বিজ্ঞানীদের নিত্যনতুন আবিষ্কারে বিশ্ব প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। আদিম যুগ থেকেই মানুষ বাঁচার তাগিদে বেছে নিয়েছিল পরিবর্তনের এ রীতি। সময়ের কালক্রমে মানুষ তার প্রয়োজনের স্বার্থে আবিষ্কারের ক্ষেত্রকে বাড়িয়ে চলেছে। বর্তমানে প্রযুক্তির সাথে চলছে প্রযুক্তির লড়াই।
সিসকোর প্রধান ডেভ ইভানসের মতে, বর্তমান সময়ের থ্রিডি প্রিন্টার, সেন্সর নেটওয়ার্ক ও ভার্চুয়াল প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বে প্রগতির ধারায় আমূল পরিবর্তন আসছে। প্রযুক্তিবিদরা কিছু সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তি তৈরি করেছেন। এর কল্যাণে আগামী ১০ বছরের মধ্যে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন ঘটবে।
১. ইন্টারনেটের প্রসার
ইন্টারনেটের কল্যাণে সমগ্র পৃথিবী আজ আমাদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। ঘরে বসে এখন আপনি চাইলে পুরো বিশ্ব মুহূর্তেই ঘুরে আসতে পারছেন। আমরা চাইলেই বিশ্বের সব খবর নিতে পারছি ইন্টারনেট নামক প্রযুক্তির কল্যাণে। আধুনিক বিশ্বের উন্নয়নে ইন্টারনেটের গুরুত্ব অপরিসীম। পরবর্তী ১০ বছরে আশা করা যায় দ্রুতগতি, কর্মদক্ষতায় ইন্টারনেটে যুক্ত হবে জিগবি, জেড-ওয়েভসহ উন্নত প্রযুক্তি। ধারণা করা হচ্ছে, অচিরেই প্রায় ৫০ বিলিয়ন নতুন ইন্টারনেট সংযোগ বিশ্বব্যাপী যুক্ত হবে। এর আওতায় কম্পিউটার, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, টেলিভিশন ডিভাইসসহ যুক্ত হবে আরও নতুন নতুন প্রযুক্তি।
২. তথ্য ধারণক্ষমতা
২০০৮ সালে বিশ্বে তথ্য সংরক্ষণের জন্য ৫ এক্সাবাইট ধারণক্ষমতা ছিল অদ্বিতীয়। এটি প্রায় এক বিলিয়ন ডিভিডি সমপরিমাণ তথ্যধারণে সক্ষম। আর বর্তমানে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে গেছে ১.২ জেটাবাইটের তথ্যধারক। ১ জেটাবাইট সমান ১০২৪ এক্সাবাইট। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৫ সাল নাগাদ ইন্টারনেট ডেটার ৯১ শতাংশ হবে ভিডিও-নির্ভর। আর এ কারণেই তথ্যধারণের ব্যাপারে বিপুল পরিমাণ স্পেসকে বেশি জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩. ক্লাউড কম্পিউটিং
নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রাপ্তিতে সহজলভ্যতার কথা চিন্তা করে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদ্ধতির সৃষ্টি হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের বিকল্প কিছু হতে পারে না। ১৯৬০ সালে ক্লাউড-নির্ভর কম্পিউটিংয়ের ধারণা পাওয়া যায়। তবে প্রকৃতপক্ষে এর ধারণার ভিত্তি লাভ করেছে ১৯৯০ সালে। অ্যামাজন তাদের ওয়েব সার্ভিসের মাধ্যমে ইউটিলিটি কম্পিউটিংয়ে সার্ভিস শুরু করে ২০০৫ সালে। গুগল ও আইবিএম যৌথভাবে ২০০৭ সালে কিছুসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়কে সাথে নিয়ে ক্লাউড কম্পিউটিং বিষয়ে গবেষণাধর্মী প্রজেক্ট শুরু করে। ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হয় ২০০৯ সালের দিকে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে বিশ্বের সব তথ্যের এক-তৃতীয়াংশ তথ্য ক্লাউড কমিপউটিংয়ের আওতাভুক্ত হবে। কারণ প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের জন্য রাজস্ব ১৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারতা ও প্রতিনিয়ত উদ্ভাবনী ব্যবস্থার কারণে ২০১৪ সালের মধ্যে এর পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৪. আধুনিক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা
প্রযুক্তির উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উন্নত নেটওয়ার্ক তথা আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম। আশা করা হচ্ছে, ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সর্বত্রই ব্যবহারকারীরা নেটওয়ার্কে ৫০ এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ সুবিধা পাবেন। বহির্বিশ্বে থ্রিজি ব্যাপক প্রসার পেলেও আমাদের দেশে এর সুবিধা এখনো পৌঁছেনি। কিন্ত প্রযুক্তি বিশ্ব আগামী ১০ বছরে থ্রিজির স্থান দখল করতে যাচ্ছে ৪০জি থেকে ১০০জি। এর কর্মদক্ষতা কতটুকু হবে তা ব্যবহারকারীরা কিছুটা হলেও অনুধাবন করতে পারছেন।
৫. ক্ষুদ্র বিশ্ব আরও ক্ষুদ্র হতে চলছে
দূরত্ব যতই হোক আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার কারণে বিশ্বের দূরত্ব প্রতিনিয়ত কমছে। এটি নিয়ে এখন আর কারও কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। মহাবিশ্বের তুলনায় পৃথিবী ক্ষুদ্র হলেও প্রযুক্তির কল্যাণে এই ক্ষুদ্র বিশ্ব যেন আরও ক্ষুদ্র হতে চলছে। বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটের প্রসারতা, সামাজিক যোগাযোগ ও শক্তিশালী দ্রুতগতি নেটওয়ার্কিংয়ের কারণে বিশ্বের অচেনা স্থানটি আজ আর অচেনা থাকছে না। স্থানের পাশাপাশি বিশ্বের দূরপ্রান্তের অজানা মানুষটিও আজ আর অচেনা থাকছে না। প্রযুক্তির কল্যাণে ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস বা প্রাকৃতিক যেকোনো দুর্যোগের খবর মুহূর্তেই বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুতগতিতে পৌঁছে যাচ্ছে। গবেষকেরা দাবি করছেন, আগামী ১০ বছরে ভৌগোলিক এ যোগাযোগ আরও প্রসার লাভ করবে।
৬. শক্তিকে শক্তিতে রূপান্তর
বিশ্বে প্রতিদিন জনসংখ্যা বেড়েই চলেছে। বাড়তি জনসংখ্যা তৈরি করছে বাড়তি চাপ। প্রতিনিয়ত অপচয় হচ্ছে প্রাকৃতিক শক্তি। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই দুর্যোগ তারা বেশ সফলতার সাথে মোকাবেলা করতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ সৌরশক্তির কথা বলা যায়। পরবর্তী ১০ বছরে ভৌগোলিক এ শক্তির চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে বৈদ্যুতিক চাহিদা ও জ্বালানির চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে।
৭. যন্ত্রমানব
নিজেকে মানুষ পরিচয় দিয়ে এত দিন আমরা পরিতৃপ্ত ছিলাম। কারণ মানুষের বুদ্ধিমত্তার কাছে অন্যান্য প্রাণীর বুদ্ধিমত্তা অতুলনীয়। মানুষের বুদ্ধিমত্তার সাথে দৈহিক সামর্থ্য মিলে মানুষ প্রাণিকূলের শিরোমণি হিসেবেই পরিচিত। তবে আগামী ১০ বছরে যা ঘটবে তাতে এ ভাবনা অনেকটাই পাল্টে যেতে পারে। রোবট বা যন্ত্রমানবের কথা আমরা সবাই জানি, তবে এর নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা বলতে শূন্যের কোঠায়। রোবট যে কাজ করে তা মানুষ কর্তৃক নির্দেশিত। ২০১৫-২০২০ সালের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিটি বাড়িতে কাজকর্মের জন্য রোবট ব্যবহূত হবে। এই দৃশ্য ইউরোপের অনেক দেশেই দেখা যেতে পারে। ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সার্জারির কাজেও রোবট ব্যবহূত হতে পারে। ২০২২ সালে নিজস্ব বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট আবিষকৃত হবে এবং এসব রোবট নির্দিষ্ট পরিবেশে ভালো কাজ করবে। এসব যন্ত্রমানব মানুষের তুলনায় অধিকতর শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান হবে। আইবিএমের ব্লু-বেইন প্রজেক্ট এসব যন্ত্রমানবে মানব মস্তিষ্কের মতো মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপন করা হবে, যেখানে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বয় ঘটানো হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে এসব যন্ত্রমানব তাদের মস্তিষ্কের সঠিক ব্যবহার করতে পারবে। ২০৩২ সালের মধ্যে বিশ্বের উন্নয়নমূলক কাজে মানুষের পাশাপাশি ব্যাপক আকারে এদের ব্যবহার করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে মানুষের পরিবর্তে কর্মস্থলে এদের ব্যবহার করা হবে।
