Skip to main content

মনের জানালা

মা তোমায় কোটি প্রণাম
পৃথিবীতে আমরা ক্ষণিকের জন্য আসি। একে অপরকে ভালোবাসি। ভালোবাসার মানুষ নিয়ে এক সুন্দর পৃথিবী সাজাই। এখন প্রশ্ন হতে পারে আমি কাকে ভালোবাসি। হ্যাঁ, আমি একজনকে ভালোবাসি। খুব ভালোবাসি। একেবারে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসি। তার জন্য আমি হাসতে হাসতে মৃত্যুর তেতো স্বাদ পর্যন্ত গ্রহণ করতে পারি। তিনি হচ্ছেন আমার পরম শ্রদ্ধেয় মমতাময়ী মা।

শুধুই কি মা? পরম বন্ধুও বটে। মা তোমার অকৃত্রিম ভালোবাসার ছোঁয়ায় এই সুন্দর পৃথিবীতে আমার আসার সৌভাগ্য হয়েছে। তোমার স্বপ্ন আর স্নেহের ছোঁয়ায় তিলে তিলে বড় হয়েছি। তোমার গর্ভে একমাত্র সন্তান হিসেবে জন্মে ধন্য হয়েছি। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও শুধু আমার জন্য আমাকে একবার দেখার জন্য তুমি বগুড়া হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাড়িতে চলে এসেছিলে। এ জন্য ডাক্তার কাকা আর আমার আত্মীয়-স্বজনরা তোমায় কতই না বকাঝকা করেছে। তুমি শুধু বলেছ আমি বলরামকে শেষবারের মতো দেখে মরব। মা তোমার যখন মুমূর্ষূ অবস্থা তখন তোমায় কোনো সেবা করতে পারিনি। তোমার কোলে মাথা রাখতে পারিনি। উল্টো তোমায় অনেক মেরেছি, লাঠি দিয়ে আঘাত করেছি। মেরে রক্তাক্ত করেছি। তবুও তুমি আমায় ছুড়ে ফেরে দাওনি। স্বর্গীয় ভালোবাসা থেকে অন্তরের স্নেহ থেকে বিন্দুমাত্র বঞ্চিত করনি। কারণ তুমি ভালো করে জানতে আমি মারাত্মক সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত। উল্টো আমাকে স্নান করিয়ে দিয়েছ, ভাত খাইয়ে দিয়েছ, ওষুধ খাইয়ে দিয়েছ। সবার কাছে আমার পাগলের অসুখের কথা গোপন করেছ। সৃষ্টিকর্তার কাছে দুহাত তুলে কান্নাকাটি করেছ, আঁচল পেতে আমার প্রাণভিক্ষা চেয়েছ। যাতে আমি মানসিক রোগ সিজোফ্রেনিয়া থেকে মুক্তি পেয়ে আগের মতো কলেজে যেতে পারি। হেসে খেলে আর দশজনের মতো দিন কাটাতে পারি।

মা তুমি না খেয়ে আমাকে খাইয়েছ, তোমার চিকিৎসা না করে আমার চিকিৎসা করেছ। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে তোমার স্বপ্নের সোনার গহনাগুলো পানির দামে বিক্রি করেছ। তবু তুমি চেয়েছ আমি যেন ভালো হয়ে উঠি। মানুষের মতো মানুষ হয়ে উঠি।

