে হয় আমি কোনো জটিল রোগে ভুগছি বা বড় কোনো রোগ হয়েছে আর ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে এগোচ্ছি।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা বিষণ্নতা। আপনি ট্যাবলেট ভ্যানলাক্স ৭৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক খাবেন। ট্যাবলেট নকটিন ৫ মিলিগ্রাম রাতে খাবেন। ২ মাস পর যোগাযোগ করবেন।

মো. আব্দুল ওহাব
ভাঙ্গা, ফরিদপুর
আমার বয়স ১৮ বছর। ৫-৬ বছর ধরে আমি একটি মানসিক সমস্যায় ভুগছি। ধরুন ছোট বা বড় যে কারো সামনে বা যে কারো সাথে কথা বলার সময় প্রায় বেশির ভাগ কথাই আটকে যায়। এই সমস্যাটা আগে ছিল না এবং কারো সাথে ভালোভাবে কথা বলার ইচ্ছা থাকলে ভালোভাবে কথা বলতে পারি না। কারো সাথে কথা বলার সময় অনেকে হাসাহাসি করে। এ কারণে আমি যে কারো সাথে কথা কম বলে থাকি। আবার কেউ কেউ আমাকে তোতলাও বলে থাকে এবং মেয়েদের প্রতি আমার আকর্ষণ খুবই তীব্র। কোনো ভালো লাগা মেয়ে দেখলে কথা বলতে মনে চায়। রাতে ঘুম ভালো হয়। বর্তমানে আমি একজন ছাত্র। কথা আটকে যাওয়ার কারণে কারো সাথে কথা বলতে মনে চায় না।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা সোশ্যাল ফোবিয়া। পাশাপাশি আপনার মাঝে তোতলামির সমস্যা রয়েছে। আপনি ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ২ মিলিগ্রাম সকালে অর্ধেক ও রাতে অর্ধেক খাবেন। ২ মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।

শিরিন সুলতানা
চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৩ বছর। আমি বিবাহিতা। আমার সমস্যা হলো গত ৪ বছর ধরে আমার কিছু ভালো লাগে না। সব সময় অস্থির, বিষণ্ন, নিজেকে খুব অসহায় মনে হতো, মনে হতো আমাকে নিয়ে সবাই সমালোচনা করছে, কেউ আমাকে সহ্য করতে পারছে না। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারতাম না। অল্পতেই রেগে যাই, হঠাৎ কোনো শব্দে চমকে উঠি। চার মাস ধরে সারাক্ষণ মনে আজেবাজে চিন্তা,     চিন্তাগুলো খুবই উদ্ভট। চিন্তাশক্তিকে আমার আয়ত্তে রাখতে পারি না। বর্তমানে আমি নামাজ আদায় করতে চেষ্টা করি কিন্তু সমস্যা হলো নামাজ পড়ার সময় মন স্থির থাকে না। নানা আজেবাজে চিন্তা হয়। শত চেষ্টা করেও একাগ্রচিত্তে নামাজ আদায় করতে পারি না। গলায় কিছু আটকে থাকার কষ্টকর অনুভূতি আছে।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অবসেশন। আপনার মাঝে সমস্যাটি প্রকট মাত্রার রয়েছে। আপনি ট্যাবলেট জোলিয়াম ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা খাবেন। ট্যাবলেট চিয়ার ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে নাশতার পর খাবেন। ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম রাতের খাবার পর খাবেন। ওষুধ ৬ মাসের মতো খেতে হবে। ২ মাসের মাথায় কিছুটা উপকার পাবেন।

নজরুল ইসলাম
চুয়াডাঙ্গা
আমার বয়স ২২ বছর। আমার সমস্যা প্রায় ৩-৪ বছর ধরে। আমার ভেতর লজ্জা, সংকোচ ছোটবেলা থেকেই বিরাজমান। কিন্তু প্রায় ৩-৪ বছর থেকে যে কোনো কাজে নার্ভাস ফিল করি যেমন-সাক্ষাৎকার, মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় বুকের ভেতর ধড়ফড় করে, তাছাড়া কোনো লোকের বা মেয়ের সামনে দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রেখে মাথা উঁচিয়ে ইজিভাবে কথা বলতে পারি না, ভয় লাগে। পড়লে ভুলে যাই, স্মরণশক্তি খুবই কম, কোনো কিছু পড়তে বসলে বা ঘুমাতে গেলে নানা অস্বাভাবিক চিন্তা এসে মাথায় ঢোকে আর বের হতে চায় না।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি অ্যাংজাইটি নিউরোসিস সমস্যাতে ভুগছেন। এ ক্ষেত্রে ট্যাবলেট জোলিয়াম ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন ১টা করে সকালে/দুপুর/ রাত ৩ বেলা খাবেন। ২০ দিন পর একটার পরিবর্তে অর্ধেকটা করে খাবেন। ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি সাইকোথেরাপি দরকার।

