আজারবাইজান
| অবস্থান | দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার একটি দেশ। কাস্পিয়ান সাগরের সীমান্তে, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে এর অবস্থান। | |
| মোট আয়তন | ৮৬,৬০০ বর্গকিলোমিটার। | |
| স্থলভাগ | ৮৬,১০০ বর্গকিলোমিটার। | |
| জলভাগ | ৫০০ বর্গকিলোমিটার। | |
| স্থল সীমান্ত | ২,০১৩ কিলোমিটার। | |
| সীমান্তবর্তী দেশ | আর্মেনিয়া, জর্জিয়া, ইরান এবং রাশিয়া। | |
| আবহাওয়া | বৃষ্টিহীন, শুষ্ক অনুর্বর ও তৃণাঞ্চল। | |
| প্রধান নদী | আরাস, কুর। | |
| উচ্চতম অঞ্চল | বাজারডিউজি, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮,৬৫২ ফুট (৪,৪৬৬ মিটার) উঁচু। | |
| নিম্নতম অঞ্চল | কাস্পিয়ান সাগর পৃষ্ঠ থেকে ৯২ ফুট (২৮ মিটার) নিচু। | |
| প্রাকৃতিক সম্পদ | পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, আকরিক লৌহ, অ্যালুমিনিয়াম। | |
| প্রাকৃতিক দুর্যোগ | অনাবৃষ্টি। | |
| ঐতিহাসিক পটভূমি | ইরান ভূখণ্ডসংলগ্ন আজারবাইজানীয়দের উৎসও ইরানিদের সঙ্গে অভিন্ন বলে অনেকে মনে করেন। ৯ শতকে আজারবাইজান তুর্কি প্রভাবাধীনে চলে এসেছিল এবং শতকের পর শতক নিজ অস্তিত্ব রক্ষায় আরব, মোঙ্গল,তুর্কি ও ইরানিদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত থাকে। উনিশ শতকের শুরুতে আজারবাইজান রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ১৯৭১ সালে রাশিয়ার বিপ্লবের পর দেশটি স্বাধীনতা অর্জন করে। তবে ১৯২০ সালে লালফৌজের নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে আজারবাইজান সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত হয়। তুর্কি এবং মুসলিম প্রধান দেশ আজারবাইজান সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে। ১৯৯৪ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও আজারবাইজান নাগোরনো কারাবাখ অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য আর্মেনিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্ব জিইয়ে রাখে। যদিও উল্লিখিত অঞ্চলে আর্মেনীয় জাতিগোষ্ঠীর মানুষই সংখ্যায় অধিক। আজারবাইজান এই সংঘাতের ফলে রাজ্যের ১৬ শতাংশ এলাকা হারায় এবং প্রায় ৮,০০,০০০ জন উদ্বাস্তুর সমর্থন বঞ্চিত হয়। | |
| জাতীয়তা | আজারবাইজানি। | |
| জনসংখ্যা | ৭৮,৬৮,৩৮৫ জন (২০০৪)। | |
| জন্মহার | প্রতি হাজারে ১৯.৮১ জন (২০০৪)। | |
| মৃত্যুহার | প্রতি হাজারে ৯.৭৬ জন (২০০৪)। | |
| গড় আয়ু | পুরুষ ৫৯.০৯ বছর, মহিলা ৬৭.৬২ বছর। | |
| ধর্ম | মুসলিম ৯৩.৩%, রাশিয়ান অর্থডক্স ২.৫%, আর্মেনিয়ান অর্থডক্স ২.৩%, অন্যান্য ১.৮% (১৯৯৫)। | |
| ভাষা | আজারবাইজানি (আজার) ৮৯%, রাশিয়ান ৩%, আর্মেনিয়ান ২% এবং অন্যান্য ৬% (১৯৯৫)। | |
| শিক্ষিতের হার | ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে মোট জনসংখ্যার ৯৭% শিক্ষিত; পুরুষ ৯৯%, মহিলা ৯৬% (১৯৮৯)। | |
| বসবাসকারী জাতিগোষ্ঠী | আজরী ৯০%, ডাজিস্টোনি ৩.২%, রাশিয়ান ২.৫%, আর্মেনিয়ান ২%, অন্যান্য ২.৩% (১৯৯৫)। বেশির ভাগ আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী নাগোরনো-কারোবাখ অঞ্চলে বাস করে। | |
| দেশটির সরকারি নাম | রিপাবলিক অব আজারবাইজান। | |
| সরকার পদ্ধতি | প্রজাতান্ত্রিক। | |
| রাষ্ট্রপ্রধান | প্রেসিডেন্ট। | |
| সরকারপ্রধান | প্রেসিডেন্ট। | |
| রাজধানী | বাকু (বাকি)। | |
| প্রদেশ | আজারবাইজানে ৬৯টি প্রদেশ, ১১টি শহর এবং ১টি স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্র আছে। | |
| স্বাধীনতা লাভ | ৩০ আগস্ট ১৯৯১ (সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে)। | |