মা তোমার জন্য, শুধু তোমার জন্য আজ আমি সুস্থ-পুরোপুরি সুস্থ। তাই আজ সৃষ্টিকর্তার কাছে শুধু একটি কথাই বলব মা তোমার জয় হোক সর্বত্র। মা তুমি বেঁচে থাকবে ততদিন যতদিন এ পৃথিবী থাকবে, থাকবে চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারা। সন্ধ্যা হলে মা তুমি আঁচলে প্রদীপ জ্বেলে রেখ। তখন তোমার পদতলে একটু ঠাঁই দিও। শুধু ইহকাল নয় তুমি পরকালেও মা। অনন্তকালের মা। বিশ্বাস করি না, ওই গীতার জন্মান্তরবাদ। মা তোমার শ্রীচরণে অনন্ত কোটি প্রণাম। মা তোমায় যে বড় বেশি ভালোবাসি। মা তুমি আমায় কথা দাও, আমায় ছেড়ে কোথাও যাবে না, কখনো যাবে না, কোনোদিন যাবে না। কারণ তুমি ছাড়া তো আমাকে ভালোবাসার, আদর করে গালে চুমো খাওয়ার, মুখে হাত দিয়ে ভাত খাইয়ে দেয়ার আর কেউ নেই। মা তোমার প্রতি রইল আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা। আমার আয়ু নিয়ে তুমি পৃথিবীতে অনন্তকাল বেঁচে থাকো, সুখে থাকো।

সম্পদ কুমার পোদ্দার (বলরাম)
কর্মকারপাড়া শেরপুর, বগুড়া
ফোন : ০১৭৪০-৯৩৭৪১৫


কিছু স্বপ্ন কিছু বাস্তবতা এবং...
কোথায় যেন পড়েছিলাম এক বিখ্যাত ইংরেজ কবি তার এক কবিতায় লিখেছিলেন, কথাগুলো ঠিক হুবহু মনে করতে পারছি না, তবে কবিতায় দুটি বাক্যের সারমর্ম ছিল এ রকম ‘মানুষ মূলত একা’। তার চিবুকের নিচে ছোট তিলের চেয়েও সে ভীষণ একা, নিঃসঙ্গ। এই কথাগুলো অনেক দিন ধরেই আমাকে ভাবিয়েছে। এখনো ভাবাচ্ছে। কথাগুলো যখনই ভাবি তখনই মুগ্ধ হই। ঠিক সেই সঙ্গে একটা অজানা অস্পষ্ট শূন্যতা এসে দানা বাঁধে মনের ঘরে। হৃদয়ের গভীরে জন্ম নেয় হাজারও প্রশ্ন। উত্তর খুঁজি কোনোটার উত্তর পাই, কোনোটার পাই না। ভাবি, বাস্তবিক জীবনে মানুষ কি আসলেই একা? হয়তো তাই। হয়তো বা না। কিন্তু এখানে এই লেখায় এসব যুক্তি-তর্কে নাই বা গেলাম।

মানুষ পৃথিবীতে বেঁচে থাকে তার নিজের প্রয়োজনে। আমৃত্যু বেঁচে থাকবেও তার নিজের প্রয়োজনের তাগিদেই। কিন্তু এই বেঁচে থাকার জন্য মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বৈষয়িক বিষয়াদি বাদেও আরও অনেক কিছুরই প্রয়োজন পড়ে। এসবও তার নিজের স্বার্থেই। নিজের জীবনকে চলমান ও সজীব রাখতে, আনন্দময় করে গড়ে তুলতে। তেমনি একটি বিষয় হচ্ছে বন্ধু কিংবা বন্ধুত্ব। এটা চিরন্তন সত্য। একে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। আক্ষরিক অর্থে মানুষ মূলত একা হলেও এসবের মধ্যেই এতসব তত্ত্বকথায় না গিয়ে হোক তা বুঝে কিংবা না বুঝে জীবনে চলার পথে মানুষ সঙ্গী খুঁজে ফেরে। খুঁজে মনের মতো বন্ধু। মানুষের কাছে ভালো যত কিছুই থাকুক কিন্তু একজন ভালো বন্ধু ছাড়া সে জীবনযাপন করতে পারে না। কথাটা এরিস্টটলের। এই কথাটা বলেছেন বহু বছর আগে। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসেও এই কথার আবেদন কি এতটুকু কমেছে? মোটেও না। হয়তো ভবিষ্যতেও কমবে না। কারণ কথাটা সর্বযুগের, সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য, ধ্রুবতারার মতো সত্য। মানুষ কখনো একা পথ চলতে পারে না। একাকী জীবনযাপন করতে পারে না। জীবনে চলতে গেলে সঙ্গীর প্রয়োজন। বন্ধুর প্রয়োজন। এর কোনো বিকল্প নেই। বিকল্প হয় না। প্লাউটাস যেভাবে বলেছেন ‘একজন ভালো বন্ধু স্বর্গের চেয়েও বেশি প্রত্যাশিত’। একজন প্রকৃত বন্ধুই পারে জীবনটাকে বদলে দিতে। অন্ধকার পথ থেকে আলোর জগতে ফিরিয়ে আনে বন্ধু। দৈনন্দিন জীবনকে আনন্দময় করে তুলতে বন্ধুর কোনো তুলনা হয় না। ইউরিপাইডসের ভাষায়, ‘একজন বিজ্ঞ বন্ধুই হলো জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ’। জীবনে চলার পথে বন্ধুর প্রয়োজন তাই বর্ণনাতীত। জীবনে সাফল্য পেতে উৎসাহ জোগায় বন্ধু। কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের স্বর্ণশিখরে পৌঁছতে প্রেরণা দেয় বন্ধু। বন্ধুর হাত ধরে হাঁটা যায় ক্লান্তিহীন অবিরাম পথ। বন্ধু ছাড়া জীবন মরুভূমির মতো। একঘেয়ে। নিরুত্তাপ। ছন্দহীন। বন্ধুহীন যারা তারাই জানে এর মানে। তাই জীবনে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বন্ধুর প্রয়োজন অনেকটাই আবশ্যিক।

কিন্তু বন্ধু কে? কোথায় পাব তারে? সে দেখতে কেমন? সে কি ছেলে না মেয়ে? সে কি আমার চেয়ে বয়সে ছোট না বড়? এসব ভেবে কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় না। হতে পারে না। বন্ধুত্বের জন্যই চাই সুন্দর একটা মন। বন্ধুত্বে বিশ্বাস, আস্থা, শ্রদ্ধা আর পারস্পরিক বোঝাপড়াটাই আসল। কোনো জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ইত্যাদি দেখেও বন্ধুত্ব হয় না। বন্ধুত্বের বয়স বাড়ে না। বন্ধুত্ব সব সময়ই নতুন, নবযৌবনের মতো। বন্ধুত্বের নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞায় একে সংজ্ঞায়িত করা যাবে না। বন্ধু বন্ধুই। যাকে বিশ্বাস করা যায়, যার সঙ্গে ভাবনা-চিন্তাগুলো নির্দ্বিধায় শেয়ার করা যায় সে-ই তো বন্ধু। সুখে-দুঃখে, উত্থানে-পতনে যে ছায়ার মতো আগলে রাখে সেই প্রকৃত বন্ধু।

কিন্তু বর্তমান সময়ে বন্ধুত্বের বন্ধনটা কেমন যেন ঠুনকো হয়ে যাচ্ছে। আত্মিক সম্পর্ক ভুলে গিয়ে মানুষ মানুষের সঙ্গে গড়ে তুলছে বাহ্যিক সম্পর্ক। যেখানে নেই কোনো হৃদয়ের টান। নেই এতটুকু ভালোবাসার ছোঁয়া। সবটাই যেন মেকি। বন্ধুত্বের মতো পবিত্র সম্পর্কও আজ উত্তাপহীন। চিত্তের চেয়ে বিত্তটাই আজ অনেকের কাছে চরম উপাসনার বিষয়। তাই কোনো সম্পর্কেই এত সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না প্রাণের স্পন্দন। স্বস্তি নেই কোথাও। এ এক অদ্ভুত সমাজে আমাদের বসবাস। চারদিকে যেন ক্রমশ আঁধার ঘনিয়ে আসছে। এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আসতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের এই জীবনযাত্রা, সমাজব্যবস্থা অদূরেই পাল্টে গিয়ে আবারও মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক হবে আত্মিক। একজন আরেকজনকে ভালোবাসবে হৃদয় দিয়ে। বন্ধুত্বের মতো অনাবিল সম্পর্কেও থাকবে না কোনো খাদ। হৃদয় দ্বারা তাড়িত হবে সবাই। একজন ভালো বন্ধুর প্রেরণায় অপর বন্ধুটিও ভালো কিছু করতে শিখবে। সৎ থেকে যে যার জায়গা থেকে কাজ করে যাবে আগামী দিনগুলো।