আরমান শেখ
সাভার, ঢাকা
আমার বয়স ২৪ বছর। আমার সমস্যা হচ্ছে পরিচিত কাউকে দেখলে আমার হাসি পায়। একা থাকলে হাসি পায় না। হাসির কথা না হলেও হাসি পায়। কাজের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। সারাক্ষণ শুয়ে-বসে থাকতে ইচ্ছা করে। যার ফলে আমি পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের নিকট হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি। আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পর তা ভুল সিদ্ধান্ত মনে হয়। কোনো কিছু মনে থাকে না। পড়ায় মন বসাতে পারি না, ঘরের দরজা লাগানোর কিছুক্ষণ পর মনে হয় দরজা লাগানো হয়নি। আমার মনে হয় অপ্রয়োজনীয় কথা বেশি বলি এবং মনের অজান্তে প্রয়োজনে মিথ্যা কথা বলি। অপরিচিত বা স্বল্প পরিচিতদের সাথে সহজে মিশতে পারি না। অনেক সময় একা থাকলে কান্না পায়। আমি যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই পারিবারিক নানা অশান্তির কারণে খুব দুশ্চিন্তা করতাম এবং এখনো করি।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অবসেশন। আপনি ট্যাবলেট সিটাপ্রাম ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট ক্লোফ্রানিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট জানাক্স ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা খাবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।

জিয়ারুল হক
লোহাগড়া, চট্টগ্রাম
আমার বয়স ৩০ বছর। ছোটবেলা থেকে আমি যেসব সমস্যায় ভুগছি তা হলো-কোনো পরিচিত লোকের সাথে গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে প্রাণখুলে কথা বলতে পারি না। একনাগাড়ে অনেকক্ষণ কথা বলতে পারি না। মাঝে মাঝে দু একটা কথা বলি। এরপর কথা হারিয়ে যায়। মুরব্বিদের সাথে ও উপরস্থদের সাথে কথা বলতে গেলে বুক ধড়ফড় করে। সব সময় চুপচাপ থাকি। বন্ধুদের আড্ডায় কথা বলতে গেলে কথা অনেকক্ষণ বলা যায় না, শুধু জি-হ্যাঁ বলে। কারো সাথে সহজে মিশতে পারি না। আমার স্মৃতিশক্তি ও মানসিক শক্তি খুবই কম। কোনো ঘটনা পুরোপুরি মনে করতে পারি না। মনে সাহসের খুবই অভাব। কোনো কাজ করতে চাইলে করব-করছি করে সময় চলে যায়। কোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। মাথায় আজেবাজে চিন্তা ঘুরপাক খায়। কোনো পরিশ্রমের কাজ করতে পারি না। অল্পতে ক্লান্ত হয়ে যাই। বুক ধড়ফড় করে, সব সময় লজ্জাবোধ থাকে। মেয়েদের সাথে কথা বলতে সংকোচ করি, লজ্জা লাগে।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা সোশ্যাল ফোবিয়া। আপনি ট্যাবলেট সেট্রা ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট টেলাজিন ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা খাবেন। ২ মাস পর যোগাযোগ করবেন। ওষুধ আপনাকে অনেক দিন খেতে হবে। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।

মো. লেমন মিয়া
সিরাজগঞ্জ
আমার বয়স ২৪ বছর। আমি বিগত সাত বছরে দুই ধরনের সমস্যায় ভুগছি। এতে করে আমার জীবনে ধস নেমে এসেছে। প্রথমত আমার প্রধান সমস্যা হলো শরীরের ওজন দ্রুত কমে গেছে, সেই সাথে শরীর শুকিয়ে কংকালসার। পুষ্টিকর খাদ্য যেমন-ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, শাক, ফল নিয়মিত খাওয়ার পরও শরীর শুকিয়ে যাচ্ছে।

দ্বিতীয়ত খাওয়ার রুচি আছে, ভালোই খাচ্ছি, ঘন ঘন খাওয়া-দাওয়া করি। ঘুম ভালো হয় না। ঘুমাতে গেলে নানা উদ্ভট চিন্তা মাথায় এসে জড়ো হয় আর ঘুম আসে না। আর যেটুকু ঘুম হয় ঘুমের ভেতর ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখি। মনের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অবাস্তব উদ্ভট চিন্তা লেগেই থাকে। কোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারি না। একই চিন্তা বারবার হয়, মনে শান্তি পাই না। কোনো কাজে আনন্দ পাই না। শরীর প্রচণ্ড দুর্বল, দাঁড়িয়ে থাকলে শরীর কাঁপে। সব সময় কাঁদতে ইচ্ছা করে, স্মরণশক্তি কম, পাপবোধ অধিক, মৃত্যুর চিন্তাভাবনা, আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করে। অস্থিরতা, বিরক্তিভাব, কারো কথা শুনতে, কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করে না। কোনো স্থানে যেতে মন চায় না, সন্দেহ হয়, সেক্স কমে গেছে ইত্যাদি।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অবসেশন। আপনি ট্যাবলেট সাইকি ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট অ্যানাফ্রেনিল ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট জানাক্স ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।