৮. চিকিৎসাবিজ্ঞান
প্রযুক্তিবিদ ও বিজ্ঞানীদের ধারণা মতে, আগামী ১০ বছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যাপক বিপ্লব ঘটবে। মানুষের শারীরিক, মনস্তাত্ত্বিক কিংবা বুদ্ধিমত্তার সংক্ষিপ্ত জটিল বিষয়গুলোর জন্য উন্মুক্ত হবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান।
৯. বিজ্ঞান ও মানবদেহ
মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ জন্মগত বা বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অকার্যকর হতে পারে। অকার্যকর হতে পারে হাত, পা, চোখ কিংবা দেহের অভ্যন্তরের কোনো জটিল অঙ্গ। বর্তমান বিজ্ঞানব্যবস্থা এর কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফলতার সাথে সমাধান দিয়ে আসছে।
ধারণা করা হচ্ছে আগামী ১০ বছরের মধ্যে মানবদেহে বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপনে বিজ্ঞান সম্পূর্ণরূপে সফলতার সাথে কাজ করতে পারবে। ২০১৯ সালে ৩০ ভাগ বাণিজ্যিক পণ্যে ন্যানো টেকনোলজি ব্যবহূত হবে। আমেরিকার সেনাবাহিনীর ২০২০ সালের এক লক্ষ অনুযায়ী বায়োলজিক্যাল অস্ত্র, ন্যানো ম্যাসল ও বিভিন্ন রাসায়নিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ন্যানো টেকনোলজি ব্যবহূত হবে।
ফার্স্টপারসন গেম বানানোর আদর্শ গেম ইঞ্জিন আনরিয়েল ইঞ্জিন ৩ ভার্সনের ছোঁয়ায় গেমটি হয়েছে বেশ প্রাণবন্ত এবং গ্রাফিক্সের মানও হয়েছে খুব উন্নতমানের। বর্তমানের পরিবেশ ও অতীতের পরিবেশের মধ্যে আনা হয়েছে বেশ নজরকাড়া গ্রাফিক্সের কারুকাজ। সময় পরিবর্তন হওয়ার দৃশ্য ও দুটি সময়ের মধ্যে পার্থক্যে গ্রাফিক্সের সাহায্যে খুবই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গেমের সাউন্ডের মানও বেশ ভালো। পিসি রিকয়্যারমেন্ট প্রসেসর : পেন্টিয়াম ডি ২.৮ গিগাহার্জ, র্যাম : ১.৫ গিগাবাইট, হার্ডডিস্ক সেপস : ৮ গিগাবাইট, গ্রাফিক্স কার্ড : ২৫৬ মেগাবাইট।
সিঙ্গুলারিটি গেমস : যুদ্ধভিত্তিক অ্যাকশন গেম
আনোয়ারুল ইসলাম জামিল
এই গেমের পটভূমি নির্মিত হয়েছে ক্যাটোর্গা-১২ নামক রাশিয়ার কাল্পনিক দ্বীপকে কেন্দ্র করে। গেমের কাহিনীতে রয়েছে ১৯৫০ সালে আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময়। সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা জোসেফ স্ট্যালিন রাশিয়ান বিজ্ঞানীদের পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর আরও বেশি গবেষণা করতে বলেন। গবেষণা কার্যক্রম খুবই গোপনীয় হওয়ায় বিজ্ঞানীরা রাশিয়ার কাছেই অবস্থিত ক্যাটোর্গা-১২ নামে ছোট একটি দ্বীপে ঘাঁটি স্থাপন করে। ভাগ্যক্রমে তারা সেই দ্বীপে ইলিমেন্ট-৯৯ নামে পদার্থ আবিষ্কার করে। এই বস্তুটির বাস্তবসম্মত ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য বিজ্ঞানীরা পাঁচ বছর গবেষণাকার্য চালিয়ে যান। কিন্ত এক অজানা কারণে দুর্ভাগ্যবশত পুরো দ্বীপ ধ্বংস হয়ে যায়। তখন রাশিয়া সেই দ্বীপকে তাদের মানচিত্র থেকে মুছে দেয় এবং সর্বসাধারণের কাছ থেকে ইলিমেন্ট-৯৯ আবিষ্কারের কথা গোপন করে। প্রায় ৫৫ বছর পর অর্থাৎ ২০১০ সালে ক্যাটোর্গা-১২ দ্বীপের খোঁজ আবার পাওয়া যায়, যখন আমেরিকার একটি স্পাই স্যাটেলাইট সেই দ্বীপের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় হেলিকশুটারটি ক্র্যাশল্যান্ডিং করতে বাধ্য হয়। ক্র্যাশল্যান্ডিংয়ের ফলে শুধু দুজন বেঁচে যাওয়া সৈন্যকে সাথে নিয়ে দ্বীপটি থেকে বের হওয়া বিকিরণের উৎস বের করতে হবে।
গেমটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে গেমে সময় পরিবর্তন করে খেলা সম্ভব এবং এ কাজটি করা সম্ভব গেমে ব্যবহার হওয়া একটি যন্ত্র বা আর্টিফ্যাক্টের জন্য। এই যন্ত্রটির নাম হচ্ছে টাইম ম্যানিপুলেশন ডিভাইস এবং যন্ত্রটির চালিকাশক্তি হিসেবে অফুরন্ত শক্তির আধার ইলিমেন্ট-৯৯ ব্যবহার করা হয়েছে। যার ফলে গেমার রেনকোকে নিয়ে ২০১০ সাল থেকে ১৯৫৫ সালের মধ্যকার যেকোনো সময়ে মুহূর্তের মধ্যে চলে যেতে পারবে। এ ছাড়া যন্ত্রটি থেকে বের হওয়া বিকিরণ ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রাণীকে সাময়িকভাবে অবশ বা অচেতন করে দেয়া যাবে। এমনকি এটি ব্যবহার করে অন্যান্য প্রাণীকে মেরেও ফেলা যাবে। অস্ত্রের পাশাপাশি এই যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার জানতে হবে।
গেমে শত্রু হিসেবে রয়েছে রাশিয়ান সোলজার। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে আধুনিক ও ১৯৫৫ সালের রাশিয়ান সোলজারদের সাথেও মারামারি করতে হবে। গেমে বেশির ভাগ প্রাণী ও দ্বীপের বাসিন্দারা জিনগতভাবে পরিবর্তিত হয়ে বিশাল ও অদ্ভুত আকার ধারণ করায় গেমে অনেকটা ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি করা হয়েছে। গেমারকে বিভিন্ন ধাঁধার সমাধান করতে হবে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য। এ ছাড়া গেমে স্লো-মোশন ইফেক্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে নায়ককে নিয়ে কোনো কিছু গুলি করার সময় স্লো-মোশন মুড ব্যবহার করে নিখুঁত নিশানায় গুলি করা সম্ভব। গেমে শত্রুপক্ষ ও প্রাণীদের ছুড়ে দেয়া ড্রাম ও অন্যান্য বস্তুনায়ককে দিয়ে লুফে নেয়া যাবে এবং তাদের দিকে ছুড়ে মারা যাবে। খেলার সময় টাইম ম্যানিপুলেশন ডিভাইস ব্যবহার করে অতীত থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে আসা যাবে। যেমন কোনো জায়গায় বিস্ফোরণের জন্য বিস্ফোরক ড্রামের প্রয়োজন কিন্তু বর্তমানে আশপাশে কোথাও বিস্ফোরক ড্রামের অস্তিত্ব নেই। তখন ইচ্ছে করলে অতীত থেকে ড্রাম নিয়ে এসে বিস্ফোরণ ঘটানো যাবে। এ ছাড়া কোনো স্থানে অনুসন্ধান চালাতে হবে কিন্তু সেটি বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে গেছে, সে ধরনের পরিস্থিতিতেও টাইম ম্যানিপুলেশন ডিভাইস ব্যবহার করে সেই জায়গা যখন ঠিক ছিল সেই সময়ে চলে যাওয়া যাবে।
গেমার ইচ্ছে করলে যেকোনো এক পক্ষের হয়ে খেলা শুরু করতে পারবেন। গেমে থাকা অন্য আরেকটি মাল্টিপ্লেয়ার মুডের নাম হচ্ছে এক্সটার্মিনেশন। এই মুডে প্রথমে সোলজার হয়ে খেলা শুরু করতে হবে এবং ম্যাপের নির্দেশিত বিভিন্ন ঘাঁটি ক্রিয়েচারদের হাত থেকে মুক্ত করে সেগুলোর দখল নিতে হবে।
সবার জন্য ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট
নাজমুল হোসেন
‘সবার জন্য ব্রডব্যান্ড’ এই থিম নিয়ে যাত্রা শুরু করে দেশী ওয়াইম্যাক্স সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কিউবি। কিউবির বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে কিউবির চিফ মার্কেটিং অফিসার নেহাল আহমেদের কথা। দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা নিয়ে নেহাল আহমেদ কাজ করেছেন বিশ্বের বিখ্যাত সব প্রতিষ্ঠানে। দেশের প্রতি মমত্ত্ববোধ থাকায় ২০১০ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি দেখছেন কিউবির মার্কেটিং বিভাগ। এক সময় কিউবির গ্রাহক থেকে বর্তমানে তিনি কিউবির মার্কেটিং বিভাগের চিফ।
কিউবির সাথে কীভাবে যুক্ত হলেন?