শ্রাবণ
রামপুরা, ঢাকা
ফোন : ০১৯১৫-৫৫২০১৪


তোমার বিরহ কাঁদায়
তোমার জন্য একটি গল্প লিখতে চেয়েছিলাম। তোমার মনের প্রান্তর ছুঁয়ে ছুঁয়ে অনুভূতির উপকরণই শুধু সংগ্রহ করেছি, তা নিয়ে লিখছি...
তুমি আজ একটু দূরে। তবুও তোমার জীবনে বয়ে যাওয়া কষ্টগুলো ব্যথাতুর হৃদয়ে আমাকে জাগিয়ে তোলে। বিকেলের অবসর ক্লান্তিতে যখন এলিয়ে যায় তখন সেই মুহূর্তে তোমার ব্যথাতুর হৃদয়ে করুণ স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়। আমাকে আমার এই স্মৃতি কাঁদায় পেছনের ফেলে আসা অতীত দিনগুলোর কথা।

তোমার মনের প্রান্তরে এখনো রংধনুর বর্ণচ্ছটা নিয়ে জেগে আছে অন্তরের অন্তহীন আকাশে জ্বল জ্বল অনেক রাত জাগা তারা। জোছনার আলোয় রাতের বাতাসে এখনো রয়েছে মধুর আলাপের সুরভি। এখনো হয়তো গোধূলিক্ষণে আনমনা হয়ে যাও যদি। আর জোছনা রাতে নীরব হাতছানি তোমাকে বিরল করে তোলে। ঠিক এই মুহূর্তে জীবনটাকে গল্প বলে মনে হয় আমার। আসলে আমি ভাবি গল্প কিন্তু বাস্তব তোমার জীবনে হয়েছে। দুঃখ, কষ্ট আছে ভাবনায়। শুধু অসীম উদারের মাঝে নিজেকে ভরিয়ে ফেলা এ পৃথিবীর ওই আকাশটির কাল ধরে যেন বলছে তুমি থাকবে। মনটা উদাস হয়ে ওঠে, আসলে প্রেম-ভালোবাসা সবই মিছে।

দুর্বলতার ছোঁয়া থেকে নিজেকে যদি সরিয়ে রাখতে পারতে তাহলে এত দুঃখ, কষ্ট পেতে হতো না। যদি নিজের আবেগকে ধরে রাখতে পারতে তাহলে অঝোর ধারায় ঝরত না এই অশ্রুজল। যে দিন সময় চলে যায় তা আর কখনো ফিরে আসে না। কী তার দাম কী তার নগণ্য? অতীতকে ভুলে গিয়ে শুরু কর নতুন জীবনের এক অধ্যায়। সংগ্রাম করতে হবে আর এ সংগ্রামে জয়ী হয়ে তোমাকে দেখাতে হবে তুমি তাকে ভুলে গিয়েছ। নারীরা পারে না এমন কোনো কাজ নেই। তুমিও এখন থেকে যুদ্ধে নেমে যাও, জয়ী হয়ে দেখাও তারে।
মিথ্যা কেন শেষ পর্যন্ত কঠোর জগতে জয়ী হয়? এটা আমার জানা নেই, সত্য কেন চাপা থাকে-এ প্রশ্ন আমার মনে সর্বদা জাগ্রত...।