রাজিব
কাপ্তাই
আমার বয়স ২০ বছর। ছোটবেলা হতে আমি উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিন্তু বাস্তবিকভাবে খুব হতাশ। সব সময় দিবাস্বপ্নে বিভোর থাকি। এখনো এ সমস্যাটি আছে। এখন গত কয়েক মাস ধরে খুবই আত্মভোলা হয়ে যাচ্ছি, সব সময় চিন্তায় মশগুল থাকি। নানা রকম আজেবাজে চিন্তা মাথায় আসে। কোনো কাজে একাগ্রতা আসে না। স্বাস্থ্য দিন দিন ভেঙে যাচ্ছে এবং শরীর ক্ষীণকায় হচ্ছে। মুখের সবখানেই ব্রণ দেখা দিয়েছে। কিন্তু কোনো ওষুধ ব্যবহার করিনি। মাঝে মাঝে নিজেকে খুব একাকী মনে হয় এবং এক পর্যায়ে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা হয়। নানা রকম আজেবাজে চিন্তায় মন খুবই বিরক্ত থাকে। আত্মবিশ্বাস খুবই কম। জানাবেন মানুষের উচ্চতা অসুস্থতার কারণে কমে যায় কি না, কারণ ইদানীং লক্ষ করছি আমার উচ্চতা আগের চেয়ে কিছুটা কমে গেছে। সব সময় লম্বা হওয়ার ইচ্ছা জাগে।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অবসেশন। পাশাপাশি আপনার মাঝে লো সেলফ এস্টেমের সমস্যা রয়েছে। এ কারণে ওষুধের পাশাপাশি আপনার বেলাতে সাইকোথেরাপি দরকার। আপনি ট্যাবলেট প্রোলাট ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট বোপাম ৩ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ২ মাস পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।

মো. গিয়াস উদ্দিন
আজিমপুর, ঢাকা
আমার বয়স ২১ বছর। আমার সমস্যা হলো অপরিচিত কোনো লোকের সামনে যেতে পারি না, বিশেষ করে মেয়েদের সামনে। তাহলে হাত, পা ও বুক অস্বাভাবিকভাবে কাঁপে, উচ্চস্বরে বা রাগ করে কথা বললে হাত-পা কাঁপে, কোনো কথা গুছিয়ে বলতে পারি না ভয় ও সংকোচ লাগে। এ জন্য পরিবার থেকে আমাকে কোথাও পাঠানো হয় না। কোনো অনুষ্ঠানে বা ক্লাসে স্যারের সামনে পড়ার উত্তর দিতে পারি না ভয় ও লজ্জা লাগে, ভয়ে হাত-পা কাঁপে। আমার স্মরণশক্তি একেবারেই কমে গেছে। কোনো কিছু মনে রাখতে পারি না। কোনো জিনিসপত্র এক জায়গায় রাখলে একটু পরে ভুলে যাই যে কোথায় রেখেছি। কোনো লোকের সাথে কথা বললে মনে হয় কথা মুখ দিয়ে বের হয় না, গলা শুকিয়ে যায়। আমার তোতলামি সমস্যা আছে। এই সমস্যার জন্য কোনো লোকের সাথে পরিচিত হই না বা কথা বলি না। নিজেকে আড়াল করে রাখি। মাঝে মাঝে সহজ শব্দ উচ্চারণ করতে পারি না আর কোনো শব্দ উচ্চারণ করলে শ্রোতা অন্য রকম শোনে। এ সমস্যা ৬-৭ বছর যাবৎ। আমার মনে এমন কল্পনা চলে আসে যার বাস্তবে কোনো মিল নেই।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা সামাজিক ভীতি। পাশাপাশি আপনার মাঝে হাল্কামাত্রার বিষণ্নতার সমস্যা রয়েছে। আপনি ক্যাপসুল প্রদীপ প্রতিদিন সকালে ১টা ও ট্যাবলেট বোপাম ৩ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ওষুধের পাশাপাশি কিছুটা সাইকোথেরাপি করালে ভালো হয়। ২ মাস পর যোগাযোগ করবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।

মো. আলতাফ হোসেন
চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৪ বছর। আমার সমস্যা হলো মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় মাঝে মাঝে একটু তোতলায় বা কথা আটকে যায়। অপরিচিত মানুষের সাথে কথা বলার সময় এই সমস্যা একটু বেশি হয় আর আমার মানুষের সঙ্গে বিশেষ করে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে মিশতে ও কথা বলতে একটু ভয় লাগে ও নার্ভাস লাগে। আমি মানুষের সাথে নির্ভয়ে ও সাহসের সাথে কথা বলতে পারি না। আমার মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সাহসও কম। আমি যখন একা একা থাকি তখন প্রায় সময় কেমন যেন একটু অন্যমনস্ক হয়ে যাই। আর আবোলতাবোল চিন্তাভাবনা করি। মাঝেমধ্যে আবোলতাবোল চিন্তাভাবনায় নিজে নিজে হাসি। মাঝে মাঝে নিজে নিজে অকারণে বা অল্প কারণে হাসি এবং মাঝেমধ্যে একটু কান্নাভাবও আসে। মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময়ও মাঝেমধ্যে শুধু শুধু হাসি আসে। কোনো কাজে ঠিকমতো মনোযোগ দিতে পারি না ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। উপস্থিত বুদ্ধিও একদম কম। স্মৃতিশক্তি ও স্মরণক্তি কম, কোনো কাজকর্ম করতে ইচ্ছা করে না। চাকরি, টিউশনিসহ সব কাজের প্রতি অনীহা বেশি। একা একা থাকলে নানা রকম চিন্তা, দুশ্চিন্তা করি। আর অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করি। ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে এক প্রকার হতাশা বিরাজ করছে।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অবসেশন। তবে পাশাপাশি কিছুটা স্টেমারিংয়ের সমস্যা আছে। এ জন্য ওষুধের পাশাপাশি স্পিচ থেরাপি করাতে হবে। আপনি ট্যাবলেট নেক্সসিটাল ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট জোলিয়াম ০.২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।