| মুদ্রা | আজারবাইজানি মান্টা (AZM)। | |
| রাজস্ব বাজেট | ২.০৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, (২০০৩)। | |
| সামরিক বাহিনী | দায়িত্বে নিয়োজিত মোট সৈন্যসংখ্যা ৭২,১০০ জন; স্থলবাহিনী ৮৫.৭%, বিমানবাহিনী ১১.২%, নৌবাহিনী ৩.১% (২০০০)। | |
| রেলপথ | মোট ২১২৫ কিলোমিটার (১৯৯৩)। | |
| স্থলপথ | মোট ৩৬,৭০০ কিলোমিটার। | |
| বন্দর ও পোতাশ্রয় | বাকু (বাকি)। | |
| বিমানবন্দর | ৬৯টি। | |
| মোট দেশজ | ||
| উৎপাদন (GDP) | ২৬.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৩)। | |
| মোট মাথাপিছু | ||
| উৎপাদন | ৩,৪০০ মার্কিন ডলার (২০০৩)। | |
| প্রধান রপ্তানি দ্রব্য | কেমিক্যাল, তুলা, তেল, গ্যাস, বস্ত্র, তেল, সেচের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। | |
| আমদানি দ্রব্য | নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, খাদ্য, যন্ত্রপাতি। | |
| বাণিজ্য সহযোগী | ||
| রাষ্ট্রসমূহ | আর্মেনিয়া ছাড়া সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রসমূহ। |
আফগানিস্তান
| অবস্থান | দক্ষিণ এশিয়ায়। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমে এবং ইরানের পূর্ব দিকে অবস্থিত। | |
| মোট এলাকা | ৬,৪৭,৫০০ বর্গকিলোমিটার। | |
| স্থলভাগ | ৬,৪৭,৫০০ বর্গকিলোমিটার। | |
| জলভাগ | ০ বর্গকিলোমিটার। | |
| স্থল সীমান্ত | ৫,৫২৯ কিলোমিটার। | |
| আবহাওয়া | শুষ্ক থেকে আংশিক শুষ্ক। শীতকাল ঠাণ্ডা এবং গ্রীষ্মকাল গরম। | |
| প্রধান নদী | হেলমন্দ, ফারাহ, আরঘান্দার। | |
| উচ্চতম অঞ্চল | নওশাক, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৪,৫৫৭ ফুট (৭,৪৮৫ মিটার) উঁচু। | |
| নিম্নতম অঞ্চল | সিস্তান বেসিন, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,৬৪০ ফুট (৫০০ মিটার) উঁচু। | |
| প্রাকৃতিক সম্পদ | প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোলিয়াম, কয়লা, তামা, ক্রোমাইট, টেলক, দস্তা, বেরাইটস, গন্ধক, সিসা, আকরিক লৌহ,লবণ,মূল্যবান এবং স্বল্প মূল্যবান পাথর। | |
| প্রাকৃতিক দুর্যোগ | হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চলে ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প হতে দেখা যায়। এছাড়া বন্যা,অনাবৃষ্টি কখনো কখনো দুর্যোগ আকারে দেখা দেয়। | |
| ঐতিহাসিক পটভূমি | খ্রিষ্টপূর্ব ৬ শতকে আফগানিস্তান পারস্য সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল। ৪ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মহান আলেকজান্ডার দেশটি দখল করে নেন। ৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে সাফারিদদের শাসনকালে ইসলাম আফগানিস্তানে প্রবেশ করে। দেশটি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে ১৮ শতক পর্যন্ত ভারতের মোগল সাম্রাজ্য এবং পারস্যের সাফারিদ সাম্রাজ্যের অংশে পরিণত হয়েছিল। এ সময় পারস্যের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলেন নাদির শাহ। উনিশ শতকে এই অঞ্চলে গ্রেটব্রিটেন ও রাশিয়া বেশ কয়েকবার যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে আফগানিস্তানে একটি রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে এই রাজতন্ত্রের উচ্ছেদ ঘটানো হয়েছিল। সামপ্রতিক সময়ে যুদ্ধ এবং সামাজিক রাজনৈতিক অসন্তোষপূর্ণ দেশ হিসেবে আফগানিস্তান পরিচিত। সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৭৯ সালে দেশটিতে আক্রমণ করে কিন্তু ১০ বছর পর ডানপন্থী মুজাহিদীন বাহিনীর ক্রমাগত তৎপরতার মুখে তারা নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। এ মুজাহিদীন বাহিনীকে সার্বিক সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ দিয়েছিল আমেরিকা, সৌদি আরব, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ। পরবর্তীকালে এই মুজাহিদীন দলগুলোর অভ্যন্তরে অন্তর্কলহ চলতে থাকে। যার পথ ধরে বিপুল সংখ্যক তালিবান শক্তির উত্থান হয়। বিদেশী দাতাগোষ্ঠীর সাহায্যে তালিবানরা পরিণত রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। তালিবানরা দেশের উত্তরাঞ্চল ব্যতীত প্রায় সব অঞ্চলেই নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। উত্তরাঞ্চলে উত্তরাঞ্চলীয় জোট শক্তির নিয়ন্ত্রণ ছিল। তবে এ অবস্থা বিরাজমান ছিল ১১ সেপ্টেম্বরে আমেরিকায় সন্ত্রাসী আক্রমণের পূর্ব পর্যন্ত। ২০০১ সালের শেষের দিকে আফগানিস্তানের বিরোধী দলগুলোর প্রধান প্রধান নেতা জার্মানির বন শহরে মিলিত হয়ে একটি নতুন সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের সিদ্ধান্তে একমত হন। এরই ধারাবাহিকতায় ২২ ডিসেম্বর ২০০১ সালে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে মনোনীত হন হামিদ কারজাই। | |
| জাতীয়তা | আফগান। | |
| জনসংখ্যা | ২,৮৫,১৩,৬৭৭ জন (২০০৪)। | |
| জন্মহার | প্রতি হাজারে ৪৭.২৭ জন (২০০৪)। | |
| মৃত্যুহার | প্রতি হাজারে ২১.১২ জন (২০০৪)। | |
| গড় আয়ু | পুরুষ ৪২.২৭ বছর, মহিলা ৪২.৬৬ বছর। | |
| ভাষা | পশতু ৩৫%, আফগান পার্সিয়ান (দারি) ৫০%, টার্কি ভাষা ১১%, অন্যান্য ৩০টি ভাষাভাষির মানুষ ৪%,প্রচুর দ্বিভাষী। | |
| শিক্ষিতের হার | ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে মোট জনসংখ্যার ৩৬% শিক্ষিত; পুরুষ ৫১%, মহিলা ২১% (১৯৯৯)। | |
| ধর্ম | মুসলিম (সুন্নি) ৮৪%, মুসলিম (শিয়া) ১৫%, অন্যান্য ১%। | |
| বসবাসকারী জাতিগোষ্ঠী | পশতুন ৪৪%, তাজিক ২৫%, হাজারা ১০%, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী (আইমাকাস, তুর্কেমেন, বেলুচ এবং অন্যান্য)১৩%, উজবেক ৮%। | |
| দেশটির সরকারি নাম | ইসলামিক স্টেট অব আফগানিস্তান। | |
| সরকার পদ্ধতি | পরিবর্তনশীল। | |
| রাষ্ট্রপ্রধান | প্রেসিডেন্ট। | |
| সরকারপ্রধান | প্রধানমন্ত্রী। | |
| রাজধানী | কাবুল। | |
| প্রশাসনিক বিভাগ | ৩২টি প্রদেশ। | |
| স্বাধীনতা লাভ | ১৯ আগস্ট ১৯১৯ (ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ থেকে)। | |
| মুদ্রা | আফগানি। | |
| রাজস্ব বাজেট | ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৩)। | |
| সামরিক বাহিনী | ১৯৯৯ থেকে ২০০২-এর এপ্রিল পর্যন্ত কোনো জাতীয় সৈন্যবাহিনী ছিল না। জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক বাহিনী ২০০২-এর মার্চে দায়িত্ব গ্রহণ করে। মোট সৈন্যসংখ্যা ৪৯০০। | |
| রেলপথ | ২৪.৬ কিলোমিটার। | |
| সড়কপথ | ২১,০০০ কিলোমিটার; পাকা সড়ক ২,৭৯৩ কিলোমিটার, কাঁচা সড়ক ১৮,২০৭ কিলোমিটার (১৯৯৮)। | |
| জলপথ | ১,২০০ কিলোমিটার। | |
| পাইপলাইন | প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য ১৮০ কিলোমিটার। | |
| বন্দর ও পোতাশ্রয় | কায়রাবাদ, শেরখান। | |
| বিমানবন্দর | ৪৮টি। | |
| মোট দেশজ | ||
| উৎপাদন (GDP) | ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৩)। | |
| মোট মাথাপিছু | ||
| উৎপাদন | ৭০০ মার্কিন ডলার (২০০৩)। | |
| প্রধান রপ্তানি দ্রব্য | ফল, প্রাকৃতিক গ্যাস, তুলা, বাদাম, গালিচা, কম্বল, ভেড়ার চামড়া। | |
| আমদানি দ্রব্য | যন্ত্রপাতি, পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য, মোটরযান, কাপড়, পোশাক। | |
| বাণিজ্য সহযোগী | ||
| রাষ্ট্রসমূহ | জার্মানি, ভারত, পাকিস্তান। |