হুমায়রা তাবাসসুম
ছোটবনগ্রাম, রাজশাহী
ফোন : ০১৮১৮-৬২০৮৫১


যে কথা যায় না বলা
কিছু কথা থাকে যে কথা যায় না বলা। অন্তরালের ভালোবাসা তোমায় বিলিয়ে দেব বলে ভালোবাসার আকুলতায় হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল। তোমার একটু ছোঁয়া, তোমার ধ্বনি বা কণ্ঠস্বর শোনার জন্য, তোমার সাথে কথা বলার জন্য কতই না নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি, কতই না পথ চেয়ে রয়েছি তোমাকে এক পলক দেখার আশায়। তোমাকে একটু ছোঁয়ার আশায় কতই না জোছনার স্নান সেরেছি কিন্তু তোমার ছোঁয়া পায়নি। পায়নি তোমার ভালোবাসা। গোধূলির সময় পাখিরা সব নীড়ে ফিরে। তোমারও নীড়ে ফেরার কথা থাকে কিন্তু তুমি ফের না কেন? আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা এত অবহেলিত কেন? আমার প্রতি তোমার চাওয়া এত কম কেন? আমি বুঝতে পারিনি। কোনো দিন বোঝার চেষ্টাও করিনি। কিন্তু এখন অনেক কিছু বুঝতে শিখেছি শুধু তোমার জন্য, তোমার ভালোবাসার প্রতারণার জন্য। আজ আমি পাগলপ্রায় হয়ে ছন্নছাড়া মানুষের মতো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরিফিরি আর খুঁজে ফিরি তোমাকে, শুধু একটি কথা বলার জন্য কিন্তু কখনো কোনো দিন তোমার দেখা মেলাতে পারিনি। কত মানুষ কতই না পথিক আমার এই করুণাময় অবস্থা দেখে অশ্রুবিন্দু ঝরিয়েছে কিন্তু আমি তাদের সব অশ্রুবিন্দুকে উপেক্ষা করে চলছি শুধু তোমার জন্য। এখন আর ভালো লাগে না সেই বনমালিদের রাস্তা, আর ভালো লাগে না সেই ক্যাম্পাসের লেক, বটতলা, জামতলাকে। ভালো লাগার কথাও না কারণ কীভাবে ভালো লাগবে আর কিসের জন্য ভালো লাগবে। যার জন্য এত ভালো লাগা সেই তুমি তো নেই। তুমি এতটা স্বার্থপর মেয়ে আমার জানা ছিল না। সর্বশেষে একটি উক্তি দিই যেখানে থাক যেভাবে থাক সারাক্ষণ ভালো থেকো আর সময় হলে খবর নিও।

ফরিদুল ইসলাম নির্জন
সরকারি আযিযুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, বগুড়া
ফোন : ০১৭১৯-৪৬১৩৫৫