প্রণয় তং
রাঙ্গামাটি
আমার বয়স ২৩ বছর। তিন বছর ধরে এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর বর্তমানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমার স্মরণশক্তি খুবই কম, সামান্য দুই-তিন লাইন বাক্য পর্যন্ত স্মৃতিতে ধরে রাখতে পারে না। এই সমস্যায় ৩-৪ বছর থেকে ভুগছি। পড়ার টেবিলে বসলে শরীর ও মন ক্লান্ত লাগে। পড়তে মন বসে না। পাঠ্যবইয়ের গল্পগুলো অনেক বার পড়ার পরও গল্পে কী বলতে চাইছে অথবা কী বোঝাতে চেয়েছে তা কোনো কিছু বুঝে উঠতে পারি না। কোনো পড়া একবার পড়লে ২য়বার সেটা পড়তে মন চায় না, ঘণ্টা খানিক পড়লে মাথায় এক ধরনের যন্ত্রণা শুরু হয়। মাঝে মাঝে পড়ার সময় কিংবা কোনো কর্মে ব্যস্ত থাকলে মাথার ওপর ও পেছনের অংশ খুবই গরম হয়ে ওঠে।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা। এতে ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম সন্ধ্যায় ২টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা খাবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।

খাইরুল ইসলাম
চট্টগ্রাম
আমার বয়স ২৪ বছর। আমি ছোটবেলা থেকে খুব ভীরু প্রকৃতির। রাতে একা ঘুমাতে ভয় লাগে। আবার মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে মনে হয় রুমে যেন কী দাঁড়িয়ে আছে। পরীক্ষার ভাইভা বোর্ডে গিয়ে, সিনিয়র বসের সাথে কথা বলার সময়, কোনো মেয়ে লোকের সাথে কথা বলার সময় হাত-পা, বুক কাঁপতে থাকে, কথা এলোমেলো করে ফেলি বা মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। এসব নার্ভাসনেস আমাকে ভীষণ ভুগাচ্ছে। রেগে গেলেও বুক কাঁপতে থাকে, কথা ঠিকভাবে বলতে পারি না। টেনশনে ঘনঘন প্রস্রাব ধরে, পিপাসা লাগে। পরিচিত মেয়ে বা বান্ধবীদের সাথেও বেশিক্ষণ কথা বলতে পারি না। শরীর খুবই দুর্বল। নিজেকে পৌরুষত্বহীন মনে হয়, মনটা সব সময় মরা মরা হয়ে থাকে। মনে কোনো আনন্দ নেই। জোর করে হাসতে হয়, আবার অনেক সময় হাসি শুরু করলে আর থামে না। পাগলের মতো নিজে নিজে হাসি। নিজের বুদ্ধিতে কোনো কাজ করতে পারি না। স্মরণশক্তি যেন দিন দিন কমে যাচ্ছে, পড়া মনে থাকে না, কোনো কথাও বেশিক্ষণ মনে থাকে না।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা উদ্বেগ। আপনার রোগের নাম অ্যাংজাইটি নিউরোসিস। এতে ওষুধ চিকিৎসার পাশাপাশি কাউন্সিলিং আর সাইকোথেরাপি দরকার। ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট জানাক্স ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ও রাতে খাবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।

আনিছুর রহমান
নাটোর, রাজশাহী
আমার বয়স ২২ বছর। আমি অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। আমার সমস্যাগুলো হচ্ছে-আমি লোকজনের সাথে ঠিকমতো গুছিয়ে কথা বলতে পারি না, কেমন যেন নিজেকে ভয় ভয় লাগে। বুক ধড়ফড় করে, কথা বলার সময় কণ্ঠ বন্ধ হয়ে যায়। মেয়েদের সঙ্গে তো কথা বলতেই পারি না, খুব লজ্জা লাগে। আমার মনে হয় পৃথিবীতে আমি একা। মাঝে মাঝে মরে যেতে ইচ্ছা করে, ভালো কাজে উৎসাহ পাই না, মানুষের সাথে কথা বলতে গেলে মনে হয় যেন সে আমাকে মারবে। ছোট বাচ্চাদের কথারও কোনো প্রতিবাদ করার সাহস নেই। ক্লাসে কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা সত্ত্বেও বলতে পারি না, শোয়ার সময় দরজায় ছিটকানি লাগানোর পরেও সন্দেহ হয়। বুক ধড়ফড় শুরু হয়ে গেল, মনোযোগের পুরোপুরি অভাব। দেখা গেল পাঠ্যপুস্তক বই পড়ছি হঠাৎ দেখব যে অন্য চিন্তা করছি। হাত-পা অবশ হয়ে যায়, আমার গায়ে আর কোনো শক্তি নেই।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অ্যাংজাইটি। পাশাপাশি আপনার মাঝে হাল্কামাত্রার অবসেশন রয়েছে। ওষুধের পাশাপাশি কাউন্সিলিং করাতে হবে। আপনি ট্যাবলেট অ্যালজোলাম ০.৫ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা খাবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।