দেশে ফিরে আমার বড় চাহিদা ছিল হাইসিপড ইন্টারনেট সংযোগ। সে চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছিল কিউবি। ফলে তখন থেকেই কিউবির ভক্ত হয়ে যাই।
অন্যান্য ওয়াইম্যাক্স সেবাদাতা থেকে
কিউবি ব্যতিক্রম কেন?
দেশের মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহারের চাহিদাকে আমরা কিছুটা হলেও পূরণ করতে পেরেছি। দুই বছর আগে মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহার আর বর্তমান কিউবির গ্রাহকদের ইন্টারনেট ব্যবহারের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগের অভিজ্ঞতা অনেকটাই পাল্টে গেছে। ওয়াইম্যাক্স একটি নতুন টেকনোলজি। এটি আমেরিকায় যে সময় কার্যক্রম শুরু করেছে, আমরা ঠিক পাশাপাশি সময়ে দেশে শুরু করেছি। জিএসএম যেমন অনেক আগ থেকে কাজ করেছে বিশ্বে, কিন্তু দেশে এসেছে পরে; ফলে এটিকে নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে কম। কিন্তু আমরা সমসাময়িক সময় শুরু করায় ভোগান্তি একটু বেশি। দেশের প্রথম ওয়াইম্যাক্স সেবাদাতা কিউবি। বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহককে পোসটপেইড ও প্রিপেইড সেবার আওতায় বিভিন্ন অফার দিচ্ছে। আমরাই প্রথম মডেমের দাম কমিয়েছি। ডাবল সিপড প্রথমে আমরা করেছি। ইউজার ফি আমরা অন্যদের তুলনায় অনেক কমিয়েছি।
কিউবি সমপ্রতি চট্টগ্রামে নেটওয়ার্ক সমপ্রসারণ করেছে।
চট্টগ্রামে ইউজার কেমন?
কিউবি প্রায় আট মাস আগে থেকে চট্টগ্রামে সার্ভিস দিচ্ছে। কিন্তু সমপ্রতি চট্টগ্রামে কিউবি তাদের সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। কারণ দীর্ঘ আট মাস গ্রাহকদের মতামতের ভিত্তিতে নেটওয়ার্ক সমপ্রসারণ করা হয়েছে। এতে করে গ্রাহক তার সমস্যাগুলো সরাসরি আমাদের জানাতে পেরেছেন। বর্তমানে চট্টগ্রামে কিউবির প্রায় ১০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন।
এরপর আর কোথায় নেটওয়ার্ক সমপ্রসারণ করবেন?
সিলেটে কাজ চলছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিলেটের গ্রাহকেরা কিউবি ব্যবহার করতে পারবেন।
শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করতে চান কি না?
সরকার যেকোনো প্রকল্পে আমাদের সাথে কাজ করতে চাইলে আমরা সরকারের পাশে থাকব।
নেটওয়ার্ক সমস্যা নিয়ে যেসব ঝামেলা হচ্ছে
তার সমাধানে কী করছেন?
আমাদের কিছু নির্দিষ্ট এরিয়ায় অতিরিক্ত কাস্টমার রয়েছেন। আমরা এসব এরিয়া খুঁজে বের করে পর্যায়ক্রমে ইউজার ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করছি।
আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
নিত্যনতুন সেবা দিয়ে মানুষের ইন্টারনেট অভিজ্ঞতাকে পাল্টে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য। অচিরেই আমরা দেশের সেরা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রোভাইডার হতে চাই।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে কিউবি কী
ভূমিকা পালন করছে?
ডিজিটাল বাংলাদেশে সব বাংলাদেশীর কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়া একটা বড় ভিশন। সরকার বলার আগে আমরা ৪০০ টাকায় মাসিক ইউজার ফি করেছি। ব্যান্ডউইথ ও ট্রানসমিশন ফি কমলে আমরা আরও দ্রুত দেশব্যাপী আমাদের সেবা পৌঁছে দিতে পারব।