ফিরে পেতে চাই তোমাকে
আজ আমার পৃথিবী আঁধারে ঢাকা, মহাবেদনায় নীল হয়ে আছে আমার হৃদয়। ঘৃণা, অভিশাপে ঢেকে আছে আমার মনের আকাশ। আমি আজ পরাজিত এক সৈনিক। তোমার ভালোবাসা আজ আমার শির নত করে দিয়েছে। আমি বুঝতে পারিনি তোমার ভালোবাসার মধ্যে লুকিয়ে ছিল অসীম মমতা, স্নেহ, শান্তি। বারবার তোমায় ফিরিয়ে দিয়েছি। অনেক কষ্ট দিয়েছি তোমার মনে, ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছি তোমার ভালোবাসাকে। তবুও তুমি আমায় ভুল বোঝনি বরং সবকিছু নীরবে সহ্য করে বারবার এসে দাঁড়িয়েছ আমার মনের আঙিনায়, ছায়া হয়ে আমার কাছাকাছি।
তুমি বৃহৎ, তুমি মহৎ এ আমার জানা ছিল না। তোমার সরল অন্তরের সুন্দর ভালোবাসা আমার স্বপ্নীল চোখ দিয়ে দেখতে পারিনি। অহংকারী মন আমার কখনো তোমার প্রেমের মর্ম বোঝেনি। তুমিই ছিলে আমার জীবনে মূল্যবান উপহার অন্ধমন তা কখনো ভাবেনি। যখন তুমি হারিয়ে গেলে আমার জীবন থেকে দুঃখের সাগরে আমি তলিয়ে গেলাম, আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেল সব সুখ, আমার পাষাণ হৃদয়ের প্রাচীর ভেঙে গেল। আজ আমি ঘুমহীন, স্বপ্নহীন, সুখহীন একলা একজন মানুষ। আমার ভুলে আজ আমার হৃদয় ভেঙেছে। আমি আজ বিষণ্ন, তোমার শূন্যতা আমার চোখ খুলে দিয়েছে। জাগিয়ে তুলেছে আমার সুপ্ত ভালোবাসা। আমি আবার নতুন করে ফিরে পেতে চাই তোমাকে। আমার সব সুখ যে বিধাতা তোমার বুকের মাঝে এঁকে দিয়েছে আমার ভালোবাসার যত ভালোবাসা। আমি জানি আমার কথা তোমার বিশ্বাস হবে না। আমি অক্ষম অসাড় অযোগ্য তবুও তোমায় ফিরে পেতে চাই। আমি আজ অপূর্ণ, তোমার ভালোবাসা পেয়ে আমি পূর্ণ হতে চাই। আমার অহংকার যদি আমার কাছ থেকে তোমাকে দূরে সরিয়ে রাখে তবে আমি চাই না সে অহংকার। আমি শুধু তোমাকে চাই। আমার ভালোবাসার দেবালয়ে তুমিই আমার শ্রেষ্ঠ পূজারিণী। তুমি বিধাতার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। তুমি অন্তর দিয়ে ভালোবাসতে জান। যা আমি কখনো পারিনি। তোমার হৃদয় ভরে আছে ভালোবাসার ঐশ্বর্যে। যা আমি কখনো দেখতে চাই না। কিন্তু আজ দেখতে চাই। তুমি যে আমায় চিরঋণী করে চলে গেলে। ভালোবাসা দিয়েই যে আমি সে ঋণ শোধ করতে চাই। আমার এ অসুন্দর মনটাকে তুমি সুন্দর করে তোল। আমি শতবার তোমায় ডেকে যাব আমার ভালোবাসার আহ্বানে। আমার বিশ্বাস আমার ডাকে তুমি সাড়া দেবে। তোমার অসীম অন্তরে আমায় ঠাঁই দেবে। আমার অন্তরে গেঁথে দেবে অন্তত ভালোবাসা। আমার পৃথিবী সাঁঝবে ভালোবাসার পরমোৎসবে। তুমি ফিরে এসো আমার হৃদয় আঙিনায়। আমার তৃষিত জীবনে তোমায় যে আজ বড় বেশি প্রয়োজন। আমার এই অগোছালো মনটাকে তুমিই পার গোছাতে। প্রেমের মহাস্রোতে ভাসিয়ে আমায় একটা নতুন জীবন দান করতে। আমার হৃদয়ের কান্না থামিয়ে ভালোবাসায় ভরে দিতে।

তুমি ফিরে এসো। আমি যে তোমারই অপেক্ষায় ভিখারির মতো বসে আছি। ভালোবাসার রঙে রাঙিয়েছি আমার পৃথিবী তোমায় স্বাগতম জানাব বলে।