গোলাম ফারুক
টঙ্গী, গাজীপুর
আমার সমস্যা হলো মনে অহেতুক ভয় ও সন্দেহ হয়। হাতে কিছু লাগলে সাবান দিয়ে হাত না ধুলে মনে হয় হাতে জীবাণু আছে আর আমি খাওয়ার সময় তা আমার শরীরে প্রবেশ করছে। রাস্তা দিয়ে হাঁটলে কুকুর দেখে ভয় হয়, মনে হয় আমার শরীরের সাথে কুকুর লাগছে আর এ জন্য বাসায় এসে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হয়। মাঝে মাঝে খুব ছোট একটা বিষয়কে অনেক বড় করে দেখে ফেলি।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা অবসেশন। আপনি ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রেসপোলাক্স ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে খাবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।

জুবায়ের
সিলেট
আমার বর্তমান বয়স ২০ বছর। আমি একজন ছাত্র। আমার সমস্যাটি শুরু হয় আমি যখন ক্লাস নাইনে উত্তীর্ণ হই এরপর থেকে। সমস্যাটি হচ্ছে আমি নিয়মিত পড়াশোনা করি কিন্তু পরীক্ষা যতই সন্নিকটে চলে আসে এবং পরীক্ষা চলাবস্থায় আর পড়াশোনায় মন বসাতে পারি না। যার দরুন আমাকে অনেক কষ্টে এসএসসি পাস করতে হয়। আমি অনেক উচ্চাশা নিয়ে আমাদের সিলেটের মধ্যে সবচেয়ে ভালো কলেজটিতে ভর্তি হই কিন্তু সেই একই সমস্যা। পরীক্ষা পরবর্তী সময় পড়াশোনায় মোটেই আগ্রহী হতে পারি না। যার দরুন আমি সেই কলেজ থেকে বহিষ্কার হয়েছি। বর্তমানে আমি খুবই চিন্তার মধ্যে আছি আমি কি পড়াশোনা ছেড়ে দেব নাকি পড়ালেখা করব। আর এটা কি কোনো মানসিক রোগ এবং এর কি কোনো প্রকার চিকিৎসা আছে।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যাটি নিঃসন্দেহে সাইকোলজিক্যাল। তবে কোন ধরনের রোগ বলাটা কঠিন। আপনার সমস্যার বেলাতে কাউন্সিলিং দরকার। কাউন্সিলিংয়ে কাজ না হলে হাল্কামাত্রার এনজিওলাইটিক জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করতে হবে।

রাজু চন্দ
সিলেট
আমার বয়স ২৪ বছর। আমার সমস্যা হলো আমার স্মরণশক্তি কম, কোনো কিছু সহজে মনে থাকে না, উপস্থিত বুদ্ধি নেই। আমাকে কেউ যদি কিছু বলে কিংবা কোনো প্রশ্ন করে আমি সাথে সাথে তার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি না, তখন সেই বুদ্ধি আমার মাথায় আসে না। আমি অন্য মানুষের সাথে সাজিয়ে-গুছিয়ে কথা বলতে পারি না, আমি যদি কোনো লোকের সামনে কোনো কিছু লিখতে যাই তখন আমার হাত কাঁপে। প্রায় ২ বছর হলো আমার চোখ লাল হয়ে থাকে এবং কোনো কোনো সময় জ্বলে ও টান ধরে। যখন চোখে টান ধরে তখন চোখ চুলকায় এবং চোখ খুলে তাকাতে পারি না।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা বিষণ্নতা। আপনি ট্যাবলেট ভ্যানলাক্স ৭৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে অর্ধেক করে খাবেন। ট্যাবলেট লেক্সোটানিল ৩ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা খাবেন। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।

জাহাঙ্গীর
মতিঝিল, ঢাকা
আমার বয়স ২৪ বছর। চার মাস আগে আমি বিয়ে করেছি। বিয়ের আগে আমাদের আড়াই বছরের সম্পর্ক ছিল। আমি নিজ থেকেই প্রেমের ব্যাপারটি গোপন রেখে মেয়ের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব দিই এবং তারা রাজি হয়। বর্তমানে আমরা দুজনই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাকরিরত আছি। আমার সমস্যা হলো-বিয়ের পর থেকেই তার প্রতি আমার আকর্ষণ কমতে থাকে। নিজের ভেতরে অস্বস্তি হয়, মনে হয় বিয়ে করে আমি ভুল করেছি। না করাই ভালো ছিল- এসব। প্রথমে সে কষ্ট পাবে বলে তার প্রতি এই অনীহা বুঝতে দিতাম না। কিন্তু এখন এক পর্যায়ে তার সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করে না, ঘুমাতে ইচ্ছা করে না, তার সাথে সেক্স করতেও ইচ্ছা করে না। সে এটা বুঝতে পেরে খুব কষ্ট পায়। আবার আমার ভেতরে একটা অপরাধবোধ কাজ করে। যাকে ভালোবেসে বিয়ে করলাম তাকে কষ্ট দেয়া ঠিক হচ্ছে না। কিন্তু তার সাথে সংসার করতে হবে-এই কথা মনে হলে আমার সমস্ত নীতিবোধ চলে যায়। মেয়েটি খুব চিকন ও রোগা। তার প্রতি আমার ভালো না লাগার এটিও একটি অন্যতম কারণ। দ্বিমুখী সমস্যায় আমি জর্জরিত, তার প্রতি আমার ভালো না লাগা এবং অপরাধবোধ। সর্বোপরি আমি এই কষ্টের জীবন থেকে নিষকৃতি চাই।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার মনের মাঝে একটা দ্বন্দ্ব কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে আপনার দরকার সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং। আপনি এ ক্ষেত্রে আমাদের মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন।

রইস উদ্দীন
বনগাঁ, রাজশাহী
আমার বয়স ২২ বছর। আমার সমস্যা-কারো অপমানজনক কথা সহ্য করতে পারি না। আর অপমানজনক কথাগুলো প্রায় ৩-৪ দিন মনের ভেতর ঘুরপাক করে থাকে এবং এগুলো ভাববার সময় ওই লোকের প্রতি আমার খুব ক্ষোভ এবং ঘৃণা হয়। এক পর্যায়ে ভাবতে ভাবতে আমার মাথাব্যথা শুরু হয়ে যায়। তাছাড়া কেউ আমাকে আঘাত করে কথা বললে তাকে আর সহজে আপন হিসেবে মেনে নিতে পারি না। প্রকৃতপক্ষে আমি সবার আপন হয়ে থাকতে চাই। পড়ালেখায় মনোযোগ নেই, মনে হয় যেন আমার স্মরণশক্তি লোপ পেয়েছে। এক বছর আগে পড়ালেখা নিয়ে ভাবতাম এবং পরীক্ষার সময় খুব ভয় পেতাম যে, পাস করব কিনা। কিন্তু এখন আর সেটা মনের ভেতর কাজ করে না। অথচ তিন মাস পরে আমার ফাইনাল পরীক্ষা।

একাকী সময় আজেবাজে চিন্তা আসে, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি, যতক্ষণ বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিই ততক্ষণ মনটা ভালো ও আনন্দে থাকে। কিন্তু সঙ্গ ত্যাগ করার পর মনটা আর ভালো থাকে না। স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ায় অনেক সময় দুশ্চিন্তায় ভাবি এবং নিজেকে খুব ছোট ভাবি। মনে মনে ভাবি আমি বুঝি পৃথিবীর সবচেয়ে নিরস ছেলে। আত্মবিশ্বাস দিন দিন লোপ পাচ্ছে, খাওয়া-দাওয়া করতে মন চায় না। অনেক চেষ্টার পরও স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারি না। অপরিচিত মেয়েদের সামনে দিয়ে যেতে খুব নার্ভাস ফিল করি।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি বিষণ্নতা সমস্যাতে ভুগছেন। পাশাপাশি আপনার মাঝে সোশ্যাল ফোবিয়ার সমস্যা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ট্যাবলেট ট্রিপটিন ২৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট সেরোলাক্স ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে খাবেন। যদি ঘুম কম হয় তবে ট্যাবলেট ক্লোব ১০ মিলিগ্রাম ঘুমাতে যাওয়ার ১ ঘণ্টা আগে ১টি খাবেন।

স্বপন কুমার
রাজশাহী
আমার বয়স ১৭ বছর। আমার ৫ বছর বয়স থেকে প্রচণ্ড মাথার যন্ত্রণা। স্থায়িত্ব প্রায় ১০-১২ দিন। মাথার যন্ত্রণা শুরুর পূর্বে চোখ বসে যায় এবং চোখের নিচটা নীল হয়ে যায়। প্রচণ্ড যন্ত্রণা শুরুর পূর্বে ঘাড় ব্যথা করে। পড়াশোনা একেবারেই করতে পারি না। ২০০৩ সালে মাদ্রাজের ভেলোর হাসপাতালে মেডিসিন, ইএনটি এবং নিউরো বিভাগে চিকিৎসা করেছি। সেখানে ওষুধ দিয়েছিল-সাইপ্রোহেপটাডিন এইচডি এবং প্রোপানোনল। ওষুধগুলো খেয়ে মাথার যন্ত্রণা কিছুটা কমেছে। পড়াশোনা বেশি করলেই মাথার যন্ত্রণা বেড়ে যায়।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা সম্ভবত মাইগ্রেনাস মাথাব্যথা। যেহেতু ওষুধগুলো খেলে আপনার মাথাব্যথা কমে এ কারণে আপনি ওষুধগুলো চালিয়ে যেতে পারেন। আসলে এ ধরনের সমস্যাগুলোতে ওষুধের কোনো মেয়াদ নেই।