সোহানুর রহমান অনন্ত
ছনটেক সড়ক, শনিআখড়া, ঢাকা
ফোন : ০১৯২০-৪৬৩৭৬৩


একটু ভালোবাসি তাকে
মেয়েটি ছোটবেলা থেকেই খুব চাপা স্বভাবের ছিল। সহসা কাউকে কিছু বলত না। আসলে বলার সাহস পেত না। কেননা কেউ তার কথা শুনত না। ভালোবাসা আদর কাকে বলে সে বুঝত না। মেয়েটি এটাকেই স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছিল সেই জন্মের পর থেকেই। মেয়েটির বাবা ভেবেছিল তার একটি ছেলে হবে। কিন্তু একি! তার যে মেয়েসন্তান হলো। তাই সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। অপয়া অলক্ষ্ণী বলে গালমন্দ করত সব সময়। মেয়েটির মা তাই বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় পড়াশোনা করার জন্য। মেয়েটির নানাবাড়ি ছিল অনেক দূরে। বছরে একবার দেখা হতো তার মায়ের সাথে। এই প্রথম মেয়েটি মায়ের পর ভালোবাসা পেল তার নানুর কাছে। কোনো মানুষ ভালোবাসা ছাড়া বাঁচতে পারে না। তাই মেয়েটি মরিয়া হয়ে উঠল সবার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য। মেয়েটি যখন একটু একটু করে বাড়তে লাগল তখন সে বুঝতে পারল তাকে আরও একজন খুব ভালোবাসে। মেয়েটি তার ভালোবাসাকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি। মেয়েটি সেই ছেলেকে খুব ভালোবেসেছিল। কিন্তু তাদের ভালোবাসার শেষ পরিণতি খুব একটা ভালো হয়নি। এখানেও বাধা তার বাবা। কারণ মেয়েটি জানত তার বাবার কথা না শুনলে তার মাকে অনেক নির্যাতন করা হবে। তাই সে নিজের সব ভালোবাসা জলাঞ্জলি দিল হাসিমুখে। মেয়েটিকে এবার পাঠিয়ে দিল অন্য এক আত্মীয়ের বাসায় পড়াশোনা করার জন্য। এখানে কষ্ট পিছু ছাড়ল না মেয়েটির। যাদের বাসায় থাকে তাদের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য মেয়েটি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কথায় আছে অভাগী যেদিকে চায় সেদিকে সাগরও শুকিয়ে যায়। মেয়েটির হলো সেই দশা। অবহেলা, অপমান এখন নিত্যদিনের সাথী। মেয়েটির দরকার ছিল একটু ভালো যা আমাদের সমাজ তাকে দিতে পারেনি। কারণ সে মেয়ে হয়ে জন্মেছে বলে। বাবার আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না, মেয়েটির কোনো চাকরি নেই, দেখতে কালো বলে ভালো কোনো বর তার কপালে জুটল না তাই তার বিয়েও হলো না। এখন সে বাবার কাছে আরও বোঝা ভারী হয়ে গেল। মেয়েটি এখন পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। মেয়েটির এখন অনেক বন্ধু জুটেছে। তারা তাকে নানাভাবে সাহায্য করতে চায়। মেয়েটি তাদের কোনো সাহায্য নিতে চায় না। কারণ তার এ লড়াই একার। এখানে মেয়েটিকে প্রতিনিয়ত তার নিজের সাথে, পরিবারের সাথে, সমাজের সাথে লড়াই করে চলতে হচ্ছে। জানি না কতদিন এভাবে লড়াই করে বড় হতে পারবে। শুধু একটু ভালোবাসা চায় সবার কাছে। শুধু ভালোবাসা ও দোয়া করবেন এই অবহেলিত মেয়েটিকে। আসুন আমরা মেয়েদের অপয়া, অলক্ষ্ণী বলে দূরে সরিয়ে একটু ভালোবাসা দিই। একটু ভালোবাসি তাকে।

তুশি
গলাচিপা, পটুয়াখালী


অপরাধী
মেয়েটাকে দেখে হঠাৎ চমকে উঠলাম। ঠিক নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না। মেয়েটি এমন হবে কখনো ভাবতেই পারিনি। ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছরের মতো এ বছরও মেলার আয়োজন করল, সেখানেই তাকে দেখলাম। তার সাথে আরওকটা ছেলে ছিল হয়তো তার নতুন প্রেমিক!