মো. বেলাল হোসেন
লালদীঘি, চট্টগ্রাম
মানসিক রোগ কি বংশগত? একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির কি মানসিক সমস্যা থাকতে পারে? বাবা-মায়ের মধ্যে ঝগড়াঝাটি, সব সময় মেজাজ খিটখিটে স্বভাব, ছেলেমেয়েদের ওপর কি এর প্রভাব পড়তে পারে? এর ফলে ছেলেমেয়েদের কী কী সমস্যা হতে পারে দয়া করে জানালে উপকৃত হব।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। মানসিক রোগ সম্পর্কে আপনার কৌতূহলের জন্য ধন্যবাদ। কিছু কিছু মানসিক রোগ বংশগত। যেমন-সিজোফ্রেনিয়া, ম্যানিয়া কারোর বংশে থাকলে এ রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিন্তু বংশে না থাকলেও এ রোগ হতে পারে। আমাদের প্র্যাকটিসে এমন কেস অনেক পেয়েছি যেখানে পরিবারের একাধিক সদস্য মানসিক সমস্যাতে আক্রান্ত। পিতা-মাতার খিটখিটে স্বভাবের কারণে ছেলেমেয়েদের বিষণ্নতা বা উদ্বেগ সমস্যা হতে পারে। আমরা এ সম্পর্কে মনোজগতে নানা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছি। আপনি পুরনো সংখ্যাগুলো ঘেঁটে দেখতে পারেন।

আব্দুর রাজ্জাক
মহেশপুর, ঝিনাইদহ
আমার বয়স ২০ বছর। আমার কিছু সমস্যার কথা নিচে উল্লেখ করলাম-আমার মনে হয় স্মরণশক্তি কমে গেছে, অনেক বই পড়ি কিন্তু মনে রাখতে পারি না। পড়া মুখস্থ করছি কিছুক্ষণ পরে ভুলে যাই, মনে থাকে না। ছোটবেলা আমার বাবা আমাকে গালে চড় দিয়েছিল, আমার মনে হয় সে সময় থেকেই আমার এই সমস্যা। আমার মাঝে মাঝে মাথাব্যথা করে, বিশেষ করে পড়তে বসলে। এই সমস্যাটা ৩ বছর ধরে। আমার শরীর খুব দুর্বল, বেশি পরিশ্রম করতে পারি না। আমি দিনে দিনে শুকিয়ে যাচ্ছি, খাওয়া-দাওয়া করতে পারি না। আমার মনে হয় আমার মনের ভেতরে অনেক ভয়। কারো কাছে যেতে লজ্জা লাগে ছোটবেলা থেকে। কোনো কাজে সাহস করে এগিয়ে যেতে পারি না।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার চিঠি পড়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসাটা কষ্টকর। তবে আপনি আপাতত ট্যাবলেট রেসপোলাক্স ১ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ১ মাস পর অবস্থা জানিয়ে যোগাযোগ করবেন। আপনি মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।

মামুন
নড়াইল
আমার মায়ের একটা সমস্যা হলো সে উত্তেজিত হলে হঠাৎ করে বেহুঁশ হয়ে যায়। ২০-৩০ মিনিট পর আবার হুঁশ ফিরে আসে। বেহুঁশ হওয়ার পর আমাদের মনমানসিকতা ঠিক থাকে না, মনে হয় আমরা মাকে হারিয়ে ফেলেছি। মা প্রেসারের রোগী, নিয়মিত ওষুধ খায়। এ ব্যাপারে কী করণীয় জানাবেন।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি আপনার মায়ের সমস্যা সম্পর্কে অতি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়েছেন। এমনকি বয়সও উল্লেখ করেননি। নিয়মিত কী কী ওষুধ সেবন করছে সে সম্পর্কেও জানাননি। তবে আপাতত ট্যাবলেট টেগ্রেটল সিআর ২০০ মিলিগ্রাম সকালে ১টা ও রাতে ১টা করে খাওয়ান। উত্তেজিত হয়ে বেহুঁশ হওয়ার সমস্যা কমে কি না দেখেন। আমাদের সাথে ২০ দিন পর যোগাযোগ করবেন।

নাছিমা খাতুন
কুষ্টিয়া
আমার বয়স ২৫ বছর। আমি বিবাহিতা। বিয়েটা আমার মতের বিরুদ্ধে হয়। সংসার জীবনে আমি স্বামীকে নিয়ে সুখী নই। কারণ আমার স্বামী আমার চেয়ে তার ভাবীকে বেশি মূল্যায়ন করে, কোনোভাবেই আমি স্বামীকে আমার আয়ত্তে আনতে পারছি না এবং সেই ভাবীকেও সহ্য করতে পারছি না। যদিও একই বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। এ নিয়ে ভাবতে ভাবতে প্রায় চার বছর ধরে বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় ভুগছি। যেমন-আমার কোনো কিছুই ভালো লাগে না, নিজেকে খুব একা ও অসহায় মনে হয়, অল্পতেই হতাশায় ভুগি, খাবারে একেবারে অরুচি, দিন দিন শরীর ভেঙে যাচ্ছে, চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে, চেহারায় সব সময় দুঃখের ছাপ থাকে। খুব সহজেই নিজের গোপন কথাগুলো অন্যের কাছে প্রকাশ করে ফেলি।

সব সময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি। এক ঘণ্টার কাজ চার ঘণ্টা লেগে যায়। স্মরণশক্তি একদম কমে গেছে, অনেক সময় একা একা কথা বলি। ঘরে মন বসে না, অকারণে ঘোরাঘুরি করি, আর আমার হার্ট খুব দুর্বল। কোনো শব্দ শুনতেই ঘাবড়ে যাই। মানুষের দেয়া আঘাত কিংবা খারাপ ব্যবহার সহজে ভুলতে পারি না। কোনো চিন্তা মাথায় ঢুকলে তা আর বের করতে পারি না। একই চিন্তা বারবার করতে থাকি, সারাদিন আজগুবি চিন্তা করতেই থাকি। আমার গায়ে সব সময় জ্বর অনুভব করি কিন্তু থার্মোমিটারে কোনো জ্বর ধরা পড়ে না। ঘুম মোটামুটি, মাথা ভার থাকে এবং তালু খুব জ্বলে, দয়া করে আমাকে পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবেন।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যাটি মূলত পারিবারিক। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষাতে এর নাম অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিসঅর্ডার। মানসিক চাপের মাঝে থাকার কারণে আপনার মাঝে বিষণ্নতা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ কারণে বর্তমানের নানা উপসর্গ প্রকাশ পাচ্ছে। এ বিষণ্নতা সমস্যার জন্য ট্যাবলেট লুডিওমিল প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট রিভোট্রিল ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ১টা করে খাবেন। ওষুধ সেবন করলে আপনার শরীরী সমস্যাগুলোর সাময়িক উপশম হতে পারে। সামগ্রিক উন্নতির জন্য সাইকোথেরাপি দরকার-এ ক্ষেত্রে আপনি আর আপনার স্বামীকে একসাথে কাউন্সিলিং করা দরকার। কাউন্সিলিংয়ের জন্য মনোজগত পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন।

নিজাম উদ্দীন
ফুলতলা, খুলনা
আমার বয়স ২০ বছর। আমার বর্তমানে সমস্যা হলো-যে বিষয়গুলো এক সময় ভালো লাগত সেগুলো আর ভালো লাগে না। বিমর্ষতা, উদ্যমহীনতা, সব সময় একটা আশাহীন ভাব, কোনো কিছুতে মনোসংযোগ করতে না পারা, অল্প কারণে কাঁদা বা কান্না দমন করতে না পারা, খিটখিটে আচরণ করা। কেউ দুষ্টামি করে হাল্কা ধমক দিলেও আমার কান্না চলে আসে। আমার কষ্টগুলো কারো সাথে শেয়ার করতে পারি না। যার কারণে আমাকে সবাই আনস্মার্ট মনে করে। আমার অতিরিক্ত লজ্জার কারণে কারো সামনে যেতে পারি না, কারো সাথে মন খুলে কথা বলতে পারি না।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি বিষণ্নতা সমস্যাতে ভুগছেন। পাশাপাশি আপনার মাঝে সোশ্যাল ফোবিয়ার সমস্যা রয়েছে। আপনি ক্যাপসুল প্রদীপ ২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট লেক্সোটানিল ৩ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা ও সন্ধ্যায় ১টা করে খাবেন। ওষুধ চালিয়ে যাবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।

মো. আমিনুল হক
পাবনা
আমার বয়স ২৫ বছর। আমার মনে হয় আমি একজন মানসিক রোগী। আমার সমস্যা হলো-আমি কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না, সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি। যেমন একটি কাজ করব ১৫ দিন সময়, এখন প্রথমে কী করব সিদ্ধান্ত নিতে পারি না, যখন তারিখ শেষ হয়ে আসে তখন সাথে সাথে সিদ্ধান্ত নিই। তারপর দেখা যায় সিদ্ধান্ত নেয়া ভুল হয়েছে। কাজ করার সময় নিজের কাজটাই সঠিক মনে করি। আমার মেজাজ খিটখিটে, সামান্য কিছুতেই উত্তেজিত হই। মানুষের সামনে লিখতে, পড়তে বা কথা বলতে হাত-পা কাঁপে। একা লিখতে বা পড়তে কাঁপে না। বড় অফিসারের কাছে কোনো কথা বলতে গেলে বুকটা ধড়ফড় করে এবং কথা গুছিয়ে বলতে পারি না। সামান্য কিছুতেই মনে খুব দুঃখ পাই। স্মরণশক্তি খুবই কম, এই যে লিখছি কী লিখব তাও ভুলে গেছি। নামাজ পড়তে গেলে মাঝেমধ্যে কথা মনে পড়ে এবং নামাজ ভুল হয়। আমার মধ্যে আল্লাহবিরোধী কথা মনে পড়ে। দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম হয়। ঘুমের মধ্যে আজেবাজে স্বপ্ন দেখি, এমনকি স্বপ্নের কারণে ঘুমের অসুবিধা হয়।

আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনি আসলে অ্যাংজাইটি সমস্যাতে ভুগছেন। এ ক্ষেত্রে ট্যাবলেট জাইনাক্স ০.৫ মিলিগ্রাম প্রতিদিন ১টা করে দিনে ৩ বার, ট্যাবলেট সেট্রা ৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সকালে ১টা করে খাবেন। ট্যাবলেট ট্রিপটিন ১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন রাতে ১টা করে খাবেন। ওষুধ চালিয়ে যাবেন। আমাদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। ১ মাস পর যোগাযোগ করবেন।