মেয়েটি আর কেউ নয় আমার বন্ধু শিবলুর প্রেমিকা। শিবলু বর্তমানে কানাডায়। গত বছর দেশে এসেছিল তখনই মেয়েটির সাথে পরিচয়। তারপর বন্ধুত্ব এবং সবশেষে প্রেম। মেয়েটির নাম ‘হিমু’। বাসা রাঙামাটিতে। বর্তমানে মেয়েটি রাঙামাটির একটা কলেজে ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

মনে পড়ে গেল সেই দিনের স্মৃতি, শিবলু কানাডা যাওয়ার ৫ দিন আগে আমি শিবলু, আকবর, ইউসুফ, রাশেল, হানিফ ও ইসমাইল সবাই মিলে গিয়েছিলাম রাঙামাটিতে ঝুলন্ত ব্রিজ দেখতে। যেহেতু শিবলুর প্রেমিকা মানে হিমুর বাসা ছিল রাঙামাটিতে সেহেতু সেও এলো আর একটা বান্ধবীকে নিয়ে আমাদের সাথে দেখা করতে। সেদিনই হিমুকে প্রথম দেখেছিলাম। আমরা বন্ধুরা সবাই মিলে সেদিন কত মজা করেছি তা জীবনে কোনো দিন ভুলতে পারব না। হিমু সব সময় শিবলুর হাত ধরে ধরে হাঁটছিল, মনে হয়েছিল শিবলুর হাত ছেড়ে দিলে হিমু অনেক দূরে চলে যাবে। কী গভীর ভালোবাসা ওদের, দেখলে মনে হয় আল্লাহ তাদের একই সুতাই গেঁথে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। ওদের এমন ভালোবাসা দেখে সবার হিংসা হতো। আর এখন সেই মেয়ে অন্য ছেলের হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, প্রচণ্ড রাগ হলো মেয়েটির ওপর।

সরাসরি শিবলুকে ফোন দিই। শিবলুকে সব খুলে বলি। শিবলু আমার লাইন কেটে দিয়ে হিমুকে ফোন দিল। হিমু ফোন রিসিভ করে বলল সে একটা কনসার্টে আসছে রাঙামাটিতে। কিন্তু শিবলু হিমুর কথা বিশ্বাস করেনি, কারণ আমি তো নিজের চোখেই দেখলাম হিমু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেলায় একটা ছেলের হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হিমু শিবলুকে অনেক বোঝাল কিন্তু শিবলু তার কোনো কথাই বিশ্বাস করেনি বরং হিমুকে খুব বিশ্রী ভাষায় গালাগাল করল এবং তাকে বলে দিল শিবলুকে যেন আর কোনো দিন ফোন না করে।

দুই দিন পর হঠাৎ হিমুর মোবাইল থেকে ফোন এলো। ওপাশ থেকে বলল আমি হিমুর বোন রিমু বলছি! অবাক হয়ে গেলাম আমি, কারণ আমরা কেউ জানতাম না হিমুর কোনো বোন আছে। এমনকি শিবলুও জানত না। রিমুর কাছে শুনলাম শিবলুকে হিমু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেলায় যায়নি তা বিশ্বাস করাতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে এবং রিমুর কাছে আরও যে কথাগুলো শুনলাম যেগুলো শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। বুক ফেটে যেন আমার কান্না চলে এলো।

সেদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মেলায় আমি যাকে দেখলাম সে হিমু ছিল না, তার যমজ বোন রিমু ছিল। রিমু তার প্রেমিককে নিয়ে মেলায় এসেছিল। হিমু ও রিমু দুজনের চেহারা দেখতে একই রকম ছিল বলে সেদিন আমি চিনতে ভুল করেছিলাম। আমার একটি ভুলের জন্য একটি নিষ্পাপ মেয়ের জীবন দিতে হলো। নষ্ট হয়ে গেল একটি ফুলের মতো জীবন। এখন আমি ভাবি আসলে কী দোষটা আমার ছিল? হিমুরও তো বলা উচিত ছিল তার মতো দেখতে তার একটা যমজ বোন আছে। কিন্তু সে কথাটি লুকাল কেন? তবুও তো সে আমার ভুলের জন্য প্রাণ দিল। তাই তো এখন নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়। খুবই অপরাধী।

ওমর ফারুক মির্জা
হাটহাজারী, চট্টগ্রাম
ফোন : ০১৮২৯-৬৭১৮৭১